Saturday, April 9, 2011

ক্রিকেট ও রাজনীতি by হাসান ফেরদৌস



২৩ মার্চ, ‘পাকিস্তান ডে’ উপলক্ষে নিউইয়র্কে সে দেশের মিশনে দাওয়াত ছিল। সিকিউরিটি চেক সেরে, শীতের কোট জমা দিয়ে এক পা বাড়িয়েছি মাত্র, অমনি আধচেনা এক পাকিস্তানি ভদ্রলোক আমাকে সোল্লাসে জড়িয়ে ধরলেন। ‘থ্যাঙ্কু, থ্যাঙ্কু,’ বলে প্রায় চুমু খান আর কি। আমি তাঁর ‘ভালুক আলিঙ্গন’ সামলে জিজ্ঞেস করলাম, কী এমন মহান কারণে এই উদ্বাহু সংবর্ধনা? তিনি দুচোখ কপালে তুলে বললেন, ‘বল কী, শোননি, ঢাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গোহারা হারিয়েছে পাকিস্তান! তোমরা পাশে না থাকলে এমন সহজ বিজয় অসাধ্য ছিল।’ ইংরেজিতে বললেন, ‘ইউ মেড থিংস ইজি ফর আস।’
২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে ঢাকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল হবে, তা নির্ঘাত কেউ আগে থেকে অঙ্ক কষে রাখেনি! ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে কাকতালীয়, কিন্তু কাকের তালতলায় যাওয়ার ঘটনাটি একদম উপেক্ষা করার মতো ব্যাপার নয়। ১৯৪০ সালের এই দিনে লাহোরে মুসলিম লিগের এক সম্মেলনে প্রস্তাব করা হয়, ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হোক। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক সেই প্রস্তাব পাঠ করেছিলেন, ফলে অনেকে তাঁকেই লাহোর প্রস্তাবের প্রণেতা বলে বিবেচনা করে থাকে। কথাটা অবশ্য ঠিক নয়।
তো, সে ঘটনার ৭১ বছর পর, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা ঢাকায় হলো পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। এর দিন কয়েক আগে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতেই গোহারা হেরে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল। দল হিসেবে আজকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগের সেই সোবার্স-কানহাইয়ের দল নয়, তাতে ওয়েসলি হল বা গ্রিফিথের মতো খেলোয়াড়ের ছায়া মাত্রও নেই। সে তুলনায় পাকিস্তান বরং অনেক দক্ষ, অনেক পাকা দল। ফলে তারা যে জিতবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। হয়েছিলও তা-ই। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো, সেই খেলার সময় এবং পরে পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশের দর্শকদের অমন আদেখলাপনা। খেলা শেষে ইএসপিএনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একদঙ্গল বাঙালি ছেলেমেয়ে যে রকম হুল্লোড় শুরু করে দিল, তা দেখে কিছুটা ভড়কে গিয়েছিলাম। বিস্মিত পাকিস্তানিরাও কম কিছু হয়নি। তাদের অনেকের ধারণা, মিরপুর স্টেডিয়ামে তাদের দলের খেলোয়াড়েরা বিদেশের মাটিতে নয়, যেন নিজের দেশে খেলছে। আর সেটাই তাদের বিজয়ের অন্যতম কারণ। নামজাদা সাংবাদিক আদিল নাজাম তো তাঁর নিয়মিত ব্লগে লিখেই বসলেন, ধন্যবাদ বাংলাদেশ। পাকিস্তানি মিশনের কূটনীতিক ভদ্রলোক সেই স্পিরিট থেকেই আমাকে অমন জাপ্টে ধরেছিলেন।
যে কয়েক হাজার দর্শক সেদিন মিরপুর স্টেডিয়ামে খেলা দেখেছিল, তাদের কজন বাংলাদেশের, কজন পাকিস্তানের, তা আমি জানি না, টিভিতে দেখে বলা মুশকিল। তবে প্রায় সবাই যেভাবে তারস্বরে পাকিস্তানের পক্ষে মাতম করছিল, তাতে সবাইকেই পাকিস্তানি ভাবতে হয়। আমার কথা বলছি না, মাঠে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রতিবেদন থেকে জেনেছি, পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশিদের এমন চমৎকার মনোভাব দেখে তাঁরা রীতিমতো থ হয়ে গেছেন। তাঁর ধারণা, পাকিস্তানের পক্ষে এমন শাণদার, এমন বুকখোলা সাপোর্ট দেখানোর কারণ, দেশটা তো একসময় পাকিস্তানের অংশ ছিল। পুরোনো আনুগত্য বাঙালিরা এখনো ভোলেনি। সালেহা রিয়াজ নামের এই পাকিস্তানি সাংবাদিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকায় লিখেছেন, ‘ঢাকায় যে আমরা এত সহজে জিতে গেলাম, আমাদের জন্য সেটা সবচেয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিল না। পাকিস্তানের পতাকা আঁকা আমাদের মুখ বারবার টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছিল, সেটাও বড় কথা নয়। পাকিস্তান ডেতে এই জিত হলো, সেটাও নয়। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো, বাংলাদেশি দর্শকদের আমাদের প্রতি বিরামহীন সমর্থন। জামাহীন যুবকেরা তাদের কপালে বাংলাদেশি পতাকা এঁকে নিয়েছিল, বুকে লেখা ছিল “বুম বুম আফ্রিদি”, আর বুকের ওপর আঁকা ছিল পাকিস্তানের পতাকা। অনেকেই পাকিস্তানি পতাকা কাঁধে ঝুলিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছিল, কেউ কেউ চন্দরপল কীভাবে দাঁড়ায়, তা নিয়ে ব্যঙ্গ করছিল। সব দেখে ভুলেই যাচ্ছিলাম যে আমি পাকিস্তানে নেই।’
মনে রাখা ভালো, সেই খেলার দুই দিন পর ছিল ২৫ মার্চ। গণহত্যার ভয়াল কালরাত। সালেহা রিয়াজের কথাগুলো পড়ে মনটা খারাপই হলো। একটা বমি বমি ভাবও এল। সে অবশ্য অল্প সময়ের জন্য। নিজেকে বুঝ দিলাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় আমরা তো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সমর্থন করতে পারি না। এরাই না সপ্তাহ খানেক আগে আমাদের নাকের জল চোখের জল এক করে ছেড়েছে! রেগেমেগে ওদের বাসে আমরাই না ঢিল ছুড়েছি! হেরেছে, বেশ হয়েছে। কিন্তু তাই বলে বুকে পাকিস্তানি পতাকা এঁকে স্টেডিয়াম মাতিয়ে বেড়াব? সে প্রশ্নেরও জবাব পেলাম। ইএসপিএনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশি ছেলেমেয়েগুলো বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে যা বলল, তার মোদ্দাকথা হলো, খেলা খেলাই, এর সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোই ভালো।
যে ছেলেমেয়েগুলো হড়হড় করে ক্যামেরার সামনে এই কথাগুলো বলছিল, আমার বিশ্বাস, তারা কেউ বানানো কথা বলেনি। পাকিস্তান জিতেছে, এতে তারা সত্যি সত্যি খুশি হয়েছে। আমিও খুশি হতাম, যদি জানতাম, এই ব্যাপারটায় সত্যি সত্যি রাজনৈতিক কিছু নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই?
পাকিস্তানিদের কাছে বিশ্বকাপের এই প্রতিযোগিতা শুধু খেলা নয়, রীতিমতো ধর্মযুদ্ধ। সে কথা বোঝা গেল পাকিস্তানি অধিনায়ক আফ্রিদির একটা মন্তব্য থেকে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ভালো খেলেও হেরেছে। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে আফ্রিদি বলেছেন, ‘আমাদের মুসলমানদের যত বড় হূদয়, ভারতীয়দের তা নেই। আল্লাহ আমাদের অর্থাৎ মুসলমান ও পাকিস্তানিদের যেমন বৃহৎ ও পরিষ্কার হূদয় দিয়েছেন, ওদের (অর্থাৎ হিন্দুদের) তা দেননি।’ আফ্রিদি সাহেব আরও জানালেন, ‘ওদের সঙ্গে আমরা শান্তিতে থাকতে পারব না, ওদের সঙ্গে শান্তিতে থাকা সম্ভব নয়। শান্তির তো কম চেষ্টা হলো না, কী লাভ হলো!’
খেলা হলো দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে, অথচ আফ্রিদি আবিষ্কার করলেন, সেই খেলা হয়েছে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে। তিনি হয়তো লক্ষ করেননি যে হিন্দু দলটির ভেতর জহির খান নামের একজন মুসলমান খেলোয়াড়ও ছিলেন, যদিও তিনি পাঠান খেলোয়াড়, কখনো তাঁর ধর্মের পরিচয়টি সবার আগে তুলে ধরেননি। পাকিস্তানিরা—তা তারা ক্রিকেটার হোক বা জেনারেল, বরাবর সবকিছুর ভেতর সবার আগে ধর্ম খোঁজে। খেলোয়াড়ের ভেতর তারা খেলোয়াড় দেখে না, মানুষের ভেতর মানুষ দেখে না। ভারতের সঙ্গে খেলার আগের দিন পুরো পাকিস্তানি দল খেলার মাঠে সারি বেঁধে নামাজ পড়েছে, একবার নয়, দুই দুবার। তাবৎ ক্যামেরা তাদের দিকে তাক করা। যে দলের সেরা খেলোয়াড়েরা খেলা নিয়ে জুয়া খেলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে, তাদের আর যাই হোক, ধার্মিক সাজা মানায় না।
পাঠক বলবেন, ক্রিকেটের কথা বলতে গিয়ে আমি রাজনীতির কপচানি করছি। কিন্তু এই কপচানি করার প্রয়োজন হয়তো পড়ত না, যদি আমাদের দেশের ছেলেরা বুকে পাকিস্তানি পতাকা এঁকে দৌড়ঝাঁপ করছে, সে কথা পাকিস্তানি পত্রিকার পাতায় পড়তে না হতো। অথবা পাকিস্তানের কথা বলতে গিয়ে যদি তাদের অমন গলে যেতে না দেখতাম। ভিন্ন প্রজন্মের বলেই কি আমার পক্ষে তাদের নির্দোষ আনন্দ পুরোপুরি বোঝা কঠিন?
আরও একটা ব্যাপার আমার মনে কাটার মতো বিঁধেছিল। পাকিস্তানি মিশনে যে কর্তাব্যক্তি আমাকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরেছিলেন, তাঁর গলায় আমি কোনো কটাক্ষ দেখিনি, কিন্তু শ্লাঘার আভাস অবশ্যই পেয়েছিলাম। সালেহা রিয়াজের লেখায়ও সেই শ্লাঘা। ভদ্রমহিলা তাঁর প্রতিবেদনে আরও লিখেছেন: ‘পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তান একসময় যে বৈরী মনোভাব দেখায়, তা থেকে মনে হতে পারে, বাংলাদেশিরা বুঝি আমাদের ওপর রুষ্ট। কিন্তু না, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈরিতা আছে, বাংলাদেশিদের মধ্যে তার এক-দশমাংশও আমি দেখিনি। আমাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা নিখাদ মনে হয়েছে। যখন খেলার শুরুতে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, আমি ও আমার ভাই কিছুটা চেঁচিয়ে, কিছুটা সুরে তার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিলাম। আমার পাশে বসা এক বাংলাদেশি তরুণ বলল, এই গানের শব্দ আমরাও জানি। একসময় এই গান আমাদের জাতীয় সংগীত ছিল।’
পাকিস্তানি সাংবাদিককে নয়, ওই বাংলাদেশি তরুণটির কাছে আমার জানতে ইচ্ছে করে, পাকিস্তানি জাতীয় সংগীত জানো, খুব ভালো কথা, কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তোমাদের জানা আছে তো?
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

এখনই চাই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা by আ. মোশতাক চৌধুরী, আব্বাস ভূঁইয়া ও টিমথি ইভান্স

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ যখন এমডিজি পুরস্কার পেল, সেটা ছিল গত কয়েক দশকে স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের প্রতিফলন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শুধু শিশুমৃত্যুর হারই কমায়নি, স্বাস্থ্যের সব সূচকই ঊর্ধ্বমূখী। গড় আয়ু, যেটা সত্তরের দশকে ছিল ৪৫ বছর, এখন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ বছরে।
১৯৭৮ সালের আলমা আতা ঘোষণার পর দেশ অনেক এগিয়েছে। কিন্তু এসব সাফল্য সত্ত্বেও ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ স্লোগানের মূল লক্ষ্যটি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। দেশের মানুষের একটি বড় অংশ এখনো উন্নত ও অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সম্পদের ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা তো আছেই, কিন্তু প্রধান সমস্যা হলো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুষম ও ন্যায়সংগত অর্থায়নের ব্যবস্থা বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৭ সালের একটি সমীক্ষামতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় মোট খরচের ৬০ শতাংশই আসে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। যদিও উপজেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা, সমীক্ষায় দেখা যায়, ৮০ শতাংশ রোগী পকেট থেকে টাকা খরচ করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশ সরাসরি স্বাস্থ্যকর্মীকে টাকা দিয়ে থাকে (আইএলও, ২০০৮)।
এই চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে সহায়সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়, জমানো টাকা নিঃশেষ করতে হয় অথবা ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হয়। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসা ব্যয়ের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ—মোট জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। কাজেই এটা স্পষ্ট যে অসম চিকিৎসা ব্যয় দারিদ্র্যের একটা বড় কারণ, যেটা এমডিজি-১ (দারিদ্র্য দূরীকরণ) অর্জনের পথে একটি প্রধান অন্তরায়।
অসুস্থতা, আর্থিক অনটন এবং হতদরিদ্রের যে দুষ্টচক্র আমরা দেখছি, সেটা ভাঙার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে প্রিপেমেন্ট স্কিম প্রচলন করা, যাতে খরচের সরাসরি ধাক্কা অসুস্থ ও গরিব মানুষকে জর্জরিত না করে।
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ২০১০’-এ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে এ ধরনের স্কিমের কথা বলা হয়েছে, যা কিনা পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচলিত আছে। অনেক ধরনের কর ও বিমার সমন্বয়ে এ ধরনের অর্থায়ন করা সম্ভব। গরিব ও অসুস্থ মানুষের ওপর বোঝা হিসেবে চেপে বসার বদলে এই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার (Universal Health Coverage—UHC) ব্যবস্থা চিকিৎসার সামগ্রিক ব্যয়কে সুষম বণ্টন করে, যা কিনা অনেক বেশি সুবিধাজনক ও কার্যকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ যার সক্রিয় সদস্য, এ বছরের মে মাসে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করবে, যাতে প্রিপেমেন্ট পদ্ধতির কথা জোর দিয়ে বলা হবে।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছানোর দুটি প্রধান রাস্তা রয়েছে। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা, যার উদাহরণ হচ্ছে ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস। অন্যটি হচ্ছে বিমাভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা, যা জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশে প্রচলিত। যেহেতু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে এবং অর্থায়ন করে, বাংলাদেশকে তাই ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস মডেল বলা যায়। কিন্তু রোগীর পকেট থেকে অর্থ ব্যয়ের উচ্চমাত্রা (৬০ শতাংশ) এবং চিকিৎসাসেবার বেহাল অবস্থা থেকে এটা স্পষ্ট যে ওই মডেল বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে।
এই ব্যর্থ মডেল থেকে সরে এসে বিমাভিত্তিক সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা মডেলের দিকে এগিয়ে যাওয়াই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চিকিৎসা বিমা সরকারি, বেসরকারি অথবা এই দুইয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হতে পারে।
মজার কথা হচ্ছে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি দেশ ধনী না গরিব, সেটি বড় নিয়ামক নয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় সাত হাজার মার্কিন ডলার আর রুয়ান্ডার স্বাস্থ্য ব্যয় মাত্র ৩৭ ডলার। দুটি দেশই কিন্তু সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রায় সমান সফল। তবু এ দেশে সেবার মান বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে, যা কিনা আসতে পারে পরিকল্পিত কর আরোপের মাধ্যমে। অস্বাস্থ্যকর সামগ্রী যেমন—সিগারেট, মদ ও জাংক ফুডের ওপর নতুন কর আরোপ করা যেতে পারে। সরকার নতুন বন্ড ছেড়েও এই অর্থায়ন করতে পারে।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পদ সমন্বয়ের ফলে সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। উন্নত সেবা প্রদানের দিকে আমরা মনোযোগী হব। ডাক্তার ও নার্সের অভাব, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের সীমাবদ্ধতা এবং অব্যবস্থাপনা—যেসব কারণে গ্রামেগঞ্জে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়, সেদিকে আমরা নজর দিতে পারব। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা সুষম, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্য খাতও। এখনই পদক্ষেপ নিলে একটি যুগোপযোগী ও সুষম স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রচলন করা যাবে, যা সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে। মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাপ্য। গতকাল ৭ এপ্রিল পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এই দিবস পেরিয়ে এসে আমরা মনে করি, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এখনই সময়।
আ. মোশতাক চৌধুরী: সহযোগী পরিচালক, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ব্যাংকক।
আব্বাস ভূঁইয়া: উপনির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।
টিমথি ইভান্স: ডিন, জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

