Monday, September 14, 2020
পেশোয়ার: ঐতিহ্যের পথে চলা by ওমর খান
![]() |
| পেশোয়ার: ঐতিহ্যের পথে চলা |
আমার সবসময়ই ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। আর এক সকালে নিজেকে নগরীর মাঝামাঝি স্থানে থাকা গোরখাত্রিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।
আমি এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলাম জেনারেল পাওলো ক্রেসনজো মার্টিনো অ্যাভিটাভিলের একটি প্রতিবেদনে। তিনি ওয়াটারলু যুদ্ধের পর মহারাজা রনজিৎ সিংয়ের সেনাবাহিনীতে কাজ করতে ভারতবর্ষে এসেছিলেন।
অ্যাভিটাভিলকে প্রথমে ওয়াজিরাবাদের গভর্নর করা হয়েছিল, তারপর তিনি ১৮৩৮ থেকে ১৮৩২ পর্যন্ত ছিলেন পেশোয়ারের গভর্নর। তিনি গোরখাত্রিকে বাসভবন বানিয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাকে বলা হতো আবু তাবেলা।
আবু তাবেলা নির্মমভাবে শাসনকাজ চালাতেন। অপরাধীদের মাহাতাব খান মসজিদের মিনারে ফাঁসি দিয়েছিলেন। মায়েরা তাদের সন্তানদের ভয় দেখাতেন এই বলে যে তারা যদি তার কথা না শোনে, তবে আবু তাবেলা আসবেন।
![]() |
| গোরখাত্রিতে প্রত্মতাত্ত্বি খননকাজ চলছে |
একসময় অনেকে এখানে বিয়ের আয়োজনও করতো। তবে একপর্যায়ে শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে।
![]() |
| গোরখাত্রিতে এক হিন্দু মন্দির |
কমপ্লেক্সটির মাঝামাঝি একটি বিশাল বটবৃক্ষের নিচে একটি পুরনো মন্দিরও আছে। পেশোয়ারের হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখনো এটি দেখাশোনার কাজটি করে যাচ্ছে।
এখানকার পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে হাঁটলে পেশোয়ারের সবচেয়ে পুরনো স্থানটিতে চলে যাওয়া যাবে। সরকার এখানকার পুরোনো ঐতিহ্যের অনেক কিছুই সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করেছে।
![]() |
| শেঠি হাভেলি |
আমি সংকীর্ণ, তবে পরিচ্ছন্ন গলি দিয়ে প্রবেশ করলাম। করিম বকশ শেঠির অনন্য ভবনটি ছাড়া আর আছে কয়েকটি ছোট ভোট বাড়ি। করিম বকশ তার বাড়িটি বানিয়েছিলেন ১৮৮৪ সালে। বাড়িতে প্রবেশ করামাত্র আঙিনায় থাকা ঝরনাটি দেখা যাবে। তবে সবচেয়ে মুগ্ধ করবে বেডরুমগুলোতে থাকা বর্ণিল জানালাগুলো।
শেঠিরা শিখ শাসনকালে ভেরা থেকে পেশোয়ারে আগত ব্যবসায়ী। তারা অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্য এশিয়া থেকে উপমহাদেশের বাণিজ্য রুটগুলোর প্রভুতে পরিণত হয়। তাদের বিত্তবৈভব তাদের হাভেলিগুলোতে ফুটে ওঠত।
এরপর আমরা ১৯০০ সালে নির্মিত কানিংহ্যাম ক্লক টাওয়ার অতিক্রম করলাম। উপনিবেশ আমলের গভর্নর স্যার জর্জ কানিংহ্যামের নামে এই টাওয়ার। রানি ভিক্টোরিয়ার ডায়ামন্ড জুবিলি উপলক্ষে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
![]() |
| কানিংহ্যাম ক্লক টাওয়ার |
আমার উৎসাহী গাইড আমাকে সরু সরু গলি পাড়ি দিয়ে কিংবদন্তির ভারতীয় অভিনেতা দিলীপ কুমারের স্কুলে এবং তারপর খুদাদাদ মহল্লায় তার সাবেক বাড়িতে নিয়ে গেল।
মসজিদ মাহবাত খানের ঠিক বিপরীতে আছে বাজার কালান। আর কিসসা কাহিনী বাজারে প্রবেশ করতে হলে চক ইয়াদগর ছাড়িয়ে যেতে হয়।
![]() |
| কালান বাজারের রুটি |
স্কুলটি এখনো চলছে। তবে সাবেক বাড়িটি ধসে পড়েছে। এখন এটিকে একটি জাদুঘরে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
দিলীপ কুমারের পৈত্রিক ভবনের প্রতি যদি এত টান থাকে, তবে শাহরুখ খানের বাড়ি কি ভোলা যায়?
ফলে আমাদের গাইড আরো কয়েকটি সরু গলি পার করে আরেক স্থানে নিয়ে গেল।
![]() |
| দিলীপ কুমারের পৈত্রিক ভবন |
কিসসা কাহিনী বাজারে গেলে কিচ্ছা তো শুনতেই হবে। তবে আমরা যখন গেলাম, তখন একজন কিচ্ছা কথককেও পাইনি। তবে ঐতিহ্য বজায় রেখে খেহওয়া খানা এখনো আছে। সেই আগের মতোই এর স্বাদ আছে।
শাহরুখ খানের পৈত্রিক বাড়ি কিসসা কাহিনী বাজারের কাছেই। তার বাবা তাজ মোহাম্মদ খান এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন পেশায় আইনজীবী ও কংগ্রেস কর্মী। তিনি ১৯৪৭ সালে ভারতে অভিবাসন করেন। শাহরুখ খান দুবার পেশোয়ার এসেছিলেন। ১৯৭৮ সালে একবার, ১৯৮০ সালে আরেকবার। তিনি ওই বাড়িতেই থেকেছিলেন।
তার চাচাত ভাইরা এখনো পেশোয়ারে থাকেন।
![]() |
| শাহরুখ খানদের পৈত্রিক নিবাস |
তাদের নিয়ে যে কাহিনীটি প্রচলিত তা হলো, পৃথ্বিরাজ কাপুরের জন্ম হয়েছিল ফয়সালাবাদের কাছে লায়ালপুরের সরকারি কর্মকর্তা দেওয়ান বাশ্বেনাথ কাপুরের ছেলে হিসেবে। পরে তারা পেশোয়ারে চলে আসেন। সেখানেই রাজ কাপুরের জন্ম।
দিলীপ কুমার আর শাহরুখ খানদের পৈত্রিক নিবাসের তুলনায় কাপুর হাভেলি অনেক বেশি জাকজমকপূর্ণ।
নানা সরু গলি পাড়ি দিয়ে ১৬ শতকের মাহতাব খান মসজিদে আসতে হয়। সম্রাট শাহজাহানের আমলে পেশোয়ারের গভর্নর এটি নির্মাণ করেছিলেন।
পেশোয়ারে এসে কি বালা হিসার ফোর্ট না দেখে যাওয়া যায়? আগে অনুমতি না থাকায় আমি সেখানে প্রবেশ করতে পারিনি। তবে আবার আসবই। তখন গভর্নর হাউস, পেশোয়ার জাদুঘর, উপনিবেশিক খ্রিস্টান সিমেটারি, ডেপুটি কমিশনারের হাউস, ইসলামিয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় দেখে নেব।
>>>সব ছবি লেখকের নিজের তোলা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হার্টের ব্লক কমাতে মধু!

এমন কি অফিসে শেষ দুপুরের ঘুম-ঘুমভাব কাটাতেও কাজে আসে মধু মেশানো গ্রিন টি। প্রচুর চিনি দিয়ে বানানো চা–কফি বা ঠাণ্ডা পানীয়র থেকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর মধু। তাই এখন থেকে চিনি একেবারেই না খেয়ে মধু রাখুন হাতের কাছে। খাঁটি মধুতে প্রচুর পরিমান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে যার উপকারের শেষ নেই।
রান্না করতে গিয়ে হাত অল্প পুড়ে গেলে কিংবা কেটে গেলে এক ফোঁটা মধু লাগিয়ে দেখুন। কারণ এতে আছে জীবাণু ও ছত্রাকনাশক গুণ। ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা হলেও খেতে পারেন মধু।
আবার প্রচুর অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে শরীরের উপকারি ব্যাকটেরিয়া যদি প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়, তা তৈরিতেও মধু অসাধারণ কাজ করে। গবেষকরা বলেন, প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক হিসাবে এর তুলনা নেই। অর্থাৎ এর প্রভাবে শরীরের উপকারি ব্যাকটেরিয়ারা আবার নতুন করে জেগে ওঠে।
নিয়মিত মধু খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের ক্ষতি করার ক্ষমতা ও রক্তচাপ কমে যায়৷ স্ট্রোক, ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও কমতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
তবে অনেকেই মনে করেন এত মধু খেলে ওজন বাড়বে আর তাতেই হতে পারে হৃদরোগ। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, চিনির বদলে মধু খেলে পুষ্টিহীন ক্যালোরির বদলে পুষ্টিকর ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে। তাই এই অল্প মধুর কারণে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা নেই বরং কিছুটা ওজন কমবে। বিভিন্ন গবেষণায় সে রকমই প্রমাণিত হয়েছে।
মধু নিয়ে গবেষণা
হার্টের উপর মধুর প্রভাব বুঝতে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলকে টেষ্টটিউবে নিয়ে তাতে মধু দিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এই খারাপ কোলেস্টেরলের হার্টের ক্ষতি করার পদ্ধতিকে ধীর করে দেয় মধু। আর এই পদ্ধতি ধীর হওয়া মানে রক্তবাহী ধমনিতে কম চর্বি জমা যাকে অন্য ভাবে বলা হয় ধমনি ব্লক হওয়া।
যার ফলে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক সব কিছুরই আশঙ্কা কিছুটা কমে। তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে মধু খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







