Tuesday, March 1, 2011

বিবিসির স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রমের সম্প্রচার বন্ধ

ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) তার রেডিওর স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রমের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। ৭৩ বছর আগে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর শ্রোতাদের জন্য প্রথম স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রম সম্প্রচার করে বিবিসি। বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন্য বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেডিওতে স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হলেও বিবিসির স্প্যানিশ ভাষার ওয়েবসাইট বিবিসি মুনদোর কার্যক্রম চলবে।
সংবাদ মাধ্যমটির ব্যবস্থাপকেরা জানান, বিভিন্ন ভাষার অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বন্ধের মতো কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের নিতে হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন্য মোট বরাদ্দের ১৬ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তাঁদের।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৩৮ সালের ১৪ মার্চ বিবিসি স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রমের সম্প্রচার শুরু করে। সে সময় নাৎসি জার্মানি ও ফ্যাসিবাদি ইতালির অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্প্যানিশ ভাষার কার্যক্রম চালু করা হয়।

দুর্নীতিই পাকিস্তানের গণতন্ত্রের বড় শত্রু

জঙ্গিবাদ নয়, বরং দুর্নীতির কারণেই পাকিস্তানের গণতন্ত্র হুমকিতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সাংবাদিক হামিদ মীর। গত শুক্রবার লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে ছাত্রদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পাকিস্তান সপ্তাহের অংশ হিসেবে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে ওই বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পাকিস্তান সোসাইটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিষয় ছিল ‘পাকিস্তান কি জঙ্গিবাদকে হারাতে পারবে?’
হামিদ মীর বলেন, পাকিস্তান এখন আর বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ নেই। কারণ পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ঘটনা ও আত্মঘাতী বোমা হামলা হ্রাস পাচ্ছে। তবে সন্ত্রাসের চেয়ে দুর্নীতি ও অপশাসন দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠছে।
২০০২ সালের ৩০ মে নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ বলে অভিহিত করা হয়েছিল।
হামিদ মীর বলেন, রাজনৈতিক সরকার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক। তাদের এই দায়িত্বহীন আচরণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ

ভারতের প্রায় ১৮ হাজার নাগরিক আটকা পড়েছেন লিবিয়ায়। তাঁদের উদ্ধার করতে দুটি বিমান ভাড়া করা হয়েছে। বিমান দুটি গতকালই ত্রিপোলির উদ্দেশে রওনা হয়। আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট চলবে। এ ছাড়া মুম্বাই থেকে গতকাল সকালে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ত্রিপোলির উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এ ছাড়া একটি যাত্রীবাহী ফেরির আজ রোববার সেখানো পৌঁছানোর কথা আছে।
চীন তাদের নাগরিকদের লিবিয়া থেকে পাশের দ্বীপ মাল্টায় সরিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য তারা চারটি জাহাজ ও সাতটি বিমান ভাড়া করেছে।এ ছাড়া আরও তিনটি জাহাজ গত শুক্রবার লিবিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। সাতটি বিমানও চীনা নাগরিকদের লিবিয়া থেকে উদ্ধার করে মাল্টায় নিয়ে আসছে।
ভিয়েতনামও বিমানে করে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরেয়ে আনতে শুরু করেছে। তুরস্কের দুটি জাহাজ প্রায় এক হাজার ৮০০ জনকে নিয়ে গতকাল বেনগাজি ত্যাগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান গত শুক্রবার রাতে নিজেদের এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করে।ধনী ও উন্নত দেশগুলো তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারলেও বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মতো দরিদ্র দেশগুলো। ফিলিপাইনের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন লিবিয়ায়।এ ছাড়া একটি মার্কিন ফেরি প্রায় সাড়ে তিন শ লোক নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাল্টায় পৌঁছায়।

মিসরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাদের শক্তি প্রয়োগ

মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের হটাতে গতকাল শনিবার ভোরে শক্তি প্রয়োগ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় সেনারা ফাঁকাগুলি ছোড়াসহ বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক লাঠিপেটা করে। বিক্ষোভকারীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। এদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল। তবে এ ঘটনার প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের দুই সপ্তাহপূর্তি উদ্যাপন ও তাঁর আমলের মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দাবিতে কয়েক শ বিক্ষোভকারী গত শুক্রবার তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। মধ্যরাতের পর সেনারা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাহরির স্কয়ারের সড়কবাতি নিভিয়ে দেয়। এরপর তারা তাহরির স্কয়ার ছাড়তে বিক্ষোভকারীদের চাপ দেয়। কিন্তু স্কয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় সেনারা বিক্ষোভকারীদের বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্কয়ার ছেড়ে পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের সময় পরিচয় গোপন করতে সেনা কর্মকর্তারা মুখে মুখোশ পরে ছিলেন।
আহমেদ বাহগাত নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সামরিক পুলিশ আমাদের বেদম প্রহার ও লাঠিপেটা করেছে। আমাদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা ফাঁকাগুলিও ছুড়েছে।’ আশরাফ ওমর নামের আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা এ সরকারকে একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, তাদের ওপর কোনো আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাই আমরা রাজপথে ফিরে আসছি। হয় সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকব, নয় এখানেই মারা যাব।’
বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকসহ মোবারক আমলের সব মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা।
এদিকে সামরিক বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল জানায়, সামরিক পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যা ঘটেছে তা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সেনাবাহিনীর শক্তি প্রয়োগের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

