Friday, September 5, 2014
কবিতা ও ইলিশ গবেষণা by অমিতাভ অপু
উত্তম দাশ এ দেশে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর-সেন্দর গ্রামে দাদু (নানা) শচিন্দ লাল রায়ের মোক্তার বাড়িতে ১৯৩৯ সালের ১১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। নিজেদের বাড়িও ছিল ওই গ্রামেই। পিতা কুমুদবন্ধু দাশের সরকারি চাকরির সুবাদে যুক্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। মূলত ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মাত্র ৮ বছর বয়সে উত্তম দাশ মা ছবি দাশের সঙ্গে এ দেশ ত্যাগ করে বাবার কর্মস্থল ভারতে চলে যান। পশ্চিম বাংলার বারইপুরে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাসাহিত্যে এমএ ও ১৯৭১ সালে বাংলাসাহিত্যে সনেট বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে অধ্যাপনা করার পাশাপাশি কবিতা লেখা ও সাহিত্য গবেষণা ছিল তার নেশা ও পেশা। তার সম্পাদিত সাহিত্যপত্র মহাদিগন্তে বহু বাঙালি কবির প্রতিভার বিকাশ ঘটে। ১৮টি কবিতার বই’র মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রুনুকে, ভারতবর্ষের একজন, নির্মাণে এসেছে, রাত্রির স্থাপত্য, ভ্রমণের দাগ, কাব্য নাট্য ও কবিতা, ভারতীয় কবির ডাইরী, প্রবন্ধের মধ্যে বাংলাসাহিত্যে সনেট, কবিতার সেতুবন্ধ, হাংরি শ্র“তি, শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলন, বাংলা ছন্দের কূটস্থান, বাংলা ছন্দের অন্তঃপ্রকৃতি, ক্ষুধিত প্রজন্ম, শতবর্ষের আলোকে জীবনানন্দ দাশ ২০০০, শতবর্ষের আলোকে বুদ্ধদেব বসু ২০০৮। সম্পাদিত কবিতার বই ‘শতাব্দীর বাংলা কবিতা’, বিশ্ব বাংলা কবিতা এতে ৩শ’ কবির শ্রেষ্ঠ কবিতা ও জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ পায়। বইটি আলোড়িত হয়ে ছিল ব্যাপক। শেষ বয়সে শৈশবের টানে উত্তম দাশ এ দেশে যতবার ছুটে আসেন তাকে সঙ্গ দেন বড় মামা লক্ষ্মীপুর জেলার ক্রীড়া সংগঠক, যোগব্যায়াম গবেষক, প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আলো বিকাশ রায়। এই বড় মামাই ছিলেন তার ছাত্র জীবনে আদর্শ বন্ধু, আর বহু স্মৃতির নস্টালিজায় আবদ্ধ। তার লেখার বহু স্থানে বিকাশ মামার কথা উল্লেখ রয়েছে। উত্তম দাশের মৃত্যু সংবাদ ওই বড় মামাকে জানান হয় ৮ দিন পর। ৮৩ বছর বয়সী মামা আলো বিকাশ ভাগ্নের মৃত্যু সংবাদে স্বাভাবিক থাকতে পারেননি। লক্ষ্মীপুর অফিসার্স ক্লাবে আড্ডা দেয়ার সময় কলকাতা থেকে ছোট মামা শম্ভু ফোন করে উত্তম দাশের শ্রাদ্ধাদি বিষয় জানান। এতেই ভেঙে পড়েন বিকাশ মামা। লক্ষ্মীপুর জেলার সন্তান হিসেবে উত্তম দাশকে দু’বার সংবর্ধনা জানান স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকরা।
উত্তম দাশের মা ছবি দাশ, ৯৩ বছর বছর বয়সে এখনও জীবিত। বারইপুরের বাড়িতে মেঝ ছেলে তন্ময় ও বাভি দাশের সঙ্গে থাকেন। পুত্রের (উত্তম) মৃত্যু সংবাদ তাকে জানান হয়নি। এমন মৃত্যু মেনে নেয়া যাবে না। দীর্ঘ জীবনের জন্য উত্তম দাশ নিয়মিত যোগব্যায়াম, করতেন। তার পরও মৃত্যু চিরন্তন। স্ত্রী মালবিকা দাশ, পুত্র কবি ময়ুখ দাশ, কন্যা মালিনী (মৌসুমী) দাশ, ছেলের বউ, নাতি, নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।
উত্তম দাশ শুধু কবিতা বা বাংলাসাহিত্য নিয়েই গবেষণা করেননি। তিনি বাংলাদেশের ইলিশ মাছ নিয়েও গবেষণা করেছেন। ২০০২ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার সদর আলেকজান্ডারের মেঘনা পড়ে গিয়ে নদীর গতিপথ দেখেন। ওই সময় তাকে জেলেদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ইলিশের প্রজনন, ইলিশের বেড়ে ওঠা, কোন পানিতে ইলিশের স্বাদ কেমন- এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ইলিশের স্বাদের সঙ্গে সাহিত্যের মিল খোঁজেন। সাগরের নোনা পানির ইলিশ, ডিম ছাড়ে মিঠা পানিতে। এ কারণে ইলিশকে মিঠা পানির মাছ বলা হয়। একজন কবি-সাহিত্যিককে কত বিষয় জানতে হয় তারও উদাহরণ উত্তম দাশ ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাটি, মানুষ ও জীবন চেতনার কথাশিল্পী by খুরশীদ আলম বাবু
এ গ্রন্থে মোট ১১টি গল্প সংকলিত হয়েছে, এগুলোর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর গল্প রয়েছে অর্ধেকের বেশি; উদাহরণ হিসেবে কয়েকটির শিরোনাম উল্লেখ করা যায় : আবাদ, কান্না-হাসির উপাখ্যান, দখল, পিছুটান, মেঘ ভাঙা রোদ ও পদ্মাবতী। খুব রক্ষণশীলভাবে এ হিসাব দেয়া হল।
এ গ্রন্থের অধিকাংশ গল্পের পরিমণ্ডল হল বরেন্দ্র অঞ্চল। প্রতিটি গল্পেই তার নানা রকম চিত্রায়ন লক্ষ্য করা যায়। ‘আবাদ’ গল্পটি এক মহাকাব্যিক পটভূমিতে সৃজিত হয়েছে। গল্পের নায়ক জগলু নিুবিত্ত নির্ঝঞ্ঝাট কৃষক, রূপাকে ভালোবাসে। রূপাও জানে জগলু তাকে ভালোবাসে। তার বন্ধু সিরাজ নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হয়। সেই রাজনৈতিক ঝামেলায় সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পুলিশ জগলুকে গ্রেফতার করে। বেশকিছু কাল কারাভোগের পর কোনোভাবে জেল থেকে ছাড়া পায়। ফিরে আসে গ্রামে এক নতুন মানুষ হয়ে। তার মধ্যে জন্ম নেয় এক নতুন জীবনচেতনা? বাঁচতে হবে, বাঁচার জন্য লড়তে হবে, আর কোনো সংগ্রামই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় না। সে নিষ্ফলা জমি চাষ করতে মন-প্রাণ ঢেলে দেয়। জগলু জেলে থাকার সময় রূপার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়, কিন্তু ‘বাঞ্জা’ বলে তাকে পরিত্যাগ করে তার স্বামী। তখন ফিরে আসে গ্রামে, বাপের বাড়ি। আবার দেখা হয় জগলুর সঙ্গে। রূপাকে বিয়ে করতে চায় জগলু। রূপা কোনো দিনই কল্পনা করতে পারেনি যে জগলু তাকে বিয়ে করতে চাইবে। জগলুর একটাই কথা? প্রতিজ্ঞা ও অধ্যবসায় থাকলে সব হয়। জগলুর সিদ্ধান্তে অবাক হয় রূপার বাপও। কিন্তু গল্পকার আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন এক অদৃশ্য কারসাজির কথা? ‘পৃথিবীর গোপন কোণে কোণে বুঝি কিসের আবাদের প্রস্তুতি চলতে থাকে।’ বড় অদ্ভুত গল্প। আমার বিবেচনায় বাংলা কথাসাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প।
‘দখল’ গল্পে একজন প্রেমিকার হৃদয় পাওয়ার জন্য দুই যুবকের প্রতিযোগিতা, পড়তে ভালো লাগেই। গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার পাশাপাশি প্রকৃতির চিত্রায়ন এবং হাস্যময় পরিবেশ সৃষ্টিতে লেখকের দক্ষতা পুরোপুরি বজায় থেকেছে। পাশাপাশি ‘পিছুটান’ গল্পে গল্পকার নাজিব ওয়াদুদ দেখিয়েছেন বেকারত্ব একটি পরিবারে কত সমস্যার সৃষ্টি করে, আর সেই বেকার ছেলে প্রত্যাশিত চাকরি পেলে কী বিপরীত দৃশ্যের অবতারণা হয়। জীবনের বাস্তবতা এবং মানবচরিত্রের বৈচিত্র্যময়তার কী যে এক অসামান্য কোলাজ সৃষ্টি করেছেন গল্পকার তার সহজ-সরল ভাষায় লেখা স্বল্পায়তনের এ গল্পে, তা না পড়লে বোঝা যায় না।
‘কাক’ গল্পে নাজিব ওয়াদুদ এক ধরনের মানবিক রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, অনেক পাঠকের কাছে তা অতিরিক্ত পাওনা বলেই মনে হবে। গল্পকার গল্প বলে গিয়েছেন স্বচ্ছ ও সহজাত দক্ষতায়। ‘মেঘ ভাঙা রোদ’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাস্তব জীবনের লড়াই সমার্থক হয়ে উঠেছে। মাটি, মানুষ ও মানবীয় সম্পর্ক এখানে একাকার।
পদ্মা তীরের এক গ্রাম্য বিধবার অপরূপ জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে ‘পদ্মাবতী’ গল্পে। ভাষা, কথনকৌশল, উল্লম্ফন, সব মিলিয়ে একটি অসাধারণ গল্প ‘পদ্মাবতী’। ‘কান্না-হাসির উপাখ্যান’ একটি সাধারণ কৃষক পরিবারের দৈনন্দিনতার গল্প।
মাটি, মানুষ এবং জীবনযুদ্ধের বিষয় আশয় ‘বরেন্দ্রবাংলার গল্প’ গ্রন্থের গল্পগুলোতে অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় অবলীলাক্রমে উঠে এসেছে। গল্পের ভাষা তার বিষয়বস্তুর অনুগামী হয়েছে। বাস্তববাদের বিষয়বস্তু কফি হাউসের ভাষায় আবর্তিত হয়ে যায়নি। নাজিব ওয়াদুদ আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের মূলধারার অনুবর্তী হলেও তার প্রত্যেকটি গল্পই তার নিজস্ব ক্র্যাফটসম্যানশিপের উদাহরণ। বাহুল্যবর্জিত, ইঙ্গিতময়, উপভোগ্য গতিশীল বর্ণনা, অসাধারণ জীবন্ত সংলাপ এবং আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও ভাষার ব্যবহার এ ক্র্যাফটসম্যানশিপ মূল উপাদান। গল্পকার হিসেবে নাজিব ওয়াদুদের এটাই বড় সাফল্য।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জন্মশতবর্ষ উদযাপন ও একটি প্রতিকৃতি by রাজু আলাউদ্দিন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দারাকানাথ ঠাকুর লেনের যে বাসাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঠিক সেখানেই ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুবরণ করেন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রিন্স দারাকানাথ ঠাকুরের নাতি বা মহর্ষি (Gran Santo) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে। দেবেন্দ্রনাথ পিতার উল্লেখযোগ্য বিষয়-সম্পদের উত্তরাধিকার অর্জন করলেও আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে তার বিরাট অংশ হারিয়ে ফেলেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ এক মহৎ চরিত্রের অধিকারী যার উত্তরাধিকার বর্তেছিল রবীন্দ্রনাথে, রবীন্দ্রনাথ তার বিষয়-সম্পদ এমনকি নোবেল পুরস্কারের অর্থ ও লেখকস্বত্বও দান করেছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং শান্তিনিকেতনকে।
ঠাকুর পরিবারের সবাই ছিলেন প্রতিভাদীপ্ত এবং শিল্পানুরাগী। মহর্ষির চতুর্দশ সন্তানদের মধ্যে কনিষ্ঠতম রবীন্দ্রনাথের বিপুল খ্যাতির সূচনা হয় যখন ইংরেজ কবি ইয়েটস কবিকৃত গীতাজ্ঞলির কিছু অনুবাদ পাঠ করেন। গীতাঞ্জলির প্রকাশ এবং ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠেন। ফ্রান্সে (আঁদ্রে) জিদ, স্পানঞায় সেনোবিয়া ও হুয়ান রামোন হিমেনেথ সত্যিকারের আবেগ নিয়ে তার লেখা অনুবাদ করেছেন, ফরাসি এবং স্পানঞল, দুই অনুবাদকই পরে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। এটা বললে পুনরুক্তি হবে না যে রবীন্দ্রনাথ শুধু মহান কবিই ছিলেন না (যদিও এটাই হতে পারে তার সর্বোচ্চ অভিধা), নেহেরুর ভাষায় ‘তিনি ছিলেন স্বাপ্নিক ও কর্মযোগী, গীতিকার ও দার্শনিক, নাট্যকার, অভিনেতা, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, মানবতাবাদী, জাতীয়তাবাদী বা আন্তর্জাতিকতাবাদী। যদিও তার জীবনের এ সংক্ষিপ্ত রূপরেখা, তিনি যা ছিলেন সে সম্পর্কে আমাদের কেবল সামান্য ধারণা দেয় মাত্র।’
রবীন্দ্রনাথের কাছে কেবল শিল্পীর সমস্যাবলীই আগ্রহের বিষয় ছিল না।
তার সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তার একটা বিষয় ছিল দ্রুত যোগাযোগে সক্ষম আধুনিক পৃথিবীতে সহিংস সংঘাতের সূচনাকারী মানুষের আবির্ভাব।
১৯১৩ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘জাতিবিদ্বেষের সমস্যাটি আমাদের যুগে এক জলন্ত প্রশ্ন এবং মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের বিজয় সম্পন্ন হওয়ার আগে দুর্ভোগের জন্য আমাদের প্রস্তুত হওয়া দরকার।’
রবীন্দ্রনাথ গোটা পৃথিবী সফর করেছেন। তিনি আমন্ত্রিত হয়ে সফর করেছেন ফ্রান্স, ইতালি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, জার্মানি, রাশিয়া, চীন, জাপান, ইরান, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, পেরু। লিমার (১৯২৪) উদ্দেশে সর্বশেষ ভ্রমণটি সম্পন্ন করতে পারেননি, কারণ বুয়েনোস আইরেসে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তার তাকে পার্বত্য এলাকা অতিক্রম না করার পরামর্শ দেন। ওই কারণে তিনি আর্জেন্টিনায় অবস্থান করেন এবং মাস দুয়েক তিনি সান ইসিদ্রোতে কাটান। লেখক ও জ্ঞানীগুণী, রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারা তিনি অভ্যর্থিত হয়েছিলেন।
তার নাট্যকর্ম, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাসগুলো স্পানঞা এবং আর্জেন্টিনায় প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তার বহু লেখাই অনুবাদের অপেক্ষায় আছে (অন্যান্য লেখার মধ্যে সান ইসিদ্রোতে অবস্থানকালে লেখা তার কবিতাগুলোও রয়েছে, গ্রন্থাকারে যার শিরোনাম পুরবী।) এখনও পর্যন্ত। পাঠকরা সহজেই নিজেদের কৌতূহলকে তৃপ্ত করতে পারবেন এ কারণে যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম সুলভ সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
তার বন্ধু গান্ধী ও নেহেরুর পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ নিঃসন্দেহে তিন ব্যক্তিত্বের একজন। তার ব্যক্তিত্বের অভিঘাত কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা পৃথিবী তার প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছে তা কেবল মহৎ কবিদের মতো ব্যক্তিত্বরই অর্জন করতে পারেন যারা একই সঙ্গে মহৎ মানুষও।
এ ছিল স্মরণিকায় ওকাম্পোর লেখাটির পূর্ণাঙ্গ রূপ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তার একাধিক লেখা রয়েছে এবং সেসব লেখা গ্রন্থাকারেও বেরিয়েছে, কিন্তু এটি এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রন্থে তো নয়ই, এমনকি সম্ভবত তার রচনাবলীর কোনো খণ্ডেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এটিই সম্ভবত তার সংক্ষিপ্ততম রচনা। হয়তো এ স্মরণিকার কারণেই এটি লেখা এবং সে কারণেই এ হ্রস্ব আয়তন। রবীন্দ্র স্মরণিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালের ১৩ মেতে। স্মরণিকাটিতে ছাপা হয়েছিল আর্জেন্টিনার শিল্পী ওরাসিও আলবারেস বোয়েরোর আঁকা রবীন্দ্রনাথের একটি প্রতিকৃতি। এটি খুব সম্ভবত ওরাসিও এঁকেছিলেন রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত রবীন্দ্র-স্মারক ডাকটিকিটের জন্য। এ একই প্রতিকৃতি ছাপা হয়েছে এ স্মরণিকাটিতেও। রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিসহ ডাকটিকিটের মুদ্রণসংখ্যা ছিল ৩০ লাখ। এবং তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল আর্জেন্টিনার সব প্রদেশে।
আর্জেন্টিনায় সম্ভবত রবীন্দ্রনাথই একমাত্র বিদেশী লেখক যার সম্মানে এ আয়োজন এবং ডাকটিকিট প্রকাশ। আর সবটাই সম্ভব হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের ‘বিজয়া’র কারণে। আর্জেন্টিনা সফরকালে জীবদ্দশায় যেমন, তেমনি মৃত্যুর পরও রবীন্দ্রনাথের প্রতি এত সম্মান আর অন্য কোনো দেশে ঘটেছে কিনা সন্দেহ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মনের আড়ালে by আনোয়ারুল হক
সামনে খালি রিকশা পেয়ে তাতে উঠে বসেই ভাবল, কোথায় যাবে সে?
এ সময়ে রিকশাওয়ালা ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করতেই সে বলে দিল, লালমাটিয়া যাও।
বলেই ভাবল, লালমাটিয়া! ওখানে তো মিতুদের বাসা।
রিকশাওয়ারার পিঠে হাত দিয়ে তাকে থামাতে গিয়েও হাতটা ফিরিয়ে নিল জাহিদ। কিছু বলল না। চাকা ঘুরতে লাগল কালো পিচ রাস্তায়। বাধা দেয়া গেল না। সেই সঙ্গে ঘুরতে লাগল জাহিদের মনের চাকা।
প্রায় এক বছর হতে চলল জাহিদ মিতুদের বাসায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ও শুনেছে, তার নাম শুনলে নাকি এখন মিতু মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর সেই মিতুকেই সে তার ভালোবাসার গল্পটা পড়ে শুনাতে চায়! অদ্ভুত তো! তার নিজের মনের গতি নিজেকেই যেন অবাক করে দেয়! তবুও জাহিদ টের পায় রিকশাটাকে ফিরানোর চেয়ে না ফিরানোর পাল্লাটাই বেশি ভারী।
কিন্তু ও যতই লালমাটিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ততই ভালোলাগার বদলে তার মনটা সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। আগের ভাবনাটাই ফিরে এলো মনের চৌকাঠে। যাওয়াটা কি ঠিক হবে? এত দিন পরে হঠাৎ বাসায় হাজির হয়ে ‘তোকে একটা গল্প পড়ে শোনাতে এলাম’ বললে মিতু কি বিষয়টা সহজভাবে নেবে? যদি অপমান করে! কেননা তাদের বর্তমান সম্পর্ক তো আর আগের মতো নেই!
সেদিন ছিল ২৩ সেপ্টেম্বও, চাঁদের হিসাবে কৃষ্ণপক্ষ। তারিখটা মনে থাকবে ওর আজীবন। সেদিনের পর থেকে মিতুর সঙ্গে জাহিদের আর দেখা হয়নি। যখনই মনে হয়েছে, যাই! তখনই মনটাকে জোর করে ফিরিয়ে এনেছে সে। রূপকের কাছে শুনেছে, মিতু নাকি বলেছে, ওর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টা নাকি এখন নিছক অতীতই। ওই সব ম্মৃতি সে আর মনে রাখে না। ভুলে গেছে! আর এই মিতুই তাকে একদিন বলেছিল, সে তাকে কোনোদিন ভুলে যাবে না! ছেড়ে যাবে না! ওদের বন্ধন চিরদিন অটুট থাকবে।
মিতুর বর্তমান ভাষ্য শুনে জাহিদ মনে মনে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আজ সে মিশ্চিত মিতালিকেও ভুলে যেতে পারেনি। অবচেতনের টানে তা না হলে সে লালমাটিয়া যাচ্ছে কেন!
জাহিদ আবার ভাবল, এখনও সে ইচ্ছা করলে ফিরে যেতে পারে। বলতে পারে, ‘এই রিকশা,সোজা যাবেন, মোহাম্মদপুর যাব’। রিকশা শংকর পার হয়ে এসে ডানে মোড় নিল। জাহিদ ফিরল না।
লালমাটিয়া ব্লক-ডি। এই রোডের শেষ মাথায় মিতুদের বাসা। দশতলা ফ্লাট বাড়ির ন’তলায় থাকে মিতুরা। লিফট আছে। উঠতে নামতে কোনো সমস্যা নেই। মিতুর বাবা রশিদ হায়দার সাহেব সরকারি আমলা। তাকে খুব কমই দেখেছে জাহিদ। সদা ব্যস্ত। ওর মাও কম এসেছে ওদের সামনে। আসলে মিতুদের পরিবারে মেয়ের ছেলে বন্ধুদের সম্পর্কে তার বাবা-মায়ের কোনো মাথাব্যথা নেই। জাহিদ জানত, ও ছাড়াও মিতুর অনেক ছেলে বন্ধু আছে। কিন্তু জাহিদ তো শুধু মিতুর ছেলে বন্ধুই ছিল না, ছিল তার চেয়ে আরও একটু বেশি কিছু। কে না জানত! আর মিতু তো জানত আরও বেশি এবং সাবার কাছে বলতও সে।
কথাটা মনে করে বড় করে নেয়া শ্বাসটা চেপে গেল না, ছেড়ে দিল জাহিদ। তারপর রিকশাওয়ালার পিঠে হাত ছোঁয়াল। জাহিদ আকাশমুখী বাড়িটার ওপরের দিকে তাকাল। ভাবল, মিতু কি বাসায় আছে? সে তো জানিয়ে আসছে না!
ওকে দেখে মিতু যদি কথা না বলে উপেক্ষা করে?
এখনও সময় আছে ফিরে যাওয়ার, তবুও কেন জানি ফিরতে মন চাইল না। বুক পকেটে রাখা গল্পের কপিটা ডান হাতের মুঠোয় তালুবন্দি করে লিফটের বোতামে তর্জনী রাখল জাহিদ।
লিফটের দরজা খুলতেই সোজা দরজার সামনে দাঁড়ানো মিতু। দু’জনেই অবাক! মিতুর চোখে অপ্রত্যাশিতের ছায়া। কিন্তু শান্ত নির্লিপ্ততায় স্থির। কাকচক্ষুজলের মতো মিতুর চোখ জাহিদের মুখের ওপর থমকে আছে। শুধু ঠোঁট নড়ল,- তুই!
-আমি তোর কাছেই এসেছিলাম।
-আমার কাছে!
মিতুর অবাক হওয়া গোপন থাকে না। জাহিদ মনে মনে লজ্জ্বা পেল। সত্যিই তাহলে মিতু তাকে আর প্রত্যাশা করে না! জাহিদ প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে গেল। মিতু সামনে, ও পেছনে।
-থাক্ তাহলে, আমি আজ যাই। অন্য আর একদিন আসব।
চলে যেতে উদ্যত জাহিদকে দাঁড়াতে হল মিতুর ডাকে। আহ্বানে কোনো আন্তরিকতা নেই, তবে অগত্যা আছে।
-এসেই যখন পড়েছিস্, ঘরে আয়।
-বাইরে যাবি না? তুই নিশ্চয়ই কোনো কাজে বের হচ্ছিলি?
মিতু স্বাভাবিক কণ্ঠে উত্তর দিল,
-আমি বাইরে যাচ্ছিলাম তুই বুঝলি কিসে? আমি বাইরে কোথাও যাচ্ছিলাম না। যাচ্ছিলাম ছাদে।
আহ্ ছাদ! জাহিদের নীলাকাশ। কতদিন হয়ে গেল সে আসে না বলে তো নীলাকাশও দেখে না! এই ঢাকা শহরে মিতুদের ছাদ ছাড়া আর এমন উন্মুক্ত আকাশ কোথায়!
বসতে বসতে মিতু গ্রীবা বাঁকিয়ে জাহিদকে দেখল। কোনো কথা হল না।
অনতি দূরে সোফায় বসা নতমুখী মিতুর চুলের সিঁথিতে জাহিদের চোখ। মিতু এমন মেয়ে তাকে যে কোনো পোশাকেই মানিয়ে যায়। গ্রামীণ চেক সুতির সালোয়ার কামিজে ওকে উজ্জ্বল মনে হলেও বিষণœ দেখায়। মিতু কোনো কথা বলে না। ডান হাতের তালুতে বাম হাত রেখে উৎকর্ণ সে। ভাবছে, কেন এসেছে জাহিদ?
জাহিদ কী বলে কথা শুরু করবে ভেবে পাচ্ছে না। অন্ধকার ঘরের কোণে তার চোখ। এসব বাড়িগুলো এমনই যে দিনের বেলাতেও আলো জ্বালিয়ে রাখতে হয়। মাথার ওপর সুদৃশ্য ঝারবাতি। তথাপি আঁধার সরেনি। বড় নিরিবিলি মিতুদের ঘর। বোঝা যায় ওর বাবা-মা কেউই বাসায় নেই। এতদিন বাদে এলো সে, কই মিতু তো তেমন আরও ছড়াল না! এ অবস্থায় গল্পটা পড়ে শোনানোর ইচ্ছাটা প্রকাশ করা কি ঠিক হবে ওর!
ভালোবাসা তাহলে মরে যায়! কথাটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে জাহিদের।
মিতু কথা বলল যেন অনেক দূর থেকে।
-তারপর, কী মনে করে? চা খাবি? বস, আমি নিয়ে আসি।
বেল টিপলেই যেখানে একাধিক কাজের লোক হাজির হয় সেখানে মিতু চা আনতে গেল! ফাঁকা ঘরে একা বসে থেকে জাহিদের নিজেকে খাপ্পর মারতে ইচ্ছা হল। মুখের ভেতরটা তেঁতো তেঁতো লাগছে। মিতু কি অযথাই দেরি করছে না? চা হাতে মিতু এলো ধীর পায়ে। যত্ন করে বানানো চা নিজেই জাহিদের হাতে তুলে দিল। আগের মতোই। জাহিদ ভাবল, তবু যেন আগের মতো নয়।
চা খেতে খেতে আবারও দু’জনের কোনো কথা হয় না। মিতুই আবার শুরু করল,
-তা কী জন্য এসেছিস বললি না তো?
- এমনিই। তবে যা ভেবে এসেছিলাম সে ইচ্ছাটা এখন আর নেই। এখন ইচ্ছা হচ্ছে অন্যরকম।
মিতু জাহিদের কথা শুনে রাঙা হল।
জাহিদ উঠে দাঁড়াতেই সোফায় বসা যুবতীর শরীরে বাঁকানো ধনুকের ভঙ্গিমা। মিতু ভয় পেয়েছে! ত্রস্তে উঠে দাঁড়াল। জাহিদ বলল,
-মিতু, আমি কি ভুল করেছিলাম তোকে ভলোবেসে? তুই না বলেছিলি আমাকে কোনোদিন ভুলে যাবি না? কেন এমন করলি মিতু?
মিতু কোনো জবাব দেয় না। ড্রইংরুমের কার্পেটে ওর চোখ। পাথর শরীর তার নড়ে না।
আর কিছু না বলে দরজার দিকে পা বাড়ায় জাহিদ।
বুক পকেটের গল্পের কপিটা খচখচ করে ওঠল।
খোলা দরজা দিয়ে দেখা যায় ঘরের ভেতরে এখনও আগের জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মিতু। এবার তার চোখে চোখ পড়ল। অপলক। জাহিদের চোখ জলে ভরে ওঠে। সিঁড়ি ভাঙল জাহিদ। মিতু চোখের আড়াল হল ঢেউ ভাঙা জলের মতো।
না, সিনেমায় দেখা কোনো নায়িকার মতো মিতু দৌড়ে এসে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরল না তো!
সে কি এমনটা আশা করেছিল! তা হয়তো নয়। তবে মিতুই যেন তাকে শিখিয়ে দিল,
জীবনের পথ বড় কঠিন। একা চলার।
পেছনে মিতু। সামনে ভেঙে ভেঙে নিচের দিকে নেমে যাওয়া সিঁড়ি। পা হড়কালেই মৃত্যু অথবা ভঙ্গুর জীবন।
জাহিদ দীর্ঘ সিঁড়ি ভেঙে নেমে এলো একা।
কিন্তু কিছুতেই মনের আড়াল করা যাবে না মিতুকে। কেউ জানবে না। জানবে শুধু সে। একা।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন লিখি বুদ্ধদেব বসু ও আবু সয়ীদ আইয়ুবের দর্শন by রাজীব সরকার
বর্তমান আলোচনায় যৌক্তিক কারণেই স্মরণ করতে হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের দুই কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব বুদ্ধদেব বসু ও আবু সয়ীদ আইয়ুবকে। সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের বক্তব্য এযুগেও প্রাসঙ্গিক। তাদের বক্তব্য তথা জীবনদর্শন গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে এ দুই লেখকের সমকক্ষতা কেউ অর্জন করতে পারেননি।
কলাকৈবল্যবাদের পক্ষে বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বুদ্ধদেব বসু। তিনি মনে করেন সাহিত্য-শিল্পকলার কোনো সামাজিক উপযোগিতা থাকতে পারে না। সমাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে আধুনিককালের শিল্পীর। যে কোনো মহৎ শিল্পীর অন্তিম পরিণতি স্বেচ্ছা নির্বাসন। শার্ল বোদলেয়ার : তার কবিতার ভূীমকায় বুদ্ধদেব লেখেন :
‘যে মধ্য-উনিশ শতকে ইংল্যান্ডে উপযোগবাদের অভ্যুদয় হল, সেই সময়ে বোদলেয়ার ঘোষণা করেন যে, কবি কোনো ‘কাজে লাগেন’ না, যে বায়রনি বিদ্রোহের দিন গত হয়েছে, পূর্ণ হয়েছে সমাজের সঙ্গে কবির বিচ্ছেদ, প্রতিবাদ করলেও প্রতিবাদের পাত্রকে স্বীকার করে নিতে হয়, অতএব, একমাত্র যা সহনীয় ও সম্ভব তা উপেক্ষা ও স্বেচ্ছাবৃত্ত নির্বাসন।
গত শতকের তিরিশের দশক থেকে মার্কসবাদী চেতনা প্রবল হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যে। প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক এ লেখক-সমালোচকদের দৃষ্টিতে কলাকৈবল্যবাদ জীবন থেকে পলায়নের নামান্তর। এ বক্তব্যের জবাবে বুদ্ধদেব রচনা করেন ‘পলায়ন’ নামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রবন্ধ। প্রবন্ধের শুরুতেই তিনি জানান যে, তার বক্তব্য প্রতিপক্ষের প্রগতিশীল বন্ধুদের কাছে ‘পলায়নী মনোবৃত্তি’র পরিচায়ক। রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু কবিতা লিখলেই যদি পলায়নবাদীর কলংক ঘুচে যায় তবে সে চেষ্টা তার পক্ষে অসম্ভব নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি ভরসা পান না কারণ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের ওপরও এ অপবাদ বর্ষিত হয় যিনি রাজনৈতিক রচনার অতুলনীয় ভাণ্ডার।
যারা বুদ্ধদেব ও তার সাহিত্যিক সহযাত্রীদের পলায়নবাদী বলেছেন, তাদের বুদ্ধদেব অশ্রদ্ধা করেননি। তার মতে তারা বিদ্বান ও কৃতী ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু সাহিত্যবিচার তাদের এলাকা নয়। তাদের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তারা সাহিত্যের বিষয়বস্তু মাত্র বিবেচনা করেন, শিল্পকর্ম হিসেবে তাকে দেখেন না। তাদের লক্ষ্য মহৎ হতে পারে কিন্তু সাহিত্য বা শিল্পকর্ম দ্বারা সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে এমন ধারণা ভুল। বোঝা শক্ত নয় যে, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও লেখকদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন বুদ্ধদেব বসু। তাদের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ :
‘তারা চান আমাদের দিয়ে তাদের কথা বলাতে, সাহিত্যকে প্রত্যক্ষভাবে সামাজিক লক্ষ্য সাধনের অস্ত্র করে তুলতে; কিন্তু এ উপায়ে তাদের উদ্দেশ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার কোনো আশা নেই, অথচ সাহিত্যের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। সেসব লেখারই তারা খুব বেশি তারিফ করেন, যেগুলো গল্পচ্ছলে প্রপাগাণ্ডা কিংবা কবিতার আকারে তত্ত্বকথা, তার মূল্য নেই বলি না, সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়েরও মূল্য আছে, তবে সে মূল্য সাহিত্যিক নয়। এসব যারা লেখেন আশা করি তারা সামাজিক লক্ষ্য সাধনের আগ্রহে দিন রাত জ্বলছেন, কিন্তু তাই যদি হয়, গল্প কবিতা লিখে যে কিছুই হবে না তা তারা নিশ্চয়ই জানেন, কী করলে হতে পারে তাও জানেন, তবে সে কাজ না করে খামখা কালি-কাগজ খরচ করেন কেন? তাহলে বলতে হয় যে, কর্মক্ষেত্রে নামার শক্তি কি ইচ্ছা তাদের নেই, সেজন্য অতি কঠোর ভীষণ কর্মছাড়া যা কখনোই সাধিত হতে পারে না, গরম গরম কিছু লিখলেই তা যেন হয়ে যাবে, এ রকম একটা ভালো তারা সর্বদাই করে থাকেন। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্র থেকে পালিয়ে তারা আশ্রয় নেন সাহিত্যের নিরাপদ প্রঙ্গণে- সে হিসেবে এস্কেপিস্ট যদি কোনো কিছুকে বলা যায় তো তাদের প্রপাগাণ্ডিক রচনাকেই। অন্তত শিল্প রচনায় কলাকৌশলের কঠিন সংযম থেকে তারা যে প্রায়ই পলাতক তাতে সন্দেহ নেই।’
বুদ্ধদেবের তীক্ষ্ণ যুক্তি ও আকর্ষণীয় গদ্যশৈলী প্রতিপক্ষকে সহজেই কাবু করতে সক্ষম এমন উদাহরণ অগণিত। এ ক্ষেত্রেও তিনি ব্যতিক্রম নন।
‘রাজনীতিবিমুখ বলে বুদ্ধদেবের পরিচিতি রয়েছে। একাধিক লেখায় তিনি বলেছেন যে, রাজনীতি কখনোই তার আগ্রহের বিষয় ছিল না। এর মানে এই নয় যে, তিনি জীবনবিমুখ। ‘সভ্যতা ও ফ্যাসিজম’ নামে একটি অবিস্মরণীয় ও মানবতাবাদী প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, অসুন্দর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবি-শিল্পীরা সহজাত গুণেই রুখে দাঁড়াবে। এর মধ্যে রাজনীতির কোনো দৃঢ়তত্ত্ব নেই। মনুষ্যত্বের, কবি চরিত্রের এটি ন্যূনতম দাবি। এটি বর্বরতার বিরুদ্ধাচরণ মাত্র, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগাযোগ নেই। সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর চূড়ান্ত অবস্থান বোঝা যায় ‘পলায়ন’ প্রবন্ধের শেষাংশে :
‘আমি যদি আমার রচনায় ধনতন্ত্রের কালান্তক মূর্তির বর্ণনা করি তাহলেই যেমন লাফিয়ে উঠবার কিছু নেই, তেমনি যদি প্রিয়ার আঁখির বন্দনা করি তাতেও হতাশ হওয়ার কারণ দেখি না। যে কোনো অবস্থায়, যে কোনো দুরবস্থায়, উভয় বস্তুই কাব্যের বিষয় হতে পারে এবং উভয়ক্ষেত্রেই শুধু এটুকু বিচার করতে হবে যে, রচনাটা যথার্থ সাহিত্য হয়েছে কি না। শিল্পকলার মূল্য তার নিজেরই মধ্যে, অন্য কোনো উপলক্ষ কি উদ্দেশ্য থেকে ধার করা নয়, এ কথা ভুলে যাওয়া আর মূলগত মূল্যবোধ হারানো একই কথা।’
আবু সয়ীদ আইয়ুবের দৃষ্টিভঙ্গি বুদ্ধদেব বসুর মতো অনমনীয় নয়। সাহিত্যের চরম ও উপকরণ মূল্য প্রবন্ধে তিনি স্বীকার করেছেন :
‘নির্জনতা-বিলাসী শিল্পীর দিন গিয়েছে। পুণ্যোদক নির্ঝরিণীর তীরে স্নিগ্ধছায় তরুতলে বসে মন্দাক্রান্তা ছন্দে বিরহগাথা রচনা করে আধিক্ষামা বলিব্যাকুলা দয়িতার উদ্দেশে পাঠানো এ যুগের কবির কাজ নয়। পুরাতন সমাজের পাড় ভাঙছে একদিকে, নতুন সমাজের পলি জমছে আর একদিকে। এই ভাঙাগড়ার মহাযজ্ঞশালায় ডাক পড়েছে সমস্ত শিল্পীর।... সমাজ জীবনের ভাঙাগড়ার মাঝখান দিয়ে চলেছে ইতিহাসের যে ধারা, কোনো শিল্পী যদি তার সৃষ্টিক্ষেত্রকে তার তরঙ্গাঘাত থেকে সযত্নে বাঁচিয়ে রাখেন তবে তার উর্বরতা যাবে নষ্ট হয়ে, তা আর শস্যশ্যামল থাকবে না, হবে ধূসর ভূমি- আধুনিক কৃষ্টিতে যে মরুভূীম দেখতে পেয়ে বিলাপ করেছেন এলিয়ট তার ক্ষুদ্রকায় মহাকাব্যে।’
নিজের এ বক্তব্যে বেশিদিন আস্থাবান থাকতে পারেননি তিনি। কারণ এক প্রবল রাজনৈতিক ধারা সাহিত্যকে আপন ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে টেনে আত্মসাৎ করতে উদ্যত, যেভাবে মধ্যযুগে ধর্ম আত্মসাৎ করেছিল শিল্প-সাহিত্য-দর্শন ও বিজ্ঞানের স্বতন্ত্র বিকাশকে। যে কোনো বিবেকবান শিল্পীর মতো আইয়ুব এ আত্মসাৎ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন। সেই প্রচল রাজনৈতিক ধারা বা মার্কসবাদী চেতনাকে তিনি তাচ্ছিল্য করেননি। সেই চেতনা যদি বলে, সমাজের চরম সংকটকালে লেখক নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না, ধনী-নির্ধনের চূড়ান্ত দ্বন্দ্বের সময় লেখককেও নির্ধনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতে হবে তবে সেই চেতনার আহ্বানে সাড়া দিতে আইয়ুব প্রস্তুত। কিন্তু সেই চেতনার প্রবক্তারা মনে করেন, সেই চেতনাপুষ্ট সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ সাহিত্য। তার অভিযোগ সাহিত্যিকের সমাজচেতনা প্রবন্ধে :
‘আমাদের বিপ্লবী নেতারা সরাসরিভাবে বলে বসলেন যে, এই সাহিত্যই সেরা সাহিত্য, একমাত্র সাহিত্য, অন্য যে কোনো প্রকারের সাহিত্য অগ্রাহ্য, অসহ্য। যদি তারা এ যুগের সবচেয়ে প্রাগ্রসর রাজনৈতিক আদর্শ ও ভাবধারার সঙ্গে সাহিত্যিকের পরিচয় ঘটিয়ে এবং তার প্রতি তাদের সহানুভূতি আকর্ষণ করেই ক্ষান্ত হতেন, এই নতুন মতাদর্শকে শিল্পকর্মে রূপায়িত করার ভার শিল্পীদের ওপরই ছেড়ে দিতেন, তা হলেও নালিশের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু শিল্পী-সাহিত্যের কাছে তারা দাবি করলেন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং আত্মবিলোপ।
স্বভাবতই শিল্পীর এ আত্মবিলোপের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন আইয়ুব। আত্মবিলোপ আত্মহত্যারই নামান্তর। তিনি এক্ষেত্রে সচেতন যে কোনো সাহিত্যিক যদি প্রগতির প্রকৃত আদর্শ গ্রহণ করে থাকেন এবং সেই আদর্শ যদি তার মনের ভেতর সাড়া জাগায়, তবে সেই আদর্শে তার সাহিত্যসম্ভার সমৃদ্ধ হবে। সাহিত্যিকের পক্ষে সুস্থ রাজনৈতিক চেতনার স্পর্শ বাঁচিয়ে চলার পরিণাম আপন সাহিত্যি সৃষ্টিকে ক্ষীণ শৌখিন করে তোলা। কারণ শিল্পী সাহিত্যিকের মন হচ্ছে সমাজের সূক্ষœতম বীণাতন্ত্র। সমাজের সংকটের আওয়াজ সর্বাগ্রে ধ্বনিত হবে সেই বীণার তারে এবং তার ঝংকার সাড়া জাগবে দেশজোড়া মানুষের চিত্তে। আইয়ুব মনে করেন দুঃখ থেকে পরিত্রাণের পথ শিল্পীকেই সবার আগে দেখাতে হবে। সমাজসেবী ও সাহিত্যসেবীর সহযোগ অবাঞ্ছিত নয়। তবে তা যেন রাষ্ট্রনেতার কাছে সাহিত্যিকের আÍবিলোপ না হয়। শিল্পীর স্বাধীন মনকে উপেক্ষা করে সামষ্টিক কল্যাণের জন্য বহিরাগত নির্দেশ, সাহিত্য সমালোচনাকে দলীয় অনুজ্ঞায় পরিণত করার প্রয়াস অবশ্যই নিন্দনীয়।
আইয়ুব বিশ্বাস করেন যে, শিল্পসৃষ্টি বা সত্যসন্ধানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বরূপের উন্মোচন একান্ত অপরিহার্য। এটি মোটেও ব্যক্তিসর্বস্বতা নয়। এদের বৈচিত্র্য ও স্বাতন্ত্রই সমষ্টির জীবনকে সমৃদ্ধ করবে, সে জীবনপ্রবাহে বেগ সঞ্জার করবে। এ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনি রবীন্দ্রনাথের ‘রাশিয়ার চিঠি’তে। কবিগুরুর উপলব্ধি :
‘সমষ্টির খাতিরে ব্যষ্টির প্রতি পীড়নে এরা কোনো বাধাই মানতে চায় না। ভুলে যায় ব্যষ্টিকে দুর্বল করে সমষ্টিকে সবল করা যায় না; ব্যষ্টি যদি শৃঙ্খলিত হয় তবে সমষ্টি স্বাধীন হতে পারে না।’
বুদ্ধদেব বসুর মতো আবু সয়ীদ আইয়ুবের ‘মার্কসবাদবিরোধী’ পরিচিতি নেই। বুদ্ধদেবের বাক্যবাণে মার্কসবাদী চেনতা যেভাবে আহত হয়েছে এর নজির আইয়ুবের রচনায় নেই। বুদ্ধদেবের মতো সমকালীন সাহিত্য আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠাদানের কোনো দায় আইয়ুবের ছিল না। তাই বুদ্ধদেবের তুলনায় আইয়ুবের বক্তব্য অধিকতর নির্মোহ ও যুক্তিপ্রভাবিত। মার্কসবাদী সাহিত্য আন্দোলন যে সাহিত্য বিষয়ের সীমানা প্রসারিত করেছে এ বিষয়ে আইয়ুব সচেতন ছিলেন। তাই মার্কসবাদী সাহিত্যবীক্ষাকে প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে তিনি কুণ্ঠিত নন :
‘সমাজের বৃহত্তর অংশ- যাদের ছোটোলোক বলে এতদিন উপেক্ষা করা হয়েছে- আজ তারা সাহিত্যে যেটুকু স্থান পাচ্ছে তার জন্য প্রধানত মার্কসবাদী প্রচেষ্টাই দায়ী। মার্কসবাদীদের আর একটি করণীয় কৃতিত্ব ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের নিবিড় সম্পর্ককে সাহিত্যিকের চোখে প্রত্যক্ষ করে তোলা। এর ফলে আমাদের সাহিত্যের, বিশেষত কথাসাহিত্যের মেরুদণ্ড শক্ত হয়েছে। মার্কসবাদী সাহিত্যনীতির সঙ্গে আমাদের অনেকের অল্পবিস্তর মতভেদ আছে। মতভেদ আছে বলে আমরা যেন ভুলে না যাই যে তারা সাহিত্যে এক নূতন সমাজচেতনা এনেছেন এবং প্রর্বতন সমাজচেতনাকে দৃঢ় ও প্রশস্ত করেছেন। এই সমাজচেতনার সাহিত্যিক ও সামাজিক মূল্য স্থায়ী।’
মার্কসবাদী সাহিত্যচেতনা তথা সাহিত্যিকের রাজনৈতিক চেতনার প্রতি আইয়ুবের মতো সমর্থন বুদ্ধদেব বসুর কোনো রচনায় পাওয়া যায় না। লেখালেখির দায় সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন, বাংলা সাহিত্যের প্রতি যে দু’জনই দায়িত্ববান ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সমাজের প্রতি তারা কতটুকু দায়বদ্ধ ছিলেন সেই বিতর্কে না গিয়ে সাহিত্যের প্রতি যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় তারা দিয়েছেন তা স্মরণ করা লেখক মাত্রেরই অবশ্য কর্তব্য।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়াকে ক্রিমিয়া ছাড়তে বলল ন্যাটো
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইএসের হত্যাযজ্ঞ থেকে যেভাবে বাঁচলেন তিনি
![]() |
| আলী হুসেইন কাদিম |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাওয়াহিরি: আল কায়েদার পুরোনো তাত্ত্বিক গুরু
![]() |
| জাওয়াহিরি: আল কায়েদার পুরোনো তাত্ত্বিক গুরু |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে ভারি বর্ষণ আন্দোলনে ঢিমেতাল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ন্যাটো ঐক্যবদ্ধ, রাশিয়া একা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাঝ সাগরে দীপিকা-রণবীরের চুমো

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাইকেলে ফরাজীর হজে যাত্রা by মাসুদ আহমেদ

মুক্তিযোদ্ধা জাফর ফরাজির প্রাথমিক ইচ্ছা ছিল বাইসাইকেল চড়ে পাকিস্তান হয়ে সৌদি আরব পৌঁছা। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দু’বার ডিও লেটার নিয়ে পাকিস্তান দূতাবাসে জমা দিলেও ভিসা হয়নি তার। তার অভিযোগ, ডিও লেটারে লেখা ছিল ফ্রিডম ফাইটার। এখন প্রতিবাদ হিসেবে বাইসাইকেল চালিয়ে বাংলাদেশের সব জেলা ঘুরছেন আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রেস ক্লাবের সামনে একা দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন।
মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব কমলাপুর গ্রামে জাফর ফরাজীর মূল বাড়ি। সাইকেলে চড়ে সিলেট হয়ে মৌলভীবাজারে আসেন গত রোববার ৩১শে আগস্ট রাতে। তিনি জানান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর নিজে দর্জি পেশায় আবার নিয়োজিত হন। ছেলেমেয়ে সংসার নিয়ে ভালই ছিলেন। ২০০৮ সালে তার মধ্যে সমাজ সেবার ইচ্ছা জাগে। এরপর থেকে এলাকায় সেবামূলক নানা কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে সমাজ সেবায় ব্যয় করেন। জাফর ফরাজীর ৫ সন্তান। ২ কন্যা ৩ পুত্র। কন্যাদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন ২ ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক। থাকেন নারায়ণগঞ্জে। এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সমাজসেবা করে নিঃস্ব হলে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভাল চোখে দেখেনি তার কর্মকাণ্ড। তারপরও এই পথ ছাড়তে পারেননি। তাই রানা প্লাজা ধসের সংবাদ পেয়ে ছুটে যান সেখানে। অংশগ্রহণ করেন উদ্ধার কাজে। ওই সময় বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামও হন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা জাফর ফরাজী জানালেন, ইতিমধ্যে তিনি ৪২টি জেলা সাইকেলে চড়ে ভ্রমণ করেছেন। জেলার প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে পাকিস্তানবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন। মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করেছেন। কথা বলা সময় ফরাজী আরও জানান, ’৭১ সালে তিনি ছিলেন একজন রিকশচালক। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে ৪নং সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে নিজের এলাকায় দর্জির দোকান করেন। কিন্তু সমাজসেবার ভূত মাথায় চাপায় সব বিক্রি করে হন নিঃস্ব। গতকাল এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে দুঃখ করে বলেন, দোকান বিক্রি করে বোকামি হয়েছে। তারপর ছেলেমেয়েরা এখন নিজেদের মতো দাঁড়িয়েছে। পেছনে তাকাতে চান না। জানালেন ২০১৩ সালে সিদ্ধান্ত নেন সাইকেলে ভ্রমণ করে পাকিস্তান হয়ে ইরাকে যাবেন বড় পীর আবদুল কাদির জিলানীর (রহ:) মাজার জেয়ারত করতে। এরপর সৌদি আরব যাবেন হজ পালন করতে। এর আগে তিনি একবার ভারতে আজমির শরিফ খাজা মঈন উদ্দিন চিশতির (রহ:) মাজারে যান। বর্তমানে পাকিস্তান দূতাবাস তাকে ভিসা না দেয়ায় নিজ দেশে ভ্রমণ
শুরু করেছেন। দেশ ভ্রমণ শেষ করে ভারত-চীন-আফগানিস্তান-ইরান-ইরাক হয়ে সৌদি আরব পৌঁছে হজ পালন করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানান, পাকিস্তান হয়ে যেতে পারলে সহজ
হতো। এখন কষ্ট বেশি হবে। ইতিমধ্যে ভারত ও ইরানের ভিসা মিলেছে। বাকি ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নিজের সঙ্গে সব সময় কাপনের কাপড় রাখেন পথে মৃত্যু হলে যেন সেই কাপনে মুড়িয়ে দাফন করা যায় তাকে। তিনি জানালেন, প্রথমে তার এই কাজে পরিবারের সাড়া না থাকলেও এখন ছেলেরা টাকা পাঠায়, সাইকেল কিনে দেয়। বাকি জীবন এই বাইসাইকেলে চড়েই পার করে দিতে চান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বে ১০ জনে একজন তরুণী যৌন নির্যাতনের শিকার

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ কে খন্দকারের বই নিয়ে সংসদে হইচই শাস্তি দাবি

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসনে আমু বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, একাত্তর নয়, ১৯৪৭ সাল থেকেই দেশকে স্বাধীন করতে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়। ধাপে ধাপে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন এবং একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। এ কে খন্দকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কাউকে ছোট করে কেউ বড় হতে পারে না। তারা বঙ্গবন্ধুকে টানাটানি করছেন না, তারা স্বাধীনতা ও বাঙালি জাতির অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি করছেন। জাতির ওপর আঘাত করার জন্যই পরিকল্পিত এ ধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রগুলো কোন ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। এই অপশক্তিই ১৫ই আগস্ট ঘটিয়েছিল, ২১শে আগস্ট ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তোফায়েল আহমেদ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ বলেই শেষ করেছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণের দিন আমরা মঞ্চেই ছিলাম। আমরা মঞ্চে থেকে জানলাম না, অথচ একে খন্দকার সাহেব তার লেখায় বললেন বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শেষে নাকি ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন! এটা উনি কোথায় পেলেন? ’৫২ সাল থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত এ কে খন্দকার পাকিস্তানে ছিলেন। এ দেশে কি হয়েছে তা তিনি জানতেন না। এই এ কে খন্দকারই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রেডিও স্টেশনে গিয়ে খুনি মোশ্তাককে সমর্থন দিয়েছিলেন। উনার (এ কে খন্দকার) লেখায় রয়েছে, আমাদের যুদ্ধের নাকি প্রস্তুতি ছিল না! তবে কি হাওয়ার ওপর দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে? বাস্তবতা হচ্ছে ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিকে পরিণত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধের সব নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় কোথায় থেকে অস্ত্র আসবে, নেতারা কোথায় থাকবেন- সেটিও আগেই বলে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ৬ দফা না দিলে আগরতলা মামলা হতো না, মামলা না হলে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেতেন না, ’৭০-এর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। মেজর সিদ্দিক সালেকের ‘উইটনেস অব সারেন্ডার’ বইটি পড়ার জন্য এ কে খন্দকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এসব লিখে অন্যদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয়। এ কে খন্দকার কেন বইটি লিখেছেন, কোন সময়টা বেছে নিয়েছেন- তা আমি জানি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সবারই সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা উচিত।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, কে কি লিখলো সেটা বাংলাদেশের ইতিহাস নয়। ২৫শে মার্চের পর বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কারও ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেনি। ৭ মার্চের ভাষণেই বঙ্গবন্ধু পরিষ্কারভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘জয় পাকিস্তান’ কোথায় পেয়েছেন এ কে খন্দকারকে প্রমাণ করতে হবে। বিকৃত ইতিহাস কার স্বার্থে করা হচ্ছে? এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে নতুন করে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কোন প্রতিবাদ না করে খুনি মোশ্তাকের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এরশাদেরও মন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার মন্ত্রী চলে যাওয়ায় ‘ব্যর্থ প্রেমিকের আর্তনাদ’ প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বইয়ে। তিনি বলেন, একাত্তরে দু’ধরনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এক পক্ষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে, অপর পক্ষ পাকিস্তানের এজেন্ট হয়ে। এই ধরনের বিকৃত লেখা লিখে এ কে খন্দকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আইএসআই-এর টাকা খেয়ে লিখেছেন কিনা জানি না, কিন্তু কারও প্ররোচনায় কিংবা কোন এজেন্সির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে এ ধরনের লেখা তিনি লিখেছেন। অবিলম্বে এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকৃত ইতিহাস সংবলিত তার লেখা বইটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, কোন মহলের প্ররোচনায় ইতিহাসের তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করা হচ্ছে। আমি একাত্তরের ২৪শে মার্চ চট্টগ্রামে যুদ্ধ শুরু করেছি। সেদিন জিয়াউর রহমান সেই যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশকে ১০ সেক্টরে ভাগ করা হয় ১০ই এপ্রিলে, তার আগে নয়। এ কে খন্দকার সাহেব বলেছেন, পাকিস্তানিরা নাকি তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কখনওই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল না। তিনি সব সরকারের আমলে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।
তিনিও প্রশ্ন রেখে বলেন, হঠাৎ করেই কিভাবে এ কে খন্দকার ৭ই মার্চের ভাষণে কোথায় পেলেন ‘জয় পাকিস্তান’? এতদিন না বলে এখন কেন বলছেন, এর পেছনে রহস্য রয়েছে। আমি তাঁর এই লেখার নিন্দা করি। আমরা সবার আগে যুদ্ধ করেছি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে। কোন সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। পৃথিবীর কোন দেশ জনগণের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া স্বাধীন হয়নি, বাংলাদেশও নয়। কারও প্ররোচনায় কিংবা অন্য কোন নির্দেশে এ কে খন্দকার বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, এ ধরনের বিকৃত ইতিহাস সংবলিত বইটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করুন।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, যিনি জাতীয় পার্টির মন্ত্রী ছিলেন, মাত্র ক’দিন আগে আওয়ামী লীগেরও মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা খুনি মোশ্তাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন, তাদের একজন এ কে খন্দকার সাহেব। স্বাধীনতার এত বছর পর তিনি মিথ্যা ইতিহাস লিখে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। ‘জয় পাকিস্তান’ উনি কোথায় পেলেন? এ সমস্ত কুলাঙ্গাররা বিকৃত বই লিখে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।
এ কে খন্দকারের কঠোর সমালোচনা করে জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বাংলাদেশে প্রবাদ আছে বাংলাদেশে উপকার করলে গালি খেতে হয়। উনি সমস্ত সুবিধা নিলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালে কোন ফোরামে এ ব্যাপারে সামান্য কথা বলেননি কেন? সংবিধান লংঘন করা যদি অপরাধ হয়, তবে সেই অপরাধ করেছেন এ কে খন্দকার। এ ধরনের অপরাধ তার পক্ষ থেকে বাঞ্ছনীয় নয়। তিন হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখনওই স্বাধীন ছিল না। অতিরিক্ত বয়সে মানুষের সমস্যা হয়। যারা বই লেখেন কেউই সংবিধান লঙ্ঘন করবেন না, করলে জাতি ক্ষমা করবে না।
আলোচনার সূত্রপাত করে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এ কে খন্দকার যে তথ্য দিয়েছেন তার বেশির ভাগই সঠিক হলেও বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও রয়েছে। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান জয় বাংলা বলেই বক্তৃতা শেষ করেছিলেন। এটা সবাই জানে। এই ইতিহাস যারা বিকৃত করতে চায়, তাদের ধিক্কার জানাই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইকবাল’-এর বোন মধুচক্রে, হতবাক ফিল্মি দুনিয়া
কাট... ২০১৪। হায়দরাবাদের বানজারা হিলসের একটি নামিদামি হোটেলের মধুচক্রের আসর থেকে পুলিশ টেনে বার করছে সেই মেয়েটিকেই!
‘মর্দানি’ ছবিতে শিবানী শিবাজী রায়-রূপী রানি মুখোপাধ্যায় যখন নারীপাচারকারীদের ধোলাই দিয়ে নিষিদ্ধপল্লি থেকে মেয়েদের উদ্ধার করে সারা দেশের প্রশংসা কুড়োচ্ছেন, তখন রবিবার মধুচক্রের আসর থেকে বছর তেইশের শ্বেতা বসু প্রসাদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় হতবাক চলচ্চিত্র মহল।
যেমন ‘মাকড়ি’র সহ-প্রযোজক সঞ্জয় রৌত্রে। তিনি বলেন, “খবরটা শুনে আমি সারা দিন অফিসে কাজ করতে পারিনি। মনে পড়ছে বিশাল ভরদ্বাজের ‘বরফ’ বলে একটা ছবিতে অডিশন দিয়েছিল ও। ছবিটা তখন হয়নি। কিন্তু কী প্রতিভা ছিল ওর মধ্যে! সেই দেখেই তো আমরা মাকড়ি ছবিতে ওকে নিয়েছিলাম।”
খবরটা শুনে বিশ্বাস করতে পারছেন না টলিউডের পরিচালক সৌমিক চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর পরিচালিত ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল শ্বেতার। তবে শেষ পর্যন্ত শ্বেতার বদলে চরিত্রটি করেন শ্রাবন্তী। সৌমিক বলেন, “এত ভাল অভিনয় করেছিল ‘মাকড়ি’তে। শুনেছিলাম জামশেদপুরের মেয়ে। আমার ছবিটার জন্য দু’-এক দিন ওয়র্কশপও করেছিল। খবরটা পেয়ে আমি স্তম্ভিত!”
কিন্তু ‘ইকবাল’ (২০০৫) ছবিতে মূক ও বধির দাদা ইকবালকে ক্রিকেটার হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল যে খাদিজা (শ্বেতা অভিনীত চরিত্র), তার এমন পরিণতি কেন? পয়সার জন্য কবুল করছেন বড় ও ছোট পর্দার এই পরিচিত মুখ। আদালতের নির্দেশে সোমবার থেকে যাঁর ঠিকানা নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের হোম। বাঙালি মায়ের মেয়ে শ্বেতা বলেন, “পরিবারকে সাহায্য করার জন্য এবং আরও নানা কারণে আমার টাকার দরকার ছিল। আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। বেশ কিছু মানুষ টাকা রোজগারের জন্য দেহব্যবসায় নামতে উৎসাহ জুগিয়েছিল। আর কোনও উপায় না দেখে আমি এই পেশায় জড়িয়ে পড়ি।”
শ্বেতা টাকার প্রয়োজনের কথা বললেও সঞ্জয়ের দাবি, দু’বছর আগে তাঁর সঙ্গে মুম্বইয়ের এক মল-এ দেখা হয় শ্বেতার। “ওর মা ছিল সঙ্গে। আমাকে বলেছিল যে, তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভাল কাজ করেছে। অনেক টাকাও রোজগার করছে,” বলছেন সঞ্জয়।
তা হলে কী এমন ঘটল যে, এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন ইকবালের বোন! সঞ্জয় জানাচ্ছেন, শেষ বার যখন তাঁর সঙ্গে শ্বেতার দেখা হয়, তখন ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ করেন তিনি। বলেন, “আমি তো ওকে বাচ্চা বয়সে দেখেছি। নিজের মেয়ের মতো। হঠাৎ এমন খোলামেলা পোশাক পরে ওকে দেখে একটু অদ্ভুত লেগেছিল। তবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, যে ও এ রকম কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে যাবে!”
গ্রেফতারের পরে শ্বেতা দাবি করেছেন, অন্য অনেক অভিনেত্রীই নাকি এই রকম চক্রের সঙ্গে জড়িত। তথ্যও বলছে, শুধু তেলুগু ইন্ডাস্ট্রি থেকেই এর আগে আরও সাত অভিনেত্রীর নামে একই অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি অবশ্য মানতে নারাজ পরিচালক অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কাউকে কোনও কিছুর জন্য চাপ দিতে পারে না। কেউ কেউ বিখ্যাত হওয়ার জন্য এবং চটজলদি টাকা রোজগারের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। এই মরিয়া ভাবটা এখন আমি অনেকের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। শুধু চলচ্চিত্র নয় অন্যান্য জগতেও এটা আছে।”
শ্বেতার পাশাপাশি ওই হোটেল থেকে মধুচক্রের আয়োজক আনজানেইয়েলু ওরফে বালু এবং কিছু ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেক খরিদ্দারের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন বালু। তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
হোমে পাঠানোর আগে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে শ্বেতার। হোমের অন্য আবাসিকরাই অভিনেত্রীকে খাবার, কাপড় দিয়ে সাহায্য করছেন। কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে শ্বেতাকে। মাস তিনেক হোমে থাকতে হতে পারে তাঁকে।
এখন শ্বেতার বাড়ি সরকারি হোম হলেও এক সময় তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন শিশু চরিত্র হিসেবে ‘কহানি ঘর ঘর কি’ ধারাবাহিকে ‘পার্বতী’ ও ‘ওম’-এর মেয়ে ‘শ্রুতি’র ভূমিকায় অভিনয় করে। ‘ইকবাল’ ছবির জন্য পঞ্চম করাচি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পান সেরা সহ অভিনেত্রীর পুরস্কার। এ ছাড়াও তিনি কাজ করেছেন ‘ওয়াহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি’, ‘ডরনা জরুরি হ্যায়’ নামে দু’টি হিন্দি এবং একটি তেলুগু ছবিতেও। ২০০৯ সালে বাংলা ছবি ‘একটি নদীর গল্প’-তেও কাজ করেন তিনি। ছবিটা মুক্তি পায়নি।
শিশুশিল্পীদের অনেকেই বড় বয়সে তারকা হয়ে উঠতে পারেন না। তার চাপ না-নিতে পেরেই কি এই পথে চলে গিয়েছিলেন শ্বেতা? আপাতত ১৫টি ছবি করেছেন ‘চিনি কম’-এর সুইনি খেরা। সঙ্গে ২০টি বিজ্ঞাপন। শ্বেতার খবরটি শুনে সুইনির বাবা নিমেষ খেরা বলেছেন, “মেয়ের ওপর সে রকম কোনও চাপ আমরা দিইনি। তবে, অনেক বাবা-মা খুব চাপ দেন। জনপ্রিয় হতে হবে, রোজগার করতে হবে বাচ্চারাও সেই মোহে ছুটতে থাকে।” এই মোহই কি শ্বেতাকে ঠেলে দিল এই অন্ধকার গলিতে?
ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটা।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সামরিক হুমকির মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছেন ওবামা
সাক্ষাৎকারটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল। অনুবাদ : রাসেল পারভেজ
মালব্র“নট : মি. প্রেসিডেন্ট, মার্কিন ও ফরাসিরা অভিযোগ করছে- আপনার নির্দেশে ২১ আগস্টে ঘৌটায় রাসায়নিক হামলা হয়েছে যাতে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আপনার কাছে এমন কি তথ্য আছে যা প্রমাণ করে আপনার সামরিক বাহিনীÑ এ হামলা চালায়নি?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : প্রথমত, যারা এ ধরনের অভিযোগ করছে তাদের ওপরই দায়িত্ব বর্তায় অভিযোগ প্রমাণের তথ্য-উপাত্ত হাজির করা। আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি তাদের এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ও বৈধ প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এরপর যখন থেকে তারা তাদের জনগণের স্বার্থের দোহাই দেয়া শুরু করেছে তখন আমরা তাদের জনমত যাচাইয়ের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছি এবং এক্ষেত্রেও তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে হামলা চালানোর যৌক্তিকতা কোথায়? আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি দুই বছরের সংকটের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক এক বছর আগের তুলনায় অনেক ভালো। তাহলে কেন সামরিক বাহিনী ঢাকঢোল পিটিয়ে গণহত্যা চালাতে যাবে?
আমি নিশ্চিত ও করছি না আবারও উড়িয়েও দিচ্ছি না যে, আমাদের এ ধরনের অস্ত্র আছে কি না। এটি আলোচনার বিষয় নয়। যুক্তির খাতিরে বলছি, সামরিক বাহিনীর যদি এ ধরনের অস্ত্র থেকেই থাকে এবং তারা যদি তা প্রয়োগ করতে চাই তাহলে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য সেখানে তাদের অসংখ্য সেনা মোতায়েন রয়েছে ঠিক সে এলাকায় তারা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে? এর মধ্যে কোনো যুক্তি আছে কি? অধিকন্তু এও কি গ্রহণযোগ্য। জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ করা হল কিন্তু হাজার হাজার মানুষ মরল না, বাতাসে ছড়িয়ে, যা ঘটার কথা ছিল?
মালব্র“নট : সিরীয় সেনারা কোথায় অস্ত্রের মুখে পড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : ও হ্যাঁ, দামেস্কের উপকণ্ঠে ‘বাহারিয়া’ এলাকায়। জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল তাদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছে।
মালব্র“নট : অনেকেই বলছে, ওই এলাকায় সামরিক বাহিনী অগ্রসর হয়েছিল এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিদ্রোহীরা দখল নেয়ার চেষ্টা করছিল। আপনি তাদের হটানোর উপায় খুঁজছিলেন।
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : আবারও বলছি, ওই এলাকাটি আবাসিক এলাকা। সেখানে রাসায়নিক হামলা হলে হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। এ ধরনের সব অভিযোগ ছাইপাস দিয়ে ঠাঁসা। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের দ্বারা ইন্টারনেটে প্রকাশিত অসত্য ছবি ও ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মালব্র“নট : মার্কিনরা দাবি করছে, আপনার ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের গোপন টেলিফোন আলাপ হয়েছে। তিনি তাদের বলেছেন সামরিক কর্মকর্তারাই রাসায়নিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : যদি মার্কিন, ফরাসি বা ব্রিটিশদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকতো তাহলে প্রথম দিনেই তারা তা প্রকাশ করতে পারত। আমরা গুজবের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারি না। কারও কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে সে তা পেশ করতে পারে।
মালব্র“নট : আপনার অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সেনা কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে- এটা কি সম্ভব?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : আবারও বলছি, কোনো দেশের রাসায়নিক অস্ত্র আছে কি নেই সেটি বিষয় নয়। তবে তার ব্যবহার কেন্দ্র থেকেই হয়। তাছাড়া সামরিক বাহিনীর বিশেষ একটি স্তরে এ ধরনের তথ্যগুলো থাকার কথা।
মালব্র“নট : কিন্তু এ ক্ষেত্রে জিহাদ মাকদিসি নামটি উচ্চারিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : না, ওই সময় জিহাদ বলেছে, আমাদের কি এ ধরনের অস্ত্র রাখা উচিৎ? আমরা তা ব্যবহারও করতে পারি না। সমগ্র সিরিয়ায় এ ধরনের অস্ত্র থাকতেও পারে, নাও পারে।
মালব্র“নট : প্রেসিডেন্ট ওবামা সিরিয়ায় সামরিক হামলা স্থগিত করেছে। আপনি এটিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : যুদ্ধ বিলম্ব করায় ওবামাকে অনেকেই দুর্বল মনে করছে। আবার যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় অনেকে তাকে ক্ষমতাধর ভাবছে। আমি মনে করি, যুদ্ধ প্রতিহত করাই প্রকৃত শক্তি, তার মধ্যে গুলিয়ে যাওয়া নয়। ক্ষমতা হল মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি এবং ভুলগুলো শুধরে নেয়ার শক্তি। ওবামার যদি শক্তি থাকে তাহলে তার বলা উচিত সিরিয়া সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেনি। জাতিসংঘ পর্যবেক্ষণ দলের প্রতিবেদনের ফলাফল ও নিরাপত্তা পরিষদের মতামত পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ। যাই হোক আমিও দেখছি, অভ্যন্তরীণ চাপ ও সামরিক হুমকির মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছেন ওবামা। আমি মনে করি, তারাই খাঁটি নেতা যারা যুদ্ধ রোধ করে, যুদ্ধ উসকে দেয় না।
মালব্র“নট : কংগ্রেসের ভোটে ঠিক হবে যুদ্ধ হবে, কি হবে না- এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : ভোটের আগে তারা নিজের কাছে একটি প্রশ্ন করুক- আগের যুদ্ধগুলো থেকে আমেরিকা বা ইউরোপ কি পেয়েছে? লিবিয়া যুদ্ধ থেকে বিশ্ব কি অর্জন করেছে, শুধু সন্ত্রাসবাদ বিস্তার ছাড়া? এখন সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়ে তারা কি পেতে চাইছে?...
মালব্র“নট : যদি তারা হামলা করে তাহলে আপনি কীভাবে তাতে সাড়া দেবেন?
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ : আমরা যদি মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বলনোম্মুখ এক ব্যারেল বারুদ ভাবি তবে তা বিস্ফোরিত হওয়ার ক্ষণ ঘনিয়ে আসবে। তখন তা আর শুধু সিরিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রথম আঘাত থেকেই উত্তর পাবে তারা। ...
হামলার ভবিষ্যৎ হবে একদম অনিশ্চিত। তবে এটা ঠিক চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে তাণ্ডব, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 05
(16)
- কবিতা ও ইলিশ গবেষণা by অমিতাভ অপু
- মাটি, মানুষ ও জীবন চেতনার কথাশিল্পী by খুরশীদ আলম ...
- জন্মশতবর্ষ উদযাপন ও একটি প্রতিকৃতি by রাজু আলাউদ্দিন
- মনের আড়ালে by আনোয়ারুল হক
- কেন লিখি বুদ্ধদেব বসু ও আবু সয়ীদ আইয়ুবের দর্শন by ...
- রাশিয়াকে ক্রিমিয়া ছাড়তে বলল ন্যাটো
- আইএসের হত্যাযজ্ঞ থেকে যেভাবে বাঁচলেন তিনি
- জাওয়াহিরি: আল কায়েদার পুরোনো তাত্ত্বিক গুরু
- পাকিস্তানে ভারি বর্ষণ আন্দোলনে ঢিমেতাল
- ন্যাটো ঐক্যবদ্ধ, রাশিয়া একা
- মাঝ সাগরে দীপিকা-রণবীরের চুমো
- সাইকেলে ফরাজীর হজে যাত্রা by মাসুদ আহমেদ
- বিশ্বে ১০ জনে একজন তরুণী যৌন নির্যাতনের শিকার
- এ কে খন্দকারের বই নিয়ে সংসদে হইচই শাস্তি দাবি
- ‘ইকবাল’-এর বোন মধুচক্রে, হতবাক ফিল্মি দুনিয়া
- সামরিক হুমকির মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছেন ওবামা
-
▼
Sep 05
(16)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









