Friday, September 4, 2009

বৃষ্টিতে পণ্ড অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি

প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটির তাও অর্ধেকমতো হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৪৫ রান করার পর জবাব দিতে নেমে বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ার আগে ১.১ ওভার ব্যাট করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পরশু ওল্ড ট্রাফোর্ডে একটা বলও মাঠে গড়াতে দিল না বৃষ্টি। আগের রাতের বৃষ্টিতে মাঠের ক্ষতি তো হয়েছিলই, এদিন নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় আউটফিল্ডে জমে গিয়েছিল পানি। দুই আম্পায়ার পিটার হার্টলি ও নাইজেল লং দুবার মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দিবা-রাত্রির ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। আগামীকাল ওভালের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দু দলের সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড ১৪১/৮

তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম রান আউট। যিনি রান আউট করলেন, সেই কুলাসেকারাই পঞ্চম ওভারে ফেরালেন অন্য ওপেনার জেসি রাইডারকে (রান তখন ২৬)। এর পরও কাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসজয়ী নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ১৪১ রান করতে পেরেছে রস টেলরের ৪৫ বলে ৬০ রানের কল্যাণে।
কিন্তু টেলর ছাড়া নিউজিল্যান্ডের আর কেউ যে সেভাবে দাঁড়াতেই পারলেন না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের সামনে। কুলাসেকারা-মালিঙ্গা-বান্দারা সবাই দারুণ বোলিং করেছেন। তবে শেষ ওভারে বাকি সবাইকে ম্লান করে দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। পর পর দুই বলে মিলস ও ভেট্টোরিকে বোল্ড করে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলায় শেষটায় আর ঝড় তোলা হয়নি নিউজিল্যান্ডের।

শেকড়ের সন্ধানে মোহাম্মদ আলী

যেন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। সেই উচ্ছ্বাস নিয়েই আইরিশরা পরশু বরণ করে নিল মোহাম্মদ আলীকে। সর্বকালের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল আয়ারল্যান্ডেই। আজ থেকে দেড় শ বছর আগে আলীর প্রপিতামহ অ্যাবি গ্র্যাডি ভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেই শেকড়ের সন্ধানে মোহাম্মদ আলীর আয়ারল্যান্ডে ছুটে আসা।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের শহর এনিসে ছিল আলীর পূর্বসূরিদের বাস। সেই শহরে এই ৬৭ বছর বয়সীর সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল সংবর্ধনার। সেখানেই আলীকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক নাগরিকত্ব। বক্সিং গ্লাভস, আলীর স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর ছবি, পোস্টার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছিল পুরো শহর। পূর্বপুরুষের বাসভিটাও পরিদর্শন করেন আলী। সেখানে থেকে যাওয়া তাঁর আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে যোগ দেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘আলী দ্য এনিসম্যান’ হিসেবে।
পূর্বপুরুষের ভিটা পরিদর্শন একটা উদ্দেশ্য ছিল। পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন দাতব্য কাজের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করেছেন এই সফরে। কোনো বক্তব্য আলী দেননি। তবে তাঁর মুখে ছিল হাসি। স্বজনদের মাঝে অনেক দিন পর ফিরে যাওয়ার তৃপ্তি। মাঝে মাঝে দর্শকদের অনুরোধে কয়েকবার বিখ্যাত সেই ঘুষিও মেরেছেন শূন্যে।
বহু বছর ধরে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত আলীর জন্য এই ভ্রমণ ছিল নিজেকে আরও একটু সতেজ করে তোলার দাওয়াইও। এনিসের বাসিন্দাদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তাঁর স্ত্রী লোনির, ‘মোহাম্মদকে বাড়িতে স্বাগত জানাতে পথের দুধারে হাজার হাজার লোক দাঁড়িয়ে ছিল। এমনটা আমি আগে কখনো দেখিনি। ওকে যেসব ওষুধ রোজ দেওয়া হয়, তার চেয়ে এটা অনেক ভালো একটা ওষুধ।’

কুস্তিতে আবারও সেই পাহলোয়ান

ভেঙে দেওয়া হয়েছে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত বাংলাদেশ কুস্তি ফেডারেশনের আহ্বায়ক কমিটি। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আমিন জীবনকে সরিয়ে আবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আগের নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান পাহলোয়ানকে।
আবার দায়িত্ব পেয়ে তাবিউর রহমান পাহলোয়ান খুব খুশি, ‘দোয়া করবেন যেন দেখিয়ে দিতে পারি আমরাই কাজের লোক। ওরা তো কোনো কাজই করতে পারল না গত আড়াই বছর। কেবল উকিলের চেম্বারে ঘোরাঘুরি করেই সময় কাটাল।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সচিব শফিক আনোয়ার কাল আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সপক্ষে বললেন, ‘বর্তমান কমিটি অকার্যকর রয়েছে বলেই আবার নতুন অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে।’ তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মাহবুবুল, ‘কোন অজুহাতে তারা এটা করল তা বুঝতে পারলাম না! আমি তো নির্বাচন করার জন্য এনএসসিতে কাউন্সিলর তালিকা পাঠিয়েছি। নির্বাচনের জন্য বারবার তাগিদও দিয়েছিলাম। কিন্তু এনএসসি আমাদের কথার কোনো গুরুত্বই দেয়নি। আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।’

‘এ’ দলে ডাক পেলেন ১৯ ক্রিকেটার

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ২০ দিনের সফরে দুটি চার দিনের ম্যাচ, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে তারা। ‘এ’ দলের এই সফরের অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য কাল ১৯ ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে বিসিবি। অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে আগামী শনিবার থেকে।
২৭-৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম চার দিনের ম্যাচটির প্রতিপক্ষ মহারাষ্ট্র অনূর্ধ্ব-২২ দল। ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পরের চার দিনের ম্যাচটি রঞ্জি ট্রফির দল মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে। ৯, ১০ ও ১১ অক্টোবরের তিনটি ওয়ানডে এবং ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবরের তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রতিপক্ষও তারাই।
ডাক পাওয়া ১৯ জন: হান্নান সরকার, ইমরুল কায়েস, নাজমুস সাদাত, নাফিস ইকবাল, শামসুর রহমান, ইমরান আহমেদ, রাজিন সালেহ, সগীর হোসেন, নাজমুল হোসেন মিলন, শাহাদাত হোসেন, ডলার মাহমুদ, তালহা জুবায়ের, তারেক আজিজ, জিয়াউর রহমান, সোহ্রাওয়ার্দী, আরাফাত সানি, ফয়সাল হোসেন, নাদিফ চৌধুরী ও সাজিদুল ইসলাম।

