Monday, November 10, 2014

কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান আমেরিকার

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল-এর ‘বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন’ থাকায় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ফৌজদারি অপরাধ দপ্তরের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ স্টিফেন জে র‌্যাপ -এর বরাত দিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র রাইয়ান নর্টন বলেন, “বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়মিত দেখভাল করার দায়িত্বে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ফৌজদারি অপরাধ দপ্তরের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ স্টিফেন জে র‌্যাপ। অ্যাম্বাসেডর স্টিফেন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে কনফারেন্স কল-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন।” মুখপাত্র রাইয়ান বলেন, “এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট আলাদা কোনো বিবৃতি দেবে না, কেননা অ্যাম্বাসেডর স্টিফেন-এর বক্তব্যই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বক্তব্য।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আগে বিচার প্রক্রিয়া সবদিক দিয়ে অবাধ, মুক্ত ও স্বচ্ছ হতে হবে।” বিবৃতিতে স্টিফেন বলেন, “২০১৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আমার পঞ্চম সফরের সময় বলেছি- কিছুটা অগ্রগতি হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানদন্ড রক্ষায় আরও উন্নতি করতে হবে। এ মতাবস্থায় এই মানদণ্ড নিশ্চিতের বিষয়টি দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত অপরিবর্তনযোগ্য সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ না করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন স্টিফেন র‌্যাপ।”- ওয়েবসাইট।

ভারতে এক নারীকে অর্ধনগ্ন করে গাধার পিঠে চড়িয়ে শাস্তি

ভারতের রাজস্থানে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের নির্দেশে চল্লিশ বছর বয়সী এক মহিলাকে নগ্ন করে, গাধার পিঠে চাপিয়ে ঘোরানো হয়েছে। তার মাথা মুড়িয়ে মুখে লেপে দেয়া হয়েছিল কালো রংও! ওই মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনিই নাকি তার এক আত্মীয়র মৃত্যুর জন্য দায়ী। শনিবার বিকেলে তাদের জাতের বিচারসভায় মহিলাকে ওই বর্বর শাস্তি দেয়ার পর খবর পেয়ে বেশি রাতে পুলিশ ছুটে যায়, তারপর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত মোট ৩৯ জনকে। নির্যাতিতা মহিলাকে এখন পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে, চেষ্টা চলছে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেয়ারও! এই নৃশংস ও পাশবিক ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেটি রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে, রাজসমন্দ জেলার কুম্ভলগড় এলাকায়। শনিবার বিকেলের ওই পাশবিক ঘটনাটির বিবরণ দিতে গিয়ে রাজসমন্দ জেলার পুলিশ সুপার শ্বেতা ধনকর বলেছেন, ৮ নভেম্বর রাত এগারোটার সময় তারা খবর পান যে ওই মহিলাকে বিবস্ত্র করে, মাথা কামিয়ে দিয়ে আর মুখে কালি লেপে গাধার পিঠে চাপিয়ে ঘোরানো হয়েছে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যায়, অভিযুক্ত ৩৯ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই মহিলাকে দসানা রাজপুতদের নিজস্ব রীতি-মাফিক সালিসি-সভা থেকেই ওই শাস্তি দেয়া হয়েছিল – কারণ কিছুদিন আগে ওই মহিলার এক সম্পর্কিত দেবরের মৃত্যুর জন্য তাকেই দায়ী করা হয়েছিল! দিন-কয়েক আগে ওই ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে পুলিশকে কিছু জানানোও হয়নি, যদিও সেটা আত্মহত্যা ছিল বলেই পুলিশ এখন ধারণা করছে। কিন্তু ওই মহিলা ও তার পরিবার যে জাতের, সেই গোষ্ঠীর মাতব্বররা গ্রামে বিচারসভা ডেকে রায় দিয়ে দেন ওই মহিলাই যুবকটির মৃত্যুর জন্য দায়ী। রাজসমন্দের এমপি হরিওম সিং রাঠোর বলেছেন, পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আগেই যে এমন একটি ঘটনা ঘটে যেতে পারল তা অত্যন্ত লজ্জার। ওই গ্রামটি আদিবাসী-অধ্যুষিত অনগ্রসর এলাকা হিসেবেই পরিচিত, যদিও নির্যাতিতা মহিলা ও অভিযুক্তরা কেউই কিন্তু আদিবাসী নন। এরা সবাই রাজপুত সমাজেরই একটি অংশ, দসানা রাজপুত জাতের। মি. রাঠোর বলেছেন, “তাদের মধ্যে নিজস্ব বিচারসভা বসানোর রেওয়াজ আছে ঠিকই, কিন্তু যেভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে তারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়েছে ও ওই মহিলার সাথে বর্বর আচরণ করেছে সেই অধিকার কিছুতেই তাদের দেওয়া যায় না।” ঘটনাটি ঘটার পর ওই মহিলার স্বামী উদয় সিং অনেক সাহস সঞ্চয় করে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন, তার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এতজন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সুপার শ্বেতা ধনকর জানিয়েছেন, ওই নারী এখন অনেকটা স্বাভাবিক আছেন।– বিবিসি।

প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ড. ইউনূস

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে দীক্ষান্ত ভাষণ দেয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস প্রস্তাব ফিরয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কথা। তবে শুধু ইউনূসই নন, এর আগে লেখক অমিতাভ ঘোষ এবং বিশিষ্ট অধ্যাপক অরিন্দম চক্রবর্তীও একই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালযের ভিসি অভিজিৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা যে আন্দোলন করছেন তা সারা বিশ্বেই শোরগোল তুলেছে। এই অবস্থায় বিতর্কিত ভিসির প্রস্তাব কেউই গ্রহণ করতে চাইছেন না বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ২৪শে নভেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালযের সমাবর্তন। এই অনুষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ বয়কট করার কধা ঘোষণা করেছে। তবে সর্বশেষ জানা গেছে, সমাবর্তনে দীক্ষান্ত ভাষণ দিতে রাজি হয়েছেন বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী শংকর সেন। তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান। তিনি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন বলে জানিযেছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভিসি’র পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেছিল। এক সময় পুলিশ ডেকে আনার ঘটনা নিয়ে ফের তোলপাড় হয় বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর থেকে ছাত্রদের আন্দোলন ‘হোক কলরব’ নামে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অভিজিৎ চক্রবর্তীকেই স্থায়ী ভিসি করার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বসাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকাল ৫টার দিকে মিরপুর আওয়ামী লীগ থানার ইলিয়াস মোল্লার গ্রুপ ও ৫৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।  পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এর আগে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আলেমদের আন্দোলনের হুমকি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজ পড়া, পর্দা করা ও ইসলামী বই রাখার অপরাধে কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফতে মজলিস ও সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ। আজ এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে এই অঞ্চলের মুসলমান সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাস, খুন, নৈরাজ্য, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অশ্লীলতা, মাদকসেবন, অস্ত্রবাজি ও দুর্নীতি চর্চার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নামাজ, হিজাব ও ইসলামী বই রাখার অপরাধে যেসব ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেসব ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশের আলেম সমাজ ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষী ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ইসলাম বিরোধী তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের।

বাসের মধ্যে প্রসব, সহৃদয় চালক নিয়ে গেলেন হাসপাতালে

তাদের মতো ভালো লোক এখন ‘বিরল প্রজাতির প্রাণী’। তবুও তারাই উদাহরণ দিয়ে দেখান, পৃথিবী থেকে মানবিকতা হারিয়ে যায়নি। কথা হচ্ছে দিল্লির এক সহৃদয় বাসচালক সম্পর্কে। তার সহৃদয়তায় দুটি প্রাণ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক।

উত্তমনগর থেকে দিল্লির রাও তুলারাম হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ডিটিসি বাসে উঠেছিলেন চিন্তা দেবী। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সন্তোষ ও ননদ রিনা। চিন্তা দেবী প্রায় ৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। খানিক দূর যাওয়র পরই হঠাৎ প্রসবযন্ত্রণা ওঠে তার। বাস তখন ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়ে রয়েছে। উপস্থিত সময় চালক বাস ঘুরিয়ে হাসপাতালের দিকে ছোটান। কিন্তু দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মাঝপথে বাস দাঁড় করাতে হয় তাকে। বাস থেকে সব পুরুষ যাত্রী নেমে চিন্তা দেবীকে প্রসব করার জায়গা করে দেন। নারীদের সাহায্যে বাসের মধ্যেই কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি।
চালক আর দেরি না করে সম্পূর্ণ অন্য রুটে বাস চালিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। খবর পেয়ে বাসের মধ্যে উঠে আসেন অভিজ্ঞ ডাক্তাররা। তারাই সেখান থেকে মা ও বাচ্চাকে তড়িঘড়ি প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও বাচ্চা দুজনেই এখন বিপদমুক্ত।

৬০ ভাগ ভারতীয় বউ পেটায়!

ভারতের প্রতি ১০ পুরুষের ছয়জন স্বীকার করেছেন, তারা তাদের স্ত্রী বা সঙ্গিনীর সাথে সহিংস আচরণ করেন। আর যেসব লোক শৈশবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বা আর্থিক কষ্টে ভুগেছেন, তারাই নির্যাতন করেন বেশি। জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন ওম্যান সোমবার এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের সাতটি রাজ্যের (উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র) ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৯,২০৫ পুরুষের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়।
সমীক্ষায় সহিংসতার সংজ্ঞা হিসেবে বলা হয়, অপদস্ত করা, ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়া, ধাক্কা দেয়া, ঘুসি মারা, ধর্ষণ করার মতো শারীরিক ও যৌনগত আক্রমণ।
উড়িষ্যা ও উত্তরপ্রদেশে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানতার ৭০ ভাগ পুরুষ জানিয়েছেন, তারা তাদের স্ত্রী ও সঙ্গিনিদের সাথে সহিংস আচরণ করেন।
সমীক্ষায় অংশ নেয়া ৩,১৫৮ নারীর ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা তাদের জীবনে কোনো না কোনো পর্যায়ে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ৩৮ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা যেসব পন্থায় অপদস্থ হয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লাথি, চড়, গলা টিপে ধরা, পোড়ানো।

মার্কিন ড্রোনের ইরানি ভার্সনের সফল উড্ডয়ন

মার্কিন আরকিউ-১৭০’র অনুকরণে তৈরি ইরানি ড্রোন প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদেহ আজ (সোমবার) এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান আরকিউ-১৭০’র ইরানি ভার্সনের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হবে।
২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ইরানি সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ইরানের আকাশে ঢোকার পর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন সফলভাবে নামিয়ে আনে। মার্কিন লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি ড্রোনটি আফগান সীমান্ত দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।
এরপরই ইরানি বিশেষজ্ঞরা ভূপাতিত মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের কারিগরী-বিষয়ক নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন। ওই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই ইরান আরকিউ-১৭০’র স্থানীয় ভার্সন তৈরি করল। আটক মার্কিন ড্রোনটির হুবহু তৈরি করেছে ইরানি বিশেষজ্ঞরা। এটি প্রযুক্তিগত দিকের পাশাপাশি কার্যকারিতায়ও মার্কিন ড্রোনটির অনুরূপ।

বাসের মধ্যে প্রসব, সহৃদয় চালক নিয়ে গেলেন হাসপাতালে

তাদের মতো ভালো লোক এখন ‘বিরল প্রজাতির প্রাণী’। তবুও তারাই উদাহরণ দিয়ে দেখান, পৃথিবী থেকে মানবিকতা হারিয়ে যায়নি। কথা হচ্ছে দিল্লির এক সহৃদয় বাসচালক সম্পর্কে। তার সহৃদয়তায় দুটি প্রাণ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক।

উত্তমনগর থেকে দিল্লির রাও তুলারাম হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ডিটিসি বাসে উঠেছিলেন চিন্তা দেবী। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সন্তোষ ও ননদ রিনা। চিন্তা দেবী প্রায় ৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। খানিক দূর যাওয়র পরই হঠাৎ প্রসবযন্ত্রণা ওঠে তার। বাস তখন ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়ে রয়েছে। উপস্থিত সময় চালক বাস ঘুরিয়ে হাসপাতালের দিকে ছোটান। কিন্তু দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মাঝপথে বাস দাঁড় করাতে হয় তাকে। বাস থেকে সব পুরুষ যাত্রী নেমে চিন্তা দেবীকে প্রসব করার জায়গা করে দেন। নারীদের সাহায্যে বাসের মধ্যেই কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি।
চালক আর দেরি না করে সম্পূর্ণ অন্য রুটে বাস চালিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। খবর পেয়ে বাসের মধ্যে উঠে আসেন অভিজ্ঞ ডাক্তাররা। তারাই সেখান থেকে মা ও বাচ্চাকে তড়িঘড়ি প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও বাচ্চা দুজনেই এখন বিপদমুক্ত।

গণতন্ত্রের আরেক পিঠ গণমাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের আরেক পিঠ হচ্ছে গণমাধ্যম। আমরা এখন যেটুকু গণতন্ত্র ভোগ করছি, তাতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে। গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারকে এক পাল্লায় মাপার সুযোগ নেই। আজকে আমরা যে পর্যায়ে আছি, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতির জঞ্জাল বর্জন করে সামনের দিকে এগোচ্ছি। এই এগোনোর পথে গণমাধ্যম সাহসী এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।’

