Showing posts with label বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম. Show all posts
Showing posts with label বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম. Show all posts

Wednesday, August 17, 2022

স্বাস্থ্য উপকারিতায় তুলনাহীন তুলসি

তুলসি মোটেও মিষ্টি ধরনের কোন উদ্ভিদ নয়, যা খাদ্যে স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়।
এই সবুজ উদ্ভিদ ওসিমিয়াম টেনুইফ্লরাম (Ocimum tenuiflorum) বা তুলসি নামে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে বেশ পরিচিত। চোখের রোগ থেকে শুরু করে দাদ সারাতেও এটি ঔষধী উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তুলসির পাতা থেকে বীজ, সবকিছুই শরীর-মন সুস্থ রাখতে বলবর্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে। তুলসির বিভিন্ন অংশ যেসব চিকিৎসার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে-
১. ব্রঙ্কাইটিস: তুলসির পরিষ্কার ফুল এর জন্য ব্যবহার করা হয়।
২. ম্যালেরিয়া: পাতা ও বীজ কালো গোলমরিচের সাথে ব্যবহার করা হয়।
৩. ডায়রিয়া, মাথা ঘুরানো ও বমিভাব: সম্পূর্ণ উদ্ভিদটিকে ব্যবহার করা হয় এ সমস্যার ক্ষেত্রে।
৪. চর্বি: এ ধরণের সমস্যার জন্য সম্পূর্ণ উদ্ভিদ দিয়ে ট্যাবলেট এবং মলম তৈরি করে ব্যবহার করা হয়।
৫. আলসার ও চক্ষু রোগ: এই উদ্ভিদটির অ্যালকোহল নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
৬. পোকাকামড়: পাতা থেকে তেল সংগৃহীত করে ব্যবহার করা হয়।
বহু গবেষণায় মানুষের চিকিৎসার জন্য তুলসির ব্যবহার গবেষকরা সমর্থন করে থাকেন। পুষ্টির মান সহ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রা সম্পন্ন: ভিটামিন এ ও সি, ক্যালসিয়াম, জিংক, ক্লোরোফিল।
তবে তুলসি পাতা প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করা উচিৎ। এছাড়াও চিকিৎসকের অনুমোদনে কোনো ঔষধ সেবনরত অবস্থায় এটি সেবন বা ব্যবহার না করাই উত্তম।
তুলসি পাতার নানাবিধ শারীরিক উপকারিতার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা এখানে তুলে ধরা হলো।
কমায় মানসিক চাপ ও অশান্তি
আয়ুর্বেদ জার্নাল এবং ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন এর তথ্যানুযায়ী, ডায়াজেপাম এবং অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ড্রাগস এর তুলনায় বেসিল এর মধ্যে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং বিরোধী-উদ্বেগ বৈশিষ্ট্য বেশি রয়েছে। এক গবেষণায় তুলসি পাতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৫০০ মিলিগ্রামের মতো তুলসি গ্রহণ করেন তাদের মাঝে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা তুলনামূলক কম থাকে।  
আয়ুর্বেদিক অনুশীলনকারীরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তুলসি পাতা দিয়ে চা পান করতে, এটি ক্যাফেইনমুক্ত এবং প্রতিদিন পান করা যাবে। এছাড়া এই চা পানের মাধ্যমে যোগব্যায়াম সমপরিমাণ মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে।
শরীরকে প্রাণবন্ত ও উৎফুল্ল করে
তুলসি পাতায় থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে ডিটক্স করতে সহায়তা করে। স্টাডিজ ট্রাস্টেড জানাচ্ছে, তুলসি শরীরকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে সুস্থ রাখে। এতে করে শরীর প্রাণবন্ত ও উৎফুল্ল থাকে।
ইনফেকশন ও ক্ষত প্রতিরোধ করে
সার্জারি হওয়ার পরে ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো হওয়ার জন্য তুলসি পাতা ব্যবহার করেন অনেকেই। তুলসি ক্ষতস্থানের শক্তি পুনঃরুদ্ধার করে, ক্ষত সারানোর সময় কমিয়ে আনে এবং দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীরা জানান, তুলসি পাতা যেমন- মুখের আলসার, ব্রন, পুরনো দাগের মতো ইনফেকশন ও ক্ষত থেকে রক্ষা করে।   
রক্তে চিনির মাত্রা কমায়
যদি আপনার প্রিডায়বেটিস বা টাইপ-২ ডায়বেটিস থাকে, তবে তুলসি পাতা তা কমাতে সাহায্য করবে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে- ওজন বেড়ে যাওয়া, রক্তে অধিক ইনসুলিন, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের মতো ডায়বেটিসের লক্ষণসমূহ কমাতে তুলসি কাজ করে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তুলসি ৩০ দিনে ২৪ শতাংশ ব্লাড-সুগার কমাতে পারে। তবে, খাদ্যাভ্যাসে এটি যুক্ত করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কমায় কোলেস্টেরলের মাত্রা
যেহেতু তুলসি পাতার কাজই হচ্ছে বিপাকীয় চাপ কমানো, তাই এটি ওজন ও কোলেস্টেরল কমাতেও কাজ করে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হ্রাস করে, ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। তুলসি পাতা, তেল, তুলসি গুঁড়ার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে থাকে।
সুস্থ রাখে পাকস্থলী
তুলসি প্রাকৃতিকভাবে পেটের সমস্যা আলসার থেকে প্রতিহত করে এবং প্রতিরক্ষা করে। উপকারী এই পাতা পেটের অ্যাসিড হ্রাস করে, মিউকাস নিঃসরণের মাত্রা বাড়ায়, মিউকাস কোষের আয়ু বৃদ্ধি করে। পেপটিক আলসার হলে বাজারের ওষুধ গ্রহণে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তুলসি -পাতা গ্রহণে উপকার দেখা দেবে।

Wednesday, June 15, 2022

ইতিহাসের ভয়ংকর ৫ বন্দিশালা, এখন জাদুঘর

কালের বিবর্তনে পৃথিবীর ভয়ংকর সব বন্দিশালা পরিবর্তিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে জনপ্রিয় সব দর্শনীয় স্থান হিসেবে। দাপুটে শাসক থেকে শুরু করে এসব বন্দিশালায় কারাভোগ করেছেন অসংখ্য মানুষ। ইতিহাসের রহস্যজনক এমন পাঁচটি বন্দিশালার খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হলো:

টাওয়ার অফ লন্ডন

টাওয়ার অফ লন্ডন
টাওয়ার অফ লন্ডনের অবস্থান টেমস নদীর তীরে। এটি একাদশ শতাব্দীতে রাজকীয় ভবন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়। ১১০০ সাল থেলে এটিকে বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করা হয়। বিশেষ করে যারা দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিলেন তাদেরকে এখানে বন্দী করে রাখা হতো। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো রাজকুমারী এলিজাবেথ (প্রথম এলিজাবেথের পরবর্তী রাজকুমারী), সৈনিক গাই ফকেস, স্যার ওয়াল্টার রালেহকেও এখানে কারাবন্দী করে রাখা হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এই বন্দিশালাকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এখন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে এখানে রাজকীয় গহনা, পয়সাসহ বিভিন্ন চিত্রকর্মের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য।

রোবেন আইল্যান্ড, আফ্রিকা

রোবেন আইল্যান্ড বন্দিশালা
রোবেন আইল্যান্ড ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত ডাচদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো। পরবর্তীতে ব্রিটিশ অপরাধী এবং রাজনৈতিক নেতাদের বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মূলত বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ বৈষম্যের সময়কালে এটি বন্দিশালা হিসেবে প্রকাশ পায়। এটার জনপ্রিয়তার অন্য আর একটি কারণ হলো বিশ্বনেতা নেলসন মেন্ডেলা এই কারাগারে ছিলেন। এখানে ১৯৬৪-১৯৮২ সাল পর্যন্ত নেলসন মেন্ডেলা এখানে কারাবাসে ছিলেন। ১৯৯৭ সালে কারাগারটিকে জাতীয় জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবেও স্বীকৃতি পায় এ কারাগারটি।

আলকাট্রাজ ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি, সানফ্রানসিসকো

আলকাট্রাজ ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি বন্দিশালা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রানসিসকোতে অবস্থিত আলকাট্রাজ ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি বন্দিশালা। এটি মূলত একটি নৌ-প্রতিরক্ষা দুর্গ ছিল। ১৮৬১ সালে এটি সামরিক অপরাধীদের বন্দিশালায় রূপান্তরিত হয়। এ বন্দিশালাটি অ্যালফোনেজ গ্যাব্রেল, জর্জ কেলি, রবার্ট স্টাউডের কারাগার হিসেবে সুপরিচিত। 'ব্যাটেল অফ আলকাট্রাজ' যুদ্ধের সময় এই বন্দিশালার কয়েদিরা কারারক্ষীদের সঙ্গে লড়াই করে পালিয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এ যুদ্ধের কারাবন্দীদের পালিয়ে যাওয়ার অংশটুকু নিয়ে পরবর্তীতে একটি সিনেমাও নির্মিত হয়। 'এস্কেপ অফ আলকাট্রাজ' নামে এই সিনেমাটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ডেভিলস আইল্যান্ড, ফ্রান্স

ফ্রান্সে অবস্থিত ডেভিলস আইল্যান্ড বন্দিশালা
১৮৫২ সালে সম্রাট নেপোলিয়ান-৩ এই কারাগারটি নির্মাণ করেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এটি কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এই কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল। এই কারাগারের চারপাশ ছিল দ্বীপ বিশিষ্ট যেটি ছিলো মূলত হাঙ্গরের আবাসস্থল। কারাগারের সবচেয়ে খ্যাতিমান কারাবন্দী ছিলেন ফ্রেন্স সেনা কর্মকর্তা আলফ্রেড ড্রেইফুস। যিনি ১৮৯৫-১৮৯৯ সাল পর্যন্ত অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য কারাবরণ করেছিলেন। ১৯৮০ সালে কারাগারটির সংস্কার করা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

টুল স্লেং জেনোসাইড, কম্ববোডিয়া

কম্ববোডিয়ার টুল স্লেং জেনোসাইড বন্দিশালা
তৎকালীন কম্বোডিয়ার নেতা পল পট, টুল সেভি প্রি হাইস্কুলটিকে কারাগারে রূপান্তরিত করেন। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি কারাগার হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। কম্বোডিয়ার সবচেয়ে বড় কারাগার ছিল। কারাগারে বন্দী ১৭ হাজার কয়েদির মধ্যে মাত্র সাত জন বেঁচে ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সাল থেকে টুল স্লেং জেনোসাইড যাদুঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

Sunday, August 9, 2020

মৃত্যুর ৬ দিন আগে জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করেন বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
৯ আগস্ট এমন একটি দিন যেদিন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অভাবনীয় সিদ্ধান্তে পিলে চমকে গিয়েছিল অনেক বোদ্ধার। নির্মম ব্যাপার হলো ঐতিহাসিক সেই দিনের মাত্র ৬ দিন পর বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালের সেই দিনে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র (তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা) নামমাত্র মূল্যে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। যার ওপর ভিত্তি করেই এখন দাঁড়িয়ে আছে দেশের জ্বালানি খাত।

একইসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিশন কোম্পানিতে থাকা শেল অয়েলের সব শেয়ার কিনে নেয় বাংলাদেশ। ১৮ বছরে মোট ৩৬টি কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হিসাবে চুক্তি সম্পাদন করা হয়। অনেকে এই মূল্যকে নামমাত্র মূল্য হিসেবে মনে করেন। কারণ প্রকৃত মূল্য ছিল কয়েক গুণ বেশি। জাতির জনকের কৌশলী বুদ্ধিতে সেদিন অনেকটা বোকা বনে গিয়েছিলো বহুজাতিক কোম্পানি শেল অয়েল।

সেই সময় ওই ৫টি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস মজুদ ছিল ১৩ দশমিক ৩৩৫ টিসিএফ। হিসাবে দেখা গেছে ২০১০ সালের জুন পযর্ন্ত ৬.৫২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৭৯ হাজার কোটি টাকা। পুরো গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। গ্যাস ক্ষেত্রগুলো সেদিন কিনে নেওয়ায় স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এ কারণে ৯ আগস্টকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। ঐতিহাসিক ওই ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সাল থেকে ৯ আগস্টকে ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মোবাইলে এসএমএস প্রদান, আলোচনা সভা ও বিশেষ সেমিনার, নির্ধারিত সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে জেলা পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সরকার জ্বালানি খাতের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। শত্রু সম্পতি হওয়ায় সিলেট ও ছাতক গ্যাস ক্ষেত্রের পরিচালনার দায়িত্ব সরকার নিজ হাতে নেয় এবং পেট্রোলিয়াম অধ্যাদেশ জারি করে।

পেট্রোলিয়াম অপারেশনের সব বিষয় পরিচালনা এবং পরিবীক্ষণের জন্য পেট্রোবাংলা গঠন করা হয়। একইভাবে কয়লাসহ কঠিন খনিজ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য বাংলাদেশ মিনারেল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন গঠন করেন বঙ্গবন্ধু।

সংস্থা দু’টির চেয়ারম্যানকে সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পেট্রোলিয়াম কনসেশন প্রথা বিলুপ্ত করে প্রডাকশন শেয়ারিং কন্টাক্ট (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) প্রথা চালু করেন জাতির জনক। ৫টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সমুদ্র উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করেন তিনি।

ওই সময়ই বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে পুনর্গঠন ও গতিশীল করা হয়। মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্পের আর্থ-কারিগরি সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগ ও আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, সোভিয়েত রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু যে দূরদর্শী নেতা ছিলেন এই একটি উদাহরণেই যথেষ্ট। তার সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কারণে জাতি আজ অনেকখানি স্বস্তিতে রয়েছে।

Monday, July 20, 2020

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৭তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথ
সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৭তম জন্মদিন আজ সোমবার (২০ জুলাই)।
কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।
হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।
তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।
১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।
কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।
কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা'
সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। 
কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন।
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

Sunday, July 19, 2020

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে by ড. মাহফুজ পারভেজ

হুমায়ূন আহমেদ
তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

Wednesday, July 15, 2020

আধুনিক গদ্যের রূপকার আন্তন চেখভ by কাজী মাহবুবুর রহমান

আন্তন চেখভ
কিংবদন্তি রুশ কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার আন্তন চেখভকে বাংলা সাহিত্যে প্রথমবারের মতো পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সম্ভবত সৈয়দ মুজতবা আলী। ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থে তিনি চেখভকে নিয়ে স্বতন্ত্র প্রবন্ধ রচনা করেন। এবং রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্যদের সাথে তূলনামূলক একটি রচনাও সেখানে স্থান পায়। চেখভ হলেন বিশ্বের সেসকল অল্প কিছু প্রভাব বিস্তারকারী সাহিত্যিকদের একজন, যাদের নামেই পরবর্তী বিশ্বসাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র শৈলি তৈরি হয়।

চেখভের শুরুর জীবন ছিল দুঃখ কষ্টে জর্জরিত। শৈশব থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে নিজেকে মানিয়ে একরকম সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাকে বলা যায় গদ্যের চার্লি চ্যাপলিন৷ চেখভ তার অনেক গল্পই লিখেছেন কমেডির আদলে; কিন্তু চেখভের পাঠকেরা জানেন, এরই আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর দুঃখবোধ ও বেদনার আবহ।

১৮৬০ সালের ২৯ জানুয়ারি দক্ষিণ রাশিয়ার আজভ সাগর সংলগ্ন তাগানরোগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন চেখভ। বাবা ছিলেন প্রাক্তন ভূমিদাস কৃষক। তিনি তাগানরোগে একটি দোকান চালাতেন। পাশাপাশি গির্জার ধর্মসংগীতে নেতৃত্বদানকারী গায়কদের পরিচালক ছিলেন। তাঁর স্বভাব ছিল ভীষণ রূঢ় ও কঠোর। মা জেভলোনিয়া জাকোভলেভনা ছিলেন ঠিক উল্টো। অত্যন্ত স্নেহবৎসল আর চমৎকার গল্পকথক; অবিকল রুশ উপন্যাসের মায়েদের মতো। তবে চেখভের বাবা ছিলেন মেধাবী ও তৎপর একজন ব্যক্তি। অভাবের সংসার চালিয়ে নিতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হতো। চেখভ বলেছিলেন, আমরা আমাদের মেধা বাবার কাছ থেকে পেয়েছি আর হৃদয় মা’র কাছ থেকে।

চেখভের শৈশব-কৈশোর কেটেছে সীমাহীন দারিদ্র্যে। গৃহশিক্ষকতা, পাখি ধরে বিক্রি আর খবরের কাগজে ছোট ছোট স্কেচ এঁকে তিনি নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন। সেই সাথে প্রচুর পড়তেন। মাধ্যমিকেই পড়ে ফেলেছিলেন তুর্গেনিভ, গনসারভ ও শোপেনহাওয়ার। ১৮৭৯ সালে ভর্তি হন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে। পাশাপাশি চলছিল গল্প লেখা। তবে প্রথম দিকের গল্পগুলো লিখেছিলেন জীবনযাপন ও লেখাপড়ার খরচ যোগাতে। পরবর্তীকালে তা-ই হয়ে উঠল অন্তরের তাগিদ। ডাক্তারি পাশ করলেও সেই পেশা ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন চেখভ। তাঁর রচিত গল্পগুলোর মধ্যে : ‘স্তেপ’, ‘চাষী’, ‘ওয়ার্ড নম্বর ছয়’, ‘বিষণ্ণ কাহিনি’ উল্লেখযোগ্য।

নাটক লিখেছেন অনেক। তবে নাট্যকার হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এসেছে ‘থ্রি সিস্টার্স’, ‘দ্য সিগাল’ এবং ‘দ্য চেরি অরচার্ড’ নাটকের মাধ্যমে। চেখভের কাহিনি অবলম্বনে মঞ্চস্থ হয়েছে বহু নাটক। এদিক থেকে শেকসপিয়র ও ইবসেনের পাশাপাশি চেখভের নাম উল্লেখ্য।

সাহিত্যচর্চায় চেখভের স্বকীয় রীতি আধুনিক ছোটগল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। চেখভের রচনা শৈলির ওপর দাঁড়িয়ে যায় ‘চেকভিয়ান ম্যানার’। পরবর্তীকালে জেমস জয়েস ও অন্যান্য আধুনিক কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে প্রকটভাবে চেখভের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

১৯০৪ সালের ১৫ জুলাই আজকের এই দিনে চেখভ প্রয়াত হন।

Friday, November 22, 2019

দাঁতে নখ কাটার ৭ স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সারাদিনে সব কাজ করা হয় হাত দিয়েই।
অনেক সময় খেয়াল থাকে না কী করা হয়েছে এবং সেই নোংরা হাতের নখ বেখেয়ালে কাটেন অনেকেই। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস সহ ময়লাগুলো শরীরে প্রবেশ করে অবলীলায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নখ কাটা হয় স্বভাববশত। আবার কোন সমস্যা যেমন- কিছু ভাবলে, চিন্তা করলে, অন্যমনস্ক হলে, কারো সাথে কথা বলার সময়, বকা শুনলে, কোন কারণে রাগান্বিত হলে ইত্যাদি কারণেও নখ কাটা হতে পারে।  
অনেকেই ভাবেন দাঁতে নখ কাটার অভ্যাস কেনো কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, এটি জটিল কোন ব্যাপার তো নয়। Onychophagia একটি অনিয়ন্ত্রিত মৌখিক স্বাস্থ্যজনিত রোগ বা দাঁতে নখ কাটার অভ্যাস। অনেকেই এই সমস্যায় ভুক্তভোগী।
কিন্তু জেনে রাখা প্রয়োজন দাঁতে নখ কাটার ফলে দেখা দিতে পারে, কোন ৭ ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সেক্ষেত্রে নিজের এই বদঅভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
ত্বকের ইনফেকশন
নিউ ইয়র্ক শহরের ত্বক-বিশেষজ্ঞ দেব্রা জলিমান এমডি স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানান, দাঁতে নখ কাটার ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমন একটি জীবাণু হলো, প্যারোনিচিয়া। যার ফলে ত্বক লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং নখের ভেতরে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।
আঙ্গুলের বিকলাঙ্গতা
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ডেভিড কাটজ জানান, প্যারোনিচিয়া বা ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন যদি অতিমাত্রায় হয়ে যায় তাহলে তা হাতের হাড়ের বন্ধনীগুলোতেও ইনফেকশন ছড়িয়ে দিতে পারে। এটি সেপ্টিক আর্থথ্রিটিস নামক একটি অবস্থার ফলে হতে পারে, যা নিরাময় করা কঠিন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
নখের আকৃতির বিকৃতি
চিকিৎসক জলিমান ব্যাখ্যা করেছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ দাঁতে নখ কাটালে নখের নিচে থাকা টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে ও এর ফলে নখের আকৃতির বিকৃতি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও নখের শিরার সমস্যা হলে নখ বড় হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
হার্পিস ভাইরাস
ঠাণ্ডা-জ্বরের মাঝে দাঁতে নখ কাটলে মুখ ও ঠোঁটের মাধ্যমে হার্পিস নামক ভাইরাস নখে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ঠোঁট ও নখে ঠোসা জাতীয় ইনফেকশন হতে পারে।
দাঁতের সৌন্দর্য নষ্ট
একাডেমি অব জেনারেল ডেন্টিস্ট্রি সহ মেরিল্যান্ড-ভিত্তিক দন্তচিকিৎসক গিগি জানান, রোগীদের দাঁতে নখ কাটার ভফলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় তাদের চিকন ও ভঙ্গুর দাঁতে। দাঁতে নখ কাটার ফলে জীবাণুগুলো দাঁতকে কালো, নষ্ট করে ফেলে।
দাঁতের স্থান পরিবর্তন
যারা সাধারণত দাঁতে নখ কাটেন, তারা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট দাঁতেই নখ কেটে থাকেন। এর ফলে দাঁতে বারংবার চাপ অরথোডন্টিক প্রয়োগের মতো কাজ করে। এতে দাঁতের স্থান সরে যেতে পারে।
মাড়ির সমস্যা
চিকিৎসক মাইনকে সতর্ক করেছেন, মাঝে মাঝে দাঁতে নখ কাটার ফলে নখের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুকরোগুলো মাড়িতে গিয়ে আটকিয়ে যায়। এতে সৃষ্টি হয় মাড়ি ফোলা, রক্ত বের হওয়া, ব্যথা করা সহ নানান ইনফেকশন।
কিভাবে নখ কামড়ানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করা যাবে?
১. নখ কেটে ছোট করে রাখতে হবে। নখ কাটটে হবে নখের মাংসের একটু নিচে, যাতে দাঁতের স্পর্শে না আসে।
২. নারীরা নখে দামি নেইলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে তা নষ্ট করতে না চাইলে নখ কামড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
৩. হাতে স্ট্রেস বল বা রাবার জাতীয় কিছু নিয়ে রাখতে পারেন।
সাথে নিজেও খুঁজে নিতে পারেন এমন কোন পদ্ধতি, যেটি আপনাকে দাঁতে নখ কাটা থেকে দূরে রাখবে।

Thursday, November 14, 2019

পিরিওডকালীন সময়ে হাঁটাহাঁটি বন্ধ থাকবে? by ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিরিওড দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক অস্বস্তি ও সমস্যা নিয়ে।
তলপেটে ব্যথা, পেট ফোলাভাব, হাত-পায়ে ব্যথাভাব, শারীরিক দুর্বলতা, খাবারে অরুচিভাব দেখা দেওয়া সহ দেখা দেয় মুড সুইং এর মতো সমস্যা। একসাথে কয়েক ধরনের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার ফলে, এ সময় শুয়ে-বসে থাকতেই বেশি আরামবোধ হয়।
সুস্বাস্থ্যের জন্য ও ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তারাও এ সময়টিতে আলস্যবোধ করেন। জড়তা এসে ভর করে শরীর ও মনে। ফলে পিরিওড চলাকালীন ৫-৭ দিন অনেকেই হাঁটাহাঁটি করা বাদ দিয়ে দেন। এছাড়া অনেকের মাঝেই ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে যে, এ সময়ে খুব বেশি হাঁটাহাঁটি অথবা কোন ধরনের শরীরচর্চাই করা যাবে না। অথচ এ সময়ে শারীরিক সমস্যাগুলো কমাতে ও পিরিওডকে সহজ করতে সাহায্য করে রুটিন হাঁটাহাঁটির অভ্যাস।
কেন এ সময়ে হাঁটাহাঁটি উপকারী?
শুধু হাঁটাহাঁটি নয়, হালকা দৌড়, রাইডিং ও সাঁতরানোর মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চামূলক কার্যক্রম পিরিওডকালীন সময়ে শারীরিক সমস্যাগুলোকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
যদিও এ সময়ে একেবারেই শরীরচর্চা করতে ইচ্ছা করে না, তবে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও যদি কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা বা সাইকেল চালানো যায় তবে উপকার পাওয়া যাবে। কয়েক মিনিটের ওয়ার্ম আপেই শরীর ঝরঝরে বোধ হবে এবং তলপেটের ব্যথাভাব কমে যাবে।
এমনকি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরাও পিরিওডকালীন সময়ে নারীদেরকে একদম বসে না থেকে হালকা ঘরানার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে ভারি ঘরানার যেকোন ধরনের শরীরচর্চা এড়িয়ে যেতে পিরিওডকালীন সময়ে।
তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। বেশ কিছু গবেষণার তথ্য থেকে দেখা গেছে, মানুষ ভেদে পিরিওডকালীন সময়ে শারীরিক কার্যক্রমের প্রভাবে ভিন্নতা দেখা দেয়। অর্থাৎ একজনের জন্য বিশ মিনিটের হাঁটা যতটুকু ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে, আরেকজনের জন্যেও যে ততটুকু প্রভাব দেখা দেবে সেটা নিশ্চিত নয়।
এ সময়ে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে?
স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য সময়ে শরীরচর্চা করার চাইতে পিরিওডকালীন সময়ে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয় কিছু বাড়তি বিষয়ে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে পোশাকের বিষয়। শরীরচর্চা বা বাইরে হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে লাল, বাদামী কিংবা কালোর মতো গাড় রঙগুলো বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক পরিস্থিতি এড়ানো যাবে।
এছাড়া পরিধেয় পোশাক এমন হতে হবে যেন অস্বস্তিবোধ না হয়। আরামদায়ক পোশাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তেমন তন্তুর পোশাক নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া লিকেজের ভয় থাকলে এমন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে, যা ভারি রক্তপাতে সমস্যা করবে না। হাঁটাহাঁটি বা সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে টেম্পন ব্যবহার না করাই উত্তম।
মোদ্দাকথা, পিরিওড চলাকালীন সময়ে হাঁটাহাঁটি বা হালকা ঘরানার শরীরচর্চাতে কোন না নেই। বরং এতে উপকার রয়েছে।
পিরিওডকালীন সময়েও চালু রাখতে হবে শরীরচর্চা

Tuesday, November 12, 2019

ইন্দোনেশিয়ায় বাঁশের তৈরি দর্শনীয় বাড়ি

সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পর্যটন আয়ের অধিকাংশ নির্ভর করে এই সমুদ্র সৈকতের উপর। তার বাইরে সবুজায়ন ও বন-জঙ্গলের জন্যও বিখ্যাত এই দ্বীপ দেশ ইন্দোনেশিয়া।
ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গলে বেশকিছু বাড়ি পাওয়া যায়, যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে শুধু গাছ দিয়ে তৈরি করা। যাকে বলা হয় ‘গাছ ঘর’। ভ্রমণের জন্য এ ধরনের বাড়ি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। এ বাড়িগুলো পর্যটকদের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।
বালির জঙ্গলের মধ্যে বাঁশের তৈরি গাছ বাড়ি
পুরো বাড়ি তৈরি করা হয় স্থানীয়ভাবে জন্মানো এস্পার বাঁশ দিয়ে। গাছের তৈরি এ বাড়ি আইয়াং নদীর গিরির ওপর বানানো এবং সেখান থেকে বালির বন-জঙ্গলের সুদূরপ্রসারি দৃশ্য দেখা যায়।
বুটিক হোটেলস এর তথ্য মতে, সবুজ গ্রাম তৈরির উদ্যোগের অংশ হচ্ছে এ ধরনের বাড়ি। টেকসই নির্মাণ পাশাপাশি বাড়িকে নান্দনিকভাবে আনন্দদায়ক করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বাড়িগুলোতে সিঁড়ি, দেয়াল, আসবাব-পত্র এমনকি লাইট লাগানোর সরঞ্জাম তৈরিতেও বাঁশ ব্যবহার করা হয়। তিনতলা এ বাড়িগুলোর প্রতি তলায় বারান্দা রাখা হয়েছে এবং বাড়ির সাথে একটি ব্যক্তিগত সুইমিং পুলেরও ব্যবস্থা আছে। এতকিছু দেখার পরে আর বুঝতে বাকি থাকে না যে কী কারণে এসব গাছ বাড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Monday, November 4, 2019

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ? by ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

ননস্টিক পাত্র
এখনকার সময়ে রান্নাবান্নার কাজে ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার সর্বত্র।
এ পাত্রগুলো ব্যবহারে সুবিধা থাকার ফলে এতো বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় ননস্টিক পাত্র। এতে খাবার পোড়ার সম্ভবনা থাকে না বললেই চলে, খাবার খুব সহজে ও দ্রুত রান্না করে নেওয়া যায় বলে ঘরে ঘরে ননস্টিক পাত্রের চল।
কিন্তু সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে কি? এ ঘরানার পাত্র ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিচ্ছে কি না, সেটা জানা প্রয়োজন নিজের ও পরিবারের মানুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।
সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ননস্টিক পাত্র থেকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামক এক ধরনের পদার্থ এ সকল পাত্রে রাঁধা খাবারের সাথে মিশে যায়। যা আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাবারের সাথে গ্রহণ করে থাকি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর পরীক্ষা মতে ননস্টিক পাত্র থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল উপাদান নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

গবেষণা থেকে কী পাওয়া গিয়েছে?
FDA এর গবেষণালব্ধ ফল থেকে জানা যায়, ননস্টিক পাত্র থেকে পাওয়া যায় PFAs। যা ৫,০০০ সিনথেটিক গ্রুপের একটি কেমিক্যাল। এই কেমিক্যালটি ফরএভার কেমিক্যাল নামেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ৯৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের রক্তেই এই কেমিক্যালটির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
দেশটির এনভারমেন্টাল প্রটেকশন অ্যাজেন্সি দাবি করছে, প্রাকৃতিক কোন খাদ্য উপাদান থেকেই এই ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার কোন সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ননস্টিক পাত্রের ব্যবহারের ফলেই ক্ষতিকর এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এতে ক্ষতির সম্ভাবনা কতটুকু?
FDA জানাচ্ছে রক্তে PFAs এর মাত্রা কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় ননস্টিকি পাত্রে খাবার রান্না করা হলে PFAs খাবারের সাথে বিপদজনক মাত্রায় মিশে যেতে পারে। যার ফলে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, কিডনি ও লিভার ড্যামেজের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সমাধান কী?
প্রায় সকল ধরনের ননস্টিক পাত্রেই PFAs এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই অ্যালুমিনিয়াম ও টেনফয়েল জাতীয় ননস্টিক পাত্র ব্যবহার ও ক্রয় করা থেকে বিরত থেকে সিরামিক, স্টেইনলেস স্টিল কিংবা টেমপারড গ্লাসের পাত্রের ব্যবহারে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সকল পাত্র ব্যবহারে অভ্যাস্ততা গড়ে তুলতে হবে।

Saturday, November 2, 2019

কতখানি নিকোটিন থাকে একটি সিগারেটে? by ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

প্রশ্নাতীতভাবে ধূমপান সবচেয়ে বাজে ও ক্ষতিকর একটি অভ্যাস।
এ বদভ্যাসের দরুন নিজের স্বাস্থ্য তো বটেই, পাশাপাশি অন্যের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মাঝে পড়ে যায়। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও বেশিরভাগ ধূমপায়ী এই অভ্যাসটি বাদ দিতে চান না। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অনেকেই চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই অভ্যাসটিকে পাশ কাটিয়ে উঠতে। তবে ধূমপায়ী, অধূমপায়ী ও ধূমপান ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন যারা, প্রত্যেকেই একটি বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন- একটি সিগারেটে কতখানি নিকোটিন থাকে! চলুন এই বিষয়টি জানানো যাক।
প্রতিটি সিগারেটে থাকে ৭০০০ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। যার মাঝে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো নিকোটিন (Nicotine). হাজারো ধরনের কেমিক্যালের ভেতর এই নিকোটিন তৈরি হয় তামাক পাতা থেকে। তামাক পাতা থেকে তৈরি হওয়া এই উদ্ভিজ কেমিক্যাল নিকোটিনেই ধূমপায়ীদের আসক্তি তৈরি হয়।
মেডিকেশন অ্যাডভোকেট জেসন রিড জানান, প্রতিটি সিগারেটে গড়ে এক মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। এছাড়া এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে সিগারেটের ধরনের উপর নির্ভর করে এক একটি সিগারেটে ১.২-১.৪ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। স্বল্প নিকোটিনযুক্ত ‘সিগারেট লাইট’ এ ০.৬-১ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিকোটিন থাকে। তবে সাধারণ সিগারেটের মতো সিগারেট লাইটেও একই ধরনের সিগারেট বুস্ট তথা সিগারেটের প্রভাব থাকে।
এছাড়া নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা ধূমপায়ীর উপর নির্ভর করে। সিগারেটে কত জোরে টান দিচ্ছে এবং সিগারেট পাফের কতটা নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত সিগারেট পান করছে- এই দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেও নিকোটিন গ্রহণের মাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়।

Friday, September 27, 2019

কৃষকের গুপ্তধন 'বইকচু' by তোফায়েল হোসেন জাকির

বইকচু চাষি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ধাপেরহাট এলাকা। এই এলাকার ফসলি জমিতে বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি চাষ করা হয় 'বইকচু'। এবার বইকচুর অধিক ফলন ও আশানারূপ দাম পাওয়ায় এ কচু যেন গুপ্তধনে পরিণত হয়েছে। কৃষকের মাঝে দেখা গেছে হাসির ঝিলিক।
গত ২৩ আগস্ট শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ইসলামপুরস্থ গাছতলায় বসে ছকিনা বেওয়া, আজিরণ বিবি ও মরিয়ম বেগমসহ অনেকেই কচু পরিষ্কার করছেন।
তারা বলেন, আমরা সবাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি। এক মণ কচু পরিষ্কার করলে ১৫০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই মণ কচু পরিষ্কার করে সন্তোষজনক হারে আয় করা যায়। তবে কচুর দাম কম হলে মজুরির দামও কম হয় বলে জানান তারা।
ছত্রগাছা গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানায়, ধাপেরহাট এলাকায় আলু, পটল, করল্লা ও হলুদসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে চাষ করা হয়েছে বইকচু। গত বছরের তুলনা এবার কচুর চাষাবাদ অনেকটাই বেড়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। বাজারে বেড়ে গেছে কচুর কদর। এর ফলে কচু আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আলীনগর গ্রামের আরেক কচু চাষি ফরিদুল ইসলাম জানান, একবিঘা (৩৩ শতক) জমিতে কচু আবাদে খরচ হয় প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। যা থেকে প্রায় ৬০-৬৫ মণ কচু উৎপাদন করা যায়। এবারে উৎপাদিত কচু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা মণ দামে। আশানারূপ দাম পাওয়ায় অনেকটাই লাভবান হচ্ছি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার খাজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, কচুর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই কচু চাষ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়। এবার কচুর দাম ভাল থাকায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

Thursday, September 12, 2019

নমোফোবিয়া : ফোন হারানো চার্জ ফুরানোর ভয় যখন একটা রোগ by আহমেদ দীন রুমি

মোবাইল ফোন বুঁদ করে ফেলেছে আধুনিক প্রজন্মকে
মোবাইল ফোন আমাদের আধুনিক জীবনকে অনেকাংশেই সহজ করে দিয়েছে। অনেক বড় সমাধান থেকে অতি তুচ্ছ প্রয়োজনের জন্যেও হাতের মোবাইলের উপর ঝুঁকে পড়ে অনেকেই। তার ওপর নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সুবিধার চূড়ান্ত দেবার মাধ্যমে এই যে নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে, তা জন্ম দিচ্ছে এক নতুন ধরনের সমস্যার। নমোফোবিয়া, ফোন হারানোর উৎকণ্ঠা কিংবা চার্জ ফুরিয়ে যাবার ভয়।

নমোফোবিয়া শব্দটি এসেছে ইংরেজি কয়েকটি শব্দের মিশ্রণে। Nomophobia = No + Mobile + Phone + Phobia। নমোফোবিয়াকে প্রথম সংজ্ঞায়ন করে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংগঠন YouGov। সাদামাটাভাবে বললে ফোবিয়া হলো অযৌক্তিক ভয় বা অকারণ উৎকণ্ঠা। আর নমোফোবিয়া বলতে বোঝায় মোবাইলবিহীন থাকার ভয়। সিগনাল কিংবা ব্যাটারিজনিত কারণে মোবাইলের সাথে সংযোগ ছিন্ন হতে পারে, ক্ষণিকের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে; প্রভৃতি কারণে প্রিয়াবিরহের মতো মোবাইলপ্রেমিকের ভেতরে যে উৎকণ্ঠা, তাই নমোফোবিয়া। ২০০৮ সালে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৩ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী তাদের ফোন বন্ধ করেন না। গবেষণায় আরো দেখা গেছে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ভ্রমণে কিংবা বাসায়—প্রায়ই এই ধরনের মানসিক বিভ্রান্তির দেখা মেলে। মনোবিজ্ঞানীরা একে “লো-ব্যাটারি অ্যাংজাইটি” বলে চেনেন। মানুষের জীবন দিনকে-দিন বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ঘিরে ফেলছে। মানুষের কাজ করে দিচ্ছে নতুন নতুন ডিভাইস। সরাসরি কথা, সামাজিক যোগাযোগ, জিপিএস, গাড়ির সেবা, খাবারের অর্ডার, গেইম, ভিডিও বিনোদন, ব্যাংকিং, ক্যালেন্ডার, ক্যালকুলেটর, পরিবারের ছবি প্রভৃতি এখন কেবলমাত্র একটি ছোট্ট যন্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব—সেলফোন।

জীবন যাপনের সুবিধার জন্যই মানুষ ক্রমশ এনালগ ছেড়ে ডিজিটাল পৃথিবীতে প্রবেশ করছে। সকল ধরনের কাজে সরাসরি নিজেকে না জড়িয়ে ঝুঁকছে অনলাইন সুবিধার প্রতি। আর তাই, অল্প সময়ের জন্য ব্যাটারিতে চার্জ না থাকা কিংবা কোনো কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ভয়ের উদ্রেক করে। হারিয়ে ফেলা কিংবা একা হয়ে যাবার ভয়।

ব্যাটারি যখন শেষ
আধুনিক যামানার ভৌতিক সিনেমাগুলোতেও দেখা যায়, সেলফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার মানে একটা খারাপ কিছু ঘটতে চলছে। ব্যক্তিকে একা করে ফেলা ক্লাসিক হররগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ১৯৬০ সালের Psycho, ১৯৭৪ সালের The Texas Chain Saw Massacre, ১৯৮০ সালের The Shining এমনকি গত ২০১৭ সালের Get Out প্রায় একইভাবে ফুটিয়ে তুলেছে বিষয়টা। মোবাইল না থাকার দরুণ সৃষ্ট এই নিঃসঙ্গতায় ভীতি।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তির ওপরেই মূলত আমরা দৈনন্দিন জীবনে ভরসা করে থাকি। ১৯৭০ সালের দিকে ইংরেজ রসায়নবিদ স্টেনলি হুইটিংহাম এর আবিষ্কার করেন। তিনি তখন Exxon Corporation-এ গবেষণায় মগ্ন। তবে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির আগমন ছিল রীতিমতো বিপ্লবের মতো। লিথিয়াম-আয়ন এবং লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির মধ্যেকার পার্থক্য ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যবহারে।

লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারিতে কঠিন পলিমার ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়। যেমনটা polyacrylonitrile এবং এনোডে প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থ। অন্যদিকে লিথিয়াম-আয়নে জৈব দ্রবণে ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম লবণ। ফলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তাড়াতাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়তে পারে।

আধুনিক যামানায় সেলফোনপ্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ব্যাটারিপ্রস্তুতি। ব্যাটারি প্রস্তুতকারীরা মনোযোগী অধিক ধারণ ক্ষমতা আনতে। কিন্তু যখনই তারা ব্যাটারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, সেলফোন প্রস্তুতকারীরা সাথে সাথেই বের করছে নতুন কোনো ফিচার, যা পাওয়ার কমাবে। এভাবে সেলফোনের ফিচারগুলো ব্যাটারির পাওয়ার নামিয়ে আনে, আর প্রস্তুতকারীরা যোগ করে।

মোবাইল কোম্পানিগুলো ক্রেতার এই উদ্বেগকে ব্যবহার করছে বেশ ভালোভাবেই। চার্জ দেবার জন্য ওয়্যারলেস সুবিধাসহ নতুন সেলফোন আসছে আজকাল। Qi Standard (উচ্চারণ. চি স্ট্যান্ডার্ড) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আরোহী পদ্ধতিতে চার সে.মি. দূরত্ব পর্যন্ত চার্জ দেওয়া সম্ভব।

চি পদ্ধতিটা মূলত তড়িৎচৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কাজ করে। সেলফোন কোম্পানিগুলো এই বিশেষত্বকে খুব দ্রুত ক্রেতার চাহিদার সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। এই সুবিধাহীন পুরানা ধাঁচের মোবাইলগুলোর জন্য এডাপ্টরের মাধ্যমে পোর্টে সংযোগ দেওয়া যায়। এমনিতেই তারের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার চেয়ে ওয়্যারলেস চার্জ সময়বহুল। আর যদি এডাপ্টার ব্যবহার করা হয়, তবে তো কথাই নেই।

দ্য এন্ড্রয়েড পাই অপারেটিং সিস্টেম ব্যাটারি লো হয়ে গেলে ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশন পাঠায়। উপরের কোনায় চার্জের শতকরা প্রদর্শন তো আছেই। আইফোন এক্স তাদের ফোনের ব্যাটারি আইকন থেকে আইকন সরিয়ে ফেলেছে। দেখতে হলে যেতে হবে কন্ট্রোল সেন্টার। সে যা-ই হোক, উভয় ক্ষেত্রেই চার্জ ফুরিয়ে আসতে গেলে নোটিফিকেশন আসে, লো পাওয়ার মুডে চালানোর জন্য; যাতে কম চার্জ ফুরায়।

কাজ হোক আর না হোক, ব্যাটারির সক্ষমতা ক্রেতাকে ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবসার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর কাছে এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টোপে পরিণত হয়েছে।

নমোফোবিয়ার লক্ষণ
বছর দশেক আগেও হয়তো কেউ প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে বলত, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। কিন্তু হাল আমলে সেই স্থান দখল করেছে সেলফোন। মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য মতে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকেই ধরে নিতে হবে নমোফোবিয়ার লক্ষণ—
১) রাতে ঘুম ভেঙে যদি প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর সেলফোন চেক করতে হয়।
২) দুপুরে কিংবা রাতে খাবার সময়েও যদি মোবাইল প্রাধান্য পায়।
৩) ব্যাটারি ফুরিয়ে যেতে চাইলে যদি চার্জে দেবার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে পড়ে।
৪) ফোনে সিগনাল না থাকলে যদি মনে হয়, জীবন থেকে বাইরে।
৫) যত ব্যস্ততাই থাক, যদি ফোনের জবাব দেবার জন্য ভেতর থেকে তাড়না আসে।
৬) ওয়াশরুমে পর্যন্ত ফোন হাতে করে নিয়ে যাবার অভ্যাস গড়ে উঠলে।
৭) এই আর্টিকেল পড়ার মধ্যে বেশ ক’বার যদি ফোন চেক করে ফেলা হয়।

নমোফোবিয়ার ক্ষতি
বেশিরভাগ সমস্যাই মনস্তাত্ত্বিক। তবে এর ফলাফল সদূরপ্রসারী। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক জীবনে বাধাগ্রস্ত হতে পারে তুচ্ছ এক অভ্যাসের কারণে। ক্রমানুসারে উল্লেখ করলে—
১) যেহেতু উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, সেহেতু রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ব্যক্তির নিজের কাজের দিকে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন ক্ষমতায় কমে যায়।
২) সময়ের দারুণ অপচয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একসাথে বহু কাজ করার মানে কোনো কাজই না করা। হাতে মোবাইল নিয়ে অন্য কাজ করতে চাওয়াটা অন্য অর্থে সময় নষ্টের নামান্তর।

৩) ঘুমের প্যাটার্ন বিঘ্নিত করে। ফোন থেকে নীল আলো চোখে পড়া ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে মেলাটোনিন হরমোনের ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বলা বাহুল্য, মেলাটোনিন হরমোন ঘুমের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়ী।
৪) লাগাতার ফোনের সাথে লেগে থাকা চর্মরোগ, এলার্জি কিংবা নানা ধরনের রোগের জন্ম দিতে পারে।
৫) সর্বোপরি বন্ধু ও পরিবারের সাথে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। বন্ধু বা পরিজনের সাথে কথা বলার সময় ঘন ঘন মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করা নিশ্চই ভালো দেখায় না। এই অভ্যাস কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ ক্ষতিকর।

উপায় ও প্রতিকার
সব সমস্যারই সমাধান থাকে। নমোফোবিয়ার সমাধানও গবেষকদের ধারণায় বেরিয়ে এসেছে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করে ব্যক্তির অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ওপর—
১) ঘুমের আগে মোবাইল বন্ধ করে ঘুমানো, যেন নিদ্রা বিঘ্নিত না হয়।
২) নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণে আনা। সবরকম অ্যাপ থেকে সব ধরনের নোটিফিকেশন বিরক্তিকর।

৩) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডিলিট করে দেওয়া।
৪) মোবাইল না, সময় দেখার জন্য ঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা।
৫) নিজের জন্য ফোন-ফ্রি জোন তৈরি করা। কাজের সময় ফোন দূরে সরিয়ে রাখা।
৬) বন্ধু ও পরিবারের সাথে বেশি সময় ব্যয় করা। ফোনের সাথে সীমিত ও হিসাব করে সময় দেওয়া।

জীবন যাপনে আধুনিকায়ন মানুষকে সমাজবিমুখ করে দিয়েছে। নির্ভরশীল করে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। আর তাই হাতের সেলফোনটা কেবল সেলফোন হয়ে নেই, পরিণত হয়েছে সবথেকে মূল্যবান সঙ্গী হিসাবে। মোবাইল হারানোর যে উদ্বেগ, তার পেছনের মনস্তত্ত্ব মূলত এটাই। আর তাই আগামী প্রজন্ম নমোফোবিয়া থেকে কিভাবে বের হবে কিংবা আদতে বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

Sunday, September 1, 2019

দুই প্রেমিকাকে একসঙ্গে বিয়ে করলেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণ

ত্রিভূজ প্রেমের ক্ষেত্রে সমাধান কী? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এক্ষেত্রে একজনকে সরে যেতে হয়। অথবা কেউ কারো নয়—এ জাতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু এমন মানুষও আছেন, যারা হাঁটেন একেবারে ভিন্নপথে, খুঁজে নেন অদ্ভুত সমাধান। তেমনটাই করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কালিমন্তনের এয়ারতপ এলাকার এক তরুণ। হৃদ্যতা আছে, এমন দুজন মেয়েকেই করে নিয়েছেন বিয়ে। তাও আবার একইসাথে!
ছেলেটি ভালোবাসতেন দুজনকেই। কাউকেই দুঃখ দিতে মন সায় দিচ্ছিল না তার। তাই দুজনকেই একসাথে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। অবশ্য প্রেমিকের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেছেন তার দুই বান্ধবীও। খুশি মনে রাজি হয়েছেন প্রেমিকের এই সিদ্ধান্তে।

‘ভাইস মিডিয়া’র রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, কোনো প্রেমিকাকেই দুঃখ দিতে চান না বলেই এমন কাজ করেছেন ওই ব্যক্তি। দুই স্ত্রীকে ভালোমতো দেখভাল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
গত ১৭ আগস্ট ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাঁদের।
খবরে বলা হয়, সামাজিক প্রথা অনুযায়ী দুই স্ত্রীকে ভালো অঙ্কের পণও তিনি দিয়েছেন বিয়ে করার জন্য।
অবশ্য, বহুগামিতা বা একাধিক স্ত্রী রাখা কোনো নতুন বিষয় নয় ইন্দোনেশিয়ার জন্য। দেশের মুসলমানদের জন্য প্রচলিত আইন মেনে একসাথে চারটি পর্যন্ত স্ত্রী রাখতে পারেন সেখানকার ইসলাম ধর্মাবলম্বী পুরুষেরা। তবে সব স্ত্রীকে পর্যাপ্ত মর্যাদা দিতে হয় ওই আইনে।

Wednesday, August 28, 2019

জীবন সংগ্রামে হারতে চান না তৃতীয় লিঙ্গের শানু

তৃতীয় লিঙ্গের শানু
নাটোরের বাগাতিপাড়ার শাহনাজ খাতুন ওরফে শানু (৪৫) তৃতীয় লিঙ্গের একজন হয়েও নিজ গোত্রে গা না ভাসিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে মা ও ভাই-বোনের জন্য এখনও পালন করে চলেছেন নিজ দায়িত্ব। পুরুষের পোশাক পরে পরিশ্রম করে আর দশজন মানুষের মতো সমাজে সম্মানের সাথে বসবাস করে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃষ্টান্তের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শানু।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মতিজান বেগম ও মৃত আহসান আলী প্রামাণিকের দ্বিতীয় সন্তান শানু। তার জন্ম ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী শাহনাজ ওরফে শানুর জীবনে নেই মনে রাখার মত কোন সুখের স্মৃতি। তার বয়স যখন ১০ বছর তখন মা-বাবা তার শরীরে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তখন থেকেই তাকে আলাদা করে রাখেন। ফলে মা-বাবার আদর আর ভালোবাসার পরিবর্তে শানুর ভাগ্যে জোটে তাচ্ছিল্য অনাদর আর অবহেলা। দুবেলা দুমুঠো খাবারও যখন আর জুটছিলো না তখন একটু খাবারের আশায় কাজ খুঁজতে থাকেন শানু। তার এমন অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা। শানুকে তাদের সাথে রাখার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি। তখন থেকেই মানুষের বাড়ি বাড়ি আর ক্ষেত-খামারে শুরু করেন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। দিনশেষে রাতে এসে থাকতেন বাড়ির এককোণে আর পরিশ্রমের সব টাকা তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এরই মধ্যে বাবা মারা গেলে দিনমজুর বড়ভাইয়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন এবং দিনমজুরির টাকায় এক ছোট ভাই রিজু ও দুই বোনের শাবানা ও শাহানারার বিয়ে দেন শানু।
এখন শানু কাজ করেন স্থানীয় একটি খামারে। দিনপ্রতি মজুরি পান ৩০০টাকা। প্রতিদিনের মজুরির টাকা দিনশেষে তুলে দেন বৃদ্ধা মায়ের হাতে। মাকে পৃথিবীতে একমাত্র আশ্রয় মনে করে সর্বোচ্চ কষ্ট করে হলেও বাকী জীবন মায়ের সেবা করে যেতে চান শানু।
খামার মালিক মিল্টন ঘোষ বলেন, 'শানু কাজের ক্ষেত্রে খুবই মনযোগী। কাজ ফাঁকি দেন না। তার কাজে অসন্তুষ্ট হবার সুযোগ নেই। অসহায়ত্ব লাঘবে কাজ দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরেছি বলে ভালো লাগে। তাকে অন্য দশজনের থেকে আলাদাভাবে দেখি না।'
চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'শানু একজন সৎ, পরিশ্রমী ও অনুকরণীয় মানুষ। একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও সমগোত্রের অন্যদের মতো চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়েও যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়, শানু তাই প্রমাণ করেছেন।
শানুর প্রতিবেশী মিরাজ উদ্দীন ও শরিফ উদ্দীন বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই শানু কঠোর পরিশ্রম করে তার পরিবারের জন্য। কেউ তাকে 'হিজড়া' বলে গালি দিলেও সে কখনও ভেঙে পড়েনি বরং সে ছোটদের স্নেহ করে ও বড়দের প্রাপ্য সম্মান দেয়।'
পাকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মখলেস হোসেন বাদশা বলেন, 'শানু একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং প্রতিবন্ধীও। তাকে প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্ডের জন্য চিকিৎসকের সত্যায়নকৃত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও সে কর্ণপাত করেনি। সমাজের শ্রমজীবী মানুষদের মতো খেটে খেয়ে সে নিজে বেঁচে আছে এবং পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।'
শানু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমার জীবনটা খুব কষ্টের ছিল। শৈশব থেকেই খাটতে খাটতে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এখন আর কষ্ট নেই। যতদিন বেঁচে আছি মা'র জন্য কষ্ট করে যাবো। আমি হেরে যেতে চাই না।'
আত্মবিশ্বাস আর মনের জোরে স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েও যে সম্মানের সাথে জীবনধারণ করা যায় তা প্রমাণ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শাহানাজ ওরফে শানু।

স্কাই ডাইভিংয়ে ৫ হাজার ফুট উঁচু থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন এক নারী

স্কাই ডাইভিং
স্কাই ডাইভিংয়ে প্যারাসুট না খোলায় ৪ হাজার ৯০০ ফুট উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়েও বেঁচে গেছেন কানাডার এক নারী।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ আগস্ট কানাডার কেবেক প্রদেশের টরস নদীর স্কাই ডাইভিং সেন্টারে।
কানাডার সংবাদ মাধ্যম সিবিসি নিউজের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে  জানা যায়,  ৩০ বছর বয়সী এ নারীর নাম প্রকাশ না করা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাটি থেকে ৪ হাজার ৯০০ ফুট উপর থেকে পড়ে যান তিনি। এ সময় গাছে সাথে ধাক্কা খেতে দেখা যায় তাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ডেনিস ডেমার জানান, তিনি ওই নারীকে পড়ে যেতে দেখেছেন। 
তিনি বলেন, এটা বিস্ময়কর, আমি বিশ্বাস করতে পারি না কিভাবে একজন নারী এত উপর থেকে (আকাশে উড়ন্ত উড়োজাহাজ থেকে পড়ার মতো) পড়ে বেঁচে যেতে পারেন। ওই সময় তার প্যারাসুট ও জরুরি ব্যাকআপ প্যারাসুট কোনোটাই খোলেনি।
কানাডার স্থানীয় পুলিশ জানায়,  স্কাই ডাইভিংয়ে ওই নারী অভিজ্ঞ ছিলেন। এ কারণে তার জীবনে কোনো ঝুঁকি ছিলো না। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিলো সামান্য কিছু ইনজুরি হয়েছে।

ভর্তিযুদ্ধ! by ড. মাহফুজ পারভেজ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গণে ডাক শোনা যাচ্ছে ভর্তি মওসুমের। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঝাঁপিয়ে পড়বে ভর্তির জন্য। বিষয়টি এতোই কঠিন যে, শিক্ষার মতো একটি মহান প্রচেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভর্তিযুদ্ধ’!

অতীতের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, দেশব্যাপী শতাধিক প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাগলের মতো ছোটাছুটি শুরু করবে ভর্তিচ্ছুরা। আজকে ঢাকা, কালকে চট্টগ্রাম, পরশু সিলেট, তারপর দিন রাজশাহী ছুটতে হবে তাদের। সকালে এক নগরে পরীক্ষা সেরেই বিকেলেই আরেক নগরে ধাওয়া করতে হবে ভর্তি নামক সোনার হরিণের সন্ধানে। এমন পরিস্থিতি ‘ভর্তি যুদ্ধ’ নামে অভিহিত ছাড়া উপায় নেই!

ভর্তি, কেবল উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, নিম্নতর স্তরেও রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে লাখ লাখ ভর্তিচ্ছুর বিপরীতে আসন স্বল্পতার কারণে এমন উৎকট ও অসম প্রতিযোগিতার উদ্ভব হওয়াই স্বাভাবিক, যার ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীর সামনেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও সম্ভাবনা সঙ্কুচিত হয়ে আসে। অনেক মেধাবীই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঝরে যাবে। বিষয়টি অতীব দুঃখের ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই স্বল্প আসনের বিপরীতে কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক ভর্তিচ্ছু অংশ নেয়। এবারও এর ব্যতয় হবে না। ভর্তিচ্ছুদের সঙ্গে থাকেন আরো কয়েক লাখ উদ্বিগ্ন অভিভাবক। অসম লড়াইয়ে টিকতে ভর্তি পরীক্ষার বাইরেও অনেকে নানা পন্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে চাপ ও প্রভাবমুক্ত, অসুদপায়হীন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ।

প্রথমেই আসে নানা দিক থেকে চাপের প্রসঙ্গ, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভর্তি বাণিজ্য। ফন্দিবাজ নানা দল ও ব্যক্তি ভর্তি পরীক্ষায় চাপ দেওয়ার একটা সুযোগ খোঁজে। কখনো সফল হয়, কখনো হয় না। ভর্তি করানোর নামে বিভিন্ন পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও খবরে আসে।

এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের বিভিন্নমুখী তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও প্রশ্ন ফাঁস করা হয়, কোথাও অতি অগ্রসর প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তর সরবরাহ করা হয়। সিট বণ্টন ও পরিদর্শনের শৈথিল্যের কারণেও কোথাও ভর্তি পরীক্ষার বিশুদ্ধতায় হানি ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করাও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাদের সঙ্গে আসা বাবা-মায়েদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা রাখতে হয়। সামগ্রিকভাবে ভর্তিযজ্ঞ সামাল দিতে সংশ্লিষ্টদের যেমন সতর্ক ও হুঁশিয়ার হতে হয়, তেমনিভাবে তাদের অধিক পরিশ্রমও করতে হয়। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির নানা সুযোগ নিয়ে প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় বিপর্যয় ঘটানোর নানামুখী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, অবিতর্কিত পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রকৃত মেধাবীদের নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে সীমাহীন চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালন করতে হয় ভর্তি সংশ্লিষ্টদের।

ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্ব পালনটি কেবল কঠিনই নয়, কখনো মনোযন্ত্রণাদায়কও বটে। কখনো দেখা যায়, পাঁচ বা দশ জন ছাত্র একই নম্বর পেয়েও আসন সঙ্কটের কারণে সবাই ভর্তির সুযোগটি পাচ্ছে না। আবার মাত্র এক বা আধা নম্বরের জন্য শত শত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে। একই নম্বর পাওয়া বা মাত্র ১/২ নম্বরের বিবেচনায় মেধাবী-অমেধাবী নির্ধারণ করাটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। এমন কাজ কেবল কঠিনই নয়, মানবিক দিক থেকেও বেদনাদায়ক। ভর্তি কার্যক্রমে আসন স্বল্পতার কারণে এ রকম বহু বাস্তব সমস্যা ও অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত বলা ভালো, কেবল অধিক নম্বর প্রাপ্ত বিদ্যার্থী উৎপাদনই উচ্চশিক্ষার কাজ নয়। কিংবা এক টুকরা কাগজের নাম উচ্চশিক্ষা নয়। শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ ও দক্ষ, কর্মমুখী জনশক্তি করাই শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার এই গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ দার্শনিক বক্তব্যকে বাস্তবায়িত করতে মেধাভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক-স্বচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম একটি জরুরি পূর্বশর্ত। সৎ, পরিশ্রমী, আনন্দময় জীবন ধারণ করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ রচনা করার প্রাতিষ্ঠানিক জরুরি কর্তব্য সম্পাদনের প্রথম ধাপই হলো ভর্তি পরীক্ষা। এখানে নজরদারি ও সতর্কতার প্রয়োজন সর্বাধিক। গোড়ায় গলদ হলে যেমন কোনো কাজই সঠিক হয় না, তেমনি ভর্তি পরীক্ষায় ত্রুটি থাকলে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী পর্যায়গুলোও সুষ্ঠু হবে না।

এ কারণেই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সকলের এতো উদ্বেগ ও আগ্রহ। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, সব বিষয়েই ‘ফার্স্ট বয়’দের নিয়ে মাতামাতির আড়ালে বহু মানুষের ধারাবাহিক বঞ্চনার প্রতি ঔদাসীন্য যেন প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে না বসে। বিষয়টি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও পীড়া দিয়েছে, যা তিনি তাঁর সাম্প্রতিকতম গ্রন্থ 'দ্য কান্ট্রি অব ফার্স্ট বয়েজ'-এ উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া, উচ্চশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থী পাওয়ার পূর্বে আমাদের এটাও বিবেচনায় নিতে হবে যে, শিক্ষা বর্তমান যুগে বাণিজ্যিক বিপণনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং শিক্ষকরাও ছাত্রদের পাঠ-পরবর্তী জীবন সম্পর্কে উদাসীন। এমন মনোভাব মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় উল্লেখিত পটভূমিটিও মাথায় রাখতে হবে। মেধাবীদের ভর্তি করবো, এটা খুবই ভালো কথা। যারা ভর্তি হতে পারবে না, তাদের ‘অমেধাবী’ সিল মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। অমেধাবী বা যারা সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের জন্য কিছুই করবো না, এমন পরিস্থিতিও হতে দেওয়া যায় না। স্বল্পসংখ্যক আসনে অতি অল্পই ভর্তি হবে অত্যল্প আসন ও সুযোগের কারণে। বিপুল সংখ্যক যে ভর্তি হতে পারছে না, তাদের কথাও ভাবতে হবে। স্বল্পসংখ্যক মেধাবীকে সুযোগ দিয়ে বিশাল সংখ্যাকে বঞ্চিত ও অবজ্ঞা করার মাধ্যমে হতাশা ও অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন কখনোই সৃষ্টি না হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি অভিভাবকসমাজ ও সংশ্লিষ্টদের এসব কথাও ভাবতে হবে। নতুন সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে যুগের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে।

সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয় ভাববেন বলেই সকলে আশা করেন। কারণ, বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে কিংবা অনাগতকালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রয়োজনে, এমন কি, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিকসহ সার্বিক অগ্রগতির জন্য সকলের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা অত্যাবশ্যক। বিপুল জনশক্তিকে মানবশক্তি ও সম্পদে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ারও শিক্ষা। জাতীয় প্রয়োজন ও চাহিদাকে সামনে রেখে সবার জন্য শিক্ষার একটি সম্ভাব্য ছক অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে, যাতে তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবীরা যেমন উচ্চতর স্তরে পৌঁছুবে, তেমনি অন্যরাও যথাযথ স্থান ও সুযোগ বঞ্চিত হবে না। কাউকে বাদ দিয়ে, জায়গা দিতে না পেরে বা অমেধাবী বলে সরিয়ে রাখা হবে না।

বাংলাদেশে বিরাজমান যুদ্ধংদেহী ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি ও বিকাশের চেতনা সবার মধ্যেই আসা অপরিহার্য। পাশাপাশি এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ভর্তি যুদ্ধ যেন রণাঙ্গনের মতো না হয়ে অ্যাকাডেমিক থাকে, সকলের জন্য যেন কম বা বেশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকে এবং অসুদপায়ের মাধ্যমে যেন প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত না করা হয়। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে জড়িতদের কাছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এটাই কামনা করেন।

Monday, August 26, 2019

রাখাইনে বিদ্রোহী দমন নামে শিশু হত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী

বিদ্রোহী দমনের অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করছে। এ হত্যায় বাদ নেই শিশুরাও।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাখাইন রাজ্যের মিনব্যা জনপদের নিকটবর্তী পান মায়ুং গ্রামে সেনবাহিনীর আর্টিলারি শেল বিস্ফোরণে তিন শিশু মারা গেছে এবং আরও চার জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউ হেলা থেইন অং দেশটির গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রোববার (২৫ আগস্ট) নিহত শিশুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহত অন্য তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অঞ্চলে চিকিৎসকের খুবই অভাব।’

গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, গ্রামের মাঝামাঝি একটি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী দমনের নামে একটি ক্যাম্প তৈরি করেছে। সেখান থেকে ছোড়া শেলের আঘাতে শিশুদের মৃত্যু হয়।

ইউ হেলা থেইন অং বলেন, ‘গ্রামে আরাকান আর্মির (এএ) কোনো সদস্য নেই।’

বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী অহেতুক গুলি চালিয়েছে। চিকিৎসকের অভাব এবং সেনাবাহনীর নির্মম এই ঘটনায় বাসিন্দারা খুবই ক্ষুব্ধ।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র ইউ খেইন থুখা বলেছেন, ‘কামান পান মায়ুংয়ের সর থিন কায়ং ওয়ার্ডে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে পড়েছিল এবং এতে তিন শিশু মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র, একটি ছয় বছর বয়সী এবং একটি নয় বছর বয়সী শিশু মারা গেছে।’

তিনি জানান, একটি সামরিক ইউনিট ছিল গ্রামের কেন্দ্রস্থলে। সেখানকার আশেপাশে কোনও লড়াই হয়নি। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসস্থলের মধ্যে তাদের সেনাবাহিনী অবস্থান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (২৫ আগস্ট) এএ এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে যে রাখাইনের জনগণের সহযোগিতায় তারা রাজ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার জন্য সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে।

রাখাইনে ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য রাজ্য কাউন্সিলর অং সান সু চি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সেনা কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের আড়াল করতে ইন্টারনেটে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এদিকে, ট্রু নিউজ এজেন্সিতে মেজর জেনারেল সোয়ে নাইং উ শনিবার (২৪ আগস্ট) একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিদ্রোহী জোট লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আগে সাবধানতার সঙ্গে চিন্তা করা উচিত। যদি তারা আলোচনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সামরিক বাহিনী তাদের স্বাগত জানাবে। তবে লড়াই চালিয়ে গেলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

জাতীয় মুক্তি বাহিনী, এএ, এবং মিয়ানমার জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বাহিনী নিয়ে গঠিত এই জোটটি ১৫ আগস্ট থেকে মন্ডল অঞ্চলে পাইয়ন ওউ লুইন এবং শান স্টেটের ন্যাংচোতে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করেছে।

অন্যদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ২০১৮ সালে ২১ ডিসেম্বর থেকে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তার পরেই দুই প্রতিপক্ষের যুদ্ধ থেমে নেই। যদি সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি দু'বার বাড়িয়ে দিয়েছিল।

রাখাইন নৃতাত্ত্বিক কংগ্রেসের মতে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর এবং এএ-এর লড়াইয়ে ৬২ জন নাগরিক মারা গিয়েছে এবং দেড় শতাধিকেরও বেশি আহত হয়েছে।

Thursday, August 22, 2019

যে কারণে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ by শাহরিয়ায় হাসান

হঠাৎ করেই ঢাকার আকাশে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ড্রোন ওড়ানোর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি লাগতো। কিন্ত সেটা মানতো না কেউই। এ নিয়ে অবশ্য মাথাব্যথাও ছিল না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ঢাকার আকাশে ওড়ানো ড্রোনগুলো বেশির ভাগ ছিল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কাজে ব্যবহার করার জন্য। তবে সম্প্রতি ড্রোন ব্যবহারে ঝুঁকির আশঙ্কা করছে পুলিশ। তারা বলছে, রাষ্ট্রীয় সংরক্ষিত এলাকায় ড্রোনের হঠাৎ প্রবেশে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। এমন কয়েকটি ঘটনার কারণে ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ বলছে, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিনোদনের জন্য বা ছবি ধারণের জন্য বা অজ্ঞাত কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ড্রোন উড্ডয়ন করছে। যেকোন ধরনের ড্রোন উড্ডয়নের জন্য অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এখতিয়ারভুক্ত। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন জননিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করাসহ জনমনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে।

হঠাৎ করে ড্রোন উড্ডয়নের ওপর বিধিনিষেধ জারি করার বিষয়ে জানতে চাইলে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, হঠাৎ করে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত আগেই ছিল, তবে নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেখা গেছে ঢাকার আকাশে এলোমেলোভাবে ড্রোন উড়ছে। যদিও এগুলো বিনোদন ও ভিডিও চিত্র ধারণ করার জন্য ওড়ানো হয়েছে। কিন্ত অপরাধীরা এটার সুযোগ নিতে পারে বলে আমাদের মনে হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, দেশের সংরক্ষিত এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশ্য ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহজনক কোন কিছু পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক।

অন্যদিকে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও অবৈধ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তির বিধান নেই। তাই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নানা প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ড্রোন কিনছে ও ব্যবহার করছে।

অবশ্য বিদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রোনগুলো প্রবেশের সময় বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জব্দ করছে। সূত্র বলছে, গত ৫ বছরে শতাধিক অভিযানে প্রায় ৩৫০টির মতো ড্রোন জব্দ করেছে বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। ৩-৪ কেজি ওজনের ইনবিল্ট ক্যামেরা সমৃদ্ধ এসব ড্রোনের দাম ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

হঠাৎ দেশের মানুষের অবৈধভাবে এত ড্রোন আমদানিতে নড়েচড়ে বসেছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যার ফলে চলতি বছরের শুরুতেই বেবিচক ড্রোন ওড়ানো ও আমদানির বিষয়ে ১২ দফার একটি গাইডলাইন দিয়েছে। গাইডলাইনে উল্লেখ রয়েছেছে—কোথায় ড্রোন ওড়ানো যাবে, কোথায় যাবে না, সর্বোচ্চ কত উচ্চতায় ওড়ানো যাবে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ড্রোন ওড়াতে পারবে। তা ছাড়া ড্রোন আমদানি প্রক্রিয়া কী হবে সেসব বিষয়েও গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গাইডলাইনের প্রধান বিষয়টি অনুমতি সাপেক্ষে আমদানি করা ড্রোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ড্রোন কেনার বিষয়ে বলা আছে, সরকারের প্রচলিত নীতি অনুযায়ী ড্রোন কেনা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিমান বোর্ডের সাবেক সদস্য শহিদুল আলম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ড্রোনের ব্যবহার বিধি আরও সহজ করা দরকার। পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি ড্রোন ব্যবহার হয়। তাই আমাদের এ নীতিমালাগুলো স্পষ্ট ও সহজ হওয়া দরকার। কেউ যদি ভালো কাজে ড্রোন ব্যবহার করতে চায় তাকে ব্যবহার করা বা ড্রোন কেনার অনুমতি দেওয়া উচিত। তবে নিরাপত্তার বিষয়টিতে ফোকাস রেখেই।

Tuesday, August 20, 2019

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন
কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ভারত গণতন্ত্রের আর্দশ মানছে না। আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এখন আর আমি গর্ব করি না। একটা সময় ছিলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাইরে একমাত্র ভারতে গণতন্ত্রের চর্চা হতো। ভারত এখন গণতন্ত্রের সেই পথ হারিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু কাশ্মীরের জমি ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষও কিনতে পারবেন। এই অধিকার কেবল কাশ্মীরের জনগণেরই ছিলো।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও জমি ক্রয় প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, কাশ্মীরের জনগণের উপরই এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দেওয়া উচিত। তারাই ঠিক করবে জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে, এই জমি তাদের অধিকার।

কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি না, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ করে ভালো কিছু পাওয়া যায়। নেতাদের গ্রেফতার করে, আটকে রেখে গণতন্ত্র দমন করে অতীতেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি।

কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জম্মু কাশ্মীরের উপর উপনিবেশিক অত্যাচার। ঠিক এভাবেই ২০০ বছর বিট্রিশরা আমাদের শাসন করেছিলো।