প্রসঙ্গ পিলখানা প্রাঙ্গণ

বাসার কাছে বলে বিডিআর হেডকোয়ার্টারের সুইমিং পুলে আমি সাঁতার কাটতে যেতাম। কিন্তু এখন ওখানে যেতে অস্বস্তিবোধ করি। আমি জানি, আমার মতো আরও অনেকেই হয়তো বিডিআরের দরবার হলে আর বিয়ে খেতেও যেতে রাজি হবেন না। যে নরমেধযজ্ঞ ওখানে ঘটেছে, এর ফলে জিগাতলার কোনার ওই বিশাল জায়গাটা ভবিষ্যতে একটা অভিশপ্ত জায়গা হিসেবেই ঢাকাবাসীর মনে এক অশুভ ছাপ ফেলে রাখবে।
পত্রিকায় দেখলাম বিডিআর পুনর্গঠনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে এই বাহিনীর নাম, গঠন ও পোশাক এসব পাল্টানোর প্রস্তাব রয়েছে। আশা করি, যে জায়গায় এ রকম নারকীয় সব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই হেডকোয়ার্টারের জায়গাটাও পাল্টানোর কথা ভাবা হবে। জায়গাটির কপালে অভিশপ্ত তকমাটা এমনই এক ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়েছে যে তা আর সহজে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না। বিডিআর জওয়ান বা অফিসাররা কেউই আর ওই জায়গাটাতে মানসিক প্রশান্তি নিয়ে কাজ করতে পারবেন না। তা ছাড়া সীমান্তরক্ষী এক বাহিনীর হেডকোয়ার্টার যে রাজধানী শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলেই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ঢাকার কাছাকাছি যেকোনো জায়গায় হলেই তা চলে।
আজকের ঢাকা শহরে ফাঁকা জায়গার এত অভাব! বিডিআর হেডকোয়ার্টার যদি ওই অঞ্চল থেকে সরানোই হয়, তাহলে ওখানে যেন কখনোই নতুন করে আরও একগাদা হাউজিং বা শপিং কমপ্লেক্স বানিয়ে জায়গাটাকে আরেকটা কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা না হয়। এ শহরে বালক-কিশোর-তরুণ-তরুণীদের খেলার মাঠ প্রায় নেই বললেই চলে। আমার প্রস্তাব হচ্ছে, জায়গাটায় যেন বেশ কিছু বড় বড় খেলার মাঠ সৃষ্টি করা হয়। বাকিটা হবে স্রেফ পার্ক বা খোলা প্রান্তর, যেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ বিভিন্ন বয়সী নগরবাসী হেঁটে চলে বেড়াবে। কলকাতায় আছে গড়ের মাঠের মতো বিশাল এক মাঠ, যা ওই বিরাট ও ব্যস্ত শহরটার জন্য একধরনের ফুসফুস হিসেবে কাজ করে। ঢাকায় তেমন কিছুই নেই।
তবে সীমাহীন যানজটের এই শহরে নতুন রাস্তাঘাটের কথা তো ভাবতেই হয়। বিডিআর হেডকোয়ার্টারটি যে জায়গায় অবস্থিত তা নতুন ও পুরোনো ঢাকার একটা সঙ্গমস্থল। এ এলাকার ওপর দিয়ে সহজেই সম্ভব চার লেনের প্রশস্ত এক রাস্তা তৈরি করা, যা নতুন ও পুরোনো ঢাকার মধ্যে সংযোগ রোড হিসেবে কাজ করবে। নতুন ঢাকা থেকে সহজেই যাওয়া যাবে একেবারে সদরঘাট, সোয়ারীঘাট, বুড়িগঙ্গার পাড় পর্যন্ত। এলিফ্যান্ট রোড বা গুলিস্তান অঞ্চলে যে দমআটকানো যানজট সব সময় লেগেই রয়েছে, তা লাঘবে এ ধরনের একটা সড়ক বড় রকমের সহায়ক হবে। আগামী দিনের ঢাকাকে সচল রাখতে নতুন ও পুরোনো ঢাকার মধ্যে এ রকম একটি প্রশস্ত সংযোগ সড়ক আজ খুবই প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ কি একটু ভাববে?
তানভীর মোকাম্মেল
চলচ্চিত্রকার, ঢাকা।

জাতীয় দিবসে চীন নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করবে

চীন এই প্রথম নতুন ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করতে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের সময় ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হতে পারে। একই সঙ্গে কুচকাওয়াজে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও ওই দিন প্রদর্শন করা হবে। স্থানীয় দ্য গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার খবরে গতকাল বুধবার এ কথা বলা হয়। খবর এএফপির।
পিপলস লিবারেশন আর্মির একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, চীন নিজেই ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা এবং এর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য তৈরি। অন্যান্য সমরাস্ত্রের ব্যাপারে চীনা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় তথ্য দিলেও এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে এতদিন তারা মুখ খোলেনি।
চীনের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বরাবরই উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাইওয়ানকে খবরদারির মধ্যে রাখতেই সম্ভবত চীন এ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বিডিআর বিদ্রোহ- সেনা আইনে বিচার

