Thursday, January 16, 2025

টিউলিপ নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত: ইলন মাস্ক

দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আর্থিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের আর্থিক পরিষেবা মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়া দিলেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তার মতে, শিশুকল্যাণের দায়িত্বে থাকা লেবার মন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের  রক্ষা করছেন। তাদের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী আজ নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত। যদিও সিদ্দিক সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, জানিয়েছেন সরকারকে ‘বিভ্রান্তি’ থেকে দূরে রাখতে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

সমালোচকরা সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সাথে সম্পর্কিত সম্পত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশি অবকাঠামো প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার,  অবিলম্বে সিদ্দিকের জায়গায় এমা রেনল্ডসকে নিয়োগ করেছেন।

উল্লেখ্য, লন্ডনে উপঢৌকন পাওয়া দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য গোপন করেছিলেন টিউলিপ। এ বিষয়ে দুই বছর আগে মিথ্যাও বলেছিলেন তিনি। সেসময় তিনি বলেছিলেন, ফ্ল্যাটগুলো তাকে তার বাবা-মা দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি আসল গোমর ফাঁস করে দিয়েছে লন্ডনের একাধিক পত্রিকা। তাদের খবরে বলা হয়েছে, টিউলিপকে ফ্ল্যাট দুটি দিয়েছেন তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন আবাসন ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালিফ এবং অন্যজন মঈন গণি। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে পদত্যাগের চাপে পড়েন হাসিনার ভাগ্নি। অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার পর গত মঙ্গলবার মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ।

mzamin


টুইটটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন-  https://x.com/elonmusk/status/1879517865394721277?t=_4_SzrJlAbpEE-sU9-egRw&s=08



ইমরান খানের পিটিআইয়ের ইউটার্ন

রাজনীতিতে ইউটার্ন নিলেন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির প্রধান ব্যারিস্টার গওহর স্বীকার করলেন তার সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের সাক্ষাৎ হয়েছে। এ জন্য একটি হেলিকপ্টারে করে গওহরকে উড়িয়ে নেয়া হয়েছিল পেশোয়ারে। সেখানে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে গওহরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাইবার পখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্ধাপুর। অবশ্য এর আগে ব্যারিস্টার গওহর এমন সাক্ষাতের বিষয় উড়িয়ে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাতে পিটিআই নেতারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পিটিআই সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘চার্টার অব ডিমান্ডস’। এর অধীনে প্রধান বিচারপতি অথবা সুপ্রিম কোর্টের তিনজন সিনিয়র বিচারকের নেতৃত্বে দুটি কমিশন গঠন করার দাবি করা হয়েছে সরকারের প্রতি। ওই কমিশন ৯ই মে’র দাঙ্গা পরিস্থিতি এবং ২৬শে নভেম্বরের প্রতিবাদ বিক্ষোভের বিষয় তদন্ত করবে। দাবি উল্লেখ করে পিটিআই বলেছে, সরকার যদি ওই কমিশন গঠন না করে, তাহলে তারা সংলাপ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যাবে। বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইমরান খান নিজেও। ব্যারিস্টার গওহর বৃহস্পতিবার মিডিয়াকে এসব তথ্য দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

আদিয়ালা কারাগারের আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার গওহর। এর আগে তিনি এমন আলোচনার বিষয় উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেনাপ্রধানের কাছে পিটিআইয়ের সকল দাবি সরাসরি উত্থাপন করা হয়েছে। চলমান ইস্যু সমাধানে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি ইতিবাচক। এদিকে ব্যারিস্টার গওহরের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তিনি বলেছেন, অপর পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য অনেকদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার দল। ধারণা করা হচ্ছে সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের পেশোয়ার সফরের সময় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পেশোয়ারে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান। সেসময় তিনি বলেন, দেশ থাকলে তারপরই রাজনীতি। দেশই যদি না থাকে তাহলে আর কিছুই থাকলো না। এ বিষয়ে অবগত এমন সূত্র বলেছেন, সোমবার তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন পিটিআইয়ের দুই নেতা ব্যারিস্টার গহর ও খাইবার পখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গান্ধাপুর। তবে, বৈঠকের স্থান ইসলামাবাদ বা রাওয়ালপিন্ডির কোনোটিই ছিলো না। উল্লেখ্য, আগামী বৈঠকে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পিটিআই নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। যদিও এসব বৈঠকের ফলাফল নির্ভর করবে পিটিআইয়ের ভবিষ্যৎ নীতির ওপর। ২০২৩ সালের ৯ই মের দাঙ্গা পরিস্থিতি ও ২০২৪ সালের ২৬শে নভেম্বরের আন্দোলনের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রধান বিচারপতি বা তিনজন সিনিয়র বিচারকের সমন্বয়ে দুটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে পিটিআই। সকল রাজবন্দিকে জামিন দিতে আদালতের নির্দেশ অথবা অভিযোগ সাময়িক স্থগিত এবং সাজা মওকুফের জন্য কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি। 

mzamin

সর্বদলীয় বৈঠক: ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণা প্রস্তুতের পরামর্শ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন কোনো ধরনের ফাটল না ধরে সে দিকে খেয়াল রাখতে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এ ঐক্য ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ। এটি না হলে পতিত সরকার সুযোগ নেবে। তাই সবার সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করতে। যাতে সবাই মনে করে এটি তার ঘোষণাপত্র। এছাড়াও ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করতে গিয়ে যেন কাল বিলম্ব না হয়, আবার তাড়াহুড়োও না করা হয় সে বিষয়েও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই ঘোষণা নিয়ে সর্ব দলীয় বৈঠকে বসেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যেখানে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টিসহ অনেক দল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্রদের সংগঠনগুলো সবাই বলেছেন ঐক্যমত প্রোষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে একটা ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে। যত সময় লাগে সেটা যেন নেয়া হয়, তাড়াহুড়ো যেন না করা হয়, আবার যেন কালক্ষেপন করা না হয়। আলোচনা পরিচালনার জন্য যেন একটা কমিটি গঠন করা হয় সেই প্রস্তাবও এসেছে আমরা সকল প্রস্তাব কার্যকরভাবে বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া প্রায় সকল শক্তি ও রাজনৈতিক দল উপস্থিত ছিলো। বৈঠকে সবাই বলেছেন এ ধরনের ঘোষণার দরকার আছে। তবে মোটা দাগে পরামর্শ ছিল যে ঘোষণাপত্রে সবার অবদান ঠিক মতো বলতে হবে। এর ধারাবাহিকতা ঠিকমতো উল্লেখ করতে হবে। ঘোষণাপত্রের প্রকৃতি কী হবে- রাজনৈতিক ও আইন প্রকৃতি কী হবে তা স্পষ্ট করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ ঘোষণাপত্রটা আরো বেশি আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দল, শক্তি, ছাত্র-জনতার বিভিন্ন ফোরামের মধ্যে আরও ইনটেনসিভ আলোচনার মাধ্যমে সর্ব সম্মতিক্রমে এটা প্রণয়ন করতে হবে। এর জন্য যতটা সময় লাগা প্রয়োজন সেটা নিতে হবে। তবে চেষ্টা করতে হবে অযথা যেন কাল বিলম্ব না হয়। সবাই একমত পোষণ করেছে। সবার ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আরও নিবিড় আলোচনার ভিত্তিতে এ ধরনের ডকুমেন্ট প্রস্তুত হওয়া উচিত। সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে এ পক্রিয়ায় আমরা সফল হতে সম্ভব হবো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে অটুট জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছি সেই ঐক্যের নেরেটিভ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রণয়ন করতে পারবো আশাবাদ রেখে সভা শেষ হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি, শুধু প্রসেস নিয়ে বিভিন্ন মতামত এসেছে। সব মতকে আমরা স্বাগত জানাই। কোথাও অনৈক্যের সুর দেখি না। বরং সবার মত যেন গুরুত্ব পায়, সবাই যেন অনুভব করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে মালিকানা তারও আছে। এটার পক্ষে বিভিন্ন মত এসেছে। যে মতামত ঐক্যের পথে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমরা মনে করি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরী ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা। যেটি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। সেই ঐক্যকে যেন আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। যার মাধ্যমে আমরা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি- এটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক যে কোনো বক্তব্য আমরা দিতে চাই। যাতে অনৈক্যের বিজ আমাদের মধ্যে বোপন না হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে পাঁচ মাস পর কোনো ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন ছিল কি না সেটা আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম। যদি থেকে থাকে সেটার রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও আইনি গুরুত্ব কী? যাতে একে কেন্দ্র করে জুলাই যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে সেখানে যেন কোনো ফাটল না ধরে। সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলিল প্রস্তুত করতে হলে সেখানে যেন সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়, পরামর্শ নেয়া হয়, আলোচনা করা হয়। সরকারকে অনুরোধ করেছি যেন তারা সে হিসেবে পদক্ষেপ নেন। যাতে জাতীয় ঐক্যে ফাটল না হয়।

