Monday, August 7, 2017

হিরোশিমা দিবসে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের দাবি

জাপানের হিরোশিমা শহরে বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা হামলার ৭২তম বার্ষিকী পালন করেছে। রোববার সকাল সোয়া ৮টায় হিরোশিমার গ্রাউন্ড জিরোতে বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে হিরোশিমা দিবসের স্মরণানুষ্ঠানের সূচনা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। এরপর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাসুই। ৮টা ১৬ মিনিটে বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তটির স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। প্রায় ৮০টি দেশের প্রতিনিধিসহ এ স্মরণসভায় লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দশ হাজার সদস্য ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও জনতা বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম শোকের এ দিনটি পালন করেন। এ সময় পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের দাবি জানান তারা। পরমাণু অস্ত্র যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো নাগরিককে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ‘লিটল বয়’ নামের একটি পরমাণু বোমা হিরোশিমায় ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মাত্র একটি পরমাণু বোমা হামলায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হন, যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারপর থেকে গত সাত দশক ধরে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকের এ দিনটি পালন করে আসছে জাপানবাসী। হিরোশিমা বিশ্বের সব প্রান্তে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিভীষিকাময় চিত্র তুলে ধরছে উল্লেখ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্র নিরন্ত্রণে কাজ করুক। তারা যদি এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা কমে আসবে।’ হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাসুই বলেন, ‘বিশ্ব এখনও নরকের কবল থেকে মুক্তি পায়নি। রাজনৈতিক খেলায় পরমাণু অস্ত্র মহাপরাক্রমশালী হয়েছে, যা ব্যবহারের হুমকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধে জাতিসংঘকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশ্বের দেশগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।’ স্মরণানুষ্ঠানে হিরোশিমার পরমাণু বোমায় আহতদের মধ্যে যারা এখনও জীবিত আছেন তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আহতরা পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট হিরোশিমায় বোমা হামলার তিনদিন পর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে নাগাসাকি শহরে আরেকটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র, এতে আরও প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। আলজাজিরা।

এই সংকটের প্রেক্ষিত ও সমাধান সম্পর্কে দুটি কথা

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। সরকার আপিল বিভাগের এ রায় মেনে নিলে ল্যাঠা চুকে গেল; কিন্তু না মানতে পারলে কী হবে? যে সমস্যাটি ছিল সরল, তা জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে। মহামান্য আদালত কী সিদ্ধান্ত দিলেন, আর সরকার সে সম্পর্কে কী করবে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার আশঙ্কা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে এই মতভেদকে কেন্দ্র করে একটি তৃতীয়পক্ষ অশুভ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠতে পারে। যেমন তারা মেতে উঠেছিল ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে। সেবার তারা আওয়ামী লীগেরই মনোনীত রাষ্ট্রপতি জাস্টিস সাহাবুদ্দীনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এবারেও সামনে এগিয়ে আসছে একটি সাধারণ নির্বাচন। জুডিশিয়ারির ক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে একেক দেশে একেক নিয়ম। আমেরিকায় জুডিশিয়ারি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের একাধিক এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাতিল করেছেন। ব্রিটেনে এখন উচ্চ আদালতের বিচারপতিরাও আর সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাদের রায়ের সমালোচনা করলে আর আদালত অবমাননা হয় না। কিছুদিন আগে এক ধর্ষণ মামলায় এক বিচারপতি যে রায় দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে নারীরা লন্ডনের রাজপথে মিছিল করে প্রতিবাদ করেছেন এবং বিচারপতির অপসারণ দাবি করেছেন। আরেকটি মামলায় বিচারকের রায়ের তীব্র সমালোচনা হয়েছে (গার্ডিয়ানসহ) সংবাদপত্রে। পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব পাস হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতাতেও সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কাগজপত্রে আছে। বাস্তবে সেই স্বাধীনতা আইন মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের লালফিতায় বন্দি। আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতি জাস্টিস সিনহা অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে সেই লালফিতায় বন্দি স্বাধীনতা উদ্ধার করতে চেয়েছেন। পাকিস্তানে জাস্টিস কায়ানি আইয়ুব আমলের সরকারি ব্যবস্থা সম্পর্কে যেসব কথা প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর বলেছেন, বাংলাদেশে জাস্টিস সিনহা সেসব কথা তার বর্তমান পদে অবস্থান করেই বলেছেন। আইনমন্ত্রীর উচিত ছিল, তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়া। আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতায় পৌঁছা। তিনি তা করেননি। তিনি ক্রমাগত পাশ কাটানোর নীতি অনুসরণ করেছেন। গত ৯ মাসে ঢাকায় প্রধান বিচারপতি জাস্টিস সিনহার সঙ্গে তার বাসভবনে আমার দু’বার সাক্ষাৎ হয়েছে। আলোচনা হয়েছে দু’বারই দু’ঘণ্টার ওপর। তার সরলতা, আইন সম্পর্কিত জ্ঞান এবং স্বাধীনচেতা মনোভাব আমাকে অভিভূত করেছে।
বাজারে তার সম্পর্কে যে প্রচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল, তা যে সত্য নয়, তা বুঝতে আমার দেরি হয়নি। এ প্রচারণাও ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। বাংলাদেশের আর কোনো প্রধান বিচারপতিকে পদে বসেই এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার হতে হয়নি। পৃথিবীর সব দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এক ধরনের নয়। যেসব দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল, সেসব দেশে বিচার বিভাগ প্রকৃতই স্বাধীন। কিন্তু সে স্বাধীনতাও নিরঙ্কুশ নয়। যেসব দেশে গণতন্ত্রের অবস্থা নাজুক, সেসব দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবস্থাও নাজুক। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বহুদিন স্থিতিশীলতা লাভ না করায় বিচার বিভাগও তার প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল পর ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠাদানের চেষ্টা করছে এবং বিচার বিভাগকেও ধীরে ধীরে স্বাধীনতা দানের পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সরকার ও বিচার বিভাগ উভয়ের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব আছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় নির্বাহী ও বিচার বিভাগ পরস্পরের সহযোগী না হলে গণতন্ত্রের এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুরক্ষা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যে পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র এখনও নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত দ্বারা বিপন্ন, সেখানে বিচার বিভাগের যেমন উন্নত ইউরোপিয়ান দেশের মতো অবাধ স্বাধীনতা রাতারাতি লাভ করার আশা করা উচিত নয়, তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারেরও উচিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ঔপনিবেশিক আমলের মতো আমলাদের লালফিতায় বন্দি করে না রেখে ধীরে ধীরে পূর্ণ প্রতিষ্ঠাদানের পথে এগোনো। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারকদের অপসারণের প্রক্রিয়াটি সংসদ ও বিচার বিভাগের যুক্ত তত্ত্বাবধানে রাখা যায় কিনা সে বিষয়টি সরকার ও মহামান্য আদালত কি বিবেচনা করে দেখতে পারেন না? একটি সরল সমস্যা এখন জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে। বিচারকদের অপসারণের কার্যবিধি সম্পর্কে সরকার ও বিচার বিভাগ ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছে না। সুতরাং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে একটা সমঝোতা প্রয়োজন। আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও প্রয়োজন। তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসলে অবশ্যই দেশ এ সমস্যা থেকে মুক্ত হবে। প্রধান বিচারপতির প্রতি যেহেতু আমার বিশাল আস্থা ও সম্মান, সেজন্যই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে মহামান্য আদালতের রায় সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না তুলে তাকে জানাচ্ছি, এই রায় দেয়ার পাশাপাশি দেশের রাজনীতি, সরকার, পার্লামেন্ট ইত্যাদি সবকিছু সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ (যা রায়ের অংশ নয়) মোটেই প্রাসঙ্গিক নয়। এ মন্তব্য দেশে গণতন্ত্রের মিত্র নয় এমন একটি চক্রান্তকারী মহল ব্যবহার করতে পারে (ইতিমধ্যেই ব্যবহার করে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে)। গত নির্বাচনে একটি অসাধু সুশীল সমাজ (যার নেতা ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনূস প্রমুখ) যেভাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন, বর্তমানে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকেও তারা ব্যবহার করতে উৎসাহিত হয়েছেন। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করি না, একথা তাকে সবিনয়ে জানাই। বাংলাদেশে এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের যুগ। কিন্তু পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের ছবিটি খুবই খারাপ। কিন্তু তা এখনও প্রতিকারের বাইরে চলে যায়নি। বর্তমান সরকার অনেক দোষত্রুটি সত্ত্বেও এ অবস্থার প্রতিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সরকার ক্ষমতায় না থাকলে দেশের যে অবস্থা দাঁড়াবে, মহামান্য প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বরং সেই চিত্রটিরই আভাস পাওয়া যায়। দেশে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ফিরে এলে বিচার বিভাগ শুধু বর্তমানের কেতাবি স্বাধীনতাই হারাবে না, আবার স্বৈরাচারী শাসনের রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ব্রিটেনে ব্রেক্সিট প্রশ্নে পার্লামেন্ট, সরকার, সর্বোপরি রাজনীতির যে বেহাল অবস্থা চলছে, তার সঙ্গে বরং বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে জাস্টিস সিনহার পর্যবেক্ষণের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। ব্রিটেনের এ অবস্থা সত্ত্বেও বিচার বিভাগ তেরেসা মে’র টোরি সরকারকে তাদের নানা সিদ্ধান্ত ও কার্যকলাপ সংশোধনের পরামর্শ দিচ্ছেন; কিন্তু তাদের দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে দেশের সরকার, পার্লামেন্ট বা রাজনৈতিক অবস্থার কোনো সমালোচনা করছেন না। ব্রিটেনের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে এই সমঝোতাটি অনুসরণীয়। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য এই যে, ব্রিটেনে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয় গণতান্ত্রিক বিরোধিতার দ্বারা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় গণতান্ত্রিক বিরোধিতার আবরণে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র দ্বারা। বর্তমানে লন্ডনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান একত্রে যে তৎপরতা চালাচ্ছেন, তা আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য যতটা বিপজ্জনক নয়, তার চেয়ে অনেক বিপজ্জনক দেশের মাটিতে একটি সুশীল সমাজ ও তাদের সহযোগী একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রচারণা ও চক্রান্ত। ইতিমধ্যে এই সুশীল সমাজ ও মিডিয়া গ্রুপ প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে নানা ব্যাখ্যা-অপব্যাখ্যা দিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা শুরু করেছে। এদের অশুভ তৎপরতা ব্যর্থ করার জন্য সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে একটি সুস্থ সমঝোতা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় আমি আস্থা রাখি। পাকিস্তানে আইয়ুব খানের মতো একজন সামরিক শাসক তার কঠোর সমালোচক জাস্টিস কায়ানিকে শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখিয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনা তো একজন গণতান্ত্রিক নেত্রী। তিনি নিশ্চয়ই বিচারপতি সিনহার স্বাধীনচেতা, সাহসী মনোভাবকে সম্মান দেখাবেন এবং বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট মনোমালিন্য দূর করার ব্যাপারে তার প্রভাব খাটাবেন ও সফল হবেন। এটা আমার প্রত্যাশা ও প্রার্থনা।
লন্ডন, ৬ আগস্ট, রবিবার ২০১৭