গত ৩০ জুলাই ’০৯ প্রথম আলো পত্রিকায় ‘আসক’ কর্তৃক ‘সরকারের সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাওয়া: আমাদের অভিমত’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমার লেখা ‘সামরিক আদালতে বিচার নিয়ে বিভ্রান্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত ২২ আগস্ট প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কারও বা কোনো কিছুর সমালোচনা না করে শুধু সেনা আইন সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা তুলে ধরাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। ২২ আগস্ট ’০৯ আমার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট ’০৯ আসক কর্তৃক কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে অপরাধের বিভাজন একদিকে যেমন প্রচলিত আইনি পদ্ধতির স্পষ্ট লঙ্ঘন, তেমনি অন্যদিকে তা সংবিধানের ‘আইনের চোখে সমতা’ বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে যে আইনের ভাষায় একমাত্র তদন্ত তথা তদন্ত প্রতিবেদনই হচ্ছে অভিযুক্ত কর্তৃক কৃত অপরাধের গুরুত্ব বা লঘুত্ব চিহ্নিত করে তাকে বিচারের জন্য প্রেরণ করার মাপকাঠি। এ ছাড়া কি অন্য কোনো পথ আছে অপরাধের গুরুত্ব পরিমাপ করার? অতএব, আইনের চোখে সমতার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আমার ধারণা এটা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এর প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, অনুচ্ছেদ ২৭-এর মর্মবাণী ভিন্ন রকম। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এই মর্মে ঘোষণা করে যে ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ তাই অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি অনুচ্ছেদ ২৭-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আরও উল্লেখ্য, সেনা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কখনো বিচারের সময় আসামি বলে উল্লেখ করা হয় না।
কোর্ট মার্শালে বিচার করা হলে সেখানে বিচারের আসনেও বসবেন সেনা কর্মকর্তা। সংক্ষুব্ধ পক্ষ বিচারক হলে বিচারের নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হওয়ার একটা আশঙ্কা সব সময়ই থাকে—উক্তিটির সত্যতা হয়তো আছে। তবে এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে আইন প্রণেতারা সংশ্লিষ্ট আইনটির অনুরূপ বিধান প্রণয়ন করেছেন সবদিক বিবেচনা করেই। বাস্তবে বিচারকের আসনে বসলে আইনের বিধানকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ইচ্ছা/অনিচ্ছাকে আরোপ করার সুযোগ থাকে খুবই কম। সর্বোপরি উন্মুক্ত আদালতে সবকিছুই সবার নজরে থাকে। কোর্ট মার্শালের বিচার-উত্তর কার্যপ্রণালীতে এ রকম ঘটার আশঙ্কা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভুললে চলবে না যে আমরা শৃঙ্খলা বাহিনীর আইন নিয়ে আলোচনা করছি।
সেনা আইনের ১৩৩ (আপিল বারিত)-এর বিধানটি বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদের (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) লঙ্ঘন নয়। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। সেনা আইনের বিধান এই যে কোর্ট মার্শালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। এটাই তো শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রচলিত আইন। তাই এ ক্ষেত্রে আপিল বারিত করে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়নি। এ ছাড়া কোর্ট মার্শালে বিচারের প্রতিটি স্তরে অর্থাত্ বিচারপূর্ব, বিচার ও বিশেষ করে বিচার-পরবর্তী যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান আছে, তাতে আপিলের বিধান না থাকলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়াস সব স্তরেই গ্রহণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আরও উল্লেখ্য, সেনা আইনের অপরাধসমূহের বর্ণনা এতই স্পষ্ট যে কোনো সেনাসদস্য কর্তৃক কোনো অপরাধ সত্যিই সংঘটিত হলে তা আড়াল বা অস্বীকার করার সুযোগ খুবই কম থাকে। যেমন, দেশের প্রচলিত আইনে একজন অভিযুক্ত অপরাধ করেও নিঃসংকোচে আদালতে দাবি করতে পারেন যে তিনি নির্দোষ।
সেনা আইনের ধারা ১০৪ (১৪৪ নয়) ও বিধি ৩৫-এ বিধান রাখা হয়েছে যে আদালতের সদস্যদের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আপত্তি উত্থাপন করতে পারবেন—‘একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারকের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করার সাহস বাস্তবিক অর্থে করবে কি না।’ এ ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট করা যাচ্ছে যে এই আপত্তির প্রশ্নটি আদালত তার কাজ শুরু করার আগে আদালতের প্রেসিডেন্ট/জজ অ্যাডভোকেটের তরফ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশ্লেষণ ও অভয় দিয়ে নির্ভয়ে আপত্তি তুলতে বলা হয়, অভিযুক্ত নিজে বা তার আত্মপক্ষ সমর্থনকারী কর্মকর্তা/কৌঁসলির পক্ষ থেকে না তুললেও আদালতের জন্য এই কার্যক্রমটি বাধ্যতামূলক। বহু কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক আপত্তি তোলার পরও সদস্য পরিবর্তন হওয়ার পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির সসম্মানে খালাস হয়েছে। সুতরাং অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য অনুরূপ আপত্তি ঝুঁকি বাড়ায় না।
যা হোক, গত ২৫ আগস্ট প্রথম আলোয় আসক কর্তৃক ‘সেনা আইনে নিরপেক্ষতা থাকবে কি?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সেনা আইনে বিচার পদ্ধতি দেশের প্রচলিত আইনের বিচার পদ্ধতির পরিপন্থী হিসেবে মতামত উপস্থাপন করে প্রতিবেদনে মূল চেতনায় কোন বা কী বিষয় বোঝাতে চেয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। চেতনা একটি বিমূর্ত বা আদর্শগত বিষয়, অপর দিকে বিচার পদ্ধতি একটি বাস্তবসম্মত বিষয়, যা ঘটনা, সাক্ষ্য ও সাক্ষীদের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে অগ্রসর হয়।
সর্বোপরি, জনগুরুত্বপূর্ণতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক শৃঙ্খলা যেখানে মুখ্য, তখন ব্যক্তিস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্নসমূহের বিবেচনার স্থান হবে দ্বিতীয়।
ইবনে ফজল সাইদুজ্জামান: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.), সাবেক জজ অ্যাডভোকেট জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ব্রিটেন চায়নি মেগরাহি কারাগারে মারা যান: ডেভিড মিলিব্যান্ড

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন, লকারবিতে বোমা হামলাকারী আবদেল বাসেত আলী আল-মেগরাহি কারাগারে মারা যান, ব্রিটেন তা চায়নি। তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্কটল্যান্ড সরকারের ওপর লন্ডনের কোনো চাপ ছিল না।
গতকাল বুধবার বিবিসি রেডিওকে মিলিব্যান্ড বলেছেন, ‘তিনি কারাগারে মারা যান, সেটা আমরা চাইনি।’ মেগরাহির মুক্তির জন্য লিবিয়া সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তির বিষয় আবারও নাকচ করে দেন মিলিব্যান্ড।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্কটিশ সরকারের ওপর কোনো না কোনোভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু স্কটিশদের ওপর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না।
মিলিব্যান্ড স্বীকার করেন, ব্রিটেন চায়নি, সাবেক এই লিবিয়ান এজেন্ট কারাগারে মারা যান। কারণ, তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে আছেন।
মিলিব্যান্ডের এই বক্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছেন। কারণ, ব্রাউন সরকার বলে আসছিল, স্কটিশ সরকার এককভাবে মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রাউনের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলেছেন রক্ষণশীল দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরুন। সরকার আসলে জনগণের স্বার্থের কথা বলে ঠিক কী করেছে, সেটা খুঁজে বের করার জন্য একটি স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ক্যামেরুন বলেন, এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ব্রিটেন একদিকে আমেরিকানদের বলছে, তাঁরা চায় মেগরাহি কারাগারে মারা যান; অন্যদিকে লিবিয়ানদের বলছে, মেগরাহিকে তারা মুক্তি দিতে চায়।

কিউবার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি কিউবার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘অনৈতিক’ অভিহিত করে বলেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার লাখ লাখ মানুষ উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধপত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
লন্ডনভিত্তিক এ মানবাধিকার সংস্থাটির মহাসচিব আইরিন খান বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ব্যর্থ নীতি থেকে সরে আসার জন্য এটাই হচ্ছে ওবামার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। কিউবার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত মার্কিন কংগ্রেসে এ সংক্রান্ত একটি জোরালো বার্তা পাঠানো।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল বুধবার কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশে যেকোনো মার্কিন কোম্পানি থেকে ওষুধ, ওষুধের সরঞ্জাম ও চিকিত্সাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারছে না কিউবা।
এ ব্যাপারে আইরিন খান বলেন, ‘কিউবার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অনৈতিক। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য অতি জরুরি ওষুধ ও ওষুধ সরঞ্জামের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বারাক ওবামা কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কিউবায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকেরা প্রায়ই মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রে সফর করতে পারছে। এমনকি তারা নিজ ভূমি যুক্তরাষ্ট্রে টাকাও পাঠাতে পারছে।

ইফতার অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানেরা সুপ্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, মুসলমানেরা তাঁদের কর্মের মধ্য দিয়ে মার্কিন সমাজকে সমৃদ্ধ করছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিত্সা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানেরা শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। মেধায়, নৈপুণ্যে এবং উত্তম প্রতিবেশী হিসেবে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে আজ মুসলমানেরা পরিচিত।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব কথা বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত আট বছরের ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ বছরও হোয়াইট হাউসে ইফতারের আয়োজন করেন। এতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দুজন মুসলমান কংগ্রেসম্যান কিথ এলিসন ও অ্যান্ড্রি কারসন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সব মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত মুসলমান অতিথিদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, পবিত্র রমজান মাসের প্রধান শিক্ষাই হচ্ছে আত্মত্যাগ এবং একাগ্রতা। হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় পানশালায় জনাকীর্ণ ইফতার আয়োজনে প্রেসিডেন্ট ওবামা বেশ কয়েকজন আমন্ত্রিত মুসলমান ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, একাগ্রতা এবং শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়ে উজ্জ্বল আমেরিকান মুসলমান মোহাম্মদ আলী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোহাম্মদ আলী এ ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। মুসলমান তরুণী বিলকিস আবদুল কাদিরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, বিলকিস শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুপ্রেরণার। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বিলকিস বাস্কেটবলে নৈপুণ্যের রেকর্ড সৃষ্টি করে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা মার্কিন কংগ্রেসের দুজন মুসলমান সদস্যকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেন।
রমজান মাস উপলক্ষে আট বছর ধরে হোয়াইট হাউসে ইফতারের আয়োজন হয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত প্রথম এ ইফতার আয়োজনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন মার্কিন মুসলমানেরা। মুসলমানদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে। কৈশোরে মায়ের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার মুসলমান পরিবেশে বেশ কিছুদিন ছিলেন বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। গত জুন মাসে কায়রোতে দেওয়া বক্তৃতায় ওবামা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না।

সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান পরনিন্দা ও মিথ্যাচারিতা বর্জন করুন

মাহে রমজানে একজন রোজাদার সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ ও কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সিয়াম সাধনা করে উন্নত মানবিক গুণাবলি অর্জনে সক্ষম হন। সে জন্য বিশেষভাবে রমজান মাসে পরচর্চা, পরনিন্দা ও মিথ্যাচারিতা বর্জনের জন্য রোজাদারদের জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, পরনিন্দা বা গিবত করা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণাসহ মানুষকে ঠকানোর যত রকম অপরাধ আছে, রমজান মাসে দেহ-মন থেকে তা যেন সর্বাবস্থায় নির্বাসিত হয় সে জন্য রোজাদারদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যতক্ষণ না রোজাদার নিজেই তা ফাটিয়ে ফেলে।’ সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ঢাল ফাটাবে কীভাবে?’ জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা এবং গিবতের দ্বারা।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, পানাহারের মতো মিথ্যাচার ও পরনিন্দার দ্বারা রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
রোজাদার মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। সমাজে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করা ইসলামের নির্দেশ। মানুষের মধ্যে কতগুলো ভালো গুণ থাকা দরকার। যেমন—পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহানুভূতি, উদারতা প্রভৃতি। পক্ষান্তরে কতগুলো নিন্দনীয় আচরণ যা সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিনষ্ট ও ধ্বংস করে, যেমন—পরচর্চা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যাচার প্রভৃতি বর্জন করা অবশ্যকর্তব্য। কারও দোষ বলে বেড়ানো, কুত্সা রটানো, গিবত করা—এসবই পরচর্চা ও পরনিন্দা। পরচর্চা মানে অন্যের নিন্দা করা, অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা। পরনিন্দা যেমন সমাজে ঘৃণিত কাজ, তেমনি তা আল্লাহর কাছেও অত্যন্ত পাপের কাজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত-১২)
পরচর্চায় পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, সমাজে শান্তি বিনষ্ট হয়। যে পরনিন্দা করে তাকে কেউ বিশ্বাস করে না ও ভালোবাসে না। একজনের দুর্নাম অন্যের কাছে করলে পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়, বিবাদ সৃষ্টি হয়। পরচর্চা ও পরনিন্দার পরিণতি সম্পর্কে হাদীস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারী ও মুসলিম) এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অন্যের দোষ অন্বেষণ করবে না, গুপ্তচরবৃত্তি করবে না, পরস্পর কলহ করবে না, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না, একে-অপরকে ঘৃণা করবে না, অন্যের ক্ষতিসাধনের কোনো কৌশল অবলম্বন করবে না, আর তোমরা আল্লাহর প্রকৃত বান্দা ও পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)
পরনিন্দা যেমন হারাম তদ্রূপ কারও অসাক্ষাতে দুর্নাম বা গিবত করাও হারাম। গিবত হচ্ছে কারও অনুপস্থিতিতে অন্যের কাছে তার এমন কোনো দোষের কথা বলা, যা সে শুনলে মনে কষ্ট পাবে। যারা ভালো মানুষ তারা অন্যের গুণ প্রকাশ করে, দোষ বলে না। আর যারা নিজেরা খারাপ তারা অন্যদের খারাপ মনে করে। তারা মানুষের গুণ দেখে না, দোষ খুঁজে বেড়ায়, কুত্সা রটনা করে। গিবত করা জঘন্য ও ঘৃণার কাজ। ত্রুটিমুক্ত রোজার মাধ্যমেই মুমিন তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হবে। যেমন—রোজা রেখে মিথ্যা ও পরদোষ চর্চা করবে না এবং যত প্রকার গুনাহ্র কাজ আছে তা বর্জন করবে।
মিথ্যাচার হচ্ছে অসত্য কথা বলা, অসত্য সংবাদ দেওয়া, অবাস্তব বর্ণনা ও অসত্য তথ্য প্রদান। এর বিপরীত হচ্ছে সদাচার। মিথ্যাচার একটি ঘৃণিত বদস্বভাব। মিথ্যাচার মানুষকে কলঙ্কিত করে। তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে তার জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। আর ইহকাল ও পরকালে তাকে ধ্বংস করে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মিথ্যাচার বর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যা কথা বর্জন করো।’ (সূরা আল-হজ, আয়াত-৩০)
সদাচার ও সত্যবাদিতা হচ্ছে ইহকাল ও পরকালে সফলতা ও মুক্তির উপায়। রমজান মাসে রোজাদারদের পরচর্চা, পরনিন্দা ও মিথ্যাচার বর্জনের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ নিতে হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘অবশ্যই তোমরা মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকবে, কেননা নিশ্চয়ই মিথ্যা কথা অপকর্মের দিকে পরিচালিত করে এবং অপকর্ম দোজখের দিকে পরিচালিত করে। আর যে ব্যক্তি সদা মিথ্যা কথা বলতে থাকে ও মিথ্যার অনুসন্ধান করতে থাকে সে অবশ্যই আল্লাহর কাছে পরম মিথ্যাবাদী বলে লিখিত হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)
জনগণ মিথ্যাচারীকে বিশ্বাস করে না, তাকে ভালোবাসে না, তার ওপর আস্থা স্থাপন বা নির্ভর করতে পারে না। অপরদিকে সদাচারীকে লোকেরা বিশ্বাস করে, তাকে ভালোবাসে ও তার ওপর নির্ভর করে। তাই মিথ্যাবাদী যখন কোনো বিপদ-আপদে বা সমস্যায় পতিত হয়, তখন তাকে রক্ষা করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।
সুতরাং মাহে রমজানে যাবতীয় অনৈতিক ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, অসদাচরণ, কথাবার্তা ও অবৈধ লেনদেন থেকে বিরত থাকুন এবং পরচর্চা ও পরনিন্দা পরিহার করুন। রমজান মাসে রোজা রেখে কখনোই মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা ও বাতিল মজলিশে যোগ দেওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। যদি কেউ মিথ্যা ও বাতিল মজলিশের নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, তবে গাম্ভীর্য ও ভদ্রতাসহকারে তা এড়িয়ে বা পরিহার করে চলে যাওয়া উচিত। যে মিথ্যা কথা বলা এবং সে অনুসারে কাজ করা বর্জন না করে তার পানাহার বর্জন আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা এবং তদনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করতে বা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারল না, এমন ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করার প্রয়োজন আল্লাহর নেই।’ (বুখারি) হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে, ‘বহু রোজাদার রোজার মাধ্যমে ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া্র আর কিছুই লাভ করতে পারে না এবং রাতের বহু নামাজি রাত জাগরণ ছাড়া অন্য কিছুই পায় না।’ (ইবনে মাজা)
পক্ষান্তরে নিখুঁত ও মর্যাদাপূর্ণ রোজা হলো এই যে, রোজাদার ব্যক্তি মিথ্যা বলবে না, ঘুষ খাবে না, জিনিস বাটে কোনো প্রকার দ্রব্য নেওয়ার সময় বেশি মেপে নেবে না এবং দেওয়ার সময় কম মেপে দেবে না। তৈরি খাদ্যে বা চাল, ডাল, তেল ও দুধ জাতীয় তরল খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল দেবে না ও প্রতারণা করবে না। অনাথ-এতিম বা যেকোনো লোকের সম্পদ অন্যায়ভাবে জোর করে আত্মসাত্ করবে না। হত্যাকাণ্ড, ব্যভিচার, ধর্ষণ ও ছিনতাই করবে না। গিবত বা পরদোষ চর্চা করবে না।
মাহে রমজানের একটি মাসে সিয়াম সাধনার কঠিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি রোজাদার মুসলমান যদি পরনিন্দা ও মিথ্যাচার বর্জনের প্রাত্যহিক অভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে সমাজ থেকে যাবতীয় অনাচার, পাপাচার বিলুপ্ত হয়ে পৃথিবী শান্তির আবাসস্থলে পরিণত হতে বাধ্য। অতএব, মাহে রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী আমাদের সবার পরচর্চা, পরনিন্দা ও মিথ্যাচার পরিহার করা, কোনো অবস্থায়ই মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া এবং সর্বাবস্থায় সততার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে সত্যাশ্রয়ী হওয়া উচিত। তাহলে আল্লাহ তাআলার মহাপুরস্কার ‘সত্যবাদী’ খেতাবপ্রাপ্ত হয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক অনাবিল সুখ-শান্তি লাভ করা সম্ভব হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

