Wednesday, June 19, 2013

গ্রিসের ইআরটি আবার চালুর নির্দেশ আদালতের

গ্রিসের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্র ইআরটি আবার চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দেশটির শীর্ষ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব স্টেট গত সোমবার বলেন, নতুন আরেকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান চালুর আগ পর্যন্ত ইআরটি চালু রাখতে হবে। গ্রিসের সরকার ব্যয় সংকোচন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছয় দিন আগে ইআরটিকে আকস্মিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এতে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কর্মী চাকরি হারান। দেশজুড়ে এ উদ্যোগের ব্যাপক সমালোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ দেখা দেয়। এমনকি সরকার ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিস সামারাস সাময়িকভাবে ইআরটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার নতুন একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র চালু করবে বলে তিনি জানান। ইআরটি বন্ধ ঘোষণা করার দিন থেকে রাজধানী এথেন্স, বৃহৎ শিল্পনগর থেসালোনিকি ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এএফপি ও বিবিসি।

ব্রাজিলে গণপরিবহনের ভাড়া নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

ব্রাজিলে গণপরিবহনের ক্রমবর্ধমান ভাড়া এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার দেশটির বড় নগরগুলোতে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটি হয় রিও ডি জেনিরোতে। সেখানে এক লাখের মতো লোক শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেয়। রাজধানী ব্রাজিলিয়াতে বিক্ষোভকারীদের অনেকে জাতীয় কংগ্রেস ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভঙ্গ করে ছাদে উঠে যায়। লাতিন আমেরিকার শীর্ষ অর্থনীতির দেশটিতে গত ২০ বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঘটনা। এর সূত্রপাত ঘটে ২ জুন। এদিন সাও পাওলো নগরের গণপরিবহনের ভাড়া জনপ্রতি তিন রিয়াল (১২০ টাকার মতো) থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ২০ রিয়াল করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বৃদ্ধি অনেক কম। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে শেষ ভাড়া বাড়ানো হয়। সরকারি হিসাবে তখন থেকে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ১৫ দশমিক ৫। ব্রাজিল শিগগিরই বিশ্বকাপ ফুটবল ও অলিম্পিকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের অনেকেই অভিযোগ করছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় না করে বিপুল অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। এদিকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ১১টি শহরে বিক্ষোভ হয়। সাও পাওলোতে বিক্ষোভকারীরা ‘জনগণ জেগে উঠেছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। কর্মসূচি মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও রিওতে বিক্ষোভকারীদের অনেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পরিষদ ভবনের বাইরে আগুন জ্বালিয়ে ভবনটির কিছু ক্ষতিও করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। বিবিসি।

ভারতে অতিবর্ষণ ও ধসে মৃতের সংখ্যা ৭৩

ভারতের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও বন্যায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৩ জনে পৌঁছেছে। ভারী বর্ষণকবলিত উত্তরাখন্ড রাজ্যের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ৭১ হাজারের বেশি তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছেন। এ ছাড়া হিমাচল প্রদেশেও প্রায় এক হাজার ৭০০ জন দুর্যোগের কবলে পড়েন। হিমাচল ও উত্তরাখন্ডের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে বর্ষণের তীব্রতা কমেনি। গোটা উত্তরাখন্ড রাজ্য এখন বন্যার কবলে। আকস্মিক বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমিধসে সেখানে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বহু লোক আহত ও অন্তত ১৭৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রুদ্রপ্রয়াগ জেলা। সেখানে ২০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৭৩টি ভবন ধ্বংস হয়। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী তীর্থস্থানের উদ্দেশে যাতায়াতের সময় দুর্যোগের কবলে পড়েছেন মোট ৭১ হাজার ৪৪০ জন। তাঁরা রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি ও উত্তরাক্ষী জেলায় আটকা পড়েছেন। বিরূপ আবহাওয়া ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সেখানকার বিখ্যাত চর ধাম যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, চামোলিতে ২৭ হাজার ৪০, রুদ্রপ্রয়াগে ২৫ হাজার ও উত্তরাক্ষী জেলায় নয় হাজার ৮৫০ জন আটকা পড়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, উত্তরাক্ষীতে ভাগীরথী ও হূষিকেশে গঙ্গা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহ নিজেই রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত কিনুয়ার জেলায় ভূমিধসের কারণে প্রায় ৬০ ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। হেলিকপ্টারযোগে গতকাল সকালে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই হাজার লোক আটকা পড়ে। এদিকে, উত্তর প্রদেশ রাজ্যেও বর্ষণজনিত কারণে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গঙ্গা ও যমুনা নদীতে পানির উচ্চতা অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ার কারণে রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাজমহলের জন্য বিখ্যাত আগ্রায়ও বন্যা-সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে যমুনা নদীর তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কর্মকর্তা বলেন, রাজধানী এলাকায় যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আইএএনএস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

