Thursday, April 7, 2011

ডব্লিউটিওর বিধানের অপব্যাখ্যা কেন? by আসজাদুল কিবরিয়া

প্রতিবেশী ভারতকে ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে বরাবরই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। অর্থনৈতিক সুবিধাসহ সার্বিক প্রাপ্তিযোগের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন ব্যতিরেকে প্রায় সব সময়ই ট্রানজিটকে রাজনৈতিকভাবে দেখা হয়েছে। তার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত সফর করেন, তখন ট্রানজিটের বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন, গত এক বছরেও তার প্রায় কোনোটিই সম্পন্ন করা যায়নি। মন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা শুধু বলেছেন যে ট্রানজিট দিলে কোটি কোটি ডলার আয় হবে। কিসের ভিত্তিতে তাঁরা এসব বলেছেন, তাঁরাই ভালো জানেন। তবে এক বছরেও ট্রানজিট-বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। মূলত গত বছরের একেবারে শেষভাগে এসে ট্রানজিট নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে সে কাজ এখনো চলছে।
এ রকম একটি অবস্থায় এসে ট্রানজিট-কেন্দ্রিক বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি এক সেমিনারে বলেছেন যে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কোনো ট্রানজিট ফি বা মাশুল নেবে না। কেননা, এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর ভাষায়: ‘যদি বাংলাদেশ একটি অসভ্য দেশ হতো এবং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা যদি অসভ্য ও অশিক্ষিত হতো, তাহলে বলত, আমরা ডব্লিউটিও মানি না। তার নীতি মানি না। আমরা এখানে টাকা-পয়সা আদায় করব।’ (সমকাল, ১ এপ্রিল, ২০১১; পৃ.-২)। ত্রিপুরার পালটানায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে আখাউড়া হয়ে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে ভারত। এ জন্য কোনো মাশুল বা শুল্ক দিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাভাবিকভাবেই তাহলে এখন প্রশ্ন আসে যে ডব্লিউটিওর বিধিবিধানে ট্রানজিট সম্পর্কে কী বলা আছে? জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড (গ্যাট) দলিলের পঞ্চম ধারায় (আর্টিকেল-৫) ‘ট্রানজিটের স্বাধীনতা’ বিষয়টি সম্পর্কে নীতি-বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যা কিনা ডব্লিউটিওর সদস্য সব দেশের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এই ধারার তৃতীয় অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে এক দেশ অন্য দেশকে ট্রানজিট-সুবিধা দিলে কী কী শুল্ক ও মাশুল আরোপ করতে পারবে ও পারবে না, তার উল্লেখ আছে। এই ধারার সারকথাটি হলো এ রকম: কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আরেক দেশ ট্রানজিট-সুবিধা নিয়ে পণ্য পরিবহন করলে এ কাজে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব করা যাবে না এবং এই পণ্য আনা-নেওয়ার শুল্ক বা ট্রানজিট শুল্ক বা ট্রানজিট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাশুলের আওতামুক্ত থাকবে, তবে পরিবহনসংশ্লিষ্ট মাশুল বা ট্রানজিটের জন্য প্রশাসনিক ব্যয় বা প্রদেয় সেবার জন্য মাশুল ব্যতিক্রম বিবেচিত হবে।
অর্থাৎ তৃতীয় অনুচ্ছেদে এটা স্পষ্ট, যেকোনো শুল্ক আদায় করা যাবে না, কিন্তু ট্রানজিট-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সেবামাশুল আদায় করা যাবে। আর তা হবে পরিবহনসংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহকারী।
চতুর্থ অনুচ্ছেদে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে আরোপিত যাবতীয় মাশুল ও নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান যাতায়াত অবস্থা সাপেক্ষে যৌক্তিক হতে হবে। এর মানে হলো, ট্রানজিট-সুবিধা প্রদানকারী দেশ যখন সেবামাশুল আরোপ করবে, তখন তা যেন চড়া বা এমন না হয়, যা কিনা ট্রানজিট-সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যকে অর্থাৎ পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়কে ব্যাহত করে।
আবার পঞ্চম অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে তার সারকথা হলো, প্রথম দেশ দ্বিতীয় দেশকে যেভাবে ট্রানজিট-সুবিধা দেবে, সেই সুবিধা সমভাবে তৃতীয় যেকোনো দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। ডব্লিউটিওর পরিভাষায় এটি বৈষম্যহীন (নন-ডিসক্রিমিনিটরি) চর্চা হিসেবে পরিচিত।
সুতরাং গ্যাটের পঞ্চম ধারার তৃতীয় থেকে পঞ্চম অনুচ্ছেদেই এ-সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নীতিনির্দেশনা দেওয়া আছে। এর মূল কথা হলো: ট্রানজিট-সুবিধা দিয়ে এটাকে রাজস্ব আয়ের কোনো উৎস বানানো যাবে না। সে কারণেই কোনো ধরনের শুল্কারোপে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তবে ট্রানজিটের জন্য প্রশাসনিক ব্যয় ও প্রয়োজনীয় সেবামাশুল আরোপ ও আদায়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। কাজেই যাঁরা বলছেন ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিপরীতে সেবামাশুল আদায় করা হলে তা ডব্লিউটিওর বিধি লঙ্ঘন বা অমান্য করা হবে, তাঁরা সঠিক কথা বলছেন না। বরং তাঁরা ডব্লিউটিওর বিধির বা নিয়মের অপব্যাখ্যা করছেন। আর এখানে সভ্য ও শিক্ষিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনা নিতান্তই অযৌক্তিক।
বস্তুত, গত বছরের শেষভাগে এই ট্রানজিট মাশুল নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমানই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ভারতীয় নৌযান চলাচলের জন্য কোনো ট্রানজিট শুল্ক বা মাশুল আদায় বন্ধ রাখার জন্য বলেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, যেহেতু ভারতকে বিনা শুল্কে বা বিনা মাশুলে ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়টি সরকরের বিবেচনাধীন, সেহেতু এটা স্থগিত রাখতে হবে। তাঁর চিঠির সূত্র ধরেই ভারতীয় হাইকমিশন ট্রানজিট মাশুল না নেওয়ার জন্য দেনদরবার করে। শেষ পর্যন্ত কোনো মাশুল আদায় স্থগিত রাখা হয়। এরপর ট্রানজিট-বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরির জন্য ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে কাজ শুরু হয়।
তাহলে এখন এ প্রশ্নও উঠতে পারে, ট্রানজিট নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগেই উপদেষ্টা কেন ও কিসের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দিচ্ছেন যে বাংলাদেশ কোনো ট্রানজিট ফি আদায় করবে না? সরকার কি এটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? দেখা যাচ্ছে, ট্রানজিটকে ঘিরে সরকার আবারও এক ধরনের বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এভাবে ডামাডোল তুলে মূল বিষয়টিকে দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বস্তুত, ডব্লিউটিওর নীতি-বিধি অনুসারে বাংলাদেশ একতরফাভাবে ভারতকে ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট-সুবিধা দিতে বাধ্য নয়। বরং বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই উভয়কে তৃতীয় দেশের জন্য ট্রানজিট-সুবিধা দিতে পারে। তা ছাড়া ট্রানজিট, করিডর ও ট্রানশিপমেন্ট নিয়ে ধারণাগত কিছুটা গোলমালও রয়ে গেছে।
উদাহরণসহ সহজ ভাষায় বললে, বাংলাদেশি পণ্যবাহী যান যখন ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল বা ভুটানে যায়, তখন তা হলো ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে ট্রানজিট-সুবিধা প্রদান। আর আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পরিচালনার জন্য নীতি-বিধি অনুসৃত হয় বার্সেলোনা ট্রানজিট কনভেনশন-১৯২১ ও নিউইয়র্ক ট্রানজিট কনভেনশন-১৯৬৫ মেনে। আবার বাংলাদেশ যখন ভারতীয় পণ্যবাহী যানকে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে আগরতলায় যাওয়ার সুযোগ দেয়, তখন তা হয় করিডর-সুবিধা। অর্থাৎ এখানে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততা নেই। বর্তমানে ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আসলে এই করিডর-সুবিধা দেওয়া। অন্যদিকে ট্রানশিপমেন্ট হলো এক যান থেকে আরেক যানে পণ্য স্থানান্তর। যেমন: ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে পণ্য খালাস করল। এরপর খালাসকৃত ওই পণ্য আবার আরেকটি বাংলাদেশি ট্রাকে তুলে নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন তামাবিল স্থলবন্দরে গিয়ে খালাস করা হলো। সেখান থেকে তা আবার ভারতীয় ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে ট্রানশিপমেন্ট তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ বিবেচিত হয়।
আসলে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারতকে ট্রানজিট বা করিডর-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসুবিধা হওয়ার কোনো কথা নয়। তবে তা সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনাপ্রসূত হতে হবে। এ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তিযোগ কতটা হবে, তা সঠিকভাবে প্রাক্কলন করতে হবে। এই প্রাপ্তিযোগ সেবামাশুল থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ও হতে পারে। তবে তা ভারতের সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এটি ভারত-বিরোধিতা বা ভারত-বিদ্বেষের কোনো বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থবহ লাভের বিষয়। আন্তর্জাতিক রীতি-বিধির আলোকেই এই লাভ নিশ্চিত করা যায়, অযাচিত কোনো ছাড় দিয়ে নয়।
আসজাদুল কিবরিয়া: সাংবাদিক ও লেখক।
asjadulk@gmail.com

বিনয় বাঁশীর ঢোল by নাসির উদ্দিন হায়দার



পরিবারের ঐতিহ্যে শৈশবেই জাল আর নৌকার সঙ্গে সখ্য হয় বিনয় বাঁশী জলদাসের। কিন্তু মন যাঁর আনচান করে ঢোলের বোলে, গান ছাড়া কি তাঁর প্রাণ বাঁচে? তাই তো একদিন বিনয় পা রাখেন ওস্তাদের বাড়িতে, তালিম নেন যন্ত্রসংগীতে।
কথায় আছে—রতনে রতন চেনে। সেই যে দিনগুলো, ঢোল বাজানোর দিনগুলোতে রমেশ শীলের জহুরি চোখে ধরা পড়ে যান বিনয়। বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল বাদক হিসেবে সঙ্গে নেন বিনয় বাঁশীকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রমেশ শীলের সহশিল্পী হিসেবে ৩৫ বছর ধরে বাজিয়েছেন বিনয়, বাংলার ঢোল নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন উপমহাদেশের পথে-প্রান্তরে। সানাই, বেহালা, দোতারা, করতাল, মৃদঙ্গ বাজানোতেও পারদর্শিতা ছিল তাঁর।
রমেশ শীল দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ কবিয়াল, বিনয় বাঁশী উপমহাদেশের বিখ্যাত ঢোলবাদক। এর বাইরে তাঁদের আরেকটি পরিচয়—রমেশ-বিনয় ছিলেন সংগীতের মানিকজোড়। ২০০২ সালে সরকার দুজনকেই একুশে পদক দেয়। তবে দুই সংগীতজ্ঞের সমাধিস্থলে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিনয় বাঁশীর বাড়িটা ছন্দারিয়া খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে ধরনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
ঢোলের জাদুকর বিনয় বাঁশী জলদাস ঘুমিয়ে আছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ছন্দারিয়া জেলেপল্লিতে। তাঁর জন্ম ১৯১১ সালে। বাবার নাম উপেন্দ্র লাল জলদাস ও মা সরবালা জলদাস। বেশি লেখাপড়ার সুযোগ পাননি জেলে পরিবারের সন্তান বিনয়, রামসুন্দর বসাকের বাল্যশিক্ষাই সম্বল ছিল কেবল। প্রায় ৮০ বছরের জীবনের সিংহভাগই কেটেছে তাঁর ঢোলের প্রেমে। ২০০২ সালের ৫ এপ্রিল নিজের বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিনয়।
সম্প্রতি আমরা গিয়েছিলাম ছন্দারিয়ায়। বাড়ি তো নয়, যেন পাখির বাসা। কুঁড়েঘরের দাওয়ায় আমাদের যত্ন করে বসতে দিলেন বিনয় বাঁশীর স্ত্রী অশীতিপর সুরবালা জলদাস ও ছেলে বাবুল জলদাস। অন্তঃপুরে দৌড়ে গিয়ে একটি পদক বের করে আনেন সুরবালা। বলেন, ‘এই একুশে পদক আমার স্বামীর জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। মানুষটার কোনো লোভ-লালসা ছিল না। একদিন গানবাজনা শেষে বাড়ি ফিরলে তাঁকে সংসারের অভাবের কথা বলি। মানুষটা আমার কাঁধে হাত দিয়ে বলেছিলেন, “টাকা-পয়সা দিয়ে আমি তোমাকে খুশি করতে পারব না। তুমি কি আমার কাছ থেকে প্রেম চাও না বিত্ত?” আমি বলেছিলাম, প্রেম চাই। জীবনে কখনো প্রেমের অভাব হয়নি আমার।’
বিনয় বাঁশীর ছোট ভাই রবীন্দ্রলাল জলদাস বলেন, ‘আমার ভাই ঢোল বাজিয়ে ভুবন জয় করেছেন। আজ ভাইয়ের কোনো স্মৃতি নেই গ্রামে। তাঁর সেই ঢোল এখন বাজে না। সরকার একুশে পদক দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে।’
বিনয় বাঁশীর দুই ছেলে সুখলাল দাস ও বাবুল দাস এবং নাতি কৃষ্ণমোহন জলদাসের সমন্বয়ে একটি কীর্তনিয়া দল আছে, যেটি এখন দেশ-বিদেশের অনুষ্ঠানে ঢোল বাজায়। বিনয় বাঁশীর দল বলে তাঁদের সবাই সমীহ করে।—জানান কৃষ্ণমোহন।
২০০০ সালে লন্ডনে বাংলাদেশ উৎসবে ঢোল বাজানোর জন্য সরকার আমন্ত্রণ করে বিনয় বাঁশীকে। কিন্তু অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি। তবে ছেলে বাবুল জলদাস বাবার হয়ে লন্ডন মাতিয়ে এসেছিলেন। বিনয় বাঁশীর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাবুল। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর দলের ঢোলবাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। চট্টগ্রামের ডিসি হিলে বাবুলের ঢোল ছাড়া তো অনুষ্ঠানই হয় না। বাবুল জলদাসের খ্যাতি বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে জার্মানি, আমেরিকা ও ভারতে ঢোল বাজিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।
বিনয় বাঁশীর পরিবারে কিছু দুঃখও আছে। বাবুল জলদাস বলেন, ‘২০০২ সাল থেকে আমাদের বাড়িটা ছন্দারিয়া খালের ভাঙনে পড়েছে; এখন বিলীনপ্রায়। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া সরেজমিন পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং কিছু উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। গত বর্ষায় বাড়ির অর্ধেকাংশ খালে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনের বর্ষায় তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের দুই মন্ত্রী রমেশ শীল ও বিনয় বাঁশীর সমাধিস্থলে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশ্য বোয়ালখালীর আরেক কিংবদন্তি শিল্পী আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী শেফালী ঘোষের সমাধিস্থলে পারিবারিকভাবে একটি ভাস্কর্য ও স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৭ সালের ১৯ জানুয়ারি স্মৃতিফলকের উদ্বোধন করা হয়।
বোয়ালখালীর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া (বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সচিব) বলেন, ‘উপজেলার তিন কিংবদন্তি শিল্পী রমেশ শীল, বিনয় বাঁশী ও শেফালী ঘোষের স্মৃতি রক্ষায় বড় একটি মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলাম। সমাধিস্থলে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু জায়গাসহ নানা জটিলতায় আমার সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
বিনয় বাঁশী সারা জীবন ভালোবেসে গেছেন দেশকে, দেশের মানুষকে। ঢোলের প্রতি ভালোবাসা ছিল আমৃত্যু। জীবনে অনেক জ্ঞানী-গুণীর ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন। কিন্তু বিত্তের দিকে ফিরে তাকাননি ভুলেও। বাজনায় মুগ্ধ হয়ে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নটরাজ উদয় শংকর তাঁর নৃত্যদল ‘মম বাণী’তে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন বিনয় বাঁশীকে। কিন্তু নিজের জন্মস্থান ছন্দারিয়া গ্রাম ছেড়ে কোথাও যেতে চাননি। আজ তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিনয় বাঁশীর বাড়িতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিগানের আসর বসবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে, যা অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবছরই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু ঠিকমতো তাদের ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে কি না, যথাসময়ে ফল প্রকাশ পাচ্ছে কি না, তা দেখার কেউ নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে সেটাই প্রতীয়মান হয়। তাদের মতে, পর্যবেক্ষণ ও আন্তবিভাগীয় সমন্বয়ের অভাবে সেশনজট বাড়ছে এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তারা পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজ তদারকের জন্য একটি কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ছয় শর মতো। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই, অবকাঠামো নেই, নেই শিক্ষার উপকরণও। শিক্ষক না থাকলে সময়মতো পাঠ শেষ হবে না, সময়মতো পাঠ শেষ না হলে সময়মতো পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা হলেও ফল প্রকাশ করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে একটি কমিটি করে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ভাবার কারণ নেই। সেশনজটের কারণে শিক্ষার্থীরা যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি তাদের জীবন থেকে ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান সময়। এই জাতীয় অপচয় ও ক্ষতির দায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এড়াতে পারেন না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতি পুরোনো ব্যাধি। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির বদল হলেও প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বদল হয়নি। মাঝখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিকেন্দ্রীকরণের আওয়াজ উঠেছিল, তা-ও থেমে গেছে। সবকিছুই আগের নিয়মে চলছে।
সারা বছর রাষ্ট্রীয় ছাপাখানায় পাবলিক ও পিএসসির পরীক্ষার খাতা মুদ্রণের কারণেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ছাপার সমস্যার কথা জানিয়েছে কমিটি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের নামে প্রচুর অপচয় করছে। সে ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রণযন্ত্রে তারা প্রশ্নপত্র ছাপার ব্যবস্থা করতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা শেষ করে যথাসময়ে ফল প্রকাশ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত চলবে না। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।

বেলুচিস্তানে জন-অসন্তোষ বাড়ছে by আই এ রেহমান


কিম্ভূতকিমাকার বস্তুর প্রতি পাকিস্তানের হোমরা-চোমরাদের ভালোবাসার রোগ সারবে বলে মনে হয় না। বেলুচিস্তানে জনগণের টাটকা ক্ষতগুলোর ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে বরং এরা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে। এই প্রদেশের অভাগা জনগণের দুঃখ-শোক তিক্ত থেকে তিক্ততর হচ্ছে।
কয়েক দিন আগে মুঠোফোনে আসা এই খুদে বার্তাটির কথাই ধরুন: ‘জুলুমের সীমায় পৌঁছে গেছে। সাবেক বিএসও আজাদ নেতা হামিদ শাহিন গতকাল শহীদ হয়েছেন। তাঁকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা দুই দিন আগে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর কিডনি, হূৎপিণ্ড ও বুকে ছিদ্রের চিহ্ন ছিল। কোন ইসলাম এমন বর্বরতা অনুমোদন করে? এমন জুলুম হয়তো কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনেও ঘটতে শোনা যায় না। শাবাশ ইসলামি রাষ্ট্র!’
জনগণ, বিশেষত বেলুচিস্তানের অধিবাসীদের ওপর এই বার্তার প্রভাব কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। বার্তা প্রেরক হয়তো প্রচণ্ড শোক ও ক্রোধ তাড়িত ছিলেন, তবে যুক্তিযুক্ত হবে তাঁর মনে লাগা ব্যথার তীব্রতা উপলব্ধি। তিনি যে ঘটনার বয়ান দিয়েছেন তা তো তর্কাতীত সত্য। হামিদ শাহিন পাকিস্তানি নাগরিক—তাঁর কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তিনি অতীতে বালুচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের (আজাদ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২০ মার্চ গাড়িতে চড়ে তিনি করাচির উদ্দেশে রওনা দেন চিকিৎসা করানোর জন্য। পথে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণকারীরা সরকারি সংস্থার সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই দিন পর তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহের খোঁজ মেলে।
হামিদ শাহিনের এমন মৃত্যুর ঘটনা বেলুচিস্তানে তেমন নতুন নয়। নির্যাতনের চিহ্নসংবলিত মৃতদেহ কিছুদিন পরপরই খুঁজে পাওয়া যায় বেলুচিস্তানে। সাম্প্রতিককালে এমন ঘটনা অনেক বেড়েছে। হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে অনেক বাদ-প্রতিবাদ ওঠার পর কেউ যদি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, অবৈধভাবে আটকের ব্যাপারে জবাবদিহি করা এড়াতে উপায় হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যায় না।
সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো, এভাবে হত্যার ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে নিরুদ্দেশ ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় কমিশন সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করার ১০ সপ্তাহ পর। এর মাধ্যমে কমিশন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রধান প্রধান দিকগুলো নিয়ে আন্দাজনির্ভর কথা বলার পথ বন্ধ করল এবং নিরুদ্দেশের ঘটনা ঘটলে কী করতে হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করল। ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়। কমিশনের প্রতিবেদনের মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ: ১. কমিশনের কাজ চলার সময় ২০১০ সালের আট মাসে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা অব্যাহত ছিল। প্রতি মাসে গড়ে ২৫টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কমিশনকে যে কয়টি মামলা তদন্তের জন্য বলা হয়েছিল, সে সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে নতুন সব ঘটনা। ২. বেশ কিছু ব্যক্তির নিরুদ্দেশ হওয়া এবং অবৈধভাবে আটকের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা খুব সমালোচিত হয়েছে। কমিশনের কাজের বিষয় নিয়ে এদের উৎসাহহীনতা এবং এ কাজের গুরুত্ব না বুঝতে পারার জন্যও এদের ভর্ৎসনা করা হয়। ৩. শতাধিক ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে বলা হয়।
কমিশনের প্রতিবেদনের কিছু কথা বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে।
‘হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়া অবসান করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উচিত অযৌক্তিক গ্রেপ্তার এবং যথাযথ আইন না মেনে কাউকে আটক করা থেকে বিরত থাকা। সাধারণভাবে বলা যায়, সরকার যদি এমন কোনো কৌশল উদ্ভাবন করে যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুলিশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং পুলিশের ওপরই গ্রেপ্তারের ভার ছেড়ে দেওয়া হবে এবং প্রাসঙ্গিক আইন মেনে চলা হবে তাহলে সেটিই যথাযথ...
‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা রুখতে বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য সেনাবাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গ্রেপ্তার ও আটকের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার জন্য যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে। এমন আইনই হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা বন্ধ করতে পারে।
‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার/খুঁজে বের করার গতি অব্যাহত রাখতে এবং এই কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হাইকোর্টের বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পদমর্যাদার কাউকে নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক কমিশনার নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।’
কমিশনের এই প্রতিবেদনের আলোকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন উত্থাপনের হক রয়েছে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত বেলুচিস্তানের জনগণের। গত ১৭ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে, যার কাজ হবে বেলুচিস্তানের জনগণের রোষ উপশম করার জন্য আইনের খসড়া তৈরি। এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি ঘটেছে কি? এখন থেকে তো অপহরণ, অযৌক্তিকভাবে আটক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর অভিযোগ শুধু গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধেই উঠবে না, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাই কাঠগড়ায় দাঁড়াবে আর তার পরিণতি ভোগ করবে সমগ্র জাতি।
এখনই সময় রাষ্ট্রের সব অঙ্গগুলোর উপলব্ধির যে, সরকারি সংস্থাগুলো নানা অপকীর্তি বারংবার অস্বীকৃতি জানিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কিছুই অর্জিত হবে না। এসব অপহরণ/ নিরুদ্দেশ হওয়া/হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সংস্থার বাইরে কেউ ঘটিয়ে থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনাও অস্বীকার করা যায় না। তবে, সব ঘটনার ক্ষেত্রে এ কথা বলা যায় না। এমনকি যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কর্মচারীদের দায়ী করা যায় না, সেখানেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দুষ্কৃতকারীকে তালাশ করে চিহ্নিত করা এবং বিচারের সম্মুখীন করা। সরকার এই দায়িত্বের প্রতি অসম্মান দেখাতে পারে না।
বেলুচিস্তানের জনগণকে কুরে কুরে খাচ্ছে যে অসুখ, তার নানা লক্ষণের অন্যতম হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া। তবু এই সমস্যা দূর করার জন্য আন্তরিক ও অর্থপূর্ণ প্রচেষ্টা অন্যান্য বিষয়ে (যেমন জনগণের সম্পদ ও ভাগ্যের নিয়ন্তা নিজেরাই হওয়ার অধিকার অস্বীকৃতি) আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
আই এ রেহমান: পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মী ও কলাম লেখক।

মমতার আঁকা ছবির প্রদর্শনী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ব্যয়ের অর্থ জোগাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবির তিন দিনের এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মমতা একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও চিত্রশিল্পী।
গতকাল সোমবার বিকেলে কলকাতার গ্যালারি হাউসে যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, নৃত্যশিল্পী অমলাশংকর, চলচ্চিত্র তারকা সন্ধ্যা রায়, চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন ও যোগেন চৌধুরী।
প্রদর্শনীতে মমতার আঁকা ৯৮টি তৈলচিত্র রয়েছে। এর মধ্য থেকে ৯৫টি ছবি বিক্রি করা হবে। ছবি বিক্রির অর্থ তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে।

আসামে প্রথম পর্বে শান্তিপূর্ণ ভোট

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বে গতকাল সোমবার আসামে ৬২টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ওই রাজ্যের ১২৬টি আসনের মধ্যে বাকি ৬৪টি আসনের ভোট নেওয়া হবে ১১ এপ্রিল।
অন্য চারটি রাজ্যের মধ্যে ১৩ এপ্রিল তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোট নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে ছয় পর্বের ভোট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল। এরপর ২৩ ও ২৭ এপ্রিল এবং ৩, ৭ ও ১০ মে ভোট নেওয়া হবে।
গতকাল আসামের ১৩টি জেলার ৬২টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া হয়। ৮৫ লাখ নয় হাজার ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৭০ শতাংশ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে ৪৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে রয়েছেন আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দত্ত, আসাম ঋণ পরিষদের সভাপতি বৃন্দাবন গোস্বামী, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার টি বি রাই প্রমুখ। নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

সাউথওয়েস্টের সেই বিমানটি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল

যুক্তরাষ্ট্রে উড়ন্ত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের বোয়িং-৭৩৭ বিমানের ছাদে যে অংশে আকস্মিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আগে থেকেই ওই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) বিশেষজ্ঞরা গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের আরও তিনটি বিমানে ছোটখাটো ফাটল ধরা পড়েছে। এই ফাটলগুলো পরে গর্তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে ১১৮ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বোয়িং-৭৩৭ বিমানের ছাদে আকস্মিক গর্তের সৃষ্টি হয়। ওই গর্ত দিয়ে নীল আকাশ দেখা যাচ্ছিল।পরে বিমানটি একটি সামরিক ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি।
সে দেশের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) বিশেষজ্ঞরা ওই বিমানটি পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষা শেষে এনটিএসবির সদস্য রবার্ট সামওয়াল্ট এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বিমানটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আগে থেকেই ফাটল ছিল। পরে সেখানে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও এক ফুট প্রস্থের গর্তের সৃষ্টি হয়।

আবিদজান অভিযান চূড়ান্ত পর্বে

আইভরি কোস্টের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই শুরু করতে যাচ্ছেন। ওয়াতারার প্রধানমন্ত্রী গুইলায়মি সোরো গতকাল সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে এ কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বাগবোকে পরাজিত করতে প্রধান শহর আবিদজান দখলের লড়াই এখনই চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে। বাগবোর অনুগত সেনারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের পরাজয় আসন্ন।
এদিকে, সে দেশের দুয়েকোয়ে শহরে গত মঙ্গলবারের গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব ইভান সিমোনেভিক দেশটি সফর করছেন।
প্রেসিডেন্ট ওয়াতারানিয়ন্ত্রিত টিসিআই টেলিভিশনে সম্প্রচার করা ওই ভাষণে গুইলায়মি বলেন, ‘আমাদের সেনারা আবিদজান শহর চারদিক থেকে ঘেরাও করে রেখেছে। এ ছাড়া কিছুসংখ্যক সেনাকে শহরের কেন্দ্রস্থলে পাঠানো হয়েছে। আমাদের সেনাদের তুমুল আক্রমণের মুখে বাগবোর অনুগত সেনারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এখনই বাগবোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আক্রমণ হানার সময় এসেছে।

পাকিস্তানে কিশোরের আত্মঘাতী হামলায় আটজন নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বাস টার্মিনালে গতকাল সোমবার কিশোরের আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে আটজন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছে। দেশটির লোয়ার দিরের জানদোল শহরে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
পাঞ্জাব প্রদেশে সুফি সাধক আহমেদ সুলতানের মাজারের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। পুলিশের ধারণা, সুফি মতবাদবিরোধী তালেবান ও সুন্নি চরমপন্থীরা এ হামলা চালিয়েছে।
দিরের পুলিশপ্রধান সালিম মারওয়াত জানিয়েছেন, একটি গাড়ির শোরুমের সামনে এই হামলা চালানো হয়। এতে ওই শোরুমটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে হামলাকারীর দেহাবশেষ পড়েছিল। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। এর আগেও দেশটিতে আত্মঘাতী কিশোর হামলাকারীর হামলার ঘটনা ঘটে। লওয়ার দিরের হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ওয়াকিল খান সাংবাদিকদের জানান, হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন শাহ জানান, পাঞ্জাবের দেরা গাজী খান জেলায় অবস্থিত ত্রয়োদশ শতকের সুফি সাধক আহমেদ সুলতানের মাজারের বাইরে গত রোববারের আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ লাশ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ নভেম্বর দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেরা আদম খেল এলাকায় একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়। এরপর গত রোববারের হামলা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। গতকাল পর্যন্ত এ হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে মাজারে প্রায়ই হামলা চালানো হয়। পুলিশের ধারণা, সুফিবাদবিরোধী তালেবানসহ কট্টরপন্থী সুন্নিরা এসব হামলার সঙ্গে জড়িত।

সংসদীয় কমিটিতে সাক্ষ্য দিলেন রতন টাটা

ভারতে টেলিকম দুর্নীতি মামলা তদন্তে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে গতকাল সোমবার সাক্ষ্য দিয়েছেন সে দেশের অন্যতম ধনকুবের শিল্পপতি রতন টাটা। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার আরেক শিল্পপতি অনিল আম্বানির একই কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা আছে।
দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর পদত্যাগ করেছেন টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা। তদন্ত শেষে গত শনিবার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে এ রাজাকে অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে, তাঁর আমলে ২০০৭-০৮ সালে দেশে ১২২টি নতুন ফোনের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের দুর্নীতি হয়েছে।
সরকারি শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির কাছে মৌখিকভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন টাটা গ্রুপের প্রধান রতন টাটা। পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান টাটা টেলি সার্ভিস ওই দুর্নীতির কারণে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান।
টাটার সাবেক গণমাধ্যম পরামর্শক ও ভারতের প্রভাবশালী তদবিরকারী নিরা রাডিয়াও গতকাল এই কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কাজাখস্তানে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেলেন নাজারবায়েভ

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নূরসুলতান নাজারবায়েভ (৭০) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে। গত রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিজয়ী হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে নাজারবায়েভ বলেন, জাতীয় সংস্কারের প্রশ্নে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে।
এদিকে, নাজারবায়েভের বিরোধীরা বলেছেন, তাঁরা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। তবে সমালোচকেরা বলছেন, বিরোধীপক্ষ দুর্বল ছিল।
কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ছাড়াই নাজারবায়েভ আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্য এশিয়ার তেল উৎপাদনকারী দেশটির জনসংখ্যা এক কোটি ৬৪ লাখ।
গতকাল নিজের দল নূর ওতানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে এক বক্তৃতা দেন নাজারবায়েভ। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে নিরঙ্কুশ অধিকার দিয়েছেন।’
দ্য অরগানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই) নির্বাচন স্বচ্ছ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে দেশজুড়ে তিন শতাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল।

প্রেসিডেন্ট ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের ঘোষণা

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ ঘোষণা দিয়ে গতকাল সোমবার তিনি তাঁর সমর্থকদের কাছে ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়েছেন।
ই-মেইল বার্তায় ওবামা বলেন, ‘২০১২ সালের নির্বাচনের জন্য আজ আমরা কাগজপত্র জমা দিচ্ছি। এখন থেকে ধীরে ধীরে প্রচারণা শুরু হবে। এক বছরের মধ্যে পুরোদমে প্রচারণার কাজ শুরু না হলেও প্রস্তুতিমূলক প্রচারণার কাজ অবশ্যই এখন শুরু করতে হবে।’ একই সঙ্গে একটি ভিডিওবার্তাও প্রকাশ করা হয় ওবামার সরকারি ওয়েবসাইটে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কৌশল ছিল ডিজিটাল প্রচারণা—অর্থাৎ ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক ও টুইটার। এ জন্য এবারও তিনি একই কৌশলে প্রচারণা শুরু করলেন। তবে ওবামা জানিয়েছেন, এবারের প্রচারণায় আরও অনেক উদ্ভাবনী কৌশল ব্যবহার করা হবে। লাখ লাখ ভোটারের ই-মেইল আইডিসহ দারুণ সমৃদ্ধ একটি অনলাইন নেটওয়ার্ক আছে ওবামার প্রচারণা বিভাগের।
ওবামা স্বীকার করেন, গত নির্বাচনের আগে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে এ জন্য দুই বছর ধরে তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন এবং আগামী প্রায় দুই বছর আরও কঠিন কাজ করতে হবে।

সামরিক প্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন থান শয়ে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা থান শয়ে নবনির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সামরিক বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁর জায়গায় জেনারেল মিন অং লেয়িংয়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা। গতকাল সোমবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডাকপিয়ন থেকে একনায়কে পরিণত হওয়া থান শয়ে প্রায় দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পর গত সপ্তাহে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর গত ৩০ মার্চ সিনিয়র জেনারেল থান শয়ে ও ভাইস সিনিয়র জেনারেল মং আয়ে অবসর নেন। তবে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা কিছু বলতে পারছি না।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সরকারের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আর এ দৃশ্যপটের নেপথ্যে ভবিষ্যতেও থান শয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ‘অবসরে গেলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে তাঁরা সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন।’
১৯৮৮ সালে স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এসপিডিসি) মিয়ানমারের ক্ষমতা গ্রহণ করে। তবে ১৯৬২ সাল থেকেই দেশটির সরকারের ওপর সামরিক কর্তৃত্ব বিদ্যমান। আর জেনারেলরা অব্যাহতভাবে দরিদ্র দেশটির সরকারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। এসপিডিসির পূর্বনাম ছিল স্টেট ল অ্যান্ড অর্ডার রেস্টোরেশন কাউন্সিল।
গত বুধবার নেপিডোয় পার্লামেন্ট ভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেইন সেইন দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তখন গুঞ্জন শোনা যায়, থান শয়ে অবসরে যাচ্ছেন। আর তাঁর উত্তরসূরি হচ্ছেন মিন অং।

মনমোহনকে সরাতে চেয়েছিলেন কংগ্রেসের কিছু নেতা

২০০৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর জায়গায় অন্য কোনো নেতাকে বসানোর জন্য কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে অনুরোধ করেছিলেন দলের কয়েকজন নেতা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা সোনিয়াকে এই অনুরোধ করেন। তারবার্তার বরাত দিয়ে উইকিলিকস ওয়েবসাইটটি এ কথা জানায়।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঞ্জাব ও উত্তরাখন্ডের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। এতে কংগ্রেসের নেতারা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই বছরের এপ্রিল-মে মাসে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে সোনিয়ার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে কথা বলে মনমোহন তাঁর জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ওই বার্তায় এসব নেতার কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পাঞ্জাব ও উত্তরাখন্ডের মতো উত্তরপ্রদেশেও যাতে দলের ভরাডুবি না হয়, সে জন্য তাঁরা আগেভাগেই মনমোহনকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁর জায়গায় আরও গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাঁরা সোনিয়া গান্ধীকে চাপ দেওয়া শুরু করেন। এ কথা জানিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মার্চ ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তৎকালীন চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স জিওফ্রে পাইয়্যাট ওয়াশিংটনে একটি তারবার্তা পাঠান।
দ্য হিন্দু বলেছে, উইকিলিকসের মাধ্যমে ওই তারবার্তার কপি তাদের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বার্তায় কংগ্রেস সরকারের মধ্যে ‘সনাতনপন্থী’ নেতাদের পাশাপাশি ‘সংস্কারপন্থী গোষ্ঠীর’ তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জিওফ্রে পাইয়্যাট তারবার্তায় বলেন, ‘মুম্বাই, উত্তরাখন্ড ও পাঞ্জাবে কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টারা উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে মনমোহনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরুর কথা বলে মনমোহন সিং বিরোধী দল বিজেপির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। সে কারণে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য কাউকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে তাঁরা মত দিয়েছেন।
দ্য হিন্দু বলেছে, জিওফ্রে পাইয়্যাট ওই তারবার্তাটি মূলত ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী স্যামুয়েল বডম্যানকে পাঠিয়েছিলেন। বার্তাটি পাঠানোর কয়েক দিন পরই বডম্যান জ্বালানি বিষয়ে, বিশেষ করে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করতে ভারত সফরে আসেন।
তারবার্তায় বডম্যানকে জানানো হয়, মনমোহন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পরমাণু কার্যক্রম চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে। মনমোহন সরকার তাঁকে (বডম্যানকে) বলতে পারে, গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ভারত এ চুক্তি করতে আগ্রহী।

ইয়েমেনে ১৭ বিক্ষোভকারী নিহত, আহত ৪০০

ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে গতকাল সোমবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও পাথর ছোড়া হয়। এতে ১৭ জন নিহত ও ৪০০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী অবদুল্লাহ সালেহর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত রোববার তায়েজ প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। রোববারের ঘটনায় একজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০০ লোক আহত হয়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘হঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীরা প্রদেশের প্রশাসনিক ভবনের চার পাশে জমায়েত হতে থাকে। এরপর তারা গভর্নরের কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর পাথরও নিক্ষেপ করেন।’
তায়েজের কেন্দ্রস্থলে একটি অস্থায়ী হাসপাতালের চিকিৎসক সাদেক আল-শুজা জানান, ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন গুলিতে, পাথরের আঘাতে ৫০ জন ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ৩৫০ জন আহত হয়েছে। তবে তায়েজের গভর্নর কোনো লোকের প্রাণহানির খবর অস্বীকার করেছেন।
তিউনিসিয়ার পর মিসরে গণবিক্ষোভে সরকার পতনের ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ইয়েমেনেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে ৩২ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট সালেহ গত রোববার বিক্ষোভকারীদের প্রতি রাস্তায় বিক্ষোভ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
সালেহ তায়েজ প্রদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতার পালা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই এটা হতে হবে।’
গত ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে হাজার হাজার মানুষ সালেহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তবে দুই সপ্তাহ ধরে সালেহর সমর্থকেরাও রাস্তায় নেমেছে। তবে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সালেহ ওয়াশিংটনের সমর্থন হারাতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আলী অবদুল্লাহ সালেহর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সালেহর প্রস্থানের পথ সুগম করতে আলোচনায় সহযোগিতাও দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সালেহর প্রস্থানের জন্য এক সপ্তাহ আগেই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ইপিজেডে বিনিয়োগে আগ্রহী মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা

সফররত মালয়েশিয়ান উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সঙ্গে বৈঠককালে ফেডারেশন অব মালেশিয়া ম্যানুফেকচারার্সের নেতারা এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। তাঁরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। আট সদস্যবিশিষ্ট মালেশিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তেনশ্রি দাতো সুং সিউ হুং।
বৈঠক অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, পরিচালক মো. মোমতাজ উদ্দিন, মো. নাজিবর রহমান, মো. হাসিন আলী, বাংলাদেশ-মালেশিয়া চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জসিম উদ্দিন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি সফররত মালেশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন ও কৃষি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ অংশিদারিত্বে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং ক্ষুদ্র শিল্পেও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
মো. জসিম উদ্দিন আরও বলেন, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে মালেশিয়ায় ছয় কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে বাংলাদেশ ১২৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
বৈঠকে মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদলের নেতা তেনশ্রি দাতো সুং সিউ হুং বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং এই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আন্তরিক ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের উন্নতি হয়নি।
ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক: গতকাল সফররত ফেডারেশন অব মালয়েশিয়া ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রতিনিধিদলটি ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। ঢাকা চেম্বার ভবনে আয়োজিত বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি টি আই এম নূরুল কবীর। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডিসিসিআইয়ের পরিচালক এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম, খাইরুল মজিদ মাহমুদ, সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আবদুস সালাম, আশরাফ ইবনে নূর, সাবেক পরিচালক নেসার মাকসুদ খান, এম সালিম সোলায়মান, আহমেদ হোসেন মজুমদার প্রমুখ।
ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি টি আই এম নূরুল কবীর বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্যাকেজ দিচ্ছে। তিনি এ সুবিধা নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে পাট ও পাটজাত পণ্য, জ্বালানি, সার, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, আইটিসি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, সিরামিক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে পিপিপির আওতায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
প্রতিনিধিদলের নেতা তেনশ্রি দাতো সুং সিউ হুং জানান, মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, সিরামিক, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি খাতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা যৌথ বিনিয়োগে অংশ নিতে পারে।

ইরানের কোচ কুইরোজ

গত বছর সেপ্টেম্বরে দেশের ডোপিংবিরোধী কর্মকর্তাদের অপমান করায় ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবসর সময়ই কাটাচ্ছিলেন কার্লোস কুইরোজ। কাল ইরান জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেন এই পর্তুগিজ কোচ। গত বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের কোচ ২০১৪ সালের শেষ পর্যন্ত তুরস্কের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে চুক্তির আর্থিক দিকটি জানা যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ায় ভারত-বন্দনা

ভারতের কাছেই টেস্ট-শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শ্রেষ্ঠত্বকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে ভারত। ২০১১ বিশ্বকাপ জিতে ভারত বিশ্বকে এই বার্তাও দিল, আগামী দিনের ক্রিকেটে তাদেরই আধিপত্য থাকবে।
থাকবে কি না, সেটা সময়ই বলবে, তবে ভারতের বর্তমান ‘শ্রেষ্ঠত্ব’কে স্বাগতই জানাচ্ছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারতকে যোগ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বলছে সে দেশের পত্রপত্রিকা। ফাইনালের পর দি অস্ট্রেলিয়ান-এর শিরোনাম ছিল, ‘ইতিহাস উল্টে দিয়ে ২৮ বছরে প্রথম বিশ্বকাপ জিতল ভারত।’ পত্রিকাটি ভারতীয় অধিনায়কের দৃঢ়নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা শচীন টেন্ডুলকারকে ঘিরে থাকা আলোটা ফাইনালে নিজের করে নিয়েছেন ধোনি।
‘দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি বড় দল সমর্থকদের টানটান উত্তেজনার স্নায়ুক্ষয়ী ফাইনাল উপহার দিয়েছে। ক্রিকেট-পাগল জাতি হিসেবে যারা আরও আগে শিরোপা জিততে পারত, যোগ্য দল হিসেবে তারাই জিতেছে শিরোপা। টুর্নামেন্টের সমাপ্তিটা রূপকথার মতো হয়নি, কিন্তু এখনো অনেক ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়ানো মুম্বাই ও ভারতের জন্য সেটাই বা কম কী।’ পত্রিকাটি আরও লিখেছে, এই জয়ে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে গেছে, জেতার জন্য ভারতকে এখন আর এক টেন্ডুলকারের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
মুম্বাইবাসীর জন্য ফাইনালটা রূপকথার মতো সমাপ্তি পেত যদি সেঞ্চুরি পেতেন শচীন টেন্ডুলকার। পত্রিকাটির চোখে ধোনি ‘সর্বজয়ী অধিনায়ক’, ‘শচীন টেন্ডুলকারের মতো পূজনীয় তিনি নন, আফ্রিদির মতো উচ্ছল নন, কুমার সাঙ্গাকারার মতো বাগ্মিকতাও নেই তাঁর, তার পরও ধোনি হচ্ছেন অনমনীয় নতুন ভারতের মুখ। ধোনির অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস ও ম্যাচজয়ী ছক্কা তাদের ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এনে দিয়েছে, আর ওয়াংখেড়ের ৩৩ হাজার দর্শককে করেছে উন্মত্ত।’
ধোনির দৃঢ়নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডও। কলাম লেখক পিটার রোবাক লিখেছেন, ‘দিনটি ছিল ধোনির। জয়াবর্ধনের মতো তাঁর ফর্মেও অনেক আঁচড় থাকলেও সেসব পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন ধোনি। সত্যি বলতে, তিনি নিজেকে ওপরে তুলে আনার সাহস দেখিয়েছেন।’
সেই অর্থে কোনো স্বাগতিক দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ভারতীয় দলের এই ধারাবাহিকতা খণ্ডনকেও বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া।

দুই দিনেই জিতে গেল রাজশাহী



রাজশাহীর জয়ের ভিতটা আগেই গড়ে দিয়েছিলেন অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা। বগুড়ায় প্রথম ইনিংসে তাঁর দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৭২ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। এরপর কাল দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়—১০৮ রানে অলআউট। সর্বোচ্চ ২০ রান করেছেন ফয়সাল হোসেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা আফতাব আহমেদ কালও রান পাননি। প্রথম ইনিংসে ৬ রান করার পর কাল আউট শূন্য রানেই।
প্রথম ইনিংসে ১৫১ রান করা রাজশাহীর সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০ রান। মাত্র দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ। ১ উইকেট খুইয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী। পাঁচ ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়।
আগের দিন ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারানো চট্টগ্রাম কাল বাকি ৬ উইকেটের বিনিময়ে তুলতে পারে ৬২ রান। ৩টি করে উইকেট নেন ফরহাদ রেজা ও শুভাশিস রায়। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া ফরহাদের হাতেই।
সিলেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে বরিশাল প্রথম ইনিংসে করেছে ২৩০ রান। ১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারানো বরিশাল কাল অলআউট হওয়ার আগে যোগ করে আরও ৫৭ রান। সর্বোচ্চ ৫৭ রান এসেছে আসিফ আহমেদের ব্যাট থেকে। মাহবুবুল আলম নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১৩৩ রানে ঢাকার প্রথম ইনিংস শেষ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে দিন শেষে ২ উইকেটে করেছে ২২৮ রান। উত্তম সরকার (৫৪) ও মাজিদ (৮৪) উদ্বোধনী জুটিই দেয় ১০৮ রান। ৫৩ রানে ব্যাট করছেন ইলিয়াস সানি।
রাজশাহীতে খুলনার বিপক্ষে সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন সিলেটের ব্যাটসম্যান ইজাজ আহমেদ। ব্যাট করছেন ৯৪ রানে। সিলেটও এগিয়ে যাচ্ছে রানপাহাড়ের দিকে। রান পেয়েছেন টপ-অর্ডারের সবাই। আগের দিন হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন ইমতিয়াজ (৬২) ও সৈকত (৫১)। কাল ইজাজের সঙ্গে হাফ সেঞ্চুরি করলেন ছয় নম্বরে খেলতে নামা তাসামুল হকও (৬০)। দ্বিতীয় দিন শেষে সিলেটের স্কোর ৬ উইকেটে ৪০৮। তাপস ঘোষ ৩টি ও মনোয়ার ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

১০ দলেরই বিশ্বকাপ

 গত অক্টোবরে নেওয়া সিদ্ধান্তেই অনড় থাকল আইসিসি। শুধু টেস্ট খেলা ১০টি দল নিয়েই হবে ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। গতকাল মুম্বাইয়ে আইসিসির নির্বাহী বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও সভার আগে গুঞ্জন উঠেছিল ১২টি দল সুযোগ পাচ্ছে ২০১৫ বিশ্বকাপে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সংখ্যা ১০-এ নেমে আসায় এবারের বিশ্বকাপে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েও আগামী বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে না আয়ারল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেও বিশ্বকাপ খেলা হবে না কেভিন ও’ব্রায়েনের। হল্যান্ডের তারকা টেন ডেসকাটও থাকবেন না বিশ্বকাপে। টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার পর কেনিয়াও থাকবে অনুপস্থিত। বর্তমানে আইসিসির যে ১০টি পূর্ণ সদস্যদেশ আছে, শুধু তারাই খেলবে পরের বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই নাকি আইসিসির এই সিদ্ধান্ত। অনেকে যেমন সমর্থন করেছেন এই সিদ্ধান্তের, তেমনি অনেকে বিরোধিতা করেছেন। এই নিয়ে বিস্তর আলোচনার পর আইসিসি তাদের সভায় ১০ দলের বিশ্বকাপই চূড়ান্ত করেছে।
সভায় বিশ্বকাপের ফরম্যাট পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৯৯২-এর আদলে ফিরে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। ১০টি দলই একবার করে পরস্পরের মুখোমুখি হবে এবং শীর্ষ চারটি দল যাবে সেমিফাইনালে। ২০১৫ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ২০১৯ বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে।
ওয়ানডের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা কমে গেলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৬টি দল খেলবে। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে সুযোগ পাবে ৬টি দল।
তবে ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও পেতে পারে এসব দল। কারণ আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে আসতে হবে। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোকে তা জানিয়েও দিয়েছে আইসিসি। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে লিগ চালু করে সেখানে ‘প্রমোশন’ ও ‘রেলিগেশনের’ ব্যবস্থা রাখা হবে।

কোনটি আসল বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপের শুরুর মতো শেষটাও হলো ট্রফি-বিতর্ক দিয়ে। মহেন্দ্র সিং ধোনি-শচীন টেন্ডুলকাররা যে ট্রফিটা নিয়ে ২ এপ্রিল রাতে বিশ্বজয়ের উৎসব করলেন, সেটা নাকি নকল ট্রফি! যদিও আইসিসি বলছে, নকল নয়, বিশ্বকাপের আসল ট্রফিই দেওয়া হয়েছে ভারতকে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ট্রফি নিয়ে স্পনসরদের প্রচারণার সময়ও ‘আসল না নকল’ প্রশ্নটা উঠেছিল।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের হাতে আসলে তুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা। আইসিসি প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ করেনি বলেনি আসল ট্রফি গচ্ছিত ভারতের শুল্ক বিভাগের কাছে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) একটি সূত্রই নাকি পিটিআইকে বলেছে, ‘আসল ট্রফিটি শুল্ক বিভাগের কাছে।’ শুল্ক বিভাগের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, আইসিসির কাছে ৩৫ শতাংশ শুল্ক পেলেই কেবল তারা তাদের কাছে গচ্ছিত ট্রফিটি ছাড়বে। তবে আসল ট্রফিটা ভারতীয় দলের কাছে নাকি তাদের কাছে, সেটা শুল্ক কর্তৃপক্ষও ঠিক বলতে পারছে না।
তবে আইসিসি দাবি করছে, সংবাদমাধ্যমের খবর সত্য নয়। ফাইনালের পর ভারতীয় দলকে আসল ট্রফিই দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘শনিবারে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যে ট্রফিটি ভারতীয় দলকে দেওয়া হয়েছে, সেটিই আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-এর প্রকৃত ট্রফি। বিশ্বকাপ জেতার পর সব দলকে এই ট্রফিই দিয়ে আসা হচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এটা রেপ্লিকা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভারতকে দেওয়া ট্রফিতে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-এর নির্দিষ্ট লোগো খচিত আছে এবং বিশ্বকাপের ১৪টি দল এই ট্রফির জন্যই খেলেছে।’ আইসিসির বক্তব্য অনুযায়ী শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে আছে আসলে বিশ্বকাপের স্থায়ী ট্রফি। এই ট্রফি মূলত প্রচারণার কাজে ব্যবহূত হয়। ২০১১ বিশ্বকাপের লোগোর পরিবর্তে আইসিসির করপোরেট লোগো খচিত তাতে। গতকালই শুল্ক বিভাগের কাছ থেকে ছাড়িয়ে ট্রফিটা দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে আসল না নকল ট্রফি, ভারতীয় ক্রিকেটাররা সেটি নিয়ে ভাবছেন না। পরশু রাতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যে ট্রফিটা নিয়ে তাঁরা উৎসব করলেন, দুই দিন ধরে সেটাই সঙ্গী হয়ে আছে তাঁদের। এই ট্রফিতে একের পর এক চুমু খাচ্ছেন যুবরাজ সিং। ধোনি-টেন্ডুলকাররাও এই ট্রফি হাতেই ছবি তুলছেন। এমনকি পরশু মুম্বাইয়ের রাজভবনে কাল রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও ভারতীয় দল হাজির হয়েছিল ওই ট্রফি নিয়েই।

সেঞ্চুরিতেও সান্ত্বনা নেই জয়াবর্ধনের

বিশ্বকাপের ফাইনালে ৮৪ বলে সেঞ্চুরি, শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে অপরাজিত ১০৩। অসাধারণ এই সেঞ্চুরির প্রশংসা চতুর্দিকে। কিন্তু যাঁর সেঞ্চুরি নিয়ে মানুষের এত প্রশংসা, সেই মাহেলা জয়াবর্ধনের কাছে ওই সেঞ্চুরির কোনো মূল্য নেই। বলছেন দলের পরাজয়ের কাছে সেঞ্চুরি কোনো সান্ত্বনা হতে পারে না, অন্তত বিশ্বকাপের ফাইনালে।
গত শনিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জয়াবর্ধনের দুর্দান্ত ওই সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কাকে এনে দেয় ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। কিন্তু মাত্র ৪ উইকেটেই শ্রীলঙ্কার এই রান টপকে বিশ্বকাপ জেতে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে জয়াবর্ধনে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ মেডেলের জন্য আমি যেকোনো দিন সেঞ্চুরি বদল করতে রাজি।’
তীরে এসে তরী ডোবার হতাশা এখনো পোড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ককে। তবে আইসিসির কাছে জয়াবর্ধনে এটাও অকপটে স্বীকার করেছেন, ২৭৪ রান টপকে ভারত প্রমাণ করেছে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ সত্যিই খুব শক্তিশালী, ‘আমরা ভালোভাবেই লড়াই করেছি। কিন্তু এটাই যথেষ্ট ছিল না। ভারতের এই ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আমাদের উইকেট তুলে নিতে হতো। আমরা শুরুতেই দুটি উইকেট তুলে নিয়েছিলামও। কিন্তু পরে আর কোনো কিছু করতে পারিনি। আমরা ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে পারিনি, সাধারণত আমরা যেটা করি। তবে তারা দারুণ ব্যাট করেছে।’
সেঞ্চুরি বিশ্বকাপ শিরোপার সান্ত্বনা হতে পারে না। তবে অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা আউট হয়ে যাওয়ার পর দলকে টেনে তোলার যে দায়িত্ব কাঁধে চেপেছিল সেই দায়িত্ব যথাযথ পালন করার তৃপ্তি মাহেলার অবশ্যই আছে। ইনিংসের শেষ দিকে ভারতীয় বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন জয়াবর্ধনে। ব্যাট হাতে সেই মুহূর্তটিও জয়াবর্ধনের কাছে ছিল বিশেষ কিছু, ‘যখন আমি ক্রিজে গিয়ে দাঁড়ালাম, সত্যিই ভালো বোধ করছিলাম। কিছু আলগা বল পাই এবং যা থেকে কিছু চার বের করি। এটা আমাকে ছন্দ দিয়েছে। কুমার যখন আউট হলো, আমি জানতাম, আমাকে ৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে। এটা আপনার জানাই যে পাওয়ার প্লের সময় আপনি ক্যাচ আউট হয়ে যেতে পারেন। কাজেই আমি ওই প্রচেষ্টার জন্য খুশি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ম্যাচ শেষে আমরা পরাজিত দল।’
আগামী মে মাসে পা রাখবেন ৩৪-এ। অবসর-সম্পর্কিত প্রশ্নেরও তাই উত্তর দিতে হচ্ছে। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জয়াবর্ধনের ভাবনাটা স্বচ্ছ, খেলাটা চালিয়ে যাবেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রীলঙ্কার আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের দারুণভাবে প্রভাবিত করা। আমি চেষ্টাটা করে যাব এবং এখন যা করছি তার চেয়ে ভালো কিছু করার জন্য নিজেকে তাগাদা দেব। যেদিন বুঝতে পারব দলে অবদান রাখার সামর্থ্য আমার নেই, সেদিন নিজেই বিদায় বলে দেব।’

তবু রিয়ালের পরীক্ষা

রক্ষা আর রক্ষণ—চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানে এই শব্দ দুটিই উচ্চারিত হচ্ছে বেশি করে। টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে রিয়াল রক্ষা করতে চায় এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে অজেয় থাকার দৌড়টা। আর শালকের বিপক্ষে ইন্টারের সব দুশ্চিন্তা তাদের রক্ষণ নিয়ে। সিরি ‘আ’তে সর্বশেষ ম্যাচে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের কাছে রক্ষণের দুর্বলতাতেই ০-৩ গোলে হেরেছে ইন্টার।
গত শনিবার পর্যন্ত একটা গর্ব নিয়েই এগিয়ে চলছিল রিয়াল—নিজেদের মাঠে কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। স্পোর্টিং গিজন তাদের সেই গর্বটা চূর্ণ করে দিয়েছে। স্প্যানিশ লিগের সর্বশেষ ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে ছোট দলটি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এ মৌসুমে এখনো নিজেদের মাঠে হারেনি রিয়াল। অপরাজেয় থাকার এ দৌড়টা আজও অটুট রাখতে চায় হোসে মরিনহোর দল। চায় নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ষষ্ঠ জয় পেতে।
সাত বছর পর এই প্রথম শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০৩ সালের পর আপাতত আবার সেমিফাইনালে ওঠার প্রতিজ্ঞা। নয়বারের ইউরোপ-সেরা রিয়ালের সঙ্গে এর আগে একবারই মাত্র দেখা হয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে নবাগত টটেনহামের। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে সেই ম্যাচে জিতেছিল রিয়াল।
ইতিহাস ও পরিসংখ্যান—দুটোই রিয়ালের পক্ষে। খেলাটিও হচ্ছে তাদেরই মাঠে। রিয়াল নিরঙ্কুশভাবে এগিয়ে এই ম্যাচে। কিন্তু টটেনহামকেও উপেক্ষা করা যাবে না। একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে এ মৌসুমে এগিয়ে যাচ্ছে স্পারদের স্বপ্নযাত্রা। আগের রাউন্ডে টটেনহাম হারিয়ে এসেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানকে। এবার রিয়ালকে লক্ষ্য করছে হ্যারি রেডনাপের দল। রিয়াল কোচ মরিনহোর আত্মবিশ্বাস আছে। তবে টটেনহামের প্রতিজ্ঞার কথাও বলেছেন তিনি, ‘টটেনহাম উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটা দল। ভালো খেলোয়াড় আছে ওদের। আছে ভালো একজন ম্যানেজারও।’
ভালো ম্যানেজার এখন ইন্টার মিলানেরও আছে। যে ম্যানেজারের (লিওনার্দোর) জাদু-স্পর্শে জেগে উঠেছে মৌসুমের শুরুর দিকে একেবারেই নিষ্প্রভ থাকা ইন্টার। আজ এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা শালকের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাদের দুশ্চিন্তার নাম রক্ষণভাগ।

ঢাকায় ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া

মাইকেল ক্লার্কের যেখানে শুরু, রিকি পন্টিংয়ের সেখানে শেষ। পন্টিং অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন বলেই বাংলাদেশ সফর থেকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হয়ে গেলেন ক্লার্ক। তবে ক্লার্কের অধিনায়ক হওয়াটা শুধু পন্টিংয়ের নেতৃত্বেরই শেষ ঘোষণা করছে না, নতুন অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পথরেখাও আঁকছে।
অস্ট্রেলিয়া দলের ক্রিকেটাররা কাল রাতে দুই ভাগে ঢাকায় পৌঁছেছেন। সিডনি বিমানবন্দর থেকে ঢাকার বিমানে ওঠার আগে বাংলাদেশ সফর এবং নতুন দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিয়েছেন শুরুতেই, অন্তত বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজে দলে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
নতুন অধিনায়ক তাঁর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে চিন্তাভাবনার যথেষ্ট সময় পাবেন বাংলাদেশ সফর শেষে। ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সিরিজ শেষ হওয়ার পর জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজের আগ পর্যন্ত কোনো খেলা নেই অস্ট্রেলিয়ার। ক্লার্ক বেছে নিতে চান ওই সময়টাই। ‘আমাদের ভাগ্য ভালো, এই তিনটি ওয়ানডে এখনই হয়ে যাচ্ছে। ভালো একটা বিরতি আছে এরপর। কাজেই বেশি সামনে না তাকিয়ে এখন আমি শুধু এই তিন ওয়ানডের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। এমনকি আমি যেসব জায়গায় পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করছি, সেগুলো নিয়েও এখন ভাবছি না’—দেশ ছাড়ার আগে বলেছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফিরে গত কয়েকটা দিন সবার চিন্তাভাবনায় বাংলাদেশ সিরিজটাই ছিল। বাবা আর কাছের বন্ধুদের সঙ্গে ক্লার্ক তাঁর ৩১তম জন্মদিনটাও পালন করলেন এই সময়েই (২ এপ্রিল)। তবে সেই খবর পত্রপত্রিকায় চলে আসায় তিনি বিব্রত। ক্লার্ক বুঝতেই পারছেন না, তাঁর জন্মদিন নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ কেন? এর চেয়ে বাংলাদেশ সিরিজটা নিয়েই কি বেশি ভাবা উচিত না?
সেই ভাবনা অবশ্যই আছে। সঙ্গে ক্লার্ক নেতা হিসেবে কেমন হবেন, অনুচ্চারে হলেও আছে সে আলোচনাও। তাঁর দল পরিচালনার ধরন সবাই কীভাবে গ্রহণ করবে, সাবেক অধিনায়ক পন্টিংয়ের সঙ্গেই বা কীভাবে আচরণ করেন নতুন অধিনায়ক, কিংবা নির্দেশ দিতে অভ্যস্ত পন্টিং নির্দেশ নেবেন কীভাবে—সবই আছে আলোচনায়। তবে ক্লার্ক আশাবাদী, ‘ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেকেই আমার অধীনে খেলেছে। তারা আমার নেতৃত্ব সম্পর্কে জানে। পন্টিং যেভাবে এত দিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সবাই স্বাভাবিকভাবে সেটাতেই অভ্যস্ত। পন্টিংয়ের তুলনায় আমি একটু অন্য রকম। মানিয়ে নিতে তো একটু সময় লাগবেই।’
তবে অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থদের জন্য নিজের দরজাটা সব সময় খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্লার্ক, ‘তাদের যখন যা প্রয়োজন হবে আমাকে বলতে পারে। দিনের ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন আমার কাছে আসতে পারে যে কেউ। আমাকে ফোন করতে পারে। আমি চাই, সবাই এই স্বাধীনতাটুকু নিক, সে যে-ই হোক। ক্রিকেটটা সবাই ভালোবাসা নিয়ে খেলুক।’
পন্টিং অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সফরের আগেই। আর বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়া দল ছেড়ে যাবেন দলের দীর্ঘদিনের টিম ম্যানেজার স্টিভ বার্নার্ড। ১৯৯৮ সালের ভারত সফর থেকে অস্ট্রেলিয়া দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা বার্নার্ডের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশ সিরিজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। নতুন ম্যানেজার করা হয়েছে ইংল্যান্ড রাগবি ইউনিয়নের সাবেক ম্যানেজার গেভিন ডোভিকে। বাংলাদেশ সফরে বার্নার্ডের সঙ্গে আসবেন তিনিও।
‘ক্লার্ক কেমন অধিনায়ক হবেন’—এই প্রশ্নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া দলে ঘুরছে ‘ডোভি কেমন ম্যানেজার হবেন’ প্রশ্নটাও। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক ফাস্ট বোলার এবং সাবেক নির্বাচক বার্নার্ডকে নিশ্চিতভাবেই মিস করবে অস্ট্রেলিয়া দল। ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাংগঠনিক দক্ষতার দারুণ মিল ঘটিয়ে টিম ম্যানেজার হিসেবে রীতিমতো কিংবদন্তির পর্যায়ে বার্নার্ড। ক্লার্ক নিজেও বলেছেন, ‘অসাধারণ একজন টিম ম্যানেজার উনি। তিনি এতটাই গোছানো যে আমাদের জীবনটাই করে দিয়েছিলেন সহজ। খেলা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানও দারুণ। আমার ধারণা, তিনি চলে যাওয়ার পরই সবাই বুঝতে পারবে কী দারুণ একটা ক্রিকেট-মস্তিষ্ক ছিল তাঁর।’ ক্লার্কের মতো আরও অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারেরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর সাক্ষী তিনি। ‘শুধু আমিই নই, অস্ট্রেলিয়ার অনেক ক্রিকেটারই তাঁর কাছ থেকে দারুণ সাহায্য পেয়েছে’—বলেছেন নতুন অধিনায়ক।
সিডনি বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশে পৌঁছে গেছেন কাল রাতেই। এ পর্যন্তও হয়তো অধিনায়কত্বের উত্তাপ তাঁর গায়ে লাগতে শুরু করেনি। ক্লার্ক সেটির জন্য অপেক্ষায় থাকবেন ৯ এপ্রিলের প্রথম ওয়ানডেটা পর্যন্ত, ‘এখনই অধিনায়কত্বের ভেতর ঢুকে গেছি মনে হয় না। তবে আমি রোমাঞ্চিত। আমি জানি, আমার সামনে কী অপেক্ষা করছে এবং আমার লক্ষ্যটা খুবই সহজ-সরল। বাংলাদেশে গিয়ে আমরা সিরিজ জিততে চাই। সবার সামনে দিয়ে যখন আমি দল নিয়ে মাঠে ফিল্ডিং করতে ঢুকব, হয়তো তখনই সত্যিকার অর্থে ঢুকে পড়ব অধিনায়কত্বের ভেতর।

‘রুনি প্রচণ্ড নির্বোধ’

মাঠে বাজে আচরণের জন্য জগদ্বিখ্যাত ওয়েইন রুনি। মাঝেমধ্যেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা চাপা পড়ে যায় তাঁর অসদাচরণের নিচে।
পুরো ফুটবল বিশ্বই তাঁর নানা রকম গোলমেলে ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত। এই যেমন ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটসপারের ম্যানেজার হ্যারি রেডন্যাপ ম্যান ইউ ও ইংল্যান্ডের এই তারকার আচরণ নিয়ে তাঁর বিরক্তি চেপে রাখতে পারেননি।
গত শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচে ওয়েইন রুনি বেশ কয়েকবারই মাঠে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি সবচেয়ে সমালোচিত হয়েছেন, তাঁর একটি গোল উদযাপনের সময়। গোলটি উদযাপনের সময় তিনি আবেগী হয়েই হন কিংবা অন্য কারণে, যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
এ ঘটনায় তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। নিজের দোষেই তিনি যদি এ নিষেধাজ্ঞার খড়্গ ঘাড়ে তুলে নেন, তাহলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী এফএ কাপের ম্যাচে তাঁকে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হবে। ম্যান ইউ ম্যান সিটির বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিতে মুখোমুখি হবে ওয়েম্বলিতে।
রুনির আচরণে ক্ষুব্ধ টটেনহ্যাম ম্যানেজার রেডন্যাপের মন্তব্যেই ফুটে উঠেছে তাঁর ক্ষোভ। তিনি বলেছেন, ‘এই খেলোয়াড়টির মেজাজ সব সময় এত চড়া থাকে কেন? সে নিজেকে কী মনে করে?’
রেডন্যাপ আরও বলেন, ‘জীবনে অনেক খেলোয়াড়ের খেলা দেখেছি। ববি চার্লটনও মাথা গরম খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু আমি কখনোই দেখিনি তিনি গোলের পর এত বাজেভাবে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন।’
‘মাঠে এ ধরনের আচরণ কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, সে যতই ভালো ফুটবলার হোক না কেন।’ বলেছেন রেডন্যাপ।
রুনির ফুটবল প্রতিভার প্রতি রেডন্যাপের রয়েছে পূর্ণ আস্থা। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় রুনিকে আমি অসম্ভব ভালোবাসি। সে দারুণ প্রতিভাবান ফুটবলার। গোল করায় রয়েছে তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সে মাঝেমধ্যে মাঠে নির্বোধের মতো আচরণ করে। তাঁর এ আচরণ বদলাতে হবে।’
রুনি অবশ্য তাঁর শনিবারের আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি পরিস্থিতির বশবর্তী হয়ে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন। যেটা অবশ্যই অন্যায় আচরণ।

আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস’

‘বিশ্বকাপের ফাইনালে আপনি শতরান হাঁকালেন, আপনার দল জিতল না, কিন্তু আপনি ৯৯ রানে আউট হলেন, আপনার সেই ৯৯ দলকে বিশ্বকাপ জিততে সহায়তা করল, তাহলে সেই শতরানের চেয়ে ৯৯ রানই আমার কাছে বেশি প্রার্থিত’—বিশ্বকাপ ফাইনালে দারুণ কঠিন এক পরিস্থিতিতে ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দেশকে বিশ্বকাপ জিততে সহায়তা করেছেন গৌতম গম্ভীর। তাঁর মুখে এমন কথাই বেশি মানায়।
মুম্বাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে এক নিদারুণ কঠিন পরিস্থিতি পুরো দেশের প্রত্যাশার ভার উঠে গিয়েছিল দিল্লির দুই তরুণ গম্ভীর ও বিরাট কোহলির কাঁধে। এ দুজনের যেকোনো একজনও যদি তাড়াতাড়ি ফিরে যেতেন, তাহলে ম্যাচের চেহারা সম্পূর্ণ অন্য রকম হয়ে যেত। এই দুই তরুণ তেমনটি হতে দেননি। ৮৩ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দেশকে সহায়তা করেছেন ২৮ বছর পর অধরা শিরোপা হাতের মুঠোয় নিয়ে নিতে।
এই ইনিংসটিতে তাই একটু অন্য রকমই মনে হতে বাধ্য গম্ভীরের। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে সেঞ্চুরি করা এক ঐতিহাসিক অথচ সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিজের নাম ওঠাতে পারেননি। কিন্তু, তিনি দিন শেষে দারুণ সন্তুষ্ট দেশের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর দিক দিয়ে অবদান রাখতে পেরে।
ফাইনালের ৯৭ রান তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংস কি না, গম্ভীরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সংবাদকর্মীরা। গম্ভীর এটিকে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কিংবা সেরা ইনিংস কোনোটিই বলেননি। বলেছেন, তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস হিসেবে।
মাত্র তিন রানের জন্য শতরান মিস করেও কোনো আক্ষেপ নেই গম্ভীরের। তাঁর মতে, ‘বিশ্বকাপ ট্রফি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। তাই শতরান করতে না পেরে আমার কোনো দুঃখ নেই।

আইসিসির সিদ্ধান্ত হাস্যকর: পোর্টারফিল্ড

সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে গোটা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। এটা ‘অঘটন’ ছিল না মোটেই। গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে না পারলেও আইরিশদের দাপট ঠিকই প্রত্যক্ষ করেছে ক্রিকেট বিশ্ব। অনেকে তো আয়ারল্যান্ডকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতাই হারিয়ে ফেলেছে আয়ারল্যান্ড!
বিশ্বকাপের পরিধি কমিয়ে ১০ দলে নামিয়ে এনেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)। আর এ কারণে কপাল পুড়েছে চার সহযোগী দেশ কানাডা, কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ডের। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হলো এই চারটি দলকেই!
স্বাভাবিকভাবেই আইসিসির এই সিদ্ধান্তে হতাশ সহযোগী দেশগুলো। আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটা নিতান্ত হাস্যকর, ‘এটা অবিচার। আমি জানি না, আইসিসি কীভাবে এই হাস্যকর সিদ্ধান্তটা নিল। গত কয়েক বছরে আইসিসি যেভাবে চেয়েছে, ঠিক সেভাবেই নিজেদের গড়েছি আমরা।’
আইসিসির পূর্ণ সদস্য জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তুলনা দিয়ে পোর্টারফিল্ড বলেন, ‘বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে আমরা ১০ নম্বরে, জিম্বাবুয়ের ঠিক ওপরে। আমরা যে আরও ওপরে উঠতে পারব না, এটা ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। অথচ হুট করে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর।’