মার্কিন প্রতিরক্ষা বুলেটিনের প্রতিবেদন পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েছে

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান ইতিমধ্যেই তাদের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিনের ভাষ্যমতে, তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ইতিমধ্যেই আনুমানিক ৯০-এ দাঁড়িয়েছে। পরমাণু বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রিসটেনসেন ও রবার্ট এস নরিসের মতে, ‘পাকিস্তান নীরবে ব্যালেস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অনেক বাড়িয়েছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষা বুলেটিনে আরও বলা হয়, এই পরমাণু অস্ত্রের সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাকিস্তান হয়তো তার চিরশত্রু পরমাণু শক্তিধর ভারতকে ছাড়িয়ে যায়নি; কিন্তু এটা সত্যি এতে পাকিস্তানের দ্বারা আগে ভারতের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। ভারতের সুশীল সমাজ ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বুলেটিনে বলা হয়, ‘ভারত কেবল পাকিস্তানের পরমাণু আক্রমণের প্রতি আক্রমণের অবস্থায় রয়েছে।’
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, জঙ্গি হামলায় জর্জরিত পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং তা যেকোনো সময় জঙ্গিদের হাতে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বুলেটিনের ওই প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র স্থাপনার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দুটি বাঙ্কারে থরে থরে পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ আছে। পাকিস্তান খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুটি পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি ভূমি থেকে ভূমিতে উেক্ষপণযোগ্য ‘বাবর’ এবং অপরটি আকাশে উেক্ষপণযোগ্য ‘রা’আদ’। বুলেটিনে বলা হয়, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বন্দর নগর করাচির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
এদিকে ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানী কে সান্থানাম মার্কিন বুলেটিনের এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘পাকিস্তানের যেকোনো পরমাণু দুরভিসন্ধির জবাব দিতে ভারত প্রস্তুত আছে। ভারতের হাতে যথেষ্ট পরিমাণে পরমাণু অস্ত্রের মজুদ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত অনেক ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এখানে একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বিদ্যমান। তাই ভারতের পরমাণু অস্ত্র অনেক বেশি সুরক্ষিত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে ভারত অনেক বেশি পরিকল্পনামাফিক তার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।’
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের অব্যাহত হুমকির মুখে একজন ঊর্ধ্বতন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান যদি তার পরমাণু অস্ত্রের কোনো অন্যায় ব্যবহারের পরিকল্পনা করে তাহলে তার জবাব ভারত যথাযথ উপায়ে দেবে।
হারপুন ক্ষেপণাস্ত্রের মানোন্নয়নের কথা কংগ্রেসকে জানাল ওবামা প্রশাসন
পাকিস্তান অবৈধভাবে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা পরিবর্তন করায় বারাক ওবামা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। বিষয়টি ওবামা প্রশাসন কংগ্রেসকেও অবহিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ান কেলি মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন।
কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা খবর প্রকাশ করে, পাকিস্তান সমরাস্ত্র রপ্তানি আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জাহাজবিধ্বংসী হারপুন নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা পরিবর্তন করেছে এবং এর মানোন্নয়ন করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে, যা এখন ভারতের স্থলভাগে আঘাত হানতে সক্ষম।
টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুখপাত্র কেলি বলেন, ‘আমরা ওই প্রতিবেদনটি দেখেছি। আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের কোনো ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের বিষয়টি ওবামা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ ও ১৯৮৮ সালের মধ্যে তত্কালীন রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসন ১৬৫টি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানকে দেয়। এরপর থেকে পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্রটির পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধন করে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান হারপুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা পরিবর্তনের কথা উড়িয়ে দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, নিজেরাই তারা এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে।

