Tuesday, June 5, 2018
৪ কেজি ওজনের সুস্বাদু ‘ইয়াসমিন’ by এস আলম তুহিন

আতিয়ার বলেন, ১৯৯২ সালে নিজস্ব উদ্যোগে ১০ শতক জমিতে শুরু করি নার্সারি। প্রথমে পুঁজি ছিল না। ঘরের একটি ছাগল ৩০০ টাকায় বিক্রি করে শুরু করি এ নার্সারি। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে ভালো অবস্থানে দাড় করিয়েছি নার্সারি। বর্তমানে এ নার্সারি ১০ শতক পেরিয়ে ২০০ একর জমিতে রুপান্তরিত করেছি। এখান থেকে নিজে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছি নতুন আমের জাত। যা নিজের মেয়ের নাম ‘ইয়াসমিন’ নামে পরিচিত করিয়েছি। উদ্ভাবিত এ চারাটি ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতি বছর এ চারা থেকে আমি ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্জন করছি।
তিনি আরো গর্ব করে বলেন, আমি এখন কমলা নিয়ে গবেষণা করছি। নিজ নার্সারিতে অনেক কমলা আমি লাগিয়েছি।
মাগুরা হর্টি কালচার বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, তার উদ্ভাবিত এ চারাটি খুবই ভালো। আমরা তাকে পরামর্শ দিচ্ছি। তার গবেষণার কাজে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে সে আরো ভালো কিছু করতে পারবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডাস্টবিনে নবজাতক সংখ্যা বাড়ছে

লিপি কিছু কিনতে একটি ছাতা নিয়ে পার্শ্ববর্তী মুদির দোকানে যান। ঠিক তখনই পরিচিত এক প্রতিবেশী নারী তার কাছে আসেন। বলেন- ময়লা আবর্জনার স্তূপে পড়ে আছে একটি নবজাতক। কোনো কিছু না ভেবেই দৌড় দেন সেখানে। দেখেন একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাজারের ব্যাগে ময়লা কাপড় দিয়ে পেঁচানো নবজাতক। যার নাড়ি পর্যন্তই কাটা হয়নি। বৃষ্টির মধ্যে ব্যাগের ভেতরে হাত-পা নাড়াচ্ছে। ময়লা আবর্জনায় থাকা পিঁপড়াগুলো কামড়াচ্ছিলো। পুরো শরীরে লাল দাগের চিহ্ন। তাই কান্না করছিলো শিশুটি। খবর পেয়ে সেখানে অনেকেই আসেন। কিন্তু কেউই শিশুটির কাছে যাচ্ছিলেন না। রক্তমাখা শিশুটিকে লিপি আক্তারই নিয়ে যান বাসায়। তিনি শিশুটিকে গোসল করান। এরপর স্থানীয় এক দাইকে এনে তার নাড়ি কাটান। একজন ইমাম ডেকে এনে শিশুটিকে আজান শোনান। খবর পেয়ে শাহ আলী থানার পুলিশ এলে সবাই মিলে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেখানেই শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠে। তার নাম রাখা হয় আনিশা। ঘটনাটি ২০১৭ সালের ১১ই মার্চ শাহ আলী থানার নবাবের বাগ পাকার মাথা এলাকার।
হালে বদলাচ্ছে সমাজের রূপ। আগের দিনে যেসব ঘটনা মানুষের মনকে নাড়া দিতো। এখন আর এসব ঘটনা নিয়ে ভাবে না কেউ। ডাস্টবিন থেকে নবজাতক উদ্ধার এখন অনেক স্বাভাবিক একটি ঘটনা। একের পর এক নবজাতক উদ্ধার। কখনও জীবিত কখনও মৃত। পরিত্যক্ত স্থান থেকে শুরু করে ডাস্টবিন, ড্রেন, ডোবা-নালা সর্বত্রই পাওয়া যাচ্ছে নবজাতককে। ডাস্টবিনে রাখা নবজাতককে কুকুরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছে এমন ঘটনাও ঘটে গেছে। ৩রা মে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় রাস্তার পাশে পড়েছিল একটি নবজাতক। একটি কুকুর তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এ দৃশ্যও দেখেছিল সাটুরিয়ার বাসিন্দারা। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। একইদিন বরগুনার সদর হাসপাতালের পাশের ডাস্টবিনে পাওয়া যায় আরেকটি নবজাতক। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন এ হলো সমাজের বিকৃত রূপ। সামাজিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে। এসব রোধে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নাই। পাশাপাশি সুশিক্ষার প্রয়োজন আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে সারা দেশে নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে ১২ জন, ২০১৫ সালে ২৪ জন, ২০১৬ সালে ৯ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন ও চলতি বছরের মে মাসের ১৫ দিনেই ২৮ জন নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে ৭ জন অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহ, ২০১৫ সালে ৫২ জন, ২০১৬ সালে ২৮ জন, ২০১৭ সালে ২৪ জন ও ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ২৭ জন নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম মানবজমিনকে বলেন, ডাস্টবিনে নবজাতক কুড়িয়ে পাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। হাসপাতালের ডাস্টবিনে প্রায়ই নবজাতককে ফেলে রাখার ঘটনা শোনা যায়। যে সম্পর্কের সামাজিক কোনো স্বীকৃতি নেই এবং সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার সম্পর্ক থেকেই মূলত এই ঘটনা ঘটে। অনুকূল পরিবেশ, সামাজিক স্বীকৃতির অভাবেই এগুলো হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত অনাগত শিশুদের জন্য আলাদা কোনো সংগঠন বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান নেই। এটা সামাজিক অনগ্রসরতার একটি অংশ। এক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। একজন মেয়ে যখন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়ে তখন তার নাম-পরিচয় গোপন রেখে বাচ্চার নিরাপদ পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
