Thursday, December 11, 2014
মালালা ও কৈলাসের নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ

মেয়ে শিশুদের শিক্ষা প্রচার, প্রসার ও তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কর্মী পাকিস্তানে কিশোরী মালাল ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী। সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জনকারী মালালা এরই মধ্যে বহু বিরল সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৫ বছর বয়সে পকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় মামালার মাথায় গুলি করে তালেবানরা। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর অবস্থায় তাকে ইংল্যান্ডে নেয়া হয়। বার্মিংহামের একটি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন মালালা। কৈলাসও শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে জীবনের হুমকি পেয়েছেন। তার দুই সহকর্মী খুনও হয়েছে। নোবেল পুরস্কার নেয়ার পর কৈলাস বলেন, এ পুরস্কার শিশু দাসত্বের বিরুদ্ধে আরও কাজ করার জন্য বিরাট একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি। মালালা এবং কৈলাস দুজনকেই যৌথভাবে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেবেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন মালালার : যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে পাকিস্তানে ফিরে জোর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই (১৭)। তিনি একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন- এমন স্বপ্নও রয়েছে তার। বুধবার নোবেল পুরস্কার গ্রহণের আগে হার্ডটক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক স্টিফেন সাকুরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান মালালা।
নারী শিক্ষার প্রসারে সচেতনতা ক্যাম্পেইন করার দায়ে ২০১২ সালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মালালার মাথায় গুলি করে পাকিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা। এরপর বিশ্বে আলোচনার মধ্যমণিতে আসেন মালালা। সাক্ষাৎকারে মালালা বলেন, ‘আমি আমার দেশকে পরিচালনা করতে চাই। দেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করার স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। আমি প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত হিসেবে দেখতে চাই।’ ২০০৭ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত বেনজির ভুট্টো (যিনি পাকিস্তানের দু’বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন) তাকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মালালা বলেন, ‘যদি আমি সবচেয়ে ভালো রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে পরিচালনা করতে পারি এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে বেনজির ভুট্টোর আদর্শকেই বেছে নেব।’ নোবেল পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে বড় সম্মানের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিশোরী মালালা বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল শিশুদের স্কুলে যেতে দেখার এবং শিক্ষার প্রতি সচেতনতা সমাবেশে অংশ নেয়ার। নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় সেই দায়িত্বটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাকে আরও বেশি আশা, উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছে। আগের চেয়ে আমি বেশি শক্তিশালী মনে করি, কারণ এখন আমার সঙ্গে অনেক লোক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে আমাদের প্রচুর দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু আমার নিজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যটা একটু বেশি। কারণ, আমার দেশ ও সম্প্রদায়কে উন্নতি করতে আমাকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে, যা কঠিন ও বিশাল একটি দায়িত্ব।’
আজ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন মালালা। সূত্র : বিবিসি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গানম্যান নিয়ে চলেন চট্টগ্রামের যুবলীগ ক্যাডার বাবর

হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নিজে সরাসরি গানম্যান নিয়ে চলাফেরা করার কথা স্বীকার না করলেও বুধবার বিকালে যুগান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। জামায়াত-শিবির সব সময় আমাকে টার্গেটে রাখে। তারা যেভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায়, কলেজ ও রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে চায়, খুন-রাহাজানি করে তাতে প্রতিপক্ষ হিসেবে আমি তাদের টার্গেট। কে না চায় তার জীবনটা বাঁচাতে। নিরাপদ রাখতে। আমিও নিজের জীবনটা নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছি। কোনো গানম্যান-টানম্যান নয়। কয়েকজন ভাই-ব্রাদার আছে যারা আমাকে তাদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। পাহারা দিয়ে রাখে।’ বাবর আরও বলেন, আমাকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হয়’ কিন্তু আমার হাতে কোনো রক্তের দাগ নেই। যেসব মামলা আমার বিরুদ্ধে ছিল তা রাজনৈতিক। ওই মামলাগুলো থেকে আমি একে একে খালাস পাচ্ছি। সর্বশেষ রেলওয়েতে টেন্ডার নিয়ে যে ডাবল মার্ডার হয়েছে ওই ঘটনার সঙ্গেও আমি জড়িত না। তাছাড়া ওই ঘটনার পর আমি একবারের জন্যও সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) যাইনি। যারা আমার প্রতিপক্ষ তারাই আমার বিরুদ্ধে রেলের টেন্ডার নিয়ন্ত্রক হিসেবে অপপ্রচার চালায়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এমইএস কলেজ ভিত্তিক ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। তিনি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বাবর ছাত্রলীগের গ্র“প-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাউজানের আকবর-মুরাদ হত্যা মামলা, বিএনপি নেতা ফরিদ হত্যা মামলা, বিএনপি কর্মী আজাদ হত্যা মামলা এবং সর্বশেষ রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে সংঘটিত ডাবল মার্ডার মামলা ছাড়াও এক ডজনেরও বেশি মামলা ছিল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হেলাল আকবর বাবর ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ওই সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার ও ক্রসফায়ার এড়াতে বাবর পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। সেখানে গড়ে তোলেন হোটেল ব্যবসা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর আবারও দেশে ফেরেন। এক পর্যায়ে থাইল্যান্ডের ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দেশে ব্যবসা শুরু করেন। শুরু করেন বেনামে ঠিকাদারি। সূত্র জানায়, বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। দেড় কোটি টাকার একটি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ জুন দুপুরে সিআরবি এলাকায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই গ্র“পে গোলাগুলি হয়। এতে আরমান নামে এক শিশু ও সাজু পালিত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শামীমের নেতৃত্বাধীন একটি গ্র“পের সঙ্গে ওই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহত সাজুর মায়ের দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় হেলাল আকবর বাবরকে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ এ মামলায় ঢাকা থেকে বাবরকে গ্রেফতার করে। ডাবল মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হওয়ার পর যুবলীগের সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয় বাবরকে। এর কয়েক মাস পরেই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন। জামিনে ছাড়া পেয়েই এবার তিনি অন্য বাবর রূপে আভির্ভূত হন। আগে প্রাইভেট কার চালালেও এবার নেন একটি কালো রঙের প্রাডো জিপ। নিয়োগ করেন অস্ত্রধারী দু’জন বেসরকারি সিকিউরিটি বা গানম্যান। সিকিউরিটি কোম্পানির দুই গানম্যান ছাড়াও আনোয়ার হোসেনসহ আরও দু’জন তার সঙ্গে ‘লাইসেন্সধারী’ অস্ত্র নিয়ে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকেন।
সরকারি বা বেরসকারি সিকিউরিটি বা গানম্যান পাওয়ার যোগ্য কে এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক পিপি তথা দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত মন্ত্রী-এমপি তথা ভিআইপি-সিআইপিদের সরকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গানম্যান দিয়ে থাকে। এছাড়া কেউ যদি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নেন সে ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন বা থানার সুপারিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেসরকারি সিকিউরিটি বা গানম্যান সরবরাহ করে থাকে।
তবে যুবলীগ ক্যাডার হেলাল আকবর বাবর বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকে গানম্যান নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করলেও কোতোয়ালি থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, হেলাল আকবর বাবরকে গানম্যান প্রদান করার সুপারিশ সংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট তার থানা থেকে পাঠানো হয়নি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছড়িয়ে পড়ছে ফার্নেস অয়েল

এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে বনবিভাগ। এ ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে এ ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা বেলাল হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) ট্যাংকারটি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়নি। যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো, বাগেরহাট, মংলা ও শরণখোলা প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
খুলনা ব্যুরো : খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন দৈনিক যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা সমন্বয়ে যৌথভাবে ঘটনাস্থল পর্যাবেক্ষণ (সুপরভিশন) করেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। তেল যাতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য নৌবাহিনী প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নদীতে ভাসমান শোলা দিয়ে তেল আটকিয়ে দিয়েছে। নদী থেকে তেল শুষে নেয়ার পদক্ষেপও নেয়া হবে। তবে নদীতে জোয়ারের কারণে তেল সুন্দরবনের ল্যান্ডে উঠে পড়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় নদীতে ও নদী তীরবর্তী ভূমিতে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যের ওপর সুদূরপ্রসারী মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে এবং এ অঞ্চলের নদ-নদীর জলজ প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। জোয়ার-ভাটার কারণে এই তেল সুন্দরবন ছাড়িয়ে খুলনা শহর পর্যন্ত বিস্তার ঘটবে। ইতিমধ্যে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রকিবুর রহমান, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাগেরহাট : বনের ভেতর বেশ কয়েকবার সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কিংকারসহ ছোটবড় বেশ কয়েকটি নৌ দুর্ঘটনা ঘটলেও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনা এটাই প্রথম।
এদিকে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় ১০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতির আশংকার কথা উল্লেখ করে বুধবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মংলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মংলা থানায় দায়ের করা এ মামলায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ডুবে যাওয়া অয়েল ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ এর মালিকপক্ষকে আসামি করা হয়েছে।