পাকিস্তানে ফের মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করায় পাকিস্তানে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম অ্যারন ডিহ্যাভেন। এর আগে গত মাসে দুই পাকিস্তানিকে হত্যার অভিযোগে রেমন্ড ডেভিস নামের আরেক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, পেশোয়ারের ইউনিভার্সিটি টাউন এলাকা থেকে গত শুক্রবার অ্যারনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইসলামাবাদে ক্যাটালিস্ট নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তবে তাঁর পেশোয়ারে যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। গত বছরের অক্টোবরে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অ্যারনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মার্চ তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা। পাকিস্তানে বিদেশিদের অবৈধভাবে বসবাসের জন্য তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশিষ্টজনদের মনোনয়ন দিচ্ছেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিতে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বিশিষ্টজনদের একাংশ মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ রকম বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম মনোনয়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যাঁদের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে, তাঁদের মনোনয়ন দিতে আগ্রহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবেন না, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্যের পর তা ধরে রাখতে মমতা প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক রয়েছেন।
জানা গেছে, এবার তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসু, সংগীতশিল্পী নচিকেতা, অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুনন্দ সান্যাল, সাবেক আইএএস আমলা দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রমিকনেতা পূর্ণেন্দু বসু।

বুশেহরের চুল্লি থেকে জ্বালানি বের করে নেওয়া হচ্ছে

ইরানের বুশেহর শহরে স্থাপিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি থেকে জ্বালানি বের করে নেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল জানান, প্রযুক্তিগত কারণে রাশিয়ার পরামর্শে চুল্লি থেকে জ্বালানি বের করে নেওয়া হচ্ছে।রাশিয়ার সহায়তায় ১৯৭০ সালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

আইভরি কোস্টে বাগবোকে উৎখাতে লড়ছে গেরিলারা

আইভরি কোস্টে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোকে উৎখাতে তাঁর অনুগত সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে বিরোধীদলীয় নেতা আলাসেন ওয়াতারার সমর্থক গেরিলারা। গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াতারাকে জয়ী ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কিন্তু জিবাগবো তা নাকচ করে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন হুঁশিয়ার করেছেন, সেনা ও গেরিলাদের এই সংঘর্ষ দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাগবোর অনুগত পুলিশ বাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
আইভরি কোস্টের উত্তরাঞ্চল এখন ওয়াতারার সমর্থক গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে। গত বুধবার রাতভর সংঘর্ষের পর তারা জাউয়ান-হাউনিয়েন শহর দখল করে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ ক্রমে রাজধানী ইয়ামুসুকরোর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বাগবোর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত আইভরি কোস্টের প্রধান শহর আবিদজানে এখন সেনা ও গেরিলাদের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ চলছে। পাশের শহর আবোবোয় তা ছড়িয়ে পড়েছে। আবোবোর শত শত আতঙ্কিত মানুষ ওই শহর ছেড়ে পালিয়েছে। ২০০৩ সালের গৃহযুদ্ধের পর আইভরি কোস্ট উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে বিভক্ত হয়।
আবিদজানের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ইয়ামুসুকরোর এক বাসিন্দা বলেন, রাজধানীর রাস্তাগুলোতে রাতভর গুলিবর্ষণ চলেছে। বাগবোর সেনা ও ওয়াতারার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে খবরের সত্যতা কেউ নিশ্চিত করেনি।
গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বান কি মুন বলেন, আইভরি কোস্টে বিশৃঙ্খলা যেভাবে দিন দিন বাড়ছে, এতে দেশটি আবার গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল আইভরি কোস্টের সরকারি টেলিভিশনে পড়ে শোনানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, দালোয়া শহরে গতকাল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর গুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কুকুরের মালিকানা নিয়ে মামলা!

কলকাতায় একটি কুকুরের মালিকানা নিয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্টে। জার্মান শেফার্ড জাতের ওই কুকুরটির নাম জ্যাক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজীব মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি ওই কুকুরটিকে নিয়ে কলকাতার চারু মার্কেট এলাকার সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে পেয়িং গেস্ট থাকতেন। গত বছরের অক্টোবরে রাজীব দুই মাসের জন্য চাকরির কাজে দুর্গাপুর যান। এ সময় তিনি সঞ্জয়ের কাছে কুকুরটি রেখে যান। ফিরে এসে তিনি জ্যাককে ফেরত চাইলে সঞ্জয় কুকুরটি তাঁর বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, রাজীব তাঁর কাছে কুকুরটি বিক্রি করেছেন। সঞ্জয় এরই মধ্যে কলকাতা পৌরসভায় প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে কুকুরটির নামে লাইসেন্সও বের করেন।
এরপর রাজীব কুকুরের মালিকানা নিয়ে আলীপুর নিম্ন আদালতে মামলা করেন। মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলার রায় যায় সঞ্জয়ের পক্ষে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রাজীব কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করেছেন। বিচারক অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় গত শুক্রবার প্রাথমিক শুনানি শেষে কুকুরটির সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য তিন আইনজীবীকে নিয়ে কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়ে আগামী বুধবার চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

পেচ উপত্যকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে উদ্বিগ্ন আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন আফগান কর্তৃপক্ষ। তালেবান ও আল-কায়েদার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু থেকেই মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসছে। কাজেই হঠাৎ করে এই সেনা প্রত্যাহার বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে সেখানকার আফগান সেনাদের।
এ ব্যাপারে মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আফগান যুদ্ধের একটি কৌশল হিসেবে তারা এই সেনা প্রত্যাহার করছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, তালেবান ও আল-কায়েদার জঙ্গিদের মোকাবিলায় কুলাতে না পেরে পিছু হটছে মার্কিন সেনারা।
এলাকাটি হচ্ছে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের পেচ উপত্যকা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই উপত্যকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রদেশটির অধিকতর জনবহুল এলাকায় পশ্চিমা সেনা মোতায়েনের অংশ হিসেবে এই সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম চলছে। টানা দুই মাস চলবে এই কার্যক্রম। সেখানে থেকে যাবে আফগান সেনারা। শত্রু মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি পরখ করা হবে তখন।
আফগান কর্মকর্তাদের মতে, ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি আফগান বাহিনী। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি জঙ্গিদল সক্রিয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইতিবাচক কোনো ফল দেবে না।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা মার্কিন বাহিনীর অধিনায়ক মেজর জেনারেল জন এফ ক্যাম্পবেল বলেন, ‘আমরা যে পেচ উপত্যকা ছেড়ে যাচ্ছি—তা মনে করি না। বরং আফগান সেনা দিয়ে আফগান জনগণের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছি।’
ক্যাম্পবেল বলেন, ‘পেচ উপত্যকায় এখনো মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখলে পরিস্থিতির উন্নতি আর কী হলো? আমি মনে করি, কিছু এলাকায় উন্নয়ন ঘটানো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থান প্রয়োজন হবে। কিছু এলাকায় এর প্রয়োজন নেই।’
কোরানগাল, ওয়েগাল ও সুরাক উপত্যকা এবং নুরিস্তান নদীর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পর এবার পেচ উপত্যকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া শুরু হলো। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধের আগের কৌশল ছিল, জঙ্গিদের কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঢুকতে না দেওয়া, পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য জঙ্গিদের ব্যবহার করা পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া। একই সঙ্গে জনবহুল এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ানো। তবে বিভিন্ন উপত্যকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এটা স্পষ্ট যে, যুদ্ধের সেই কৌশল বদলে ফেলেছে তারা। দুই বছর আগে আফগানিস্তানের যে ৮০টি এলাকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিল মার্কিন বাহিনী, সেই এলাকাগুলোর মধ্যে পেচ উপত্যকার নাম নেই।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরুর পর এখন দেশটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর হিসাব অনুযায়ী, পেচ উপত্যকা ও এর আশপাশের এলাকায় যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।

অ্যাসাঞ্জকে আমন্ত্রণ করায় বুশ যাননি

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আমন্ত্রণ জানানোয় যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ডেনভারে ব্যবসায়ীদের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।
বুশের মুখপাত্র ডেভিড শেরজার গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, ‘যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি করেছে, তাঁর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা বুশের নেই।’
শেরজার বলেন, ‘সম্প্রতি অ্যাসাঞ্জকে ওই সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাই বুশ ওই সম্মেলনে যাওয়া বাতিল করেছেন।’
ইয়াং প্রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইপিও) আয়োজিত ‘গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট’ শীর্ষক ওই সম্মেলনে গতকাল শনিবার বুশের সমাপনী বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। ছয় মাস আগে তিনি এ সম্মেলনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন জানান, ডেনভারে ব্যবসায়ীদের ওই সম্মেলনে অ্যাসাঞ্জও অংশ নিতে পারেননি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে আজ ভারতের শক্তি পরীক্ষা

অনেকগুলো প্রশ্ন নিয়ে আজ ভারতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট।
প্রশ্নগুলো কী কী, সেটার মীমাংসা পরে হবে। প্রথম প্রশ্ন হলো, আজ ভারতে বিশ্বকাপ শুরু হয় কী করে? বিশ্বকাপের আট দিন পেরিয়ে গেছে। ভারতও খেলেছে প্রথম ম্যাচ। ভারতের মাটিতেও এরই মধ্যে গোটা পাঁচেক ম্যাচও হয়েছে। তার পরও বিশ্বকাপ শুরু হয়নি!
হয়নি। কারণ ভারত যে এই প্রথম খেলতে নামছে নিজেদের মাটিতে। এই প্রথম যে শুরু হয়েছে ভারতীয় উন্মাদনা। টিকিটের জন্য হইহুল্লোড়। জনতাকে ঠেকাতে পুলিশের ‘মৃদু’ লাঠিপেটা। এ নিয়ে আইসিসি পর্যন্ত ঘটনা গড়িয়ে যাওয়া। খাঁ খাঁ গ্যালারিও এই প্রথম আজকের ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়েও ভরে উঠবে।
বিশ্বকাপের প্রথম ‘বড় ম্যাচ’ ছিল কালকের শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচ। এ ছাড়া সূচিতে বাকি ম্যাচগুলোই ছিল দুই অসমশক্তির লড়াই। বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বাদে বাকি ম্যাচগুলোই শেষ পর্যন্ত একপেশে লড়াই-ই দেখেছে। সেই দিক দিয়ে দেখলে বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ম্যাচ এটাই।
কিন্তু মনোযোগ পুরোপুরি ক্রিকেটে থাকছে না। এমনিতে দুই দলে তারকার অভাব নেই। শেবাগ-পিটারসেনদের কাছ থেকে মনোযোগের আলো কেড়ে নিচ্ছে মাঠের বাইরের ঘটনা। অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠে সেই প্রশ্নটি তুলছে কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলোই। ম্যাচটি যে কলকাতার কাছ থেকে ‘ষড়যন্ত্র’ করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ম্যাচটি যে হওয়ার কথা ছিল ইডেনে।
টিকিট নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কারণ, কোটা বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য নাকি মাত্র সাত হাজার টিকিট বরাদ্দ ছিল। ভারতের সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত তো হবেই। ম্যাচটির ওপর কালো মেঘও জমেছে। আক্ষরিক অর্থেই। বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টিও হতে পারে। ওদিকে অনুশীলনে আবার হালকা চোট পেয়েছেন দুই দিন বিশ্রাম শেষে ফেরা বীরেন্দর শেবাগ।
এত সব খবর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের পক্ষে ক্রিকেটে মন দেওয়া আসলেই কঠিন। তার পরও তো শেষ পর্যন্ত ব্যাট আর বলেরই লড়াই। ভারত যেমন আজ স্পিনে ইংলিশ-বধের ছক কেটে রেখেছে। যদিও এই সময়ের সেরা স্পিনার ভারতে নয়, ইংল্যান্ড দলেই। গ্রায়েম সোয়ান আর হরভজন সিংয়ের লড়াইটা তাই জমতে পারে ভালো। জমে উঠতে পারে পিটারসেন বনাম টেন্ডুলকারের লড়াইও।
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস অবশ্য এসব তুলনায় যাওয়ার পক্ষে নন। ইংলিশ অধিনায়কের কথায় যুক্তিও আছে, ‘একটা ম্যাচে এ রকম কিছু খণ্ড যুদ্ধের ছবি বের করে আনাই যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটায় সেই দলই জয়ী হয় যাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটার ভালো খেলে; শুধু এক-দুজন নয়।’
তা তো অবশ্যই। তবে ম্যাচের প্রভাবক হয়ে দাঁড়াতে পারে যেকোনো একজন। বেঙ্গালুরুতে আজ যেমন প্রভাবক হয়ে যেতে পারেন স্পিনাররা। এ মাঠেই ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রস্তুতি ম্যাচটি হয়েছে, যেখানে ২১৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া ভারতকে ৩৮ রানের জয় এনে দিয়েছিলেন স্পিনাররাই। দুই দলই আজ দুজন করে স্পেশালিস্ট স্পিনার খেলাতে পারে।
মহেন্দ্র সিং ধোনি অবশ্য পরিকল্পনা-টরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সামান্যই। এক বীরেন্দর শেবাগ তাঁর মতো খেললে এসব পরিকল্পনা যে শেষ পর্যন্ত হাওয়ায় মিলিয়ে যায়, সেটা ভারতীয় অধিনায়কের চেয়ে ভালো আর কে জানে। কিন্তু শেবাগ ৫০ ওভার ব্যাটিং করে যাওয়ার পরিকল্পনায় অটুট থাকলে বাকিদের যে ব্যাটিং করার সুযোগই মিলবে না! এটা কি মধুর সমস্যাও নয়? ধোনির উত্তর, ‘ও যদি ৫০ ওভার ব্যাটিং করে তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই, এটা প্রতিপক্ষের সমস্যা।’
সেই ‘সমস্যা’ হয়ে শেবাগ আজও দেখা দিতে পারেন। এমনিতে পরিসংখ্যানের বিবেচনায়ও এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের আশা খুব একটা নেই। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ৫-০-তে ওয়ানডে সিরিজ হেরে গিয়েছিল তারা। ২০০৬ সালের পর ভারতে ১২ ওয়ানডে খেলে ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র একটি!
তবে পরিসংখ্যান তো আর ম্যাচ জেতায় না। তা ছাড়া ২০০৮-এর চেয়ে দৃশ্যপট এখন ভিন্ন বলেই দাবি স্ট্রাউসের, ‘গত দু-এক বছরে আমরা খুবই ভালো খেলছি। আমাদের কাল (আজ) ভালো এবং চৌকস ক্রিকেট খেলতে হবে।’

ব্রাভোর জন্য তামিমের দুঃখ

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিধ্বস্ত করে ফেলেছিল চোট। ওপেনার আদ্রিয়ান বারাথ ও উইকেটকিপার চার্লটন বাফকে দেশের বিমানে তুলে দিতে হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর পর এল সবচেয়ে বড় ধাক্কা, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন ডোয়াইন ব্রাভো।
এটা বড় এক আঘাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। তবে তাদের প্রতিপক্ষ দলের জন্য নিশ্চয়ই নয়। ত্রিনিদাদের এই অলরাউন্ডার ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, এ কারণেই তাঁকে হারানো দলটির জন্য বড় ক্ষতিও। ব্রাভো চোট পেয়েছেন ফিল্ডিং করতে গিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে।
ওই ম্যাচেও জ্বলে উঠেছিল ব্রাভোর ব্যাট। তিন ছক্কা ও এক চারে ৩৭ বলে করেছিলেন ৪০। বল করতে গিয়েই বাধল বিপত্তি। তৃতীয় ওভারে এবি ডি ভিলিয়ার্সের শট আটকাতে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান।
ফিজিও-ট্রেনারদের কাঁধে হাত রেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া ব্রাভো আর মাঠে ফিরতে পারেননি। এমআরআই স্ক্যান জানাচ্ছে, বিশ্বকাপই শেষ তাঁর। মাঠের বাইরে কাটাতে হবে অন্তত চার সপ্তাহ। স্বাভাবিকভাবেই দলের সেরা অলরাউন্ডারকে হারিয়ে উইন্ডিজ শিবিরে হতাশার ছায়া।
কোচ ওটিস গিবসন বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় আঘাত। ডোয়াইন আমাদের সহ-অধিনায়ক এবং দলের মূল খেলোয়াড়দের একজন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে ব্যাটিংয়ে ভালো করেছে। সে আমাদের ফিল্ডিংয়ের প্রাণ এবং বোলিংয়েও নির্ভরযোগ্য। আমরা আশা করি, সে দ্রুতই সেরে উঠবে এবং শিগগির মাঠে ফিরবে।’
ব্রাভোবিহীন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সবার আগে পাচ্ছে হল্যান্ড। আগামীকাল দিল্লিতে মুখোমুখি এই দুই দল। এর পরই ৪ মার্চ মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্রাভোর না থাকাটা বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ সুবিধাই বলতে হবে। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবালও মানছেন তা, ‘আমাদের জন্য এটা ভালোই হয়েছে। ভালো বোলিং করে ও। ১০ ওভার বলও করত, মিডল অর্ডারে ভালো ব্যাটসম্যানও ব্রাভো।’ তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে ব্রাভোর জন্য সমবেদনাই ঝরে পড়ল তামিমের, ‘এটা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য খুব দুঃখের ব্যাপার। আমি চাইব, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমনটা আর কারও না হোক।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে ছিটকে পড়া ডগ বলিঞ্জারের বিকল্প হিসেবে কাকে নেওয়া হবে, অস্ট্রেলিয়া ভাবছে তা নিয়ে। অনেকেই মনে করছে, চোট থেকে সেরে ওঠা মাইক হাসি ফিরে আসতে পারেন দলে। কিন্তু অধিনায়ক রিকি পন্টিং বোলারের পরিবর্তে বোলারই চান।

ইউনুস-মিসবাহর যুগলবন্দী

জাতীয় দলে আসা-যাওয়া অসংখ্যবার করেছেন। এমনই একবার, যখন চলছে বাইরে থাকার অধ্যায়, মিসবাহ-উল-হক এসেছিলেন ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে খেলতে। তখনই ঘনিষ্ঠ এক আড্ডায় যা বলেছিলেন, তাতে ইউনুস খানের প্রতি ছিল ক্ষোভ। জাতীয় দলের বাইরে থাকার ব্যাপারে সাবেক অধিনায়কের দিকেও পরোক্ষে তুলেছিলেন আঙুল।
কিন্তু সময় দুজনকে টেনে আনল একই কাতারে। মিসবাহর মতো পাকিস্তান দলেও ব্রাত্য হয়ে পড়লেন ইউনুস। দুজনের বিপক্ষেই একই যুক্তি, ‘সময় শেষ।’ মিসবাহ তো জাতীয় দলে যতটুকু খেলার ‘বুড়ো’ বয়সেই খেলেছেন। ইউনুসও দলকে যা দেওয়ার দিয়ে ফেলেছেন। দুজনই আজীবন লড়াকু। ঠিকই জাতীয় দলে ফিরলেন, সেটাও প্রবল বিক্রমে। জবাব দিলেন ব্যাট হাতেই।
এই বিশ্বকাপ শুরুর আগেও দুজনকে নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। দুজনের ব্যাটিং একই রকম। শুরুতে দেখেশুনে খেলবেন, সময় নেবেন থিতু হতে। মাঝেমধ্যে সে সময়টুকু হয়ে যায় ওয়ানডের বর্তমান গতির সঙ্গে বেমানান। বড় ইনিংস খেলতে পারলে পুষিয়ে দেন, কিন্তু থিতু হওয়ার পরপরই আউট হয়ে গেলে হয় বিপদ। রান-বলের ব্যবধানটা অনেকের কাছেই বড় দৃষ্টিকটু ঠেকে। তাই সংশয়, মিডল-অর্ডারে এই দুজনকে একসঙ্গে জায়গা দেওয়ার মতো বিলাসিতা কি পাকিস্তান করতে পারে?
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম দুই ম্যাচ এই জবাবও দিয়ে দিয়েছে। কাল দুজন জুটি বেঁধেছিলেন বড় কঠিন সময়ে। মোটামুটি ভালো শুরুটাকে নিজেদের হাতে তুলে পানিতে ফেলে এসেছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও কামরান আকমল। রানের চাকাও সচল রাখতে হবে, আবার উইকেট হারানোও চলবে না। পরিস্থিতির দাবি দুজনেই মেটালেন দারুণভাবে। ভালো বলে এক, দুই—বাজে বলকে সীমানা ছাড়া। দুজনের বয়স নিয়ে যাদের মাথাব্যথা, উইকেটের মাঝে দুজনের ক্ষিপ্রতা দেখে তাদের জবাব পেয়ে যাওয়ার কথা। ১০৮ রানের জুটিতে চার-ছয়ের ফুলঝুরি ছিল না, তবুও রানরেট ৫.২৬!
টানা দ্বিতীয় ফিফটি করে ইউনুস যখন বিদায় নিলেন, আফ্রিদি-আকমল-রাজ্জাকদের জন্য প্রস্তুত আদর্শক্ষেত্র। কিন্তু আফ্রিদিরা কাল ব্যর্থ। ইনিংস শেষ পর্যন্ত তাই টানতে হলো মিসবাহকেই। ইনিংস শেষে নামের পাশে অপরাজিত ৮৩, সর্বশেষ ছয় ইনিংসের চতুর্থ ফিফটি!
এবার পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচটার কথা একটু মনে করুন। কেনিয়ার বোলারদের বিশ্বমানের বানিয়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার। প্রায় ৬ ওভার রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতে ওপেনার শেহজাদ বিদায় নিলেন ২৮ রানে। ইউনুস আসতেই অসংখ্য ছিদ্র বের হলো মাঠে, বলে বলে এক-দুই। ভরসা পেয়ে কামরান আকমলের পাল্টা-আক্রমণ। কামরান-মিসবাহর জুটিতে বিপর্যয় কাটল। আর ইনিংসটা গতি পেল ইউনুস-মিসবাহর জুটিতে। ফিফটির পরপরই ইউনুসের বিদায়, এবারও এক পাশ আগলে রাখার ভূমিকায় মিসবাহ। আফ্রিদি-উমররা পেলেন ইচ্ছেমতো খেলার সার্টিফিকেট। শেষ পর্যন্ত মিসবাহ করেছিলেন ৬৫, ওই এক পাশ আগলে রাখা ব্যাটিংয়েও পরও কিন্তু স্ট্রাইক রেট ৯৪!
সংশয়বাদীদের বুড়ো আঙুল দেখেছেন। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচের পর তো বলতে হবে, পাকিস্তানের ব্যাটিংটা দাঁড়িয়েই আছে আসলে এই দুই স্তম্ভের ওপর! দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নতি কতটা হয়েছে বলা মুশকিল। তবে ব্যাট যখন কথা বলছে, মুখে কথা না বললেই বা কী!

শফিউলের পরিবারে এখন অনেক হাসি

দুদিন আগে ক্যাচিং প্র্যাকটিসের সময় পড়ে গিয়ে কাঁধে ব্যথা পেয়েছিলেন। ব্যথাটা ভালোই জেঁকে বসেছিল। আগের দিন পুরো টিম ম্যানেজমেন্টেরই মনের কোণে জমেছিল সংশয়ের মেঘ, শফিউলকে হয়তো আয়ারল্যান্ড ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ম্যাচের দিন সকালে অনেকটাই সুস্থ বোধ করলেন। একাদশ ঘোষণা করার আগে শফিউলকে নিয়ে আর কোনো চিন্তাই রইল না। তিনি একাদশে ঢুকলেন এবং হলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিশোধ পর্বের নায়ক। বাংলাদেশ যে আবার বিশ্বকাপের নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে, তা তো ওই শফিউলের কল্যাণেই। সারা দেশ যে আজ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে। আনন্দে ভাসছে বগুড়ার এই পেসারের গোটা পরিবারও।
বগুড়ার জয়পুরপাড়া বাল্ব ফ্যাক্টরির গলিতেই শফিউলদের বাড়িটা। ম্যাচের দিন বলে বাড়িটায় পরশু একটু বেশিই ভিড়। কিন্তু বাড়িতে ছিলেন না বাবা জাহেদুল ইসলাম ও মা সাজেদা বেগম। ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখবেন বলে বগুড়া থেকে গত সপ্তাহেই ঢাকায় চলে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকিট পাননি বলে মিরপুরে শফিউলের ফুফুর বাড়িতেই মা খেলা দেখলেন। শফিউলের খেলা নিয়ে নিজে সংশয়ে ছিলেন। দুপুরে টেলিভিশনে ছেলের নাম দেখে তাই একটু অবাকই হয়েছিলেন, ‘আমি তো ভেবেছিলাম ও খেলতেই পারবে না। ম্যাচের আগে কথা হয়নি। আগের রাতে ও ফোন করে বলেছিল, “মা, হাতের ব্যথাটা কমেছে। সকালে বল করে দেখি। মনে হয়, খেলতে পারব”।’
কেমন দেখলেন ছেলের খেলা? শফিউলের মায়ের ছোট্ট উত্তর, ‘খুবই টেনশনে ছিলাম।’ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বীরেন্দর শেবাগের হাতে পিটুনি খাওয়ার পর শফিউলকে নিয়ে একটু বাড়তি টেনশনে থাকাই স্বাভাবিক। মুহূর্তে মুহূর্তে রং বদলানো ম্যাচে আসলে বাংলাদেশের জয় নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছিলেন না সাজেদা বেগম, ‘মাত্র ২০৫ রান নিয়ে কি জেতা যায়?’ কিন্তু বাংলাদেশ জিতে গেল। আর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন কে? শফিউল। তৃতীয় স্পেলে টানা ৬ ওভার বল করে ৪ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিলেন এই ডানহাতি পেসার। সাজেদা বেগম ভীষণ খুশি, ছেলের গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে তাঁর। শফিউলের বোলিং নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছিলেন বাবা জাহেদুল ইসলামও। তিনি খেলা দেখতে গিয়েছিলেন স্টেডিয়ামে। ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দেখতে উসখুস করছিলেন, ‘যখন প্রথম ওভারে ও ৬ রান দিয়ে ফেলল, তখন একটু দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। তবে আমি চাইছিলাম যে-ই বল করুক না কেন, বাংলাদেশ যেন ভালো খেলে, জেতে।’ জাহেদুল ভেবেছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচও হবে ছেলে, ‘গ্যালারিতে সবাই বলাবলি করছিল শফিউল কেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলো না! আমারও মনে হচ্ছিল ওই হতে পারে। তবে হয়নি বলে কোনো আক্ষেপ নেই। দল তো জিতেছে।’
ঢাকায় রাত তিনটা পর্যন্ত আনন্দ করেছেন শফিউলের বাবা-মা-আত্মীয় স্বজন। রাজধানীতে যখন চলছিল আনন্দের বন্যা, তখন জয়পুরপাড়াতেও লেগেছিল সেই উৎসবের ঢেউ। শফিউলের বোন জাফরিনা ইসলাম ইমার কণ্ঠেও ধরা পড়ল খুশির রেশ, ‘ভীষণ আনন্দ হয়েছে এখানে। সকালে সুহাসের (শফিউল) সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। খেলা শুরুর সময় ছিলাম বাইরে। সবাই টিভিতে সুহাসের নাম দেখে জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। দৌড়ে এসে আমার চাচাতো ভাই বলল, “সুহাস ভাইয়া দলে আছে।” এখানকার ছেলেরা ওকে এত আদর করে, এত ভালোবাসে, সেটা ভাবলেই গর্ব হয়।’
শফিউলকে নিয়ে গর্ব গোটা এলাকাবাসীর। তাই তো খেলা শেষে শহরের ওই গলিতে সবাই মেতে ওঠে বিপুল আনন্দে। চলে মিষ্টি বিতরণ, আতশবাজি আর আনন্দ মিছিল। তাদের বিশ্বাস, শফিউল আরও আনন্দের উপকরণ জমিয়ে রেখেছেন সামনের ম্যাচগুলোতে।

বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পাকিস্তান

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্তর্কলহ ইত্যাদি চিরাচরিত বিতর্কের আড়ালেই চাপা পড়ে ছিল পাকিস্তানের বিশ্বকাপ সম্ভাবনার আলোচনা। আর সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা দৃষ্টিনন্দন পারফরমেন্স না থাকায় পাকিস্তানকে খুব বেশি গোনায় ধরেননি ক্রিকেটবোদ্ধারা। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট দলটা যে সত্যিই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’, যেকোনো পূর্বানুমান ভেঙে দিতে যে তারা ওস্তাদ, তা খুব ভালোমতোই দেখাচ্ছেন আফ্রিদি-মিসবাহ-ইউনুসরা। প্রথম ম্যাচে কেনিয়াকে ২০৫ রানে উড়িয়ে দেওয়ার পর গতকাল ‘বিগ ম্যাচে’ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও তাঁরা পেয়েছেন ১১ রানের অসাধারণ জয়। এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই ক্রমাগত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পাকিস্তান।
বিশ্বকাপ শুরুর একেবারে চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এলোমেলো অবস্থা। ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করলেও অধিনায়ক নির্বাচন করতে গিয়ে লম্বা সময়ের রশি-টানাটানি চলেছে পিসিবিতে। নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক আফ্রিদি, নাকি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিসবাহ—কার হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশ্বকাপ মিশনের নেতৃত্বের ভার? এই প্রশ্নে দীর্ঘদিন নানা রকম দোদুল্যমানতায় দোলার পর অবশেষে আফ্রিদিকেই দেওয়া হয় অধিনায়কের দায়িত্ব। এই আস্থার প্রতিদান দিতে গিয়েই বোধহয় বিধ্বংসী চেহারা ধারণ করেছেন এই অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারলেও দুটি ম্যাচেই বল হাতে বাজিমাত করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। গতকালও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে পেয়েছেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতি।
ওদিকে সহ-অধিনায়ক মিসবাহ উল হকও প্রমাণ করে চলেছেন নিজের যোগ্যতা। প্রথম ম্যাচে ৬৯ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলার পর গতকালও খেলেছেন হার না মানা ৮৩ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। পাকিস্তানের জয়ের ভিত্তি তৈরিতে সেই ইনিংসটাও ছিল একটা শক্ত খুঁটি। অধিনায়কের দায়িত্বটা তাঁর কাঁধে দিলেও যে খুব একটা ভুল হতো না, এটা তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই।
সব মিলিয়ে অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়কের এই দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তান দলটা ভীতি সঞ্চার করতে শুরু করেছে সবার মধ্যে। দলের অন্য তরুণ ক্রিকেটাররাও যে এতে অনুপ্রাণিত হবেন, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যে তার ঝুলি থেকে আরও কত বিস্ময়কর জিনিস বের করবে, সেটাই দেখার বিষয়।

‘ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলতে পারেন নতুন শেবাগ’

শুরুতেই ঝড়ো ব্যাটিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করাটাই বীরেন্দর শেবাগের বিশেষত্ব। যেটুকু সময় উইকেটে থাকেন, ততক্ষণ রীতিমতো তটস্থ থাকতে হয় প্রতিপক্ষ বোলারদের। ধুমধাড়াক্কা ব্যাট চালিয়ে বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দেন এই ভারতীয় ওপেনার। শুরুতেই যেন তাঁর ব্যাটে ভর করে একটা শক্ত ভিত্তি দাঁড় করানো যায়, এটাই শেবাগের কাছে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বা অন্য সতীর্থদের মূল প্রত্যাশা। কিন্তু এবার শেবাগ নির্মাণ করতে চান নিজের নতুন পরিচয়। বিশ্বকাপের শুরুতেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতি ম্যাচেই পুরো ৫০ ওভার খেলার চেষ্টা করবেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শেবাগ প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিলেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যটা। ব্যাট করেছেন প্রায় গোটা ইনিংসই। সাজঘরে ফিরেছিলেন ৪৮তম ওভারে। তবে এর আগে তিনি খেলে ফেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১৭৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। শেবাগের এই নতুন চেহারার পরিচয় বেশ ভালোমতোই পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ৩৭০ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে টাইগাররা হেরে গিয়েছিল ৮৭ রানে। আজ শেবাগের ব্যাট আবার কথা বলে উঠলে ফেভারিট ইংল্যান্ডও বেশ বিপদে পড়ে যাবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক ভারত আর অ্যাশেজ সাফল্যে উজ্জীবিত ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচের মতো আজও ব্যাটিং অর্ডারে ভারতের প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন বীরেন্দর শেবাগ। ধোনির অবশ্য শেবাগের কাছ থেকে শুধু একটা দুর্দান্ত সূচনাই মূল প্রত্যাশা। তবে শেবাগ যদি আবার উইকেটে জেঁকে বসেন, তাহলে ইংলিশ বোলারদের অনেক ঘাম ঝরাতে হবে বলে মনে করছেন ধোনি। তিনি বলেছেন, ‘শেবাগ যদি ৫০ ওভার ব্যাট করে, তাহলে আমার কোনোই সমস্যা নেই। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই প্রতিপক্ষ দল অনেক ঝামেলায় পড়বে। কিন্তু তার কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা আগ্রাসী ব্যাটিং। তার ব্যাটের কল্যাণে আমরা যেন একটা ভালো সূচনা করতে পারি এবং মিডল অর্ডার যেন সেটার ফায়দা ওঠাতে পারে।’