প্রফেসর মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঘোষণাপত্র নিয়ে সব দল ঐক্যমত হয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার জন্য যে খসড়া রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে সেটি বিলম্ব হওয়ায় দলীয় ফোরামে অনেকে আলোচনা করতে পারেনি। তাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বৈঠকে আলোচনা করা যায়নি। আমরা পরামর্শ দিয়েছি, সরকারের এমন একটা মূল্যবান দলিল তৈরির পেছনে যেন কোনো অস্থিরতা, অসঙ্গতি, অসমন্বয় না হয়, ধীরস্থীরভাবে করার জন্য। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের মতবিনিময় হওয়া দরকার। তিনি বলেন, এখানে অনেক মৌলিক বিষয় বাদ পড়েছে। ইসলামী শক্তির অবদান এ কাঠামোয় স্থান পায়নি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অবদান, নিরিহ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়া, আয়নাঘর, গুম, খুন বাদ পড়েছে। আমরা বলেছি যেন সব অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সবার সঙ্গে কথা বলতে, যেন সবাই মতামত দিতে পারেন। পরওয়ার বলেন, প্রাথমিক বৈঠক সফল হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আবার বৈঠক হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বলেছি। এটা আসলে কী হবে- প্রোক্লেমেশন, ডিক্লারেশন- সব ঐক্যমতের ভিত্তিতে হবে। ড্রাফট কমিটি করতে বলেছি। যেখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি থাকবে। যেটি ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে। সব মিলিয়ে পদ্ধতিগত জায়গায় প্রস্তাব করেছি।

mzamin

টিউলিপ কাণ্ডে বৃটেনের রাজনীতিতে উত্তাপ

টিউলিপ সিদ্দিক ইস্যুতে উত্তপ্ত বৃটেনের রাজনীতি। ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারি, আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ মাথায় নিয়ে মঙ্গলবার পদত্যাগে বাধ্য হন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। আগে থেকেই টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। কিন্তু তার খালা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ডেভেলপার আবদুল মোতালিফ ও আইনজীবী মঈন গণির কাছ থেকে তিনি ও তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি দু’টি ফ্ল্যাট পান উপহার হিসেবে। আদতে তার মালিক বনে যান টিউলিপ। কিন্তু তিনি এ বিষয়টি গোপন করেছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তথ্যপ্রমাণ সহ এসব রিপোর্ট প্রকাশ করে দেয় বৃটিশ পত্রপত্রিকা। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জল ঘোলা হয়। অবশেষে ‘তিনি জনগণকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেছেন’ এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর পদত্যাগে বাধ্য হন টিউলিপ। ফলে রাজনীতির কাদায় শুধু টিউলিপ একা নন, আটকে পড়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারও। টিউলিপ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাশাপাশি আসন থেকে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। সমালোচনা উঠেছে যে, টিউলিপকে ছায়া দিয়ে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। এমনকি বলেছেন, টিউলিপের জন্য তার দরজা খোলা। ফলে তোপের মুখে পড়েছেন কিয়ের স্টারমার। এখন নিজ দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠছে স্টারমারের বিরুদ্ধে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু টিউলিপকে দুর্নীতিবিরোধী দায়িত্ব দেয়া নিয়ে এই সমালোচনা। টিউলিপকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিতে দেয়ার বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে বিরোধী কনজারভেটিভরা। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী দুর্বল। তিনি তাকে বরখাস্ত করার সাহস দেখাননি। কেমি ব্যাডেনচ বলেছেন, ‘তার (প্রধানমন্ত্রী) ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী সময়ক্ষেপণ করেছেন। এখন বাংলাদেশে যখন টিউলিপের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তার (টিউলিপের) অপরিহার্য পদত্যাগে বেদনা প্রকাশ করেছেন। লেবার দলের একজন এমপি নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর নিজের। সবাই জানেন যে, টিউলিপ বাংলাদেশি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একজন সদস্য। এই রাজনৈতিক ডাইনেস্টির সঙ্গে বিপুল ক্ষমতা এবং অর্থের যোগ রয়েছে।

তার মতো ব্যক্তিকে ওই দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে পৃথিবীতে কে বলবে যে এটা ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে? ওদিকে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার ডানিয়েল গ্রিনবার্গকে টিউলিপ সিদ্দিকের বিষয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে লিখেছে বিরোধী দল কনজারভেটিভ। একই দলের নেতা কেমি বাডেনোচ বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘দুর্বল নেতৃত্ব’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। টিউলিপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুত্বের সম্পর্কের জন্যই আইনগত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে কিনা- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ওদিকে টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট এডভাইজার স্যার লরি ম্যাগনাস। টিউলিপ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার তিনি বলেন, তার আচরণ নিন্দনীয়। বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের ঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। টিউলিপ ওই দু’টি ফ্ল্যাটের ট্যাক্স ও অর্থায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে অক্ষম হয়েছেন। তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। এসব কথা লিখেছে অনলাইন ডেইলি মেইল, টেলিগ্রাফ সহ বিভিন্ন মিডিয়া। উল্লেখ্য, বৃটিশ মিডিয়ার খবর অনুযায়ী আওয়ামী লীগের দু’জন স্থানীয় নেতার কাছ থেকে উপহার হিসেবে দু’টি ফ্ল্যাট পেয়েছেন টিউলিপ। প্রথমে তিনি এ বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, ওই দু’টি ফ্ল্যাট কিনেছেন তার পিতামাতা। তিনি ২০০৪ সালে এর মালিকানা পান। কিন্তু পরে তিনি স্বীকার করেন যে, আসলে বাংলাদেশি প্রোপার্টি ডেভেলপার আবদুল  মোতালিফ তাকে কিংস ক্রসের দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটি উপহার দিয়েছেন। এর বর্তমান মূল্য সাত লাখ পাউন্ড। এ ছাড়া টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে মধ্যস্থতা করেছেন তিনি। এর বিনিময়ে তিনি, তার খালা, মা শেখ রেহানা, মামা সজীব ওয়াজেদ জয় ৫০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। বৃটিশ রাজনীতিক, পরে মন্ত্রী হওয়া টিউলিপ ওই সময় শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয় সহ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যৌথ ছবি তোলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জবাবে টিউলিপ দাবি করেন তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য নন। তিনি রাশিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে তার খালার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি, আবহ অনেক কথাই বলে দেয়।