ট্যাংকারে থাকা ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছে সুন্দরবনের নদ-নদীতে। জরুরি অবস্থায়ও নদী থেকে ভাসমান তেল শোধনের ব্যবস্থা না থাকায় সুন্দরবনের প্রাণিকুলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে বনবিভাগ। একই আশংকা প্রকাশ করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরাও। তাদের মতে সুন্দরবনের নদীতে ভাসমান তেল সেখানকার উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর জন্য বেশ ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারের পাশেই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ডলফিনের জন্য ৩টি অভয়াশ্রম এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। শ্যালা নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীতে ভাসমান তেল ছড়িয়ে পড়ার পর ১৫-২০ মিনিট পর পর পানির উপরিঅংশে জেগে ওঠা ডলফিনদের আর দেখা মিলছে না।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট মাজেদা বেগম কৃষি ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান অধ্যক্ষ এবং সরকারি পিসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উদ্ভিদবিদ প্রফেসর শেখ বুলবুল কবির বলেন, সুন্দরবনের ব্যাপক এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ায় (ডিও) পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়ায় ডলফিনসহ অন্য প্রাণিকুল ক্ষতিতে পড়বে।
এদিকে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় পানি দূষণ রোধে বিশেষ পাউডার ছিটানোর কথা জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিশেষ এ পাউডার নদীর পানিতে ভাসমান তেলকে নিচের দিকে তলিয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং অক্সিজেন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। চট্টগ্রাম থেকে কাণ্ডারি-১০ নামের এই জাহাজ থেকে তৈলাক্ত পানির ওপর দূর থেকে এক ধরনের পাউডার ছিটানো হবে বলে মন্ত্রী জানান।
এদিকে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটিতে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, স্টেশন কর্মকর্তা আবুল কালাম, ঢাংমারী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রলব চন্দ্র রায়কে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
শরণখোলা : ডুবন্ত ট্যাংকার থেকে বেড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগামারী, জয়মনি, আন্দারমানিক, নন্দবালা, হাড়বাড়িয়া, চাঁদপাই, শরণখোলা রেঞ্জের তাম্বুলবুনিয়া, হরিনটানাসহ বিস্তীর্ণ নদ-নদী ও খালে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলে-বাওয়ালী ও লোকালয়ের লোকজন যে যেভাবে পারছে তারা ড্রাম নিয়ে শ্যালা নদী থেকে তেল সংগ্রহ করছে। ট্যাংকারের মালিক আমির হোসেন ফরিদ ঘটনাস্থল থেকে বিকাল সাড়ে তিনটায় মোবাইল ফোনে জানান, নিখোঁজ মাস্টার মোখলেছুর রহমানকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি উদ্ধারে দুটি ট্যাংকার জাহাজ আনা হয়েছে। তাছাড়া, নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ আনার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব কাজে বনবিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ অন্যদের সহযোগিতা তিনি পাচ্ছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, ১১৯ ফুট দীর্ঘ, ২৪ ফুট প্রস্থ ও চারশ’ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকারে ৬টি তেলের চেম্বার রয়েছে। এর প্রত্যেকটি থেকে এখন তেল বেরোচ্ছে। মংলা নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ট্যাংকারটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য তাদের জাহাজ বিএনএস শাহ্ পরান দুপুর ১২টায় মংলা থেকে ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্নেস অয়েল বনজ ও জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে ক্ষতি হবে, তা পূরণ হওয়ার নয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. আইয়াজ হোসেন চিশতি এ প্রসঙ্গে বলেন, সুন্দরবন শুধু ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নয়। জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্রও বটে। এ ঘটনায় মাছ, কুমির, সাপ ও ডলফিনসহ সব প্রকার জলজ প্রাণীর যে ক্ষতি সাধন হবে, তা পূরণ হওয়ার নয়। ফরেস্টি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মাহামুদ হোসেন বলেন, যেহেতু তেলগুলো রিফাইন তেল। এতে ক্ষতি হয় বেশি। তবে, ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করছে ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপকতার উপর। জোয়ার-ভাটায় এর বিস্তৃতি ঘটে বেশি। এভাবে বিস্তৃতি হয়ে বনের মাটির সঙ্গে গিয়ে এ তেল মিশে যায়। এতে গাছের শ্বাসমূলে তেলের আস্তরণ পড়ে। তাতে বনজ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, এ ফার্নেস অয়েলে পানিতে অক্সিজেন কমিয়ে দেবে এবং মাছসহ জলজ প্রাণী অক্সিজেন সংকটে ভুগবে। গাছপালার শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হবে। এতে মারা যেতে পারে গাছপালা ও জলজ প্রাণী। এক কথায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।
মংলা : নৌবাহিনীর জাহাজে ডুবুরি থাকলেও তেল সরানোর মতো আধুনিক সরঞ্জাম নেই বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। জাহাজটির নিখোঁজ মাস্টার মোখলেছুরের কোনে সন্ধান বুধবার সকাল পর্যন্ত পাননি উদ্ধারকারীরা। ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ‘টোটাল’ নামে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাউদার্ন স্টারের একপাশের খোল ফেটে যায় এবং সেটি ডুবতে শুরু করে। ট্যাংকারটির ৬টি হাউসে থাকা প্রায় সব ফার্নেস অয়েল বেরিয়ে সুন্দরবনের শ্যালা নদীর কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বলে বন কর্মকর্তারা জানান।
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার টানে এলাকা জুড়ে ভাসছে জ্বালানি তেল। জোয়ার-ভাটার টানে ভাসমান তেলের বিস্তার ঘটছে ক্রমেই। অর্ধ ডুবন্ত ট্যাংক উদ্ধার ও নিখোঁজ মাস্টারের উদ্ধারে বিরতিহীনভাবে স্থানীয় ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ অভিযান চলছে। ডুবে যাওয়া কার্গো মালিক পক্ষের দাবি এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতিপূরণ দাবি করে মংলা থানায় মামলা হয়েছে। ট্যাংকার মালিক গ্র“পের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এ দিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ মাছ ও জলজ প্রাণীর অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা বনবিভাগের। সম্ভাব্য একশ’ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উল্লেখ করে মঙ্গলবার রাতে মংলা থানায় মামলা করেছে বনবিভাগ।
এ দিকে বুধবার সকালে ডুবন্ত ট্যাংকারটি উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী নৌযান ‘প্রত্যয়’ এবং বরিশাল থেকে ‘নির্ভীক’ দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে এ দিন বিকাল নাগাদ উদ্ধারকারী নৌযান দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক আশরাফ হোসেন জানান, উদ্ধারকারী ওই নৌযান দুটি পৌঁছলে প্রাথমিক সার্ভে এবং উদ্ধার কাজ শুরু হবে। তবে উদ্ধার কাজ শেষ করতে সম্ভাব্য কত দিন লাগবে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষোভ ও অসন্তোষ সংসদীয় কমিটির
বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন সদস্যরা। এছাড়া অর্থ পাচার রোধ এবং বীমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বৈঠকে। কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, কমিটির বেশির ভাগ সদস্য বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার অতিরিক্ত হওয়ায় দেশে বিনিয়োগ থমকে আছে। অনেকের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত সুদের কারণে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ মুহূর্তে ব্যাংক সুদের হার কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তারা।
কমিটির একজন সদস্য জানান, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বৈঠকে বলেন, ব্যাংক ঋণ নিতে গেলেই ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বিনিয়োগ হবে না। শিল্প-কলকারখানা হবে না। কর্মসংস্থান হবে না। তিনি বলেন, একটি-দুটি শাখা নিয়ে একটি ব্যাংক চালু করতে না করতেই, ব্যাঙের ছাতার মতো আরও শাখা গজিয়ে যায়। বছর শেষে দেখা যায় তাদের কোটি কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এসব টাকা আসে কোত্থেকে? ব্যাংকগুলোর হাতে কি আলাদিনের চেরাগ আছে?
বৈঠকে ড. আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। কমিটির আগের বৈঠকেও এ বিষয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি দুঃখজনক। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমনকি গভর্নর পর্যন্ত উপস্থিত নেই। তাহলে কমিটির বৈঠক করে লাভ কি? ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি নিজেও মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম না- এমন একটি নজিরও নেই।’
ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সফলতা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। আগে রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিনিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত ছিল। এখন ব্যাংক ঋণের সুদের উচ্চ হার বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রতিবন্ধকতা অবশ্যই দূর করতে হবে। কমিটির সদস্যরা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, যে কোনো মূল্যে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।
বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা ছাড়াও অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং), বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উপায় খুঁজে বের করার পাশাপাশি অর্থ পাচার রোধ এবং বীমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। টিপু মুন্শিকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির বাকি দু’জন হলেন- মো. শওকত চৌধুরী ও ফরহাদ হোসেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সভাপতিসহ বাকি সদস্যরা। কমিটির সভাপতি বলেন, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পর এই বৈঠক। অর্থমন্ত্রী নিজে সময় দিয়েছেন। অথচ তিনি নেই। মন্ত্রী কেবিনেটের বৈঠক, একনেকের বৈঠকসহ অন্যসব বৈঠকে থাকেন। শুধু কমিটির বৈঠকে থাকেন না। দু’একটি বৈঠকে যাও ছিলেন তাও চলে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করেছেন। অথচ কমিটির বৈঠকে তার উপস্থিতি খুবই জরুরি। এতে জবাবদিহিতার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি আরও বাড়ে।
কমিটির সদস্যরা এ বক্তব্য সমর্থন করেন। কমিটির সদস্য টিপু মুন্শি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রলালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। কমিটির সদস্য শওকত চৌধুরী তার এ বক্তব্য সমর্থন করে বলেন. তারা আগের বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেন। এরপর প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় চলে গেল। এই সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই। কেন নেই? তার জবাব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ দিতে পারবেন না। তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকলে ভালো হতো।
পরে কমিটির সদস্যরা আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিসহ নির্ধারিত আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুপারিশের বিষয়টি টেনে এনে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা সুপারিশ করব। মন্ত্রণালয় আমলে নেবে না। তাহলে সুপারিশ করে লাভ কি’? তিনি এ সময় টেবিল চাপড়িয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই’।
বৈঠকে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি কে কোথায় কত টাকা পাচার করেছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের নামে কারা অর্থ পাঠিয়েছে তারও একটি পৃথক তালিকা তৈরি করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কি পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তার সঠিক হিসাব সরকারের হাতে নেই। তার এ বক্তব্য নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের এত তৎপরতার পরও মানি লন্ডারিং কেন রোধ করা যাচ্ছে না বুঝি না’। তিনি বলেন, ‘কে কোথায় কত টাকা পাচার করেছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সংসদীয় কমিটিকে জানাতে হবে। সরকারের কাছে তালিকা থাকবে না, তা হতে পারে না। ড. আবদুর রাজ্জাক এ সময় মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের নামে কতজন অর্থ পাচার করেছেন তারও একটি পৃথক তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দেন। মানি লন্ডারিং বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে কি পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে তার কোনো হিসাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্স সেল। এ নিয়ে কমিটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে তারা ঘুমাচ্ছে।
