Monday, November 3, 2014
ভারত-বাংলাদেশ লাইনকে দূরে রাখার চেষ্টা কেন?

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রিভিউ ও রায় কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে by মিজানুর রহমান খান
কারাবিধি অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাবে। তবে যখন তারা জানবে, কামারুজ্জামানের আপিল খারিজ হয়ে গেছে, সেই মুহূর্ত থেকে ফাঁসি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রক্রিয়া শুরুর ২১ দিন পর এবং ২৮ দিনের আগে ফাঁসি কার্যকর করার নিয়ম। তবে এর মধ্যে যদি সংক্ষুব্ধ পক্ষ আবেদন করে, তখন তা সর্বোচ্চ আদালতের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণা এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে ৭৮ দিন সময় লেগেছিল। প্রচলিত আইনে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। এবারে পূর্ণাঙ্গ রায় পেতে ৭৮ দিন কিংবা তার চেয়ে অনেক কম বা বেশি সময়ের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
এরপর রয়েছে রিভিউর প্রশ্ন। ৫ ডিসেম্বর ২০১৩ কাদের মোল্লার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরেই তাঁর ফাঁসি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে আসামিপক্ষের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে চেম্বার জজ ১০ ডিসেম্বরে ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছিলেন। কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি রিভিউ আবেদন পড়েছিল। ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি হয়। ১২ ডিসেম্বর অপরাহ্ণ প্রধান বিচারপতি কেবল ঘোষণা দেন যে, ‘বোথ দ্য ক্রিমিনাল রিভিউ পিটিশনস আর ডিসমিসড।’ কিন্তু তাতে কী কারণে খারিজ হয়েছে তা স্পষ্ট হয়নি। জামায়াতের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ফাঁসি স্থগিত করা যায় না মর্মে মত দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অবশ্য ১২ ডিসেম্বর বিকেল সোয়া চারটায় পৌঁছায়, আর ফাঁসি কার্যকর হয় রাত ১০টা এক মিনিটে।
সে কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বিদ্যমান আইনে রিভিউ করার সুযোগ আছে কি নেই—এ নিয়ে যে আইনি তর্ক, তা অমীমাংসিত রয়েছে। আজও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং কামারুজ্জামানের রিভিউ প্রশ্নে আইনজীবী পরস্পরবিরোধী মত দিয়েছেন। এর আগে তৎকালীন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও অভিন্ন মত দিয়েছিলেন যে, যেহেতু একটি বিশেষ আইনে বিচার হচ্ছে এবং সেই আইনে রিভিউ করার অধিকারের কথা বলা নেই। তাই এই সুযোগ তারা পাবে না। কিন্তু সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘সংসদের যেকোনো আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এবং আপিল বিভাগ প্রণীত যেকোনো বিধি সাপেক্ষে আপিল বিভাগের কোনো ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা ওই বিভাগের থাকবে।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকার ও আসামিপক্ষকে আপিল আবেদনের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু আপিল পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে কি না—এ বিষয়ে আইনে কিছু উল্লেখ নেই। ২০(৩) ধারায় বলা আছে, এই আইনের অধীনে শাস্তি দেওয়া হলে সরকারের আদেশ অনুসারে তা কার্যকর হবে। ২০১২ সালে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক মত দিয়েছিলেন যে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল পুনর্বিবেচনার আবেদন করার অধিকার দণ্ডিতের আছে। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘এ অধিকার যদি দেওয়া হয়, তাহলে রায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো দিন প্রশ্ন উঠবে না।’
আমি তাঁর ওই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেছিলাম। অনলাইনেও মত দিয়েছিলাম। আমি মনে করি, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদই কেবল নয়, এখানে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য ১০৪ অনুচ্ছেদ। এখানে ‘ন্যায়বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজন হইতে পারে, সেইরূপ আদেশ’ প্রদান এবং ‘ কমপ্লিট জাস্টিস’ নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগের ব্যাপকভিত্তিক এখতিয়ার স্বীকৃত। সম্প্রতি আইন ও বিচারমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। বললাম, রিভিউ প্রশ্নে আপনি আগের মতে অটল রয়েছেন কি না? তিনি তাঁর সম্মতি ব্যক্ত করলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘যুদ্ধাপরাধের সব রায় কার্যকর করব’ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম তাও তারা একে একে বন্ধ করে দিল। হাওয়া ভবন খোলে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেল। আর মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হল। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন বিএনপি নেত্রী চোখে দেখেন না। দেখার মতো দৃষ্টিওতো থাকতে হবে। আজকে তার হাতে ক্ষমতা নেই। সেই আফসোসে মরে যাচ্ছেন। নির্বাচন ঠেকাবার নামে যে অত্যাচার শুরু করেছিলেন। তাদের আন্দোলন মানে মানুষ হত্যা, মসজিদে আগুন দেয়া, ককটেল, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা। এটাই উনার আন্দোলন। গাছ কেটে দেয়া, রাস্তা কেটে দেয়া এটা কোন ধরনের আন্দোলন। প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার বিরোধী আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলছেন, আন্দোলন করে সরকার উৎখাত করবেন। আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-২০০৯ সালে তিনি বলেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রীতো দুরে থাক বিরোধী দলের নেতাও হতো পারবো না। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এখন তিনি নিজেই বিরোধী দলের নেতা না। তিনি যে অভিশাপ দেন তা আমার জন্য আশির্বাদ হয়ে ফিরে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিলেন। মানুষ তাকে ভোট দেয়নি। আর তাই ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন করতেই ভয় পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি কথায় কথায় অবৈধ অবৈধ দেখেন। আয়নায় চেহারা দেখলে তাই মনে হবে তার। কারণ জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বিএনপির জন্ম দিয়েছিল। কাজেই তিনি কথায় কথায় অবৈধ দেখেন। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন যাতে না হয় এজন্য বাধা দিয়েছে তারা। তারপরও ৪০ভাগ ভোট দিয়েছে মানুষ। সম্প্রতি পত্রিকায় এসেছে আমেরিকায় কংগ্রেস নির্বাচনে ২৫ভাগ সিট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। তাহলে বলা যাবে আমেরিকার কংগ্রেস অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করেন ভাল কথা। তবে যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসীদের সঙ্গ ছাড়তে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। এদিকে জনসভাকে ঘিরে দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বিকালে জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের রাস্তায়। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিকিৎসায় অবহেলা রাস্তায় বাচ্চা প্রসব প্রসূতির by আবু হেনা মোস্তফা কামাল

সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে রিয়াদ হোসেন বলেন, শনিবার সকাল ১০ টায় তার স্ত্রী পারভীন সুলতানার প্রসব বেদনা উঠে। তিনি তাকে নিয়ে যান ডা. পরেশ চন্দ্র পাল এর স্ত্রী পেশাদার ধাত্রী রঞ্জু রাণী পালের বাসায়। রঞ্জু রাণী তার কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রোগীর পানি ভাংতে থাকে। তা দেখে রঞ্জু রাণী প্রসূতীর পেটে দড়ি বাঁধেন। এ সময় তিনি যানতে চান এখানে আসার আগে অন্য ডাক্তার দেখানো হয়েছে কিনা। জবাবে দেখানো হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে তিনি ক্ষেপে যান এবং প্রসূতি ও তার স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তার আচরণে ভীত হয়ে সন্ধ্যা ৬ টায় স্বজনরা প্রসূতিকে নিয়ে যান ফরিদগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতালে (প্রা:)।
সেখানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও সার্জিক্যাল ডাক্তার শায়লা জাহান প্রসূতীকে দেখে বলেন, এই মূহুর্তে দ্রুত অপারেশন করতে হবে ও পাঁচ ব্যাগ রক্ত লাগবে। প্রসূতির স্বজনরা রক্ত দিতে চাইলে তারা বলে এই রক্ত হবে না। চাঁদপুর থেকে রক্ত কিনে আনতে হবে টাকা দেন। এর মধ্যে ডা. শায়লা জাহান জানতে পারেন এই রোগীকে রঞ্জু রানী পালের কাছে নেয়া হয়েছে। এতে ডা. শায়লা জাহানও ক্ষেপে যান এবং তাদের সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এরপর তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় যান চাঁদপুরের মিডল্যান্ড (প্রা.) হাসপাতালে। সেখানেও প্রসূতি অপারেশন করা লাগবে বলে ভর্তি করা হয় এবং দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। কিন্তু, রাত ১২ টায় বলা হয় এ রোগী তাদের পক্ষে অপারেশন করা সম্ভব হবে না। তারা প্রসূতীকে ঢাকা মোডক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
এতে ঢাকা রওয়ানা হয়ে পথিমধ্যে মতলব ফেরী ঘাটের নিকট এ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। এ সময় দ্রুত এ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে প্রসূতিকে নিয়ে একইভাবে পূর্বের প্রত্যেকটি প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটাছুটি করেন তারা। কেউ রোগী ভর্তি করতে চাননি। আবশেষে তারা যান চাঁদপুর জেনারেল হামপাতালে। সেখানে অনুনয় বিনয় করার পর প্রসূতি নারী কাটাসহ যাবতীয় চিকিৎসা দেয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনই সুস্থ্য আছে বলে তার স্বজনরা জানান। এদিকে, ডাক্তার, ধাত্রী ও প্রাইভেট হাসপাতালে বিপদগ্রস্ত রোগী নিয়ে এমনি নির্যাতন ও হয়রানিমূলক কর্মকান্ডের বিচার ও প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন তার স্বজনেরা। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও রিয়াদের আত্মীয় স্বজন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডার্লিং হারবারে হ্যালোইনের রাতে by হ্যাপি রহমান

>>হ্যালোইনের রাতে ডার্লিং হারবারে আতশবাজি

>>ডার্লিং হারবারে ভাসমান রেস্তোরাঁ
হারবার সেতুটি বহুকাল আগে ইংরেজদের তৈরি। কিন্তু কাঠামোগত দিক থেকে এটি এখনো মজবুত এবং শক্ত ভিত্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি কাঠ ও লোহার সমন্বয়ে তৈরি। নিচের দিকে স্টিল ও কাঠের পিলার রয়েছে। কাঠামোর অধিকাংশই কাঠ দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী। দক্ষ কারিগরেরা এগুলো তৈরি করেছেন। নিপুণ কারুকার্যখচিত কাঠের সঙ্গে স্টিলও ব্যবহৃত হয়েছে। সেতুটির মেঝে কংক্রিট-নির্মিত।
হারবার সেতুর দুই পাশ থেকেই নিচের দিকে নামা যায়। হারবার এলাকাটি নানা রকমের টাইলস বসিয়ে সেখানে কৃত্রিম ঝরনা, নানা রকমের কৃত্রিম গাছ এবং নানা রঙের আলোকসজ্জিত লাইট ব্যবহৃত হয়েছে।

সিডনি হারবারের ওপর উত্তর ও দক্ষিণ সিডনির মাঝে সংযোগ স্থাপনকারী দৃষ্টিনন্দন এই সেতু। এর দৈর্ঘ্য ১১৫০ মিটার এবং এর ওপর দিয়ে ট্রেন, গাড়ি, সাইকেল ও মানুষ চলাচলের রাস্তা আছে। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি রাত ১২টায় এই সেতুর ওপর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর বর্ণাঢ্য আতশবাজি অনুষ্ঠিত হয়।
সিডনির প্রাণকেন্দ্র ডার্লিং হারবার সত্যিই প্রকৃতির অপরূপ রূপসী কন্যা। ডার্লিং হারবার থেকে সামান্য দূরে (১০ মিনিটের হাঁটা পথ) ডার্লিং হারবার সিডনির প্রধান ফেরিঘাট। সিডনির অন্যতম প্রধান যাতায়াতের বাহন হচ্ছে ফেরি, যা প্রধানত ডার্লিং হারবারকেন্দ্রিক। আমি আর আমার মেয়ে অথৈ প্রতিবারই ফেরিতে করে ঘুরি। কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর তার চারপাশে নানা রঙের নানা আকারের ছোট-বড় পাথরের পাহাড়ঘেরা অপূর্ব ডার্লিং হারবার আমাকে হাতছানি দেয় বার বার। আমিও সাড়া দিই তার পাগলকরা রূপে।

সিডনির সুরম্য সব অট্টালিকা এবং নামকরা হোটেলগুলো এই হারবারকে ঘিরে। দর্শনীয় কয়েকটি স্থান যেমন-আকুয়ারিয়াম, ওয়াইল্ড লাইফ মিউজিয়াম, মাদাম তুসোর মিউজিয়াম, মেরিটাইম মিউজিয়াম ইত্যাদি এই হারবারের পাশে অবস্থিত। পর্যটনের ‘হপ অন হপ অফ’ বাসে চড়ে সিডনি সিবিডির চারপাশ ঘুরে ডার্লিং হারবারে আসা-যায়। হারবারে বেড়ানোর জন্য ছোট খেলনা ট্রেনের মতো ট্রেন আছে। আবার এখান থেকেই একটা মোনো রেলও ছেড়ে যায় সিডনি শহর কিছুটা ঘুরে দেখার জন্য। এখানে পর্যটকদের জন্য আছে চোখ ধাঁধানো সব রেস্তোরাঁ, চকচকে ঝকঝকে নামীদামি সব ব্র্যান্ডের দোকানপাট।