৯৮ বছর বয়সী ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত

হাঙ্গেরিতে লাজলো সাতারি নামের ৯৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পক্ষে হত্যাযজ্ঞে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন অভিশংসকেরা। ১৫ হাজার ৭০০ জন ইহুদিকে হত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগে তিনি বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতারি। লাজলো সাতারি ১৯৪৪ সালে বর্তমান স্লোভাকিয়ার কসিচে নাৎসি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতেন। নাৎসি বাহিনীর সদস্যদের খুঁজে বের করায় নিয়োজিত সাইমন ওয়েইসেন্থাল সেন্টার জানায়, সাতারি ইহুদিদের কুখ্যাত অশউৎইজ ‘ডেথ ক্যাম্পে’ পাঠানোর বিষয়টি তদারক করতেন। সাতারির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি কসিচে ইহুদিদের একটি বন্দিশিবিরের প্রধান ছিলেন। আশা করা হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে তিন মাসের মধ্যে বিচারকাজ শুরু করা যাবে। যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাতারি বলেছেন, তিনি হাঙ্গেরি ও জার্মান কর্মকর্তাদের মধ্যে নিছক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।
১৯৪৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার একটি আদালত হত্যাযজ্ঞ ও ইহুদিদের ওপর নির্যাতন চালানোর দায়ে সাতারিকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। ২০১২ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের সান পত্রিকার সাংবাদিকেরা বুদাপেস্টে লাজলো সাতারির সন্ধান পান। বিবিসি।

সিরিয়ার ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা আবার আশ্রয়হীন হচ্ছে

সিরিয়ায় দুই বছর ধরে চলা লড়াইয়ের কারণে সে দেশে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ ও কর্মবিষয়ক (ইউএনআর-ডব্লিউএ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ্পো গ্রান্তি গতকাল মঙ্গলবার সিরিয়া সফরকালে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থীর তালিকা করেছি। তাদের সবাই আশ্রয় হারিয়েছে। এ সংখ্যা সিরিয়ায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ৭০-৮০ শতাংশ।’ সিরিয়ার হোমস প্রদেশে একটি শরণার্থী শিবিরে বৈঠক শেষে জেনারেল ফিলিপ্পো গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ফিলিস্তিনি ওই শরণার্থীরা আবার অন্য দেশে শরণার্থী হয়ে গেছে। তিনি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলো এড়িয়ে চলতে সরকার ও বিদ্রোহী উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি পালিয়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নেয়। সিরিয়ায় তাদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএর নয়টি নিবন্ধিত শিবির রয়েছে। ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দামেস্কসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির আক্রান্ত হয়। এ সময় ওই ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা পালিয়েযায়। সিরিয়ায় চলা গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এএফপি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ হবে না: রুহানি

