Sunday, September 8, 2024

রাশিয়ার অঞ্চল দখলের মাধ্যমে কী করতে চাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী

দিন কয়েক আগের এক সকাল। রাশিয়ায় ইউক্রেনের দখল করা একটি এলাকায় গাড়িতে চড়ে বসেন তিনজন। তাঁরা ইউক্রেন বাহিনীর বিশেষ একটি দলের সদস্য। ওই গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙা। এর আগের দিনই রাশিয়ার ড্রোন থেকে ফেলা বোমার আঘাতে ওই হাল হয় গাড়িটির। গাড়িতে উঠে ইউক্রেনের দিকে ছুটে চলেন তাঁরা।

ছয় ঘণ্টা বাদেই ওই সেনাদের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছানোর কথা। গাড়িতে তাঁদের সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি বাক্সে ভরা বহুমূল্য সব নথিপত্র। শত্রুদেশ রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের সুদঝা শহর এবং পরিত্যক্ত নানা পরিখায় চার দিন অভিযান চালিয়ে জোগাড় করেছেন সেগুলো। নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

কুরস্ক অঞ্চলে চার সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়েছে ইউক্রেন বাহিনী। দখল করে নিয়েছে বড় একটি অংশ। এ অভিযান মস্কোকে এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোয় বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন থেকে রুশ পতাকা নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় ইউক্রেনের সেনাদের টহলের সময় রুশ নাগরিকদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে দেখা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের এ অভিযান নিয়ে গোপনে পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাতে খুব কম মানুষকেই যুক্ত করেছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছিলেন, ‘এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হওয়া অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো অভিযান সম্পর্কে যত কম মানুষ জানবে, সেটি তত বেশি সফল হবে। এ অভিযান সম্পর্কে খুব কম মানুষ জানতেন।’

রাশিয়ার কুরস্কে অভিযানের কয়েক সপ্তাহ আগেই সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের সুমি শহর ও এর আশপাশের এলাকায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখেছিলেন স্থানীয় লোকজন। ওই সেনা সদস্যদেরও অভিযান সম্পর্কে আগে থেকে জানানো হয়নি। অভিযানে অংশ নেওয়া এক সেনা সদস্য বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, রাশিয়ার সম্ভাব্য কোনো হামলা ঠেকাতেই আমাদের সুমিতে আনা হয়েছে।’

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে দাবি করা হয়েছে, তারা কুরস্কের প্রায় ১ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ এলাকায় বেশির ভাগই গ্রাম। তবে সুদঝা শহরও রয়েছে। ইউক্রেনে অভিযান শুরুর আগে এ শহরে পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। অনেকেই চলে গেছেন। যাঁরা রয়ে গেছেন, তাঁদের আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ ও মুঠোফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন।

সুদঝা শহর এখন পুরোপুরি ইউক্রেন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানের বিভিন্ন ভবন ও দোকান থেকে রুশ পতাকা, পোস্টার ও পুতিনের ছবিযুক্ত টি-শার্ট জব্দ করছেন ইউক্রেনের সেনারা। তাঁদের একজন হাসতে হাসতে বলেন, ‘এখানের বাসিন্দাদের বলেছি, আমরা কুরস্ক শহর দখল করেছি এবং মস্কোর দিকে এগোচ্ছি। আপনাদের ইউক্রেনীয় ভাষা শেখার সময় এসেছে।’

আপাতত রাশিয়ায় ইউক্রেনের অভিযান থেমে রয়েছে। প্রতিপক্ষের হাত থেকে নিজেদের ভূখণ্ড এখনো ফিরিয়ে নিতে পারেনি রুশ বাহিনী। কিয়েভ জানিয়েছে, তাদের দখলে থাকা রুশ অঞ্চল ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, ‘আমরা রাশিয়া নই। এই অঞ্চলগুলো নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে আমাদের সংবিধান পুনর্লিখন চাই না। আমাদের কাজ হলো রুশ কামানসহ হামলার কাজে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামগুলো আরও পিছু হটিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও সামরিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করা। রাশিয়ার নাগরিকদের জনমতের ওপরও প্রভাব ফেলতে চাই আমরা।’

কিয়েভের অনেকে এটাও মনে করেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার জন্য মস্কোকে চাপ দেওয়া এই অভিযানের আরেকটি লক্ষ্য। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাক্ষাৎকারে প্রথমে এড়িয়ে গিয়েছিলেন পোদোলিয়াক। তবে পরে বলেন, ‘রাশিয়াকে আলোচনার জন্য চাপ দেওয়া যেতে পারে। তবে এর জন্য কুরস্কের মতো অভিযান লাগবে।’

ইউক্রেনের আরেকটি লক্ষ্য হতে পারে রুশ সেনাদের বন্দী করা। তারপর তাঁদের বিনিময়ে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী থাকা হাজারো ইউক্রেনীয়দের মুক্ত করা। কিয়েভের দাবি, কুরস্ক অঞ্চল থেকে তারা প্রায় ৬০০ রুশ সেনাকে বন্দী করেছে। সপ্তাহখানেক আগেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ১১৫ জন বন্দী বিনিময় হয়েছে।

এদিকে কুরস্কে অভিযান যখন ইউক্রেনীয়দের মধ্যে মনোবল বাড়াচ্ছে, তখন দেশটির অনেক সেনাই একটি বিষয় নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। সেটি হলো ইউক্রনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি থামানো যাচ্ছে না। তারা ধীরে ধীরে ইউক্রেনের পোকরোভস্ক শহরের দিকে এগিয়ে চলেছে। যদি এই অগ্রগতি চলতে থাকে, তখন কুরস্ক অভিযানে ইউক্রেনের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে পারে।

ইউক্রেনের এক সেনা সদস্য বলেন, ‘আপাতত এই অভিযান যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয়দের সফলতার একটি প্রতীক। এ অভিযানের মাধ্যমে আমরা সীমান্তে মুক্ত অঞ্চল তৈরি করতে পারি। ফলে আমাদের ওপর হামলা কমবে। অন্তত রুশ সেনাদের আটক করে বন্দিবিনিময় করতে পারি। এতে আমাদের দেশের মানুষ খুশি থাকার মতো কোনো একটা উপলক্ষ পাবে।’

রাশিয়াসংলগ্ন সীমান্তের কাছে একটি সড়কে ইউক্রেনের সাঁজোয়া যান

মুক্ত খালেদা জিয়ার দিন কাটছে যেভাবে by কিরণ শেখ

২৫ মাসেরও বেশি সময় সাজানো মামলায় কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কারাগার থেকে বের হলেও মুক্তির স্বাদ পাননি। গুলশানের বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত ছিল চলাফেরার সীমাবদ্ধতা। অবশেষে সেই শুভক্ষণ দেখা দেয় ৬ই আগস্ট। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের পর এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দণ্ড মওকুফ করে মুক্তির আদেশ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সংবাদ পান তিনি। মুক্তির পর দিনই ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপি’র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন বেগম খালেদা জিয়া। এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২১শে আগস্ট গুলশানের বাসায় ফিরেন দুর্নীতির দুই মামলার দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন। মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। যদিও ২৪ ঘণ্টাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এরপরও স্বৈরাচার থেকে দেশ, দেশের মানুষ এবং বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মুক্ত হওয়ার স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো সুস্থ নন। আগে তিনি বন্দি ছিলেন, এখন মুক্ত। দলের নেতাকর্মীরা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন, দমন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া মানসিকভাবে স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। সূত্রটি জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার শরীর কিছুটা ভালো থাকলে উনি বই, পত্রিকা এবং টেলিভিশন দেখে সময় কাটান। পাশাপাশি দলের অনেকেই দেখা করতে চান। এক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া চাইলে তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সবাইকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বার্তা দেন তিনি। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান।

ওদিকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর রাতে স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক। বৃটিশ হাইকমিশনার  বাংলাদেশ ও ইউকের সম্পর্কের ব্যাপারে তাদের চিন্তা-ভাবনা বেগম খালেদা জিয়াকে অবগত করেন। পাশাপাশি দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তারা কি করতে চায়, সে বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জানান সারাহ ক্যাথেরিন কুক। এ প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ-ইউকের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য বলেন এবং আগামী দিনে দু’দেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রত্যেকটা জিনিস যাতে উন্নততর অবস্থায় যেতে পারে, সে বিষয়েও বৃটিশ হাইকমিশনারকে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। রাত সাড়ে ৮টায় বৃটিশ হাইকমিশনারের পতাকাবাহী গাড়ি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বৃটিশ হাইকমিশনার এবং তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। সাক্ষাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালে কারাবন্দি এবং মুক্তির পর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এই প্রথম বৃটিশ হাইকমিশনার ফিরোজায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।

মেডিকেল বোর্ডের দু’জন সদস্য মানবজমিনকে বলেন, গুলশানে নিজ বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিকভাবে এখনো তিনি সুস্থ নন। কারণ মেডিকেল বোর্ড চাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্যে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে। বেশ লম্বা সময় ফ্লাই করার মতো শারীরিক অবস্থা হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিতে তার যে দীর্ঘ সময়ের জার্নি সে বিষয়ে তার প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। মেডিকেল বোর্ড বলেছেন, ইউকেতে নেয়া হলে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে, অথবা ইউএসএ নিতে হলে ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার লাগবে, কাজেই শারীরিক সুস্থতার ফর দিস ফ্লাইং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ইউকে ও ইউএসএ’র হসপিটালের সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা ফ্লাইংয়ের মতো হলেই বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখা হবে।

বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন অসুস্থ। ম্যাডাম গুলশানের বাসভবনে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। সবশেষ গত ৮ই জুলাই গভীর রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। এর মাসখানেক আগে গত ২রা মে তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার আগে গত বছরের ৯ই আগস্ট খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গত ১১ই জানুয়ারি তিনি বাসায় ফেরেন। মাঝে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে তার রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তার স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল খালেদা জিয়াকে। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছিল।

প্রশ্নবিদ্ধ দুদক এখন কী করবে? by মারুফ কিবরিয়া

দুর্নীতিবাজদের ধরা ও তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থার জন্যই মূলত প্রতিষ্ঠা হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের। প্রতিষ্ঠার দুই দশক কেটে গেলেও গণমানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। বলা চলে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের ফরমায়েশে চলে এর কার্যক্রম। অনেকটা দলীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।  কমিশনের লেজুড়ভিত্তিক দলীয়   নিয়োগের ফলে গোড়াতেই গলদ।  ফলে কখনোই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না দুদক। গত ১৫ বছরেও তাই হয়েছে। পাঁচ বছর পর পর কমিশন বদলেছে কিন্তু দায়িত্ব পালন করা মানুষগুলো সরকারি দলের প্রেসক্রিপশনে কাজ করেছে। কেউ কেউ বলেই থাকেন দুদক একটি নখদন্তহীন বাঘ। গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।