পরিকল্পিত উন্নয়ন চাই : প্রধানমন্ত্রী

‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের’ নাম পরিবর্তন করে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন’ মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির (ন্যাশনাল কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট) চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈঠকে মংলা বন্দর এলাকায় পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার অনুমোদন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কৃষিজমি রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে জাতীয় পরিবেশনীতি ২০১৭’র খসড়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্লান-সিআইপি)’  খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।’ প্রেস সচিব জানান, সরকারপ্রধান চাষের জমি রক্ষার পাশাপাশি অহেতুক গাছ না কাটা এবং নতুন আবাসন এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে জলাধার রাখার কথাও বলেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন। সুন্দরবনকে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নতুন বনায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ যাতে সুন্দরবনের গাছ না কাটে, সেজন্য ওই এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, অতিবৃষ্টিতে জনভোগান্তির প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠলে প্রধানমন্ত্রী এর ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতিবৃষ্টি নদীর দূষণ রোধ করার পাশাপাশি লবণাক্ততা কমায়।’ নদী রক্ষায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দূষণ এড়ানো না গেলে নদী নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদ দূষণমুক্ত রাখতে হবে। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ২২ শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে তাকে স্মরণ করেন। কৃষকের উন্নয়নে কবিগুরুর বিভিন্ন অবদানের কথাও তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ইইউ প্রস্তাবকে স্বাগত : এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদুন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার প্রশংসা করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তাদের উদ্যোগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রশংসা করেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। প্রেস সচিব জানান, পিয়েরে মায়েদুন বাংলাদেশের শ্রম আইন ও ইপিজেডের খসড়া আইন আরও পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্টের প্রশংসা করেন। শ্রম অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে পিয়েরে মায়েদুন বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে সহযোগিতার জন্য ইইউ’র নেয়া ‘ইউরো হরাইজন-২০২০’ বাংলাদেশের আরও বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহ দেন তিনি। পিয়েরে মায়েদুন ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজেকে এই পরিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্ল– ইকোনমিতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ ফ্রিজের ৪টিই বিকল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ৫টি ফ্রিজের চারটিই বিকল। এ কারণে সচল ফ্রিজে পাঁচটি মৃতদেহ রেখে বাকিগুলো রাখা হয়েছে মর্গের মেঝেতে। ফলে পচেগলে মরদেহের আলামত নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গসহ অন্যান্য মর্গের ফ্রিজ ও এসি মেরামত বা বদলে ফেলতে ২৪ জুলাই হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। রোববার ঢামেক মর্গে গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ১০টি লাশ। এর মধ্যে ট্রুলিতে রাখা আছে ৩টি, সচল ফ্রিজটির পাশে রাখা আছে একটি। মর্গের আরেকটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ৪ জঙ্গির লাশ। মর্গ সূত্র জানায়, উত্তরার আশকোনায় এবং বিমানবন্দর গোলচত্বরে নিহত আত্মঘাতী দুই জঙ্গি, রূপনগরে নিহত এক এবং খিলগাঁওয়ে নিহত ১ জঙ্গির লাশ এগুলো। তারা জানান, ফ্রিজ বিকল হওয়ায় লাশ মেঝেতে না রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ইনচার্জ সেকান্দর যুগান্তরকে বলেন, একটি ফ্রিজ সচল রয়েছে। এতে দু’জন ভারতীয় নাগরিক, একজন নাইজেরিয়ান নাগরিক, একজন সাউথ আফ্রিকান নাগরিকের লাশ এবং হিন্দু-মুসলিম দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বে আদালতের নির্দেশে রাখা খোকন নন্দী ওরফে খোকা বাবুর লাশ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ফ্রিজে ৪টি লাশ রাখার নিয়ম থাকলেও আমরা ৫টি লাশ রেখেছি বাধ্য হয়ে। জানা গেছে, মর্গের চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি নষ্ট প্রায় এক বছর ধরে। আর তিনটি ফ্রিজ তিন-চার মাস ধরে বিকল। আর দুটি ফ্রিজের মধ্যে একটি ফ্রিজ রোববার বিকল হয়ে পড়ে।
ঢামেকের এই মর্গে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। রাজধানীর অধিকাংশ থানা ছাড়াও গাজীপুর, সাভার ও অন্যান্য এলাকা থেকে হত্যা, আত্মহত্যা, বিষপান, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ ও বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। এ মর্গে প্রতিদিন গড়ে দুটি আবার কোনো সময় চার থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত লাশ আসে। এসব লাশ সংরক্ষণ করতে হয় ফ্রিজে। ফ্রিজ বিকল থাকায় বেওয়ারিশ লাশগুলো কোনোভাবেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য এর আগে ডাক্তার সোহেল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেছিলেন, লাশ নিয়মমতো সংরক্ষণ না করা হলে পচেগলে আলামত নষ্ট হয়। বেওয়ারিশ লাশসহ মর্গের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আমরা রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনটি ফ্রিজ বিকল ছিল। তা মেরামত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলাম। তারা ফ্রিজগুলো দেখে মেরামতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এরপর আমরা ফ্রিজ মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন দরপত্রে সাড়া দিয়ে কেউ এগিয়ে এলে আমরা তাদের দিয়ে ফ্রিজগুলো মেরামত করিয়ে নেব।

বঙ্গবন্ধু আছেন চেতনায় হৃদয়ে

একটা সময়ে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াই নিষিদ্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের ক্ষমতার দাপটে বাঙালি জাতি কুঁকড়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নাম বলা যায় না, তাকে নিয়ে লেখা যায় না। লেখলেই নির্যাতনের ভয়। এ অবস্থায়ও কেউ কেউ লেখলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গল্প লেখলেন আবুল ফজল, কবিতা লেখলেন নির্মলেন্দু গুণ। আমিও একটা গল্প লেখলাম। ’৭৮ সালের কথা। গল্পের নাম ‘মানুষ কাঁদছে’। বঙ্গবন্ধুর জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কান্না উৎসারিত হয় এক যুবকের। বাঙালি হয়েও বঙ্গবন্ধুকে সে বাঁচাতে পারেনি- এরকম এক অপরাধবোধের গল্প। সেই যুবক নিজেকে কাপুরুষ মনে করে। তার জীবনের সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ বঙ্গবন্ধু। লৌহজং মাঠে একবার সে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছিল। আরেকবার দেখেছিল ঢাকায়। বঙ্গবন্ধু খোলা জিপে করে যাচ্ছেন। দু’বারই বঙ্গবন্ধুকে দেখে সে বলেছিল, বঙ্গবন্ধু, আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসত। দিনমজুর ভাগচাষী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মেহনতি মানুষ। সাধারণ মানুষের অসাধারণ নেতা ছিলেন তিনি। বাঙালির নয়নের মণি ছিলেন। পঁচাত্তরের সেই বীভৎস ভোরে যখন জানা গেল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের দরিদ্র রান্নাঘরে সকালের নাশতা তৈরি করছিলেন মা। যখন শুনলেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, দিশেহারার মতো সব ফেলে ছুটে বেরুলেন। হায় হায় কয় কী! বঙ্গবন্ধুরে মাইরা ফালাইছে? কোন শয়তানরা করল এই কাজ? আমার মা তারপর কাঁদতে লাগলেন। অঝোরধারায় কান্না। পিতার মৃত্যুতে যেমন করে কাঁদে মানুষ, ঠিক সেরকম কান্না। আমরা পাথর হয়ে রইলাম। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সেদিন এরকম নিঃশব্দে কেঁদেছে লাখ-কোটি মানুষ। প্রিয় নেতাকে, জাতির জনককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যে খুনিরা, তাদের অভিশাপ দিয়েছে। তারপর কত কত দিন কেটে গেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার তো দূরের কথা, তার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করতে দেয়া হয়নি। বাঙালিকে লেখতে দেয়া হয়নি তাদের জাতির জনকের কথা। কিন্তু প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাঙালি চেয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। ফাঁসিতে ঝোলানো হোক খুনিদের। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পিতৃহত্যার বিচার করেছেন। বাঙালির বুক থেকে নামিয়ে দিয়েছেন দীর্ঘকাল ধরে চেপে বসা পাথর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেও জাতির দায়মুক্তি করেছেন তিনি। পঁচাত্তরের সেই দিনটির কথা আমার খুব মনে পড়ে। এত বেদনার দিন বাঙালির জীবনে আর কখনও আসেনি। বঙ্গবন্ধুর শোকে সেদিন নিঃস্তব্ধ হয়েছিল দেশের মানুষ, বইতে ভুলে গিয়েছিল আগস্ট মাসের হাওয়া, গান বন্ধ করেছিল পাখিরা, থেমে গিয়েছিল নদীর সে াতধারা, সূর্যের তলায় এসে দাঁড়িয়েছিল ঘন কালো মেঘ। আমাদের চারিদিক ডুবে গিয়েছিল গভীর অন্ধকারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কি আসলে হত্যা করা যায়? শারীরিকভাবে তিনি নেই, তার আদর্শ রয়ে গেছে আমাদের চেতনায়। তিনি হচ্ছেন বাঙালির জাতির আকাশ। আকাশ সব সময় মাথার উপরে থাকে। তিনি আছেন আমাদের মাথার উপর। তার দেখানো পথ আর আদর্শ আমাদের চালিত করছে। তার দেখানো পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারপরও বঙ্গবন্ধুর জন্য বাঙালি জাতি চিরকাল কাঁদবে।

কাভার্ডভ্যান-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৫

গাজীপুরে কাভার্ডভ্যান ও লেগুনার সংঘর্ষে তিন জন নিহত ও অন্তত ৫জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। নাওজোর হইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল হাই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিদেশে আরও ৭ শহরে মিশন স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন

বিশ্বের সাতটি শহরে নতুন করে বাংলাদেশ মিশন স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে বিদেশে স্থাপিত ১৭টি বাংলাদেশি মিশন ভূতাপেক্ষভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, আফগানিস্তানের কাবুল, সুদানের খার্তুম, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটাউন, কানাডার টরোন্টো, ভারতের চেন্নাই, রোমানিয়ার বুখারেস্ট ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নতুন করে সাতটি মিশন স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, নজরুল ইনস্টিটিউট আইন ২০০০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আগে চালু হওয়া ১৭টি মিশন হল- এথেন্স, মিলান, মুম্বাই, ইস্তাম্বুল, লিসবন, কুনমিং, বৈরুত, মেক্সিকো সিটি, ব্রাসিলিয়া, পোর্ট লুইস, কোপেনহেগেন, ওয়ারশ, ভিয়েনা, আদ্দিসআবাবা, আবুজা, আলজিয়ার্স ও গৌহাটি।

আশিয়ান সিটির প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা আপিলেও বহাল

রাজধানীর উত্তরার (উত্তরখান, দক্ষিণখানসহ চার মৌজায়) আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আশিয়ান সিটির বিষয়ে হাইকোর্টের রিভিউ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল গ্রহণ) দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতে আশিয়ান সিটির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। রিটকারী সংগঠনগুলোর পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও আইনজীবী ফিদা এম কামাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান মৌজায় আশিয়ান সিটি আবাসিক প্রকল্পকে দেয়া রাজউকের অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া আসিয়ান সিটির অবস্থানগত ছাড়পত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী আটটি সংগঠন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। ওই রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। পরে এ রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ আবেদন করে। এর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দেয়া রায় বাতিল ঘোষণা করেন। এই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও রিট আবেদনকারী পৃথক আবেদন করে। এর একটিতে ওই প্রকল্পের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যটিতে প্রকল্পের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট চেম্বার বিচারপতি আবেদন দু'টি ২২ আগস্ট আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি নিয়ে প্রকল্পের (উত্তরখান, দক্ষিণখানসহ চার মৌজায়) কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেন আপিল বিভাগ। প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রিভিউর রায়ের কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়।

দোহারে বৃদ্ধা হত্যায় নারীসহ চারজনের ফাঁসি

ঢাকার দোহারে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক নারীসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসান তারিক এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-  সুমন বয়াতি, ফজল ওরফে ফজল, রাজন খা, শাহনাজ বেগম। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দোহার থানার সূতারপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্বপরিকপ্লিতভাবে আয়েশা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তার গলায় থাকা সোনার গহনা ও কানের দুল নিয়ে তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর তার বাসা থেকে দুই-তিন কিলোমিটার দূরে বৃদ্ধার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার ছেলে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে দোহার থানার উপ-পরিদর্শক মজিবুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

