Monday, March 23, 2015
পিঠ ঠেকেছে কাঁটার দেয়ালে by সুরঞ্জন ঘোষ
স্বাধীনতার চার যুগেরও অধিক সময় পেরিয়ে এই মার্চেই আমরা গণতন্ত্রহীন। আমাদের পিঠ ঠেকেছে কাঁটার দেয়ালে। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স এখন ৪৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও শিক্ষা অনেক দূর এগিয়েছে। এই অগ্রযাত্রা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতকেও অতিক্রম করেছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রশ্নে যদি বলি, তা হলে বলতে হয় হতাশার কথা।
সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রহিত হওয়ার কারণে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আজ সুদূরপরাহত। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে একপাল্লায় মাপা হচ্ছে। নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগে দমন করা হচ্ছে সরকারবিরোধী মত ও পথকে।
১৯৭১-এর মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের লোমহর্ষক হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও বাঙালি নির্মূলকরণ প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন তারা দেশকে স্বাধীন করার জন্য অস্ত্রহাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। আর এখন এই মার্চে, আমরা কি গণতন্ত্রের জন্য কথা বলতে পারছি? পারছি না। সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আমাদের সব গণতান্ত্রিক অধিকার গিলে খাচ্ছে। মানুষের ভোটের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা এখন ভূলুণ্ঠিত।
ভোটের মাধ্যমে জনমতের সুষ্ঠু প্রতিফলন হওয়ার সুযোগ দেশে এখন নেই। টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে গণমাধ্যমের। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের জাঁতাকলের চাপে মৃত প্রায়। চলেছে বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার কাজ। কবির ভাষায় বলতে হয়Ñ ‘এ কোন অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ।’
কোনো দেশের সরকার যদি গায়ের জোরে দেশ চালাতে চায়, তা হলে আমলাতন্ত্র, পুলিশ ও রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন জুগিয়ে চলতে হয়।
তাদের অন্যায়, ঘুষ, দুর্নীতি ও কর্তব্যে অবহেলার জন্য শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা জনবিচ্ছিন্ন সরকারের থাকে না। বর্তমান মহাজোট সরকারের অবস্থা হয়েছে সে রকমই। বর্তমান সরকার ও দেশের অবস্থা বুঝানোর জন্য ষোলো শতকের কবি জয়ানন্দের শরণাপন্ন হচ্ছি। কবি জয়ানন্দ ‘চৈতন্যমঙ্গল’ গ্রন্থের রচয়িতা। এই কাব্যগ্রন্থের কবি তৎকালীন শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার একটি দুর্ভিক্ষের বর্ণনা করেছেন।
কবির ভাষায়Ñ ‘শ্রীহট্ট দেশে অনাচার দুর্ভিক্ষ জন্মিল/ডাকা-চুরি অনাবৃষ্টি মড়ক লাগিল/উচ্ছন্ন হইল দেশ আরিষ্ট দেখিয়া/নানা দেশে সর্বলোক গেল পালাইয়া।’/আমরা কী এখন লিখিতে বাধ্য হবোÑ/‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনাচর জন্মিল/গুম-খুন, লাঠি-গুলি চলিতে লাগিল/উচ্ছন্নে গেল দেশ বিচারহীন হইয়া/প্রাণ ভয়ে সুধীজন রহে পালাইয়া।’/ না! আমরা পালিয়ে বাঁচতে চাই না। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার চাই। এসবের আগে চাই গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার।
লেখক : রাজনীতিক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসিনাকে রেখে জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচন হতে পারে -মামুন রশীদ
মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বিশ্লেষক মামুন রশীদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছে অর্থনৈতিক রিপোর্টার হামিদ বিশ্বাস
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিটলার-মুসোলিনীকেও হার মানিয়েছে সরকারের দমননীতি : ২০ দল
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একটি প্রহসণের নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হাতছাড়া না করতে এখন রাষ্ট্রীয় শক্তির অপপ্রয়োগের মরণখেলায় মেতে উঠেছে। শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নামে দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর দমন নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ সরকার এখন গদি রক্ষার জন্য হিটলার-মুসোলিনীর কঠোরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে হিটলার-মুসোলিনীর গুপ্ত বাহিনীর আদলে দেশের ঐতিহ্যবাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে দেশকে চরম নৈরাজ্যকর অবস্থার মধ্যে নিপতিত করেছে।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বাড়ির ভেতরে কিংবা বাইরে কোথাও কোনো নাগরিকের জীবন-জীবিকা এখন শঙ্কামুক্ত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিরোধী দলীয় কোনো নেতাকর্মীকে বেআইনীভাবে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরিবারের নিরপরাধ সদস্যকে আটক ও তাদের সাথে অশালীন আচরণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে হয় স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমরা যেন এক মগের মুল্লুকে বসবাস করছি। দেশের বিভিন্ন জেলায় যৌথবাহিনীর নামে বিশেষ বাহিনী বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের আটক করার পর তাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে রাস্তার ধারে, খালে-বিলে, ডোবা-নালায়। কোনো কোনো লাশের পরিচয়ও মিলছে না।
বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, এহেন পরিস্থিতি দেশের প্রতিটি জনপদে। বর্তমান স্বৈরশাসক দেশে গুম, খুন, গুপ্তহত্যা ও অপহরণের যে ভয়াল সংস্কৃতি চালু করেছে তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছেও প্রমাণিত। ধারাবাহিক এসব নারকীয় ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহৃত সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা-হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রদত্ত বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলসহ দেশের ১৬ কোটি মানুষের সেই উদ্বেগ উৎকন্ঠারই প্রতিধ্বণি।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণ ও ২০ দলীয় জোট আশা করে-সরকার দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণার্থে সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান সঙ্কটের সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসবে। ২০ দলীয় জোট আবারো জোট ঘোষিত সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য দেশবাসীকে উদাত্ত আহবান জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিটি নির্বাচন বনাম বেগম জিয়ার যোগ-বিয়োগ! by গোলাম মাওলা রনি
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেগম জিয়াকে খুব ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি খুব ভালো করেই জানেন- সরকার তাকে এবং তার পরিবার ও দলকে নিয়ে খেলছে। এই খেলা কখনো তার জন্য অপমানকর, কখনো বা অস্বস্তিকর আবার কখনো কখনো নির্মম ও হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে সামান্যতম সৌজন্য বা সংযোগ থাকার যে চিরায়ত রীতি অনাদিকাল থেকে তাবৎ দুনিয়ায় চলে আসছিল, তা কিন্তু ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসে শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে। কাজেই কোনো রকম কথাবার্তা কিংবা বিশ্বাস-আশ্বাসের সামান্যতম ভিত্তিমূল সৃষ্টি না করে বেগম জিয়া তার নির্মম ও নিষ্ঠুর প্রতিপক্ষের সাথে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন কি না তিনিই ভালো জানেন।
বেগম জিয়া প্রথমেই আমলে নিচ্ছেন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলের বিষয়টি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় হলো ২৯ মার্চ। প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দিতে আরো দুই-তিন দিন। এরপর সেই প্রতীকসহ প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানো এবং লাগানোতে আরো চার-পাঁচ দিন। অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের আগে প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারবেন না এবং ১০-১২ দিনের বেশি প্রচার-প্রপাগান্ডায় অংশ নেয়া অসম্ভব। তিনটি সিটি করপোরেশনের প্রতেকটিতে গড়ে ১১০০ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্র কমিটি গঠন, প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে জনসভা এবং নির্বাচনী এলাকার শতকরা দুই-তিন ভাগ মানুষের কাছে পৌঁছা সহজ নয়। ফলে পুরো নির্বাচনটি পরিণত হবে একধরনের ভেলকিবাজিতে, আর সেই বাজিতে জিততে হলে অবশ্যই জাদুটোনা জানতে হবে- এমন মূল্যায়ন অমূলক নয়।
বেগম জিয়া তার আশপাশের সরকার সমর্থক লোকেদের নানামুখী চালে পড়ে প্রথমেই বলবেন, আমাকে একটা জাদুর বাক্স এনে দাও। তারপর বলবেন, আমাকে হিসাব মিলিয়ে দাও- দলের কয়জন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরমেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন? তাদের মধ্যে ক’জন জেলে আছেন? ক’জন আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন, ক’জন সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজকর্ম করছেন এবং কারণে অকারণে আমার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছেন, তাদের রুটি হালুয়াতে আন্দোলনের ঝোল ঢেলে দেয়ার জন্য। তিনি হয়তো দলীয় জাদুকরদের আরো জিজ্ঞাসা করবেন, এখন কি স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কোনো ক্ষমতা-সম্মান বলতে কিছু অবশিষ্ট আছে! একটি চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা ডাকাতির মামলায় চেয়ারম্যান ও মেয়রদের গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠানোর দু-তিন দিনের মধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ চলে আসে প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্যানেল মেয়র নিয়োগের জন্য। আর অমনি স্থানীয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে সরকারদলীয় লোকেদের প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্যানেল মেয়র নিয়োগ দিয়ে নিজেদের ফরজ দায়িত্বটি পালন করে স্বর্গে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে।
বিএনপির এখন বলতে গেলে কাউকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কারো পরামর্শের প্রতি তাদের আস্থা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এ কারণেই তারা যুক্তিতর্ক ও বাস্তবতার নিরিখে সব কিছু বিবেচনায় আনবে, এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে প্রথমেই তাকে তিনজন মেয়র প্রার্থী এবং প্রায় দেড় শ’ কাউন্সিলর প্রার্থীকে মনোয়ন দিতে হবে, যা বর্তমান বাস্তবতায় একটু কঠিনই বটে। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় সবাই হয় আত্মগোপনে, নয়তো জেলে। একটি সীমাহীন মানবিক ও সামাজিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত দলটির নেতাকর্মীরা কোন মন্ত্রবলে বা জাদুবলে উজ্জীবিত হয়ে হঠাৎ করেই নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তিনটি সিটি করপোরেশন এলাকার থানাগুলোতে বিএনপির বিরুদ্ধে মোট কতটি মামলা দায়ের করা আছে, তা যেমন দলটি জানে না; তেমনি জানে না ওইসব মামলায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা, এজাহারভুক্ত আসামিদের সংখ্যা এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজন আসামিদের সংখ্যা সম্পর্কে। ফলে পুলিশ দেখলেই বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে অস্থির হয়ে যাবেন না, এ নিশ্চয়তা কে দেবে? এই অস্থিরতা নিয়ে আর যা-ই হোক অন্তত স্বস্তির নির্বাচন হয় না।
বেগম জিয়ার সাম্প্রতিক প্রেস কনফারেন্সে সরকার, বিশেষত সরকারপ্রধান সম্পর্কে একটি পর্যবেক্ষণ সবার নজরে এসেছে। বিএনপি বর্তমান সঙ্কটের জন্য একরতফাভাবে আওয়ামী লীগকে দায়ী করে। আরো স্পষ্ট করে বললে শেখ হাসিনাকে দায়ী করে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ যেমন ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তেমনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনী খেলার পর রণেভঙ্গ দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম থামিয়ে সরকারকে সুযোগ দেয়াটা রীতিমতো অন্যায় হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ছাড়া বিএনপি যে সরকারের সাথে সমঝোতায় আসবে না, তা প্রায় নিশ্চিত। বেগম জিয়ার কথাবার্তায় আরো যেসব বিষয় ফুটে উঠেছে তা নিয়েও বিশ্লেষকেরা নানামুখী আলোচনার ঝড় তুলেছেন টেলিভিশন টকশো, পেপার-পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। একটি আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়লে অন্য আন্দোলন দিয়ে তা পূরণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই আন্দোলন থেকে দলটি পিছু হটবে না। বর্তমান অবস্থায় তাদের হারানোর তেমন কিছু নেই। সরকার অবশ্য বেগম জিয়াকে গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছে। অন্য দিকে, বেগম জিয়া কায়মনো বাক্যে চাচ্ছেন সরকার তাকে গ্রেফতার করুক। ফলে সরকারি তরফ থেকে বেগম জিয়ার গ্রেফতার নিয়ে শুরু হয়েছে নানা টালবাহানা। সরকার দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কিংবা গ্রেফতারের পক্ষ-বিপক্ষের লাভক্ষতির যোগ-বিয়োগ মেলাতে পারছে না।
বিএনপির সামনে এখনো কতগুলো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় সব প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতা হয় জেলে, নয়তো আত্মগোপনে থেকে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রায় সব রাজনৈতিক অফিসে তালা ঝুলছে। লাখ লাখ নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলা, কাউকে আশ্বাস দেয়া কিংবা সৃজনশীল কোনো চিন্তা করার মতো অবস্থা তাদের নেই। এই অবস্থায় সিটি নির্বাচনে তারা কেমন ফলাফল করবে সেই ভাবনা মাথায় নিতে হচ্ছে।
তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রথমত, অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপি হয়তো নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বা প্রস্তুতি নিতে পারবে না। ফলে ৫ জানুয়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বসিয়ে দেয়া যাবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যেহেতু এ যাবৎকালে দেশী-বিদেশী কোনো চক্রই সরকারের অবস্থান পরিবর্তন করাতে পারেনি, সেহেত্ ুওই মডেলের নির্বাচনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অভ্যস্ত করানোর বিষয়ে একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে সরকারের প্রতিপক্ষরা যেমন একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে ভবিষ্যতে উচ্চবাচ্য করার নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলবে, তেমনি ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচন অধিকতর একতরফাভাবে অনুষ্ঠান করানোর পথটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে তবে সরকার তাদের সাথে চমৎকার শিল্পীসুলভ রঙ্গরসে র্যাট-ক্যাট, অর্থাৎ ইঁদুর-বিলাই খেলার মহড়া দিতে পারবে। নির্বাচন উপলক্ষে দলটির গা-ঢাকা দেয়া নেতাকর্মীরা যদি বের হয়ে আসেন তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই তাদের গ্রেফতার করতে পারবে। নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে ওসব গ্রেফতারের খবর কেউ জানবে না বা জানতেও চাইবে না। দিন শেষে-রাত শেষে বিএনপি দেখবে- পুরো মাঠ ফাঁকা! কেউ কোথাও নেই- আছে শুধু বাকের ভাই একা! নির্ভীকচিত্তে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলে পড়ার জন্য ভাই তখন হাহাকার করতে থাকবেন। হয়তো এভাবে চলে আসবে নির্বাচনের দিন। ভোট গণনার পর দেখা যাবে- বিএনপি কাক্সিক্ষত ফল পায়নি। সরকার উল্লাসনৃত্য করতে করতে বলবে- এসব কিছুই হয়েছে পেট্রল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার কারণে। বিএনপি একটি গণধিকৃত দল।
তৃতীয়ত, বিএনপি যদি কোনো কারণে জিতে যায় তাহলেও সমস্যা নেই। বরং বিএনপি জিতলে সরকারের বহুমুখী লাভ। তারা দর্প করে বলতে পারবে, তাদের অধীনে সব সময়ই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। অতীতে হয়েছে, এখন হলো এবং ভবিষ্যতেও হবে। বিএনপি যেসব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে সেসব নির্বাচনে তারা জয়লাভ করেছে। আর যেখানে বুঝতে পেরেছে যে পরাজয়ের সম্ভাবনা শত ভাগ, সেখানেই নির্বাচন বর্জন করেছে। পরাজয়ের শঙ্কা থেকেই বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। নির্বাচনের পরে সরকার চমৎকারভাবে একটি রাজনৈতিক চাল চালার সুযোগ পাবে। নবনির্বাচিত বিএনপি দলীয় মেয়র এবং কারারুদ্ধ মেয়রদের কারামুক্ত করে একটি উন্নয়ন মঞ্চ সৃষ্টি করা হবে। তারপর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে গড়ে একশ’ থেকে দুই শ’ কোটি টাকার অতিরিক্ত থোক বরাদ্দ দেয়া হবে। অন্য দিকে, কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হবে ওসব বরাদ্দের সব কাজকর্ম বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে করানো হবে। ফলে ওইসব শহরে বিএনপির অফিস কিংবা বিএনপি নেতৃত্ব বলতে মেয়রকেই বোঝানো হবে। এ ধরনের একটি চিত্রকল্প খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
বিএনপির মেয়র সাহেবেরা মনের আনন্দে থোক বরাদ্দ বিতরণ করতে করতে একবারও ভাববেন না- তাদের আমলনামায় কী লিখা হচ্ছে? কিছু দিন পর তাদের সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে এক হাতে দেয়া হবে আমলনামার কপি এবং অন্য হাতে দেয়া হবে নতুন থোক বরাদ্দের ডিও। তারপর বলা হবে- কী চাও? আমলনামার বিচার, নাকি ক্ষমা এবং পুনঃবরাদ্দ? সবাই বলবেন- ক্ষমা এবং পুনঃবরাদ্দ। তখন আবার বলা হবে, হে প্রশান্ত আত্মাগণ! আমরা তোমাদের বলছি, তোমরা ভোগ করো এবং পুরনোকে ত্যাগ করো- নতুন কিছু করো! নতুন বাংলাদেশ গড়ো- নতুন নেতৃত্বে!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় সংলাপের আহবান
আলোচনা সভার প্রধান বক্তা খালেদ মোহাম্মদ আলী ২৩শে মার্চের তাৎপর্য উল্লেখ করে বিএনপির বর্তমান আন্দোলনের সমালোচনা করেন।
মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, দেশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে সংলাপের আহবান জানাই। ফিলিস্থিন ও ইসরাইলের মধ্যেও সংলাপ হয়। তিনি বলেন, এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আমলা ও ব্যবসায়ীদের আনা হচ্ছে। সাবেক ছাত্র নেতাদের আনা হচ্ছে না। এটি দু:খজনক।
২৩শে মার্চ পতাকা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। নীল নক্সা বাস্তবায়নের জন্য এখন আবার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এ হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আবুল কাশেম, আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কূটনীতিক জোনে মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধের নেপথ্যে by দীন ইসলাম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাত্মা গান্ধী ভারতের প্রথম কর্পোরেট স্পনসরড এনজিও : অরুন্ধতী রায়
তবে অরুন্ধতী রায়ের এই মন্তব্যের পরেই উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। এক যুবক উঠে বলেন 'জাতির জনক''-কে এই ভাবে তিনি ''কর্পোরেটের দালাল'' বলতে পারেন না। তার উত্তরে অরুন্ধতী জানান ''আমি ওনাকে নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছি। ১৯০৯ থেকে ১০৪৬ পর্যন্ত উনি যা যা লিখে গেছেন তার ভিত্তিতেই এই মন্তব্য করেছি।''
'গড অফ স্মল থিংস''-এর লেখিকা দশম গোরখপুর সিনেমা অফ রেসিসটেন্সের মুখ্য অতিথি ছিলেন। গোরখপুরের গোকুল অতিথি ভবনে চিত্রশিল্পী চিত প্রসাদ, কম্যুউনিস্ট নেতা গোবিন্দ পানসারে ও বাংলাদেশের সমাজকর্মী, লেখক অভিজিৎ রায়ের স্মরণে একটি আলোচনা সভায় বক্তৃতা রাখার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তার বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে এ দেশের 'কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের' প্রতি তীব্র সমালোচনা ছিল। তাঁর মতে এই দেশ নরেন্দ্র মোদী নয় আসলে চালাচ্ছেন আম্বানি, টাটার মত বড় বড় শিল্পপতিরা। এই 'বেনিয়ারাজ' বড় বড় মিডিয়া হাউস থেকে ছোট ছোট শিল্প, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, মত অরুন্ধতীর।
তার মতে এই কর্পোরেট হাউসগুলো বাক স্বাধীনতার বিরোধী।
তার বক্তব্যে আম্বেদকারকে উদ্ধৃত করে লেখিকা বলেন পুঁজিবাদ ও জাতিভেদ প্রথা সমাজের সব থেকে বড় শত্রু।
তার মতে ফোর্ড ও রকফেলার ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য পৃথিবীটাকে ''পুঁজিবাদের রমারমার জন্য সুরক্ষিত করে তোলা।''
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ ‘রিমান্ড’ কি বাণিজ্যিক বিষয়? by তৈমূর আলম খন্দকার
রিমান্ডে আসামির মৃত্যু, পঙ্গুত্ব এবং বানোয়াট স্বীকারোক্তি যখন চরম পর্যায়ে এবং এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম যখন পত্রিকার পাতায় ঝড় তুলছে, তখন ২০০৯ সালে সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বেসরকারি বিল উপস্থাপন করেন। সরকারদলীয় এমপি বেসরকারি বিল উপস্থাপন করায় অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কার্যত কিছুই হয়নি। ২০১০ সালে রিমান্ডে পরপর তিনজন মৃত্যুবরণ করায় ডিএমপি কমিশনার ১২টি দিকনির্দেশনা জারি করে পরিস্থিতি ধামাচাপা দেয়, যা ছিল নিছক লোক দেখানো। দুই বছর পর ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ ২০১৩ পাস হলেও এর কার্যকারিতা তো নেই-ই, বরং এর সংশোধনের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে লিখিতভাবে জোর দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ সংশোধনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ক্ষমতায় থাকাকালে জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর মতোই পুলিশ সরকারের অনৈতিক সব লক্ষ্য পূরণ করে বলেই কোনো সরকারই তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় না। তবে ক্ষমতার বাইরে গেলে বোঝা যায়। সাবেক প্রায় সব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই পুলিশ পিটিয়েছে। আবদুল মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, লুৎফুজ্জামান বাবর- কেউই তাদের হাত থেকে রক্ষা পাননি।
পত্রিকান্তরে প্রকাশ, রিমান্ডে নেয়া আসামিদের ১৪ ধরনের নির্যাতন করা হয়। সেগুলোর মধ্যে গিটা নির্যাতন, বাদুড় ধোলাই, ওয়াটার থেরাপি, উলঙ্গ করে নির্যাতন, সারা দিন না খাইয়ে নির্যাতন, বোতল থেরাপি, ডিম থেরাপি, ডিস্কো ড্যান্স নির্যাতন, সেলাই নির্যাতন, ঝালমুড়ি নির্যাতন, টানা নির্যাতন, বাতাস নির্যাতন উল্লেখযোগ্য। আসামিদের হাত-পায়ের প্রতিটি জয়েন্টে লাঠিপেটা করার নামই হলো গিটা নির্যাতন। এ নির্যাতনের ফলে হাড়-মাংস থেঁতলে যায়। কিন্তু বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। চিত করে ফোরে ফেলে দুই হাত, দুই পা বেঁধে মুখে গামছা বা কাপড় ঢুকিয়ে পানি ঢেলে মারধর করাকে বলা হয় ওয়াটার থেরাপি। নাকে-মুখে পানি দিতে থাকলে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে আসামিরা সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বলে তথ্য দিতে থাকে। দু’টি উঁচু টেবিলের মাঝখানে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানোকে বলা হয় বাদুড় ধোলাই। এ রকমের নির্যাতন করলে যেকোনো আসামি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গরম বা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ডিম আসামিদের মলদ্বারে ঢুকিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় ডিম থেরাপি। এ নির্যাতনের ফলে আসামির মলদ্বার ফুলে যায় এবং অনবরত রক্ত পড়তে থাকে। যতক্ষণ আসামিরা স্বীকারোক্তি না দেয় ততক্ষণ মলদ্বারে ডিম ঢুকাতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। হাত-পায়ে অবিরাম ইলেকট্রিক শক দেয়াকে বলা হয় ডিস্কো ড্যান্স থেরাপি। হাত-পায়ের নখে মোটা সুই ঢুকানোকে বলা হয় সেলাই নির্যাতন। সুই ঢোকানোর পর হাত-পায়ের নখগুলো ফুলে যায়। চোখ-মুখ ও নাকে শুকনো মরিচ লাগানোকে বলা হয় ঝালমুড়ি নির্যাতন। সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় বাতাস পদ্ধতি। সাধারণ আসামিদের পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও ব্যবসায়ীদের রিমান্ডে নিয়ে একই কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রেফতার ও রিমান্ড সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ এবং ১৬৭(২) ধারায় যা বলা হয়েছে তা নিম্নরূপ : ধারা ৬১- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখা যাবে না- ১৬৭ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ না থাকলে এরূপ আইনের সময় গ্রেফতারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে যাওয়ার সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি হবে না।
ধারা ১৬৭(২)- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা না গেলে তখনকার পদ্ধতি :
(১) যখনই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ়ভিত্তিক, তা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসার, তিনি যদি সাব-ইন্সপেক্টর পদের নিম্নপদস্থ না হন, অবিলম্বে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরিতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যের নকলসহ আসামিকে নিকটতম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করবেন। (২) এই ধারা অনুসারে আসামিকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করা হবে, তার সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্রে থাকুক বা না থাকুক, তিনি তার বিবেচনামতো আসামিকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য বিভিন্ন সময়ে কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট ১৫ দিনের অধিক হবে না। মামলাটি বিচার করার অথবা বিচারার্থে পাঠানোর অধিক্ষেত্রে যদি তার না থাকে এবং তিনি আরো আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন, তা হলে তিনি আসামিকে এইরূপ অধিক্ষেত্রসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক এ বিষয়ে বিশেষভাবে ক্ষমতাবান নন, এরূপ কোনো দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পুলিশের হেফাজতে আটক রাখার কর্তৃত্ব দেবেন না।
‘রিমান্ডে’ থাকাবস্থায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশি আচরণ সম্পর্কে ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট নিন্মবর্ণিত চারটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন : (ক) কাচের দেয়াল সম্পন্ন একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। (খ)জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে অভিযুক্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। (গ) প্রতিবার রিমান্ডের মেয়াদ তিন দিনের বেশি হবে না। (ঘ) কাচের দেয়াল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আসামির আইনজীবী ও আত্মীয়স্বজনদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
কিন্তু রাজনৈতিক মামলাসহ কোনো মামলাতেই পুলিশ রিমান্ডসংক্রান্ত আইন, সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করছে না। বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ভাষায় অনেক চটকদার কথা বলেন। কিন্তু একজন অসুস্থ পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ রুহুল কবীর রিজভীকে যখন একের পর এক রিমান্ডে নেয়া হচ্ছেÑ এ সম্পর্কে তার মুূখে কোনো কথা সরে না। এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাব আসেÑ আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। আমার প্রশ্ন আইন ‘নিজস্ব গতিতে চলা’র মাপকাঠি কী? আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দেয়া তো দূরের কথা, প্রায়ই তিন-চার দিন আটক রেখে নির্যাতনের পরে (আটকের কথা গোপন রেখে) গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেয়া হয়Ñ এ কথা পানের দোকানদার ও রিকশাচালকসহ সবাই জানেন; কিন্তু জানেন না শুধু তারা যাদের হাতে প্রতিকারের ক্ষমতা রয়েছে। সব প্রতিকারই নীরব নিস্তব্ধ হয়ে আছে শুধু ক্ষমতাধর একজনের ইচ্ছায়।
পুলিশ নির্ভরতার কারণে বর্তমান সরকার পুলিশের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না; বরং ‘আমি দেখব’ বলে সরকারপ্রধান কর্তৃক পুলিশকে ব্ল্যাংক চেক প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি করে কি সরকারের শেষ রক্ষা হবে?
আইনের শাসন যখন
প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ কোথায় আশ্রয় পাবে? ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ ঢাকা
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর
হিসেবে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে শপথবাক্য পাঠ করাতে অস্বীকার করায় মহান
স্বাধীনতা আন্দোলন আরো বেগবান হয়েছিল। ফলে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনকে নড়েচড়ে
বসতে হয়েছিল। জনগণের আশা-আকাক্সার প্রতিফলনের জন্য আবারো কোনো বিচারপতি বি এ
সিদ্দিকীর আবির্ভাব হবে কি না জানি না, তবে আমাদের জাতীয় চরিত্র কোনো দিনই
কোনো অনাচার দীর্ঘ দিন সহ্য করেনি। আইনের ব্যানারে এ বেআইনি নির্যাতন থেকে
ভিন্ন মতাদর্শীরা কবে রক্ষা পাবেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলার মাপকাঠিইবা কবে
নিরূপণ হবে? আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কি না বা সাংবিধানিক অধিকার ব্যাহত
হচ্ছে কি নাÑ এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কার? সংবিধান এখানে কী বলে? এ অনাচার
থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান
বিচারপতির দিকে তাকিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন আমরা কি প্রতিকারের জন্য
রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ আশা করতে পারি? উত্তর নেগেটিভ
হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ সংবিধান বা আইনে যাই থাকুক না কেন, তারাও তো
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাকিয়ে থাকেন। নতুবা এ অভাগা দেশে আইনের শাসনের এ
করুণ পরিণতি কেন?লেখক : রাজনৈতিক কর্মী ও আইনজীবী,আইন সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিএনপি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগান নারীকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে নারীর মাথায় ছাতা ধরা অপমানজনক!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা বাড়ল ৫০ হাজার বর্গকিমি.
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহযোগিতার ভিত্তিতে সমৃদ্ধি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ কোন অপরাজনীতির কবলে দেশ by জি. মুনীর
কথাগুলো বলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির বেহাল অবস্থা দেখে। আমরা আশ্চর্য হই, যখন দেখি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল-জোটের নেতা-নেত্রীরা প্রায় প্রতিদিনই কোনো না সভা-সমাবেশে কিংবা সরকারি আচার অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন। দলীয় মুখপাত্র ও মন্ত্রিসভারও সদস্যদের মধ্যে এই প্রবণতা আরো বেশি প্রবল। এরা দিনে একবার বেগম জিয়াকে পাকিস্তানে পাঠান। এরা বলেন, তার জায়গা নাকি বাংলাদেশে নেই। কারণ তাদের ভাষায় খালেদা জিয়া জঙ্গিনেত্রী। গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিজ দলীয় এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে এরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী জঙ্গিনেত্রীর স্থান বাংলাদেশে হবে না।’ প্রায় প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীসহ তার মন্ত্রীদের একই ধরনের কথার পুনরাবৃত্তি শোনা যায়। অথচ সরকারি দলের নেতানেত্রীদের বোধে থাকে না- তারা যা বলেন দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ যদি তা বিশ্বাস করতই, তবে বেগম জিয়া জনগণের ভোটে এ দেশে তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। আর দেশের বড় বড় সব সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন দল-জোটের নেতারা বিপুল ভোটে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারতেন না। আসলে, আওয়ামী লীগের অনেকেই তাদের দলের নেতানেত্রীদের এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারেন না। এরা বাইরে তা প্রকাশ না করলেও দলীয় নেতাদের এ ধরনের অমূলক বক্তব্যে ভেতরে ভেতরে বিব্রতবোধ করেন।
আসলে বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তার ভয়ে ভীত আমাদের সরকারি দল-জোটের শীর্ষসারির নেতানেত্রীরা। এরা বেগম জিয়া ফোবিয়ায় ভোগেন বলেই দলনিরপেক্ষ একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে জাতীয় নির্বাচন দিতে এতটা অনীহ। এদের মধ্যে বেগম জিয়াভীতি কাজ করে বলেই এরা গণতন্ত্রের যাবতীয় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচন করে ভোটের আগেই সরকার গঠন করার মতো নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত করে ক্ষমমতায় টিকে থাকার অনৈতিক পথ অবলম্বন করে। এরা সেই নির্বাচনকে বৈধ করে তুলতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কোনো দেশ, জাতিসঙ্ঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়নি। আজকে দেশে যে চরম রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে, মানুষ মরছে, অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, দেশ জাতি অভাবনীয় ক্ষতির মুখেÑ সারা দুনিয়া বলছে এর জন্য দায়ী ৫ জানুয়ারির অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সবার অংশগ্রহণে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে এ সঙ্কট থেকে রক্ষা করতে। সব মহলের কথা- এজন্য দরকার সরকার ও সরকারবিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ। কিন্তু সরকার মহলের ধনুকভাঙা পণ- না, কোনো সংলাপ নয়, জঙ্গিনেত্রীর সাথে কিসের সংলাপ। ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন নয়।
সরকারি মহলে শুধু বেগম জিয়াভীতিই কাজ করছে, তা নয়। আসলে তার দলের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সরকারি মহলে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। না হলে এ সরকারের আমলে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়া বিএনপি দলীয় মেয়রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে বরখাস্ত হতে হবে কেনো? রাজনৈতিক মামলায় এদের তিনজন কারাগারে। গ্রেফতার এড়াতে বাকি দু’জন আত্মপোপনে। এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন এ সরকারের আমলে নির্বচিত অনেক উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচত প্রতিনিধি। তাদের অপরাধ এরা সরকারবিরোধী রাজনীতির সাথে জড়িত।
সরকারি দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, বেগম জিয়াকে যদি জঙ্গি-সন্ত্রাসী প্রমাণ করা যায় তবে কেল্লাফতে। কারণ, তখন পাশ্চাত্য বেগম জিয়ার সাথে লাদেন হিসেবে আচরণ করতে শুরু করে দেবে। আর তখন সরকারি দমনপীড়ন চললে দ্বিমুখী চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বেন বেগম জিয়া। আর তখনই সহজেই সম্ভব হবে বেগম জিয়া ও তার দল-জোটকে নির্মূল করা। আর তা সম্ভব হলে দেশে আওয়ামীরাজ কায়েম নিশ্চিত হবে। এজন্যই আজ বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে তুমুল প্রচারণাÑ দেশে যত পেট্রলবোমা মেরে মানুষ মারা হচ্ছে সবই হচ্ছে বেগম জিয়ার নির্দেশে। সম্প্রতি ঢাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা যায় আওয়ামী লীগের টানানো বিরাট বিরাট বিলবোর্ড। এগুলোতে দেখা যায়, আগুনে পোড়া মানুষের বেশ কিছু ছবি। বেগম জিয়া এক হাতে ধরে আছেন চেয়ারের একটি পা। আর এতে উদ্ধৃত করা হয়েছে তারেক জিয়ার একটি কাল্পনিক বক্তব্য। স্মৃতি থেকে বলছি তার বক্তব্যটি সম্ভবত এমন : ‘আমি তারেক বলছি, মা দেশটা জ্বালিয়ে দাও, জ্বেলেপুড়ে চারখার করে দাও। প্রয়োজন একটি চেয়ার।’
এর মাধ্যমে সরকার পক্ষ বলতে চাইছে বেগম জিয়া আজ পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু দেশবাসী যখন দেখল সরকারি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শুটিং চলেছে সাজানো প্রচারণা চালানোর জন্য, মোমবাতির আগুলে পুড়ে যাওয়া শিশুর ঘটনাকে বার্ন ইউনিটে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রচার করা হচ্ছে পেট্রলবোমার শিকার দেখিয়ে এবং কোনো কোনো পত্রিকা খবর প্রকাশ করছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ধরা পড়ছেন পেট্রলবোমা নিয়ে এবং তাদের ছেড়েও দেয়া হচ্ছে. তখন কিন্তু এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করে। বেগম জিয়া অবশ্য বলেছেন, এসব ঘটনার প্রয়োজনে জাতিসঙ্ঘের অধীনে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়া হোক। কার্যত তা হয়নি। যা হয়েছে- ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বেগম জিয়াকে হুকুমের আসামি করে তার দল-জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে পুলিশি মামলা হয়েছে। গণহারে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। শুধু নেতাকর্মীরাই নন, তাদের আত্মীয়স্বজনও এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন। সময়ের সাথে এ প্রবণতা আরো জোরালো হচ্ছে। খুন, অপহরণ, হত্যা ও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে।
আসলে একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে সরকারদলীয় যাবতীয় গোয়েবলসীয় প্রচার-প্রচারণা সবই ভেস্তে যাচ্ছে। সরকার বলছে, দেশে কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট নেই, আছে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত সমস্যা। সারা দুনিয়া বলছে তা ঠিক নয়, বাংলাদেশ চরম রাজনৈতিক সঙ্কটে নিপতিত, যার শেকড় নিহিত পাঁচ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচনই পারে এ সঙ্কটের সমাধান এনে দিতে। সরকারি জোটের বাইরে দেশের সব রাজনৈতিক দলেরও এই একই কথা। এমনকি সরকারি জোটে থাকা বেশ কয়েকটি দলও সংলাপের মাধ্যমে এর সমাধান চান, এসব দলের নেতারা এমনটি উল্লেখ করেছেন জোটের সভায়- এমন খবর প্রকাশিত হতে দেখা গেছে পত্রপত্রিকায়। দেশে সুশীল সমাজও তাই বলে আসছেন বারবার। কূনৈতিক মহলেরও একই অবস্থান। বেগম জিয়ার আন্দোলনের নৈতিক সাফল্য এখানেই। বেগম জিয়ার অবস্থানকেই সমর্থন জানাচ্ছে সরকার ছাড়া দেশ-বিদেশের সবাই। আর এতে রুষ্ট হয়েই আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে কূটনীতিক ও সুশীলসমাজের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনাকাক্সিক্ষত সব বক্তব্য। কারণ এরা সবাই চান সংলাপ ও সেই সূত্রে সঙ্কটের সমাধান। সে পথে না গিয়ে এখন সরকারপক্ষ বিলবোর্ড টানিয়ে বেগম জিয়ার ভাবমর্যাদা বিনাশ করার যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কার ভাবমর্যাদা বিনাশ করে, সেটাই দেখার বিষয়।
এখানেই শেষ নয়, বেগম জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্য নিয়েও সরকারপক্ষ সক্রিয়- এমন খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ওয়ান-ইলেভেনের আমলের ও পরবর্তী সময়ে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা সচল হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি জাতীয় দৈনিক। এসব মামলা যে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের বিরাজনীতিকায়ন তথা রাজনীতিবিদদেরকে, আরো স্পষ্ট করে বললে দুই নেত্রীকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে দায়ের করা হয়েছিল, তা এ দেশের সব মানুষের কাছে তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জিয়া পরিবারকে নির্মূল করার মানসে সেই হাতিয়ারটি এখন বর্তমান সরকারের হাতে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছিলেন এ দেশের বড় দুই দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদের দলের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এখন সরকার সেসব মামলা সক্রিয় করে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রয়াস নতুন করে চালু করতে যাচ্ছে। এসব মামলায় তেমনটি করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, সরকারের অনেক মন্ত্রী প্রায়ই বেগম জিয়াকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন।
এখন সরকার হঠাৎ করে ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে এমন এক সময়, যখন চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে ২০ দলীয় জোটের লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে হয় জেলে পাঠানো হয়েছে, নয়তো পালিয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের প্রচুর নেতাকর্মী। প্রতিদিনই গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতাকর্মী। আসলে এরাই যে কোনো নির্বাচনী প্রচারণার ও ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার মূল শক্তি। সরকার এদের বাইরে রেখে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করে পাঁচ জানয়ারির মতো খালি মাঠে গোল দেয়ার অপরাজনীতি করছে এ ক্ষেত্রেও। এ অবস্থায় নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যে বড় মাপে অনুপস্থিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিবিসি সংলাপের ১০৯তম পর্ব। এ পর্বে শ্রোতারা বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা থাকে। দেশে বিদ্যমান সঙ্কট জিইয়ে রেখে এই সময়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করে তুলতে পারে। তাই বলা দরকার, দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান করে এই নির্বাচন দিলে অন্তত অপরাজনীতির বদনাম থেকে সরকার বাঁচার একটি সুযোগ পেত। কেনো যে সরকার সে পথে না হেঁটে শুধু রাজনৈতিক জটকে আরো জটিল করে তোলায়ই বেশি আগ্রহী, তা বলা মুশকিল। তবে অনেকের অভিমত, এ নির্বাচন আয়োজনের পেছনে সরকারপক্ষের আরেক গোপন লক্ষ্য হচ্ছে চলমান আন্দোলনের গতিকে আরো ধীরগতিতে নামিয়ে আনা। তা ছাড়া সরকার এক দিকে অন্যান্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতাদের সরিয়ে দেয়ার নানা ফন্দি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, অপর দিকে হঠাৎ করে এই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের পেছনে সরকারের যে কোনো সৎ উদ্দেশ্য নিহিত নেই, সে বোধ এ দেশের মানুষের আছে।
আজকে সরকার দেশের মানুষকে বোকা বানানোর বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার মনে করে, তাদের গোয়েবলসীয় প্রচার-প্রচারণায় দেশের জনগণ প্রভাবিত হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে তালাক দিয়ে আওয়ামী শিবিরে যোগ দেবে। সেজন্যই আওয়ামী রাজনীতি এখন রূপ নিয়েছে রাজধানীর বিলবোর্ড আর ব্যানার ফেস্টুনের রাজনীতিতে। সারা ঢাকা ছেয়ে গেছে আওয়ামী নেতানেত্রীদের বিলবোর্ড আর ব্যানার ফেস্টুনে। সেই সাথে আওয়ামী নেতাদের পক্ষ থেকে রুটিন করে প্রতিদিন চলছে নানা অসৌজন্যমূলক বিশেষণে অভিহিত করে বেগম জিয়াকে নানাধর্মী আক্রমণ করে বিরামহীন বক্তব্য। একে নিছক গালাগাল বললেও ভুল হবে বলে মনে হয় না। অবাক হতে হয়, যেখানেই যাবেন চার দিকে শুধু নেতাদের বড় বড় ছবি সংবলিত বিলবোর্ড। আর এসব বিলবোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুনে প্রচার করা হচ্ছে অদ্ভুদ সব সস্তা আওয়ামী দর্শন। এক জায়গায় দেখা গেল এমনই একটি আওয়ামী দর্শন : ‘ফার্স্ট লাইফ, নেক্সট ডেমোক্র্যাসি’। দর্শনের মর্মার্থ সরল। আগে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে, পরে ভাবা যাবে গণতন্ত্র নিয়ে। কিন্তু আওয়ামী দার্শনিকদের বোধে নেই- গণতন্ত্র থাকলেই শুধু মানুষের জীবন নিশ্চিত হয়, আর গণতন্ত্র না থাকলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়, জানমাল হুমকির মুখে পড়ে। এর জায়মান প্রমাণ সাম্প্রতিক বাংলাদেশ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে গণতান্ত্রিক ব্যত্যয় ঘটেছে, এরই পরিণামে আজ প্রতিদিন এ দেশে মানুষ মরছে। খুন, গুম, অপহরণ, ক্রসফায়ার, বিরোধী দলমতের দমন-পীড়ন সবই চলছে। এই মানুষ মরার যে প্রক্রিয়া চলমান, তা বন্ধ করার একমাত্র উপায় ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের শুদ্ধায়ন, ভিন্ন কিছু নয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার একগুঁয়েমি জিইয়ে রেখে ‘ফার্স্ট লাইফ, নেক্সট ডেমোক্র্যাসি’র ভুল দর্শন আওয়ামী লীগকে ভুলের মহাসড়ক থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ দেবে না। বরং আরো বড় বড় ভুলের জন্ম দেবে। সবচেয়ে বড় কথা, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, ৫ জানুয়ারির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়া হবে। সরকার এখন সে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার অবস্থান নেয়ায় সঙ্কট আরো প্রবল আকার নিয়েছে।
![]() |
| জি. মুনীর |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষমতাসীনদের হাতে অবৈধ অস্ত্র- ঘটছে হতাহতের ঘটনা by আবু সালেহ আকন
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ যেসব সংঘর্ষে জড়িয়েছে তার প্রায় প্রতিটিতেই আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও বোমার ব্যবহার হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র তো রয়েছেই। বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এভাবে সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
গত ২০ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর উপশহর তেররতনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল ও ছাত্রলীগ নেতা দুলাল মিয়া গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ ও আরেকজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে গোলাগুলির বিষয়ে কিছু জানা নেই।
গত ১৮ মার্চ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাঁধন খন্দকার নামে ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ১৭ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জঙ্গল পদুয়া এলাকায় রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
গত ১২ মার্চ পাবনা শহরের রামচন্দ্রপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
গত ১২ মার্চ রাতে সিলেটে যুবলীগ ক্যাডার পীযূষ গ্রুপের সাথে ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সরকারের গণপূর্ত ও রেজিস্ট্রি অফিসে হামলা চালানো হয়।
গত ১১ মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল তুহিনের কারামুক্তি উপলক্ষে র্যালিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। তবে ঘটনার পর নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওসার সাংবাদিকদের বলেছেন, অস্ত্রের মহড়া সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
গত ১০ মার্চ সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুৎ ভবনে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে আগ্নেযাস্ত্র উঁচিয়ে সেখানে মহড়া দেয়া হয়। অথচ ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা গোলাগুলির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আশরাফ উদ্দিন (৬০) নামের একজন নিহত হন।
এ দিকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে গ্রেফতারেরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনার আকন্দবাড়িয়া থেকে বোমা বানাতে গিয়ে আহত যুবলীগ কর্মী নাজমুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দু’দিন আগে নিজ বাসায় ছাদে বোমা বানানোর সময় সে গুরুতর আহত হয়। পরে গোপনে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিদেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিনসহ কায়সার নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পৌর কলচমা গ্রামের যুবলীগ কর্মী ওয়াসীমকে একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনতা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীনদের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ক্রমেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ নিয়ে তারাও বিপাকে রয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-চীন দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের অবস্থান স্পর্শকাতর -অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান
মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার নুর মোহাম্মদ।
অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ একটাই। সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারই দেশের অভিভাবক। তাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণের একটি নির্বাচন। কিন্তু সরকার এই মুহূর্তে সেটি চাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিদেশীদের হস্তক্ষেপ বা উপদেশ বর্তমান সংকট সমাধানে কোন ভূমিকা পালন করবে না। এই সংকটের সমাধান দুটি বড় দলকে মিলে করতে হবে। এক্ষেত্রে সংলাপের কোন বিকল্প নেই। যেকোন পর্যায়ে হউক এটা করতে হবে। সহিংসতার প্রতি মানুষের কোন সমর্থন নেই। এই সহিংস ঘটনাবলী আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একটি কথা আছে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্ড’ অর্থাৎ ‘আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা’। একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই আস্থার সম্পর্কটি থাকে। আস্থার সম্পর্ক না থাকলে গণতন্ত্র বির্নিমাণ করা যায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই আস্থার পরিবেশটি জরুরি।
সমাধান কূটনীতিকরা করতে পারবে না তারাও জানে। কারণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে কূটনীতিকরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এক্ষেত্রে বিদেশীরা বলতে পারে এটা কর, ওটা কর। জাতিসংঘ বলতে পারে সংকট আছে। কিন্তু কোন এখতিয়ার নেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করার। এরপরও তারা যদি কোন ফয়সালা করে তাতে আমাদের এখানে বাজে সংস্কৃতি জন্ম দেবে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত চাচ্ছে ভারত মহাসাগর সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিয়ে একটি লিডারশিপ তৈরি করা। সে লিডারশিপ তাদের হাতে রাখা। এটি মোদি সরকারের নতুন নীতি। ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীন পরস্পর শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভারত চাচ্ছে ভারত মহাসাগরকে সামনে রেখে এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। যাতে চীন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। এতে সঙ্গত কারণে ভারত-চীন এক ধরনের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাবে। সেখানে বাংলাদেশ খুব স্পর্শকাতর অবস্থানে থাকবে। তাই অনেকটা সাবধানে এগুতে হবে আমাদের। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে কোন পক্ষকে সমর্থন না করা হয়। কৌশলগত কারণে যদি চীনকে সমর্থন না করি তবে ভারতকে যেন সমর্থন না করা হয়। আর পশ্চিমারা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে এখানে ভারতকেন্দ্রিক একটি বলয় গড়ে তুলতে। এ জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। আগামী দিনে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও গাঢ় হবে। এরফলে মার্কিন কর্তৃত্বটা প্রতিষ্ঠা হতে পারে এ অঞ্চলে। উদ্দেশ্য চীনকে এ অঞ্চলে কোণঠাসা করে রাখা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য আসবে’ by আব্দুল কাইয়ুম
ডেইলি অবজারভার-এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, দ্য ডেইলি স্টার-এর বিজনেস এডিটর অরুণ দেবনাথ ও প্রথম আলো থেকে আমি লুককের সঙ্গে কথা বলি। বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের বাধাগুলো দূর করতে হবে। নীতি, অর্থনৈতিক পরিচালন (গভর্নেন্স) ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিশেষভাবে নারীদের মৌলিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডিএফআইডি এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে। মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইউসেপকে তারা সহযোগিতা দেয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। ডিএফআইডি এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের বিপুল প্রাণশক্তির প্রশংসা করে লুকক বলেন, এ বছরের শেষদিকে প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের উদ্যম ও উদ্যোগ গুরুত্ব পাবে।
এর আগে ২০১১ সালে লুকক ঢাকা সফরে এসেছিলেন। এখন চার বছর পর কী পরিবর্তন তাঁর চোখে পড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের মজুত অনেক বেড়েছে। এখন সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। এটা বড় সাফল্য। তবে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম। এ ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে। আইএমএফ নতুন ভ্যাট আইনের কথা বলেছে। এগুলো ভাবতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) আওতায় ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিষ্ঠায় ডিএফআইডি সহায়তা দিয়েছে। ব্যাংকঋণ-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এখন মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায়। কে খেলাপি, কার কোন ব্যাংকে কত টাকা ঋণ—এসব তথ্য আগে সহজে বের করা যেত না। এখন সিআইবির কল্যাণে অনলাইনে সব তথ্য হাতের মুঠোয়। এর ফলে আর্থিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। শুধু অর্থনীতি কেন, এখন যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে বা আগামী দিনে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, তখন প্রার্থীদের ঋণ খেলাপ-সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে চট করে দেওয়া সম্ভব হবে। ডিএফআইডির সহায়তা অর্থনীতি ও রাজনীতি, দুই ক্ষেত্রেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রাখছে।

লুকক এমন এক অস্থির সময়ে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন, যখন অবরোধ-হরতাল চলছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি একটি বড় বিষয়। বাংলাদেশ তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। কারণ, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাই তাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে হবে। পোশাকশিল্প খাত, ওষুধশিল্প, রাসায়নিক দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি বাংলাদেশের জন্য খুব সম্ভাবনাময় খাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বাজেটশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, শুল্কহার যুক্তিসিদ্ধ করা, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি নিশ্চিত করার ওপর লুকক গুরুত্ব আরোপ করেন।
আমরা জিজ্ঞেস করি, আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে কী করা দরকার? তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের জন্য যুক্তিসংগত মুনাফা চায় এবং সেই মুনাফা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কাছে নেওয়ার সুযোগ চায়। এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। আর তা ছাড়া বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত অবকাঠামো, আইন, সুযোগ-সুবিধা তো লাগবেই। আমি বলি, সরকার তো আইন যথেষ্ট করেছে। কিন্তু এর সঠিক বাস্তবায়নই কি বড় সমস্যা?
আসলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনতে পারলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে। এদিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
লুকক একটি দিকের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে গার্লস সামিটে গিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা বলে এসেছেন। তিনি এর প্রশংসা করেন। ডিএফআইডি মেয়েদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। ব্র্যাকের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। লুকক বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটি বড় সম্পদ। মানুষ কঠোর পরিশ্রমী। এদের পেছনে ব্যয় করলে এরাই দেশের জন্য হবে মূল্যবান মানবসম্পদ।
আলোচনা শেষ প্রান্তে। আমাদের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে, আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে লুকক বলেন, বাংলাদেশের আছে সুসংগঠিত নাগরিক সমাজ। সক্রিয় গণমাধ্যম। বিপুল সম্ভাবনা। অন্তর্নিহিত এসব শক্তি-সম্ভাবনা নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য দেখার আশায় আমরা রয়েছি।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রুবেলের নতুন দাবিদার!
এদিকে মাশরাফি-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে জনতার ঢল নামে। প্রিয় ক্রিকেটারদের বরণ করে নিতে অধীর অপেক্ষা করেছেন হাজার হাজার ক্রিকেট-ভক্ত। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা।
বাংলাদেশ দলের রুবেল হোসেনকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এক তরুণীর হাতে শোভা পাচ্ছিল ‘ম্যারি মি রুবেল’ প্ল্যাকার্ড। সাবেক প্রেমিকা হ্যাপির করা মামলায় এমনিতেই রুবেল হোসেন এর উপর। সংশয় জেগেছিল বিশ্বকাপে খেলা নিয়েই। তবে অনেক ঝক্কি-ঝামেলার শেষ-মেষ ঠিকই বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। খেলেছেন আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুইটি ম্যাচেই।
তবে, বাংলাদেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়াতেও পৌঁছালেও হ্যাপির ভূত যেন কিছুতেই পিছু ছাড়েনি রুবেলের। খেলার দিন কেউ না কেউ গ্যালারিতে তাকে আর হ্যাপিকে নিয়ে মজার মজার প্লাকার্ড বানিয়ে নিয়ে গেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের দিন বিখ্যাত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড এর গ্যালারিতে এক তরূণী তাকে দিয়ে বসেছেন বিয়ের প্রস্তাব! প্লাকার্ডে তিনি লিখেছেন, আমাকে বিয়ে করো রুবেল, আমি তোমাকে অনেক সুখে (হ্যাপি) রাখবো! আর খেলা শেষে বাংলাদেশে ফেরার সাথে সাথেই আরেক তরুণীর কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব বেশ হাস্য রসের সৃষ্টি করেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সজনে ডাঁটা : পতিত জমিতে আবাদ হলেও ফেলনা নয় by আনোয়ার হোসেন শাহীন
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছর ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা বসতবাড়ির আশপাশে ও েেতর আইলে সজনে গাছ রোপণ করছেন। অন্য সবজি বিক্রি করতে বাজারে যেয়ে বসে থাকতে হলেও সজনে ব্যাপারীরা বাড়ি এসে চড়া দামে কিনে নিয়ে যায়। ব্যাপারীরা সজনে ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় চালান করে।
সজনে সবজি হিসেবে যেমন উপাদেয়, এর ভেষজগুণও তেমন অসাধারণ। মওসুমি নানা রোগব্যাধির নিরাময় ও শরীরে রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে বসন্ত, জন্ডিস, মূত্রসংক্রান্ত সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকে সজনের নানা অংশের ব্যবহার করে আসছেন ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেরা।
বালিদিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, মূল্যবান ভেষজ হিসেবে সজনের কদর দিন দিন বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে দাম। এতে কৃষক সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছে।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, উপজেলায় সজনে আবাদের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে দুই-তিনটি সজনে গাছ নেই। দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পরিকল্পিতভাবে সজনের আবাদ করছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবুল ফজলের ‘দুর্দিনের দিনলিপি’ ও এ সময় by ওয়ালিউল হক
এবার আসল কথায় আসা যাক, অনেকের মতো আমিও কিছু কিছু টক শো দেখি। কিন্তু মর্মাহত হই, যখন দেখি টক শোতে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী ঘরানার কোনো কোনো ব্যক্তি এ কথা বলেন যে, এখন নতুন কোনো নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়, কারণ তাতে করে বিএনপি-জামায়াতের মতো জঙ্গি গোষ্ঠী ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। কেউ কেউ তো এ কথাও বলেন যে, সরকার এবং বিরোধী দল দুটোকেই সমমনা হতে হবে। অর্থাৎ বিরোধী দলকেও হতে হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। বিরোধী দল অর্থাৎ বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো এই চারটি নীতিতে বিশ্বাসী হয় তাহলেই তাদেরকে ক্ষমতায় যেতে দেয়া যেতে পারে অন্যথায় নয়।
তাদের এসব কথাবার্তা শুনে ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আবুল ফজলের লেখা একটা বইয়ের কথা মনে পড়ছে। অধ্যাপক আবুল ফজল এক দিকে ছিলেন নামকরা শিক্ষাবিদ এবং অন্য দিকে খ্যাতিমান সাহিত্যিক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আবুল ফজলের লেখা ওই বই-এর নাম হচ্ছে ‘দুর্দিনের দিনলিপি’। ১৯৭১ সালে উনি যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তখন তিনি ঐ দিনলিপি লেখেন, যা ১৯৭২ সালে দুর্দিনের দিনলিপি নামে প্রকাশিত হয়। তিনি সেখানে গণতন্ত্র, স্বৈরাচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন যা কি না বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এখনো গুরুত্ববহ। পাঠকদের অবগতির জন্য তার কিছু অংশ নিচে তুলে দেয়া হলো-
২৮.০৭.৭১
রাষ্ট্রীয় জীবনে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক ক্ষমতাই সব শক্তি আর উদ্যোগের উৎস। এ ক্ষমতার চাবিকাঠি পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃত্ব কিছুতেই পূর্ব বাংলার মানুষের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। এ সত্য শুধু এবার প্রমাণিত হলো না। উনিশ শ’ চুয়ান্নর ‘যুক্ত ফ্রন্টে’র আমলেও একবার প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃত্ব সুবিধা বুঝে গণতন্ত্রের বুলি মুখে আওড়ায় বটে, কিন্তু অন্তরে তা মানে না। কারণ তা মানতে গেলে গণতান্ত্রিক নীতি অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়, যা দিতে তারা মোটেও রাজি নয়। তাই শুরু হয় ষড়যন্ত্র। যুক্তফ্রন্টের আমলে এ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন ফজলুল হক-সোহরাওয়ার্দী-ভাসানী, এবার হলেন শেখ মুজিব আর তার দল আওয়ামী লীগ। এ এক অদ্ভুত খেলÑ মুখে গণতন্ত্রের বুলি অথচ গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে গররাজি!
অপরকে স্বেচ্ছায় পথ ছেড়ে দেয়ার এক ভদ্র পদ্ধতিরই নাম গণতন্ত্র। এ পদ্ধতির সৌন্দর্যও এখানে। বিনা প্রতিবাদ, বিনা রক্তপাতে অপরকে পথ ছেড়ে দেয়া। অপরে তোমাকে পথ ছেড়ে দিক এ যেমন তুমি চাও, তেমনি তোমারও উচিত অপরকে পথ ছেড়ে দেয়া। গণতন্ত্রের সাফল্যও নির্ভর করে পথ ছেড়ে দিতে জানার ওপর। এর জন্য শুধু যে ন্যায়নীতির প্রতি আনুগত্য আর শ্রদ্ধার প্রয়োজন তা নয়, মন-মানসের দীর্ঘ প্রস্তুতিও অত্যাবশ্যক। যা গোলাম মোহাম্মদ, ইসকান্দার মির্জা, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান কারো ছিল না। এসবের কিছুটা আশা করা যায় রাজনীতিবিদদের কাছে। এরা কেউই রাজনীতিবিদ ননÑ রাজনীতির পথ বেয়ে কেউই বসেননি ক্ষমতায়। ক্ষমতার পথেই এরা হয়েছেন ক্ষমতাসীন। তাই এরা শুধু ক্ষমতা দখল করে থাকাটাই জানতেন কিন্তু কী করে সসম্মানে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয় তা জানতেন না। ওই দিকে গণতন্ত্রের ভান না করেও ছাড়তেন না, কারণ গণতন্ত্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয়, ভদ্র আর স্বীকৃত পন্থা। একে অস্বীকার করলে বিশ্ববাসীর সামনে মুখ দেখানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বলেছি গণতন্ত্র মানে শুধু ক্ষমতা দখল নয়, ক্ষমতা ছেড়ে দেয়াও। গণতন্ত্রের সাফল্যও এ মনোভাবের ওপর নির্ভর করে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের যুগপৎ এ দুই পাঠই শিখতে হয়, এ দুইকেই করে নিতে হয় আন্তরিক বিশ্বাসের অঙ্গ। পাকিস্তানের পরম দুর্ভাগ্য, সত্যিকার রাজনীতিবিদেরা নির্বাচনে জিতেও কখনো ক্ষমতাসীন তথা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেননি, নানা ষড়যন্ত্রের কলকাঠি চালিয়ে এদেরে সব সময় ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে সুকৌশলে। ফলে গণতান্ত্রিক রাজনীতি কিংবা গণতান্ত্রিক সরকার এখানে দানা বাঁধতে পারেনি আদৌ।
যেকোনো খেলায় যেমন কতকগুলো অপরিহার্য নিয়ম রয়েছে, যা পালিত আর অনুসৃত হলেই খেলা জমে এবং উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তেমনি গণতন্ত্রও এক রকম খেলা, তারও কতকগুলো অপরিহার্য নিয়মকানুন রয়েছে, যা পালিত আর অনুসৃত না হলে গণতন্ত্র অচল হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের প্রধান কানুন সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে স্বীকার করে নেয়া। ফরাসি লেখক ও রাজনীতিবিদ আদ্রেঁ মালরোর মতে, ‘...ব্রিটিশ গণতন্ত্র আজ মডেল বা আদর্শ হয়ে রয়েছে সারা পৃথিবীর সামনে। কারণ ওখানে গণতান্ত্রিক নিয়মকানুন পালিত হয় সর্বতোভাবে। খেলার নিয়মকানুন না মানলে যেমন খেলা স্বেচ্ছাচারে পরিণত হয়, রাজনীতির বেলায়ও অবিকল তাই ঘটে।’ রাজনীতি ক্ষেত্রে এর পরিণাম একনায়কত্ব আর স্বৈরতন্ত্র। যার নগ্ন চেহারা আমরা পাকিস্তানে দেখতে পেয়েছি এক যুগ ধরে। ফলে আমাদের গোটা জাতি আজ স্বৈরতন্ত্রের শিকার। গোলাম মোহাম্মদ, ইসকান্দর মির্জার স্বৈরতন্ত্র ছিল এক ধরনের, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার স্বৈরতন্ত্র নিয়েছে অন্যরূপÑ এ পুরোপুরি একনায়কত্ব। (পৃষ্ঠা-৩৬-৩৭)
৫.৯.৭১
পাকিস্তান সরকারের এক মস্ত বড় দুর্বলতা এ সরকার কোনো রকম সমালোচনাই বরদাশত করতে পারে না। সমালোচনা শুনতে না চাওয়া মানে নিজেকে সংশোধন করতে না চাওয়া। তার মানে, যা আছে, যেমনটি আছে তাকে আঁকড়ে ধরে যেখানে ছিলাম সেখানে স্থানু হয়ে পড়ে থাকা। অর্থাৎ না চলা আর না এগোনো। দ্রুত গতিশীল পৃথিবীতে এর অর্থ পেছনে হটা, অন্য দেশ আর জাতির পেছনে পড়ে থাকা। পাকিস্তানের দশা আজ অবিকল তাই। পাকিস্তানের জন্মমুহূর্তে আমরা যেখানে ছিলাম এখন তার থেকেও অনেক অনেক পেছনে পড়ে গেছি। তখন অন্তত স্বাধীনভাবে দশটা কথা বলা যেত, রাষ্ট্রের এ নীতি ও নীতি সম্বন্ধে করা চলত সমালোচনা। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সমালোচনা অপরিহার্য। বিরোধী দল ছাড়া যেমন গণতন্ত্র অর্থহীন তেমনি সমালোচনা আর সমালোচনার অধিকার ছাড়াও গণতন্ত্র অচল। অন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্র উৎকৃষ্ট আর অধিকতর আকাক্সিত এ কারণে যে, গণতন্ত্রে চুপ চুপ নীতির কোনো স্থান নেই। গণের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র স্বধর্ম রক্ষা করে বাঁচতে পারে না। গণতন্ত্রের স্বভাব আর চরিত্র সব সময় আলো-হাওয়ার প্রত্যাশী। ঢাক্ ঢাক্ গুড় গুড় হচ্ছে একনায়কত্ব তথা স্বৈরতন্ত্রের স্বভাব আর ধর্ম। মুখোশ ছাড়া একনায়কত্ব এক দিনও টিকে থাকতে পারে না। অন্য দিকে গণতন্ত্রের ধর্ম সব রকম মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা, সরকার আর শাসকদের আসল চেহারাটা জনসমক্ষে তুলে ধরা, খুলে ফেলা ওদের মুখের ঘোমটা, সব রকম মুখোশকে ছিন্নভিন্ন করে হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়া। আমাদের শাসকেরা মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ালেও আসলে কাজে কর্মে, ব্যবহার আর স্বভাবে পুরোপুরি স্বৈরতন্ত্রী। এ কারণেই এ সরকারের এত বেশি সমালোচনা-ভীতি। আলো বাতাসের স্পর্শ আর ঝড় বাতাসের ঝাঁপটা ছাড়া যেমন গাছ বড়, সবল আর দৃঢ়মূল হয় না তেমনি রাষ্ট্রদেহও সমালোচনার ঘাত-প্রতিঘাত ছাড়া শক্ত সতেজ, দৃঢ়ভিত আর মজবুত হয়ে ওঠে না।
গতকাল প্রচার করা হয়েছে প্রেস সেন্সরশিপ তুলে দেয়া হয়েছে। তবে সেই সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে বহু ‘কিন্তু’। ইসলাম আর পাকিস্তানি আদর্শের, পাকিস্তানের অখণ্ডতার, কায়েদে আযমের, অন্য রাজনৈতিক দলের, সামরিক আইন আর সামরিক কর্তাব্যক্তিদের এবং আরো বহুতর বিষয়ের সামলোচনা করা যাবে না! সরকারি ভাষায় একে সেন্সরশিপ তুলে দেয়া বললেও এ যে মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা নয় তা বুঝতে তেমন কিছু বুদ্ধির প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। যা সমালোচনা সহ্য করতে অসমর্থ, মনে করতে হবে তা দুর্বল, ভঙ্গুর আর তাতে প্রচুর গলদ আর ভেজাল মেশানো রয়েছে। নকলের কারবারিরাই সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে আর হয়ে থাকে সন্দেহপ্রবণ। সমালোচনা-ভিতু সব সরকার সম্বন্ধেই এ কথা বলা যায়।
আমাদের প্রতিবেশী ভারত রাষ্ট্রে গণ্ডগোলের অন্ত নেই, তবুও মতামত প্রকাশের ব্যাপারে ওখানে কোনো বিধিনিষেধ নেই। নেই কোনো জবরদস্তি। ওখানকার সরকার স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকারকে এতটুকু খর্ব করেনি। ফলে গণতন্ত্র ওখানে দিন দিনই দৃঢ়মূল হয়ে গড়ে উঠছে। ওখানে ধর্মের বিরুদ্ধে, ভারতের অখণ্ডতার কিংবা মহাত্মা গান্ধীর বিরুদ্ধে, এমনকি রাম-সীতার বিরুদ্ধেও লেখা কিংবা সমালোচনা করা নিষিদ্ধ নয়। এবং এতে ওদের কিছুমাত্র ক্ষতি হয়েছে বা হচ্ছে বলে আজো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এ স্বাধীনতা শুধু যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিকাশের জন্য অপরিহার্য তা নয়, জ্ঞানের ক্ষেত্রে তার অপরিহার্যতা আরো বেশি। প্রাচীন মতামত বা অতীতে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে শুধু হাঁ হাঁ করাই জ্ঞানচর্চা কিংবা গবেষণার উদ্দেশ্য নয়, তেমন উদ্দেশ্য হওয়া মানে নতুন করে অচলায়তনের পিঞ্জরে বাঁধা পড়া এবং জ্ঞানের পথে অগ্রসর না হওয়া। অতীতের জাবরকাটার নাম জ্ঞানসাধনা নয়। আশ্চর্য, পাকিস্তানে এ ধরনের জাবরকাটাকেই কি না মনে করা হয় জ্ঞানচর্চা! যে যত বেশি জাবরকাটায় ওস্তাদ এখানে সে-ই তত বেশি জ্ঞানী আর পণ্ডিত নামে চিহ্নিত।
( পৃষ্ঠা- ৮৭-৮৮)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেয়াদবির সাজা হামলা, ভাঙচুর
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মণ্ডল জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে যুবলীগের নেতা রহিদুলকে কোপানোর অভিযোগে নলডাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গতকাল রোববার থানায় মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা-পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, নলডাঙ্গা পৌরসভার সোনাপাতিল গ্রামের সাজিদ হোসেন ও প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলামের মামা নয়ন ইসলামের করাতকলের (স মিল) জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার বিকেলে ওই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সালিস বৈঠক বসে। সালিসে সাজিদ হোসেনকে ৫৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নয়ন ইসলামের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়। এতে শরিফুল ইসলাম আপত্তি জানান এবং এ রায় অমান্য করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পশ্চিম সোনাপাতিল গ্রামের বাসিন্দা রহিদুল ইসলামসহ তাঁর সহযোগীরা প্যানেল মেয়রকে রশি দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে উপস্থিত আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-কর্মীরা রশি খুলে তাঁকে মুক্ত করেন। পরে রহিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা সন্ধ্যায় নলডাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সোনাপাতিল মাদ্রাসার কাছে ওই ঘটনার জের ধরে প্যানেল মেয়রের সমর্থকেরা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রহিদুলকে জখম করেন। এ সময় যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা মাসুদকেও মারধর করে আহত করা হয়। আহত রহিদুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রহিদুলের সমর্থকেরা শরিফুল ইসলামের পশ্চিম সোনাপাতিল গ্রামের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালান। তবে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন আহত রহিদুলের সমর্থকেরা।
নলডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজ জানান, সালিসে বেয়াদবি করায় স্থানীয় কিছু লোক প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলামকে কিছু সময়ের জন্য বেঁধে রেখেছিলেন। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে শরিফুল ইসলামকে মুক্ত করা হয়। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শরিফুল ইসলামকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, সালিসে তিনি কোনো বেয়াদবি করেননি। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে দলীয় নেতাদের নির্দেশে দুই ঘণ্টা চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জননিরাপত্তায় বিশুদ্ধ পানি ও ব্যবস্থাপনা by আবুল হাসান ও খন রঞ্জন রায়
এ দিকে পানীয়জলে আর্সেনিক দূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ বাংলাদেশে। ৫৩টি জেলা ও ২৪৯টি উপজেলার নলকূপে আর্সেনিক বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ নলকূপে ৫০ পিপিবির বেশি এবং ৪৬ শতাংশ নলকূপে ১০ পিপিবির বেশি আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এ তথ্য সাধারণত অগভীর নলকূপের বিষয়ে। গভীর নলকূপে (১৫০ মিটারের বেশি গভীর) মাত্র এক শতাংশ নলকূপে ৫০ পিপিবির বেশি এবং ৫ শতাংশ নলকূপে ১০ পিপিবির বেশি মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৫০ মিলিয়ন লোক আর্সেনিকগ্রস্ত এলাকায় বসবাস করছেন। এ সংস্থার কয়েক দশকের প্রচেষ্টা এবং পানির জন্য বছরে হাজার কোটি টাকা খরচ করা সত্ত্বেও সারা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ ‘জল ও মল’ সংশ্লিষ্ট রোগে প্রাণ হারায়। আরো হাজার হাজার মানুষ রুগ্ণ হয়ে পড়ে। অথচ এই মৃত্যু ও অসুস্থতা প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পানিবিজ্ঞান (Hydrology) পানিপ্রবাহের বিজ্ঞান কয়েক শ’ বছরে অনেক এগিয়েছে। এগিয়েছে নির্মাণ প্রযুক্তি, যন্ত্র প্রযুক্তি (Hydrodynamics) মাপজোক নিয়ন্ত্রক-ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি। নদীর পানিকে ধরে রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবাহিত করিয়ে বন্যা-খরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ বা কৃষি সেচের উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। বড় বড় জলাধার এখন বিশ্বের অনেক বড় নদীর অঙ্গে অঙ্গীভূত।
বাংলাদেশের পানিসংক্রান্ত যাবতীয় তদারকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর ন্যস্ত। এতে কর্মরত ১৮ হাজার ৪১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর তেমন কারোই পানিসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেই। এর ফলে পানি উন্নয়ন সংক্রান্ত বাজেটের ৩০ ভাগ অর্থ ‘পানিতে যায়’। প্রযুক্তিজ্ঞানহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যর্থতায় জাতি মূল্য দিচ্ছে। পরিত্রাণের পথ এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি শিক্ষা। সমাজের মানবিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ওয়াটার টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা শিক্ষা সহায়ক হতে পারে পানি সঙ্কট মোকাবেলায়।
আবুল হাসান ও খন রঞ্জন রায়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 23
(23)
- পিঠ ঠেকেছে কাঁটার দেয়ালে by সুরঞ্জন ঘোষ
- হাসিনাকে রেখে জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচন হতে পারে -ম...
- হিটলার-মুসোলিনীকেও হার মানিয়েছে সরকারের দমননীতি : ...
- সিটি নির্বাচন বনাম বেগম জিয়ার যোগ-বিয়োগ! by গোলাম ...
- জাতীয় সংলাপের আহবান
- কূটনীতিক জোনে মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধের নেপথ্যে by দী...
- মহাত্মা গান্ধী ভারতের প্রথম কর্পোরেট স্পনসরড এনজিও...
- পুলিশ ‘রিমান্ড’ কি বাণিজ্যিক বিষয়? by তৈমূর আলম খন...
- আফগান নারীকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা
- মিয়ানমারে নারীর মাথায় ছাতা ধরা অপমানজনক!
- পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা বাড়ল ৫০ হাজার বর্গকিমি.
- সহযোগিতার ভিত্তিতে সমৃদ্ধি
- এ কোন অপরাজনীতির কবলে দেশ by জি. মুনীর
- ক্ষমতাসীনদের হাতে অবৈধ অস্ত্র- ঘটছে হতাহতের ঘটনা b...
- ভারত-চীন দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের অবস্থান স্পর্শকাতর -...
- ‘আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য আসবে’ by আব্দুল কাইয়ুম
- রুবেলের নতুন দাবিদার!
- সজনে ডাঁটা : পতিত জমিতে আবাদ হলেও ফেলনা নয় by আনোয়...
- আবুল ফজলের ‘দুর্দিনের দিনলিপি’ ও এ সময় by ওয়ালিউল হক
- বেয়াদবির সাজা হামলা, ভাঙচুর
- জননিরাপত্তায় বিশুদ্ধ পানি ও ব্যবস্থাপনা by আবুল হা...
- জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়টি বিবে...
- রাজধানী ছাড়ছে কম আয়ের পরিবার, মেসগুলোয় বর্ডার কমছে...
-
▼
Mar 23
(23)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




