ভবিষ্যতের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশে এতিমখানাগুলোয় বাচ্চারা যখন বড় হয় তখন তাদের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু এই স্বীকৃতিহীন বাচ্চাদের দায়িত্ব নেয় না এতিমখানাগুলো। এই ধরনের বাচ্চাদের বরং এতিমখানার মালিকরা পর্যন্ত গালিগালাজ করে এবং খারাপ চোখে দেখে। অথচ বিদেশে এসব বাচ্চা হওয়ার আগেই চার্চে গিয়ে জানানো হয়। বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই ওই বাচ্চাকে চার্চে রেখে আসা হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেটের ভয়াবহতা, মাদকের আগ্রাসন, পর্নোগ্রাফির কারণে অবাধ মেলামেশা ও পারিবারিক সুসম্পর্ক না থাকা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার পর্যালোচনা করে কারণ চিহ্নিত করতে না পারার কারণে পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এছাড়া দেশের সমাজ ব্যবস্থায় এ ধরনের নবজাতককে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র সন্তানহীন দম্পতিরা সন্তানের অভাব মেটাতে নবজাতকের দায়িত্ব নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঘটনা। সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক বাবুল মিয়া। ২রা মে রাত ২টার দিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে তার অ্যাম্বুলেন্সের কাছে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। ডাস্টবিন থেকে কান্নার শব্দ আসছিল। প্রথমে তিনি অনেকটা ভয় পেয়ে যান। এতো রাতে এখানে কেন নবজাতক কান্না করবে। কিছুটা সাহস নিয়েই তিনি ডাস্টবিনের কাছে যান। দেখেন ওই ডাস্টবিনের মধ্যেই পড়ে আছে একটি নবজাতক। বাক্সে মোড়ানো রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলে নবজাতক দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ইকবালের তত্ত্বাবধানে নবজাতকটিকে সুস্থ করে তোলা হয়। ৮ই মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও শিশু বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুর রহমানের উপস্থিতিতে এক দম্পতির কোলে ওই নবজাতকটিকে তুলে দেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার। জহিরুল ইসলাম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা।
শুধু ডাস্টবিন ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে নবজাতক উদ্ধার হচ্ছে না। মৃত নবজাতকও অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। ২৯শে এপ্রিল দুপুরে ময়মনসিংহের বাঘমারা এলাকার একটি ড্রেন এবং ভাটিকাশর ডাস্টবিন থেকে দুটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা নবজাতকের মরদেহ দেখে পুলিশকে জানায়। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ এসে নবজাতক দুটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশের ধারণা ওই এলাকার ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাতের পর নবজাতকের মরদেহ দুটি কেউ ফেলে রেখে চলে গেছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, ডাস্টবিনে নবজাতক উদ্ধার আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। মানুষের অবৈধ সম্পর্ক ও মেলামেশার কারণে যে সন্তানের জন্ম হচ্ছে তার দায়িত্ব নিতে না পেরে এভাবে ফেলে দেয়। এর কারণ হলো সমাজের মানুষের যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না। তাই এধরনের অনৈতিক বিষয়গুলো আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে। গোপনে অনেকেই সম্পর্ক করে অবাধে মেলামেশা করে। তখন যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার হয় তারা সেটা করে না। গোপন সম্পর্ক উপভোগ করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তারা আবার সেটি সামাল দিতে পারে না। মানসিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত না হলে এমনটা হয়। এর বাইরে বৈধভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান লাভ করে তার ভরণপোষণ দিতে না পারা ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক সময় সন্তানকে ফেলে রেখে চলে যায়। এই অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, সমাজের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্বশীলতার অভাব ও পুঁজিবাদের দুর্দান্ত প্রভাব আমরা এখন ভোগ করছি। এর প্রভাব কিন্তু সমাজের উপর পড়ছে। কারণ পুঁজিবাদ সবসময় ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থটাকে বড় করে তুলে। অন্যের উপকারে, মানবিক দায়িত্বে প্রভাব ফেলে না। মানুষ যখন বেশি মাত্রায় স্বার্থপর ও নিজমুখী হয়ে যায় তখন অন্যরা যে সমস্যাগ্রস্ত সেদিকে তাদের নজর থাকে না। এতে করে প্রমাণ হয় আমাদের ভিত্তি ও মূল্যবোধ কতটুকু দুর্বল। এরকম অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য তৌহিদুল হক মনে করেন আমাদের মধ্যে পারস্পরিক-সামাজিক দায়িত্বশীলতা এবং রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি সংবেদনশীলতা দরকার। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস থাকা জরুরি। এসবের যদি পরিবর্তন আনা না যায় তবে বিশ্বায়ন ও আধুনিকায়ন যাই করা হউক না কেন মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতালের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্লিনিক ও হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আমরা একটি ডাটাবেজ অটোমোশন চালু করছি যেখানে নিবন্ধিত সব ক্লিনিক ও হাসপাতালের তথ্য পাওয়া যাবে। যারা নিবন্ধিত না তাদের কোনো তথ্য এখানে থাকবে না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা বৈধ-অবৈধ এসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য কয়েকটি টিম তৈরি করেছিলাম। একজন উপ-পরিচালককে প্রধান করে ১ জন সহকারী পরিচালক ও ১ জন মেডিকেল অফিসার নিয়ে এই টিম মাসে ৬০টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কিছু অনৈতিকতার অভিযোগ পায় তবে তাদের প্রাথমিকভাবে নোটিশ দেয়া হয়। এরপরেও যদি না হয় তবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দরিদ্রদের ভাতার ৩৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো ব্যাংক কর্মকর্তারা by মাহামুদুন নবী

মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের নাগড়া বাজারের একমাত্র ব্যাংকটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। যেখানে বাবুখালি এবং পার্শ্ববর্তী দিঘা ইউনিয়নের অন্তত ২ হাজার ৩ শত অসহায় বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের একাউন্ট রয়েছে। যাদের হিসাবের বিপরীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হারে মাসোহারা বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। যেটি প্রতি তিন মাস পর বয়স্ক ও বিধবা মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ২১০০ হারে উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু নানা চাতুরির মাধ্যমে এই দুটি ইউনিয়নের নিবন্ধিত অসহায় বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুকূলে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসের ভাতা ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একেবারেই গায়েব করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব ভাতা থেকে বঞ্চিত ভাতাভোগীদের অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিল-জুন মেয়াদের ভাতার অর্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪ঠা জুলাই/১৭ তারিখে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেটি ভাতাভোগীদের মধ্যে বণ্টনে প্রায় ৩ মাস সময় লাগিয়ে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিকে পরবর্তী জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা ছয়মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও না পাওয়ায় ভাতাভোগি অসহায় মানুষেরা প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকে গিয়ে ধরনা দেন। কিন্তু জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা তাদের না দিয়ে সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ওই টাকার আশা না করে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। অথচ ১৯ নভেম্বর/১৭ তারিখে জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা ব্যাংকের অনুকূলে সমাজসেবা অধিদপ্তর বরাদ্দ দিলেও টাকা আসেনি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে গেছে এমন কথা বলে পুরো টাকাটাই ব্যাংক কর্মকর্তারা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে এ বছরের ৬ই মার্চ অক্টোবর-ডিসেম্বর/১৭ মেয়াদের অর্থ বরাদ্দ পেয়ে টাকা বণ্টনের সময় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভাতা পরিশোধ বইয়ের প্রথম কলামে একই দিনে অপরিশোধিত জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের তিন মাসের হিসাবটিও জুড়ে দেয়া হয়। সেখানে দুটি মেয়াদ উল্লেখ করা হলেও প্রত্যেকের হাতে মাত্র অক্টোবর-ডিসেম্বর মেয়াদের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা ।
বাবুখালি ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী প্রফুল কুমার কির্তনীয়া, একই এলাকার বিধবা ভাতাভোগি কুটিবিবি, কুলি পাড়ার রসমালা বিশ্বাস, চর মাধবপুর গ্রামের মাঝুবিবি, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগি রজব আলিসহ আরো অনেকের অভিযোগ, নাগড়া কৃষি ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার প্রণব সাহা, ক্যাশিয়ার আইয়ুব খান, সুবোধ বিশ্বাসসহ এই ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারি যোগসাজশে তাদের নামে বরাদ্দকৃত জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এই কাজটির বৈধতা দিয়েছেন ব্যাংক ম্যানেজার রতন কুমার সরকার নিজেই।
বয়স্ক ভাতাভোগী প্রফুল্ল কির্তনীয়া বলেন, টাকা নেওয়ার সময় ভাতা বইতে আমাদের টিপসই নেয়া হয়। কিন্তু এ বছরের ১৯শে এপ্রিল তারিখে ভাতা দেওয়ার সময় সেকেন্ড অফিসারের কথা মতো ব্যাংকের কর্মচারী সুবোধ এবং আরো একজন আমাদের কাছ থেকে ভাতার বই নিয়ে নিজেরাই সেখানে দুটি ঘরে টিপসই দিয়েছে। আমার বইতে আরেক জন টিপসই দেবে কেন?
ভাতাভোগী রসমালা বিশ্বাস বলেন, ভাতার কথা জানতি চাইছি বলে ব্যাংকের প্রণব বাবু আমার মাথায় চড় মারতে চলে আসেন। একটি কিস্তির ২১০০ টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবন্ধী রজব আলি। তিনি বলেন, আমরা কষ্টে থাহি। আর আমাগের টাহা কি হরে রোহিঙ্গাদের দিয়ে দেয় বুঝে পাই না। অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নাগড়া, মহম্মদপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার রতন কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যেককেই টাকা দেওয়া হয়েছে। কেউ না পেলে লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. আতিকুর রহমান অসহায় ব্যক্তিদের টাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নামে আত্মসাতের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে পুরো বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রকল্প by সুবীর ভৌমিক

তারা তাদের রিপোর্টে বলেছে, ‘‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের অবনতিশীল অবস্থার কারণে পঞ্চম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি পনুরায় স্বৈরতান্ত্রিক অভিধায় ভুষিত হয়েছে। এই পরিবর্তন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ দুর্নীতি, সামাজিক বিভক্তি এবং সুষ্ঠ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে বাধা, স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোতে অব্যাহত থাকতে দেখা যাচ্ছে।’’ বিটিআই ২০০৬ সাল থেকে ১২৯টি উন্নয়নশীল ও র’পান্তরকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা দেশের গণতন্ত্রের মান, বাজার অর্থনীতি যাচাই করছে। অবশ্য প্রত্যাশিতভাবেই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ওই সমীক্ষার ফলাফলকে ভিত্তিহীন হিসেবে প্রত্যাখান করেছে। এমনকি তারা দাবি করছে দেশটিতে ‘শতকার ১০০ ভাগ গণতন্ত্র’ চলছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, এই সমীক্ষায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
বিটিআইতে কর্মরত একজন প্রজেক্ট ম্যানেজারের দাবি অনুযায়ী, তাদের প্রতিবেদনটি ভারসাম্যপূর্ণ। কারণ তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা, বেসরকারি খাতের বিকাশের প্রশংসার পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের মতো রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে তারা তা তুলে ধরেছে।
একটি দীর্ঘ যাত্রা
১৯৯০ সালে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পরে গণতন্ত্রে পনুরূজ্জীবনের পর থেকে বাংলাদেশ প্রতি ৫ বছর অন্তর সরকারের পরিবর্তন দেখেছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
এর প্রয়োজন পড়েছিল কারণ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদ রক্ষা করেনি। অনতিবিলম্বে তারা নির্বাচন দেয়নি। এর পরিবর্তে বরং তারা কোনো ম্যাণ্ডেট ছাড়াই দুবছর দেশ পরিচালনা করেছে। সেটা ছিল একটা গণতন্ত্র হত্যা। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার একইসঙ্গে দেশের দুই শীর্ষ রাজণীতিবিদ শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে তাদের মাইনাস টু এজেণ্ডার আওতায় রাজনৈতিক ক্যরিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল; যেন বাংলাদেশের সংঘাতের জন্য এই দুই মহিলার ব্যক্তিগত ইগোই দায়ী। পশ্চিমা মিডিয়া এবং সুশীল সমাজ শুধু যে, দুই প্রতিদ্বন্বী মতাদর্শের ব্যবধানকে (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্ত্র দ্বারা পরিচালিত একটি সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক র’পকল্প বনাম পাকিস্তানি ধর্মতাড়িত রাজনীতির দর্শন) খাটো করে দেিখেয়েছে তাই নয়, তারা একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী পরিচালিত এই প্রচারণাও উস্কে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সামনে আরো উজ্জল ভবিষ্যত যদি দেশটিকে একদল টেকনোক্র্যাট, মাইক্রো এবং ম্যাক্রো ব্যাংকার , জেনারেল এবং গোয়েন্দা প্রধানদের দিয়ে চালানো হয়।
আওয়ামী শাসন
আওয়ামীলীগের গত আট বছরের শাসন প্রমাণ করেছে যে, এই স্বঘোষিত পণ্ডিতগণ ভ্রান্ত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। জেণ্ডার ক্ষমতায়ন এবং সরকারি স্বাস্থ্য সেবা খাতের মতো সামাজিক ও মানব উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন লাভ করেছে। কিন্তু নোবেল পুরষ্কার জয়ী মোহাম্মদ ইউনূসের উচ্চাভিলাষকে অবাধে পূরণ করতে না দেওয়ার কারণে পশ্চিমা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনাকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া তত্বাবধায়ক প্রশাসন বিলোপ করার প্রতিবাদে নির্বচিন বয়কট করেছেন। তবে ২০০১ সালের গোড়ার দিকে বিএনপি যে সহিংসতার রাজত্ব কায়েম করেছিল তা বিস্মৃত হওয়ার নয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রমের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগের বির’দ্ধে পরিচালিত ওই ক্যাম্পেনকে পাশ্চত্য ‘গণতন্ত্র হত্যা’ হিসেবে গণ্য করেনি। কিন্তু যেইমাত্র সহিংসতায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দকে কারাবাস দেওয়া হলো, তখনই পাশ্চত্য দেখলো বাংলাদেশে গণত্যা হত্যা ঘটেছে। একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কাউন্টারটেরোরিজম এক্সপার্ট বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ২০১৪ সালের পরবর্তী ইসলামি রেডিক্যালিজম ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই তাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। ওই ক্যাম্পেনের টার্গেট ছিল ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, এবং লোকশিল্পী, যারা সেক্যুল্যার বাংলাদেশের আত্মা, তাদের হুমকিগ্রস্ত করা।
ঢাকায় একটি বন্ধুভাবাপান্ন সরকার রাখাটা ভারতের স্ট্রেটেজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে বিরাট বাজি রয়েছে। এশিয়ায় আমাদের গণতান্ত্রিক রাস্ট্রগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তাই বলে পাশ্চত্যকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা বা ধ্বংস করার সুযোগ করে দেওয়ার অনুকূলে কোনো যুক্তি নেই।
২ জুন প্রকাশিত দি হিন্দুতে প্রকাশিত নিবন্ধের তরজমা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক সড়কে এত দুর্ভোগ by হাফিজ মুহাম্মদ

রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণি। আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১২ নম্বর সড়ক। এ সড়কের মাঝের অংশে বেরিকেড দিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। তাও প্রায় দুই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে উভয় পাশে এক লেন পরিমাণ জায়গা রয়েছে যানবাহন চলাচলের জন্য। বর্তমানে যে অংশ দিয়ে যান চলছে সেখানেও রয়েছে খানাখন্দকে ভরা। পুরো রাস্তায় রয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেকাংশে কার্পেট নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তা এবড়োথেবড়ো হওয়ায় মাঝেমাঝেই পানি জমে শুরু হয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি মৌসুমের শুরুতেই জলাবদ্ধতা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। ১০/২০ মিনিট বৃষ্টি হলেই রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া অংশের উভয় পাশ ডুবে যায়। যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আর এক-দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হলে ট্রাফিক পুলিশই সড়কটি বন্ধ করে দেয়। তখন যান চলাচল করে বিকল্প সড়ক ধরে।
গতকাল সরজমিন দেখা যায়, মিরপুর ১২ নম্বর থেকে শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বর পর্যন্ত সড়কে অনেক স্থানে রয়েছে ছোট বড় গর্ত। এরমধ্যে মিরপুর সাড়ে ১১-এর রাস্তার একটা অংশ ভেঙে ড্রেনের সুয়ারেজের সঙ্গে দেবে গেছে। এখান থেকে কোনোভাবে একটি বাস চলতে পারছে। এ ছাড়াও কালসী, ইয়ানতাই রেস্টুরেন্ট, বেনারসি পল্লীর মাথায় রাস্তার অনেক জায়গায় রয়েছে গর্ত। ইনডোর পৃষ্ঠা ২ কলাম ২
স্টেডিয়ামের সামনে যেখান রাস্তা কেটে ওয়াসা পানির পাইপ বসিয়েছিল সেখানে যে কার্পেট দেয়া হয়েছে তা উঠে গেছে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে। এখানেও অনেকগুলো গর্ত দেখা যায়।মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে কাজীপাড়া অংশ। বেগম রোকেয়া সরণির সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয় এ অংশে।
মূলত এখান থেকেই যানজটের সূত্রপাত। সড়ক সরু হয়ে এক লেন ধরে গাড়ি চলাচল করে। আর বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার কারণে সে এক লেনও যায় বন্ধ হয়ে। পানি সড়তে সময় লেগে যায় দুই-তিন দিন। সড়কে উপরে রয়েছে অনেক গর্ত। যেগুলো বৃষ্টির পানি জমলে আর দেখা যায় না। মাঝে ড্রেনের ঢাকনা ভেঙে রডগুলো উপরের দিকে বের হয়ে রয়েছে। তার উপর দিয়ে ছোট যানবাহন তো দূরে থাক বাস উঠতেই সাহস করছে না। তাদের টায়ার ফুটো হয়ে যায় কি না সে ভয় কাজ করছে। সড়কের এ অবস্থায় ছোট যানবাহনের চলাচল করা আরো কঠিন। মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা আর পূর্ব মনিপুরীপাড়া পার হতে পারলেই যেন এ যানবাহনগুলোর মুক্তি মিলে।
কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া অংশ। এখানেও রয়েছে ছোট-বড় একাধিক খানা-খন্দক। রাস্তার পাশে বৃষ্টির পনি জমে থাকতেও দেখা যায়। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার পাশ ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। যেখান থেকে যানবাহন চলতে বেগ পেতে হয়। আর শেওড়াপাড়া থেকে তালতলা অংশের চিত্র তুলনামূলক কিছুটা ভালো। রাস্তা সরু থাকলেও ভাঙাচোরা কম। এখানে যানজটও তুলনামূলক কম হয়। তালতলা থেকে আগারগাঁও অংশে মাঝেমাঝে খানাখন্দক রয়েছে। সেসব জায়গাতেও পানি জমে যায়। এ সমস্যাটা সড়কের পশ্চিম পাশেই বেশি। সবসময় যানজট না থাকলেও এখানে রাতের বেলা দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের। অন্যদিকে মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কের মাঝে মাঝে দেখা যায় ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখতে। এমনি এক লেনের সড়কে এটাও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বলে জানান গাড়ি চালকরা।
রোকেয়া সরণি হয়ে মিরপুর-সদরঘাট রুটে চলাচল করে বিহঙ্গ পরিবহন। এ পরিবহনের চালক আরশাদ বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া থেকে বের হতে। আবার বৃষ্টি হলে তো এ ১ নম্বর হয়ে চলাচল করতে হয়। এ বছর রাস্তার অনেক জায়গা ভাঙাচোড়া থাকায় ভয় লাগে কখন বাসটি দুর্ঘটানায় পড়ে।
জাহনারা বেগম। মিরপুরের বেনারসি পল্লীর বাসিন্দা। পড়াশোনা করেন আগারগাঁও গ্রিন ইউনিভার্সিটির ইংলিশ বিভাগে। সপ্তাহের চারদিন তার ক্লাস থাকে। এ পথ পাড়ি দিয়ে কিভাবে যাতায়াত করেন জানতে চাইলে এ শিক্ষার্থী বলেন, এ বছর আমার তৃতীয় বর্ষ চলছে। গত দুই বছর ধরে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কি যন্ত্রণাটাই না পোহাতে হয়েছে। মেট্রোরেলের মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইন নেয়ার সময় থেকেই এ দুর্ভোগের শুরু। কবে শেষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দুই বছর থেকেই হাতে দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হতে হয়। অথচ পথ মাত্র ১৫ মিনিটের। এরপরেও অনেকসময় একটা ক্লাস ছুটে যায়। গতকালও বৃষ্টি হওয়ায় কাজীপাড়ায় এসে আটকে পরি যানজটে। প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায় আসতে। হেঁটে আসারও কোনো উপায় নেই। ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায় পানিতে। আর রিকশায় উঠি না দেবে যাওয়ার ভয়ে। কখন যে বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ি সে দুঃশ্চিন্তা নিয়েই প্রতিদিন এ পথে আসা-যাওয়া করি।
কাজীপাড়ার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. আল-আমিনের মুখেও হতাশার ছাপ। একে তো ব্যবসায় ধস। তার মাঝে দুই-এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই পানি চলে যায় দোকানের ফ্লোরে। আল-আমিন বলেন, গত দুই বছর পর্যন্ত খুব খারাপ অবস্থায় আছি। দোকানের সামনে মাল লোড-আনলোড করতে পারি না। ক্রেতা এখন আর এ রোডে আসেন না। মানুষ চলতেই কষ্ট মালামাল কিনবেন কিভাবে তারা। আামদের তো যাওয়ার জায়গা নেই তা কোনোমতে টিকে আছি।
বেগম রোকেয়া সরণির এ বেহাল দশার কথা জানা আছে সাধারণ মানুষের। অনেকে দিনের বেশিরভাগ সময় এ রাস্তায় ব্যয় করতে চান না। তাই তারা রুট পরিবর্তন করে ইতিমধ্যে ভিন্ন পথ দিয়ে যাতায়াত শুরু করেছেন। তবে এ সড়কের মাঝ এলাকার বাসিন্দাদের সে সুযোগ নেই। আবার যেসব অভিবাকরা তাদের সন্তানদের এখানকার স্কুল কলেজে ভর্তি করেছেন তারাও আছেন বিপদে। উপায়ান্তর না পেয়ে ভোগান্তি বয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে এ সড়কে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও ডিএমপি পশ্চিম বিভাগ সব ধরনের রিকশা-ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি নিষিদ্ধ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি কয়েকমাসেও। এসব রিকশা-ভ্যান চলছে হরদমে। এ কারণেও যানজট লাগছে এবং মাঝেমধ্যে দুর্ঘটানা ঘটে বলে এখাকার লোকজনের। এ সড়ক ধরে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ এবং এলাকাবাসীর কবে নাগাদ মুক্তি মিলবে তারও কোনো হিসেব নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে ধরা যাবে মাদকের গডফাদারদের by আমানুর রহমান রনি ও রাফসান জানি

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আয়ের উৎস, ব্যয়ের হিসাব, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পত্তির বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বিভাগ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করবে। এই তিনটি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের বিষয়টি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, দুদক ও পুলিশ কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ, তারা যে সম্পত্তি অর্জন করে, সে বিষয়ে তথ্য দাখিল করতে বলা হবে। দাখিল করা তথ্য যাচাই-বাছাই করলেই গরমিল ধরা পড়বে। কারণ, তারা কখনও তাদের আয়ের বৈধ উৎস দেখাতে পারবে না। তারা যদি নকল কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে আসে, সেটাও ধরা পড়বে। কারণ, আমরা তাদের সবকিছুই যাচাই-বাছাই করবো।’
সিআইডি ইতোমধ্যে মানিলন্ডারিং মামলা নিয়ে কাজ করেছে। তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদেরও এই আইনের আওতায় আনা যাবে বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং আইন ২০১২ সালে পাস হয়। সিআইডি ২০১৫ সাল থেকে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। বর্তমানে তারাই একমাত্র তদন্ত সংস্থা, যারা দেশের মানিলন্ডারিং মামলা তদন্ত করে থাকে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি মাদক মামলাই মানিলন্ডারিং মামলা। তবে আমাদের জনবল না থাকায়, সব মামলা তদন্ত করতে পারি না। গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলাগুলো আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে থাকি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ২০১৫ সাল থেকেই মামলা তদন্ত করছি।’
মাদক ব্যবসায়ীদের এই আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজধানীতে, টেকনাফ ও নারায়ণগঞ্জে এমন মানিলন্ডারিং মামলা তদন্ত করছি। আমাদের আইনগতভাবে সেই অধিকার রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমেই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক আইনে সীমাবদ্ধতা থাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে সম্প্রতি দুদকে তালিকা দিয়েছে তারা। এই তালিকা ছাড়াও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দুদক নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট দিয়ে মাদক গডফাদারদের তালিকা করে কাজ শুরু করেছে। তাদের অবৈধ সম্পদসহ আয়ের উৎস সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তালিকা ধরে খোঁজ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর চিহ্নিতদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব তলব করা হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণদ্রব্য অধিদফতরের ঢাকা মেট্রোর উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আয়কর, মানিলন্ডারিং ও দুদক আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি মামলা দুদককে দেওয়া হয়েছে। তারা সেগুলো তদন্ত করে দেখছে।’
মাদক গডফাদারদের তালিকা ধরে সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, দুদক তার নিজস্ব পদ্ধতিতে কাজ করছে। তালিকার বাইরেও নিজস্ব অনুসন্ধানে মাদক গডফাদারদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
দুদক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর দেড়শ’ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা শতাধিক মাদক ব্যববসায়ীদের তালিকা দুদকে হস্তান্তর করেছে। যাদের সম্পত্তি, আয়-ব্যয় ও ব্যাংক হিসাব তলব করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক(জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তালিকা পেয়েছি। সেই তালিকা ধরে কাজ শুরু হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ, দুদক ও রাজস্ব বিভাগ একসঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের ক্রমান্বয়ে ডেকে ডেকে তথ্য চাইবে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। যাদের অসামঞ্জস্য ও অবৈধ সম্পত্তি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে দুদক ও সিআইডি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি যদি তার সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও আয়ের বিষয় স্বচ্ছ তথ্য দিতে না পারেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। মাদক ব্যবসা করে কেউ যদি এভাবে অবৈধপথে আয় করে, তার তথ্য যদি না দিতে পারে এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিলে অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আয়কর আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের এমন তালিকা নিয়ে কাজ হচ্ছে বলে আমি শুনেছি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, দুদক এবং অন্য যেকোনও সংস্থা বা ব্যক্তি আমাদের কাছে এমন অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো। তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্লাস্টিকের দূষণে বছরে মারা যায় ১০ কোটি সামুদ্রিক প্রাণী by সঞ্চিতা সীতু ও সাদ্দিভ অভি
১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের কনফারেন্স অব হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি ইতিহাসে প্রথম পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭৩ সালে সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়। এবার ‘প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বাণী দিয়েছেন।
জাতিসংঘের পরিবেশ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার হয় প্যাকেজিংয়ে। এ খাতে প্রায় ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ, বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনে ব্যবহার হয় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ, অটোমোবাইলে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ইলেকট্রনিক্সে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কৃষিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। বছরে বিশ্বে ৫০ হাজার কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদন করা হয়। দুনিয়াজুড়ে প্রতি মিনিটে ১০ লাখ প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয়। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে প্রতিবছর এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়।
পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক কাঁচামাল আমদানি করে। এ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। এরমধ্যে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্লাস্টিক, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৭০০ টন। বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ৫০ শতাংশ রিসাইকেল করা হয়।
প্লাস্টিক ব্যাগের কারণে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এই ব্যাগ কখনও মাটিতে মিশে যায় না। আর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার ফলে এটি তৈরি করে জলাবদ্ধতা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো দিয়ে ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়ছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৫ লাখের বেশি টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। এসব ব্যাগ পলিথিনের হলেও কাপড়ের ব্যাগ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, ফ্যাশন হাউস, বিভিন্ন কোম্পানিসহ সারাদেশের বাণিজ্যিক বিতানগুলো টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ পলিথিন ও টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ফলে কাগজ, পাট ও কাপড়ের ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ শ্রমিক, বিশেষ করে নারী-শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে।
যে প্লাস্টিক রিসাইকেল করা যাবে, তা ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এখানে রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেলের কথা বলা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য। এমন নয় যে, ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্লাস্টিক এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। প্যাকেজিং থেকে শুরু বাড়ির দরজা পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার। তাই আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে আগে। আমি সেই প্লাস্টিক ব্যবহার করবো না যে প্লাস্টিক রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেল করা যায় না।
পলিথিনের উৎপাদন বন্ধ করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পলিথিনের ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি এতটাই ভ্রাম্যমাণ যে, এদের ধরা খুব মুশকিল। ছোট ঘরের মধ্যে মেশিন বসিয়ে ইচ্ছামত প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি করছে। আবার সামগ্রিকভাবে যে বন্ধ করে দেবো উৎপাদন, সেটাও সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে আমাদের এগোতে হবে। অন্যান্য দেশ পলিথিনের যে বিকল্প ব্যবহার করে, তা দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’
একই ভাষায় কথা বলছেন পরিবেশবাদীরাও। তারা বলছেন, প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্যের প্রচার-প্রসার বাড়াতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘পলিথিনের বিকল্প যেসব জিনিস রয়েছে, সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এগুলো নিয়ে কোনও প্রচারণা হচ্ছে না, মানুষকে জানানো যাচ্ছে না। পাটের তৈরি সামগ্রী আছে, কাগজের তৈরি নানা সামগ্রী আছে। এগুলো ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যদি সচেতন হয়, পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় সম্পর্কে ধারণা পায়, তাহলে পলিথিনের ব্যবহার কমে আসবে। তখন উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাবে।’
এদিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ১০০টি ঐতিহাসিক স্থান পরিচ্ছন্ন করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ফেলে দেওয়া জিনিসকে ময়লা না বলার প্রচারণায় কাজ করছে। রাস্তার পাশের সংগৃহীত প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে তারা ব্যাগ তৈরি করছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। পরিবেশ অধিদফতর ও বন অধিদফতর থেকে স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এর পাশাপাশি র্যালি, সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
পরিবেশ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে ২৬ জুন। পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সরোয়ার ইমতিয়াজ হাসমী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দিবসটিতে আমাদের র্যালি, প্রচারণাসহ বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। মূল অনুষ্ঠান হবে ২৬ জুন আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে। পরিবেশ মেলা হবে, সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে পরিবেশ খাতে অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের সম্মাননা পদক দেওয়া হবে।’
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে গত ৩০ মে শিশু একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে পরিবেশ অধিদফতর। এছাড়া, পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, লিফলেট তৈরি করে মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
June
(201)
-
▼
Jun 05
(7)
- ৪ কেজি ওজনের সুস্বাদু ‘ইয়াসমিন’ by এস আলম তুহিন
- ডাস্টবিনে নবজাতক সংখ্যা বাড়ছে
- দরিদ্রদের ভাতার ৩৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো ব্যাংক কর্...
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রকল্প by সুবীর ভৌমিক
- এক সড়কে এত দুর্ভোগ by হাফিজ মুহাম্মদ
- যেভাবে ধরা যাবে মাদকের গডফাদারদের by আমানুর রহমান ...
- প্লাস্টিকের দূষণে বছরে মারা যায় ১০ কোটি সামুদ্রিক ...
-
▼
Jun 05
(7)
-
▼
June
(201)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...