গোলটেবিল by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

একটা চৌকোনা টেবিলকে গোল টেবিল বানিয়ে কিছু বিষয়-বিশেষজ্ঞ যেদিন নানা বিষয়ে তাঁদের বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত জানাতে থাকলেন, গোল বাধল সেদিন থেকেই। টেবিলের ভূগোল বদলে ফেলার বিভ্রমে পড়ল তাঁদের আলোচনা-পর্যালোচনা। শুরুতে সুশীল সমাজের সংগঠন এবং সংবাদপত্র থেকে গোলটেবিল উঠল গিয়ে টিভি চ্যানেলের গোলাঘরে, বিপত্তি আরও বাড়ল। টক শোর বৈঠকি মেজাজে গোলটেবিলে চলল সব সমস্যাহরি জ্ঞান বিতরণ। গোলটেবিলের বিষয়সূচি অতিশয় স্ফীত হলো। যেমন—দুই নেত্রীর এক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে নিয়ে দাঁতের মাজন হিসেবে নিমের ডালের পুনঃপ্রসারের প্রয়োজনীয়তা; বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের একই সঙ্গে বাঘ ও বিড়াল হওয়ার রহস্য থেকে নিয়ে নারীনীতি বাতিলের পক্ষে কিছু নারীর মিছিলের রহস্য। কিন্তু গোলটেবিলের শক্তি যদি হয় এর বিশাল বক্তাবাহিনী, যারা একই সঙ্গে স্ব স্ব (এবং অপরস্ব) বিষয়ে জ্ঞানী এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষা অথবা প্রায়শই একই বাক্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী—এর দুর্বলতা হচ্ছে এর নানা সুপারিশ-সিদ্ধান্তের ইথার-সর্বস্বতা। অর্থাৎ চিরতরে ইথারে হারিয়ে যাওয়া। একেকটা গোলটেবিল চলে অন্তত তিন ঘণ্টা। বক্তা থাকেন এক থেকে দেড় ডজন। এঁদের কজন আবার হন অতি-বক্তাও। তিন ঘণ্টার যে ব্যাবেল তাঁরা রচনা করেন, তার একটা সারাংশ নিয়ে হয় সুপারিশ-প্রস্তাব। সেগুলো তৈরি হয় নীতিনির্ধারকদের জন্য; সরকার বাহাদুর ও সরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য; এনজিও ও বেসরকারি খাতের কর্তাব্যক্তিদের জন্য। কিন্তু করুণ সত্যটি হলো, যত তথ্যসমৃদ্ধ, যত অব্যর্থই হোক, তাঁদের সুপারিশ, ওই সুপার-ব্যক্তিদের কাছে সেগুলোর কোনো মূল্যই থাকে না। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত গোলটেবিল আলোচনা-টক শো হয়েছে, সেগুলোর একটি ইতিহাস রচনা করলে দেখা যাবে, তাদের সুপারিশমালার ১ শতাংশও গলায় পরেননি কর্তাব্যক্তিরা। গোলটেবিলের অমোঘ নিয়তি হচ্ছে যেন শুধু প্রস্তাবায়ন; বাস্তবায়নটা তার অদৃষ্টে নেই। সেটি অদৃষ্টই রয়ে যায়।
তাহলে এত গোলটেবিল কেন? এত কথার ব্যবহার, এত জ্ঞানের বাহার, এত ক্ষুরধার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সমাহার, তা কি শুধু এই ইথারে মিলিয়ে যাওয়ার জন্য? দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গোলটেবিলওয়ালা এবং টক শো-মক শোকারী হিসেবে আমার ধারণা, গোলটেবিল আমাদের কথাসভ্যতার এক অনিবার্য পরিণতির নাম, যার কথা-খরচার চর্চার অবশ্যম্ভাব্যতা আছে, বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গ্রিক পুরাণের সেই ভবিষ্যদ্বক্তাদের মতো—যথা কাসান্দ্রা—যাঁদের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করাটা ছিল এক মনোজৈবিক বাধ্যবাধকতা, কিন্তু যাঁদের কথায় কারও বিশ্বাস স্থাপন না করাটাও ছিল এক স্বতঃসিদ্ধতা। আমাদের গোলটেবিলওয়ালাদের অবস্থান কাসান্দ্রার মতোই—জোর গলায় বলে যাচ্ছেন, সময় থাকতে রসুন ফলান, বিশ্ববাজারে রসুনের দাম বাড়ছে; অথবা কদুর তেলশিল্পকে ভর্তুকি দিন, কারণ আর এক দশকে কদুর তেল হবে বিশ্বের এক নম্বর বায়ো-ফ্রেন্ডলি তেল, সুপার সেলিব্রেটিদের কাঙ্ক্ষিত কসমেটিকসামগ্রী। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একদিন কেঁদেও আমরা রসুন পাব না, আর কদুর তেলের পয়সায় একদিন ভাসবে হয়তো আজাইরাভাইজানের মতো কোনো দূরদর্শী দেশ। যে দেশে গোলটেবিল এখনো চার কোনা।
তবে তাও না। গোলটেবিলের ভূমিকাটা আরও হূদয়বিদারক। আমি দেখেছি, গোলটেবিলে যা বলা হয়, যেসব প্রস্তাব রাখা হয়, বাস্তবে হয় তার উল্টো। সুজন নামের সুশাসনকামী সুশীল সংগঠনটি দুর্নীতি নিয়ে অনেক গোলটেবিল করেছে। টিআইবিও করেছে। দুর্নীতি, দুদক, মাদক—বিষয়বস্তুর অভাব হয়নি কখনো। কিন্তু সুজনের এত কুজন, টিআইবির এত কেন এবং কী—তার ফল হলো কী? দুর্নীতি না কমে বাড়ল বরং, দুদক নেমে গেল সিকি-দুদকে। এন্তার গোলটেবিল হলো ঢাকার যানজট নিয়ে—যানজটের ঝঞ্ঝাট কমল? না বাড়ল? এখন যানজটে বসে জানে জট লেগে যায় না? উড়াল পুল নিয়ে, মেট্রো রেল নিয়ে কত গোলটেবিল হলো। যদি সেগুলোর একটা ভগ্নাংশও ফলত! আজ আমি টিএসসির মোড় থেকে মেট্রো রেলে চড়ে ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছে যেতাম। অবশ্য বিমানবন্দরে গিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪০ মিনিট উড়ালের জন্য চার ঘণ্টা বসে থাকতাম। তবে সে ভিন্ন কথা। না, ভিন্ন কথাও নয়। সেখানেও সমস্যাটা তৈরি করেছে গোলটেবিল। আমার মনে আছে, বিমান যখন ১০-১৫ মিনিট বিলম্বে গন্তব্যের পথে পাখা মেলতে শুরু করল, তখন এক গোলটেবিল হয়েছিল। বিষয় ছিল, ‘বিমানের নিয়মানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবা উন্নত করা’। অনেক প্রস্তাবও জমা পড়েছিল বিমান মন্ত্রণালয়ের বক্সে। তার পরদিন থেকেই অভিমান করে বিমান মাটিতে নামতে থাকল।
গোলটেবিলের সর্বশেষ কর্মফল হচ্ছে ঢাকার নাগরিকদের রিকশা বিপত্তি। জানুয়ারি মাসে এক গোলটেবিল হয়েছিল, ‘ঢাকার রাস্তায় রিকশা চলাচল যৌক্তিকীকরণ’ শিরোনামে। প্রমাদ গুনেছিলাম শিরোনাম শুনেই। পরশু দিন ফুলার রোডের বাসা থেকে রিকশায় নিউমার্কেটে যাব বলে উঠেছি, রিকশাওয়ালা নীলক্ষেতের মোড়ে নামিয়ে দিলেন। বাকি রাস্তায় রিকশা নাস্তি। যৌক্তিকীকরণ। যদিও যুক্তিটা এত সূক্ষ্ম, না আমি, না আমার সেই রিকশাওয়ালা, তা বুঝতে পারলাম।
গোলটেবিল অবশ্য বেঁচেবর্তেই থাকবে। সে জন্য এর কাসান্দ্রাভাগ্যও ফেরাতে হবে। এ রকম কী করা যায়, যে শিরোনামটা উল্টো করে দেওয়া যায়, যেমন, ‘ঢাকার মশার অপরিহার্যতা’ অথবা ‘যানজটের সামাজিক ঐতিহাসিক এবং রোমান্টিক প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে কি এগিয়ে আসবেন সুশীল সমাজের কুশীলবেরা?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সুস্থ-সবল জীবনের জন্য -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান



ইসলাম জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। স্বাস্থ্যই সম্পদ ও সকল সুখের মূল। মানবজীবনে সুস্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। শারীরিক সুস্থ্থতা আল্লাহপ্রদত্ত এক বড় নিয়ামত। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনপ্রবাহ ঠিক থাকে। পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তির জীবনের গতি থমকে দাঁড়ায়, নিজের প্রয়োজন পূরণে রোগী অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। যেহেতু আল্লাহর ইবাদত মানুষের প্রধানতম কাজ, সেহেতু তার সুস্থ থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। কারণ, অসুস্থ দেহ-মন নিয়ে বিধিবদ্ধ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা হয় না বিধায় এগুলো গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই দৈহিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকাকে অনুপ্রাণিত করতে ইসলাম ঘোষণা করেছে, ‘শক্তিশালী, সুস্থ মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম।’
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, যথাযথ পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গেলে এর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতি জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যের শারীরিক ও মানসিক দুটি দিক রয়েছে। উভয় দিকের পরিপূর্ণ প্রতিরোধ-প্রতিরক্ষার সুব্যবস্থা করেছে ইসলাম। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইবাদত-বন্দেগিতে একনিষ্ঠতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আন্তরিকভাবে ইসলাম পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে মানসিকভাবে প্রফুল্ল ও পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে। অপর পক্ষে শারীরিক সুস্থতার জন্য ইসলামের সব আচার-অনুষ্ঠানই অবর্ণনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। শারীরিক শিক্ষা বা ব্যায়াম দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সাঁতার এবং তিরন্দাজি শেখাও।’
ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে স্বাস্থ্যের জুড়ি নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর আগে এগুলোর কদর করার কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে অন্য পাঁচটি বিষয়ের আগে গনিমত মনে করো। অর্থাৎ পাঁচটি বিষয়কে বিপরীত পাঁচটি বিষয়ের আগমনের আগে সংরক্ষণ করো বা কাজে লাগাও। ১. বার্ধক্যের আগে তোমার তারুণ্যকে, ২. দারিদ্র্যের আগে তোমার সচ্ছলতাকে, ৩. অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতাকে, ৪. ব্যস্ততার আগে তোমার অবসর সময়কে এবং ৫. মৃত্যুর আগে তোমার জীবনকে।’
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করার জন্য শরিয়তে এমনভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে যে এটাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামি বিধানের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা। রীতিমতো বিশ্রাম না নিলে মানবদেহ স্বভাবতই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বার্ধক্য আসার আগেই বার্ধক্যের কোলে ঢলে পড়তে হয় এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে পতিত হতে হয়। কারণ, মানবদেহ একটি যন্ত্রের মতো। একটানা কোনো ইঞ্জিন চলতে থাকলে, সেটা যেমন খুব দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ে, তেমনি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না হলেও তা দ্রুত অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। একজন সাহাবি দিনভর রোজা রাখতেন আর রাতভর নামাজ পড়তেন। নবী করিম (সা.) তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে।’ পক্ষান্তরে রোগ-ব্যাধি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো মানুষের অলসতা ও কর্মবিমুখতা। বিভিন্ন রোগের উৎস মূলত আলস্য ও কর্মবিমুখতা। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অলসতা থেকে পানাহ্ চাই।’
ইসলাম কখনো উদরপূর্তি করে খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করে না। ইসলামের দিকনির্দেশনা হচ্ছে, যখন ক্ষুধা পাবে কেবল তখনই পানাহার করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমরা এমন একটি সম্প্রদায়, যারা খাওয়ার প্রয়োজন ব্যতীত খাদ্য গ্রহণ করি না। আর যখনই আমরা খাদ্য গ্রহণ করি, তৃপ্তির সঙ্গে (উদরপূর্তি করে) ভক্ষণ করি না।’ প্রয়োজনাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ না করার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, ‘তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপব্যয় করো না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত-৩১) অপব্যয় বলতে খাদ্য-পানীয় নষ্ট না করা এবং প্রয়োজনাতিরিক্ত গ্রহণ না করা।
ইসলামে পানাহার করার একটি স্বাস্থ্যসম্মত নীতি রয়েছে। যে নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে সে আহারই শরীরের ক্ষয় পূরণের পরিবর্তে এতে বরং ঘাটতি এনে দেবে। মানবদেহে জন্ম নেবে নানাবিধ রোগের উপকরণ। এ জন্য রাসুলে করিম (সা.) নিষেধবাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা উদর পূর্তি করে ভোজন কোরো না, কেননা এতে তোমাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।’ (বুখারি) অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে যে ‘অধিক আহার দুর্ভাগ্যজনক।’ (বায়হাকি)
ইসলামি শরিয়ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যেমনভাবে গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি তা কার্যকরের ফলপ্রসূ উপায় বাতলে দিয়েছে। যেমন—নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম করা, পরিমিত আহার, সময়ানুগ খাবার গ্রহণ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরপরই ইসলাম রোগ প্রতিরোধের প্রতি জোরালো তাগিদ দিয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করতে মানুষকে উৎসাহিত করেছে। যেসব জিনিসের কারণে মানুষের শরীরে রোগ-ব্যাধি হয়, ইসলাম আগেই সেগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রতি ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। রোগ-ব্যাধি ছড়ানোর বড় কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশ। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ (মুসলিম)
প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্যতা বিনষ্ট হতে পারে এমন কোনো কার্যক্রমই ইসলামে স্বীকৃত নয়। এ জন্য ইসলামসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া সহজতর হয়। ইসলামের দিকনির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যনীতি অনুসরণ করা মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যক।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