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, যে পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেই কর্মসূচি কোনোভাবে বন্ধ হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে আরও উদারনীতি গ্রহণ করা হবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্দশাগ্রস্ত লাখো ইরানি অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশায় গত শুক্রবার রুহানিকে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। ভোটে জয়লাভের পর গত সোমবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন রুহানি। তিনি বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে কোনো পরিবর্তন হবে না। আর এটাই পশ্চিমাদের অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ। রুহানি বলেন, উপসাগরীয় যেসব দেশ গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আসাদ সরকারকে উচ্ছেদে উসকানি দিয়ে আসছে, সেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালানো হবে। ২০০৩-২০০৪ সালে ইরানের সংস্কারবাদী সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির পরমাণু মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধান ছিলেন রুহানি। তিনি পদত্যাগ করার পর ওই দায়িত্ব নেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইরান তখন থেকে ব্যাপকভাবে পরমাণু স্থাপনা বিস্তৃতকরণের কাজ করে আসছে বলে মনে করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ৬৪ বছর বয়সী রুহানি বলেন, ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য। তিনি এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার অঙ্গীকার করেন। রুহানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান। এএফপি।

চে গুয়েভারার অজানা চিঠি ও ছবি প্রকাশ

চে গুয়েভারার ব্যক্তিগত কিছু চিঠি, অপ্রকাশিত ছবি ও নথিপত্র প্রকাশ করেছে বলিভিয়ার পত্রিকা লা রাজোন। আর্জেন্টিনীয় বংশোদ্ভূত এই বিপ্লবীর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর এগুলো প্রকাশ করা হলো। গত সোমবার চের ওই সব চিঠি ও ছবি নিয়ে ২০ পৃষ্ঠার একটি বিশেষ সংখ্যা বের করেছে পত্রিকাটি। এগুলো ১৯৬৭ সাল থেকে গোপনে সংরক্ষণ করে আসছিল দেশটির সেনাবাহিনী। প্রকাশিত ছবিগুলো সাদাকালো। প্রকাশিত নথির মধ্যে চে গুয়েভারার জিনিসগুলো সম্পর্কে বলিভিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত সামগ্রীর মধ্যে আর্জেন্টিনীয় বংশোদ্ভূত জার্মান গেরিলা হেইডি টামারা বানকের ছবিও রয়েছে। তানিয়া নামে পরিচিত এ গেরিলার লেখা একটি চিঠিও প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিটি তিনি বিদ্রোহের সময় কিউবান সহচর দামাসো লেসকাইলির কাছে লিখেছিলেন। কিন্তু তা বিদ্রোহীদের ঘিরে থাকা বলিভিয়ার সেনাদের হাতে পড়ে। তানিয়া ছিলেন একমাত্র নারী, যিনি চে গুয়েভারার পাশাপাশি লড়াই করেছেন। এটি যে তাঁরই চিঠি, সে বিষয়টি ইতিহাসবেত্তারা নিশ্চিত করেছেন। চিঠিটির একটি অংশে লেখা, ‘আপনি অবশ্যই জানেন, আমি বড় বড় চ্যালেঞ্জ পছন্দ করি। আমি সেসব বাধা টপকেও যাই।’ ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন বিপ্লবী চে গুয়েভারা। বিদ্রোহীদের চিঠিগুলো ‘যুদ্ধ পুরস্কার’ হিসেবে এত দিন সংরক্ষণ করেছে সেনাবাহিনী। এএফপি।

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কর্মসূচি ছিল স্বচ্ছ

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দাবি করেছেন, তাঁর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) লাখ লাখ মানুষের ফোনালাপ ও ই-মেইলের রেকর্ড গোপনে সংগ্রহ করার কর্মসূচি বৈধ এবং স্বচ্ছ। তিনি গত সোমবার রাতে পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এ অভিমত দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এই গোয়েন্দাগিরিতে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি বহির্বিশ্বেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, ‘এ কর্মসূচি ছিল স্বচ্ছ। এ জন্যই আমরা এফআইএসএ কোর্ট গঠন করেছি।’ এফআইএসএ কোর্ট হচ্ছে ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেল্যান্স অ্যাক্ট-এর আওতায় গঠিত গোপন আদালত। এই আইনের আওতায় দুটি কর্মসূচি চালানোর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়, যা সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যায়। এই কর্মসূচি দুটির মধ্যে একটির আওতায় বহু লোকের ফোনের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অপর কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কযুক্ত বিদেশিদের ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা। সাক্ষাৎকারে ওবামা জানান, সরকারের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সীমা নির্ধারণের বিষয়ে বিতর্ক ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একটি গোপনীয়তা ও নাগরিক স্বাধীনতাবিষয়ক বোর্ড গঠন করেছেন। এই বোর্ড এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর তদারক করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু উপায় বের করতে যাচ্ছি, যেখানে জনগণ এ ধরনের আশ্বাস পাবে যে, দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে...তাদের ফোনালাপ শোনা হচ্ছে না; তাদের বার্তা আদান-প্রদানের ওপরে নজরদারি করা হচ্ছে না, তাদের ই-মেইল পড়া হচ্ছে না।’ দুই গোপন কর্মসূচির নথিপত্র দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কাছে ফাঁস করা এনএসএর সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের সোমবারের এক অনলাইন মন্তব্যের পর ওবামা এসব কথা বললেন। স্নোডেন অভিযোগ করেছেন, এই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ কর্মসূচির সফলতার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা এবং ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অতিরঞ্জিত দাবি উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ২০০৯ সালে নিউইয়র্কে নাজিবুল্লাহ নাজি নামের একজন সম্ভাব্য বোমা হামলাকারীকে গ্রেপ্তার। স্নোডেনের মতে, নাজিকে অন্য উপায়েও গ্রেপ্তার করা যেত। ওবামাও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা হয়তো তাঁকে (নাজি) অন্য উপায়েও গ্রেপ্তার করতে পারতাম। তবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সম্ভাব্য বিপর্যয় প্রতিরোধের সুযোগকে বাড়িয়েছি।’ আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ওবামা বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি একটি বৈধ অস্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যাঁদের সম্পর্ক নেই, তাঁরা সম্পূর্ণভাবেই এর আওতামুক্ত। এএফপি।

দূর দেশ সেনাবাহিনীর ওপর ভর করছে তুর্কি সরকার? by আলী রীয়াজ

তুরস্কে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলন দমাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, এমনকি দরকার হলে বিমানবাহিনী ব্যবহার করা হবে।

আয়োজন গরমে ঠান্ডার উৎসব

ঈগলুর কোন ফ্লেভারটা আপনার বেশি পছন্দ? ম্যাঙ্গো ইওগার্ট, হ্যাজেলনাট চকলেট, ক্যারাবিয়ান কোকোনাট নাকি পিনাট বাটার ক্রিম? এমন অনেক রকমের, অনেক স্বাদের আইসক্রিম একবারে চেখে দেখতে পারেন হোটেল রূপসী বাংলার লবিতে।

এক সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনা

চারটি ব্যান্ডদল নির্ঝর, পরিধি, সিন অব কার্নেগি ও ভেনোমাস। তরুণেরাই যেন এই চার দলের প্রাণ। দলগুলোর শিল্পীরাও এ প্রজন্মেরই তরুণ। ১৬ জুন ধানমন্ডির দ্য স্টেজ মিউজিক ক্যাফেতে গ্রীষ্মকালীন এক কনসার্টে তরুণদের মাতিয়ে তোলেন চারটি ব্যান্ডের সদস্যরা।

কর্মক্ষেত্র কাজটা তো আমিই করলাম! by মো. সাইফুল্লাহ

কাজ করলাম সবাই মিলে, কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গিয়ে কৃতিত্ব নিলেন একজনই। মন ভেঙে গেল দলের...

একটা দলের সবাই কাজ করছে আর একজন আয়েশ করে বসে আছে।

স্টাইল ফ্যাশনে চিরসবুজ আফজাল হোসেন by হাসান ইমাম

অভিনেতা আফজাল। চিত্রশিল্পী আফজাল। নির্মাতা আফজাল। পরিচয় তাঁর অনেক। তবে, সবচেয়ে বড় পরিচয় ফ্যাশন সচেতন এই মানুষটির বয়স বাড়ে না। এখনো সবুজ।