চরমপন্থীদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন

দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের কথা শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এখন তাদের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান ও প্রয়োজনে সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করারও ঘোষণা পাওয়া গেল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীদের তত্পরতা, অর্থাত্ খুনাখুনি, চাঁদাবাজি—এসব বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর কিছু করা যে দরকার হয়ে পড়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। চরমপন্থীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এর আগেও হয়েছে। আমরা মনে করি, বর্তমানে এ ধরনের কিছু করার ক্ষেত্রে আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
আওয়ামী লীগ গত মেয়াদে যখন ক্ষমতাসীন ছিল, তখন মাওবাদী দাবিদার ও সাধারণভাবে চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৯ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে আড়াই হাজারের বেশি চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছিল। অস্ত্র জমা পড়েছিল দুই হাজার ৭৭টি। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ৭৮০ জনকে আনসারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উদ্যোগটি ভালো ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু সফল যে হয়নি, তার প্রমাণ চরমপন্থীদের বর্তমান তত্পরতা। সরকার যদি আন্তরিকভাবে এই সমস্যার একটি সমাধান চায়, তাহলে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে।
সমাজের শোষিত শ্রেণীর অধিকার রক্ষায় শ্রেণীশত্রু খতম ও সমাজ পরিবর্তনের রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে একসময় এ ধারার রাজনীতির সূচনা হলেও বর্তমানে তা স্রেফ চাঁদাবাজির রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। আর চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ঘটে চলেছে খুনাখুনির ঘটনা। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের মূলধারার বড় বড় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা চরমপন্থী হিসেবে পরিচয় পাওয়া এই গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে আসছেন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে—কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, কখনো নির্বাচনে জিততে, কখনো এলাকায় নিজের ক্ষমতা, প্রভাব ও শক্তি ধরে রাখতে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে চরমপন্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও তাদের ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। চরমপন্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কখনো সফল হবে না। সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেই প্রথম এ ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছার প্রমাণ রাখতে হবে। আওয়ামী লীগকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের দলের কোনো নেতা চরমপন্থীদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ব্যবহার করবেন না। এই বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে বাকি কাজ অনেক সহজ হয়ে আসবে।
আগেরবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর যাদের আনসারে চাকরি দেওয়া হয়েছিল, পরে তাদের মধ্যে ১৩৭ জন বিভিন্ন সময় চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের অনেকেই আবার চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িত হয়েছে বলে জানা গেছে। বোঝা যায় যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ও কয়েকজনের চাকরি দিয়েই সরকার তার দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেছিল। বিষয়টির যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে, সে বিবেচনা ছিল বলে মনে হয় না।
আমরা চরমপন্থীদের সাধারণ ক্ষমা বা এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। তবে এর আগে দেশের মূল রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের স্বার্থে চরমপন্থীদের ব্যবহার না করার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং তারা যাতে কোনো হতাশা থেকে আবার চরমপন্থার পথে ফিরে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কেবল সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ সফল হতে পারে।

সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান আত্মশুদ্ধির বলিষ্ঠ হাতিয়ার রোজা

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা বা রোজাব্রত পালন মানবজীবনকে পূতপবিত্র ও সুন্দরতর করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী পন্থা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার পরিহার করে রমজান মাসে মানুষ যে একটানা সংযম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধি লাভ করে, তার চূড়ান্ত ফল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও অপার করুণা দৃষ্টি। রমজান মাসে সংযত জীবনযাপনের কঠোর অনুশাসন আল্লাহর অনন্ত-অসীম রহমতের দ্বার খুলে দেয় এবং মানুষকে জান্নাতি সওগাত লাভ করার উপযোগী করে তোলে। সেই সঙ্গে আত্মিক ও আধ্যাকি উন্নতিসাধন তথা মনের পবিত্রতা অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়।
মানুষের আত্মশুদ্ধির একটি বলিষ্ঠ হাতিয়ার সিয়াম পালন বা রোজা। বিশেষত মাহে রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ তার পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত এবং আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলার পরিপূর্ণ সুযোগ লাভ করে। মানুষের মনের মধ্যে যে পশু স্বভাব রয়েছে, তা তার আত্মিক উন্নতির পথে বাধার সৃষ্টি করে থাকে। মানুষ যখন তার পশু স্বভাবের ওপর আত্মিক ও বিবেকের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তখনই সে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। পশু স্বভাব কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও আত্মসংযমের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়। সে কারণেই সিয়ামের মতো কঠোর সংযম সাধনার মাধ্যমে মানবজাতি তার পশু স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার চেষ্টা করে।
কুপ্রবৃত্তির হাতিয়ার বা অস্ত্রকে দুর্বল করে বশে আনার লক্ষে আল্লাহ তাআলা সিয়াম সাধনার অপূর্ব সুযোগ দিয়েছেন। মানুষ যাতে কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে পারে এবং যাবতীয় অকল্যাণকর কাজ থেকে আত্মরক্ষা করে আল্লাহর রহমতের যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। আত্মাকে সংশোধন, রিপুর লোভ-লালসা থেকে পরিমার্জন ও পরিশোধন করার মাধ্যমেই একজন রোজাদার ব্যক্তি সফলকাম হতে পারে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘শপথ আত্মার এবং যিনি তা সুঠাম করেছেন তার, অতঃপর তাকে পাপাচারের ও ধার্মিকতা পথ শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সে সফলকাম যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। আর সে ব্যর্থ যে নিজেকে কলুষিত করে।’ (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-১০)
মাহে রমজানের রোজা আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র উন্নয়নের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। যেকোনো মানবিক প্রক্রিয়ায় উন্নতি করতে হলে যথেষ্ট মানসিক কসরত করতে হয়। শরীরকে বেশি মজবুত করতে হলে ব্যায়াম করতে হয়। তেমনি চারিত্রিক উন্নয়ন ও মানসিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন মানসচর্চা ও মানসিক সাধনা। সিয়াম সাধনায় শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবহারের চেয়ে মনের গতি-প্রকৃতি, কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বই অনেক বেশি। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) সিয়ামকে দেহের জাকাত বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিয়াম বা রোজা দ্বারা শরীর, মন ও আত্মা বিধৌত হয়। দেহ যখন সংযমের শাসনের অধীন থাকে, আত্মা তখন সবল হয়ে ওঠে। সত্যকে গ্রহণ ও ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। সিয়াম সাধনায় কুপ্রবৃত্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে লুক্কায়িত পাশবিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।
আত্মা মানুষকে পাপাচারের দিকে পথনির্দেশনা দেয়। রোজাদারদের স্বীয় আত্মাকে সত্ পথে পরিচালিত করার দ্বারা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ হবে। অন্তর যদি গুনাহর দিকে আহ্বান করে, তাহলে সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়া যাবে না। মাহে রমজানে সর্বদা হূদয়কে কুচিন্তাভাবনা থেকে সংশোধিত রাখতে হবে। মানবাত্মাকে সংশোধন করা হলে ইবাদতে সত্যনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা আসবে। আর এ পরিশুদ্ধিতা লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা, রিপুর তাড়না, অপরের সম্পদ আত্মসাত্, জুলুম-নির্যাতন ও অসামাজিক দুর্বৃত্ততা পরিহার করে ধার্মিকতার পথে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হবে। লৌকিকতা বা প্রদর্শনের ইচ্ছা পরিহার করে আত্মার পরিশুদ্ধি নিয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত। জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাকওয়াশীল হওয়া প্রতিটি রোজাদার মুমিন বান্দার জন্যই বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে সংশোধিত হলো, সে সফলকাম হলো।’ (সূরা আল-আ’লা, আয়াত-১৪)
কুপ্রবৃত্তিগুলো সবল ও সতেজ থাকলে সুপ্রবৃত্তিগুলো মৃতপ্রায় হয়ে যায়। মানুষের ঈমান যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, শয়তান তখন তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় তখন মানুষ পাপের পথে ধাবিত হয়। তখন পরম দয়ালু আল্লাহ মেহেরবান তাদের আত্মশুদ্ধির দিকনির্দেশনা দেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, বিশুদ্ধ তওবা। হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন।’ (সূরা আত-তাহরিম, আয়াত-৮)
যে ব্যক্তি পাপাচারে লিপ্ত হয়ে নিজেকে আল্লাহর অভিশাপের উপযুক্ত করে তুলেছে, সে যদি পাপের জন্য লজ্জিত হয়ে অনুতপ্ত হূদয়ে চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে মহান আল্লাহর কাছে আকুলভাবে মিনতি করে, তবে দয়াময় আল্লাহ নিশ্চয়ই তার তওবা কবুল করতে পারেন। রোজা বা সিয়াম সাধনার চর্চায় মানুষ এক অমিয় সুধা লাভ করে। এতে মানুষ জাগতিক লোভ-লালসা, অতিরিক্ত ধনসম্পদ অর্জনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ পায়। আর অন্তরের বিশুদ্ধতা বা আত্মশুদ্ধির হাতিয়ার রোজা দ্বারাই এটা অর্জিত হয়। মাহে রমজানে আত্মশুদ্ধির বিরাট সুযোগ থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক অধঃপতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক সমস্যা ও গণসচেতনতার অভাব প্রভৃতি সেই আত্মশুদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে সমাজের প্রত্যেক রোজাদার মানুষকে সত্ মনোভাবাপন্ন, নির্লোভ ও মহত্ ব্যক্তিত্ববান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মানুষ যখন কোনো পাপ কাজ বা দোষ-ত্রুটি করে, তখন তার অন্তরে কালিমা বা মরিচা পড়ে। মানুষ যত বেশি পাপ কাজ করতে থাকে, তার অন্তরে পাপের কালিমা তত বেশি পতিত হয়। এই পাপের মরিচা থেকে আত্মশুদ্ধি তথা অন্তরকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার রাখার একমাত্র পন্থা হলো আল্লাহর জিকির। মানুষ যতই আল্লাহর জিকির-আজকার, ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা পালন করবে, তার অন্তর থেকে ততই পাপ মুছে যাবে এবং সে পাপমুক্ত হবে। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা আশ-শূরা, আয়াত-২৫)
মাহে রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে মানবীয় মন্দ স্বভাবগুলো থেকে বিরত থাকা রোজা আদায়ের জন্য শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাই রমজান মানুষকে এসব মন্দ স্বভাব পরিহার করে সত্ স্বভাব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। রোজাব্রত পালন বা সিয়াম সাধনায় মানুষের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু-সুুন্দর রাখার পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। আর এই কল্ব বা অন্তরের অবস্থানকে পবিত্র, নির্মল তথা পরিশুদ্ধ করার জন্য নামাজের পরই রমজান মাসের রোজার স্থান। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ কাজ করে তা থেকে তওবা করে, সে ব্যক্তি এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেন সে পাপ কাজ করেনি।’
সুতরাং সিয়াম সাধনায় পাশবিক প্রবৃত্তি যখন দমে যায়, তখন মানবাত্মার তেজ ও প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রোজার দ্বারা মানুষের আত্মার উন্নতি সাধিত হয়। আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধির কারণে ক্ষুধার জ্বালা রোজাদারকে কাবু করতে পারে না। রোজাদার তার ঈমানের শক্তি বৃদ্ধির ফলে সব ধরনের খাবার সামনে থাকা সত্ত্বেও আহার করে না। এ জন্য তিনি আল্লাহকে না দেখেও তার সন্তুষ্টির আশায় পানাহার বর্জন করে থাকে। রোজা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ তার অন্তরাত্মাকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে অভ্যস্ত হয়। বস্তুত রোজা হলো গুনাহ খাতা মাফ, আত্মশুদ্ধি ও দেহ-মনের পবিত্রতা অর্জনের সর্বোপরি আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জনের পাশাপাশি পরকালীন চিরস্থায়ী জিন্দেগির চরম সাফল্য লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। মাহে রমজানের রোজা পালনের দ্বারা মানুষের আত্মশুদ্ধির বলিষ্ঠ হাতিয়ারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি লাভের পরম সৌভাগ্য দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