অস্ট্রেলিয়ায় কঠোর ধূমপানরোধী আইন করার পরিকল্পনা

অস্ট্রেলিয়ার সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী আইন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সিগারেটের প্যাকেটের জন্য তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিগুলোকে পরিবেশবান্ধব সাদা মোড়ক ব্যবহারে চাপ দেওয়া হবে।
এসব প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে শিল্প আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এর পরও সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিকোলা রক্সোন সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে আইনের খসড়াটি শিগগিরই পার্লামেন্টে পাঠানো হবে। আইনটি অনুমোদিত হলে তা প্রতিবছর হাজার হাজার ধূমপানজনিত মৃত্যু কমাতে সহায়তা করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, প্রতি বছর ধূমপানজনিত অসুস্থতায় দেশটিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ধূমপানজনিত মৃত্যুর কারণে সরকারের বছরে তিন কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়।
রক্সোন বলেন, সিগারেটের প্যাকেটের ক্ষেত্রে এ ধরনের আইন বিশ্বে এটাই হবে প্রথম। এতে পরিষ্কার একটি বার্তা রয়েছে, সিগারেটের চটকদার মোড়কের দিন শেষ। সিগারেটের মোড়কে এখন থেকে থাকবে কেবল রোগ ও মৃত্যুর বার্তা, যার কারণ ধূমপান।

মালয়েশিয়ায় মাদক পাচারের অভিযোগে ৯ ইরানি আটক

মালয়েশিয়ায় মাদক পাচারের অভিযোগে চার নারীসহ নয়জন ইরানিকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৭০ কেজি মেথাএমফেটামাইনও (ইয়াবা বড়ি তৈরির প্রধান উপাদান) উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
দেশটির মাদকবিরোধী সংস্থার প্রধান নুর রশিদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, উদ্ধার করা মেথাএমফেটামাইনের মূল্য প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে কবে এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি জানাননি।
নুর রশিদ বলেন, আটক ইরানিরা একটি বড় মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা মালয়েশিয়া থেকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় মাদক পাচার করে থাকে।

আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলায় ছয় নিরাপত্তাকর্মী নিহত

আফগানিস্তানের একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ছয় নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরের কাছে বন্দুক ও রকেটচালিত গ্রেনেডের সাহায্যে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
কান্দাহারের গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জঙ্গিরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি অ্যাম্বুলেন্স উড়িয়ে দেয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত ও ১০ জন আহত হন।
রাজ্য পুলিশের প্রধান খান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন, কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঢোকার পর পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) একজন মুখপাত্র মেজর র‌্যান্ডি টেলর ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি।
তালেবান জঙ্গিরা হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত মাসে উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ প্রদেশের পুলিশপ্রধানকে হত্যার দাবিও করেছে তারা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কান্দাহারে পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে।
আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গি দমনে প্রায় ১০ বছর ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সেখানে এই বাহিনীর প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রের।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে শতাধিক ফিলিস্তিনি নারী গ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নাবলুস শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রাম থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনারা শতাধিক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় গ্রামটি তছনছ করা হয়। ইসরায়েলি একটি পরিবারের লোকজনকে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে ওই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় পরিষদের প্রধান তাইয়িস আওয়াদ জানান, গত বুধবার মধ্যরাতের পর কয়েক শ সেনাসদস্য অ্যাওয়ারটি গ্রামে প্রবেশ করে কারফিউ জারি করেন। তাঁরা রাতভর গ্রামটির ঘরে ঘরে তল্লাশি চালান। তিনি আরও জানান, গত মাসে ইতমারের একটি বসতি এলাকায় ইসরায়েলি এক পরিবারের পাঁচজন সদস্য খুন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি বাহিনী চার সপ্তাহে গ্রামটিতে একাধিকবার তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবারের অভিযানে প্রথমবারের মতো শতাধিক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওবামার দাদার ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দাদা হোসেন ওনিয়াঙ্গো ওবামা কেনিয়ায় ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। তাঁকে নির্মমভাবে চাবুক মারা হয়েছিল।
পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিকে সে দেশে ম ম বিদ্রোহের সময় ওনিয়াঙ্গো সে দেশের ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের হাতে অন্যদের সঙ্গে নির্যাতিত হন। লন্ডনে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে ৫০ বছর ধরে সংরক্ষিত নথিতে এ তথ্য পাওয়া যায়।
কেনিয়া স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে এসব নথি দেশটি থেকে যুক্তরাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। গত জানুয়ারি মাসে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কেনিয়ার পাঁচ নাগরিক মামলা করার পর এসব নথি প্রকাশিত হয়।
ওবামার দাদা ওনিয়াঙ্গোকে বিদ্রোহের শুরুতে ১৯৪৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। কড়া নিরাপত্তার ভেতর একটি কারাগারে দুই বছর থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
একসময় একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার বাবুর্চি ছিলেন ওবামার দাদা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ে সকাল-সন্ধ্যা তাঁকে চাবুক মারা হতো।

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান

জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তেহমিনা জানজুয়া বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ব্যর্থতার জবাবদিহি পাকিস্তান করবে না। জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামাবাদের সুস্পষ্ট কৌশল রয়েছে। জঙ্গিবাদ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জাতীয় স্বার্থেই কৌশল নির্ধারণ করে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি। পাকিস্তান প্রসঙ্গে বলা তথ্যগুলো ঠিক নয়।’
হোয়াইট হাউসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে দেশটির ‘সুস্পষ্ট কোনো পথ’ নেই। জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য জীবন দিয়েছেন। গত তিন মাসে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও অনেকে বাড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে খুবই কম উন্নতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে গত জানুয়ারিতে মোমান্দ ও বাজাউর এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান খুব একটা কাজে আসেনি বলে উল্লেখ করা হয়।

তেজস্ক্রিয় বৃষ্টির ভয়ে দ. কোরিয়ায় স্কুলের ক্লাস বাতিল

তেজস্ক্রিয় পদার্থমিশ্রিত বৃষ্টির আশঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক স্কুলের ক্লাস বাতিল করা হয়। একই আশঙ্কায় ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের।
ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তা প্রতিবেশী দেশ দুটিতে বৃষ্টির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গতকাল বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের পার্শ্ববর্তী জিয়ংগি প্রদেশের ১৩০টিরও বেশি প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ক্লাস বাতিল করা হয়। এর আগে গত বুধবার তেজস্ক্রিয়তার কারণে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় প্রাদেশিক শিক্ষা কার্যালয় সেখানকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা অথবা ক্লাস কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিল।
জিয়ংগির প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে যেসব এলাকার ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসতে হয়, তাদের স্কুলে না যেতেই উৎসাহিত করা হয়েছে। আর যেসব স্কুল খোলা রয়েছে, সেগুলোর শিক্ষকদের স্কুলের বাইরের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী বাতাসের সঙ্গে প্রবাহিত হয়ে জাপানের কাছের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে গত সোমবার দেশটির আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে দিয়েছিল। এই সতর্কতা জারির পরই কোরীয়দের মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থমিশ্রিত বৃষ্টির আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, গতকাল বৃষ্টির সঙ্গে যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গেছে, তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়া কর্তৃপক্ষ সে দেশের নাগরিকদের বৃষ্টির হাত থেকে নিজেদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। গত বুধবার রাতে সরকারি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে রেইনকোট ও বুট পরে এবং ছাতা নিয়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নয়াদিল্লির পানিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক সুপারবাগের সন্ধান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পানিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যাকটেরিয়া ‘সুপারবাগের’ সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশ্বজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে চিকিৎসকেরা তাগিদ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দ্য ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিস জার্নালে গবেষণা প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা এই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান। নয়াদিল্লির পানিতে এই প্রথমবারের মতো এমন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেল। প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লিতে ক্ষুদ্র জলাশয় ও ছোট নদী থেকে পানির ১৭১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১টি নমুনায় মেটালো-বেটা-ল্যাকটামেজ-১-এর (এনডিএম-১) সন্ধান পাওয়া যায়। আর ট্যাপের পানির ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে এর দুটিতে এনডিএম-১-এর সন্ধান মিলেছে। এনডিএম-১ হলো এমন একটি জিন, যা ব্যাকটেরিয়াকে প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধে সক্ষম করে তুলতে পারে। ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম এনডিএম-১ জিন শনাক্ত করা হয়। নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত পানির নমুনায়ও এনডিএম-১ পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া এনডিএম-১ জিন বহন করে। এর মধ্যে কলেরা ও আমাশয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও এনডিএম-১ ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। ভারতের অন্যান্য শহর এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে জরুরি ভিত্তিতে এ ব্যাপারে গবেষণা হওয়া দরকার।
গবেষক দলের প্রধান টিম ওয়ালস বলেন, ‘খাবার পানি, ধোয়া ও খাবার তৈরির জন্য ব্যবহূত পানি, ক্ষুদ্র জলাশয় ও ছোট নদী যেখানে ছোট ছেলেমেয়েরা খেলা করে সেই পানিতে আমরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছি।’ তিনি গবেষণার ফলকে ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো’ বলে উল্লেখ করেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মোহাম্মদ শহীদ বলেন, সুপারবাগ আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধে সত্যিকার অর্থে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এটাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা উচিত হবে না।
গবেষকেরা গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এর পরপরই তাঁরা সতর্ক করে দেন ভারতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে দেশটিতে সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ওই সময় ভারত সরকার বিজ্ঞানীদের আশঙ্কার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়।

মাশুল আদায় ও পৃথক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ

মাশুল আদায়ের সুপারিশ করেই ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ট্রানজিট প্রদান নীতিমালাসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদনের লিখিত কপি পাঠানো হয়। অবশ্য এর আগে গত বুধবার একই প্রতিবেদনের ‘সফট কপি’ও পাঠিয়ে দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন।
ট্রানজিটসংক্রান্ত কোর গ্রুপের সভাপতি ও ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন সরকার প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য বিষয় বিবেচনা করে ট্রানজিটসংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
মাশুল আদায়ের প্রসঙ্গে মজিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রানজিটসংক্রান্ত মাশুলের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিধিবিধানগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরে মাশুল আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।’
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধান অনুসারে ট্রানজিটের ওপর কোনো শুল্ক আদায় করার সুযোগ নেই। তবে প্রশাসনিক ও পরিবহনসহ সেবামাশুল আদায়ের সুযোগ রয়েছে। এই আলোকেই প্রশাসনিক মাশুল, পরিবেশ বিপর্যয়সংক্রান্ত মাশুল, রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল, শব্দদূষণ মাশুল, দুর্ঘটনাজনিত মাশুল, পণ্যের ওজনে সড়ক ও রেলপথের ক্ষতিসংক্রান্ত মাশুলসহ বিভিন্ন মাশুল আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এ ছাড়া ট্রানজিট দিতে হলে সড়ক, রেল ও নৌপথসহ সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৭০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ১০ বছর ধরে এই বিনিয়োগ করতে হবে। তবে প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগ উঠে আসার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০ বছর। অর্থাৎ আগামী ২০ বছরে লাভসহ বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে।
এ ছাড়া পৃথক একটি ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে সড়ক, রেল ও নৌরুটের উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও মংলা নৌবন্দরসহ স্থলবন্দরগুলোর উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে আপাতত রেলরুটে ট্রানজিট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে এতে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ভারতের অপেক্ষাকৃত বেশি ওজনের ওয়াগন চলাচল করতে পারবে না। এ জন্য প্রতিবেদনে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সড়ক, রেল ও নৌরুটগুলোর প্রারম্ভিক স্টেশনগুলো মূলত কলকাতা, নদীয়া, শিলিগুড়ি অংশে; আর প্রান্তিক স্টেশন ভারতের আসাম, আগরতলা, মিজোরাম। তবে ভারত, নেপাল ও ভুটানের জন্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোর গ্রুপের একজন সদস্য প্রথম আলোকে জানান, ‘ট্রানজিটসংক্রান্ত বাংলাদেশের লাভের বিষয়টি নির্ভর করবে পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে দর-কষাকষির ওপর। কেননা, আমরা ট্রানজিট দিতে সম্মত হলাম, কিন্তু ভারত সংশ্লিষ্ট রুটগুলো ব্যবহারে সম্মত হলো না কিংবা ভারত যেসব রুট ব্যবহার করতে চায়, আমরা সেসব রুট সহসাই উন্নয়ন করতে পারব না। অথবা আমরা আগামী ১০ বছরে যে পরিমাণ ট্রানজিটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব, ভারত তার চেয়ে কম ট্রানজিট নিল। এমন অবস্থায় ট্রানজিটের সুফল পাওয়া যাবে না।’
উল্লেখ্য, ভারত, নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ট্রানজিটসুবিধা দেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গত ২ ডিসেম্বর ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানকে সভাপতি করে ট্রানজিটসংক্রান্ত কোর গ্রুপ গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই গ্রুপকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রানজিটসংক্রান্ত একটি রূপরেখা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কোর গ্রুপের প্রথম সভায় পাঁচটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে রুট নির্ধারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পুনরুদ্ধার—এই দুটি উপকমিটির প্রধান ট্রানজিট বিশেষজ্ঞ রহমত উল্লাহ। ট্রানজিট মাশুল নির্ধারণসংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (শুল্ক) শাহ আলম খান। বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের ট্রানজিট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণসংক্রান্ত অপর উপকমিটির প্রধান বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমদ।
উপকমিটিগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে একটি দিকনির্দেশনামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তৈরি করেছেন সাদিক আহমদ।
উপকমিটিগুলোতে এনবিআর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর একটি জাতীয় সেমিনার করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার কথা রয়েছে।

সিআইপি কার্ড পেলেন ১২ জন অনিবাসী বাংলাদেশি

জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জন অনিবাসী বাংলাদেশি বা এনআরবিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এসব প্রবাসীর হাতে কার্ড তুলে দেন।
গতকাল যাঁদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন আরব আমিরাতে বসবাসরত চট্টগ্রামের বাসিন্দা এম এন আলম, মোহাম্মদ আলী ও মীর সেলিম উদ্দিন; ব্রিটেন-প্রবাসী মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ আবদুল রহিম ও এম জি মৌলা মিয়া; সিলেটের কায়ছর আহমেদ; ওমানে বসবাসরত ঢাকার মোহাম্মদ গোলাম কবির ভুঁইয়া ও মো. হেদায়েত উল্লাহ; জাপান-প্রবাসী ঢাকা মীরপুরের কাজী সারোয়ার হাবিব; যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ঢাকার নাজিম আবেদীন চৌধুরী; কাতারে বসবাসরত লিয়াকত আলী এবং সুইডেন-প্রবাসী ঢাকার কাজী শাহ আলম।