বৈঠকে বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি বীমা খাতকে সব ধরনের নেতিবাচক ধারণা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দ্রুত ‘ক্লেইম সেটেলমেন্ট’ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়। এছাড়াও বীমা খাতে বিদ্যমান বীমা এজেন্টদের কমিশনের হার কমানোর সুপারিশ করে কমিটি। এ প্রসঙ্গে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোতে চলে কমিশন বাণিজ্য। এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার, ইনস্যুরেন্স এজেন্টরা। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ গ্রাহক। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই আমরা বলেছি, ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম কমাতে হবে। এছাড়া কমিশন প্রথা তুলে দিতে হবে।
এছাড়াও বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোতে সঠিকভাবে অর্থায়ন নিশ্চিত করে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের জন্য বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংকগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান, টিপু মুন্শি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, মো. শওকত চৌধুরী এবং আখতার জাহান অংশ নেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রেলপথ বিচ্ছিন্ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করেন তারা

ফখরুল আলম আক্কাছ এদিন এ খেয়াঘাটের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের আধা ঘণ্টা আগে নৌকাযোগে নদী পার হয়ে তৎকালীন রায়পুরা থানার সররাবাদ গ্রামে তার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে তিনি জানান। ওই গ্রামে কয়েকদিন থাকার পর তিনি মে মাসের দিকে মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিতে পুনরায় ভারতে চলে যান।
দেড় মাস ট্রেনিং শেষে মুজিব বাহিনীর গ্রুপ কমান্ডার ভৈরবের ছাত্রনেতা ফয়সাল আলমের নেতৃত্বে তিনিসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা ভারত থেকে এদেশে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, ভারত থেকে অস্ত্রশস্ত্র কাঁধে নিয়ে রাতের বেলায় ভৈরব আসার পথে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুর এলাকায় পৌঁছলে পাকসেনারা বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। তারা পাল্টা গুলি ছুড়ে পালাতে সক্ষম হলেও ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধা আশুরঞ্জন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তিন বেলা খাবারসহ রাতে কোথায় কোন গ্রামে বা কার বাড়িতে ঘুমাবে তার কোনো ঠিক ছিল না। তিনি বলেন, কোনো কোনো দিন রাতে ঝোপজঙ্গলে বা খড়ের মধ্যে ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে।
এছাড়া তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে রামনগরে তিতাস গ্যাসলাইন ও সেতু ধ্বংস করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় বলে তিনি জানান। ভৈরবের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ধ্বংস করে পাকসেনাদের যোগাযোগ মাধ্যম অচল করেছেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতি তিনি এখনও করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই এদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। তার ডাকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।
এ বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভৈরব পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমপি রানাসহ ৪ জনকে গ্রেফতারে বাধা নেই
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এর ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের গ্রেফতারে বাধা নেই। ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এমপি আমানুর, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাঁকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পার পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়। আদালত রিটের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এ চার জনকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করার আদেশ দেন।
এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ নভেম্বর আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেন। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
গত বছরের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে ফারুকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত আগস্টে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে। তারা এমপি আমানুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
২৭ আগস্ট আনিসুল ইসলাম ও ৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ওই জবানবন্দিতে এমপি রানা ও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাঁকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। জবানবন্দির পরপরই আÍগোপনে চলে যান জাহিদুর ও সানিয়াত।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পরে সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশের ফলে সংসদ সদস্য আমানুর ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতারে কোনো আইনি বাধা রইল না।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
র্যাবের বিভাগীয় প্রতিবেদনে ২১ জনের নাম
বিভাগীয় তদন্ত শেষে বুধবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করে বিচারতি মো. রেজাউল হক ও বিচারতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ আগামী জানুয়ারি মাসে পরবর্তী আদেশের জন্য ধার্য করেছেন।
জড়িত অন্য যাদের নাম এ প্রতিবেদনে রয়েছে তারা হলেন- এসআই পুর্ণেন্দু বালা, এবি আরিফ হোসেন, নায়েক নাজিম, নায়েক দেলোয়ার, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক আলামিন, সিপাহী তৈয়ব, কনস্টেবল সিহাবুদ্দিন, কনস্টেবল আলামিন, হাবিলদার এমদাদ, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সৈনিক আসাদ, সার্জেন্ট এনামুল, এএসআই বজলু, হাবিলদার নাসির, সৈনিক তাজুল।
আদালত থেকে বের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম র্যাবের তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ঘটনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ অপহরণ থেকে শুরু করে লাশ নদীতে ডুবানো পর্যন্ত লে. ক. (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানী কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন জড়িত ছিলেন বলে এ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু লে. কমান্ডার (অব.) এএম রানা অপহরণ পর্যন্ত অংশ নিয়ে আংশিক জড়িত ছিলেন বলে এ তদন্তে প্রতীয়মান হয়। অন্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেছেন।
র্যাবের এ প্রতিবেদন তাদের অভ্যন্তরীণ উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ প্রতিবেদন কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। বিচারের ক্ষেত্রে ডিবি তাদের তদন্ত, চার্জশিট, যেভাবে আদালতে তুলবে, তার ভিত্তিতে বিচার হবে। আদালত র্যাবকে সংস্থাটির কারা জড়িত, উদ্ধারে গাফিলতি ছিল কিনা, এ বিষয়গুলো দেখে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন।
ঘটনা সম্পর্কে র্যাব সদরদফতর জানত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি এটা দাখিল করেছি, সদরদফতর জানতেন কিনা, সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ার পরই এটা বোঝা যাবে। পুরো প্রতিবেদন আমার পক্ষে পড়া সম্ভব হয়নি। র্যাব সদরদফতর জানত কিনা, সেটা দেখতে আদালতের নির্দেশনাও ছিল না।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত মন্তব্য করেছেন, এটা যেদিন চূড়ান্ত হল তারপরও কাগজে এসেছে, অনেকে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছে। আমি বলেছি, এটা তো তদন্ত সংস্থা না। প্রাথমিকভাবে যারা জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের নামই এখানে এসেছে। এর ভিত্তিতে বিচার হবে না। বিচার হবে ডিবির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
এক সাংবাদিক বলেন, সাত খুনের পর র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, র্যাব এ ঘটনায় জড়িত নয়। এখন এসে বলছে, এরা জড়িত। এ বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, র্যাবের সেই সময়ের বক্তব্য সম্পর্কে আমি অবগত নই।
২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহরণের শিকার হন। এরপর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী একটি মামলা করে। এ মামলায় আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে ছিল। নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র্যাবের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
পরে এক স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে ৫ মে হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চ সিআইডিকেও এ তদন্তের দায়িত্ব দেয়। বলা হয়, মূল তদন্ত ডিবিই করবে, সিআইডি করবে ছায়া তদন্ত। এছাড়া র্যাবের কোনো সদস্য জড়িত ছিল কিনা তার বিভাগীয় তদন্তের জন্য র্যাবকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার সার্বিক তদন্ত করতে বলা হয়। এ আদেশের পর নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে আসছিল সংস্থাগুলো।
২৪ নভেম্বর র্যাব তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। বুধবার প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতের অংশ আদালতকে পড়ে শোনান অ্যাটর্নি জেনারেল। প্রতিবেদন তুলে ধরে আটর্নি জেনারেল বলেন, সাত জনকে অপহরণের পর র্যাব সদরদফতর থেকে তাদের জীবিত উদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু র্যাব-১১-এর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থাকে।
এ অভিমত পড়ার পর আদালত বলেন, প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পরও পত্রিকায় দেখেছি ৫ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এগুলোর কি হবে? তাদের নামও এখানে নেই। প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ। কতখানি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছে তাও ভাববার বিষয়। আদালত আরও বলেন, র্যাবের প্রতি অধিকাংশ মানুষের আস্থা আছে। কারো কারো ক্ষোভও আছে।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না। শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ও তখনকার পরিস্থিতি এক নয়। হাইকোর্ট থেকে দুটি আদেশ না হলে মানুষ সাক্ষ্য দিতে আসত না। তখন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিল র্যাব জড়িত না। এরপর মানুষ সাক্ষ্য দিতে এসেছে। আদালত জানুয়ারি মাসে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে বলে জানান।
আগের প্রধানকে দিয়েই তদন্ত শেষ করার নির্দেশ : হাইকোর্টের আদেশে গঠিত নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনা তদন্ত কমিটির আগের প্রধান মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে দিয়েই তদন্ত শেষ করানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার কমিটির প্রধান হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল হাকিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আর আগের প্রধান মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে পদোন্নতি দিয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বুধবার শুনানিকালে আদালত বলেন, নিউজে দেখলাম তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠনের আগে আদালতকে জানানো উচিত ছিল। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তাকে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। আদালত বলেন, তাহলে নতুন চেয়ারম্যানকে তো প্রথম থেকেই শুরু করতে হবে। তাই আগে যিনি ছিলেন তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।
২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহরণের শিকার হন। এরপর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী একটি মামলা করেন। এ মামলায় আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে ছিল। নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র্যাবের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
