Monday, August 8, 2011

মুসলিম পারিবারিক জীবনে মাহে রমজান by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ধর্মভীরু মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মাহে রমজানের রোজার ভূমিকা অপরিসীম। রোজাদার ব্যক্তি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ভয়ে পাপাচার, অশ্লীলতা, মিথ্যাচার, পরচর্চা, পরনিন্দা, ঝগড়া-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-কলহসহ সব ধরনের মন্দ কাজ পরিহার করে আত্মশুদ্ধি লাভ করেন। রোজা অবস্থায় কেউ যদি রোজাদার ব্যক্তিকে গালিগালাজ, ঝগড়া-বিবাদ, অশুভ ও ক্ষতিকর দুষ্কর্মে প্ররোচিত করে, তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী তিনি যেন বলে দেন, ‘আমি রোজাদার।’
ব্যক্তিগত জীবনে রোজাদার তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস হিসেবে মাহে রমজানে রোজাদার মুসল্লি ঘরে-বাইরে নামাজ ও রোজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নতুন পাঞ্জাবি-পাজামা, টুপি কেনেন অথবা ধুয়ে-মুছে পাক-পবিত্র করে রাখেন। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদন করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ রমজান মাসের বিশেষ খতমে তারাবির নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য মসজিদে ছুটে যান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তেগফার, দান-সাদকা করে তারা বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। মুত্তাকিদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অর্থসংকটে দুঃখ-ক্লেশে ও সংগ্রাম-সংকটের সময় ধৈর্যধারণকারী তারাই হলো সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭৭)
রোজাদার ব্যক্তি রোজা অবস্থায় কখনো মিথ্যা কথা, পাপকাজ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, জবরদখল, সন্ত্রাস, বোমাবাজি প্রভৃতি সামাজিক অনাচারসহ সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, ধূমপান, মাদকদ্রব্য ও জুয়াখেলা—এসব অনৈতিক ও অপকর্মে লিপ্ত হন না। রোজা রেখে কোনো কিছু খাওয়া বা কোনো ধরনের বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ কাজকর্ম করা যাবে না। কারণ, অন্য কেউ না দেখলেও আল্লাহ মানুষের সব কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। এখানেই রোজার সঙ্গে অন্যান্য ইবাদতের পার্থক্য রয়েছে।
রোজা এমন একটি ইবাদত, যাতে রিয়া বা লোক দেখানোর কোনো অবকাশ নেই। রোজাদার ব্যক্তি যদি লোকচক্ষুর অন্তরালে কোনো কিছু পানাহার করেন বা কোনো পাপকাজে লিপ্ত হন, তাহলে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে জানা বা বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রকৃত রোজাদার মুত্তাকি ব্যক্তি কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য প্রভৃতি ষড়িরপু দমনপূর্বক কঠোরভাবে সিয়াম সাধনা করে থাকেন। তাই আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তিকে বিশেষভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন বলে ঘোষণা করেছেন, ‘রোজা শুধু আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম)
পারিবারিক জীবনে মাহে রমজানের রোজার গুরুত্ব ও অপরিসীম প্রভাব রয়েছে। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসন্ততি—সবাই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। রোজাদার ব্যক্তি পরিবারের ছোট-বড় কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন না, সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন। মাহে রমজানে রোজা রেখে পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যদি অসদাচরণ করা হয় এবং তাদের প্রতি কটুবাক্য, জুলুম, নির্যাতন, গালিগালাজ করা হয়, তাহলে রোজাদারদের পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ, দ্বন্দ্ব-কলহ লেগে থাকতে পারে। এতে পরিবারে যেমন অশান্তি দেখা দিতে পারে, তেমনি আল্লাহ তাআলাও অসন্তুষ্ট হন।
রমজান মাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে সেহির খাওয়ার পরম আনন্দ রোজার অনন্য বৈশিষ্ট্য। মাহে রমজানে পাড়া-মহল্লায় গভীর রাতে যখন সেহির খাওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ লোকেরা সপরিবারে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তখন মুসলমানরা পরস্পর সমাজের সমমানের রোজাদার গোষ্ঠী বলে ভাবতে সুযোগ পান। ভোরের স্নিগ্ধতার নির্জন পরিবেশে ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ছোট-বড় সব রোজাদার ব্যক্তির জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয় এই রমজানুল মোবারকে।
সমাজের শ্রমজীবী খেটে খাওয়া গরিব সম্বলহারা মানুষ যাতে মাহে রমজানের রোজা যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সে জন্য ধনী-সামর্থ্যবান রোজাদারেরা যেন দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। মালিকেরা যেন শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেন। ধর্মপ্রাণ সৎ ব্যবসায়ীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করে যেন অধিক মুনাফা লাভের আশা বর্জন করেন। এভাবে রোজাদার ব্যক্তি সমাজকল্যাণ, মানবসেবা ও আপামর জনসাধারণের উপকারে আত্মনিয়োগ করলে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং পরিণামে তিনি প্রতিশ্রুত জান্নাত লাভ করবেন।
মুসলমানদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে রোজার সংযমী মনোভাবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পক্ষান্তরে রোজাদার ব্যক্তির অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন ও অসদাচরণে যদি সমাজের লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে, তাহলে কেউ তাকে পছন্দ না করে ঘৃণা করবেন। মাহে রমজান পবিত্র ও পরিশুদ্ধ জীবন-যাপনের মাস হলেও অনেকে বিভিন্ন কাজেকর্মে, চলাফেরায় সেই পরিশুদ্ধতার শিক্ষা নিতে পারে না, অন্যান্য সময়ের মতো এ মাসেও ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, কর্তব্যে অবহেলা ও শরিয়ত-গর্হিত অন্যায় কাজে মশগুল থাকে। আল্লাহ তাআলা এহেন তাকওয়াবিহীন দুষ্ট রোজাদার লোকের ওপর খুবই নাখোশ থাকেন। সিয়াম সাধনার সুমহান শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জীবনবোধ যদি রোজাদারদের জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়, তাহলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত না হয়ে পারে না।
সুতরাং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মাহে রমজানের রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাকওয়া অবলম্বনকারী রোজাদার ব্যক্তি যদি জীবনে কোনো প্রকার অন্যায় ও খারাপ কাজ না করেন, কাউকে ঠকিয়ে বা প্রতারণা করে ক্ষতিগ্রস্ত না করেন, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল না মেশান, ওজনে কম না দেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করেন, কারও ক্ষতিসাধন না করেন; বরং সর্বদা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পরোপকার করে মাহে রমজানে ত্যাগের শিক্ষা ও ইসলামের অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা করেন, তাহলেই মানবজীবনে ইহলৌকিক শান্তি ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধিত হতে পারে।
 ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

শেয়ারবাজারে দরপতনে বিক্ষোভ, অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

দেশের শেয়ারবাজারে আজ রোববারও দরপতনের ধারা অব্যাহত ছিল। আর অব্যাহত এই দরপতনের প্রতিবাদে মতিঝিলের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, গত দুই দিনের মতো আজও সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৬১ পয়েন্ট কমে গেলে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। এ সময় তাঁরা ডিএসইর সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করেন। শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের জন্য অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে দায়ী করেন তাঁরা। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডিএসইর সভাপতির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
বেলা দুইটার দিকে মিছিল বের করেন বিনিয়োগকারীরা। মিছিলটি ডিএসই ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে আবারও ডিএসইর সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মিজান-উর রশিদ চৌধুরী। তিনি কাল এসইসির চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি পেশ করার ঘোষণা দেন।
বাজার পরিস্থিতি: আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২.২৩ শতাংশ বা ১৩৯.৭৪ কমে ৬১২০.১৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৫ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে এরপর সূচক কমার হার কিছুটা কমে।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ২২০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৫৮ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, এনবিএল, তিতাস গ্যাস, এমআই সিমেন্ট, কেয়া কসমেটিকস, ইউনাইটেড এয়ার, গ্রামীণফোন, আরএন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২.১৯ শতাংশ অর্থাত্ ৩৯১.৭৫ পয়েন্ট কমে ১৭৪২৪.৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১৯টির, কমেছে ১৬৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি।

আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার পরামর্শ সিএসই সভাপতির

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানিক সেল বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা বন্ধ করা উচিত। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। আজ রোববার ঢাকার সিএসই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, ‘বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুঁজিবাজারে রেগুলেটর বা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) খুবই শক্তিশালী। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন অপরাধ প্রমাণিত না হলে কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে না।’
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে সিএসইর সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের পোর্টফোলিওকে তিনটি ভাগে বিনিয়োগ করুন। যা হবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি। এতে বিনিয়োগে ভারসাম্য আসবে।’ একই সঙ্গে কোম্পানির মৌল ভিত্তি বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিএসইর সভাপতি বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ান্ত হচ্ছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বিষয়ে সংশোধনী আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছুদিনের মধ্যে নতুন শেয়ার বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশ্বের শেয়ারবাজারের সঙ্গে আমাদের দেশের শেয়ারবাজারকে এক করাটা ঠিক হবে না। কারণ বিশ্ব ক্যাপিটাল মার্কেটে বিদেশি বিনিয়োগ করার অনেক সুযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশে নেই। সুতরাং এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।’

চলতি সপ্তাহে লাফার্জের ছাতক ফ্যাক্টরিতে চুনাপাথর সরবরাহ শুরু

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে মেঘালয়ে চুনাপাথর উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে লাফার্জের ভারতীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ ইউমিয়াম মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড। আর এ সপ্তাহেই লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের সুনামগঞ্জের ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চুনাপাথর সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রোববার ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের পক্ষে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাফার্জের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ ইউমিয়াম মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড মেঘালয়ে চুনাপাথর উত্তোলনের অনুমতি পায়।

প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে না: মুহিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে না। যারা বিক্ষোভ করছে, তারা বিনিয়োগকারী না। তারা এখানে ফটকাবাজি করতে এসেছে। কেন তারা আশা করছে, প্রতিদিন শেয়ারের দাম বাড়বে। বাজার থেকে এরা বেড়িয়ে গেলেই ভালো।’
আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ চা-সংসদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এর আগে আজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।
এ বৈঠকে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের তাঁদের শেয়ার ধরে রাখার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। বাজারে এখন ছয় হাজারেরও বেশি সূচক আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ১১ আগস্ট চূড়ান্ত হবে। শেয়ারবাজারে অস্থিতিশীলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ছয় মাসের মধ্যে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাজার যে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সিপিএমের দেখানো পথেই চলছে তৃণমূল সরকার’

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বামপন্থী দল এসইউসিআই (সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়া) অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে জিতে সরকার গড়ার পর রং বদলে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন সরকার চলছে সিপিএমের দেখানো পথেই।
দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শিবদাস ঘোষের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার কলকাতায় রানি রাসমণি এভিনিউয়ে সমাবেশের আয়োজন করে এসইউসিআই। ওই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ এই অভিযোগ করেন।
প্রভাস ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল সরকার সিপিএম সরকারের মতো আমলাতান্ত্রিক ও যান্ত্রিক হবে না ভেবেই আমরা তাঁদের সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তারা রং বদল করেছে। সেই গোর্খাল্যান্ড, জঙ্গলমহলের যৌথ বাহিনী ইস্যু, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ইস্যু—সবকিছুই চলছে সিপিএমের দেখানো পথ ধরেই।’

মোগাদিসু ছেড়ে গেছে আল-শাবাব গোষ্ঠী

সোমালিয়ার আল-শাবাব বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী মোগাদিসু শহর ছেড়ে চলে গেছে। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই বিদ্রোহীরা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও খরাকবলিত মোগাদিসু শহর থেকে গতকাল শনিবার তাদের সব কটি অবস্থান তুলে নিয়ে ট্রাকে করে চলে যায়। রাতারাতি তাদের প্রস্থানের পর সোমালিয়ার সরকারি বাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ শরিফ আহমেদ শহরটিকে ‘সম্পূর্ণ মুক্ত’ বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা পরাজিত হয়েছে এবং শিগগিরই দেশের অন্যান্য অঞ্চলও তাদের দখলমুক্ত হবে।
তবে এই প্রস্থানকে নিজেদের ‘সামরিক কৌশলের পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আল-শাবাব। সোমালিয়ার কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চল এত দিন আল-শাবাব বাহিনীর দখলে ছিল। ফলে খরাকবলিত ওই অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তা দিতে গিয়ে কয়েকটি সাহায্যকারী সংস্থা বাধার সম্মুখীন হয়। আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) শান্তিরক্ষী এবং সোমালিয়ার সরকারি বাহিনী কয়েক মাস ধরে রাজধানীর সামান্য কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে সমর্থ হয়। সম্প্রতি তারা খরাকবলিত এলাকায় জরুরি খাবার, ওষুধ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছিল।
বিদ্রোহীদের চলে যাওয়ার পর মোগাদিশুতে গত শুক্রবার রাতে বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া খরাকবলিত লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা খাবার লুট করে বন্দুকধারীরা। এ সময় তাদের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়। প্রেসিডেন্ট শেখ শরিফ আহমেদ আরও বলেন, আল-শাবাব ছাড়াও লুটেরাদের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে।
এদিকে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মোহম্মদ রাগে স্থানীয় একটি বেতারকে বলেন, বিদ্রোহীরা সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলের দখল ছাড়বে না। তিনি বলেন, শত্রুদের ওপর পুনরায় আক্রমণের লক্ষ্যেই বিদ্রোহীদের এই প্রস্থান। শত্রুরা যেখানেই থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

চীনের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মুইফা

ঘূর্ণিঝড় মুইফার ধেয়ে আসার খবরে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে দুই লাখেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতেই মুইফা আঘাত হানার কথা।
ঘূর্ণিঝড় মুইফা আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। এদিকে মুইফার আঘাত হানার আশঙ্কায় গত শুক্রবার থেকে ওই এলাকায় তেল উত্তোলন, সমুদ্র ও স্থলবন্দরের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মুইফা জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ওকিনাওয়াতে গত শুক্রবার রাতে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি চীনের ঝেজিয়াং ও জিয়াশু প্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ঝেজিয়াংয়ের সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা উপকূলবর্তী নিচু এলাকা থেকে দুই লাখ ছয় হাজার ৬৬৪ জনকে সরিয়ে নিয়েছেন।

ভারতে কুষ্ঠরোগ ছড়িয়ে পড়ছে

ভারতে কুষ্ঠরোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সম্প্রতি ভারতের দারিদ্র্যকবলিত বিভিন্ন অঞ্চলে রোগটি বিস্তার লাভ করছে বলে জানান দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।
ভারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান নাতা মেনাব্দে বলেন, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জেলায় নতুন করে কুষ্ঠরোগের সংক্রমণ হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগী হওয়া উচিত। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ শতাংশ শিশু রয়েছে। সরকারের জন্য এটি একটি আগাম সতর্কতা। তিনি আরও বলেন, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে নতুন করে কুষ্ঠরোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জনের নিচে রাখার লক্ষ্য ছিল ডব্লিউএইচওর। কিন্তু বর্তমানে দেশটির ৬৪০ জেলার মধ্যে অন্তত ২০৯ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ওই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
২০০৫ সালে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুসারে রোগটিকে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করে ভারত সরকার। কুষ্ঠরোগ বিষয়ে একটি অলাভজনক প্রকল্প বোম্বে লেপ্রসি প্রজেক্টের পরিচালক বিবেক পাই বলেন, ২০০৫ সালের পর কুষ্ঠ প্রতিরোধ নীতিতে সরকারের মনোযোগ অনেকটা কমে যায়। ফলে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রোগটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতের সমৃদ্ধতম রাজ্য মহারাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৬-০৭ সালে রাজ্যটিতে প্রতি এক লাখে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ছিল ৯ থেকে ১০ জন। এখন সংখ্যাটি বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ সাধারণত কুষ্ঠরোগের শিকার হয়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হলে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত হওয়ার ভয় পায় তারা।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন আহত ‘মি. বিন’