অনলাইন টেলিগ্রাফ তার রিপোর্টে বলছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের এথিকস উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস তদন্ত শেষে বলেন, টিউলিপ জনগণকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেছেন। এরপরই মঙ্গলবার বৃটেনের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করার পর তার পদে নতুন মন্ত্রী হিসেবে ওইদিনই নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমপি এমা রেনল্ডস’কে। একই দিন কিয়ের স্টারমারকে নিজে একটি চিঠি লিখে পদত্যাগ করেন টিউলিপ। তাতে তিনি স্বীকার করেছেন, পার্লামেন্টের সামনের সারিতে বসে তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা হতে পারে সরকারের কাজের জন্য বিভ্রান্তিকর। চিঠিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাকে সমর্থন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিস সিদ্দিক। বলেছেন, আপনি জানেন যে, আমার অনুরোধে অভিযোগের বিষয়ে গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করেছেন স্যার লরি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমি মন্ত্রিত্বের বিধি ভঙ্গ করিনি। টিউলিপ আরও বলেছেন, আমার পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সরকারি রেকর্ডের ব্যাপার। যখন আমি মন্ত্রী হই, সে সময় আমার সম্পর্ক এবং সরকারের প্রাইভেট ইন্টারেস্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিয়েছি। টিউলিপ দাবি করেছেন, তিনি পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সরকারে থাকার সময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, আমার আনুগত্য এই লেবার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আছে এবং সবসময় থাকবে। সরকার যে জাতীয় রূপান্তরকরণ ও পরিবর্তন শুরু করেছে সেই কর্মসূচির প্রতি আনুগত্য থাকবে। তাই আমি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। টিউলিপের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ট্রেজারির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ ছিল বেদনার। তিনি বলেন, টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য তার দরজা উন্মুক্ত। তবে এর ফলে বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়বেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। কারণ, প্রতিদিন যখন নেতিবাচক সংবাদ শিরোনাম প্রকাশ হচ্ছিল তখনো তা সত্ত্বেও টিউলিপের পাশে থাকাকে বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য,  শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা ও ডেভেলপার আবদুল মোতালিফের কাছ থেকে উপহার হিসেবে বৃটেনের কিংস ক্রসে একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তির নামে আরও একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন আইনজীবী মঈন গণি। প্রকারান্তরে সেই ফ্ল্যাটও টিউলিপকে উপহার দেয়া হয়েছে। কারণ, রূপন্তি ওই ফ্ল্যাট টিউলিপকে পরিবার সহ ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এসব বিষয় গোপন করেছেন টিউলিপ। শুধু তা-ই নয়, তিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি হওয়ার পরও তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা কখনো করেননি বলে দাবি করেন। কিন্তু তার ব্লগ ফাঁস করে দিয়েছে মিডিয়া। তাতে দেখা যায়, তিনি শেখ হাসিনার জয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তার প্রচারণায় ছিলেন তিনি। এর বাইরে রাশিয়ার সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি করার মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা, টিউলিপ, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রমুখ ৫০০ কোটি ডলার মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগে বাংলাদেশে দুদক তদন্ত করছে। এসব তথ্য যখন বৃটিশ মিডিয়া ফাঁস করে দেয় তখন তার পদত্যাগ দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা, বিরোধী কনজারভেটিভ দলের কিছু এমপি। কিন্তু টিউলিপ ক্ষমতা ধরে রাখেন। এ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার হলেন টিউলিপের ক্ষমতার খুঁটি। টিউলিপ সিদ্দিক অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তকারী লরা ম্যাগনাসের কাছে এই আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। টিউলিপের বিরুদ্ধে যখন তীব্র চাপ, প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতিকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ জোরালো হতে থাকে, বৃটেনের রাজনীতি উত্তাল হতে শুরু করে, তখন বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কিলি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তকারী যদি দেখেন মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন টিউলিপ, তাহলে তিনি সরকারি পদে থাকতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। কয়েকদিন ধরে এই বিতর্ক বৃটেনের প্রথম সারির সব মিডিয়ার প্রথম পৃষ্ঠায়। এসব রিপোর্টে টিউলিপের খালা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে। এমন বিতর্ক এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ওদিকে বিবিসি বলছে, বাংলাদেশে দুদকের দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তে ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বৃটেনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসনের এমপি।

মঙ্গলবার স্যার লরি ম্যাগনাস বলেছেন, এটা দুঃখজনক যে, মিস সিদ্দিক বাংলাদেশি সাবেক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না। তিনি বলেছেন, যে দু’টি প্রোপার্টি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার ডকুমেন্ট পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে কমপক্ষে ২০ বছর আগে। টিউলিপ সিদ্দিক ও তার বোনকে ২০০৪ সালে এবং ২০০৯ সালে ওই দু’টি ফ্ল্যাট উপহার দেয়া হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী টিউলিপ উল্লেখযোগ্য ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য সরবরাহ করেছেন। তাতে দেখিয়েছেন যে, তার তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তবে এটা ‘কনক্লুসিভ’ ছিল না। এসব লেনদেনের অভিযোগের গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এটা দুঃখজনক যে, কনক্লুসিভ তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। স্যার লরি আরও বলেন, মিস সিদ্দিক অজান্তেই কিংস ক্রসে তাকে  কে একটি ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে দিয়েছে, সেই দাতার পরিচয় সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন ২০২২ সালের জিজ্ঞাসাবাদে। টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কিয়ের স্টারমার ক্ষমতার প্রথম ৬ মাসের মধ্যে দু’জন মন্ত্রী হারালেন। গত মাসে পদত্যাগ করেন পরিবহন মন্ত্রী লুইস হাই। তারপর দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ। ক্ষমতায় আসার প্রথম ৬ মাসের মধ্যেই অনেক স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি জেঁকে ধরেছে লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ফলে স্যার কিয়ের স্টারমার ঐতিহাসিকভাবে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অজনপ্রিয়তার নিম্নতম স্থানে পৌঁছে গেছেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের ১০০ দিনের আগেই তিনি বরখাস্ত করেছেন নিজের চিফ অব স্টাফ সু গ্রে’কে। লেবার দলের দাতা লর্ড আলির কাছ থেকে অবাধে অর্থ এবং পোশাক নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এর পরিমাণ হাজার হাজার পাউন্ড। এমন অবস্থায় রিফর্ম ইউকে এবং লিবারেল ডেমোক্রেটরা লেবার পার্টিকে বিগত কনজারভেটিভ সরকারের মতোই খারাপ হিসেবে অভিহিত করেছে। রিফর্মের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই পদত্যাগ করতে হয়েছে কিয়ের স্টারমারের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীকে। লিবারেল ডেমোক্রেট দলের কেবিনেট অফিসের মুখপাত্র সরাহ ওলনি বলেন, কনজারভেটিভ দলের বছরের পর বছর ধরে কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পর জনগণ এই সরকারের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেছিল। কনজারভেটিভ দলের কেমি ব্যাডেনচ বলেন, সপ্তাহান্তে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ পুরোপুরি অক্ষম হয়ে পড়েছে। তবু স্যার কিয়ের স্টারমার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সুরক্ষিত রাখতে বিচলিত হন এবং বিলম্ব করেন। এখন পর্যন্ত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। আসলে দুর্বল নেতৃত্ব থেকে তৈরি হন একজন দুর্বল প্রধানমন্ত্রী।

mzamin

এক ভয়াল রাতে শাকিলের শেষ যাত্রা by ড. এ. কে. আজাদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণবিপ্লব এবং ছাত্র-জনতার অবিশ্বাস্য বিজয়। বিজয়ের এ ধারা কখনো মসৃণ পথে পিচ্ছিল যাত্রা ছিল না। প্রায় ২ হাজার বনি আদমের শহীদ হওয়া, ৩০ হাজার মানুষের আহত ও অঙ্গহানির বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা।

সময়টা ছিল ১৮ই জুলাই বৃহস্পতিবার। বিকালে ফেসবুক খুলতেই দেখি পারভেজের মৃত্যু সংবাদ। মো. শাকিল হোসেন পারভেজ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রোগ্রামের আশুলিয়া ক্যাম্পাসে আমাদের ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে উত্তরায় পুলিশের গুলিতে শাহাদত বরণ করেন। কোনো মতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে শাকিলকে ফোন দিলাম, কিন্তু ফোনে  না পেয়ে আর একজন ছাত্রকে ফোন দিলাম এবং জানতে পারলাম ঘটনার সত্যতা। এরপর ভিসি স্যার, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ডিন, রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, কোর্ডিনেটরসহ আরও বেশ ক’জন সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করলাম। মসজিদে মাগরিবের আজান চলছে, আজানের সঙ্গে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের সামনে মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দ, সঙ্গে মিছিলের উচ্চ আওয়াজ। আমজনতার ছোটাছুটি। কোনো মতে নফল রোজার ইফতার ও নামাজ শেষে স্ত্রী-সন্তানকে বললাম, আমি যাই। তোমরা আমার জন্য দোয়া করো। মহান আল্লাহর নাম নিয়ে বের হলাম। কিছুদূর হাঁটার পর একটা রিকশা নিয়ে শ্যামলী। চালক জানালো ভাই, ওদিকে মারামারি হচ্ছে, ‘আমি যাইয়াম না’।

আরও কিছুদূর হেঁটে, আর একটা রিকশা পেলাম, খুব অনুরোধ করে তিনগুণ ভাড়া দেয়ার শর্তে রাজি হলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে শ্যামলীতে পৌঁছলাম। রাস্তায় পুলিশ-বিজিবি’র গাড়ি ও দু’ একটি রিকশা ছাড়া আর কিছু চোখে পড়লো না। শ্যামলী থেকে সিএনজিতে মাজার রোড, সেখান থেকে আর একটা সিএনজিতে বিরুলীয়া ব্রিজ। বিরুলীয়া ব্রিজ থেকে অটোরিকশায় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়া ক্যাম্পাস।

ফ্রিজ এম্বুলেন্সে আমার সদা হাস্যোজ্জ্বল শাকিলকে নীরবে ঘুমাতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। আবার শক্ত হওয়ার চেষ্টা করলাম এই ভেবে যে, আমি যদি এভাবে ভেঙে পড়ি তবে ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থা কী হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাজা নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম। নামাজ শেষে শাকিলের লাশ নিয়ে যাওয়া হলো তামীরুল মিল্লাতের গাজীপুর ক্যাম্পাসে এবং সেখান থেকে টঙ্গী পূবাইল হয়ে তার জেলা লক্ষ্মীপুর।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও  ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত মিটিংয়ে তাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে জমা দেয়।
লাশের সঙ্গে কে যাবে এই ভয়াল রাতে, এই নিয়ে চলছিল বেশ আলোচনা। অনেকেই সেদিন রাতে যাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হলেন। অনেকে পরের দিন যাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে আর যাওয়া হয়নি। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি সে রাতের ভয়াবহতায় জানাজা নামাজেও আসতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় রাত ১০টার দিকে আশুলিয়া ক্যাম্পাস থেকে আমার নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রসহ দশ সদস্যের একটি টিম নিয়ে আমরা রওনা হলাম শাকিলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। আবদুল্লাহপুর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একদল লোক লাঠি দেখিয়ে আমাদের গাড়ি উল্টো ঘুরাতে বললো। গাড়ির চালক বাবুল ভাই বললো, কী করবো স্যার? ওরাতো গাড়ি ভেঙে ফেলতে পারে, গাড়ি জ্বালিয়েও দিতে পারে। আমি বললাম, বাবুল ভাই পেছনে ফেরার কোনো উপায় নাই। এখন ফড় ড়ৎ ফরব! সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গাড়ি এগিয়ে গেল, আমরা পরিচয় দিলাম, কথা বললাম, ওরা আমাদের গাড়ির দরজা খুলে চেক করলো, লাইট মেরে আমাদের চেহারা দেখলো। তারপর যেতে দিলো। এভাবে বেশ কয়েকবার আমাদের গাড়ি চেকের  সম্মুখীন  হলাম। প্রতিবারই যখন হাতে লাঠি নিয়ে কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আমাদের গাড়ি থামিয়ে চেক করছিল তখন আমরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলাম। কারণ অনেক  গাড়ি জ্বালিয়ে দিতে দেখেছি, অনেক মানুষকে হতাহত হতে দেখেছি, অনেক মানুষকে বন্দি করে  নিয়ে যেতে দেখেছি, নির্মম অত্যাচারের দৃশ্য দেখেছি। কিন্তু যতবারই আমরা ভয় পেয়েছি, আমার মনে হয়েছে শাকিল আমাকে বলছে, স্যার ভয় পাবেন না আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। মহান আল্লাহর অসীম কৃপায় আমার বারবার একথাই মনে হয়েছে। শাকিলের গাড়ি যখনই একটু পেছনে পড়ে যাচ্ছিল তখনই আমার ভয়, চিন্তা ও উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছিল, যে আমরা ঠিকমতো পৌঁছাতে পারবো তো? মনে হচ্ছিল শাকিল বারবার বলছে স্যার চিন্তিত হবেন না। আমি তো আছি! ফজরের আজানের শব্দ শুনলাম, মনে হলো শাকিল বলছে স্যার নামাজ পড়ে নিন। রাস্তার পাশে মসজিদ দেখে গাড়ি থামিয়ে আমরা ফজরের নামাজ পড়তে দাঁড়ালে আমার মনে হলো শাকিল কোথায়, শাকিল বললো আমার জন্য চিন্তা করবেন না আমি তো আপনাদের পেছনেই আছি। নামাজ শেষে আবার আমাদের যাত্রা শুরু। এরইমধ্যে শাকিলকে বহনকারী গাড়ির পেছনের বামপাশের দু’টি চাকাই পাংচার হলো। আমি ভীষণ চিন্তায় পড়লাম। মহান রাব্বুল আলামীনের সাহায্য চাইলাম, মনে হলো পথিমধ্যে এক বাজারের গাড়ি মেকানিকের কাছে থামিয়ে চাকা পরিবর্তন করার চেষ্টা করলো কিন্তু এই বৈরী পরিবেশে ব্যবসায়ী তার দোকান খুলতে চাইলো না। গাড়ির অতিরিক্ত চাকাটিও ভালো ছিল না।

অনেক কষ্ট করে পুরোনো চাকাটি লাগিয়ে কোনো মতে আমরা সকাল ৯টার দিকে শহীদ শাকিলের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার ১নং উত্তর হামসাদী ইউনিয়নের, কাফিলাতলি, ১নং ওয়ার্ডের আমানুল্লাহ মিয়াজি বাড়ি পৌঁছালাম। বাড়ির কাছাকাছি যেতেই শত শত মানুষের প্রতিবাদী মিছিলে গ্রামের বন-বনানী কেঁপে উঠছিল। শাকিলকে একনজর দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। সকাল ১০টায় স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজার ব্যবস্থা করা হলো। অত্র এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আলোচনা করলেন, শাকিলের শিক্ষক হিসেবে আমাকেও কিছু বলার সুযোগ দিলো। আমি বলেছি, শাকিলের মতো আদর্শবান তরুণের আত্মত্যাগ কখনই বৃথা যাবে না। জানাজা শেষে শাকিলের লাশ কাঁধে করে কবরস্থানের দিকে যাচ্ছিলাম, আর মনে হচ্ছিল শাকিল বলছে, স্যার! আপনারা আমার জন্য এত কষ্ট করছেন। শাকিলকে কবরে নামানোর দৃশ্য দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। দু’চোখ দিয়ে অঝোরে বৃষ্টির মতো পানি ঝরছিল। মনে হচ্ছিল ওই মায়াবি হাসি দিয়ে শাকিল কি আমার সঙ্গে  এসে আর কথা বলবে না? শাকিলকে মাটি দিয়ে যখন ঢেকে দেয়া হচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, শাকিল বলছে, স্যার, চিন্তা করবেন না একদিন দেখা হবে সবার সঙ্গে জান্নাতে। শাকিলকে দাফন করার পর দোয়া করার দায়িত্ব আসে আমার ওপর। শাকিলের জন্য ও শাকিলের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রাণভরে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সকলের জন্য, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, সর্বোপরি বাংলাদেশের শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করলাম। উল্লেখ্য যে, শাকিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তার পরিবার অনেকটাই অসচ্ছল। তাদের গ্রামে কোনো ঘর নেই, ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। শাকিল টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ চালাতো, সঙ্গে পরিবারকেও সাহায্য করতো। মা শারবিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড, শাকিল মাকে রান্না করে নিজ হাতে খাইয়ে দিতো। তিন বোনের একমাত্র ভাই শাকিল হোসেন। বড় বোন-বিউটি আক্তার, মেজো বোন- সুইটি আক্তার আর ছোট বোন নাদিয়া আক্তার। বোনরা সবাই বিবাহিত ও বোনদের জামাইরা ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বাবা মো. বেলায়েত হোসেন খুদে ব্যবসায়ী। জানাজা নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে দেয়া আর্থিক অনুদান শাকিলের বাবার হাতে তুলে দিয়েছি আর জড়িয়ে ধরে বলেছি শাকিলের মতো সন্তানের বাবা হয়ে আপনি ধন্য। শাকিল আপনাদের জান্নাতের পথ সুগম করে দিয়েছে। শাকিলের মতো ছাত্র আমাদের জন্য গর্ব। মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে সবসময় থাকবে ইনশাআল্লাহ্। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তাদের একদিনের বেতন শাকিলের পরিবার ও আহতদের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দেশ-বিদেশ থেকে শাকিলের পরিবারে পাশে দাঁড়াতে পারেন।    

আমাদের যাত্রা পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে ফোন করে আমাদের অবস্থার খবর নিয়েছেন। সারা রাত এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাইনি।
বলা যায় সার্বক্ষণিক বিভিন্ন দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করেছি। দাফন শেষেই আমরা ঢাকায় রওনা হই। আশিকুন্নবী স্যার, আব্দুল আলী ভাই, চালক বাবুল ভাইসহ সকল ছাত্র যারা আমার সঙ্গে গিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও দোয়া। আল্লাহ্ সকলকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করুন। শাকিলকে রেখে ঢাকায় ফেরার বাস্তবতা না হয় আর একদিন লিখবো।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

mzamin


ঐকমত্যে গণ-অভ্যুত্থানের সনদ তার ভিত্তিতে নির্বাচন: ৪ সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট জমা

রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ৪টি সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই প্রতিবেদন তুলে দেন সংশ্লিষ্ট কমিশন প্রধানরা। এদিন জানানো হয়েছে আরও ৬টি কমিশন প্রতিবেদন জমা দিতে এক মাস সময় পেয়েছে। তাদের রিপোর্ট জমা হলে ফেব্রুয়ারিতে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে। আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হবে গণ- অভ্যুত্থানের সনদ। যার ভিত্তিতে হবে জাতীয় নির্বাচন। চার কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন তথ্য জানিয়ে বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, সংবিধান এবং দুদক সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন জমা হওয়ার মধ্যদিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হলো মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এটার মাধ্যমে আমরা আলোচনা শুরু করবো সবার সঙ্গে যে, সবার মন এর মধ্যে সায় দিচ্ছে কিনা; অঙ্গীকারগুলো পূরণ হচ্ছে কিনা- সেটার আলোচনা।
আলোচনার রসদ আপনারা (সংস্কার কমিশন) তৈরি করে দিয়েছেন। সে আলোচনার পরবর্তী অধ্যায়টা কী হবে- সেটাও আমরা জেনে রাখি- একটা মতৈক্য প্রতিষ্ঠা হবে। সবাই একমত হবে না। কিছু অংশে একদম একমত হবেন। আমরা কী স্বপ্ন দেখলাম যে- একা একা স্বপ্ন দেখলাম? মানুষের স্বপ্নের অংশ নেই, সেটা তো হতে পারে না। আমরা কতোটুকু সে (গণ-অভ্যুত্থানের) স্বপ্ন নিয়ে আসছি সেটার জন্যই এই আলোচনা। এটা বাইরে থেকে চাপানো জিনিস না; ভেতর থেকে উদ্ভূত একটা জিনিস।

তিনি বলেন, যে আলোচনা হবে, সে আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন আপনারা (সংস্কার কমিশন) মতৈক্য প্রতিষ্ঠার জন্য। যেহেতু আপনারাই তাদের পক্ষ থেকে স্বপ্ন দেখেছেন, কীভাবে তাদের স্বপ্ন আপনাদের স্বপ্ন একাকার হয়ে যাবে, তার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের একটা চার্টার তৈরি হবে। এই সনদের ভিত্তিতেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, ওই যে নতুন বাংলাদেশের চার্টার, সেই চার্টারটা মতৈক্যের ভিত্তিতে হবে। নির্বাচন হবে, সবকিছু হবে; কিন্তু চার্টার হারিয়ে যাবে না। এ চার্টার থেকে যাবে ইতিহাসের অংশ হয়ে। এটা আমাদের জাতীয় কমিটমেন্ট। এটা কোনো দলীয় কমিটমেন্ট না। আমরা চাচ্ছি সব দল এই চার্টারে সাইন অন করবে।
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক নোট’ বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা না, এটা একটা ঐতিহাসিক নোট। এ ঘটনাটা, ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ কমিশনগুলোর সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ওদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে কমিশনগুলোর দেয়া প্রতিবেদন এর সারসংক্ষেপও গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে রাষ্ট্রীয় তিনটি মূলনীতি বাদ দিয়ে পাঁচটি মূলনীতি করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সাংবিধানিক নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে ‘জনগণতন্ত্রী’ বাংলাদেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়- এমন নানা সুপারিশ দেয়া হয়েছে এই কমিশনের রিপোর্টে।

ওদিকে নির্বাচন সংস্কার কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দৃঢ় করার উপর জোর দিয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫০টির মতো সুপারিশ দিয়েছে কমিশন। পুলিশ সংস্কার কমিশন পুলিশের শক্তি প্রয়োগের সীমা নির্ধারণ সহ ১৫টি ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রশাসন ও আমলানির্ভরতা কমাতে সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত সংষ্কার কমিশন। এই কমিশন ৪৭টি সুপারিশ পেশ করেছে।

রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও দেশের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতিতে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশন। এ ছাড়াও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দুইবারের বেশি  মেয়াদ নয়, আইনসভার মেয়াদ ৪ বছর, এনসিসি গঠন, সংবিধান সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অন্তর্বর্তী সরকার, বিচার বিভাগসহ বেশকিছু বিষয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। কমিশন দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাসের পর্যালোচনা শেষে গতকাল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের সংস্কার সুপারিশ হস্তান্তর করে।

শুরুতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। যেখানে এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয় উল্লেখ আছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনকেও গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার আদর্শে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ লড়াইয়ের উল্লেখ আছে। সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নাগরিকতন্ত্রের বিষয়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘জবঢ়ঁনষরপ’ ‘চবড়ঢ়ষবং জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয’ শব্দগুলো থাকছে। রাষ্ট্রভাষা ‘বাংলা’। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সকল ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিলুপ্তের সুপারিশ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি...’। বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) সংশোধন করে বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন। কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে। পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলো বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে। এ ছাড়া, জীবনের অধিকার রক্ষায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জামিনে মুক্তির অধিকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করেছে। একটি নিম্ন্নকক্ষ জাতীয় সংসদ এবং একটি উচ্চকক্ষ। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে ৪ বছর। নিম্নকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। ৪০০ আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে। ৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আরও ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সকল জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০% আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করবে। সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ জন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন। একজন সংসদ সদস্য একইসঙ্গে নিম্নলিখিত যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না: (ক) প্রধানমন্ত্রী, (খ) সংসদনেতা, এবং (গ) রাজনৈতিক দলের প্রধান। অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সবসময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

আর উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে; এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (চৎড়ঢ়ড়ৎঃরড়হধষ জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ-চজ) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য প্রেসিডেন্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন। কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতীত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী উভয় কক্ষে পাস হলে, এটি গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ফলাফল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। আর আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন নিতে হবে।
অভিশংসনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্ন্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নির্বাহী বিভাগের কথা বলা হয়েছে, আইনসভার নিম্নকক্ষে যে সদস্যের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন আছে তিনি সরকার গঠন করবেন। নাগরিকতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা দ্বারা প্রযোগ করা হবে। কমিশন প্রেসিডেন্টের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা সুপারিশ করছে; এই বিশেষ কার্যাবলী কিংবা সংবিধানে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য সকল বিষয়ে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করবেন। কমিশন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের সুপারিশ করছে। এনসিসি’র সদস্য হবেন: প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, নিম্নকক্ষের স্পিকার, উচ্চকক্ষের স্পিকার, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, বিরোধী দল মনোনীত নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দল মনোনীত উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উভয় কক্ষের সদস্যরা ব্যতীত, আইনসভার উভয় কক্ষের বাকি সকল সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত ১ জন সদস্য।

আইনসভা ভেঙে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শপথ না নেয়া পর্যন্ত বিদ্যমান এনসিসি সদস্যরা কর্মরত থাকবেন। আইনসভা না থাকাকালীন এনসিসির সদস্য হবেন- প্রেসিডেন্ট, প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক মনোনীত উপদেষ্টা পরিষদের দুইজন সদস্য। এনসিসি নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলগণ; সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; মানবাধিকার কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; প্রধান স্থানীয় সরকার কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার; প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধান; আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কাছে নাম প্রেরণ করবে।
প্রেসিডেন্টের কথা বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ হবে ৪। প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি অধিষ্ঠিত থাকবেন না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচক মণ্ডলীর (ইলেক্টোরাল কলেজ) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হবেন। ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত হবে আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্য প্রতি একটি করে ভোট; প্রতিটি ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট: প্রতিটি ‘সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল’ সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট। রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যাবে।

আর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আইনসভার নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলা হয়েছে, আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগে অথবা আইনসভা ভেঙে গেলে, পরবর্তী অন্যূন ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করবেন। মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন হবে, তবে যদি নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হয় তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণমাত্র এই সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে।
প্রধান উপদেষ্টার কথা বলা হয়েছে, আইনসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে। এনসিসি’র ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৭ (সাত) সদস্যের সিদ্ধান্তে এনসিসি’র সদস্য ব্যতিত নাগরিকদের মধ্য থেকে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। অনুচ্ছেদ ৪.১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না হলে, সকল অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের মধ্য থেকে একজন গ্রহণযোগ্য এনসিসি’র ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৬ (ছয়) সদস্যের সিদ্ধান্তে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। উপরে উল্লিখিত অনুচ্ছেদ ৪.২ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না হলে, এনসিসি’র সকল সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

কমিশন প্রতিটি জেলায়, পারস্পরিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি  ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে, যা সেই জেলার মধ্যে সকল এলজিআই’র জন্য একটি সমন্বয় এবং যৌথ কার্য সম্পাদনকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর সদস্য হবেন- প্রতিটি উপজেলা পরিষদ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান; প্রতিটি পৌরসভা থেকে নির্বাচিত মেয়র ও দু’জন ডেপুটি মেয়র; প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সমন্বয় কাউন্সিল থাকবে। স্থানীয় সরকার কমিশন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে, যা একজন প্রধান স্থানীয় সরকার কমিশনার এবং ৪ (চার) জন কমিশনার নিয়ে গঠিত হবে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রীয়াজ বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল সুস্পষ্ট- কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। সেদিক থেকে বিবেচনা করে আমরা সংবিধানের যে ধারাগুলোর, যে বিষয়গুলোর সংস্কার করা দরকার সেগুলো আমরা বলেছি। সুপারিশগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক ঐক্যের আশা করে তিনি বলেন, একটা ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় আজকে আসলে কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা এই প্রস্তাবগুলো, সুপারিশগুলো রাখছি। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ১৫০ সুপারিশ
নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বেশ কিছু বিষয়ে সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। যেখানে নির্বাচন কমিশন গঠন, কমিশনের ক্ষমতা, দায়িত্ব, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা, মনোনয়নপত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ দিয়েছে। প্রস্তাব করা হয়েছে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির। কমিশন নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, পোস্টাল ভোটের বিষয়ে তাদের মত দিয়েছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ তুলে দেন এর সদস্যরা।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল এবং পুনঃনির্বাচনের ক্ষমতা প্রদান করা; নির্বাচন কমিশনের সচিব নিয়োগের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা; নির্বাচনকালীন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে এমন কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেয়ার বিধান করা; ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, লিখিতভাবে যুক্তিসঙ্গত কারণ প্রদর্শনপূর্বক, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, ৯০ দিনের অন্য নির্বাচন স্থগিত করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রদানের জন্য প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে মতামত চাওয়ার বিধান করা।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ফলাফল গেজেটে প্রকাশের পূর্বে, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ঘোষণা প্রদানের বিধান করা; নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল সংক্ষুব্ধ হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল বা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অভিযোগ করার সুযোগ সৃষ্টির বিধান করা। কমিশন/আদালত কর্তৃক সর্বোচ্চ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করার বিধান করা; স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করা; ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা এবং গবেষণা কার্যক্রমকে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা; নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা; কমিশন কর্তৃক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী ও পোলিং এজেন্টদের সুরক্ষা প্রদানের বিধান করা; আউয়াল কমিশন ২০২৩ সালে যেসব বিতর্কিত রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন প্রদান করেছে, যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা।

প্রার্থী কর্তৃক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রত্যেক দল তার প্রার্থীদের জন্য প্রত্যয়নপত্রের পরিবর্তে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তি কর্তৃক হলফনামা জমা দেয়ার বিধান করা, পরবর্তী নির্বাচনের আগে যে কোনো সময় নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ব্যক্তির হলফনামা যাচাই-বাছাই করতে এবং মিথ্যা তথ্য বা গোপন তথ্য পেলে তার নির্ধারণ বাতিল করা।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা; নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা; কোনো আসনে মোট ভোটারের ৪০% ভোট না পড়লে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠান করা; বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধ করা, রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ, যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনে ‘না-ভোট’র বিধান প্রবর্তন করা। নির্বাচনে না-ভোট বিজয়ী হলে সেই নির্বাচন বাতিল করা এবং পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাতিলকৃত নির্বাচনের কোনো প্রার্থী নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদীয় আসনের ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণের বিধান করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ/গণমাধ্যমকে নিশ্চল পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া, যাতে পর্যবেক্ষকরা সারাদিন কেন্দ্রে থাকতে পারে, কিন্তু ভোটকক্ষে সার্বক্ষণিকভাবে নয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে প্রাক্‌-নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণের অফিসিয়াল অনুমতি প্রদান করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্মে সীমিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দুইবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের অযোগ্য করা এবং একই ব্যক্তি একইসঙ্গে যাতে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে না পারেন তার বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ১০০ আসন নিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা। সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হারের ভিত্তিতে (সংখ্যানুপাতিকভাবে) আসন বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। উচ্চ কক্ষে প্রত্যেক দলের প্রাপ্ত আসনের ৫০% দলের সদস্যদের মধ্য থেকে এবং অবশিষ্ট ৫০% আসন নির্দলীয় ভিত্তিতে নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, মানবসেবা প্রদানকারী, শ্রমজীবীদের প্রতিনিধি, নারী উন্নয়নকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ইত্যাদির মধ্য থেকে সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচিত করার বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমপক্ষে ৩০টি নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যদের বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নির্ধারণ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংসদের (নিম্নকক্ষ) আসন সংখ্যা ১০০ বাড়িয়ে মোট সংখ্যা ৪০০ করা। এই ৪০০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য নির্ধারিত ১০০ আসন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিধান করা, যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট আসন থেকে নারীদের সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বন্ধ হয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলনিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিধান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিধান করা; সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রে মেয়াদ চারমাস নির্ধারিত করে এবং এ মেয়াদকালে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্থায়ী জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের নাম অন্য ২০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগের বিধান করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্থায়ী ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রত্নবিদ আইন অনুযায়ী সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা। ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০২৩ যার মাধ্যমে এনআইডি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রবাসীদের ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণে সুপারিশ ছিল সংস্কার কমিশনের। প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য একটি তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তাসূচক পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তাব করছি, যার মাধ্যমে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তাসূচক পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বাস্তবায়নকল্পে দুইটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ভোটার অ্যাপ এবং ভেরিফায়ার অ্যাপ যথাযথ ফাংশনালিটিসহ ডেভেলপ করা।
অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু প্রস্তাব রেখেছে সংস্কার কমিশন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা একটা গুরু দায়িত্ব। নির্বাচন ব্যবস্থা ‘ভেঙে’ গিয়েছে, এটাকে জোড়া লাগানোর জন্য এই সংস্কার কমিশনের প্রচেষ্টা। কাজটি করতে গিয়ে তিনি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ছিলেন এবং সামনের দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। আমরা কতোগুলো প্রস্তাব করেছি- যেগুলো পরিস্থিতিটাকে আরও উত্তপ্ত করতে সহায়তা করবে। নির্বাচন ব্যবস্থায় যাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয় সে চেষ্টাই করার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

আমলানির্ভরতা কমিয়ে দুদক শক্তিশালী করতে ৪৭ দফা
রাজনীতি ও আমলানির্ভরতা কমিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে শক্তিশালী করতে ৪৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে দুদক সংস্কার কমিশন। দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা কমিশন গতকাল প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন। পরে বিকালে দুদক সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে ড. ইফতেখারুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইফতেখারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদককে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। কমিশনকে কার্যকর ও গতিশীল করতে তিন সদস্যের কমিশন দুদকের কাজের জন্য যথেষ্ট মনে করছে না সংস্কার কমিশন। তাই তিন সদস্যের পরিবর্তে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের সুপারিশ দেয়া হয়েছে। পাঁচ সদস্যের কমিশনে একজন নারী সদস্য যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দুদকের কাজের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে এমন বিচারিক ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো অভিজ্ঞদের যুক্ত করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ থেকে কমিয়ে চার বছর করার সুপারিশ করা হবে।

কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি: কমিশন গঠনে যে দুদক আইনে সার্চ কমিটির কথা বলা রয়েছে, সেটি পরিবর্তন করে ‘বাছাই ও পর্যবেক্ষক কমিটি’ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই কমিটি কমিশন বাছাই করে দেবে, সেই সঙ্গে কমিশন কী ডেলিভারি করছে তা ছয় মাস পর পর পর্যবেক্ষণ করবে। এটার জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিও প্রতিবেদনে সুপারিশ আকারে দিয়েছেন তারা।
কমিশন গঠনে বিতর্কিত ‘সার্চ’ কমিটি ও দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বাদ দিয়ে তার পরে যিনি সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ হবেন, তিনি হবেন বাছাই কমিটির প্রধান, হাইকোর্টের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্য হবেন, একজন থাকবেন প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত একজন- যিনি বাংলাদেশের শাসন সম্পর্কে জানেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে একজন, সংসদ নেতা থেকে মনোনীত একজন সদস্য ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা থেকে মনোনীত একজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে বাছাই কমিটি।

কমিশন গঠনের বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও এবার এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। সংস্কার কমিশন তিনটি পদ্ধতির কথা সুপারিশ করেছে, একটি হলো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ‘শর্ত পূরণ’ সাপেক্ষে যে কেউ চাইলে কমিশনার হতে আবেদন করতে পারবেন বা ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, ‘বাছাই ও পর্যবেক্ষক’ কমিটি চাইলে বাছাই করে প্রার্থীর তালিকা তৈরি করতে পারবে। তৃতীয় হলো- কেউ চাইলে প্রার্থী মনোনীত করতে পারবেন।

প্রত্যেক প্রার্থীকে জীবনবৃত্তান্ত, পাশাপাশি দুদক সম্পর্কে তার জানাশোনা ও চিন্তাভাবনা কী, দুদক সম্পর্কে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানা, প্রাথমিকভাবে তাদের তালিকা করা-এভাবে মিনিমাম কোয়ালিটি যারা মিট করবেন, তাদের শর্ট লিস্টে তালিকাভুক্তদের ইন্টারভিউ করার জন্য ডাকা হবে।

প্রাথমিক তালিকা থেকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে তিনজন করে ১৫ জন বাছাই করবে কমিটি। পরে এই নামগুলো এক সপ্তাহের জন্য পাবলিক করে দেয়া হবে। এক সপ্তাহ পর সেই তালিকা থেকে ১০ জনকে বাছাই করা হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের তালিকা দেবে। তবে সেই ১০ জনের নাম আর প্রকাশ করবে না। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি পাঁচজনকে নিয়োগ দেবেন।

চাকরিবিধিতে যে সংস্কার: দুদকের বিতর্কিত চাকরিবিধি ৫৪-এর ২ ধারা বাতিল, সচিব পদ থেকে নিচের দিকের পদগুলোতে নিয়োগ-পদায়নে কমিশনের আইনের বড় পরিবর্তন এনে সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। এর মধ্যে সচিব নিয়োগ, মহাপরিচালক পদে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা থেকে ৬০ শতাংশ পদায়ন ও পদোন্নতি, পরিচালক পদে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা ৭৫ শতাংশ করার সুপারিশ তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চাকরি থেকে অপসারণ করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন গঠন: দুদক আইনে স্বাধীন প্রসিকিউশনের কথা বলা থাকলেও সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার দুই দশকে প্রসিকিউশনই গঠন করা হয়নি। সংস্কার কমিশন একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে, এতে ১০ থেকে ২০ শতাংশ নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে প্রসিকিউশনের যাত্রা শুরু করবে। পরে ক্রমান্বয়ে তা বাড়িয়ে নিজস্ব প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হবে। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের যে পূর্বানুমতির বিধান করা হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি বিলুপ্তি করার বিষয়টি প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের কাজের পরিধি বাড়াতে চলমান ৩৬ জেলা কার্যালয়ের পরিবর্তে প্রতিটি জেলায় দুদকের কার্যালয় চালু করতে হবে। এখন যে জেলা কার্যালয়গুলো আছে, সেগুলোতে বিশেষ জজ আদালত স্থাপন এবং ক্রমান্বয়ে সব জেলায় জেলা কার্যালয় স্থাপন ও বিশেষ জজ আদালত গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুপারিশ করা হয়েছে দুদকে শৃঙ্খলা অনুবিভাগ রাখার। এটির দায়িত্ব হবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে বরখাস্ত করা। কেউ যাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে না পড়েন, সে জন্য নজরদারি অব্যাহত রাখার সুপারিশও করেছে কমিশন।

‘যাবাক’ সংস্কার ও অনুসন্ধান প্রথা বাতিল: দুদকের যাচাই বাছাই কমিটি (যাবাক) নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। তাই এই কমিটিও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। দুদকের জেলা বা বিভাগীয় কার্যালয়ের যাবাক কর্তৃক প্রদত্ত সুপারিশ পুনরায় প্রধান কার্যালয়ের যাবাক-এর মাধ্যমে যাচাই বাছাই না করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাবাক-এ তিন সদস্যের মধ্যে একের অধিক প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তা না রাখার কথাও বলেছে সংস্কার কমিশন। অন্যদিকে দুদকের তফসিলভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তের আগে আবশ্যিক অনুসন্ধান ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। এক্ষেত্রে লিখিতভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে অপরাধ সংঘটনের তথ্য প্রাপ্তির পর সরাসরি মামলা দায়ের করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে সুপারিশে। সে ক্ষেত্রে দুদকের কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা লাঘব হবে বলে মনে করছে সংস্কার কমিশন।

জুলাই হত্যার বিচার করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই- আসিফ নজরুল

সুবিচার নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ। জুলাই-আগস্টের হত্যার বিচার করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার চাইতে বর্তমান সরকারের বিচার যে ভিন্ন তা প্রমাণ করতে চাই। বুধবার সকালে বাংলা একাডেমিতে দ্য জুলাই রেভ্যুলেশন এভিডেন্স অব এট্রোসিটি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টের হত্যার বিচার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, মার্চ মাস থেকে শুনানি শুরু হবে ট্রাইব্যুনালে। বিচার করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। যত দ্রুত সম্ভব বিচার করবো। এ ছাড়াও সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার করার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন কোনো শাসক এত নির্মম হয়ে উঠতে না পারে। জানা যায়, ‘ব্লাডশেড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে গত বছরের ১৯শে জুলাই ৬০ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনে যতজন লোক নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল পরে তাদেরই এক প্রতিবেদনে তার চেয়ে ৩ গুণ বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সময় ধারাবাহিকতায় ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট এবং টিক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গত ৫ই আগস্ট পুলিশের গণহত্যা এবং হৃদয় আলী নামের এক ছেলেকে ধরে কয়েকজন পুলিশ কর্তৃক গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় ২টি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, অতীতে ট্রাইব্যুনালকে যেভাবে কলঙ্কিত করা হয়েছিল, এবার সেই ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য কাজ চলছে। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কারা পেছন থেকে নির্দেশ দিয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শহীদ পরিবারের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, বিচারে দেরি করা হবে না। তবে কিছুটা সময় আমরা নিবো। যাতে যুক্তিসঙ্গতভাবে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া যায়। শহীদ পরিবারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। এ ছাড়াও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কারা পেছন থেকে নির্দেশ দিয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট এর নির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক আইনজীবী ইয়াসমিন সুকা বলেন, শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই জানতেন কী ঘটছে। এবং কেন ঘটছে। কিন্তু তা বন্ধ করতে তিনি কিছুই করেননি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বেআইনি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ। আদালতে এটি প্রমাণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
mzamin

দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক

অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বৃটেনের বহুল বিতর্কিত সিটি মিনিস্টার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিরোধী দায়িত্বে থাকা টিউলিপ সিদ্দিক। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ও তার দাবি, এথিকস এডভাইজার বা নিরপেক্ষ তদন্তকারী স্যার লরি ম্যাগনাস তদন্তে দেখতে পেয়েছেন যে- তিনি মন্ত্রিত্বের কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। টিউলিপ বলেছেন, এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে- ট্রেজারিতে ইকোনমিক সেক্রেটারি (অর্থ বিষয়ক মন্ত্রী) হিসেবে আমার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা সরকারি কাজে বিভ্রান্তিকর হতে পারে। টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করার পর তার পদে নতুন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমপি এমা রেনল্ডস’কে।

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন টিউলিপ
টেলিগ্রাফ পত্রিকা বলছে- দুর্নীতি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার খালা ও বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক, লন্ডনে শেখ হাসিনার মিত্রদের উপহার হিসেবে দেয়া প্রোপার্টি ইস্যুতে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল তার ওপর। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এথিকস বিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারকে এক চিঠিতে লরি ম্যাগনাস লিখেছেন, তিনি মনে করেন যে তার উচিত টিউলিপের চলমান দায়িত্বগুলোর বিষয়ে বিবেচনা করা, যদিও তিনি মনে করেন- টিউলিপ মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। তবে একই দিন কিয়ের স্টারমারকে নিজে একটি চিঠি লিখেছেন টিউলিপ। তাতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, পার্লামেন্টের সামনের সারিতে বসে তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা হতে পারে সরকারের কাজের জন্য বিভ্রান্তিকর। চিঠিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাকে সমর্থন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিস সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, আপনি জানেন যে- আমার অনুরোধে অভিযোগের বিষয়ে গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করেছেন স্যার লরি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমি মন্ত্রিত্বের বিধি ভঙ্গ করিনি। টিউলিপ আরও বলেছেন, আমার পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সরকারি রেকর্ডের ব্যাপার। যখন আমি মন্ত্রী হই, সে সময় আমার সম্পর্ক এবং সরকারের প্রাইভেট ইন্টারেস্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিয়েছি। টিউলিপ দাবি করেছেন, তিনি পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সরকারে থাকার সময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, আমার আনুগত্য এই লেবার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আছে এবং সবসময় থাকবে। সরকার যে জাতীয় রূপান্তরকরণ ও পরিবর্তন শুরু করেছে সেই কর্মসূচির প্রতিও আনুগত্য থাকবে। তাই আমি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

টিউলিপের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও বোন শেখ রেহানার মেয়ে। শেখ হাসিনার পতনের পর টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কেলেঙ্কারির খবর বোমার মতো ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও ডেভেলপার আবদুল মোতালিফের কাছ থেকে উপহার হিসেবে বৃটেনের কিংস ক্রসে একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তির নামে আরও একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন আইনজীবী মঈন গণি। প্রকারান্তরে সেই ফ্ল্যাটও টিউলিপকে উপহার দেয়া হয়েছে। কারণ, রূপন্তি ওই ফ্ল্যাট টিউলিপকে পরিবার সহ ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এসব বিষয় গোপন করেছেন টিউলিপ। শুধু তা-ই নয়, তিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি হওয়ার পরও তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা কখনো করেননি বলে দাবি করেন। কিন্তু তার ব্লগ ফাঁস করে দিয়েছে মিডিয়া। তাতে দেখা যায়, তিনি শেখ হাসিনার জয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তার প্রচারণায় ছিলেন তিনি। এর বাইরে রাশিয়ার সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা, টিউলিপ, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রমুখ ৫০০ কোটি ডলার মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বাংলাদেশে দুদক তদন্ত করছে। তদন্ত চলছে বৃটেনে। কিন্তু অভিযোগ উঠার পর দীর্ঘ সময় তা অস্বীকার করে মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকেন টিউলিপ। তার পদত্যাগ দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা, বিরোধী কনজারভেটিভ দলের কিছু এমপি। কিন্তু টিউলিপ তার খালা শেখ হাসিনার মতো ক্ষমতা ধরে রাখেন। এ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার হলেন টিউলিপের ক্ষমতার খুঁটি। টিউলিপ সিদ্দিক অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তকারী লরা ম্যাগনাসের কাছে এই আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। টিউলিপের বিরুদ্ধে যখন তীব্র চাপ, প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতিতে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ জোরালো হতে থাকে, বৃটেনের রাজনীতি উত্তাল হতে শুরু করে, তখন বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কিলি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তকারী যদি দেখেন মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন টিউলিপ, তাহলে তিনি সরকারি পদে থাকতে পারবেন না। কয়েকদিন ধরে এই বিতর্ক বৃটেনের প্রথম সারির সব মিডিয়ার প্রথম পৃষ্ঠায়। তারা গুরুত্ব দিয়ে টিউলিপের দুর্নীতি ও সে সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করতে থাকে। কোনো কোনো মিডিয়া প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধান সংবাদ শিরোনাম করে। এসব রিপোর্টে টিউলিপের খালা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে। এমন বিতর্ক এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি যখন টিউলিপের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তখন বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের খবর দেয় বিবিসি। ওদিকে বর্তমান পার্লামেন্টের পুরো মেয়াদে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে প্রথমবার এমপিদের মুখোমুখি হতে হয়েছে চ্যান্সেলর র‌্যাচেল রিভসকে।

বিবিসি বলছে, বাংলাদেশে দুদকের দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তে ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক।  তিনি বৃটেনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর পাশের আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। স্কাই নিউজের রাজনীতি বিষয়ক ডেপুটি সম্পাদক স্যাম কোটস বলেন, সরকারের এথিকস এডভাইজার তার রিপোর্টে টিউলিপ কোনো অন্যায় করেননি বলে ছাড়পত্র দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো যখন বিদেশি কোনো সরকার কারো বিরুদ্ধে তদন্ত করে তখন তার ক্ষমতায় থাকা ভাল দেখায় না।

টিউলিপের জন্য দরজা উন্মুক্ত: স্টারমার
টিউলিপের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি বলেছেন, ট্রেজারির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ ছিল বেদনার। তিনি আরও বলেন, টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য তার দরজা উন্মুক্ত। কিয়ের স্টারমার বলেন, আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। এটা বেদনার যে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে হচ্ছে। দায়িত্বে থাকার সময় আপনি যে প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমি এটা পরিষ্কার করতে চাই যে, স্যার লরি ম্যাগনাস নিরপেক্ষ উপদেষ্টা হিসেবে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো তথ্য পাননি, আপনার দিক থেকে আর্থিক কোনো অসঙ্গতির তথ্যপ্রমাণ পাননি।  তার কাছে আপনার নিজে থেকে আত্মপক্ষ সমর্থনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করার জন্য। আপনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজের অজান্তেই জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন টিউলিপ: লরি ম্যাগনাস
মঙ্গলবার স্যার লরি ম্যাগনাস বলেছেন, এটা দুঃখজনক যে মিস সিদ্দিক বাংলাদেশি সাবেক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না। তিনি আরও বলেছেন, যে দুটি প্রোপার্টি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার ডকুমেন্ট পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে কমপক্ষে ২০ বছর আগে। টিউলিপ সিদ্দিক ও তার বোনকে ২০০৪ সালে এবং ২০০৯ সালে ওই দুটি ফ্ল্যাট উপহার দেয়া হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী টিউলিপ উল্লেখযোগ্য ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য সরবরাহ করেছেন। তাতে দেখিয়েছেন যে, তার তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তবে এটা ‘কনক্লুসিভ’ ছিল না। এসব লেনদেনের অভিযোগের গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এটা দুঃখজনক যে, কনক্লুসিভ তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে না।  স্যার লরি আরও বলেন, মিস সিদ্দিক অজান্তেই কিংস ক্রসে তাকে একটি ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে দিয়েছে, সেই দাতার পরিচয় সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন ২০২২ সালের জিজ্ঞাসাবাদে।

‘কনজারভেটিভদের মতোই খারাপ লেবার সরকার’
টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কিয়ের স্টারমার দু’জন মন্ত্রী হারালেন। এক দশক আগে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ স্বীকার করে নেয়ার পর গত মাসে পদত্যাগ করেন পরিবহনমন্ত্রী লুইস হাই। তারপর দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ। ক্ষমতায় আসার প্রথম ৬ মাসের মধ্যেই অনেক স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি জেঁকে ধরেছে লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। এর ফলে স্যার কিয়ের স্টারমার ঐতিহাসিকভাবে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অজনপ্রিয়তার নিম্নতম স্থানে পৌঁছে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীত্বের ১০০ দিনের আগেই তিনি বরখাস্ত করেছেন নিজের চিফ অব স্টাফ সু গ্রে’কে। লেবার দলের দাতা লর্ড আলির কাছ থেকে অবাধে অর্থ এবং পোশাক নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এর পরিমাণ হাজার হাজার পাউন্ড। এমন অবস্থায় রিফর্ম ইউকে এবং লিবারেল ডেমোক্রেটরা লেবার পার্টিকে বিগত কনজারভেটিভ সরকারের মতোই খারাপ হিসেবে অভিহিত করেছে। রিফর্মের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই পদত্যাগ করতে হয়েছে কিয়ের স্টারমারের দুর্নীতি বিরোধী মন্ত্রীকে। লিবারেল ডেমোক্রেট দলের কেবিনেট অফিসের মুখপাত্র সরাহ ওলনি বলেন, কনজারভেটিভ দলের বছরের পর বছর ধরে কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পর জনগণ এই সরকারের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করেছিল। কনজারভেটিভ দলের কেমি ব্যাডেনচ বলেন, সপ্তাহান্তে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে- দুর্নীতি বিরোধী মন্ত্রীর পদ পুরোপুরি অক্ষম হয়ে পড়েছে। তবু স্যার কিয়ের স্টারমার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সুরক্ষিত রাখতে বিচলিত হন এবং বিলম্ব করেন। এখন পর্যন্ত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এতে টিউলিপের পদত্যাগে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আসলে দুর্বল নেতৃত্ব থেকে তৈরি হন একজন দুর্বল প্রধানমন্ত্রী।

mzamin