Monday, June 10, 2019

সুদানে অসহযোগ: বিরোধী নেতাদের গণগ্রেপ্তার

সুদানে অন্তর্বর্তী সামরিক কাউন্সিলের (টিএমসি) বিরুদ্ধে গণঅসহযোগ আন্দোলন ডেকেছে প্রধান বিরোধী গ্রুপগুলো। জবাবে সামরিক কাউন্সিল গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে সুদানিজ প্রফেশনালস এসোসিয়েশন (এসপিএ)। তারা বলেছে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ডাকা ওই অসহযোগ আন্দোলনকে সামনে রেখে ব্যাংক, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মজীবীদেরও হুমকি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ- এমন দাবি করেছে এসপিএ। তবে, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে নি সামরিক কাউন্সিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
কয়েকদিন আগে রাজধানী খার্তুমে সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নে নিহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। এরপর রোববার থেকে সেখানে অসহযোগ আন্দোলন ডেকেছে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রচারণাকারী গ্রুপগুলো।
এপ্রিলে এ দেশটিতে ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। তারা ক্ষমতা দখল করে বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু সোমবার খার্তুমে অবস্থান ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যে নিপীড়ন চালিয়েছে তাতে তাদের এই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছে না গণতন্ত্রপন্থিরা। সেনাবাহিনী এরই মধ্যে যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। সরকার গ্রেপ্তার করেছে বিরোধী দলের তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। তারাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে মধ্যস্থতা চেষ্টায় জড়িত ছিলেন।
খার্তুমের সর্বশেষ অবস্থা
রাজধানীতে বেশিরভাগ অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শহরের ট্রাফিক লাইটগুলো জ্বলছে। খার্তুম থেকে বিবিসির সাংবাদিক ক্যাথেরিন বারুহাঙ্গা এ খবর দিচ্ছেন। এতে বলা হয়েছে, রাজধানী খার্তুমের বেশিরভাগ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গুলি বিনিময়ের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা লোকজনকে বাড়িতে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কোনো কাজে যোগ দেবেন না। এটা হলো গণঅসহযোগ। তাদের যুক্তি সেনাবাহিনী যে নৃশংসতার সঙ্গে দমনপীড়ন চালাচ্ছে তাতে সাধারণ বিক্ষোভ চালানো আর সম্ভব নয়। ফলে এসপিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, রোববার থেকে শুরু হচ্ছে গণঅসহযোগ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যদি বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়া হয় শুধু তাহলেই এই অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ হবে। অসহযোগ আন্দোলন হলো শান্তিপূর্ণ একটি কর্মসূচি। এটি হলো বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
তাদের এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো এমন একটি কার্যকর অচলাবস্থা সৃষ্টি করা, যার অধীনে সামরিক কাউন্সিল দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়।
বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করেন বিরোধী রাজনীতিক মোহামেদ আসমত। এর পর পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার সকালের দিকে গ্রেপ্তার করা হয় এসপিএলএম-এন গ্রুপের নেতা ইসমাইল জালাব ও তার মুখপাত্র মুবারক আরদোলকে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গ্রেপ্তার অভিযান এটাই প্রমাণ করে যে- সামরিক বাহিনী মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।
বুধবার খার্তুমে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এসপিএলএম-এনের উপ-প্রধান ইয়াসির আরমানকে। ওমর আল বশিরের পতনের পর তিনি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছিলেন।
আসমত ও জালাব দু’জনেই ছিলেন অ্যালায়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা। বিরোধী নেতা, প্রতিবাদী জনতা ও বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর কাছে অ্যালায়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ হলো একটি আমব্রেলা সংগঠন।

ঢাকা-ওয়াশিংটন সংলাপ: মূল আলোচনা আজ by মিজানুর রহমান

ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে সপ্তম পার্টনারশিপ ডায়ালগের আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। আজ হবে মূল আলোচনা, প্লিনারি সেশন। এ সেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিভাগের নব নিযুক্ত আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেল। ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশে নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার সর্বোচ্চ ফোরাম পার্টনারশিপ ডায়ালগের এটিই প্রথম বৈঠক। সঙ্গত কারণেই আজকের বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার বিষয়ে ব্রিফ করবে ঢাকা।
একই সঙ্গে সরকারের পথচলায় যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত সহযোগিতাও চাওয়া হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষ করে রাজনীতি ও নির্বাচন প্রশ্নে মতভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশে বিনিয়াগে (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টেমেন্ট বা এফডিআইতে) মার্কিনীদের অবস্থান প্রথম স্থানে। যদিও গত বছর বড় ব্যবধানে চীনের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়েছে। তারপরও সার্বিক বিবেচনায় এখনও যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম, বলছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান ধরে রাখুক এবং এখানে মার্কিন কোম্পানীগুলো আরও বেশি বিনিয়োগ করুক আজকের বৈঠকে এ আহ্বানই জানাবে ঢাকা। এ-ও বলা হবে, সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে, তাতে কাছের এবং দূরের অনেক দেশ বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ইকোনমিক জোনে বিনিযোগ করুক। ওয়াশিংটন যেখানে চাইবে সেখানেই একটি অঞ্চল ছাড়তে প্রস্তুত ঢাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, পার্টনারশিপ ডায়ালগের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মোটা দাগে ৩টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু। কর্মকর্তাদের দাবি তৃতীয় ইস্যুতে আলোচনা কম হয়েছে, আজ শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে। ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনায় মূলত জোর পেয়েছে অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো। বৈঠকে অংশ নেয়া ওয়াশিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, এফডিআইতে বছরের পর বছর ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ২০১৮ সালে অনেক কমে গেছে। গত বছরে দেশটির বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ হয়েছে ১৭৪ মিলিয়ন ডলার।
সেখানে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে নেদারল্যান্ডস এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে বৃটেন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার যে সুবিধাদি দিচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে। আজকের বৈঠকেও এ নিয়ে কথা হবে। একই সঙ্গে ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের অনুরোধ থাকবে। উন্নয়ন সহযোগিতার আলোচনা প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে যে বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা পেয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৬ বিলিয়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মার্কিন দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডি ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে। গড়ে তাদের অনুদান বছর প্রতি ২০০ মিলিয়ন। রোহিঙ্গা সংকটে মার্কিনীদের অবদান প্রসঙ্গেও ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আলোচনাকারী ওই কর্মকর্তা বলেন, ’১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা দিয়েছে ৪৯৪ ডলার।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে গ্লোবাল এসিস্ট্যেন্স এসেছে তার প্রায় ৭৩ ভাগ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কেবল মানবিক সহায়তাই নয়, এ ইস্যুতে সর্বোতভাবে ঢাকাকে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সাপোর্ট দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এ পর্যন্ত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং সিনেটে ৩ দফা শুনানি হয়েছে। রাখাইনে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বার্মার ৫ জেনারেল এবং সেনাবাহিনীর দু’টি ইউনিটের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন এডমিনিস্ট্রেশন। হোয়াইট হাউজ থেকে শুরু করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, আইন প্রণেতা, সিভিল সোসাইটি এমনকি মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সরব রয়েছে। ঢাকার তরফে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়াও আরও কিভাবে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুন রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েও পার্টনারশিপ ডায়ালগে আলোচনা হবে জানিয়ে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, এটি ঢাকার প্রায়োরিট। এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে এপ্রিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে  আবদুল মোমেনের আলোচনা হয়েছিল। সেই সময় আইনি লড়াইয়ের পারামর্শ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এদিকে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ঢাকা-ওয়াশিংটন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ইরান ও উত্তর কোরিয়া নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকের এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচিতে তৃতীয় কোন দেশকে অন্তর্ভূক্ত করে আলোচনার প্রস্তাব এবারই প্রথম। ঢাকা অবশ্য আলোচনার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। কর্মকর্তারা এ জন্য বাড়তি প্রস্তুতিও নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবরোধ আরোপ করেছে।
অন্যদিকে কোরিয়া উপদ্বীপ নিউক্লিয়ার বোমামুক্ত করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দর কষাকষি করছে। যদিও পিংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার অভিযোগে এরই মধ্যে তার দেশের এক কর্মকর্তাকে ফাসির দণ্ড দিয়েছে। সেগুনবাগিচা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু পরিস্থিতির ওপর ঢাকার সতর্ক পর্যবেক্ষণ যে রয়েছে সেটি কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা বলেন, কী আলোচনা হবে তা নির্ভর করে পরিস্থিতি এবং  প্রেক্ষাপটের ওপর। কিন্তু সাধারণভাবে আমাদের নীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এদিকে ৩ বছর আগে ঢাকায় নিজ বাসায় বন্ধুসহ খুন হওয়া জুলহাজ মান্নানের মামলার অগ্রগতিও জানতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে সম্প্রতি এ ঘটনার বিচার চেয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন ইউএসএআইডি প্রশাসক।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকায় সর্বশেষ (ষষ্ঠ) পার্টনারশিপ ডায়ালগ হয়েছিল। ২০১২ সালে সই হওয়া পার্টনারশিপ চুক্তির আওতায় নিয়মিতভাবে অলটারনেটিভ ভেন্যুতে (একবার ঢাকায়, অন্যবার ওয়াশিংটন) এ ডায়ালগ হয়ে আসছে।

সংকটময় সময়ে সিলেট চেম্বারের দায়িত্বে আসাদ by ওয়েছ খছরু

সিলেটে চেম্বারের দায়িত্ব নিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। গতকালই তিনি দায়িত্ব সমঝে নিয়েছেন। এর আগে তিনি সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে তিনি সিলেট চেম্বারের প্রশাসক হলেন। সংকটে অবতীর্ণ হওয়া সিলেট চেম্বারকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তাকে দেয়া হলো এই দায়িত্ব। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজে দীর্ঘ দিনের নানা সংকট পুঞ্জীভূত। এই সংকটের প্রধান কারণ হচ্ছে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা। এই ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি ছিল ব্যবসায়ীদের।
তখন চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী। বিজিত চৌধুরীর মতে- তিনি সিলেট চেম্বারকে ব্যবসায়ীদের সংগঠনে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চেম্বার নেতারা নানাভাবে ভোটার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। এতে করে জালজালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়। এ বিষয়গুলো তার নজরে এলে তিনি এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান। যার কারণে তদন্তে ৮০ জন সদস্যের কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়। একই ভাবে তিনটি ইউনিট নিজেরা মনগড়া ভাবে তৈরি করেন। এসব কারণে চেম্বার নির্বাচনে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাতে হস্তক্ষেপ করে। এদিকে- চেম্বার নির্বাচন নিয়ে জটিলতা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পর প্রশাসক ধারায় ফিরেছে সিলেট চেম্বার। অতীতে বেশ কয়েক বার একই ধারায় ফিরেছিল। সিলেট চেম্বার নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে আক্ষেপ রয়েছে। এ কারণে বার বার সিলেট চেম্বারের কর্তৃত্ব বিরোধী বলয়ের নেতারা ধরে রাখেন। আওয়ামী লীগ নেতারা কখনো তাতে হস্তক্ষেপ করেননি।
চেম্বার নিয়ে এক সময় বিরোধী বলয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত তিনি বিরোধ বাড়াননি। নিজেই স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন। সিলেটের ব্যবসায়ীদের অন্য বলয়ের নেতাদের নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স গড়ে তোলেন। প্রথম প্রথম সিলেট চেম্বারের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল। কিন্তু এখন স্বতন্ত্র অবস্থানে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এরপর থেকে যারা সিলেট চেম্বার অব কমার্স পরিচালনা করেছিলেন তাদের সিংহভাগই ছিলেন একই ঘরানার সদস্য। সুতরাং চেম্বারের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ বাঁধবে সেটি কারো ধারণায়ই ছিল না।
কিন্তু এবারো চেম্বারের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে যখন ভুয়া ভোটার ও ইউনিট বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখন সিলেট চেম্বার নজরে আসে সবার। ব্যবসায়ীদের একাংশও এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও অনেক ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে- গতকাল দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিদায়ী সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ জানিয়েছেন- ‘আমরা সিলেট চেম্বারের সুনাম ধরে রাখতে কাজ করেছি। ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। এগুলো সুধরে নিয়ে আমাদের আগামী দিনে চলতে হবে। সিলেট চেম্বারে খুব দ্রুত গণতান্ত্রিক ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’ খন্দকার শিপার আহমদ বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য।
এক্ষেত্রে তিনিও সিলেট চেম্বারের বর্তমান প্রশাসককে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে জানান। এদিকে- দায়িত্ব গ্রহণকালে সিলেট চেম্বারের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন- ‘সকলের সহযোগিতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ১২০ দিনের মধ্যে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বারের নির্বাচন আয়োজন করতে চান।’ তিনি বলেন- সিলেট চেম্বার একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। দেশ-বিদেশে রয়েছে সংগঠনটির সুনাম। কিন্তু বিগত দিনে চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব আদালতে গড়ানোয় সংগঠনের সুনাম অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই জটিল অবস্থায় চেম্বারের নির্বাচন করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।’ যারা চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে আইনি চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন- ‘আসুন সকলে মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেই।
আপনাদের যা কিছু বলার আছে আমাকে বলুন, সকলের মতামত নিয়েই আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাই।’ সিলেট চেম্বারের সদ্য বিদায়ী সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি বলেন- ‘গত কয়েক বছরে সিলেট চেম্বার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে সিলেটের উন্নয়নে কাজ করেছে এবং দেশব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছে। আগামীতেও যারা নেতৃত্বে আসবেন তারাও এই ধারা অব্যাহত রাখবেন।’ চেম্বারের বিগত কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. এমদাদ হোসেন, পরিচালক মো. সাহিদুর রহমান, ওয়াহিদুজ্জামান ভুট্টো, মুশফিক জায়গীরদার, এহতেশামুল হক চৌধুরী, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, আব্দুর রহমান জামিল, মো. আতিক হোসেন ও মুজিবুর রহমান মিন্টু।

এ সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় -শপথ নিলেন রুমিন ফারহানা

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গতকাল দুপুরে সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম এমপিসহ সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের  সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। রীতি অনুযায়ী শপথ গ্রহণ শেষে রুমিন ফারহানা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শপথ গ্রহণ শেষে সংসদ লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি রুমিন ফারহানা। বলেন, প্রথমবার সদস্য হয়ে সংসদে আসা আমার জন্য আনন্দের। তবে আমি এমন একটি সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না।
সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকেই বলেছি, এটি অবৈধ সংসদ, এখনো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, এটি অবৈধ সংসদ।
আমি খুব খুশি হব যদি আমার সংসদ সদস্য হবার মেয়াদ একদিনের বেশি না হয়। এই সংসদ বিলুপ্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার গঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অবৈধ বলছেন তাহলে কেন শপথ নিলেন? জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ, যেটা আমরা আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য ব্যবহার করতে পারি। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সংখ্যাগত দিক থেকে নিশ্চয়ই অনেক কম। তারপরও আশা করছি, সংসদে যদি একজনও ন্যায্য কথা বলেন তাকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দেয়া হবে।
সরকারের নিজের স্বার্থেই এই সময় ও সুযোগ দেয়া উচিত। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। তাকে জামিন বঞ্চিত করে কারাগারে রাখা হয়েছে। এর পুরোটাই বেআইনি। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। নিশ্চয়ই সেই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে কথা বলবো। এর আগে গত ২৮শে মে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সংখ্যা অনুপাতে বিএনপি একটি সংরক্ষিত নারী আসন পায়। বিএনপির এমপিরা শপথ নিতে দেরি করায় দীর্ঘদিন সংরক্ষিত আসনটি শূন্য ছিল।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বললেন, কিছু দেশ  চাইলেও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত নিতে চাইছে না। একই সঙ্গে আর্ন্তজাতিক কিছু দাতা সংস্থাও চায় না রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক। গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাব দেন। জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। গণমাধ্যম বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে লেখার ক্ষেত্রে কাউকে বাধা দেয়া হচ্ছে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা আছে যারা চায় না কোনো রিফিউজি তাদের দেশে ফিরে যাক। আমরা তালিকা করলাম, তারপরে তারা আন্দোলন করলো যাবে না।
তাহলে এই আন্দোলনে উস্কানি কারা দিলো?
এই যে সংস্থাগুলো এরা চায় না কখনো তারা ফিরে যাক। এটার কারণ বিশাল একটি অংশের টাকা-পয়সা আসে। চাকরি বাকরি যা আছে তা থাকবে না। তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ চায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যাক। কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে মিয়ানমারকে নিয়ে। তারা কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই চায় যে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক। সবাই মিলে সহযোগিতা করলে একটা ব্যবস্থা হবে। না হলে এত লোকের ব্যবস্থা করা কঠিন। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি। ওখানে ভাগ করা আছে। আমাদের বর্ডার ফোর্স একটা অঞ্চল দেখে, আমাদের পুলিশ দেখে এবং আমাদের সেনাবাহিনী। আমরা বলেছি ওটাকে ক্লাস্টার করে করে চারিদিকে একটা সিকিউরিটি বেরিকেড দেয়া। সব সময় টহলে রাখা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এদের সাহায্য করতে আসে বা ভলানটিয়ার সার্ভিস দিতে আসে তাদের সাংঘাতিক আপত্তি ভাসান চরে নেয়ার ব্যাপারে। কক্সবাজারে আরাম আয়েশে থাকে। যা পায় কিছু খায় আর কিছু রাখে। খরচা হয় না। এ জন্য তারা করতে চায় না। সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে। এত সুন্দর ঘরবাড়ি আমরা করে দিয়েছি তারপরও পছন্দ হয় না।
গণমাধ্যম নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সব সময় মনে করি আমার বিবেক যদি ঠিক থাকে, যে আমি সঠিক আছি, সঠিক বলছি, সঠিক করছি সেটাই আমার কাছে বড়। তাই কে কি লিখলো সেটা বিষয় না। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি দেশের মানুষকে ভালোবাসি। আমি যা কাজ করি তা দেশের জনগণের জন্য দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এই বিশ্বাসটা যদি আমার থাকে-তাহলে কোনটা ভালো বললো কোনটা মন্দ বললো, কি বললো-এ নিয়ে আমার তো মাথাব্যাথার কিছু নেই।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিন দেশ সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক বিষয় তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার সময় এবং পরে আমাদের সহায়তা করেছে জাপান। এবারের সফরে আড়াই’শ কোটি ডলারের চুক্তির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধানে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, নরেন্দ্র মোদী আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করি আমাদের সমস্যাগুলি একে একে সমাধান হবে। শুধু তিস্তা, তিস্তা করে না। আপনারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন, আমাদের মেরিটাইম বাউন্ডারির মতো কঠিন একটা সমস্যা আমরা সমাধান করেছি। আমরা আমাদের যে ছিটমহল বিনিময় করা। পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ বেধে যাচ্ছে এই ছিটমহল বিনিময় নিয়ে। আমরা একটা উৎসব মুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অনেক কঠিন সমস্যা সমাধান করেছি। তিনি বলেন, কারো কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। কারণ আমাদের এটা হচ্ছে ডেল্টা প্রকল্প। হিমালয় থেকে নদীগুলি যা আসছে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যেতেই হবে। পানিটা আমরা কতটা ধরে রাখতে পারবো সেই ব্যবস্থা যদি আমরা করি তাহলে পানি পানি করে আমাদের চাইতে হবে না। আমরা নিজেরাই ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারবো। আমরা তাই করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশি পানি হলে তারা কী করবে? এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার দরকার নাই। আর যিনি পানি দেন নাই। চাইলাম পানি দিলো বিদ্যুৎ। তো বিদ্যুৎ নিচ্ছি। পানি তো পাওয়াই যায় বৃষ্টি হলে। প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ভারত থেকে আমদানি করছি। আরো কিছু আনার জন্য আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একজন বাংলাদেশী সম্পাদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সম্পাদক এরকম কথা বলছেন, যদি সত্যিই এরকম হতো তাহলে উনি কি এই কথাটুকু বলার সাহস রাখেন? যে উনি লিখতে পারেন না। যদি তার ওপর সত্যি কোন চাপ থাকতো তাহলে এই কথাটাই বলার সাহস পেতো কি না আমার প্রশ্ন সেখানেই। কেউ তো চাপ দেয়নি। তবে হ্যাঁ আপনি যখন বলছেন কোন একজন সম্পাদক-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ থাকলে তাদের খুব একটা ভালো লাগে না। তাদের ভালো লাগে যদি কোন অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকে। যেমন-ইমার্জেন্সি সরকার হোক বা মিলিটারি সরকার হোক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকম কিছু হলে তখন তারা ফরমায়েশি লেখা লিখতে পারে। তার এই কথা থেকে আমার মনে হয়, যে ভদ্রলোকের কথা বলছেন আমি বুঝতে পারছি তিনি কে। আপনাদের মনে আছে তিনি একবার টেলিভিশনের কোন এক টক শো’তে বলেছিলো-কোন একটা মিথ্যা নিউজ দেয়া হয়েছিলো বলে তাকে ধরছিলো কেউ।
তখন তিনি বলেছিলেন, আমি কি করবো ডিজিএফআই আমাকে যেটা সাপ্লাই দিয়েছে আমি সেটাই ছাপিয়ে দিয়েছিলাম। লিখে দিয়েছিলাম। মনে পড়ে, সবার খেয়াল আছে? কোনটা আমার ঠিক মনে নাই। তার মানে দাঁড়াচ্ছেটা কি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি যদি ওই কথাটার সঙ্গে এই কথাটার লিংক করেন-তাহলে এখন ডিজিএফআই তাকে কোন লেখা দিচ্ছে না। কাজেই উনি লিখতে পারছেন না। আমি তো এটাই বুঝবো। কারণ উনি তো বলছেন, উনি ফরমায়েশিটা লিখতে পারেন। উনার ওই বক্তব্যটা যদি আপনি স্বরণ করেন উনি বলছেন যে ডিজিএফআই উনাকে যে তথ্য দিয়েছেন সেটা উনি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো ডিজিএফআই দিয়ে কোন তথ্য দেয়াচ্ছি না।
বা ডিজিএফআই এর ওই সমস্ত সমস্যা নেই। কাকে কি বলতে হবে কাকে লিখতে হবে এটা তারা করবে না। তো এখন উনি নিজেই লিখতে পারছেন না। তার মানে কোন ফরশায়েশি লেখা না পেলে উনি লিখতে পারেন না। এটাই তো দাঁড়াচ্ছে। আমি তো এটাই বুঝতে পারছি। এর বাইরে আর কিছু বুঝতে পারছি না। উনি লেখুক না। উনার যা খুশি তাই লিখুক। লিখে তো যাচ্ছেই। তিনি বলেন, আমি কি বলতে পারবো আমি কোনদিন এইসব পত্রিকার কোন সহযোগিতা পেয়েছি। জীবনেও না। আর বাংলাদেশে আসার পর থেকে কয়টা পত্রিকা ছিলো আমাদের পক্ষে? পারলে সবাই বিরুদ্ধেই লিখেছে। এ ধরনের আঘাতে আমরা অভ্যস্ত। এতে আমার কিছু আসে-যায় না।
এবার ঈদ জামাতের সময় জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করে। কোথাও কোনো ধরনের তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। আপনারা জানেন যে নানা নামে নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের থ্রেট কিন্তু দিতেই থাকে। সারাক্ষণ কিন্তু এগুলো আসছে। সবটা আমি বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। কিন্তু যতদূর পারি, এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি। এবার ঈদের আগেও তেমন হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের জামাতের সময় আমি সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলাম। কারণ এমন এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তা যেন কোনোমতে না ঘটে। সরকার প্রধান বলেন, তিনি দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, দেশে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ থাকে। এবারও বিভিন্ন ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ‘মেসেজ’ চলে গেছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের পুলিশ বাহিনী, আমাদের র‌্যাব থেকে শুরু করে সকলেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে তারা কাজ করেছে। সেজন্য খুব সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে। এবার কিন্তু কেউ কিছু করতে পারেনি। জঙ্গিবাদ দমনে জনগণের সচেতনতাকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,জনগণ কিন্তু যথেষ্ট সচেতন। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করেই এ ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে চাই। সেজন্য জনগণের কাছে সব সময় আমার আবেদন থাকবে, তারা যেন এ বাপারে সজাগ থাকেন, সচেতন থাকেন। কারণ এসব ঘটনা আমাদের উন্নয়নের গতিধারাটা ব্যহত করবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
আজ হোক, কাল হোক তার শাস্তি কার্যকর হবে
লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নাম নিতেও ঘৃণা লাগে। ওই একুশে আগস্টের হামলায় আইভি রহমানসহ ২৮ জন মানুষ নিহত হন। শতাধিক মানুষ আহত হন। শুধু একুশে আগস্ট নয়, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত সে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব ব্যক্তির জন্য অনেকের মায়াকান্না দেখছি। আমরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। তবে ওরা অনেক টাকার মালিক। সব সময় চেষ্টা করে ঝামেলা সৃষ্টি করার। আমি সেখানে গেলেও ঝামেলা সৃষ্টি করতে চায়। তবে যাই হোক, আজ হোক, কাল হোক তার শাস্তি কার্যকর হবে।
ইমিগ্রেশনে খুব কড়াকড়ি করতে বলেছি
পাসপোর্ট ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া বিমান পাইলটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা বিষয় লক্ষণীয়, যখনই বিমানে উঠি তখনই একটা ঘটনা ঘটে। একটা নিউজ হয়, নিউজটা কেন হয় আমি জানি না। হয়তো পাসপোর্ট ভুলে যেতে পারে। পাসপোর্ট ভোলা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল, তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। আমার কাছে খবর যাওয়ার সাথে সাথে আমি বলেছি, ইমিডিয়েটলি ব্যবস্থা নিতে। ইমিগ্রেশনে কারা ছিল? কেন চেক করে নাই? কেন দেখে নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু এখন ইমিগ্রেশনে খুব কড়াকড়ি করতে বলেছি। আমাদের তো এখন সবাই ভিআইপি। তারপর আবার ভিভিআইপি। এরপর বোধহয় আরো ভি লাগবে। যত ভি লাগুক এরপর আর কাউকে ছাড়া হবে না। প্রত্যেকের একদম পাসপোর্ট সিল মারা আছে কী না, তারপর তাদের চেকটা ভালোভাবে হচ্ছে কী না। এমন কী ভিআইপি এবং ভিভিআইপি এনক্লেভগুলোতে তাদের লাগেজ ঠিকভাবে চেক করার ব্যবস্থা। তিনি বলেন, এত দিন পরিশ্রম করে, প্লেন কিনে বিমানের অবস্থানটা যখন একটা জায়গায় চলে আসছে। যখন আমি চেষ্টা করছি আমরা আরো কয়েকটা নতুন রুটে যাব। মোটামুটি একটা ব্যবস্থা করে ফেলেছি। ঠিক তখনই একেকটা কারণ এ রকম আসে। শেখ হাসিনা বলেন, এটার কারণ আমার যেটা মনে হয়। এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, আপনারা অনেকেই জানেন তারা এটাকে কীভাবে ব্যবহার করেছে। ছিলই তো না। সেগুলো আমরা যেহেতু একটু ভালোভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
অনেকের পছন্দ হবে না, এটা আমি জানি। কারণ আগে যেগুলি খুব সহজে করতে পারতো সেগুলি বন্ধ করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই সিকিউরিটির উপরে একবার ব্রিটিশ আমাদের এমবার্গো দিল, একবার অস্ট্রেলিয়া দিল। সেটাও আমরা মিটআপ করেছি।
তিনি বলেন, এ জন্য যখনই আমি যাই তখনই একটা ঘটনা। আমার কাছে শত শত মেইল যাচ্ছে। আপনি আইসেন না, বিমানে আসবেন না। আমি বললাম, বিমানে আসবো না মানে? বলে না এটা হয়েছে। আমি বললাম, যা হয় হোক। মরলে নিজের দেশের প্লেনেই তো মরবো। নিজের প্লেনে মরলে মনে করবো নিজের মাটিতেই মরলাম। আমি আমার বিমানেই যাব। আমি অন্য কোনো এয়ারলাইন্সে যাব না। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সবাই সম্মান করেন। যদিও বাংলাদেশ থেকে বহুবার বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস থেকে তো আর মুছতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় যারা ছাত্র ছিলেন, যুবক ছিলেন, আজ তাদের অনেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের একটা আগ্রহ আছে। কাজেই সেদিক থেকে আমাদের একটি ভালো সম্পর্ক আছে। তাড়াতাড়ি চীনে যাওয়ার একটা কর্মসূচি আছে। তিনি আরও বলেন, দাওয়াত তো এত বেশি যে, সব জায়গায় যেতে হলে দেশে থাকবো কখন? সব দেশ থেকে আমাকে চায়। এখন তো বয়স হয়েছে, সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে চীনে যাবো এবার। জুলাইতে চীনে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসি সম্মেলনে আমার লিখিত বক্তব্যে অনেক কিছু ছিল না। আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরেও অনেক কথা বলেছি। আমি বলেছি, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনও দ্বন্ধ থাকে, কেন আমরা আলোচনা করে এসবের সমাধান করতে পারছি না? ওআইসির এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগ নেয়া দরকার। আমাদের সমস্যাগুলো যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি, তাহলে আত্মঘাতী সংঘাত আর রক্তপাত হয় না। শেখ হাসিনা বলেন,আমাদের দেশেও মানুষ খুন করে খুনিরা বলে, এই তো আমরা বেহেশতের কাছে পৌঁছালাম। বেহেশতে কে পৌঁছাতে পেরেছে? যারা মানুষ খুন করেছে, তারা একজনও বেহেশতে পৌঁছাতে পেরেছে? এখন সোস্যাল মিডিয়ায় তো বহু মেসেজ দেয়, কেউ কি পাঠিয়েছে যে, আমি মানুষ খুন করে এখন বেহেশতে বসে আঙুর ফল খাচ্ছি?’ দেখা যাচ্ছে, মুসলমানই মুসলমানদের হত্যা করছে। মুসলিম দেশেই খুনোখুনি হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এতে লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র বানাচ্ছে, তারা। যারা অস্ত্র দিচ্ছে, তারা। ওআইসিকে বলেছি, মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে। এটা ওআইসিকে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে আমার বাবাও মাথানত করেননি, আমিও করবো না। যা সত্য তা-ই বলে যাবো।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে মে থেকে ৭ জুন জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর শেষে শনিবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে রিপোর্ট ফাঁস: বিস্মিত অ্যামনেস্টি ও পর্যবেক্ষকরা

দুই বছরে মাত্র ৫ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেয়া নিয়ে আসিয়ানের ফাঁস হওয়া রিপোর্টের কড়া নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষক। ওই রিপোর্টে সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় যেসব রোহিঙ্গা দেশছাড়া হয়েছেন, সেই নৃশংসতার বিষয় উল্লেখ করতে ব্যর্থতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। এ সংস্থার মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লরা হাই বলেছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ঘটবে এমনটা ভাবা হাস্যকর। বার্তা সংস্থা এএফপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরের অনলাইন দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
এতে বলা হয়, আসিয়ানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম (আসিয়ান-ইআরএটি) প্রণীত ওই রিপোর্ট দেখতে পেয়েছে এএফপি। এতে দুই বছরের মধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলা হয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। ওই রিপোর্টে রাখাইনে চলমান গৃহযুদ্ধের বিষয়ও অবজ্ঞা করা হয়েছে। এমন কি নির্যাতত মুসলিমদেরকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয় নি।
এ নীতি অবলম্বন করে থাকে মিয়ানমার।
এএফপি লিখেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে নির্যাতিত হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু এই রিপোর্টে তাদেরকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতে বাংলাদেশে অবস্থানকারী এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী ভুলপথে পরিচালিত হবে। বিদ্রোহীদের মূলোৎপাটনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেছে। সীমান্তের এপাড়ে পাঠিয়ে দিয়েছে দমনপীড়নের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তারা বেশ কয়েক দফা নির্যাতনকে বেছে নিয়েছে। ব্যাপকহারে হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা একে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিচারের আহ্বান জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ পর্যন্ত অগ্রগতি ওইটুকুই। কোনো রোহিঙ্গা নিরাপত্তা ও অধিকার ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি নয়। এ অবস্থায় ‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপ্যাট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ ৫ লাখ রোহিঙ্গার ফেরত যাওয়া নিয়ে কাজ করে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা এই ৫ লাখ হিসেবেই স্বীকার করে। কিন্তু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে এই সংখ্যা অনেক কম।
ওই রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে মিয়ানমার।

কথিত ‘বিদেশী’ সানাউল্লাহ বললেন- আমি ভারতীয়

‘বিদেশী’ হিসেবে আখ্যায়িত হওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আবারও বললেন, তিনি ভারতীয়। বিদেশী নন। তাকে বিদেশী সাব্যস্ত করে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ‘বিদেশী’ বলতে তাকে বাংলাদেশী হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। তিনি কারগিল যুদ্ধ সহ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ৩০ বছর ধরে চাকরি করেছেন। আর এখন আসামে এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জি করার ফলে এনআরসি আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি হয়ে গেছেন ‘বিদেশী’। জেল থেকে শনিবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সানাউল্লাহ। তাকে গুয়াহাটির বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দেয়ার পর বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এতে তিনি বলেছেন, তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার। কারগিল যুদ্ধ করেছেন। তিনি একজন ভারতীয় এবং সব সময় ভারতীয় হয়েই থাকবেন। তাকে জামিন দেয়ার জন্য হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বলেছেন, হাই কোর্ট তাকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
গুয়াহাটি হাই কোর্ট তাকে শুক্রবার ২০ হাজার রুপির বন্ডের বিনিময়ে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। মুক্তি দেয়ার আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও এনআরসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নোটিশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এনআরসির শর্ত পূরণ করতে না পারায় মে মাসে মোহাম্মদ সানাউল্লাহকে আটক করে পুলিশ। আসাম থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আধুনিকায়ন করা হয়েছে এনআরসি।
বিদেশী আখ্যায়িত করে দেয়া এনআরসি ট্রাইবুনালের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মোহাম্মদ সানাউল্লা। তিনি গুয়াহাটি হাই কোর্টে রিট পিটিশন করেছিলেন এবং অন্তর্বর্তী জানিন চেয়েছিলেন।

বাবা-চাচাদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে দুই শিশু by এ বি এম ফজলুর রহমান

বাবা ও চাচাদের ফাঁসির দাবিতে রোববার পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে মাহমুদা আক্তার মীমের দুই সন্তান আল মাহিম ও মুন্তাহাসহ এলাকাবাসী। ছবি : এনটিভি
মা মাহমুদা আক্তার মীমকে হত্যার অভিযোগে বাবা পিন্টু মিয়ার ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমেছে দুই সন্তান। রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মীমের দুই সন্তান আল মাহিম (৮) ও মুন্তাহা (৩) অন্যদের সঙ্গে তার মায়ের হত্যাকারী পিন্টু মিয়ার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মাহিম ও মুন্তাহার অংশগ্রহণের বিষয়টি শহরের সবার দৃষ্টি কাড়ে। একপর্যায়ে তারা স্মারকলিপি পেশ করার জন্য পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও যায়। ওই মানববন্ধনে এলাকাবাসী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা ঘটনার ১৮ দিন পরেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আতিয়ার হোসেন, পাবনা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কামাল আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, সেলিম নাজির স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার রোজি, লতিফ গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলী খান বাবলু, আলহাজ আবদুল বাতেন খান, নিহত মীমের ছেলে মাহিম প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের আব্দুল মমিনের মেয়ে মাহমুদা আক্তার মীমের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার রাজাইমন্ডল গ্রামের সগির প্রামানিকের ছেলে গ্রাম্য চিকিৎসক পিন্টু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর আব্দুল্লাহ আল মাহিম (৮) ও মুন্তাহা (৩) নামে তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও স্বামী পিন্টু মিয়া প্রায়ই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এরই একপর্যায়ে গত ২১ মে রাত ২টার দিকে পিন্টু মিয়া ও তাঁর চার ভাই এবং এক ভাগ্নে মিলে মীমকে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে তারা গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে মীমকে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মীমের বাড়ির লোকজন অচেতন অবস্থায় প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহীর পপুলার হাসপাতালের আইসিইউতে এবং সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে।
দীর্ঘ ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণার ভোগের পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার মীম।
এ ঘটনায় মীমের ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পিন্টু মিয়াকে প্রধান এবং তাঁর চার ভাই রেজাউল করিম, দোলোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও মিলন হোসেন এবং ভাগ্নে শাকিল হোসেনকে আসামি করে আতাইকুলা থানায় মামলা করে। কিন্তু পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। আসামিরা কোনোমতেই পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।
পাবনা সদর উপজেলার রাজাইমন্ডল গ্রামের পিন্টু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের মাহমুদা আক্তার মীম। ছবি : সংগৃহীত

‘চাইলাম পানি, দিলো বিদ্যুৎ’ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
তিস্তা নদীর পানিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার চেষ্টা চালাবে, তবে ডেল্টা পরিকল্পনার আওতায় দেশের নদীগুলো খনন করে বর্ষার পানি ধরে রাখার ব্যাপারে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ জুন রবিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তিস্তা পানিচুক্তির বিষয়ে সরকার কী উদ্যোগ নেবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ভারত সরকারের কাছে পানি চেয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘চাইলাম পানি, দিলো বিদ্যুৎ। তো বিদ্যুৎই নিচ্ছি। পানি তো পাওয়াই যায় বৃষ্টি হলে, বিদ্যুৎই ভালো ।’
জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তার সরকারি বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পর উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরা তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। এরমধ্যে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ আরও কয়েকজনের প্রশ্ন ছিল ভারতে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এবং নরেন্দ্র মোদির নতুন মেয়াদে তিস্তা পানিচুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে কিনা সে প্রসঙ্গে।
এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতে দ্বিতীয় মেয়াদে মোদি সরকার নির্বাচিত হওয়ায় তাকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। এরইমধ্যে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সফরে থাকার সময়েই নরেন্দ্র মোদি তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনিও মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিস্তা পানিচুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চয় আরও আলোচনা হবে। তবে মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে আরও অনেক সফলতা এসেছে। আমরা মেরিটাইম বাউন্ডারির মতো কঠিন সমস্যার সমাধান করেছি, আমরা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধই বেঁধে যাচ্ছে এই ছিটমহল নিয়ে আর আমরা একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এই সমস্যার সমাধান করেছি।
পানি সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তার সরকারের করা ডেল্টা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডেল্টা প্ল্যান করেছি। নদীগুলো ড্রেজিং করে দিচ্ছি। আর কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। এটা হচ্ছে ডেল্টা (ব-দ্বীপ)। হিমালয় থেকে যে নদীগুলো এসেছে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সেগুলোকে (নদীর পানি) যেতেই হবে। পানি তাদের ( ভারতসহ ওপরে থাকা দেশগুলো) ছাড়তেই হবে। পানি এখন আমরা কতটা ধরে রাখতে পারবো সেই ব্যবস্থা করতে পারলে আমাদের আর কারও কাছে পানি চাইতে হবে না। আমরা নিজেরাই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারবো। আমরা তা-ই করছি। বেশি পানি হলে তাদের ছাড়তেই হবে।’
মোদি সরকারের কাছে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাইলাম পানি দিলো বিদ্যুৎ। তো বিদ্যুৎই নিচ্ছি। পানি তো পাওয়াই যায় বৃষ্টি হলে, বিদ্যুৎই ভালো। প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ভারত থেকে আমদানি করছি। আরও কিছু বিদ্যুৎ আমদানির কথা চলছে। যদিও এখন আমাদের বিদ্যুতে এখন যথেষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ। বলতে গেলে আরও বেশি আছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে থেকে ৭ জুন জাপান, সৌদি আরব এবং ফিনল্যান্ড সফর করে শনিবার (৮ জুন) সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরের বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমকে অবহিত করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ভাই হত্যার বিচার কেন পাচ্ছি না? by মরিয়ম চম্পা

রাজীব চলে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তার এতিম দুই ভাই এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না। যত দিন যাচ্ছে ততোই ভাইকে হারানোর ক্ষত গভীর হচ্ছে। রাস্তায় বের হলে বিআরটিসি পরিবহনের বাস দেখে ভাইয়ের কথা   মনে পড়ে। মা-বাবাকে হারিয়ে পটুয়াখালীর বাউফলের এতিম ছেলে রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই খালা-মামাদের তত্ত্বাবধানেই বেড়ে ওঠেন। বর্তমানে খালাদের সহযোগীতায় কোনোমতে দিন পার হচ্ছে রাজীবের ছোট দুই ভাইয়ের। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে পারছে না তারা। অনেকেই তাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েও পরক্ষণে আর কোনো খোঁজ নেন নি।
সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তাদের আশ্বাস দিলেও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। এতো কিছুর পরেও দুই ভাইয়ের একটাই দাবি আমরা খেয়ে অথবা না খেয়ে থাকি তাতে কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু আমার ভাইয়ের হত্যাকারী ঘাতক বাস চালক ও মালিকদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। 
দুই বাসের চাপায় প্রথমে হাত হারায় পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রাজীবের। গত বছর ৩রা এপ্রিল দুপুরে বিআরটিসি বাসে চড়ে কলেজে যাচ্ছিলেন রাজীব হোসেন। মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন রাজীব। বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই পেছন থেকে স্বজন পরিবহন নামের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিকে গা ঘেঁষে চাপা দেয়। কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীরা দ্রুত তাঁকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সাময়িক উন্নতির পর তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৬ এপ্রিল রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।
রাজীবের মেজো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের দিনকাল বলতে মাদরাসায় আছি। ওখানেই থাকতে হয়। পড়ালেখা আসলে যতোটা ভালোভাবে চলার কথা ছিল ততোটা হচ্ছে না। আমি এখন     যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণীতে ও ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে অবশ্যই প্রাইভেট কিংবা কোচিং এর প্রয়োজন। যেটা আমরা পাচ্ছি না। নির্ধারিত খরচের অভাবে আমরা প্রয়োজনীয় কোচিং করতে পারছি না। মাদরাসায় থাকা খাওয়া এবং পড়ালেখার খরচ খালারাই তাদের সাধ্যানুযায়ী দিচ্ছেন। অনেকেই বলেছে আমাদের দুই ভাইকে পড়ালেখায় সাহায্য করবে অথচ কেউ করেনি। এটা কতোটা কষ্টের সেটা বলে প্রকাশ করা যাবে না। বাস দুর্ঘটনায় ভাইয়া মারা যাওয়ার পর আমাদের মূল দাবি ছিল ভাইয়ের হত্যার যেন সঠিক বিচার পাই। কিন্তু আজ পর্যন্ত হত্যা মামলা ও ক্ষতিপূরনের রায়ের পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়নি। কয়েকদিন পর শুনানি হয় আবার সেটা দু একদিন চালু থেকে পূণরায় স্থগিত হয়ে যায়। এই কথাগুলো আমরা কার কাছে বলবো। কে শুনবে আমাদের কথা?
আমার ভাইয়ের দুর্ঘটনার মূলে ছিল দুই বাসের চালক। যাদের সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এছাড়া আমরা মনে করি এই ঘটনার মূলে দায়ী ছিল বাস মালিক। যখন কোর্টে গিয়েছি তখন অপরাধিদের জোর গলায় বারবার বলতে শুনেছি যে, দুর্ঘটনার পরে আমরা বিশ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেছি। অথচ সেটা ভাইয়ার একদিনের চিকিৎসা খরচের ন্যূনতম ছিল না। আগে তারা আমার ভাইকে খুন করে পরে বিশ হাজার টাকা দিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছে। আমরাতো ওই টাকাটা চাইনি। আমরা আমাদের ভাইকে চেয়েছি। অথচ ভাইকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।
ভাইয়াকে ছাড়া আমাদের একটি বছর কেটে গেছে। কোর্টে অপরাধিরা যখন জোর গলায় কথা বলছিল তখন আমার কিছু বলার সুযোগ ছিল না। এ বিষয়ে এখন আর কোথাও কথা বলতে ভালো লাগে না। না মিডিয়ায়। না অন্য কোথায়। অনেকেই অনেকভাবে আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে আর তাদের কোনো দেখা পাইনি। কেউ চাইলে আমাদের পড়ালেখায় সাহায্য করতে পারেন। সেটা মূখ্য বিষয় নয়। তবে ক্ষোভ একটাই। ভাই হত্যার বিচার কেন পাচ্ছিনা আমরা। আমাদের জীবনে যাই ঘটুকনা কেনো একটাই কথা ‘ভাইয়ের হত্যার বিচার যেন পাই’। সত্যি বলতে রাস্তায় বের হলে যখনই বিআরটিসি বাস দেখি তখনই প্রথমে মনে পড়ে ভাইয়ার কথা। সামনে রমজান মাস। গত রমজানেও ভাইয়া ছিল না। এই রমজানেও ভাইয়াকে পাশে পাবো না। এটা ভাবতেই কান্না পায়। ভাইয়ের হত্যার বিচারটাই এখন আমাদের প্রধান চাওয়া। ভাইয়াই ছিল আমাদের একমাত্র অবলম্বন। ভাইয়া থাকায় বাবা মায়ের অভাবটা তখন ওভাবে বুঝতে পারিনি।  
ছোট ভাই আব্দুল্লাহ বলেন, আগের মতো একমদই ভালো সময় যাচ্ছে না আমাদের। ভাইয়াকে  হত্যায় জড়িত বাস চালক ও মালিকদের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ভালো সময় হয়তো আসবে না। আমরা নিজেদের জন্য কোনো কিছু চাচ্ছি না। কোনো আর্থিক সাহায্য কিংবা অনুদান চাচ্ছি না। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া অপরাধিদের কঠিন ও সর্বোচ্চ বিচার।

সুদান সঙ্কট: বহু বিক্ষোভকারীর প্রাণহানি, সঙ্কট বাড়ছে

ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হবার পর এ সপ্তাহে সুদানে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে
সুদানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গত কয়েকদিনে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হবার পর আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করেছে।
ইউনিয়ন বলছে, বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি অন্তবর্তী প্রশাসন গঠন না করা পর্যন্ত সুদানকে ইউনিয়ন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, এবং এটাই এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।
রাজধানী খার্তুমে কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে সরকার বলছে, তবে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা বলছেন নিহতের সংখ্যা শতাধিক।
গত কয়েকদিনে সুদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে ব্যাপক হতাহতের খবর আসতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু বলে নি।
গত বুধবার খবর বেরোয় যে নিহতের সংখ্যা শতাধিক এবং খার্তুম শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নীলনদ থেকে বহু মৃত দেহ তোলা হচ্ছে।
এসএফ নামের আধাসামরিক বাহিনীর লোকেরা - যাদের আগে জাঞ্জাওয়িদ মিলিশিয়া বলা হতো, প্রায় জনশূন্য রাজধানীর রাস্তাগুলোতে টহল দিচ্ছে এবং বেসামরিক লোকজনকে আক্রমণ করছে।
সুদানের সামরিক কাউন্সিল বিক্ষোভকারীদের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু বিরোধীদলীয় কর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তারা বলছে, কর্তৃপক্ষ যেরকম সহিংস উপায়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করার পথ নিয়েছে তাতে তারা এই সামরিক কাউন্সিলকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না।
সামরিক কাউন্সিলের ডেপুটি প্রধান মোহাম্মদ হামাদান ওই দমননীতিকে সমর্থন করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দুর্বৃত্ত এবং মাদকব্যবসায়ীরা ঢুকে পড়েছে, এবং তারা বিশৃঙ্খলা সহ্য করবেন না।
শহরের বাসিন্দারা বিবিসিকে বলেছেন, তারা আতঙ্কিত অবস্থায় রাজধানীতে বাস করছেন। হাসপাতালগুলোর ডাক্তার ও নার্সরাও ভয়ে কাজ করতে আসছেন না।
এরই মধ্যে আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে, যতদিন বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি অন্তবর্তী প্রশাসন গঠন না করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সুদানকে ইউনিয়ন থেকে সাসপেন্ড করা সহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন অবিলম্বে হত্যাকান্ডগুলোর তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে বিক্ষোভ এবং সেনা-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হবার পর জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান হচ্ছেন দ্বিতীয় সামরিক প্রশাসক।
তার সাথে এর আগে বিক্ষোভকারীদের এক সমঝোতা হয়েছিল যে তিন বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময় পার হবার পর সুদানে নির্বাচন হবে।
কিন্তু পরে জেনারেল বুরহান সে চুক্তি ভেঙে দিয়ে বলেন যে ৯ মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। একে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরেই সুদানের পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠেছিল।
খার্তুমের রাস্তায় টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী

ঈদে পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঈদকেন্দ্রিক বাণিজ্য বেড়েছে। ঈদবাজার ঘিরে এবার ৪৫ থেকে  ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে পোশাকের বাণিজ্য হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার। আর ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্য হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় ঈদ কেনাকাটা বাড়ে ১০-১৫ শতাংশ। সেই হিসেবে প্রধান প্রধান পণ্যের কেনাকাটায় এবার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মতে, এই লেনদেন আরো বাড়তো যদি কৃষক ধানের দাম পেত। ফলে ঢাকার বাইরে পাইকারি পণ্য কম সরবরাহ হয়েছে।
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
রমজানের মাসব্যাপী পোশাক বিক্রি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদ ঘিরে কী পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, তার সঠিক তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে গত বছর ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো বিক্রি হয়েছিল। এবার আমরা আশা করছি ঈদকে ঘিরে পোশাক বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সারা বছর বিক্রি হয় ২০ শতাংশের মতো, বাকি ৮০ শতাংশ বিক্রি বিভিন্ন উৎসব কেন্দ্র করে। আর উৎসব ঘিরে যে বিক্রি, তার বড় অংশই হয় রমজানের ঈদে। ঈদ অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি হচ্ছে পোশাকের বাজার। এ সময় দোকানগুলোয় পোশাকের বেচাকেনা তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যায়।
ঈদে আর্থিক ব্যয়ের কোন সঠিক চিত্র পাওয়া না গেলেও ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর অনুমানের ভিত্তিতে করা এক তথ্যে জানা গেছে, এবার ঈদ-বাণিজ্যে ৬০ শতাংশ পোশাক, ২০ শতাংশ খাদ্যদ্রব্য এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্য পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
এফবিসিসিআইয়ের এক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে যুক্ত হয় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু পোশাক কেনাকাটায় যাচ্ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা। ভোগ্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে ২০ লাখ দোকান, শপিংমল, বিপণিবিতান রয়েছে। গড়ে একটি দোকানে ৩ জন করে হলেও ৬০ লাখ কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য মতে, নিম্নে একজন কর্মীকে ৫ হাজার টাকা ও উর্ধে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বোনাস দেয়া হয়। গড়ে বোনাস ৮ হাজার টাকা হিসাবে এ ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বোনাস পাচ্ছেন এ খাতের শ্রমিকরা। যা পুরোটাই ঈদ উৎসব অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ পোশাকের বাজার: ঈদুল ফিতরে অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি হচ্ছে পোশাকের বাজার। এ সময় দোকানগুলোয় পোশাকের বেচাকেনা তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যায়। অভ্যন্তরীণ পোশাকের সবচেয়ে বড় জোগান আসছে পুরান ঢাকার পোশাক মার্কেট থেকে। ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটসহ দেশের বিভাগীয়, জেলাসহ মফস্বল মার্কেটগুলোয় দেশি পোশাক সরবরাহ হচ্ছে এখান থেকে। এখানে রয়েছে সাড়ে ৪০০ পোশাকের দোকান। রোজা ও ঈদ উপলক্ষে এসব দোকানে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। দেশের বুটিক ও ফ্যাশন হাউসগুলো বেশ ব্যস্ত। ঈদের বাজার ধরতে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত পণ্য তৈরি করেছে।
গ্রামীণ কুটিরশিল্প: রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। টাঙ্গাইলের তাতের শাড়ির চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের লুঙ্গি ও তাঁতের কাপড় সারা দেশে ব্যাপকভাবে চলছে। মুন্সীগঞ্জের রুহিতপুরী তাঁতের কাপড়ের চাহিদাও তুঙ্গে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের টাওয়ালের চাহিদাও ব্যাপক। নারায়গঞ্জের রূপগঞ্জে তাঁতের পাইকারি বাজারেও একই অবস্থা। রূপগঞ্জের রূপসীর জামদানি শাড়ি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। তাঁতের এসব তৈরি কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় ঢাকাকেন্দ্রিক ফ্যাশন হাউস ও বস্ত্র ব্যবসায়ীরা এখন তাঁতীদের কাছ থেকে কাপড় সংগ্রহ করেন। এসব মিলে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পগুলোতেও হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে।
ভোগ্যপণ্যের বাজার: ঈদে সব ধরনের নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ভোজ্য তেল, মাংস, চিনি, ডাল, সেমাই এবং পিয়াজ। ফলে এসব পণ্যের আমদানিও বাড়ে। রোজা ও ঈদে ভোজ্য তেলের চাহিদা হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টন, চিনি সোয়া ২ লাখ টন থেকে পৌনে তিন লাখ টন, ডাল ৬০ হাজার টন, ছোলা ৫০ হাজার টন, খেজুর ১৩ হাজার টন, পিয়াজ ৩ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন, রসুনের চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। এসব পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব টাকার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকার জোগান দেয়া হয়। এসব পণ্য কেনাকাটায় ভোক্তারা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে রোজা ও ঈদ অর্থনীতি নিয়ে ২০১৫ সালের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ঈদকেন্দ্রিক ধনীদের জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসে ৬০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, পরিবহন খাতে অতিরিক্ত খরচ হয় ৬০০ কোটি টাকা। ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার কোটি টাকা। এসব খাতে নিয়মিত প্রবাহের বাইরে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও কয়েকটি খাতের কর্মকা- অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ২০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্ভাব্য বোনাস বাবদ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, দেশব্যাপী ৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর বোনাস ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের সম্ভাব্য বোনাস ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ঈদ অর্থনীতিতে বাড়তি আসছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এসব মিলে ঈদ কেন্দ্রিক অর্থনীতির আকার প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঈদে টাকার প্রবাহ বাড়ে। এর কারণ হলো, ঈদে মানুষ বিভিন্নভাবে টাকা খরচ করে থাকেন। নতুন পোশাক ছাড়াও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের জন্য খরচ বাড়ায়। ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসায় খরচ বাড়ে। ঈদে আনন্দ এবং ভ্রমণেও অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশের মানবাধিকার-গণতন্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ

বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।
তবে বুধবার (৫ জুন) প্রকাশিত ‘মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
প্রতিবেদনে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ ও সহিংসতার বিষয়টি নজরে এসেছে ব্রিটিশ সরকারের। এসব অভিযোগকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মনে করেন তারা। নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হলেও গ্রেফতার এবং ভোটের দিন নানা অনিয়ম, অনেককে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে নানাভাবে ‘নির্বাচনি প্রচারে প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট ও অনড় যে, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চাই; যা একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এই বার্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৌঁছে দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। সীমিত হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার দিক থেকে বাংলাদেশ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের ‘অগ্রাধিকারে’ থাকছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে চাপে রাখার অভিযোগগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
বাংলাদেশে এখনও সমকাম নিষিদ্ধ উল্লেখ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এলজিবিটির পক্ষের কর্মীরা অতীতে উগ্রপন্থীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে ও এখনও তারা চাপে আছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুম, ধর্মীয় কিংবা বিশ্বাসগত স্বাধীনতা এবং আধুনিক দাসত্বের বিষয়কে প্রাধান্য দেয় যুক্তরাজ্য।
প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক ‘গুম’-এর ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘দায়মুক্তি’ পাওয়ার অভিযোগ সমর্থন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অক্টোবরে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি নজরে রেখেছে ব্রিটিশ সরকার। ২০১৮ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬তম। ২০১৭ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৫৪ জন সাংবাদিককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আগের চেয়ে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরের অবস্থার উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এমপি হিসেবে মেয়াদ মাত্র একদিন হলেই খুশি: রুমিন ফারহানা

সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের মেয়াদ মাত্র একদিন দেখতে চান বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে সদ্য শপথ নেওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রবিবার (৯ জুন) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, খুব খুশি হবো আমার সংসদ সদস্য হওয়ার মেয়াদ একদিনের বেশি না হলে। আমি চাই যেন অতি দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়।
এর আগে দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনস্থ তার কার্যালয়ে রুমিন ফারহানাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
শপথ শেষে রুমিন বলেন, ‘এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গঠিত হওয়ার পর আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই সংসদকে অবৈধ বলেছি। আমি এখনও তা বলছি।’
অবৈধ বলছেন তাহলে কেন শপথ নিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ, যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সংখ্যাগত দিক থেকে নিশ্চয়ই অনেক কম। তারপরও আশা করছি, সংসদে যদি একজনও ন্যায্য কথা বলেন তাকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের নিজের স্বার্থেই এই সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত।
দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। তাকে জামিন বঞ্চিত করে কারাগারে রাখা হয়েছে, এর পুরোটাই বেআইনি। এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। নিশ্চয়ই সেই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে কথা বলবো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখলেন আমি মাত্রই শপথ নিয়েছি। সুতরাং আমার বরাদ্দ পাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসেনি। আর পুরো বিষয়টি কী হয়েছে আমার জানা নেই। আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি এটা দেখবো।’
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার একদিন আগে শনিবার (৮ জুন) বিকালে ‘কাবিখা’ কর্মসূচির (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) বরাদ্দ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ফাস্ট গেইট এলাকায় বিএনপির দু গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন এবং ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ১ ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই লজ্জার।’

ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ৪০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে ৪০ লাথেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৫০টি দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। খাদ্য-ওষুধের প্রবল সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসী আশ্রয় নিচ্ছেন প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশে। যুক্তরাষ্ট্রসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা মনে করে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ গোয়াইদোর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় বিতরণ করা সম্ভব হলে তা মাদুরোর ভাবমূর্তিকে দেশবাসীর সামনে ম্লান করে দিতে সক্ষম হবে। আর মাদুরোর দাবি, ত্রাণ দেওয়ার মাধ্যমে সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের।
জাতিসংঘ জানায়, ২০১৫ সালের শেষ দিকে থেকে দেশত্যাগের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিগত সাত মাসেই পালিয়েছে ১০ লাখ মানুষ। তারা জানার্য়, এই অভিবাসী ও শরণার্থীদের জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানায়, বিশ্বে এখন ভেনেজুয়েলার জনগণই সবচেয়ে বেশি স্থানচ্যুত। জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সূত্র থেকে তারা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তবে তারা এই দেশত্যাগ শুরুর নির্দিষ্ট কেনাও তারিখের কথা বলেনি।  
শরণার্থ বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র বিবিসিকে জানায়, যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক অভিবাসীর প্রকৃত হিসেব কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
ভেনেজুয়েলার শরণার্থী ও অভিবাসীর জন্য ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের বিশেষ প্রতিনিধি এডুয়ার্ডো স্টেইন বলেন, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে এই সংকট বেশি। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এর সমধানা করা সম্ভব নয়।
লাতিন আমেরিকাতেই বেশিরভাগ ভেনেজুয়েলান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী কলম্বিয়াতে ১৩ লাখ ও পেরুতে ৭ লাখ ৬৮ হাজার ভেনেজুয়েলান নাগরি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া মধ্য আমেরকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতেও প্রচুর ভেনেজুয়েলান রয়েছে।

আবার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আশ্বাস মালয়েশিয়ার

আবারও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে এ আশ্বাস পাওয়া গেছে। গত ১৪ মে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠক সম্পর্কে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি দাতো সেরি উতামা মহিউদ্দিন ইয়াসিন এবং মানবসম্পদমন্ত্রী তান কুলাসেগারানের সঙ্গে তাঁদের কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় আলাদা বৈঠক করেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ।
বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার শিগগিরই উন্মুক্ত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। এ ছাড়াও বৈঠকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে স্থগিত থাকা শ্রমবাজারকে উন্মুক্ত করা প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী তান কুলাসেগারান বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার সরকার সব সময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। শিগগিরই বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপিত হবে।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৩১ মে একটি দ্বিপক্ষীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভার প্রস্তাব করা হয়েছে। শ্রমবাজার প্রসঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় করণীয় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষই মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বিদেশি কর্মীদের হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হওয়াসহ নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ শনিবার মালয়েশিয়ায় গেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। এতে অন্তত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া চালু করতে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) একাধিকবার বৈঠক করলেও সংকটের সুরাহা হয়নি। অভিযোগ তদন্তে মালয়েশিয়া সরকারের গঠিত স্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এখন মন্ত্রণালয় সময় বাড়ানোর আবেদন করবে বলে জানা গেছে। গত বছর মাঠে নামলেও থমকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান। বরং পুনরায় এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই সংঘবদ্ধ চক্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত বছর একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশের ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। এই ১০ এজেন্সি সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পায়। এর সঙ্গে জড়িত দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি লোকজন। এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি খরচের অতিরিক্ত ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে কোনো বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে এর আগে ভিসা পাওয়া কর্মীরা সেপ্টেম্বরের পরও মালয়েশিয়া গেছেন। সব মিলিয়ে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন।
গত বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মী গেছেন ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। এ বছরের প্রথম তিন মাসে গেছেন মাত্র ৫৫ জন। অথচ গত বছর প্রতি মাসে গড়ে কর্মী গেছেন প্রায় ১৫ হাজার। এ হিসাবে বাজার চালু থাকলে গত ৮ মাসে নতুন করে এক লাখের বেশি কর্মী চাকরি পেতেন বলে মনে করেন শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে এখন বাজার চালু করায় সরকারের মনোযোগ বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

যে কারণে জোরালো নয় সংসদীয় কমিটির ভূমিকা by কাজী সোহাগ

মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রকল্পে নয়ছয়ের ঘটনা রোধে জোরালো ভুমিকা নেই সংসদীয় কমিটিগুলোর। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিজ নিজ এলাকায় পাটপণ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ার মতো দায়সারা সুপারিশেই সীমাবদ্ধ কমিটিগুলোর কর্মকান্ড। মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির কোন ইস্যু কমিটির বৈঠকের এজেন্ডাতেও স্থান পায় না খুব একটা। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বেশিরভাগ আগের বারের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। তাই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংসদ ও সংসদীয় কমিটি নিয়ে পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ পরিস্থিতিতে সংসদীয় কমিটিগুলোকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে মনে করছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকর হতে অন্যতম বাধা আগের মন্ত্রীদের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া। এতে স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুযোগ তৈরি হয়।
এটাকে পরিহার করা উচিত। নাহলে সংসদীয় কমিটি এখন যেমন কাগুজে বাঘ হিসেবে আছে ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গত সরকারের মন্ত্রীদের। এগুলো হচ্ছে-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফছারুল আমিন, কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মেহের আফরোজ চুমকি। টিআইবি জানিয়েছে, এককেন্দ্রিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কারণে কমিটির কার্যক্রমও রাষ্ট্র-সংসদের সব কার্যক্রমের মতো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
এছাড়া কমিটির সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে বলেও মনে করে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান বা সাবেক কোনো মন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা সদস্য পদ না দেয়ার বিধান, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবেদনশীল বিষয় ছাড়া কমিটির সভা সংসদ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার এবং কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক বা অন্য স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টিআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কমিটিকে ব্যবহার করছেন। কমিটির সিদ্ধান্তের একটি বড় অংশ বাস্তবায়িত হয় না। কমিটিতে দুর্নীতি সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে কম।
তবে এ নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। মানবজমিনকে তিনি বলেন,এটা আসলে নির্ভর করে কমিটির সদস্যদের উপর। সভাপতি একা কোন বিষয় চেপে যেতে পারেন না। কমিটির সদস্যরা তো মুখ খুলতে পারেন। তারা প্রশ্ন করতে পারেন। উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন,আমার মন্ত্রণালয়ে বয়স্কভাতা ও নীতিমালা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করতে সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, অন্য কমিটিতে কেন হয় না তা বলতে পারবো না। সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকা- সমীক্ষার উদ্দেশ্যে সংসদ-সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় কমিটি। পৃথিবীর বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই এ ধরনের সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এ কমিটিগুলো  জাতীয় সংসদ সদস্যদের কার্যত কর্মব্যস্ত রাখে।
নিজেদের তারা সংসদের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন এবং নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ব্যাপারেও তারা সজাগ থাকেন। কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজেদের সম্পাদিত কর্মকান্ডের ব্যাখ্যা দেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির সামনে প্রয়োজনীয় তথ্য পেশ করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকা-ের উপর নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিগণ রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে নিজেদের ওয়াকিবহাল রাখার সুযোগ পান। হিসাব ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে আর্থিক কমিটিগুলো সরকারের আর্থিক ক্ষমতা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা তা নিরূপণ করে। একইসঙ্গে অনুমোদিত রীতিনীতি অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে কিনা তাও যাচাই করে। সংসদ নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কাগজে-কলমে সংসদীয় কমিটির এসব কাজ করার কথা থাকলেও আসলে এসবের কিছুই হয় না। তারা জানান, সংসদীয় কমিটিগুলোতে মন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকেন। এতে শুরু হয় মন্ত্রী ও সভাপতির মধ্যে মনকষাকষি।
মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিরা চান কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিগুলোকে সুপারিশকারী সত্তার অতিরিক্ত কিছু হিসেবে দেখতে চান না। মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতির মনকষাকষি অনেক সময় প্রকাশ্য রূপ নেয়। এতে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া, এসব কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বিরত থাকে। ফলে দিন দিন সুপারিশের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুপারিশ হারিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কমিটির বৈঠকের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে না। প্রসঙ্গত জাতীয় সংসদ বরাবরই কমিটি কাঠামো বিন্যাস করে আসছে। প্রথম সংসদের অধীনে ১৪টি কমিটি গঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় সংসদে কমিটির সংখ্যা ছিল ৫১, স্বল্প মেয়াদী তৃতীয় সংসদে ৬ এবং চতুর্থ সংসদে ৪৮ টি। সময়ের পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় কার্যপরিধি বৃদ্ধির কারণে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা পঞ্চম সংসদের অধীনে ৫৩ এবং সপ্তম সংসদে ৪৮-এ দাঁড়ায়। একইসঙ্গে উপ-কমিটির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তম সংসদ গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর প্রধান ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগণ।
সপ্তম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনেই কার্যপ্রণালী বিধিতে একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। এ সংশোধনী অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সবগুলোতেই মন্ত্রীদের পরিবর্তে সংসদ-সদস্যদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে কার্যকরভাবে জবাবদিহিতা আদায়ে কমিটিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। অষ্টম সংসদে স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ছিল ৪৮ এবং ২০০৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এ সংসদে ১৩১ টি উপ-কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি ও উপ-কমিটি অক্টোবর ২০০১ থেকে জুলাই ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে যথাক্রমে ১১৫৭ এবং ৪২১ টি সভায় মিলিত হয়। এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত কমিটি ১২ টি প্রতিবেদন পেশ করে। ২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার পর সংসদে দলীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সংসদের সমন্বয়ে ৪৮ টি কমিটি গঠন করা হয়।

সুদানে অসহযোগ, বিরোধী নেতাদের গণগ্রেপ্তার

সুদানে অন্তর্বর্তী সামরিক কাউন্সিলের (টিএমসি) বিরুদ্ধে গণ অসহযোগ আন্দোলন ডেকেছে প্রধান বিরোধী গ্রুপগুলো। জবাবে সামরিক কাউন্সিল গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে সুদানিজ প্রফেশনালস এসোসিয়েশন (এসপিএ)। তারা বলেছে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ডাকা ওই অসহযোগ আন্দোলনকে সামনে রেখে ব্যাংক, বিমানবন্দর ও বিদ্যুত বিভাগের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মজীবীদেরও হুমকি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ- এমন দাবি করেছে এসপিএ। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে নি সামরিক কাউন্সিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
কয়েকদিন আগে রাজধানী খার্তুমে সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নে নিহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। এরপর রোববার থেকে সেখানে অসহযোগ আন্দোলন ডেকেছে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রচারণাকারী গ্রুপগুলো।
এপ্রিলে এ দেশটিতে ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। তারা ক্ষমতা দখল করে বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু সোমবার খার্তুমে অবস্থান ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যে নিপীড়ন চালিয়েছে তাতে তাদের এই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছে না গণতন্ত্রপন্থিরা। সেনাবাহিনী এরই মধ্যে যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। সরকার গ্রেপ্তার করেছে বিরোধী দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। তারাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে মধ্যস্থতা চেষ্টায় জড়িত ছিলেন।
খার্তুমের সর্বশেষ অবস্থা
রাজধানীতে বেশির ভাগ অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শহরের ট্রাফিক লাইটগুলো জ্বলছে। খার্তুম থেকে বিবিসির সাংবাদিক ক্যাথেরিন বারুহাঙ্গা এ খবর দিচ্ছেন। এতে বলা হয়েছে, রাজধানী খার্তুমের বেশি ভাগ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গুলি বিনিময়ের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা লোকজনকে বাড়িতে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কোনো কাজে যোগ দেবেন না। এটা হলো গণ অসহযোগ। তাদের যুক্তি সেনাবাহিনী যে নৃশংসতার সঙ্গে দমনপীড়ন চালাচ্ছে তাতে সাধারণ বিক্ষোভ চালানো আর সম্ভব নয়। ফলে এসপিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, রোববার থেকে শুরু হচ্ছে গণ অসহযোগ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যদি বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়া হয় শুধু তাহলেই এই অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ হবে। অসহযোগ আন্দোলন হলো শান্তিপূর্ণ একটি কর্মসূচি। এটি হলো বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
তাদের এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো এমন একটি কার্যকর অচলাবস্থা সৃষ্টি করা, যার অধীনে সামরিক কাউন্সিল দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়।
বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করেন বিরোধী রাজনীতিক মোহামেদ আসমত। এর পর পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সকালের দিকে গ্রেপ্তার করা হয় এসপিএলএম-এন গ্রুপের নেতা ইসমাইল জালাব ও তার মুখপাত্র মুবারক আরদোলকে। তাদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে জানা যায নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গ্রেপ্তার অভিযান এটাই প্রমাণ করে যে, সামরিক বাহিনী মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।
বুধবার খার্তুমে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এসপিএলএম-এনের উপপ্রধান ইয়াসির আরমানকে। ওমর আল বশিরের পতনের পর তিনি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছিলেন।
আসমত এবং জালাব দু’জনেই ছিলেন অ্যালায়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের শীর্ষ স্তানীয় দুই নেতা। বিরোধী নেতা, প্রতিবাদী জনতা ও বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর কাছে অ্যালায়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ হলো একটি আমব্রেলা সংগঠন।

ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদে হেলিপ্যাড by দীন ইসলাম

ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদে হেলিপ্যাড করার অনুমতি দেয়া হবে। তবে ভবনটি অবশ্যই হেলিপ্যাড ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। এজন্য বুয়েট থেকে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিতে হবে। সার্টিফিকেট ছাড়া হেলিপ্যাড স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে না। এছাড়া দেশের যে কোন খোলা জায়গায় হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা বানাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে। এজন্যও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নীতিমালা তৈরি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে নীতিমালার খসড়া যাচাই বাছাই করা হয়। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির মানবজমিনকে বলেন, হেলিপোর্ট নির্মাণ ও হেলিপ্যাড স্থাপনের নীতিমালা চূড়ান্ত করার জন্য প্রাথমিক বৈঠক চলছে। আরও যাচাই বাছাই শেষে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক স্থাপনা তৈরির জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে সব বেসরকারি হেলিকপ্টার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এরপর বেবিচকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পরিদর্শন হয়। এরপরই হেলিপোর্ট নির্মাণে নীতিমালা তৈরির উপর জোর দেয় বেবিচক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল সমপ্রসারণের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব হেলিকপ্টার সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনা স্থানান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজন্য বসুন্ধরা গ্রুপ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাঁচ নটিক্যাল মাইল পূর্ব দিকে প্রথম বেসরকারি হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপন করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের জমির পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় আগামী ২৫ বছর মেয়াদে ভবিষ্যৎ সমপ্রসারণসহ বাংলাদেশে পরিচালিত সব হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রকল্পটিতে। একই সঙ্গে ফ্লাইট অপারেশন, অফিস ও বাণিজ্যিক স্পেস, এমআরও প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার সেবা প্রদানের অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে ওই হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে বেসরকারি হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ২৯৭ বর্গফুট জায়গায় তাদের হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাণিজ্যিকভাবে বর্তমানে আটটি কোম্পানি হেলিকপ্টার ব্যবসা করছে। এগুলো হচ্ছে শিকদার গ্রুপের আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস, ইমপ্রেস এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার, মেঘনা এভিয়েশন, পারটেক্স অ্যারোটেকনোলজি, স্কয়ার এয়ার, বসুন্ধরা এয়ারওয়েজ ও সাউথ এশিয়ান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হেলিকপ্টার রয়েছে শিকদার গ্রুপের।
তাদের বিভিন্ন মডেলের সাতটি হেলিকপ্টার রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস। ২০০৮ সাল পর্যন্ত মাত্র দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা প্রদান করত। বর্তমানে লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় আছে আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানি। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মকান্ড, বিত্তবানদের বরযাত্রা ও ভিআইপি যাত্রী বহনে হেলিকপ্টারের ব্যবহার বেশি হয়। এছাড়া জরুরি মিটিং, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো, লিফলেট বিতরণ, রোগী বহন, শুটিং, মরদেহ বহনসহ বিভিন্ন কাজেও এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার হচ্ছে। যানজটের ঝামেলা এড়াতে ও ঢাকার বাইরে মিটিংয়ে যেতে অনেক ব্যবসায়ী এখন নিয়মিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বিদেশী ক্রেতাদের নিয়ে কারখানা পরিদর্শনে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করছেন। প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার থেকে যাত্রীরা হেলিকপ্টারে ওঠেন এবং এখানেই অবতরণ করেন।

যখনই বিমানে উঠি একটা ঘটনা ঘটে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা একটা লক্ষণীয় বিষয়, যখনই বিমানে উঠি একটা ঘটনা ঘটে বা একটা নিউজ হয়। তিনি বলেন, কেন হয়, তা তিনি জানেন না।
ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে রবিবার (৯ জুন) বিকাল ৫টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন পাসপোর্ট ছাড়া কাতারে গিয়ে আটকা পড়েন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো পাসপোর্ট ভুলে যেতে পারে, এটা কোনও ব্যাপার না। তবে এখানে ইমিগ্রেশনের নজর থাকতে হবে। আমি বলেছি ব্যবস্থা নিতে। ইমিগ্রেশনে কারা ছিল, কেন দেখেনি?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমি আরেকটা কথা বলবো, আমি কিন্তু এখন ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি করতে বলেছি। আমাদের সবাই তো ভিআইপি! তারপর ভিভিআইপি, তারপর আরও ‘ভি’ লাগবে। যত ‘ভি’-ই থাকুক, কাউকে ছাড়া হবে না। প্রত্যেকের পাসপোর্টে সিল মারা আছে কিনা, চেকটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, সব ব্যবস্থা করতে হবে। আত্মীয়-স্বজনকে সি-অফ করতে গেলেও বিমানবন্দরে টিকিট করে যেতে হবে। সেখানেও একটু কড়াকড়ি করতে হবে।’
তিনি বলেন, দিনরাত এত পরিশ্রম করে, প্লেন কিনে বিমানকে একটা অবস্থানে আনা হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, আমি চেষ্টা করছি আরও কয়েকটা নতুন রুটে যাবো। মোটামুটি একটা ব্যবস্থাপনা করে ফেলেছি। তখনই এক একটা ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ভালো করেই জানেন, আগের ক্ষমতাসীনরা এটাকে কীভাবে ব্যবহার করেছে। ছিলই তো না কিছু, ডিসি-১০ একটা কোনও রকম, জঘন্য অবস্থায় ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটু ভালোভাবে চেক করছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেকের পছন্দ হবে না, আমি জানি। আগে যেগুলো সহজে করতে পারতো। বিমানকে ঠাট্টা করে বলতো ‘স্বর্ণপ্রসবকারী বিমান’। খালি গোল্ড পাই, আমাদের রিজার্ভ বাড়ে, খুব ভালো কথা। সেগুলো বন্ধ করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই সিকিউরিটির ওপরে একবার ব্রিটিশরা, একবার অস্ট্রেলিয়া ব্যান দিলো। সেটাও আমরা মিট আপ করেছি।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিমানটা নিয়ে যারা খেলতো তাদের সমস্যা হচ্ছে। আপনারা জানেন এখানে কারা কীভাবে চাকরি পেয়েছে। আমি বলেছি সব খুঁজে ব্যবস্থা নিতে হবে। এত বিমান আমরা কিনে দিলাম, এত সুন্দরভাবে চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালিরা যে যেখানে আছে, নিজের দেশের ক্যারিয়ারে চড়ার জন্য পাগল। টিকিট নিয়ে ঝামেলা ছিল, বলে যে টিকিট নাই, অথচ সিট খালি। আমার মতো আমি ধরলাম, এখন আর সিট খালি থাকে না। যারা সিটের ব্যবসা করতো, তাদেরও একটা ক্ষোভ আছে। সেটা আপনাদের বোঝা উচিত। এজন্য যখনই আমি যাই, তখনই একটা ঘটনা ঘটে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে শত শত মেইল যাচ্ছে, আপনি বিমানে আসবেন না। বিমানে আসবো না মানে! যা হওয়ার হোক, মরলে নিজের প্লেনেই মরবো! নিজের প্লেনে মরলে তো নিজের মাটিতে মরলাম! আমি আমার বিমানেই যাবো। আমি অন্য কোনও এয়ারলাইনে যাবো না। আমি চলে আসলাম। প্রথম বলেছিলাম, দেখো, অন্য কোনও এয়ারলাইন যদি না আসতে পারে, পাইলট পৌঁছাতে না পারে, তখন অন্য পথ তো খুঁজতেই হবে। পাইলট যখন পৌঁছে গেলো, আমার আর সমস্যা হয় নাই, আমি চলে আসলাম।’
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর করেন। ১১ দিনের সফর শেষে শনিবার (৮ জুন) সকালে দেশে ফেরেন তিনি।

মোদীর হিন্দুত্বের জিগিরে ভারতে মুসলিমদের পরিণতি কি?

গত ২৫ মে শনিবার পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে নবীন এমপিদের সামনে দেয়া এক ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারতের মুসলিম সমাজকে এতকাল 'কাল্পনিক এক বাতাবরণ' তৈরি করিয়ে মিথ্যে ভয় দেখিয়ে আসা হয়েছে - যা এবার বন্ধ করার সময় এসেছে।
মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদরা কিন্তু বলছেন, এই 'ভয়' আদৌ অমূলক নয় - আর মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি যে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা নিয়ে চলছে তাতে আগামী পাঁচ বছরে অন্যরকম কিছু হবে বলে ভাবাও যাচ্ছে না।
সিওনিতে বিফ-হামলা, পার্লামেন্টে কাল্পনিক ভয়
ভারতে লোকসভার ভোটের ফল তখনও বেরোয়নি। ভোট গণনার আগের রাতে মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলায় বিফ বা গরুর গোশত বহন করা হচ্ছে, এই সন্দেহে জনতা একজন মহিলাসহ তিন ব্যক্তিকে আটকে বেদম মারধর করে - যাদের নাম দিলীপ মালভিয়া, তৌফিক ও আনজুম শামা।
খবর পেয়ে প্রথমেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেফতার করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের - আর মাংসের নমুনা পাঠানো হয় হায়দ্রাবাদে পরীক্ষার জন্য। এর দুদিন বাদে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মুসলিমদের এতকাল মিথ্যে ভয় দেখিয়ে আসা হয়েছে।
তার কথায়, "এতদিন দেশের সংখ্যালঘুদের ভুল বুঝিয়ে আসা হয়েছে। ভাল হত যদি তাদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করা হত, যদি সমাজজীবনের বিভিন্ন স্তরে ওই সমাজ থেকে নেতারা উঠে আসতেন।"
"কিন্তু তা না-করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তাদের সামনে একটা কাল্পনিক বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে - তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে দূরেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে, দাবিয়েও রাখা হয়েছে।"
"শুধুমাত্র ভোটে তাদের কাজে লাগানোর এই ছল এবার বন্ধ হবে, এটাই ২০১৯-এ এসে আমার কামনা।"
হিন্দু রাষ্ট্রের জিগির
কিন্তু মোদীর এই বক্তব্যে কতটা ভরসা করতে পারবেন ভারতের মুসলিমরা? কারণ এই প্রধানমন্ত্রীর আমলেই গত পাঁচ বছরে দেশের নানা প্রান্তে মুসলিমরা আক্রান্ত হয়েছেন - আর তার দলের নির্বাচনী প্রচারেও বড় অংশ জুড়ে ছিল হিন্দুত্বর জিগির।
কাজেই প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোনো আশার আলো দেখছেন না অ্যাক্টিভিস্ট ফারাহ নাকভি। তিনি বলছিলেন, "দেখুন আগামীতে কী ঘটবে সেই পূর্বাভাস করতে পারব না - তবে এটুকু বলতে পারি বিজেপির এবারের জয় আসলে হিন্দুত্বর ও হিন্দু রাষ্ট্রের চেতনার জয়, যেটা মৌলিকভাবেই সংখ্যালঘু-বিরোধী।"
"এই হিন্দু রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ছাড়া কিছুই নয়।"
"এখন প্রশ্ন হল, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে যে কথা বলেছেন সেটা কি সংখ্যালঘু প্রশ্নে বিদেশি গণমাধ্যমকে সন্তুষ্ট করার জন্য বললেন - না কি যে দক্ষিণপন্থী ক্যাডাররা গত পাঁচ বছর ধরে যে সহিংসতা আর গণপিটুনি চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন?"
প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের যে ভয়কে অমূলক বলছেন, সেটাও একেবারেই মানতে রাজি নন ফারাহ নাকভি।
"হামলার ঘটনাগুলো তো সত্যি সত্যি ঘটেছে, আমাদের অভিজ্ঞতায় সেটা আছে - কাজেই ভয়টা কেন কাল্পনিক হবে? বরং তারা তাদের কাজে প্রমাণ দিন যে সত্যিই মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।"
"বিজেপি নেতারা সবাই ভোটের শেষ কয়েক সপ্তাহে লাগামছাড়া হিন্দুত্বের প্রচার করেছেন, সন্ত্রাসে অভিযুক্ত একজন হিন্দু সাধ্বীকে জিতিয়ে পার্লামেন্টে পাঠিয়েছেন।"
"গান্ধীর হত্যাকারীকে দেশপ্রেমী বলে তারিফ করা সেই প্রজ্ঞা ঠাকুরকে বিজেপি সাসপেন্ড করে দেখাক - তবে না দেশের মুসলিম বা দলিতরা বুঝবে আগামী পাঁচ বছর তাদের জন্য একটু নিরাপদ হতে পারে!", বলছিলেন নকভি।
'মোদীকেও মাটিতে ফেলতে পারে মানুষ'
হায়দ্রাবাদের এমপি ও ভারতের মুসলিম সমাজের প্রথম সারির নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আবার বিশ্বাস করেন, হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার আড়ালে লুকিয়ে নরেন্দ্র মোদী এবার কিন্তু আর পার পাবেন না।
ওয়াইসি বলছিলেন, "গত টার্মের তুলনায় এবারে ফারাক একটাই হবে বলে আমার ধারণা - হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আর অকর্মণ্যতা বিজেপি আর ঢাকতে পারবে না।"
"কাজেই হিন্দুত্বর অ্যাজেন্ডা তাদের কিছুটা চাপা দিতেই হবে। নইলে যে হিন্দুস্তানের জনতা মোদীকে আকাশে তুলেছে, তারাই আবার একদিন জমিতে ফেলবে - ইন্দিরা গান্ধীর কথা নিশ্চয় সকলেরই মনে আছে।"
কিন্তু নরেন্দ্র মোদী তার দ্বিতীয় দফায় শেষ পর্যন্ত কোন রাস্তাটা বেছে নেবেন, সেটা শেষ পর্যন্ত তার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন মুসলিম দার্শনিক ও অধ্যাপক ড. মীরাতুন নাহার।
ড. নাহারের কথায়, "ভারতবর্ষের মতো একটা বহুজাতিক দেশে যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজের একটা নাম রেখে যেতে চান তাহলে যে নীতিগুলো তিনি এতদিন অনুসরণ করে এসেছেন তা এবার তাকে বিসর্জন দিতেই হবে।"
"কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না এ ব্যাপারে তার নিজের কোনও স্বাধীনতা আছে - আর স্বাধীনতা নেই বলেই বিজেপি-আরএসএসের অনুসৃত এই বিভাজনের রাজনীতিতে তিনি প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন।"
"নতুন মেয়াদেও স্বাধীনতা-বিহীন অবস্থায় সেই একই নীতি তিনি জারি রাখবেন বলেই আমার আশঙ্কা", বলছিলেন মীরাতুন নাহার।
অর্থাৎ যে ধর্মীয় বিচারধারার ভিত্তিতে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী সাফল্য এসেছে, দেশের শাসক হিসেবে তিনি তা থেকে উত্তীর্ণ হতে পারবেন কি না এই সংশয় ভারতের মুসলিম সমাজের ভেতর কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।

প্রথম বিদেশ সফরে মালদ্বীপে মোদি

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার মালদ্বীপ সফরে গেছেন। গত নভেম্বরে তিনি সে দেশের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলিহ’র শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। এর আগে মোদি প্রথম দফায় শপথ নিয়ে সফর করেছিলেন ভুটান। তার এসব সফরকে তার সরকারের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ পলিসি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতে, বেশ কয়েক বছর ধরে মালদ্বীপে খুব বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। সেখানে সামরিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’য়ে সহায়তা দিয়েছে। ১৯৮৮ সালে এই দেশটির রাজধানী মালে’তে একটি সামরিক অভ্যত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় ভারত। এক্ষেত্রে তারা অপারেশন ক্যাকটাসের সহায়তা নেয়।
এ সহায়তার অংশ হিসেবে ভারতীয় সেনারা উড়ে যান মালদ্বীপে এবং উদ্ধার করেন তখনকার প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১২০০ কিলোমিটার দূরের দ্বীপদেশ মালদ্বীপ। এখানে বসবাস করেন প্রায় ২২০০০ ভারতীয়। কৌশলগত দিক দিয়ে এ দেশটি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দেশটির সদ্য বিদায় নেয়া প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন চীনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসেন ২০১৩ সালে। তারপর থেকে অবকাঠামো খাতে চীনের কাছ থেকে ঋণ করেছেন কোটি কোটি ডলার। এর ফলে দেশকে তিনি ঋণের ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। চীনের দিকে মালদ্বীপের ঝুঁকে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত।
মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলিহ’র মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি গত বছর নির্বাচনের সময় চীনবিরোধী অবস্থান নেয়। নির্বাচনে তারা বিজয়ী হয়েছে। এতে ভারত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। শপথ নেয়ার পর ইব্রাহিম সোলিহ তার প্রথম বিদেশ সফরে আসেন ভারতে। গত ডিসেম্বরে ভারত মালদ্বীপকে ১৪০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে চীনের কাছে মালদ্বীপের রয়েছে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ।
এ অবস্থায় মোদির সফরের সময় শনিবার দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সংযুক্তি বিষয়ক প্রকল্প সহ বিভিন্ন ইস্যুতে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এ ছাড়া ভারত আরো আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিতে পারে। ওদিকে মালদ্বীপ ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাদের জাতীয় ক্রিকেট টিমের বিষয়ে সহায়তা করতে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ভারত কাজ শুরু করে দিয়েছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে মালদ্বীপে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেছেন, মালদ্বীপের দ্বীপগুলোর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপনের কথা ভাবছে ভারত। আমরা এরই মধ্যে এমন একটি প্রকল্পের বিষয়ে দেখাশোনা করছি। এই সফরের সময়ে মালদ্বীপের পার্লামেন্ট মজলিসে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে মোদির। এর মধ্য দিয়ে ভারত ও মালদ্বীপের সম্পর্কে ভারতের গুরুত্বকে বোঝানো হবে। পার্লামেন্টে বক্তব্য দেয়ার আগে স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে মোদির।
 রোববার শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির। ইস্টার সানডে’ বোমা হামলার পর এটাই হবে শ্রীলঙ্কায় কোনো বিদেশি নেতার সফর।