সূচক ও লেনদেন বেড়ে সপ্তাহ শেষ

গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি গতকাল সকালে অর্থমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। তাই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দিনভর চাঙাভাব ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দিনের লেনদেন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ৮৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৫৪০.৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৪টির, কমেছে ৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের। মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকার।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: বেক্সিমকো, আফতাব অটো, কেয়া কসমেটিকস, আরএকে সিরামিকস, গ্রামীণফোন, পিএলএফএসএল, কর্ণফুলী, কনফিডেন্স সিমেন্ট, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ২৭০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ২৭১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল লেনদেন হওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৯টির, কমেছে ২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের। মোট লেনদেন হয়েছে ১০৬ কোটি টাকার।

চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ বন্ড কমিশনারেট স্থাপনের ঘোষণা এনবিআরের

চট্টগ্রামে আবারও পূর্ণাঙ্গ বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমদ। একইভাবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের আমদানি ও রপ্তানি শাখা একীভূত করার ঘোষণা দেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম চেম্বার এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম সভাপতিত্ব করেন। এতে এনবিআরের সদস্য আবদুল মান্নান পাটোয়ারী ও শাহ আলম খান, বৃহৎ কর দাতা ইউনিটের (মূসক) কমিশনার ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ফিরোজ শাহ আলম, কাস্টম হাউসের কমিশনার (আমদানি) সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, কমিশনার (রপ্তানি) জামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, পরিচালক এম এ ছালাম, সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
গত বছরও চট্টগ্রামে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমদ দ্রুত বন্ড কমিশনারেট কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের দুটি বাজেটেও এই দুটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল।
তবে আগের ঘোষণার বাস্তবায়ন না হওয়ায় মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান অবশ্য বন্ড কমিশনারেট স্থাপন করতে না পারাকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে স্বীকার করে নেন।
নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আরও সেবামুখী করতে ১০৪ জন পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়ের পদ্ধতি সহজীকরণ করতে অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা প্রাক জাহাজীকরণ প্রথা (পিএসআই) বাতিলের আবেদন জানালে এ ব্যাপারে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও দুই বছর পিএসআই পদ্ধতি বহাল থাকবে।
সভায় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আবদুল মান্নান পাটোয়ারী ও শাহ আলম খান, বৃহৎ কর দাতা ইউনিটের (মূসক) কমিশনার ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ফিরোজ শাহ আলম, কাস্টম হাউজের কমিশনার (আমদানি) সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, কমিশনার (রপ্তানি) জামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, পরিচালক এম এ ছালাম, চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
চট্টগ্রাম চেম্বারে মতবিনিময় সভার পরে এনবিআরের চেয়ারম্যান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে পৃথক পৃথক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

ধোনিতে মুগ্ধ আফ্রিদিও

পুরস্কারের বন্যায় ভাসছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে প্রশংসার বন্যাও। শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে কপিল দেব ধোনিকে বলছেন ভারতের সর্বকালের সর্বসেরা অধিনায়ক। ধোনির প্রশংসার মিছিলে যোগ দিলেন ভারতের ‘চিরশক্র’ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিও। তাঁর কথার সারমর্ম—ভারতের সৌভাগ্য যে তারা ধোনির মতো একজন সুস্থির অধিনায়ক পেয়েছে।
অধিনায়ক ধোনির জন্য কেন ‘ভাগ্যবান’ ভারত, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আফ্রিদি, ‘বিচক্ষণতার সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে ধোনি। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে দুর্দান্ত। তার মতো সুস্থির অধিনায়ক পাওয়াটা ভারতের সৌভাগ্যের ব্যাপার।’ ভারতের বিশ্বকাপ সাফল্যের ইতিবাচক প্রভাব এ অঞ্চলের ক্রিকেটেও পড়বে বলে মনে করেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘তার অসামান্য অবদানে পাওয়া এ সাফল্য ভারত এবং সে দেশের জনগণের জন্য অনেক বড় কিছু। তবে আমি এটাও মনে করি, এশিয়ায় বিশ্বকাপ ট্রফি ফেরাটা এই অঞ্চলের ক্রিকেটকে আরও বেগবান করবে এবং পাকিস্তান-ভারতের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সম্পর্ককে স্বাভাবিক করবে।’
বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য ভারতকেই যোগ্য দল বলছেন আফ্রিদি, ‘তারা খুব ভালো দল এবং শিরোপা তাদেরই প্রাপ্য ছিল। যে দল আমাদের হারিয়েছে, শিরোপাটা তাদেরই জেতা উচিত।’ শুধু ধোনিতে নয়, পুরো বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের মধ্যমণি হয়ে দলকে প্রেরণা দিয়েছেন যিনি, সেই শচীন টেন্ডুলকারেও মুগ্ধ আফ্রিদি, ‘তাঁর রান-ক্ষুধায় আমি বিস্মিত।’
‘ভারতীয়রা খুব সংকীর্ণমনা’—তাঁর এমন মন্তব্য নিয়ে ভারতে যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, সে সম্পর্কেও বললেন আফ্রিদি। আগেই জানিয়েছেন, অমন মন্তব্য তিনি করেননি। এক সাক্ষাৎকারে আবারও সেটিই বললেন, ‘ভারতীয়দের সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ভারতীয় জনগণ ভালো ক্রিকেটের সমঝদার হওয়ায় সেখানে গিয়ে খেলাটা সব সময়ই উপভোগ করি আমি। আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
‘ভারতীয় গণমাধ্যমের তুলনায় পাকিস্তানের গণমাধ্যম এক শ গুণ ভালো’—এমন মন্তব্য নিয়ে বললেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমে কিছু লোক দুদেশের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায় এবং খাটো করে দেখাতে চায় পাকিস্তানিদের। আমি বলেছিলাম একশতম সেঞ্চুরির জন্য আমাদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পরও অপেক্ষা করতে হবে টেন্ডুলকারকে। কিন্তু আমার এই কথাটাকেই ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম ভুলভাবে উপস্থাপন করল।’
ইমরানের পরামর্শ: পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান টেস্ট দলেরও দায়িত্ব নিতে বলছেন আফ্রিদিকে। বিশ্বকাপ পরিচালনাকারী পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দারের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে যুক্তি দেখিয়েছেন ইমরান, ‘তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে একজনই অধিনায়ক থাকা উচিত। ভারতের বিশ্বকাপ সাফল্যে এটাও একটা কারণ, ধোনি টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের অধিনায়ক। আফ্রিদিকেও অবশ্যই তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমার বিশ্বাস যতক্ষণ না কেউ টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সে শীর্ষে উঠতে পারবে না।

স্পেনের হয়ে খেলবেন না মেসি

সেই ছোট্টবেলায় আর্জেন্টিনা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন স্পেনে। এখনো আছেন সেখানেই। প্রায় ১১ বছর স্পেনে কাটিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। সম্প্রতি পেয়েছেন স্পেনের নাগরিকত্ব। নাগরিকত্ব পাওয়া মানে এখন চাইলে মেসি খেলতে পারেন স্পেন জাতীয় দলের হয়ে। মেসি কি গায়ে তুলবেন স্পেনের জার্সি?
এই প্রশ্ন কারও মনে জাগলে তা দূর করে দিচ্ছেন স্বয়ং মেসি। ব্যালন ডি’অর জয় করা বার্সেলোনা তারকা বলছেন, ‘আমি কখনোই স্পেনের হয়ে খেলতে পছন্দ করব না। কারণ আমি আর্জেন্টাইন। তবে এটা সত্যি, স্পেন আমাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছে।’
পুরো ব্যাপারটা কি এতে খোলাসা হলো? ‘স্পেনের হয়ে খেলতে পছন্দ করব না’ মানে মেসি পরোক্ষে জানিয়েই দিলেন তাঁর মনের কথা। একটা প্রশ্ন কিন্তু আসছে। মেসি আসলে হূদয়ে কোনটি বেশি ধারণ করেন? কূটনৈতিক উত্তর তাঁর, ‘এটাও মনে রাখতে হবে, আমি আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সময় বার্সেলোনায় থেকেছি। তবে এতেই আপনার আনুগত্য ভাগ হয়ে যায় না। আপনি আপনার সত্যিকারের ভালোবাসাও বদলে ফেলতে পারেন না।’
আর্জেন্টিনা, না বার্সেলোনা—বেছে নিতে বললে কোনটি নেবেন? দুটি দলই সমান প্রাধান্য পাচ্ছে ২৩ বছর বয়সী তারকার কাছে, ‘আমি জাতীয় দলকে ভালোবাসি এবং ভালোবাসি ক্লাবকেও।’
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলতে পারেননি চোটের কারণে। কিন্তু সমালোচনার হাত থেকে রেহাই মেলেনি। পরে এর জবাবও দিয়েছেন, ‘আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই বার্সেলোনা থেকে ওই ম্যাচে না খেলার জন্য কোনো চাপ ছিল না। আমার পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগায় ম্যাচটা খেলা হয়নি। এই কারণে যে এত কথা হবে আমি বুঝিনি।’
মেসি বলেই আসলে এত কথা! আর মেসি বলেই গত পরশু সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে ফেসবুক-পেজ খোলা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ষাট লাখেরও বেশি সমর্থক সেখানে হিট করেন! মেসিও ভক্তদের ভালোবাসার উত্তর দিয়েছেন, ‘আমাকে যাঁরা লিখেছেন এখানে তাঁদের সবাইকে স্বাগত এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা এখন ফেসবুকের মাধ্যমে আরও কাছাকাছি আসতে পারব।

দুই দিন আগেও কিছুই ঠিক হয়নি!

শুরুর দুদিন আগেও স্বাধনীতা কাপ ফুটবলের কিছুই চূড়ান্ত হয়নি! আগামী পরশু থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লিগের ১২টি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু করার কথা জানিয়েছিল বাফুফে। কিন্তু দুদিন পর বাফুফে সেই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি সরে গিয়ে অন্য কথা বলছে। টুর্নামেন্টের ফরম্যাট কী, সেটিও অজানা।
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কাল ক্লাব প্রতিনিধিদের বাফুফে ভবনে ডেকেছিলেন আলোচনার জন্য। সেই আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফল নেই। সালাউদ্দিন দল কমাতে চান। ক্লাব প্রতিনিধিরা ১২ দলকেই চেয়েছেন। দুদিন আগে ১২ দলের কথা জানানোর পর এখন দল কমানোর কী কারণ, সেটির ব্যাখ্যা নেই। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবগুলো নিয়ে এই টুর্নামেন্টটা ছয় বছর পর মাঠে না নামতেই যেন এক রসিকতা হয়ে উঠেছে!
স্বাধীনতা কাপটা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছায় এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে। বাফুফের কাজ শুধু এটি সফলভাবে আয়োজন করা। কিন্তু আয়োজনে নেমেই বাফুফে টুর্নামেন্টের দুদিন আগেও ফরম্যাট জানাতে পারেনি। প্রাইজমানি কত, তা-ও অজানা। বাফুফের কার্যক্রম অগোছালো হয়ে পড়ারই ফল এসব। ফেডারেশনে কাজের কোনো সমন্বয় নেই। ক্লাবগুলোর সঙ্গে এই আলোচনাটা আরও আগেই হতে পারত। কিন্তু হয়নি। বাফুফে যে এখন নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে চলেছে!
ক্লাবগুলোর সঙ্গে বাফুফের সমন্বয়হীনতার স্বীকার করে এ জন্য নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছেন সালাউদ্দিন। দুঃখ প্রকাশেই সমস্যার সমাধান নয় বলে বললেন ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান। সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের আমের জানিয়েছেন, সভায় ক্লাব-বাফুফে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার দেওয়া, অকারণে খেলা বন্ধ না করা, ক্লাবগুলোকে প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়া—এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন থেকে সব ঠিক করে ফেলবেন। সমন্বয়হীনতা আর থাকবে না। দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। এই কথা তিন বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতা কাপ শুরুর দুদিন আগেও দলের সংখ্যা-ফরম্যাট কিছুই ঠিক না হওয়ায় ক্লাবগুলো বাফুফের ওপর আর আস্থা পাচ্ছে না!

প্রাপ্তির নাম আত্মবিশ্বাস

প্রথম বলে আউট হলে ভাগ্যকেই দোষেন ব্যাটসম্যানেরা। অলক কাপালি আর শুভাগত হোম চৌধুরীও নিশ্চয়ই দুষছেন। তবে অলকের চেয়ে শুভাগতের ভাগ্যটাই বেশি খারাপ। কাল ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে নাকি জাতীয় দলের কম্পিউটার বিশ্লেষক নাসির আহমেদের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শুভাগতের এলবিডব্লুটা হয়নি!
শুভাগতের এলবিডব্লু না হলে জন হেস্টিংসের হ্যাটট্রিকও হয় না। কিন্তু স্কোরকার্ডে তো আর এলবিডব্লু না হওয়ার কথা লেখা নেই, লেখা আছে হেস্টিংস হ্যাটট্রিক করেছেন! বিসিবি একাদশের অধিনায়ক অবশ্য শুধু হেস্টিংস না, অস্ট্রেলিয়া দলের কোনো বোলারের বলকেই খুব ভালো বললেন না, ‘হেস্টিংস ভালো আউট সুইং করায়। নইলে হেস্টিংস বা লি, কারও বলই আমার কাছে আহামরি কিছু মনে হয়নি। ওদের কোনো বোলারের বলই আমাদের উইকেটে খুব কার্যকর হবে না।’
রকিবুলের ব্যাটও তা বলছে। ১২ রানে দুই ওপেনার বিদায় নিলে মাইশুকুর আর তাঁর ১৪৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বিসিবি একাদশ। হেস্টিংসের ‘কুড়িয়ে পাওয়া’ হ্যাটট্রিকের কারণে অবশ্য তার পরও লাভ হয়নি।
প্রথম দুই উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়াতেই বিসিবি একাদশের রানটা কম হয়েছে বলে ধারণা রকিবুলের। তার পরও প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে নিজেদের পারফরম্যান্সে খুব বেশি হতাশ নন বিসিবি একাদশ অধিনায়ক, ‘অলক ভাই আর শুভর (শুভাগত) ব্যাড লাক। নইলে আমরা ভালোই খেলেছি।’ ভাগ্যদোষে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বোলিংটাকে সাদামাটা মনে হয়েছে শুভাগতের কাছেও, ‘ওরা বড় দল। ভালো বল তো করবেই বোলাররা। তবে তেমন কিছু মনে হয়নি আমার কাছে।’
অলকের সঙ্গী মাইশুকুর কালই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের কোনো দলের হয়ে খেললেন। অনূর্ধ্ব-১৯, একাডেমি বা ‘এ’ দলের হয়েও কোনো ম্যাচ না খেলা এই ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘শুরুতে একটু নার্ভাস থাকলেও খেলতে খেলতে তা কেটে গেছে। আমি বোলার দেখিনি, বল দেখেছি। বল বুঝে আমি আমার মতো ব্যাটিং করেছি।’
প্রতিপক্ষকে স্লেজিং করতেই বেশি অভ্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারেরাও মুগ্ধ মাইশুকুরের ব্যাটিংয়ে। ফিফটির পর রিকি পন্টিং, ব্রেট লি, ব্র্যাড হাডিন সবারই অভিনন্দন পেয়েছেন। হাডিন তো নাকি সারাক্ষণই উইকেটের পেছন থেকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন তাঁকে!

আবার সেই টিকিট!

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু টিকিট কেনা নিয়ে দর্শকদের দুর্দশা কমেনি। কাল থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের টিকিট। সেই টিকিট কিনতে গিয়েও মানুষকে পড়তে হচ্ছে হয়রানিতে।
টিকিট কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসা অনেকেই কাল প্রথম আলো অফিসে ফোন করে জানিয়েছেন হতাশা আর ক্ষোভের কথা। সকালের দিকে গ্রামীণফোন সেন্টারে গেলে বলা হয়, টিকিট মিলবে দুপুরের পর। দুপুরের পর গিয়ে শুনতে হয়েছে, ‘টিকিট তো শেষ!’ কাল প্রথম দিনে শুধু ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় প্রথম ওয়ানডের টিকিটই ছেড়েছে গ্রামীণফোন সেন্টার।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে চেয়ার বসানোর পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজারে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ উপলক্ষে সাধারণ দর্শকদের কাছে বিক্রির জন্য ছাড়া হচ্ছে ম্যাচপ্রতি সাড়ে ১৯ হাজারের মতো টিকিট। ৫০ টাকা দামের গ্যালারির টিকিট ৫৮৮৭টি, ১০০ টাকা দামের প্রায় ৬ হাজার, ক্লাব হাউস ৫ হাজার, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ১৪০০ এবং ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ১২০০ টিকিট। এসব টিকিটের সবই আবার ম্যাচের আগে বিক্রি হবে না। বিসিবির শর্ত মেনে গ্রামীণফোনকে ম্যাচপ্রতি মোট টিকিটের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিক্রি করতে হবে খেলার দিন স্টেডিয়ামের পাশের জাতীয় সাঁতার কমপ্লেক্সের কাউন্টার থেকে। তার মানে, ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের ১৪টি গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে অগ্রিম হিসেবে ম্যাচপ্রতি মোট টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজারেরও কম!
এর বাইরে সাড়ে ৬ হাজারের মতো সৌজন্য টিকিট বিলি করছে বিসিবি।

সেমিফাইনালে এক পা বার্সার

ন্যু ক্যাম্পে গত পরশু আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরাই সাজিয়ে বসেছিল বার্সেলোনা। বার্সার সেই আক্রমণের তোড়ে উড়ে গেল ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ক। এই দলটির চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বার্সার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে।
এমনিতে বার্সেলোনার সব বড় জয়ই লিওনেল মেসিকেন্দ্রিক। তবে এ দিন অন্য ছবি। মেসি খেলেছেন, অথচ বার্সার ৫ গোলের একটিও তাঁর নয়! এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এই নিয়ে ৯ ম্যাচ খেলে তিনটিতে গোল পেলেন না মারিও গোমেজের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোল (৮) করা মেসি। মেসিই শুধু নয়, গোল পাননি বার্সেলোনা স্ট্রাইকাদের কেউই। বার্সার গোল ৫টি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দানি আলভেজ, জেরার্ড পিকে, সেইডু কেইটা ও জাভি হার্নান্দেজের।
গোল পাননি, তবে পুরো ম্যাচেই শাখতারের রক্ষণভাগে জন্য হুমকি ছিলেন মেসি। দারুণ কিছু ঝলক ছিল তাঁর পায়ে। কেইটার করা দলের চতুর্থ গোলটি সাজিয়ে দিয়েছিলেন মেসিই। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বার্সা ৬ শিরোপা জেতার মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পে বার্সাকে হারিয়ে গিয়েছিল শাখতার। সেই প্রতিশোধ নিতেই মনে হয় শুরু থেকে শাখতারের ওপর এ দিন ঝাঁপিয়ে পড়লেন মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভিরা।
ইনিয়েস্তা বার্সাকে এগিয়ে দেন ২ মিনিটে। ৩৪ মিনিটে ২-০। আলভেজের করা এই গোলটির উৎসও ইনিয়েস্তা। দ্বিতীয়ার্ধে ৭ মিনিটের মধ্যে (৫৩-৬০) পিকে ও কেইটা ৪-০ করে ফেলেন। ৫৯ মিনিটে ৪-১ করেছিলেন শাখতারের রাকিস্কি। ৮৬ মিনিটে জাভির কল্যাণে ৫-১।
সেমিফাইনালে এক পা দিয়েই ফেলেছে বার্সা। প্রতিপক্ষ শাখতার দোনেৎস্কের কোচ মিরসিয়া লুসেশুও সেটিই মনে করছেন। তবে বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলার কাছে ফুটবলে শেষ কথা বলে কিছু নেই, ‘মিরসিয়া লুসেশু যদি বলে সব কিছুই চুকেবুকে গেছে, সেটা কেউ বিশ্বাস করবেন না। আমি বলব, এখনো কিছু নিশ্চিত নয়!

ম্যানইউর স্টামফোর্ড জয়

কটা অতৃপ্তি প্রায় এক দশক ধরে বয়ে বেড়াচ্ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হয়েছে, ইউরোপ-সেরার মুকুট উঠেছে মাথায়, অজেয় থাকেনি চেলসিও—গত এক দশকে বলতে গেলে সবই জেতা হয়েছে ম্যানইউর, জয় করা হয়নি শুধু চেলসির মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজ। পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে এই অতৃপ্তিও ঘুচেছে। ওয়েইন রুনির একমাত্র গোলে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল পরশু জয় করেছে ‘নীল দুর্গ’।
নিজেদের মাঠে ম্যানইউর বিপক্ষে একটি প্রতিশোধ-স্পৃহা নিয়েই নেমেছিল চেলসি। ২০০৮ সালে ফাইনালে ম্যানইউর কাছে হেরেই চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বিসর্জন গিয়েছিল ‘ব্লু’দের। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি, বরং চ্যাম্পিয়নস লিগে আরেকটা দুঃখ-গাথাই হয়তো তৈরি হতে চলেছে চেলসির।
চেলসির যেমন প্রতিশোধের ব্যাপার ছিল, রুনির ছিল কিছু জবাব দেওয়ার। এ মৌসুমটা এমনিতেই মন্দা যাচ্ছে রুনির। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ ম্যাচে ওয়েস্টহামের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে একটু যেন বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। টিভি ক্যামেরার সামনে বলে ফেলেছিলেন কিছু বেফাঁস কথা। সমালোচকেরা এ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রুনির ওপর। বক্সের মধ্যে রায়ান গিগসের আড়াআড়ি পাস থেকে করলেন জয়সূচক গোল। এবং সমালোচকদের মুখও বন্ধ করলেন।
মৌসুমে এটি রুনির ৩১ ম্যাচে ১৩তম গোল। তবে সেই গোলটি এমন সময়ে এল, প্রশংসা তাঁর প্রাপ্যই। ফার্গুসন সেই প্রাপ্য মিটিয়ে দিয়েছেন ম্যাচ শেষে, ‘সে বড় মাপের খেলোয়াড়। এদিন প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে। প্রতি-আক্রমণে খুব কার্যকর ছিল রুনি। দারুণ ফর্মে আছে সে এবং আমাদের সেমিতে যাওয়ার বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।’
রুনির ওই গোল বাদ দিলে, মাঠে শ্রেয়তর দল ছিল চেলসিই। বল পজেশন, গোলে শট নেওয়া—সবকিছুতেই এগিয়ে চেলসি। ৫৪ শতাংশ বল দখলে রাখা চেলসি গোলে শট নিয়েছে ১৩টি, ৭টি শটই ছিল গোলে। ম্যানইউ গোলে শট নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি।
সব মিলিয়ে চেলসির হেরে যাওয়াকে দুর্ভাগ্যই বলা যায়। দুর্ভাগ্য চেলসির স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসেরও। দুর্দান্ত খেলেও এই রাতে তিনি পরাজিত দলে। দু-দুবার তোরেসের দুটি আক্রমণ থেকে চেলসি গোল পায়নি, স্রেফ দুর্ভাগ্যই ছিল। দুবারই ম্যানইউ গোলরক্ষক রাফায়েল ফন ডার সার পরাস্ত হয়েছেন। প্যাট্রিস এভরা শেষ মুহূর্তে গোল বাঁচিয়েছেন, আরেকবার বল লেগেছে বারে।
ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন বরাবরই বলে এসেছেন, রেফারি-ভাগ্য তাঁর দল কোনো দিনই পায়নি। তবে পরশু এই কথা বলতে হলো চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। অতিরিক্ত সময়ে ১-১ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তোরেস। কিন্তু বক্সের মধ্যে তাঁকে ফেলে দেন এভরা। চেলসি পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি পেনাল্টি না দিয়ে ডাইভ দেওয়ার অপরাধে উল্টো তোরেসকে দেন হলুদ কার্ড!
আনচেলত্তি বলেছেন, ‘সবাই দেখেছে এটি পেনাল্টি ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ মিনিটে পেনাল্টি দেওয়াটা এত সহজ নয়। এর জন্য আপনার ব্যক্তিত্ব, সাহস এবং আরও অনেক কিছুই থাকতে হবে।

নতুন যুগে ‘পুরোনো’ স্যামুয়েলস

রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটই সর্বশেষ খেলেছেন প্রায় তিন বছর আগে। সেই মারলন স্যামুয়েলস আবার ডাক পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে আছেন এই ব্যাটসম্যান।
২০০০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে অভিষেক হওয়া স্যামুয়েলস দলের অন্যতম ভরসাই হয়ে উঠেছিলেন। তবে বাজিকরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন ২০০৮ সালে। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম জাতীয় দলে ফিরলেন। অবশ্য এই জ্যামাইকান কদিন আগে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের দলেও নাকি তাঁকে ডেকেছিলেন নির্বাচকেরা। বিশ্বকাপ চলাকালেই তিনি বলেছিলেন, চোট পাওয়া ডোয়াইন ব্রাভোর পরিবর্তিত হিসেবে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তিনি ফিরেয়ে দেন।
ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভো আর কাইরন পোলার্ডরা খেলছেন না এ ম্যাচে। দলে নেই শিবনারায়ণ চন্দরপল, রামনরেশ সারওয়ান ও সুলিমান বেনরাও। তবে দলের নেতৃত্ব থাকছে ড্যারেন স্যামির হাতেই। দলে আছেন বিশ্বকাপে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া দেবেন্দ্র বিশু ও আন্দ্রে রাসেলও। বিশ্বকাপে ভালো খেলেছেন দুজনেই। দলে নতুন ডাক পেয়েছেন চারজন—জ্যামাইকান ও গায়ানার দুই অলরাউন্ডার ডানজা হায়াত ও বার্নওয়েল, বার্বাডোজের অফ স্পিনার অ্যাশলি নার্স এবং জ্যামাইকার বাঁহাতি সিমার ক্রিসমার সান্টোকি। এতগুলো নতুন মুখ দেখে অবাক হচ্ছেন? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে যে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন যুগ! কোচ ওটিস গিবসন বলেছেন সেরকমই।
২১ এপ্রিল সেন্ট লুসিয়ায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। এই সফরে ৫টি ওয়ানডে এবং দুটো টেস্টও খেলবে পাকিস্তান। তবে সিরিজ শুরুর আগেই পাকিস্তান দলে পরিবর্তন। আনফিট আইজাজ চিমার পরিবর্তিত হিসেবে নেওয়া হয়েছে রাওয়ালপিন্ডির বাঁহাতি ফাস্ট বোলার সাদাফ হোসেনকে।

আব্বা, তুমি শুনতে পাচ্ছ



আব্বা,
আজ ৪০ বছর আগের সেই ১৯৭১-এর দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। আমাদের স্কুল বন্ধ। পড়াশোনার বালাই নেই। আম্মা (বেগম মুশতারী শফী) ও তাঁর বান্ধবী সংঘের সবাই খুব ব্যস্ত মিটিং-মিছিল নিয়ে। গণসংগীতের রিহার্সাল হচ্ছে কখনো আমাদের বাসায়, কখনো বা ‘জেম সেন’ হলে। আমি ওই গণসংগীতে অংশগ্রহণ করতাম। খুব ভালো লাগত। তবে বড়দের মুখে চিন্তার ছাপ—তাঁদের মনোযোগ দিয়ে রেডিও ছেড়ে খবর শোনা ও আলাপ-আলোচনা করা, যা কখনোই আমার দৃষ্টি এড়ায়নি।
২৪ মার্চ বিকেলেই কাকু (স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রতিষ্ঠাতা বেলাল মোহাম্মদ), খোকন ভাই (আবদুল্লাহ-আল-ফারুক, স্বাধীন বাংলা বেতারের অন্যতম ১০ জনের একজন সক্রিয় কর্মী), মনি ভাই (কাজি হাবিবউদ্দীন আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতারের অন্যতম ১০ জনের একজন সক্রিয় কর্মী) ও সন্দ্বীপ কাকা (আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, তিনিও স্বাধীন বাংলা বেতারের ১০ জনের একজন সক্রিয় কর্মী), তাঁরা সবাই রয়ে গেলেন আমাদের বাসায়। রাতে খাওয়ার পর আমরা ছোটরা নিয়মমাফিক শুয়ে পড়ি। রাত খানিকটা গভীর হতেই ঠা ঠা ঠা শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখি আম্মা, মামা (শহীদ খন্দকার এহসানুল হক আনসারী, আমার একমাত্র মামা) ও তোমরা সবাই ড্রয়িংরুমে আধো আলোতে চাপাস্বরে বলছ, ‘ওটা গুলির শব্দ!’ গুলি!! এই প্রথম জীবনে গুলির শব্দ শুনলাম। গা কেঁপে উঠল। কেন গুলি?
কীসের জন্য এই গোলাগুলি! কে কাকে মারছে?
আব্বা (শহীদ ডাক্তার মোহাম্মদ শফী) তোমার একটা কথা আমার কানে স্পষ্ট বেজে উঠল, ‘অনেক রক্ত দিতে হবে, তবেই বাঙালির স্বাধীনতা আসবে।’
হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছিলে। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে তোমাকে ও মামাকে (যিনি সেই সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন) এভাবে হারাতে হবে তখন তা বুঝিনি!
৭ এপ্রিল ১৯৭১। দুপুর ছুঁই ছুঁই। তুমি ও আম্মা কী যেন কথা বলছিলে, আমি কাছে আসতেই আমার কাছে এক গ্লাস পানি চাইলে। আমি দৌড়ে তোমাকে পানি এনে দিলাম। ওই তোমার শেষ পানি খাওয়া। তার পরপরই আমাদের বাড়ির চারদিক ঘেরাও করে ফেলল পাকিস্তানি মিলিটারিরা। দরজায় করাঘাত করতেই তুমি ও আম্মা ড্রয়িংরুমে চলে গেলে দরজা খোলার জন্য। এয়ার খালু আমাদের ছোটদের ড্রেসিংরুমে লুকিয়ে রাখলেন। বেশ খানিক পর জিপের আওয়াজ শুনলাম। মনে হলো আর্মিরা চলে গেছে। আম্মা সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের ঘরে এসে কেঁদে বসে পড়লেন। বললেন, ‘ওরা আমার সব নিয়ে গেছে।’ প্রথমটায় বুঝে উঠতে পারিনি। পরে বুঝলাম, তোমাকে ও মামাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গেছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সে সময় ব্রিগেডিয়ার বেগ (যিনি পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের চিফ অব আর্মি স্টাফ হয়েছিলেন) ছিলেন তোমারই রোগী। মনে পড়ে আমরা ভাইবোন একসঙ্গে পড়তে বসে খাতা-কলম নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া করতাম, তুমি তখন আমাকে মাঝে মাঝে তোমার চেম্বারের এক কোণার টেবিলে পড়তে বসাতে। সেই সময় কখনো কখনো ব্রিগেডিয়ার বেগ চট্টগ্রাম ক্লাব থেকে টেনিস খেলে সোজা তোমার চেম্বারে চলে আসতেন দাঁতের চিকিৎসার জন্য। আমাকে দেখে বলতেন, ‘ইয়োর ডটার গুড গুড...’। তাই হয়তো একটা ক্ষীণ আশা ছিল, এই বুঝি ব্রিগেডিয়ার বেগ তোমাদের ছেড়ে দেবে। তোমরা ফিরে আসবে। কিন্তু না, তা আর হয়নি।
আম্মা সেই সময় অসহযোগ আন্দোলনে জড়িত থাকায় তাঁর নামে ওয়ারেন্ট বের হয়েছিল। তাই আম্মা আমাকে ছোট খালার কাছে রেখে বাকি ছয় ভাইবোনকে নিয়ে সীমান্তের ওপারে চলে গেলেন বহু কষ্টে। পুরো এই নয়টি মাস আমি স্বপ্ন দেখতাম, এই বুঝি তুমি ও মামা ফিরে আসছ।
তারপর আমি তোমাদের হাত ধরে চলে যাব আম্মার কাছে সেই কলকাতায়। কিন্তু তুমি ফিরে আসনি। মাঝে মাঝে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে আম্মার কণ্ঠস্বর শুনতে পেতাম আর চোখের পানি মুছতাম।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ের পর পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হলো। কিন্তু এই দেশকে কলুষিত করে রেখেছে সেই ১৯৭১-এর বেইমান ঘাতক-দালাল রাজাকার, আল বদর ও শান্তিবাহিনীর লোকেরা। যারা সময়-অসময় ক্ষণে ক্ষণে ভোল পাল্টে এখনো শকুনের মতো ছোবল দেওয়ার চেষ্টায় থাকে।
আব্বা, আমরা সাত ভাইবোন তোমার উপযুক্ত সন্তান হতে পারিনি। এমন বড় কিছু হইনি। এখনো যেন জীবনযুদ্ধের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছি মাত্র। কিন্তু হ্যাঁ, আমরা কেউ অমানুষ হইনি। আম্মা আমাদের শত কষ্টের মধ্যেও নিজে চাকরি করেছেন। প্রকৃত দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হূদয়ে লালন করতে শিখিয়েছেন। এই ৪০ বছরেও আমরা (শহীদ পরিবারের সন্তানেরা) তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি। আমরা অসহায়, আমরা অপারগ। এই মুক্ত স্বাধীন দেশে থেকেও সব সময় প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের চলতে হয়েছে।
আজ এত বছর পর আমাদের অনুকূলে বাতাস বইছে। বলছে, ‘এই সুযোগ একটা কিছু করো!’ তোমরা আমাদের পথ চেয়ে আছো। হ্যাঁ আব্বা, এখন এই আশায় বুক বেঁধেছি। এবার নিশ্চয়ই একাত্তরের ঘাতক রাজাকার, আলবদরসহ সব যুদ্ধাপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি হবেই হবে। হ্যাঁ, আজ আমি সেই স্বপ্নই দেখছি। যে সত্তরোর্ধ্ব মা তোমাবিহীন দীর্ঘ ৪০ বছর এই চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, কোনো কিছুর কাছে মাথা নত না করে, জীবনকে বাজি রেখে আমাদের মানুষ করেছেন, অন্তত সেই মা তাঁর জীবদ্দশায় এই একাত্তরের ঘাতকদের শাস্তি দেখে যেতে পারেন—এটাই আমার কামনা। নইলে আমাদের চোখের জল ও দীর্ঘশ্বাস কাউকে ক্ষমা করবে না।
ফারজানা নজরুল

বিনোদনের সাফারি পার্ক ও ভীত রাথুরা শালবন by পাভেল পার্থ

ঢাকা বন বিভাগের অধীন গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের পাঁচটি বিটের ভেতর এখনো ক্ষয়িষ্ণু এক শালবন টিকে আছে বড় রাথুরা মৌজায়। রাথুরা বিটের পাঁচ হাজার ৫২৪ দশমিক ১৬ একর বনভূমির ভেতর প্রায় চার হাজার একর এলাকা নিয়ে এক প্রশ্নহীন সাফারি পার্কের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। ২০১০ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ দখল ও নিশ্চিহ্নকরণের কবল থেকে ভাওয়াল শালবনকে বাঁচাতে সরকারের এই ‘বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক’ উদ্যোগের কথা জানান (ডেইলি স্টার, ৪ জুন, ২০১০)। ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ১৯৮৪ সালের ২০ নম্বর সংশোধিত আইন অনুযায়ী বড় রাথুরা মৌজার আদিবাসী ও বাঙালিদের জন্মভূমি অধিগ্রহণ করে সমানে একটির পর একটি অধিগ্রহণ নোটিশ দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। উচ্ছেদ-আতঙ্ক আর বনভূমিহারা হওয়ার আশঙ্কায় রাথুরা শালবনের আশপাশের বননির্ভর দরিদ্র জনগণ সরকারের এই সাফারি পার্ক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের ৩ মার্চ গাজীপুরের পিরুজালী-বাবুরচালাতে হাজারো মানুষ জান-জবান দিয়ে চিৎকার করে বলেছে, রক্ত দেব, জন্মমাটি দেব না। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক স্থানীয় জনগণের আর্তচিৎকারকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং বলেছেন, সাফারি পার্ক সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ; এটি একটি চমৎকার বিনোদন এলাকা হবে। কিন্তু কিছু লোক আড়িয়ল বিলের মতো একে ‘ইস্যু’ বানাতে চাইছে (দ্য ডেইলি সান, ৪ মার্চ, ২০১১)।
অধিগ্রহণ নোটিশে সাফারি পার্ককে ‘জনস্বার্থ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধরে নিচ্ছি, সরকারের এই প্রতিবেশ ও জনবিচ্ছিন্ন উদ্যোগটি ‘জনস্বার্থে’ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, নিরীহ জনগণের একমাত্র সম্বল একচিলতে জমি অধিগ্রহণের আগে সরকার কেন স্থানীয় জনগণের মতামত, সম্মতি ও পরামর্শ নিল না? প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার এমন কোনো নজির কি দুনিয়ার কোথাও আছে, যেখানে স্থানীয় জনগণকে বাদ রেখে তা সফল হয়েছে? যার জমি অধিগ্রহণ হয়, বংশ থেকে বংশে বয়ে নিয়ে চলা ভূমি থেকে যাকে উচ্ছেদ হতে হয়, একমাত্র সে ছাড়া মাটি হারানোর যাতনা আর কারও পক্ষে তার মতো করে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকার আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। জনশক্তির প্রতি রাষ্ট্রসংহতির এ অবিস্মরণীয় গাথা বিশ্বদরবারে তুলে না ধরে সরকার আবার রাথুরা শালবনে সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রশ্নে নির্দয় ও একরোখা হয়ে উঠেছে। এটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের প্রতিবেশীয় ন্যায়পরায়ণ ও জনগণতান্ত্রিক চেহারা নয়। রাথুরা শালবনে সাফারি পার্ক নির্মাণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনায় বসে ভাওয়াল বন প্রতিবেশ, প্রতিবেশ-রাজনীতি, উন্নয়ন-সংঘাত, জন-অধিগ্রহণ নীতি ও সাফারি পার্কের জনমূল্যায়ন বিষয়ে দেশবাসীর কাছে রাষ্ট্রের অবস্থান দ্রুত স্পষ্ট করা জরুরি। তা না হলে প্রস্তাবিত এ সাফারি পার্ক মৌলভীবাজারের মুরইছড়া ইকোপার্ক, বান্দরবানের চিম্বুক ইকোপার্ক, টাঙ্গাইলের জাতীয় উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প ও আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর প্রকল্পের মতোই জনশক্তির কাছে ব্যর্থ ও বাতিল হতে বাধ্য হবে।
ভাওয়াল গড়ের পুরো শালবনভূমিই জবরদখল ও বেদখল হয়েছে। অরণ্যভূমি থেকে স্থানীয় কোচ, বর্মণ, মান্দি, রাজবংশী ও ক্ষত্রিয় আদিবাসীদের অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। শালবনের প্রতিবেশব্যবস্থার কোনো গুরুত্ব না দিয়ে অরণ্য ও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা হয়েছে সেনানিবাস, টাঁকশাল, সমরাস্ত্র কারখানা, আনসার একাডেমি ও নামে-বেনামে একটির পর একটি কলকারখানা। ভাওয়াল শালবনের অন্যতম নদী শালদহকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। বননির্ভর জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতি ছাড়াই ১৯৮২ সালে ঘোষিত হয়েছে ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’। সরকারের দায়িত্ব হলো দখলকৃত ও ভিন্নভাবে ব্যবহূত অরণ্যভূমিকে আবারও অরণ্য-প্রতিবেশে ফিরিয়ে আনা। তা না করে সরকার দরিদ্র জনগণের কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে শহরের ধনীদের দম ফেলার জন্য বিনোদন পার্ক করতে মরিয়া হয়েছে। বননির্ভরতার পরম্পরাকে আড়াল করে সাফারি পার্ক নির্মিত হলে স্থানীয় জনগণের সব ধরনের বননির্ভরশীলতা ও প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। উচ্ছেদ হবে গড় অঞ্চলের ঐতিহাসিক কৃষিধারা। আদিবাসী নারীরা বন থেকে ভেষজ লতাগুল্ম সংগ্রহ করার অধিকার হারাবেন। জ্বালানি সংগ্রহের স্থানীয় ধারা নিশ্চিহ্ন হয়ে এলাকায় তীব্র জ্বালানিসংকট তৈরি হবে। রাথুরা শালবন সাফারি পার্কের ফলে তার নিজস্ব বাস্তুসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য আবারও হারাতে বাধ্য হবে। স্থানীয় প্রতিবেশব্যবস্থার শরীর ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে জোর করে বাইরে থেকে বন্য প্রাণী এখানে এনে ছাড়লেই ব্যবস্থাপনা বা সংরক্ষণ হবে না। আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত এই শালবনে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফায়ারিং-চর্চা হয়। বোমা ফাটানোর প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের মাটির ঘরবাড়ির দেয়াল ফেটে যায়, শঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। সাফারি পার্ক হলেও কি এসব চলবে?
সরকারের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ রাথুরা শালবনের স্থানীয় অধিবাসীসহ দেশবাসীর কাছে সাফারি পার্কের ধারণাটি ব্যাখ্যা করেনি। বাংলাদেশ বন্য প্রাণী আইন, ২০১০-এর প্রথম অধ্যায়ের প্রারম্ভিক অংশের সংজ্ঞায়নের ৮২ নম্বর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সাফারি পার্ক অর্থ একটি এলাকা, যা এই আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত, যেখানে দেশি-বিদেশি বন্য প্রাণীসমূহ ন্যূনতম প্রাকৃতিক পরিবেশে রক্ষিত অবস্থায় থেকে বংশ বৃদ্ধির সুযোগ পাবে, তবে কোনো অবস্থাতেই এটি চিড়িয়াখানার রূপ নিতে পারবে না। পাশাপাশি আইনটির চতুর্থ অধ্যায়ের ১৭.২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আইনের উপধারা-১-এর অধীনে ঘোষিত অভয়ারণ্যকে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য, পাখি অভয়ারণ্য, হাতি অভয়ারণ্য বা জলাভূমিনির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া পরিচিত হবে। বননির্ভর জনগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার অন্য কোনো আইনে স্বীকৃত হলে তা যথারীতি বহাল থাকবে। অরণ্যনির্ভর জনগণের বনবিজ্ঞান ও বনদর্শনকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নয়নের নামে তাদের বারবার উচ্ছেদ করলে হাজারো সাফারি পার্ক করেও কোনোভাবেই অরণ্যজীবনের বিকাশ ও বিস্তার সম্ভব নয়। সবিনয়ে অনুরোধ, রাথুরা শালবনের প্রস্তাবিত সাফারি পার্ক বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা উন্মুক্ত করুক। স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও অংশগ্রহণের ভেতর দিয়েই নিশ্চিত হোক ভাওয়াল গড়ের শাল অরণ্যের প্রতিবেশীয় ন্যায়বিচার।
পাভেল পার্থ: গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
animistbangla@gmail.com

জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের ‘সুস্পষ্ট পথ’ নেই

বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র বলে পরিচিত পকিস্তান অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশটির মোকাবিলার সুস্পষ্ট কোনো পথ নেই। হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য জীবন দিয়েছেন। গত তিন মাসে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও অনেক বাড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অগ্রগতি খুব কম হয়েছে।
প্রতিবেদনে গত জানুয়ারিতে মোমান্দ ও বাজাউর এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান খুব একটা কাজে আসেনি বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, জঙ্গিদের প্রতিরোধ ও বাস্তুচ্যুত স্থানীয় জনগণের কারণে ওই অভিযান গতিহীন হয়ে পড়ে। গত দুই বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলে এটি ছিল তৃতীয় অভিযান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জঙ্গি দমনে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে নির্দেশনার অভাবের কারণে অভিযান সফলভাবে শেষ হয়নি। এটা মার্কিন অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। এই রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় মাওবাদীরা সক্রিয় রয়েছে। জেলা তিনটিতে মোট ১১টি আসন রয়েছে।
কলকাতা শহর মাওবাদী কমিটির সম্পাদক অরণ্য এক বিবৃতিতে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে বলেন, কংগ্রেস ও সিপিএমের নির্বাচনী প্রচারে তাঁরা বাধা দেবেন। বিবৃতিতে জনগণের প্রতি নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানানো হয়। একই বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইউপিএ সরকারের শরিক হয়ে এবং সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদ না করে মাওবাদীদের আস্থা হারিয়েছেন মমতা।

দ্বিতীয় চুল্লির আধারের ফাটল বন্ধ করেছে জাপান

ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় চুল্লির আধারের ফাটল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে জাপান। এর ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থমিশ্রিত পানি সাগরে মেশা বন্ধ হয়েছে। গতকাল বুধবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) এ তথ্য জানায়।
টেপকোর একজন মুখপাত্র জানান, ‘তেজস্ক্রিয় পদার্থমিশ্রিত পানি সাগরে মেশা বন্ধ করতে আমরা চুল্লির আধারের ফাটলে মঙ্গলবার তরল কাচের মিশ্রণ ও শক্ত একটি বস্তু লাগিয়েছি। এর পর থেকে পানি বেরিয়ে আসা কমতে থাকে। বুধবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে।’ তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ছয়টি চুল্লির মধ্যে একটির ফাটল বন্ধ করা হলো।
পরমাণু বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, প্রায় এক মাস আগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ওই চুল্লি থেকে পানি নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অন্য চুল্লিগুলোতে ফাটল হওয়ার আশঙ্কা নাকচ করে দেননি। এদিকে জাপানের চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইউকিও ইডানো বলেন, ‘একটি চুল্লির ফাটল বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এতেই আমাদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার অবকাশ নেই। আমরা সাগরে তেজস্ক্রিয় পানি মেশা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই। তাই অন্য কোনো চুল্লিতে ফাটল আছে কি না বা তেমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই উদ্বেগ কমাতে প্রতিবেশীদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে আমরা বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’ উল্লেখ্য, ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে মেশা শুরু হলে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
ফাটল বন্ধ করা সম্ভব হলেও কম তেজস্ক্রিয়তা মিশ্রিত প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন পানি সাগরে ফেলতে হবে। তেজস্ক্রিয় মিশ্রিত বেশি দূষিত পানি আটকে রাখতেই এটা করতে হবে। কমকর্তারা জানান, যে পানি সাগরে ফেলা হবে তা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হবে না।

এবারের অভিযান আবর্জনা পরিষ্কারের

এ পর্যন্ত ২০ বার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন নেপালের পর্বতারোহী আপা শেরপা। এ জন্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁর নামও উঠেছে। গতকাল বুধবার তিনি আবারও এভারেস্ট অভিযান শুরু করেছেন। তবে এবারের অভিযানে চূড়া জয়ের পাশাপাশি এভারেস্ট থেকে আবর্জনা সরাবেন তিনি।
৫১ বছর বয়সী আপা শেরপা ‘ইকো এভারেস্ট এক্সপেডিশন-২০১১’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো এভারেস্ট থেকে চার টন আবর্জনা সংগ্রহ করা। একটি বেসরকারি ট্রেকিং কোম্পানির আর্থিক সহায়তায় ‘ক্যাশ ফর ট্র্যাশ’ প্রকল্পের আওতায় আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে।
২৩ জন বিদেশিসহ ৫৮ জনের একটি দল এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। এভারেস্ট থেকে আবর্জনা সরিয়ে আনা হবে বেসক্যাম্পে। প্রতি কেজি আবর্জনা সরিয়ে আনার জন্য তাঁরা ১০০ রুপি (১ দশমিক ৪০ ডলার) করে পাবেন। এভারেস্ট অভিযানের সময় পর্বতারোহীরা সাধারণত খালি অক্সিজেনের বোতল, রশি ও তাঁবু ফেলে যান। এসব আবর্জনাই মূলত সংগ্রহ করা হবে।
অভিযানে যাওয়ার আগে আপা শেরপা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমার এই আরোহণ যদি পর্বত রক্ষায় সহায়তা করে, তাহলে আমি সব সময় আরোহণে প্রস্তুত।’ আপা শেরপা সুপার শেরপা নামেও পরিচিত।
১৯৯০ সালে প্রথমবার এভারেস্টের চূড়া জয় করেন আপা শেরপা। কৈশোরের শুরুতে পর্বতারোহীদের মুটে হিসেবে তিনি এভারেস্টে ওঠেন।

বাগবোকে বাংকার থেকে বের করতে চূড়ান্ত অভিযান শুরু

লরা বাগবোকে প্রেসিডেন্ট বাসভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষ বা বাংকার থেকে বের করে আনতে আইভরি কোস্টের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নেতা আলাসেন ওয়াতারার অনুগত সৈন্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছেন। গতকাল বুধবার এই অভিযান শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগবোর বাসভবন ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছ থেকে গুলির আওয়াজ শোনা যায়।
নভেম্বরের নির্বাচনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিজয়ী আলাসেন ওয়াতারার বাহিনীর মুখপাত্র সিদিকি কোনাতে বলেন, ‘বাগবোকে তাঁর গর্ত থেকে বের করে প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁকে বের করে আনতে ও এই কমেডির অবসান ঘটাতে আমরা তাঁর বাসভবনের দিকে যাচ্ছি...এর অবসান ঘটাতে হবে, কারণ দেশ ভেঙে পড়ছে।’
আবিদজানের শহরতলির বাসভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন লরা বাগবো। তিনি আত্মসমর্পণ কিংবা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
শহরের একজন বাসিন্দা বলেন, তিনি বাগবোর বাসভবনের চারপাশ থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও স্বয়ংক্রিয় বন্দুকের গুলির শব্দ শুনেছেন।
ফ্রান্স সরকারের একটি সূত্র জানায়, বাগবোকে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি করানোর জন্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াতারার সৈন্যরা এই চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে। সূত্র জানায়, ‘ওয়াতারার বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে কাগজপত্রে সই করতে এখনো অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বাগবো।’ তিনি বলেন, সেই কারণে সমস্যার সমাধান ও বাগবোকে জীবিত ধরতে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়াতারা।
এই অভিযানকে ‘হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বাগবোর পক্ষ। তাদের অভিযোগ, ফরাসি সেনারা ওয়াতারার বাহিনীকে আকাশ ও স্থলপথে সমর্থন দিচ্ছে।
স্ত্রী সিমোনসহ অল্প কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে বাড়ির নিচের বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন লরা বাগবো। ওয়াতারাকে এখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন তিনি।
ফ্রান্স ও জাতিসংঘ বাগবোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। পদত্যাগ-সংক্রান্ত কাগজপত্রে সই করা প্রসঙ্গে ফ্রান্সের এলসিআই নিউজ চ্যানেলকে বাগবো বলেন, ‘আমি ওয়াতারার বিজয়কে স্বীকৃতি দিই না...আপনারা কেন চান যে আমি এতে স্বাক্ষর করি?’ তিনি বলেন, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।
নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে সহিংসতায় আইভরি কোস্টে শত শত লোক নিহত হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ।

এবার কি ‘ভারতরত্ন’

বিশ্বকাপ জয়ের পর কথা বলতে ক্লান্তি নেই শচীন টেন্ডুলকারের। জয়ের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি টুইটারে দেশবাসীর কাছে একটা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন টেন্ডুলকার, ‘আশা করি, ভারতীয় দলের এই অর্জনে প্রত্যেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের স্বপ্নগুলো ও সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাসী হবে। এবং স্বপ্নগুলো অর্জন করতে কঠোর পরিশ্রমী হবে।’
বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে দলের কঠোর পরিশ্রম তো ছিলই, দেশবাসীর সমর্থনও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন টেন্ডুলকার। তাই দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন আধুনিক ডন, ‘সমর্থন, ভালোবাসা এবং প্রার্থনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ; বিশ্বকাপ জিততে যা আমাদের সাহায্য করেছে।’
টেন্ডুলকারকে ভারতরত্ন দেওয়া হোক—ভারতে এই দাবি উঠেছে অনেক আগেই। এ জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা। ‘আমরা সুপারিশ করেছি, খেলাধুলায় অবদান রাখার জন্য টেন্ডুলকারের ভারতরত্ন খেতাব প্রাপ্য’—বলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ কাভান। ২০০১ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসমারিক খেতাব ভারতরত্ন পাওয়া লতা মুঙ্গেশকরও দাবিটা সমর্থন করেছেন।
অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও দাবির পক্ষে, ‘টেন্ডুলকারের “ভারতরত্ন’’ খেতাবটা পাওনা। সে ২১ বছর ধরে দেশকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। খুব কম লোকের পক্ষেই এটা সম্ভব।’ ধোনি এও বলেছেন, বর্তমানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আর সবার চেয়ে টেন্ডুলকারেরই এটা বেশি পাওনা।
ছেলেবেলা থেকেই ধোনির আদর্শ টেন্ডুলকার। ধোনির এক বন্ধু জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে যখন ধোনির বয়স মাত্র ১১, তখন থেকেই কিশোর ধোনি টেন্ডুলকারের ভক্ত। ওই বন্ধু এও জানাচ্ছেন, ‘টেন্ডুলকার আউট হয়ে গেলে ধোনিও খেলা দেখা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়তেন।’

ইকুয়েডর থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার

ইকুয়েডর থেকে গত মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি কূটনৈতিক তার বার্তার তথ্যের ভিত্তিতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া এ নির্দেশ দেন। একই দিন কোরেয়া দাবি করেন, ইকুয়েডরের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীতে গোপনে লোক ঢুকিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্দো পাতিনো বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিদার হজেসকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া একটি কূটনৈতিক তার বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট কোরেয়া জেনেশুনে একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে পুলিশপ্রধান করেছেন।
কোরেয়া বলেন, ফাঁস হওয়া ওই মার্কিন কূটনৈতিক তার বার্তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাইস-এ এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এতে ইকুয়েডরের পুলিশ বাহিনীর এমন কিছু অভ্যন্তরীণ তথ্য তুলে ধরা হয়, যা ভেতরের কোনো ব্যক্তির সহযোগিতা ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। এটি এখন আর লুকোছাপা বিষয় নয় যে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীতে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্র চরবৃত্তি করছে।

দুজনের দুরকম ম্যাচ

শুভাগত হোম চৌধুরীর জন্য এই ম্যাচটা নিজেকে চেনানোর। অলক কাপালির জন্য ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনার। বিসিবি একাদশের হয়ে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটা দুই রকম হয়ে ধরা দিচ্ছে দুজনের কাছে।
অলক আশাবাদী, এই ম্যাচ তাঁকে দেবে আত্মবিশ্বাস, ‘অনেক দিন পর কোনো আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলব। এখানে ভালো করে ওয়ানডের দলে জায়গা করে নিতে চাই। চেষ্টা করব নিজের খেলাটা খেলতে। যেসব ভুলত্রুটি ধরা পড়বে, সিরিজে খেলার সুযোগ পেলে সেগুলো শুধরে নেব।’ শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়, আজকের ম্যাচে লেগ স্পিনার হিসেবেও অবদান রাখতে চান আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরা অলক, ‘আমি চেষ্টা করব, বোলিংটাও ভালো করতে। বোলিং-ব্যাটিং দুই ভাবেই অবদান রাখতে চাই।’
জাতীয় দলে খেলার আশা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই যে দলে ডাক পেয়ে যাবেন, সে আশা করেননি। দলে নবাগত শুভাতগত হোম তবু নিজেকে প্রমাণ করার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘সিরিজে খেলার সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। এই কয়েক বছর অন্যান্য জায়গায় যেভাবে খেলে এসেছি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’ শুভাগতের এই মিশনটা শুরু হয়ে যাচ্ছে আজ থেকেই।
প্রস্তুতি ম্যাচটা চ্যালেঞ্জ রকিবুল হাসানের জন্যও। ঘরোয়া ক্রিকেটে টুকটাক অধিনায়কত্ব করলেও কোনো বিদেশি দলের বিপক্ষে যে এই প্রথম নেতৃত্বের সুযোগ পেলেন তিনি!

বিদায় দেখছে চ্যাম্পিয়ন ইন্টার

ইন্টার মিলান চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান সেরা। নয়-নয়বার ইউরোপ-সেরার মুকুট পরা রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগেরই ইতিহাস-সেরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের পরশু রাতটি এই দুই সেরার কাটল দুই রকমের। রিয়াল মাদ্রিদ টটেনহাম হটস্পারকে উড়িয়ে দিল ৪-০ গোলে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টারকে তখন পুড়তে হলো শালকে জিরো ফোরের কাছে ৫-২ গোলে উড়ে যাওয়ার যন্ত্রণায়।
ইন্টারের এই পরাজয়টি আবার নিজেদেরই মাঠে। ফলে শেষ আটের প্রথম লেগে শেষে কার্যত শেষ হয়ে গেল তাদের শিরোপা ধরে রাখার আশা। সেমিফাইনালে যেতে হলে শালকের মাঠে গিয়ে কমপক্ষে ৪-০ গোলে জিততে হবে। ৩-০ গোলে ইন্টার জিতলেও অ্যাওয়ে গোলের কারণে সেমিফাইনালে চলে যাবে জার্মান ক্লাবটি।
অথচ ম্যাচের শুরুটা কী দুর্দান্তই না হয়েছিল ইন্টারের! প্রথম মিনিটেই বিস্ময়কর এক গোল করেছিলেন দেজান স্টানকোভিচ। শালকে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার গোল বাঁচাতে পেনাল্টি বক্সের শেষ প্রান্তে গিয়ে হেড করেছিলেন বলে। সেটি উড়ে সোজা চলে যায় নিজেদের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা স্টানকোভিচের কাছে। দারুণ এক ভলিতে ৫০ মিটার দূর থেকেই বল জালে পৌঁছে দেন সার্বিয়ান মিডফিল্ডার।
শুরুর এই নাটকীয়তা ছিল প্রথমার্ধজুড়েই। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ৪ গোল! ২-২ সমতা। শালকের স্টানকোভিচ গোলটি শোধ করে দেন ১৭ মিনিটে। ৩৪ মিনিটে ইন্টারকে এগিয়ে দেন ডিয়েগো মিলিতো। এবার সমতা ফেরান এডু। তখন থেকেই ম্যাচে শুধুই এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা শালকে। ৫৩ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক অধিনায়ক রাউল চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর ৭০তম গোল করে স্কোরলাইন করেন ৩-২। ৫৭ মিনিটে রানোচ্চিয়ার আত্মঘাতী গোল। ৭৫ মিনিটে এডুর দ্বিতীয় গোল ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় ইন্টারকে।
ইন্টার মিলান আর ফিরতেও পারেনি। এ ম্যাচে পারেননি, এর আগে ইতালিয়ান লিগের সর্বশেষ ম্যাচেও নগর প্রতিপক্ষ এসি মিলানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে। তবে কোচ লিওনার্দো স্বপ্ন দেখছেন, পরাজয়ের এই বৃত্ত থেকে তাঁর দল দ্রুতই বেরিয়ে আসবে।
শালকে কোচ রালফ রাংনিক জানেন ৫-২ গোলের জয়টি তাদের সেমিফাইনালের প্রান্তে নিয়ে গেছে। তবু ম্যাচ শেষে তাঁর কণ্ঠে ‘আফসোসের’ সুর, ‘ফলটা ১০-৫ বা ৮-৪ হতে পারত। আমাদের আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। আমরা সব সময়ই পোস্টে শট নিতে চাই।’
প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে শট নেওয়ার সংজ্ঞা অবশ্য কাল টটেনহামকে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে। মোট ২৫টি শট নিয়েছে তারা। এর মধ্যে ৪টি গোল পেয়েছে। জোড়া গোল করেছেন ইমানুয়েল আদেবায়োর (৪ ও ৫৭ মিনিট); অন্য দুটি অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া (৭২ মিনিট) ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর (৮৭)।
পরিষ্কার ব্যবধানে পরাজয়। টটেনহাম কোচ হ্যারি রেডনাপ অবশ্য পরাজয়ের কারণ দেখছেন ম্যাচের ১৫ মিনিটেই দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে পিটার ক্রাউচের মাঠ ছাড়তে হওয়াকে, ‘আমি হতাশ। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর জয়ের জন্য জাদুকরি কিছুই করতে হতো।’ রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো খোঁচা দিয়ে যেন জ্বালাটা আরেকটু বাড়িয়ে দিতে চাইলেন টটেনহাম কোচের, ‘রেডনাপের প্রতি সহানুভূতি আছে আমার। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ জন নিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আমারও আছে।

ধোনিদের ফ্ল্যাট...

ধোনি-টেন্ডুলকাররা ভাসছেন পুরস্কার-বন্যায়। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেওয়ার পরদিন থেকেই পুরস্কার পাওয়ার শুরু ভারতীয় ক্রিকেটারদের। ভারত সরকার দিয়েছে এক কোটি রুপি করে। কেউ অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দিয়েছে সম্মানসূচক ডক্টরেট। এবার শুরু হলো ফ্ল্যাট পুরস্কার দেওয়ার বন্যা।
ভারতীয় খেলোয়াড়দের একটি করে ফ্ল্যাট দিচ্ছে আম্রপলি রিয়াল এস্টেট কোম্পানি। আম্রপলির ধোনিদের ফ্ল্যাট দেওয়ার একটা কারণ অবশ্য আছে। ২০০৯ সালে এই কোম্পানি চার বছরের জন্য শুভেচ্ছাদূত করেছিল ধোনিকে। তাঁকে পুরস্কার দিতে গিয়ে ৯ কোটি রুপি খরচ করে অন্যদেরও দিচ্ছে বাড়ি।
তবে সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িটা পাচ্ছেন ধোনিই। ২ হাজার ৯০০ বর্গফুটের ভিলাটি নইডাতে আম্রপলির ড্রিম ভ্যালি প্রকল্পে। ধোনির বাড়িটার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি রুপি। অন্য সবার জন্য থাকছে ৫৫ লাখ রুপি মূল্যের ১ হাজার ৬৯০ বর্গফুটের বাড়ি। তবে এই বাড়িগুলো এখনই পাচ্ছেন না ধোনিরা। বাসযোগ্য হতে প্রায় ৩ মাস সময় লাগবে।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের একটি করে প্লট উপহার দেবে বলেছে কর্ণাটক সরকার। উত্তরাখণ্ড সরকারই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নয়, উত্তরাখণ্ড সরকার ঘোষণা দিয়েছে, শচীন টেন্ডুলকার ও ধোনিকে একটি করে প্লট বা বাড়ি উপহার দেওয়া হবে। দুজনই মহিষাসুর পর্বতে পরিবারবর্গ নিয়ে মাঝেমধ্যেই বেড়াতে যান। পরেরবার গিয়ে হয়তো উপহার পাওয়া বাড়িতেই উঠতে পারবেন তাঁরা।
ইউসুফ পাঠান আর মুনাফ প্যাটেলকে ‘একলব্য পুরস্কার’ দেবে গুজরাট সরকার। ক্রেস্টের সঙ্গে এক লাখ রুপি। হরিয়ানা প্রদেশ বীরেন্দর শেবাগ ও আশিস নেহরাকে দিচ্ছে হরিয়ানার বর্ষসেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্বের সম্মাননা। সুরেশ রায়না ও পীযূষ চাওলা পুরস্কার পাচ্ছেন উত্তর প্রদেশ সরকার থেকে। ভারতের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একজন সঙ্গীসহ দেশের যেকোনো জায়গায় বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে রেলওয়ে।

শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ স্টুয়ার্ট ল

বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের পরপরই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে গেছে। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাঙ্গাকারা ও জয়বর্ধনে। অরবিন্দ ডি সিলভার নেতৃত্বে পুরো নির্বাচক কমিটিও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার দায়ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কোচ ট্রেভর বেইলিসও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এমন একটি অস্থির পরিস্থিতিতে দলের হেড কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বেইলিসের ডেপুটি সাবেক অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট লর হাতে।
স্টুয়ার্ট ল ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকেই শ্রীলঙ্কার সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মূলত দলের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সচিব নিশান্থা রানাতুঙ্গার বরাত দিয়ে একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইট জানিয়েছে, আপাতত ল অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্টুয়ার্ট ল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৫৪টি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেলেছেন। তাঁর ঝুলিতে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

নতুন অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ওয়াটসনের

অধিনায়ক নতুন, সহ-অধিনায়ক নতুন, নতুন সিরিজও। বলতে পারেন বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজ দিয়ে নতুন একটা শুরুই করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া দল। নতুন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক আগেই বলেছেন কথাটা। কাল দুপুরে অনুশীলনে নামার আগে ঢাকায় প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসন আর কোচ টিম নিলসনও বললেন, অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য সময়টা রূপান্তরের। নতুন অস্ট্রেলিয়ার জেগে ওঠার।
আগের তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের এবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেই ফিরে যেতে হয়েছে দেশে। অস্ট্রেলিয়া দল যেমন এটাতে অভ্যস্ত নয়, তেমনি অস্ট্রেলিয়ানদেরও বিশ্বকাপের মাঝপথে ক্রিকেটারদের দেশে দেখার অভ্যাস নেই। অস্ট্রেলিয়া উপমহাদেশের কোনো দল হলে প্রতিক্রিয়াটা অন্যরকমই হতো। কিন্তু টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ জিততে না পারায় দেশবাসীর হতাশাটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার চেহারা নেয়নি। শেন ওয়াটসন কাল প্রশংসাই করলেন দেশের সমর্থকদের, ‘গত তিনটা বিশ্বকাপ জিতেছি। এবার দেশে ফেরার অনুভূতি একটু অন্যরকম ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল। মিডিয়া এবং দেশের মানুষও অনেক উদার। তারা জানে, এটা পরিবর্তনের সময়।’
রূপান্তর মানেই নতুন কিছুর দিকে যাওয়া। সেই যাত্রাটা বাংলাদেশ থেকে হওয়ায় নতুনের পথে অন্তত প্রথম পদক্ষেপটা সহজে ফেলতে পারছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও ওয়াটসনের পাশে বসা নিলসেন বাংলাদেশকে ‘শক্ত প্রতিপক্ষের’ মর্যাদাই দিলেন, ‘খুবই ভালো দল। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সময় তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে। কয়েকটা ম্যাচে খারাপ করলেও বিশ্বকাপেও তারা বড় দলের বিপক্ষে ভালো খেলেছে। দলে প্রতিভা আছে। আমরা জানি, এই তিন ম্যাচে তারা আমাদের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে।’
নিজেদের কন্ডিশনে আর সব দলের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও স্পিনটাকে সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র মানছে বাংলাদেশ। কিন্তু নিলসন কন্ডিশনকে কোনো বাধা মনে করছেন না। কারণ বিশ্বকাপে ভারত আর শ্রীলঙ্কায় খেলে আসার অভিজ্ঞতাটা কাজে দেবে ঢাকায়। ওয়াটসনও বলেছেন, কোথায় খেলছেন, কার বিপক্ষে খেলছেন—সেসব তাদের চিন্তায় একদমই নেই। ভালো খেলাই দলটার একমাত্র লক্ষ্য এবং ভালো খেলা মানেই তো জয়! তবে টেলিভিশনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দেখে অস্ট্রেলিয়ান সহ-অধিনায়কও বুঝে গেছেন, সাকিব আল হাসানের দলের জন্য দর্শক এখানে বড় শক্তি, ‘সন্দেহ নেই, এই কন্ডিশনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলতে পারে। এখানকার দর্শকেরা ভীষণ ক্রিকেটপাগল। আমি তাদেরও দেখার অপেক্ষায় আছি। বিশ্বকাপে টেলিভিশনে এখানকার দর্শকদের দেখে, পরিবেশ দেখে অবাক হয়েছি। আশা করি, এই সিরিজেও সে রকম পরিস্থিতিই থাকবে।’
ওয়াটসনের এটা প্রথম সফর বাংলাদেশে। নতুন দেশ, নতুন কন্ডিশনে কিছুটা রোমাঞ্চিত থাকবেনই। তবে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত সম্ভবত সহ-অধিনায়ক হয়ে। ‘নেতৃত্বের অংশ হতে পারাটা আমার ক্যারিয়ারের বিশেষ একটা ঘটনা। আশা করি, মাইকেল ক্লার্কের মতো আমিও দলে কিছু অবদান রাখতে পারব। নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে খুবই রোমাঞ্চিত। সময়টা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্যও রোমাঞ্চকর’—বলেছেন ওয়াটসন।
বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেও খেলা চালিয়ে যাবেন রিকি পন্টিং। ওয়াটসন এবং কোচ নিলসেনও দলে পন্টিংয়ের উপস্থিতিটাকে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে। ওয়াটসন বলছেন, ‘রিকির অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ আর নিলসেন বলেছেন, ‘নতুন অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কের সঙ্গে পন্টিংয়ের অভিজ্ঞতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতার সম্মিলন দলের জন্য খুবই ভালো হবে।’
সর্বশেষ ২০০৬ সালের বাংলাদেশ সফরে পন্টিংই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সেই দলে ক্লার্কও ছিলেন। ওই সফরে পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা এবারের সফরে দল পরিচালনায় বাড়তি রসদ হতে পারে ক্লার্ক-ওয়াটসনের। কাল নেট প্র্যাকটিস করে আসার সময় একাডেমি মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পন্টিং-ওয়াটসনের দীর্ঘ কথোপকথনেও মিশে থাকতে পারে বাংলাদেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতার বিনিময়। ফতুল্লা টেস্টের অভিজ্ঞতা থেকে ঘরের মাঠের বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা সতর্কবার্তাও ক্লার্ককে দিয়ে থাকতে পারেন পন্টিং।
ক্রিকেটের ছোট দলগুলোর জন্য এমনিতেই ক্লার্ক যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। ২০১৫ সালে ১০ দলের বিশ্বকাপকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সমর্থন করলেও ক্লার্ক বললেন, ‘কোনো বাছাই-প্রক্রিয়া না থাকাটা খুবই অন্যায় হয়ে গেল। আমি মনে করি, একটা বাছাই টুর্নামেন্ট থাকা উচিত ছিল, একবার যে রকম চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হলো। এই নিয়মে আয়ারল্যান্ডের মতো দলও বিশ্বকাপের বাইরে চলে গেল। বাছাই-প্রক্রিয়া থাকলে বিশ্বের সেরা ১০টি দলকে দেখা যেত বিশ্বকাপে।’
২০১৫ নয়, ‘বিশ্বকাপ’ বললে আপাতত ২০১১ বিশ্বকাপটাই চোখে ভাসে। বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়া কোনো দলের জন্যই সেটা হতে পারেনি মনে রাখার মতো বিশেষ কিছু। ৯ এপ্রিল থেকে শুরু তিন ওয়ানডের সিরিজটা দুই দলের জন্যই হতে পারে হতাশা ভোলার উপলক্ষ।

বিসিবির বিপক্ষে অসিদের ব্যাটিং অনুশীলন, হেস্টিংসের হ্যাটট্রিক



বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করার আগে ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো পন্টিং, হাডিন, ক্লার্কদের। আজ ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁরা বিসিবি একাদশকে হারিয়েছে ৯০ রানে। এই ম্যাচের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল অসি বোলার হেস্টিংসের হ্যাটট্রিক । তিনি পরপর তিন বলে বিসিবির রকিবুল, কাপালি ও শুভাগত হোমকে ফেরান।
সকালে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। বল হাতে মাঠে নেমে শুরুটা একেবারে মন্দ করেনি বিসিবি একাদশ। অস্ট্রেলিয়ার দলীয় ৩১ রানেই প্যাভিলিয়নমুখী হন শেন ওয়াটসন। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে বিসিবির বোলারদের উল্লাস বলতে এতটুকুই। এরপর পরই ব্যাট হাতে ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম, শুভাশীষ রায়দের ওপর চড়াও হন পন্টিং-হাডিনরা। রিকি পন্টিং তাঁর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ‘ক্ষোভ’টা ভালোই মিটিয়ে নেন বিসিবির অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ বোলারদের তুলোধুনো করে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হাডিনও পন্টিংকে ভালোই সহায়তা করেন। পন্টিং ব্যক্তিগত ৬৯ রানে মাহবুবুল আলমের বলে অলক কাপালির হাতে ধরা পড়েন। হাডিন অন্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ দিতে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ৫৫ ও মাইক হাসি ৬৯ রানের দুটো ইনিংস খেলেন। ক্লার্কও স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ক্যামেরন হোয়াইটকে ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দেন। তবে হোয়াইট ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শুভাগত হোম চৌধুরীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর আউট হন স্মিথ, মিচেল জনসন ও হেস্টিংস। বিসিবি একাদশের পক্ষে ডলার, শুভাশীষ রায়, মাহবুবুল আলম, ফরহাদ রেজা, শুভাগত হোম প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নেন। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দাঁড় করায় ৩০৮ রানের ভালো একটি ইনিংস।
শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিসিবি একাদশের উদীয়মান ক্রিকেটাররা ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতে যাবে—এমন আশা হয়তো কেউই করেননি। তবে দিন শেষে জনসন, হেস্টিংস, ব্রেট লি, ডেহার্টি, ওয়াটসনদের বিপক্ষে বিসিবির ইনিংসটি কিন্তু আশাজাগানিয়াই। তবে অধিনায়ক রকিবুল হাসান ও মাইশুকুর রহমানের ১৪৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটির পর মিডল অর্ডারের হুড়মুড় করে ভেঙে পড়াটাই যা একটু পীড়া দিচ্ছে। তবে পুরো ৫০ ওভার খেলে বিসিবি একাদশের ২১৮ রানের সংগ্রহটি কিন্তু একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
বিসিবির ইনিংস শুরু হয় একটা বিপর্যয় দিয়েই দলীয় ১১ রানে মিথুন আলী মিচেল জনসনের বলে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক হাডিনের হাতে। এরপর ১২ রানেই জনসন নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান রনি তালুকদারকে। এরপর জাতীয় দলের রকিবুল হাসান ও নবীন মাইশুকুর ধীরে-সুস্থে খেলে দারুণ দক্ষতায় মোকাবিলা করতে থাকেন ব্রেট লি, জনসন, প্যাটিসনদের। ৩৫ ওভার পর্যন্ত তাঁরা নিরবচ্ছিন্ন থেকে দলের একটি ভিত্তি গড়ে দেন। দলীয় ১৬১ রানের মাথায় হেস্টিংসের বলে বোল্ড হন রকিবুল। এরপর একই স্কোরে শূন্য রানে হেস্টিংস ফিরিয়ে দেন সদ্যই জাতীয় দলে ডাক পাওয়া অলক কাপালিকে। শুভাগত হোমও কাপালির পথ অনুসরণ করে হেস্টিংসকে উপহার দেন সন্তুষ্টির এক হ্যাটট্রিক। লোয়ার অর্ডারে মমিনুল, মাহমুদুল হাসান ও ফরহাদ রেজার ছোট ছোট তিনটি ইনিংসে বিসিবি একাদশের ইনিংস ২০০ রানের কোটা পেরিয়ে যায় বেশ ভালোভাবেই। শুভাগত পর ডেহার্টির বলে কেবল আউট হন মমিনুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া ৩০৮/৬ (৫০ ওভার)
পন্টিং ৬৯, ক্লার্ক ৫৫*, হাডিন ৬৬*, হাসি ৬৯
ডলার ১/৬৩, শুভাশীষ ১/৫৯, মাহবুবুল ১/৫৯
ফরহাদ রেজা ১/৫৯, শুভাগত হোম ১/১৮
বিসিবি একাদশ ২১৮/৭ (৫০ ওভার)
মাইশুকুর ৬৮, রকিবুল ৬৫, মাহমুদুল ১৮, মমিনুল ১৫, ফরহাদ রেজা ১৯
হেস্টিংম ৪/১৫
(অস্ট্রেলিয়া ৯০ রানে জয়ী)