পরে এক স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে ৫ মে হাইকোর্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার সার্বিক তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ৭ মে শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। এ কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে বেশ কয়েক দফায় অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে কমিটির পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে চার সপ্তাহের সময় চাওয়া হয়।
এ অবস্থায় কমিটির প্রধানকে পরিবর্তন করা হলেও আদালত আগের প্রধানকে দিয়ে তদন্ত শেষ করানোর আদেশ দিয়েছেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চাঁদার জন্য বাস আটকাল ছাত্রলীগ, ছাড়াল পুলিশ

কিন্তু এখন ছাত্রলীগের নেতারা প্রতি বাসের জন্য ৩০০ টাকা করে চাইছেন, উল্লেখ করে সিরাজুল হক বলেন, এই টাকা দিতে রাজি না হলে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁরা বাস চলতে দেবেন না। কিন্তু এর পরও বাস চালালে গতকাল বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতারা কলেজের সামনের রাস্তা থেকে একে একে আটটি বাস থামিয়ে সেগুলো কলেজের মাঠে ঢুকিয়ে রাখেন। এরপর বাসমালিকপক্ষ মিরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাসগুলো কলেজ থেকে বের করে আনার নির্দেশ দেন। এরপর দারুস সালাম থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এমরানুল কবির বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে বাসগুলো কলেজ থেকে ছাড়িয়ে আনেন।
এই ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ কোনো অভিযোগ না নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতা করার নির্দেশ দেয় বলে দাবি করেন সিরাজুল। তিনি বলেন, ‘তারা (পুলিশ) বলে, ছাত্রলীগের সঙ্গে ঝামেলা করে পারবেন না। আমরা এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’
সেপ্টেম্বর মাসে এইচ এম জাহিদ মাহমুদকে সভাপতি ও মজিবুর রহমান ওরফে অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের বাংলা কলেজের কমিটি গঠন করা হয়। চাঁদাবাজির এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জাহিদ মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। আজ দুপুরে তিনি প্রথম আলো কে বলেন, ‘আমরা তখন ক্যাম্পাসে ছিলাম না। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে আমরা জানতে পারি এই কোম্পানির কোন বাস নাকি কলেজের এক ছাত্রের মোটরসাইকেল ভেঙে দিয়েছিল। তাই ছাত্ররা ওই বাসগুলো কলেজে ঢুকিয়েছিল। কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসগুলো ছাড়ানোর ব্যবস্থা করি।’ কোন ছাত্রের মোটরাসাইকেল ভেঙেছিল, জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কোনো নাম বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছিলাম কলেজের ছাত্ররা কয়েকটি বাস আটকে রেখেছে। পরে পুলিশ গিয়ে বাসগুলো ছাড়িয়ে এনেছে।’ বাসের মালিকপক্ষ মামলা করতে চাইলেও মামলা নেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কেউ তো মামলা করতে আসেনি।’
পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপকমিশনার নিশারুল আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি থানাকে বলেছি চাঁদার মামলা নিতে। মামলা না নিলে কেন নেওয়া হলো না, সেটি আমি দেখব।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুদিন পর উদ্ধার হলো জাহাজ- ছড়িয়ে পড়া তেল ফোম দিয়ে তুলবে গ্রামবাসী

তেলের দূষণ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম থেকে আসা জাহাজ কান্ডারি-১০ ব্যবহার করা হবে কি না, জানতে চাইলে শামসুদ্দোহা বলেন, তেল সংগ্রহের কাজ আগামী তিন দিন পর্যন্ত চলবে। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। আলোচনা চলাকালে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, কান্ডারি কাজ করার আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়া দরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি রাসায়নিক ব্যবহারে বিরূপ প্রভাব পড়ে, তাহলে কী হবে? এ সময় শামসুদ্দোহা স্থানীয়ভাবে ফোমের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করার প্রস্তাব দেন। জাহাজটি যেখানে ডুবেছে সেই চ্যানেলের ছোট খালগুলো জাল দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরী।
সকাল ১০টার দিকে ডুবে যাওয়া তেলবাহী জাহাজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোং-এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন জানান, তিনটি কার্গো জাহাজ ও স্থানীয় ডুবুরিদের সহায়তায় দেশীয় পদ্ধতিতে ডুবন্ত জাহাজটিকে তাঁরা তীরের দিকে টেনে নেন।
গত মঙ্গলবার ভোরে ফার্নেস তেলবাহী ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ অপর একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশে আসতে পারে। গতকাল পর্যন্ত জাহাজটি উদ্ধার বা দূষণ নিয়ন্ত্রণে তেল অপসারণের তৎপরতা শুরু হয়নি। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা হয় কান্ডারি-১০ নামের একটি জাহাজ। সেটি পৌঁছানোর আগেই দেশীয় পদ্ধতিতে জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব হলো। তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকাটি সরকার ঘোষিত ডলফিনের অভয়ারণ্য। এ ছাড়া সুন্দরবন ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য এবং জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। জাতিসংঘের ওই দুই সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনের ভেতর এই এলাকা দিয়ে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। বন বিভাগ থেকে একাধিকবার এবং জাতিসংঘের জলাভূমিবিষয়ক সংস্থা রামসার কর্তৃপক্ষ, বিজ্ঞান-শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো থেকে নৌপথটি নিয়ে আপত্তি তুলে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন টেমেসিস গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধে সরকারের কাছে আবার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ধরনের বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চললে তা দীর্ঘ মেয়াদে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।
পলিন টেমেসিস বলেন, সুন্দরবনের যে এলাকাটিতে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, এটি বিশ্বের বিপদাপন্ন দুই প্রজাতি গাঙ্গেয় ও ইরাবতি ডলফিনের বিচরণক্ষেত্র। এ ছাড়া অনেক সমৃদ্ধ জলজ প্রাণী রয়েছে সেখানে। সুন্দরবন ইউনেসকো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। তাই সুন্দরবনের ভেতরে এই দুর্ঘটনায় জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সুন্দরবনের ভেতরে জাহাজডুবিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার সুন্দরবনের গুরুত্ব সম্পর্কে নির্লিপ্ত থেকে তার সুরক্ষার পরিবর্তে বনটির ভেতর দিয়ে বড় নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এই দুর্ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য যথেষ্ট যে, সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কতটা অরক্ষিত এবং এর নিকটবর্তী নদী দিয়ে তেল, কয়লা বা বিষাক্ত বর্জ্য পরিবহন কতটা বিপৎজনক হতে পারে।
এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌপথ এবং এর পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তার কিছুটা লক্ষণ এই দুর্ঘটনা থেকে দেখা গেল। সরকার এখনই যদি নৌপথ বন্ধ না করে এবং রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের পাশ থেকে সরিয়ে না নেয়, তাহলে আমরা সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাব তো বটেই, একসময় বনটিই ধ্বংস হয়ে যাবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপমানিত, ক্ষুব্ধ সাবিনা ইয়াসমীন by মনজুর কাদের

একজন শিল্পীকে কেবল ভালো গান গাইলেই চলে না, মানুষ হিসেবেও ভালো হতে হয়। এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অপেশাদার আচরণ ইমরানের বড় শিল্পী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বললেন, ‘একজন শিল্পীর জীবনে কমিটমেন্ট রক্ষা করাটা অনেক বেশি জরুরি।’
বিটিভির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের নিয়ে সাত দিনের অনুষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাবিনা ইয়াসমীনের এই অনুষ্ঠান। ৬ ডিসেম্বর সাবিনা ইয়াসমীনকে নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইমরান তাঁর সম্মতি জানিয়েছিলেন। কথা ছিল, সাবিনা ইয়াসমীনের একটি কালজয়ী দ্বৈত গানে কণ্ঠ দেবেন ঝিলিক ও ইমরান। ৯ তারিখ গানটি ধারণ করার তারিখও নির্ধারিত ছিল। যথাসময়ে ঝিলিক বিটিভির স্টুডিওতে হাজির হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ইমরান সেখানে উপস্থিত হননি।
সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, ‘ইমরানের এ আচরণ অপেশাদার। বিটিভির এই অনুষ্ঠানের জন্য আমিই ঝিলিক, কোনাল ও ইমরানের নাম প্রস্তাব করি। এর মধ্যে অসুস্থ সত্ত্বেও ঝিলিক ও কোনাল অনুষ্ঠানের কাজ খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছে। ইমরান অসুস্থতার কথা বললেও শুনেছি সে মোটেও অসুস্থ ছিল না।’
এদিকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি ইমরান। তিনি বলেন, ‘গানটি ধারণের দেড়-দুই ঘণ্টা আগে আমি বুঝতে পারি আমার কণ্ঠ গান গাওয়ার অবস্থায় নেই। আমি আমার অপারগতার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিই। আমি তাঁদের অন্য একজন শিল্পীকে খুঁজে নেওয়ারও অনুরোধ করি।’
প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে ইমরান অবশ্য প্রথমে গান ধারণের এক দিন আগে অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর অপারগতা প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। পরে আবার নিজে থেকেই ৯ ডিসেম্বরের কথা বলেন।
এদিকে সাবিনা ইয়াসমীনকে নিয়ে নির্মিত এ অনুষ্ঠানটির সমন্বয়কারী আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইমরান কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তার অপেশাদার আচরণের কথা অনেকের কাছ থেকেই শুনেছি। এবার নিজেই সেই আচরণের শিকার হলাম।’
এদিকে অনুষ্ঠানটির প্রযোজক মাহবুবা ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিটিভির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের নিয়ে আমরা সাত দিনের অনুষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। তারই অংশ হিসেবে সাবিনা ইয়াসমীনের এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ইমরান অংশগ্রহণের ব্যাপারে সম্মতি জানায়। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে অপারগতার কথা জানানোয় একজন গুণী শিল্পীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, পাশাপাশি বিষয়টি টেলিভিশনের জন্য দুঃখজনক।’
এদিকে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিটিভির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রেকর্ডিংয়ের দিন সন্ধ্যায় না হলেও ১০ বার ফোন করেছি। অথচ সে ফোন ওঠানোর প্রযোজন মনে করেনি। এমনকি পরে কলব্যাকও করেনি। তার এই আচরণ সত্যিই দুঃখজনক।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতন্ত্রকে কবরে পাঠানো হয়েছে: খালেদা জিয়া

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যাডিলেড টেস্ট- সুসংহত অস্ট্রেলিয়া

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: অস্ট্রেলিয়া, ব্যাটিং
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১২০ ওভার; ৫১৭/৭ ব্যাটিং (স্মিথ ১৬২*, ক্লার্ক ১২৮, ওয়ার্নার ১৪৫, শামি ২/১২০, বরুন ২/১৩৬, করণ ২/১৪৩)।
তৃতীয় দিন শুরু: ভোর ৫:৩০ (স্টার স্পোর্টস)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রিকেটাঙ্গনে থমথমে নীরবতা- দেশে নেই আজীবন নিষিদ্ধ বাদল

সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে মুশফিকুর রহীমের প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে সুপার লীগে খেলার আশা দলটি বাঁচিয়ে রেখেছে সুপার লীগে খেলার আশা। কিন্তু দলের জয়ের পরও ক্লাবটির দুই-একজন কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও তারা ছিলেন ভারাক্রান্ত। লুৎফর রহমান ছাড়াও মাঠে আসেননি ৫ বছরে জন্য নিষিদ্ধ যুগ্ম সম্পাদক ও ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম টিটু ও ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ দলটির কর্মকর্তা সাব্বির রহমান রুবেলও। এই তিন জনের মুঠো ফোনও সারাদিনই বন্ধ ছিল। লুৎফর রহমান বাদলের কাওরান বাজারস্থ অফিস সূত্রে জানা যায় তিনি রয়েছেন দেশের বাইরে। আর এ বিষয়ে যেহেতু বিসিবি’র কাছ থেকে অনুষ্ঠানিক কোন চিঠি তারা পাননি তাই এখনই তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নন। জানা গেছে, ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলার জেরে গতকাল সকালে টিটুর বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে সংবাদটির সত্যতা জানেন না বলে জানিয়েছেন মামলার বাদি ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার বাবুল মিয়া। এমনকি টিটুর সঙ্গেও এই ঘটনার সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে লুৎফর রহমান বাদল ও তার সহযোগীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কেউই কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে বিসিবি’র সভাপতি ও পরিচালকদের সম্পর্কে বাদলের করা আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সিসিডিএম ও আম্পায়ার্স কমিটির সুপারিশে বিসিবি’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে বিসিবি’র সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেন। এ সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় ‘সিসিডিএম ও আম্পায়ার্স কমিটির সুপারিশক্রমে বিসিবি’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি এক জরুরি সভার আয়োজন করে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান জনাব লুৎফর রহমান বাদল কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সহ নির্বাচিত পর্ষদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সম্পর্কে অশালীন, আপত্তিকর, শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ এবং ক্রিকেটকে অবমাননা করে মিথ্যা ভিত্তিহীন বক্তব্যের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লেখ্য যে, উক্ত মন্তব্য দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।’ এ বিষয়ে সভায় তাকে বিসিবি’র অধিনস্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধত আচরণের জন্য দলটির ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম টিটুকে ৫ বছরে জন্য ও কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদকে ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গতকাল শেষ বিকলে দলের জয়ের পর মাঠে আসেন দলের সেক্রেটারি রিচার্ডস। তবে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি দলের ক্রিকেটারদেরও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কোন রকম কথা বলতে দেয়া হয়নি। লুৎফর রহমান বাদল এর আগে নানা ঘটনায় তার নিজ ক্লাব মোহামেডান থেকে বেরিয়ে ভিক্টোরিয়া ক্লাব কিনে নিয়েছিলেন। সে বছরই সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে দলে টেনে তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এরপর ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি গাজী ট্যাংক ক্লাব কিনে নিয়ে লীগে অংশ নেন। সেই দলেও ছিলেন সাকিব- তামিম। এবার তারই নাম বদলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ রাখেন নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয়া লুৎফর রহমান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকার একটি মানুষকেই ভয় পায়, তিনি তারেক রহমান -মির্জা ফখরুল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মৃত্যুদণ্ডকে হত্যাকাণ্ড বলায় কাদেরের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত’ -অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম
‘মৃত্যুদণ্ডকে হত্যাকাণ্ড বলায় কাদেরের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত’ -অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোকেয়া কী নামে স্বাক্ষর করতেন by একেএম শাহনাওয়াজ
মনে পড়ে, প্রায় এক যুগ আগে একই বিষয়ে ইতিহাসের সত্য বিকৃতির আশংকায় একটি জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধ লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিল ‘বেগমের খোলসে অবরোধবাসিনী রোকেয়া’। সেই লেখাটি সুধী মহলে খুব একটা নাড়া দিতে পারেনি। প্রশ্নটি নিয়ে কেউ নতুন করে ভাবতে চাননি। আমার স্বজন একজন বাংলার অধ্যাপিকা, একই সঙ্গে যিনি একজন কথাসাহিত্যিকও, লেখাটি পড়ে বরঞ্চ আমাকে মৃদু তিরস্কার করেছিলেন। বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে ‘বেগম রোকেয়া’, এ নিয়ে আবার বিতর্ক তোলা কেন! আমি বুঝলাম এখানে নতুন করে যুক্তি দেয়া বৃথা। যেখানে ইতিহাসচর্চায় যুক্ত সুধীজন এসব নিয়ে ভাবতে চান না, সেখানে অধ্যাপিকা সরল দৃষ্টিতে বিচার করলে কতটুকুই বা দোষ দেয়া যায়! তবে ভালো লেগেছিল কলকাতার সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের টেলিফোন পেয়ে। ঘটনাক্রমে লেখাটি তার নজরে এসেছিল। তিনি আমার অনুমতি নিয়ে লেখাটি কলকাতার দুটি কাগজে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। তারা পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় সংগঠন পরিচালনা করেন। নাম জওঠঊজ। সংগঠনটির প্রধান কাজ রোকেয়া চর্চা করা। অনেকটা আমার শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের বইপড়া আন্দোলনের মতো। তারা রোকেয়া চর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছেন স্কুল-কলেজে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হল, তারা আমার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে সাংগঠনিকভাবে ‘বেগম রোকেয়া’ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন এ সংগঠনটি তাদের সব প্রকাশনায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নাম লেখেন। আমার যুক্তিগুলো তুলে ধরছি।
এক. ‘বেগম’ শব্দটি রোকেয়ার নামের কোনো অংশ নয়। রোকেয়ার লেখা বইগুলোতে তিনি নিজ নাম লিখেছেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। স্কুল যখন পরিচালনা করতেন তখন দাফতরিক প্রয়োজনে চিঠিপত্রে যে স্বাক্ষর দিতেন তাতে সাধারণত লিখতেন আর.এস. হোসেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চিঠিপত্রে স্বাক্ষর করতেন রোকেয়া বা রুকু নামে। বোঝা যায়, একজন মুসলিম মহিলাকে সম্মান দেখিয়ে ‘বেগম’ বলা হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কি হতে পারে ‘জনাব কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’?
দুই. ‘বেগম’ শব্দটি যদি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম মহিলার পরিচিতির পরিপূরক হয়, তবে একসময় নারী প্রগতির পুরোধা হিসেবে রোকেয়ার ঔজ্জ্বল্য খণ্ডিত হতে পারে। কারণ তখন কৌতূহলী কারও মনে হতে পারে উনিশ শতকে রোকেয়া আর কতটা নারী প্রগতির পক্ষে সমাজকে এগিয়ে দিতে পেরেছিলেন, যিনি নারীত্বের প্রতীক ‘বেগম’ নিজের নামের সঙ্গে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি! সেসময় তো জনে জনে বলা যাবে না এ অপকীর্তিটি পরবর্তীকালের অসতর্ক বাঙালির।
তিন. রোকেয়ার আত্মকথা পড়লে জানতে পারি, সেই সাধারণ রুকুর মহীয়সী রোকেয়া হওয়ার পেছনে দু’জন পুরুষের অবদানকে বড় করে দেখেছেন রোকেয়া। একজন তার ভাই ইব্রাহিম সাবের। তিনি সে যুগে সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে গভীর রাতে নিভৃতে প্রদীপ জ্বালিয়ে বোনকে ইংরেজি শেখাতেন। এভাবে রোকেয়াকে আধুনিকমনস্ক করে তুলেছিলেন তিনি। অন্যজন তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন। যিনি স্ত্রীর নারী শিক্ষা বিস্তারের আগ্রহকে সম্মান জানিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে স্ত্রীর মেয়েদের জন্য স্কুল গড়ার আকাক্সক্ষা যাতে বাস্তবায়িত হয় সে জন্য রেখে গিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। রোকেয়ার নারী অগ্রগতির আন্দোলনে পুরুষ বিদ্বেষ ছিল না। ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অচলায়তন ভাঙার লড়াই। তাই নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পেরেছিলেন অবলীলায়।
আমরা ইতিহাসচর্চাবিমুখ থাকায় বা গভীরভাবে সমকাল বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া ভুল শব্দ ব্যবহার করে ইতিহাসের সত্যে পৌঁছার পথে বাধা সৃষ্টি করি। ‘বেগম’কে নামের অংশ বানাতে গিয়ে এমন সংকট অনেক সৃষ্টি করেছি।
এ দেশে ইতিহাস গবেষকদের একটি বড় অংশ প্রচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস- বিশেষ করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিল্প ইতিহাসচর্চা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দুর্ভাগ্য এই যে, নিজ গবেষণা ক্ষেত্র না হওয়ায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের নতুন গবেষণালব্ধ তথ্য জানার আগ্রহও তেমন একটা দেখাতে পারেননি। এ কারণে এক যুগেরও আগে মুদ্রা-শিলালিপি ও স্থাপত্যের মতো আঁকর সূত্র বিশ্লেষণ করে ঢাকা নগরীর প্রাচীনত্ব নিয়ে সেমিনার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জার্নালে প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে। প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রায় হাজার বছর আগেও ঢাকায় নাগরিক জীবনের অস্তিত্ব ছিল। লিপি প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে প্রায় ছয়শ’ বছর আগে ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার একটি বড় অঞ্চলে স্বাধীন সুলতানরা প্রদেশ গড়ে তুলেছিলেন যার নাম ছিল মুবারকাবাদ। এ প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকায়। তারপরও ঢাকার বয়স চারশ’ বছর বলে প্রচুর ঢাকঢোল পিটিয়ে সাধারণ মানুষকে চারশ’ বছরে আটকে ফেলা হয়েছে। এ রাজধানী ঢাকার প্রাচীনত্ব জানার একটি শিলালিপি এখনও সাঁটা রয়েছে নারিন্দা মসজিদের গায়ে। ‘মোসামাৎ বখত বিনত’ নামে একজন মুসলিম মহিলা এ মসজিদটি ১৪৫৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বখত বিনতের দুর্ভাগ্য রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মতোই। কারণ ইতিহাস গবেষক থেকে সাধারণ লেখক সবাই নারিন্দার এ মসজিদের নাম লিখেছেন ‘বিনত বিবির মসজিদ’। উল্লিখিত এ শিলালিপি ছাড়া বখত বিনতকে জানার আর কোনো সূত্র নেই। শিলালিপির কোথাও ‘বিবি’ কথাটির উল্লেখ নেই। ধারণা করা যায়, বখত বিনত একজন মুসলিম মহিলা হওয়ায় কোনো এক অসাবধান উচ্চারণে ‘বিনত বিবি’ হয়ে গেছেন। গবেষকরাও গবেষণার রীতি পদ্ধতি না মেনে গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে মসজিদের নির্মাতাকে ‘বিনত বিবি’ বলে ফেলেছেন। অগ্র পশ্চাতে আর কিছু না থাকায় আজ ঢাকার ইতিহাস পুনর্লিখনে গবেষকরা ইতিহাস-বিচ্যুতিতে ভুগতে পারেন। নারিন্দা মসজিদের এ শিলালিপিটি ছিল ফার্সি ভাষায় লেখা। লিপি সাক্ষ্য থেকে তথ্য নিলে বখত বিনতকে আরেকটু স্পষ্ট করা যেত। কারণ সেখানে নির্মাতাকে একটু বিস্তারিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘মোসামাৎ বখত বিনত দোখতারে মারাহমাত’ অর্থাৎ জনৈক মারাহমাতের কন্যা মোসামাৎ বখত বিনত। এখন অসতর্ক লেখা ও বলায় ‘বখত বিনত’ পিতৃপরিচয় হারিয়ে ‘বিনত বিবি’ হয়ে ইতিহাসকে সূত্রচ্যুত করে ফেলেছেন। বখত বিনত নন, আমরাই মূর্খের মতো এ কর্মটি করেছি।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে নিয়ে একই দুর্ভাগ্য বরণ করছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়সহ রোকেয়া সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান- যেখানে এখনও রোকেয়া বা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামের আগে ‘বেগম’ ঝুলে আছে, সেখান থেকে ‘বেগম’ ছেঁটে দেয়া আশু জরুরি। যদি ইতিহাসে মহীয়সী রোকেয়ার কৃতিত্বকে উজ্জ্বল রাখতে চাই, তবে ‘বেগম’ রক্ষা করার মতো কোনো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
আমি ধন্যবাদ জানাই ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে’র চারজন শিক্ষার্থীকে। যাদের কথা ছাপা হয়েছে গত ৮ ডিসেম্বরের যুগান্তরে সুরঞ্জনা পাতায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামের ভুল প্রয়োগ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রজন্মের এই সচেতনতা আমাদের আশাবাদী হতে শক্তি জোগায়। আমরা অমন পীড়াদায়ক ‘বেগম’ থেকে উপমহাদেশের নারী প্রগতির অগ্রনায়ক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে মুক্তি দিয়ে নিজেদের অজ্ঞানতার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কর্মচারীদের পেশাজীবী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের রাজনৈতিক আচরণ by মোঃ ফিরোজ মিয়া
আইন-বিধি সর্বদাই আইনি ভাষায় (ল ল্যাংগুয়েজ) লেখা হয়। আইন ও বিধির কিছু বিষয় থাকে প্রকাশ্য এবং কিছু বিষয় থাকে অন্তর্নিহিত। যে কারণে আইন ও বিধিকে সাধারণ অর্থে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকে না। আইন ও বিধিকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এর অন্তর্নিহিত অর্থকেও বিবেচনায় নিতে হয়।
