Friday, March 10, 2017

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে: জাতিসংঘ দূত

জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ। মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বিবিসির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এ মন্তব্য করেন। তবে মিয়ানমারে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দলের এক মুখপাত্র বলেছেন, এসব অভিযোগ বাড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। তার দাবি এ ইস্যুটি আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়, বরং অভ্যন্তরীণ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত এলাকায় স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়নি ইয়াংহি লিকে। তবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি বলেন, তিনি যতটা আশঙ্কা করেছিলেন তার চেয়েও পরিস্থিতি অনেক খারাপ। তার ভাষ্য, ‘আমি বলবো মানবতাবিরোধী অপরাধ। সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বার্মিজ মিয়ানমার সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।’
তার মন্তব্য, এই পদ্ধতিগত নির্যাতনের কিছু দায় অং সান সু চির সরকারকেও নিতে হবে। তার ভাষ্য, ‘দিনের শেষে সরকারকেই উত্তর দিতে হবে। নিজ জনগণের বিরুদ্ধে এই ভয়াল নির্যাতন ও খুবই অমানবিক অপরাধের বিপুল ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।’
গত কয়েক মাসে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে রাখাইন প্রদেশের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে হামলার পর সামরিক বাহিনী দমনপীড়ন শুরু করে। বিবিসির সাংবাদিক বলছেন, বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মুখ থেকে অনেক অভিযোগ শুনেছেন। অনেকে বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে। অল্পবয়সী মেয়েদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। শরণার্থীদের অনেক বক্তব্যের সঙ্গে উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ও লুকিয়ে ধারণ করা ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে।
সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোন সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন না। এমনকি ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে তিনি কোন সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। অবশ্য সু চির রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র উইন তেইন বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে সু চির পক্ষে সেনাবাহিনীকে থামানোর ক্ষমতা ছিল না। তবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেমানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ করেছেন ইয়াংহি লি, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এসব বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘নতুন সরকার হিসেবে আমরা একটি আধুনিক দেশ গড়তে চাই। আমাদের হাজারো সমস্যা আছে। আমরা বিশ্বাস করি না যে, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়।’
সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। এর প্রধানের দায়িত্বে আছেন সাবেক এক জেনারেল! জাতিসংঘ দূত ইয়াংহি লি এই কমিটিতে সামরিক বাহিনীর আধিপত্য ও এর তদন্তপদ্ধতির কড়া সমালোচনা করেন।
সোমবার লি তার অনুসন্ধানের ফলাফল জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পেশ করবেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানাবেন। এ ধরণের কমিশন উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ায় সংঘটিত অপরাধ তদন্তে গঠিত হয়েছিল। তবে এ কমিশনের প্রতি সমর্থন থাকবে কিনা, তা জানাতে রাজি নয় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি খসড়া প্রস্তাবনায় অবশ্য অপেক্ষাকৃত দুর্বল একটি তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকে চিন্তিত যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কড়া কোন পদক্ষেপ নিলে তা মিয়ানমারের অং সান সুচির গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

বান্ধবীকে খুন করে মৃতদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে গ্রেফতার যুবক

মানুষের যৌনাচারে বিচিত্র ও উদ্ভট চিন্তা থাকলেও সম্প্রতি মার্কিন এক যুবকের কাণ্ড শিউরে উঠার মতো। ১৮ বছরে অস্টিন গ্রামারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে তার রুমমেট ২০ বছরের লেসলি পেরিকে হত্যা করে দীর্ঘদিন মৃতদেহের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসছিলেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সিলোম স্প্রিং’র মিডো কোর্ট এলাকার ২০০ নম্বর বাড়ি থেকে একটি ফোন যায় স্থানীয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টে। ফোনে জানানো হয়, বাড়ির ভিতরে একটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লেসলির বিকৃত মৃতদেহ আবিষ্কার করে। ঘরে লেসলির রুমমেট অস্টিনও উপস্থিত ছিল।
সন্দেহবশত অস্টিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর থেকেই তদন্ত চলছিল। পুলিশের জেরায় শেষমেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে অস্টিনও।
জানা গিয়েছে, অস্টিন আদপে আরকানসাস এলাকার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে সিলোম স্প্রিং এলাকায় সে আসে বছর কয়েক আগে। সেখানেই লেসলির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তার। দু’জনে একই কফিশপে কাজ করতেন। শুধু তা-ই নয়, একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে লেসলি আর অস্টিন এক সঙ্গে থাকাও শুরু করেন। দু’জনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল, তা অবশ্য পুলিশ স্পষ্ট করে জানায়নি।
কিন্তু পুলিশকে অস্টিন জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির অন্তত দিন সাতেক আগে সে লেসলিকে খুন করে। তার পর লেসলির মৃতদেহের সঙ্গেই প্রতি দিন বেশ কয়েক বার করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো বলে পুলিশকে জানিয়েছে অস্টিন। তার বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী কারণে নিজের বান্ধবীকে অস্টিন খুন করল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের ধারণা, নিজের বিকৃত যৌনকামনা চরিতার্থ করতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে অস্টিন। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। অন্য দিকে লেসলির বন্ধুরা অস্টিনের কঠিন শাস্তির দাবিতে প্রচার চালাচ্ছেন। এই উদ্দেশ্যে ‘রিমেমবারিং লেসলি পেরি’ নামের একটি ফেসবুক পেজও তৈরি করেছেন তাঁরা। এনজেড হেরাল্ড।