মি. বিন খ্যাত তারকা অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, একটি হুইলচেয়ারে চড়ে গত শুক্রবার তিনি লন্ডনের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত পিটারবার্গ সিটি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
৫৬ বছর বয়সী কৌতুক অভিনেতা অ্যাটকিনসন গত বৃহস্পতিবার হাডন শহরের কাছাকাছি এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় কাঁধে আঘাত পান। তিনি নিজে গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

সৌদি আরবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা, গুলিতে এক বন্দুকধারী নিহত

সৌদি আরবের জেদ্দায় সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজের বাসভবনে গতকাল শনিবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক বন্দুকধারী নিহত হয়েছে।
দুজন বন্দুকধারী প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে ওই বন্দুকধারী নিহত হয়। অপর বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এক সরকারি মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বন্দুকধারীরা গতকাল মধ্যরাতের পর প্রিন্স নায়েফ বিন আবদুল আজিজের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি জানান, এই হামলার সঙ্গে কোনো সংগঠন জড়িত নয়। এটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি হামলা।

বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হলেন আপিসিত

থাইল্যান্ডের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া দেশটির পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার দল থাই পুয়ে পার্টির কাছে পরাজিত হয়।
পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইংলাককে অনুমোদনের এক দিন পর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হলেন আপিসিত। ডেমোক্রেটিক পার্টির বর্ষিয়ান নেতা মারুট বুন্নাগ বলেন, ‘ওই পদের জন্য আপিসিতই ছিলেন সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা।’ বিদায়ী এই প্রধানমন্ত্রী ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন আপিসিত। গত ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১৫৯ আসন পেয়ে পুয়ে থাই পার্টির কাছে পরাজিত হয়। পুয়ে থাই পার্টি জিতে ২৬৫টি আসনে। পরে দলীয় প্রধানের পদ ছেড়ে দেন তিনি।

খামিসের মৃত্যুর খবর নাকচ করেছে লিবিয়া সরকার

ন্যাটোর বিমান হামলায় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে খামিস গাদ্দাফি নিহত হওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে সে দেশের সরকার। গত শুক্রবার বিদ্রোহীরা দাবি করে, পশ্চিমাঞ্চলীয় জ্লিতান শহরে বিমান হামলায় খামিস নিহত হয়েছেন।
বিদ্রোহীদের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে গাদ্দাফি সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটা মিথ্যা খবর। জ্লিতান শহরে নিজেদের অপরাধ ও আল-মারাবিত পরিবারের লোকদের হত্যার বিষয়টি আড়াল করতে এটা বিদ্রোহীদের নোংরা কূটচাল। জ্লিতান হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে তারা খামিস-সম্পর্কিত সংবাদ আবিষ্কার করেছে।’
বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে জ্লিতান শহরে গাদ্দাফির অপারেশন কক্ষ লক্ষ্য করে ন্যাটো বাহিনীর হামলায় খামিসসহ গাদ্দাফির অনুগত ৩২ জন সেনা নিহত হন।
তবে ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খামিস নিহত হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কারণ, লিবিয়ার স্থলভাগে তাঁদের কোনো লোকবল নেই। তবে বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
খামিস নিহত হওয়ার খবর এটাই প্রথম নয়। গত মার্চেও আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আত্মঘাতী বিমান দুর্ঘটনায় খামিসের মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই সময় লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে খামিসের মতো দেখতে অন্য এক লোকের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে খামিসের মারা যাওয়ার খবর মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে গাদ্দাফির কোনো ছেলের নিহত হওয়ার দ্বিতীয় খবর এটা। এর আগে ত্রিপোলিতে ন্যাটোর বিমান হামলায় সাইফ আল-আরব নামের গাদ্দাফির এক ছেলে নিহত হন।
রাশিয়ার মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামিস লিবিয়ার ৩২তম ব্রিগেডের প্রধান। এই ব্রিগেড গাদ্দাফির সবচেয়ে অনুগত এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত ও শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের ধারণা, খামিসের ব্রিগেডে ১০ হাজার সদস্য রয়েছেন। এ ইউনিট সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ মার্কিন সেনা নিহত

আফাগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশে গত শুক্রবার রাতে তালেবানের গুলিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ৩১ জন ও সাত আফগান সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশের একজন মুখপাত্র এই তথ্য দিয়েছেন।
শহীদুল্লাহ শহীদ নামে ওই মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, প্রদেশের সাইদ আবাদ এলাকায় তালেবানের একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, তাঁদের যোদ্ধারা গুলি করে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। এটি ছিল মার্কিন চিনুক হেলিকপ্টার।
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) ও আফগান সরকারের পক্ষ থেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন ও আফগান সেনা নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হেলিকপ্টারটি তালেবান জঙ্গিরা গুলি করে ভূপাতিত করেছে, নাকি অন্য কোনো কারণে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি আইএসএএফ।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর এটাই তালেবানের হামলায় এক দিনে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা।
৩১ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার এ ঘটনায় আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটোর ওই হেলিকপ্টার ওয়ারদাক প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়। এতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ৩১ জন ও সাত আফগান সেনাসদস্য ছিলেন। তাঁদের সবাই নিহত হয়েছেন।
অইএসএএফের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ঘটনার ব্যাপারে যথাযথ সময়ে তাঁদের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হবে।
মুহাম্মদ সাবের নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, ‘শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকের ঘটনা। আমাদের গ্রামের ওপর কয়েকটি হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখি। আমি তখন বাড়িতেই ছিলাম। একপর্যায়ে গ্রামের এক তালেবান কমান্ডারের বাড়ির ছাদে একটি হেলিকপ্টার নামতে দেখি। আর তখনই গোলাগুলি শুরু হয়। পরে হেলিকপ্টারটি আবার উড্ডয়ন করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি ভূপাতিত ও বিধ্বস্ত হয়।’
২০০১ সালে মার্কিন অভিযানে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর পর থেকে ন্যাটোর নেতৃত্বে দেশটিতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বিদেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে তালেবানরা বিদেশি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। এর আগে ২০০৫ সালের ২৮ জুন কুনার প্রদেশে তালেবানের রকেট হামলায় মার্কিন চিনুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন।

সিরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন পশ্চিমা নেতারা

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নির্বিচার সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নিন্দা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ও জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে দামেস্কের বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন।
বাশার আল-আসাদকে পদত্যাগ করতে ওয়াশিংটনের সরাসরি আহ্বান জানানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তিন শীর্ষ নেতার এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলো। ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহে বলেছে, সিরীয় সরকারে বাশারের উপস্থিতি অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে একটি কঠিন পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে সিরিয়ার বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, গত শুক্রবার দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। তবে সরকারের এই কঠোর দমন-পীড়নের পরও বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছাড়েনি।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে আসাদ সরকারের অব্যাহত দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছেন নেতারা (ওবামা, সারকোজি ও মেরকেল)। সিরীয় সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি দিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা আসাদ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সিরীয় জনগণকে সহায়তা করতে বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।’
তবে নতুন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দেশের নাগরিকদের সিরিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
হামা শহর থেকে সম্প্রচারিত সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়েছে, এই শহর বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে হামা শহর আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। গত কয়েক দিনে শহরটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা তলব করা হয়েছে। ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
সিরিয়াভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার দামেস্কের শহরতলিতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। ইন্টারনেটে প্রকাশ করা ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সেখানকার বিক্ষোভকারীরা ‘হামাবাসী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’ এবং ‘চলে যাও বাশার’ বলে স্লোগান দিচ্ছে।
সিরিয়ান লিগ ফর ডিফেন্স অব হিউম্যান রাইটসের প্রধান আবদেল করিম রিহাবি বলেছেন, দির আল-জুর শহরে ৩০ হাজারের বেশি লোক বিক্ষোভ করেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা জানান, গত মার্চে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার লোক মারা গেছে।

ট্রটের জায়গায় বোপারা

ট্রেন্টব্রিজ টেস্টটা সব দিক দিয়েই খারাপ কাটল জোনাথন ট্রটের। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেছেন ৪ ও ২। বল করতে গিয়ে চোট পেয়েছেন কাঁধে। সেই চোট থেকে এখনো সেরে না ওঠায় তাঁকে বাদই পড়তে হলো ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের দল থেকে। এজবাস্টনে টেস্টটি শুরু হবে ১০ আগস্ট থেকে।
১৩ জনের দলে ট্রটের জায়গায় জেমস টেলরের ঢোকার সম্ভাবনা ছিল, অভিষেকই হতে পারত তাঁর। কিন্তু নির্বাচক কমিটি বেছে নিয়েছে রবি বোপারাকে। এ ছাড়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি ও পিঠের সমস্যায় ভুগতে থাকা পেসার ক্রিস ট্রেমলেটের বিকল্প হিসেবে দলে রাখা হয়েছে স্টিভেন ফিনকে। যদিও নির্বাচকদের আশা, টেস্টের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন ট্রেমলেট। ওয়েবসাইট।
৩য় টেস্টের ইংল্যান্ড দল: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, অ্যালিস্টার কুক, ইয়ান বেল, কেভিন পিটারসেন, এউইন মরগান, ম্যাট প্রিয়র, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস অ্যান্ডারসন, ক্রিস ট্রেমলেট, রবি বোপারা ও স্টিভেন ফিন।

আবার স্বপ্ন দেখছেন রোনালদিনহো

হলুদ জার্সিটা সব সময়ই টানে রোনালদিনহোকে। মনের মধ্যে আবার ব্রাজিল দলে ফেরার আকুলতা। সেই আকুলতা নিয়ে চোখের সামনে চলে যেতে দেখেছেন ২০১০ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ গেল, গেল দুঙ্গা-যুগ। ব্রাজিলের ফুটবলে এখন মেনেজেস-যুগ। কিন্তু দলে আর ফেরা হয় না রোনালদিনহোর। নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন যিনি, তাঁকে কোন ভরসাতেই বা দলে নেবেন ব্রাজিলের নতুন কোচ মানো মেনেজেস?
তবে রোনালদিনহোর বিশ্বাস, আবার ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে উঠবে তাঁর। দুবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফ্লামেঙ্গোতে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ফ্লামেঙ্গোতে যেমন কাটছে, এই ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে মেনেজেসের দলে জায়গা করে নিতে পারবেন, সুযোগ পাবেন নিজের দেশে ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার; রোনালদিনহো আছেন এই বিশ্বাস আর স্বপ্ন নিয়ে।
‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে ফ্লামেঙ্গোর হয়ে নিজের সেরা খেলাটা খেলে যাওয়া। এরপর কোচের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি খেলতে প্রস্তুত’—বলেছেন এসি মিলান থেকে এ বছরই ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামেঙ্গোতে নাম লেখানো বার্সেলোনার সাবেক প্লে-মেকার।
এ বছরের জানুয়ারিতে ফেরেন স্বদেশে, যোগ দেন ফ্লামেঙ্গোতে। ‘ফুরিয়ে যাওয়া’ রোনালদিনহো নিজেকে আবার আবিষ্কারের ইঙ্গিত দেন এখানেই। এই তো গত সপ্তাহেই সান্তোসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে জেতান দলকে। এখন তো বলতেই পারেন, ‘ব্রাজিল দলে ফেরার স্বপ্নটা আমি দেখি। বিশ্বকাপের আগে অনেক কিছুই ঘটবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় দলে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারব।