Saturday, June 5, 2010

পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মানবজাতির সুবিধা বা সুখ-শান্তির জন্য আল্লাহ তাআলা জগতের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। পার্থিব সব সৃষ্টিই মানুষের সেবা করবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ আল্লাহর ইবাদত করবে আর সেই মানুষের সেবা করবে অন্য সৃষ্টি; যেমন-গাছপালা, পশুপাখি ইত্যাদি। কোন পরিবেশে বসবাস করলে মানুষের সুবিধা হবে বা মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে, ইসলাম তা নিশ্চিত করেছে। তাই ইসলামে পরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ও দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে বৃক্ষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্যই নয়, ধর্মীয় কারণেও মানুষকে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। ইসলামে বৃক্ষরোপণ এবং বৃক্ষের পরিচর্যার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান যুগে বৃক্ষরোপণের ওপর যে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, এর দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শন করেছে ইসলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ১৪০০ বছর আগেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
পরিবেশের গুরুত্ব ইসলামে সুদীর্ঘকালের। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হতে দেখা যায় না। অথচ বৃক্ষরোপণের ধর্মীয় তাৎপর্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হলে তা বনায়নের ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বৃক্ষরাজি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখে। বৃষ্টিপাত ঘটাতে, ভূমিক্ষয়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস রোধ করতে এবং মাটিকে সরস ও উর্বর করতে বৃক্ষ প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। গাছপালা আছে বলেই পৃথিবীতে মানুষ ও প্রাণীরা বেঁচে আছে। অন্যথায় এদের অস্তিত্ব রক্ষা কখনোই সম্ভব হতো না। বৃক্ষরাজি মানুষ এবং পশুপাখির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক! আমি প্রচুর বারি বর্ষণ করি। অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি এবং এতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, জলপাই, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান, ফল এবং গবাদিপশুর খাদ্য। তা তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের জন্য।’ (সূরা আবাসা, আয়াত: ২৪-৩২)
আল্লাহর নিয়ামতরাজির মধ্যে গাছপালা, বৃক্ষরাজি ও এদের ফলমূল ও অন্যান্য অংশ অন্যতম নিয়ামত বা বিশেষ একটি অবদান। যার মধ্যে নিহিত রয়েছে মানুষের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার উপকরণ অক্সিজেন। মানুষ গাছ থেকে অক্সিজেন পায় এবং গাছ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, পৃথিবীতে দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ পৃথিবীতে জীবনধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করে এবং নিরাপদে বেঁচে থাকে। গাছগাছালি মানবজাতির এক পরম হিতৈষী বন্ধু। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের যেমন বিশেষ গুরুত্ব আছে, তেমনি এগুলো পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখে এবং আর্থিক সচ্ছলতা আনয়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। গাছের ফলমূল মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকুলের প্রিয় খাদ্য, যা শরীরের পুষ্টি সাধন করে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া গাছের মধ্যে রয়েছে মানুষ ও পশুপাখির জীবন রক্ষাকারী ওষুধের বিশেষ উপাদান। বৃক্ষমালা ও লতাগুল্মের সাহায্যে পৃথিবীর উষ্ণতা হ্রাস পেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা কমানোর জন্য গাছপালা অতীব প্রয়োজনীয়, যা মানুষ নির্বিচারে ধ্বংসে মেতেছে। মানবজাতির জীবনধারণের জন্য সর্বাবস্থায়ই গাছপালার বিশেষ প্রয়োজন। এসব গাছপালা বনায়ন ও রোপণ না করে কেবল কেটে কেটে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে, ফলে পৃথিবীতে বৃষ্টির অভাব হচ্ছে। মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করার ফলে বিশ্বে উষ্ণায়ন ঘটছে, যে জন্য পৃথিবীর তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে এবং পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ গাছ পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিকভাবে দৈনন্দিন কাজে এবং আসবাবের জন্য ব্যবহূত হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা এসব গাছপালার মাধ্যমে বায়ু সঞ্চালন করেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন এবং জীবজগৎকে বাঁচিয়ে রাখেন। পৃথিবীর মানুষকে গাছপালা ও পাহাড়-পর্বত ধ্বংস না করার জন্য সতর্কবাণী দিয়ে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে (মেঘমালা) স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও যে, তার মধ্য হতে বৃষ্টিধারা নির্গত হয়। তিনি (আল্লাহ) তার বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।’ (সূরা আর-রূম, আয়াত-৩৮)
ইসলাম অকারণে বা বিনা প্রয়োজনে কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেয় না। কারণ, যে ব্যক্তির জমিতেই গাছ জন্মাক না কেন, তাতে অন্য মানুষ, জীবজন্তু ও পশুপাখির হক আছে। মানুষ ইচ্ছেমতো গাছের ফল ভোগ করতে পারে। এমনকি কাঠ কেটে এনে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। কিন্তু অকারণে বনে আগুন দিয়ে বন পুড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি ইসলাম কাউকে দেয় না। নবী করিম (সা.) নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেছেন। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তেও কারও হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, সে যেন তা রোপণ করে নেয়।’ এজন্য তাকে কিয়ামতের দিন অনেক সওয়াব দেওয়া হবে। বৃক্ষরাজি সর্বদা আল্লাহকে সিজদারত অবস্থায় তাসবিহ পাঠ করে থাকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু মহাকাশ ও পৃথিবীতে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে।’ (সূরা আল-হজ, আয়াত: ১৮)
যেকোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার আমলনামা বন্ধ হয়ে যাবে; শুধু সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ মানুষ মৃত্যুর পরও সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব অব্যাহতভাবে পেতে থাকবে। তিনটি বিষয়কে সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে নেককার সন্তান, উপকারী জ্ঞান, সৎভাবে উপার্জিত অর্থ দ্বারা তৈরি মসজিদ ও বৃক্ষরোপণ। কোনো ব্যক্তি যদি একটি গাছ রোপণ করেন, তাহলে ওই গাছটি যত দিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তু যত দিন তার ফল বা উপকার ভোগ করতে থাকবে, তত দিন বৃক্ষরোপণকারীর আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে। এমনকি রোপণকারী যদি মারা যান, তাহলেও তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে যত দিন গাছটি বেঁচে থাকবে। কোনো মানুষ যদি ওই বৃক্ষ থেকে কোনো উপকার বা ফল ভোগ নাও করে, তাহলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে। ইসলামে বৃক্ষরোপণের ওপর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অনুধাবন করার জন্য এ হাদিসটিই যথেষ্ট। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে অধিক হারে বৃক্ষরোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও যথাযথ পরিচর্যায় ব্রতী হয়ে জনগণকে এর তাৎপর্য সম্পর্কে অবহিত করা বাঞ্ছনীয়।
ইসলামি মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় মনোযোগী হতে হবে। বিশ্ববাসীর জন্য বনায়ন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখার জন্য এদের সংরক্ষণ অপরিহার্য কর্তব্য। আমরা যদি বৃক্ষরোপণের বিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে অচিরেই আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি সবুজ শ্যামল বৃক্ষসম্পদে ভরে উঠবে। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে বেশি করে গাছ লাগাই। দেশের মধ্যে পরিমিত বনায়ন সৃষ্টি করতে বা বৃক্ষরোপণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে সবার এগিয়ে আসা দরকার। সরকারের দায়িত্ব হলো দেশে অধিক পরিমাণে বনায়ন করা এবং প্রত্যেক সুনাগরিকের দায়িত্ব হলো নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় বৃক্ষরোপণ করে, দেশের পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা। চলুন, আমরা গাছের যত্ন নিই, বৃক্ষনিধন থেকে বিরত থাকি এবং বৃক্ষরোপণ করে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুন্দর করি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিচারবহির্ভূত হত্যা

জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অবশ্যকর্তব্য। কিন্তু সেই শাস্তি হতে হবে আইনের অধীনে। অপরাধীকে শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলেও শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের। এর বাইরে কাউকে শাস্তি দিলে তা বেআইনি ও বিচারবহির্ভূত বলেই বিবেচিত হবে।
সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এর আগেও দেশি-বিদেশি বহু মানবাধিকার সংস্থা বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হেফাজতে এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত এ ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকার কথাও বলেছেন।
এরপর আশা করা গিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। একদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে মন্ত্রীরা সে রকম কিছু হচ্ছে না বলে সাফাই গাইছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। গত বুধবার রাজধানীতে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। র‌্যাবের দাবি, আসামিদের পাকড়াও করতে গেলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলি ছোড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই যুবক মারা যায়। ক্রসফায়ারের পক্ষে র‌্যাব ও পুলিশ বরাবর প্রায় অভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে থাকে, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই বিচারবহির্ভূত হত্যা বা নিরাপত্তা হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্য, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা এবং সে যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য অকাট্য তথ্য-প্রমাণ হাজির করা। অপরাধী শাস্তি পাবে কি পাবে না, তা অনেকাংশে নির্ভর করে পুলিশের প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর। আনীত অভিযোগ প্রমাণ করে আদালতের রায়ে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, বেআইনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নয়।
নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করার কথা বলেছিল। এটি তাঁদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। বিরোধী দলে থাকতেও তাঁরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এখন ক্ষমতায় এসে তাঁরা সেই অন্যায়কে জায়েজ করতে পারেন না। ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, যে নামই দেওয়া হোক না কেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে এসব বেআইনি ও মানবাধিকারবিরোধী কাজ বন্ধ করার বিকল্প নেই।

ফেসবুকে জর্জ বুশ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকে যোগ দিয়েছেন। ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর দুই হাজারের মতো ভক্ত জুটে যায়।
বুশ ২০০৯ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ফেসবুকে তুলে ধরেছেন। এতে বলা হয়, এ সময় তিনি ২০টি অঙ্গরাজ্য, আটটি দেশ সফর ও ৬৫টির বেশি বক্তৃতা করেছেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার চালু এবং বুশ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চারটি নীতিনির্ধারণবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি তাঁর স্মৃতিকথা ডিসিশন পয়েন্ট-এর প্রথম খসড়া চূড়ান্ত এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত হাইতির সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন।
ফেসবুকে সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ স্পোকেন ফ্রম দ্য হার্ট-এর প্রশংসা করা হয়। ফেসবুকে লরা বুশেরও অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁর সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি ভক্ত রয়েছে।

ইরানে কারাবন্দী ৮১ বিরোধীদলীয় সমর্থককে ক্ষমা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী কারাবন্দী ৮১ জন বিরোধীদলীয় সমর্থককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। গত বছরের জুনে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত এই ৮১ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
আগামী ১২ জুন নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উদ্যাপনের আগে এই ক্ষমাকে শুভলক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিরোধী দল নির্বাচনের সময় সড়কে প্রতিবাদ করার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল সমাবেশ মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিরোধী দলের সমর্থকেরা দাবি করছিল। বিচার বিভাগের অনুরোধে এসব বন্দীকে ক্ষমা করলেও সর্বোচ্চ নেতার ওই ওয়েবসাইটে তাঁদের পরিচয় জানানো হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই

মিয়ানমার সফররত চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী নেপিডোতে সামরিক জান্তাপ্রধান জেনারেল থান শোয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময়তাঁরা সীমান্তে স্থিতিশীলতাসহ পারস্পরিকস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েআলোচনা করেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই নেতার আলোচনায় দুই দেশের সীমান্ত সমস্যাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী থেন সেইন উপস্থিত ছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ জানান, দুই দেশ নানা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনের এক সরকারি সফরে গত বুধবার জিয়াবাও মিয়ানমার পৌঁছান। গত ১৬ বছরের চীনের কোনো সরকার-প্রধানের এটিই প্রথম মিয়ানমার সফর।

ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক চান জুমা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপনে তাঁর দেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, দেড় শ বছর আগে ভারতীয় অভিবাসীরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের সৃষ্টি হয়।
ভারত সফরের দ্বিতীয়দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন।
জ্যাকব জুমা বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণ্যিজ্য হচ্ছে। এ বাণিজ্যের পরিমাণ তিনি ২০১২ সাল নাগাদ এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে চান।
ভারতকে ‘কৌশলগত মিত্ররাষ্ট্র’ উল্লেখ করে জুমা বলেন, দুই দেশের বিকাশমান অর্থনীতির কারণে তাঁরা পরস্পরকে অর্থনৈতিক, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে সাহায্য করতে পারেন। তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্পষ্টত প্রতীয়মান। কেউ এ দুই দেশের বিভিন্ন খাত ও শিল্পের প্রতি দৃষ্টি দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জুমা বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অর্থনৈতিক আধিপত্যের কারণে বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জুমার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিল ও অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার জ্যাকব জুমা ভারতে পৌঁছান।

ফের জোট গড়তে যাচ্ছে কংগ্রেস-তৃণমূল

কলকাতা পৌর করপোরেশনসহ রাজ্যের ৮১টি পৌরসভার নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ে এবার রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া আরও জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের এই ফল আগামী ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার জন্য সুফল বয়ে আনার ইঙ্গি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে রাজ্যবাসী আরও একটি বার্তা দিয়েছে, বামফ্রন্টকে রাজ্যপাট থেকে হটাতে হলে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়া ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই তৃণমূলের জন্য। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করে তৃণমূলের যে এককভাবে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা কঠিন হবে, সেটি এখন তৃণমূলের নেতারাও বুঝতে পারছেন। কেননা, কলকাতায় কংগ্রেস খারাপ করলেও উত্তরবঙ্গে দলটি মোটামুটি ভালোই ফল করেছে। আর এই দিকটি বুঝেই নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলেই দেন যে তাঁরা ফের জোট গড়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা কেশব রাও বলেছেন, ত্রিশঙ্কু বিধানসভাগুলোতে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট করে পৌর বোর্ড গড়বে। কংগ্রেস-তৃণমূলের এই জোট বিধানসভার নির্বাচনেও অটুট থাকবে। এই জোট গড়ার পক্ষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মত দিয়েছেন। কারণ, সর্বশেষ যে হিসাব তাতে দেখা গেছে, এখনো ২৮টি পৌরসভার ফলাফল ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে। এখানে কংগ্রেস বা তৃণমূলের কারোর পক্ষে এককভাবে বোর্ড গড়া সম্ভব হবে না। এখানে কংগ্রেস ও তৃণমূল পরস্পরকে সমর্থন না জানালে বোর্ড গঠন করা কঠিনই হবে। যদিও ৮১টি পৌরসভার মধ্যে তৃণমূল এককভাবে জিতেছে ২৪টি, বামফ্রন্ট ১৮টি ও কংগ্রেস সাতটি পৌরসভায়। আর টাই হয়েছে চারটি পৌরসভায়।
ভোটের ফলাফল গণনার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পান্ডে জানান, এবার তৃণমূল জয় পেয়েছে ৮২৪টি ওয়ার্ডে, আর কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৩০৭টি ওয়ার্ডে। অন্যদিকে বামফ্রন্ট জয় পেয়েছে ৫৬৩টি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে সিপিআইএম ৪৮৪, সিপিআই ২৪, ফরোয়ার্ড ব্লক ৪১ ও আরএসপি ১৪টিতে। এ ছাড়া বিজেপি ১০টি, এসইউসিআই চারটি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে।
কে হচ্ছেন কলকাতার মেয়র?
সর্বশেষ ২০০০ সালে কলকাতা পৌর করপোরেশনের দখল পেয়েছিল কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। তখন মেয়র হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এরপর ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসে বামফ্রন্ট। মেয়র হন বিকাশ ভট্টাচার্য। আর ২০১০ সালে ফের ক্ষমতায় আসে এককভাবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবার কে হচ্ছেন কলকাতার মেয়র, তাই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনাকল্পনা। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মেয়র পদে বসানো হবে না। বসানো হবে দলের কর্মীকে। নির্বাচনের আগে শোনা গিয়েছিল, করপোরেশনে বিরোধীদলীয় নেতা জাভেদ খান হতে পারেন মেয়র। কিন্তু তিনি এবার হেরে যান ভোটে। তৃণমূল এখনো ঠিক করে উঠতে পারেনি কাকে বসানো হবে মেয়রের চেয়ারে। তবে সংখ্যালঘু কাউকে মেয়র করার চিন্তা-ভাবনা আছে তৃণমূলের। সে ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ববি হাকিমের নাম। ববির কলকাতায় সুনাম রয়েছে। আরও উঠে এসেছে জাভেদ খানের স্ত্রী রাফাত জাভেদের নামও। যদি কোনো মহিলাকে মেয়র পদে বসানো হয়, তবে রাফাত জাভেদের সঙ্গে উঠে এসেছে আরও একজনের নাম, তিনি হলেন শশী পাঁজা। তৃণমূলের প্রয়াত নেতা অজিত পাঁজার পুত্রবধূ। আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে যদি কাউকে মেয়র পদে বসানো হয়, সে ক্ষেত্রে উঠে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম।

দ.কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লির দল পরাজিত

দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লি মিউং বাকের দল গ্র্যান্ড নাশনাল পার্টি (জিএনপি) পরাজিত হয়েছে। পীতসাগরে যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাত সংস্কার বিষয়ে তাঁর কট্টরনীতির কারণে জনগণের রায় জিএনপির বিপক্ষে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে দেখা যায়, দেশের ১৬টি প্রাদেশিক গভর্নর বা সিটি মেয়র পদের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জিতেছে লির দল জিএনপির প্রার্থীরা। প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিপি) সাতটি, লিবার্টি ফরওয়ার্ড পার্টি (এলএফপি) একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দুটি পদে জয়লাভ করেছেন। বুধবার প্রাদেশিক গভর্নর, মেয়র ও কাউন্সিলরের চার হাজার পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চার বছর আগে স্থানীয় নির্বাচনে জিএনপি ১৬টি গভর্নর ও মেয়র পদের মধ্যে ১২টি পদেই জয় পেয়েছিল।
স্থানীয় এই নির্বাচনকে লির শাসনের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্ব ও কাজের প্রতি জনগণের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১২ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন জিএনপির চেয়ারম্যান চুং মং জন। দলীয় নেতাদের এক সভায় তিনি বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু জনগণের মন জয় করতে পারিনি। তাই দলীয় প্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ পরাজয়ের দায় স্বীকার করে দলের মহাসচিব চুং বাইউং কুকও তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিত পার্টি বলেছে, জনগণ লি সরকারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার বিপক্ষে রায় দিয়েছে।

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তিন দিনব্যাপী পিস জিরগা বা শান্তি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবারও আলোচনা করেছেন প্রতিনিধিরা। এতে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য তালেবান জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা বলেন কেউ কেউ। প্রায় নয় বছর ধরে চলা সহিংসতা থেকে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজে বের করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মেলনের প্রথম দিনে গতকাল দেশটির প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বক্তব্য দিতে শুরু করলে সম্মেলনস্থলের বাইরে গোলাগুলি ও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী তালেবান দুই জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করে। গ্রেপ্তার করে অপর এক জঙ্গিকে।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরহানউদ্দিন রাব্বানিকে শান্তি সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আলোচনার বিষয়ে প্রতিনিধিরা সম্মেলনের সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। সম্মেলনে দেশটির আদিবাসী নেতাসহ এক হাজার ৬০০ প্রতিনিধি ও পশ্চিমা কূটনীতিক অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে অন্তত ৩০০ নারী অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা আলাদাভাবে বসলেও সবার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
গতকালের আলোচনায় অনেকেই তালেবান জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়াশিংটন ও সিউল মিলে পিয়ংইয়ংয়ের আগ্রাসন বন্ধ করবে: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পিয়ংইয়ংকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের চরম ধৈর্য ধারণেরও প্রশংসা করেছেন।
নিউইয়র্কে গত বুধবার কোরীয় সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেই নৈশভোজে এক ভিডিও বার্তায় ওবামা এসব কথা বলেন।
ওবামা বলেন, ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। এ মাসের শেষের দিকে টরেন্টোতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনের সময় তিনি দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুন বাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা (ওয়াশিংটন ও সিউল) একসঙ্গে প্রস্তুতি নেব এবং পিয়ংইয়ংয়ের আগ্রাসন প্রতিহত করব। উত্তর কোরিয়ার জবাবদিহি আদায়ের জন্য মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আমরা একত্রে কাজ করব। বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইকেল মুলেন গত রোববার বলেন, দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে টর্পেডো হামলার পর পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ুক এমনটা চায় না যুক্তরাষ্ট্র। মুলেনের এ বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা এ মন্তব্য করলেন।
ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুলেন আরও বলেন, ‘উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-ইলের মনোভাব নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিম কোনো একক উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে তাঁর মনে হয় না। আমি শঙ্কিত, উত্তর কোরিয়া পরবর্তী কোনো হামলার পাঁয়তারা করছে।’
দক্ষিণ কোরীয় যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত দল গত ২০ মে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া টর্পেডোর আঘাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউল হামলা চালালে উত্তর কোরিয়া তার পাল্টা জবাব দেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে সিউলের উদ্দেশে পিয়ংইয়ং বলেছে, বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় কোনো জাহাজ ঢুকলে তাতে হামলা চালানো হবে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেছেন, ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারতে পরমাণু স্থাপনা নির্মাণে শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বার খুলে যেতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কৌশলগত সংলাপের প্রাক্কালে কৃষ্ণা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নয়াদিল্লি নতুন দায়বদ্ধতা আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছে।
কৃষ্ণা আরও বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে আমরা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। ভারত সরকার অবশ্যই পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন প্রণয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
১৯৭৪ সালে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষার পর পরমাণু বিষয়ে ভারতের যে বিক্ষিপ্ত দশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এই বেসামরিক চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৫ হাজার কোটি ডলারের সমান ভারতীয় বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি বাজারে মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
নতুন দায়বদ্ধতা আইনের আওতায় মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণের মুচলেকা দিয়ে ভারতে ব্যবসা করতে হবে। শিল্প-কারখানায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর ক্ষতিপূরণ এসব প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। তবে ভারতের পার্লামেন্টে আইনটি পাস করতে দেরি হওয়ায় অনেক মার্কিন বিশ্লেষক হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর ন্যূনতম পর্যায়ে দায়বদ্ধতা থাকায় ভারতে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার আইনটি পাস করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আবার জিম্বাবুয়ের শিকার ভারত

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর মাঠে দৌড়ে এসেছিলেন দলের সবাই, দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানও উল্লাসে ছুটে গিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। সেটা ছিল অঘটন ঘটানোর আনন্দ। কিন্তু টানা দুই ম্যাচ জিতলে তো আর সেটি অঘটন থাকে না। ভারতকে আগের ম্যাচের চেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়েও তাই কাল জিম্বাবুইয়ানদের দেখাল অনেক বেশি স্বাভাবিক। যেন এমনটাই হওয়ার কথা ছিল! ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারানো জিম্বাবুয়ে কাল বোনাস পয়েন্টসহ জিতেছে ৭ উইকেটে।
ভারতের দুই ওপেনার ৫৮ রানের জুটি গড়তে লাগিয়ে ফেলেছেন ১৬ ওভার। ধীরগতির সূচনার পর বিপদ আরও বেড়েছে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে। ৯৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারত দু শর কাছাকাছি যেতে পেরেছে রবীন্দ্র জাদেজার ৫১ রানের ইনিংসে। জবাবে মাসাকাদজা-টেলরের ১২৮ রানের উদ্বোধনী জুটিই নিশ্চিত করে দেয় ভারতের পরাজয়। ৭৪ রান করে প্রথম ম্যাচের মতো কালও ম্যাচ-সেরা ব্রেন্ডন টেলর। ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৫০ ওভারে ১৯৪/৯ (কার্তিক ৩৩, বিজয় ২১, কোহলি ১৮, রোহিত ১৩, রায়না ৩, জাদেজা ৫১, পাঠান ১৫, মিশ্র ০, দিন্দা ১৬, ওঝা ৭, যাদব ৩; ল্যাম্ব ৩/৪৫, ব্লিগনট ১/২২, প্রাইস ১/৩৭, উতসেয়া ১/৪১, ক্রেমার ১/৪২)।
জিম্বাবুয়ে: ৩৮.২ ওভারে ১৯৭/৩ (মাসাকাদজা ৬৬, টেলর ৭৪, কভেন্ট্রি ২০, চিগুম্বুরা ১৬*, টাইবু ১৩*; জাদেজা ২/২৭, ওঝা ১/৩৫)।

আফ্রিদির টোটকা জানেন পন্টিং

টেস্ট ২৬টি খেলেছেন, তবে সর্বশেষটি চার বছর আগে। জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে শহীদ আফ্রিদির টেস্ট ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। নতুন পাকিস্তান অধিনায়কের নতুন অধ্যায়ের শুরুটা যন্ত্রণাময় করে তুলতে চান রিকি পন্টিং।
সাদা পোশাকে ফিরে আফ্রিদিকে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে। একে তো টেস্টে ফিরছেন অধিনায়ক হিসেবে, তার ওপর আবার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, যাদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যান আফ্রিদি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ফিফটিই করেছেন মাত্র একবার। পন্টিংয়ের বিশ্বাস, এই ধারা বজায় থাকবে এবারও, ‘দীর্ঘদিন সে টেস্ট ক্রিকেট খেলেনি। অধিনায়ক হিসেবে তাকে আগেও দেখা গেছে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে সে সেরাদের একজন নয়। আমরা তার বড় একটা পরীক্ষাই নেব। গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডেতে আমাদের ফাস্ট বোলাররা অবশ্য তার পরীক্ষা নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, টেস্টেও এমন কিছু দেখা যাবে।’
তবে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক একই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ নয়, তাঁর দৃষ্টি নিজের দলের দিকে, ‘ওদের অধিনায়ক কে বা কে খেলছে না খেলছে, এসব নিয়ে ভাবা আমাদের কাজ নয়। আমাদের স্রেফ নিশ্চিত করতে হবে ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো ঠিকঠাকভাবে করে আমরা যাতে সেরা দল হয়ে উঠতে পারি।’ অ্যাশেজের আগে এই সিরিজই অস্ট্রেলিয়ার শেষ টেস্ট খেলা। যদিও বোঝাতে চাইছেন অন্যরকম, কিন্তু পন্টিংয়ের কথাতেই পরিষ্কার তাঁর দৃষ্টি অ্যাশেজেই, ‘আমাদের এক চোখ রাখতে হবে অ্যাশেজে, আরেক চোখ এই সিরিজে, যাতে অ্যাশেজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারি। দল হিসেবে পাকিস্তান সব সময়ই বিপজ্জনক।’
পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার দুই টেস্ট ও দুটি টি-টোয়েন্টির সিরিজটি হবে ইংল্যান্ডে। এই সিরিজের পরই আবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট, পাঁচ ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলবে পাকিস্তান।

জোকোভিচের বিদায়

এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন যেন নক্ষত্র পতনের মিছিল। ছেলেদের বিভাগের সেমিফাইনাল লাইনআপটাই দেখুন না—সেরা দশের মধ্যে টিকে আছেন শুধুই রাফায়েল নাদাল ও রবিন সোদারলিং। সর্বশেষ অঘটনের শিকার নোভাক জোকোভিচ। পরশু ২২তম বাছাই অস্ট্রিয়ান ইয়ুর্গেন মেলজারের কাছে হেরে রোলাঁ গাঁরোকে বিদায় জানালেন তৃতীয় বাছাই সার্বিয়ান।
দুই সেট পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জিতেছেন মেলজার। জোকোভিচকে ৩-৬, ২-৬, ৬-২, ৭-৬ (৭/৩) গেমে হারাতে সময় লেগেছে ৪ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। এই জয়ে একটা ইতিহাসও গড়ে ফেলেছেন ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ান। ১৯৯৫ সালে টমাস মুস্টারের পর গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম অস্ট্রিয়ান তিনিই।
এদিকে মেয়েদের বিভাগে ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেন ফ্রান্সেসকা শিয়াভোনে। গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠা প্রথম ইতালিয়ান নারী তিনিই।

দ. আফ্রিকার লক্ষ্য ২৫৩

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে নেমে কাল সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৫২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চন্দরপল করেন সর্বোচ্চ ৬৭ রান। জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা

শুকতারার বিদায়

পেশাদার ফুটবল লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে দুই নবাগত সিলেট বিয়ানীবাজার ও নারায়ণগঞ্জ শুকতারা। বিয়ানীবাজারের অবনমন নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। কাল নির্ধারিত হলো শুকতারার ভাগ্য।
আরামবাগের কাছে এদিন ফরাশগঞ্জ হারলে এবং শুকতারা নিজেদের মাঠে চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে জিতলে ফরাশগঞ্জের সঙ্গে প্লে-অফ খেলার সুযোগ পেত শুকতারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আরামবাগ-ফরাশগঞ্জ ম্যাচ ০-০। শুকতারা-চট্টগ্রাম মোহামেডান ম্যাচ ১-১।
৭৪ মিনিটে শুকতারাকে এগিয়ে নেন আমাদি মোসেস। ৮৯ মিনিটে লামিন সুমার গোলে ১-১। ২৪ ম্যাচে শুকতারার পয়েন্ট ২০। ১৯ ম্যাচে বিয়ানীবাজারের ১৭।

স্পেনের কষ্টের জয়

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে কষ্টের জয় পেয়েছে স্পেন। কাল অস্ট্রিয়াতে জেসাস নাভাসের ৮৬ মিনিটের গোলে তারা হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। ২০০২ বিশ্বকাপে এই দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল স্পেন।

সেই একই রোগে ভুগছেন আসিফ

ত দক্ষিণ এশীয় গেমসে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও সোনা জিততে পারেননি শ্যুটার আসিফ হোসেন খান। কাল শুরু হওয়া ২৪তম জাতীয় শ্যুটিংয়েও একই ঘটনা। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে গতবারের সোনা হারিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি। বিকেএসপির আবদুল্লাহ হেল বাকী হয়েছেন প্রথম।
বাছাইপর্বে ৬০০-তে আসিফের স্কোর ৫৯২ (গত বছর ৫৯৫ করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন)। আবদুল্লাহর ৫৯০। শ্যুট-অফের (১০ শটে ১০৯ পয়েন্ট) আসিফ করলেন মাত্র ৭.৮। ওই শটে আবদুল্লাহর স্কোর ১০.৬।
নিজের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শ্যুট-অফে ভালো করে আসছিলেন আসিফ। কিন্তু এখন তাঁর ভাষায় ‘স্নায়ুচাপের’ কারণে আর পারছেন না। এই বিভাগে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর যেখানে ১০৫.২ অথচ কাল করলেন মাত্র ৯৭.৪। সব মিলিয়ে এদিন তাঁর স্কোর ৬৮৯.৪ (আবদুল্লাহর ৬৯৩.২)। হতাশ আসিফ বললেন, ‘সাফে যেমন নার্ভাস হয়ে সোনা হারিয়েছি, আজও তাই হলো!’
জাতীয় শ্যুটিং রেঞ্জে কাল মহিলাদের ৫০ মিটার প্রোনে নিজের সেরা স্কোরের চেয়ে ৯ কম করেও সোনা জিতেছেন ঢাকা রাইফেলস ক্লাবের সাবরিনা সুলতানা। পুরুষ ৫০ মিটার পিস্তলে প্রথম হন সাভার সেনা শ্যুটিং ক্লাবের নাদিমুল ইসলাম। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের জুনিয়র বিভাগে সেরা বিকেএসপির শোভন চৌধুরী।

ব্রাজিলের দুশ্চিন্তা সিজার

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচটাতেও একটা দুঃসংবাদ সঙ্গী হয়েছে ব্রাজিল দলের। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছেড়েছেন দলের এবং অনেকেরই চোখে এ সময় বিশ্বের এক নম্বর গোলরক্ষক হুলিও সিজার। ম্যাচের বাকি সময়টা গোলপোস্ট আগলেছেন বদলি গোলরক্ষক হুরেলহো গোমেজ।
সিজারের চোট কতটা গুরুতর সেটি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে ব্রাজিলীয় পত্রিকা গ্লোবো জানিয়েছে, পিঠের নিচের দিকের অংশে ব্যথা পেয়েছেন ইন্টার মিলানের এই তারকা গোলরক্ষক। খুব বেশি গুরুতর কিছু না হলেও বাড়তি সতর্কতার জন্যই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গেই দলের চিকিৎসক হোসে লুইস রানকো তাঁর শুশ্রূষা করেছেন। ডাক্তারি পরীক্ষা করার পরই তাঁর অবস্থা জানিয়ে বিবৃতি দেবে ব্রাজিল দল।