ক্ষমতায়ন: স্যালি ফিটজগিবনস সার্ফিংয়ে সেরা

সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে এগিয়ে যাওয়ার খেলা। নাম সার্ফিং। এই খেলায় সেরাদের তালিকায় আছেন স্যালি ফিটজিগবনস। ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া স্যালি তরুণ বয়সেই বিশ্বসেরা সার্ফারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা টিকফা চুক্তিতে বাংলাদেশই লাভবান হবে by গোলাম মোহাম্মদ কাদের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো (টিকফা) চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল গত সোমবার। বহু বছর ধরে ঝুলে থাকার পর শেষমেশ একরকম সুরাহা হওয়াটা অবশ্যই স্বস্তির। তবে আমি আজও বুঝতে পারি না, এটি কেন এত বছর ঝুলে ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছুই নেই। আছে যা, তা হলো উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা। সম্ভাব্য চুক্তির খসড়াটি এতটাই সাদামাটা ও নিরীহ গোছের যে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা একবারেই অবান্তর। খসড়া তো আগলে রাখা হয়নি, গোপন করেও রাখা হয়নি। অন্তত এবার চুক্তির খসড়ায় কী আছে, চাইলেই যে কেউ দেখতে পারেন। মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে এর সার্বিক দিক নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আলোচনা হয়েছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও।
এটা ঠিক, ২২ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, তার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে দর-কষাকষি ও আলোচনার জন্য আদতেই আনুষ্ঠানিক কোনো ফোরাম বা প্ল্যাটফর্ম নেই। এযাবৎ ৯২টি দেশ ও আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভুটান ও বাংলাদেশই শুধু এখনো বাকি।
টিকফার আগে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি (টিফা) করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছিল ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন একটি খসড়াও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আর চুক্তি হয়নি। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের মার্চে আলোচনা উঠেও আবার থেমে যায়। শেষমেশ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন। এর পর থেকেই বিষয়টি এগোতে থাকে।
আমার প্রশ্ন হলো, মন্ত্রিসভায় সদ্য পাস হওয়া খসড়ায় যা আছে, ১০ বছর আগের খসড়ায়ও তা-ই ছিল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় একই ধরনের কাঠামো তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন ধরনের কোনো ভাষা বা শর্ত নেই। এর পরও এ নিয়ে সমালোচনার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না।
টিকফা কী এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হচ্ছে, একটু তলিয়ে দেখলেই এর উত্তর পাওয়া যাবে। উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ়, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই টিকফা হচ্ছে। বিশ্বের কোনো দেশের সঙ্গেই তা করতে তো বাধা থাকার কথা নয়, নেইও। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাধা থাকবে কেন।
এখন দেখা যাক খসড়ায় কী আছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উভয় দেশের মধ্যে একটি উদার ও অনুধাবনযোগ্য পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এর ফলে সম্প্রসারিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হবে এবং এ থেকে লাভবান হবে উভয় দেশ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে বর্তমানে যেসব প্রতিবন্ধকতা এবং রক্ষণশীল উপাদান রয়েছে, সেগুলো কমিয়ে আনা হবে—এ কথাও বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে উভয় পক্ষই জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের প্রতি আনুগত্য দেখাবে। বিশেষ করে কনভেনশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগসম্পর্কিত ধারাগুলো অনুসরণ করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। দেশীয় ও বৈদেশিক উভয় ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।
এ ছাড়া উভয় পক্ষের সেবা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূলনীতি অনুসরণ করে উভয় দেশেরই শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন করা এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পরিবেশ আইন মেনে চলার কথাও বলা আছে এ খসড়া চুক্তিতে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই এগুলোর স্বীকৃতি দিয়েছে। এরপর কী হবে? টিকফা নামে একটি ফোরাম গঠিত হবে। বছরে কমপক্ষে একবার বৈঠক করবে এ ফোরাম। বাংলাদেশের পক্ষে এতে প্রতিনিধিত্ব করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)।
এ ফোরাম উভয় পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিত করবে। এ ছাড়া উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করবে এ ফোরাম। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলে সেগুলো অপসারণেও পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের পরামর্শও চাইবে এ ফোরাম। অর্থাৎ সরকারের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়েও এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এক দেশ আরেক দেশকে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে যেকোনো সময়। অর্থাৎ যে পক্ষ চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেবে, সেই পক্ষ যদি তা প্রত্যাহার না করে নেয়, তাহলে ১৮০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
একসময় আমারও সন্দেহ ছিল আগের টিফা নিয়ে। কী সর্বনাশই না হয়ে যায়! টিফার বদলেই তো টিকফা হয়েছে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে দেখেছি এর খসড়া। আমি অসংগতি বা আপত্তির কিছু দেখিনি। বারবার পড়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা করে দেখেছেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও দেখেছেন। দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু নেই এ চুক্তিতে। সবকিছু দেখেশুনেই চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল।
আসলে আমি যেটা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ভালো চায়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, বাঙালি কর্মঠ ও দক্ষ জাতি। দেশটি আমাদের সাহায্য করতে চায়। আমরা না বুঝে অনেক বিরোধিতা করলেও এ ব্যাপারে তারা যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। ধন্যবাদ জানাই যুক্তরাষ্ট্রকে। আমরা যেভাবে চেয়েছি, অনেক ছাড় দিয়েও তারা সেভাবেই রাজি হয়েছে।
এ দেশের অনেকেই বিরোধিতা করছেন টিকফা নিয়ে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের দিনই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বলেছে, টিকফা হলে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের করায়ত্তে চলে যাবে। আমি তাদের দোষারোপ করছি না। তাদের দেশপ্রেম নিয়েও আমার সন্দেহ নেই। হয়তো দেশের প্রতি মায়া ও দরদ থেকেই তারা এ অনুভূতি প্রকাশ করছে।
আমার ধারণা, তারা হয়তো চুক্তির খসড়া না পড়েই এ ধরনের কথা বলছে। আমি তাদের চুক্তিটি ভালো করে পড়ার অনুরোধ জানাব। আসল কথা হলো, টিকফার খসড়াটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সহজ, সুন্দর ও জটিলতাহীন চুক্তি হবে এবং যা থেকে মূলত বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের: বাণিজ্যমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