প্রচুর প্রমোদতরি হারবারের বুকে ঠাঁই নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গোনে পর্যটকদের জন্য। যেন সওদাগরের বজরা দূর অজানার উদ্দেশে রওনা হবে এখনি। শুধু বর্ষ বরণের সময় নয়, বিভিন্ন সময় বিশেষ দিনগুলোতেও ছোটখাটো আতশবাজির (ফায়ার ওয়ার্কস) আয়োজন করা হয়। পয়লা নভেম্বর শনিবার রাত নয়টায় পশ্চিমা কালচার হ্যালোইন ডেতে আয়োজন করা হয়েছিল আতশবাজির। এসব আতশবাজি হারবার সেতুর ব্যাপকতা, সৌন্দর্য ও আয়োজনের কাছে অবিশ্বাস্য ভালো লাগায় মন ভালো করে দেয় মুহূর্তেই। হারবার সেতুসহ সংলগ্ন বিশাল এলাকা বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছিল সেদিন। উপস্থিত পর্যটকদের আনন্দধ্বনি ও হাজারো সুরের মূর্ছনায় উৎসবমখুর আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে তার চারপাশ।
হ্যাপি রহমান
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনমানসিকতা ও আদালতের রায় by এরশাদ মজুমদার
সত্যের সাথে মিথ্যার লড়াই শুরু হয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকে। শয়তানেরও যাত্রা শুরু হয়েছে একই সময়ে। শয়তানের কাজই হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করে অন্যায় ও মিথ্যার পথে পরিচালিত করা। তার ব্যাপারে হুঁশিয়ার থাকার জন্য আল্লাহ পাক বারবার মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সে নির্দেশ সহজে মানুষ মানতে চায় না। এক শ্রেণীর শাসক আছেন, যারা মুসলমান হলেও জালেম। নিজ দেশের মানুষকে হত্যা করে, অত্যাচার করে তারা ভীত ও বোবা করে রাখতে চান।
মানবজাতির পিতা হজরত আদম আ:-এর দুই পুত্র। যিনি খোদাভক্ত বা সত্যপন্থী তাকে হত্যা করেছেন তিনি, যিনি শক্তিশালী। তা হলে শক্তির সাথে ন্যায় ও সত্যের লড়াই শুরু হয়েছে মানবজাতির সূচনালগ্নে। সে লড়াই আজো চলছে। তবে সত্য ও ন্যায়ের পরাজয় বা মৃত্যু কখনোই হবে না। সত্য হলো চিরঞ্জীব। কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের মরণ নেই। তবে সব মানুষ সত্যকে চিনতে ও বুঝতে পারে না। এথেন্সের সাধুসন্ত সত্যপ্রেমী সক্রেটিস বলেছিলেন, নিজেকে জানো বা চিনো। নো দাইসেল্ফ (Know thyself)। আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, ‘মান আরাফা নাফসাহু, ফাকাদ আরাফা রাব্বা’। নিজেকে জানতে বা চিনতে পারলেই প্রভু বা রবকে চিনতে পারবে। যে অন্তরে আলো নেই, সে অন্তর নিজেকে চিনতে পারে না। ফলে রবকেও চিনতে পারে না। শহীদ কবি হাল্লাজ বলেছিলেন,‘আনা আল হাক’। আমিই সত্য। সিংহাসন ত্যাগী রাজপুত্র গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, তোমরা আমাকে অনুসরণ করো,তাহলেই হবে, ইব্রাহিম বিন আদহাম সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন সত্যের সন্ধানে।
সক্রেটিসকে জীবন দিতে হয়েছিল সত্যকে রা করার জন্য। আদালত জালেম রাষ্ট্রকে রা করার জন্য সক্রেটিসকে হত্যা করেছিলেন। আদালত তাকে বলেছিলেন, আপনি যদি এথেন্স ত্যাগ করেন তাহলে আমরা আপনাকে মুক্ত করে দেবো। জেলার তাকে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর মাধ্যমে সত্যের মরণ হবে না। সুতরাং, আমার থাকা না থাকায় সত্যের কিছু আসে যায় না। মাত্র ক’দিন আগে আড়াই হাজার বছর পর সেই রায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই রায় সত্যবিরোধী ও ন্যায়ভ্রষ্ট। মনসুর হাল্লাজকে শরিয়ত বরখেলাফের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। বড়ই করুণ ছিল হাল্লাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য। শরীরের অঙ্গগুলো আগে কেটে ফেলা হয়। তারপর গলায় ছুরি চালানো হয়, কারো মতে ফাঁসি দেয়া হয়। এর পরে তেল ঢেলে দেহকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সে খলিফাকে আজ আর কারো মনে নেই; কিন্তু হাল্লাজের নাম এখন বিশ্ববাসী জানে। ইরাকে হাল্লাজের বিরাট রাজপ্রাসাদের মতো মাজার আছে। ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা রা: কে তখনকার শাসক দীর্ঘ আট বছর জেলে আটক রেখে হত্যা করেছেন।
আপনারা সবাই বিপ্লবী কবি কাজী নজরুলের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ পড়ুন। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করে নজরুলই প্রথম কবি ও সাংবাদিক, যিনি জেলে গিয়েছিলেন। নজরুল আজো আমাদের কাছে অবহেলিত। কারণ আমরা রাজশক্তির পূজারি। নোবেল বিজয়ী কবি, জমিদার ও সওদাগর আজো মহাসম্মানিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ৬৫ বছর পর সেই বহিষ্কার দেশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বারবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী বা সরকারদ্রোহী হিসেবে বহু বছর জেল খেটেছেন। ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে রাষ্ট্র বা সরকারদ্রোহী হিসেবে ফাঁসিতে জীবন দিয়েছেন, তারা আজ স্বাধীনতার বীর হিসেবে সম্মানিত। সে সময়েও আদালত ছিল, বিচারকও ছিলেন। তখনো আইন ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আইনের নতুন ব্যাখ্যা হয় এবং বিচারকেরা নতুন পরিস্থিতিতে নতুনভাবে বিচার করেন যা জনগণ অভিনন্দিত করে। ইতিহাসেরও পরিবর্তন হয় এবং নতুন ব্যাখ্যা দেয়া হয়। ইংরেজরা বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা দখল করেছিল ষড়যন্ত্র করে। সনাতনধর্মীরা তাদের সমর্থন দিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে তারা হত্যা করে পুতুল নবাবকে মতায় বসিয়ে সোনার বাংলাকে দরিদ্র বাংলায় পরিণত করেছে (হান্টার ও দাদাভাই নওরোজীর বই পড়ুন)। একই গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ইংরেজরা সারা ভারত দখল করেছিল। জালেম দুর্বৃত্ত কাইভ আত্মহত্যা করে ইতিহাসের কাঠগড়ায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তীকালে একই সম্প্রদায় মুক্তিযোদ্ধা সেজেছিল, আর ইতিহাস রচিত হয়েছিল মুসলমানদের খলনায়ক বানিয়ে। বাংলাদেশেও বহু আরবি নামধারী শিতি লোক মুসলিম লিগকে ইংরেজের তাঁবেদার বানিয়েছে। মতাসীন সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপরে শক্তি বলে প্রচার করে। এখন প্রতিদিন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত হচ্ছে।
ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই গণমানুষের মুক্তির কথা বলার কারণে রাসূল সা:-এর পরম আত্মীয়রা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে বারবার। মহাসত্যকে রা করার জন্য তিনি মাতৃভুমি ত্যাগ বা হিজরত করে মদিনা চলে যান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। আল্লাহ পাকের নবীরাসূলরা সবাই মিথ্যাপন্থীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, দেশত্যাগ করেছেন। ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তিনজনকেই সত্যের শত্রুরা হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের নাম কেউ জানে না বা মনে রাখে না; কিন্তু তিন খলিফাকে জগৎবাসী সম্মান করে আজো। প্রতিপ রাজনৈতিক শক্তির কারণে হজরত আলী রা:-এর কবর ৯০ বছর গোপনে ছিল। এখন সেই কবরে লাখ লাখ ভক্ত জিয়ারত করে থাকেন। আর হত্যাকারী বিপ শক্তির কথা কেউ জানে না। মাত্র ৪৪ বছর আগে আমাদের মাতৃভুমি স্বাধীন হয়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। এখনো শোষক, জালেম ও অত্যাচারী গণতন্ত্রের লেবাসধারীরা মানুষের ওপর অবিচার চালিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেও সিভিল ডিক্টেটর আছেন। জগৎ বিখ্যাত সিভিল ও মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা আপনারা জানেন। শক্তি ও দমনই হলো শাসকদের দর্শন। জুলুমবাজরাই নিজেদের পে ইতিহাস রচনা করায়। ইতোমধ্যেই আমাদের ইতিহাস বিকৃত হয়ে গেছে। আমাদের দেশে এখন হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এমন কি ভুয়া সনদ দেখিয়ে কেউ কেউ সচিব হয়ে গেছেন। এখন দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার কিছু লোক মুজিবনগরের প্রবাসী সরকারকে স্বীকৃতি দেন না। তারা বলেন, মুজিবনগর সরকার কোনো মুক্তিযুদ্ধই করেনি। মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার একটা বই লিখে এখন নিন্দিত। অনেকে বলছেন,তিনি মুক্তিযুদ্ধই করেননি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের একজন অধিনায়ক লে: জেনারেল জিয়াকে একদল লোক ‘পাকিস্তানি চর’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। মুজিব বাহিনী নামে একটি বাহিনী ছিল যাদের সাথে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা দিল্লি সরকারের অধীনে ছিলেন। দিল্লির ভয় ছিল বঙ্গবন্ধু যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে না আসেন, তাহলে বামপন্থীরা বাংলাদেশের মতা দখল করতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে দেশের কত সম্পদের তি হয়েছে, কত লোক মারা গেছেন, কত নারী নির্যাতিত হয়েছেন, আজ পর্যন্ত তা কোনো সরকারই নির্ণয় করেনি বা করতে চায়নি। যে দেশে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয় না, সে দেশের ইতিহাস তো বিকৃত থাকবেই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়েই বিতর্ক শেষ হয় না। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ও এক ধরনের দলদাসরা মনে করেন, তারা ছাড়া আর কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেননি। চোখের দেখা মুক্তিযুদ্ধই এখন অচেনা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানাভাবে মিথ্যাচার হচ্ছে। এখন মূলত মুক্তিযুদ্ধ তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এখন হলো চেতনার যুগ। আর চেতনা মানে আপনি ধর্মমুক্ত থাকবেন, আওয়ামী লীগের পে থাকবেন, মঞ্চ করবেন, ব্লগার হয়ে ইসলাম, রাসূল সা: ও আল্লাহ পাকের বিরুদ্ধে লিখবেন। আপনি মহাশক্তিশালী লতিফ সিদ্দিকীর মতো ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে ভারতে আশ্রয় নেবেন, যেমন আশ্রয় নিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশের গুণ্ডা পাণ্ডারাও ভারতে আশ্রয় পায়। বহু অপরাধী রাষ্ট্রপতির মা লাভ করেছে। তারা দুর্বৃত্ত হলেও দলদাস। তাই তারা মা পায়।
কোনো কোনো দেশের আদালত সম্পর্কে জনসাধারণ বা ভুক্তভোগীদের মত হলো, আদালত গরিব ও মতাহীনদের জন্য নয় এবং আদালত মানে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা। বছরের পর বছর টাকা ব্যয় করার জায়গা। আদালতে বহুবার গিয়েছি। কখনো মানহানির মামলায়, কখনো সরকারি কর্মচারীর কর্তব্যকর্মে বাধা দেয়া,কখনো রাষ্ট্রের তি করার অভিযোগ। এমনকি জুমাতুল বিদার দিন গ্রেফতার হয়ে আদালতে গিয়েছি। ছুটির দিন আদালত নেই। পরে জানতে পারলাম, একজন বিচারক আসবেন। ইফতারির কয়েক মিনিট আগে জামিন পেয়েছিলাম।
বেশ কিছুকাল আগে, আদালত নিয়ে লিখেছিলাম যখন খায়রুল হক সাহেব প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সজ্জন ব্যক্তি; কিন্তু বিচারপতি হিসেবে সুনাম কামানোর সৌভাগ্য তার হয়নি; যেমন সুনাম ও সম্মান হয়েছিল, বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী, বিচারপতি এস,এম মোর্শেদ, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন ও বিচারপতি বদরুল হায়দার সাহেবের। এখন তেমন বিচারপতি আর নেই। পাকিস্তান আমলে কায়ানী সাহেব সুনাম কামিয়েছিলেন। একবার খবরের কাগজের মাধ্যমে জানতে পারলাম, খায়রুল হক সাহেব ইয়া আদলু, ইয়া আদলু বলতে বলতে আদালতে ওঠেন। অথচ তিনি যে আদালতে বসেন, তা আল্লাহর আদালত নয়। বিচারব্যবস্থাও আল্লাহ নির্দেশিত পথে নয়। একটি আইনও আল্লাহর নয়। প্রায় সব আইন হচ্ছে ইংরেজ আমলের উত্তরাধিকার।
আদলু আল্লাহ পাকের একটি গুণবাচক নাম। মানে, তিনি বিচারকও। আল্লাহ পাক মানবজাতিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তোমরা যে অপরাধ করেছ তার হিসাব তোমাদের দেয়া হবে। দেখবে এতে এক জররাও ভুল থাকবে না। ফেরেশতারা ছাড়াও তোমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গই সাী দেবে তোমাদের কৃত কর্মের। তোমার অপরাধের কিতাব দেখে নিজেই নিজের বিচার করতে পারবে। তোমাদের প্রতি এক বিন্দুও অবিচার করা হবে না। জগতে বিচারব্যবস্থা কী রকম হবে আর বিচারক কারা হবেন তাও আল কুরআনে বর্ণিত আছে। আদল মানে ন্যায়বিচার। আল্লাহ পাক বলেন, ‘তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে করবে। আল্লাহ তোমাদের যে উপদেশ দেন, তা কত উৎকৃষ্ট’ ( সূরা নিসা ৪ : ৫৮)।
‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাীস্বরূপ, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়, সে বিত্তবান হোক বা বিত্তহীন হোক’ আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুগামী হবে না। যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বলো অথবা পাশ কেটে যাও তবে তোমরা যা করো আল্লাহ তো তার সম্যক খবর রাখেন’ (সূরা নিসা ৪ : ১৩৫)। আল্লাহর রাসূল সা: বলেন, বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতি। আর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামি হবেন। জান্নাতি বিচারক হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি হক (সত্য) জেনে সেই মোতাবেক ফায়সালা করেন। যে ব্যক্তি হক জানা সত্ত্বেও আদেশ দানের েেত্র অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তিনিও জাহান্নামি হবেন। যে ব্যক্তি অজ্ঞ অবস্থায় বিচারকার্য সম্পাদন করেন তিনিও জাহান্নামি হবেন। নবীজী সা: আরো বলেন, বিচারক অন্যায় না করা পর্যন্ত আল্লাহ পাক তাকে সাহায্য করেন। যখন বিচারক জালেম হয়ে যান, তখন তাকে আল্লাহ সাহায্য করেন না।
আইন কানুন যতই শক্তিশালী হোক না কেন, উপযুক্ত বিচারকের ওপরই এর ন্যায় কার্যকারিতা নির্ভর করে। নবীজী সা: হজরত আলী রা:কে ইয়েমেনের বিচারক নিযুক্ত করলে হজরত আলী রা: বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন। অথচ আমার বয়স কম। বিচার সম্পর্কে আমার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা নেই।’ তখন আল্লাহর রাসূল সা: বললেন, আল্লাহ তায়ালা অচিরেই তোমার অন্তরে হিদায়েতের নূর পয়দা করে দেবেন এবং তোমার জবানকে বিচারের বিষয়ে সুদৃঢ় করে দেবেন। হজরত আলী রা: বলেন, এর পর থেকে কখনো বিচার নিষ্পত্তির ব্যাপারে দ্বিধা সংশয়ে পড়িনি।
প্রিয় পাঠক, আমাদের বিচারব্যবস্থা এবং নিয়োগকারীদের সম্পর্কে একবার ভাবুন। আল্লাহ, রাসূল সা: ও কুরআনের পথে বা ন্যায়ের পথে আমরা কতটুকু আছি। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আমাদের শাসক ও বিচারকেরা বলবেন, আমাদের আইন ও আদালত তৈরি করেছে মূলত ব্রিটিশরা তাদের দখলদারিত্বকে শক্তিশালী করার জন্য। সে আইন আজো জারি আছে। শাসক আর রাজার হুকুমই আইন। ইংল্যান্ডের রাজা গির্জায় প্রবেশ করে বহু যাজককে হত্যা করেছেন। আমাদের দেশেও আদালত আক্রান্ত হয়। অ্যাসেম্বলিতে স্পিকারকে হত্যা করা হয়। ইংল্যান্ডের রাজাও স্পিকারকে হত্যা করেছেন।
আমরা দাবি করি বাংলাদেশ মুসলমানের দেশ। কারণ অধিবাসীদের ৯০ ভাগ মুসলমান। অথচ এ দেশে কোনো আইনই কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক নয়। ভারতে খোরপোষের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট কুরআনের নির্দেশ মোতাবেক রায় দিয়েছেন। আর বাংলাদেশে খোরপোষ ও ফতোয়ার মামলায় আদালত তা করেননি। বাংলাদেশে আদালত ও বিচারকেরা সংবিধান মোতাবেক রায় দেন। আর সংবিধান মানুষকে সার্বভৌম মতার অধিকারী করেছে, আল্লাহকে নয়। এ দেশের একজন কবি আজানের বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছিলেন, সরকার তাকে পুরস্কৃত করে। আখেরাতেই দেখা যাবে কে আল্লাহর পথে আছেন, আর কে আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর বিরুদ্ধে আছেন। হে মজলুমগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো।’ মজলুমের আহাজারিতে খোদার আরশ কেঁপে ওঠে।
লেখক : কবি ও ঐতিহ্য গবেষক
ershadmz@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি by গোলাপ মুনীর
১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত প্রবাসী প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিলের বিশেষ অতিরিক্ত অধিবেশনে ‘রাষ্ট্র ফিলিস্তিন’ গঠনের লক্ষ্যে দেয়া ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে এর প্রতি বিশ্বসম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায় ছিল পিএলও’র অন্যতম লক্ষ্য। ফিলিস্তিনের এই স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বিপুলসংখ্যক দেশ রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। সে বছর এসব স্বীকৃতিদাতা দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০টি। পরের বছর ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি পিএলও প্রতিনিধি জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফেব্রুয়ারি নাগাদ ৯৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে দাবি করেন। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার লক্ষ্যে ইসরাইল ও পিএলও’র মধ্যে ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত হয় অসলো চুক্তি। ১৯৯৪ সালে গঠিত হয় প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল অথরিটি (পিএনএ), যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ শুরু করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বশাসিত প্রশাসন হিসেবে; কিন্তু ইসরাইল রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ডি-ফেক্টো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এমনকি পিএনএ প্রশাসনের তথা সরকারের আওতাধীন এলাকায়ও ইসরাইল এ ডি-ফেক্টো নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখে চলেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ৩০ অক্টোবর সুইডেনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতিসঙ্ঘের ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৩৫টি দেশের স্বীকৃতি আদায় পূরণ হলো। আশা করা যাচ্ছে, সুইডেনের উদাহরণ অনুসরণ করে বিশ্বের অন্যান্য দেশ দ্রুত ফিলিস্তিনের প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণা করে যেমন ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইসরাইলের অমানবিক নির্যাতনের পথ চিরতরে বন্ধ করার জন্য এগিয়ে আসবে, তেমনি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ঘোষণা করবে।
একটু পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের ২২ নভেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৩২৩৬ নম্বর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, জাতীয় স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয়। এ প্রস্তাবে পিএলওকে ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করা হয়। সেই সাথে পিএলও জাতিসঙ্ঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদাও দেয়া হয়। ফিলিস্তিন স্বাধীনতার সে ঘোষণাটি স্বীকার পিএলও’র প্যালেস্টাইন ডিজাইনেশনিটিও জাতিসঙ্ঘ মেনে নেয় ১৯৮৮ সালে; কিন্তু ঘোষিত রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক স্ট্যাটাস নেই জাতিসঙ্ঘ ব্যবস্থায়।
১৯৮৮ সালের স্বাধীনতা ঘোষণার সামান্য পর অনেক আফ্রিকা ও এশীয় উন্নয়নশীল দেশ এবং একই সাথে কমিউনিস্ট ও অকমিউনিস্ট দেশও স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এর বিদেশী সহায়তা আইন ও অন্যান্য পদক্ষেপ প্রয়োগ করে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিরুৎসাহিত করছে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে। যুক্তরাষ্ট্রের এ কৌশল অনেক ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে। তবে আরব লিগ ও ওআইসিভুক্ত দেশগুলো ফিলিস্তিনের প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে বিবৃতি দিয়ে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও সহায়তার কথা ঘোষণা করে। সেই সাথে এ দুই ফোরামই ফিলিস্তিনকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।
১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি ফিলিস্তিনকে ৯৪টি দেশের স্বীকৃতির কথা জানায়। পরবর্তী সময় ফিলিস্তিন পদক্ষেপ নেয় জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ পাওয়ার জন্য; কিন্তু সেখানেও আসে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিÑ জাতিসঙ্ঘের কোনো সংস্থা ফিলিস্তিনকে সদস্যপদ দিলে সে সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তহবিল জোগানো বন্ধ করে দেবে। উদাহরণ টেনে বলা যায়, ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে পিএলও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদের জন্য আবেদন করলে, যুক্তরাষ্ট্র ওই সংস্থাকে সে কথা জানিয়ে দেয়। সেই মাসে ফিলিস্তিনের হয়ে ওআইসি সদস্য দেশের একটি গ্রুপ ইউনেস্কোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে, এবং তাতে উল্লেখ করা হয় মোট ৯১টি দেশ তখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই বছরের জন্য সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে জেনেভা কনভেনশন ১৯৪৯-এর জন্য লেটারস অব অ্যাক্সেসন পেশ করে; কিন্তু ডিপোজিটরি স্টেট হিসেবে সুইজারল্যান্ড জানিয়ে দেয়, যেহেতু আন্তর্জাতিক সমাজে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রত্বের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত, তাই এই লেটারস অব অ্যাক্সেসন বৈধ কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আছে কি নেই, এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলে কোনো স্থির সিদ্ধান্ত না থাকার অজুহাতে এখানে ইউনেস্কোর সদস্যপদ লাভের ব্যাপারটি আটকে দেয়া হয়। এর ফলে আরব লিগ ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে পিএলওকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দানের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। এই খসড়া প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র আবারো হুমকি দেয়Ñ এ ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘে ভোটাভুটি হলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘে তহবিল দেয়া বন্ধ করে দেবে। আরব দেশ এ প্রস্তাব প্রত্যাহারে সম্মত হয়, তবে দাবি জানানো হয় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে জাতিসঙ্ঘকে আর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়া হবে না।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতিসংক্রান্ত অনেক বিবৃতিকে বিবেচনা করা হয় অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থক ও অভিপ্রায়প্রবণ হিসেবে। তা ছাড়া অনেক রাষ্ট্র এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধাগ্রস্ত। এর অর্থ এই নয়, এসব দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ইসরাইলের অবস্থান কী? ১৯৬৭ সালের ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ এবং ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির মধ্যবর্তী সময়ে কোনো ইসরাইলি সরকারই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেয়নি। এমনকি ১৯৯৪ সালে প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল অথোরিটি (পিএনএ) প্রতিষ্ঠার পর ইসরাইলের বেশির ভাগ মূলধারার রাজনীতিবিদ এ ধারণার বিরোধিতা করেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের আমলে তার আগের দুই সরকারকে অর্থাৎ রবিন ও পেরেজের সরকার অভিযুক্ত করে বলা হয়, এরাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নামের ‘বিপদ’ বাস্তবায়নের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে স্বায়ত্তশাসনের গণ্ডির বাইরে যেতে না দেয়া।
তবে ২০০১ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যারিয়েল শ্যারন ঘোষণা করেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হচ্ছে এ দ্বন্দ্বের সমাধান এবং তার প্রশাসনের লক্ষ্যও তাই। এহুদ ওলমার্টের নেতৃত্বাধীন সরকার একই উদ্দেশ্যের কথা পুনরুল্লেখ করে। ২০০৯ সালে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার আবার দাবি করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরাইলের জন্য ‘বিপদ’। তা সত্ত্বেও সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে ওবামা প্রশাসন থেকে বাধা আসার পর। ২০০৯ সালের ১৪ জুন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো একটি বক্তব্য দিয়ে সামরিক বাহিনীবিহীন ও আরো ুদ্রায়তনের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানান। এই অবস্থান সমালোচনার মুখে পড়ে। কারণ, তার বক্তব্যে দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না।