>>‘ডিআরইউ-গ্রামীণফোন রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কার বিজয়ীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিআরইউ-গ্রামীণফোন রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সনদ ও গ্রামীণফোন লিমিটেডের হেড অব কমিউনিকেশনস মার্কাস এডাকটুসন অর্থ পুরস্কারের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হানসানুল হক ইনু আরও বলেন, ‘আজকের গণমাধ্যম যে প্রেক্ষাপটে কাজ করছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা একটা উত্তরণ পর্ব।’ তিনি বলেন, গণমাধ্যম সব সময় নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ থাকবে। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় যেমন: গণতন্ত্রের পক্ষে, সামরিক শাসন, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে অঙ্গীকারবদ্ধ বা একটা পক্ষ নিতে হয়। এখানে মাঝখানে হাঁটার সুযোগ নেই।’
ডিআরইউর সভাপতি শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুরসালিন নোমানী বক্তব্য দেন।
এ সময় জুরি বোর্ডের সদস্য সমকাল–এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস –এর সম্পাদক এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন, নিউজ টুডে–এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য গোলাম রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও ফিল্ম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান আ জ ম শফিউল আলম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টেলিভিশন, অনলাইন ও প্রিন্ট মাধ্যমে এবার ২৫টি বিষয়ের ওপর বছরের সেরা প্রতিবেদনের জন্য ২৭ জন প্রতিবেদক পুরস্কার পান। দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড এতে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে।
সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য সাগর-রুনী স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে আলাউদ্দিন আহমেদ (যমুনা টেলিভিশন), কাজী জামশেদ নাজিম (দ্য রিপোর্ট ২৪ ডটকম) ও রোজিনা ইসলাম (প্রথম আলো)। প্রিন্ট মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য শফিকুল কবির স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন আবু সালেহ (সমকাল), তথ্য, যোগাযোগপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ে পথিক সাহা স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন রাজু আহমেদ (জিটিভি)। প্রত্যেকের পুরস্কারের মূল্যমান এক লাখ টাকা।
এ ছাড়া প্রিন্ট মাধ্যমে শিক্ষাবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন মো. মামুন হোসেন ( যায়যায়দিন), সংসদ, আইন ও বিচার এবং নির্বাচন কমিশনবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য সেলিম জাহিদ (প্রথম আলো ), রাজনীতি বিষয়ে জুলফিকার আলি মানিক (ঢাকা ট্রিবিউন), নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে দীপন নন্দী (বর্তমান), অর্থনীতি বিষয়ে রিপোর্টে কাওসার রহমান (জনকণ্ঠ), নারী ও শিশু বিষয়ে হামিদুর রহমান ভূইয়া (যুগান্তর), ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে রাজীব নূর (সমকাল), ক্রীড়া বিষয়ে মো. রাহেনুর ইসলাম (কালের কণ্ঠ), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে মো. মামুন-অর-রশিদ (জনকণ্ঠ), কৃষি বিষয়ে পরিমল পালমা (ডেইলি স্টার), অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সুমি খান (জনকণ্ঠ), জনশক্তি বিষয়ে তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের (ইনকিলাব), তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ে ফখরুল ইসলাম (প্রথম আলো) ও স্বাস্থ্য বিষয়ে মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল (ঢাকা ট্রিবিউন )। টেলিভিশন মাধ্যমে অর্থনীতি বিষয়ে মজুমদার বাবু (চ্যানেল ২৪), নগরীর সমস্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে নাজমুল হোসেন (যমুনা টেলিভিশন), অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মোরছালীন বাবলা (চ্যানেল আই), সুশাসন ও দুর্নীতি বিষয়ে পারভেজ নাদির রেজা (একাত্তর), পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ে শিমুল বাশার (ইনডিপেনডেন্ট)। অনলাইন মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম (বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম), উন্নয়ন ও সমস্যা বিষয়ে আবু হানিফ রানা (দ্যা রিপোর্ট ২৪ ডটকম) ও রেডিও প্রতিবেদনের জন্য শাহনাজ শারমীন (এবিসি রেডিও)। প্রতিটির পুরস্কারের মূল্যমান ৭৫ হাজার টাকা।

স্থপতি মঈনুল হোসেন আর নেই

জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মঈনুল হোসেন আর নেই (ইন্নানিল্লাহি....রাজিউন)। সোমবার দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। গতকাল হার্ট এ্যাটাক নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে আজ বেলা আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  মাইনুল হোসেনের স্বজনেরা জানিয়েছেন, তার মরদেহ হাসপাতাল থেকে নেয়া হবে তার শান্তিনগরের বাসায়। রাতে রাখা হবে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে। তার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলেই দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে স্থপতি সৈয়দ মঈনুল হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আব্দুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া।

মার্কিন ড্রোনের ইরানি ভার্সনের সফল উড্ডয়ন

মার্কিন আরকিউ-১৭০’র অনুকরণে তৈরি ইরানি ড্রোন প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদেহ আজ (সোমবার) এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান আরকিউ-১৭০’র ইরানি ভার্সনের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হবে। ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ইরানি সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ইরানের আকাশে ঢোকার পর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন সফলভাবে নামিয়ে আনে। মার্কিন লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি ড্রোনটি আফগান সীমান্ত দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।
এরপরই ইরানি বিশেষজ্ঞরা ভূপাতিত মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের কারিগরী-বিষয়ক নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন। ওই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই ইরান আরকিউ-১৭০’র স্থানীয় ভার্সন তৈরি করল। আটক মার্কিন ড্রোনটির হুবহু তৈরি করেছে ইরানি বিশেষজ্ঞরা। এটি প্রযুক্তিগত দিকের পাশাপাশি কার্যকারিতায়ও মার্কিন ড্রোনটির অনুরূপ।

রাশিয়ার সঙ্গে ৪০ বার সংঘাতের পরিস্থিতি পশ্চিমাদের!

রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান শীতল যুদ্ধের পর্যায়ে চলে গেছে। দেশটির সঙ্গে পশ্চিমাদের সামরিক ভাবে প্রায় সংঘাতের মুখোমুখি হওয়ার মতো ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। গত আট মাসে এ জাতীয় ৪০টি বিপদজনক বা স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর, কৃষ্ণ সাগর থেকে শুরু করে মার্কিন এবং কানাডার সীমান্তের কাছে এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে। লন্ডনের থিংকট্যাংক ‘দ্যা ইউরোপিয়ান লিডারশিপ নেটওয়ার্ক’এর সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সবচেয়ে বিপদজনক ঘটনা ঘটেছে মার্চে ডেনমার্কে। তখন ১৩২ জন যাত্রীবাহী একটি বিমান ওড়ার সময়ে নজরদারিতে নিয়োজিত রাশিয়ার এক বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আকাশে নিজের উপস্থিতি জানানোর জন্য বিমানে ট্রান্সপোন্ডার নামে পরিচিত যে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে রুশ নজরদারির বিমানে তা ছিল না বলেই এমন মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।   এ ছাড়া, এতে বলা আরো হয়েছে, অক্টোবর মাসের শেষের দিক অবধি শতাধিকবারেরও বেশি রাশিয়ার বিমানের গতিরোধ করেছে ন্যাটো। গত বছরের তুলনায় এ জাতীয় ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ডেঞ্জারাস ব্রিংকম্যানশিপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে  রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার এবং উভয় পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানান হয়েছে। বিশ্ব নতুন করে শীতল যুদ্ধের মুখে পড়তে চলেছে বলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্ভাচেভ হুশিয়ারি উচ্চারণ করার পরই এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।–গার্ডিয়ান।

র‌্যাবের হাতে সকালে আটক, বিকেলে নিহত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় র‌্যাবের হাতে আজ সোমবার সকালে আটক হওয়ার পর বিকেলে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মোশাররফ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন।
র‌্যাব বলেছে, মোশাররফ শীর্ষস্থানীয় একজন সন্ত্রাসী। সকালে আটক করার পর তাঁকে নিয়ে বাউরিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। র‌্যাবের দাবি অনুযায়ী, মোশাররফের সহযোগীদের ছোড়া গুলিতেই তিনি নিহত হয়েছেন।
র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদের দাবি, আজ সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপের হারামিয়া এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। তিন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ ৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দুপুর ১২টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। সর্বশেষ বাউরিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে মোশাররফের সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। র‌্যাবও ১৯টি গুলি ছোড়ে। এ সময় মোশাররফ তাঁর সহযোগীদের গুলিতেই মারা যান। এ ছাড়া র‌্যাবের এক সদস্যও সামান্য আহত হন। পরে র‌্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফের পাঁচ সহযোগীকে আটক করেন।
জঙ্গলবাড়ি এলাকার লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় একজন সাংবাদিক প্রথম আলোকে জানান, ১০ থেকে ১২টি গুলির শব্দ তাঁরা শুনেছেন। তবে জঙ্গলের ভেতর কে বা কারা গুলি চালিয়েছেন, তাঁরা তা দেখেননি।
মোশাররফের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানার পুলিশ কনস্টেবল জুলহাসকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলাসহ হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন মিফতা উদ্দিন।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম মশিউর রহমান সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘র‌্যাব অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাররফ হোসেনের সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এই গুলিতে তিনি মারা যান বলে শুনেছি। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষ

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের কটূক্তির প্রতিবাদে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্য ইলিয়াছ হোসেন মোল্লার অনুসারীরা।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও সমাবেশে অংশ নেয়া একাধিক ব্যক্তি যুগান্তরকে জানান, সমাবেশে প্রথমে বসার জায়গা নিয়ে নিজেরাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে ৫৬ নম্বর (নতুন ২০) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে থাকা ইলিয়াছ মোল্লার অনুসারীদের ভুলক্রমে আক্রমণ করে বসে ৫৬ নম্বরের নেতাকর্মীরা। পরে সমাবেশ শেষের দিকে ইলিয়াছ মোল্লার অনুসারীরা এর কৈফিয়ত চাইতে গেলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এরপর সমাবেশে উপস্থিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কেউই এ নিয়ে কথা বলেননি।
নগরের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিলন যুগান্তরকে বলেন, বসার জায়গা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে, সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বিমানের ফ্লাইট কেনাবেচা

মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের ফ্লাইট বিক্রি হচ্ছে। নিজেদের কেনা ক্রু দিয়ে চালানো হচ্ছে এ ধরনের ফ্লাইট। এয়ারক্রাফট ভর্তি হয়ে আসছে সোনা, ওষুধ এবং বিদেশী মুদ্রার চালান। চোরাই পণ্যের চালান নির্বিঘ্নে পার করতে বিমানবন্দরে কর্মরত সব সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কিনে ফেলা হচ্ছে। এরপরও মুনাফা হচ্ছে শত কোটি টাকা। ভাগ যাচ্ছে বিমানের সংশ্লিষ্ট শাখার অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে। টাকার লোভে বিমান ও এয়ারপোর্টের প্রায় সব শাখার অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরে অসাধু ব্যবসায়ী একবিন্দুতে মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছে। এরা কয়েক বছর ধরে নির্বিঘ্নে চোরাই পণ্যের ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিমানের এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান করছে এটা ঠিক। বিমানের কয়েকটি ফ্লাইট থেকে চোরাই পণ্য উদ্ধার হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত থাকায় কতিপয় ক্রুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। চার্জশিট হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন আছে। তিনি বলেন, যারাই এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিমান জিরো টলারেন্স দেখাবে। তবে সিডিউলিং বিভাগে এ ধরনের ফ্লাইট বেচাকেনার কথা শুনে তিনি আঁতকে ওঠেন। বলেন, এটা তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তদন্তে প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। তার মতে, ক্রু সিডিউলিং অটোমোশন প্রক্রিয়াটি ‘লাইভ’ শুরু হলে এ রকম কিছু আর থাকবে না। শিগগিরই এটা চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চোরাচালানিদের কাছে সবচেয়ে দামি রুট হচ্ছে দুবাই, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম ও কুয়েত। মধ্যপ্রাচ্যের এসব রুটে বিমান নিজস্ব এয়ারক্রাফট পরিচালনা করে আসছে। বিমানের সিডিউলিং, অপারেশন ও ট্রেনিং শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের কাছে ফ্লাইট বিক্রির সঙ্গে জড়িত। প্রতি ফ্লাইটের জন্য এরা নিচ্ছে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। এরপর সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে চক্রটির আগাম কেনা ককপিট ও কেবিন ক্রুদের ডিউটি দিচ্ছে। এদের মধ্যে কেবিন ক্রুরা মূলত চোরাই পণ্যের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কেবিন ক্রুদের অধিকাংশই বিমানে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। চোরাই সিন্ডিকেটের কাছে ক্রু বিক্রির জন্য, মূলত সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্রু সিডিউলিং অটোমেশন করছে না। কাজটি তারা এখনও ম্যানুয়েলি সারছেন। অথচ এ কাজের জন্য ২০ কোটি টাকায় অত্যাধুনিক মেশিন কেনা হয়েছে। এটা চালু হলে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে এ আশংকায় অটোমেশন চালু হচ্ছে না।
বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমান কেনাবেচার বিষয়টি বায়বীয়, দেখা যায় না। মূলত বিক্রি হয় ক্রু। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগামী নির্দিষ্ট ফ্লাইটে মোটা অর্থের বিনিময়ে ওইসব ক্রুর ডিউটি দেয়া হয়। যারা চোরাচালানিদের হয়ে কাজ করে। শাহজালালে ক্রুদের ব্যাগ সেভাবে তল্লাশি না করায় তারা নিরাপদে কাজটি করতে পারছেন। ফ্লাইট সিডিউল বিভাগের একজন কর্মী জানান, ফ্লাইট ক্রুর নির্দেশনা ছাড়া ওই এয়ারক্রাফটে কোনোভাবেই চোরাই পণ্য তোলা সম্ভব নয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সিডিউলিং বিভাগে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসে ফ্লাইট বেচাকেনার হাট। একই বিভাগের একজন পাইলটের কক্ষে বসে এই কেনাবেচার টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়। চোরাচালান সিন্ডিকেটের পক্ষে পলাশ নামে এক ব্যক্তি এই ফ্লাইট কেনাবেচার কাজ করে আসছে অনেক দিন ধরে। এই পলাশ বিমানের কোনো কর্মকর্তা নয়, তবু অধিকাংশ পরিচালকের কক্ষে তার অবাধ যাতায়াত। নিজেকে বিমানের একজন কেবিন ক্রুর স্বামী পরিচয় দিলেও তার মূল কাজ চোরাচালান আর ফ্লাইট কেনা। মূলত তার পছন্দ অনুযায়ীই ওইসব ফ্লাইটের জন্য ক্রু নিয়োগ দেয়া হয়। রুট এবং চোরাই পণ্যের চালানের ওপর ভিত্তি করে সে ক্রুর চাহিদা দিয়ে থাকে। তার চাহিদার ভিত্তিতেই ডিউটি দেয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রুরা চোরাচালানের পণ্য পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করছে। বিমানে এ ধরনের ক্রুর সংখ্যা হাতেগোনা। এদের বেশির ভাগই চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিছু আছেন যারা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চাকরিচ্যুত হয়েও আদালতের রায় নিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। এরা সংখ্যায় কম হলেও খুবই শক্তিশালী। এদের বেশির ভাগই অসীম ক্ষমতাধর চোরাচালান চক্রের সদস্য। দৈনিক বেতনের ভিত্তিতে অস্থায়ী চাকরি করায় এরা কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। বেশির ভাগেরই রয়েছে একাধিক দেশের নাগরিকত্ব। নামে-বেনামে এরা কোটি কোটি টাকার মালিক। দেশে-বিদেশে বাড়ি-গাড়ির মালিক।
নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওজনের বেশি হলেই যে কোনো ব্যক্তি বিমানের ক্রু (কেবিন) হিসেবে থাকতে পারেন না। কিন্তু ওই ক্রু যদি অসীম ক্ষমতাবান পলাশ চক্রের সদস্য হয় তবে তার জন্য প্রচলিত আইন প্রযোজ্য নয়। বিমানের চোরাচালান চক্র ও ক্যারিয়ার নামধারী ক্রুদের অনেকের চাকরির বয়স ৫০-৬০ বছরের বেশি। অধিকাংশের ওজন ৮০ থেকে ১০০ কেজির বেশি। এরা এতটাই প্রভাবশালী চাকরি হারানোর ভয়ে কোনো কর্মকর্তাও এদের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করার সাহস পায় না। বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা ধরনের কেলেংকারিতে জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা। এই সিন্ডিকেটের কারণেই ১০ বছর ধরে আটকে আছে বিমানের স্থায়ী পদে কর্মরত ১০২ জন জুনিয়র পার্সারের (কেবিন ক্রু) পদোন্নতি। বিমানের প্রায় সবগুলো শাখার নানা পর্যায়ে চেষ্টা তদবিরের পরও এই ১০২ জন জুনিয়র পার্সারের নাম এফসিপি লিস্টে (ফাইনাল ক্রু পজিশন) দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অসংখ্য কেবিন ক্রু আছেন, যারা পলাশের কথা না শুনে এখন চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। জানা গেছে, পলাশ সিন্ডিকেটের কথা না শুনলে উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চোরাচালানের মামলা ঠুকে দেয়া হচ্ছে। নানাভাবে হেনস্থা, চাকরিচ্যুতি ও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।
শুধু কেবিন ক্রু নয়, বিমানের ককপিট ক্রুদের (পাইলট) সিডিউলিং নিয়েও আছে নানা অভিযোগ। এয়ারলাইন্সকেন্দ্রিক এই চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই পলাশ সিন্ডিকেটের মধ্যে বেশ কজন ককপিট ক্রুরও (পাইলট) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাই বিমানের সাবেক ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার শামীম ইস্কান্দারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জোট সরকারের আমলে দীর্ঘ ৬ বছর তিনি বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের ট্রেনিং শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে উপস্থিত থাকা, জোট সরকারের আমলে ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা এবং ক্রু ট্রেনিং নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে বিমান থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু ২০১১ সালে আদালতের রায়ে তিনি চাকরি ফিরে পেয়ে আবার বিমানে যোগদান করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে চলে যাওয়ার পর চোরাচালান সিন্ডিকেটের গডফাদারদের সুপারিশে তাকে আবারও বিমানে পাইলট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পেয়েই তিনি আবারও তার পুরনো গ্র“প নিয়ে বিমানে গড়ে তুলেছেন বড় ধরনের চোরাচালান সিন্ডিকেট।
এ প্রসঙ্গে বিমানের প্ল্যানিং অ্যান্ড সিডিউলিংয়ে বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন আসলাম শহীদ যুগান্তরকে জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার জানা নেই। তিনি বলেন, হজের সময় মোটামুটি সবাইকে ফ্লাইট দেয়া হয়েছে। ক্রু সিডিউলিংয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অটোমেশিন করা হলেও তা ম্যানুয়েলি করার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, বিভিন্ন সমস্যার কারণে এটা চালু করা যাচ্ছে না। তবে আগামী বছর থেকে চালু করা সম্ভব হবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী গ্র“পের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। পলাশ নামে কাউকে তিনি চেনেন না বলেও জানান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চোরাচালান সিন্ডিকেট ফ্লাইট কেনাবেচা ও চোরাচালান নির্বিঘ্ন করতে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ম্যানেজ করে ফেলেন। জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি হল জেদ্দা ও দুবাইগামী ফ্লাইট। সপ্তাহে জেদ্দা আর দুবাই মিলে মোট ১১টি ফ্লাইট চলাচল করে। প্রতিটি ফ্লাইট গড়ে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এ হিসাবে সপ্তাহে ৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ শুধু ফ্লাইট বেচাকেনার নামে লেনদেন হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমস বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শর্ষের মধ্যে ভূত থাকায় চোরাকারবারিদের ধরতে তাদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি একটি ফ্লাইট কিনতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তবে প্রতি ফ্লাইটে কি পরিমাণ চোরাচালান হচ্ছে তা অনুমান করাও কঠিন। শুধু ফ্লাইট কেনা নয়, ঘাটে ঘাটে টাকা খরচ করছে চোরাকারবারিরা। তিনি বলেন, বিমানের অসাধু পাইলট থেকে ঝাড়ুদার পর্যন্ত সব বিভাগের এই সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে। এ কারণে চোরচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলমগীর হোসেন শিমুল যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে এযাবৎকাল যত স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় চালান ছিল শাহজালালে ১২৪ কেজি ও ১০৫ কেজি আর চট্টগ্রামের শাহ আমানতে ১০৬ কেজি। আর এই তিনটি চালানই উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমান থেকে। কাজেই বিমানের পাইলট, কেবিন ক্রু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া তাদের উড়োজাহাজে স্বর্ণ চোরাচালান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিমানে এই চোরাচালানের সঙ্গে বিশাল ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিদেশী সিন্ডিকেটও এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিমানের সঙ্গে জড়িত সিভিল এভিয়েশনেরও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার মতে, এরা এতটাই শক্তিশালী যে, রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া তাদের চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়।
শিমুল বলেন, বাংলাদেশ স্বর্ণ চোরাচালানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জন্য এখন একটি বড় রুট। কারণ মাত্র ৫ কেজি স্বর্ণ ভারতে চালান করতে পারলে ৪০ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। ভারতে স্বর্ণ চোরাচালান কঠিন হয়ে যাওয়ায় তারা এখন বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। শিমুল বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যানিং বেল্টেই লাগেজ তল্লাশি হয়ে যায়। যাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্ক্যানিং পথ। কিন্তু শাহজালালে কোনো বেল্টেই লাগেজ স্ক্যান হচ্ছে না। বিমানের পাইলট ও ক্রুরা নামমাত্র স্ক্যানিং হয়ে নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে পারছে। এতে চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে না।
চোরাচালানের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গঠিত তদন্ত কমিটি স্বর্ণ চোরাচালানে বিমানের ১৪ কর্মীকে চিহ্নিত করলেও অভিযোগ রয়েছে, এক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ২৪ জুলাই ১২৪ কেজি স্বর্ণবার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দারা। এ সোনার মূল্য প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাসহ সোনা চোরাচালানের সঙ্গে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করার জন্য এনবিআর ২২ সেপ্টেম্বর একটি আন্তঃবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খানের নেতৃত্বে কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে চাঞ্চল্যকর এই স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান। এসব অপরাধীর সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তে অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই বিমানের প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী। ১২৪ কেজি সোনার বার আটকের আগে ২৬ এপ্রিল একই বিমানবন্দরে ১০৫ কেজি স্বর্ণবার আটক করা হয়। কমিটির মতে, এ দুটি ঘটনায়ই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে এয়ারক্রাফটের যাত্রী টয়লেটের প্যানেল স্ক্রু খুলে জাহাজের বডিতে (ফিউজলেজ) একটি ফাঁকা গর্ত দিয়ে কৌশলে কার্গো হোল্ডে স্বর্ণ বারগুলো রাখা হয়। বিমানবন্দরে কর্মরত বা এয়ারলাইন্সের কারও সহায়তা ছাড়া এ ধরনের চোরাচালান সম্ভব নয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা জানান, এই চোরাচালান সিন্ডিকেট শুধু চোরাচালানই নয়, এদের কারণে গোটা আকাশপথই এখন বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২৪ কেজি স্বর্ণবার এককভাবে কারও পক্ষে পাচার করা অসম্ভব। বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস, সিডিউলিং, অপারেশন ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের চোরাচালানি নেটওয়ার্ক সম্ভব নয়। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটির সদস্যরা দুবাই এয়ারপোর্টও পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, দুবাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক স্তরে বিন্যস্ত ও কঠোর। অনুমোদিত জিনিস ছাড়া এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করা সম্ভব নয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দুবাই এয়ারপোর্ট সব পণ্যের জন্য উন্মুক্ত। এ সুযোগে একাধিক যাত্রী বা চোরাচালান চক্র হ্যান্ড লাগেজ হিসেবে স্বর্ণবারের চালানটি বিমানের ভেতরে নিয়ে আসে।

ছোট খবর

ওয়াশিংটন
ওবামার সফর শুরু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোববার চীনের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চীন ছাড়াও তিনি মায়ানমার ও অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করে। ওবামার সফরে বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় নেতার মধ্যে ‘খোলামেলা ও ব্যাপক আলোচনা’ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি
পিয়ংইয়ং
আটক ২ মার্কিনি মুক্ত
উত্তর কোরিয়ায় আটক দুই মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ টোড মিলার এবং কেনেথ বে মুক্তি পেয়েছেন। ছাড়া পাওয়ার পর শনিবার দু’জনই দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ওই দুই নাগরিকের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, উত্তর কোরিয়া সফরে থাকা মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জেমস ক্লাপারের সঙ্গেই তারা দেশে ফিরছেন। বিবিসি
নয়াদিল্লি
সফল উৎক্ষেপণ
ভারত অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করেছে। রোববার সকালে উড়িষ্যার হুইলার দ্বীপ থেকে মাঝারি পাল্লার পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়। ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ডিরেক্টর এমভিকেভি প্রসাদ জানান, এটা সেনাবাহিনীর একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। অগ্নি-২ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডের একটি বিশেষ মহড়া। ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারী এই ক্ষেপণাস্ত্র ২০ মিটার লম্বা। টাইমস অব ইন্ডিয়া

এশীয় স্বপ্নের বাস্তবায়ন চান শি জিনপিং

এশীয় অঞ্চলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্য বৃদ্ধি, অবাধ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ বাড়ানোর জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রোববার দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) সিইও শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।
অ্যাপেক সদস্য ২১টি দেশের ও অন্যান্য ১৭টি দেশ এবং অঞ্চলের দেড় হাজার ব্যবসায়ী ৮ থেকে ১০ নভেম্বর ব্যাপী এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। অ্যাপেকভুক্ত দেশগুলো পৃথিবীর ৪০ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্ব বাণিজ্যের অর্ধেক ও বৈশ্বিক জিডিপির অর্ধেকের বেশি এই অঞ্চলের অবদান। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেসহ আঞ্চলিক নেতারা।চীনের প্রেসিডেন্ট শি বলেন, আমাদের অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়টি আজ আমরা যে সব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেব, তার ওপর নির্ভর করছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনগণের জন্য স্বপ্ন নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন হল এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রাণশক্তিকে ধারণ করে যৌথ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। চীনের উন্নয়ন এ অঞ্চলে অধিক সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে জানান তিনি।অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি, অবাধ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি, উন্নত সড়কপথ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় বিনিময়ের মাধ্যমে এই প্রাণশক্তিকে ব্যবহার করা যাবে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি। এটি অর্জন করতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে, পরস্পরের লাভের ভিত্তিতে যৌথভাবে একটি অবাধ অর্থনীতি গড়ে তোলা দরকার বলে মন্তব্য করেন শি।আঞ্চলিক উন্নয়নে চীন ?এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (এফটিএএপি) গড়ে তুলতে চান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতিতে এশীয় ড্রাগন চীনের উত্থানে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।সম্মেলনে যোগদান ও চীনের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের গতি ফেরাতে রোববার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শির সঙ্গে খোলামেলা ও নিবিড় আলোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, দুই দেশের শক্তি পরস্পর বিরোধাত্মক হয়ে উঠছে।

এখনও দুই ভাগ ইসরাইল

* অধিকাংশ ইসরাইলির কাছে ইয়াসির আরাফাত সন্ত্রাসবাদের প্রতিমূর্তি হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি মনে করেন তিনিই একমাত্র নেতা যিনি ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার সাহস রাখতেন
* ফিলিস্তিনের সব জনগণের ওপর ইয়াসির আরাফাতের কর্তৃত্ব ছিল। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখতেন। তার সময়ের বাস্তবতা এখন আর নেই
* ইয়াসির আরাফাত একজন সন্ত্রাসী। তিনি একজন বক্র নেতা। সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য তিনি কখনও প্রস্তুত ছিলেন না
* ইয়াসির আরাফাত একজন মহান নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বাস্তবিক বিপ্লবী, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিলেন
যুগান্তর ডেস্ক
স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের সংগ্রামের প্রতীক পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাতের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল মঙ্গলবার। মৃত্যুর এক দশক পরও ইহুদিবাদী ইসরাইলিদের বিভক্ত করে রেখেছেন তিনি। অধিকাংশ ইসরাইলির কাছে ইয়াসির আরাফাত সন্ত্রাসবাদের প্রতিমূর্তি হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি মনে করেন তিনিই একমাত্র ফিলিস্তিনি নেতা যিনি ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার সাহস রাখতেন। ইয়াসিরের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্ববর ইয়াসির আরাফাত ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে মারা যান। বলা হয়ে থাকে তার মৃত্যুতে ইসরাইলের হাত আছে। রোববার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে গেছে। তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি প্রথম দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের কথা বলেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটাই হতে পারত সবচেয়ে ভালো সমাধান। তৎকালীন ফিলিস্তিনবিষয়ক ছয় মার্কিন সেক্রেটারির উপদেষ্টা ডেভিড মিলার বলেন, ‘ফিলিস্তিনের সব জনগণের ওপর ইয়াসির আরাফাতের কর্তৃত্ব ছিল। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখতেন। তার সময়ের বাস্তবতা এখন আর নেই।’ দশকের পর দশক ধরে ইসরাইলের কোনো নাগরিক ইয়াসির নেতৃত্বাধীন পিএলও’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হতে হতো! কিন্তু ১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির মাধ্যমে এই রাজনৈতিক সংগঠনের বৈধতার ফলে পরিস্থিতি পাল্টে গেল। এরপরই ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইজহাক রাবিন ও শিমন পেরেজের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
ইসরাইলের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উজি দায়ান বলেন, ‘ইয়াসির আরাফাত একজন সন্ত্রাসী। তিনি একজন বক্র নেতা। সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য তিনি কখনও প্রস্তুত ছিলেন না।’ তিনি বলেন, ইয়াসিরের চিন্তা-ভাবনা শান্তির জন্য যথাযথ ছিল না। ইসরাইলিরা এটা গ্রহণ করে না। অন্যদিকে, তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা ইন্সটিটিউটের গবেষণা পরিচালক আনাত কুরজ বলেন, ‘আমি মনে করি ইয়াসির আরাফাত একজন মহান নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বাস্তবিক বিপ্লবী, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিলেন। শিমন পেরেজ শান্তি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা উরি সাবির বলেন, আমি সেইসব গুটিকয়েক ইসরাইলির একজন, যার কাছে ইয়াসির আরাফাতের কোনো নেতিবাচক ইমেজ নেই। কিন্তু হামাসের বিপজ্জনক কৌশল তিনি বুঝতে পারতেন না।’
আব্বাস ইয়াসিরের মতো নয় : এখনকার ইসরাইলিরা মনে করেন, পিএলও’র বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ আব্বাসের তুলনায় ইয়াসির আরাফাতই ভালো ছিলেন। ইয়াসিরের মুত্যুতে ইসরাইল আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাবির বলেন, ‘ইয়াসিরের মতো আব্বাসের সমন্বয় সাধনের যোগ্যতা নেই।’ তিনি বলেন, আব্বাস বেশ আধুনিক, পশ্চিমা চরিত্র আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য।’

জার্মান স্বপ্ন সত্যি হয়েছে : মার্কেল

বার্লিন দেয়াল পতনের মাধ্যমে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব এটাই দেখেছে যে, মানুষকে অবদমিয়ে রাখার কোনো কিছুই টিকতে পারে না। বার্লিন দেয়াল পতনের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করলেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।
১৯৬১ সালে নির্মিত পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে বিভক্তকারী বার্লিন দেয়াল পতনের ২৫ বছর পূর্তি হয় রোববার। ১৯৮৯ সালে এই দেয়াল ভাঙা স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার অন্যতম নিদর্শন। কমিউনিস্ট শাসিত বন্দিদশা পূর্ব জার্মানি থেকে পালিয়ে গণতান্ত্রিক মুক্ত পশ্চিম জার্মানিতে জনগণের পালিয়ে যাওয়া রুখতে এই দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে, সেসব দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, বার্লিন দেয়ালের পতন পরিস্থিতি উন্নয়নের বার্তা দেয়। এই ঘটনা ইউক্রেন ইরাকসহ অন্যান্য দেশের জন্য শিক্ষা। পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠার স্মৃতি উল্লেখ করে মার্কেল বলেন, এতেই প্রমাণিত হয় অতীতের বৈরিতা ভুলে যাওয়া কত সহজ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তা মনে রাখা। আমরা চাইলে সবকিছুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি।বার্লিন দেয়াল পতনের রজতজয়ন্তী পালন২৫ বছর আগে পূর্ব জার্মানির লাইপশিস শহরে শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্য দিয়ে এক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। যে মিছিলে অংশ নিয়েছিল ৭০ হাজার মানুষ। সেই মিছিলের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল অন্যান্য শহরেও। ভেঙে গিয়েছিল বার্লিন প্রাচীর। বিশ্বের ইতিহাসে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন ইতিহাস। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর। দিনটা ছিল এক আশ্চর্য দিন। সন্ধ্যায় সেই আমলা-মার্কা ঘোষণা, এখন থেকে সবার যাতায়াতের স্বাধীনতা থাকবে। সেখান থেকে শুরু করে সে রাতে বার্লিন প্রাচীরের পতন অবধি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জার্মান তথা ইউরোপীয়দের জীবন পাল্টে যায়। কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব জার্মানি গণআন্দোলন আর পলায়নপর নাগরিকদের চাপে ভেঙে পড়ে। ৯ নভেম্বর সব বিস্মৃত, অবহেলিত অনুভূতি আবার ফুটে ওঠে : দুতরফেই পুনর্মিলনের আকাক্সক্ষা; পুবের মানুষদের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা। জার্মানরা, বিশেষ করে বার্লিনের মানুষ যেন ঘোরে ছিলেন। এমন এক আনন্দের অনুভূতি, যা তাদের অনেককে কাঁদিয়ে ছেড়েছিল। সেই অনুভূতিই বুঝিয়ে দেয়, ৪০ বছরের বিভাজনও দুই জার্মানির আত্মীয়তাবোধকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে মনে করা যেতে পারে উইলি ব্রান্ডের সেই চিরন্তন, অপরূপ কথাগুলো : যা একসঙ্গে হবার কথা, তাই এখন একসঙ্গে হচ্ছে। জার্মান কথাটা হল ওয়াকসেন, মানে গজিয়ে ওঠা, লতাপাতার মতো, প্রকৃতির মতো। সেই উদ্ভিদ জার্মান ঐক্যে কিন্তু জার্মানির প্রতিবেশীদের কোনো বিপদ ঘটেনি। ১৯৮৯র শান্তিপূর্ণ বিপ্লব জার্মানিকে ইউরোপের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করে।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে ১,৩২০০০ ডলার!

নাইজেরিয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং গভর্নর নির্বাচনের নমিনেশন পেপারের চড়া মূল্য নির্ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি বা পিডিপির প্রেসিডেন্ট পদের নমিনেশন পেপারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ নাইরা বা এক লাখ ৩২ হাজার ৬৬০ ডলার। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনের সমর্থকরা তার নমিনেশন পেপার কেনার অর্থের জোগান দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার এ খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।
এদিকে, দেশটির প্রধান বিরোধী দল অল প্রোগেসিভ কংগ্রেস (এপিসি) একই পদের নমিনেশন পেপারের মূল্য ধার্য করেছে ২ কোটি ৭৫ লাখ নাইরা বা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২৫ ডলার। এ দলের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সেনা শাসক মোহাম্মাদু বুহারিকে নমিনেশন পেপার কেনার জন্য ব্যাংক ঋণ নিতে হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া, পিডিপি গভর্নর পদের নমিনেশন পেপারের মূল্য নির্ধারণ করেছে এক কোটি ১০ লাখ নাইরা বা ৬৬ হাজার ৩৩০ ডলার। আর এপিসির নমিনেশন পেপারের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে এর চেয়ে ১০ লাখ নাইরা কম অর্থাৎ এক কোটি নাইরা বা ৬৬ হাজার ৩০০ ডলার।

ইরান-ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি ২৪ নভেম্বর : লাভরভ

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে রাশিয়া ও আমেরিকা আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার পক্ষে। এ কথা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। চূড়ান্ত চুক্তি যাতে হয় সেজন্য এ দুই দেশ সর্বাÍক চেষ্টা করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
লাভরভ বলেন, এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আমাদের একটা সমঝোতামূলক অবস্থান রয়েছে। রোববার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ফোরাম বা অ্যাপেক সম্মেলনের অবকাশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সের্গেই লাভরভ এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠী এখন বৈঠক করছে মূলত তেহরানের ওপর থেকে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির নিশ্চয়তার জন্য।ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠী যখন ওমানের রাজধানী মাস্কাটে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে তার আগ মুহূর্তে লাভরভ চুক্তির বিষয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেন।

আইএসকে লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলা

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল নগরীতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের জমায়েতকে লক্ষ্য করে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারের এ হামলায় আইএসের একটি গাড়িবহর ধ্বংস হয়েছে। তবে হতাহত কিংবা ঘটনাস্থলে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি উপস্থিত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত জুলাইয়ে মসুলের এক মসজিদে বাগদাদিকে শেষ দেখা গিয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএসের ১০টি সশস্ত্র ট্রাক ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের অন্যান্য কিছু গোপন আস্তানাকেও টার্গেট করা হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার একটি বড় অংশ এখন আইএসের জঙ্গিদের দখলে। আর এ কারণে গত আগস্ট থেকে আইএস দমনে মরিয়া হয়ে বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন থেকে শনিবার জানানো হয়, দেড় হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ইরাকের সেনাবাহিনীকে সাহায্যের জন্য পাঠানো হবে। এর আগে সেখানে এক হাজার ৬০০ সেনা পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক, পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো মিলে আইএস দমনে মিত্রবাহিনী গঠন করেছে। বিবিসি।

মোদির মন্ত্রিসভায় আরও ২১ মুখ : শিবসেনার বয়কট

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাস পর রোববার মন্ত্রিসভার প্রথম সম্প্রসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি ন্যূনতম সরকার আর সর্বোচ্চ প্রশাসন-এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ১৬ সদস্যের ছোট মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় মিলিয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। ফলে একজন মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে হয় তাকে। মন্ত্রীদের দায়িত্বের বোঝা কিছুটা হালকা করতে ন্যূনতম সরকার-এর পথ থেকে সরে এসে মন্ত্রিসভার বহর বাড়ালেন তিনি। শপথ গ্রহণের আগে এদিন সকালে তার ৭ রেসকোর্সের বাসভবনে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য চা-চক্রের আয়োজন করেন মোদি। দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সম্প্রসারিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় ৪ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ১৪ জন প্রতিমন্ত্রীসহ নতুন ২১ জন মন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ১টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি প্রবেশ করেন। এর পর পরই জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিক্কর। এরপর যথাক্রমে সুরেশ প্রভাকর প্রভু, জেপি নাড্ডা ও চৌধুরী বীরেন্দ্র সিংহ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বন্দারু দত্তাত্রেয়, রাজীব প্রতাপ রুডি ও মহেশ শর্মা। এরপর পর পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মুখতার আব্বাস নকভি, রামকৃপাল যাদব, হরিভাই চৌধুরী, সাওঁরলাল জাঠ, মোহন কুন্দরিয়া, গিরিরাজ সিংহ, হংসরাজ আহির, রামশঙ্কর কাঠেরিয়া, ওয়াইএস চৌধুরী, জয়ন্ত সিনহা, রাজ্যবর্ধন সিংহ রাঠৌর, বাবুল সুপ্রিয়, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি ও বিজয় সাম্পলা। কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট না হলেও মনোহর পারিক্করের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সুরেশ প্রভুর হাতে যেতে পারে রেল মন্ত্রণালয়। শিবসেনা-বিজেপির সম্পর্কের বরফ শেষ পর্যন্ত গলেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ অনুষ্ঠান বয়কট করেছে শিবসেনা। শপথগ্রহণে শিবসেনা নেতা অনিল দেশাই আসেননি। শিবসেনার পক্ষ থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় তিনি যেন মুম্বাই ফিরে যান। কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল অনিল দেশাইয়ের।

আরেক স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব

ইউক্রেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে আরেকটি শীতল যুদ্ধ বা স্নায়ুযুদ্ধ আসন্ন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক নেতা মিখাইল গর্বাচেভ। রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যে দ্বন্দ্ব চলছে, আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতেও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রোববার বার্লিন দেয়ালের পতনের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বার্লিনের ব্রানডেনবুর্গ গেইটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মি. গর্বাচেভ বলেন, পৃথিবী আজ শীতল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে উপণীত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞও এটাকে শীতল যুদ্ধ বলে মনে করছেন।
এ যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন মিখাইল গর্বাচেভ। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন আনার নেতৃত্ব না দিয়ে ইউরোপ নিজেও এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। এর ফলে সামরিক দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। আর এসব কিছুর মধ্য দিয়ে ইউরোপ নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাফল্যের মোহ পশ্চিমা নেতাদের মাথায় ভর করছিল। রাশিয়ার দুর্বলতার ও শক্তি ভারসাম্যহীনতার সুবিধা গ্রহণ করে তারা বিশ্বব্যাপী একচেটিয়া নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব কায়েম করেছিলেন, সতর্কতার বাণীতে মনোযোগ দেয়ার দরকার মনে করেননি তারা, বলেন তিনি। ন্যাটোর সম্প্রসারণ, সাবেক যুগোশ্লভিয়ায়, ইরাক, লিবিয়া ও পশ্চিমাদের ভূমিকা, রুশ সীমান্তে অদূরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ইত্যাদি ভুল পদক্ষেপ রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করে তুলে বলে জানান গর্বাচেভ।
তিনি বলেন, এর ফলাফল একটা সাফল্য আচর এখন রক্তাক্ত ক্ষতে পরিণত হয়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইউরোপ। নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব। কেউ কেউ বলেন, এটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এখন, পরিস্থিতি যখন নাটকীয় মোড় নিয়েছে, আমরা প্রধান আন্তর্জাতিক পরিষদ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে কোনো দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে দেখছি না, বলেন তিনি।
১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতনের মধ্যে দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলন ঘটে। বার্লিন প্রাচীরের পতন এখন স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল প্রায় পুরো বিশ্ব। সেই সময় এই দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয় সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা।
এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শিবির ও সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন পূর্ব শিবিরের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতন সেই স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের ক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। রয়টার্স।

কুমিল্লায় পুলিশ সন্ত্রাসী গুলি বিনিময় : নিহত ২

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে রাব্বী ও জনি নামের ২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং পুলিশের ২ এসআই ও ১ সন্ত্রাসীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। এ সময় জেলা ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে লুণ্ঠিত সরকারি একটি পিস্তল ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আরও ২টি বিদেশী পিস্তলসহ ৩টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নগরীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা বৃহস্পতিবার দিনে-দুপুরে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তার ব্যবহৃত সরকারি পিস্তলটি লুটে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিনই জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অশোকতলা ছায়াবিতান এলাকার শাহজাহান ওরফে সাজুর ছেলে বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমন, দৌলতপুরের বাবুলের ছেলে রাব্বী, অশোকতলার মৃত কালু মিয়ার ছেলে জনি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চোব্বাশ গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সবুজকে আসামি করে মামলা করে। ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের ২৪টি টিম লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে। রোববার জেলা ডিবির ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম, এসআই ইকবাল বাহার, এসআই শাহ কামাল আকন্দ, এসআই সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। ২টি মোটরসাইকেলযোগে ৬ জনের সন্ত্রাসী দল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার পথে আলেখারচর এলাকায় পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড শটগানের ও ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোড়ে। দুপক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় সন্ত্রাসী রাব্বী, জনি ও ফেনী সদরের উত্তর বিরিঞ্চি গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে শাহাদাত হোসেন ওরফে দুলাল (২০) আহত হয়। আহত সন্ত্রাসী রাব্বীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। গুলিবিদ্ধ আহত অপর সন্ত্রাসী জনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সোয়া ৩টার দিকে মারা যায়। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম (৩৪), এএসআই নজরুল ইসলামকে (৩২) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, ২টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে এবং অপর মোটরসাইকেলযোগে ৩ সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ডিবির এসআই ফিরোজের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তলটি নিহত সন্ত্রাসী রাব্বীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসী জিরা সুমনসহ তার অপর সঙ্গীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আটগুণ বাড়তি ফি আদায়

রাজধানীর উত্তরা ফায়দাবাদের দ্য চাইল্ড ল্যাবরেটরি স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমা বেগম রোববার তার মা মাহফুজা আখতারকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে ঢাকা বোর্ডে। ফাতেমা আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার কাছে ফরম পূরণ বাবদ চেয়েছে ১১ হাজার টাকা। কিন্তু তাদের অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এই অর্থসংস্থান সম্ভব নয়। তাই নালিশ জানাতে এসেছে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে।
সেখানে কথা হয় মা-মেয়ের সঙ্গে। মাহফুজা আখতার বলেন, ৪ নভেম্বর নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। স্কুল থেকে বলা হয়েছে ৬ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ করতে হবে। ফি ১১ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। কোনো উপায় না পেয়ে মা-মেয়ে এখন বোর্ডের শরণাপন্ন হয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু উত্তরার এই অখ্যাত স্কুলটিই নয়, দেশের বিখ্যাত-অখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানই এসএসসির ফরম পূরণের এই মৌসুমে শিক্ষার্থীদের গলাকাটার আয়োজন করেছে। এমনকি খোদ শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান যেসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সেসব প্রতিষ্ঠানেরও কোনো কোনোটিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। মিরপুর জান্নাত একাডেমির প্রধান শিক্ষক নিজেকে শিক্ষক নেতা পরিচয় দেন। তার প্রতিষ্ঠানেও সরকারি বিধিমালা লংঘন করা হচ্ছে।
ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু এর বাইরেও বড় অংকের ফি আদায় করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চাহিদা মতো অর্থ না দিতে চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। তারা এর প্রতিকার চান।
রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণের টাকার সঙ্গে ৩ মাসের বেতন, সেশন, কোচিং, মডেল টেস্ট ফি ইত্যাদি মিলিয়ে মণিপুর হাই স্কুলে সাড়ে ৯ হাজার টাকা, মিরপুর জান্নাত একাডেমি হাইস্কুলে ৭ হাজার ৭০০, আলিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ হাজার ৯০০, ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫ হাজার, খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল হাইস্কুলে ৫ হাজার ৯০০, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫ হাজার, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪ হাজার ৭৯০, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ৬ হাজার ৬৫২, রামপুরা একরামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ হাজার ৫০০, মগবাজার নজরুল শিক্ষালয়ে ৮ হাজার, বাসাবোর কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯ হাজার, সদরঘাটের পোগোজ স্কুলে ৬ হাজার, হাটখোলার মিতালী বিদ্যাপীঠ স্কুলে সাড়ে ৬ হাজার, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ হাজার, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ হাজার ৭০০, রামপুরা একরামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে এসব স্কুলের পরীক্ষার্থীরা ফরম পূরণ বাবদ বিভাগ ভেদে ১ হাজার ৫৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ টাকা বাড়তি দিচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংকের ঋণ নীতি

বদলে যাচ্ছে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ঋণনীতি। বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন তথা সরকারের অগ্রাধিকার খাতকে বিবেচনায় নিয়ে এ জন্য নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করবে সংস্থাটি। বাংলাদেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত- এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করবে বিশ্বব্যাংক। ধাপে ধাপে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ নিয়ে বৈঠকও করবে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে সোমবার অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক দুটি লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ৪ বছরের জন্য একটি কৌশলপত্র তৈরি করছে। এ লক্ষ্যমাত্রার একটি হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে হতদরিদ্রের সংখ্যা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। বর্তমানে প্রায় ১৬-১৭ শতাংশ মানুষ অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। অন্যটি হল- ৪০ শতাংশ নিুশ্রেণী মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি করা। যেন পরবর্তী সময়ে তারা দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে পারে।সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৫ সালে। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রশিক্ষিত তথা দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিকে প্রধান লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক আসন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাদের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক কৌশলপত্র তৈরি করবে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিইডির সদস্য ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, যেকোনো দেশের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে দাতা গোষ্ঠীর ঋণকৌশল নির্ধারণ করা উচিত। বিশ্বব্যাংকের এ উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। এটা পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে।বিশ্ব ব্যাংকের উন্নয়ন তথা বাংলাদেশের জন্য ঋণদান কৌশল বা নীতিমালার মেয়াদও আগামী বছর শেষ হচ্ছে। এ জন্য ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ বছরের জন্য নতুন কৌশল বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে। চলমান কৌশলপত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী কৌশলপত্রে কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, বণিক সংগঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে এ দাতা সংস্থাটি।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক অফিসের মিডিয়া কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ৪-৫ বছরের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক দলিল তৈরি করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার ধরন কী হবে, কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নেয়া হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের উপকারভোগী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যা পরবর্তী কালে সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত করা হতে পারে। এসব বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বলে তিনি জানান।সূত্রমতে, বিশ্বে অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় এশিয়াতে দরিদ্য লোকের বসবাস বেশি। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে রয়েছে সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, হতদরিদ্রদের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে নানা অপপ্রচার ও বিরূপ ধারণা রয়েছে। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, বিশ্বব্যাংক গরিবকে গরিব বানায় আর ধনীকে করে আরও ধনী। সংস্থাটি এই ভাবমূর্তি সংকট থেকে বেরিয়ে আসত চাইছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য সংস্থাটি ঋণনীতি পরিবর্তন করার চিন্তা করছে। বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বব্যাংক শুধু একটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি নলেজ (জ্ঞান) ব্যাংক। অনেক দেশ তাদের পরবর্র্তী উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নেয়। এ জন্য তারা সম্মানীও প্রদান করে থাকে। যেমন- চীন তাদের ২০৩০ সালনাগাদ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিশ্বব্যাংককে দিয়ে একটি কৌশলপত্র তৈরি করিয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত।

অপহরণ করে অর্থ আয়, তিন পুলিশ গ্রেফতার

একজন পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), অন্যজন কনস্টেবল। তারা অপহরণ করেছেন এক ব্যবসায়ীকে। তিনি আবার সাবেক সেনা সদস্য। তার কাছ থেকে তিনজন মিলে হাতিয়ে নিয়েছেন টাকা। এ পর্যন্ত সব নির্বিঘ্নেই ঘটাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন। ‘চোরের ওপর বাটপারি’ করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে পুরো ঘটনা।
আবদুল মান্নান নামের সাবেক ওই সেনা সদস্যকে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে লন্ডন প্রবাসী এক নারীরও। আবদুল মান্নান চাকরি হারানোর পর ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। জমিজমার কাজ তিনি ভালো বুঝেন। এ কাজের সূত্র ধরে লন্ডন প্রবাসী নভেরা সেতুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেতু তার জমির খাজনা এবং কিছু জমির কাগজের সমস্যা সমাধানে তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বেশকিছু টাকা লেনদেন করেন। কিন্তু মান্নান ওই টাকা আত্মসাৎ করেন। র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে তিন পুলিশ-এসবির এসআই রাশেদ, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এএসআই কবির ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম এবং ওই নারী মিলে মান্নানকে কারওয়ান বাজারে ডাকেন। সেখান থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে তাকে অপহরণ করেন পুলিশ সদস্যরা। সারা দিন তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাত ২টার দিকে ফের কারওয়ান বাজারেই ছেড়ে দেন।

বেতন ৯ হাজার ৮শ টাকা খরচ সোয়া ২ লাখ!

ফখরুল আলম ওরফে মানিক। বান্দরবান সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্তু বান্দরবানে যান কালেভদ্রে। বসবাস করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর অভিজাত আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকায়। খাদ্য গুদামের দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সবাই তাকে খাদক মানিক হিসেবে চেনেন।
এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ২০০৭ সালের ১ জুলাই যৌথবাহিনী খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি খাদ্য গুদাম থেকে ঘুষের ৩০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করেছিল। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আবার চাকরি ফিরে পান তিনি। আবারও শুরু করেন ঘুষ দুর্নীতির মহাযজ্ঞ। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অভিরামপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মানিক খাদ্য বিভাগে চাকরির সুবাদে গত দেড় দশকে কোটিপতি বনে গেছেন। জীবনযাপন করেন রাজসিক কায়দায়। বন্দরনগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে কিনেছেন ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ১০ একর জায়গা। চলাফেরা করেন লেটেস্ট মডেলের প্রিমিও কার নিয়ে। তার ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার জন্য রয়েছে আরও দুটি ট্রাক। তিনি যে বাসায় থাকেন তার মাসিক ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা। তার এক ছেলে পড়ে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে, অপর ছেলে নটরডেম কলেজে এবং ছোট মেয়ে পড়ে ইংলিশ মিডিয়াম সিলভারডেল স্কুলে। তার সরকারি মাসিক বেতন ৯ হাজার ৮শ টাকা হলেও খরচের তালিকা অনেক দীর্ঘ। ট্রাক কেনার কিস্তি বাবদ প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা, বাড়িভাড়া প্রতিমাসে ৩৫ হাজার, ড্রাইভারের বেতন ১৪ হাজার, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বাবদ ৫০ হাজার, ঠিকাদারি লাইসেন্স পরিচালনার জন্য প্রতিনিধির বেতন ১১ হাজার ও অন্যান্য বাবদ ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। অর্থাৎ তার প্রতিমাসে খরচ সোয়া ২ লাখ টাকার বেশি।
খাদ্য বিভাগের এ দুর্নীতির বরপুত্রের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ৩নং শান্তিবাগে রয়েছে ৭ গণ্ডা জমি। কয়েক বছর আগে সালাম মামুন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে এ জমিটি কিনেছেন। বর্তমানে জমিটিতে এক তলা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু তিনি এ বাড়িতে থাকেন না। থাকেন পাশের সালাম ভ্যালি নামে একটি অভিজাত টাওয়ারে। তার বাড়িসহ জায়গাটির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। বুধবার শান্তিবাগ ৩নং রোড, রহমানবাগ আবাসিক এলাকা, ছোটপুল উত্তর আগ্রাবাদে গেলে রফিক নামে একজন বাসিন্দা জানান, বাড়িটি সব সময় তালা দেয়া থাকে।
দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার ১০ একর জায়গা রয়েছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। তিনি কয়েক বছর আগে আয়াত আলী নামে একজনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে জায়গাটি কিনেছেন। আয়াত যুগান্তরকে জানান, মানিক স্যার জায়গাটি আমার কাছ থেকে কিনেছিলেন। এখন এর বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
খাদ্য বিভাগের ওই কর্মকর্তার রয়েছে একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ফখরুলের স্ত্রী সালেহা আলম, শাশুড়ি খুজিস্তা আক্তার চৌধুরী ও অপরটি পিতা আবুল কালামের নামে। স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সুহৃদ ইন্টারন্যাশনাল, পিতার নামে কালাম অ্যান্ড সন্স, শাশুড়ি খুজিস্তা আক্তার চৌধুরীর নামে সাজিদ এন্টারপ্রাইজ। প্রতিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে আগ্রাবাদে তার বাড়ির ঠিকানা শাস্তিবাগ ৩নং রোড, রহমানবাগ আবাসিক এলাকা, ছোটপুল উত্তর আগ্রাবাদ। অথচ ওই ঠিকানায় কেউ বসবাস করেন না। চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়োগ করেছেন তার নিকট আত্মীয় আবু নাছেরকে।
চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক (খাদ্য) চট্টগ্রামের তথ্যানুযায়ী, সাজিদ এন্টারপ্রাইজ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিল উত্তোলন করেছে ১৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। কালাম অ্যান্ড সন্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করেছে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই জানেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে যত বিল হয় তার ২০ শতাংশ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ভাগ দিতে হয়। তার ঠিকাদারি লাইসেন্সের বিল আটকে থাকার নজির নেই। ফখরুল আলমের মেসার্স ছিদ্দিক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বাড়ি নং ৬০৬, রোড নং ২২/২, সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ চট্টগ্রাম। শুক্রবার এ ঠিকানায় গিয়ে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আবু নাছের স্বীকার করেছেন, ছিদ্দিক এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ফখরুল আলম মানিকের। বাড়িটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা আজাদ যুগান্তরকে জানান, এ নামে (ছিদ্দিক এন্টারপ্রাইজ) ওই ভবনে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। আবু নাছের যুগান্তরকে জানান, ফখরুল স্যার আমাকে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। আমি শুধু চাকরি করি। তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক (খাদ্য) জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, খাদ্য বিভাগে কর্মরত কেউ ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত থাকা আইনগতভাবে অবৈধ এবং অনৈতিক। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফখরুল আলমের চলাফেরা মন্ত্রণালয়ের কোনো সিনিয়র সচিবের মতো। টাকা খরচ করেন পানির মতো। তার ব্যবহৃত প্রিমিও কারটি কেনা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে। যার নম্বর চট্টমেট্রো গ ১২-৭৩২১। বিআরটিএ থেকে জানা যায়, কারটি নিবন্ধন নেয়া হয়েছে জহিরুল ইসলাম, পিতা ওবাইদুল হক। ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে হাউস নম্বর ১১, রোড নম্বর ৩, লেন নম্বর ৫, ব্লক- কে, রামপুর, হালিশহর। ওই ঠিকানায় থাকেন জহিরুল ইসলাম নামে এক গাড়ি ব্যবসায়ী। জহিরুল মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, কারটি আমার নামে হলেও এটি ব্যবহার করেন ফখরুল আলম মানিক সাহেব। বিস্তারিত কথা বলতে চাইলে নেটওয়ার্ক ডিস্টার্ব বলে ফোন কেটে দেন। পুনরায় কল করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঠিকাদারী ব্যবসার জন্য ফখরুল আলম কিনেছেন দুটি ট্রাক। একটির নম্বর চট্টমেট্রো ট ১১-৩৯৭১। ট্রাকটি ২০১৩ সালের জুন মাসে ফখরুল আলমের স্ত্রীর সালেহা আক্তারের নামে কেনা। ট্রাকটি কিনেছেন ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে। ডাউনপেমেন্ট হিসেবে দিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এখন প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা করে পেমেন্ট দেয়া হচ্ছে। নিটল মোটরসের নির্বাহী ও এ ট্রাকটির কিস্তি আদায়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ যুগান্তরকে জানান, ফখরুল আলম প্রতিমাসে নির্ধারিত ১ লাখ টাকা করে প্রদান করছেন। খাদ্য বিভাগের অপর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে ফখরুলের আরও একটি ট্রাক আছে।
এ বিষয়ে ফখরুল আলম মানিক বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি-বাড়ি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার সম্পর্কে নিউজ করার কিছুই নেই। যা শুনেছেন সবই মিথ্যা। আপনি পারলে নিউজ করেন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন জানিয়ে এক পর্যায়ে তিনি বাচ্চু নামের একজনকে ফোন ধরিয়ে দেন। বাচ্চু নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই প্রতিবেদককে এ নিয়ে কোনো নিউজ না করে ব্যক্তিগতভাবে মানিক সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। নিউজ করা হলে যুগান্তরের চাকরি খেয়ে ফেলারও হুমকি দেন তিনি। মানিকের স্ত্রী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুহৃদ ইন্টারন্যাশনালের মালিক সালেহা আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও ট্রাক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনাকে এসব তথ্য কে দিয়েছে, এসব খবর কোথায় পান? চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল আজিজ মোল্লা যুগান্তরকে জানান, খাদ্য বিভাগে কর্মরত থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকার কথা নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মহাকাশে ইন্টারনেট স্যাটেলাইট!

ইন্টারনেট সুবিধা আরও সহজ করতে মহাকাশে ৭০০ কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। তিনি টেসলা মোটরসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। তবে এ প্রকল্পে মাস্কের সঙ্গে কাজ করছেন গুগলের সাবেক নির্বাহী গ্রেগ ওয়াইলারও। তারা মূলত সাশ্রয়ী ও ছোট আকারের কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য, মহাকাশ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া। এ জন্য ২৫০ পাউন্ডেরও কম ওজনের ৭শ’টি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন। ওয়াইলার জানান, কম খরচে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও কলোরাডোয় কারখানা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। তাদের এ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। ওয়েবসাইট।

এমপির শখের ফুলগাছ নষ্ট করায় ৫ ছাগল থানায়

বগুড়ার-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবর রহমানের শখের ২৫ হাজার টাকা দামের ফুলের গাছ নষ্ট করায় রোববার বিকালে শেরপুর মোজাহার কোল্ড স্টোর থেকে ৫টি ছাগল আটক করেছে শেরপুর থানা পুলিশ। শেরপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী এলাকার চায়না বেগম নামের এক মহিলার ছাগলগুলো বাগানে ঢুকে এ কাজ করে বলে জানায় বাগানের মালি রতন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার লোকজন সাংবাদিককে বলেন, আসলে দোষ হল দারোয়ান ও মালির। তারা তাদের কাজ ভালোভাবে না করায় অবুঝ প্রাণী ছাগল একাজ করেছে। তবে শাস্তি হলে তাদের হওয়া উচিত। এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আলী আহমেদ হাশমী বলেন, বিরল প্রজাতির প্রায় ৩০ হাজার টাকার গাছ নষ্ট করায় ছাগলগুলো থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল পরে সেগুলো খোঁয়াড়ে দেয়া হয়েছে। মালিক সেখান থেকে ছাগল ছাড়িয়ে নিতে পারবেন।

৬০০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও কুসুম : অস্থির শিপব্রেকিং শিল্প

বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে ‘উধাও’ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুম। এ টাকার জন্য তার প্রতিষ্ঠানে নিত্য ভিড় করছেন পাওনাদাররা। সম্পত্তির দখল নিয়ে টাকা তুলতে বসিয়েছেন পাহারা। তার এ রহস্যজনক অন্তর্ধানে চট্টগ্রামে শিপ ব্রেকিং শিল্পে এখন চরম অস্থিরতা। পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থাহীনতায় ভুগছে পুরো সেক্টর।
১০ বছর আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা ছিল কুসুমের। জীবন-জীবিকার জন্যে ছোটখাটো অনেক কিছু করেছেন। সীতাকুণ্ডে বাড়ির কাছে পোলট্রি ফার্ম দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ২০০৭ সালে। তেমন সুবিধা করতে না পেরে স্ক্র্যাপ লোহার ব্যবসায় যুক্ত হন। বড় বড় ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করায় বাকিতে মাল এনে বিক্রি করে টাকা শোধের সুযোগ পান। দাঁড়িয়ে যান এক সময়। নিজে মালিক হন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের। আমদানি করেন পুরানো জাহাজ। ব্যাংকগুলো তাকে অকাতরে ঋণ দিতে থাকে। অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও মুখের কথায় তার হাতে কোটি কোটি টাকা তুলে দিতে দ্বিধা করেননি। বিস্ময়কর উত্থানে তুলাতলি গ্রামের এ মানুষটির জীবনযাত্রা বদলে যায়। গ্রামে তৈরি করেন আলিশান বাড়ি। চলাফেরা করেন সর্বশেষ মডেলের প্রাডো গাড়িতে। এরপর হঠাৎই লাপাত্তা। বিভিন্ন ব্যাংক কুসুমের কাছে পাবে ২৫০ কোটি টাকার উপরে। স্ক্র্যাপ ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পাবে আরও প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেব্র“য়ারিতে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ গিয়াস উদ্দিন কুসুম স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ভাইয়ের কাছে এবং পরে সেখান থেকে কানাডা গিয়ে আশ্রয় নেন। সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি উপকূলে তার রয়েছে দুটি ইয়ার্ড। এর মধ্যে আল-মদিনা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাটার অপেক্ষায় নোঙর করা আছে ‘এমটি আটলান্টা’ নামের একটি পুরানো জাহাজ। এটি কেটে বিক্রি করলে আদায় হবে একশ’ কোটি টাকার মতো। সে আশায় বিভিন্ন ব্যাংক ও পাওনাদার প্রতিষ্ঠান ওই ইয়ার্ডে পৃথক পৃথক নোটিশ বোর্ড টাঙিয়ে পাহারাদারও নিয়োগ দিয়েছে। এর কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে এ নিয়ে পাওনাদারদের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব।
কুসুমের অফিস, গোডাউন, স্ক্র্যাপ রাখার বিশাল জায়গা এবং তার আলিশান বাড়িতেও একাধিক ব্যাংক-পাওনাদার একইভাবে নোটিশ টাঙিয়ে পাহারা বসিয়েছে। কুসুমের ব্যবহৃত বিলাসবহুল প্রাডো জিপ, দশটি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক এবং অন্যান্য সম্পত্তি দখল নিয়েও চলছে পাওনাদারদের মধ্যে টানাহেঁচড়া। চিটাগাং এন্টারপ্রাইজ নামে এক প্রতিষ্ঠান ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুসুমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
পাওনাদারদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকার রহিমা ইস্পাতের মালিক সুমন (১২ কোটি টাকা), চট্টগ্রামের কদমতলীর ইউনিক স্টিল (১০ কোটি), বাবুল (৫০ কোটি), সেকান্দার (১৫ কোটি), চসিকের এক কাউন্সিলর ২৬ কোটি টাকাসহ শতাধিক ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে লোহা ও স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ইয়ার্ড মালিকদের অগ্রিম কোটি কোটি টাকা নিতেন স্ক্র্যাপের জন্য। কিন্তু কুসুমের অন্তর্ধানের পর এখন অগ্রিম লেনদেন প্রায় বন্ধ। পুঁজি হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী ফতুর হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হেফাজতুর রহমান জানান, কুসুমের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্বাস ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকগুলো আতংকগ্রস্ত হয়ে ঋণ প্রদানে বেশি সতর্ক হয়েছে। ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বড় অংকের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণে এ শিল্পে ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন চরম মন্দা বিরাজ করছে।
ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রোসাঙ্গীর যুগান্তরকে জানান, কুসুমের কাছে তাদের মূল পাওনা ৫২ কোটি টাকা। সুদসহ তা আরও বেশি। যে জাহাজটি বর্তমানে ইয়ার্ডে আছে তার এলসি ব্যাংকের নামে। সেজন্য আমরা জাহাজটি কঠোর নিরাপত্তায় রেখেছি। যমুনা ব্যাংকের ভাটিয়ারি শাখার ব্যবস্থাপক ইয়াসিন সিদ্দিকী জানান, কুসুমের কাছে তাদের পাওনা ১০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গ্রামের বাড়ি বন্ধক রয়েছে। সেটা তারা আগলে রেখেছেন। মার্কেন্টাইল ও আইএফআইসি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক পাওনা আদায় নিয়ে উদ্বিগ্ন।
কুসুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করা করে যুগান্তর। কিন্তু কোনোভাবেই সম্ভব না হওয়ায় তার ছোট ভাই জসীম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানান, তার ভাই কুসুম পালিয়ে যাননি। ব্যবসায় মার খেয়ে আপাতত সরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান ইয়ার্ডে ১০০ কোটি টাকা দামের জাহাজ আছে, ইয়ার্ডের দাম ৪০ কোটি টাকা, মালামাল আছে ১৫ কোটি টাকার, জমি-সম্পদ আছে ১০০ কোটি টাকার, সরঞ্জাম আছে ৩০ কোটি টাকার। ড্রাম ট্রাক, স্কেভেটর, ট্রাক, প্রাডো জিপ মিলিয়ে ২০ কোটি টাকার সম্পদ আছে।
জসীমের মতে, ইয়ার্ডে থাকা শিপটি কাটার ব্যবস্থা করেছেন কিন্তু কিছু পাওনাদার কুসুম যাতে দেশে ফিরতে না পারে সেজন্য মামলা করে দেন। তিনি আরও একটি জাহাজ কিনতে এমও করেছেন। যাতে নতুন জাহাজ কিনতে না পারেন সেজন্য কিছু লোক এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের ইচ্ছে না থাকলে তিনি জাহাজ ও সম্পত্তি বিক্রি করে দেশ ছাড়তেন। তাছাড়া আসলাম চৌধুরীসহ (৮৫ কোটি) অনেকের কাছে তিনি বিপুল টাকা পাবেন। যা এখন তারা অস্বীকার করছেন। বিএনপি উত্তর জেলার আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী শনিবার যুগান্তরকে জানান, কুসুমের হিসাবে সে আমার কাছে এক থেকে দেড় কোটি টাকা পাবে। কিন্তু আমার হিসাবে আমি তার কাছে ৩৩ লাখ টাকা পাই। সামনাসামনি বসলে এটা পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই সে ফিরে আসুক। সবাই তাকে সহযোগিতা করবে।
আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি ফোরকান আবু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমের ইয়ার্ড, অফিস ও বাড়ি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রতিদিন পাওনাদাররা তার ইয়ার্ড ও বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। তার সম্পত্তি কে কোনটা দখলে নেবেন সে নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। পাওনাদারদের টাকা আদায়ে মধ্যস্থতাকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিক জানান, ঘটনার পর থেকে কুসুমের কাছ থেকে পাওনাদারদের টাকা আদায়ের চেষ্টা তিনি করেছিলেন। দেশত্যাগের পর কুসুম তার সঙ্গে একবার যোগাযোগ করেন। পরে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। এখন এ ব্যাপারে তার আর কোনো ভূমিকা নেই।
এক পাওনাদার মো. নুরুল আমিন জানান, তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাড়ে ৮ কোটি টাকা কুসুমকে প্লেটের বিপরীতে অগ্রিম বাবদ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন চরম বেকায়দায় পড়েছেন। ব্যাংকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ব্যাংক আর কোনো ঋণ দিচ্ছে না। মোহাম্মদ জয়নাল জানান, অগ্রিম বাবদ তারা ১২ জন মিলে ২৭ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু কুসুম টাকা বা মাল না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তারা খুবই বিপদে পড়ে গেছেন। এ কারণে তিনি মামলা করেছেন। ব্যবসায়ী মো. জামাল পাশা বলেন, তিনি ও তার দুই ভাই প্লেটের বিপরীতে কুসুমকে ৭ কোটি টাকা অগ্রিম দেন। ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের টাকা তাকে দেয়ায় এখন ব্যাংকের চাপে রয়েছেন তারা।

অবৈধ গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু

সারা দেশে ফিটনেসবিহীন মোটরযান ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে আজ থেকে শুরু হচ্ছে অভিযান। রাজধানীসহ সারা দেশে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে এ অভিযানে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সরকারি তথ্য মতে, দেশে তিন লাখের বেশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া অবৈধভাবে মহাসড়কে চলছে নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন মোটরযান। আর সাড়ে ছয় লাখ চালকের নেই বৈধ লাইসেন্স। এতে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরযান এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এ অভিযান সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও পরিবহন খাতে শৃংখলা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ জন্য ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের মহাসড়কগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া অবৈধ, ফিটনেসবিহীন ও লক্কর-ঝক্কর মোটরযান বেপরোয়া চলাচলের ফলে মহাসড়কে শৃংখলা বিধান কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মহাসড়কে শৃংখলা বিধান ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১০ নভেম্বর থেকে সব অবৈধ, ফিটনেসবিহীন মোটরযান, লাইসেন্সবিহীন চালক, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ও ভটভটির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও হাইওয়ে পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের চিঠি দেয়া হয়। তবে কতদিন এ অভিযান চলবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এর আগে ২০১০ সালে ২০ বছরের পুরনো যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সে সময় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন পুরনো যানবাহন চালানো বন্ধ রাখে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তবে অভিযান শেষে আবারও সেসব যানবাহন রাস্তায় নামানো হয়।
গাড়ির রং করাতে ব্যস্ত মালিকরা : ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হচ্ছে এমন ঘোষণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সারা দেশের পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা। কেউ কেউ ফিটনেসবিহীন গাড়ির ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে রং করাতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্যারেজগুলোতে। আর এ কারণেই ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে গ্যারেজে কর্মরত রং মিস্ত্রিদের। শনিবার সকালে সাভার ও ধামরাইয়ের গ্যারেজগুলোতে এমন চিত্রই দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনন্দ সুপার পরিবহনের মালিক বলেন, ১০ নভেম্বর থেকে সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে, তাই আমার গাড়ি রং করতে দিয়েছি। রং করলেই কি ফিটনেস ফিরে পাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে তো রং তারপর সব।
সাভারের বিশমাইলে এসএ মোটরস নামক একটি গ্যারেজে দেখা যায় সেখানে গাড়ি রং করানোর ধুম পড়েছে। গ্যারেজ মালিক বলেন, কেন যেন হঠাৎ কাজের চাপ বেড়ে গেল জানি না। তবে ভালোই হয়েছে কিছু টাকা আয় হবে।
সাভারের বিশমাইলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত মোশারফ অটোমোবাইল ওয়ার্কস নামক এক সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজে কথা হয় মালিক মো. মোশারফ হোসেনের সঙ্গে। রংয়ের সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের সম্পর্ক কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমরা গাড়ির কারিগর হিসেবে ফিটনেস হিসেবে ইঞ্জিনের ফিটনেসকেই ধরি। রংতো ওপরের সৌন্দর্য মাত্র।
মায়ের দোয়া অটোমোবাইলস ওয়ার্কশপ নামক এক গ্যারেজে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বাসকে রঙ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামসহ অভ্যন্তরীণ কয়েক বন্দরে অচলাবস্থা

নিরাপত্তার দাবিতে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি নদীবন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এসব বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার প্রশ্নে শ্রমিক নেতারা একমত হতে পারেননি। রোববার বিকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুর রহমান বন্দর ভবনে নৌশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুরে বন্দর রেস্ট হাউসে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
অপরদিকে নৌযান শ্রমিকদের একটি অংশ চট্টগ্রাম থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেছেন, যেসব নেতা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা সরকারের লোক। তিনি বলেন, নিখোঁজ লোকদের উদ্ধার এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। নৌপথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ, লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ শ্রমিকদের বের করাসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে লাইটারেজ শ্রমিকরা। গত দুদিনের ধর্মঘটে
নিরাপত্তার দাবিতে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি নদীবন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এসব বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার প্রশ্নে শ্রমিক নেতারা একমত হতে পারেননি। রোববার বিকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুর রহমান বন্দর ভবনে নৌশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুরে বন্দর রেস্ট হাউসে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
অপরদিকে নৌযান শ্রমিকদের একটি অংশ চট্টগ্রাম থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেছেন, যেসব নেতা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা সরকারের লোক। তিনি বলেন, নিখোঁজ লোকদের উদ্ধার এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। নৌপথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ, লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ শ্রমিকদের বের করাসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে লাইটারেজ শ্রমিকরা। গত দুদিনের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম, মংলাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি নদীবন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে রোববারও পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজ চলাচল এবং জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ১৫টি মাদার ভেসেলের প্রায় ২০ লাখ টন পণ্য খালাস অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জাহাজগুলো অলস বসে থাকায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। মাদার ভেসেল থেকে বোঝাই করা ৭ লাখ টন পণ্য নিয়ে ২৫০টি লাইটার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়েছে ধর্মঘটের কারণে। বহির্নোঙরে টানা দুদিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় তার বিরূপ প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন শিল্পকলকারখানায় কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান রোববার সকালে চট্টগ্রামে আসেন। দুপুর ২টার দিকে বন্দর রেস্ট হাউসে নৌযান শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। বেঠক অসমাপ্ত রেখেই তিনি ঢাকায় চলে যান জরুরি কাজ থাকার কথা বলে। বিকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বন্দর ভবনে নৌশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমঝোতার পর শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।বরিশাল ব্যুরো জানায়, নদীপথের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন বরিশালে অবস্থানকারী লাইটারেজ জাহাজের শ্রমিকরা। রোববার সকাল থেকে বরিশাল নগরীসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর চাঁদমারী, কেডিসি এবং দপদপিয়া পয়েন্টে শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। এসব জাহাজে টিএসপি ও ইউরিয়া সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ, তেলসহ নানা পণ্য রয়েছে। কিন্তু জাহাজের সহস্রাধিক শ্রমিক ধর্মঘট পালন করায় পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে জাহাজে আটকে আছে এসব পণ্য। বন্দরের শ্রমিক জামাল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল নৌবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বরিশাল নগরীর তিনটি স্পট- কেডিসি, চাঁদমারী ও দপদপিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে অসংখ্য জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একিন আলী মাস্টার বলেন, নৌশ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল নৌবন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নদীপথের নিরাপত্তার দাবিতে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা ধমঘটের ফলে অচল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর।
, মংলাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি নদীবন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে রোববারও পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজ চলাচল এবং জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ১৫টি মাদার ভেসেলের প্রায় ২০ লাখ টন পণ্য খালাস অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জাহাজগুলো অলস বসে থাকায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। মাদার ভেসেল থেকে বোঝাই করা ৭ লাখ টন পণ্য নিয়ে ২৫০টি লাইটার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়েছে ধর্মঘটের কারণে। বহির্নোঙরে টানা দুদিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় তার বিরূপ প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন শিল্পকলকারখানায় কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান রোববার সকালে চট্টগ্রামে আসেন। দুপুর ২টার দিকে বন্দর রেস্ট হাউসে নৌযান শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। বেঠক অসমাপ্ত রেখেই তিনি ঢাকায় চলে যান জরুরি কাজ থাকার কথা বলে। বিকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বন্দর ভবনে নৌশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমঝোতার পর শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।বরিশাল ব্যুরো জানায়, নদীপথের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন বরিশালে অবস্থানকারী লাইটারেজ জাহাজের শ্রমিকরা। রোববার সকাল থেকে বরিশাল নগরীসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর চাঁদমারী, কেডিসি এবং দপদপিয়া পয়েন্টে শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। এসব জাহাজে টিএসপি ও ইউরিয়া সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ, তেলসহ নানা পণ্য রয়েছে। কিন্তু জাহাজের সহস্রাধিক শ্রমিক ধর্মঘট পালন করায় পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে জাহাজে আটকে আছে এসব পণ্য। বন্দরের শ্রমিক জামাল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল নৌবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বরিশাল নগরীর তিনটি স্পট- কেডিসি, চাঁদমারী ও দপদপিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে অসংখ্য জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একিন আলী মাস্টার বলেন, নৌশ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল নৌবন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নদীপথের নিরাপত্তার দাবিতে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের ডাকা ধমঘটের ফলে অচল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর।

রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। লাঠিচার্জের পাশাপাশি গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রোববার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার বাকশালী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। বিরোধী দলের ন্যূনতম সাংবিধানিক অধিকার আদায় করতে দেয়া হচ্ছে না।
রাজধানীর থানায় থানায় মিছিল : পল্লবী ও রূপনগর থানা বিএনপির উদ্যোগে সকালে কালসী এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। কাজী আলী ইমাম আসাদ, নুরুল হক ও এম আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে মিছিলটি কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। কারওয়ান বাজারে মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়ার সময় পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশ মিছিলকারীদের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে যায়। ৫৩নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সিদ্ধেশ্বরী, মৌচাক, মালিবাগ হয়ে আনারকলি সুপার মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় কাটাসুর থেকে বেড়িবাঁধ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম মতিন, ওসমান গনি শাহজাহান, নাসির আহমেদ, এনায়েতুল হাফিজ, শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মিছিলে হামলার নিন্দা : বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।
মিছিল চলাকালে পুলিশি হামলা ও নেতাকর্মীদের আটকের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেজগাঁও থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন মিছিল করার সময় পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এছাড়া গাজীপুর, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। যুগান্তর ব্যুারো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
গাজীপুর : বেলা সোয়া বারটার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের বক্তব্য শেষে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
সিরাজগঞ্জ : বিকালে ইবি রোডে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশ টিয়ারশেল ও পরে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে অন্তত ১০-১২ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বরিশাল : বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে জেলা ও মহানগর বিএনপি।
রংপুর : দুপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা ও মহানগরের সভাপতি মোজাফফর হোসেনের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
সিলেট : বিকালে নগরীর কোর্টপয়েন্টে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক।
মুন্সীগঞ্জ : বিকাল ৫টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

ষোড়শ সংশোধনী কেন সংবিধান পরিপন্থী নয়

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে
গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত ২৬ নভেম্বর প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে দিয়েছেন।১৭ সেপ্টেম্বর রাতে সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল-২০১৪ পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে ৪০ বছর পর সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ন্যস্ত হয়। বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও বিলের পক্ষে ভোট দেয়। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন শেষে ২২ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪র গেজেট জারি হয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪র বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৫ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের নয়জন আইনজীবী রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটকারীরা হলেন- অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ইমরুল কাউসার, মামুন আলিম, এখলাস উদ্দিন ভুঁইয়া, সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, মাহবুবুল ইসলাম, নুরুল ইনাম বাবুল, শাহীন আরা লাইলী ও রিপন বাড়ৈই। রিট আবেদনটির শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, একটি রিট মামলায় সুপ্রিমকোর্ট সামরিক আইন ও বিধিবিধান বাতিল করলেও সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারক অপসারণসংক্রান্ত সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের বিধান সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংবিধান পুনর্মুদ্রণের মাধ্যমে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই বিচারক অপসারণের বিধান সংশোধন করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস হয়।তিনি বলেন, কোনো সংশোধনী আনার জন্য বা আইন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়তা থাকতে হয়। আগের আইনে ত্র“টি থাকতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনোটাই ছিল না। বিশেষ কোনো কারণে এই সংশোধনী আনা হতে পারে। মনজিল মোরসেদ ব্যাখ্যা করে বলেন, গত এক বছরে সাম্প্রতিককালে পাসকৃত আদালত অবমাননার আইন ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধনী বাতিল করে দেন সুপ্রিমকোর্ট। এমনকি নারায়ণগঞ্জের খুনের ঘটনায় আসামি গ্রেফতারের নির্দেশও দেন আদালত। এসব কারণে প্রশাসন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার প্রয়াস হতে পারে এবং এ ধরনের সংশোধনী আনা হতে পারে। তিনি রুল জারির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এই রুল জারির বিরোধিতা করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন।সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ৭২র সংবিধানে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত হয়েছিল। এরপর সামরিক ফরমানের দ্বারা পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত হয়। প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের অপর দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নিয়ে জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়।২০১২ সালে সড়ক ভবনকে কেন্দ্র করে আদালতের একটি রায় নিয়ে সংসদে বিরূপ সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিচারক সংসদ ও স্পিকারকে নিয়ে মন্তব্য করলে সেই সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন। এ নিয়ে স্পিকার পরে একটি রুলিংও দেন। সেই রুলিং আবার হাইকোর্ট অকার্যকর ও ভিত্তিহীন ঘোষণা করে রায় দেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে আবারও নির্বাহী বিভাগ থেকে সমালোচনা আসে। এর কিছুদিন পরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল সংসদে পাস হয়।পাস হওয়া বিলে ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে দফা ২-এ বলা হয়, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণ করা যাবে। ৩ দফায় বলা হয়, সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব-সম্পর্কিত এবং বিচারকের অসদাচরণ ও অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ৪ দফায় বলা হয়, কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করতে পারবেন। এই সংশোধনীর পর দেশের শীর্ষ আইনজীবীসহ নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর দেড় মাসেরও বেশি সময় পর হাইকোর্ট সংশোধনীটির বৈধতা ও সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করলেন।

কমার্স ব্যাংকে ২০৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের (বিসিবি) দুটি শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ১৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং দিলকুশা শাখা থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৭টি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং রীতিনীতি লংঘন করে তুলে নিয়েছে এসব টাকা। এর মধ্যে বংশাল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপকসহ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের যোগসাজশে বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামেও টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের স্ত্রীর নামে বেনামি হিসাব খুলে কোটি কোটি টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক দুটি তদন্ত প্রতিবদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান একই জামানত তিন ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে ঋণ নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখাও রয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম শিথিল করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন রাজনৈতিক নেতা জোরালো তদবির করেছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এএমডি) ৭ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে নানা ধরনের পদক্ষেপ। গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি জামানত নেয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার করেও গ্রাহকরা টাকা দিচ্ছে না বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সাদেক মো. সোহেল যুগান্তরকে জানান, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে। এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া টাকা আদায়ে জোরালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অচিরেই টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের ব্যাংকের দুটি শাখায় আগের জালিয়াতির প্রায় শত কোটি টাকা এখনও আদায় হয়নি।
সূত্র জানায়, বংশাল শাখায় ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে শাখায় ওই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক থেকে ওইসব টাকা নিয়ে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে তা বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু গ্রাহকরা পণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা শোধ করেননি। এদিকে কয়েকটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ব্যাংক থেকে পুরো টাকা পাননি। তাদের নামে টাকা তুলে ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা নিজেরা আত্মসাৎ করেছে। তাদের দিয়েছে অনেক কম টাকা। এর মধ্যে যমুনা এগ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকা। এই পুরো টাকা গ্রাহক পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর একটি বড় অংশ শাখার কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে গ্রাহক ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেছেন। এদিকে গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংক নতুন করে জামানত নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে।
পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিকীর মালিকানাধীন সিদ্দিক ট্রেডিংয়ের নামে নেয়া হয়েছে ১২ কোটি টাকা। ওই পুরো টাকাও তিনি পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পারভেজ আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন মদিনা এন্টারপ্রাইজের নামে নেয়া হয়েছে ৪ কোটি টাকা। রাজীব ট্রেডার্সের নামে নেয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ইউসা ট্রেডিংয়ের নামে নেয়া হয়েছে ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমেদের একটি বেনামি প্রতিষ্ঠান বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইফতেখার আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এছাড়া শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক হাবিবুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী মালিকানাধীন ফারহান ট্রেডিং নামেও ঋণ নেয়া হয়েছে। ওই টাকা এখন আদায় হয়েছে। তবে ওই হিসাবের মাধ্যমে টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ ৭ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বংশাল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক হাবিবুল ইসলাম সুমন, সাবেক ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহেমদ, অফিসার শিরিন নিজামী। প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা শফিকুর রহমান। প্রধান কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা বানু রঞ্জন চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বংশাল শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক আলী আজম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানও এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। জালিয়াতির সময়ে তিনি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্বে ছিলেন।
কমার্স ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে এসবি গ্র“পকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ঋণের বিপরীতে যথেষ্ট জামানত নেয়া হয়নি। যেসব জামানত নিয়ে ঋণ দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভুয়া বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক আরও জামানত নিতে বাধ্য হয়েছে। ঋণ শোধের ব্যাপারে গ্রাহক এখন পর্যন্ত আট দফা অঙ্গীকার করেও পুরো ঋণ শোধ করেননি।
এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের এমডি আবু সাদেক মো. সোহেল যুগান্তরকে জানান, তিনি আশা করছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে এসবি গ্র“পের কাছ থেকে টাকা আদায় হবে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে। ২০১১ সালে ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৮টি এলসি খোলে। ২০১২ সালে ১৭ কোটি টাকার আরও ১৮টি এলসি খোলে। এসব এলসির বিপরীতে মোট ৪০টি এলটিআর খোলা হয়েছিল। ২০১২ সালের শেষদিকে গ্রাহক ২৬টি এলসি সমন্বয় করে দেন। বাকিগুলো এখনও সমন্বয় করেননি।
ঋণ হিসাবের বিপরীতে ঢাকার নন্দীপাড়ায় ৭৬ দশমিক ৩৩ শতক জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ শতক জমির কাগজপত্র ত্র“টিপূর্ণ। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ হিসাবকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে গ্রাহকের কাছ থেকে মাতুয়াইলের ৬ শতক জমি, ওই জমিতে ৩ তলা একটি ভবন, ৩ শতক খালি জমি এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৪০ শতক জমি নতুন করে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে নেয়া হয়েছে। ব্যাংক মনে করে এখন ঋণটি নিরাপদ মাত্রায় রয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, বন্ধকি জমি বিক্রি করে ব্যাংক ঋণ আদায় করতে পারবে না। কেননা অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংক তা করতে পারছে না। এদিকে গ্রাহক বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ঋণ শোধ করছে না।
ওই ঋণটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৩ সালের আগস্টে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রাহক ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করে। ২০১৩ সালের শেষে রাজনৈতিক অস্থিরতায় গ্রাহকের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার তিনটি প্রতিষ্ঠানের সমুদয় ঋণ নবায়ন করে পুনরায় ব্যবসা করার সুযোগ চায়। এ লক্ষ্যে এককালীন জমা বাবদ ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে কমার্স ব্যাংকের ২৩১তম পর্ষদ সভায় ব্যাংকের স্বার্থে গ্রাহক ব্যাংকার সম্পর্কের ভিত্তিতে বড় অংকের ঋণটি কমিয়ে ৫০ কোটি টাকার পরিবর্তে ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে পর্ষদ ঋণটি নবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার নির্দেশ দেয়। এর আলোকে ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেয়া হয়। বিষয়টি গত ফেব্র“য়ারিতে গ্রাহককে জানানো হলে গ্রাহক সমুদয় নির্দেশনা পরিপালন করে দ্রুত ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। সে অনুযায়ী গ্রাহক ফেব্র“য়ারি এবং মার্চেও কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেনি। ফলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রবল চাপে পড়ে গ্রাহক শাখাকে আশ্বস্ত করে, প্রতিষ্ঠানের কোল্ডস্টোরেজে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ জমা রয়েছে। বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে ইলিশের দাম বাড়বে। তখন ইলিশ বিক্রির টাকায় ব্যাংকের দেনা শোধ করে দেবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহকের কথায় ব্যাংক বিশ্বাস স্থাপন করে ঋণ নবায়ন করে গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। পহেলা বৈশাখের ৩-৪ দিন আগে থেকেই গ্রাহক তার কোল্ডস্টোরেজের ইলিশ বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু ইলিশ বিক্রির কোনো টাকা কমার্স ব্যাংকে জমা না করে অন্যত্র জমা করতে শুরু করেন। ফলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও চাপ প্রয়োগ করা হলে তিনি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সমুদয় টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু ওই সময়েও তিনি টাকা পরিশোধ করেনি।
এদিকে চট্টগ্রামে কমার্স ব্যাংকের মেরিন ভেজিটেবল অয়েলের নামে ৪৭ কোটি টাকা এবং নুরুন্নবীর নামে ৪৫ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এর বিপরীতেও জালিয়াতির ঘটনা রয়েছে।