নারীও বাংলাদেশ সালমা খান সিডওর ২৫ বছর ও নারীর মানবাধিকার

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩ সেপ্টেম্বর সিডও দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ কর্তৃক পুরুষের সমান পর্যায়ে নারীর মানবাধিকারের আদর্শগত ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক সিডও সনদ বা নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসন সনদ পরিগৃহীত হয়, যা বর্তমানে বিশ্বের ১৮৭টি রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালের ৬ ডিসেম্বর কিছু ধারা সংরক্ষণ সাপেক্ষে সিডও সনদ অনুমোদন করে। সিডও সনদ পরিগৃহীত হওয়ার ২৭ বছর পর এবং বাংলাদেশের সিডও সনদে অনুমোদন দান করার প্রায় ২৫ বছর পর একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নারীর মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও অগ্রগমনে সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সিডওর ২৫ বছরে বাংলাদেশের নারীর প্রাপ্যতার ঝুলি কতটুকু ভরেছে, ২৫ বছরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পারিবারিক, সামাজিক, সম্প্রদায়ভুক্ত ও গণজীবনে প্রকৃতপক্ষে নারীর প্রতি বৈষম্যের নিরসন হয়েছে কতখানি? বাংলাদেশের সংবিধান ২৮(১) অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিধানাবলির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব আইনকে বাতিল গণ্য করে [২৬ (১) অনুচ্ছেদ]। অন্যদিকে সিডও একটি মানবাধিকার সনদ, যা মূলত বৈষম্যহীনতা ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নারীর সব ধরনের মানবাধিকার ভোগের নৈতিক দর্শনের ওপর নির্ভরশীল এবং অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের পক্ষে একটি আইনসম্মত আন্তর্জাতিক চুক্তি বলে বিবেচিত। তথাপি আমরা দেখি সংবিধান ও সিডও সনদের আলোকে নারীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো, যথা উত্তরাধিকার, বিবাহ এবং সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের কোনো উদ্যোগই এ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের রয়েছে সুদীর্ঘ নারী আন্দোলনের ইতিহাস। উপরন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী কাল থেকে এনজিও এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এনজিওরা নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। নারী আন্দোলনও সোচ্চার থেকে সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রেখেছে নারীর প্রতি বিরাজমান সব বৈষম্য নিরসন করতে। এ ক্ষেত্রে যা লক্ষণীয় তা হলো, আশির দশক পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়নের মূল কৌশল হিসেবে সামাজিক উন্নয়ন অর্থাত্ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমাজে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সমতার ভিত্তিতে নারীর মানবাধিকার ভোগে যে বিধিনিষেধ বা সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। এই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলেও মানবাধিকার ভোগে নারীর অগ্রগতি হয়েছে ন্যূনতম।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রয়ে গেছে অদৃশ্য, অগোচরিত এবং অনালোচিত। বৈশ্বিক পর্যায়ে নারী আন্দোলন নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনকে মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গণ্য করে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রথম ১৯৯২ সালে সিডও কমিটি কর্তৃক গৃহীত নারীর প্রতি সহিংসতা সংক্রান্ত ১৯ নম্বর সাধারণ সুপারিশের (জেনারেল রিকমেন্ডেশন) পরিপ্রেক্ষিতে। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে নারীর সমতার অধিকারকে মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং নারীর প্রতি সহিংসতাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন রূপে চিহ্নিত করা হয়। পরে ১৯৯৫ সালের বেইজিং সম্মেলনে এই ধারণা আরও শক্তিশালী হয় এবং নারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে সর্বাত্মকভাবে নিরসনের লক্ষ্যে বেইজিং কর্মপরিকল্পনাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উন্নয়ন নীতিতে সম্পৃক্ততার পূর্বশর্ত হিসেবে সিডও সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়। কারণ, অনুমোদন চুক্তির শর্ত হিসেবে এই সনদ বাস্তবায়নের আইনগত দায়িত্ব বর্তায় শরিক রাষ্ট্রের ওপর, যা বেইজিং কর্মপরিকল্পনায় প্রযোজ্য নয়। কিন্তু সিডও সনদ অনুমোদনের দীর্ঘ ২৫ বছর পরও আমরা দেখি, সনদের পূর্ণ কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ন করে সনদের মৌলিক ভিত্তি ২ নম্বর ধারায় সংরক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সনদে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনগত সম-অধিকার নিশ্চিত করাকে লিঙ্গবৈষম্য নিরসনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবৃত করলেও সরকারি পর্যায়ে তা উপেক্ষিত হয়ে আসছে। ফলে স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও আইনের দৃষ্টিতে নারীর সমতা স্থাপিত হয়নি। নারীর শিক্ষা ও উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হলেও পুরুষশাসিত সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে নারীর অধস্তনতার বিষয়টি সামাজিক রীতি (নর্ম) হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।
দেশে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েম করার পক্ষে জনগণের বিপুল সমর্থন গড়ে উঠলেও মৌলিক সব ইস্যু যথা লিঙ্গ-সমতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে এখনো শক্তিশালী জনমত গড়ে ওঠেনি। উপরন্তু সমাজে নতুন ধারা ও প্রবণতা সৃষ্টি হচ্ছে নারী-পুরুষের ক্ষমতার বিভাজন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার গণ্ডি বিনির্মাণে, যা সমাজপতিদের দ্বারা নিজস্ব সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে পরিচিত করানো হচ্ছে। তাই সমাজ-নির্ধারিত তথাকথিত গণ্ডির বাইরে নারীর পদচারণের শাস্তির ভয়াবহ স্বরূপ প্রকাশিত হচ্ছে ফতোয়া দিয়ে নারীকে দোররা মারা, একঘরে করা এবং হীনম্মন্যতার বশে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব হচ্ছে সমাজে নারী নির্যাতনের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হওয়া। প্রকাশ্যে শত শত লোকের নীরব সম্মতিতে নারীর মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঘটে চলেছে, যার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো প্রতিবাদ হয়নি। এমনকি ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশাসনিক স্পর্শকাতরতাকেও ভোঁতা করে দিচ্ছে বলে মনে হয়। যে কারণে সম্প্রতি পুলিশ প্রধান দাবি করেছেন, ‘দেশে আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, যদিও নারী নির্যাতন বেড়েছে’ (১ সেপ্টেম্বরে সংবাদপত্র ও টিভির সংবাদ)।
নারী নির্যাতন শুধু আইন-শৃঙ্খলার অবনতির উল্লেখ্য সূচকই নয়, নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিশ্চয়তা এবং সিডও বাস্তবায়নের আন্তর্জাতিক দায়িত্বেরও অংশবিশেষ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশে আইনের দৃষ্টিতে এবং সামাজিক ধারণাগতভাবে নারীর ক্ষমতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হলে সংবিধান-প্রদত্ত অধিকার ও সিডও সনদে প্রতিফলিত মানবাধিকারের সমন্বয়ে একটি উইমেনস চার্টার বা সমন্বিত নারী মানবাধিকার নীতি প্রণয়ন করা যায়, যা রাষ্ট্রের বৈধ দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল সিডও সনদের মৌলিক ধারাগুলোর সমন্বয়ে অনুরূপ উইমেনস চার্টার প্রণয়ন করেছে। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ সরকার সিডওর ধারাগুলো যথাযথ আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে। কারণ, সিডও নারীর মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনসম্মত একটা আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা বাস্তবায়নের মুচলেকা সরকার দিয়েছে। অঙ্গীকারমাফিক তাই আর কালক্ষেপণ না করে বাংলাদেশ সরকারকে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
সালমা খান: সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন ও উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি।

উলুবনে মুক্তা ছড়ানো প্রধানমন্ত্রীর মিষ্টি কথায় চিঁড়া ভিজবে না

ছাত্রলীগের ছেলেদের চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির খবর পত্রিকায় পড়ে কষ্ট লাগার কথা প্রধানমন্ত্রী যখন বলছিলেন, তখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর আসছিল। একই সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভাঙচুর চালান। চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মঙ্গলবার কয়েকটি পত্রিকায় আগুন দেয় ও ভাঙচুর করে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত সোমবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজকদের সদুপদেশ দিতে গিয়ে তাঁর মনোবেদনার কথা বলছিলেন। কিন্তু আলোচ্য ঘটনাগুলো স্মরণ করিয়ে দিল যে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অপকর্মের তালিকায় আরও অনেক কিছু আছে। শেখ হাসিনার সেটা অজানা নয়। তাই তিনি তাঁদের বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে! এরপর তাঁদের গুরুদায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, ছাত্রলীগকে তার জন্য কাজ করতে হবে। আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে ছাত্রলীগকে।’
যেখানে প্রায় প্রতিদিন ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-দখলবাজি-মারপিট-ভাঙচুরের খবর পত্রিকায় ছাপা হয় এবং প্রতিকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সংবাদ পাওয়া যায় না, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই সব সুন্দর কথা পরিহাসের মতো শোনায়। যদি কেউ ভাবেন, প্রধানমন্ত্রীর সুবচনে মুগ্ধ হয়ে ওই সব দুর্বিনীত নেতা-কর্মী ভালো হয়ে যাবেন, তাহলে তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যে বাঘ একবার রক্তের স্বাদ পায়, মাথায়-পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে বশে রাখা যায় না। ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ছাত্রলীগের যেসব নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ যাবতীয় অপরাধকর্মে হাত পাকিয়েছেন, তাঁদের কানে আদর্শের বাণী ঢুকবে না। তাঁদের জন্য একমাত্র ওষুধ হলো আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ। প্রশাসনকে নির্ভয়ে ও হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে দিলে এই সব অপরাধীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রশাসন কাজ করছে না, পুলিশ নির্লিপ্ত। ছাত্রলীগের গন্ধ পেলে তাদের অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে থানা মামলা নিতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাঁদের ভালো হয়ে যেতে বলবেন। কিন্তু সেই সঙ্গে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া উচিত যে তাঁরা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি থেকে দূরে না থাকলে পরিণতি শুভ হবে না। এর আগে সরকার বিভিন্ন সময় বলেছে, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। সব সরকারই এ রকম কথা বলে। কিন্তু এবার বিশেষ পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সময় ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনৈতিক সংস্রব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করা হয়েছে। এর পরও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রশাসন ও পুলিশের চোখে কীভাবে সাবেকি রাজকীয় মর্যাদা পান, সে বিষয়ে অনুসন্ধান দরকার। ওই সব উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী যেন ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয় লাভ করতে না পারেন, সে জন্যই তো ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে অঙ্গসংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এই বিধান যদি কাজে না লাগে, তাহলে তো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের একটি উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সচেতন থাকা দরকার।
ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রীর হিতোপদেশ বিতরণ আসলে উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই সব মিষ্টি কথায় চিঁড়া ভিজবে না। ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি বন্ধে ‘দুষ্টের দমন’ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক