Tuesday, July 26, 2016

নোয়াখালীতে নববধূ অপহরণের ১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি

নোয়াখালীতে নববধুকে অপহরণ ১১ দিনেও উদ্ধার হয়নি। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ১১নং আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জয়নারায়নপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী নববধু আরাফা হোসেন অন্বেষাকে (১৯) সন্ত্রাসী নাসিমের নেতৃত্বে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। ঘটনার ১১দিন পরও উদ্ধার হয়নি নববধু। এ ঘটনায় নববধুর স্বামী ফিরোজ আহমেদ বাদী হয়ে রোববার দুপুরে এবিএম সিদ্দিক নাসিম, মাসুদ, মামুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক অপহৃতাকে উদ্ধার করে আদালতকে জানানোর জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। নববধুর স্বামী ফিরোজ আহমেদ ও তার পরিবার জানান, গত ৭ই মার্চ বেগমগঞ্জের জয়নারায়নপুর গ্রামের প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেনের কন্যা আরাফা হোসেন অন্বেষার সাথে একই গ্রামের মৃত শাহজাহানের পুত্র ফিরোজ আহমেদের সাথে বিবাহ হয়। ঈদের পরদিন গত ৮ই জুলাই ২০১৬ইং নববধু তার মাকে দেখার জন্য বাবার বাড়ীতে গেলে একই গ্রামের এবিএম সিদ্দিক নাসিমের নেতৃত্বে তিন বখাটে সন্ত্রাসী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নববধুকে জোরপুর্বক মাইক্রোযোগে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দীর্ঘ ১১ দিন পরেও নববধু উদ্ধার হয়নি। বর্তমানে নববধুর স্বামী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপহৃতাকে উদ্ধার করতে ভিকটিম পরিবার প্রধানমন্ত্রী ও স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংসদে ক্ষমা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

টিআর-কাবিখার বরাদ্দে চুরি নিয়ে মন্তব্য করায় সংসদ অধিবেশনে রীতিমতো তোপের মুখে পড়েন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এনিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তারা ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। জবাবে মন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। এতেও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তীব্র ক্ষোভ ও হৈ-চৈ-এর মধ্য ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে সেটি অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি সকল সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি। ‘টিআর-কাবিখার অর্ধেক বরাদ্দ যায় এমপিদের পকেটে’- রোববার রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় এমন মন্তব্যে করায় তথ্যমন্ত্রীকে এমন ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর থেকেই এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেয়ার দাবি জানাতে থাকেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে অধিবেশনে তথ্যমন্ত্রী ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন, এটি বুঝতে পেরে মাগরিবের নামাজের বিরতি ২০ মিনিটের জন্য দেয়া হলেও বিষয়টি সুরাহা করতে আরও ৩০ মিনিট লাগে অধিবেশন শুরু করতে। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের তীব্র দাবির মুখে স্পিকারকে এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর দিতেই হয়। সরকার ও বিরোধী দলের প্রবীণ-নবীন প্রায় সকল সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ফ্লোর চাইলেও স্পিকার মাত্র তিন জনকে ফ্লোর দেন। তীব্র হৈ-চৈ’র মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থণার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করে তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সকল এমপিদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রীর এলাকায় টিআর ও কাবিখার কি কি কাজ হয়েছে তা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সংসদের সাড়ে তিনশ’ সংসদ সদস্যই চোর, আর একমাত্র সাধু হচ্ছেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী। সারাদেশে এতো উন্নয়ন কী বাতাসে হচ্ছে? তথ্যমন্ত্রী কি ম্যাসেজ জাতিকে দিতে চাইছেন? হাসানুল হক ইনুর বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। এই সংসদের প্রতিটি সদস্যকে তথ্যমন্ত্রী অপমান করেছেন। এই সংসদে দাঁড়িয়ে উনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, তথ্যমন্ত্রী সবাইকে চোর বানাতে পারেন না। উনি যা বলেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রীরা কেউ-ই সেই অপবাদ থেকে বাদ পড়েন না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দুদকসহ তথ্যমন্ত্রীর সব মিডিয়া নিয়ে আমার এলাকা তদন্ত করুন। এক টাকার অনিয়ম হলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবো। তবে তথ্যমন্ত্রীর এলাকারও তদন্ত করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী সবারই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন, উনার বিবেকের তাড়নায় তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী তার দপ্তরের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি নিজে জানাননি। এর মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আমাদের অপমান করেছেন। তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রথমে তার বক্তব্যে প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপিদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণার দাবি জানান। সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন- তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। এরপরও আপনারা কি চান তা আমাকে বুঝতে হবে। এ সময় জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ আরও বেশ ক’জন সংসদ সদস্য মাইক ছাড়াই চিৎকার করে বলতে থাকেন- মাননীয় স্পিকার, তথ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আমরা শান্ত হবো না। তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার বক্তব্যের জন্য এমপিদের সামনে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, রবিবার দুপুরে রাজধানীতে পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা ফাউন্ডেশনের একটি আলোচনা সভায় টিআর ও কাবিখা নিয়ে আমার একটি মন্তব্য নিয়ে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই মন্তব্যে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে রবিবার রাতেই আমি একটি বিবৃতি দিয়েছি। আসলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টিআর ও কাবিখা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে আমি সম্প্রতি সময়ে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু দুর্নীতির কথা বলেছি। ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করে কিছু বলিনি। এ সময় সংসদ সদস্যরা ‘নো নো, আপনি বলেছেন’ বলে প্রতিবাদ করতে থাকলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে আমার বক্তব্য আংশিকভাবে প্রচার হয়েছে, পুরোটা প্রচার হয়নি। তবে আমি একজন এমপি হয়ে অন্য সব এমপিকে আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং তা অব্যাহত আছে। তাই আমার বক্তব্যে এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাকে দুঃখিত এবং আমার ওই বক্তব্যে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।  এরপরও সংসদ সদস্যরা শান্ত না হলে এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে সরকার ও বিরোধী দলের অধিকাংশ এমপি ফ্লোরের দাবি জানাতে থাকলে দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এমপি ও জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আমার মন্তব্যে অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাচ্ছি। এরপর স্পিকার দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলীতে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিল আহত জঙ্গি হাসান

ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে আহত রাকিবুল হাসান রিগ্যানের (১৯) বাড়ি বগুড়া সদরের জামিলনগরে। সে ওই এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে। হাসানের মা রোকেয়া আক্তার জানান, ২০১৩ সালে স্থানীয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল করতোয়া মাল্টি মিডিয়া স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে রিগ্যান। গতবছর বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর মেডিকেলে ভর্তির জন্য জন্য একটি কোচিংয়ে ভর্তি হয়। ওই কোচিংয়ে হাসান মাস খানেক পড়ার পর ২০১৫ সালের ১৪ই জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তার নিখোঁজের বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় ওই বছরের ১৫ই জুলাই একটি জিডি করা হয়। জিডি নং ১৭২০। নিখোঁজের পর থেকে হাসানের পরিবার সম্ভব্য সব জায়গায় খুঁজে তাকে পায়নি। আজ ভোর রাতে ঢাকার কল্যাণপুরে একটি বাড়িতে পুলিশের জঙ্গি ধরার অভিযানে সে গুলিতে আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  সেখানে সে পুলিশকে জানায়, তার বাড়ি বগুড়ায়। বিভিন্ন মিডয়ায় তার নাম এবং ছবি প্রচার হলে তার পরিবার তাকে দেখে চিনে ফেলে।

ফ্রান্সে দুই জিম্মিকারী ও এক জিম্মি নিহত

ফ্রান্সের রোউয়েন শহরের একটি চার্চে চার থেকে ছয় জনকে জিম্মি করেছিল দুই জিম্মিকারী। পরে ওই জিম্মিকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। একজন জিম্মিও এই ঘটনায় নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দেশটির রোউয়েন শহরের সেইন্ট-এটিয়েন-ডু-রোভরে চার্চের একজন যাজক, দুজন নান ও চার্চে যাওয়া কয়েকজনকে জিম্মি করে জিম্মিকারীরা। সব মিলিয়ে জিম্মির সংখ্যা ছিল চার থেকে ছয় জন। ফ্রান্স ৩ টেলিভিশন জানিয়েছে, এসময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং গোটা এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ফ্রেঞ্চ টিভি জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজেনিউভ ঘটনাস্থলের পথে রয়েছেন। এই ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সোমালিয়ায় শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৭

সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে আজ এক আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। জঙ্গি সংগঠন আল শাবাব এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আজ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে এই আত্মঘাতী হামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে একজন হামলাকারী একটি গাড়িতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। দ্বিতীয় আরেক হামলাকারী নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বোমা নিয়ে ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে গেটেই গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার শরীরে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  বোমার প্রবল বিস্ফোরণের পর নিকটবর্তী বিমানবন্দরের কাঁচের জানালাও ভেঙে যায়। এই হামলার দায় স্বীকার করে আল শাবাবের একজন মুখপাত্র আবদিয়াসিস আবু মুসাব জানান, দুজন হামলাকারীই গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সোমালিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন টুইটারে এই হামলাকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে এবং একে সোমালিয়ার সাধারণ জনগণের জীবনকে ‘বিপর্যস্ত ও বিকল’ করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এখনও পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত ‘জঙ্গি’ ও গুলশানে হামলাকারীরা একই গ্রুপের: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রাজধানীর কল্যাণপুরে অভিযানে হতাহত ‘জঙ্গিরা’ ও গুলশানের হামলায় অংশগ্রহণকারীরা একই গ্রুপের সদস্য। আজ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, চারটি পিস্তল, ২২টি গুলি, একটি তলোয়ার, তিনটি চাকু, ১২টি গেরিলা চাকু, আল্লাহু আকবর লেখা দুটি কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, সোয়াটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নয়জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। হাসান নামের গুলিবিদ্ধ একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, ঠিকানা জানা যায়নি। তাঁদের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হবে। আছাদুজ্জামান আরও জানান, নিহত ‘জঙ্গিদের’ সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পরনে কালো পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট ছিল। একজন বাদে সবার পায়ে কেডস ছিল। এই অভিযানকে ইতিহাসের অন্যতম সফল অভিযান বলে চিহ্নিত করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এতে শতভাগ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শুধু একজন পুলিশ সামান্য আহত হয়েছেন। অভিযানে সহায়তার জন্য নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান ডিএমপি কমিশনার।

নিখোঁজ ব্যবসায়ী খালেদের লাশ বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে নিখোঁজ ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (ডিবিসিসিআই) সভাপতি মো. খালেদ হাসানের মরদেহ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এএসআই মো. বাশার মানবজমিনকে জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কামরাঙ্গীরচর বরাবর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী খালেদ হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর মৃতদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে  নেয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এরপরই রাতে তার শ্যালক শরিফুল আলম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তার অফিস ৫২/১ নিউ ইস্কাটনের হাসান হোল্ডিংয়ের অষ্টম তলায় ছিল।

নিহত ‘জঙ্গি’দের পরনে ছিল কালো পোশাক

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতদের পরনে কালো পোশাক দেখা গেছে। এছাড়া কারও কারও মাথায় পাগড়িও দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পুলিশের তোলা ছবিতে মেঝেতে পড়ে থাকা মৃতদেহে এসব পোশাক দেখা গেছে। ছবিতে ঘরের ভেতর ও সিঁড়িতে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা  গেছে। তাদের পরনে ছিল কালো পায়জামা-পাঞ্জাবি। মেঝেতে রক্ত জমাট বেধে আছে। ঘরের ভেতর আসবাবপত্র বিশেষ কিছু নেই। একটি প্লস্টিকের তাক রয়েছে তাতে কিছু বই রয়েছে। এছাড়া রয়েছে তোশক, বালিশ ও চাদর। আসবাবপত্র না থাকলেও বাসায় ১০-১২টি ব্যাগ ও ব্যাগপ্যাক রয়েছে।  বাড়ির ভেতর কিছু অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছুরি ও তলোয়ার। এছাড়া বাড়তি কিছু কালো  পোশাকও পাওয়া গেছে। সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক  বলেন, সবার পরনে জঙ্গি পোশাক, যেটা গুলশানে তারা অভিযানে যে  পোশাক পরেছিল, কালো পোশাক, সবার কাছে একটা ব্যাগপ্যাক আছে, ব্যাগ আছে। মাথায় পাগড়ি আছে, হাতে নাইফ (ছুরি) আছে। তাদের ব্যাগগুলোর মধ্যে নিশ্চয়ই তল্লাশি করলে আমরা কিছু পাব। এদিকে অসমর্থিত একটি সূত্রে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের নাম জানা গেছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

নয়াপল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, আটক ৩

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। আজ দুপুরে নয়াপল্টনের স্কাউট ভবনের বিপরীত দিকের বটতলা থেকে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল সভাপতি ছাড়াও সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, তারিকুজ্জামান তারেক, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, মাসুম বিল্লাহ, মামুন বিল্লাহ, আশরাফ বাবুসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিক্ষোভ মিছিলের পরপরই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে ছাত্রদলের তিন কর্মীকে আটক পল্টন থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেনÑ করিম সরকার, মামুন ও জাহাঙ্গীর। এর পরপই অতঙ্কে নয়াপল্টন এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ে।

স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে শ্রীলংকায় বাংলাদেশী আটক

এক কেজিরও বেশি স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে শ্রীলংকায় এক বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে। আজ বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ সময় তার কাছে ১.১৫১ কেজি স্বর্ণ পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তির নাম জানা যায় নি। এ খবর দিয়েছে শ্রীলংকার ডেইলি মিরর। এতে বলা হয়, ওই বাংলাদেশী আজই মঙ্গলবার শ্রীলংকা যান। এ সময় তার ব্যাগে ছিল ১১টি স্বর্ণের বিস্কুট। সিøপারের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছিল স্বর্ণের ৩টি বিস্কুট, চেইন। কর্মকর্তারা বলেছেন, উদ্ধার করা স্বর্ণের দাম ৫৭ লাখ রুপি। এসব স্বর্ণ নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় কল্যানপুর অভিযান

প্রতি রাতের মতো সোমবার রাতেও কল্যানপুরে একটি বাড়ির সামনে পাহাড়ায় ছিলেন নিরাপত্তা কর্মী আবুল কাশেম। মাঝে মধ্যেই সে এলাকায় ডিউটি পুলিশের উপস্থিতি মি: কাশেমের চেখে পড়ে। কিন্তু সোমবার রাতে একসাথে অনেক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন তিনি। বিষয়টি তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এক পর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, বিশেষ কোন অভিযান পরিচালনা করার জন্য পুলিশ এসেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল খুব কাছেই ‘জাহাজ বাড়ি’। আবুল কাশেম নামের একজন নিরাপত্তা কর্মী ঘটনাটি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি যে বাড়িতে থাকেন সেখান থেকে কয়েকটি বাড়ি পরেই ‘জঙ্গি আস্তানা’। সে বাড়িটির নাম ‘জাহাজ বাড়ি’।ছয়তলা সে বাড়িতে অনেক ছাত্র এবং চাকুরীজীবীরা মেস ভাড়া করে সেখানে থাকেন বলে জানা গেছে। এই বাড়িটি এলাকার অনেকের কাছেই পরিচিত। কারণ বাড়িটির দেখতে অনেকটা জাহাজের মতো। রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে আবুল কাশেম হঠাৎ বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন পুলিশ হয়তো কোন অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু সেটি যে জঙ্গি বিরোধী অভিযান, তা বুঝতে পারেননি মি: কাশেম। এ সময় তিনি কয়েকজন ছেলেকে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। মি: কাশেম বলেন, “ হঠাৎ দেখি ভারি একটা ব্যাগ নিয়া এক ছেলে আমার সামনে এসে উদভ্রান্তের মতো আচরণ করতে লাগল।”নিরাপত্তা কর্মী মি: কাশেম ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন , “ভাই, আপনি কী করেন?” ছেলেটি তখন উত্তর দিয়েছে, “কাগজ কুড়াই।” তখন সে নিরাপত্তা কর্মী বুঝতে পেরেছেন, ব্যাগের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু আছে। কারণ সে তরুণের চেহারা এবং পোশাকের সাথে ‘কাগজ কুড়ানোর’ দাবী সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি মি: কাশেমের। তিনি বলেছেন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু তরুণ সেখান থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। বাদল নামের আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন পুলিশ আসার পরে কিছু তরুণকে তিনি সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। যারা পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলে তাদের পরনে প্যান্ট ও টি-শার্ট ছিল।মি: বাদল বলেন, “ এসময় ভিতর থেকে অনেকে সাথে আল্লাহু আকবর বলছিল। আমরা সে শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ” তার বর্ণনায় সারারাত ‘টুকটাক গোলাগুলি’ হলেও ভোর পাঁচটা থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। ভোরের দিকে তীব্র গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। এসময় ‘জাহাজ বাড়ির’ থেকেও গুলি করে প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছে, বলেন মি: বাদল। কল্যানপুর এলাকার অধিকাংশ বাড়ি একটি সাথে আরেকটি প্রায় জড়ানো অবস্থায়। ঢাকা শহরের বহু এলাকার মতো কল্যানপুর এলাকাটিও বেশ ঘিঞ্জি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পুলিশি অভিযানের সময় ‘জাহাজ বাড়ি’ থেকে অনেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।তাদের অনেকে একটি বাড়ির ছাদ থেকে অপর আরেকটি বাড়ির ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কল্যাণপুরের আরেকজন বাসিন্দা জানান , সকাল ছয়টার দিকে তার এক প্রতিবেশ টেলিফোন করে তাকে পুলিশি অভিযানের কথা জানান। ঘুম থেকে উঠার কিছুক্ষণ পরে আনুমানিক ভোর ছয়টা দিকে তিনি দুই দফায় ‘বৃষ্টির মতো’ গুলির শব্দ শুনেছেন।

সোফিয়ার বিরুদ্ধে নির্মাতার আইনি পদক্ষেপ

একদা অভিনেত্রী, অধুনা সন্ন্যাসিনী সোফিয়া হায়াতের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিচালক প্রন্দ্রকান্ত সিংহ। সন্ন্যাস নেওয়ার আগে ‘সিক্স এক্স’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সোফিয়া। আগামী মাসে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু, এখনও ডাবিংয়ের বেশ কিছু কাজ বাকি। আরো বাকি রয়েছে সোফিয়ার অংশ। সোফিয়া এখন তা করতে নারাজ। এমনকি, ছবির প্রচারণায়ও আর তিনি হাজির থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। আর সে কারণেই আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন পরিচালক। চন্দ্রকান্তের কথায়, আমরা বিষয়টা নিয়ে বহু বার সোফিয়াকে ফোন করেছি। মেসেজ করেছি। কিন্তু, ও কোনো উত্তর দেয়নি। আমাদের বাধ্য হয়ে ডাবিং আর্টিস্ট দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। ফলে ওর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাই ভাবছি। কিন্তু সোফিয়ার কি মত? কেন তিনি রাজি হচ্ছেন না? তিনি বললেন, এক বছর আগে ছবির শুটিং আমি শেষ করেছি। ফলে কোনও চুক্তিবদ্ধ দায়বদ্ধতাও এখন আর নেই। আর এসব আমার ট্রান্সফরমেশনের আগের ঘটনা। এখন আমি আর কোনও ছবি করতে চাই না, কোনও ছবির সঙ্গে যুক্তও থাকতে চাই না। আমার কর্তব্য এখন নিজের প্রতি, সাধারণ মানুষের প্রতি। কোনও ফিল্ম মেকারের কাছে আমার আলাদা করে কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

নিজেকেই দুষছেন নাসির

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নাসির হোসেনকে সর্বশেষ কবে খেলতে দেখা গেছে তা হয়তো ভুলতে বসেছেন ভক্তরা। তবে এজন্য নিজেকেই দূষছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এ অলরাউন্ডার। বছরের শুরুতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে ছিলেন নাসির হোসেন। কিন্তু এক ম্যাচেও মাঠে নামানো হয়নি তাকে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। ধারণা করা হচ্ছিল প্রধান কোচ হাথরুসিংহে তাকে খেলাননি। তিনি ভরসা রেখেছেন দলের অন্য ক্রিকেটারদের ওপরই। দলে থেকেও মাঠে নামতে পারেননি নাসির। শুধু তাই নয়, এই তরুণ ক্রিকেটার মনে করেন এখন জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া অনেক কঠিন। যত ভালো ক্রিকেটারই হোক জোর দিয়ে বলতে পারবে না জাতীয় দলে আমি স্থায়ী। অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের। তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে সূচি অনুসারে খেলবে দুটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজকে লক্ষ্য করেই শুরু হয়েছে ৩০ ক্রিকেটার নিয়ে প্রাথমিক ক্যাম্প। অবশ্য ক্যাম্পে নেই সাকিব আল হাসান ও  মোস্তাফিজুর রহমান। এই ক্যাম্প থেকেই বেছে নেয়া হবে টেস্ট ও ওয়ানডে দল। কিন্তু নাসির হোসেন জোর দিয়ে বলতে পারছেন না তিনি এই দলে থাকতে পরবেন কি-না। নাসির অবশ্য মনে করেন শুধু নিজেরটা না, যেকোনো জায়গা ধরে রাখাই এখন কঠিন, ‘শুধু আমার জায়গা না। সবার জায়গাই অনেক কঠিন হয়ে গেছে। দেখবেন এমন ক্রিকেটাররা আছে যারা একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে। এখন পারফরমার অনেক। জাতীয় দলে এখন কেউ বলতে পারবে না, এই জায়গাটা আমার। সবার জন্যই উন্মুক্ত আছে। কে, কখন জাতীয় দলে ঢুকবে এটা বলা কঠিন। সবখানেই প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে।’ কন্ডিশনিং ক্যাম্পে প্রাথমিক দলের ৩০ সদস্যের মধ্যে অফস্পিন অলরাউন্ডার চারজন। এরা হলেন- মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, শুভাগত হোম চৌধুরী ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের জায়গায় প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নাসির হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে এই জায়গায় খেলোয়াড় এখন বেশি। তাই আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।’ নাসির অবশ্য এমন প্রতিযোগিতার কথা না ভেবে আপাতত ফিটনেস ?অনুশীলন নিয়েই ভাবতে চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার ফোকাস এখন ১৪-১৫ দিনের ফিটনেস অনুশীলনের দিকে। আমি কখনো চাইনি যে আমিও প্রতিযোগিতায় যাই। দল আসলে চায় কখন, কাকে খেলাবে। চেষ্টা থাকবে যেন আর প্রতিযোগিতায় না যেতে হয়।’ জাতীয় দলের হয়ে তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই নৈপুণ্য দেখাতে চান নাসির। বলেন, ‘এটা (একাদশে থাকা) আসলে আমার হাতে নেই। এটা টিম ম্যানেজম্যান্টের হাতে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। অবশ্যই আমার ইচ্ছা থাকবে টি-টোয়েন্টি, টেস্ট বা ওয়ানডে, সবখানে ভালো কিছু করে যেন আমি তিনটা ফরম্যাটেই খেলতে পারি।’ অন্যদিকে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার কারণও বের করেছেন তিনি। এজন্য তিনি নিজের পারফরম্যান্সকেই দূষছেন। নাসির মনে করেন সাম্প্রতিক ক্রিকেটে সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। আর নাসির বলেন, ‘ক্রিকেটারদের সব মৌসুম এক রকম যায় না। হয়তো আমি সেভাবে সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’

নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চান টুম্পা

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে ৭টি সোনা জিতে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন সোনিয়া আক্তার টুম্পা। এসএ গেমসে দুটি স্বর্ণ জয়ে সেই আলো কেড়ে নেন মাহফুজা খাতুন শিলা। সকলের প্রত্যাশা ছিল অলিম্পিকে সাঁতরাবেন এই জলকন্যা। শিলাও স্বপ্ন দেখেছিলেন অলিম্পিকে যাওয়ার। শিলার সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও টুম্পার হয়েছে। এবার রিওডি জেনিরো অলিম্পিকের পুলে নামবেন বাংলাদেশের সাঁতার তারকা সোনিয়া আক্তার টুম্পা। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- অলিম্পিকে টুম্পার স্বপ্নটা কী?  বাস্তবতা মাথায় রেখেই টুম্পা জানালেন তার স্বপ্নের কথা। বলেন, অলিম্পিকে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চাই। প্রশ্ন: সত্যিই কি ভেবেছিলেন এবারই অলিম্পিকে যেতে পারবেন?
টুম্পা: না, আমার মনে হয়েছে ওয়াইল্ড কার্ড পেলে সাগর ভাই পাবেন। আমি হয়তো এবার পাবো না। তবে অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন কিন্তু ঠিকই আমার মনের মধ্যে ছিল।
প্রশ্ন: প্রথমবার অলিম্পিকে অংশ নেয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। নিশ্চয় তর সইছে না?
টুম্পা: খুবই ভালো লাগছে। প্রথমবার তো। আর সবার আশা থাকে অলিম্পিকে খেলার। এতদিন খেলছি; অনুশীলন করছি; অলিম্পিকে খেলার আশা ছিল; সেটা পূরণ হচ্ছে। এ আনন্দ আসলে বলে বোঝানো যাবে না। প্রশ্ন: ব্রাজিল বলেই কি আনন্দ আরেকটু বেশি?
টুম্পা: না, ব্রাজিল বলে নয়; অলিম্পিক বলেই ভালো লাগাটা বেশি। ফেডারেশনকে ধন্যবাদ। আমি নৌবাহিনীতে আছি। নৌবাহিনীকে আরো বেশি ধন্যবাদ। আমার মনে হয়, এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।
প্রশ্ন: কোচ পার্ক তে গুনের অধীনে প্রস্তুতি কেমন চলছে? আপনার তো সাগরের মতো থাইল্যান্ডে অনুশীলনে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
টুম্পা: গত মে থেকে আমরা অনুশীলন করছি। মাঝে ঈদের ছুটিতে গিয়েছিলাম। ছুটি  শেষে আবার অনুশীলনে ফিরেছি। প্রস্তুতি ভালোই চলছে। রোজার সময়ও তিন বেলা অনুশীলন করেছি। ছুটি শেষে ফেরার পর আপাতত দুই বেলা অনুশীলন করছি। আমরা অলিম্পিকের ক্যাম্পেই ছিলাম। রিও অলিম্পিকের জন্য চারজন বৃত্তি পেয়েছিলাম। চারজনের মধ্যে সাগর ভাই আর নাজমা (খাতুন) থাইল্যান্ডে গিয়েছিল। আমরা দুইজন বাংলাদেশে ছিলাম। এই তিন মাস পার্ক তে গুন আমাদের অনুশীলন করান।
প্রশ্ন: থাইল্যান্ডে যাওয়া হলো না বলে কি প্রস্তুতিতে কমতি থেকে গেল?
টুম্পা:  দেশের বাইরে অনুশীলনে যেতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। আসলে তাদের কিভাবে অনুশীলন করানো হয়েছে, সেটা আমরা দেখিনি, টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও জানি না। তবে পার্ক আমাদের যেভাবে ট্রেনিং করাচ্ছেন, সেটাও মন্দ নয়। আমাদের তো অনেক কিছু নাই। তারপরও কোচ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছে চেয়ে, অনুরোধ করে যতটুকু পারছে, সেগুলো এনে, সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে আমাদের অনুশীলন করাচ্ছে।
প্রশ্ন: প্রস্তুতির সন্তুষ্টির কথা বলছেন। তাহলে অলিম্পিক নিয়ে কী লক্ষ্য স্থির করলেন?
টুম্পা: অলিম্পিকে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে অংশ নেবো আমি। এই ইভেন্টে নিজের সেরা টাইমিংকে ছাপিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। ঘরোয়াতে এই ইভেন্টে আমার সেরা টাইমিং ৩০.৮৫ সেকেন্ড।
প্রশ্ন: অলিম্পিকে এতটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকবেন? ঘরোয়া সাঁতারেতো আপনি বেশ সফল।
টুম্পা: আসলে এতটুকুতে সন্তুষ্ট থাকা ঠিক না। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে ১০০, ২০০ বাটারফ্লাই, ২০০ ব্যাকস্ট্রোক ও ২০০ ইনডিভিজ্যুয়াল মিডলে ও তিনটা রিলে ইভেন্টে সোনা জিতেছি। আসলে আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাই। যারা বাইরে থাকে, তারা বড়ই হয় অলিম্পিকে অংশ নেয়ার জন্য। ওরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকে। ছোটবেলা থেকেই ওরা শুরু করে, কিন্তু আমাদের একজনকে দিয়েই অনেক কিছু করতে হয়।  আমরা শুধু অলিম্পিকের জন্য করি না।  ন্যাশনাল, অন্যান্য গেমসও করতে হয়।
প্রশ্ন: অলিম্পিকে সাঁতার থেকে ভালো কিছু পেতে হলে কি দরকার বলে মনে হয় আপনার?
টুম্পা: আরো উন্নত ট্রেনিং সুবিধা, সম্ভব হলে দেশের বাইরে আরো ভালো কোচের অধীনে অনুশীলন দরকার। যাকে বা যাদেরকে অলিম্পিকে পাঠানো হবে, তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দরকার।

হিলারিকে প্রত্যাখ্যান ক্ষুব্ধ স্যান্ডার্স সমর্থকদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকরা। দলীয় নেতৃত্বের যোগসাজশে স্যান্ডার্সকে প্রার্থী হতে ‘বাধা’ দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা। উইকিলিকসের ফাঁস করা ই-মেইলগুলোতে ন্যাশনাল কমিটি এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যকার বিভাজন পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। আর এর ফলে তীব্র সমালোচনার মুখে সম্মেলনের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলপ্রধান ডেবি ওয়াজেরমেন শুলজ। এ অবস্থায় ডেমোক্রেটিক ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি ও অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা হিলারিকে ঠেকাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দল রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ভোট দিয়ে বসতে পারেন। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) থেকে ফিলাডেলফিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের কনভেনশন। কনভেনশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ‘দলীয় ঐক্য’ ধরে রাখার কথা বলে ডেবি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ও ককাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধির সমর্থন পাওয়া হিলারিকে চার দিনের এ কনভেনশনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে নামেন স্যান্ডার্স সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ডেমোক্রেট দল নিয়ে আশা-ভরসা শেষ হয়ে গেছে। এখন সম্মেলন শেষে কে বা কাকে প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হচ্ছে তাতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে একজন নারী মনোনয়ন পেলেও তাতে উচ্ছ্বাসের কিছু দেখছেন না তারা।
এদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক দলের এই প্রার্থী বাছাই ব্যবস্থাকে কারচুপি বলে সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে ডেমোক্রেট দলের একজন ভোটার শানা লিন বলেন, ‘ট্রাম্পের কথাই ঠিক। হিলারিকে আমি সমর্থন দিতে পারছি না।’ ভার্জিনিয়ার এই গৃহবধূ আরও বলেন, ‘এই পয়েন্টে আমি মনে করি, ট্রাম্প খুব প্রান্তিক সত্যটা তুলে ধরেছেন। কারণ হিলারি প্রমাণ করেছেন, তিনি আমেরিকানদের সঙ্গে মিথ্যার পর মিথ্যা বলে গেছেন। হিলারি মিথ্যাবাদী, বাজে লোক, বিভেদ সৃষ্টিকারী। তিনি কেবল নিজের কথাই ভাবেন।’ ডেমোক্রেটিক দলের সুপার ডেলিগেটদের প্রায় সবাই হিলারিকে সমর্থন দিয়েছেন। এই সমর্থনকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন তৃণমূল ভোটাররা। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থিতার আগ মুহূর্তে এমন কেলেংকারি সামনে আসায় মাশুল গুনতে হতে পারে হিলারিকে। সম্মেলন শেষে হিলারিকে প্রার্থী ঘোষণা দেয়া হলেও দলের মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তাতে রিপাবলিকানদের সুবিধাই হবে। ক্ষুব্ধ স্যান্ডার্স সমর্থকরা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ট্রাম্পকে ভোট দিলে ডেমোক্রেটের বিপর্যয় নেমে আসবে।
হিলারিকে টপকালেন ট্রাম্প : রিপাবলিকান সম্মেলনের পর দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন আরও বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৬ পয়েন্ট বেড়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ৩ পয়েন্টে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। সোমবার প্রকাশিত সিএনএন/ওআরসির জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে হিলারির প্রতি মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পরিচালিত জরিপে হিলারির জনসমর্থন ছিল ৪৯ শতাংশ এবং ট্রাম্পের ৪২ শতাংশ। সর্বশেষ উইকিলিকস কেলেংকারি নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলে বিভাজন দেখা দেয়ায় হিলারির জনপ্রিয়তা আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৮২ জন নিবন্ধিত ভোটারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন জরিপ অনুযায়ী কোনো দলের সঙ্গে নিবন্ধিত নন এমন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনমসমর্থন বেড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক মাস কাটিয়েছেন বেশ জটিলতার মধ্য দিয়ে। এ সময়ে তিনি তার প্রচারণাবিষয়ক ম্যানেজারকে বরখাস্ত করেছেন।

সিন্ডিকেট ভাঙতে চিনি আমদানি উন্মুক্ত হচ্ছে

সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বাণিজ্যিকভাবে চিনি আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। এতে দেশে চিনি পরিশোধন ও বাজারজাতে সক্রিয় ছয় কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা থাকছে না। নতুন সিদ্ধান্তে আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নীতি অনুসরণ করে চাইলেই যে কোনো পরিমাণে চিনি আমদানি করতে পারবে। তবে এ ব্যবস্থায় দেশে অপরিশোধিত চিনি আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, চিনির আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজারদর প্রতি টন ৩৩০ ডলার থেকে ৫২০ মার্কিন ডলার ওঠানামা করছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। রোজায় প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৭ টাকা দরে। এখন খুচরা বাজারে সেই দর চড়েছে ৭২-৭৫ টাকায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে পরিশোধন কোম্পানি থেকে শুরু করে বাজারজাতকারী সব স্তরেই মজুদ সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এসব মাধ্যম থেকে দেশীয় বাজারে দর ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় স্পর্শ করারও আভাস দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম চিনি পরিশোধন করছে। একইভাবে অসৎ উদ্দেশ্যেই বাজারে চিনি ছাড়া হচ্ছে কম। আর এ সুযোগেই অস্থির হচ্ছে চিনির বাজার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পূর্বাভাস সেল চিনির দেশীয় মজুদ ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আমদানি অনুবিভাগ চিনি আমদানি নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ কষছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং করণীয় ঠিক করতে আজ জরুরি বৈঠকে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক বিভাগ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং এফবিসিসিআইয়ের মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, সরকার বাজারকে তার স্বাভাবিক আচরণের ওপরই চলতে দিতে চায়। তবে ভোক্তার বৃহৎ স্বার্থের বিষয়টিও সতর্কভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থায় সরকারের সংযত আচরণের সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনৈতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়লে অথবা সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব প্রতীয়মান হলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপরিহার্য নয়। আইন সবার জন্য সমান। মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থরক্ষার দায়িত্ব সরকারের নয়। ১৬ কোটি ভোক্তার স্বার্থরক্ষায় যা যা করণীয়, তার সবকিছুই করবে সরকার। তিনি জানান, পরিশোধিত চিনি আমদানির বিষয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত করার ব্যাপারে গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে ৬টি রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের বাৎসরিক চিনি উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টন। সিটি গ্র“পের উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার টন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনক্ষমতা ৩ হাজার টনে নেমে এসেছে। মেঘনা গ্রুপের উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার টন।
এ ছাড়া আবদুল মোনেম সুগার মিলের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার টন, এস আলম রিফাইনারির ১ হাজার টন এবং দেশবন্ধুর দৈনিক ৫০০ টন চিনি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কোম্পানি এখন চিনির এলসি খোলার হার কমিয়ে দিয়েছে। মজুদকৃত চিনিও বাজারে কম ছাড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন ডিও দেয়ার এক থেকে দেড় মাসেও চিনি পাচ্ছেন না। এমনকি কোম্পানিগুলোর কাছে ডিও’র টাকা অগ্রিম পরিশোধ করার পরও অনেককে চিনি পাওয়ার জন্য ক্ষমতাধর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তদ্বির নিতে হচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের কারসাজির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন ১৬ কোটি ভোক্তা। এখন দেখতে হবে সরকারের কাছে দেশের জনগণ মুখ্য, না গুটিকয়েক ব্যক্তি বড়। যদি জনগণই মুখ্য হয়, তবে বাজারে এ অনৈতিক তৎপরতার রাশ টেনে ধরতেই হবে। ভেঙে দিতে হবে একচেটিয়া ব্যবসার সিন্ডিকেট। এ ক্ষেত্রে সরকার পরিশোধিত চিনি আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত করার যে চিন্তা-ভাবনা করছে, সত্যিকার অর্থেই কার্যকর হলে ভোক্তাস্বার্থের জন্য তা এক বিরাট মাইলফলক।

জয়শূন্য দুই আবাহনী ও মোহামেডান

জোনাপিওর (ডানে) গোলে হলুদ-সবুজের এই হাসি
মুছে যায় সাদা-কালোর গোলে। সোমবার চট্টগ্রামে
ড্রয়ের দিনে রহমতগঞ্জ, মোহামেডান ও দুই
আবাহনীই জয়বঞ্চিত রাজেশ চক্রবর্তী
চট্টগ্রামে দর্শকখরা ও গোলখরা একইসঙ্গে চলছে। প্রথমদিন দুই ম্যাচে গোল হয়েছে মাত্র তিনটি। একটি ড্র ও একটি জয়। সোমবার দ্বিতীয়দিন দুটি ম্যাচই ড্র। দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা মোহামেডান কোনোরকমে হার এড়ায় পেনাল্টি গোলে। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র হওয়ার জন্য রহমতগঞ্জের কোচ দায়ী করেছেন রেফারিকে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল দুই আবাহনীর। ঢাকা ও চট্টগ্রাম আবাহনী ড্র করল ১-১ গোলে। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৪ মিনিটে বিপ্লবের হেডে এগিয়ে যায় ঢাকা আবাহনী (১-০)। ৭৬ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর বদলি খেলোয়াড় রুবেল মিয়া সাইড ভলিতে ম্যাচে সমতা আনেন (১-১)। এ নিয়ে দু’দিন চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ড্র হল। চার ম্যাচের গোল হয়েছে মাত্র সাতটি।
রহমতগঞ্জের কোচের মতে, ‘রেফারির বদৌলতে’ পেনাল্টি থেকে গোল করে কোনো রকমে ১-১ ব্যবধানে সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহামেডান। সোমবার চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ফুটবলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও রহমতগঞ্জ এমএফএস পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সকাল থেকে সারা দিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এ অবস্থায় বিকেলে শুরু হয় মোহামেডান-রহমতগঞ্জ ম্যাচ। বৃষ্টিস্নাত মাঠে প্রথমার্ধে সাদা-কালো জার্সির প্রতি সুবিচার করতে পারেননি মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল রহমতগঞ্জের। ম্যাচের ১৩ মিনিটে মোহামেডানের ডিফেন্ডার দিদারুল আলমের বক্সের ওপর থেকে নেয়া জোরালো শট রহমতগঞ্জের কিপার মাসুম দক্ষতার সঙ্গে লুফে নেন। এরপর একটার পর একটা আক্রমণ করতে থাকে রহমতগঞ্জ। আক্রমণে মোহামেডানের রক্ষণে চিড় ধরে। তারই ফলশ্র“তিতে ১৭ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে রহমতগঞ্জের মিডফিল্ডার মাহবুব নয়নের লব থেকে বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা বিদেশী ফরোয়ার্ড সাইও জোনাপিও দর্শনীয় সাইড ভলিতে গোল করেন (১-০)। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে মোহামেডান।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে মোহামেডানের অধিনায়ক ইসমাইল বাঙ্গুরা বাঁপ্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে তিন-চারজনকে কাটিয়ে ডান-পায়ে জোরালো শট নেন। রহমগঞ্জের গোলকিপার মাসুম কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৫৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মোহামেডানের ফরোয়ার্ড আমিনুর রহমান সজীব লব করলে সহযোদ্ধা বিশ্বনাথ ঘোষ ফাঁকায় ছোট ডি-বক্স থেকে শট নিতে ব্যর্থ হন। সহজ সুযোগ নষ্ট হয় মোহামেডানের। ৬৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে রহমতগঞ্জের মিডফিল্ডার মেহবুব হাসান নয়নের আচমকা শট মোহামেডানের কিপার নেহাল রক্ষা করেন। ৭৯ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মোহামেডানের বদলি মিডফিল্ডার আবদুল মালেক থ্রু পাস থেকে সতীর্থ মাসুদ মিয়া জনি শট নিলে ছোট ডি-বক্সের জটলার মধ্যে  হ্যান্ডবলের   বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে মোহামেডানের অধিনায়ক ইসমাইল বাঙ্গুরা ম্যাচে সমতা আনেন (১-১)। এ ব্যাপারে ম্যাচ শেষে রহমতগঞ্জের কোচ কামাল আহমেদ বাবু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগের আঙুল তোলেন রেফারির দিকে। তিনি সাংবাদিকদের ওই মুহূর্তের খেলাটির ভিডিও দেখার দাবি জানান।

শিকারির প্রচারণায় কলকাতায় শাকিব খান

কলকাতায় আগামী ১২ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের এক নাম্বার নায়ক শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘শিকারি’। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তি। ছবির প্রচারণার জন্য গত ২৩ জুলাই রাতে ঢাকা ছাড়েন তিনি। সেখানে ছবিটির প্রচারণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন শাকিব খান। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট। সেই উপলক্ষে ভারতের সব জায়গায় ছবি মুক্তি দেয়া হয়। আমার ভালো লাগছে যে, এই সময় আমার অভিনীত ছবিটি দেশটিতে মুক্তি পাচ্ছে।
আশা করি নিজ দেশের মতো ভারতেও ছবির সাফল্য পাব।’ বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি পায় গত ৭ জুলাই। ঈদের ছবি হিসেবে এখনও চলছে দেশের শতাধিক সিনেমা হলে। বাংলাদেশের বিতর্কিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এসকে মুভিজের যৌথ প্রযোজনার এ ছবিটি পরিচালনা করছেন কালকাতার জয়দেব। যদিও সেন্সর সার্টিফিকেটে বাংলাদেশের আবদুল আজিজের নামও অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রচারণার সময় অন্য নাম ছিল বলে বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এতে শাকিব-শ্রাবন্তী ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের অমিত হাসান, রেবেকা, শিবা সানু, সুব্রত ও কলকাতার সব্যসাচী চক্রবর্তী, রুদ্র প্রতাপ, সুপ্রিয় দত্ত, লিলি চক্রবর্তী, খরাজ মুখার্জি, রাহুল প্রমুখ।

উত্তর-পূর্ব ভারত: কাছে থেকেও কত দূরে!

১৯ জুলাই মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে ফিরতে ডাউকি স্থলবন্দরে কথা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তাঁকে জিজ্ঞেস করি, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন কত মানুষ আসা-যাওয়া করে? তিনি সাগ্রহে নিবন্ধন বইটি দেখিয়ে বললেন, প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ আসা–যাওয়া করে। আমার ধারণা ছিল, শুধু বাংলাদেশ থেকেই মানুষ ওপারে যায়। কিন্তু ওই কর্মকর্তা ভুল ভাঙিয়ে দিয়ে বললেন, দুই তরফেই যাতায়াত বেড়েছে। ওই দিনই একদল ভারতীয় ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, যাঁরা এখানকার বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়েন। বাংলাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শিলংয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তবে শিক্ষার্থী বিনিময়ের এই প্রবণতা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যে তেমন দেখা যায় না। আমরা ভারতের পশ্চিম অংশ থেকে শিক্ষার্থী টানতে না পারলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পারব। একই কথা প্রযোজ্য স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে। আমরা যদি অভয় পরিবেশ তৈরি করতে পারি তাহলে পর্যটকমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাষায় ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যটনেও’ বাংলাদেশ সফল হবে। কেননা, ত্রিপুরা বা মেঘালয়ের শিক্ষার্থী বা স্বাস্থ্যসেবা প্রার্থীদের জন্য বাংলাদেশে আসা যত সহজ, আসাম বা ভারতের অন্য অংশে যাওয়া ততই কঠিন।
কেবল পর্যটন নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও বাংলাদেশ উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। ভৌগোলিক দিক দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের অন্তত চারটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে—আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। এর মধ্যে মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরার সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। যদিও ত্রিপুরা ছাড়া এসব রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ খুবই কম। ১৫-১৬ জুলাই শিলংয়ে অনুষ্ঠিত নদী উৎসবে বাংলাদেশ ও ভারতের নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতিসেবীরা সেই যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরই জোর দিলেন। তাঁরা বললেন, সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পরস্পরকে জানতে হবে, বুঝতে হবে। ভাবের আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতিযোগী নয় বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশি পণ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। কোনো বাধা থাকতে পারবে না। ভারতের পশ্চিম অংশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য অনেকটা একতরফা। সেখানে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য যায়, আসে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে উঠতে পারে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কিন্তু সমস্যা হলো,
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকার। এ কারণে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা কিংবা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার অনেক কিছু চাইলেও পারেন না। নদী উৎসবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে স্থল, বিমান, নৌ ও রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। যোগাযোগব্যবস্থাকে সাতচল্লিশের আগের অবস্থায় না হলেও পঁয়ষট্টি সালের আগে যেখানে ছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভূমিবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দাবি, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহনের। এ ব্যাপ​ারে বাংলাদেশেরও আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো রাস্তাঘাটগুলো খুবই নাজুক। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ কেন বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চায়? কেন বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি তাদের আগ্রহ? কারণ, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল থেকে যেকোনো পণ্য উত্তর-পূর্ব ভারতে নিতে (এমনকি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে হলেও) যে খরচ পড়বে, বাংলাদেশে তৈরি সেই পণ্যের দাম তার চেয়ে কম হবে। এ কারণে সেখানে প্রাণসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। যেকোনো বড় শহরে প্রাণের পণ্যের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে আলাপকালে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছেন। তাঁর প্রস্তাব,
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ আরও নজর দিক। সেখানে আরও লগ্নি বাড়াক। একইভাবে ভারতের উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যেসব আইনি ও কাঠামোগত বাধা আছে, সেগুলো দূর করা জরুরি। শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে হবে। উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। নৌ ও সড়কপথে পণ্য সরবরাহের জন্য আশুগঞ্জ স্থলবন্দরকে পোর্ট অফ কল ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পণ্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। ত্রিপুরায় সহকারী হাইকমিশন খোলা হয়েছে। গুয়াহাটিতেও ডেপুটি হাইকমিশন খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা-গুয়াহাটি সরাসরি বিমান পরিষেবা দেওয়ারও উদ্যোগ আছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে আশু কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি আসামের সীমান্ত দিয়ে যেসব বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়, তার মান পরীক্ষা করতে গুয়াহাটি পাঠাতে হয়। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সীমান্তেই পণ্যের মান পরীক্ষার দাবি তাঁদের। অন্যদিকে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ মিশন না থাকায় একজন ভিসাপ্রার্থীকে আবেদন করতে কলকাতা বা আগরতলা যেতে হয়, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। এ ব্যাপারে আসাম ​ও মেঘালয়ের বাসিন্দারা যে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে, সেটি হলো এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভিসার আবেদনপত্র নেবে এবং পরে কলকাতা বা আগরতলা মিশন সেটি যাচাই–বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।
পরে এজেন্সির মাধ্যমেই ফলাফল জানিয়ে দেবে। ইউরোপের অনেক দেশ এই পদ্ধতিতে ভিসার আবেদনপত্র নিতে পারলে বাংলাদেশ ও ভারত পারবে না কেন?  নদী উৎসবে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভিসাপদ্ধতি আরও সহজ করার যে দাবি জানিয়েছেন, তা কেবল যৌক্তিক নয়, জরুরিও।​ আশার কথা, ভিসাপদ্ধতি সহজ করতে ভারতের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভিসা পাঁচ বছর মেয়াদি করা হচ্ছে। মেডিকেল ভিসা দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পর্যটকদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কায়িক ও মনস্তাত্ত্বিক যেসব বাধা ছিল, তার অনেকটাই দূর করা হয়েছে। ভারতের তরফ থেকে প্রধান উদ্বেগ ছিল নিরাপত্তা নি​েয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো ভারতবিরোধী সশস্ত্র তৎপরতায় বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করত। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখানে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ভারতের অনুরোধে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উলফার নেতাদের সীমান্ত দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। ভারত সরকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সন্তোষ প্রকাশ করলেও কোথায় যেন খানিকটা দ্বিধা আছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো ‘সন্ত্রাসীদের’ তালিকা দেওয়া হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নে যে আসাম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেই আসামের সঙ্গেই কথিত অনুপ্রবেশ ইস্যুটি বড় বাধা হয়ে আছে।
আসামের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনেও এটি ছিল অন্যতম ইস্যু। নির্বাচনে জয়ী ​বিজেপি নেতারা বলছেন, সীমান্ত সিল করে দেবেন। একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর আহ্বান, অন্যদিকে সীমান্ত সিল করার আওয়াজ জনমনে সংশয় ও সন্দেহ তৈরি করে। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও অবিভক্ত আসামের যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন ছিল, সেটি অস্বীকার করা যাবে না। সাতচল্লিশের আগে বঙ্গের চাষিরাই আসামের পাথুরে মাটিতে ফসল ফলিয়েছেন, খনিতে, চা–বাগানে কাজ করেছেন। ইতিহাসবিদ জয়া চট্টোপাধ্যায় তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, আসামসহ অবিভক্ত বাংলায় যে অর্থনৈতিক যোগসূত্র ছিল, দেশভাগ সেটি ভেঙে দিয়েছে এবং তার অভিঘাত পড়েছে দুই দেশের মানুষের ওপরই। সীমান্ত দেশ ভাগ করলেও সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনধারাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। তাই কথিত অনুপ্রবেশ সমস্যাটি নিছক ধর্মীয় কিংবা রাজনীতির সমীকরণে না ফেলে মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। গত সপ্তাহে আসামের স্পিকার রণজিৎ কুমার দাস কিংবা মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমার সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, তাঁরা মনেপ্রাণে চান বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সম্পর্কটি বহুমাত্রিক রূপ পাক। বিশেষ করে, বাংলাভাষী রণজিৎ কুমার দাস সীমান্তের দুই অংশের মানুষের অভিন্ন সংস্কৃতি, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসের কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘আমরা উভয়ই ভূপেন হাজারিকার গানে উজ্জীবিত হই।’ তারপরও যে প্রশ্নটি থেকে যায় তা হলো, সীমান্তের দেয়াল পেরিয়ে সবার মাঝে গানের সেই চেতনা কবে সঞ্চারিত হবে?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

জঙ্গিদের পক্ষে কেউ নেই

‘তরুণদের কেউ জঙ্গিবাদী তৎপরতা সমর্থন করে  না, আমি তো করিই না।’ বলছিলেন চট্টগ্রামের এক প্রাণবন্ত তরুণ। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঢাকার গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গিদের নৃশংস হামলার পর আমরা যখন সবাই শঙ্কায়  আছি, তখন চট্টগ্রামের এই তরুণের কথা আমাদের আশ্বস্ত করে। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের তরুণদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের কথা শোনা, বিশেষভাবে তাঁরা কী ভাবছেন, তা জানার জন্য প্রথম আলোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সভাকক্ষে কয়েকজন তরুণকে চায়ের আসরে ডেকেছিলাম। সেখানে ১৮ জন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে খোলামেলা কথা হয়। তাঁদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয় বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ছয়-সাতজন ছাত্রীও ছিলেন। কয়েকজন পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন করেন। বিতর্ক ক্লাবের সদস্য। একজন গরিব শিশুদের পড়ালেখার একটি স্কুল চালান। তাঁর এই উদ্যোগের সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন তরুণ। স্কুল চলে সম্পূর্ণ নিজেদের চাঁদায়।
জানতে চাইলাম, এখন কেন ধনীদের সন্তানেরা জঙ্গিপনার দিকে ঝুঁকছে? এর উত্তরে এক তরুণ বললেন, বিত্তবান পরিবারের সন্তানেরা দেখেন, বাবা-মা কেবল টাকার পেছনে ছুটছেন। তিনি নিজ ঘরে একা হয়ে যান। সমাজে মেলামেশা নেই। তাই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁদের থাকে না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা সব সময় মানুষের সংস্পর্শে থাকেন। সাধারণ ঘরের তরুণদের সমস্যা-সংকটে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। এভাবে তাঁদের মধ্যে জন্ম নেয় একধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু ধনীর ঘরের সন্তানদের সেই সুযোগ সীমিত। অবশ্য ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সাধারণভাবে ধনীদের কোনো সন্তান যখন কোনো সংকটে পড়েন, তিনি সহজেই জঙ্গিবাদের দিকে আকৃষ্ট হন। সেখানে তিনি তাঁর প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণের সুযোগ খুঁজে পান। কীভাবে সবার সামনে আসা যায়, এটাই তখন তাঁর মূল চিন্তা   হয়ে দাঁড়ায়। একজন তরুণ বললেন, ওরা আসলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’। সংকটে পড়লে সিদ্ধান্ত নিতে পারে  না।
একজন জানালেন, জঙ্গি নিবরাস তাঁর শেষ ১০টি টুইটে ব্যক্তিগত হতাশার কথা বলেছেন। তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কথা বলেছেন। লিখেছেন, তুমি সুখী থাকো, আমি আমার পথ বেছে নিলাম! মাদ্রাসায় পড়ছেন এক তরুণ, তিনি বেশ জোর দিয়ে বললেন, ধর্মের মূল কথা না বোঝার ফলেই কিছু তরুণ বিপথগামী হচ্ছেন। আরেক তরুণ বললেন, এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি তো মার্কেটে গেলে কোনো তরুণের পিঠে ব্যাগ দেখলে ভয় পাই! অবশ্য তখনই আরেক তরুণ বললেন, আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা। জানতে চাইলাম, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়েক শ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন, তাঁরা কী ভাবছেন? উত্তরে সবাই বললেন, তাঁরা সবাই আগের মতোই আছেন। শুধু একটু সাবধানে চলাফেরা করেন। সে রকম সতর্কতা অবশ্য আমরা সবাই নিই। কোনো বিদেশি  শিক্ষার্থী জঙ্গিদের ভয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন, এমন কথা কেউ ভাবছেন না। তাঁদের সঙ্গে অন্য সহপাঠীদের বন্ধুত্ব,
মেলামেশা ঠিক আগের মতোই আছে। জিজ্ঞেস করলাম, উপস্থিত তরুণদের কেউ জঙ্গি তৎপরতার জন্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গেছে, দেশে আর থাকা যাবে না, এ রকম ভাবছেন কি? উপস্থিত ১৮ জন তরুণ-তরুণীর একজনও বললেন, না, জঙ্গিদের কারণে তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। বরং সুযোগ পেলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাবেন, ফিরে এসে দেশেই কাজ করবেন, এটাই তাঁদের সাধারণ চিন্তা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র বললেন, আসলে আমাদের তরুণদের সামনে তেমন কোনো ‘আইডল’ নেই। প্রায় দেড় দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র সংসদ নেই। ‘বদ্ধ জলাশয়ে মশা–মাছি জন্মে।’ না হলে পদার্থবিজ্ঞানের সেরা ছাত্র কেন জঙ্গি হয়ে যান? এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তো ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী! একজন তরুণ বললেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিষয় থাকবে। বাগান করা, বিতর্ক ক্লাব, সংস্কৃতিচর্চা, পাঠাগারে পড়াশোনা বা অন্য কোনো সামাজিক কাজে অবদান রাখা। এ জন্য পরীক্ষায় থাকবে অতিরিক্ত ১০ নম্বর।
তরুণেরা ভালো উদ্যোগে সময় দেওয়ায় উৎসাহিত হবেন। শনিবার চট্টগ্রামে আসার পথে বিমানবন্দরে যখন অপেক্ষা করছিলাম, তখন একজন বিদেশির সঙ্গে কথা হলো। তিনি স্পেন থেকে এসেছেন। যাবেন সিলেটে। স্পেনের একটি কোম্পানি ইটভাটায় ব্যবহারের উচ্চমানের চুল্লি উৎপাদন করে। সিলেটে তাঁদের কাজ হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, গুলশান-শোলাকিয়ার ঘটনায় তাঁদের কোম্পানি কতটা উদ্বিগ্ন? ব্যবসা কি আগের মতোই চলবে? তিনি আমাকে বললেন, শুনেছ তো কাল জার্মানিতে একজন সন্ত্রাসী মার্কেটে গুলি চালিয়ে আটজনকে মেরে ফেলেছে? বিশ্বের কোন দেশে এসব হচ্ছে না? দেখলাম, সেই বিদেশি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন।  ১ জুলাইয়ের পর থেকে ঢাকার আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে আছে। কিন্তু চট্টগ্রামে এসে দেখলাম উজ্জ্বল রোদ। আকাশ পরিষ্কার। মেঘ কেটে গেছে। চট্টগ্রামের তরুণদের চোখেমুখে দেখলাম উদ্দীপনা। অফুরন্ত প্রাণশক্তি।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com