Showing posts with label বিশ্বকাপ ফুটবল. Show all posts
Showing posts with label বিশ্বকাপ ফুটবল. Show all posts

Tuesday, July 21, 2026

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল by নজরুল ইসলাম

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। এটি কেবল সান্ত্বনার কোলাকুলি ছিল না, বরং ছিল বিশ্বফুটবলের রাজদণ্ড এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরের প্রতীক।

নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক যখন ৩৯ বছর বয়সি মেসির নাম ধরে চিৎকার করছিলেন, তখন হয়তো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক তার শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। আর ঠিক সে মুহূর্তে বার্সেলোনার বর্তমান ১০ নম্বর জার্সিধারী ইয়ামাল জড়িয়ে ধরলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বরকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের র‍্যাফেলের অংশ হিসেবে ২০ বছর বয়সি মেসির কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবিটির বৃত্ত যেন আজ সম্পূর্ণ হলো। সেই শিশুটিই আজ বিশ্বজয়ী পুরুষ।

দুবছর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের নায়ক ইয়ামাল এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে একপ্রকার ‘পূর্ণতা’ দিলেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা এই তরুণ মাত্র ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন।

ফাইনালের মঞ্চে ইয়ামালের উপস্থিতি ছিল স্পেনের নিখুঁত ও নান্দনিক কৌশলের মূল ভিত্তি। বিপরীতে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্পেনের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি ইয়ামাল। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্টে মূল একাদশে থেকে টানা ১৩ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। পেলে (১৯৫৮), জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০১৮) পর ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে খেলে শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করলেন ইয়ামাল ও তার সতীর্থ পাউ কুবার্সি।

আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোসহ প্রতিপক্ষের চরম শারীরিক ও মানসিক চাপ উড়িয়ে দিয়ে মাঠে শান্ত ছিলেন ইয়ামাল। তার এই পরিপক্বতা দেখে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টসের পণ্ডিত জো হার্ট বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল কেবল প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি, সে বুক চিতিয়ে লড়েছে। পুরো দল তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শান্ত ছিল সে। ১৯ বছর বয়সেই সে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েদিল।’

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে স্পেনের নতুন এই সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ও দারুণ ফুটবল খেলেছে, যা তাকে আরো পরিপক্ব হতে সাহায্য করবে। দলের জন্য ও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।’

রদ্রিগোর মতো অভিজ্ঞ অধিনায়কের ছায়ায় এবং নিজের অবিশ্বাস্য প্রতিভায় ভর করে ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্বজয় করেছে। ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের সামনে যে আরো কত সাফল্য অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলে দেবে।

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল
বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে লামিনে ইয়ামাল

Monday, July 20, 2026

শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ছয় দেশ

২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামতেই ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে। কারণ, এবারের আসর শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন খোঁজার নয়, উদযাপন করবে বিশ্বকাপের শতবর্ষও। সেই বিশেষ উপলক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর।

ফিফার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি অংশ ইউরোপ ও আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ছয়টি দেশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ছয়টি স্বাগতিক দল সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে।

ফিফা জানিয়েছে, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ। শতবর্ষ উপলক্ষে সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই উদ্বোধনী ম্যাচ ও বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাজধানী মন্টেভিডিওতে।

অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের রানার্সআপ ছিল আর্জেন্টিনা। আর দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)-এর সদর দপ্তর হওয়ায় প্যারাগুয়েকেও শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলকে একত্রিত করার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন হবে অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা, বর্তমানের উদযাপন এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা।

২০৩০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ২০২৬ সালের মতোই এই আসরেও ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশ—ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির গড়তে যাচ্ছে ফিফা।

ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে ছয় দলের অংশগ্রহণ। তারা হলো—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি দল বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।

বিশ্বকাপের শতবর্ষকে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফিফার সবচেয়ে প্রতীকী আসরগুলোর একটি।

বিশ্বকাপ মাতালেন এমবাপ্পে, রদ্রি আর স্পেন; ব্যক্তিগত পুরস্কারে কার ঝুলিতে কী?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা পারফর্মাররাও। বিশ্বকাপ শেষে ফিফা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত পুরস্কার, যেখানে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে স্পেন। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) স্বীকৃতি পান দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো আসরজুড়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তিনি। গোল করার লড়াইয়ে আবারও সবার ওপরে ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেমিফাইনালে ফ্রান্স বিদায় নিলেও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। এর সুবাদে নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতেন ফরাসি অধিনায়ক। স্পেনের আরেক নায়ক উনাই সিমন জিতেছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার (গোল্ডেন গ্লাভস)। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি জিতেছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের (বেস্ট ইয়াং প্লেয়ার) পুরস্কার। ফলে বিশ্বকাপের চারটি প্রধান ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে তিনটিই জিতে নিয়েছে স্পেন। শুধু গোল্ডেন বুট গেছে ফ্রান্সের এমবাপ্পের হাতে।

Thursday, October 17, 2024

আর্জেন্টিনায় ‘প্রত্যাবর্তনে’ হ্যাটট্রিক মেসির আগামী বিশ্বকাপে খেলার ইঙ্গিত

ঘরের মাঠে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের স্মৃতিতে ধুলো জমছিল! আর্জেন্টিনার মাটিতে দীর্ঘ ৩৩৪ দিন পর খেলতে নামলেন ফুটবলের জাদুকর। আর ফেরাটা রাঙালেন দারুণভাবে। নিজে করলেন রেকর্ড ছোঁয়া হ্যাটট্রিক, সহায়তা করলেন আরও দুটি গোলে। আর্জেন্টিনাকে বড় ব্যবধানে জেতানোর পর আগামী বিশ্বকাপ খেলার ইঙ্গিত দিলেন মেসি। গতকাল সকালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকায় পাওয়া চোট কাটিয়ে ফেরার পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল এটি। দেশের মাঠে প্রথম। এই ম্যাচে পাঁচটি গোলে ছিল মেসির সরাসরি অবদান। দেশের হয়ে প্রায় দুইশ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার একই ম্যাচে একাধিক গোল করার সঙ্গে একাধিক অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। একই দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে স্পর্শ করেন মেসি। দুজনেরই এখন হ্যাটট্রিক ১০টি। ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক আর দলের জয় ছাপিয়ে গ্যালারিতে থাকা তার ছবি, পোস্টার, তাকে নিয়ে নানা লেখা, ব্যানার মেসিকে দারুণভাবে স্পর্শ করেছে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,  ‘এখানে খেলতে পারা ও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের অনুরাগের ছোঁয়া পাওয়ার অনুভূতি দারুণ। যেভাবে তারা আমার নাম ধরে চিৎকার করে, আমাকে তা আবেগময় করে তোলে ও তাড়না জোগায়। সমর্থকদের সঙ্গে এই সংযোগ আমরা সবাই উপভোগ করি ও দেশের মাঠে খেলতে আমরা ভালোবাসি।’

২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা যাবে কিনা এই প্রশ্নের কৌতূহলী পুরো বিশ্ব। এতদিন স্পষ্ট করে কিছু না বললেই এদিন বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো তারিখ বা সীমা ঠিক করিনি আমি। আপাতত সবকিছু উপভোগ করছি। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি বেশি আবেগময় এবং লোকের ভালোবাসা লুফে নিচ্ছি, কারণ ভালো করেই জানি, আমার শেষ কিছু ম্যাচ হতে পারে এগুলো।’ ৩৭ বছর বয়স হলেও এখনও তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে থাকলে নিজেকে বাচ্চা মনে হয় মেসির। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক বলেন, ‘এই সময়ে থাকতে পারা ও মুহূর্তগুলি উপভোগ করতে পারা দারুণ আনন্দময়। তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে থেকে এই বয়সেও নিজেকে বাচ্চা মনে হয় আমার। অনেক সময় হাস্যকর অনেক কিছু করে ফেলি, কারণ এতটাই স্বস্তিময় আবহে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত এরকম অনুভূতি থাকবে এবং দলে অবদান রাখতে পারব, উপভোগ করে যেতে চাই (জাতীয় দলে খেলা)।’ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই মেসির বিদায়ের গুঞ্জন শুরু হয়। তবে তখন থেকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলে আসছেন, যতদিন সম্ভব মেসি যেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যায়। স্কালোনি বলেন, ‘তার কাছে আমার কেবল একটিই চাওয়া, যতদিন সম্ভব যেন সে খেলে যায়। ফুটবল মাঠে তাকে দেখতে পারাটাই দারুণ আনন্দের। আমাদেরকে মুগ্ধ করা কখনোই থামায় না সে।’

