Showing posts with label fd. Show all posts
Showing posts with label fd. Show all posts

Thursday, May 6, 2021

পাকিস্তানে গোপন মানবাধিকার লঙ্ঘন by এম ইলিয়াস খান

নিউ ইয়র্কে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে পাকিস্তানে হত্যা করা হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ অভিযানে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীরা যেসব হত্যা ও নির্যাতন করেছে তার প্রমাণ সবেমাত্র প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়ে বিরল কিছু ডকুমেন্ট পেয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক এম ইলিয়াস খান। এসব নিয়ে তিনি অনলাইন বিবিসিতে দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এর শিরোনাম ‘আনকাভারিং পাকিস্তানস সিক্রেট হিউম্যান রাইটস অ্যাবিউজেস’। অর্থাৎ পাকিস্তানে গোপনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উদঘাটন
এম ইলিয়াস খান লিখেছেন, সময়টা ২০১৪ সালের শুরুর দিকের।
সেনাবাহিনী ভুল প্রমাণ দিলেন আদনান রশিদ
ওই সময় টিভি নিউজ নেটওয়ার্কগুলো পাকিস্তানি তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় বিজয়ের খবর প্রচার করতে থাকে। বলা হয়, রাতে আকাশ পথে ঘেরাও দিয়ে এই গ্রুপটির সবচেয়ে সিনিয়র কমান্ডারদের একজনকে হত্যা করা হয়েছে। বলা হয়, আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতি এলাকায় হামলায় আদনান রশিদ ও তার পরিবারের ৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আদনান রশিদ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাবেক একজন টেকনিশিয়ান। তিনি সুপরিচিত ছিলেন। মালালা ইউসুফজাইকে তিনি একটি ব্যতিক্রমী চিঠি লিখেছিলেন। তাতে তিনি বলার চেষ্টা করেছিলেন, কেন মালালার ওপর হামলা হয়েছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফকে হত্যা চেষ্টার দায়ে তিনি জেলে ছিলেন। তবে সেখান থেকে পালিয়ে বেরিয়ে যান।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলগুলো রিপোর্ট করে যে, ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি হামজোনি এলাকায় আদনান রশিদের গোপন আস্তানা টার্গেট করা হয় দু’রাত আগে থেকে। ৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকেই ওয়াজিরিস্তান ও বিস্তৃত পাহাড়ি উপজাতি এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারা ওই অঞ্চলকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে। কারণ, মনে করা হয়েছিল তালেবান যোদ্ধা, আল কায়েদার যোদ্ধা ও অন্যান্য জঙ্গিরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে।
কিন্তু ওই এলাকায় বা অভিযানের সময় সেখানে সাংবাদিক বা বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি। তাই নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যেসব দাবি করে বা করছে তা যাচাই করা চরম মাত্রায় কঠিন হয়ে পড়েছে। এক বছর পরে সেনাবাহিনীর ওই দাবি ভুল প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ তারা ভুল নিশানায় টার্গেট করেছিল। কারণ, সেনাবাহিনীর এই ভুল নিশ্চিতভাবে ধরিয়ে দেন আদনান রশিদ। তিনি একটি ভিডিওতে প্রমাণ দেন যে, তিনি জীবিত আছেন। প্রকৃতপক্ষে শীর্ষ এই জঙ্গিকে হত্যার পরিবর্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরিবারকে। সেনাদের ওই হামলায় তার বাড়িটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যে ভুল করেছে, এ বিষয়টি তারা কখনো স্বীকার করেই নি। ঘটনাটি ঘটেছিল দেরা ইসমাইল খান এলাকায়। এ শহরটি ইন্দুস নদীর তীরে অবস্থিত। উপজাতি এলাকায় প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয় এটাকে। ঘটনা তদন্তে বিবিসির সাংবাদিক ওই এলাকায় সফরে যান, যে ব্যক্তির বাড়িতে হামলা হয়েছিল তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে।
ওই সময় নাজিরুল্লাহর বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি বলেন, হামলাটি হয়েছিল স্থানীয় রাত ১১টা বা এর আশপাশের সময়ে। তখন সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তিনি। তারা একরুমের বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের বাকি সদস্যরা অন্য এক রুমে গাদাগাদি করে ঘুমান। তাদের গ্রামের নাম খাতেই কালে। নাজিরুল্লাহ বলেন, হামলায় পুরো বাড়িটি যেন বিস্ফোরিত হয়েছিল। আমরা ঘুমে ছিলাম। আমি ও আমার স্ত্রী কাঁপতে কাঁপতে ঘুম থেকে জেগে যাই। বাতাসে তখন কড়া গানপাউডারের গন্ধ। আমি ও আমার স্ত্রী দৌড়ে বাড়ির বাইরে এলাম। দেখলাম আমাদের রুমের পুরো ছাউনি বা ছাদ ধসে পড়েছে। বাকি শুধু আমরা যেখানে ঘুমিয়েছিলাম, তাই কোনোমতে দাঁড়িয়ে ছিল। দ্বিতীয় রুমটিও ধসে পড়েছে। চারদিকে শুধু আগুন জ্বলছে তখন। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পেলাম। আগুনের ভিতর জ্বলছে এমন মানুষদের সাহায্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম আমি ও আমার স্ত্রী। আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছিলেন প্রতিবেশীরা। আমরা উদ্ধার করছিলাম আহত ও নিহতদের। ওই হামলায় মাত্র ৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু সহ নাজিরুল্লাহর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন।
নাজিরুল্লাহ বলেন তার ভাতিজি সুমাইয়ার তখন বয়স মাত্র এক বছর। তাকে রেখে তার মা নিহত হন। সুমাইয়ার কোমরে মারাত্মক ক্ষত হয়। পরিবারের বাকি চার সদস্যকে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের সবার হাড় ভেঙে গেছে। বাকিরা আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের এই অংশে বসবাসকারী বহু মানুষ বিদ্রোহী বা জঙ্গিদের কারণে বার বার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।  কর্তৃপক্ষ ও নিরপেক্ষ গবেষণাকারী গ্রুপগুলো বলছে, ২০০২ সালে জঙ্গিদের সহিংসতার পর থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা আশ্রয় নিয়েছে সরকার পরিচালিত শরণার্থী শিবিরে অথবা শান্তিপূর্ণ কোনো এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে পাকিস্তানে কি পরিমাণ মানুষ নিহত হয়েছেন তার কোনো সরকারি তথ্য নেই। তবে শিক্ষাবিদ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন অধিকারকর্মীরা মনে করেন বেসামরিক, জঙ্গি ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী মিলে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
যেভাবে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটে পাকিস্তানে

পাকিস্তানে সিক্রেট বা গোপনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা, বিশেষত সেনাবাহিনী। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করে না। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে নিহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ। এখন তারা এ দাবির পক্ষে ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করছে। এমন অধিকারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নতুন একটি অধিকার বিষয়ক সংগঠন পশতুন তাহাফফুজ মুভমেন্টের (পিটিএম)। এ সংগঠনটি গত বছরই চালু হয়েছে। তারা উপজাতি এলাকাগুলোতে মানবাধিবার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রকাশ করে যাচ্ছে, যেখানে নির্যাতিত মানুষ আগে কথা বলতে ভয় পেতেন। অনলাইন বিবিসিতে দীর্ঘ এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক এম ইলিয়ান খান।
পিটিএমের শীর্ষ নেতা মানজুর পশতিন। তিনি বলেছেন, দুর্ভোগ ও অবমাননার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় ১৫ বছর। এ সময়ে আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করেছি, কিভাবে সরাসরি হামলা চালিয়ে এবং জঙ্গিদের সমর্থন দিয়ে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার নষ্ট করছে সেনাবাহিনী।
কিন্তু তার এ গ্রুপটি প্রচন্ড চাপে রয়েছে। তারা বলেছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন বিক্ষোভ করছিলেন, তখন তাদের ওপর ২৬ মে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সেনাবাহিনী। এতে তাদের ১৩ জন অধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, চেকপয়েন্টে হামলা চালানোর পর তারা অভিযানে গেছে এবং এতে কমপক্ষে তিনজন অধিকারকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে পিটিএম। বর্তমানে এ গ্রুপের দু’জন এমপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিএম।
বিবিসি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে এমন বেশকছিু ঘটনার উল্লেখ করেছে পিটিএম। এসব বিষয় পাকিস্তানি সেনা মুখপাত্রের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি। তিনি এসব অভিযোগকে উচ্চমাত্রায় বিচারিক বলে মত দেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পায় নি বিবিসি।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আল কায়েদার হামলার পর নতুন একটি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে হামলা চালায়, তখন আল কায়েদার নেতা প্রয়াত ওসামা বিন লাদেনের ছত্রছায়ায় থাকা তালেবান বাহিনী আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন যে তিনটি দেশ তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তার অন্যতম হলো পাকিস্তান। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের একটি স্বার্থ ছিল। তারা চাইছিল আফগানিস্তানে ভারত যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তা রোধ করতে। কিন্তু কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল পাকিস্তান। ফলে তখনকার সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। এ থেকে যা দাঁড়িয়েছে তা হলো, তালেবানরা পাকিস্তানের আধা শায়ত্তশাসিত উপজাতি এলাকাগুলোতে আশ্রয় খুঁজে পায়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে।
কিন্তু ঘটনা অন্য। আফগানিস্তানের তালেবানরা সীমান্ত অতিক্রম করার সময় শুধু নিজেরাই আসে নি। বিভিন্ন রকম গ্রুপের বিভিন্ন রকম জঙ্গি উপজাতি এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে। এর মধ্যে এমন কিছু জঙ্গি ছিল, যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের খুব বিরোধী নয়। ওয়াজিরিস্তান থেকে হামলা ষড়যন্ত্র শুরু করে বৈশ্বিক উচ্চাভিলাষী জিহাদিরা। এ কারণে ওয়াশিংটন থেকে দাবি ওঠে। তারা ইসলামপন্থি জঙ্গিবাদ ভেঙেচুরে দেয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ‘মিলিটারি ইনকরপোরেশন: ইনসাইড পাকিস্তানস মিলিটারি ইকোনমি’ বইয়ের লেখক আয়েশা সিদ্দিকা বলেছেন, সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ফলে পাকিস্তান একদিকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে অন্যদিকে ভবিষ্যত দরকষাকষিতে অংশীদারদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা করে।
২০১৪ সালে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নতুন করে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। এতে জঙ্গি গ্রুপ ও তাদের নিরাপদ আস্তানায় চাপ বৃদ্ধি পায়।

Thursday, June 13, 2019

চন্দরনগরে ফরাসী পুনর্নির্মাণ মিশনের কাজ শুরু by সুদেশনা ব্যানার্জি

সাউথ এশিয়ান মনিটর, জুন ১২, ২০১৯: ফরাসী একটি দল শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দরনগর সফর করে সেখানকার রেজিস্ট্রি অফিসটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই অফিসটি একসময় একটি ফরাসি আদালতকক্ষ ছিল যেটা বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
ফরাসী পক্ষের এটা প্রথম সফর। ফরাসী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল হার্ভি বার্বারেটের নেতৃত্বে এই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এর আগে ফ্রান্স ও বাংলার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় যে সাবেক ফরাসি কলোনি চন্দরনগরের ঐতিহ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যৌথ প্রচেষ্টা নেয়া হবে।
চন্দরনগরে ফরাসী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল হার্ভি বার্বারেট
বার্বারেট মেট্রোকে জানান, “ভবিষ্যতে মন্ত্রী পর্যায়ের সফরের প্রস্তুতি হিসেবে এটা একটা তথ্য সন্ধানী মিশন। চন্দরনগর একটা সুন্দর জায়গা যেটার একটা শক্তিশালী ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে”। মন্ত্রণালয়ের ইউরোপিয়ান ও আন্তর্জাতিক বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ফ্রাঁসোয়া লরেন্টকে সাথে পাঁচ দিনের সফরে আছেন বার্বারেট।
টিমে আরও আছেন কলকাতার নিযুক্ত ফ্রান্সের কনসাল জেনারেল ভার্জিনি কোর্টেভাল এবং অলিয়েস ফ্রসেসের ডিরেক্টর ফেব্রিস প্ল্যাঙ্কন, দূতাবাসের কালচারাল অ্যাটাশে অ্যালিস ব্রুনোট ও কনস্যুলেটের প্রেস অ্যাটাশে অঞ্জিতা রায় চৌধুরী।
তাদের সাথে ছিলেন দুজন কনজার্ভেশান স্থপতি যারা রেজিস্ট্রি অফিস পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ফরাসি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে, ফরাসীদের এখানে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে।
রাফায়েল গান্তেবোইস তিন বছর ধরে সরকারকে পন্ডিচেরির বিষয়ে উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ দিচ্ছেন, যাকে নিয়োগ দিয়েছে ফরাসী সরকার। স্মার্ট সিটি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি। অন্যদিকে শহরে ঐতিহাসিক অবকাঠামোগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছেন ঐশ্বরিয়া টিপনিস। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সূত্রে রেজিস্ট্রি অফিসটি পুনরায় ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন কনজার্ভেশান স্থপতি রাফায়েল গান্তেবোইস ঐশ্বরিয়া টিপনিস
দুজনে এরপর ভবনটি পরিদর্শন করেন, এর বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা যাচাই করেন এবং এর ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট দেন। টিপনিস বলেন, “প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা করতে সময় লাগবে। তাছাড়া আসন্ন বর্ষা মওসুমে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জরুরি মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে ভবনের”।
গাস্তেবোইস আরও বলেন, “পুনরায় মেরামত শুরুর আগে ভবনের বেশ কিছু প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। কিছু অংশের অবস্থা নাজুক এবং সেগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। যতটা পারা যায় আমরা রক্ষার চেষ্টা করছি যাতে বিদ্যমান ঐতিহ্যের অংশগুলোকে যতটা পারা যায় ব্যবহার করা যায়”।

Wednesday, September 16, 2015

সেক্স রোবট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার দাবী

যৌনকর্মে ব্যাবহার হয় এমন রোবট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার দাবীতে একটি প্রচারণা শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের নেতা ড. ক্যাথরিন রিচার্ডসন বলেছেন, এ ধরণের প্রযুক্তি অপ্রয়োজনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।
সেক্স ডল বলে পরিচিত যেসব পণ্য এখন বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আরো আধুনিক করা হচ্ছে এবং এখন আশা করা হচ্ছে এসব প্রযুক্তির সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করা হবে।
লেইচেস্টারের ডে মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটির রোবট বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ডসন বলছেন, রোবট শিল্পে এখন ক্রমবর্ধমান হারে নজর দেয়া হচ্ছে সেক্স রোবটের দিকে। এগুলি দেখতে কেমন হবে, কি কাজ সেগুলোকে দিয়ে করানো হবে তার নকশা তৈরি করা হচ্ছে, যা খুবই পীড়াদায়ক।
অ্যাবিস ক্রিয়েশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠান যেটি পুরুষ ও মহিলাদের সেক্স টয় বিক্রি করে, সেটি এখন তাদের পণ্যকে যান্ত্রিক করে তুলতে শুরু করেছে।
এদিকে, ট্রু কম্প্যানিয়ন ঘোষণা করেছে তারা বিশ্বের প্রথম সেক্স রোবট তৈরি করছে।
এ বছরের শেষ দিকে তাদের প্রথম এ ধরণের রোবট রক্সি বাজারে আসবে বলেও তারা ঘোষণা দিচ্ছে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডগলাস হাইনস বিশ্বাস করেন রক্সির মতো পণ্যের সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আমরা একজন স্ত্রী সরবরাহ করছি না, কিংবা বান্ধবীর কোনও বিকল্প দিচ্ছি না। এটা তাদের জন্য সমাধান যারা স্ত্রী হারিয়েছেন কিংবা এই মুহূর্তে কোনও সম্পর্কের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন না।
তবে ড. রিচার্ডসন বলছেন, এর ফলে মহিলাদের সম্পর্কে প্রাচীন সেই ধারণাটিই পোক্ত হবে যেখানে মহিলাদেরকে যৌন-সঙ্গী বলে আর কিছুই মনে করা হয় না।।
>>>সুত্রঃ বিবিসি