শরীয়তপুরে জুয়ার আসর থেকে প্যানেল মেয়র গ্রেফতার

জুয়ার আসর থেকে শরীয়তপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়রসহ ৭ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। এসময় দুই লাখ টাকা চার বান্ডেল তাস উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের শহরের শামীম প্লাজা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শরীয়তপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. বাচ্চু বেপারী, বাচ্চু বেপারীর ছোটবোন জামাই ঠিকাদার শামীম সরদার, হাছান বেপারী, তেল ব্যবসায়ী ফারুক তালুকদার, ঠিকাদার মো. মানিক শেখ, জোরাল তালুকদার, জলিল বেপারী। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সুব্রত কুমার সাহা বলেন, সোমবার সকালে গ্রেফতারকৃত প্যানেল মেয়রসহ সাতজনকে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শরীয়তপুরের ডিবি পুলিশের এসআই এনামুল হক যুগান্তরকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে শহরের পালং বাজারের শামীম প্লাজা তৃতীয় তলায় জুয়ার আসর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়,  জুয়ার আসর থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ৪ বান্ডিল তাস উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অফিস নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. শাহজাহান বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। শরীয়তপুর বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই শামীম প্লাজায় জুয়া খেলা চলছে। অবশেষে শহরের বড় বড় জুয়ারীদের গ্রেফতার করায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।

ডিসি পার্কের লেকে ভেসে উঠল নিখোঁজ পর্যটকের লাশ

নিখোঁজের তিন দিন পর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডিসি পার্কের লেক থেকে পর্যটক ওয়াহিদ পলিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডিসি পার্কের শহীদ সিরাজ বীরউত্তম লেক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওয়াহিদ পলিন ঢাকার মতিঝিল ডিপিসি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামালের ছেলে। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজুড় গ্রামে। জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাহিদ, মারুফ হোসেন, ওয়াহিদ পলিন, রুশনী ও বাঁধন টাঙ্গুয়ার হাওরে শুক্রবার ভ্রমণে যান। শনিবার দুপুরে শরীরে টায়ার নিয়ে তারা টেকেরঘাট সীমান্তের জিরো লাইন বরাবর ডিসি পার্কের শহীদ সিরাজ বীর উত্তম লেকে গোসল করতে নামেন। গোসল শেষে ৪ বন্ধু তীরে উঠলেও ওয়াহিদ পলিন সাঁতার না জানায় লেকে ডুবে নিখোঁজ হন। এরপরই পুলিশ-বিজিবি ও সিলেটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। এতে পলিনের কোনো সন্ধান না পেয়ে রোববার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডিসি পার্কের শহীদ সিরাজ বীরউত্তম লেকে ভেসে ওঠে পলিনের লাশ। ছেলের লাশের পাশে পলিনের বাবা মো. মোস্তফা কামাল বিলাপ করে বলছিলেন, 'পরিবারের সবাইকে বলে এসেছি ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। তার মাকে এখনো ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে তাহিরপুরের টেকেরঘাটের ঘটনাস্থল থাকা টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহমেদ যুগান্তরকে জানান, নিহতের পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ময়নাতদন্ত শেষে পলিনের লাশ বাবার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে ঘুম হারাম গোয়েন্দাদের

উপমহাদেশে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ নাম দাউদ ইব্রাহিম। তাকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। দীর্ঘ দিন ধরে দাউদ ইব্রাহিম নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করছিল ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্যে আবার ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে তাদের। শুধু গোয়েন্দারা নয়, স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দাউদকে নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। দাউদের নেটওয়ার্ক উপমহাদেশজুড়ে মাদক ও চোরাকারবারীর নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানান মোদি। ভারতীয় গোয়েন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করছিল দাউদ ইব্রাহিম করাচিতে আছেন মরণাপন্ন অবস্থায়। কিন্তু সম্প্রতি গুজরাট উপকূলের কাছে এমভি হেনরি জাহাজ থেকে মাদক উদ্ধারের পর দাউদকে নিয়ে আবার চিন্তিত গোয়েন্দারা। ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জেরা করে দাউদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে দাউদের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়। গোয়েন্দাদের মতে, দাউদ যে কতটা সক্রিয় তা এমভি হেনরি জাহাজ থেকে ১৫০০ কেজি হেরোইন উদ্ধার হওয়া থেকেই স্পষ্ট। গুজরাট উপকূলের কাছে আটক হওয়া ওই জাহাজের ধৃত ক্যাপ্টেন ও সঙ্গীরা জেরায় জানিয়েছে, ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে দুবাই ঘুরে জাহাজটি করাচি আসে। সেখানে অনির্ধারিতভাবে তিন দিন দাঁড়িয়ে ছিল জাহাজটি। কেন দাঁড়িয়ে ছিল তার কোনও স্পষ্ট জবাব নেই ধৃতদের কাছেও। ধৃতদের স্বীকারোক্তি, ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে করাচি ছাড়াও সংলগ্ন গদর বন্দরেও গিয়েছিল জাহাজটি। গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, করাচি থেকেই মাদক জাহাজে তোলা হয়েছিল। জাহাজটিকে ভারতীয় নৌসেনারা পোরবন্দরে নিয়ে যান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই জাহাজের আসল গন্তব্যস্থল ছিল গুজরাটের আলঙ্গ বন্দর। গুজরাটে পুরনো জাহাজ ভেঙে ফেলার জন্য ওই বন্দরটির বিশেষ নাম রয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, আলঙ্গে জাহাজ ভেঙে ফেলার ব্যবসায় লগ্নি রয়েছে দাউদ ঘনিষ্ঠ অনেক ব্যবসায়ীর। এ ক্ষেত্রে মাদকের পরিমাণ দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, ১৫০০ কেজি মাদক কোনো বিশ্বস্ত জাহাজ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে গুজরাটে ঢোকাতে চেয়েছিল দাউদ। যদিও তার আগেই গ্রেফতার হয়ে যায় পাচারকারীরা। মাদকের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চলছে ভারতে জাল নোট পাঠানোর কাজ। হাজার টাকার নোট বাতিল হবার পর এখন একশো টাকার নোট ছাপছে দাউদ। সম্প্রতি দিল্লিতে জালনোট পাচারকারী একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জেরা করেই এই তথ্য জানা গেছে।

১০ বিদ্রোহীকে খুঁজছে ভেনিজুয়েলার সরকার

ভেনিজুয়েলায় বিদ্রোহে অংশ নেয়া ১০ সন্দেহভাজনকে খুঁজছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সামরিক স্থাপনায় হামলার পর অস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়া ওই বিদ্রোহীদের খুঁজতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। খবর বিবিসির। রোববার দেশটির উত্তর-পশ্চিম এলাকার ভ্যালেনসিয়া শহরে এই বিদ্রোহ হয়। তবে এ ঘটনাকে বিদ্রোহের পরিবর্তে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছে ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ। হামলায় ২০ জনের মতো বিদ্রোহী অংশ নেয়। বিদ্রোহের সময় ঘটনাস্থলে দুই জন নিহত, এক জন আহত ও সাত জন গ্রেফতার হয়। এসময় অস্ত্রসহ ১০ জন পালিয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ব্যক্তিরা রাস্তায় টহল দিচ্ছে। তারা বলছে, আমরা হত্যা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। তবে বর্তমানে ভেনিজুয়েলার অবস্থা সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মাদুরো সন্ত্রাসী হামলা দমনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা। ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পলাতকদের খুঁজছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

গাজাকে মুছে ফেলার দাবি তোলা ব্যক্তিই ইইউ প্রতিনিধি

ফিলিস্তিনের চরম বিদ্বেষী এক ইসরাইলিকে নিজেদের প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আভিশাই ইভরি নামের ওই ব্যক্তি এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (টুইটার) মানচিত্র থেকে গাজাকে মুছে ফেলার দাবি তুলেছিলেন। ইভরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পোর্কন্নয়নে কাজ করবেন। এদিকে মুসলিমদের চরম বিদ্বেষী ওই ব্যক্তিকে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। খবর মিডলইস্ট মনিটরের। কেবল গাজাকে মুছে ফেলার দাবি জানিয়েই থেমে থাকেননি বিতর্কিত ব্যক্তি ইভরি। তিনি ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরাইলি হামলার ঘটনায় টুইট করেছিলেন, আমাদের একজনের মৃত্যুতে অন্তত ১ হাজার আরবের মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়েই অপর এক টুইটে তিনি দাবি করেছিলেন, 'ফাক ইট, গাজাকে মুছে ফেল'। অপর এক বিতর্কিত টুইট বার্তায় ইভরি প্রশ্ন তুলেন, ফিলিস্তিনিরা কোন জাতি? তারা হচ্ছে নোংরা আবর্জনা।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নির্বাচন চান হেকমতিয়ার

জনপ্রিয় আফগান নেতা গুলবদন হেকমতিয়ার নিজ দেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও বৃদ্ধি সীমিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর ডনের। গত এপ্রিলের পর থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন হেকমতিয়ার। এরপর তিনি রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় হন। কাবুল সরকারের সঙ্গে এক চুক্তির পর হেকমতিয়ার এখন দেশের শান্তি স্থাপনে কাজ করতে উদ্যোগী হয়েছেন। ২০ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে ৭০ বছর বয়সী হেকমতিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার দরকার, এছাড়া দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব না। হেকমতিয়ার নিজ দল হেজব-ই-ইসলামের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন সৈন্য কমানোর দাবি জানিয়ে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে বিভিন্ন পরাশক্তির নাক গলানোর বদলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চান হেকমতিয়ার।