প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন। বিদ্যমান আচরণবিধির প্রকাশ্য ও অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রজাতন্ত্রের চাকরিরত পেশাজীবীদের সমন্বয়ে পেশাজীবী সংগঠন বা সমিতি গঠন আচরণবিধি দ্বারা সমর্থিত। কিন্তু ওই সংগঠনে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নয় এমন কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা আচরণবিধি সমর্থন করে না। এছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নয় এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কোনো পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যও কোনো কর্মচারী হতে পারেন না বা থাকতে পারেন না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত পেশাজীবী সংগঠন বা সমিতি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দ্বারা গঠিত নয় এমন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে ফেডারেশনও করতে পারে না। এছাড়া প্রজাতন্ত্রের পেশাজীবী কর্মচারীদের এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নয় এমন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে কোনো পেশাজীবী সংগঠন গঠন করা বা এরূপ কোনো ফেডারেশন গঠন করা আচরণবিধি দ্বারা সমর্থিত নয়।
তবে কোনো নির্দিষ্ট পেশার উন্নয়ন, উৎকর্ষ সাধন, সেবা, কল্যাণ ইত্যাদি এবং সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গঠিত সংগঠনে সরকারের অনুমোদনক্রমে যুক্ত হওয়া বা তার সদস্য বা কর্মকর্তা হওয়ার ক্ষেত্রে আচরণবিধি অন্তরায় নয়।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত পেশাজীবী সংগঠন কেবল তাদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করতে পারে। কিন্তু এজন্য কোনোরূপ মিছিল, মিটিং বা চাকরির শৃংখলার পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ করতে পারে না। এছাড়া কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত কোনো পেশাজীবী সংগঠন বা সমিতি কোনোরূপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই জড়িত হতে বা থাকতে পারে না। রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, মৌন মিছিল, মানববন্ধন ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতে বা তা সংগঠনে বা আয়োজনে কোনোরূপ সাহায্য বা সহযোগিতা করতে পারে না। তারা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো নির্বাচনে কোনোরূপ সমর্থন, সাহায্য বা সহযোগিতা করতে পারে না। যার কারণে কোনো কল্যাণমূলক সংগঠন বা তার কোনো অংশ যখনই কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বা গোপনে যুক্ত হয় বা যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা জন্মে, তখন প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। তাকে অবশ্যই ওই সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়।
শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, মজুরি নির্ধারণ ও পরিশোধ, দুর্ঘটনায় জখমের কারণে ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্পবিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং চাকরির অবস্থা ও পরিবেশ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে শ্রম আইন, ২০০৬ জারি করা হয়। এই আইনানুযায়ী শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক অথবা শ্রমিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থাৎ শ্রমিকস্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার বিধান রয়েছে। তবে একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বাধিক তিনটি ট্রেড ইউনিয়ন করা যায় এবং প্রতিটি ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা মোট শ্রমিকের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হতে হয় এবং একই শ্রমিক একসঙ্গে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে পারে না। এছাড়া শ্রমিকদের নিজ পছন্দমতো যে কোনো ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ কোনো শ্রমিককে তার পছন্দ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান করতে বাধ্য করা বা কোনো ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান থেকে বিরত রাখা যায় না। আইন অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকৃত হতে হয়। অরেজিস্ট্রিকৃত কোনো ট্রেড ইউনিয়ন সদস্য ভর্তি বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে এর জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়নের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতিনিধি নির্বাচনের, সমিতির প্রশাসন ও কর্মতৎপরতা, সংগঠনের ও কর্মসূচি প্রণয়নের অধিকার রয়েছে।
রেল বিভাগ, ডাক, তার ও টেলিফোন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, গণস্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়- এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের এবং বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর শ্রমিকদেরও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের যাদের ওপর সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য আচরণবিধি প্রযোজ্য, তারা ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী হতে পারেন না।
ট্রেড ইউনিয়নের মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যই হল শ্রমিক ও মালিক সম্পর্ক বজায় রাখা, শ্রমিকস্বার্থ সংরক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি এবং এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটিমাত্র দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকার ক্ষেত্রে গোপন ভোটের মাধ্যমে সিবিএ প্রতিনিধি নির্বাচণের বিধান রয়েছে।
শ্রম আইন অনুযায়ী যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধির (সিবিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো কমিটি, আলাপ-আলোচনা, সালিশ, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে মালিককে অবহিত করা ব্যতীত এবং অন্য কোনো শ্রমিক মালিকের বিনা অনুমতিতে তার কর্ম সময়ে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকতে পারেন না। এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের এবং শ্রমিকদের অসৎ আচরণের জন্য জেল-জরিমানারও বিধান রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, কীরূপ কার্যকলাপ অসৎ আচরণের আওতায় পড়ে? অনেক অসৎ আচরণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অসৎ আচরণগুলো হচ্ছে- কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক ইউনিয়ন বা ওই ইউনিয়নের পক্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো শ্রমিককে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হতে বা সদস্য বা কর্মকর্তা হওয়া থেকে বিরত থাকতে ভীতি প্রদর্শন বা প্রলুব্ধ করা; কোনোরূপ ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোনো স্থানে আটক, শারীরিক আঘাত, পানি, শক্তি বা টেলিফোন সুবিধা বিচ্ছিন্ন করা বা কোনো ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলে চাঁদা প্রদান করার বা না করার জন্য বাধ্য করা; প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর করা; কর্তৃপক্ষের আইনসঙ্গত বা যুক্তিসঙ্গত আদেশ এককভাবে বা সংঘবদ্ধভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে লংঘন; প্রতিষ্ঠানের আইন-বিধি অমান্য করা ইত্যাদি। এছাড়া যে কোনো অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় মালিক বা তার প্রতিনিধিকে কোনো দাবিনামায় দস্তখত করতে বা কোনো দাবি গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে বাধ্য করা; বেআইনি ধর্মঘট, ঘেরাও, পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা কোনো সম্পত্তির ধ্বংস সাধন করা।
ট্রেড ইউনিয়নের উদ্দেশ্য ও তার সদস্য বা সিবিএ কর্মকর্তাদের আচরণ বিশ্লেষণে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, তারা শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রমে জড়িত হতে পারে না। এছাড়া রেজিস্ট্রিকৃত প্রতিটি ট্রেড ইউনিয়নেরই একটি বাধ্যতামূলক গঠনতন্ত্র থাকে, ওই গঠনতন্ত্রের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করা যায় না। সুতরাং ট্রেড ইউনিয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, কোনো ট্রেড ইউনিয়ন কোনোক্রমেই রাজনৈতিক কোনো কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে পারে না, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা দলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহায্য-সহায়তাও করতে পারে না।
সুতরাং প্রজাতন্ত্রের পেশাজীবী কর্মচারীদের সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো তাদের নিজেদের চাকরিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বা কোনো কল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
মোঃ ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাড়ে সাত কোটির প্রত্যেকেরই স্ট্যাটাস নির্ধারণ করুন by মোঃ আলী হায়দার
সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছাড়া উল্লিখিত ১১ ক্যাটাগরির যেসব ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। মুক্তিযোদ্ধা একটি বিশাল ব্যঞ্জনা, একে এত সরলীকরণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ক্যাম্পে নাম লেখালেই কি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়? মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনিং শেষ হওয়ার আগেই দেশ স্বাধীন হয়ে যায়। তারা যুদ্ধ করারও সুযোগ পায়নি। যারা ভারতে গিয়ে নিরাপদে থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়েছেন বা ফুটবল খেলেছেন বা মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন; তাদের সঙ্গে রণাঙ্গনে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে বনে-জঙ্গলে খেয়ে না খেয়ে যারা পাকবাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধ করেছেন, তাদের একই কাতারে ফেলা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্তা বলা যায় না। মুক্তিযোদ্ধা কারা তা মুক্তিযোদ্ধা শব্দের মধ্যেই বলা আছে। মুক্তির জন্য যারা যুদ্ধ করেছেন তারাই মুক্তিযোদ্ধা। যারা যুদ্ধ করেনি, তারা কখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হতে পারেন না। তাই যারা রণাঙ্গনে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কেবল তাদেরই মুক্তিযোদ্ধা বলা যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য যারা গান গেয়ে, ফুটবল খেলে বা প্রবাসী সরকারের চাকরি করে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন; তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের ‘সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন, তবে তারা কোনোভাবেই মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না। মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হলে মুক্তিযোদ্ধাদের শৈর্য-বীর্য, গৌরব ও আত্মত্যাগকে খাটো করা হবে।
লক্ষণীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, আনসার বাহিনীর যারা ২৫ মার্চ রাতেই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছেন, তাদের ৪নং ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে! আর যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য ভারতে গিয়ে ট্রেনিং ক্যাম্পে কেবল নাম লিপিবদ্ধ করেছেন, তাদের ১নং ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে! অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার প্রধান যোগ্যতাই ধরা হয়েছে সীমান্ত অতিক্রম করা। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী সীমান্ত অতিক্রম না করে এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সংগ্রাম কমিটির সদস্য না হয়ে ’৭১ সালে যারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারা কেউই মুক্তিযোদ্ধা বলে গণ্য হবেন না! মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী টাঙ্গাইলের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনী, ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী অথবা নরসিংদীর শিবপুরের বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধারা- যারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তারা কেউই মুক্তিযোদ্ধা বলে গণ্য হবেন না!!
১৯৭১ সালে যেসব নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিতা (ধর্ষিতা) হয়েছেন তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হবে! স্বাধীনতার অব্যবহিত পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসর দালাল-রাজাকারদের দ্বারা যেসব নারী ধর্ষিতা হয়েছিল, তাদের বীরঙ্গনা আখ্যায়িত করে সম্মানিত করেছিলেন। শেখ মুজিব যাদের বীরঙ্গনা আখ্যায়িত করেছিলেন তাদের সেই পদবি পরিবর্তন করা শেখ মুজিবের প্রতি চরম অবমাননার সামিল বলেই আমি মনে করি।
তাছাড়া ধর্ষিতারা মুক্তিযোদ্ধা হয় কীভাবে? ধর্ষণ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস কোটি কোটি মানুষ পাকবাহিনী কর্তৃক বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে। তাহলে তাদেরও তো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা উচিত।
আশ্চর্যের বিষয় হল, মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স বেঁধে দিয়েছে। ১৫ বছরের নিচে কেউ মুক্তিযেদ্ধা হলেও তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে! মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স বেঁধে দেয়ার ক্ষমতা কে দিয়েছে? মহান মুক্তিযুদ্ধ ভূতাপেক্ষ তারিখ থেকে কার্যকর করার মতো কোনো সরকারি আদেশ নয়। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য বয়সের কোনো শর্ত ছিল না, তাই ১৫ বছর বয়সের নিচে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিরল গৌরব হরণ করার কোনো অধিকার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আছে বলে মনে করি না। এ ক্ষেত্রে ১৫ বছরের কম বয়সী মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করার কাজটি কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের একটি দাড়ি, কমা সেমিকলন পরিবর্তনের ক্ষমতা কারও নেই।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না; এটা ছিল একটা গণযুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুষ্টিমেয় দালাল, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ছাড়া দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা, সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, সরকারি কর্মচারী এবং ধনী-দরিদ্র সব শ্রেণীর মানুষ অংশ নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য কোনো শর্ত ছিল না, ছিল না কোনো নির্দিষ্ট বয়স। যে যেভাবে পেরেছে মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পর শর্ত আরোপ করে মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণের কোনো অবকাশ নেই।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র এক কোটি মানুষ প্রাণের ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে থেকে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আশংকা নিয়ে এক ভয়াবহ দুঃসহ-দুঃস্বপ্নের সময় অতিবাহিত করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা করেছে। তাদের জান-মাল-ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। সেটা যে কী এক ভয়াবহ অবস্থা ছিল, তা এ মুক্ত স্বাধীন দেশে থেকে কোনোভাবেই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কেবল ভুক্তভোগীরাই তা উপলব্ধি করতে পারে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও অবরুদ্ধ সাড়ে ছয় কোটি মানুষ নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করেছে। নিজেরা অভুক্ত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়েছে; ওষুধ, রসদ সরবরাহ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, স্বাধীনতার ৪৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ বাংলাদেশের সাড়ে ছয় কোটি মানুষের মর্যাদা কী, তা নির্ধারণ করা হয়নি। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদে থেকে গান গেয়ে, ফুটবল খেলে বা মুজিবনগর সরকারের অধীনে বেতন নিয়ে চাকরি করে এখন যদি কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হতে পারে; তবে যারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আশংকা নিয়ে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা করেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তারা কী হিসেবে গণ্য হবে? এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম এনায়েত উল্লাহ খানের সেই বিখ্যাত নিবন্ধ ‘সিক্সটি ফাইভ মিলিয়ন কোলেবারেটর’-এর কথা স্মরণ করা যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের যে নীতিমালা ঘোষণা করেছে তাতে কেবল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত গমনকারীদের বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যারা সীমান্ত অতিক্রম করেনি- সেই সাড়ে ছয় কোটি মানুষের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে কি এ সাড়ে ছয় কোটি মানুষের কোনো ভূমিকা ছিল না? এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। তাই শুধু মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করলেই হবে না, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দেশে অবরুদ্ধ সাড়ে ছয় কোটি জনগণের স্ট্যাটাস কী তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ, ৩০ লাখ মানুষ এদের মধ্য থেকেই শহীদ হয়েছে, এদের মধ্য থেকেই ৩ লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছে। এদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই পাক হায়েনাদের হিংস আক্রমণে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে এদের আত্মত্যাগ খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। কিন্তু এখন ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, বর্ধিত চাকরি, কোটা সুবিধা ইত্যাদি প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে খাটো করা হচ্ছে। চাকরির বর্ধিত সুবিধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কোটা সুবিধা ইত্যাদি অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাই ভোগ করতে পারছে না। কারণ অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা কৃষক-শ্রমিক শ্রেণীর। অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা যে সুবিধা ভোগ করতে পারে না; সে সুবিধা না দেয়াই যুক্তিযুক্ত। কেননা এতে সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া ঢালাওভাবে সুবিধা দেয়া ঠিক নয়। যেমন প্রয়োজন না থাকলেও অনেক সচ্ছল ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দেয়া হচ্ছে। এভাবে ঢালাওভাবে সুবিধা না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। ঢালাওভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়ার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের সনদ জাল হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া ঠিক আছে; তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-পুতিকে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কোনো যুক্তি নেই।
মোঃ আলী হায়দার : অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন পথে by তারেক শামসুর রেহমান
মনে পড়ে, প্রায় এক যুগ আগে একই বিষয়ে ইতিহাসের সত্য বিকৃতির আশংকায় একটি জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধ লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিল ‘বেগমের খোলসে অবরোধবাসিনী রোকেয়া’। সেই লেখাটি সুধী মহলে খুব একটা নাড়া দিতে পারেনি। প্রশ্নটি নিয়ে কেউ নতুন করে ভাবতে চাননি। আমার স্বজন একজন বাংলার অধ্যাপিকা, একই সঙ্গে যিনি একজন কথাসাহিত্যিকও, লেখাটি পড়ে বরঞ্চ আমাকে মৃদু তিরস্কার করেছিলেন। বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে ‘বেগম রোকেয়া’, এ নিয়ে আবার বিতর্ক তোলা কেন! আমি বুঝলাম এখানে নতুন করে যুক্তি দেয়া বৃথা। যেখানে ইতিহাসচর্চায় যুক্ত সুধীজন এসব নিয়ে ভাবতে চান না, সেখানে অধ্যাপিকা সরল দৃষ্টিতে বিচার করলে কতটুকুই বা দোষ দেয়া যায়! তবে ভালো লেগেছিল কলকাতার সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের টেলিফোন পেয়ে। ঘটনাক্রমে লেখাটি তার নজরে এসেছিল। তিনি আমার অনুমতি নিয়ে লেখাটি কলকাতার দুটি কাগজে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। তারা পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় সংগঠন পরিচালনা করেন। নাম জওঠঊজ। সংগঠনটির প্রধান কাজ রোকেয়া চর্চা করা। অনেকটা আমার শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের বইপড়া আন্দোলনের মতো। তারা রোকেয়া চর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছেন স্কুল-কলেজে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হল, তারা আমার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে সাংগঠনিকভাবে ‘বেগম রোকেয়া’ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন এ সংগঠনটি তাদের সব প্রকাশনায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নাম লেখেন। আমার যুক্তিগুলো তুলে ধরছি।
এক. ‘বেগম’ শব্দটি রোকেয়ার নামের কোনো অংশ নয়। রোকেয়ার লেখা বইগুলোতে তিনি নিজ নাম লিখেছেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। স্কুল যখন পরিচালনা করতেন তখন দাফতরিক প্রয়োজনে চিঠিপত্রে যে স্বাক্ষর দিতেন তাতে সাধারণত লিখতেন আর.এস. হোসেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চিঠিপত্রে স্বাক্ষর করতেন রোকেয়া বা রুকু নামে। বোঝা যায়, একজন মুসলিম মহিলাকে সম্মান দেখিয়ে ‘বেগম’ বলা হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কি হতে পারে ‘জনাব কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’?