সে যাই হোক, ইসরাইল এ সাধারণ ধারণা মেনে নিয়েছেÑ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কিন্তু ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব সময়ের সীমানা মেনে নিতে অস্বীকার করছে। এ ক্ষেত্রে অজুহাত খাড়া করছে নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনে। ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ১৯৬৭ সালের বর্ডার কৌশলগতভাবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষার উপযোগী নয়। ইসরাইল আপত্তি করছে জাতিসঙ্ঘের কাছে দেয়া ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রত্ব সম্পর্কিত ফিলিস্তিনি পরিকল্পনার ব্যাপারেও। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য শক্তি। ফিলিস্তিন প্রশ্নে এ ইউনিয়নের অবস্থান একটি উল্লেখযোগ্য বিবেচ্য। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে সুইডেন। এর অর্থ এ ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ইইউ বিদেশনীতি-প্রধান জেভিয়ার সোলানা জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানান একটি সুনির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য। যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। এ সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে সমাধান দেবে আন্তর্জাতিক সমাজ। নির্ধারিত তারিখের পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস করে জাতিসঙ্ঘের পূর্ণ সদস্য করা হবে ফিলিস্তিনকে এবং তা বাস্তবায়নের তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হবে। ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাত প্রশ্নে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ইইউ’র এ সম্পর্কিত নীতির প্রতিফলন রয়েছে। এতে জোর দেয়া হয়, ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’-এর ওপর এবং বলা হয়, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তে ও জেরুসালেমের সীমান্তে কোনো পরিবর্তন ইইউ মেনে নেবে না, যদি বিবদমান পক্ষ দু’টি ভিন্ন কিছু মেনে না নেয়। ইইউ আবার স্মরণ করিয়ে দেয়, ইইউ কখনোই পূর্ব জেরুসালেমের একীভূতকরণকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী অবশ্যই থাকতে হবে জেরুসালেমে। ২০১০ সালের জিসেম্বরে ইইউ কাউন্সিল আবার জোর দিয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে এবং ঘোষণা করে যথাসময়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে ইইউ প্রস্তুত। তবে ইইউ উভয়পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছার ব্যাপারে উৎসাহিত করে। ২০১০ সালের পর আরো চারটি বছর কেটে গেছে। এবার প্রথম ইইউ দেশ হিসেবে সুইডেনের স্বীকৃত পেল ফিলিস্তিন। আমরা আশা করব, ইইউ এবার সুইডেনকে অনুসরণ করে আর দেরি না করেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃত দিয়ে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্ঘাতের অবসানপ্রক্রিয়াকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা জানি, ইইউ হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের সহায়তা দানে এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতাগোষ্ঠী। একইভাবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ১৯৬৭-পূর্ব সীমানায় ফিরে যাওয়া, দখল করা ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি স্থাপন ও ইতোমধ্যে স্থাপিত বসতির অপসারণ এবং জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে ইইউ বড় মাপের ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সাথে বিশ্বের বিবেকবান মানুষ চায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৃহৎশক্তিগুলো ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালে ইসরাইলি বর্বরবতার অবসান ঘটবে। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দু’টি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে নাগরিক সাধারণের শক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
বিশ্ববাসী জানে, পাঁচ শ’ বছর ধরে ইউরোপ মহাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে নিগৃহীত হয়েছে গোটা ইহুদি জাতি গোষ্ঠী। দুই বিশ্বযুদ্ধে এরা শিকার হয়েছে সীমাহীন নিগ্রহ, নির্যাতন ও গণহত্যার। ইউরোপীয় রাষ্ট্রশক্তি এখন এই ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে এনে ফিলিস্তিনিদের একই ধরনের নির্যাতনের শিকারে পরিণত হতে দিলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পাপের বোঝা দ্বিগুণে পৌঁছবে। শোধরানোর পথ হবে বন্ধ। তাই বিশ্বের প্রতিটি দেশ, বিশেষ করে বিশ্বমোড়ল বলে পরিচিত দেশগুলো মিলে থামাতে হবে মানবতার শত্রু ইসরাইলকে। গড়তে হবে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুসলিম ইতিহাসে রাষ্ট্র ও ইসলাম by শাহ আব্দুল হান্নান
সূরা কাফিরুন নাজিলের পটভূমিকা সম্পর্কে ইবনে হাতিম, তাবারানি, তাফসির ইবনে জারির ও ইবনে হিশামের সিরাতে উল্লেখ রয়েছে, মক্কার অমুসলিম নেতারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাতে তারা বলেছিলেন, তারা মুসলিমদের সাথে এক বছর আল্লাহর ইবাদত করবেন; পরের বছর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমদের লাত ও উজ্জার পূজা করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা সূরা কাফিরুন নাজিল করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, এ ধরনের ইবাদতের মিশ্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ এবং লাত-উজ্জার ইবাদত এক সাথে করা যায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘হে রাসূল! আপনি বলুন, হে কাফের সম্প্রদায়, তোমরা যাদের ইবাদত করো, আমি তাদের ইবাদত করি না। আমি যার ইবাদত করি, তোমরা তার ইবাদত করো না।... তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য এবং আমার দ্বীন আমার জন্য।’
এ সূরায় মূলত ইবাদত পদ্ধতির মিশ্রণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেকে তার ইবাদতের ক্ষেত্রে স্বাধীন তা-ও বলা হয়েছে। এ সূরার অন্য কোনো তাৎপর্য নেই। যদি এর অর্থ সেকুলারিজম (রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ধর্ম বর্জনবাদ) হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনা গিয়েই একটি রাষ্ট্র গঠন করতেন না। আমরা সবাই ‘মদিনা সনদ’-এর কথা জানি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে জারি করেছিলেন। এ সনদের মূল কথা ছিল নিম্নরূপ :
১. সব মুসলিম এক উম্মাহ (একটি আদর্শভিত্তিক জাতি); ২. ইহুদিদের অধিকার সমান, তাদের ওপর অত্যাচার করা যাবে না এবং তাদের শত্রুদের সাহায্য করা যাবে না; ৩. ইহুদি ও মুসলিমরা মিলে একটি মিল্লাত (তারা একই রাজনৈতিক ও জাতীয়তা অর্থাৎ মদিনা রাষ্ট্রের নাগরিক); ৪. তারা মিলিতভাবে মদিনাকে রক্ষা করবে; ৫. সনদের আওতাধীন সবার জন্য এ শহর হবে নিরাপত্তার স্থান; ৬. সব মতবিরোধপূর্ণ বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হবে।
মদিনা রাষ্ট্রটির আইন ছিল ইসলামি আইন। তবে ইহুদিদের ব্যক্তিগত আইন তাদের শরিয়াহ মোতাবেক নির্ধারিত হতো। এ অবস্থা খেলাফতে রাশিদিনের সময় পরিবর্তন করা হয়নি। তারা সবাই শাসক হিসেবে ইসলামকেই অনুসরণ করতেন। রাষ্ট্রের আইন ছিল কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক। এর বাইরে আইনের প্রয়োজন হলে তা ইজতিহাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো। অসংখ্য নতুন বিধান তারা করেছিলেন। এসবের বেশির ভাগই ছিল প্রশাসন সংক্রান্ত (ইসলামি আইনের পরিভাষায় এসব আইনকে ‘সিয়াসা আশশারিয়াহ’ বলে)। বিচারব্যবস্থা কাজীদের হাতে ছিল। তারাই ইসলামি আইনের ভিত্তিতে বিচার করতেন।
একই অবস্থা উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয়, ফাতিমীয়, মোগল আমলে অব্যাহত ছিল; এমনকি বাংলাদেশের সুলতানি আমলেও। ইসলামি আইনই রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল। কাজীরাই বিচার করতেন। ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এসব রাষ্ট্রের মূল বৈশিষ্ট্য ইসলাম ও ইসলামি আইনই ছিল।
মুসলিম ইতিহাসে রাষ্ট্র ও ইসলাম কখনোই বিচ্ছিন্ন ছিল নাÑ সে রাষ্ট্রের শাসক সুন্নি, শিয়া, খারিজি যা-ই হোন না কেন, এর পরিবর্তন ঘটেছে উপনিবেশবাদের সময়। যা হোক, ইসলামে বিষয়টি বিতর্কমূলক নয়। বিষয়টিকে বিতর্কিত না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।
লেখক : সাবেক সচিব
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেল হত্যা দিবস by মোহাম্মদ আবু জাফর
১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনের প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী পটপরিবর্তন ঘটেছিল। এই ঘটনায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও সে রাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। তাদের মধ্যে ছিলেন পূর্বোক্ত চারজন শীর্ষ নেতাও। তারা সবাই ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তখন ক্ষমতাসীন ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগেরই একাংশ। কোনো কোনো ইস্যুতে এ সময়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে কিছু গ্রুপিং ও অসন্তোষ জন্ম নেয়, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে নভেম্বরের প্রথম দিকে চরমে ওঠে। এর পাশাপাশি, উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতি ছাড়াও রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা গুজব-গুঞ্জরণ মিলে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ২ নভেম্বর রোববার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ একদল সশস্ত্র ঘাতক গাড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে পড়ে। এটা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, এক কথায় নজিরবিহীন। ঘাতকেরা কারাগারে বন্দী চার নেতা সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী, তাজউদ্দীন ও কামরুজ্জামানের কক্ষের দিকে ছুটে যায়। তারা তাদেরকে একত্র করেই গুলি চালায়। মুহূর্তেই তাদের দেহ হয়ে যায় ঝাঁজরা এবং সাথে সাথেই তারা মৃত্যুবরণ করেন।
জেল হত্যার অসহায় শিকার যে নেতৃবর্গ, তারা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের প্রত্যেকে প্রথমে মুসলিম লীগ কর্মী হিসেবে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে; এরপর আওয়ামী (মুসলিম) লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ভাষা আন্দোলন এবং গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির এই নেতৃবৃন্দ আমাদের স্বাধিকার সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে বঙ্গবন্ধুর সহকর্মীরূপে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তখন মুজিবনগরকেন্দ্রিক অস্থায়ী প্রবাসী সরকারে সৈয়দ নজরুল ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাজউদ্দীন পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব। আর মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান যথাক্রমে ছিলেন অর্থমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী।
একজন সাধারণ মানুষ, এমনকি কোনো জঘন্য অপরাধীও কারাগারে বন্দী থাকাকালে তার মানবাধিকার ুণœ করা যায় না। আর সশস্ত্র আততায়ী সদর দরজা দিয়ে জোর করে ঢুকে জেলবন্দী কোনো ব্যক্তিকে হতাহত করা তো অকল্পনীয়। এই দৃষ্টিতে ’৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকার জেল হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরাট ট্র্যাজেডি। জাতি আশা করে, আর কোনো দিন এমন শোকাবহ ও বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্মরণ- বিজ্ঞানী মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমিই বেকুব হলাম’ -ডেভিড বার্গম্যান

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যক্তি-হত্যা নয়, একটি জাতিসত্তা-হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
এই সাক্ষাৎকারের এক মাস না যেতেই বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। তারপর তিন মাস না ফুরোতেই জেলের ভেতর চার জাতীয় নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু। তারপর থেকে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এবং জেলহত্যার ৩ নভেম্বর তারিখটি ঘুরে এলেই বঙ্গবন্ধুর ওই কথা কটি আমার মনে পড়ে। এখন আর বিশ্লেষণ-ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না যে, ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেরই পরিণতি। দুটি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এবং এই কারবালা-কাণ্ড কোনো ব্যক্তি হত্যাও নয়। এটা ছিল একটি নতুন স্বাধীন হওয়া জাতির সত্তা ও ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর যদি ঘাতকরা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড না ঘটাতো, তাহলে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম বাংলাদেশের জন্য যে ইতিহাস তৈরি করেছে, সেই ইতিহাসকে দীর্ঘদিনের জন্য বিস্মৃতির আড়ালে চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের জেলে নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মুক্তি সংগ্রাম বন্ধ করা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য সহকর্মী তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অব.) মনসুর আলী প্রমুখের নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছে, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ চালিত হয়েছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে।