‘মদের আসরে’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার চুক্তি

১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। তিনটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র- রাশিয়া, ইউক্রেন এবং বেলারুশের নেতারা সে বছর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির ডিনা নিউম্যান। জানা যাক সেই কাহিনী- ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর পূর্ব ইউরোপের বহু দেশে কমিউনিজমেরও পতন ঘটেছে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনও টিকে আছে। কমিউনিস্ট পার্টি তখনও ক্ষমতায়, আর পার্টির নেতা তখন মিখাইল গর্বাচেভ। গর্বাচেভ তখন এক কঠিন সময় পার করছেন। ১৯৯১ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে কট্টরপন্থী কমিউনিস্টরা। তারা গর্বাচেভের সংস্কার কর্মসূচি পেরেস্ত্রোইকার বিরোধী ছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে গেলেন গর্বাচেভ। কিন্তু এবার দেখা দিল নতুন সমস্যা। ১৫টি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অনেকগুলোতেই স্বাধীনতার আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠল। ইউক্রেনসহ অনেক ছোট ছোট প্রজাতন্ত্রে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটও হয়ে গেল। ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কিভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া যায় তার পথ খুঁজছেন।"একটি স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তখন তার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পুরনো রাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষের নিচে থেকে লাখ লাখ মানুষকে কীভাবে বাঁচানো যায় সেটাই তখন তার চিন্তা।" ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বেলারুশে বৈঠকে বসলেন তিন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের নেতারা। বৈঠকটি ডেকেছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ। এই বৈঠক সম্পর্কে লিওনিদ ক্রাভচুকের ভাষ্য এরকম : ‘সেখানে একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল কিভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত করা হবে। শুশকেভিচ যখন তেল এবং গ্যাসের কথা বলছিলেন, তখন আমার মাথায় আসছিল না, তিনি কি বলছেন। আমি ভেবেছিলাম, আমরা সেখানে গিয়েছি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার জন্য। দেশ তখন পরস্পরবিরোধী টানাপোড়েনে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। সংকটের কারণে মানুষ তখন অতিষ্ঠ। আমরা বেলারুশে গিয়ে বৈঠকে বসেছি দেশ কোনদিকে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার জন্য।’ ১৯৯১ সালের ৭ ডিসেম্বর রাশিয়ার নেতা বরিস ইয়েলৎসিন, ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক এবং বেলারুশের নেতা স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ পূর্ব বেলারুশের এক বিরাট খামারবাড়িতে মিলিত হলেন। বাড়িটা ছিল খুবই বিলাসবহুল। সোভিয়েত শীর্ষ নেতাদের জন্য এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরনের বৈঠকের যেটা রীতি, একটি স্টিম বাথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সাধারণত এই স্টিম বাথের পর, প্রচুর মদ পানের আয়োজন রাখা হয়। তবে এবারের বৈঠকে দেখা গেল, মদ পানের পরিবর্তে আমাদের জন্য ম্যাসাজ বা শরীর মালিশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সোভিয়েত রীতি অনুযায়ী এই বৈঠকে প্রচুর খানাপিনা এবং আরাম আয়েশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।" পরদিন ৮ ডিসেম্বর তিন নেতা তাদের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসলেন। স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ জানালেন, বৈঠক শুরুর অল্প পরেই তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির লক্ষ্যে চুক্তির প্রথম লাইনটির ব্যাপারে একমত হলেন। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়লেন। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েৎলসিনের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেয়া হল। পুরো পরিকল্পনাটির পেছনে ছিলেন ইয়েলৎসিন। যদিও এর মধ্য দিয়ে কার্যত কয়েক শতাব্দীর রুশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের অবসান ঘটল। এটি ছিল এক বিরাট পদক্ষেপ। পরবর্তীকালে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, এই তিন নেতা যখন এই চুক্তি করেন, তখন তারা সেটি সুস্থ মাথায় করেছিলেন কিনা। লিওনিদ ক্রাভচুক বলছিলেন, এরকম একটা কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে যে আমরা মদ্যপ অবস্থায় এই চুক্তির খসড়া তৈরি করেছিলাম। এটা পুরোপুরি ভুল। এটা ঠিক যে সোভিয়েত রীতিতেই ওই বৈঠকটির আয়োজন করা হয়েছিল। ওই বাড়ির সর্বত্র প্রচুর মদ পানের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কেউ তা স্পর্শ করেনি। আমরা এক একটা অনুচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হওয়ার পর বড়জোর এক-দুই ফোঁটা ব্রান্ডি পান করতাম। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় তারা চুক্তির মোট ১৪টি অনুচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হলেন। রাত তিনটে নাগাদ তৈরি হয়ে যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ঘোষণা। আর ইয়েলৎসিন এই ফাঁকে ডায়াল করলেন প্রেসিডেন্ট বুশকে।

আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলায় শিশুসহ অর্ধশত নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরে সার-ই-পুল প্রদেশের সিদ জেলায় জঙ্গি হামলায় বেসামরিক নারী ও শিশুসহ ৫০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার জন্যে তালেবান এবং আইএস উভয় জঙ্গি গোষ্ঠীকেই দায়ী করছে দেশটির সরকার। অবশ্য, তালেবানেরন পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিষয়টি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। সরকার সমর্থিত মিলিশিয়া দলের ২৮ জন সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তারা। খবর বিবিসি। আফগানিস্তানের প্রাদেশিক গভর্নরের মূখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বেসামরিক নাগরিকদের এখানে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এই হামলার প্রথম লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপত্তা চৌকি। যেটি স্থানীয় পুলিশ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। হামলায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ জন সদস্যকেও হত্যা করা হয় এবং জনপদে ঢুকে নিরস্ত্র গ্রামবাসী নারী-পুরুশ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। এসময় বেশ কয়েকজন বিদ্রোহীও নিহত হয়েছেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। জঙ্গিদের এই হামলাকে মানবতাবিরোধী বলে নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানী। তিনি এক বার্তায় জানান যে, আবারো সন্ত্রাসীরা বেসামরিক নারী ও শিশুদের হত্যা করেছে। তাদের এই বর্বর আইন মানবাধিকারের সরাসরি লংঘন এবং এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর সহায়তা বাড়ানোর জন্যে সেখানে আরও সেনা ও পুলিশ সদস্য বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে এ ধরনের হামলা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসেবে এ বছরে এখন পর্যন্ত ১৬৬২জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এ ধরনের হামলায়।

এবার পিটুনি খেয়ে হাসপাতালে গোরক্ষক বাহিনী

ভারতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই কিছু রাজ্যে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের তাণ্ডব ঘটে চলেছে। এবার সেই ‘গোরক্ষক’দেরই পাল্টা মারের মুখে পড়তে হল। ট্রাকে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিনা যাচাই করতে গিয়ে মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন সাতজন গোরক্ষক। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে পুণে থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের শ্রীগোন্ডাতে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। আহমেদনগরের শ্রীগোন্ডায় কয়েকজন গোরক্ষক একটি মিনি ট্রাক আটক করে। সেই ট্রাকে ১২টি গরু ছিল। পুলিশে খবর দেয়া হলে ট্রাকচালক এবং তার সহকারীকে আটক করে পুলিশ। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু এরপর থানায় গিয়ে উপস্থিত হন কয়েকজন গোরক্ষক। শুধু আটক না করে পুলিশের কাছে ট্রাকচালকদের গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকেন তারা। এতেই পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। থানার বাইরে ওই গোরক্ষকরা যখন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, সে সময়ই তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাইরে থেকে কয়েকজন এসে তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছোড়ে। লাঠিপেটাও করে।

জাতিসংঘের অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা দেশটির মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিকাণ্ড চালিয়েছে বলে জাতিসংঘ যে অভিযোগ দিয়েছে, তা অস্বীকার করেছে মিয়ানমারের সরকারি তদন্ত কমিশন। রোববার কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান পরিচালনার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। খবর এএফপির। গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন পরিচালনা করে দেশটির বৌদ্ধ অধ্যুষিত সেনারা। এ নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত টিম প্রমাণ করে যে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সরকার। এ নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির কার্যত নেতা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সুচি। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারের সরকার সমর্থিত তদন্ত কমিশন জানায়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিকাণ্ডের কৌশলগত অভিযান চালিয়েছে- এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নিন্মপর্যায়ের কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার কিছু ঘটনা বানানো এবং গালগল্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এতে সেনা সদস্যদের ওই অভিযানে ‘খুব সম্ভাব্য’ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বলা হয়। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে সংখ্যালঘু একটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তারা। শনিবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রাখাইন রাজ্যের রাথেডাউং শহরে প্রায় ৬০০ গ্রামবাসীকে ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী। তবে তারা বলছেন, সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে এমন ছ’জন সন্ত্রাসীকে খুঁজছেন তারা। পুলিশ কর্মকর্তা জ উইং অং সংবাদ সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ‘সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান চালাতে গেলে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করে গ্রামবাসী।

এটিএম মেশিনে তাকালেই আসবে টাকা!

বর্তমানে এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে ও গোপন নম্বর ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়। কিন্তু এবার টাকা তুলতে আর কার্ড লাগবে না। শুধু মেশিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেই টাকা বেরিয়ে আপনার হাতে চলে আসবে। কয়েক মাসের মধ্যেই এ সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। ভারতের চেন্নাইয়ে এ ধরনের এটিএম পরিষেবা চালু করতে চলেছে বেসরকারি একটি ব্যাংক। পরে দেশের অন্য স্থানেও এ পরিষেবা চালু করা হবে বলে জানা গেছে। কলকাতা টোয়েন্টিফোর এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যাপারটা আসলে কিছুই না। এটিএম মেশিনের বায়োমেট্রিক আই-পিস আপনার চোখের মণিকে স্ক্যান করে নেবে। তারপর আপনি যদি সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি হন, তখন টাকা বেরিয়ে আসবে। ফলে কোনো কার্ড বা পিনের প্রয়োজন পড়বে না। এ পদ্ধতির কারণে কেউ কার্ড জালিয়াতির ঘটনাও ঘটাতে পারবে না।

সিটিসেলের পরিচালক মোরশেদ খানসহ ৮জনের বিরুদ্ধে সমন

সিটিসেলের পরিচালক মোরশেদ খানসহ ৮জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। প্রায় দেড় কোটি টাকার বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগে সিটিসেলের পরিচালক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করেন ওই কোম্পানির পাঁচ কর্মকর্তা। আদালত মামলগুলো গ্রহণ করে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দেয়ার জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। সোমবার ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান বেগম তাবাসসুম ইসলাম এ আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) সিইও মেহবুব চৌধুরী, পরিচালক ও মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরিন খান, পরিচালক আসগর করিম, চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার এবং প্রভিডেন্ড ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য তারিকুল হাসান, সিটিও এবং প্রভিডেন্ড ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য মাহফুজুর রহমান, প্রভিডেন্ড ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য নিশাত আলী ও প্রভিডেন্ড ফান্ড ট্রাস্টির সদস্য এ বি সরকার। মামলার বাদীরা হলেন সিটিসেলের কর্মকর্তা টিপু সুলতান, কাজী রুহুল কুদ্দুস, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক মিলন ও এ কে এম এহসানউল আজাদ। মামলায় বাদীদের পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম। বাদী পক্ষের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম বলেন, পাওনা প্রায় দেড় কোটি টাকার জন্য সিটিসেলের পাঁচ কর্মকর্তা পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে আরো ২৫টি মামলা দায়ের করা হবে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদীরা দীর্ঘ দিন ধরে সিটিসেল কোম্পানিতে চাকরি করে আসছেন। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাদের যাবতীয় মজুরি কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেয় সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। দুই তিন মাস যাওয়ার পর তারা মজুরির টাকার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলতে থাকেন। কর্তৃপক্ষ ডিসেম্বরের মধ্যে তা পরিশোধের জন্য আশ্বাস দেন। গত মার্চ মাসে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য সম্মিলিতভাবে সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেন। এরপরও টাকা না দেয়ায় ২০১৭ সালের ৩ মে সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেন করেন তারা।

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর

রাজধানীর মিরপুরে ছাঁটাই বন্ধ ও বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করেছেন মেরিডিয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছেন ১০ জন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা জানায়, কয়েকদিন আগে ওই পোশাক কারখানার নয়জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে। শ্রমিকদের না জানিয়েই আজ সকাল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া কারাখানাটি মিরপুর থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। এসব কারণে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিরপুর-১ নম্বরের কিয়াংসি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনের বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন।   শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী  জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নামেন। শ্রমিকরা রাস্তায় যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটালে পুলিশ বাধা দেয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে আহত হয়েছেন শাহআলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মেহেদি হাসান। মাথায় আঘাত পান তিনি। এরপর শুরু হয় পুলিশ-শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

টিয়ারশেলেই চোখে আঘাত সিদ্দিকুরের

পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেলের আঘাতেই তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের চোখ আহত হয়েছে। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিটি এই ঘটনায় দুই কর্মকর্তাসহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়ী করেছেন। সোমবার দুপুরে এই তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আশরাফুল আলম। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) মর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শাহবাগ থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ পাচ কনস্টেবলের আক্রমণাত্মক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিটি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা হলেন- শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর আলী বিশ্বাস ও পরিদর্শক (অভিযান) আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে দাঙ্গা দমন বিভাগের (পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট-পিওএম) পাঁচ কনস্টেবলের নামও আছে। গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান চোখে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার পর প্রথমে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে সরকারি খরচে ভারতের চেন্নাই পাঠানো হয়। ঘটনার পর অভিযোগ উঠে, পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেলের (কাঁদানে গ্যাস) আঘাতে সিদ্দিকুর চোখে আহত হন। কিন্তু ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হতে থাকলে সরকার সিদ্দিকুরের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে দু'টি পৃথক কমিটি গঠন করে। এদিকে এ ঘটনায় গঠিত আরেকটি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন বলে সূত্র জানায়। পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবালকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সিদ্দিকুর। গত শুক্রবার তার অপারেশন হয়। শনিবার চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হলে বাম চোখে সামান্য আলো দেখতে পান তিনি। তবে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি। তার দৃষ্টিশক্তি ফিরবে কি ফিরবে না তা নিশ্চিত হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে শংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসকরা।

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় থাকায় এবং তা উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় (তিনদিন) সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সোমবার সকাল ৯টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ বার্তায় বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে। এর ফলে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) দেশে সর্বোচ্চ ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে। এছাড়া সিলেটে ৫৭, বরিশালে ৪১, চট্টগ্রামে ১০ এবং ঢাকা ও খুলনা ৭ মিলিমিটার গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঈদের আগেই সাড়ে ৫২ হাজার টাকা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

আসন্ন ঈদের আগেই প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা সাড়ে বায়ান্ন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গত ঈদের বকেয়া উৎসব ভাতা, তিন মাসের সম্মানী ভাতা ও আসন্ন ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা মিলে এ অর্থ পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে মুক্তিযোদ্ধাদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা তিনগুণ করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের মতো উৎসবভাতাও চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সহ-সভাপতি ইসমত কাদির গামার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদুস সালাম খান ও সালাহ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন খান, ফজলে আলী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে ১০ ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না আজ

গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের কারণে আজ সকাল থেকে ১০ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না রাজধানীর মিরপুর এলাকায়। সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাগ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের কারণে সাময়িক গ্যাস সংগযোগ বন্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের জন্য গ্যাসের শাট ডাউনের ফলে মিরপুরের আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তিতাস গ্যাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। মিরপুর-১, ২, ৬, ৭ নম্বর এবং মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় রাস্তার পূর্ব ও পশ্চিম পাশ, ইস্টার্ন হাউজিং, রূপনগর, আরামবাগ, আলুবদি ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর আগেও এ প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো প্রকল্প এলাকার আশেপাশে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো।

মতিঝিলে ৫ ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক

রাজধানীর মতিঝিল থেকে পাঁচ ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)  আটক করা হয়েছে। রোববার তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, ওয়াকিটকি, হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা থেকে পাঠানো এসএমএস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়। পরে মতিঝিলে সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো  হবে।

কুকীর্তির বর্ণনা দিল ভণ্ডপীর

নারীদের মধ্যে যারা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন, তারাই ছিলেন ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারের টার্গেট। মেয়েদের এই নিঃসঙ্গতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলত পিয়ার। শুরু হতো ভিডিও চ্যাটিং। এরপর বাসায় ডেকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত। না জানিয়ে ভিডিও ধারণ করে রাখত এসব দৃশ্য। তারপর শুরু হতো প্রতারণা। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগী নারীর কাছে দাবি করত মোটা অঙ্কের অর্থ। টাকা দিতে রাজি না হলে ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিত। এভাবেই গাড়ি-বাড়িসহ কোটি টাকার সম্পদ করেছে সে। সম্প্রতি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেন এই ভণ্ডপীরকে। গ্রেফতারের পর দু’দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে নিজ মুখে এসব কুকীর্তির বর্ণনা দেয় সে। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ভণ্ডপীর তাহমিনা ও মিতা নামের দুই নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে সে। টাকার বিনিময়ে নারীদের বিশেষ করে যারা একাকী জীবনযাপন করেন তাদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাটিং করত। এ ছাড়া সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনে যেসব নারী নানা সমস্যায় ভুগছেন তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলত। এভাবেই শতাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয় পিয়ার। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুগান্তরকে বলেন, নিজের সুন্দর চেহারা এবং ইসলামি জ্ঞানকে অপব্যবহার করে অসংখ্য মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে এই ভণ্ডপীর।
বিভিন্নজনকে সাহায্য করার কথা ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করে নিজের ব্যাংক ও বিকাশ নম্বরে মোটা অঙ্কের অর্থ এনে আত্মসাৎ করে সে। গত তিন বছরে এভাবেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে এই প্রতারক। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, তার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত জনতা ব্যাংকের নতুন আরেকটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে সেটা জানা যায়নি। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আদালতে নিজের মুখে কুকীর্তির বর্ণনা দিয়েছে ভণ্ডপীর। আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে, দুই নারীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের গোপন ভিডিও ধারণের কথাও অকপটে স্বীকার করেছে এ প্রতারক। ওই কর্মকর্তা বলেন, তার প্রতারণার আরেকটি মাধ্যম ছিল ‘এএইচপি’ নামের অনলাইন টেলিভিশন। সেখানে বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে প্রতারণা করেছে। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী এভাবে সে টেলিভিশন চালাতে পারে না। তাই তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। এর আগে বেশ কয়েক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার জিন-ভূত তাড়ানোর নাম করে পর্নো ভিডিও ধারণকারী ও ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠালে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। শনিবার এই ভণ্ডপীরকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে নিজ মুখে নানা কুকীর্তির বর্ণনা দেয় সে।

'টিয়ারশেলই চোখে আঘাত সিদ্দিকুরের'

পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেলের আঘাতেই তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুরের চোখ আহত হয়েছে। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটি এই ঘটনায় দুই কর্মকর্তাসহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়ী করেছেন। আজ সোমবার এই তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আশরাফুল আলম। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) মর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শাহবাগ থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ পাচ কনস্টেবলের আক্রমণাত্মক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের বিভিন্ন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিটি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা হলেন- শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর আলী বিশ্বাস ও পরিদর্শক (অভিযান) আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া দাঙ্গা দমন বিভাগের (পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট-পিওএম) পাঁচ কনস্টেবলের নামও আছে। গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান চোখে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার পর প্রথমে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে সরকারি খরচে ভারতের চেন্নাই পাঠানো হয়। ঘটনার পর অভিযোগ উঠে, পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেলের (কাঁদানে গ্যাস) আঘাতে সিদ্দিকুর চোখে আহত হন। কিন্তু ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হতে থাকলে সরকার সিদ্দিকুরের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করে। এদিকে এ ঘটনায় গঠিত আরেকটি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন বলে সূত্র জানায়। পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রশাসন) নাবিদ কামাল শৈবালকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়।   বর্তমানে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সিদ্দিকুর। গত শুক্রবার তার অপারেশন হয়। শনিবার চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হলে বাম চোখে সামান্য আলো দেখতে পান তিনি। তবে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি। তার দৃষ্টিশক্তি ফিরবে কি ফিরবে না তা নিশ্চিত হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে শংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসকরা।

মুখ খুলছে না গৃহকর্তা ও কেয়ারটেকার

গৃহকর্মী লাইলী বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুর দু’দিন পর রাজধানীর বনশ্রী এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি প্রহরা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গৃহকর্তা মুন্সি মঈনুদ্দিন, বাড়ির কেয়ারটেকার তোফাজ্জল হোসেন লিটনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। রোববার তাদের রিমান্ডের প্রথমদিন অতিবাহিত হয়েছে। তাদেরকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খিলগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে তারা এখনও মুখ খোলেনি। আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। এ ছাড়া লাইলী বেগমের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পেছনে ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টাও অব্যাহত আছে।’ বনশ্রী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি নাঈম মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় কোন ধরনের উত্তেজনা নেই। ঘটনার পরপর নিরাপত্তার স্বার্থে বনশ্রীর জি-ব্লকের চার নম্বর রোডের ওই বাড়ির ভাড়াটিয়ারা নিজেদের বাসায় ফিরে এসেছেন। এদিকে গৃহকর্মী লাইলী বেগমের দাফন রোববার সকাল ৮টায় তার বাবার বাড়ি কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজারসংলগ্ন সমন্বয়পাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। লাইলী বেগমের দেবর জামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি পৌঁছাতে ভোর (রোববার) হয়ে যায়। সকাল ৮টায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, খিলগাঁও থানাধীন বনশ্রী জি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন লাইলী বেগম (২৫)। তার ৫ মাসের বেতন পাওনা ছিল। শুক্রবার সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে গৃহকর্তা মুন্সি মাইনুদ্দিন লাইলী বেগমকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে ওই এলাকায় তাণ্ডব চালায়। পুড়িয়ে দেয়া হয় গৃহকর্তার একটি গাড়ি। ভাংচুর করা হয় তার বাড়ি। অবশ্য এ তাণ্ডবের পেছনে একটি বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন এবং কেয়ারটেকার তোফাজ্জল হোসেন লিটন রিমান্ডে রয়েছে। শনিবার জেলহাজতে পাঠানো হয় গৃহকর্ত্রী শাহানাজ বেগমকে।

‘চাঁদাবাজ হিজড়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’

হিজড়া বা হিজড়া নামধারীদের গণউৎপাতের বিভিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। তারা গণপরিবহন এবং বাসা বাড়িতে উৎপাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজ হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। শনিবার সমাজসেবা অধিদফতর মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবিরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূপন কান্তি শীল ও খন্দকার আতিয়ার রহমান। এ সময় জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মতো হিজড়াদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তরের স্কুলগামী হিজড়া শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ৩০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরের জন্য ৪৫০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা এবং উচ্চ স্তরে এক হাজার টাকা। ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের অক্ষম ও অসচ্ছল হিজড়াদের মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃৃৃৃক্ত করে সমাজের মূল সে াতধারায় আনতে ১০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মা-বাবার চোখের অশ্রু আজও শুকায়নি

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হত্যার দু’বছর পূর্ণ হল আজ। কিন্তু এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি নিলয়ের পরিবার। নিলয়ের বৃদ্ধ বাবা তারাপদ চট্টোপাধ্যায় ও মা অর্পণা রানীর চোখের পানি আজও শুকায়নি। রাত পোহালেই ছুটে যান বাড়ির আঙ্গিনায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া একমাত্র ছেলের চিতার পাশে। আর শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠেন, ‘ও নান্টু, নান্টুরে, (নিলয়ের পরিবার এ নামেই তাকে ডাকত) তুই আমাগো কোন সাগরে ভাসাইয়া গেলি, তোরে আর এ জনমে পামুনা...’। ছেলে হত্যার প্রকৃত বিচার নিয়ে নিলয়ের পরিবার আজও ধোঁয়াশায়। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাদের স্বজনরা। তারা কোনো ভাবেই জানতে পারছেন না মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে। রোববার পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদ চলিশা গ্রামে নিলয়ের বাড়িতে গিয়ে জানা গেল, পরিবারের কেউই জানে না ঢাকার খিলগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলার অগ্রগতি কী। নিলয়ের স্ত্রী দাবিদার আশামনি নামের একজন বাদী হয়ে ওই থানায় নাকি একটি মামলা করেছেন। নিলয়ের ছোট একমাত্র বোন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায় (গাপা) যুগান্তরকে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘আমার দাদা বিয়েই করেনি, দাদা যদি বিয়ে করেই থাকেন- তবে সেতো (আশামনি) আমার দাদার লাশের সঙ্গে বাড়িতে আসতে পারত, তার গায়ে কেন রক্তের দাগ লাগেনি, দুটি বছর কেটে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে একবারের জন্যও হলেও ফোন করে কোনো খোঁজখবর নেয়নি। সে কি করে আমার ভাইয়ের স্ত্রী হয়?’ নিলয়ের বাবা-মা ও বোন সরকারের কাছে দাবি করে বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঢাকায় যেতে পারি না। নিলয় হত্যার সু®ু¤ বিচার দাবি আদায়ে নতুন করে পিরোজপুরে মামলা করতেও প্রস্তুত, সরকার যদি আমাদের সে ব্যবস্থা ও আশ্বাস দেয়। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন হন পিরোজপুরের মেধাবী ছাত্র ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ওরফে নান্টু।

পাঁচ ফ্রিজের ৪টিই বিকল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ৫টি ফ্রিজের চারটিই বিকল। এ কারণে সচল ফ্রিজে পাঁচটি মৃতদেহ রেখে বাকিগুলো রাখা হয়েছে মর্গের মেঝেতে। ফলে পচেগলে মরদেহের আলামত নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গসহ অন্যান্য মর্গের ফ্রিজ ও এসি মেরামত বা বদলে ফেলতে ২৪ জুলাই হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। রোববার ঢামেক মর্গে গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ১০টি লাশ। এর মধ্যে ট্রুলিতে রাখা আছে ৩টি, সচল ফ্রিজটির পাশে রাখা আছে একটি। মর্গের আরেকটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ৪ জঙ্গির লাশ। মর্গ সূত্র জানায়, উত্তরার আশকোনায় এবং বিমানবন্দর গোলচত্বরে নিহত আত্মঘাতী দুই জঙ্গি, রূপনগরে নিহত এক এবং খিলগাঁওয়ে নিহত ১ জঙ্গির লাশ এগুলো। তারা জানান, ফ্রিজ বিকল হওয়ায় লাশ মেঝেতে না রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ইনচার্জ সেকান্দর যুগান্তরকে বলেন, একটি ফ্রিজ সচল রয়েছে। এতে দু’জন ভারতীয় নাগরিক, একজন নাইজেরিয়ান নাগরিক, একজন সাউথ আফ্রিকান নাগরিকের লাশ এবং হিন্দু-মুসলিম দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বে আদালতের নির্দেশে রাখা খোকন নন্দী ওরফে খোকা বাবুর লাশ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ফ্রিজে ৪টি লাশ রাখার নিয়ম থাকলেও আমরা ৫টি লাশ রেখেছি বাধ্য হয়ে। জানা গেছে, মর্গের চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি নষ্ট প্রায় এক বছর ধরে। আর তিনটি ফ্রিজ তিন-চার মাস ধরে বিকল। আর দুটি ফ্রিজের মধ্যে একটি ফ্রিজ রোববার বিকল হয়ে পড়ে। ঢামেকের এই মর্গে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। রাজধানীর অধিকাংশ থানা ছাড়াও গাজীপুর, সাভার ও অন্যান্য এলাকা থেকে হত্যা, আত্মহত্যা, বিষপান, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ ও বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। এ মর্গে প্রতিদিন গড়ে দুটি আবার কোনো সময় চার থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত লাশ আসে। এসব লাশ সংরক্ষণ করতে হয় ফ্রিজে। ফ্রিজ বিকল থাকায় বেওয়ারিশ লাশগুলো কোনোভাবেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য এর আগে ডাক্তার সোহেল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেছিলেন, লাশ নিয়মমতো সংরক্ষণ না করা হলে পচেগলে আলামত নষ্ট হয়। বেওয়ারিশ লাশসহ মর্গের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আমরা রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনটি ফ্রিজ বিকল ছিল। তা মেরামত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলাম। তারা ফ্রিজগুলো দেখে মেরামতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এরপর আমরা ফ্রিজ মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন দরপত্রে সাড়া দিয়ে কেউ এগিয়ে এলে আমরা তাদের দিয়ে ফ্রিজগুলো মেরামত করিয়ে নেব।

বগুড়ায় তুফানের ‘টর্চার সেল’

ঢাকার মগবাজারের জসীম উদ্দিন নামে এক যুবকের সঙ্গে বগুড়ার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দুই বছর আগে ওই তরুণীর ডাকে বগুড়া শহরে ছুটে গিয়েছিলেন জসীম। ঘটনা টের পেয়ে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তুফান বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। পরে তুফানের ক্যাডাররা জসীমকে তুলে নিয়ে যায় তুফানদের টর্চার সেল হিসেবে চিহ্নিত নির্জন স্থানে। শাজাহানপুরের গোয়াইল এলাকায় অবস্থিত ওই টর্চার সেলে শুরু হয় জসীমের ওপর নির্যাতন। জসীমের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়। কেড়ে নেয়া হয় মোবাইল ফোন। বিকাশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয় ৩২ হাজার টাকা। কিশোরী ছাত্রী ধর্ষণ মামলার হোতা গ্রেফতার বহিষ্কৃত শহর শ্রমিক লীগের আহবায়ক তুফানের বাহিনী মাধ্যমেই বগুড়ায় চলত মোটরসাইকেল মহড়া, মুক্তিপণ আদায়, মাদক, চাঁদাবাজি, দখল ও লুণ্ঠন। বিরোধী পক্ষ বা যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাত তাদেরই এই টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। খবর পেয়ে জসীমের পরিবার বগুড়ায় গিয়ে অনেক কাটখড় পুড়িয়ে জসীমকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। টর্চার সেল সম্পর্কে অনেকে অবহিত হলেও অজানা আতঙ্কে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে টর্চারের স্বীকার দু’জনের দেখা পেলেও তারা এই প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনো কথা বলতেই রাজি হননি। বারবার জানতে চাইলে তারা দু’জনই নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন। কথা হয় প্রেমের টানে ঢাকা থেকে বগুড়ায় ছুটে যাওয়া জসীম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবরের। বগুড়ার এক তরুণীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে আমায় বগুড়ায় ডেকে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর তুফানের ক্যাডারদের খপ্পরে পড়ি। তারা আমাকে চোখ বেঁধে একটি ছোট্ট কক্ষে নিয়ে যায়। রাত ১০টা থেকে পরদিন রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। যুবলীগ নেতা বাবু হুঙ্কার দিয়ে আমাকে বলেন, বগুড়ার তুফান বাহিনীর নাম শুনেছিস। আমরা তুফান বাহিনীর লোক। কোনো কথা বললে তোকে মেরে ফেলব। কিশোরী ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মাসহ তাকে ন্যাড়া করার দুই মামলায় গ্রেফতার তুফান বাহিনীর ক্যাডার ও বগুড়ার শাজাহানপুরের খরনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাকসুদুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে ওই টর্চার সেলটি। জসীমকে অপহরণ ও নির্যাতনের মূল হোতাও ওই বাবু। টর্চার সেল ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবু সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা যুগান্তরকে বলেন, বাবুর ভয়ে তটস্থ গোটা এলাকা। এই চক্রটি তরুণীদের ব্যবহার করে ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে অনেকের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করত মোটা অঙ্কের টাকা। টর্চার সেলে যখন কাউকে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো তখন বাইরে পাহারায় থাকত তুফান বাহিনীর ক্যাডাররা। ক্যাডাররা যখন প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে শহরে মোটরসাইকেলের মহড়া দিত তখন শহরের লোকজন তটস্থ থাকত। স্থানীয়রা জানান, তুফান সরকারের বিশ্বস্ত ক্যাডার হিসেবে বাবু পরিচিত হলেও তুফানের বড় ভাই ও বগুড়া শহর যুবলীগের সম্প্রতি বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক মতিন সরকারেরও ঘনিষ্ঠ তিনি। খরনা ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি মাকসুদুর রহমান বাবুর অত্যাচারের কাহিনী বলতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা যুগান্তরকে বলেন, কয়েক বছর আগে লটাগাড়ি গ্রামের কৃষক মঞ্জুর হোসেনের প্রায় এক বিঘা জমির বেগুন ক্ষেত উপড়ে ফেলেন এই বাবু। এরপর থেকে বাবু স্থানীয়দের কাছে ভীতির কারণ হয়ে উঠতে থাকেন।
আর বাবুও হিংস হয়ে ওঠেন। অপহরণের শিকার জসীম উদ্দিন বলেন, আটক অবস্থায় ওরা নগদ ও আমার বিকাশ নম্বর থেকে কয়েক দফায় ৩২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ট্রান্সফার এবং ক্যাশ আউটের ক্ষুদেবার্তা যুগান্তরের কাছে এসেছে। বিকাশের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নম্বরটি গোয়াইলের ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তির। যে নম্বরটিতে ক্যাশ আউট করা হয়েছিল ওই নম্বরটি গোয়াইলের বিকাশ এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান হেলালের। জসীমকে ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন জসীমের মামা মাঞ্জারুল আলম রানা। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বগুড়ায় যাই। সেখানে গিয়ে আমিও তুফান বাহিনীর খপ্পরে পড়ি। তুফান বাহিনীর ক্যাডার বাবু আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। আমাকেও আটকে রাখার চেষ্টা করে। তখন ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই ফোন করে আমাকে ও জসীমকে ছেড়ে দিতে বলে। পরে বাধ্য হয়ে ওরা আমাদের ছেড়ে দেয়। মাঞ্জারুল আলম রানা বলেন, ওরা আমার কাছ থেকেও ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে যুবলীগ নেতা বাবুর সহযোগী ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়। এক তরুণীর সঙ্গে জসীম নামের ওই ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর পরিবার বাবু ভাইয়ের কাছে অভিযোগ দেয়। পরে বাবু ভাই বিচার করেছেন। বিকাশ এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান হেলাল যুগান্তরকে বলেন, আমার এখান থেকে অনেকেই ক্যাশ আউট করে। এ ধরনের ঘটনার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খলনা ইউনিয়নের সভাপতি বাবুর ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার দুটি মোবাইল নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ : ৫ আগস্ট ‘বগুড়ায় ক্ষমতাসীনদের অন্তর্কলহ : আট বছরে ৩৬ নেতাকর্মী খুন’ শিরোনামে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তার উদ্ধৃতি প্রতিবেদনে উপস্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কাল্পনিক তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলুর মোবাইল ফোনে শুক্রবার বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে প্রতিবেদক তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে ফোন দেন। ডাবলু মোবাইল ফোন রিসিভ করলে প্রতিবেদক তার পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। ৪ মিনিট ৮ সেকেন্ড তার সঙ্গে কথোপকথন হয়। এই কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রতিবেদনে যেসব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে, এসব বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এবং পদধারী নেতার পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা হয়েছে। এসব কথোপকথনের রেকর্ডও যুগান্তরের কাছে রয়েছে। এখানে প্রতিবেদকের বক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থ নেই। প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত মতামতও নেই।
সংশোধনী : সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম দুলুর ভাগ্নে আনিছুর রহমান খুনের বিষয়টি ভুলবশত আসাদুর রহমান দুলুর ভাগ্নে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুফান ও কাউন্সিলর মার্জিয়া জেল হাজতে : বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় কিশোরী ছাত্রী ধর্ষণ মামলার হোতা তুফান সরকার ও কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। রোববার বিকালে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৫ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। তাদের জামিন আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, এটা তুফানের চতুর্থ দফা ও রুমকির দ্বিতীয় দফা রিমান্ড ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তুফান আগেই ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং রুমকি নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। এর আগে গ্রেফতার ১১ আসামির মধ্যে আতিক, মুন্না ও নাপিত জীবন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না : বগুড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম রোববার দুপুরে আদালত এলাকায় ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান এ সময় বলেন, ধর্ষিতাকে তারা বিনা খরচে আইনগত সহযোগিতা দেবেন। এছাড়া তারা কেউ আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।

নিজ মুখে কুকীর্তির বর্ণনা দিল ভণ্ডপীর

নারীদের মধ্যে যারা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন, তারাই ছিলেন ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারের টার্গেট। মেয়েদের এই নিঃসঙ্গতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলত পিয়ার। শুরু হতো ভিডিও চ্যাটিং। এরপর বাসায় ডেকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত। না জানিয়ে ভিডিও ধারণ করে রাখত এসব দৃশ্য। তারপর শুরু হতো প্রতারণা। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগী নারীর কাছে দাবি করত মোটা অঙ্কের অর্থ। টাকা দিতে রাজি না হলে ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিত। এভাবেই গাড়ি-বাড়িসহ কোটি টাকার সম্পদ করেছে সে। সম্প্রতি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেন এই ভণ্ডপীরকে। গ্রেফতারের পর দু’দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে নিজ মুখে এসব কুকীর্তির বর্ণনা দেয় সে। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ভণ্ডপীর তাহমিনা ও মিতা নামের দুই নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে সে। টাকার বিনিময়ে নারীদের বিশেষ করে যারা একাকী জীবনযাপন করেন তাদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাটিং করত। এ ছাড়া সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনে যেসব নারী নানা সমস্যায় ভুগছেন তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলত। এভাবেই শতাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয় পিয়ার। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুগান্তরকে বলেন, নিজের সুন্দর চেহারা এবং ইসলামি জ্ঞানকে অপব্যবহার করে অসংখ্য মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে এই ভণ্ডপীর। বিভিন্নজনকে সাহায্য করার কথা ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করে নিজের ব্যাংক ও বিকাশ নম্বরে মোটা অঙ্কের অর্থ এনে আÍসাৎ করে সে। গত তিন বছরে এভাবেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে এই প্রতারক।
ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, তার প্রতারণার কাজে ব্যবহƒত জনতা ব্যাংকের নতুন আরেকটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে সেটা জানা যায়নি। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আদালতে নিজের মুখে কুকীর্তির বর্ণনা দিয়েছে ভণ্ডপীর। আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে, দুই নারীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের গোপন ভিডিও ধারণের কথাও অকপটে স্বীকার করেছে এ প্রতারক। ওই কর্মকর্তা বলেন, তার প্রতারণার আরেকটি মাধ্যম ছিল ‘এএইচপি’ নামের অনলাইন টেলিভিশন। সেখানে বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে প্রতারণা করেছে। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী এভাবে সে টেলিভিশন চালাতে পারে না। তাই তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। এর আগে বেশ কয়েক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার জিন-ভূত তাড়ানোর নাম করে পর্নো ভিডিও ধারণকারী ও ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠালে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। শনিবার এই ভণ্ডপীরকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে নিজ মুখে নানা কুকীর্তির বর্ণনা দেয় সে।

হাজীগঞ্জে ঝোঁপে অজ্ঞাত যুবকের লাশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জলাশায়ে ঝোঁপের ভেতর এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া উত্তর মাঠে তৈয়ব আলী মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন ব্রীজ সংলগ্ন পানিতে ঝোঁপের ভেতর ওই যুবকের মরদেহ ভাসছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, সকাল ১১টায় ওই স্থানে লাশটি ভাসতে দেখে লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ভেসে থাকা লাশের খবর পাওয়া গেছে। হাজীগঞ্জ ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান জানান, লাশ উদ্ধারে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ ভেসে থাকার কথা শুনে পুলিশকে খবর দিয়েছি। তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অজ্ঞাত ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

চার্জার ভ্যানের জন্য নববিবাহিত যুবকের আত্মহত্যা

নওগাঁর মান্দায় চার্জার ভ্যান কিনতে না পারায় বিদ্যুৎ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতের গ্রামের বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার আবদুস সাত্তারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যুৎ কাঞ্চন গ্রামে নানা মেছের আলীর বাড়িতে থাকত। গত ১০-১২ দিন সে আগে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর বিদ্যুৎ একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান কেনার কথা ছিল। এ নিয়ে কয়েকদিন থেকে নানার বাড়িতে মনোমানিল্য হয়। বিদ্যুৎ ক্ষোভের বসে সকাল ৯টার দিকে সকলের অগোচরে বাড়ির পাশে বটগাছের ডালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। মান্দা থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

নারায়ণগঞ্জে ৫ খুন মামলায় আসামি মাহফুজের ফাঁসির আদেশ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মা ও দুই শিশুসহ পাঁচ খুন মামলায় বাদীর ভাগ্নে মাহফুজকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ বেগম হোসনে আরা আকতারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। এর আগে গত ৩০ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। আদালতের পিপি এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৫ জনকে খুন করায় আসামি মাহফুজকে প্রত্যেক হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় আদালত মোট ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও জা লামিয়ার (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার ভাগ্নে মাহফুজ, ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন গ্রেফতার করা হয় মাহফুজ ও নাজমাকে। পরে ২১ জানুয়ারি আদালতে মাহফুজ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কাপাসিয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রীকে কোপানোর পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন এক কৃষক। সোমবার ভোরে উপজেলার উরোন মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৫০) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত কৃষক আবুল হোসেন (৬০) একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তাদের এক ছেলে ও দুই কন্যা রয়েছে। নিহতের ভাই চাঁন মিয়া জানান, অন্য সব দম্পতির মতো তাদের মধ্যেও স্বাভাবিক মনোমালিন্য থাকত। রোববার রাত ১২টার দিকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আবুল হোসেনের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আবুল হোসেন তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়েছে বলে স্ত্রী জানায়।
দ্রুত আনোয়ারাকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আনোয়ারার পিঠ, পেট, বুক, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। চাঁন মিয়া আরো জানান, স্ত্রীকে কোপানোর দুই ঘণ্টা পর আবুল হোসেন বিষপান করেন। প্রতিবেশী মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির পাশে গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আবুল হোসেনকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন জানান, আবুল হোসেনের মৃতদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আ'লীগ কর্মী খুন

যশোরের ঝিকরগাছায় ওমর আলী (৫৫) নামের এক আওয়ামী কর্মী খুন হয়েছেন। রোববার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে হাড়িখালি কুটির বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ করিম বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ওমর আলী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের ছেলে মিন্টু মোড়ল জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রী লিটন, রিপন, আশা, ওহাব, মন্টুসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার বাবাকে রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর জখম হন ওমর আলী। এসময় সন্ত্রাসীরা কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওমর আলীর মৃত্যু হয়েছে। মিন্টু মোড়ল অভিযোগ করেন, লিটনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমার বাবা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। লিটন ও তার সহযোগীরা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া।

সিরাজগঞ্জে কলেজছাত্রীকে গলাকেটে হত্যা

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সাথী খাতুন (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জগতগাঁতী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সাথী উপজেলার জগতগাঁতী গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। সে শিয়ালকোলের আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজুল ইসলাম জানান, রোববার বিকালে সাথীকে বাসায় রেখে বাবা সাইদুর রহমান ও  মা  পার্শ্ববর্তী ধুকুরিয়া গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে ফিরে সাথীকে না পেয়ে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ি থেকে প্রায় একশ' মিটার দূরের বাঁশঝাড়ের মধ্যে সাথীর গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার সকালে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা

কারখানায় ভূত আতঙ্কে কোরআন খতম

কারখানায় ভূত আতঙ্কে পবিত্র কোরআন খতম দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে ১০ জন কোরআনে হাফেজকে দিয়ে ধর্মীয় এ আনুষ্ঠানিকতা করা হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা এলাকার টি-ডিজাইন নিটওয়্যার লিমিটেডে গত দু’দিনে শ্রমিকদের মধ্যে ভূত আতঙ্কে শ্রমিক-কর্মীদের অনুরোধেই কোরআন খতম দেয়া হয়। রসায়নবিদরা বলেছেন টয়লেটে জ্ঞান হারানোর মতো গ্যাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। শ্রমিকেরা জানায়, শনিবার বেলা ১২টার দিকে সুপারভাইজার সোহেল (৩৮) কারখানার চারতলার টয়লেটে ঢুকে বের হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর টয়লেটের দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে টয়লেটের ওপর দিয়ে একজন শ্রমিককে পাঠালে সে সুপারভাইজার সোহেলকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পায়। তাকে দেখে সে নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একই সময়ে একই ফ্লোরের অপর এক নারী শ্রমিক টয়লেটে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। টয়লেটের শ্রমিকদের অজ্ঞান হওয়ার খবর নানাভাবে কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে কারখানার পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শ্রমিক আতঙ্কিত এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল তারা অধিক পরিশ্রমে ক্লান্ত এবং শারীরিকভাবে অপুষ্টির শিকার। তাদেরকে কারখানার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ভূতের কোনো উপস্থিতি নেই।

বগুড়ায় তুফান-মতিনের স্বেচ্ছাচারিতা: দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আজাহার

বগুড়ায় তুফানদের রোষানলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আজাহার আলী খান নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জীবনের সঞ্চিত টাকা দিয়ে শহরের তালুকদার মার্কেটে ১৯৮৪ সালে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় দোকান পজেশন নিয়ে ব্যবসা করছিলেন তিনি। পজেশন বুঝিয়ে না দিলেও ভালোভাবেই চলছিল তার ব্যবসা। ব্যবসা জমে উঠলে বছর তিনেক পর আজাহারের কাছ থেকে দোকানটি ছিনিয়ে নিতে তুফান-মতিনের আশ্রয় নেন মার্কেট মালিক। শহরের থানা মোড় এলাকায় গড়ে ওঠা মার্কেটের মালিক সালমা খাতুন হলেও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তারই নিকটজন শাহেনশাহ তালুকদার। শেষ পর্যন্ত গত বছর ডিসেম্বরে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক দোকানটি ছিনিয়ে নিয়ে আজাহারকে পথে বাসানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজাহার আলী ১৯৮৪ সালে দোকানটির পজেশন ক্রয় করেন এবং ৩ বছর পর ১৯৮৭ সালে তাকে বাধ্য করা হয় ভাড়ায় চুক্তি করতে। দোকানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ২০০৯ সালের দিকে দোকানটি আজাহারের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এক পর্যায়ে আজাহার আলী আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক ৬০০ টাকা হারে ভাড়াও পরিশোধ করেন। কিন্তু গত বছর ২৬ ডিসেম্বর শাহেনশাহর ভাগ্নে মাসুদ দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরদিন আজাহার আলী তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। পরের দিন শাহেনশাহ ও তার লোকজন দোকানে হামলা চালায়। এ নিয়ে থানার ভেতরে দু’পক্ষের উকিলের উপস্থিতি দেনদরবার হলেও কোনো কাজ হয়নি। পুলিশ তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কথা হয় বৃদ্ধ আজাহার আলী খানের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ জানুয়ারি শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও তার ক্যাডাররা দোকানে তালা দেন। নাম ও ফোন নম্বর লিখে একটি কাগজ লাগিয়ে দেন সেখানে। পরে ফোন দিলে তুফান ছেলে আপেলকে তুলে আনার হুমকি দেন। পরে তিনি যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা মতিন সরকারের দ্বারস্থ হন। মার্কেটের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে মতিন সরকার দুই লাখ দিয়ে আজাহারকে দোকানটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন। পরে সোয়া দুই লাখ টাকা দিলেও দোকানের মালামাল ও দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা আর ফেরত দেননি। পরবর্তীকালে শাহেনশাহ ওই দোকান ১২ লাখ টাকায় মিজান নামে এক ব্যক্তির কাছে পজেশন বিক্রি করে দিয়েছেন। আজাহার আলী অভিযোগ করেন, মতিন সরকার ও তুফান সরকার হস্তক্ষেপ করায় তিনি দোকানটি ছাড়তে বাধ্য হন। দোকানে নগদ টাকাসহ তিন লাখ টাকার মালামাল ছিল। তাও ফেরত পাইনি। কথা হয় মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, তুফান-মতিন বাহিনীকে ভাড়া করে শাহেনশাহ তাকে দোকান থেকে উচ্ছেদ করেন। আয়ের একমাত্র অবলম্বনটি কেড়ে নিয়ে অথৈ সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে আজাহারকে। তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহেনশাহ তালুকদার জানান, তিনি তুফান বা মতিনের মাধ্যমে দোকান কেড়ে নেননি। তাদের ভাড়াও করেননি। আজাহার আলী দীর্ঘ ৪১ মাস ধরে ভাড়া দিচ্ছেন না। তিনি খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। ভাড়া না দেয়ায় তার মালামাল নেয়া হয়েছে। আর তিনি স্বেচ্ছায় সোয়া ২ লাখ টাকা নিয়ে দোকান ছেড়ে দিয়েছেন। মার্কেটের পাশের দোকানের রেজা নামের এক ব্যবসায়ী জানান, অন্যায়ভাবে আজাহারের কাছ থেকে দোকান ও মালামাল কেড়ে নেয়া হয়েছে। তুফান ও তার ভাই মতিনকে দিয়ে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকার জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। আর মতিন সরকার হত্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বক্তব্য নেয়ার জন্য তাকে কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

আ’লীগের ভরসা হেভিওয়েটে প্রতীকেই গুরুত্ব বিএনপির

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে পরিচিত সিলেট-১-এ নানা প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রধান দুই দলে পুরোদমে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নানা তৎপরতা। পরস্পরকে ঘায়েল করতে কোনো কোনো সময় কাদা ছোড়াছুড়িতেও লিপ্ত হচ্ছেন তারা। এদিকে নিবিড়ভাবে মাঠ পর্যবেক্ষণ করছে দলগুলোর হাইকমান্ড। কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে কোনো দলই প্রার্থিতার ব্যাপারে ন্যূনতম ধারণা দিতে চাচ্ছে না। শাসক দলের লক্ষ্য, সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও সদর নিয়ে গঠিত মর্যাদার এ আসন ধরে রাখা। বিএনপি চায়, আসনটি পুনরুদ্ধার। তবে নির্বাচনের জয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ভরসা রাখছে হেভিওয়েট প্রার্থীর ওপর। আর প্রার্থীর চেয়ে প্রতীককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দু’দলের জন্য রয়েছে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ। বিজয় নিশ্চিত করতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হবে দল দুটিকে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য প্রধান সমস্যা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামী দলগুলো। এছাড়া রয়েছে দলীয় কোন্দল। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের নামে ইসলামী মূল্যবোধ ও মর্যাদা রক্ষার ইস্যু নিয়ে আড়ালে ঐক্য তৈরি হয়েছে যুব ও তরুণ বয়সীদের মধ্যে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাসক দলের সমালোচনায় তৎপর। অন্যদিকে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের অভ্যন্তরে চরম অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি রয়েছে সুবিধাবাদী নেতাদের গোপনে সংগঠনবিরোধী অপতৎপরতা। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও তুলনামূলকভাবে বিএনপিতে নেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম এ আসনে নির্বাচন করবেন- এমন আলোচনা অতীতে শোনা গেলেও তিনি এরই মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এখন হেভিওয়েট কেউ নেই বললেই চলে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, তারা হেভিওয়েটে বিশ্বাসী নন। মানুষ এবার ভোট দেবে প্রতীক ও দল দেখে।
সিলেট-১ আসন দেশবাসীর কাছে ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। কারণ অনেকেরই বিশ্বাস, এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে সিলেট-১ ছাড়া ১৮ আসনেই পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। তখনও সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি। হেভিওয়েট এ প্রার্থী আগামীতে আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে অর্থমন্ত্রীর সহোদর ড. একে আবদুল মোমেনকে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের নির্দেশে তিনি মাঠে রয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। ড. একে আবদুল মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধির দায়িত্বে ছিলেন। অথচ তাকে মাঠে রেখেই এখন খোদ অর্থমন্ত্রীই ফের নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি চা বাগানের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শ্রমিকদের কাছে ভোটও চেয়েছেন। এদিকে মুহিত-মোমেনকে মাঠে রেখেই সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। দলের নেতারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করবেন- এমন গুঞ্জন ছড়ানোর পর অর্থমন্ত্রী তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। ঘোষণা দিয়েছেন ফের নির্বাচনের। তবে অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ একই আসনে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়। এছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তৎপর থাকলেও প্রার্থিতার ব্যাপারে এতদিন মুখ খুলেননি। তবে দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। নিজে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে কামরান বলেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশেই সবকিছু হবে। দলের স্বার্থে শুধু মহানগর নয়, এর আশপাশের উপজেলাগুলোয়ও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নেত্রী যদি নির্বাচন করতে বলেন, আমার আপত্তি নেই। মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক, আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হল বিজয়। মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দলের জন্য জেল খেটেছি। বয়স অনেক হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করেছি। সেই কারণে দলীয় সভানেত্রীর আশীর্বাদে তৃতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছি। গত নির্বাচনেও এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম; কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রার্থী ছিলেন বলে তা প্রত্যাহার করি। এবার তিনি নির্বাচন করবেন না, এটা অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। ২২ মার্চ সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনে আমি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। ওই সম্মেলন মঞ্চে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় দলের নেতাকর্মীরা আমাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। সবার মুখেই তখন আলো দেখতে পেয়েছি। অন্ধকার দেখেছি শুধু আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবারের সদস্যদের মুখে। এদিকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুসারীদের অভিযোগ, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পরও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি ব্যর্থ। এ কারণেই সিলেট অঞ্চল থেকে এবার ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তারা বলেন, মিসবাহ সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে থাকার সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। এটা সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। গত নির্বাচনে সিলেট জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মাত্র তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এমন অবস্থায় তার প্রার্থী হতে চাওয়াটা দলের অনেক নেতাকর্মীও মানতে পারছেন না। এ বিষয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘আমরা আকাশ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসিনি। তৃণমূলে কাজ করে কেন্দ্রে স্থান পেয়েছি। আবুল মাল আবদুল মুহিত দলের নেতাকর্মীদের জন্য কিছুই করেননি। আকাশ থেকে পড়ে মন্ত্রী হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। তাই মনোনয়ন বোর্ড দলের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের কথা বিবেচনা করে আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা।’ অর্থমন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ বলেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ তর্কের খাতিরে এসব কথা বলছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত জেলার প্রতিটি উপজেলা ঘুরে তৃণমূলকে শক্তিশালী করেছেন। তখন যেসব কমিটি ছিল, তা ছিল পকেট কমিটি। সেগুলো ভেঙে গণতান্ত্রিক ধারায় কমিটি করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ আসনে বিজয়ী হতে হলে আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। ব্যক্তির আগে দলের চিন্তা করতে হবে। কাকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হবেন, সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালোভাবেই জানেন। সিলেট-১ আসনের প্রার্থী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে জানান, এসব বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মনোনয়নের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে প্রার্থীর মূল যোগ্যতা হিসেবে প্রধান্য পাবে দলের জন্য ত্যাগ,ং নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বলেন, সিলেট-১ আসনের এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্বাচন করবেন না বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী না হলে এ আসনে অনেকেই হয়তো প্রার্থী হতে চাইবেন- এটাই স্বাভাবিক। তিনি যখন আবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনোনয়ন বোর্ডই দেবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, দেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দলের নেতাকর্মীদেরও প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এবার উত্তীর্ণ হবেন ত্যাগী নেতারাই। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন, সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন- এমন প্রার্থীকেই দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। সিলেট ১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী আছে কিনা- জানতে চাইলে জীবন বলেন, সারা দেশে খালেদা জিয়া এবং ধানের শীষের বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। তাতে হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রয়োজন নেই। দলের যে কেউ প্রার্থী হলেই বিজয় নিশ্চিত। তিনি বলেন, মর্যাদার সিলেট-১ আসনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী হিসেবে চান স্থানীয় নেতারা। এ ব্যাপারে নেত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে এ পর্যন্ত সিলেট-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট সদর আসনে বিএনপির সাবেক এমপি খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে। সিলেট বিএনপি তথা নগরীতে খন্দকার আবদুল মালিক এখনও আলোচিত নাম। বিএনপি নেতারা বলছেন, খন্দকার মালিকের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে সিলেটবাসী অবশ্যই তার মূল্যায়ন করবেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তার বাবার নামে থাকা খন্দকার মালিক ফাউন্ডেশন নিয়ে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের ১৯টির মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা ধরাশায়ী হলেও এ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন খন্দকার আবদুল মালিক। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির যুগান্তরকে জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি দলকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করব। এদিকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি। পরে ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করা হয় বাবরুল হোসেন বাবুলকে। ওই নির্বাচনে তিনি ভোট পান ৪০ হাজার ১৭৫টি। ওই নির্বাচনে এরশাদ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। নির্বাচনে ৫৯ হাজার ৭১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার করা হয় হুমায়ুন রশীদকে। এরপর ২০০১ সালে জাতীয় পার্টিসহ ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন হলে এ আসনে প্রার্থী হন জাতীয় পার্টির আবদুল মুকিত খান। ওই নির্বাচনে তিনি ৬.৮৩ শতাংশ ভোট পান। এবার প্রার্থিতার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর। সিলেটের নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে এখনও কথা বলার সময় হয়নি। আরও দু’তিন মাস অপেক্ষা করুন সবই জানতে পারবেন। দুই দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই দলের ভেতরেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। নির্বাচনের আগে বিদ্যমান এ দ্বন্দ্ব মেটানো না গেলে এর প্রভাব ভোটের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এর মধ্যে সিলেট আওয়ামী লীগে অতীতে প্রয়াত দুই নেতাকে কেন্দ্র করে দুই বলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে ছিলেন প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ। অপরদিকে ছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। যেটি ‘স্পিকার’ ও ‘সামাদ’ বলয় বলে স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত ছিল। পরে স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী মারা গেলে এ বলয়ের নেতৃত্বে আসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। নেতাকর্মীদের মতে, শীর্ষ এ তিন নেতার মৃত্যুর পর দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ এখন ত্রিধাবিভক্ত। যদিও এ বিভক্তি তেমন একটা দৃশ্যমান নয়। তবে সম্প্রতি দলের এ বিভক্তি কিছুটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী মুহিত ও তার ভাই মোমেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার পরও তাদের চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ নিজেই তার প্রার্থিতা ঘোষণা করায় এ বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফলে মন্ত্রী মুহিতের বিপরীতে এখন মিসবাহকে কেন্দ্র করে আলাদা বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের রয়েছে আলাদা বলয়। অন্যদিকে সিলেট বিএনপিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর দুটি বলয় এখনও বিদ্যমান। দুটি বলয়ের নেতাদের সম্পর্ক এখনও তেলে-জলে। বিএনপির সিলেট জেলা ও মহানগরের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর এ বিরোধ ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসাইনের দাবি, স্থানীয় বিএনপিতে এখন কোনো গ্রুপিং নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ। দলীয় প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। দল যাকে ধানের শীষ দেবে, তাকে বিজয়ী করতে সবাই মাঠে নামবেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামী দলগুলো ফেক্টর : গত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। হেফাজত ও ইসলামী দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটে বলে মনে করছেন খোদ দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও সিটি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হেফাজতের বিশাল সমাবেশে পানি ও শরবত সরবরাহ করা ছাড়াও তাদের মঞ্চে বক্তব্যও রেখেছিলেন; কিন্তু নির্বাচনে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। হেফাজতে ইসলাম সিলেট মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান যুগান্তরের কাছে দাবি করেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচন নিয়ে এ সংগঠনের কোনো ধরনের চিন্তা-ফিকির নেই। সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন কয়েকটি ইসলামী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। হেফাজত এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেনি। আগামীতে জোট করার কোনো সম্ভাবনাও নেই।