দুই. ‘বেগম’ শব্দটি যদি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম মহিলার পরিচিতির পরিপূরক হয়, তবে একসময় নারী প্রগতির পুরোধা হিসেবে রোকেয়ার ঔজ্জ্বল্য খণ্ডিত হতে পারে। কারণ তখন কৌতূহলী কারও মনে হতে পারে উনিশ শতকে রোকেয়া আর কতটা নারী প্রগতির পক্ষে সমাজকে এগিয়ে দিতে পেরেছিলেন, যিনি নারীত্বের প্রতীক ‘বেগম’ নিজের নামের সঙ্গে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি! সেসময় তো জনে জনে বলা যাবে না এ অপকীর্তিটি পরবর্তীকালের অসতর্ক বাঙালির।
তিন. রোকেয়ার আত্মকথা পড়লে জানতে পারি, সেই সাধারণ রুকুর মহীয়সী রোকেয়া হওয়ার পেছনে দু’জন পুরুষের অবদানকে বড় করে দেখেছেন রোকেয়া। একজন তার ভাই ইব্রাহিম সাবের। তিনি সে যুগে সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে গভীর রাতে নিভৃতে প্রদীপ জ্বালিয়ে বোনকে ইংরেজি শেখাতেন। এভাবে রোকেয়াকে আধুনিকমনস্ক করে তুলেছিলেন তিনি। অন্যজন তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন। যিনি স্ত্রীর নারী শিক্ষা বিস্তারের আগ্রহকে সম্মান জানিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে স্ত্রীর মেয়েদের জন্য স্কুল গড়ার আকাক্সক্ষা যাতে বাস্তবায়িত হয় সে জন্য রেখে গিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। রোকেয়ার নারী অগ্রগতির আন্দোলনে পুরুষ বিদ্বেষ ছিল না। ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অচলায়তন ভাঙার লড়াই। তাই নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পেরেছিলেন অবলীলায়।
আমরা ইতিহাসচর্চাবিমুখ থাকায় বা গভীরভাবে সমকাল বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া ভুল শব্দ ব্যবহার করে ইতিহাসের সত্যে পৌঁছার পথে বাধা সৃষ্টি করি। ‘বেগম’কে নামের অংশ বানাতে গিয়ে এমন সংকট অনেক সৃষ্টি করেছি।
এ দেশে ইতিহাস গবেষকদের একটি বড় অংশ প্রচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস- বিশেষ করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিল্প ইতিহাসচর্চা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দুর্ভাগ্য এই যে, নিজ গবেষণা ক্ষেত্র না হওয়ায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের নতুন গবেষণালব্ধ তথ্য জানার আগ্রহও তেমন একটা দেখাতে পারেননি। এ কারণে এক যুগেরও আগে মুদ্রা-শিলালিপি ও স্থাপত্যের মতো আঁকর সূত্র বিশ্লেষণ করে ঢাকা নগরীর প্রাচীনত্ব নিয়ে সেমিনার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জার্নালে প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে। প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রায় হাজার বছর আগেও ঢাকায় নাগরিক জীবনের অস্তিত্ব ছিল। লিপি প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে প্রায় ছয়শ’ বছর আগে ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার একটি বড় অঞ্চলে স্বাধীন সুলতানরা প্রদেশ গড়ে তুলেছিলেন যার নাম ছিল মুবারকাবাদ। এ প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকায়। তারপরও ঢাকার বয়স চারশ’ বছর বলে প্রচুর ঢাকঢোল পিটিয়ে সাধারণ মানুষকে চারশ’ বছরে আটকে ফেলা হয়েছে। এ রাজধানী ঢাকার প্রাচীনত্ব জানার একটি শিলালিপি এখনও সাঁটা রয়েছে নারিন্দা মসজিদের গায়ে। ‘মোসামাৎ বখত বিনত’ নামে একজন মুসলিম মহিলা এ মসজিদটি ১৪৫৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বখত বিনতের দুর্ভাগ্য রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মতোই। কারণ ইতিহাস গবেষক থেকে সাধারণ লেখক সবাই নারিন্দার এ মসজিদের নাম লিখেছেন ‘বিনত বিবির মসজিদ’। উল্লিখিত এ শিলালিপি ছাড়া বখত বিনতকে জানার আর কোনো সূত্র নেই। শিলালিপির কোথাও ‘বিবি’ কথাটির উল্লেখ নেই। ধারণা করা যায়, বখত বিনত একজন মুসলিম মহিলা হওয়ায় কোনো এক অসাবধান উচ্চারণে ‘বিনত বিবি’ হয়ে গেছেন। গবেষকরাও গবেষণার রীতি পদ্ধতি না মেনে গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে মসজিদের নির্মাতাকে ‘বিনত বিবি’ বলে ফেলেছেন। অগ্র পশ্চাতে আর কিছু না থাকায় আজ ঢাকার ইতিহাস পুনর্লিখনে গবেষকরা ইতিহাস-বিচ্যুতিতে ভুগতে পারেন। নারিন্দা মসজিদের এ শিলালিপিটি ছিল ফার্সি ভাষায় লেখা। লিপি সাক্ষ্য থেকে তথ্য নিলে বখত বিনতকে আরেকটু স্পষ্ট করা যেত। কারণ সেখানে নির্মাতাকে একটু বিস্তারিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘মোসামাৎ বখত বিনত দোখতারে মারাহমাত’ অর্থাৎ জনৈক মারাহমাতের কন্যা মোসামাৎ বখত বিনত। এখন অসতর্ক লেখা ও বলায় ‘বখত বিনত’ পিতৃপরিচয় হারিয়ে ‘বিনত বিবি’ হয়ে ইতিহাসকে সূত্রচ্যুত করে ফেলেছেন। বখত বিনত নন, আমরাই মূর্খের মতো এ কর্মটি করেছি।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে নিয়ে একই দুর্ভাগ্য বরণ করছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়সহ রোকেয়া সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান- যেখানে এখনও রোকেয়া বা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামের আগে ‘বেগম’ ঝুলে আছে, সেখান থেকে ‘বেগম’ ছেঁটে দেয়া আশু জরুরি। যদি ইতিহাসে মহীয়সী রোকেয়ার কৃতিত্বকে উজ্জ্বল রাখতে চাই, তবে ‘বেগম’ রক্ষা করার মতো কোনো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
আমি ধন্যবাদ জানাই ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে’র চারজন শিক্ষার্থীকে। যাদের কথা ছাপা হয়েছে গত ৮ ডিসেম্বরের যুগান্তরে সুরঞ্জনা পাতায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামের ভুল প্রয়োগ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রজন্মের এই সচেতনতা আমাদের আশাবাদী হতে শক্তি জোগায়। আমরা অমন পীড়াদায়ক ‘বেগম’ থেকে উপমহাদেশের নারী প্রগতির অগ্রনায়ক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে মুক্তি দিয়ে নিজেদের অজ্ঞানতার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের সঙ্গে জলপথে যোগাযোগে আগ্রহী মমতা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি আরবে বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেষ পর্যন্ত...

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন বছরে অন্য পূজা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমানেই জন্ম নবজাতকের

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1419)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
December
(1878)
-
▼
Dec 11
(66)
- মালালা ও কৈলাসের নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ
- গানম্যান নিয়ে চলেন চট্টগ্রামের যুবলীগ ক্যাডার বাবর
- ছড়িয়ে পড়ছে ফার্নেস অয়েল
- ক্ষোভ ও অসন্তোষ সংসদীয় কমিটির
- রেলপথ বিচ্ছিন্ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করেন তারা
- এমপি রানাসহ ৪ জনকে গ্রেফতারে বাধা নেই
- র্যাবের বিভাগীয় প্রতিবেদনে ২১ জনের নাম
- চাঁদার জন্য বাস আটকাল ছাত্রলীগ, ছাড়াল পুলিশ
- দুদিন পর উদ্ধার হলো জাহাজ- ছড়িয়ে পড়া তেল ফোম দি...
- অপমানিত, ক্ষুব্ধ সাবিনা ইয়াসমীন by মনজুর কাদের
- গণতন্ত্রকে কবরে পাঠানো হয়েছে: খালেদা জিয়া
- অ্যাডিলেড টেস্ট- সুসংহত অস্ট্রেলিয়া
- ক্রিকেটাঙ্গনে থমথমে নীরবতা- দেশে নেই আজীবন নিষিদ্ধ...
- সরকার একটি মানুষকেই ভয় পায়, তিনি তারেক রহমান -মির্...
- ‘মৃত্যুদণ্ডকে হত্যাকাণ্ড বলায় কাদেরের ছেলের বিরুদ্...
- রোকেয়া কী নামে স্বাক্ষর করতেন by একেএম শাহনাওয়াজ
- কর্মচারীদের পেশাজীবী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের রাজন...
- সাড়ে সাত কোটির প্রত্যেকেরই স্ট্যাটাস নির্ধারণ করুন...
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন পথে by তারেক শাম...
- বাংলাদেশের সঙ্গে জলপথে যোগাযোগে আগ্রহী মমতা
- সৌদি আরবে বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা
- শেষ পর্যন্ত...
- নতুন বছরে অন্য পূজা
- বিমানেই জন্ম নবজাতকের
- দুই চেহারার বিড়ালের মৃত্যু
- ‘ডিসিসি ও জেলা পরিষদ নির্বাচন না হওয়া সংবিধান বিরোধী’
- ‘ইবোলা চিকিৎসক ও কর্মীরা’ টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসের...
- ইসরাইলি সেনার আগ্রাসী আচরণে ফিলিস্তিনি মন্ত্রীর মৃ...
- কম খরচে ইন্টারনেট মানুষের মৌলিক অধিকার
- বজ্রপাতে শেষ গোটা ফুটবল দল!
- হংকংয়ের প্রধান বিক্ষোভ স্থলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু
- ফাঁসি কার্যকরের নামে কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছ...
- বিদায় ও বরণের উৎসবে by শিহাব জিশান
- নিউইয়র্কে উইলিয়াম ও কেট, পাশে পুলিশবিরোধী বিক্ষোভ
- টাইমের পাঠক ভোটে বর্ষসেরা মোদি
- আশি ভাগ গ্রাহক প্রত্যন্ত এলাকার by সৈকত দেওয়ান
- সংঘাতের শিকার বিশ্বের দেড় কোটি শিশু
- জলবায়ু সম্মেলনে গতি সঞ্চার
- দুর্গম লোকালেয় আলো: রাঙামাটি- সৌরবিদ্যুতের আলোয় ...
- নির্ভরশীলতা বাড়ছে by পলাশ বড়ুয়া
- ঘন কুয়াশার চাদরে রাজধানী, বিমান চলাচলে বিপর্যয়
- সুন্দরবনে জাহাজডুবি- তেল ছড়াচ্ছে, উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
- আর কত অপেক্ষা, আর কত কান্না- মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘট...
- নিলামে কেনা নোবেল ফেরতের মহৎ দৃষ্টান্ত
- ইমরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা
- দারুণ জয়ে গ্রুপ শীর্ষে বার্সেলোনা
- শিশুদের সহায়তা করাই আমার নেশা : কৈলাস
- ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ফিলিস্তিনি মন্ত্রী নিহত
- যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দাবি জাতিসংঘের
- সর্বজনীন নির্বাচন পরিষদ গঠনের দাবি
- আমেরিকাকে ‘না’
- দেড় কোটি শিশুর জন্য নিষ্ঠুরতম বছর ২০১৪
- শান্তিতে চ্যাম্পিয়ন মালালা-কৈলাস
- ট্যাংকারের তেলে ভাসছে সুন্দরবন by রাশিদুল ইসলাম
- মঙ্গলে পানির উপস্থিতি প্রাণের সম্ভাবনা
- বন্দিদের ওপর সিআইএ’র নৃশংস নির্যাতন- বিচার দাবি জা...
- বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার অনিশ্চিত
- কনসার্টে অদ্ভুত মাইলি সাইরাস
- ইসরাইলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনি মন্ত্রীর মৃত্যু
- বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভারতের ভূমিকার জন্য কারগিল যুদ্ধ
- চুক্তি পেতে তিন মন্ত্রীর জন্য ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার...
- ‘৭ খুনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারেক-আরিফ’
- পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে এখনই আলোচনা চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন
- মানবাধিকার বঞ্চিতদের কান্না
- দল নিষিদ্ধের পক্ষে জামায়াত
- বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে
-
▼
Dec 11
(66)
-
▼
December
(1878)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...