১৯৭৫ সালেও কেবল বঙ্গবন্ধু এবং শেখ ফজলুল হক মনিসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে পাকিস্তানের অনুচর মুষ্টিমেয় বাঙালি সামরিক অফিসার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারতো না। জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে যে গণঅভ্যুত্থান হতো তাতে সেনা অভ্যুত্থান হতো প্রতিহত এবং ঘাতক ফারুক, রশীদ, ডালিম গংসহ তাদের সামরিক পৃষ্ঠপোষক জেনারেল জিয়াউর রহমান, রাজনৈতিক সহচর খন্দকার মোশতাকসহ অনেককেই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো। এই
সম্ভাবনা রোধ করার জন্যই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এবং বঙ্গবন্ধু যে বলেছিলেন দীর্ঘকালের জন্য ইতিহাস থেকে তাদের
মুছে ফেলা হবে, ঘাতকরা ক্ষমতা দখল করে সেই চেষ্টাই শুরু করেছিল।
পরেশ সাহা ছিলেন আমার এক সাংবাদিক বন্ধু। দীর্ঘকাল কলকাতায় দৈনিক যুগান্তর (অধুনালুপ্ত) পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু-হত্যার ওপর একটি বইও লিখেছেন। তিনি ঢাকায় জেলহত্যার পর যুগান্তরে তার কলামে লিখেছিলেন, ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড যদি প্রতিহত করা যেত এবং তাজউদ্দীন আহমদসহ চার জাতীয় নেতাকে কারামুক্ত করা যেত, তাহলে পাকিস্তানের গোয়েন্দাচক্র এবং মার্কিন সিআইএর মদদ সত্ত্বেও বাংলাদেশে ঘাতকচক্র ক্ষমতা ধরে রাখতে পারত না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কিসিঞ্জার-পরিকল্পনা আরেকটি পরাজয়বরণ করত।
পরেশ সাহা ছিলেন কলকাতার যুগান্তর পত্রিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বাংলাদেশ সম্পর্কে ছিল তার গভীর দরদ। কাদের সিদ্দিকীরও তিনি বন্ধু ছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং তেসরা নভেম্বর নিয়ে তিনি লিখেছেন, ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তার একটি উপমহাদেশীয় প্রতিক্রিয়াও ঘটেছে। বাংলাদেশে ৩ নভেম্বরের বিপর্যয় ঘটানো সম্ভব হওয়াতেই সিআইএর সাহস ও শক্তি বাড়ে। শুরু হয় ভারতেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার চেষ্টা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতের শিখ সেনাপতিকে দিয়েই বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বর্ণমন্দির বিদ্রোহ ঘটানো হয়। পরিণতিতে ইন্দিরা একবার নির্বাচনে পরাজিত এবং পরে শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন। গোটা উপমহাদেশেই রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। বাংলাদেশের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর তার সূচক। পরেশ সাহার এই বিশ্লেষণের সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করি বলেই দীর্ঘকাল পর তার দুটি লেখার উদ্ধৃতি দিলাম। কেউ কেউ বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনার সময় মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল ওসমানী এবং জিয়াউর রহমানসহ অন্য সেক্টর কমান্ডারদের ভূমিকাও ঘাতকদের ক্ষমতা দখলে বাধা সৃষ্টি করেনি। সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ কার্যত ঘাতকদের হাতে আটক ছিলেন। উপ-সেনাপ্রধান জেনালের জিয়াউর রহমান ছিলেন ঘাতকদের কোলাবরেটর। অন্যান্য সেক্টর কমান্ডার, বিশেষ করে ব্রিগেডিয়ার জেনালেল খালেদ মোশাররফের ভূমিকা তখন কী ছিল এই প্রশ্নটির মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিক বীরত্ব প্রদর্শনকারী খালেদ মোশাররফ ছিলেন রাজনীতি-সচেতন ব্যক্তিও। তিনি জিয়াউর রহমানদের চক্রান্তে এবং তখনকার জাসদ-নেতাদের অবিমৃষ্যকারিতায় ভেঙে পড়া সামরিক বাহিনীর কমান্ড পুনর্গঠনে তার কে ফোর্স নিয়ে আগে কেন সক্রিয় হননি এ প্রশ্নও কেউ কেউ তোলেন। অনেক পরে স্বল্পকালের জন্য ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি নিজেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করার জন্য অযথা সময় নষ্ট করেছেন। ধূর্ত জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দি অবস্থায় না রেখে দ্রুত কোনো সুরক্ষিত বন্দি নিবাসে পাঠাননি। জেলে বন্দি চার নেতাকে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি দেয়ার সময় হয়তো তিনি পাননি। তার ওপর সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় বিদ্রোহী সেনাদের প্রস্তাবিত গোপন স্থানে আলোচনার জন্য গিয়ে তিনি সঙ্গীদেরসহ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড এবং ক্ষমতা পুনর্দখল নিয়েও ঘাতকরা উৎসবে মেতে ওঠে। তাকে নাম দেয়া হয় সিপাহি-জনতার বিপ্লব।
সন্দেহ নেই ৩ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষার দিন। এই দিন যদি জেলহত্যা নিবারণ করা যেত, দেশপ্রেমিক জেনালের খালেদ মোশাররফ সেনাবাহিনীর বিধ্বস্ত কমান্ড পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ দ্রুত করতে পারতেন, জিয়া ও মোশতাকসহ ঘাতকদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করে জাতীয় নেতাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারতেন, তাহলে শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা উপমহাদেশের ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো। এমনও হতে পারত, ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোকেও হত্যা করা সম্ভব হতো না; বরং উপমহাদেশের দেশগুলোকে নিয়ে একটি ডেমোক্রেটিক কমনওয়েলথ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা শক্তিশালী হতো। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ব্যর্থ হতো। গোটা ভারত মহাসাগরীয় এলাকা নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর স্বপ্নের জোন অব পিস গড়ে উঠত। হতে পারে এটা আমার একটু বেশি আশাবাদ ছিল।
আজ আবার তেসরা নভেম্বর। বাংলাদেশে অনাড়ম্বরভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আজ জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইমলাম, কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন (অব.) মনসুর আলীকে প্রথাগতভাবে স্মরণ করা হবে। তাতে তেসরা নভেম্বরের আসল তাৎপর্যটি নতুন প্রজন্মকে বোঝানো যাবে না। আর তা বোঝানো না গেলে তা শুধু দিবস পালনেই পর্যবসিত হয়ে থাকবে। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাঙালির স্বাধীন জাতীয় সত্তা ধ্বংস করার যে অপচেষ্টা হয়েছিল, সেই চক্রান্ত ও চক্রান্তকারীদের সম্পর্কে জাতিকে সজাগ ও সতর্ক রাখা এখনও প্রয়োজন। কারণ, সেই চক্রান্ত এখনও শেষ হয়নি এবং চক্রান্তকারীরাও জাতীয় রাজনীতি থেকে নির্মূল হয়নি।
বার্নার্ডশ বলেছেন, ইতিহাসের বড় শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ কখনও শিক্ষা নেয় না। কিন্তু ৩ নভেম্বরের ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জাতীয় নেতাদের জীবনকথা স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং কেন তাদের জেলের ভেতরে মর্মান্তিকভাবে জীবন দিতে হল তার ইতিহাসও দেশের তরুণ প্রজন্মকে জানতে দিতে হবে। তাহলেই তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হবে না এবং পঁচাত্তরের ঘাতকদের অনুসারী ও সন্তানদের ইতহাস-বিকৃতির অপচেষ্টা সফল হবে না।
১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দেশদ্রোহী ঘাতক চক্র চেয়েছিল, বাঙালির স্বাধীন অস্তিত্বের নতুন ইতিহাস মুছে ফেলতে। তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। বরং এ দুটি দিবসই জাতির জন্য ইতিহাসের এক নতুন দীপশিখা জ্বেলেছে। যে দীপশিখা জাতিকে যুগ যুগ ধরে পথ দেখাবে।
লন্ডন ২ নভেম্বর, রোববার, ২০১৪
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নগর সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ by ধীরাজ কুমার নাথ
এ সমীক্ষায় উৎকণ্ঠিত হওয়ার মতো তথ্য হচ্ছে, ২০২৮ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাত কোটি ৯৫ লাখ লোক শহরে বসবাস করবে, যা বর্তমানে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ। অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা বাড়বে ব্যাপক হারে। গ্রামেগঞ্জে জনবসতি হ্রাস পাবে এবং শহরমুখী অভিবাসন ঘটবে দ্রুতগতিতে। বেশি সুযোগ-সুবিধা মানুষকে শহরের প্রতি আকৃষ্ট করবে। পরিবেশের বিপর্যয়ও জনগণকে শহরের দিকে ধাবমান করবে। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে এবং জনগণের কর্মপরিধিতে নতুন ক্ষেত্র ও মাত্রা সংযোজন হবে।
সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে, ৭৫ শতাংশ বস্তিবাসী মাত্র একটি ঘরে বসবাস করে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক বস্তিবাসী শৌচাগার ব্যবহার করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং তাদের জল নিষ্কাশন ও ময়লা আবর্জনা দূরীকরণের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। দুর্গন্ধ তাদের জীবনযাত্রার নিত্য সহচর।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রায় সব বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে এবং ৯০ শতাংশ গৃহে কমপক্ষে একটি মোবাইল ফোন আছে। বস্তিগুলোতে মোবাইল ফোনের হার ২০০৬ সালে ছিল ২০ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া বস্তির ৮০ শতাংশ মহিলা টেলিভিশন দেখে এবং তাদের ৪৯ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণীর ঊর্ধ্বে। উল্লেখ্য, বস্তিতে বসবাসকারী দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গ্রাম থেকে অভিবাসনের মাধ্যমে শহরে এসেছে। ঢাকার বস্তিতে বসবাসকারীদের প্রতি পাঁচজনের একজন এসেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ থেকে আসা বস্তিবাসীর সংখ্যা নগণ্য।
উৎসাহজনক বিষয় হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নগরবাসী ভালো অবস্থায় আছে। প্রায় ৫৮ শতাংশ বস্তিবাসী এবং ৫৩ শতাংশ শহরের অ-বস্তিবাসী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা পেয়ে থাকে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই তাদের প্রায় সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ রয়েছে, যা পল্লী এলাকায় কল্পনামাত্র।
স্বাস্থ্যসেবার সহজ প্রাপ্তি সরকারি ও বেসরকারি নগরায়নের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে প্রতিভাত হয় যে, প্রজনন প্রক্রিয়া, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যনীতির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবেই নগরবাসীর অগ্রগতি ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নগরে মোট প্রজনন হার ২০১০-১৩ সালে
মহিলা প্রতি দুইয়ে নেমে এসেছে এবং বস্তি এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহীতার হার ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আশা করা যায়, ২০১৬ সালের মধ্যে এ হার ৭২ শতাংশে উন্নীত হবে, যা হবে তৃতীয় বিশ্বে উদাহরণ। তবে জন্ম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহীতাদের মাঝে তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। যদিও গর্ভ-পূর্ব ও গর্ভ-পরবর্তী সেবা গ্রহীতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে এবং কোনো কোনো বস্তিতে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই এমন সেবা গ্রহণ করছে, যা থেকে প্রমাণিত হয় শহরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে।
কিন্তু কিশোরীদের মধ্যে সন্তান ধারণের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। বস্তি ও অন্যান্য শহর এলাকায় ২০ বছরের কম বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোরী মা হয়েছেন এবং বস্তি ও অবস্তি এলাকায় বিগত বছরগুলোতে
কিশোরী মাতৃত্ব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটি ভাবনার বিষয়। তবে সন্তান ধারণের আকাক্সক্ষায়
ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সিটি কর্পোরেশনের অ-বস্তি এলাকায় মহিলাপ্রতি গড় সন্তান বা টিএফআর সবচেয়ে কম, মাত্র ১.৭ এবং বস্তি এলাকায় বেশি, মাত্র ২ এবং অন্যান্য শহর এলাকায় মহিলাপ্রতি গড় সন্তান ১.৯ মাত্র। এ অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক।
শহরের লোকসংখ্যা বাড়ছে। জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বৃহত্তর ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা বর্তমানে এক কোটি ৭০ লাখ এবং এ সংখ্যা ২০৩০ সালে হবে দুই কোটি ৭০ লাখ। ঢাকা হবে বিশ্বের ষষ্ঠ ঘনবসতিপূর্ণ শহর। জনগণের অভিবাসন বা শহরমুখী জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্বাস্থ্যসেবার মান ধরে রাখতে পারবে কিনা তা ভাবনার বিষয়।
দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৬.৫ শতাংশ বর্তমানে (২০১৪) গ্রামে বসবাস করে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে শহরে বসবাসকারী ছিল মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ, যা বর্তমানে হয়েছে ২৮ শতাংশ এবং গবেষণা বলছে, ২০৩৯ সালের আগেই ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ শহরে বসবাস করবে। এর অর্থ হচ্ছে, বদলে যাবে জনগণের জীবনধারা, মানুষের
পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা। ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সময় গ্রাম বিরান
হওয়ায় শহরে আশ্রয় নিয়েছে
মানুষ, আজ তেমনি এক ক্রান্তিলগ্নে উপনীত বাংলাদেশ।
জনসংখ্যার শহরমুখী অভিবাসন বিভিন্ন কারণে বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও সরকার নিজেই দিনের পর দিন শহরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। হাট-বাজারগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছে। পৌরসভাকে মহানগরে উন্নীত করছে এবং এজন্য কিছু গ্রাম বা কৃষিজমিকে শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেমনটি করা হয়েছে গাজীপুর ও রংপুর মহানগরী ঘোষণার প্রাক্কালে। ১৯৭৪ সালে সারা বাংলাদেশে পৌরসভার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০, যা এখন হয়েছে ৩২১। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক গ্রামীণ মানুষকে শহরবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সরকার।
জনগণ শহরে আসেনি, শহর তাদের দুয়ারে গিয়ে ধরনা দিয়েছে। অথচ সরকার সেভাবে শহরের পয়ঃনিষ্কাশন, আবর্জনা দূরীকরণ, নগর পিতাদের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে মোটেই ভাবেনি। সরকার ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন জারি করেছে (২০০৯ সালের ৬০নং আইন)। জনস্বাস্থ্যসহ ২৮টি কাজ কর্পোরেশনের দায়িত্ব বলে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু তাদের ক্ষমতা প্রায় সবই স্থানীয় সরকারের হাতে রেখেছে। এমনকি সুপারসিড করার ক্ষমতাও রেখেছে সরকার নিজের হাতে।
সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার
ক্ষমতা একেবারেই সীমিত, আয়ের উৎস আরও কম। নগর পিতারা
স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী ও সচিবের
কাছে তদবির করেছে অহরহ টিকে থাকার স্বার্থে।
খারাপ স্বাস্থ্য দরিদ্রতার লক্ষণ। তাই দারিদ্র্য নিরসনের মূলনীতির বাস্তবায়ন করতে হলে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অবশ্যই উন্নতি ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ নগর স্বাস্থ্য সার্ভে থেকে প্রাপ্ত উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ
করে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। এ কাজে সরকারের একলা চলার নীতি গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
ধীরাজ কুমার নাথ : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক সচিব
dknath888@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব কালোটাকা ফিরিয়ে আনব
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদ্যুৎহীন দিন-রাত্রি
হঠাৎ এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ভারত থেকে আমদানিকৃত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সরবরাহজনিত ত্র“টিকে দায়ী করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অবশ্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্তে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ হয়তো উদঘাটিত হবে, তবে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের হিসাব মেলানো সম্ভব হবে কি? এদিন দুপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় রাজধানীতে ১শ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ এনে গুরুত্বপূর্ণ ভবন, কূটনৈতিক জোন প্রভৃতি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে ঘণ্টাখানেক চলার পর সঞ্চালন লাইন ও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে আবারও ট্রিপ করে সঞ্চালন লাইন। দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত বিদু্যুৎ উৎপাদন হলেও জরাজীর্ণ বিতরণ লাইনের কারণে তার সুফল থেকে গ্রাহকদের বঞ্চিত হওয়ার সংবাদ হতাশাজনক। জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বিতরণ লাইনের অবস্থা জরাজীর্ণ ও বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ না হওয়ায় পুরনো লাইন ওভারলোডেড হয়ে ঘন ঘন ট্রান্সফরমার জ্বলে যাওয়ার পাশাপাশি লাইন পুড়ে ও ছিঁড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব মতে, দেশে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন রয়েছে। এর অন্তত ৪০ শতাংশই জরাজীর্ণ। সরকারি হিসাব মতে, বিগত সাড়ে চার বছরে মাত্র ১০ শতাংশ বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অথচ এ সময়কালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, তাতে বিতরণ লাইন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে বিদ্যুতের চাহিদা ও বিতরণ ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত- এ নিয়ে দেশে আজ পর্যন্ত কোনো সমীক্ষা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ও বিতরণ ব্যবস্থার কলা-কৌশল সম্পর্কে সরকারের সঠিক কোনো ধারণা না থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরণ গ্রাহক চাহিদার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হচ্ছে না। বাস্তবসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকার এসব সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হবে- এটাই প্রত্যাশা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বুরকিনা ফাসোয় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
![]() |
| এবার সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে বুরকিনা ফাসোর জনগণ। স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট লে. কর্নেল আইজ্যাক জিদার বিরুদ্ধে রাজধানী ওয়াগাদগুতে গতকাল বিক্ষোভকরে হাজারো মানুষ। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
সেই কোনকালে কখন কীভাবে বাঙালির আদি পূর্বসূরিরা ধর্মচিন্তায় নিজেদের যুক্ত করেছিলেন, তা দিনক্ষণ দিয়ে নির্দিষ্ট করার উপায় নেই। তবে প্রাচীনকালে আদিমানবের মধ্যে যেভাবে ধর্মচিন্তার সূচনা হয়েছিল, বাঙালির ধর্মচিন্তার ধারা যে তার বাইরে ছিল না তা ইতিহাসের যুক্তিতেই অনুমান করা যায়। প্রাগৈতিহাসিক যুগের শিকারি মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়েছে। অস্তিত্বের প্রয়োজনেই শিকারকে সহজলভ্য করা ছিল তাদের কামনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে গিয়ে প্রায়ই তারা অসহায় হয়ে পড়ত। এসব কারণেই আদিমানব শিকারে সাফল্য লাভ করার জন্য কামনা করত অদৃশ্য কোনো শক্তির কৃপা। প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ ভিন্ন ভিন্ন শক্তির প্রতীক হিসেবে তার সামনে প্রকাশিত হতো। আদিমানব যখন কৃষি সভ্যতার সূচনা করল, তখন থেকে প্রকৃতি নির্ভরতা তার অনেকগুণ বেড়ে গেল। কৃষিজীবী মানুষের কাছে মাটি হল শক্তি, শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা দিল বৃষ্টি, সূর্য, নদী, বন্যা, বজ্র - সবকিছু। অসহায় মানুষের সামনে প্রকৃতি কখনও এসেছে চণ্ড রূপ নিয়ে, আবার কখনও মনে হয়েছে আশীর্বাদের প্রতীক। এভাবেই সে নিজের জীবন ও জীবিকার স্বাচ্ছন্দ্যের প্রত্যাশায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ওপর দেবত্ব আরোপ করতে থাকে। আর এভাবেই ক্রমান্বয়ে মানুষ সৃষ্টি করে ধর্মীয় ধারণা।
বাংলার আদিবাসীদের ধর্মীয় আচরণ অনুসন্ধান করলে এরই প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন ফুল-ফল, পশুপাখি, পাহাড়-পর্বত, নদী, বৃক্ষ সবকিছুই পরিণত হয় দেবতায়। আর এসব দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য নিজেদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানা আচার-অনুষ্ঠানের পূজা পার্বণের আয়োজন করত তারা। বাংলাদেশের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর ভেতর এই প্রকৃতি পূজার রেশ এখনও টিকে আছে। পরবর্তীকালে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত বড় বড় ধর্মের আচরণবিধিতে কোথাও কোথাও আদিবাসী ধর্মচিন্তার প্রভাব ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে হিন্দু সমাজে এর উদাহরণ বিরল নয়। যদিও মূল হিন্দু ধর্মের সাংস্কৃতিক আচরণ নয়, তবু গ্রামবাংলায় হিন্দুদের মধ্যে গাছ পূজার প্রচলন রয়েছে। আদিবাসীদের ভক্তির অনুসঙ্গী হয়ে ভক্ত হিন্দুর পূজা লাভ করছে বটগাছ, তুলসীগাছ আর শেওড়া গাছ। হিন্দু পূজার আনুষ্ঠানিকতায় এবং প্রসাদ আয়োজনে স্থান করে নিয়েছে ফল-ফুল, গাছপাতা; গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এসেছে কলাগাছ, আম আর বেল পাতা, নানা ধরনের ফুল; আর প্রসাদ তৈরিতে জায়গা করে নিয়েছে হরেক রকম ফল। এগুলো সবই সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের চমৎকার উদাহরণ।
আমাদের কৃষিজীবী আদিবাসী সম্প্রদায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য বা উৎপাদন বৃদ্ধির আশায় প্রকৃতিকে সন্তুষ্ট করতে চাইত। তাই তারা উৎপাদিত দ্রব্য উৎসর্গ করত অদৃশ্য দেবতার উদ্দেশে। পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্ম দর্শনে যখন দেবদেবীর প্রতিমূর্তি তৈরি হল তখনও নিষ্ঠাবান হিন্দু ভুলে যায়নি পূর্বসূরিদের সাংস্কৃতিক আচরণ। তাই দেবতা বা দেবীর পাদপদ্মে উৎসর্গ করা হতে থাকে ইক্ষু, কলা, চালকুমড়া ইত্যাদি। আদিবাসী ঐতিহ্য থেকেই নানা ব্রত অনুষ্ঠানে জায়গা করে নিয়েছে ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ, আলপনা আঁকা, পান, সুপারি, নারিকেল, কলা, আমপাতা দিয়ে ঘট সাজানো, ঘটের গায়ে আলপনা আঁকা ইত্যাদি। বাঙালি মুসলমান সমাজে বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ধারার ঐতিহ্যের প্রভাব এখনও কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। রক্ষণশীল মুসলমানের চোখে এসব ‘হিন্দু আচরণ’ বলে নিন্দিত হয়। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয় বলেই আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না যে, এসব আচরণ নিরেট ধর্মীয় নয়- বরঞ্চ নিখাদ সাংস্কৃতিক। এর জন্ম হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের ভেতর নয়; তা বেড়ে উঠেছে আদি বাঙালির প্রতিদিনের জীবনবোধ থেকে। তাই এসব আচার-অনুষ্ঠান যুগধর্ম অতিক্রম করে বাঙালির সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে এর উত্তরাধিকারী ধর্ম-নির্বিশেষে সব বাঙালি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পেসশিপটু দুর্ঘটনা তদন্তে এক বছর লাগবে
![]() |
| বিধ্বস্ত মহাকাশযানের অংশবিশেষ এভাবেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমিতে। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রেইনের জন্য সুখাদ্য by ডা. মো. ফারুক হোসেন
তাই আমাদের দৈনিক খাবার মেনু এমন হওয়া উচিত, যেন তা ব্রেইনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও এনার্জি সরবরাহ করতে পারে।
যে খাবার ডায়েট চার্টে রাখতে হবে
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট- ব্রেইন গঠন করে
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হল ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা ব্রেইনের মেরামত ও নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া এগুলো আপনাকে নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী করে এবং মানসিকভাবে ভালো অনুভব করায়। ওলিক এসিড ব্রেইনকে ক্ষীপ্র করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট- ব্রেইনকে সুরক্ষা দেয়
খাবারে এ উপাদানের অভাব থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। তাই Antioxidants সমৃদ্ধ খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। এর ভালো উৎস হল- সবুজ চা, ব্লুবেরী ও অন্যান্য বেরীজাতীয় ফল, লাল আঙ্গুর, টমেটো, গাজর, রসুন, পালং শাক, whole grains ও সয়া দ্রব্য।
ভিটামিন ও মিনারেলস- ব্রেইনের গঠনকারী ইট
সুনির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও মিনারেলস ব্রেইনের গঠনে প্রয়োজন। ব্রেইনের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হল- Vitamins C, B12 I B6.
মিনারেলসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল- ক্যালসিয়াম ও আয়রন। এসব ভিটামিন ও মিনারেলস নিয়মিত খেতে হবে।
আঁশ- ব্রেইনে ফুয়েল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে
ব্রেইন শুধু গ্লুকোজ থেকেই শক্তি নিতে পারে। রক্তে এ গ্লুুকোজের সরবরাহ ধীর ও নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে আঁশজাতীয় খাবার। ভালো পরিমাণে আঁশ পাওয়া যাবে : শুষ্ক ফল (কিশমিশ, খেজুর, কালো কিশমিশ), বিভিন্ন রকমের শাকসবজি, আস্ত ফল (যেমন- আপেল, কমলা, নাসপতি) whole wheat grains (বার্লি, লাল চাল, বিভিন্ন ধরনের whole wheat pastas and cereals)।
পানি- ব্রেইনকে আর্দ্র রাখে
সামান্য পানিশূন্যতাও মানসিক শক্তি কমিয়ে দেয় এবং স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে।
তাই কমপক্ষে ২.৫-৩ লিটার দৈনিক পানি
পান করা উচিত।
কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন
কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার serotonin-এর লেভেল ঠিক রাখে। ঘুমের ধরন, মুড, appetite ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্রেইনের কোষ serotonin ব্যবহার করে। এছাড়া অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও নিয়ন্ত্রণ করে serotonin। তাই জটিল কার্বোহাইড্রেট খেতে হবে।
প্রয়োজন নিয়মিত গ্লুকোজ সরবরাহ
ব্রেইন শুধু গ্লুকোজ থেকেই শক্তি নিতে পারে। নিয়মিত খাবার গ্রহণ না করলে রক্তে গ্লুকোজ লেভেল কমে যায়। ফলে মেমোরি লস হতে পারে। দেখা যায় যারা সকালের নাশতা বাদ দেয় তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়। খুব তাড়াতাড়ি গ্লুকোজ পাওয়া যাবে আস্ত ফল থেকে, যেমন- আপেল, কমলা, আঙ্গুর ইত্যাদি।
শিম (Fava Beans)
শিমে খুব ভালো পরিমাণে আছে লোভাডোপা। আমাদের ব্রেইন লোভাডোপাকে ডোপামিনে রূপান্তরিত করে।
হার্বস
হার্বস খাবারের স্বাদই শুধু বাড়ায় না, আমাদের চিন্তা-ভাবনায়ও বিশেষ প্রভাব ফেলে। হার্বস স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, মানসিক দক্ষতা বাড়ায়, মনোযোগ বাড়ায়, মানসিক সতর্কতা বাড়ায়।
মাছ
প্রোটিন হল নিউরোট্রান্সমিটার তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজন। মাছ হল প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়া মাছে আছে essential oils যা ব্রেইনের বর্ধন, সুরক্ষা ও কাজের জন্য প্রয়োজন।
বিভিন্ন রকমের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার ফুলকপি, ব্রোকলি, বাঁধাকপি ব্রেইনের জন্য উপকারী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুর জন্মগত হৃদরোগ by ডা. মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ
জন্মগত হৃদরোগের লক্ষণ
*কোনো কারণ ছাড়াই বুকে অবিরাম কফ থাকে।
*ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, দেখা যায় শিশু প্রতি মিনিটে ৫০-৬০ বার শ্বাস নেয়।
*একটু পরিশ্রম করলেই শিশুর শরীর নীলাভ হয়ে যায়।
*বুক ধড়ফড় করে।
*বুকের বাঁ দিকের খাঁচা বড় হয়।
*কখনও যকৃৎ বড় হয় এবং শক্ত থাকে।
*শিশু অতিরিক্ত ঘামে।
*দৈহিক বৃদ্ধি হয় না।
জন্মগত হৃদরোগের কারণ
নবজাতকের হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে। কারও কারও মতে, সন্তান ধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে এ সমস্যা হতে পারে। মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে বা পাহাড়ে বসবাস করলে বা ঋতুচক্রের শেষদিকে গর্ভধারণ হলে এ ধরনের ত্র“টি নিয়ে শিশুর জন্ম হওয়ার আশংকা থাকে।
এছাড়া গর্ভাবস্থায় কিছু ভাইরাসজনিত রোগ যেমন- হাম, রুবেলা, মাম্পস, জলবসন্ত প্রভৃতি রোগে যদি মায়েরা ভোগেন, তাহলে হৃৎপিণ্ড ছিদ্র নিয়ে শিশুর জন্ম হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়েরা যদি স্টেরয়েড ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ বা থ্যালিডোমাইড জাতীয় ওষুধ খান, তাহলে শিশু হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নিতে পারে। কখনও দেখা যায়, কোনো মা হৃৎপিণ্ডে ত্র“টি নিয়ে প্রথমবার শিশুর জন্ম দিলে দ্বিতীয়বার সে রকম ত্র“টি হওয়ার ঝুঁকি মাত্র চার-পাঁচ ভাগ থাকে। দ্বিতীয়বার শিশুর এ সমস্যা থাকলে তৃতীয়বার তা হওয়ার আশংকা ২২ থেকে ২৫ ভাগ হয়।
রোগের প্রকারভেদ
ব্লু বেবিজ হৃদরোগ (নীলাভ)
এ ধরনের হৃদরোগের ক্ষেত্রে শিশু খুব কাঁদে এবং হাঁটা অথবা দৌড়ানোর সময় শরীর নীল হয়ে যায়। এই নির্দিষ্ট লক্ষণ যাদের দেখা যায় তাদের ব্লু বেবিজ বলে। এ শিশু অজ্ঞান হয়ে যায়। এমনকি মারাও যেতে পারে। এই ডিজিজ কম হলেও এ সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।
ছিদ্রজনিত হৃদরোগ (অনীলাভ)
জন্মগত হৃদরোগের বাইরে আরেক ধরনের হৃদরোগ বিলম্বে আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেটা হল রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ। এ রোগের লক্ষণ হল- শিশুর ওজন না বাড়া, ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেয়া, দুধ টানতে কষ্ট, ঘন ঘন নিউমোনিয়া হওয়া।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসক বুকে স্টেথিসকোপ লাগিয়ে বুঝতে পারেন, শিশুর হৃৎপিণ্ডে কী ধরনের জন্মগত ছিদ্র রয়েছে। এরপরও বুকের এক্স-রে, ইসিজি, ইকো, রক্ত পরীক্ষা করে সহজেই রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। শিশু হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে চলাফেরা করতে পারে। এ রোগের তিন ধরনের চিকিৎসা আছে।
*ওষুধের মাধ্যমে।
*ইন্টারভেনশন বা বিনা অপারেশনে পাইপের মাধ্যমে।
*ওপেন হার্ট সার্জারি।
সাধারণত এএসডি, পিডিএ, ভিএসডি- এ ধরনের শিশুরা চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। কিছু রোগীকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ দেয়া হয়, যাতে সে অপারেশন করা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
এছাড়া রোগীকে জীবন রক্ষাকারী ইন্টারভেনশন যেমন- অলিন্দে ছিদ্র করা, নবজাতকের অতি চিকন বাল্ব ও রক্তনালীতে বেলুন করাসহ নানা চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া রোগী নীলাভ রোগে ভুগলে তাকে অবশ্যই অপারেশন করাতে হবে।
যদি শিশুর সমস্যা তেমন না দেখা দেয় বা শরীর নীল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা না হয় বা শ্বাসকষ্ট না থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। শিশু একটু বড় হলে বা এমনিতেই ছিদ্র বন্ধ না হলে তখন চিকিৎসা করাতে হবে।
চিকিৎকের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে সর্দি-কাশিরও চিকিৎসা করাতে হবে। ছিদ্র যদি বড় থাকে কিংবা বন্ধ না হয় বা নানা ধরনের বড় সমস্যা দেখা দেয় বা শিশুর বৃদ্ধি ক্রমশ ব্যাহত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে ছিদ্রে বেলুন বাল্ব প্লাস্টি বা অন্যান্য অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে তা বন্ধ করতে হবে।
সাধারণত ৩০-৪০ ভাগ শিশুর ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের এ ছিদ্র আপনা আপনি সেরে যায়। কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবুও সতর্ক থাকা ভালো।
শিশুর দৈনন্দিন জীবনে সতর্কতা
শিশুদের অ্যাকোয়ার্ড বা পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগের আশংকা কমাতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। বড়দের হার্টের অসুখ নিয়ে এখন সবাই যতই সচেতন হয়ে উঠুক না কেন, ছোট থেকে সতর্ক হলেই বেশি বয়সে অনেক সমস্যা এড়ানো যায়।
*শিশুরা যাতে কোনোভাবেই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্থ না হয়ে পড়ে সেদিকে নজর দিন। পড়াশোনা, কম্পিউটারের পাশাপাশি ওদের খেলাধুলা আর ব্যায়ামের ওপর জোর দিন। এক্ষেত্রে খুব ভালো ব্যায়াম হল সাঁতার কাটা।
*পরিবারে কারও উচ্চরক্তচাপ থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার। তাদের খাবারে যেন অতিরিক্ত বা আলগা লবণ না থাকে। চিপস, কিছু বিস্কুট, নুডলসের মতো খাবারে বেশি আলগা লবণ থাকে। কাজেই তা বেশি খাওয়া ঠিক নয়।
*যে কোনো ধরনের ফাস্টফুড না খাওয়াই ভালো।
*শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেক, পেস্ট্রি, চকোলেটের মমো উচ্চ ক্যালরি ও চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো।
*শিশু খাবারে ফল, শাকসবজির পরিমাণ বাড়ান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে খাদ্যে হাড় ক্ষয় হয়
হাড়ের দৃঢ় গঠনে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফসফরাস গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর পরিমাণে হেরফের হলে ভঙ্গুর অস্থি ফলাফল হিসেবে আসে।
প্রথমে বলতে হয় অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কথা। রান্না খাবার ছাড়া আর কোনোভাবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া চলবে না। চিপস, বিভিন্ন ফাস্ট ফুড, কাঁচা খাবারে বা সালাদে মেশানো লবণ খাওয়া খারাপ। লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড দেহ থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দিয়ে হাড়কে দুর্বল করে ফেলে।
তরুণ-তরুণীদের পছন্দের জিনিস সফট ড্রিঙ্কস এগুলো সুপ্তভাবে হাড়কে ক্ষয় করে যাচ্ছে। এসব ড্রিঙ্কসে রয়েছে ফসফরিক এসিড যা মূত্রের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামকে বের করে দেয়, ফলাফল অস্থি ক্ষয়।
তৃতীয় বিপদ ক্যাফিন যা আমরা পাই চা বা কফি থেকে। চা বা কফি পান মোটেও অপকারী কিছু নয় কিন্তু এ খাওয়ার পরিমাণ মাত্রা রাখতে হবে। কফি পান দৈনিক বড় জোর এক বা দুই কাপ, এর বেশি নয়। চা তুলনামূলক কম ক্যাফিন ধারন করে, তাই চা পানে তেমন সমস্যা নেই।
মাংস খেতে ভালো লাগে? রসনায় লাগাম টানুন। অতিরিক্ত মাংস মানে অতিরিক্ত প্রোটিন আর এ প্রোটিন দেহে তৈরি করে অতিরিক্ত এসিড যাকে নিষ্ক্রিয় করতে শরীর ক্যালসিয়ামকে বিসর্জন দেয়।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় থেকে দূরে থাকুন।
পরিহার করুন মদ্যপান। মদ ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়।
বর্জন করুন এমন খাবার যেগুলো অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, প্রাণিজ চর্বি খাওয়া একদম মানা।
এবার জানব অস্থি সুরক্ষায় নিয়োজিত খাবার সম্পর্কে
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন- দই। দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি উভয়েই মজবুত হাড়ের জন্য দরকার। তবে দুধ থেকে সর তোলা থাকলে ভালো।
গ্রহণ করুন এমন সব সবজি যেগুলো ক্যালসিয়ামে পরিপূর্ণ। সবজির মাঝে পালং শাক, টমেটো, ব্র“কোলি, কাঠবাদাম, মিস্টি আলু, মিষ্টি কুমড়াসহ সবুজ পাতাওয়ালা অন্যান্য সবজি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। গ্রহণ করুন তাজা যে কোনো ফল।
সয়াবিনজাতীয় খাবারের মাঝেও রয়েছে বেশ ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম।
ছোট মাছ খেলে কাঁটাসহ চিবিয়ে খান। গরু-খাসির নেহারি খেতে পারেন। নরম হাড় চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন, কাজে দেবে। মাছের তেলে পাবেন ভিটামিন ডি।
অনেকে শুঁটকি মাছ পছন্দ করেন। শুঁটকিতে কালসিয়াম ও ভিটামিন ডির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
উন্নত বিশ্বে খাবারের সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ক্যালসিয়াম যুক্ত করা হয়।
অস্থি বা হাড় গঠনে রয়েছে আরও নানা সব পদ্ধতি। তবে খেতে বসে একটু চিন্তা করে খেলেই যদি আমরা এসব কৃত্রিম পন্থা থেকে দূরে থাকতে পারি তবে সেটাই কি ভালো নয়?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চুল পড়া রোধ করতে by ডা. দিদারুল আহসান
ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে কার্যকর। সাধারণত বিশেষ ধরনের মাছে এ উপাদান থাকে। তবে সেসব মাছ আমাদের দেশে সবসময় পাওয়া যায় বলে জানা নেই (স্যামন, ম্যাকারেল ইত্যাদি)। আমাদের দেশে একটি জিনিস পাওয়া যায়, তা হল তিশির তেল। এ তিশির তেলে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, এ তিশির তেল কিন্তু মাথায় লাগানোর জন্য নয় অথবা রান্নায় ব্যবহার করার জন্যও নয়। প্রতিদিন ২ চা চামচ পরিমাণ তিশির তেল সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। তাহলে আপনার চুল পড়া অনেক কমে আসতে পারে। ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল ফর্মেও পাওয়া যায়।
যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, তারা চুলে উল্টাপাল্টা কিছু ব্যবহার করবেন না। বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না। তেল, তা যত দামিই হোক, চুলের পুষ্টি যোগাতে পারে না। চুলে তেল দিলেও ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। হেয়ার স্টাইল জেল ব্যবহার না করাই ভালো। বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য চুল পড়ে যেতে পারে। যেমন, দুশ্চিন্তা, থাইরয়েড সমস্যা, রক্তশূন্যতা, হৃদরোগে ব্যবহার করা ওষুধ ইত্যাদি।
সবচেয়ে বেশি চুল পড়ার ঘটনা ঘটে থাকে বংশগতির কারণে। যাদের বংশে চুল পড়ার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। এ ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি আজকাল চুল ধরে রাখার বা গজানোর অনেক কার্যকরী ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। মেসোথেরাপি ও পিআরপিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার নতুন সংযোজন। সবশেষে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন তো রয়েছেই। চুল ঝরে যাওয়ার জন্য এখন হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
লেখক : ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট। মোবাইল : ০১৭১৫৬১৬২০০
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বান্ধবীর সঙ্গে রাত কাটাতে গিয়ে অস্ত্র খোয়ালেন এসআই জাহিদ
গ্রেপ্তার কাজী সালাউদ্দিন সুজনের মা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত সাজেদা খাতুন রিনা বলেন, একই বিভাগে চাকুরী করার সুবাদে সিরাজগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিনের সাথে পাঁচ বছর পূর্বে আমার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে তার ফোনালাপ হতো। এরই এক পর্যায়ে ২৭শে অক্টোবর সোমবার সকালে ফরিদা জানায়, ব্যংকে কর্মরত তার স্বামী শহিদুল ইসলাম পাবনায় বদলী হয়েছে। বাসা খুঁজতে আমার বাসায় এক রাত অবস্থান করার অনুমতি চায়। এতে আমি রাজি হলে ফরিদা সন্ধ্যা ৭ টার দিকে একাকী আমার বাসায় আসে। স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, প্রথম আসছে তাই কিছু ফলমূল নিয়ে আসছে সে। এরপর রাত ৯ টার দিকে এক ভদ্রলোক আমার বাসায় আসে এবং ফরিদা আমাকে তার স্বামী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এর পূর্বে কখনো তার স্বামীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়নি। রাতে আমি সথাসাধ্য অতিথী আপ্যায়নের পর বাসার একটি রুমে তাদের থাকার ব্যবস্থা করি। সকালে ওই ঘরে ঝগড়ার শব্দ শুনে দড়জায় নক করলে দরজা খুলে দেয় এবং ফরিদার স্বামী জানায় তার পিস্তল হারিয়ে গেছে। পিস্তলের কথা জিজ্ঞেস করতেই সে তার আসল পরিচয় দেয় এবং বলে ফরিদা তার স্ত্রী নয় বান্ধবী। পরে থানা থেকে সাদা পোষাকে কয়েকজন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে যায়। এবং অস্ত্রটি উদ্ধার করে দেয়ার কথা বলে তাকে শারীরিক ভাবে চরম নির্যাতন করা হয়। আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে ২ দিন পুলিশী হেফাজতে রেখে নির্যাতন শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বিষয়টি সংবাদকর্মীদের অবহিত করা হলে আমার ছেলেকে গুম করার হুমকী দেয় থানা পুলিশ বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই জাহিদুল ইসলাম তার ব্যবহৃত সরকারী পিস্তল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কথিত বান্ধবীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটানোর বিষয়ে কথা বলতেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ব্যাপারে পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী হানিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে ও মামলা হয়েছে। এসআই জাহিদের বান্ধবীসহ এক যুবককে সন্দেহমুলক ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সে বলেন বাইরে আছি পরে কথা বলছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পাবনার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসআই জাহিদকে দায়িত্বহীনতার অপরাধে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্যে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাপ্তাইয়ে গুলিবিদ্ধ হাতিটি সমাহিত করা হয়েছে
গত ২২ অক্টোবর হাতিটিকে আহত অবস্থায় বন বিভাগ হ্রদের কলমিছড়া বিট এলাকা থেকে উদ্ধার করে। হাতিটিকে কতিপয় দু®কৃতিকারী মাথায় এবং ঘাড়ে গুলি করে। ১২ দিন চিকিৎসার পর রোববার দুপুরে হাতিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অব্যবস্থাপনাই মূল কারণ’ by সিরাজুস সালেকিন
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্লাহ জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের জন্য তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। প্রথমত, তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দায়ী করে বলেন, কারিগরি অদক্ষতা, ব্যাপক দুর্নীতি প্রবণতা এ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই খাতে নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা চলে। দ্বিতীয়ত, সাব-স্টেশনে ফল্ট লেভেল সঠিকভাবে নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৃতীয়ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যে সার্কিট ব্রেকার লাগানো হয়েছিল তা অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে থাকতে পারে। সেই সঙ্গে পুরাতন এ সব সাব-স্টেশনের ডিজাইনে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল সংযোগের সমালোচনা করেন তিনি। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত বড় ঘটনার পর সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তা না করে তারা লোকদেখানো সংবাদ সম্মেলন করছেন। জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এমন বিপর্যয় আসতো না বলেও মন্তব্য করেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ খুব নিম্নমানের। এ ক্ষেত্রে আগেই মনোযোগ দেয়া উচিত ছিল। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। আমাদের আগে থেকে শঙ্কা ছিল জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটতে পারে। কিন্তু এটা যথাযথভাবে মনিটরিং হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনবল তৈরি হয়নি। যারা আছেন তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। যে কারণে কোন কোন জায়গায় জেনারেটর বসে গেছে। ফলে পুরো গ্রিড বসে গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের শুধু উৎপাদন বাড়ালে হবে না। সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নে মনোযোগী হওয়া দরকার। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কমিটি যে প্রতিবেদন দেবে তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের এগোতে হবে। এ ঘটনায় সবচেয়ে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে বিষয়টি নজরে এনে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যে কোন দেশে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েও অনেক সময় এ বিপর্যয় রোধ করা যায় না। অনেক উন্নত দেশ পারেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত যেন না হয় সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। না হলে বিপর্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
November
(2026)
-
▼
Nov 03
(46)
- ভারত-বাংলাদেশ লাইনকে দূরে রাখার চেষ্টা কেন?
- রিভিউ ও রায় কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে by মিজানুর রহম...
- ‘যুদ্ধাপরাধের সব রায় কার্যকর করব’ -প্রধানমন্ত্রী
- চিকিৎসায় অবহেলা রাস্তায় বাচ্চা প্রসব প্রসূতির by আ...
- ডার্লিং হারবারে হ্যালোইনের রাতে by হ্যাপি রহমান
- জনমানসিকতা ও আদালতের রায় by এরশাদ মজুমদার
- রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি by গোলাপ মুনীর
- মুসলিম ইতিহাসে রাষ্ট্র ও ইসলাম by শাহ আব্দুল হান্নান
- জেল হত্যা দিবস by মোহাম্মদ আবু জাফর
- স্মরণ- বিজ্ঞানী মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
- ‘আমিই বেকুব হলাম’ -ডেভিড বার্গম্যান
- ব্যক্তি-হত্যা নয়, একটি জাতিসত্তা-হত্যার চেষ্টা করা...
- নগর সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ by ধীরাজ...
- সব কালোটাকা ফিরিয়ে আনব
- বিদ্যুৎহীন দিন-রাত্রি
- বুরকিনা ফাসোয় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- স্পেসশিপটু দুর্ঘটনা তদন্তে এক বছর লাগবে
- ব্রেইনের জন্য সুখাদ্য by ডা. মো. ফারুক হোসেন
- শিশুর জন্মগত হৃদরোগ by ডা. মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ
- যে খাদ্যে হাড় ক্ষয় হয়
- চুল পড়া রোধ করতে by ডা. দিদারুল আহসান
- বান্ধবীর সঙ্গে রাত কাটাতে গিয়ে অস্ত্র খোয়ালেন এসআই...
- কাপ্তাইয়ে গুলিবিদ্ধ হাতিটি সমাহিত করা হয়েছে
- ‘অব্যবস্থাপনাই মূল কারণ’ by সিরাজুস সালেকিন
- প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন by রুদ্র মিজান
- বার্গম্যানকে বের করে দিলেন আদালত
- আমার বাবা ন্যায়বিচার পাননি : কামারুজ্জামানের ছেলে
- ঢাকায় আসার ক্লিয়ারেন্স পাননি কাতারের ধর্মমন্ত্রী
- রিভিউ পর্যন্ত আইনি লড়াই: তাজুল
- কামারুজ্জামানের ফাঁসি বহাল
- নাইজেরিয়ায় অপহৃত ছাত্রীদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে
- বিদ্যুৎ বিপর্যয়- ক্ষতি হাজার কোটি টাকা
- সাভারে বোন ও ভগ্নিপতিকে বেঁধে রেখে স্কুলছাত্রী ধর্...
- ‘বাবা লাল জামা লিয়ে আসে না ক্যান মা!’ by অহিদুল হক
- সেই সব দিনের কথা by নূরুজ্জামান
- সৌদিতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন
- মার্লোন হঠাৎ জড়িয়ে ধরলেন আমাকে
- এ শোক ভোলার নয় by কেয়া চৌধুরী
- ‘কারাগারে পাঠানো খাবার ফিরিয়ে দেয়ার পরই আশঙ্কা জাগ...
- রহস্যের বেড়াজালে বন্দি বালাগঞ্জের জোড়া খুন
- অবশেষে হার মানলেন রানা প্লাজার অসুস্থ শ্রমিক জাহেদা
- দায়মুক্তির দায়ভার by শাহদীন মালিক
- অর্থনীতিতে নোবেল ২০১৪- নিয়ন্ত্রণ বনাম মুক্তবাজার ...
- ‘রাসুল (সা.)-এর পদপ্রান্তে’ by মুস্তাফা জামান আব্বাসী
- ভারত- দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে হবে by কুলদীপ নায়ার
-
▼
Nov 03
(46)
-
▼
November
(2026)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