সপ্তাহের হালচাল আওয়ামী লীগ হারিয়া প্রমাণ করিল by আব্দুল কাইয়ুম

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এখন আওয়ামী লীগ এই বলে বুঝ দিচ্ছে যে এটা তাদের জন্য শাপে বর হয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ ছোটগল্পে কাদম্বিনী ‘মরিয়া প্রমাণ’ করেছিল যে সে মরে নাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অকার্যকর এক যুগ by শরিফুল হাসান ও মাহবুব আলম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যুগ ধরে সিনেটের কোনো অধিবেশন বসেনি। দল-মনোনীত উপাচার্যরাই ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৪ সদস্যের একটি সিনেট কমিটি থাকার কথা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার গোলাম আযমের রায়ের জন্য আর কত অপেক্ষা

বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার দুই মাস পার হলেও গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়নি। রায়টি অপেক্ষমাণ আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।

পদ্মা সেতু প্রকল্প: বিশ্বব্যাংকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ দুদকের তদন্ত সঠিক ও সম্পূর্ণ হয়নি

বিশ্বব্যাংকের মূল আপত্তি কেবল একটি মানুষ নিয়ে। সংস্থাটি বলেছে, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেনি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-পৃথিবী বদলায় সূর্যের কারণে

সূর্য থেকে শক্তি পৃথিবীতে আসে, তা খুবই দরকারি। এই সূর্যই নিয়মিত পৃথিবীর পৃষ্ঠ, নদী এবং এর বায়ুমণ্ডলকে তার রশ্মি দিয়ে উত্তপ্ত করে চলেছে। আর বায়ুমণ্ডলের শক্তির কারণেই পৃথিবীপৃষ্ঠের আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে।

ভালো থাকুন-ক্ষতিকর মাদক ইয়াবা

বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের নেশার অন্যতম উপকরণ ইয়াবা। ইয়াবার আনন্দ আর উত্তেজনা আসক্তদের সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয় জীবনের সব যন্ত্রণা। কিন্তু এই মাদক যে তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে তা টের পাওয়ারও অবকাশ সে সময় তাদের থাকে না।

ব্যক্তিত্ব-উইলিয়াম গোল্ডিং

১৯৫৩ সালে উইলিয়াম গোল্ডিং একটি পাণ্ডুলিপি পাঠালেন লন্ডনের ফেবার অ্যান্ড ফেবারে। প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে ফেরত দেওয়া হলো। পরে বলা হলো কাটছাঁট করে আবার জমা দিতে। তাই করা হলো। উপন্যাসটি লর্ড অব দ্য ফ্লাইজ নামে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৩ সালে।

পবিত্র কোরআনের আলো-আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে অভিনব কৌশল

৬৩. ফালাম্মা- রাজা'ঊ- ইলা- আবীহিম কা-লূ য়া-আবা-না- মুনি'আ মিন্নালকাইলু ফাআরসিল মা'আনা- আখা-না- নাকতাল ওয়া ইন্না- লাহূ লাহা-ফিযূন। ৬৪. কা-লা হাল আ-মানুকুম 'আলাইহি ইল্লা- কামা- আমিনতুকুম 'আলা- আখীহি মিন কাবলু, ফাল্লা-হু খাইরুন হা-ফিযাঁও ওয়া হুয়া আরহামুর রা-হিমীন।

'ভোটারদের উন্নয়ন বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল'

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সরকারের ব্যাপক উন্নয়নকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী।

আতিকুল হক চৌধুরীর অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার-কতটা দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি জানি না

চলে গেলেন খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী। 'দূরবীন দিয়ে দেখুন', 'নীলনকশার সন্ধানে', 'সুখের উপমা', 'বাবার কলম কোথায়'সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকের এই কুশলী নির্মাতার প্রয়াণে দেশের নাট্যজগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

জনপ্রতিনিধির আমলনামা!নির্বাচিতদের অভিযোগমুক্ত হতে হবে

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিজয়ী শিবির উৎফুল্ল। হতাশ বিজিত পক্ষ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সিটি করপোরেশনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই রাজনৈতিক পরিচয় আছে।

টিকফা চুক্তি অনুমোদন-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে এগিয়ে নিক

প্রায় এক যুগ ধরে অনেক আলাপ-আলোচনা, অনেক দেন-দরবারের পর অবশেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে টিকফা চুক্তি তথা ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট।

করুণাধারায় এসো by মমতাজউদদীন আহমদ

একটানা বহু দিন বিদেশ ছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র একটা বিরাট দেশ। আমাদের বাংলাদেশের চেয়ে ৫০ গুণ বড়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে গরম নেই। আছে, তবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য। বাকি সময়টা শীত আর শীত। বসন্তকালে না শীত, না গরম।

অনলাইন থেকে-অ্যাসাঞ্জের ভাগ্যে কী ঘটবে

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আপাতত লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসেই দিন কাটাতে হবে। কারণ সোমবার ব্রিটেন ও ইকুয়েডরের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে নিয়ে সৃষ্ট অবস্থার মেঘ কাটেনি। কোনো সামাধানেও আসা যায়নি।

অলৌকিক ঘটনা, বুজরুকি ও হুজুগ by ওয়াহিদ নবি

মানুষের ক্ষমতা নেই যেসব ঘটনা ঘটাতে বা যে ঘটনাগুলো প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম মেনে চলে না, সেই ঘটনাগুলোকে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়। এ ছাড়া কিছু ঘটনা ঘটে, যেগুলো কদাচিৎ ঘটে না, সেগুলোকেও অলৌকিক ঘটনা বলে কখনো কখনো বর্ণর্না করা হয়।

সময়ের প্রতিধ্বনি-সিটি নির্বাচন, আওয়ামী লীগের ভরাডুবি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইস্যু by মোস্তফা কামাল

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। রাজশাহীতে সদ্যবিদায়ী মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।