পদত্যাগ করে পালিয়েছেন প্রায় ১৬ বছর শাসন করা এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ এই সময় অনেকটা তার ইশারায় দুদকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছেÑ এমনটা দাবি করেছেন খোদ দুদকেরই কর্মকর্তারা। তবে ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি পাল্টে যায় দৃশ্যপট। শুরু হয়ে যায় দুদকের সক্রিয়তা। একের পর এক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামা শুরু করে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ কমিশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শত হাজার কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের আইন অনুযায়ী তাদের সম্পদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অথচ গত কয়েক বছরে ক্ষমতাধর এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কম অভিযোগ জমা পড়েনি সংস্থাটিতে। বরং বিভিন্ন সময় শুরু হওয়া অনুসন্ধানগুলো চলমান অবস্থাতেই ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে তাদের। আবার অনেক অভিযোগ আমলে না নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছে কমিশন।  এসব নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলেও সদুত্তর দেননি চেয়ারম্যান-কমিশনাররা। এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পর তার আমলে দায়িত্ব নেয়া ও ফরমায়েশি অনুসন্ধানে নামা দুদকের তিন শীর্ষ কর্তা কী করবেন সেটা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। বলা হচ্ছেÑ অন্যান্য দপ্তরের মতো দুদকের চেয়ারম্যান-কমিশনাররাও কি পদত্যাগ করবেন কিনা?
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব নেয়া বর্তমান কমিশন শপথ নেয় ২০২১ সালের মার্চে। সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মতোই মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহও অনেকটা সে পথেই হাঁটেন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দায়েরে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে এই কমিশন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের এমপিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ অনুসন্ধানগুলো ধীরে চলো নীতি কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিসমাপ্তি করেছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযানের পর অক্টোবরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে ছিল এমন অভিযোগ। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচ সংসদ সদস্যও ছিলেন। তারা হলেন তৎকালীন সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বাবু, সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং বরিশাল-৪ আসনের পঙ্কজ দেবনাথ। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলেও পাঁচ সংসদ সদস্যের সবার অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ও তদবির বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সংস্থাটি  ২০২৩ সালের ৮ই মে অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি ঘোষণা করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। দুদকের সাবেক সচিব মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।

দুদকে আসা উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে যাদের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ দেয়া হয়েছে তাদের একজন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ আসে। মূল অভিযোগ ছিল কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন। এরপর অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কিন্তু ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারিতে জ্যাকবকে অব্যাহতি দেয় দুদক।

এ ছাড়া ২০২০ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এমনকি তখন তার সম্পদের হিসাবও নেয় কমিশন। কিন্তু ২০২১ সালের মার্চে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ৭৫৩টি এবং ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩১২টি ফাইল অনুসন্ধান পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব তালিকায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলম, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আনোয়ার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুরুল আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক একেএম মমতাজ উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর সদস্য এস এম হুমায়ূন কবীর, ডেসকো’র প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক, যুগ্ম সচিব জালাল আহম্মেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উপ-কর কমিশনার হুমায়ূন কবীর, বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল বাশার পাটোয়ারি, সড়ক ও জনপদ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপ-সচিব দীপংকর রায়সহ এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে ছাড় দেয় দুদক।  

অন্যদিকে গত তিন বছরের হিসেবে প্রায় দুই ডজন বিএনপি’র প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মামলা ও চার্জশিট দিতে দেখা গেছে। কিছু কিছু মামলায় তাদের সাজাও হয়েছে।

ড. ইউনূস প্রসঙ্গ
দুদক শুধু বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা, চার্জশিটে ব্যস্ত ছিল না। বিগত দুই বছরে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান, মামলা এমনকি দ্রুত চার্জশিট দিয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার তিন দিনের মাথায় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় সংস্থাটি। এ নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই দাবি করেছেন, ড. ইউনূস যদি অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িতই থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার কেন করেছে দুদক? অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপর কেন শেখ হাসিনা সরকারের দায়িত্বে থাকা এমপি- মন্ত্রীদের ধরা হচ্ছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ এলে তা যাচাই বাছাই করে তা অনুসন্ধানের আওতায় নেয়া হয়। এক্ষেত্রে একটি টিম কাজ করে। সেখান থেকে সময় লেগে যায়।’

প্রসঙ্গ আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়টিও। দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই কমিশনই তার (ইউনূস) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং চার্জশিট দাখিল করে। হঠাৎ সরকারের ক্ষমতা বদলের পরপর কেন সেই মামলা প্রত্যাহার করে দুদক? এ ব্যাপারে অনেকটা কৌশলে এড়িয়ে যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। এ ব্যাপারে মন্তব্য না করি।’

ইসরায়েলের এত অস্ত্র এলো কোথা থেকে?

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় এক বছর ধরে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে দুনিয়ার অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। আর এসব অস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। গত ৭ অক্টোবর থেকে চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল যেসব অস্ত্র দিয়ে গাজার নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে তার অধিকাংশই ইসরায়েলে তৈরি নয়। বরং এসব অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বেশকিছু দেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখেও তেলআবিবকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করেনি তারা।

ইসরাইল বিশ্বের একটি বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। তবে আকাশপথে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তাদের সামরিক বাহিনী আমদানি করা যুদ্ধবিমান, গাইডেড বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গাজায় ইসরাইল আকাশপথে যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা তাকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম তীব্র ও ধ্বংসযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ও ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কিছু রাজনীতিবিদ বলেছেন, দেশটির কাছে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করা উচিত। কারণ, ইসরাইল বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষাসহ তাদের কাছে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিতে বাধা দিচ্ছে।

জানা গেছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রের জোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে ইসরায়েলকে আগাগোড়াই সাহায্য করে আসছে ওয়াশিংটন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইসরাইলের প্রধান প্রচলিত অস্ত্র আমদানির ৬৯ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তির আওতায় ইসরাইলকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য ইসরাইলকে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে গুণগত সামরিক শক্তিতে এগিয়ে রাখা।

মার্কিন গণমাধ্যম গত মার্চে জানায়, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন চুপিসারে ইসরাইলের কাছে ১০০টির বেশি ধাপে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর মূল্য ডলারের হিসেবে এমন পরিমাণ ছিল, যে ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর দরকার হয় না।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলে বেশি অস্ত্র রপ্তানি করে জার্মানি। এসআইপিআরআইয়ের তথ্য মতে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইসরায়েল যে অস্ত্র আমদানি করেছে, তার ৩০ শতাংশ জার্মানির। আর এ তালিকায় ৩য় অবস্থানে আছে ইতালি। তবে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইসরায়েল যত অস্ত্র আমদানি করেছে, তার মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ ইতালির বলে জানা গেছে।

তালিকায় ৪র্থ অবস্থানে যুক্তরাজ্যের নাম। দেশটি ইসরায়েলকে যেসব সামরিক সরঞ্জামের জোগান দিচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে সামরিক বিমান, সামরিক যান ও যুদ্ধ নৌযানের উপাদান। তবে চলতি সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়—এমন সামগ্রীর জন্য দেওয়া প্রায় ৩০টি রপ্তানি লাইসেন্স অবিলম্বে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়মিত অস্ত্রের জোগান ছাড়াও ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে অস্ত্র পেয়েছে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর একই ভাণ্ডার থেকে ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয় বলে জানা গেছে।

১৯৮৪ সালে ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্রের একটি বড় ভাণ্ডার স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক সংঘাতের সময় যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের দ্রুত এখান থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা যায়, সে জন্যই ভাণ্ডারটি স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে ইসরাইলকে দ্রুত অস্ত্র দেওয়াটাও এই ভাণ্ডার স্থাপনের একটি উদ্দেশ্য।
অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে ইসরায়েলকে আগাগোড়াই সাহায্য করে আসছে ওয়াশিংটন। ছবি : সংগৃহীত

এক রাতে ইউক্রেনে ৬৭ ড্রোন হামলা রাশিয়ার

ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেনে এক রাতে ৬৭ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দূরপাল্লার শাহেদ ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এক রাতে তারা ইউক্রেনে ৬৭ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫৮টি ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ হামলা চালানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার এসব হামলা মোকাবিলায় ১১ অঞ্চলের এয়ার ডিফেন্স ইউনিট দ্রুত সক্রিয় করা হয়।

ইউক্রেনের পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিয়েভের পার্লামেন্টের পাশে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এটিকে বিরল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কিয়েভ পর্যন্ত পৌঁছেছে রাশিয়ান মিসাইল বা ড্রোন। এর আগে এমন ঘটনা দেখা যায়নি। কেননা শহরটি সোভিয়েতযুগের ও পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত ছবিতে পার্লামেন্ট ভবনের আশপাশের মাটিতে অন্তত ৪টি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারের সিঁড়ির কাছে একটি টুকরা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শ্যাপনেলের আঘাতে ঝাঁঝরা অবস্থায় আরেক টুকরো দেখা গেছে।

কিয়েভ থেকে রয়টার্সের সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৩টার পর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। শহরের কেন্দ্রীয় অংশেও জোরে হামলার শব্দ শোনা গেছে। ফলে বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এ হামলায় হাজার হাজার মিসাইল ও শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে মস্কো। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের তৈরি এ ড্রোন ব্যবহার করছে তারা। সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে সহজে চিহ্নিত করতে পারে না। 

সেনাদের হাতে ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত

অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সুসংবাদ দিল স্পেন

কাজের আওতায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সুসংবাদ দিয়েছে স্পেন। দেশটি এসব অভিবাসীদের নিয়মিত হওয়ার শর্তগুলো কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ‘আররাইগো সোসিওলাবোরাল’ নামের নতুন রেসিডেন্স পারমিটের আওতায় তারা এ সুবিধা পাবেন।

স্পেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সরকার জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য শিগগিরই নতুন একটি রেসিডেন্স পারমিট চালু করা হবে।

‘আররাইগো সোসিওলাবোরাল’ নামের নতুন এ রেসিডেন্স পারমিটের জন্য কতিপয় শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো :

১. আবেদনকারীকে অবশ্যই স্পেনের অনিয়মিত অভিবাসী হতে হবে। আগে কোনো ক্যাটাগরিতে নিয়মিত হলে তিনি এ সুবিধা পাবেন না। ২. আবেদনকারীকে দুই বছর ধরে স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। স্পেন ত্যাগ বা ডিপোর্ট নোটিশ প্রাপ্তরা এ সুবিধা পাবেন না। ৩. আবেদনকারীকে একজন নিয়োগকর্তা বা একটি কোম্পানি স্বাক্ষরিত কাজের চুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। এতে তাকে স্পেনের ন্যূনতম কাঠামো অনুসারে বেতন পেতে হবে। এমনকি চুক্তির মেয়াদ তিন মাস হতে হবে।

৪. খণ্ডকালীন কাজ অথবা একাধিক নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট কাজের চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। এসব চুক্তি মিলিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ২০ কর্মঘণ্টার কাজ থাকতে হবে। আগের আইনে এটি ৩০ ঘণ্টা ছিল। নতুন আইনে ১০ ঘণ্টা কমানো হয়েছে।

৫. গত পাঁচ বছর স্পেন বা অন্য দেশে অবস্থান করলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে অপরাধে দণ্ডিত বা সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

নতুন এ রেসিডেন্স পারমিট মূলত ২০২২ সালের আগস্ট মাস থেকে চলা কাঠামোর নতুন রূপ। ওই আইনে শ্রমিক সংকটে থাকা খাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এক বছর মেয়াদি রেসিডেন্স পারমিট পেতেন। তখন পর্যটন, পরিবহন, কৃষি এবং নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে প্রশিক্ষণের শর্ত ছিল।

দেশটির ইন্টিগ্রেশন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের আইনানুসারে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৯৭ জন অভিবাসী নিয়মিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৩৪৭ জন প্রশিক্ষণ শেষে কাজের চুক্তি পেয়েছিলেন। 

স্পেনের একটি স্থাপনার পাশে দেশটির পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

‘সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানিত হন, সে চেষ্টা করা হবে’

সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানিত হন সে চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। সবাই যেন তাদের যুদ্ধের অবদানটা স্মরণীয়-বরণীয় করে রাখতে পারেন।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীর ঝুকিপূর্ণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, তাদের ভাতা এখনো বন্ধ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কাজ হচ্ছে। অনেক প্রক্রিয়ায় বাছাই করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক মামলা-মোকদ্দমা আছে। এগুলো নিষ্পত্তি করে প্রক্রিয়াগুলো চিহ্নিত করব। যারা সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযোদ্ধা তারা সম্মানিত হবেন।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ হচ্ছে। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক প্রভাংশু সোম মহান, পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক খানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। 

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীর ঝুকিপূর্ণ বাঁধ পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। ছবি : কালবেলা

উত্তাল দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাঁধে ছিল চবি’র যে ৮ শিক্ষকের ভরসার হাত

ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে তাদের কেউ ছিলেন সরাসরি মাঠে, ছাত্র-জনতার সঙ্গে। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকে জনমত গড়েছেন আন্দোলনের পক্ষে। কেউ কেউ তো ওই সময় আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে আনতেও নিয়েছিলেন সোচ্ছার ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে গিয়ে তাদের অনেকেই পড়েছিলেন চাকরি হারানোর শঙ্কায়, কারও কারও বাসায়  হয়েছে বোমা হামলা। তবুও শিক্ষার্থীদের কাঁধ থেকে সরেনি তাদের সমর্থনের হাত। চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়ানো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এমন আট ছাত্রবান্ধব আর মানবিক শিক্ষকের নাম এখনো সবার মুখে মুখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাওয়া, শিক্ষার্থী অন্তপ্রাণ এই শিক্ষকদের হাতেই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব তুলে দেয়া হোক।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১২ই আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের। একই সময়ে পদত্যাগ করেন দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে ও অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী। এরপর থেকেই পরবর্তী উপাচার্য কে হচ্ছেন তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সেই আলোচনায় উঠে আসছে কোটা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ৮ শিক্ষকের নামও।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোটা সংস্কার এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গত ১লা জুলাই বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে।

সমাবেশ থেকে ৪ দফা দাবি পেশ করেন তারা। এটি ছিল চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের প্রথম কর্মসূচি। এই কর্মসূচি চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে ছাত্রলীগ হুমকি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও উপাচার্যকে এ ঘটনায় অভিযোগ জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেননি বরং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করার ‘পরামর্শ’ দেন প্রক্টর অহিদুল আলম।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসেন কিছু জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। তারা গঠন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ঐক্য নামে একটি প্ল্যাটফরম। প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক হন অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত বর্তমান সিন্ডিকেট সদস্য ও ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান। তার সঙ্গে এই প্ল্যাটফরমে যুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহিদুল হক ও সহকারী অধ্যাপক খন্দকার আলী আর রাজি।

১৫ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক শামীম উদ্দিন খানের নেতৃৃত্ব এই শিক্ষকেরা শহরে আন্দোলন শুরু করেন, সহযোগিতা করেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানান। সেজন্য তাদের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব তুলে দেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

ভিসি কে হবেন এই আলোচনায় তাই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দেয়ায় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ তাকে ভিসি হিসেবে চাইছেন। একাডেমিক যোগ্যতাও তার হয়ে কথা বলছে। গণিত বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ভারত থেকে রিসোর্স ইকোনমিক বিষয়ে পিএইচডি করেন ড. শামীম। ক্যাম্পাসে তার শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে। নিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন সময়ে তার ব্যাপারেই একাডেমিক দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশংসা শোনা যায়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন ও মানবাধিকার প্রশ্নে বেশ জোরালো ভূমিকা রাখায়  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। ভিসির তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক শামীম, সেদিক দিয়েও অন্যদের তুলনায় উপাচার্যের দৌড়ে এগিয়ে তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্রতার মধ্যে ৩০শে জুলাই প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বাসায় বোমা হামলা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শৈবাল ইসলাম মাসুদ, আবু বকর তোহা ও ছাত্রলীগ নেতা আবির ইকবালের নেতৃত্বে রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। ১০-১৫টি মোটরসাইকেলযোগে ওই এলাকায় যায় হামলাকারীরা। পরদিন ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও এই শিক্ষকরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান আন্দোলন উজ্জীবিত করতে কবিতাও রচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কবিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী শেয়ার করেন। ঝুঁকির মুখে পড়েও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকায় এই শিক্ষক রয়েছেন আলোচনায়। ড. আতিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে পিএইচডি করেছেন জাপানের এহেমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কাজের সঙ্গে জড়িত। চবির গবেষকদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন এই অধ্যাপকের অবস্থান।
শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় আছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ড. মো. কামাল উদ্দিনও। এই দুইজনই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গণহত্যা চলাকালে ইন্টারনেট শাটডাউনের সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনমুখী রাখতে অনুপ্রাণিত করে।
ছাত্রছাত্রীদের  আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের অন্যতম হচ্ছে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব  বলে পরিচিত এই শিক্ষক আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। স্ত্রী দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামসুন্নাহার মিতুলকে নিয়ে শহর ও ক্যাম্পাসে  কোটা আন্দোলনের প্রায় সবকটি প্রোগ্রামে সামনের সারিতে থাকতেন তিনি। যে কারণে ৩০শে জুলাই ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বাসায় বোমা হামলা চালায়।

আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক। গণহত্যার প্রতিবাদে তার জ্বালাময়ী বক্তব্য বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবাদ করেছেন তিনি। নিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই শিক্ষক। একই বিভাগের আরেক শিক্ষক খন্দকার আলী আর রাজিও আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি তিনি  আটক হওয়া চবির শিক্ষার্থীদেরকে  ছাড়িয়ে আনতে থানায় দৌড়ঝাঁপ করেন।

কেমন ভিসি দেখতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ হোসাইন বলেন, গণহত্যা চলাকালে চবি শিক্ষক সমিতি একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। পরে জেনেছি সমিতির নেতারা আওয়ামীপন্থি। এজন্য শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে গিয়ে ফ্যাসিস্টের দালালি করেছেন। এরা যেন প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বে না আসেন। আন্দোলন চলাকালে যেসব শিক্ষক ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্য থেকে উচ্চমানের একাডেমিক চর্চা, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এমন কাউকে ভিসি হিসেবে দেখতে চাই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক  রাসেল আহমেদ বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে যথাযথ একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরিবর্তে, বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়োগে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কেবলমাত্র একটি কর্মসংস্থানের স্থানে পরিণত করা হয়েছে। দলীয় পরিচয়ের মাধ্যমে নিজের সিন্ডিকেট রাজ্য আমরা আর দেখতে চাই না। উপাচার্য হিসেবে এমন একজন দায়িত্ব পান, যিনি নিজের স্বার্থে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য কাজ করবেন।

mzamin

রাঘববোয়ালদের ধরতে সরকার কঠোর উদ্যোগ নিচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আর্থিক খাতের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি- গোষ্ঠী তথা রাঘববোয়ালদের ধরতে সরকার কঠোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগ আরও দৃশ্যমান হবে। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইজিএম)-এ এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বড়দের অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এটা প্রাথমিক উদ্যোগ। এরপরে এ নিয়ে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষ পেলে অভিযুক্ত হিসেবে তাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হবে। দ্রুততম সময়ে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সমপ্রতি এক সিদ্ধান্তে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, কালোটাকার বিষয়ে এনবিআর সরাসরি ব্যবস্থা নেবে; যাদেরই অপ্রদর্শিত আয় আছে, তাদের ধরবে। সাংবাদিকেরা বাজারে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দাম নিয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দাম যে একেবারে কমেনি, তা নয়।

চট করে তো সমাধান হবে না। আস্তে আস্তে কমে আসবে। ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; যেমন আলু ও পিয়াজের শুল্ক কমানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাজার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পণ্য সরবরাহের মাঝখানে থাকা বাড়তি হাতগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে। তবে পণ্যের উৎপাদনকারীরা যেন ন্যায্যমূল্য পায়, তা দেখা প্রয়োজন।’

দেশের বিভিন্ন তৈরি পোশাকশিল্প কারখানায় কয়েকদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। এ প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতা কমাতে মালিক-শ্রমিকের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে তারা সবাই সহযোগিতা করছেন।

হোমনায় ট্রিপল মার্ডার ‘মাত্র ৪৭ হাজার টাকার জন্য খুন করে আক্তার’

কুমিল্লার হোমনায় একদিনের ব্যবধানে মা-ছেলেসহ চাঞ্চল্যকর ৩ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে হত্যার কারণ বর্ণনা ও দায় স্বীকার করার পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার জন্য আসামি মো. আক্তার হোসেন (২৭)কে গতকাল কুমিল্লার আদালতে নেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, খুন হওয়া নারীর সঙ্গে টাকা পয়সার লেনদেনের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

বুধবার রাতে ভিকটিমের ঘরে ঢুকে মাহমুদা আক্তার (৩০) ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাহাদ (০৯) এবং ভাতিজি তাইফা সিনহা তিশা (১৫)কে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ ও মাথায় লাঠির আঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবর সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্দের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। খুন হওয়া মাহমুদা আক্তারের পিতা মো. আবুল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হোমনা থানায় মামলা করেন। পুলিশ শুক্রবার বিকালে প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি আক্তার হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আসামি উপজেলার শ্রীমদ্দি চরের গাঁও গ্রামের হক মিয়ার ছেলে।

লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে উপজেলার বড় ঘাগুটিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা ও স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি ৩টি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হোমনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর মহসীন মাসুদ রানা বলেন, আসামি আক্তার হোসেন মাহমুদাকে চাচি সম্বোধন করতো।

তিনি গ্রেপ্তার আক্তারের বরাত দিয়ে বলেন, মাহমুদা আক্তার হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সাতচল্লিশ হাজার টাকা ধার নেন। বুধবার তাকে ওই টাকা দেয়ার কথা বলেই মাহমুদা তাকে (আক্তারকে) বাড়িতে নেন। রাত ৮টার সময় সে ওই বাড়িতে যায়। সেখানে আখ, সিঙ্গারা খেয়ে-দেয়ে রাত ১০টার মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। আক্তারকেও ঘরের মেঝেতে ঘুমাতে দেন। এর আগে টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মনোমলিন্য হয়। এরই রাগে ক্ষোভে রাত প্রায় ২টার দিকে প্রথমে মাহমুদা আক্তার প্রকাশ মাহফুজাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে স্বাশরোধ করে হত্যা করে। পরে একে একে তার ছেলে শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাহাদ এবং ভাতিজি তাইফা সিনহা তিশাকে হত্যা করে। পরে কাঠের একটি লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে থেতলে রক্তাক্ত জখম করে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ফজরের নামাজের আগেই ঘাতক আক্তার পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ৩ খুনের আসামি আক্তার হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছি। ৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা আক্তার প্রকাশ মাহফুজার একই উপজেলার বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের শাহ-পরানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের বিবাহিত জীবনে শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাহাদের জন্ম হয়। ভিকটিমের স্বামী মো. শাহ-পরান ঢাকায় একটি জুতা কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্বামী ঢাকায় চাকরি করার কারণে মাহমুদা তার সন্তানকে নিয়ে রাতের বেলায় ঘুমাতে ভয় পেতো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমের দূরসম্পকের ভাতিজি পার্শ্ববর্তী বাড়ির তাইফা সিনহা তিশাকে সঙ্গে রাখতেন। প্রতিদিনের মতো রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বুধবার রাত ১০টার মধ্যে তাদের দো-চালা টিনের ঘরের পশ্চিম পাশের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ভিকটিমের বাড়িতে নিহত তাইফা সিনহা তিশাকে তার ছোট বোন মীম ডাকতে আসেন। এসেই ভিকটিমের বসতঘরের পূর্বপাশের দরজা ও শয়ন কক্ষের দক্ষিণ পাশের জানালা খোলা দেখতে পায়। মীম ওই জানালা দিয়ে ভিকটিম মাহমুদা আক্তার প্রকাশ মাহফুজা ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাহাদ এবং তাইফা সিনহা তিশাকে খাটের ওপর গলায় ওড়না  পেঁচানো ও মাথায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এমন অবস্থা দেখে বোন মীম চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের ঘরে ঢুকে মাহমুদা ও তার ছেলে শাহাদাত এবং তিশাকে মৃত অবস্থায় খাটের ওপর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো এবং তাদের মাথা কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পায়।

চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ ‘দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পেলে আন্দোলন চলবে’

আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পেলে আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে রাজধানীর শাহবাগে ৩৫ প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দদের সমন্বয়ক রাসেল আল মাহমুদ এমনটাই জানান। বলেন,  বিকাল ৩টা পর্যন্ত শাহবাগে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি ছিল। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়নি। আমাদের বলা হয়েছে- আমাদের জন্য একটি বৈষম্যহীন কমিটি গঠন করে দেয়া হবে। আমরা আমাদের সব সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা বলেছি, সুস্পষ্টভাবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি কমিটি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসবে। আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের নিশ্চয়তা দিলে আমরা সমাবেশ শেষ করবো। না হয় আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

এর আগে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে গতকাল সকাল ১১টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘৩৫ প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা ‘বয়স না মেধা-মেধা মেধা’, ‘আর নয় কালক্ষেপণ-এবার দাও প্রজ্ঞাপন’, ‘৩৫ এর শৃঙ্খল-ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা দেড়টা নাগাদ সেখানে শত শত মানুষের জমায়েত হয়ে যায়। সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন,  বাংলাদেশের সব পর্যায়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ১৯৯১ সালে ২৭ বছর থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়। যখন বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা যৌক্তিক। গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়। কিন্তু, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি না করে সেটি ৩০ বছরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যার কারণে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। তারা বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬২টি দেশে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৫ বছর, তার মধ্যে কিছু দেশে বয়সসীমা উন্মুক্ত। ভারতসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো অনেক গবেষণা করেই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে ন্যূনতম ৩৫ বছর করেছে। কিন্তু আমাদের মাত্র ৩০ বছর। নতুন বাংলাদেশে আমরা এই বৈষম্য মানি না।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে শাহবাগে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কতো অনিয়ম চালু আছে, সে কথা বলতে গেলে একটা ডিকশনারির মতো হয়ে যাবে। কতো যে অস্থায়ী নিয়োগ আছে, যখন তখন একজনকে কান ধরে বের করে দেয়া যায়, এমন নিয়মেরও হিসাব নেই। এসবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। তিনি  বলেন, আমরা যে আন্দোলন করেছি এটা শুধু সরকার পতনের কোনো আন্দোলন ছিল না। আমরা বলেছি, এটা দেশ বদলের আন্দোলন, অপশাসন বদলের আন্দোলন। দেশ থেকে বৈষম্য দূর করাই আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সবকিছু সুন্দরভাবে সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি, আমাদের দেশটা বদলে যাচ্ছে।

সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিজিবি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, সীমান্তে পিঠ প্রদর্শন করবেন না। নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন। গতকাল রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে বিজিবি সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্নীতিকে কোনো অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না। যারা ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। বিজিবিকে আইনানুযায়ী কাজ করতে হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ বিজিবি’র মূল দায়িত্ব। তিনি এ সময় বিজিবিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভিডিও টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজিবি’র সব রিজিয়ন কমান্ডার, সেক্টর কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন কমান্ডারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘জলবায়ু সংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনার সংস্কার প্রয়োজন’

বিগত সরকারের করা বেশ কয়েকটি জলবায়ু সংক্রান্ত জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা অগণতান্ত্রিকভাবে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বিদেশি পরামর্শকদের দিয়ে করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নাগরিক সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট-বাংলাদেশ’। তারা বলছে, এসব জলবায়ু নীতি ও পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নেতৃত্বাধীন ৩৯টি নাগরিক সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট-বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে কয়েকটি জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী ও ‘জলবায়ু ন্যায্যতা জোট- বাংলাদেশ’- এর সমন্বয়কারী মো. শামছুদ্দোহা বলেন, ‘‘জলবায়ু অর্থায়নের জাতীয় তহবিল ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ)’ ও এর আইনি কাঠামো ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট অ্যাক্ট’-এ দলীয় সরকার, আমলাতন্ত্র ও পেশাজীবীদের আধিপত্য সর্বোতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং এতে অবাধ দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছে। বিসিসিটিএফ পরিচালনার জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের ১৪ জনই মন্ত্রী ও একজন সচিব। এছাড়া দুইজন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রয়েছেন সরকার দলীয় মন্ত্রী বা ফান্ড বোর্ডের আমন্ত্রণে বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, যারা প্রকারান্তরে দলীয় সরকারেরই অংশ।”
‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাতিলের দাবি জানিয়ে শামছুদ্দোহা বলেন, বিগত সরকারের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারীর একক তত্ত্বাবধানে কোনো ধরনের অংশীজন আলোচনা ছাড়াই বিদেশি পরামর্শকদের দ্বারা এ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়।
এটি দেশের অন্যান্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এবং বিদেশি ঋণনির্ভর। এছাড়া জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার স্থানীয়করণের এবং অঞ্চলভিত্তিক জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্ততা নিরূপণের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও এর জাতীয় নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এখনো গণতন্ত্র এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের আধিক্য ও তীব্রতা পূর্বানুমিত হলেও আমাদের প্রস্তুতি এখনও কাগুজে পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন সুশীলনের উপ-নির্বাহী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন ফারুক, নাগরিক উদ্যোগের গবেষক ফারহান হোসেন জয়, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপক জনাব আহসানুল ওয়াহেদসহ জোটের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার ক্ষমতা ইউজিসি’র নেই by পিয়াস সরকার

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয় খোলা-বন্ধের কোনো এখতিয়ার নাই। গত ১৬ই জুলাই আবু সাঈদকে হত্যার পর শেখ হাসিনার  নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এজন্য ইউজিসি প্রজ্ঞাপন দেয়। গত ৫২ বছরে ইউজিসি এই কাজ করে নাই। এই ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের নির্দেশে হয়েছে। যে করেছে তাকে খুঁজে বের করতে হবে। এটা যদি ফ্যাসিবাদের নির্দেশে হয়ে থাকে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এটা স্বৈরশাসকের নির্দেশে করে থাকলে সেটা জাতিকে জানাতে হবে। শাস্তি লঘু বা গুরু হোক দিতে হবে। ইউজিসিতে যেসব অনিয়ম হয়েছে এগুলোর তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তদন্ত বা সরকার উচ্চপদস্থ তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারে।

মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উচ্চশিক্ষার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। ইউজিসির সাবেক এই সদস্য আরও বলেন, ইউজিসির বড় কাজ বাজেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বরাদ্দ দেয়া। কিন্তু তাদের প্রধান কাজ কারিকুলাম দেখা। এটা যুগোপযোগী, কার্যকরী, গণমুখী কিনা। যে জ্ঞান কাজে আসে না সে জ্ঞান দিয়ে আমি কী করবো? গবেষণার জন্য টাকা দেয়া আরেকটা কাজ। এই প্রতিষ্ঠানের দেখতে হবে এই গবেষণার মূল্যায়ন কী? এটা সমাজের কী কাজে লাগলো? ইউজিসিকে আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন যেনো আর না দেয়। ডিগ্রি বেচাকেনা করা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। এই ১৬ বছরে নোংরা দলীয়করণ করে লেখাপড়া একরকম শেষ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ জ্ঞানচর্চা। এটা আর হয় না। এখন হয় দলচর্চা। বিগত ১৬ বছরে যারা হাসিনার শাসক দলে ছিল তাদের উন্নতি হয়েছে। তারা লেখাপড়া না করে ডিগ্রি পেয়েছে। শিক্ষকদের নিয়োগ-পদোন্নতি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হয় নাই। এখন কঠোরভাবে যোগ্যতাকে মাপকাঠি হিসেবে ধরতে হবে। আর ছাত্ররা যেনো হলে সহাবস্থান করতে পারে। যারা অপরাধী তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, জেলে পুরতে হবে। এই পরিবেশ ফেরাতে হলে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি। ছাত্রদের প্রতি অনুরোধ তোমরা এখন ক্লাসে ফিরে যাও। তোমরা একটা মহৎ অর্জন করেছো। তোমরা দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন করেছো। তোমাদের জ্ঞানচর্চা করতে হবে। তোমাদের এই অর্জন যেন বৃথা না হয়। আবার যদি প্রয়োজন হয় আবারো আন্দোলন করবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও ক্লাস কিন্তু বন্ধ হয় নাই। যেখানে বোমা পড়েছে সেখান থেকে স্কুল-কলেজ সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

এই শিক্ষাবিদ বলেন, সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা দুইটা করলে তো হবে না। হয়তো অনেকে বলবে শিক্ষা কমিশন করে শিক্ষানীতি করতে হবে। এটা একটা দুরূহ কাজ। এটা না করে সরকার যেটা করতে পারে যে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টগুলো আছে এগুলো পর্যালোচনা করে কয়েকটা সুপারিশ করতে পারে। যেগুলোর কয়েকটি এক্ষুণি ইম্পিøমেন্ট করতে পারে। একটা সুপারিশ আছে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি বাধ্যতামূলক করা। এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। কারিগরি ও গণমুখী যে সুপারিশ আছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে। এগুলো করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) বিষয়ে তিনি বলেন, এটাতো দুর্নীতির কারখানা। প্রত্যেকটা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এটা বিলুপ্ত করে নতুন করে গঠন করা উচিত। এটা পুরোটা দুর্নীতিগ্রস্ত। এটার সংস্কার শুধু নয়, এটার মূলৎপাটন করা উচিত। শুধু তাই নয়, টিক মার্ক দিয়ে মেধার যাচাই করা যায় না। ভাষা জ্ঞানের ওপর জোর দেয়া উচিত। সেইসঙ্গে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

বাহরাইনে বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ১৬ বা ১৮ বছরে একটা দেশের সব প্রতিষ্ঠান একে একে ধ্বংস করা হয়েছে। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ ও নির্বাচন চুরি করা হয়। যার ফলে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়। আরবের ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ যুগের মতো অবস্থা ছিল। হত্যা, গুম, খুন, ডাকাতি, চুরি, ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট এগুলো করে দেশকে সর্বস্বান্ত করে ফেলা হয়। এরা ছিল লুটেরা বুর্জোয়া শ্রেণি। পরিকল্পিতভাবে দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে নিয়ে যায়। সম্পদ বিদেশে পাচার করায় দেশের মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হয়। ভারতের কথা যদি বলি আদানি, টাটা, ডাল মিয়া এরাও লাভ করে, এরাও শ্রমিকদের বঞ্চিত করে কিন্তু তারা তাদের পুঁজি দেশে বিনিয়োগ করে। হাসিনার লোকদের এদের কোনো জাতীয় চরিত্র নাই। এরফলে মানুষ বাজারে গিয়ে হাঁসফাঁস করে। এই কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধŸগতি কোনোভাবেই কমাতে পারে নাই। এজন্য মানুষ মুক্তির প্রতীক্ষা করেছে। এ কারণেই মানুষ ছাত্রদের আন্দোলনে যুক্ত হয়, মুক্তি চায়। ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই বলেছিল, আমিই রাষ্ট্র, আমি যা বলি তাই আইন। হাসিনার শাসনও আইন ছিল। হিটলার পতনের তিন বছরের আগে বলেছিল, আমরা (জার্মানরা) বিশ্বকে এক হাজার বছর শাসন করবো। হাসিনা যখন বলে, হাসিনা পালায় না। এই কথা বলার তিন সপ্তাহ পরে পালিয়ে গেল।

মানববিজ্ঞানী ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এই কাজ শুরু করেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। দ্বিতীয় পরামর্শ, যে গণহত্যা হয়েছে যত ছাত্র আত্মাহুতি দিয়েছে স্বৈরাচার থেকে মুক্তির জন্য তাদের হত্যার বিচার করতে হবে। এটাকে প্রায়রিটি দিতে হবে। হাসিনাসহ সকল হত্যাকারী ও লুটেরাদের বিচার করতে হবে। তৃতীয়ত, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কারণ ড. ইউনূস বিশ্বনন্দিত মানুষ। তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে। আমি আশাবাদী কারণ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান। সবসম্ভব নয় কিন্তু একটা অংশ তো ফিরে আসবে।

তিনি নিহত-আহত ছাত্রদের বিষয়ে বলেন, সরকার তো আহত নিহতদের সাহায্য করছে। আমরা যারা শিক্ষক তারা মিলে একটা ফান্ড সৃষ্টি করতে পারি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা যদি আসে তাহলে আমরা এই ফান্ড গঠন করতে চাই। এই ফান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সচিব বা ইউজিসি চেয়ারম্যান তাদের কাছে থাকবে। ছাত্ররা যদি চায় আমি দায়িত্ব নিয়ে একটা ফান্ড করতে চাই।

গণভবন পরিদর্শনে তিন উপদেষ্টা: জাদুঘর স্থাপনে দ্রুত কমিটি

গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রাথমিক পরিদর্শনে গিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন উপদেষ্টা। এ সময় তারা জানান, জাদুঘরে রূপান্তরের লক্ষ্যে দ্রুতই কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়াও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নানা ঘটনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরের নিপীড়নের চিত্রও থাকবে এ জাদুঘরে। গতকাল এ পরিদর্শন করেন সরকারের  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। প্রায় এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে গণভবনের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমাদের কেবিনেট মিটিং ছিল। সেখানে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জনগণের ওপর যে অত্যাচার, গুম, খুন, নিপীড়নের স্মৃতি সংরক্ষণ করে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। এই জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আজ আমরা সেই উদ্দেশ্যেই প্রাথমিকভাবে গণভবন পরিদর্শনে এসেছি। গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করতে স্থাপত্যশিল্পী, স্থপতি ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করবো। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের কেবিনেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে গণভবন নামে প্রধানমন্ত্রীর যে বাসভবনটি ছিল, সেটিকে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। যেহেতু ৩৬ জুলাই বা ৫ই আগস্ট জনগণ এটি জয় করেছে। অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্টের মুহূর্তটি পেয়েছি। সেটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া এবং জনগণের বিজয়কে ধারণ করে রাখার উদ্দেশ্যেই এই জাদুঘর। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, আমরা পৃথিবীর বুকেই এই জাদুঘরকে একটি নিদর্শন করে রাখতে চাই যে, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট, খুনি রাষ্ট্রনায়কদের আসলে কী পরিণতি হয় এবং জনগণই যে ক্ষমতার মালিক; সে বিষয়টিকে একটি নিদর্শন হিসেবে সারা পৃথিবীর বুকে তুলে ধরতে আমরা গণভবনটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই উদ্দেশ্যেই আমরা আজ প্রাথমিক পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যেই গণপূর্ত ও স্থাপত্য বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে প্রাথমিক পরামর্শ নিয়েছি এবং আমাদের আকাক্সক্ষার কথাও তাদের জানিয়েছি। এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কমিটি গঠন হয়ে যাবে। কমিটি হলে হয়তো আগামী সপ্তাহ থেকেই আমরা কাজ শুরু করবো। যাতে দ্রুত এটি উদ্বোধন করা যায়, সে জন্য দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটিতে কারা থাকবেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, যারা জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারাই কমিটিতে থাকবেন। সেই সঙ্গে বিদেশ থেকেও জাদুঘর বিশেষজ্ঞ বা এমন অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরও পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। জাদুঘরে কী ধরনের স্মৃতি ধরে রাখা হবেÑ জানতে চাইলে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে প্রথমত ৩৬ দিনের অভ্যুত্থানের স্মৃতি, দিনলিপি থাকবে। যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মৃতি থাকবে, তালিকা থাকবে এবং এই আন্দোলন ছাড়াও গত ১৬ বছরে যে নিপীড়ন হয়েছে, যারা গুম হয়েছেন, যাদের বিচার-বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে তাদের তালিকা থাকবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণভবন যে ভগ্নাবশেষ অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে সর্বোচ্চ সেই অবস্থায় রেখে জাদুঘরটি করা হবে। এখানে কিছু ডিজিটাল রিপ্রেজেন্টেশন থাকবে। আসলে গত ১৬ বছরের একটি চিত্রই সেখানে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। পরবর্তী সময়ে কেউ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি কোথায় থাকবেন, জানতে চাইলে উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, সেটা পরবর্তী সময়ে চিন্তা করে দেখা যাবে। আপাতত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যেখানে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা) আছেন, সেখানেই থাকবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? জানতে চাইলে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য উদ্যোগ নিচ্ছি এবং বার বার আমরা এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করার জন্য বলছি। আমরা প্রথম দিন থেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমরা বার বার বলেছি, আমাদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের পক্ষ থেকে, সেই ধরনের আচরণ যেন কারও প্রতি না হয়, সেটাই নিশ্চিত করছি।

টেলিগ্রামে আসছে নতুন নতুন ফিচার

বেআইনি বা অশ্লীল কন্টেন্ট, সাইবার অপরাধ ও দুর্নীতিপরায়ণদের কন্টেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যে নতুন বেশ কিছু ফিচার টেলিগ্রামে যোগ করার ঘোষণা দিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরোভ। তার ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম নিয়ম লঙ্ঘন করার অভিযোগে ফরাসি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত করে। এর এক সপ্তাহ পরে তিনি শুক্রবার এ ঘোষণা দিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবারই প্রথম প্রকাশ্যে নীরবতা ভেঙে মন্তব্য করেন। ওই গ্রেপ্তারকে তিনি ভুল এবং বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি এটা স্বীকার করেন টেলিগ্রাম একেবারে নিখুঁত নয়। বেআইনি কন্টেন্টের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এই অ্যাপটি ব্যবহার করেন ৯৫ কোটি মানুষ। তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্রাংশ বেআইনি কাজ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দুরোভ বলেন, টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৯.৯৯৯ ভাগই কোনো রকম অপরাধ করেন না।

শুধু শতকরা ০.০০১ ভাগ বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তারা এই প্ল্যাটফরমের খারাপ ভাবমূর্তি সৃষ্টি করছে। এর ফলে আমাদের প্রায় এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীকে ঝুঁকিতে ফেলছে তারা। শুক্রবার টেলিগ্রামে নতুন এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা লিখেছেন। তিনি আরও বলেন, এ কারণেই এ বছর আমরা সমালোচনার জায়গাগুলোকে প্রশংসার জায়গায় পরিবর্তনের জন্য আধুনিকায়ন করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দুরোভ বলেন, হাতের কাছে থাকা ফিচারগুলো সরিয়ে ফেলেছে টেলিগ্রাম। এসব ফিচার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা অন্য ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে ফেলে। এমন মানুষের সংখ্যা শতকরা ০.১ ভাগেরও কম। এর পরিবর্তে বৈধতা ও ভেরিফায়েড ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে টেলিগ্রাম। তিনি বলেন, নতুন মিডিয়া টেলিগ্রামে আপলোড ডিজঅ্যাবল করতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, টেলিগ্রামে উগ্রপন্থিদের এবং বেআইনি কন্টেন্ট কমাতে ব্যর্থতার জন্য চারদিন ফ্রান্সে আটকে রেখে অভিযুক্ত করা হয়। গত ২৪শে আগস্ট প্যারিসের বাইরে লা বুরগেট বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি একটি প্রাইভেট জেটে আরোহণ করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি ফ্রান্সেই থাকবেন এবং সপ্তাহে কমপক্ষে দু’বার পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করবেন এই শর্তে ৫০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে জামিন পেয়েছেন দুরোভ।

mzamin

তেল-গ্যাসের বিশাল মজুতের সন্ধান, পাল্টে যাবে পাকিস্তানের অর্থনীতি!

পাকিস্তানের জলসীমায়  তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। এর পরিমাণ এত বেশি যে, যদি তা উত্তোলন করতে পারে তাহলে পাকিস্তানের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের সহযোগিতায় তিন বছর ধরে অনুসন্ধান কাজ চালানোর পর পর ওই বিপুল মজুতের সন্ধান মিলেছে বলে পাকিস্তানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে ডন নিউজ টিভি।  ভৌগোলিক জরিপে পাকিস্তান ওই বিপুল সম্পদের মজুতের স্থানটি শনাক্ত করে। পাকিস্তানি জলসীমায় পাওয়া এ সম্পদের কথা এরই মধ্যে সরকারকে অবহিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ডনকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু। পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তা এই সুবিধা পাওয়ার প্রচেষ্টাকে ‘ব্লু ওয়াটার ইকোনমি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই তেল ও গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তা পর্যালোচনাও করা হচ্ছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে সেখান থেকে এই খনিজ সম্পদ উত্তোলন কাজ শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সেখানে কূপ খনন এবং প্রকৃতপক্ষে তেল পেতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই ‘ব্লু ওয়াটার ইকোনমি’ শুধু তেল ও গ্যাসের চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে। সমুদ্রে এই বিশাল ভাণ্ডার থেকে এর পাশাপাশি বিভিন্ন মূল্যবান খনিজ পদার্থ ও উপাদান পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে এবং দ্রুততার সঙ্গে সক্রিয় হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত পাল্টে যাবে। কিছু পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে এই অনুসন্ধানে যে তেল-গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে তা হতে যাচ্ছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ তেল ও গ্যাসের মজুদাগার। বর্তমানে প্রায় ৩৪০ কোটি ব্যারেলের তেল রিজার্ভ হিসেবে ভেনিজুয়েলাকে নেতৃস্থানীয় হিসেবে ভাবা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে বেশি অব্যবহৃত শেল তেলের মজুত আছে। শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে আছে সৌদি আরব, ইরান, কানাডা ও ইরাক। ডন নিউজ টিভিকে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটির (ওগরা) সাবেক সদস্য মুহাম্মদ আরিফ বলেন, যদিও দেশকে আশাবাদী হওয়া উচিত, তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী মজুতের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। এই জ্বালানি দিয়ে কি দেশের মোট চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নির্ভর করবে মজুদাগারের আকার এবং সেখান থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের হারের ওপর। যদি এটা গ্যাসের মজুদাগার হয়, তাহলে পাকিস্তান তার আমদানি করা এলএনজি বাদ দিতে পারে। অন্যদিকে যদি এটা হয় তেলের মজুদাগার তাহলে আমরা আমদানি করা তেল বাদ দেবো। তবে ড্রিলিং প্রক্রিয়া বা খনন কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এই উত্তোলন কাজ শুরু করতে বিপুল পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। অফসোর লোকেশন থেকে এসব আহরণ করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে।
mzamin

জিরো টলারেন্সে বিএনপি’র হাইকমান্ড: অভিযোগ প্রমাণ হলেই মামলা by কিরণ শেখ

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি’র হাইকমান্ড। সম্প্রতি বিভাগীয় পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে দল এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করা হচ্ছে বহিষ্কার ও পদ স্থগিত। এমনকি দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি’র প্রায় ৫০ থেকে ৬০জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারো পদ স্থগিত করা হয়েছে, কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কারও বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে জাতীয় পর্যায় থেকে তূণমূলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনেও চাঁদাবাজি ও দখলদারীর অভিযোগে নেতাকর্মীদের বহিষ্কার, পদ স্থগিত এবং মামলা করা হচ্ছে।

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে হাতবদল হয়েছে। এ সব জায়গায় এখন বিএনপিপন্থিরা দলবল নিয়ে মহড়া ও হুমকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ সব নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনসাধারণের কাছে দলটির ইমেজ ধরে রাখতে কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি’র হাইকমান্ড। চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিন’র। তারা বলেন, সম্প্রতি বিভাগীয় পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও তারেক রহমান মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি ও দখলের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যেসব নেতাকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তারেক রহমানের এই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এরই প্রেক্ষাপটে ২রা সেপ্টেম্বর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাদী হয়ে মামলার এজাহার দেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতিপয় ব্যক্তি বিএনপি’র নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে সবাইকে বারবার সতর্ক করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর তারেক রহমান এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এখন শুধু সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন।

গত ২৭শে আগস্ট ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় এলজি-বাটারফ্লাই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য একটি আবেদনপত্রে সুপারিশ করেন ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। ওই আবেদনে প্রতিষ্ঠানের সাপ্লাই চেইন, পরিবহন এবং ওয়েস্ট ডিজপোজাল কাজ ভালুকা এন্টারপ্রাইজকে দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই কোম্পানিকে দেয়া সুপারিশে বিএনপি নেতা ফখরউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, উল্লিখিত (ভালুকা এন্টারপ্রাইজ) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যবসা পরিচালনার কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হইল। তারপরই বিএনপি’র সিনিয়র  যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

তবে শনিবার রাজধানীতে ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিএনপি’র একজন পরীক্ষিত কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করে সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়ে আজকের এ পর্যায়ে এসেছি। এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে নেয়া দলীয় সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিয়েছি। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিকট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে নেয়া সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।

সভায় উপস্থিত দু’জন নেতা মানবজমিনকে বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের মধ্যে বিএনপি’র যে জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই জনপ্রিয়তা নিয়েই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে চান বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এটা যেই নষ্ট করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এ সময়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তির বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তারেক রহমান। গত ৮ই আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএনপি’র ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় এবং বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত কোনো স্তরেরই কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যোগদান করানো যাবে না।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বহিষ্কার, পদ স্থগিত এবং মামলাও করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছেন জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

ওদিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংগঠনটি। এর আগে তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন মানবজমিনকে বলেন, অপরাধের প্রমাণ পেলে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও কমিটি ভেঙে দেয়া এবং পদ স্থগিত করা হচ্ছে। তবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ৭ থেকে ৮জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলের অভিযোগে ঢাকায় ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংগঠনটি। এসব অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর প্রায় ২০০ নেতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মানবজমিনকে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে এ পর্যন্ত একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যেসব কাজ করলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে- এমন অপরাধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

গাজীপুর-আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলেছে

কঠোর নিরাপত্তায় গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকায় কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো খুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, শ্রমিক নেতা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের   আশ্বাস পাওয়ায়  গতকাল  সকালে নির্ধারিত সময়ে বেশির ভাগ কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। এর মধ্যে আবারো কয়েকটি কারখানা সাধারণ ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ জানায়, শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানা চালু থাকলেও বন্ধ রয়েছে নিউ এইজ, নাসা, অনন্ত ও শারমিনসহ কয়েকটি কারখানা। এগুলোতে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে সেসব কারখানায় কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কতোগুলো কারখানা বন্ধ রয়েছে বা ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে যেসব এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে,  সেসব এলাকায় নিরাপত্তা  জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার পার্ল গার্মেন্টসের সামনে  মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা। আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা।

এদিকে মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় বেশকিছু কারখানা আগে থেকেই বন্ধ আছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ১৭টি কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছে। আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে অস্থিরতা চলছে, অনন্ত অ্যাপারেলস, আল-মুসলিমসহ  বেশ কয়েকটি কারখানার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কোনো কারখানায় হামলা-ভাঙচুর কিংবা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা বিক্ষোভ করার পাশাপাশি কাজ না করে যার যার মতো কারখানা থেকে  বেরিয়ে চলে গেছেন। এদিকে শ্রমিকদের বাসায় থাকার অনুরোধ জানিয়ে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ইপিক গ্রুপের পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড কারখানাটি এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আশুলিয়ায় নরসিংহপুর এলাকার হামীম গ্রুপের  কার্যক্রম চলমান থাকলেও বন্ধ রয়েছে নিউ এইজ। নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা কারখানায় এলেও কার্ড পাঞ্চ করে বেরিয়ে গেছে। অনন্ত কারখানার শ্রমিকরা কারখানার  ভেতরে অবস্থান করলেও কাজ করছে না। আল-মুসলিমেরও একই অবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, সকালে কারখানায় প্রবেশের পর মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় ১১টার পর আমরা কারখানা থেকে চলে যাই। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, সকালে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও  কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন না বলে কর্তৃপক্ষকে জানান। এ সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় অনন্ত, আল-মুসলিমসহ  বেশকিছু কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানা থেকে  বেরিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আশঙ্কায় আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় ছুটি  দেয়া হয়। সব মিলিয়ে দুপুর পর্যন্ত ১৭টি কারখানা ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে।  এ ছাড়া কারখানার সামনে বিশৃঙ্খলার সময় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত কারখানা সংলগ্ন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে ও কারখানার সামনে  সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

এদিকে গাজীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে খুলে দেয়া হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। শনিবার সকাল থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করেছেন। কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ কারখানায় এসেছেন। কারখানা এলাকার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। টহলে রয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গত কয়েকদিন শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় গাজীপুরে বেশকিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। পরে বিজিএমইএ’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে সকল কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন মালিকরা। কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।  তারা বলছেন, হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা ছাড়া প্রকৃত শ্রমিকরা এ সময়ে তেমন কোনো আন্দোলনে নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহিরাগতরা সমস্যার সৃষ্টি করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে চান তারা।
মালিকপক্ষ বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে হামলা চালিয়ে, ভাঙচুর করে শিল্প খাতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি ও ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ জানান, সব কারখানাই খোলা রয়েছে। কারখানা এলাকায় নিরাপত্তায় প্রায় ৯শ’ শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। গাজীপুরের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা, লক্ষীপুরা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, কালিয়াকৈরসহ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো খোলা হয়। সবার প্রত্যাশা উৎপাদন কাজ স্বাভাবিক রেখে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে এই খাতকে সামনে রেখে।

ভারতের উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা: রিজভী

ভারতের উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ চন্দ্রিমা উদ্যানে নার্সেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দেশ থেকে এক দানবকে তাড়িয়ে মুক্ত বাতাসে চলাফেরা করছে। আমি যে গ্রেপ্তার হতে পারি, গুম হতে পারি-এই শঙ্কা আর নাই। এখন মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছে, শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। এটা কি আপনারা চাচ্ছেন না? বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক-এটা কি ভারতের নীতিনির্ধারকরা পছন্দ করেন না? নাকি এসব মেনে নিতে পারছেন না? শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশে নাই, এই কষ্ট কী ভারতের নীতিনির্ধারকরা মেনে নিতে পারছেন না? আমরা যেমন ভারতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করি। ভারতের উচিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা।

ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি যদি আপনাদের যোগাযোগ থাকে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ এটা ভালোভাবে মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ যেমন দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন সহ্য করতে পারে, তেমনি বিদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং তেজ দেখাতে জানে। বাংলাদেশ যে একটি বীরের জাতি-এটা ভারতের মাথার মধ্যে কিন্তু রাখতে হবে।
রিজভী বলেন, যারা নিজের দেশের জনগণের ওপর অত্যাচার করে, হত্যা করে, আয়নাঘর বানিয়ে বছরের পর বছর মানুষকে আটকে রাখে-তারা দেশ পরিচালনা করবে কীভাবে? কিছুদিন পুলিশ দিয়ে হত্যা, গুম করে দেশ পরিচালনা করেছে। কিন্তু মানুষ তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে তাদের পতন ঘটিয়েছে। যেমনিভাবে বৃটিশদেরকে তাড়িয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের তাড়িয়েছে ঠিক তেমনি ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
এসময় বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, নার্সেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাহানারা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

কমালা হ্যারিসকে ভোট দেবেন ডিক চেনি

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী কমালা হ্যারিসকে ভোট দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং যাবজ্জীবন রিপাবলিকান দল করা ডিক চেনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্সির সময়ে তিনি খুব প্রভাবশালী একজন রাজনীতিক ছিলেন। তিনি এক বিবৃতিতে তার দল রিপাবলিকানের এবারের প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিরাট হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে আমাদের প্রজাতন্ত্রে বড় কোনো হুমকি কখনো কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি। এর আগে টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে ডিক চেনির মেয়ে রিপাবলিকান সাবেক আইনপ্রণেতা লিজ চেনি বলেছিলেন, এবার ডেমোক্রেট দলের মনোনীত ব্যক্তিকে সমর্থন দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তার পিতা। ডিক চেলি বলেছেন, তিনি (ট্রাম্প) গত নির্বাচনে মিথ্যা ও সহিংসতাকে ব্যবহার করে নিজেকে ক্ষমতায় ধরে রাখার জন্য ভোট চুরি করেছেন। কিন্তু ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ক্ষমতায় আবার তার ওপর কখনো কোনো আস্থা আনা যাবে না। নাগরিক হিসেবে আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আমাদের সবার ওপরে অংশীদারিত্বের দায়িত্ব আছে। এ জন্যই আমি এখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে ভোট দেবো।

ডিক চেনির এই মন্তব্যকে কমালা হ্যারিস শিবির থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তার প্রচারণা শিবিরের চেয়ার জ্যাঁ ও’ম্যালি ডিলন বলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট চেনির সমর্থন পেয়ে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট গর্বিত। দলীয় বিবেচনার বাইরে দেশের জন্য ঊর্ধ্বে উঠার জন্য তার এই সাহসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু প্রভাবশালী রিপাবলিকান। তার সঙ্গে ডিক চেনির নাম যুক্ত হওয়ায় সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হলো। ডিক চেনির মেয়ে লিজ চেনি এরই মধ্যে কমালা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছেন। লিজ চেনি ৬ই জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার তদন্তে হাউজ সিলেক্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই ঘটনার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রস্তাবে যে ১০ রিপাবলিকান ভোট দিয়েছিলেন, তার মধ্যে লিজ চেনি অন্যতম। উল্লেখ্য, ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থীর কাছে ২০২২ সালে কংগ্রেসের নির্বাচনে আসন হারান লিজ চেনি। কমালা হ্যারিসকে ডিক চেনির সমর্থন দেয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর ডিক চেনিকে নামমাত্র রিপাবলিকান বলে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া তিনি ইরাক যুদ্ধে ডিক চেনির ভূমিকার জন্য তাকে ‘কিং অব এন্ডলেস, বাজে যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যশোরের কোটিপতি ফুড অফিসার সালমা চৌধুরী by নূর ইসলাম

যশোরসহ এ অঞ্চলে খাদ্য বিভাগে পরিচিত নাম সালমা চৌধুরী। অধিদপ্তর থেকে শুরু করে যশোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সবাই তাকে চেনে কোটিপতি অফিসার হিসেবেই। সদালাপী ও মিষ্টি ভাষিণী এই কর্মকর্তা উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করলেও বর্তমানে তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক। চাকরি জীবনে দৃশ্যমান বড় ধরনের অনিয়ম করেও তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। খাদ্য বিভাগের চাকরি যেন তার কাছে আলাদিনের চেরাগ। খাদ্য বিভাগের একজন উপজেলা কর্মকর্তা হয়েও রাতারাতি হয়েছেন কোটিপতি। যতবারই তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তিনি ততবারই বিভিন্ন কূট কৌশলী ও কথার মায়াজালে সবাইকে ম্যানেজ করেই আজ এ পর্যন্ত এসেছেন বলে জানান তার সহকর্মীরা। সর্বশেষ মাগুরা জেলার শালিখার আড়পাড়ার খাদ্যগুদামে বড় ধরনের সরকারি অর্থ চাল লোপাটের ঘটনায় ম্যানেজ ফরমুলায় সালমা চৌধুরী রক্ষা পাওয়ায় তিনি এখন যশোরে খাদ্য অধিদপ্তরের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে।

নির্ভরযোগ সূত্রের দাবি, সালমা চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। প্রথমে তিনি ঢাকা খাদ্য অধিদপ্তরে চাকরি করেছেন। সে সুবাদে অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক রয়েছে। আর এটাই তার বড় পুঁজি। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। চাকরি জীবনে নানা অনিয়ম করলেও অধিদপ্তর থেকে বরাবরই তাকে রক্ষা করা হয়েছে। আর এ সুবাদে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। যশোর শহরের বেজপাড়া কবরস্থানের পাশে নির্মাণ করেছেন ৪ তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। হামিদপুরে রয়েছে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

সূত্র বলছে, বিভিন্ন তদবির ও ম্যানেজ ফরমুলায় সালমা চৌধুরী খুবই পারদর্শী। খাদ্য অধিদপ্তরে রয়েছে তার অদৃশ্য ক্ষমতা। এজন্য পাহাড় সমান অন্যায় করেও তিনি রয়েছেন সব সময় অধরা। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি ড. বীরেন শিকদারের বিশেষ আস্থাভাজন সালমা চৌধুরী মাগুরা জেলার আড়পাড়া সরকারি খাদ্যগুদামের ইনচার্জ থাকাকালীন এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৯০ টন চাল ও ২২ হাজার নতুন বড় খালি বস্তা বাইরে বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে সে সময় একাধিক পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সালমা চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলাও রুজু করা হয় সালামসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে। তদন্তে সালমা চৌধুরী দোষী হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তিনি মামলার দায় থেকে রহস্যজনকভাবে রেহাই পেয়েছেন। বলির পাঠা হয়েছেন গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের ৬ই জানুয়ারি মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া খাদ্য গুদাম থেকে ১৯০ টন চাল ও ২২ হাজার নতুন বড় খালি বস্তা চুরি করে বাইরে বিক্রি করে দেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সালমা চৌধুরী। ওই সময় যার দাম ছিল এক কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ওই সময় মাগুরা-২ আসনের এমপি বীরেন শিকদারের ভাই বিমল শিকদারের সঙ্গে যোগসাজশ করেন সালমা চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী হাজী সবুর, উপ-খাদ্য পরিদর্শক আশালতা ও নিরাপত্তা প্রহরী সুভাষ চন্দ্র সরকারে মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। যার নেতৃত্ব দেন তিনি নিজেই। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদাম থেকে সরকারি ধান, চাল ও বস্তা লোপাট করেন তিনি। কিন্তু কথায় আছে, চোরের দশদিন আর গেরস্তের একদিন।’ লুটপাটের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ বাধলে চাল চুরির বিষয়টি ফাঁস হয়। এই ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে বেকায়দায় পড়ে সালমা চৌধুরী। তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ম্যানেজ কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তাকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং এ চুরির ঘটনায় বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। যশোরের ডিসি ফুড সেই তদন্ত কমিটির অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দ্রুত মাগুরা থেকে যশোরে বদলির অর্ডার করিয়ে যশোরের শার্শায় চলে যান।  সেই তদন্তে সালমা চৌধুরীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে রিপোর্ট দেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সে সময় দুর্নীতি দমন কমিশনও সালমা চৌধুরীর এই চাল চুরির ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। কিন্তু সেই তদন্তের ফলাফল আজও জানা সম্ভব হয়নি। খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাগুরার আড়পাড়া সরকারি খাদ্যগুদাম লোপাটের ঘটনার পুনঃতদন্ত হওয়া দরকার। পুনঃতদন্ত হলে সালমা চৌধুরী এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কোনো ভাবেই পার পাবেন না।
এ ব্যাপারে জানতে সালমা চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কয়েক দফা কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সুনীতা উইলিয়ামসদের মহাকাশে ফেলেই পৃথিবীতে ফিরে এল বোয়িং স্টারলাইনার

শনিবার সকাল ৯.৩১ মিনিটে নিউ ম্যাক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস স্পেস হারবারে নামলো বোয়িং স্টারলাইনার ক্যাপসুলটি। মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর ৫ জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এই ক্যাপসুলে চড়েই একটি মিশনে গিয়েছিলেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সেদিন থেকে সেখানেই  আটকে ছিল বোয়িংয়ের স্টারলাইনার ক্যাপসুল। জানা গেছে, বেসরকারি মহাকাশযান স্টারলাইনার শনিবার সকাল ৮.৫৮ নাগাদ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। তার পর মাটি ছুঁতে তার সময় লাগে আরও ৪৪ মিনিট। অবতরণের সময় বায়ুমণ্ডলে থাকাকালীন যানটির হিটশিল্ড চালু রাখা হয়। এর পর একে একে খোলা হয় ৩টি প্যারাশুট। যাতে কোনও রকম দুর্ঘটনা এড়িয়ে ধীরে ধীরে তা পৃথিবীর মাটি ছুঁতে পারে। বিজ্ঞানীদের দাবি, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে নামার এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে মোট ৬ ঘণ্টা। তবে ক্যাপসুলটি  পৃথিবীতে ফিরে এলেও আপাতত মহাকাশেই আটকে রইলেন সুনীতার।

ফলে তাদের যাত্রা হতে চলেছে আরও দীর্ঘ। ১০ দিনের মিশনে যাওয়া এই যাত্রা আট মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নাসা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বুচ এবং সুনীতা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কোনও মিশনের ক্ষেত্রেই মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বোয়িং-এর দাবি, বর্তমানে তাদের মহাকাশযান স্টারলাইনার মহাকাশচারীদের ফিরিয়ে আনার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে চ্যালেঞ্জার এবং কলম্বিয়া মহাকাশযান দুর্ঘটনার পর নাসা আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। এই অবস্থায় গত শুক্রবার স্টারলাইনারকে বিদায় জানান দুই মহাকাশচারী। তাঁরা বার্তা দেন, ‘ওকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নাও। সব ভাল হোক।’ সুনীতাদের মহাকাশে রেখে অবশেষে পৃথিবীতে ফিরল স্টারলাইনার।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন,

‘বাজার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চাঁদাবাজি কমলে নিত্যপণ্যের দাম কমবে।’

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স ম্যানেজম্যান্টের (বিআইজিএম) সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পোশাক খাতের অস্থিরতা কমাতে মালিক-শ্রমিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে।’

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আলু ও পেঁয়াজে ট্যাক্স কমানো হয়েছে। দাম শুধু কাওরান বাজারে দেখলে হবে না, অন্যান্য বাজার দেখতে হবে। কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য চার বার হাত বদল হয়, এটা বন্ধ করা হবে।’

রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না থাকায় অর্থ লোপাটকারীদের সহজে ধরে ফেলবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আরও দৃশ্যমান হবে।’

mzamin

৭১-এর মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই: আ স ম রব

৭১-এর মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, ‘৭১ সালের মার্চ মাসেই স্বাধীনতার ইশতেহারে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নামকরণ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতসহ মৌলিক প্রশ্ন নিষ্পত্তি করেই রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত ভিত্তি যা অগণিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতির অস্তিত্বে প্রথিত হয়ে আছে, তা নিয়ে অহেতুক বিতর্কে জাতীয় অনুভূতি ও মনন আঘাত প্রাপ্ত হয়।’

শনিবার জেএসডির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার শতাধিক নেতাকর্মী আ স ম আবদুর রবের হাতে ফুল দিয়ে জেএসডিতে যোগ দেন।

মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এসব অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তুলে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর ৭১-এর জনআকাঙ্ক্ষার সাথে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সেতুবন্ধনে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; কোনো অবস্থাতেই এর ব্যত্যয় হতে দেওয়া যাবে না।’

আলোচনা সভায় সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার আলোকে সংবিধান রচনা ও বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠনের মৌলিক প্রস্তাবনা উপেক্ষা করায় বাংলাদেশ ক্রমাগত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিগত ১৫ বছর রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দলের অনুগত করে সরকারের অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার করেছে। গত ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সংসদের উচ্চকক্ষসহ ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন, সংবিধানের আমূল সংশোধন এবং ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অপসারণ জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। এসব লক্ষ্য পূরণে দলের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সক্রিয় থাকতে হবে।’

ঢাকা মহানগর জেএসডির সমন্বয়ক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া,সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার সাজু ও মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

এছাড়া যোগদানকারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, মোহাম্মদ নূর নবী, মনির হোসেন, জিয়াউর রহমান বাচ্চু, মফিজুর রহমান বাবু ও রফিকুল ইসলাম রাজা।

mzamin

পাকিস্তানে মিললো খাজানার সন্ধান, বদলে দিতে পারে গোটা দেশের অর্থনীতিকে

পাকিস্তানের মাটিতে মিললো  গুপ্তধনের শোধন । যা বদলে দিতে পারে দেশের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে। পাকিস্তানের আঞ্চলিক পানি সীমায় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে, পরিমাণ এত বেশি যে  দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে। একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ডননিউজ টিভি এখবর জানিয়েছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন , তেল ও গ্যাসের মজুদের উপস্থিতি যাচাই করার জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সহযোগিতায়  তিন বছরের জরিপ করা হয়েছিল। এই খনিজ ভাণ্ডার থেকে যে বিপুল অর্থ উপার্জন হবে, তাকে ‘ব্লু ওয়াটার ইকোনমি’ বলা হচ্ছে। এই খনিজ ভাণ্ডার খননের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই নিলাম দর ডাকছে। শীঘ্রই সমীক্ষা শুরু হবে। তবে কূপ  খুঁড়ে, তার থেকে তেল উত্তোলন করতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।এই মজুদগুলো দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা  বলেন- এটা নির্ভর করে উৎপাদনের আকার ও পুনরুদ্ধারের হারের ওপর। "যদি এটি একটি গ্যাস রিজার্ভ হয় তবে এটি এলএনজি আমদানি প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং যদি এটি তেলের মজুদ হয় তবে আমরা আমদানি করা তেল প্রতিস্থাপন করতে পারি।"তিনি উল্লেখ করেছেন যে শুধুমাত্র অনুসন্ধানের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং একটি অফশোর অবস্থান থেকে রিজার্ভ বের করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।তিনি বলেন, যদি অনুসন্ধানের ফলে রিজার্ভের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে মজুদ উত্তোলন ও জ্বালানি উৎপাদনের জন্য কূপ এবং অবকাঠামো স্থাপনের জন্য আরও বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।বিশ্বের সবথেকে বেশি তেলের খনি রয়েছে ভেনেজুয়েলাতে। এছাড়া সৌদি আরব, ইরান, কানাডা ও ইরাকেও প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামের খনি রয়েছে। মনে করা হয়, আমেরিকাতেও এমন প্রচুর তেলের খনি রয়েছে, যার হদিশ এখনও মেলেনি।পাকিস্তানের প্রাক্তন তেল ও গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটির প্রাক্তন সদস্য মহম্মদ আরিফ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ টিভিকে   দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা আশাবাদী হলেও, ১০০ শতংশ নিশ্চয়তা নেই যে বিপুল তেলের সন্ধান মিলবে।'


সূত্র : ডন

বিদেশে পোস্টিং বঞ্চিত স্বরাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিভাগ বিধিগত ও সম্মানজনক সমাধান চায়

তারা আমাদের ভাই। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈরিতা নেই। আমরা এটার একটি বিধিগত ও সম্মানজনক সমাধান চাই। তাদের পক্ষ থেকে ৫ জন বিদেশে মিশনে গেলে আমাদের তরফ থেকে ২ জন অন্তত যেতে পারেন। ২০১৬ সালে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিদেশের ১৯টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবল বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো পদায়ন শুরু করে। যার ফল এককভাবে সুরক্ষাসেবা বিভাগ ভোগ করছে বলে দাবি করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে সুরক্ষাসেবা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা বিভাগের সৃষ্ট সমস্যার দীর্ঘ ৮ বছরেও কোনো সুরাহা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে সমহারে নিয়োগ-পদায়নের সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন  জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশের ১৯টি মিশনে পোস্টিং নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ৮ বছরেও সুরাহা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে সমহারে নিয়োগ-পদায়নের সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না। উল্টো মিশনের ৭৩টি পদে সুরক্ষা বিভাগ থেকে এককভাবে পোস্টিং দেয়ার নীতি গ্রহণ করায় ক্ষোভ-অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দূতাবাসগুলোয় এই প্রাইজ পোস্টিংয়ের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এখন জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে এক ধরনের নীরব রেষারেষি। এর আগে ২০২০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর জননিরাপত্তা বিভাগকে বাদ দিয়ে শুধু সুরক্ষা বিভাগ থেকে ৪ জনকে বিদেশ মিশনে পোস্টিং দেয়ায় তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একই বছর ১৮ই আগস্ট তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দুই বিভাগে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের একটি চিঠি দেয়া হয়। যেটার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ২০১৭ সালে মিশনে পদায়ন নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হলে উভয় বিভাগকে সমন্বিত রাখার জন্য জননিরাপত্তা ও সুরক্ষাসেবা বিভাগের কর্মচারীদের সমহারে বিভিন্ন দূতাবাসে পদায়নের জন্য একই বছর ১লা মার্চ একটি পরিপত্র জারি করে। পরে সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জারিকৃত পরিপত্রটিকে সঠিক নয় এবং তাদের সরকারবিরোধী বলে প্রচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জারিকৃত পরিপত্রটি দীর্ঘ দুই বছর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে বাস্তবায়িত না হওয়ায় জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মচারীরা ২০১৯ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। যার নম্বর-৯৮৬৩/২০১৯। রিট অনুযায়ী বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে উভয় বিভাগ থেকে সমহারে জনবল পদায়নের জন্য ২০২৩ সালের ৬ই এপ্রিল একটি রায় প্রদান করেন। পরে সুরক্ষা সেবা বিভাগ উচ্চ আদালতের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ কোর্টে একটি আবেদন করলে কোর্ট রায়টি স্থগিত না করে ৮ সপ্তাহের জন্য স্ট্যাটাসকো প্রদান করেন। এ সময় সুরক্ষাসেবা বিভাগ বিদেশে জনবল পদায়নের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মচারীরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর বিদেশে জনবল পদায়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য ২০২০ সালের ১৮ই আগস্ট এবং গত ১০ই মার্চ ২টি আবেদন করেন। যেখানে আদালত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশ অবমাননা করে বিভিন্ন মিশনে সুরক্ষাসেবা বিভাগ জনবল পদায়ন করে। এ বিষয়ে অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্র। জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মচারীরা কর্মক্ষেত্রে চরম এই বৈষম্যের বিষয়টির নিরসন চেয়ে   ২০১৭ সালে জারিকৃত পরিপত্র এবং এ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস-হাইকমিশনের অফিসসমূহের কনস্যুলার সার্ভিস শাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরও ৬টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ সেবা দিয়ে থাকে। অন্য মন্ত্রণালয়গুলো হলো- পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ইআরডি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৪টি বিভাগের মধ্যে শুধুমাত্র ইআরডি থেকে মিশনে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ মিশনের নির্ধারিত ডেস্কে ২০১৪ সাল থেকে পোস্টিং পেয়ে আসছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বর্তমানে ১৯টি মিশনে তিন ক্যাটাগরিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৭৩টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির পদ ১৯টি। যেখানে ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রথম ও দ্বিতীয়, সচিব হিসেবে প্রথম শ্রেণির পদে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ১০টি এবং তৃতীয় শ্রেণির রয়েছে ৪৪টি পদ। স্বামী-স্ত্রী ও ২ সন্তানসহ ৪ বছর মেয়াদি এই প্রাইজ পোস্টিং পেতে অনেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন। মিশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলো হলো- সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতারের দোহা, কুয়েত, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জর্ডান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহাম, কানাডার অটোয়া, হংকং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গিটুরিয়া। আইন ও বিধিগত সবদিক পর্যালোচনা করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত নথির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেন ২০১৭ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি। যার মূল বিষয় ছিল- বিদেশ মিশনে জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগ থেকে সমহারে নিয়োগ দিতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা বিভাগের তৎকালীন সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরে ওই বছর ১লা মার্চ একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমহারে নিয়োগ-পদায়ন করার সুযোগ সৃষ্টি করা হলো। এ জন্য উভয় বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোয় সমহারে পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে দুই বিভাগের সচিবকে অন্তর্ভুক্ত নির্বাচন কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ সংক্রান্ত ২০১৪ সালের নীতিমালার ২.১, ৫.১, ৬.৮, ৭.১ এবং ১০.১ অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। কিন্তু মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং এই পরিপত্র জারির দীর্ঘ ৮ বছর পার হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের একাধিক সচিবের সঙ্গে কথা বললে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের এক সদস্য বলেন, এক মন্ত্রণালয়ের দুটি দপ্তর যেমন থাকতে পারে না। একইভাবে দপ্তর আলাদা হলেও মন্ত্রণালয় তো একই। অতএব আমাদের একটিই চাওয়া ২০১৭ সালে জারিকৃত পরিপত্রের বাস্তবায়ন। এবং এ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

আর জি কর নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ড: কলকাতায় ফের রাত দখল ও ভোর দখলের ডাক

কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ আরও জোরদার হচ্ছে। এবার ‘শাসকের ঘুম ভাঙাতে নতুন গানের ভোর’ শিরোনামে রাত ও ভোর দখলের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার কলকাতার মানিকতলার রাজা রামমোহন হলে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কর্মসূচির ডাক দেন সমাজসেবী রিমঝিম সিংহ। এর আগেও তাঁর ডাকে নারীদের রাত জাগার কর্মসূচিতে বেশ সাড়া মিলেছিল।

রিমঝিম বলেন, নারী চিকিৎসকের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। কেউ থামাতে পারবে না। তাই তাঁরা আবার ৮ সেপ্টেম্বর রাত দখল ও ৯ সেপ্টেম্বর ভোর দখলের ডাক দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আর জি করে নারী চিকিৎসক হত্যা মামলা নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের শুনানি হওয়ার কথা।

এদিকে এ ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এর বিরোধিতা করে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ সিবিআইর তদন্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের আর্থিক অনিয়মের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা আজ সন্দীপ ঘোষসহ তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ১২ জনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন।

এদিকে আজও আর জি করে ওই নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ হত্যাকাণ্ড নিয়ে দোষীদের খুঁজে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে কলকাতায় বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে।

বালিগঞ্জ ও রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের যৌথ উদ্যোগে আজ প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয় রাজাবাজার থেকে আর শেষ হয় শ্যামবাজারে। কলকাতায় কো-অর্ডিনেশন কমিটি আলাদাভাবে আজ এক প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয়। তারাও দাবি তোলে, নারী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের।

আজ হাওড়ায়ও স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বাম যুব ও ছাত্র সংগঠন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও মহিলা সমিতির সমর্থকেরা। তাঁরা মিছিল নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশও লাঠিচার্জ করে বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনের সমর্থকদের ওপর।

বিজেপি আজ রাজ্যজুড়ে পালন করে ‘চাকা জ্যাম’ কর্মসূচি। এতে রাজ্যের বহু জায়গায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সিলেটে দিনে এক তৃতীয়াংশ লোডশেডিং by ওয়েছ খছরু

গত ক’দিন ধরে সিলেটে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। গতকাল বিকাল ৩টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ কারণে প্রচণ্ড গরমে সিলেটের মানুষের হাপিত্যেশ বাড়ছে। এই অবস্থায় সিলেটে সমানতালে হচ্ছে লোডশেডিং। দিনে ও রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ও বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ বিভাগ অসহায়। তাদের দাবি হচ্ছে- গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সহসাই লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তারা। কারণ সরকারের সিদ্ধান্তে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাণিজ্যিক ও আবাসিক পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে। তার উপর সিলেটের বিবিয়ানার একটি কেন্দ্রসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্র চালু না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। সিলেট বিদ্যুৎ অফিসের গতকাল শনিবারের পরিসংখ্যান ঘেটে জানা গেছে- সিলেটে দিনের এক তৃতীয়াংশ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিদ্যুত চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ করার কারণে এমনটি করতে হচ্ছে। শনিবার ছুটির দিনে সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২০৭ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ১৪৪ মেগাওয়াট। ফলে ৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় বিভাগে প্রায় ৩১ ভাগ লোডশেডিং করতে হয়েছে। সিলেট জেলার অবস্থাও একই। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪৬ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হয় ১০১ মেগাওয়াট। ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে ৩১ ভাগ। ছুটির দিন শনিবার ছাড়াও শুক্রবারের পরিসংখ্যানও প্রায় একই ছিল। আজ থেকে সমপরিমাণ লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ পেলে সিলেটে দুর্ভোগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির মানবজমিনকে জানিয়েছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এখানে কর্মকর্তাদের কিছু করার নেই। যদি চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তাহলে লোডশেডিং কমে আসবে। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের বিবিয়ানার একটিসহ চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার চাপ এসে জাতীয় গ্রিডে পড়ছে। যদি উৎপাদন বাড়ে তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান তিনি। এদিকে- সিলেটে গত দু’দিন ধরেই কেবল লোডশেডিং হচ্ছে তা নয়, গত ১০-১২দিন ধরে একই অবস্থা বিরাজমান। দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এতে করে আবাসিক এলাকায় পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকার কারণে একটানা পাম্প চালানো সম্ভব হয় না। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এরপরও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরের ঝরনার পাড়ের বাসিন্দা হাজী ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে দুর্ভোগ হচ্ছে বেশি। পানি সংকটসহ নানা সংকট দেখা দিচ্ছে। লোডশেডিং কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। এদিকে একই অবস্থা সিলেটের ব্যবসায়ীদের। দিনের বেলা দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরের বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার, বন্দরবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।  ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন। জেনারেটর জ্বালিয়ে তাদের ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে। এতে লাভের চেয়ে জেনারেটরের তেল খরচে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন বেশি। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুর রহমান রিপন বলেন, যখন ব্যবসার সময় তখন লোডশেডিং দেয়া হয়। বড় বড় মার্কেটগুলো জেনারেটরের মাধ্যমে ব্যবসা সচল রাখতে পারলেও বেশির ভাগ মার্কেটে জেনারেটর না থাকায় ব্যবসায়ীরা দিনের বেলা অন্ধকারে থাকেন। কেউ কেউ জেনারেটর জ্বালিয়ে ব্যবসা করলেও লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য তারা বিষয়টি নিয়ে সিলেটের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক -মান্না

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। একইসঙ্গে ভারতের এই অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়। কিন্তু তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরাইল-হামাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন। যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই। বরং বাংলাদেশ অতি সমপ্রতি দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিতে আছে। রাজনাথ সিংয়ের রাশিয়া, ইউক্রেন, ইসরাইল ও হামাসের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা দুরভিসন্ধিমূলক।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। এমন কোনো মন্তব্য ভারতের কাছ থেকে আসা উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে মান্না বলেন, আমরা অন্য সব রাষ্ট্রের মতো প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু এই বন্ধুত্বে হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং দুইদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে। অন্যথায় শেখ হাসিনার শাসন পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং ভারতের মনে রাখা উচিত সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।

mzamin