mzamin

Sunday, September 15, 2024

ফিফার পেজে চিরকুটের গান

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ফুটসাল বিশ্বকাপ। যেখানে অংশ নিয়েছে ২৪টি দেশ। ফুটসাল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট’র ‘যাদুর শহর’ গান দিয়ে একটি রিলস বানিয়ে শেয়ার করা হয়েছে। সেই ভিডিও শেয়ার করে ফিফা বাংলায় ক্যাপশন প্রকাশ করেছে। যেখানে তারা লিখেছে, ছোট্ট ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী এখন আমাদের মাঝে। এদিকে ফিফার পেজে নিজেদের গানের ভিডিও দেখে আপ্লুত হয়েছেন ‘চিরকুট’ এর ভোকাল শারমিন সুলতানা সুমি। নিজের আইডি থেকে সেই ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লিখেন, ছোটবেলা থেকে ফুটবল-ক্রিকেট ভালোবাসি। সারা পৃথিবীতে ফিফা ফুটবলের ব্যাপারটা দেখে। আজকে ফিফার অফিসিয়াল পেজে একটি কাস্টমাইজ্‌ড রিলে বাংলাদেশের একটি বাংলা গানের কিছু অংশ ব্যবহার করেছে। গানটা আপনাদের অনেকের পছন্দের, আমাদের ব্যান্ডের ‘যাদুর শহর’। ভালো লেগেছে।
mzamin

Sunday, June 13, 2010

পুরো আফ্রিকা মহাদেশ প্রস্তুত - কফি আনান

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান অত্যন্ত ফুটবল-অনুরাগী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন আফ্রিকাতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে গোল ডটকমের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তাঁর ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এতে উঠে এসেছে কোন দল জিতবে, আফ্রিকার দলগুলো কেমন করবে, আফ্রিকা মহাদেশের জন্য এই খেলার কী তাত্পর্য ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ
বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছে কি?
আমি বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আছি। আমি ফুটবল ভালোবাসি। যখনই সুযোগ পাই খেলা দেখি। বিশ্বকাপ তো সবার সেরা—সারা দুনিয়ার সেরা খেলোয়াড়েরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের চমত্কারিত্বের পাশাপাশি বিশ্বকাপ আরও অনেক বেশি শক্তিশালী। কেননা, ফুটবল বিশ্বকাপ নানা দেশের মানুষকে দেশের ভেতর ও দেশের সীমা ছাড়িয়ে এমনভাবে একত্র করে, যা অন্য কোনো উপলক্ষ করে না।
এবারের বিশ্বকাপের একটি বিশেষত্ব আছে। এটি আফ্রিকা মহাদেশে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজন।
এবার সারা দুনিয়ার মানুষের দৃষ্টি আফ্রিকার ওপর নিবদ্ধ থাকবে। আমার বিশ্বাস, এটি এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে, যেখানে সবাই দেখতে পাবে খেলাধুলা কেমন করে সেতুবন্ধ রচনা করে এবং রাষ্ট্র, এমনকি মহাদেশের মধ্যকার বিভেদ অতিক্রম করতে সহায়তা করে। গতবার জার্মানিতে আমার দেশ ঘানার খেলা আমি উপভোগ করেছি। এবার আমি দক্ষিণ আফ্রিকাতে ঘানার খেলা দেখার আশা রাখি।
তাহলে এই বিশ্বকাপকে আফ্রিকাবাসী কোনো একক দেশের আয়োজন হিসেবে না দেখে সবাই নিজেদের টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছে?
অনেকটা তাই। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারায় আফ্রিকা গর্বিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে স্থান পাওয়া দেশগুলোতে গেলে আপনার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ঘানার মতো দেশগুলোর যখন খেলা থাকবে তখন তো পুরো দেশবাসী সব কাজ ফেলে খেলা নিয়ে মেতে উঠবে। এমনকি আফ্রিকার যে দেশগুলো চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, সেসব দেশেও আফ্রিকার দলগুলোর বড় সমর্থক গোষ্ঠী শেকড় গেড়ে আছে।
আফ্রিকার দলগুলো কেমন করবে?
ভালো ফল করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। অনেক দিন হলো আফ্রিকা বিশ্বসেরা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তৈরি করে চলেছে। কিন্তু এখন পার্থক্যটা হলো, আফ্রিকার দলগুলোর শুধু দু-একজন তারকা খেলোয়াড় নন, সব পজিশনেই বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছেন।
আইভরিকোস্টের কথাই ধরুন। এ দলে শুধু দিদিয়ের দ্রগবাই নন, দলটির আক্রমণভাগ, রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের খেলোয়াড়েরাও মানসম্পন্ন। তারা হয়তো সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটিতে পড়েছে, কিন্তু তাদের সম্ভাবনা এখনই খারিজ করে দেবেন না। ঘানা যদি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলে, তাহলে পরের পর্বে আমাদের যাওয়াই উচিত।
ফুটবলের এই সাফল্য থেকে বৃহৎ পরিসরে শিক্ষা নেওয়ার কিছু কি আছে?
হ্যাঁ। বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলে চলা এসিয়েন, দ্রগবা, ইতো এবং আরও একঝাঁক তারকা খেলোয়াড়ের উত্থান আফ্রিকার ভেতর লুকিয়ে থাকা সমৃদ্ধ প্রতিভার আভাস দেয়। এটা শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, সব ক্ষেত্রেই খাটে। ফুটবল দেখাল যে কেউ যদি সফল হওয়ার এবং নিজের সামর্থ্য পূরণের সুযোগ পায়, তারা স্কোর করে, তারা জ্বলে ওঠে। এতে উপকার অনেক। শুধু ব্যক্তিগত নয়, সাধারণভাবে তরুণেরা এবং অবশ্যই সমাজও উপকৃত হয়।
আফ্রিকার তরুণদের সহায়তার জন্য আরও অনেক উপায় বের করা দরকার, যাতে তারা তাদের অভিলাষ পূরণ ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে। আমরা পারলে তাতে জয় হয় সবার।
অন্য শিক্ষাটি হয়তো মুক্ত মন ও বিনিময়ের মূল্য প্রসঙ্গে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার তারকারা ইউরোপে খেলার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করেছেন, আর অন্যদিকে তাঁদের দ্বারা ইউরোপের খেলা সমৃদ্ধ হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো বিদেশি কোচ আনার মাধ্যমে নিজেদের উন্নতি ঘটিয়েছে।
মুক্ত মন ও হূদয় থাকলে আমরা সবাই লাভবান হই। এটা শুধু ফুটবলের ক্ষেত্রেই নয়। বৃহৎ পরিসরে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অন্য পরিপ্রেক্ষিত থেকে কোনো কিছু দেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাণিজ্যের মতো দুরূহ বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য সহায়তা করতে পারে।
আর একটি ব্যাপার। এক মাস ধরে সারা দুনিয়ার দৃষ্টি ফুটবলের ওপর নিবদ্ধ থাকবে। আসলে ফিফার সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা তো জাতিসংঘের থেকেও বেশি। একবার ভেবে দেখুন, যদি সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই এবং সমাজে নারীর পূর্ণ ভূমিকা রাখার নিশ্চয়তার মতো কাজ আমরা সহযোগিতার এই চেতনা ধারণ করি, তাহলে একতাবদ্ধ হয়ে কত কী অর্জন করতে পারি।
বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার বড় প্রত্যাশাগুলো কী?
অবশ্যই চমত্কার ফুটবল দেখা। আমার ধারণা, এটি অত্যন্ত সফল টুর্নামেন্ট হবে। আমি জানি, সবকিছু ঠিকঠাকমতো সম্পন্ন করার জন্য আর সবার সময় যাতে ভালোই কাটে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী কতটা কঠিন পরিশ্রম করছে।
আফ্রিকা সম্পর্কে যাঁদের নানা পূর্বানুমান আছে, তাঁরা চমত্কৃত হবেন বলে আমার ধারণা। আফ্রিকা মহাদেশে যেভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে, তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেনি সংবাদপত্রের শিরোনামে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ সম্পর্কে ধারণার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। আমার ধারণা, ২০১০ সালের বিশ্বকাপ আফ্রিকার জন্যও একই রকম ফল বয়ে আনবে।
আশা করি, আফ্রিকার বৈচিত্র্য, বৈভব, প্রতিভা ও সামর্থ্য বিশ্ববাসীকে দেখাতে এই বিশ্বকাপ সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও আড়ালে থাকবে না। ফুটবলের পেছনে যে শক্তি ব্যয় করা হচ্ছে, তার কিছু অংশ যদি জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রে কাজ করার চেষ্টাতে, বিশেষত আফ্রিকাকে সহায়তায় প্রবাহিত করা যায়, তাহলে তা হবে চমকপ্রদ।
দিদিয়ের দ্রগবার সঙ্গে মিলে আপনি স্কোরিং ফর আফ্রিকা প্রকাশ করেছেন। এর উদ্দেশ্য কী?
স্কোরিং ফর আফ্রিকা একটি বিকল্প বিশ্বকাপ নির্দেশিকা। আফ্রিকা প্রগ্রেস প্যানেল এটি প্রস্তুত করেছে। আমি এই প্যানেলের সভাপতি। আমাদের ভাবনাটা ছিল উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত-সংবলিত এমন একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করা, যেটি বিশ্বকাপের চেতনাকে ফুটবলের বাইরে নিয়ে যাবে এবং কতগুলো বিষয়কে তুলে আনবে, যেগুলো বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোকে একত্র ও আলাদা করে। উন্নয়নের প্রতি দ্রগবা অঙ্গীকারবদ্ধ। সুতরাং তাঁর সঙ্গে এই কাজ করা ছিল খুব আনন্দের ব্যাপার।
অনেকগুলো দলই জিততে পারে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো এবারও ফেভারিট তো থাকবেই। কিন্তু প্রচুর অঘটন ঘটবে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো একের পর এক টুর্নামেন্টে ভালো করে। তাদের ও অন্যদের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন কমছে। স্পেনকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আর আফ্রিকার দলগুলোকে খারিজ করে দিতে চাইলে যেকোনো দলকেই বিরাট ঝুঁকি নিতে হবে।
আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে?
একজনের নাম বলা মনে হয় ঠিক হবে না। কিন্তু আমার দেশ তো ঘানা। মাইকেল এসিয়েনকেই আমি বেছে নিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি খেলতে পারছেন না। বিকল্প নির্দেশিকা তৈরিতে দ্রগবা আমার সঙ্গী ছিলেন। আর তিনি তো বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাকে কারও নাম বলতে বললে তাঁর নামই বলব।
কোন দেশ জিতবে বলে মনে করেন?
অনেকগুলো দলই জিততে পারে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলো এবারও ফেবারিট। কিন্তু অনেক অঘটনও ঘটবে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো একের পর এক টুর্নামেন্টে ভালো করে। তাদের ও অন্যদের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন কমছে। স্পেনকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আর কোনো দল যদি আফ্রিকার দলগুলোকে বাতিল গণ্য করে তাহলে তাকে বিরাট ঝুঁকি নিতে হবে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত।