Showing posts with label আবু সালেহ আকন. Show all posts
Showing posts with label আবু সালেহ আকন. Show all posts
Saturday, June 24, 2017
চরম অব্যবস্থাপনায় ঘরমুখো মানুষের অসহীয় দুর্ভোগ by আবু সালেহ আকন

চরম
অব্যবস্থাপনা। বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রাফিক সিগনাল, রাস্তায় যানবাহন
চলাচল; কোনোস্থানেই শৃঙ্খলা নেই। যে কারণে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ আরো
বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যাত্রীদের যে ভোগান্তি হয়েছে আজ সেই ভোগান্তির
মাত্রা ছিলো আরো অনেক বেশি। ঢাকা থেকে বের হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগেছে
মানুষের। ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ির নাগাল পেতে হয়েছে। আর যারা
দূরপাল্লার বাসের অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তাদের নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য
অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন পটুয়াখালীর বিল্লাল। ভেবেছিলেন গুলিস্তান থেকে বাসে শিমুলিয়া ঘাটে যাবেন। সেখান থেকে ওপাড়ে গিয়ে বরিশালের গাড়িতে উঠবেন। ভোর ৫টার দিকে গুলিস্তান গিয়ে দেখেন কয়েক হাজার মানুষ। গাড়ির জন্য লাইন দিয়েছেন তারা। একটি করে গাড়ি আসছে, আর যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই লাইন দিয়ে গাড়িতে উঠতে তার দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। শিমুলিয়া যেতে ঘাটে ঘাটে থেমেছে গাড়িটি। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে গাড়িটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার কাছে গিয়ে অবস্থান নেয়। কিন্তু গাড়ি আর চলছে না। সেই সকালে শিমুলিয়া ঘাটে প্রায় একশ’ গাড়ির জট।
বিল্লাল জানান, এতোটুকু রাস্তা পায়ে হেটে যেতে হয়েছে। ঘাটে গিয়ে দেখেন আরো করুন দশা। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন লঞ্চ ও স্পিড বোটের জন্য। স্পিডবোটের সিরিয়ালে রয়েছেন অন্তত দুশ’ মানুষ। প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে স্পিডবোটে চড়তে। ওপাড়ে কাঠালতলী গিয়ে দেখেন মানুষের দীর্ঘ লাইন বাসে চড়ার। প্রতিটি কাউন্টার থেকে অন্তত পাঁচটি বাসের অগ্রীম টিকেট আগেই বিক্রি করা হয়ে গেছে। বেলা একটার দিকে তিনি গাড়ি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, এমন ভোগান্তি হবে তা ভাবতেও পারেননি।
এদিকে, বিল্লাল জানালেন, পরিবহনগুলোতেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে শিমুলিয়ার ভাড়া ৭০ টাকা। সেখানে আজ রাখা হয়েছে একশ’ টাকা। স্পিডবোটের ভাড়া রাখা হয়েছে দ্বিগুন। ওপাড়ে কাঠালতলী থেকে বরিশালের ভাড়া নন এসি দুশ’। আর এসি টিকেট যাত্রী প্রতি আড়াইশ’ টাকা। আজ রাখা হয়েছে পাঁচশ’ টাকা।
একাধিক যাত্রী বলেছেন, গুলিস্তান, শিমুলিয়া ঘাট, কাঠালতলী পরিবহন কাউন্টার কোথাও শৃঙ্খলা নেই। বিশৃঙ্খলার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
ভূক্তভোগিরা বলেছেন, দিন যতো বাড়তে থাকে শিমুলিয়া ঘাটের যানজটও ততোই বাড়তে থাকে।
দুপুরের দিকে কাওসার নামের এক যাত্রী জানান, ঘাটে তিন কিলোমিটার যানজট। সেখানে অন্তত ৬শ’ গাড়ি আটকে পড়েছে। বিকেলে খবর পাওয়া গেছে ঘাটে তখনো তিনশ’য়ের মতো গাড়ি আটকে আছে।
এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডেও আজ তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে।
এক যাত্রী জানিয়েছেন, মেঘনা থেকে গোমতি ব্রিজ পর্যন্ত আজ দিনভর যানজট লেগেছিল।
এদিকে, ঢাকা-পাটুরিয়া রুটে আজ তীব্র পরিবহন সঙ্কট লক্ষ্য করা গেছে। গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে সকালে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু গাড়ি নেই। যে দু’একটি গাড়ি আছে তাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ।
দূরপাল্লার বাসে যারা অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তারাও পড়েন চরম বিপাকে।
আজ সকালে গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন গাড়ির জন্য। অধিকাংশ কাউন্টারেই নির্দিষ্ট সময়ে আজ গাড়ি পাওয়া যায়নি। ফলে যাত্রীদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে বলেছেন, তারা ঝামেলা এড়ানোর জন্য সেহরি সেরেই টার্মিনালের উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে তারা হতাশ।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক বলেছেন, পথে পথে তাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এই টাকাতো আর মালিক দিবেন না। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও আজ তীব্র যানজট ছিলো।
একাধিক যাত্রী মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, গাড়ির চরম ধীরগতিতে চলছে। এই চলছে, এই থামছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবেই তারা বাসের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে, যাত্রীদের অনেকেই বলেছেন, গাড়ির চালক রাস্তার উপর গাড়ি থামিয়ে মহাসড়কের যাত্রী তুলছে যে কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঘাটগুলোতে বাড়তি টাকার জন্য কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে রাখা হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বলেছেন, রাস্তায় যানবাহনের খুব চাপ। যে কারণে কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
লঞ্চ টার্মিনালেও ছিলো চরম বিশৃঙ্খলা।
একাধিক যাত্রী বলেছেন, টার্মিনালে পৌঁছতেই তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আজ পল্টন মোড় থেকেই যানজট লক্ষ্য যায়। বিকেলে শত শত যাত্রীকে এই পল্টন মোড় থেকে সদরঘাট টার্মিনালের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন পটুয়াখালীর বিল্লাল। ভেবেছিলেন গুলিস্তান থেকে বাসে শিমুলিয়া ঘাটে যাবেন। সেখান থেকে ওপাড়ে গিয়ে বরিশালের গাড়িতে উঠবেন। ভোর ৫টার দিকে গুলিস্তান গিয়ে দেখেন কয়েক হাজার মানুষ। গাড়ির জন্য লাইন দিয়েছেন তারা। একটি করে গাড়ি আসছে, আর যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই লাইন দিয়ে গাড়িতে উঠতে তার দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। শিমুলিয়া যেতে ঘাটে ঘাটে থেমেছে গাড়িটি। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে গাড়িটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার কাছে গিয়ে অবস্থান নেয়। কিন্তু গাড়ি আর চলছে না। সেই সকালে শিমুলিয়া ঘাটে প্রায় একশ’ গাড়ির জট।
বিল্লাল জানান, এতোটুকু রাস্তা পায়ে হেটে যেতে হয়েছে। ঘাটে গিয়ে দেখেন আরো করুন দশা। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন লঞ্চ ও স্পিড বোটের জন্য। স্পিডবোটের সিরিয়ালে রয়েছেন অন্তত দুশ’ মানুষ। প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে স্পিডবোটে চড়তে। ওপাড়ে কাঠালতলী গিয়ে দেখেন মানুষের দীর্ঘ লাইন বাসে চড়ার। প্রতিটি কাউন্টার থেকে অন্তত পাঁচটি বাসের অগ্রীম টিকেট আগেই বিক্রি করা হয়ে গেছে। বেলা একটার দিকে তিনি গাড়ি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, এমন ভোগান্তি হবে তা ভাবতেও পারেননি।
এদিকে, বিল্লাল জানালেন, পরিবহনগুলোতেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে শিমুলিয়ার ভাড়া ৭০ টাকা। সেখানে আজ রাখা হয়েছে একশ’ টাকা। স্পিডবোটের ভাড়া রাখা হয়েছে দ্বিগুন। ওপাড়ে কাঠালতলী থেকে বরিশালের ভাড়া নন এসি দুশ’। আর এসি টিকেট যাত্রী প্রতি আড়াইশ’ টাকা। আজ রাখা হয়েছে পাঁচশ’ টাকা।
একাধিক যাত্রী বলেছেন, গুলিস্তান, শিমুলিয়া ঘাট, কাঠালতলী পরিবহন কাউন্টার কোথাও শৃঙ্খলা নেই। বিশৃঙ্খলার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
ভূক্তভোগিরা বলেছেন, দিন যতো বাড়তে থাকে শিমুলিয়া ঘাটের যানজটও ততোই বাড়তে থাকে।
দুপুরের দিকে কাওসার নামের এক যাত্রী জানান, ঘাটে তিন কিলোমিটার যানজট। সেখানে অন্তত ৬শ’ গাড়ি আটকে পড়েছে। বিকেলে খবর পাওয়া গেছে ঘাটে তখনো তিনশ’য়ের মতো গাড়ি আটকে আছে।
এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডেও আজ তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে।
এক যাত্রী জানিয়েছেন, মেঘনা থেকে গোমতি ব্রিজ পর্যন্ত আজ দিনভর যানজট লেগেছিল।
এদিকে, ঢাকা-পাটুরিয়া রুটে আজ তীব্র পরিবহন সঙ্কট লক্ষ্য করা গেছে। গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে সকালে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু গাড়ি নেই। যে দু’একটি গাড়ি আছে তাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ।
দূরপাল্লার বাসে যারা অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তারাও পড়েন চরম বিপাকে।
আজ সকালে গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন গাড়ির জন্য। অধিকাংশ কাউন্টারেই নির্দিষ্ট সময়ে আজ গাড়ি পাওয়া যায়নি। ফলে যাত্রীদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে বলেছেন, তারা ঝামেলা এড়ানোর জন্য সেহরি সেরেই টার্মিনালের উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে তারা হতাশ।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক বলেছেন, পথে পথে তাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এই টাকাতো আর মালিক দিবেন না। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও আজ তীব্র যানজট ছিলো।
একাধিক যাত্রী মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, গাড়ির চরম ধীরগতিতে চলছে। এই চলছে, এই থামছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবেই তারা বাসের মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে, যাত্রীদের অনেকেই বলেছেন, গাড়ির চালক রাস্তার উপর গাড়ি থামিয়ে মহাসড়কের যাত্রী তুলছে যে কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঘাটগুলোতে বাড়তি টাকার জন্য কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে রাখা হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বলেছেন, রাস্তায় যানবাহনের খুব চাপ। যে কারণে কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
লঞ্চ টার্মিনালেও ছিলো চরম বিশৃঙ্খলা।
একাধিক যাত্রী বলেছেন, টার্মিনালে পৌঁছতেই তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আজ পল্টন মোড় থেকেই যানজট লক্ষ্য যায়। বিকেলে শত শত যাত্রীকে এই পল্টন মোড় থেকে সদরঘাট টার্মিনালের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
Wednesday, November 4, 2015
দীপন হত্যাকাণ্ড: গোয়েন্দাদের হাত শূন্য by আবু সালেহ আকন
কে
খুন করল, কারা হামলা চালালো সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয়
পুলিশ-গোয়েন্দারা। অথচ গুনে গুনে চার দিন কেটে গেছে। তবে পুলিশ কয়েকজনকে
নজরদারিতে রেখেছে বলে জানা গেছে। তাদের মোবাইল কথোপকথন যাচাই-বাছাই করা
হচ্ছে। আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক দীপন হত্যা এবং লালমাটিয়ায় প্রকাশক
টুটুলসহ তিনজনকে আহত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের
ওপর হস্তান্তর হয়েছে। গতকাল থেকে ডিবি মামলা দু’টি নিয়ে কাজও শুরু করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিডিয়া সেলের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম।
গত শনিবার রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীতে হানা দিয়ে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে। প্রায় একই সময় লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতেও দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। সেখানে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও লেখক-ব্লগার সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপম বসু এবং ব্লগার তারেক রহিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। তন্মধ্যে তারেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত দুই প্রকাশকই গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক ছিলেন। অভিজিতের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’সহ কয়েকটি বই প্রকাশ করেন টুটুল। এই বই প্রকাশের পরই তাকে হুমকি দেয়া হয়। তার বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এই হুমকির পর তিনি অনেকটাই সাবধানে ছিলেন। অপর দিকে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’সহ অভিজিতের কয়েকটি বই প্রকাশ করেছিলেন নিহত ফয়সল আরেফিন দীপন।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে শাহবাগ থানায় দীপন হত্যায় স্ত্রী ডা: রাজিয়া রহমান জলি বাদি হয়ে হত্যা মামলা এবং মোহাম্মদপুর থানায় প্রকাশক টুটুল বাদি হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলা দায়েরের আগ থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ-গোয়েন্দারা। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ফলাফল শূন্য। গতকাল রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেনি পুলিশ-গোয়েন্দারা। ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেছেন, কোনো আটক বা গ্রেফতার নেই। মামলা দু’টির তদন্তভার পড়েছে ডিবির দক্ষিণ ও পশ্চিম টিমের ওপর। শুধু অভিজিতের বই প্রকাশই, না এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে সে সম্পর্কেও নিশ্চিত নয় পুলিশ-গোয়েন্দারা। তবে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, কয়েকজনকে তারা সন্দেহ ও নজরদারির মধ্যে রেখেছে। এর সংখ্যা সাত-আটজন হতে পারে বলে জানা গেছে। এরা কারা সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এ দিকে আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন হত্যার ঘটনায় সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজের ওপর প্রাথমিকভাবে ভরসা করা হলেও ওই ফুটেজ দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পায়নি গোয়েন্দারা। সূত্র জানায়, আজিজ সুপার মার্কেটের পাঁচটি গেটে পাঁচটি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। কিন্তু ঘটনার সময় এর মধ্যে দু’টি ক্যামেরাই বন্ধ ছিল। বাকি তিনটিতে যে ছবি ধারণ আছে তা আবছা। তা দিয়ে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। অপর দিকে লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। সেখানকার দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করছে পুলিশ-গোয়েন্দারা।
এ দিকে এ হামলার শিকার লেখক-প্রকাশক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতরা বলেছেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখনো শঙ্কার মধ্যে। আহত রণদীপম বলেন, ছয় বছর ধরে টুটুলের সাথে তার পরিচয়। সে থেকেই তিনি মাঝে মধ্যে ওই প্রকাশনায় গিয়ে আড্ডা দিতেন। ইতোমধ্যে ওই প্রকাশনী থেকে কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। আগামী বইমেলায় ৪ পর্বের একটি বই প্রকাশ হওয়ার কথা। এ কারণেই ঘটনার দিন টুটুলের সাথে তিনি কথা বলতে যান। এ সময় প্রথমে দুই যুবক সেখানে প্রবেশ করে তাদেরকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তিনি তখন একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন তাদের ওপর। এরপর তারা পিস্তলের মুখে জিম্মি করে সবাইকে কোপাতে শুরু করে। তিনি তখন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। ১৫-২০ মিনিট পরে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন চেয়ারের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় টুটুল পড়ে আছে। তারেককে না দেখে তিনি খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে পাওয়া যায় বারান্দায়। তিনি প্রতিষ্ঠানের গেট খুলতে গিয়ে দেখেন বাইরে থেকে তালা মারা। তখন তিনি বারান্দা দিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চান। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। রণদীপম বলেন, তার বেশ কয়েকটি বই ছাপা হয়েছে। কিন্তু তার কোনো বইয়ে ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তদের হয়তো টার্গেট ছিল টুটুল। কিন্তু তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে না যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি অনেককে ফোন করেন এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাজ দেন। এরপর তাদের অনেক বন্ধুবান্ধব ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন, অতীতে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটিরই বিচার হয়নি। এ জন্যই দুর্বৃত্তরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ তারেক রহিমের শরীরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরো একটি অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। আহত টুটুলের স্ত্রী শামীমা রুনা বলেছেন, এখনো আমরা চরম ভয়ে আছি। তিনি নিরাপত্তা দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। তিনি বলেন, আমরা ভয়ে আছি।
এ দিকে গতকালও আজিজ সুপার মার্কেট এলাকায় ছিল থমথমে পরিস্থিতি। এখানকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, মার্কেটের ভেতরে এমন একটি ঘটনা ঘটবে তা এখনো তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না।
গত শনিবার রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীতে হানা দিয়ে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে। প্রায় একই সময় লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীতেও দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। সেখানে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও লেখক-ব্লগার সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপম বসু এবং ব্লগার তারেক রহিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। তন্মধ্যে তারেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত দুই প্রকাশকই গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক ছিলেন। অভিজিতের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’সহ কয়েকটি বই প্রকাশ করেন টুটুল। এই বই প্রকাশের পরই তাকে হুমকি দেয়া হয়। তার বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এই হুমকির পর তিনি অনেকটাই সাবধানে ছিলেন। অপর দিকে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’সহ অভিজিতের কয়েকটি বই প্রকাশ করেছিলেন নিহত ফয়সল আরেফিন দীপন।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে শাহবাগ থানায় দীপন হত্যায় স্ত্রী ডা: রাজিয়া রহমান জলি বাদি হয়ে হত্যা মামলা এবং মোহাম্মদপুর থানায় প্রকাশক টুটুল বাদি হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলা দায়েরের আগ থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ-গোয়েন্দারা। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ফলাফল শূন্য। গতকাল রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেনি পুলিশ-গোয়েন্দারা। ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেছেন, কোনো আটক বা গ্রেফতার নেই। মামলা দু’টির তদন্তভার পড়েছে ডিবির দক্ষিণ ও পশ্চিম টিমের ওপর। শুধু অভিজিতের বই প্রকাশই, না এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে সে সম্পর্কেও নিশ্চিত নয় পুলিশ-গোয়েন্দারা। তবে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, কয়েকজনকে তারা সন্দেহ ও নজরদারির মধ্যে রেখেছে। এর সংখ্যা সাত-আটজন হতে পারে বলে জানা গেছে। এরা কারা সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এ দিকে আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন হত্যার ঘটনায় সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজের ওপর প্রাথমিকভাবে ভরসা করা হলেও ওই ফুটেজ দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পায়নি গোয়েন্দারা। সূত্র জানায়, আজিজ সুপার মার্কেটের পাঁচটি গেটে পাঁচটি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। কিন্তু ঘটনার সময় এর মধ্যে দু’টি ক্যামেরাই বন্ধ ছিল। বাকি তিনটিতে যে ছবি ধারণ আছে তা আবছা। তা দিয়ে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। অপর দিকে লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। সেখানকার দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করছে পুলিশ-গোয়েন্দারা।
এ দিকে এ হামলার শিকার লেখক-প্রকাশক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতরা বলেছেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখনো শঙ্কার মধ্যে। আহত রণদীপম বলেন, ছয় বছর ধরে টুটুলের সাথে তার পরিচয়। সে থেকেই তিনি মাঝে মধ্যে ওই প্রকাশনায় গিয়ে আড্ডা দিতেন। ইতোমধ্যে ওই প্রকাশনী থেকে কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। আগামী বইমেলায় ৪ পর্বের একটি বই প্রকাশ হওয়ার কথা। এ কারণেই ঘটনার দিন টুটুলের সাথে তিনি কথা বলতে যান। এ সময় প্রথমে দুই যুবক সেখানে প্রবেশ করে তাদেরকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তিনি তখন একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন তাদের ওপর। এরপর তারা পিস্তলের মুখে জিম্মি করে সবাইকে কোপাতে শুরু করে। তিনি তখন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। ১৫-২০ মিনিট পরে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন চেয়ারের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় টুটুল পড়ে আছে। তারেককে না দেখে তিনি খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে পাওয়া যায় বারান্দায়। তিনি প্রতিষ্ঠানের গেট খুলতে গিয়ে দেখেন বাইরে থেকে তালা মারা। তখন তিনি বারান্দা দিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চান। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। রণদীপম বলেন, তার বেশ কয়েকটি বই ছাপা হয়েছে। কিন্তু তার কোনো বইয়ে ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তদের হয়তো টার্গেট ছিল টুটুল। কিন্তু তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে না যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি অনেককে ফোন করেন এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাজ দেন। এরপর তাদের অনেক বন্ধুবান্ধব ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন, অতীতে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটিরই বিচার হয়নি। এ জন্যই দুর্বৃত্তরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ তারেক রহিমের শরীরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরো একটি অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। আহত টুটুলের স্ত্রী শামীমা রুনা বলেছেন, এখনো আমরা চরম ভয়ে আছি। তিনি নিরাপত্তা দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। তিনি বলেন, আমরা ভয়ে আছি।
এ দিকে গতকালও আজিজ সুপার মার্কেট এলাকায় ছিল থমথমে পরিস্থিতি। এখানকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, মার্কেটের ভেতরে এমন একটি ঘটনা ঘটবে তা এখনো তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না।
Sunday, October 11, 2015
পাবনায় যাজক হত্যাচেষ্টা, মোটরসাইকেল রহস্য by আবু সালেহ আকন
প্রথমে
যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সে অনুযায়ী জব্দকৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট
ভুয়া। ওই সিরিয়াল নম্বরে কোনো মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন হয় না। ইঞ্জিন
নম্বর অনুযায়ী এক মালিকের সন্ধান পেলেও ওই নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি
এখনো।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মোটরসাইকেলটি দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছে পাবনার যাজক লুক সরকারকে হত্যা চেষ্টায়। তবে গতকাল ঈশ্বরদী থানার ওসি মোটরসাইকেলটির ভিন্ন সিরিয়ালে নম্বর প্লেটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মোটরসাইকেলটির মালিক সম্পর্কে এখনো তারা নিশ্চিত নন ।
৫ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীতে বাসায় ঢুকে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক লুক সরকারকে (৫০) হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ওই দিন সকালে তিন যুবক ধর্মপাঠ শোনার কথা বলে লুক সরকারের কাছে আসে। তারা লুক সরকারের ড্রইংরুমে বসে তার মুখ চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির কেয়ারটেকার আজগর আলী একজনকে জাপটে ধরেন। বাকি দুই যুবক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে লুক সরকারের গলা কেটে যায়। এ দিকে দুর্বৃত্তরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির নম্বর- ঢাকা মেট্রো ট-১১-৯০৪৫। পুলিশ ওই মোটরসাইকেলটি জব্দ করে । পুলিশের ধারণা ছিল মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে দুর্বৃত্তদের আটক করতে পারবে তারা। কিন্তু প্রথমেই দেখা যায় নম্বর প্লেটটি ভুয়া।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ট সিরিয়ালে মোটরসাইকেলের কোনো নম্বর নেই। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এ সিরিয়াল নম্বর দিয়ে নম্বর প্লেট তৈরি করেছে। প্রথমে ‘ট’ সিরিয়ালের মোটরসাইকেল জব্দ করার কথাই উল্লেখ করা হয়। তবে গতকাল ঈশ্বরদী থানার ওসি বলেছেন, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি ট সিরিয়ালের নয়। ল সিরিয়ালের।
তিনি আরো বলেন, এ সিরিয়াল ধরেই মোটরসাইকেলের মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মালিকের সন্ধানে ইতোমধ্যে বিআরটিএ-তে তারা নম্বরটি জমা দিয়েছেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর দিয়েও খোঁজা হচ্ছে মোটরসাইকেলটি কার। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নম্বর অনুযায়ী তারা খোঁজ পেয়েছেন মোটরসাইকেলটি আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করা, যার ঠিকানা- শহীদ তাজউদ্দিন সরণি, তেজগাঁও, ঢাকা। কিন্তু ওই ঠিকানায় এ নামে কোনো ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি গোয়েন্দারা।
এ দিকে লুক সরকারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। ওসি বলেছেন, ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওইসব তথ্যের যাচাই-বাছাই চলছে। এ দিকে গ্রেফতার ওবায়দুলকে জামায়াত-শিবিরের লোক বলে পুলিশ উল্লেখ করলেও তার বাবা আব্দুস সালাম বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার ছেলেও ছোটবেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে ওঠাবসা করে। তার ছেলে রাজধানীর শ্যামলীর একটি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি মামলায় হাজিরা দিতে সে ঢাকা থেকে বাড়ি গিয়েছিল। পুলিশ তাকে ধরে ধর্মযাজক হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় ঢুকিয়েছে।
ওবায়দুলের বাবা তার ছেলেকে এ মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদও করেছেন। লুক সরকারও বলেছেন, গ্রেফতার হওয়া ওবায়দুলকে তিনি চেনেন না। তবে যারা তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় তাদের দেখলে তিনি চিনবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মোটরসাইকেলটি দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছে পাবনার যাজক লুক সরকারকে হত্যা চেষ্টায়। তবে গতকাল ঈশ্বরদী থানার ওসি মোটরসাইকেলটির ভিন্ন সিরিয়ালে নম্বর প্লেটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মোটরসাইকেলটির মালিক সম্পর্কে এখনো তারা নিশ্চিত নন ।
৫ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীতে বাসায় ঢুকে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক লুক সরকারকে (৫০) হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ওই দিন সকালে তিন যুবক ধর্মপাঠ শোনার কথা বলে লুক সরকারের কাছে আসে। তারা লুক সরকারের ড্রইংরুমে বসে তার মুখ চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির কেয়ারটেকার আজগর আলী একজনকে জাপটে ধরেন। বাকি দুই যুবক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে লুক সরকারের গলা কেটে যায়। এ দিকে দুর্বৃত্তরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির নম্বর- ঢাকা মেট্রো ট-১১-৯০৪৫। পুলিশ ওই মোটরসাইকেলটি জব্দ করে । পুলিশের ধারণা ছিল মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে দুর্বৃত্তদের আটক করতে পারবে তারা। কিন্তু প্রথমেই দেখা যায় নম্বর প্লেটটি ভুয়া।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ট সিরিয়ালে মোটরসাইকেলের কোনো নম্বর নেই। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এ সিরিয়াল নম্বর দিয়ে নম্বর প্লেট তৈরি করেছে। প্রথমে ‘ট’ সিরিয়ালের মোটরসাইকেল জব্দ করার কথাই উল্লেখ করা হয়। তবে গতকাল ঈশ্বরদী থানার ওসি বলেছেন, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি ট সিরিয়ালের নয়। ল সিরিয়ালের।
তিনি আরো বলেন, এ সিরিয়াল ধরেই মোটরসাইকেলের মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মালিকের সন্ধানে ইতোমধ্যে বিআরটিএ-তে তারা নম্বরটি জমা দিয়েছেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর দিয়েও খোঁজা হচ্ছে মোটরসাইকেলটি কার। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নম্বর অনুযায়ী তারা খোঁজ পেয়েছেন মোটরসাইকেলটি আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করা, যার ঠিকানা- শহীদ তাজউদ্দিন সরণি, তেজগাঁও, ঢাকা। কিন্তু ওই ঠিকানায় এ নামে কোনো ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি গোয়েন্দারা।
এ দিকে লুক সরকারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। ওসি বলেছেন, ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওইসব তথ্যের যাচাই-বাছাই চলছে। এ দিকে গ্রেফতার ওবায়দুলকে জামায়াত-শিবিরের লোক বলে পুলিশ উল্লেখ করলেও তার বাবা আব্দুস সালাম বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার ছেলেও ছোটবেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে ওঠাবসা করে। তার ছেলে রাজধানীর শ্যামলীর একটি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি মামলায় হাজিরা দিতে সে ঢাকা থেকে বাড়ি গিয়েছিল। পুলিশ তাকে ধরে ধর্মযাজক হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় ঢুকিয়েছে।
ওবায়দুলের বাবা তার ছেলেকে এ মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদও করেছেন। লুক সরকারও বলেছেন, গ্রেফতার হওয়া ওবায়দুলকে তিনি চেনেন না। তবে যারা তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় তাদের দেখলে তিনি চিনবেন।
Sunday, August 23, 2015
ক্ষমতাসীন দলে শুদ্ধি অভিযান: ভেতরে ভেতরে নাখোশ অনেকে by আবু সালেহ আকন
অভ্যন্তরীণ
কোন্দল ঠেকাতে এবং ইমেজ উদ্ধারের জন্যই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে
ক্ষমতাসীন দল। এরই অংশ হিসেবে বাছাই করে দলের ভেতরে থাকা অপরাধীদের
বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। একাধিক সূত্র
জানায়, শীর্ষ মহলের নির্দেশমতোই অভিযান চলছে। এরই মধ্যে এ অভিযানের সুফলও
এসেছে অনেক। ক্ষমতাসীন দলের যেসব সদস্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের
অনেকেই আপাতত কিছুটা শান্ত। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল
একেবারে শূন্যের কোটায় নেমেছে। যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত তাদের অনেকেই গা
ঢাকা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত পাঁচজন দলীয় নেতাকর্মী ক্রসফায়ার ও
বন্দুকযুদ্ধে নিহত এবং দুই নেতা গুমের পর ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতাকর্মী
সন্ত্রাসে জড়িত তাদের অনেকেই এখন চরম আতঙ্কে আছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ
রকম অনেককে থানায় ডেকে নিয়ে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় দলের
অভ্যন্তরে বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও
সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নেতাকর্মী নিহতের প্রতিবাদ করে আসছেন। এ ঘটনায় দলের
অনেকে নাখোশ।
পাঁচ দিনের ব্যবধানে গাজীপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও রাজধানীতে র্যাব ও পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ‘ক্রসফায়ারে’ ক্ষমতাসীন দলের চার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে নিহত হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আরজু রয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ১৫ আগস্টের শোক র্যালিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত সবুজ হত্যার আসামি জাকির মঙ্গলবার মধ্য রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মাগুরায় আজিবর ও বাড্ডায় দলীয় তিন নেতাকর্মী হত্যার সন্দেহভাজন আসামি সাইদুর গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আরজু (২৮) গত সোমবার রাতে র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। র্যাব বলেছে, সোমবার রাতে র্যাব-১০ এর একটি দল আরজুকে আটক করে। পরে তাকে গাড়িতে করে নিয়ে ফেরার সময় আরজুর সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে র্যাবের ওপর হামলা চালায়। তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আরজু গুলিবিদ্ধ হলে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সংসদ সদস্যও এর প্রতিবাদ জানান। তারা বলেছেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। খবর নিয়ে জানা গেছে, এ বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার সরকার সমর্থকেরা খুবই নাখোশ। তাদের দাবিÑ আরজুর বিরুদ্ধে আগে কোনো সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত নেই।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন মোমিন ভূঁইয়া। গুলিবিদ্ধ হন নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান। গুলিতে শিশুটি মাতৃজঠরে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। এ মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮) গ্রেফতারের পর গত সোমবার রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আজিবর মাগুরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং পরে যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার জগতি চেচুয়া রেলবাজারের পাশে একটি বাগানের ভেতরে গোলাগুলির ঘটনায় জাকির হোসেন নিহত হন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার অনুসারী ছিলেন বলে জানা যায়। গত ১৫ আগস্ট দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্যে জেলা শহরের মজমপুর গেট এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’প সংঘর্ষে জড়ালে যুবলীগকর্মী সবুজ (২৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন, আহত হন আরো পাঁচজন। সেখানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি ছিলেন নিহত জাকির।
গত ১৩ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডার আদর্শনগরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতাকর্মী। এ ঘটনার আসামি বাড্ডা ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলা ইউনিট যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান (৩৫) বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের অভ্যন্তরে যেসব সন্ত্রাসী রয়েছে, তাদের শায়েস্তা করতে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশের অংশ হিসেবেই ভয়ঙ্কর অপরাধে যারা জড়িত, তাদের গ্রেফতারে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে জড়িত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত, তাদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে অনেক নেতাকর্মীকে থানায় থানায় ডেকে নিয়ে সাবধান করে দেয়ার মতো ঘটনাও শোনা গেছে। তবে এতে নাখোশ দলের অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেছেন, গত কয়েক দিনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা ভয়ানক। অনেকেই এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন। অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন অনেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি এ নিয়ে মাঝারি গোছের অনেক নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এরই মধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এত দিন তারা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ’ক্রসফায়ার’-এর ব্যাপারে চুপ ছিলেন।
পাঁচ দিনের ব্যবধানে গাজীপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও রাজধানীতে র্যাব ও পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ‘ক্রসফায়ারে’ ক্ষমতাসীন দলের চার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে নিহত হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আরজু রয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ১৫ আগস্টের শোক র্যালিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত সবুজ হত্যার আসামি জাকির মঙ্গলবার মধ্য রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মাগুরায় আজিবর ও বাড্ডায় দলীয় তিন নেতাকর্মী হত্যার সন্দেহভাজন আসামি সাইদুর গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আরজু (২৮) গত সোমবার রাতে র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। র্যাব বলেছে, সোমবার রাতে র্যাব-১০ এর একটি দল আরজুকে আটক করে। পরে তাকে গাড়িতে করে নিয়ে ফেরার সময় আরজুর সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে র্যাবের ওপর হামলা চালায়। তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আরজু গুলিবিদ্ধ হলে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সংসদ সদস্যও এর প্রতিবাদ জানান। তারা বলেছেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। খবর নিয়ে জানা গেছে, এ বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার সরকার সমর্থকেরা খুবই নাখোশ। তাদের দাবিÑ আরজুর বিরুদ্ধে আগে কোনো সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত নেই।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন মোমিন ভূঁইয়া। গুলিবিদ্ধ হন নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান। গুলিতে শিশুটি মাতৃজঠরে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। এ মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮) গ্রেফতারের পর গত সোমবার রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আজিবর মাগুরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং পরে যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার জগতি চেচুয়া রেলবাজারের পাশে একটি বাগানের ভেতরে গোলাগুলির ঘটনায় জাকির হোসেন নিহত হন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার অনুসারী ছিলেন বলে জানা যায়। গত ১৫ আগস্ট দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্যে জেলা শহরের মজমপুর গেট এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’প সংঘর্ষে জড়ালে যুবলীগকর্মী সবুজ (২৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন, আহত হন আরো পাঁচজন। সেখানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি ছিলেন নিহত জাকির।
গত ১৩ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডার আদর্শনগরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতাকর্মী। এ ঘটনার আসামি বাড্ডা ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলতলা ইউনিট যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান (৩৫) বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের অভ্যন্তরে যেসব সন্ত্রাসী রয়েছে, তাদের শায়েস্তা করতে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশের অংশ হিসেবেই ভয়ঙ্কর অপরাধে যারা জড়িত, তাদের গ্রেফতারে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে জড়িত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত, তাদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে অনেক নেতাকর্মীকে থানায় থানায় ডেকে নিয়ে সাবধান করে দেয়ার মতো ঘটনাও শোনা গেছে। তবে এতে নাখোশ দলের অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেছেন, গত কয়েক দিনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা ভয়ানক। অনেকেই এ নিয়ে আতঙ্কে আছেন। অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন অনেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি এ নিয়ে মাঝারি গোছের অনেক নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এরই মধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এত দিন তারা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ’ক্রসফায়ার’-এর ব্যাপারে চুপ ছিলেন।
Friday, August 21, 2015
সাড়ে সাত মাসে ১২১ বিচারবহির্ভূত হত্যা by আবু সালেহ আকন
এবার
‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতা। নিহত দুই নেতার
বিরুদ্ধেই হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগ
হাজারীবাগ থানা সভাপতি রফিকুল ইসলাম আরজু (২৮) এবং মাগুরায় আলোচিত মাতৃজঠরে
শিশু গুলিবিদ্ধ ও হত্যা মামলার আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮)। এ ছাড়া
ঢাকায় শান্তিনগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে মারা গেছেন ফয়েজ বাবু (২৮)
নামের এক যুবক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে গত সাড়ে সাত মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১২১ জন। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকেরা বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকেই বলেছেন দেশে আইনের শাসনহীনতায় এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কোনো কোনো ঘটনা নিয়ে বিতর্কও আছে পরিবারের পক্ষ থেকে। ওই সব পরিবার দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আরজু র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গত সোমবার সকালে মোবাইল চুরির অভিযোগ প্রতিবেশী রাজা নামে ১৭ বছরের কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাজার পরিবার আরজুকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই র্যাব-১০ এর একটি দল আরজুকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি র্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হন।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন মোমিন ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান। গুলিতে শিশুটি মাতৃজঠরে এ ফোঁড় ও ফোঁড় হয়ে যায়। মা-মেয়ে এখনো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮) গ্রেফতারের পর গত সোমবার রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মাগুরা শহরতলির দোয়ারপাড় এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেহগনি বাগান থেকে পুলিশ আজিবরের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।
এ দিকে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় র্যাবের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে কাউছার রহমান বাবু ওরফে ফয়েজ বাবু (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র্যাব বলেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় শান্তিনগর মসজিদ মার্কেটের তৃতীয় তলায় ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে খবর পেয়ে র্যাব-৩ এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকব্যবসায়ী ফয়েজ বাবু ওই ভবনের ছাদে উঠে যায়। পরে পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে সেখান থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ফয়েজ। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় তার মৃত্যু হয়।
গত ৯ আগস্ট সুন্দরবনে বাঘের চামড়া পাচারের অভিযোগে আটককৃত ছয় ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি তারা বনদস্যু। বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছেন। তবে পরিবারের দাবি তাদের আটকের পর হত্যা করা হয়েছে।
এভাবেই চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত সাড়ে সাত মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১২১ জন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার’এ নিহত হয়েছেন ৯৫ জন। গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুইজন, শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে একজন, নির্যাতনে তিনজন ও অন্যান্য কারণে চারজন। নিহতদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮ জন, মার্চে ১২ জন, এপ্রিলে ৯ জন, মে মাসে ১৮ জন, জুনে ৯ জন, জুলাইয়ে সাতজন এবং চলতি মাসের এ ক’দিনে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে গতকালই নিহত হয়েছেন তিনজন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকায় দেশে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরাধ প্রমাণের আগেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী বিনাবিচারে অভিযুক্তদের হত্যা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।’
বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, দেশ যারা পরিচালনা করছে বা শাসন করছে এবং যাদের ওপর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের ভেতরে হয়তো শটকার্ট পথে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করার মনোভাব বিরাজ করছে। ফলে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বা যারা অপরাধী তাদের ব্যাপারে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হয়তো তাদের ধারণা এতে ভয়ার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হলে অপরাধীরা আর অপরাধ করবে না। তবে প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া আছে। ফলে সমাজে এই ধরণের ভয় সৃষ্টির ঘটনা আরো ঘটছে। এই অবস্থা থেকেই শিশু হত্যা, কারো চুল কেটে নেয়ার মতো মানসিকতার সৃষ্টি হচ্ছে। নুর খান লিটন বলেন, কোনো সভ্য দেশে এই হত্যাকান্ড সমর্থন করা যায় না। আমাদের ভাবতে হবে আমরা সাময়িক সমাধান চাই, না স্থায়ী সমাধান চাই।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান গতকাল একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বলেন, বিচারবহির্ভূত কোনো কিছুই সমর্থনযোগ্য নয়।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া নজরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলতে আমাদের আইনে কোনো শব্দ নেই। হত্যা না ব্যক্তিগত আত্মরক্ষায় ঘটনা ঘটেছে, এটি বৈধ না অবৈধ তা বলার এখতিয়ার একমাত্র ম্যাজিস্ট্র্রেটের। কোনো ঘটনা ঘটলে ম্যাজিস্ট্র্রেট তদন্ত করে তা বলবেন। এর বাইরে কেউ এটি নিয়ে কথা বললে সেটি আইনকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কেউ নিহত হলে সেটি যদি যথার্থ না হয় তবে সরাসরি খুনের মামলা হবে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন এবং একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলছেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি পুলিশকে যেমন তার কাজের জন্য আইনের সীমারেখার মধ্যে কাজ করতে হবে। তেমনি যখন সমালোচনা করা হবে তখন আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি সমালোচনার অনুরোধ জানান।
র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান নয়া দিগন্তকে বলেন, র্যাবের সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা কখনোই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। তিনি বলেন, র্যাব অপরাধীদের ধরতে গেলে সেখানে দেখা যায় অনেক সময় অপরাধীরা প্রথমে র্যাবের ওপর গুলি চালায়। র্যাব সদস্যরা তখন আত্মরক্ষা ও জানমাল রক্ষার্থে গুলিবর্ষণে বাধ্য হয়। এতে কেউ কেউ মারা যায়। আগে দুর্বৃত্তরা ফায়ার করে এবং পরে র্যাব বাধ্য হয়ে গুলিবর্ষণ করে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে গত সাড়ে সাত মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১২১ জন। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকেরা বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকেই বলেছেন দেশে আইনের শাসনহীনতায় এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কোনো কোনো ঘটনা নিয়ে বিতর্কও আছে পরিবারের পক্ষ থেকে। ওই সব পরিবার দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপরাধ মানুষকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম আরজু র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গত সোমবার সকালে মোবাইল চুরির অভিযোগ প্রতিবেশী রাজা নামে ১৭ বছরের কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাজার পরিবার আরজুকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই র্যাব-১০ এর একটি দল আরজুকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি র্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হন।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হন মোমিন ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান। গুলিতে শিশুটি মাতৃজঠরে এ ফোঁড় ও ফোঁড় হয়ে যায়। মা-মেয়ে এখনো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮) গ্রেফতারের পর গত সোমবার রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মাগুরা শহরতলির দোয়ারপাড় এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেহগনি বাগান থেকে পুলিশ আজিবরের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।
এ দিকে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় র্যাবের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে কাউছার রহমান বাবু ওরফে ফয়েজ বাবু (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র্যাব বলেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় শান্তিনগর মসজিদ মার্কেটের তৃতীয় তলায় ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে খবর পেয়ে র্যাব-৩ এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকব্যবসায়ী ফয়েজ বাবু ওই ভবনের ছাদে উঠে যায়। পরে পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে সেখান থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ফয়েজ। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় তার মৃত্যু হয়।
গত ৯ আগস্ট সুন্দরবনে বাঘের চামড়া পাচারের অভিযোগে আটককৃত ছয় ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি তারা বনদস্যু। বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছেন। তবে পরিবারের দাবি তাদের আটকের পর হত্যা করা হয়েছে।
এভাবেই চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত সাড়ে সাত মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১২১ জন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার’এ নিহত হয়েছেন ৯৫ জন। গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুইজন, শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে একজন, নির্যাতনে তিনজন ও অন্যান্য কারণে চারজন। নিহতদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮ জন, মার্চে ১২ জন, এপ্রিলে ৯ জন, মে মাসে ১৮ জন, জুনে ৯ জন, জুলাইয়ে সাতজন এবং চলতি মাসের এ ক’দিনে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে গতকালই নিহত হয়েছেন তিনজন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকায় দেশে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরাধ প্রমাণের আগেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী বিনাবিচারে অভিযুক্তদের হত্যা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।’
বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, দেশ যারা পরিচালনা করছে বা শাসন করছে এবং যাদের ওপর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের ভেতরে হয়তো শটকার্ট পথে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করার মনোভাব বিরাজ করছে। ফলে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বা যারা অপরাধী তাদের ব্যাপারে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হয়তো তাদের ধারণা এতে ভয়ার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হলে অপরাধীরা আর অপরাধ করবে না। তবে প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া আছে। ফলে সমাজে এই ধরণের ভয় সৃষ্টির ঘটনা আরো ঘটছে। এই অবস্থা থেকেই শিশু হত্যা, কারো চুল কেটে নেয়ার মতো মানসিকতার সৃষ্টি হচ্ছে। নুর খান লিটন বলেন, কোনো সভ্য দেশে এই হত্যাকান্ড সমর্থন করা যায় না। আমাদের ভাবতে হবে আমরা সাময়িক সমাধান চাই, না স্থায়ী সমাধান চাই।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান গতকাল একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বলেন, বিচারবহির্ভূত কোনো কিছুই সমর্থনযোগ্য নয়।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া নজরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলতে আমাদের আইনে কোনো শব্দ নেই। হত্যা না ব্যক্তিগত আত্মরক্ষায় ঘটনা ঘটেছে, এটি বৈধ না অবৈধ তা বলার এখতিয়ার একমাত্র ম্যাজিস্ট্র্রেটের। কোনো ঘটনা ঘটলে ম্যাজিস্ট্র্রেট তদন্ত করে তা বলবেন। এর বাইরে কেউ এটি নিয়ে কথা বললে সেটি আইনকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কেউ নিহত হলে সেটি যদি যথার্থ না হয় তবে সরাসরি খুনের মামলা হবে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন এবং একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলছেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি পুলিশকে যেমন তার কাজের জন্য আইনের সীমারেখার মধ্যে কাজ করতে হবে। তেমনি যখন সমালোচনা করা হবে তখন আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি সমালোচনার অনুরোধ জানান।
র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান নয়া দিগন্তকে বলেন, র্যাবের সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা কখনোই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। তিনি বলেন, র্যাব অপরাধীদের ধরতে গেলে সেখানে দেখা যায় অনেক সময় অপরাধীরা প্রথমে র্যাবের ওপর গুলি চালায়। র্যাব সদস্যরা তখন আত্মরক্ষা ও জানমাল রক্ষার্থে গুলিবর্ষণে বাধ্য হয়। এতে কেউ কেউ মারা যায়। আগে দুর্বৃত্তরা ফায়ার করে এবং পরে র্যাব বাধ্য হয়ে গুলিবর্ষণ করে।
Monday, April 6, 2015
এলাকায় যেতে পারছেন না অনেক প্রার্থী by আবু সালেহ আকন
আর
তিন দিন পরই আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু। কিন্তু এখনো এলাকায় যেতে
পারছেন না ২০ দলীয় জোট প্রার্থীরা। দু’চারজন ছাড়া সব প্রার্থীই এখনো এলাকার
বাইরে আত্মগোপন করে আছেন। তারা বলেছেন, পুলিশ সকাল-বিকেল তাদেরকে খুঁজে
বেড়াচ্ছে গ্রেফতারের জন্য। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর
গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির ভয়ে এখনো তারা এলাকায় যেতে পারছেন না। তারা
বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাদের পক্ষে
সম্ভব হবে না। প্রার্থীরা বলেছেন, তারা সুষ্ঠুভাবে সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন
করতে চান।
ঢাকা মহানগর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন বলেছেন, আমরা এলাকায় যেতে পারছি না। পুলিশ ২০ দলীয় জোটের যাকে পাচ্ছে তাকেই ধরে মামলায় ঢোকাচ্ছে। তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও তাকে ধরে পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখাচ্ছে। গোলাম হোসেন বলেন, এভাবে সব প্রার্থীই পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরাও এলাকায় যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে চাই।’ তিনি বলেন, শুধু প্রার্থীদের বাড়িঘরেই নয়, আশপাশের লোকজনের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে। আশপাশের মানুষকেও হয়রানি করছে।
একই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী মো: মোরছালিন বলেন, আমরা এলাকায় ঢুকতে পারছি না। পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপন করে থাকতে হচ্ছে। নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় থাকতে পারছেন না। যাকে পাচ্ছে পুলিশ তাকেই ধরে পেন্ডিং মামলায় দিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং ওই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুর রবের এক আত্মীয় জানান, প্রতিদিন পুলিশ কয়েক দফায় ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। শুধু পুলিশই নয়, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়মিত দু’তিনবার ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। আব্দুর রব যেদিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন পুলিশ সেদিন তার ২৯/১ পুরানা পল্টনের বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
পল্টন থানা বিএনপির আহবায়ক আনবির আদিল খান বাবু জানান, পুলিশ প্রতিদিন কয়েক দফায় তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। এলাকায় প্রবেশ করার কোনোই সুযোগ এখন পর্যন্ত হয়নি। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করা সম্ভব হবে না।
গত বৃহস্পতিবার মিরপুর এলাকায় সম্ভাব্য অন্তত আটজন প্রার্থীর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। এর পর থেকে ওই এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সবাই এলাকা থেকে অন্যত্র চলে গেছেন পুলিশি হয়রানির ভয়ে। এক প্রার্থী বলেছেন, পুলিশ শুধু তাদেরকেই নয়, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদেরও নানাভাবে হয়রানি করছে।
খিলগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক-উল ইসলাম বলেছেন, মামলা না থাকলেও পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করছে এবং ধরে ধরে পেন্ডিং মামলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভয়ে নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় যেতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু পোশাকধারী পুলিশই নয়, ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের খবরাখবর সংগ্রহে গোয়েন্দারাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার আসামি যেসব প্রার্থী রয়েছেন তাদের তালিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু ওইসব আসামি আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত না হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেও পিছু ছাড়েনি পুলিশ-গোয়েন্দারা। যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই তারাও বাদ যাচ্ছেন না পুলিশ-গোয়েন্দাদের নজরদারি থেকে। এ দিকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা নির্দেশনানুযায়ী কাজ করছেন।
ঢাকা মহানগর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন বলেছেন, আমরা এলাকায় যেতে পারছি না। পুলিশ ২০ দলীয় জোটের যাকে পাচ্ছে তাকেই ধরে মামলায় ঢোকাচ্ছে। তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও তাকে ধরে পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার দেখাচ্ছে। গোলাম হোসেন বলেন, এভাবে সব প্রার্থীই পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরাও এলাকায় যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে চাই।’ তিনি বলেন, শুধু প্রার্থীদের বাড়িঘরেই নয়, আশপাশের লোকজনের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে। আশপাশের মানুষকেও হয়রানি করছে।
একই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী মো: মোরছালিন বলেন, আমরা এলাকায় ঢুকতে পারছি না। পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপন করে থাকতে হচ্ছে। নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় থাকতে পারছেন না। যাকে পাচ্ছে পুলিশ তাকেই ধরে পেন্ডিং মামলায় দিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং ওই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুর রবের এক আত্মীয় জানান, প্রতিদিন পুলিশ কয়েক দফায় ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। শুধু পুলিশই নয়, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়মিত দু’তিনবার ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। আব্দুর রব যেদিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন পুলিশ সেদিন তার ২৯/১ পুরানা পল্টনের বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
পল্টন থানা বিএনপির আহবায়ক আনবির আদিল খান বাবু জানান, পুলিশ প্রতিদিন কয়েক দফায় তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। এলাকায় প্রবেশ করার কোনোই সুযোগ এখন পর্যন্ত হয়নি। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করা সম্ভব হবে না।
গত বৃহস্পতিবার মিরপুর এলাকায় সম্ভাব্য অন্তত আটজন প্রার্থীর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। এর পর থেকে ওই এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সবাই এলাকা থেকে অন্যত্র চলে গেছেন পুলিশি হয়রানির ভয়ে। এক প্রার্থী বলেছেন, পুলিশ শুধু তাদেরকেই নয়, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদেরও নানাভাবে হয়রানি করছে।
খিলগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক-উল ইসলাম বলেছেন, মামলা না থাকলেও পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করছে এবং ধরে ধরে পেন্ডিং মামলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভয়ে নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় যেতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু পোশাকধারী পুলিশই নয়, ২০ দলীয় জোট প্রার্থীদের খবরাখবর সংগ্রহে গোয়েন্দারাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার আসামি যেসব প্রার্থী রয়েছেন তাদের তালিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু ওইসব আসামি আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত না হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেও পিছু ছাড়েনি পুলিশ-গোয়েন্দারা। যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই তারাও বাদ যাচ্ছেন না পুলিশ-গোয়েন্দাদের নজরদারি থেকে। এ দিকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা নির্দেশনানুযায়ী কাজ করছেন।
Monday, March 23, 2015
ক্ষমতাসীনদের হাতে অবৈধ অস্ত্র- ঘটছে হতাহতের ঘটনা by আবু সালেহ আকন
ক্ষমতাসীনদের
কারো কারো হাতে অবৈধ অস্ত্র। আর এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে প্রকাশ্যেই।
কখনো কখনো পুলিশের সামনেই ব্যবহার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্বিকার। প্রকাশ্যে গোলাগুলি করেও
পার পেয়ে যাচ্ছে এসব অস্ত্রধারী। এমনকি কোনো কোনো ঘটনায় থানায় মামলা
পর্যন্ত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অস্ত্রের ব্যবহার ক্রমেই
ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলোতে প্রায়ই
এসব অস্ত্রের ব্যবহার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা আতঙ্কের
কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ যেসব সংঘর্ষে জড়িয়েছে তার প্রায় প্রতিটিতেই আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও বোমার ব্যবহার হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র তো রয়েছেই। বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এভাবে সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
গত ২০ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর উপশহর তেররতনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল ও ছাত্রলীগ নেতা দুলাল মিয়া গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ ও আরেকজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে গোলাগুলির বিষয়ে কিছু জানা নেই।
গত ১৮ মার্চ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাঁধন খন্দকার নামে ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ১৭ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জঙ্গল পদুয়া এলাকায় রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
গত ১২ মার্চ পাবনা শহরের রামচন্দ্রপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
গত ১২ মার্চ রাতে সিলেটে যুবলীগ ক্যাডার পীযূষ গ্রুপের সাথে ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সরকারের গণপূর্ত ও রেজিস্ট্রি অফিসে হামলা চালানো হয়।
গত ১১ মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল তুহিনের কারামুক্তি উপলক্ষে র্যালিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। তবে ঘটনার পর নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওসার সাংবাদিকদের বলেছেন, অস্ত্রের মহড়া সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
গত ১০ মার্চ সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুৎ ভবনে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে আগ্নেযাস্ত্র উঁচিয়ে সেখানে মহড়া দেয়া হয়। অথচ ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা গোলাগুলির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আশরাফ উদ্দিন (৬০) নামের একজন নিহত হন।
এ দিকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে গ্রেফতারেরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনার আকন্দবাড়িয়া থেকে বোমা বানাতে গিয়ে আহত যুবলীগ কর্মী নাজমুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দু’দিন আগে নিজ বাসায় ছাদে বোমা বানানোর সময় সে গুরুতর আহত হয়। পরে গোপনে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিদেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিনসহ কায়সার নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পৌর কলচমা গ্রামের যুবলীগ কর্মী ওয়াসীমকে একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনতা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীনদের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ক্রমেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ নিয়ে তারাও বিপাকে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ যেসব সংঘর্ষে জড়িয়েছে তার প্রায় প্রতিটিতেই আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও বোমার ব্যবহার হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র তো রয়েছেই। বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই এভাবে সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
গত ২০ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর উপশহর তেররতনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল ও ছাত্রলীগ নেতা দুলাল মিয়া গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ ও আরেকজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে গোলাগুলির বিষয়ে কিছু জানা নেই।
গত ১৮ মার্চ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাঁধন খন্দকার নামে ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ১৭ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জঙ্গল পদুয়া এলাকায় রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
গত ১২ মার্চ পাবনা শহরের রামচন্দ্রপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
গত ১২ মার্চ রাতে সিলেটে যুবলীগ ক্যাডার পীযূষ গ্রুপের সাথে ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সরকারের গণপূর্ত ও রেজিস্ট্রি অফিসে হামলা চালানো হয়।
গত ১১ মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল তুহিনের কারামুক্তি উপলক্ষে র্যালিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। তবে ঘটনার পর নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওসার সাংবাদিকদের বলেছেন, অস্ত্রের মহড়া সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
গত ১০ মার্চ সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুৎ ভবনে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে আগ্নেযাস্ত্র উঁচিয়ে সেখানে মহড়া দেয়া হয়। অথচ ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা গোলাগুলির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আশরাফ উদ্দিন (৬০) নামের একজন নিহত হন।
এ দিকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে গ্রেফতারেরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনার আকন্দবাড়িয়া থেকে বোমা বানাতে গিয়ে আহত যুবলীগ কর্মী নাজমুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দু’দিন আগে নিজ বাসায় ছাদে বোমা বানানোর সময় সে গুরুতর আহত হয়। পরে গোপনে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিদেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিনসহ কায়সার নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পৌর কলচমা গ্রামের যুবলীগ কর্মী ওয়াসীমকে একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জনতা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীনদের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ক্রমেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ নিয়ে তারাও বিপাকে রয়েছেন।
Wednesday, March 18, 2015
ভয়ানক অপরাধের বিস্তৃতি : মানুষ আতঙ্কিত by আবু সালেহ আকন
ভয়ানক
অপরাধের বিস্তৃতি ঘটছে দেশজুড়ে। খুন-গুমসহ নানা অপরাধের বিস্তৃতিতে
আতঙ্কিত মানুষ। নারীর সাত টুকরা লাশ, স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণের
দাবিতে হত্যার ঘটনা ব্যাপক ভীতির জন্ম দিয়েছে। ছাত্র হত্যার সঙ্গে পুলিশ
সদস্য, র্যাবের সোর্স ও সরকারদলীয় নেতা জড়িত থাকার বিষয়টি আরো চাঞ্চল্য
সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে তুলে নেয়ার পরে রাজনৈতিক
নেতাদের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তো রয়েছেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র
জানায়, গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ সারা দেশে খুন, গুম, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই,
চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি মারাত্মকরূপ ধারণ করেছে। কোনো কোনো অপরাধের ঘটনায়
সরাসরি জড়িত রয়েছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে টেন্ডারবাজি ও
আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় সমর্থকেরা নিজেদের মধ্যেই জড়িয়ে পড়ছেন
সহিংস ঘটনায়। বাড়ছে হতাহতের ঘটনা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে সম্প্রতি ভয়ানক কিছু সহিংস ঘটনা মানুষকে ব্যাপক আলোড়িত করেছে। সিলেটে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে আবু সাঈদ (৯) নামের এক স্কুলছাত্রকে। গত শনিবার রাতে নগরীর ঝর্ণারপাড় আবাসিক এলাকার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুরের বাসা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই শিশুটিকে গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। নগরীর রায়নগর এলাকা থেকে শিশুটি তার মামার বাসায় যাচ্ছিল। পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় কনস্টেবল এবাদুরকে গ্রেফতার করার পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সে বলেছে, এই অপহরণ, হত্যা ও গুমের সঙ্গে জেলা ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব এবং র্যাবের সোর্স গেদা মিয়া জড়িত। তারা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। পরে শিশুটি তাদের চিনে ফেলায় তারা মুক্তিপণের টাকা না নিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলে।
এ দিকে গতকাল রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত বছর বয়সী ওই শিশুটির লাশ পাওয়া যায় একটি ব্যাগে। কোত্থেকে কিভাবে লাশটি যাত্রীবাহী বাসে এলো তা জানতে বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন মাহতাব নামের এক সাংবাদিক। দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাহতাবকে মারাত্মক জখম করে তার টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় এক তরুণীর সাত টুকরা লাশ উদ্ধার হয়। তরুণীর পরিচয় মিললেও কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ-গোয়েন্দারা।
এসব ঘটনার সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়ার পরে তাদের আর খোঁজ মিলছে না। গত ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার এক বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদকে। গতকাল পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আদালত নির্দেশ দিলেও তারা সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করতে পারেনি। গত ৬ মার্চ মোহাম্মদপুর থেকে ধরে নেয়া হয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকনকে। এরপর তার খোঁজ মেলেনি। মিরপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম। প্রায় দুই সপ্তাহেও তার খোঁজ মেলেনি।
এ দিকে টেন্ডারবাজিতে অস্থির হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সরকারি দফতর। আর এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন খোদ সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এমনকি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে। গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুৎ ভবনে ব্যাপক গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেফতারও হচ্ছে না। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও গতকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ভবনের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে সম্প্রতি ভয়ানক কিছু সহিংস ঘটনা মানুষকে ব্যাপক আলোড়িত করেছে। সিলেটে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে আবু সাঈদ (৯) নামের এক স্কুলছাত্রকে। গত শনিবার রাতে নগরীর ঝর্ণারপাড় আবাসিক এলাকার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুরের বাসা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই শিশুটিকে গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। নগরীর রায়নগর এলাকা থেকে শিশুটি তার মামার বাসায় যাচ্ছিল। পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় কনস্টেবল এবাদুরকে গ্রেফতার করার পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সে বলেছে, এই অপহরণ, হত্যা ও গুমের সঙ্গে জেলা ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব এবং র্যাবের সোর্স গেদা মিয়া জড়িত। তারা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। পরে শিশুটি তাদের চিনে ফেলায় তারা মুক্তিপণের টাকা না নিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলে।
এ দিকে গতকাল রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত বছর বয়সী ওই শিশুটির লাশ পাওয়া যায় একটি ব্যাগে। কোত্থেকে কিভাবে লাশটি যাত্রীবাহী বাসে এলো তা জানতে বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন মাহতাব নামের এক সাংবাদিক। দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাহতাবকে মারাত্মক জখম করে তার টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় এক তরুণীর সাত টুকরা লাশ উদ্ধার হয়। তরুণীর পরিচয় মিললেও কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ-গোয়েন্দারা।
এসব ঘটনার সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়ার পরে তাদের আর খোঁজ মিলছে না। গত ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার এক বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদকে। গতকাল পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আদালত নির্দেশ দিলেও তারা সালাহউদ্দিনকে খুঁজে বের করতে পারেনি। গত ৬ মার্চ মোহাম্মদপুর থেকে ধরে নেয়া হয়েছে ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকনকে। এরপর তার খোঁজ মেলেনি। মিরপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম। প্রায় দুই সপ্তাহেও তার খোঁজ মেলেনি।
এ দিকে টেন্ডারবাজিতে অস্থির হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সরকারি দফতর। আর এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন খোদ সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এমনকি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে। গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ের পাশে বিদ্যুৎ ভবনে ব্যাপক গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেফতারও হচ্ছে না। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও গতকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ভবনের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
Saturday, March 14, 2015
গ্রেফতার হলেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা by আবু সালেহ আকন
![]() |
| একমাত্র ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছেলের অপরাধ কী জানেন না এই মা। গতকাল আদালত এলাকায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি : নয়া দিগন্ত |
গ্রেফতার
হলেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে জীবন যাবে, না গুলি
খেয়ে পঙ্গু হবে এ আশঙ্কায় থাকেন স্বজনরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ আশঙ্কা সঠিক
প্রমাণিত না হলেও কারো কারো আশঙ্কা ঠিকই ফলে যায়। গত সোমবার রাতে রাজশাহীর
মতিহার থানার শ্যামপুর থেকে আটক হওয়া সবুজ আলী এর একটি উদাহরণ। সবুজ আলী
মঙ্গলবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার সাথে আটক হওয়া অপর যুবক তানজিদুর
রহমানের খোঁজ মেলেনি গত বুধবার পর্যন্ত। এ দিকে ঢাকায় আটক হওয়া তিন
ছাত্রকে দুই দিন পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দেশে গড়ে প্রতিদিন ২০ দলীয়
জোটের অন্তত ৩০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। গতকালও দেশের বিভিন্ন এলাকায়
ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গত
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ দিন ভোর পর্যন্ত ২৪
ঘণ্টায় পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে গ্রেফতার করে।
এর মধ্যে বিএনপির আটজন এবং জামায়াত-শিবিরের ১৩ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। পুলিশ
জানিয়েছে, তারা নাশকতায় জড়িত।
খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মহানগর যুবদলের সহসভাপতি ইকরামুল কবির মিল্টনও রয়েছেন। এ ছাড়াও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিম ও সোনাডাঙ্গা থানা যুবদলের প্রকাশনা সম্পাদক হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ দিকে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোরে নগরীর গগন বাবু রোড এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে কে বা কারা।
পাবনায় নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত-বিএনপিসহ ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশ তাকে জেলগেট থেকে ফের গ্রেফতার করে।
রংপুরের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের আট কর্মীসহ ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
নাশকতার অভিযোগে মানিকগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মেহেরপুরে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে চলছে অভিযান।
সূত্র জানায়, যখন কোথাও কেউ গ্রেফতার হয় তখন তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত সোমবার তিন ছাত্র আটক হওয়ার পরে তাদের স্বজনেরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেন। গত ৯ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে ড. মাহবুবর রহমান মোল্লা কলেজের ছাত্র সাইদুল ইসলাম, তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ছাত্র হাসান রাব্বি এবং সিটি কলেজের ছাত্র নাকিবুল আরেফিনকে বাসার সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত ছাত্রদের বাবা আনোয়ার হোসেন, হানিফ শিকদার ও মাওলানা ফয়সাল আহমেদ এক যৌথ বিবৃতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গতকাল ওই তিন ছাত্রকে আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার রাতে রাজশাহীর মতিহার থেকে আটক করা হয় দুই ছাত্রকে। প্রথমে পুলিশ আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে। আটককৃত তানজিদুর রহমানের বাবা নূর ইসলাম এবং সবুজ আলীর বাবা সাদেক আলী এক বিবৃততে বলেছেন, সোমবার রাত ১টায় আমাদের দুই সন্তান, ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র তানজিদুর রহমান রিপন এবং একই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র সবুজ আলীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সবার সামনে বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সকালে আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে মতিহার থানায় দেখা করি এবং খাবারও দিই। কিন্তু দুপুরে হঠাৎ করে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। মঙ্গলবার রাত দেড়টায় সবুজ আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায়। সবুজ আলীর বাবা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার রাত দেড়টায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফোন করে বলেন তোমার ছেলেকে দেখতে চাইলে এই মুহূর্তে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসতে হবে। তিনি গিয়ে হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে সবুজকে চিকিৎসাধীন দেখতে পান। গতকাল সকালে মতিহার থানার ওসি আব্দুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, সবুজকে নিয়ে বিনোদপুর মতিমহলের আশপাশে অভিযান চালালে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে। এ অবস্থায় পুলিশ গুলি চালালে সে আহত হয়। এ দিকে সবুজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও রিপনের খোঁজ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মহানগর যুবদলের সহসভাপতি ইকরামুল কবির মিল্টনও রয়েছেন। এ ছাড়াও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিম ও সোনাডাঙ্গা থানা যুবদলের প্রকাশনা সম্পাদক হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ দিকে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোরে নগরীর গগন বাবু রোড এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে কে বা কারা।
পাবনায় নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত-বিএনপিসহ ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশ তাকে জেলগেট থেকে ফের গ্রেফতার করে।
রংপুরের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের আট কর্মীসহ ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
নাশকতার অভিযোগে মানিকগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মেহেরপুরে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে চলছে অভিযান।
সূত্র জানায়, যখন কোথাও কেউ গ্রেফতার হয় তখন তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত সোমবার তিন ছাত্র আটক হওয়ার পরে তাদের স্বজনেরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেন। গত ৯ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে ড. মাহবুবর রহমান মোল্লা কলেজের ছাত্র সাইদুল ইসলাম, তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ছাত্র হাসান রাব্বি এবং সিটি কলেজের ছাত্র নাকিবুল আরেফিনকে বাসার সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত ছাত্রদের বাবা আনোয়ার হোসেন, হানিফ শিকদার ও মাওলানা ফয়সাল আহমেদ এক যৌথ বিবৃতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গতকাল ওই তিন ছাত্রকে আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার রাতে রাজশাহীর মতিহার থেকে আটক করা হয় দুই ছাত্রকে। প্রথমে পুলিশ আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে। আটককৃত তানজিদুর রহমানের বাবা নূর ইসলাম এবং সবুজ আলীর বাবা সাদেক আলী এক বিবৃততে বলেছেন, সোমবার রাত ১টায় আমাদের দুই সন্তান, ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র তানজিদুর রহমান রিপন এবং একই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র সবুজ আলীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সবার সামনে বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সকালে আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে মতিহার থানায় দেখা করি এবং খাবারও দিই। কিন্তু দুপুরে হঠাৎ করে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। মঙ্গলবার রাত দেড়টায় সবুজ আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায়। সবুজ আলীর বাবা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার রাত দেড়টায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফোন করে বলেন তোমার ছেলেকে দেখতে চাইলে এই মুহূর্তে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসতে হবে। তিনি গিয়ে হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে সবুজকে চিকিৎসাধীন দেখতে পান। গতকাল সকালে মতিহার থানার ওসি আব্দুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, সবুজকে নিয়ে বিনোদপুর মতিমহলের আশপাশে অভিযান চালালে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে। এ অবস্থায় পুলিশ গুলি চালালে সে আহত হয়। এ দিকে সবুজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও রিপনের খোঁজ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
Wednesday, March 11, 2015
অবরোধের ৬৫ দিন- ধরপাকড় অব্যাহত by আবু সালেহ আকন
রাজধানীসহ
সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন কর্মসূচি
ঘিরেই চলছে এই গ্রেফতার অভিযান। কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ ও যৌথবাহিনীর
সদস্যরা ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশি করছে। টার্গেটকৃত নেতাকর্মীদের না পেয়ে তাদের
আত্মীয়স্বজনের সাথে দুর্ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ আসছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর এই দুর্ব্যবহারে হার্টঅ্যাটাক করে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা অবরোধ ও চলমান হরতালে কোনো কোনো এলাকায়
মিছিল-সমাবেশ, পিকেটিংসহ কোনো কর্মসূচি না থাকলেও গ্রেফতার অভিযান থেমে নেই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের। মাঝেমধ্যে একটু ঢিলেঢালা হলেও হঠাৎ বেড়ে যায় এই
অভিযান। গত দু’দিন ধরে আবারো শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। এ দিকে
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অনেককে আদালতে সোপর্দ না করে পুলিশ থানায় আটকে রাখছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ২০ দলীয় জোটের হরতাল কর্মসূচি শিথিল ছিল। গত সোমবার বিকেলে এই ঘোষণা দেয়া হয় ২০ দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু তাই বলে সোমবার থেকে গ্রেফতার থেমে থাকেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ৪ শতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাশকতার আশঙ্কায় পাবনায় জামায়াত-বিএনপি ও অন্যদলের ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১১ থানায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআই-১) সাংবাদিকদের জানান, ‘জামায়াতের ৮, বিএনপির ১ ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৪৬ জনসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
রংপুরে বিএনপি-জামায়াতের ১২ কর্মীসহ ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম অপারেটর এম এ মাজেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে বিএনপির একজন ও জামায়াতের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া পীরগাছায় বিএনপির পাঁচ ও জামায়াতের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগের দিন রংপুর জেলা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী বীথিসহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
টানা অবরোধ ও হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন গ্রেফতারের বিষয়টি।
২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালে পঞ্চগড়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার কায়েতপাড়া গ্রামের মরহুম শফিউল ইসলামের ছেলে এ টি এম হাসানুজ্জামান পলাশ, চাকলাহাট ইউনিয়নের সর্দার পাড়া গ্রামের রজির উদ্দীনের ছেলে মো: ইয়াকুব আলীকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এ ছাড়া সাতমেরা ইউনিয়নের ঠিলাপাড়া গ্রামের মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে মো: লুৎফর রহমানকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অবরোধ-হরতালে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে মানিকগঞ্জে বিএনপির তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে এদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন সোয়েব রানা (৩২), বাবুল হোসেন (৩৮) ও আবু সাঈদ (৪২)।
চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে বিএনপি-জামায়াতর ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে বিএনপির ১ ও জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মী রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
নড়াইলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল মিরাজ ওরফে জনিসহ (২৭) ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পুলিশের দাবি, তাদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টির মামলায় নড়াইল পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল মিরাজ ওরফে জনি এবং বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দাউদকান্দিতে পৌর জামায়াতের আমিরসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ দাউদকান্দি পৌর জামায়াতের আমির আবুল কাশেম (৪৮), ইসমাইল হোসেন (২১), আল হেলাল (১৮), মহিউদ্দিন সোহেল (২৭), কামরুল হাসান (৪০), সাকিব (১৮), মো: ইয়াসিন (১৮), নুরুজ্জামান (৫০), মো: হুমায়ুন (২২) ও খন্দকার হাসান (২০)। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার বিশেষ মতা আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ১১ জন বিএনপির, বাকিরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলেও জানান তিনি।
গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেছেন, হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও শিবিরের নেতাকর্মী রয়েছেন।
এ দিকে কোনো কোনো এলাকায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ না করে থানায় আটক রাখার অভিযোগ মিলেছে। গত সোমবার বিকেলে কদমতলী থানা পুলিশ তিন ছাত্রকে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাইদুল ইসলাম, হাসান রাব্বি এবং নাকিবুল আরেফিন। এই তিন ছাত্রের বাবা আনোয়ার হোসেন, হানিফ শিকদার এবং মাওলানা ফয়সাল আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের সন্তানদের বিনা কারণে পুলিশ আটক করেছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করে পুলিশ তাদেরকে থানায় আটকে রেখেছে। এ ব্যাপারে কদমতলী থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাহমুদ বলেছেন, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ২০ দলীয় জোটের হরতাল কর্মসূচি শিথিল ছিল। গত সোমবার বিকেলে এই ঘোষণা দেয়া হয় ২০ দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু তাই বলে সোমবার থেকে গ্রেফতার থেমে থাকেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ৪ শতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাশকতার আশঙ্কায় পাবনায় জামায়াত-বিএনপি ও অন্যদলের ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১১ থানায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআই-১) সাংবাদিকদের জানান, ‘জামায়াতের ৮, বিএনপির ১ ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৪৬ জনসহ ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
রংপুরে বিএনপি-জামায়াতের ১২ কর্মীসহ ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম অপারেটর এম এ মাজেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে বিএনপির একজন ও জামায়াতের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া পীরগাছায় বিএনপির পাঁচ ও জামায়াতের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগের দিন রংপুর জেলা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী বীথিসহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
টানা অবরোধ ও হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন গ্রেফতারের বিষয়টি।
২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালে পঞ্চগড়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার কায়েতপাড়া গ্রামের মরহুম শফিউল ইসলামের ছেলে এ টি এম হাসানুজ্জামান পলাশ, চাকলাহাট ইউনিয়নের সর্দার পাড়া গ্রামের রজির উদ্দীনের ছেলে মো: ইয়াকুব আলীকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এ ছাড়া সাতমেরা ইউনিয়নের ঠিলাপাড়া গ্রামের মৃত কছিমদ্দিনের ছেলে মো: লুৎফর রহমানকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অবরোধ-হরতালে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে মানিকগঞ্জে বিএনপির তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে এদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন সোয়েব রানা (৩২), বাবুল হোসেন (৩৮) ও আবু সাঈদ (৪২)।
চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে বিএনপি-জামায়াতর ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে বিএনপির ১ ও জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মী রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
নড়াইলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল মিরাজ ওরফে জনিসহ (২৭) ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পুলিশের দাবি, তাদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টির মামলায় নড়াইল পৌর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল মিরাজ ওরফে জনি এবং বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দাউদকান্দিতে পৌর জামায়াতের আমিরসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ দাউদকান্দি পৌর জামায়াতের আমির আবুল কাশেম (৪৮), ইসমাইল হোসেন (২১), আল হেলাল (১৮), মহিউদ্দিন সোহেল (২৭), কামরুল হাসান (৪০), সাকিব (১৮), মো: ইয়াসিন (১৮), নুরুজ্জামান (৫০), মো: হুমায়ুন (২২) ও খন্দকার হাসান (২০)। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার বিশেষ মতা আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ১১ জন বিএনপির, বাকিরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলেও জানান তিনি।
গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেছেন, হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও শিবিরের নেতাকর্মী রয়েছেন।
এ দিকে কোনো কোনো এলাকায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ না করে থানায় আটক রাখার অভিযোগ মিলেছে। গত সোমবার বিকেলে কদমতলী থানা পুলিশ তিন ছাত্রকে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাইদুল ইসলাম, হাসান রাব্বি এবং নাকিবুল আরেফিন। এই তিন ছাত্রের বাবা আনোয়ার হোসেন, হানিফ শিকদার এবং মাওলানা ফয়সাল আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের সন্তানদের বিনা কারণে পুলিশ আটক করেছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করে পুলিশ তাদেরকে থানায় আটকে রেখেছে। এ ব্যাপারে কদমতলী থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাহমুদ বলেছেন, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
Saturday, March 7, 2015
মেয়র গফুরের ময়নাতদন্তের নথি হাসপাতাল থেকে খোয়া গেছে by আবু সালেহ আকন
রাজশাহীর নওহাটা পৌরমেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুরের ময়নাতদন্তের কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে খোয়া গেছে ওই কাগজপত্র। ওই কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পরেই জানা যাবে আসলে কী ছিল ওই প্রতিবেদনে। এ দিকে গফুরের মৃত্যুর ব্যাপারে তার সর্বশেষ স্ত্রী ডা. মীম বলেছেন, গফুরকে হত্যা করা হয়নি। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন তিনি। এরপর গফুর মারা যান। পবা থানার ওসি মো: মতিউর রহমান বলেছেন, মীম একেক সময় একেক কথা বলছেন।
গত ৩ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক বাসায় মারা যান পবার নওহাটা পৌরমেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুর (৬০)। ৮ জানুয়ারি গোপনে গফুরের লাশ দাফন করা হয় আজিমপুর কবরস্থানে। পরিবারের ভাষ্য, ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন মেয়র আব্দুল গফুর। ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগও হয় তার। এরপর আর যোগাযোগ না হওয়ায় তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানান। ১৯ জানুয়ারি মেয়রের প্রথম স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা পারুল বাদি হয়ে পবা থানায় অপহরণ মামলা করেন। মাঝে বিভিন্ন সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ছেলের মোবাইলে যোগাযোগ করে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ৫০ হাজার টাকা। একই সাথে তার হয়ে চিঠিও পাঠানো হয় পৌরসভায়।
মামলার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে গফুরের প্রেমিকা ডাক্তার জান্নাতুন সালমা মিমকে গ্রেফতার করে। একই সাথে মিমের দুই বোন জান্নাতুন নাঈম এবং জান্নাতুন ফেরদৌসীকেও গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা ও নওগাঁ থেকে গ্রেফতার হন তারা। মিম এবং তার দুই বোনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে গফুর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক বাসায় মারা গেছেন। ৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান। ৪ জানুয়ারি তার লাশের ময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে। এরপর ৮ জানুয়ারি তার লাশ দাফন করা হয় আজিমপুর কবরস্থানে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মিম নিজেই ওই লাশটি হাসপাতাল মর্গে এনেছিলেন। হাসপাতালের রেকর্ডে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে শামীমা। গফুরকে ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের যে ঠিকানাটি মর্গের রেকর্ডে রয়েছে সেটি অস্পষ্ট। শুধু দেয়া আছে হাউজ নম্বর-৩, রোড নম্বর-২, মোহাম্মদপুর। পুলিশ জানায়, মিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এতে ৩ মার্চ মিমকে সাথে নিয়ে পবা থানা পুলিশ আজিমপুর গোরস্থানে পৌঁছায়। এরপর বিকেল ৩টায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গফুরের লাশ উত্তোলন শুরু হয়। গত ৪ মার্চ লাশের পুনঃময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।
আব্দুল গফুরের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার হাবিবুজ্জামান। লাশটি গলিত থাকায় আসলেই তা গফুরের লাশ কিনা তা শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা নেয়া হয়েছে তার ছেলে ফয়সাল আহমেদের শরীর থেকেও। ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যাবে লাশটি গফুরের কিনা।
এ দিকে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তা শনাক্ত করা এবং আসলেই গফুরকে হত্যা করা হয়ে থাকলে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ আলামত মহাখালী ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হবে।
এ দিকে হাসপাতাল সূত্র বলেছে, গত ৪ জানুয়ারি গফুরের লাশের ময়নাতদন্ত করেন প্রভাষক গোলাম মোখলেছুর রহমান। কিন্তু ওই কাগজপত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার গোলাম মোখলেছুর রহমান বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। এ দিকে ওই ময়নাতদন্তের কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার হাবিবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ শনিবার যোগাযোগের জন্য।
পবা থানার ওসি বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মিম একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি মুহূর্তেই কথা পরিবর্তন করছেন। তবে তিনি বারবার যে কথাটি বলছেন তা হলো তিনি গফুরকে হত্যা করেননি। গফুরের সাথে ২০১৪ সালের ২৯ মে তার বিয়ে হয়েছে। এরপর প্রায়ই গফুর তার সাথে থাকতেন। ঘটনার রাতেও মোহাম্মদপুরে তার বোনের বাসায় তারা ছিলেন। ওই দিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মিম নিজেই গফুরকে একটি ইনজেকশন দেন। এরপর গফুর মারা যান। ঝামেলা এড়াতে গফুরের লাশ ভুয়া তথ্য দিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পবার ওসি বলেন, মিম প্যারা মেডিক্যাল পাস করেছেন। নওগাঁয় তার একটি কিনিক রয়েছে। তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে আছেন। তার দুই বোনকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক বাসায় মারা যান পবার নওহাটা পৌরমেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গফুর (৬০)। ৮ জানুয়ারি গোপনে গফুরের লাশ দাফন করা হয় আজিমপুর কবরস্থানে। পরিবারের ভাষ্য, ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন মেয়র আব্দুল গফুর। ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগও হয় তার। এরপর আর যোগাযোগ না হওয়ায় তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানান। ১৯ জানুয়ারি মেয়রের প্রথম স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা পারুল বাদি হয়ে পবা থানায় অপহরণ মামলা করেন। মাঝে বিভিন্ন সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ছেলের মোবাইলে যোগাযোগ করে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ৫০ হাজার টাকা। একই সাথে তার হয়ে চিঠিও পাঠানো হয় পৌরসভায়।
মামলার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে গফুরের প্রেমিকা ডাক্তার জান্নাতুন সালমা মিমকে গ্রেফতার করে। একই সাথে মিমের দুই বোন জান্নাতুন নাঈম এবং জান্নাতুন ফেরদৌসীকেও গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা ও নওগাঁ থেকে গ্রেফতার হন তারা। মিম এবং তার দুই বোনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে গফুর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক বাসায় মারা গেছেন। ৩ জানুয়ারি তিনি মারা যান। ৪ জানুয়ারি তার লাশের ময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে। এরপর ৮ জানুয়ারি তার লাশ দাফন করা হয় আজিমপুর কবরস্থানে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মিম নিজেই ওই লাশটি হাসপাতাল মর্গে এনেছিলেন। হাসপাতালের রেকর্ডে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে শামীমা। গফুরকে ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের যে ঠিকানাটি মর্গের রেকর্ডে রয়েছে সেটি অস্পষ্ট। শুধু দেয়া আছে হাউজ নম্বর-৩, রোড নম্বর-২, মোহাম্মদপুর। পুলিশ জানায়, মিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এতে ৩ মার্চ মিমকে সাথে নিয়ে পবা থানা পুলিশ আজিমপুর গোরস্থানে পৌঁছায়। এরপর বিকেল ৩টায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গফুরের লাশ উত্তোলন শুরু হয়। গত ৪ মার্চ লাশের পুনঃময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।
আব্দুল গফুরের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার হাবিবুজ্জামান। লাশটি গলিত থাকায় আসলেই তা গফুরের লাশ কিনা তা শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা নেয়া হয়েছে তার ছেলে ফয়সাল আহমেদের শরীর থেকেও। ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যাবে লাশটি গফুরের কিনা।
এ দিকে এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তা শনাক্ত করা এবং আসলেই গফুরকে হত্যা করা হয়ে থাকলে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ আলামত মহাখালী ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হবে।
এ দিকে হাসপাতাল সূত্র বলেছে, গত ৪ জানুয়ারি গফুরের লাশের ময়নাতদন্ত করেন প্রভাষক গোলাম মোখলেছুর রহমান। কিন্তু ওই কাগজপত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার গোলাম মোখলেছুর রহমান বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। এ দিকে ওই ময়নাতদন্তের কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার হাবিবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ শনিবার যোগাযোগের জন্য।
পবা থানার ওসি বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মিম একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি মুহূর্তেই কথা পরিবর্তন করছেন। তবে তিনি বারবার যে কথাটি বলছেন তা হলো তিনি গফুরকে হত্যা করেননি। গফুরের সাথে ২০১৪ সালের ২৯ মে তার বিয়ে হয়েছে। এরপর প্রায়ই গফুর তার সাথে থাকতেন। ঘটনার রাতেও মোহাম্মদপুরে তার বোনের বাসায় তারা ছিলেন। ওই দিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মিম নিজেই গফুরকে একটি ইনজেকশন দেন। এরপর গফুর মারা যান। ঝামেলা এড়াতে গফুরের লাশ ভুয়া তথ্য দিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পবার ওসি বলেন, মিম প্যারা মেডিক্যাল পাস করেছেন। নওগাঁয় তার একটি কিনিক রয়েছে। তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে আছেন। তার দুই বোনকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
Tuesday, March 3, 2015
গাছে চড়ে বৃদ্ধের গণতন্ত্র উদ্ধারের কর্মসূচি by আবু সালেহ আকন
‘পুলিশ
আমাকে ক্রসফায়ারে দিতে পারবে না, কারণ জনগণ দেখবে। আমাকে মারতে হলে
প্রকাশ্যে জনগণের সামনে মারতে হবে। মাটিতে গণতন্ত্র নেই, তাই আমি গাছে
উঠেছি। গণতন্ত্র উদ্ধারে আমি ২৪ ঘণ্টা এখানে বসে কর্মসূচি পালন করব।’
কথাগুলো জালাল উদ্দিন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের
বাসিন্দা জালাল উদ্দিন গতকাল সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস কাবের প্রধান
ফটকসংলগ্ন একটি কড়ই গাছে অবস্থান নিয়েছেন। আজ সকাল ৯টায় ২৪ ঘণ্টা কর্মসূচি
পালন শেষে তিনি গাছ থেকে নিচে নেমে আসবেন। তিনি সাথে করে খাবার, পানীয়,
দু’টি ফেস্টুন, একটি হ্যান্ডমাইক এবং তিনি যে স্থানে অবস্থান করছেন তার
সামনে একটি ডালে বেঁধে রেখেছেন হারিকেন। গাছের সাথে তিনি লোহার শেকল দিয়ে
নিজেকে বেঁধে রেখেছেন। চাবি অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন, যাতে চাইলেও নিজে
সেখান থেকে নামতে না পারেন।
রাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশে এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেন। তিনি হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর বিরুদ্ধেও তিনি স্লোগান দেন। নিজেকে তিনি দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ষাটোর্ধ্ব এই জালাল উদ্দিন গতকাল সকালে যখন গাছে উঠছিলেন তখন পুলিশ তাকে বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তিনি গাছে চড়ে বসেন। সেখানে তিনি একটি মাইকের সংযোগ পেলেও পরে সেটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এর পর থেকে তিনি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে থেমে থেমে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার কথাগুলো প্রচার করতে থাকেন।
জালাল উদ্দিনের এই কাণ্ড দেখে অনেকেই সেখানে ভিড় জমান। এমনকি, মাঝে মধ্যে চলন্ত যানবাহন থামিয়ে অনেকে তার বক্তব্য শুনতে থাকে। দিনভর তাকে নিয়ে ছিল ব্যাপক আলোচনা। জালাল উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্যই তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন। দেশে সঠিক গণতন্ত্র বিরাজ করলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় জালাল উদ্দিনের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাগীকাল সকাল ৯টার পরই তিনি গাছ থেকে নামবেন। রাতভর গাছে অবস্থান করবেন। কর্মসূচি পালনে কেউ বাধা দিলে জনগণের সামনেই দিতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশের গুলিকে তিনি ভয় করেন না। পুলিশ চাইলেই তাকে গ্রেফতার করবে পারবে। কিন্তু তাকে গুলি করে মারতে গেলে জনগণ দেখবে। তার হাত-পা সব শেকল দিয়ে বাঁধা। গুলি করে হত্যা করলেও তার লাশটি ওখানে ঝুলে থাকবে, যা জনগণ দেখবে।
জাতীয় প্রেস কাবের সামনে দায়িত্বরত পুলিশের একজন কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, তারা জালাল উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। জালাল উদ্দিনের পক্ষে কয়েকজন লোক প্রেস কাবের সামনের রাস্তায় একটি লিফলেট বিতরণ করেন। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের শিরোনামে জনতার উদ্দেশে খোলা চিঠি নামের ওই লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে, ‘বর্তমানে দেশে এক রাজনৈতিক ক্ষমতার যুদ্ধ চলছে। প্রতিদিন নিরীহ লোক মারা যাচ্ছে।’
রাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশে এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেন। তিনি হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর বিরুদ্ধেও তিনি স্লোগান দেন। নিজেকে তিনি দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ষাটোর্ধ্ব এই জালাল উদ্দিন গতকাল সকালে যখন গাছে উঠছিলেন তখন পুলিশ তাকে বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তিনি গাছে চড়ে বসেন। সেখানে তিনি একটি মাইকের সংযোগ পেলেও পরে সেটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এর পর থেকে তিনি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে থেমে থেমে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার কথাগুলো প্রচার করতে থাকেন।
জালাল উদ্দিনের এই কাণ্ড দেখে অনেকেই সেখানে ভিড় জমান। এমনকি, মাঝে মধ্যে চলন্ত যানবাহন থামিয়ে অনেকে তার বক্তব্য শুনতে থাকে। দিনভর তাকে নিয়ে ছিল ব্যাপক আলোচনা। জালাল উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্যই তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন। দেশে সঠিক গণতন্ত্র বিরাজ করলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় জালাল উদ্দিনের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাগীকাল সকাল ৯টার পরই তিনি গাছ থেকে নামবেন। রাতভর গাছে অবস্থান করবেন। কর্মসূচি পালনে কেউ বাধা দিলে জনগণের সামনেই দিতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশের গুলিকে তিনি ভয় করেন না। পুলিশ চাইলেই তাকে গ্রেফতার করবে পারবে। কিন্তু তাকে গুলি করে মারতে গেলে জনগণ দেখবে। তার হাত-পা সব শেকল দিয়ে বাঁধা। গুলি করে হত্যা করলেও তার লাশটি ওখানে ঝুলে থাকবে, যা জনগণ দেখবে।
জাতীয় প্রেস কাবের সামনে দায়িত্বরত পুলিশের একজন কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, তারা জালাল উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। জালাল উদ্দিনের পক্ষে কয়েকজন লোক প্রেস কাবের সামনের রাস্তায় একটি লিফলেট বিতরণ করেন। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের শিরোনামে জনতার উদ্দেশে খোলা চিঠি নামের ওই লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে, ‘বর্তমানে দেশে এক রাজনৈতিক ক্ষমতার যুদ্ধ চলছে। প্রতিদিন নিরীহ লোক মারা যাচ্ছে।’
নাশকতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী by আবু সালেহ আকন
নাশকতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ ও গোয়েন্দারা। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে নাশকতার ঘটনা। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে জানমালের। অপর দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হতাহত হচ্ছে মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় খোদ রাজধানীতেই ১৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে নগরজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। শুক্র-শনিবার রাজধানীতে কিছু যানবাহন লক্ষ করা গেলেও গতকাল ফাঁকা ছিল রাজধানী। জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় একেবারেই জরুরি কাজ ছাড়া গতকাল অনেকেই রাস্তায় বের হননি। যারা রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের চোখেমুখেও ছিল আতঙ্কের ছাপ। পথচারীদের অনেকেই গতকাল মন্তব্য করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না তারা। ফলে জনমনে দিন দিন আতঙ্ক আরো বেড়েই চলছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় খোদ রাজধানীতেই ২৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলেরও একটি গাড়ি রয়েছে। যার মাত্র ১০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। রোববার রাতে বনশ্রীতে বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় আহত হয়েছে অপর একটি টিভি চ্যানেলের একজন সাংবাদিক। গতকাল ট্রাফিক পোস্ট লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার দিকে পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজের সামনে একটি পার্কিং করা প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে কে বা কারা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে জনতা ব্যাংকের একটি স্টাফ বাস লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়। এতে সাতজন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে নর্দ্দায় ট্রাফিক পুলিশ পোস্টকে লক্ষ্য করে পরপর আটটি ককটেল নিক্ষেপ করে কে বা কারা। এতে পুলিশ পোস্ট ও একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সকাল ১০টার দিকে মহাখালীর টিভি গেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন ও কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে তেজগাঁও লিংক রোড থেকে একটি তাজা ককটেল ও আধা লিটার অকটেন উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেলা ৩টার দিকে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন যুবক বনানী-কাকলীর দিকে যেতে ফুলের দোকানগুলোর সামনে এ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে রাস্তায় চলমান দু’টি প্রাইভেট কারে পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলিস্তান জিপিওর মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণে তিন পথচারী আহত হয়েছেন।
গত শনিবার সন্ধ্যার পরপর রাজধানীর মৌচাক, বনানী, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরে ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে মৌচাকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। চ্যানেলটির কার্যালয়ের প্রায় সামনেই গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মৌচাক মোড়ে তখন বিপুলসংখ্যক পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একে একে মোট চারটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। যাত্রাবাড়ীতেও পুলিশের সামনেই ঘটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। কিন্তু পুলিশ দুর্বৃত্তদের আটক করতে পারেনি। একাধিক গাড়িচালক গতকাল বলেন, তারা চরম আতঙ্কে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন। তাদেরকে নেতারা আশ্বস্ত করেন নিরাপত্তা দেয়ার। কিন্তু রাস্তায় নামলে ঘটনা ঘটে উল্টো। রাস্তায় তাদের অনিরাপদ অবস্থায় গাড়ি চালাতে হয়। পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে তাদের রাস্তায় চলতে হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর এক বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ বাধ্য করছে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে। পুলিশ একাধিকবার থানায় ডেকে নিয়ে বলেছে গাড়ি চালাতে। কিন্তু নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো দায়দায়িত্ব নিচ্ছে না।
আগের রাতে ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর রোববার সকাল থেকে রাজধানীতে ফের শুরু হয় অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার দিকে ফুলবাড়িয়া ও রায়েরবাগে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যদর্শীরা জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে পার্ক করে রাখা ঢাকা-দোহার ও ঢাকা-মাওয়া রুটে চলাচলকারী নগর পরিবহনের দু’টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল-অবরোধ সমর্থকেরা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগের পুনম সিনেমা হলের সামনের সড়কে বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় রাস্তার অপর পাশে আরো একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে পার্কিং করা অবস্থায় একটি মাইক্রো বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এ দিকে অগ্নিসংযোগসংক্রান্ত খবর এড়িয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। কোনো এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে তা স্বীকার না করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। গত শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীতে পরপর কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষেপে যায়। রোববার সন্ধ্যার পর মতিঝিলে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কিন্তু থানা পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে। সূত্র জানায়, এভাবে আরো ঘটনা ঘটছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই পুলিশ এ কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ফায়ার সার্ভিস বলছে, যেসব অগ্নিকাণ্ড তাদের নেভাতে হয় কেবল সেগুলোরই হিসাব তারা রাখেন। ছোটখাটো ঘটনা যেগুলো স্থানীয়ভাবে লোকজন নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোর ব্যাপারে কোনোই তথ্য তাদের কাছে থাকে না।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি গাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার দিকে পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজের সামনে একটি পার্কিং করা প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে কে বা কারা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে জনতা ব্যাংকের একটি স্টাফ বাস লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়। এতে সাতজন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে নর্দ্দায় ট্রাফিক পুলিশ পোস্টকে লক্ষ্য করে পরপর আটটি ককটেল নিক্ষেপ করে কে বা কারা। এতে পুলিশ পোস্ট ও একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সকাল ১০টার দিকে মহাখালীর টিভি গেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন ও কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে তেজগাঁও লিংক রোড থেকে একটি তাজা ককটেল ও আধা লিটার অকটেন উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেলা ৩টার দিকে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন যুবক বনানী-কাকলীর দিকে যেতে ফুলের দোকানগুলোর সামনে এ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে রাস্তায় চলমান দু’টি প্রাইভেট কারে পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলিস্তান জিপিওর মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণে তিন পথচারী আহত হয়েছেন।
গত শনিবার সন্ধ্যার পরপর রাজধানীর মৌচাক, বনানী, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরে ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে মৌচাকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। চ্যানেলটির কার্যালয়ের প্রায় সামনেই গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মৌচাক মোড়ে তখন বিপুলসংখ্যক পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একে একে মোট চারটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। যাত্রাবাড়ীতেও পুলিশের সামনেই ঘটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। কিন্তু পুলিশ দুর্বৃত্তদের আটক করতে পারেনি। একাধিক গাড়িচালক গতকাল বলেন, তারা চরম আতঙ্কে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন। তাদেরকে নেতারা আশ্বস্ত করেন নিরাপত্তা দেয়ার। কিন্তু রাস্তায় নামলে ঘটনা ঘটে উল্টো। রাস্তায় তাদের অনিরাপদ অবস্থায় গাড়ি চালাতে হয়। পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে তাদের রাস্তায় চলতে হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর এক বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ বাধ্য করছে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে। পুলিশ একাধিকবার থানায় ডেকে নিয়ে বলেছে গাড়ি চালাতে। কিন্তু নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো দায়দায়িত্ব নিচ্ছে না।
আগের রাতে ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর রোববার সকাল থেকে রাজধানীতে ফের শুরু হয় অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার দিকে ফুলবাড়িয়া ও রায়েরবাগে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যদর্শীরা জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে পার্ক করে রাখা ঢাকা-দোহার ও ঢাকা-মাওয়া রুটে চলাচলকারী নগর পরিবহনের দু’টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল-অবরোধ সমর্থকেরা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগের পুনম সিনেমা হলের সামনের সড়কে বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় রাস্তার অপর পাশে আরো একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে পার্কিং করা অবস্থায় একটি মাইক্রো বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এ দিকে অগ্নিসংযোগসংক্রান্ত খবর এড়িয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। কোনো এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে তা স্বীকার না করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। গত শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীতে পরপর কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ ক্ষেপে যায়। রোববার সন্ধ্যার পর মতিঝিলে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কিন্তু থানা পুলিশের কাছে জানতে চাইলে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে। সূত্র জানায়, এভাবে আরো ঘটনা ঘটছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই পুলিশ এ কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ফায়ার সার্ভিস বলছে, যেসব অগ্নিকাণ্ড তাদের নেভাতে হয় কেবল সেগুলোরই হিসাব তারা রাখেন। ছোটখাটো ঘটনা যেগুলো স্থানীয়ভাবে লোকজন নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোর ব্যাপারে কোনোই তথ্য তাদের কাছে থাকে না।
Sunday, March 1, 2015
পুলিশ-গোয়েন্দা বেষ্টনীর মধ্যেও ঘটছে ভয়ানক অপরাধ by আবু সালেহ আকন
আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর কড়া বেষ্টনীর মধ্যেও ঘটছে গুরুতর অপরাধের ঘটনা। এমনকি, প্রকাশ্যে
হত্যার ঘটনা ঘটিয়েও দুর্বৃত্তরা নির্বিঘেœ পালিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায়
প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তরা ককটেল ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঘটছে চুরি,
ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও। পুলিশ-র্যাব ও কড়া গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে
কিভাবে দুর্বৃত্তরা ভয়ানক অপরাধ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। আবার
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও দুর্বৃত্তরা শনাক্ত হচ্ছে না। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। যার প্রতিটি প্রবেশদ্বারেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। এমনকি কোনো কোনো পথে পুলিশের একাধিক টিমের অবস্থান।
এর মধ্যেই একের পর এক ঘটে যাচ্ছে নানা ভয়ানক অপরাধ। সর্বশেষ গত ২৬
ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন
ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়। এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে
আহত হন অভিজিৎ-এর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, অভিজিৎ-এর
মাথায়ই ছিল ধারালো অস্ত্রের গুরুতর চারটি ক্ষত। আর তার স্ত্রীর মাথায় তিনটি
ও হাতে একটি গুরুতর ক্ষত। সূত্র জানায়, যে স্থানটিতে এ ঘটনা ঘটে তার
আশপাশে বেশ কয়েকটি পুলিশের টিম দায়িত্বরত ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল শতশত
মানুষ। এর মধ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ভয়ানক ঘটনা ঘটায়। আশপাশের এ নিরাপত্তা
বেষ্টনী ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দিকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া
বেষ্টনী রয়েছে। শাহবাগে রয়েছে থানা কার্যালয়, নীলক্ষেতের ওই দিকে একটি
পুলিশ ফাঁড়ি আর নিউ মার্কেট থানার অবস্থান, হাইকোর্টের দিকে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে দিনরাত পুলিশ পাহারা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
হাসপাতালের ওখানেও রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। শহীদ মিনারের সামনে, দোয়েল চত্বরে
সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা তো আছেই। এর বাইরেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা
একাডেমির বইমেলাকে ঘিরে এখানে বিপুল পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। সূত্র
জানায়, ভেতরে অভিজিৎকে হত্যা করে কিভাবে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘেœ পালিয়ে গেল
তা নিয়ে এখন সর্বমহলে প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ এলাকায় পুলিশ-গোয়েন্দাদের কড়া বেষ্টনীর মধ্যেও প্রায়ই ঘটছে ককটেল ও বোমা হামলার মতো ঘটনা। কিন্তু ধরা পড়ছে না কেউ। মাঝে মধ্যে দু-একজনকে আশপাশ থেকে গ্রেফতার করা হলেও তারা সন্দেহভাজন। মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শারমিন আক্তার নামে দুই বছরের এক শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই উদ্দ্যানকে ঘিরে দুর্বৃত্তদের একটি শক্ত আস্তানা গড়ে উঠেছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যেই মাদক ব্যবসায়সহ নানা অপকর্ম চলে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মতিঝিল থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে রাজধানীর এজিবি কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকায় বাপ্পী নামে এক জুট ব্যবসায়ীর দুই হাত কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিনে-দুপুরে রাজধানীর গোলাপবাগের এক বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা মা ও মেয়েকে কুপিয়ে ঘরের মালামাল লুটে নেয়। এ ঘটনায় মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৯) নিহত হন, মা ফৌজিয়া আক্তার (৪৫) গুরুতর আহত হন।
রাজধানীর বাইরেও ঘটছে নানা অপরাধের ঘটনা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে বাবুল মেম্বর (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামসুল হককে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গত ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে আক্রান্ত হন রিয়াজ রহমান। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে তার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। এভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারার মধ্যেও ঘটছে অপরাধের ঘটনা। সূত্র জানায়, সম্প্রতি হরতাল ও অবরোধ নিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল প্রায় থমকে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় কিছু যানবাহন চললেও তাতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এমনকি পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেও যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। চলমান আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ নিরাপত্তার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তির বাসা-বাড়ি ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
এ দিকে এসব ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন, এগুলো চোরাগোপ্তাভাবে ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ এলাকায় পুলিশ-গোয়েন্দাদের কড়া বেষ্টনীর মধ্যেও প্রায়ই ঘটছে ককটেল ও বোমা হামলার মতো ঘটনা। কিন্তু ধরা পড়ছে না কেউ। মাঝে মধ্যে দু-একজনকে আশপাশ থেকে গ্রেফতার করা হলেও তারা সন্দেহভাজন। মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শারমিন আক্তার নামে দুই বছরের এক শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই উদ্দ্যানকে ঘিরে দুর্বৃত্তদের একটি শক্ত আস্তানা গড়ে উঠেছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যেই মাদক ব্যবসায়সহ নানা অপকর্ম চলে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মতিঝিল থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে রাজধানীর এজিবি কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকায় বাপ্পী নামে এক জুট ব্যবসায়ীর দুই হাত কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিনে-দুপুরে রাজধানীর গোলাপবাগের এক বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা মা ও মেয়েকে কুপিয়ে ঘরের মালামাল লুটে নেয়। এ ঘটনায় মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৯) নিহত হন, মা ফৌজিয়া আক্তার (৪৫) গুরুতর আহত হন।
রাজধানীর বাইরেও ঘটছে নানা অপরাধের ঘটনা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে বাবুল মেম্বর (৫৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামসুল হককে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গত ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে আক্রান্ত হন রিয়াজ রহমান। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে তার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। এভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারার মধ্যেও ঘটছে অপরাধের ঘটনা। সূত্র জানায়, সম্প্রতি হরতাল ও অবরোধ নিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল প্রায় থমকে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় কিছু যানবাহন চললেও তাতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এমনকি পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেও যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। চলমান আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ নিরাপত্তার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তির বাসা-বাড়ি ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
এ দিকে এসব ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন, এগুলো চোরাগোপ্তাভাবে ঘটছে।
Wednesday, February 18, 2015
নেতাকর্মীদের না পেয়ে স্বজনদের হয়রানি by আবু সালেহ আকন
পুলিশের হয়রানি ও গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজনও। ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম না হলে পুলিশ তাদের আত্মীয়স্বজনদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে ওইসব পরিবারগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত রোববার রাতে পুলিশ রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ২০ দলীয় জোটের এক নেতার আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালায়। মামুন নামের ওই আত্মীয়কে পুলিশ না পেয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে শফিউল আলম নামের অপর এক আত্মীয়কে তুলে নেয় বলে তার আত্মীয়স্বজন অভিযোগ করেন। মামুনের বাড়িতে শফিউল আলম বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তার ওপর মামুনকে না পেয়ে পুলিশ লালমাটিয়া এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পুলিশ মামুনের শ্বশুর নুরুল আবেদিন, শ্বাশুড়ি শাহানা বেগম এবং তাদের মেয়ে নাঈমা আবেদিনকে আটক করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কি কারণে তাদের আটক করা হয়েছে তাও কেউ জানতে পারেননি। এ দিকে শফিউলের এক আত্মীয় বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা জানতে পারেননি তিনি কোথায় আছেন। তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, শফিউল ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন। পুলিশের কেউ অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করেনি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে ওই কলেজের এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইনকে গ্রেফতার করে মিরপুর থানা পুলিশ; কিন্তু আটকের পর পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে যায়। রাতে খবর শুনে তার ভাই আব্দুল্লাহ হাসান ছোট ভাইয়ের খোঁজ নিতে থানায় যান। পুলিশ সেখান থেকে তাকেও আটক করে। এ নিয়ে মিরপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে। এ দিকে পুলিশ রাতে হাসানের শ্যামলীর বাসায় অভিযান চালায়। রাতে তার বাবা এনায়েত উল্লাহর মগবাজারের বাসায়ও অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে তার বাবাকে আটক করে। পর দিন ১০ ফেব্রুয়ারি হাসান ও হোসাইনকে আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত হাসানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং হোসাইনকে এক দিনের রিমান্ডে দেন। অপর দিকে এনায়েত উল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই দিন পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এভাবে দেশের সর্বত্রই পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদেরকে না পেয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনকে হয়রানি ও আটক করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের এক স্বজন জানিয়েছেন, পুলিশ ইসহাক সরকারকে খুঁজে না পেয়ে প্রায়ই তার বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং মাঝে মধ্যেই পুলিশ তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে গালাগাল করে আসছে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে ইসহাক সরকারের বাসার গ্যাস লাইন কে বা কারা কেটে দেয়। তবে পুলিশ এই বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে তিতাসের লোকজন এটা করতে পারে বিল বকেয়া পড়ার কারণে; কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কোনো বকেয়া বিল নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি ক্রসফায়ারে নিহত নুরুজ্জামান জনির বিধবা স্ত্রী মুনিয়া পারভীন মনিষার নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে তার গুলশান কার্যালয়ে যান। সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে পৌঁছলে সেখান থেকে গুলশান থানা পুলিশ নিহত জনির বাবা ইয়াকুব আলী, মা মরিয়ম বেগম নিলু ও ছোট বোন ফাতেমাতুজজোহরা তুলিকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশ জনির খালাতো বোন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশীতাকে গ্রেফতার করে পর দিন তাকে আদালতে পাঠায়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে ওই কলেজের এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইনকে গ্রেফতার করে মিরপুর থানা পুলিশ; কিন্তু আটকের পর পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে যায়। রাতে খবর শুনে তার ভাই আব্দুল্লাহ হাসান ছোট ভাইয়ের খোঁজ নিতে থানায় যান। পুলিশ সেখান থেকে তাকেও আটক করে। এ নিয়ে মিরপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে। এ দিকে পুলিশ রাতে হাসানের শ্যামলীর বাসায় অভিযান চালায়। রাতে তার বাবা এনায়েত উল্লাহর মগবাজারের বাসায়ও অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে তার বাবাকে আটক করে। পর দিন ১০ ফেব্রুয়ারি হাসান ও হোসাইনকে আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত হাসানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং হোসাইনকে এক দিনের রিমান্ডে দেন। অপর দিকে এনায়েত উল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই দিন পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এভাবে দেশের সর্বত্রই পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদেরকে না পেয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনকে হয়রানি ও আটক করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের এক স্বজন জানিয়েছেন, পুলিশ ইসহাক সরকারকে খুঁজে না পেয়ে প্রায়ই তার বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং মাঝে মধ্যেই পুলিশ তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে গালাগাল করে আসছে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে ইসহাক সরকারের বাসার গ্যাস লাইন কে বা কারা কেটে দেয়। তবে পুলিশ এই বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে তিতাসের লোকজন এটা করতে পারে বিল বকেয়া পড়ার কারণে; কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কোনো বকেয়া বিল নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি ক্রসফায়ারে নিহত নুরুজ্জামান জনির বিধবা স্ত্রী মুনিয়া পারভীন মনিষার নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে তার গুলশান কার্যালয়ে যান। সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে পৌঁছলে সেখান থেকে গুলশান থানা পুলিশ নিহত জনির বাবা ইয়াকুব আলী, মা মরিয়ম বেগম নিলু ও ছোট বোন ফাতেমাতুজজোহরা তুলিকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশ জনির খালাতো বোন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা সুলতানা নিশীতাকে গ্রেফতার করে পর দিন তাকে আদালতে পাঠায়।
Tuesday, February 17, 2015
আসামি গ্রেফতারের নামে মাগুরার প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ by আবু সালেহ আকন
মাগুরার শালিখা উপজেলার কাতলী গ্রামের জিল্লুর রহমান। ছয় সদস্যের সংসার। সংসারের একমাত্র উপার্জনমাধ্যম ছিল একটি নসিমন। গত শনিবার রাতে সেই নসিমনটি পুলিশ আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলেছে। অভিযোগ ওই নসিমনে করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মিছিলে গেছে। এভাবেই মাগুরার বিভিন্ন গ্রামে এখন পুলিশি অভিযানের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকি লুটপাট চলছে। এ দিকে মাগুরার শালিখা উপজেলায় ২০ দলীয় জোটের শনিবারের বিােভ সমাবেশে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। রাতে আসামি গ্রেফতারের নামে উপজেলার কাতলী, শতখালী, পাঁচকাউনিয়া, হরিশপুর ও পিয়ারপুর গ্রামে ২০ দলীয় জোট সমর্থকদের বাড়িতে পুলিশের পাশাপাশি মুখোশধারীরা হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে চার লাধিক টাকার তি করেছে বলে ভুক্তভোগী পারিবারগুলোর প থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শতখালী গ্রামের বিএনপি নেতা মনা সরদার জানান, ২০ দলীয় জোটের ডাকা বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি ছিল। পুলিশের অনুমতি পাওয়ায় ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে বিকেলে সীমাখালী বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। আসর নামাজের পর সমাবেশ শুরুর প্রস্তুতি চলছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ওসি বিপ্লব কুমার নাথের নির্দেশে নিরীহ জনসাধারণের ওপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। শনিবার রাতে শতখালী গ্রামের বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কাতলী গ্রামের নসিমনচালক জিল্লুর রহমান জানান, তার নসিমন ভাড়া করে কয়েকজন লোক শনিবার সীমাখালী বাজারে গিয়েছিল এটাই তার অপরাধ। রাতে পুলিশ এসে নসিমন ভাঙচুর করে তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আয়ের একমাত্র নসিমন পুড়িয়ে দেয়ায় তার সামনে এখন ঘোর অন্ধকার। তিনি বলেন, হয়তো সামনের দিনগুলোতে তার পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে। জিল্লুর বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। এরপরেও পুলিশ কেন এমনটি করল তা বুঝতে পারছেন না। কাতলী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক হাফিজ ঢালী জানান, শনিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটের সময় শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে কিছু মুখোশধারী লোক তার বাড়িতে ঢুকে ছেলে আব্দুল্লাহর সন্ধান চায়। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঢাকায় তিন মাসের প্রশিণে রয়েছে জানালে মুখোশধারী ২০-২৫ জন লোক ঘরের ভেতর ঢুকে স্টিলের আলমারি, শোকেস, চেয়ারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বিছানায় থাকা লেপ-তোষকে পানি ঢেলে ভিজিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় ছেলেকে হাজির করে না দিলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয় মুখোশধারীরা।
কাতলী মধ্যপাড়ার বিপ্লব সরদার জানান, শনিবার রাতে পুলিশ গ্রামে ঢুকে তার বাড়িসহ নিছার মেম্বর, ইকবাল ঢালী, ইমরান ঢালী, বিলাল বিশ্বাসের বাড়িঘর, বাইসাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
পুলিশ আসামি গ্রেফতারের নামে শতখালী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শনিবারের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ফরিদুল ইসলামের পাঁচকাউনিয়া, হরিশপুর গ্রামের ওহিদ মোল্লার বাড়ি ও পিয়ারপুর ওয়ার্ড মেম্বর জামায়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
শতখালী গ্রামের বিএনপি নেতা মনা সরদার জানান, ২০ দলীয় জোটের ডাকা বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি ছিল। পুলিশের অনুমতি পাওয়ায় ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে বিকেলে সীমাখালী বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। আসর নামাজের পর সমাবেশ শুরুর প্রস্তুতি চলছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ওসি বিপ্লব কুমার নাথের নির্দেশে নিরীহ জনসাধারণের ওপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। শনিবার রাতে শতখালী গ্রামের বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কাতলী গ্রামের নসিমনচালক জিল্লুর রহমান জানান, তার নসিমন ভাড়া করে কয়েকজন লোক শনিবার সীমাখালী বাজারে গিয়েছিল এটাই তার অপরাধ। রাতে পুলিশ এসে নসিমন ভাঙচুর করে তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আয়ের একমাত্র নসিমন পুড়িয়ে দেয়ায় তার সামনে এখন ঘোর অন্ধকার। তিনি বলেন, হয়তো সামনের দিনগুলোতে তার পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে। জিল্লুর বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। এরপরেও পুলিশ কেন এমনটি করল তা বুঝতে পারছেন না। কাতলী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক হাফিজ ঢালী জানান, শনিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটের সময় শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে কিছু মুখোশধারী লোক তার বাড়িতে ঢুকে ছেলে আব্দুল্লাহর সন্ধান চায়। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঢাকায় তিন মাসের প্রশিণে রয়েছে জানালে মুখোশধারী ২০-২৫ জন লোক ঘরের ভেতর ঢুকে স্টিলের আলমারি, শোকেস, চেয়ারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বিছানায় থাকা লেপ-তোষকে পানি ঢেলে ভিজিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় ছেলেকে হাজির করে না দিলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয় মুখোশধারীরা।
কাতলী মধ্যপাড়ার বিপ্লব সরদার জানান, শনিবার রাতে পুলিশ গ্রামে ঢুকে তার বাড়িসহ নিছার মেম্বর, ইকবাল ঢালী, ইমরান ঢালী, বিলাল বিশ্বাসের বাড়িঘর, বাইসাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
পুলিশ আসামি গ্রেফতারের নামে শতখালী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শনিবারের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ফরিদুল ইসলামের পাঁচকাউনিয়া, হরিশপুর গ্রামের ওহিদ মোল্লার বাড়ি ও পিয়ারপুর ওয়ার্ড মেম্বর জামায়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
Sunday, February 15, 2015
রাজধানীতে সন্দেহ হলেই গুলি করছে পুলিশ- রেহাই পাচ্ছেন না নিরপরাধরাও by আবু সালেহ আকন
Sunday, February 15, 2015
Anonymous
আন্দোলন,
আবু সালেহ আকন,
নয়া দিগন্ত,
রাজধানী,
রাজনীতি,
হরতাল-অবরোধ
রাজধানীতে
যাকে তাকে গুলি করছে পুলিশ। এ পর্যন্ত যে ক’জন পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন
তাদের প্রত্যেকের দাবি তারা নিরপরাধ পথচারী। পুলিশ বিনা কারণে তাদেরকে ধরে
অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে। এই বক্তব্যের পক্ষে তাদের কাছে যথেষ্ট
সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে। এদের কেউ রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আবার কেউ কেউ
অভিযোগ করেছেন পুলিশ তাদেরকে থানায় ধরে নিয়ে গুলি করেছে। তবে পুলিশের
বক্তব্য একটিইÑ ‘তারা নাশকতাকারী’। পুলিশের ওপর হামলা, আগুন লাগানোর সময়
কিংবা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ বা যানবাহন ভাঙচুরের সময় তাদেরকে গুলি করা হয়েছে
বলে পুলিশ দাবি করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর
যাত্রাবাড়ী থেকে ধোলাইপাড় যাওয়ার রাস্তায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন আতাউর
রহমান (২৭) নামে এক যুবক। পুলিশের দাবি একটি বিআরটিসি বাসে পেট্রলবোমা
নিক্ষেপের চেষ্টা করায় আতাউরকে গুলি করে পুলিশ। কিন্তু হাসপাতালে আতাউর ও
তার স্বজন অভিযোগ করেছেন, শুধু শুধুই তাকে গুলি করা হয়েছে। তিনি কিছুই
করেননি। পুলিশ সামনে থেকে তার ডান পায়ের হাঁটুতে গুলি করে। আতাউরের বাড়ি
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ির কৃষ্ণপুর গ্রামে। তার বাবার নাম জসিমউদ্দিন।
যাত্রাবাড়ীর দীন মোহাম্মদ মার্কেটের পাঁচতলায় তার একটি অ্যামব্রয়ডারির
দোকান রয়েছে। নাম সাদিয়া অ্যামব্রয়ডারি হাউজ। নারায়ণগঞ্জে স্যাম ডিজাইন
গার্মেন্ট থেকে টি-শার্টের কিছু অর্ডার পেয়েছেন। ওখানে কিছু টাকা পাওনা
ছিল। সেই টাকা নিয়ে ঢাকায় এসে ধোলাইপাড়ে নামেন এবং সেখানে রাস্তার পাশে
প্রস্রাব করতে বসেন। তখন স্থানীয় কয়েক যুবক তাকে ধরে মারধর দিয়ে পুলিশের
কাছে দেয়। পুলিশকে কিছু বলার আগেই পুলিশ তার পা লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি
করার পরে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আতাউরের চাচা মুহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, তারা ওই মার্কেটে একই সাথে ব্যবসায় করেন। তিনি বলেন, বিকেল ৪টার পরে তার সাথে আর কথা হয়নি। পরে রাত ১০টার দিকে শুনতে পারেন তাকে পুলিশ গুলি করেছে। আতাউরের মামা আবুল হোসেন বলেছেন, তারা কেউ কোনো রাজনীতি করেন না। কারো সাথে তাদের বিবাদও নেই। কেন পুলিশ এভাবে ঘটনা ঘটালো তা বুঝতে পারছেন না তিনি।
গতকাল বিকেলে পুলিশ ৯০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা শুভকে গ্রেফতার করতে পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় শুভকে না পেলেও পুলিশ পেয়ে যায় তার ভাই জিদানকে। জিদান ওই এলাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। এ সময় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি জিদান। পুলিশ তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে বেদম প্রহার করে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আটকে রাখা হয় শ্যামপুর থানায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পুলিশ তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। পরে জিদানকে পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
মো: কাওছার (৩০)। বাবা শামসুল হক। বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। মাদারটেক চৌরাস্তায় কাঁচামালের ব্যবসায় করেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। টেম্পোতে বাসাবোর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় জটলা দেখে অন্যদের সাথে নেমে পড়েন কাওছার। পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা দৌড় দেন। এ সময় পুলিশ কাওছারকে ধরে পায়ে গুলি করে।
পরে পুলিশ তাকে বোমাবাজ বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। কাওছার বলেন, তিনি কাঁচামালের ব্যবসায় করে সংসার চালান।
রজধানীর মোহাম্মদপুরে আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক (৩৭) ও নাজমুল হোসেন (৪৭) নামে দু’জন গুলিতে আহত হন। তাদের অভিযোগ পুলিশ তাদের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে।
রাজধানীর শ্যামপুরে আব্দুল হামিদ নামে একজনকে পায়ে গুলি করেছে পুলিশ। হামিদ ও তার স্বজনদের অভিযোগ পুলিশ রাস্তা থেকে আটকের পর তার পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।
২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে ইসমাইল হোসেন (৩০) নামে একজনকে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এক দল দুর্বৃত্ত ককটেল হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে ইসমাইল আহত হন। ইসমাইল বলছেন, তিনি একজন গাড়িচালক। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জের কলাদিয়া থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে বাড্ডার আফতাবনগরে যায় শাকিল কসাই, পিয়ার হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামে তিন যুবক। স্থানীয় জনতা তাদেরকে ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদেরকে গাড়িতে তুলেই গুলি করে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বঙ্গবাজারে দুই পথচারীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। প্রবাসী আবদুর রহমান (৩০) ও ব্যবসায়ী মোমিন (৩৫) এ গুলির শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে তারা আহত হয়েছে। আহতদের দাবি, তারা একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী, অন্যজন সিটি গোল্ডের ব্যবসায়ী। পুলিশ তাদের ধরে গুলি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন প্রায়ই পুলিশের গুলিতে রাজধানীসহ সারা দেশে অনেকে হতাহত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকেরই দাবি পুলিশ বিনা কারণে কোনো বাছবিচার ছাড়াই ধরে ধরে গুলি করেছে। অনুসন্ধানেও দেখা গেছে অনেকেই নির্দোষ-নিরপরাধ। একেবারেই পথচারীকে ধরে গুলি করছে পুলিশ।
আতাউরের চাচা মুহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, তারা ওই মার্কেটে একই সাথে ব্যবসায় করেন। তিনি বলেন, বিকেল ৪টার পরে তার সাথে আর কথা হয়নি। পরে রাত ১০টার দিকে শুনতে পারেন তাকে পুলিশ গুলি করেছে। আতাউরের মামা আবুল হোসেন বলেছেন, তারা কেউ কোনো রাজনীতি করেন না। কারো সাথে তাদের বিবাদও নেই। কেন পুলিশ এভাবে ঘটনা ঘটালো তা বুঝতে পারছেন না তিনি।
গতকাল বিকেলে পুলিশ ৯০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা শুভকে গ্রেফতার করতে পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় শুভকে না পেলেও পুলিশ পেয়ে যায় তার ভাই জিদানকে। জিদান ওই এলাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। এ সময় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি জিদান। পুলিশ তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে বেদম প্রহার করে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আটকে রাখা হয় শ্যামপুর থানায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পুলিশ তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। পরে জিদানকে পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
মো: কাওছার (৩০)। বাবা শামসুল হক। বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। মাদারটেক চৌরাস্তায় কাঁচামালের ব্যবসায় করেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। টেম্পোতে বাসাবোর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় জটলা দেখে অন্যদের সাথে নেমে পড়েন কাওছার। পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা দৌড় দেন। এ সময় পুলিশ কাওছারকে ধরে পায়ে গুলি করে।
পরে পুলিশ তাকে বোমাবাজ বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। কাওছার বলেন, তিনি কাঁচামালের ব্যবসায় করে সংসার চালান।
রজধানীর মোহাম্মদপুরে আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক (৩৭) ও নাজমুল হোসেন (৪৭) নামে দু’জন গুলিতে আহত হন। তাদের অভিযোগ পুলিশ তাদের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছে।
রাজধানীর শ্যামপুরে আব্দুল হামিদ নামে একজনকে পায়ে গুলি করেছে পুলিশ। হামিদ ও তার স্বজনদের অভিযোগ পুলিশ রাস্তা থেকে আটকের পর তার পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।
২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে ইসমাইল হোসেন (৩০) নামে একজনকে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এক দল দুর্বৃত্ত ককটেল হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে ইসমাইল আহত হন। ইসমাইল বলছেন, তিনি একজন গাড়িচালক। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জের কলাদিয়া থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে বাড্ডার আফতাবনগরে যায় শাকিল কসাই, পিয়ার হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামে তিন যুবক। স্থানীয় জনতা তাদেরকে ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদেরকে গাড়িতে তুলেই গুলি করে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বঙ্গবাজারে দুই পথচারীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। প্রবাসী আবদুর রহমান (৩০) ও ব্যবসায়ী মোমিন (৩৫) এ গুলির শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে তারা আহত হয়েছে। আহতদের দাবি, তারা একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী, অন্যজন সিটি গোল্ডের ব্যবসায়ী। পুলিশ তাদের ধরে গুলি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন প্রায়ই পুলিশের গুলিতে রাজধানীসহ সারা দেশে অনেকে হতাহত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকেরই দাবি পুলিশ বিনা কারণে কোনো বাছবিচার ছাড়াই ধরে ধরে গুলি করেছে। অনুসন্ধানেও দেখা গেছে অনেকেই নির্দোষ-নিরপরাধ। একেবারেই পথচারীকে ধরে গুলি করছে পুলিশ।
Wednesday, February 11, 2015
সর্বাধিক ‘ক্রসফায়ার’ রাজশাহী যশোর মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে- ২৭ দিনে ৩০ জন নিহত by আবু সালেহ আকন
২৭
দিনে রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশ-র্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘ক্রসফায়ার’ ও
‘গাড়িচাপায়’ ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর
মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় চারজন, যশোরে তিনজন, কুমিল্লার বিভিন্ন
এলাকায় তিনজন, রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তিনজন, যাত্রাবাড়ীতে তিনজন
ও রামপুরায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কেউ
গ্রেফতার হলেই তাদের স্বজনেরা এখন উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাসেল নামের এক যুবক নিহত হন। ৮ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন জসিম উদ্দিন নামের এক শিবির নেতা। ওই দিন কুমিল্লায় নিহত হন স্বপন মিয়া নামের এক বিএনপি নেতা। যশোরে ৮ ফেব্রুয়ারি র্যাবের হাতে নিহত হয়েছেন রাজু নামের এক যুবক।
৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাটাখালি বাজারে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য গবেষণা সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন আরো দুই শিবির নেতা। শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে গুলি করা হয়েছে। তবে মতিহার থানার ওসি বলেছেন, তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাহাব উদ্দিন পাটওয়ারী (২৪) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতের মা ছাকিনা বেগম বলেছেন, তার ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পরে সাদাপোশাকধারী পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সকালে হাসপাতালে তার লাশ পাওয়া যায়।
ওই দিন যশোরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম (৫০)। শহিদুলের পরিবার থেকে বলা হয়েছে ধরে নিয়ে শহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত (২৩) নামের এক যুবক নিহত হন। ৪ ফেব্রুয়ারি ভাষানটেক থানা এলাকা থেকে আল আমিন (৩০) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। ৪ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাখাওয়াত হোসেন রাহাত ও মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামের দুই যুবক নিহত হন।
৩ ফেব্রুয়ারি যশোরের মনিরামপুর থেকে যুবদল কর্মী লিটনকে বোমা হামলাকারী সন্দেহে আটক করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে ‘ট্রাকচাপায়’ তার মৃত্যু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি মনিরামপুরের যুবদল কর্মী ইউসুফকে বোমা হামলাকারী সন্দেহে পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশ হেফাজতে ‘ট্রাকচাপায়’ তার মৃত্যু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সাইদুল ইসলাম নামের এক জামায়াত নেতা পুলিশের গুলিতে আহত হন। পরের দিন তিনি মারা যান। ১ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকার শাহআলী থানা সভাপতি এমদাদ উল্লাহ পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়। ২৯ জানুয়ারি সদরঘাটের লঞ্চ থেকে সাদা পোশাকের লোকজন নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মুকুলকে তুলে নিয়ে যায়। পর দিন তার লাশ পাওয়া যায় রূপনগর এলাকায়। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শিবিরকর্মী সাকিবুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৯ জানুয়ারি তার মৃত্যু হন। ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগর বিএনপি নেতা আইনুর রহমান মুক্তাকে পুলিশ আটক করে নির্যাতন করায় তার মৃত্যু হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। ২৭ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালায় রফিকুল ইসলাম নামের একজনকে ডাকাত সন্দেহে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে ক্রসফায়ারে তার মৃত্যু হয়। ২৭ জানুয়ারি রাজশাহীর বিনোদপুরে জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীনকে আটকের পর ‘ক্রসফায়ারে’ তার মৃত্যু হয়। ২৭ জানুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিটি কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি আসাদুল্লাহ র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পরে র্যাব হেফাজতে থাকা অবস্থায় ট্রাকচাপায় নিহত হন। ঝিনাইদহের শৈলকুপার কুসুমবাড়ি গ্রামের হাশেম আলী বিশ্বাসের ছেলে সুলতান আলী বিশ্বাস ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পরে ২৬ জানুয়ারি রামপুরার বনশ্রী এলাকায় র্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই দিনই বনশ্রীতে ক্রসফায়ারে আবুল কালাম নামের আরো একজন নিহত হন। তার বাড়ি ভোলা সদরে। বাবা মৃত খোরশেদ আলম। পেশায় তিনি গাড়িচালক ছিলেন বলে জানা যায়। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা জিসান গত ২২ জানুয়ারি দাউদকান্দি এলাকায় র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন।
গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর খিলগাঁও জোড়পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির (৩০) লাশ। নিহতের বাবা ইয়াকুব আলী জানান, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের দাবি জনির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারে বের হলে খিলগাঁও জোড়পুকুর পাড় এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত সোমবার ভোর রাতে নিহত হয়েছেন নড়াইল পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ইমরুল কায়েস (৩৪)। তিনি ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
১৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব টিমের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইমরুল নিহত হন বলে জানা যায়। ইমরুলের স্ত্রী জান্নাতুল বলেছেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার স্বামী জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার স্বামী নির্দোষ। তবে পুলিশের দাবি কায়েসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে।
১৯ জানুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ এসলাম পুলিশ হেফাজতে ট্রাকচাপায় নিহত হন।
গত ১৬ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকায় র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান (৩০)। ঘটনার পর র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ অভিযানে মতিউরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে নাশকতার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে নিয়ে র্যাব অভিযানে বের হলে মতিউরের সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে মতিউর গুলিবিদ্ধ হয়। তবে মতিউরের পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাসেল নামের এক যুবক নিহত হন। ৮ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন জসিম উদ্দিন নামের এক শিবির নেতা। ওই দিন কুমিল্লায় নিহত হন স্বপন মিয়া নামের এক বিএনপি নেতা। যশোরে ৮ ফেব্রুয়ারি র্যাবের হাতে নিহত হয়েছেন রাজু নামের এক যুবক।
৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাটাখালি বাজারে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য গবেষণা সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হন আরো দুই শিবির নেতা। শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে গুলি করা হয়েছে। তবে মতিহার থানার ওসি বলেছেন, তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাহাব উদ্দিন পাটওয়ারী (২৪) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতের মা ছাকিনা বেগম বলেছেন, তার ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পরে সাদাপোশাকধারী পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সকালে হাসপাতালে তার লাশ পাওয়া যায়।
ওই দিন যশোরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম (৫০)। শহিদুলের পরিবার থেকে বলা হয়েছে ধরে নিয়ে শহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত (২৩) নামের এক যুবক নিহত হন। ৪ ফেব্রুয়ারি ভাষানটেক থানা এলাকা থেকে আল আমিন (৩০) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। ৪ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাখাওয়াত হোসেন রাহাত ও মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামের দুই যুবক নিহত হন।
৩ ফেব্রুয়ারি যশোরের মনিরামপুর থেকে যুবদল কর্মী লিটনকে বোমা হামলাকারী সন্দেহে আটক করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে ‘ট্রাকচাপায়’ তার মৃত্যু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি মনিরামপুরের যুবদল কর্মী ইউসুফকে বোমা হামলাকারী সন্দেহে পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশ হেফাজতে ‘ট্রাকচাপায়’ তার মৃত্যু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সাইদুল ইসলাম নামের এক জামায়াত নেতা পুলিশের গুলিতে আহত হন। পরের দিন তিনি মারা যান। ১ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকার শাহআলী থানা সভাপতি এমদাদ উল্লাহ পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়। ২৯ জানুয়ারি সদরঘাটের লঞ্চ থেকে সাদা পোশাকের লোকজন নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মুকুলকে তুলে নিয়ে যায়। পর দিন তার লাশ পাওয়া যায় রূপনগর এলাকায়। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শিবিরকর্মী সাকিবুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৯ জানুয়ারি তার মৃত্যু হন। ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগর বিএনপি নেতা আইনুর রহমান মুক্তাকে পুলিশ আটক করে নির্যাতন করায় তার মৃত্যু হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। ২৭ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালায় রফিকুল ইসলাম নামের একজনকে ডাকাত সন্দেহে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে ক্রসফায়ারে তার মৃত্যু হয়। ২৭ জানুয়ারি রাজশাহীর বিনোদপুরে জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শাহীনকে আটকের পর ‘ক্রসফায়ারে’ তার মৃত্যু হয়। ২৭ জানুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিটি কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি আসাদুল্লাহ র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পরে র্যাব হেফাজতে থাকা অবস্থায় ট্রাকচাপায় নিহত হন। ঝিনাইদহের শৈলকুপার কুসুমবাড়ি গ্রামের হাশেম আলী বিশ্বাসের ছেলে সুলতান আলী বিশ্বাস ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পরে ২৬ জানুয়ারি রামপুরার বনশ্রী এলাকায় র্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই দিনই বনশ্রীতে ক্রসফায়ারে আবুল কালাম নামের আরো একজন নিহত হন। তার বাড়ি ভোলা সদরে। বাবা মৃত খোরশেদ আলম। পেশায় তিনি গাড়িচালক ছিলেন বলে জানা যায়। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা জিসান গত ২২ জানুয়ারি দাউদকান্দি এলাকায় র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন।
গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর খিলগাঁও জোড়পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির (৩০) লাশ। নিহতের বাবা ইয়াকুব আলী জানান, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের দাবি জনির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারে বের হলে খিলগাঁও জোড়পুকুর পাড় এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত সোমবার ভোর রাতে নিহত হয়েছেন নড়াইল পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ইমরুল কায়েস (৩৪)। তিনি ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
১৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব টিমের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইমরুল নিহত হন বলে জানা যায়। ইমরুলের স্ত্রী জান্নাতুল বলেছেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার স্বামী জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার স্বামী নির্দোষ। তবে পুলিশের দাবি কায়েসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে।
১৯ জানুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ এসলাম পুলিশ হেফাজতে ট্রাকচাপায় নিহত হন।
গত ১৬ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকায় র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান (৩০)। ঘটনার পর র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ অভিযানে মতিউরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে নাশকতার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে নিয়ে র্যাব অভিযানে বের হলে মতিউরের সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে মতিউর গুলিবিদ্ধ হয়। তবে মতিউরের পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
Friday, January 30, 2015
কোনোভাবেই সচল রাখা যাচ্ছে না পরিবহন সেক্টর by আবু সালেহ আকন

কোনোভাবেই
সচল রাখা যাচ্ছে না পরিবহন সেক্টর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের
প্রহরার পরও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখের সামনেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা।
পরিবহন সেক্টরকে সচল করতে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক হয়। ওই
বৈঠকে তিনজন পরিবহন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাঁচজন মন্ত্রী ও
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে পরিবহন সেক্টর সচল রাখতে আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি আনসার সদস্যদের মোতায়েন করার কথাও বলা হয় বৈঠকে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা বলেছেন, যেভাবে নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে তাতে
পরিবহন সেক্টর সচল রাখা সম্ভব না। কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে
যোগাযোগব্যবস্থা। মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতোমধ্যে দেড় হাজারের
ওপরে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।
হতাহত হয়েছেন বেশ কিছু পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল চাঁদপুরে নিহত হয়েছেন এক ট্রাক
হেলপার। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মধ্যে ৪০০-এর মতো গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা
হয়। বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী
খান বলেন, পরিবহন সেক্টরকে সচল করতে হলে আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও চোরাগোপ্তাভাবে
যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। দেখা যায় রাস্তার পাশ থেকে
হঠাৎই হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চাচ্ছে
এই সেক্টরকে সচল রাখতে। তিনি বলেন, কোনো কোনো এলাকায় সচল থাকলেও সব এলাকায়
সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্রান্সপোর্ট
এজেন্সি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব মাহমুদুল আলম মন্টু বলেন,
শ্রমিকেরা রিস্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে রাজি নন। তিনি বলেন, সরকার যেভাবে
নিরাপত্তা দিচ্ছে তাতে কাজ হচ্ছে না। ভয়ে অনেকেই গাড়ি নিয়ে এখন আর রাস্তায়
নামছেন না। যাদের একেবারেই কোনো উপায় নেই তারা জীবনের রিস্ক নিয়ে রাস্তায়
নামছেন। আবার কেউ কেউ দেখা যায় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আবার ফিরে আসছেন।
নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন
সেক্টরের অপর এক নেতা বলেন, এভাবে পরিবহন সেক্টর সচল রাখা যায় না। দীর্ঘ
রাস্তায় কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা ৩০-৪০টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে যাত্রা শুরু করল। পথে
যেকোনোভাবে একটি গাড়ি অচল হয়ে পড়তে পারে। তখন ওই গাড়িটির জন্য হয়তো পুরো
বহর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। না হলে ওই গাড়িটিকে বিপদের মধ্যে ফেলে চলে যেতে
হবে। ওই নেতা বলেন, এভাবে একটি বিশাল সেক্টর সচল রাখা সম্ভব নয়। অপর এক
নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিবহন সেক্টরের সাথে বেশ কয়েকটি
মিটিং করছে। পরিবহন সেক্টরের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু
কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় পরিবহন সেক্টর সচল রাখা
সম্ভব না। এ দিকে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব ওসমান আলী
বলেছেন, ২৪ দিন পরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বোধোদয় হলো মিটিং করার ব্যাপারে।
তিনি বলেন, এভাবে পরিবহন সেক্টর সচল রাখা সম্ভব না। নিরাপত্তা যে পরিমাণ
দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বার্ন
ইউনিটে ১৫ জন শ্রমিক মারা গেছেন। তারা মারা গেলে লাশ পরিবহনেরও টাকা পাওয়া
যায় না। ২০১৩ সালে ৫৬ জন শ্রমিক মারা গেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ
তহবিল থেকে মাত্রা ৩৭ জনের জন্য ৯৬ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। এ অবস্থায়
পরিবহন শ্রমিকেরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছেন। যারা গাড়ি চালাচ্ছেন তারা খুবই
রিস্কের মধ্যে থাকেন।
Friday, January 16, 2015
বিপর্যস্ত দেশ : ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা by আবু সালেহ আকন

হরতাল
অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। এক দিকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, অন্য দিকে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি-টিয়ার শেল। সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। পুলিশি
পাহারায় হাইওয়েতে যানবাহন চালানোর কথা বললেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এ দিকে
রেলযোগাযোগ পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। নৌযান কিছু চলাচল করলেও বাড়তি
চাপে হিমশিম অবস্থা। পণ্য পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে
জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে এরই মধ্যে মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু
হয়ে গেছে। ১০ দিন ধরে দেশে টানা অবরোধ ও হরতাল চলছে। ২০ দলীয় জোটের আহ্বানে
এ অবরোধ কর্মসূচি ও হরতাল পালিত হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটকে
সমাবেশ করতে না দেয়া এবং বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে ৬
জানুয়ারি থেকে এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির পাশাপাশি চলছে
হরতাল। এরই মধ্যে গত ১০ দিনে এই অবরোধ ও হরতালকে ঘিরে ২৪ জনের প্রাণ গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি ও অবরোধকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে
নিহত হয়েছেন ১৩ জন। বাকি ১১ জন নিহত হয়েছেন আগুনে। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা
হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে। আহতদের মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা
জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানও রয়েছেন। ফেনীতে
বোমায় আহত হয়েছেন তিন বিচারক। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিচারকদের বাড়িতে
অগ্নিসংযোগ-ককটেল হামলা, দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় থেকে ককটেল উদ্ধারসহ বেশ
কিছু ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। এমনকি রাস্তায় যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কোনো কোনো এলাকায় যানবাহনে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তার পরও পাঁচ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরিবহন সেক্টরের মালিক শ্রমিক নেতারা বলেছেন, যেভাবে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী খান বলেছেন ওই নিরাপত্তা দিয়ে পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব নয়। এই নিরাপত্তার মধ্যেও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলছে। ১৭২টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক যানবাহন। ১১ জন শ্রমিক এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে এক লাখ ২৭ হাজার পণ্য পরিবাহী গাড়ি রয়েছে। তা বসে থাকলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয় প্রতিদিন। রুস্তুম আলী খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে চরম মূল্য দিচ্ছি আমরা। তিনি বলেন, এ অবস্থায় পণ্য পরিবহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সদস্যসচিব মাহমুদুল আলম মন্টু বলেন, আমার নিজের বিরুদ্ধেও গাড়ি পোড়ানো মামলা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি একটি মামলা ও ১০ জানুয়ারি আরেকটি মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবহন সেক্টর সচল রাখতে যে নিরাপত্তা দিচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে ভয়ে অনেকেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছেন না।
পরিবহনের মধ্যে একমাত্র নৌযান সেক্টর এখনো মোটামুটি সচল রয়েছে। তবে এখানে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাস-কোচ বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌযান। কিন্তু সেখানে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে মানুষকে। ভুক্তভোগীরা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকায় আসতে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা; কিন্তু অতিরিক্ত চাপে তাদের বসার জন্য ডেকের সিট কিনতে হচ্ছে। একজনের সিট বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। সূত্র জানায়, এতে অনেক অসহায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। এ ব্যাপারে মালিক কর্তৃপক্ষের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, হরতাল-অবরোধে নৌ সেক্টরে কোনো প্রভাব পড়েনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় অবরোধ ও হরতালে সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে রেল সেক্টরে। চার স্থানে এরই মধ্যে রেলের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় কোনো কোনো অঞ্চলে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজকে সকালের টিকিট কেটে পরদিন সন্ধ্যায় রওনা দিতে হচ্ছে কোনো কোনো এলাকা থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের কিছু করার নেই। এমন এমন এলাকা আছে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেল চালাতে গিয়ে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। যানমালের নিরাপত্তার জন্য রেলের গতি কমানো হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার গতিতে রেল চালাতে হচ্ছে, যা মানুষ পায়ে হেঁটেই চলতে পারে।
এক দিকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, অন্য দিকে পুলিশের গুলি-টিয়ার শেল ও আটক-গ্রেফতার। এসব কারণেও মানুষ চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। রাজধানীর আরামবাগের ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, কোনোভাবেই স্বস্তি পাচ্ছেন না। গাড়িতে উঠতে ভয় লাগে, রাস্তায় যেকোনো স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কবলে পড়তে পারেন। আবার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবেন যেকোনো স্থানে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, বিনা কারণে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল নাশকতা রোধে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ যদি পুলিশকে সহায়তা করে তবে পুলিশ সহজে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারবে। অন্য দিকে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রয়োজনে বিজিবি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়। এমনকি রাস্তায় যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কোনো কোনো এলাকায় যানবাহনে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তার পরও পাঁচ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরিবহন সেক্টরের মালিক শ্রমিক নেতারা বলেছেন, যেভাবে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী খান বলেছেন ওই নিরাপত্তা দিয়ে পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব নয়। এই নিরাপত্তার মধ্যেও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলছে। ১৭২টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক যানবাহন। ১১ জন শ্রমিক এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে এক লাখ ২৭ হাজার পণ্য পরিবাহী গাড়ি রয়েছে। তা বসে থাকলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয় প্রতিদিন। রুস্তুম আলী খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে চরম মূল্য দিচ্ছি আমরা। তিনি বলেন, এ অবস্থায় পণ্য পরিবহন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সদস্যসচিব মাহমুদুল আলম মন্টু বলেন, আমার নিজের বিরুদ্ধেও গাড়ি পোড়ানো মামলা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি একটি মামলা ও ১০ জানুয়ারি আরেকটি মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিবহন সেক্টর সচল রাখতে যে নিরাপত্তা দিচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে ভয়ে অনেকেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছেন না।
পরিবহনের মধ্যে একমাত্র নৌযান সেক্টর এখনো মোটামুটি সচল রয়েছে। তবে এখানে যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাস-কোচ বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌযান। কিন্তু সেখানে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে মানুষকে। ভুক্তভোগীরা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকায় আসতে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা; কিন্তু অতিরিক্ত চাপে তাদের বসার জন্য ডেকের সিট কিনতে হচ্ছে। একজনের সিট বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। সূত্র জানায়, এতে অনেক অসহায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। এ ব্যাপারে মালিক কর্তৃপক্ষের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, হরতাল-অবরোধে নৌ সেক্টরে কোনো প্রভাব পড়েনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় অবরোধ ও হরতালে সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে রেল সেক্টরে। চার স্থানে এরই মধ্যে রেলের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় কোনো কোনো অঞ্চলে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজকে সকালের টিকিট কেটে পরদিন সন্ধ্যায় রওনা দিতে হচ্ছে কোনো কোনো এলাকা থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের কিছু করার নেই। এমন এমন এলাকা আছে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রেল চালাতে গিয়ে ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। যানমালের নিরাপত্তার জন্য রেলের গতি কমানো হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার গতিতে রেল চালাতে হচ্ছে, যা মানুষ পায়ে হেঁটেই চলতে পারে।
এক দিকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, অন্য দিকে পুলিশের গুলি-টিয়ার শেল ও আটক-গ্রেফতার। এসব কারণেও মানুষ চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। রাজধানীর আরামবাগের ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, কোনোভাবেই স্বস্তি পাচ্ছেন না। গাড়িতে উঠতে ভয় লাগে, রাস্তায় যেকোনো স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কবলে পড়তে পারেন। আবার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবেন যেকোনো স্থানে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, বিনা কারণে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল নাশকতা রোধে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ যদি পুলিশকে সহায়তা করে তবে পুলিশ সহজে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারবে। অন্য দিকে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রয়োজনে বিজিবি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1801)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
কালবেলা
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
মুসলিম
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইউরোপ
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
সৌদি আরব
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
ইউক্রেন
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
স্বাস্থ্য
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
লেবানন
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জীবনযাপন
শিল্প
কুমিল্লা
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
Exclusive
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
চিকিৎসা
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
ইয়েমেন
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
জলবায়ু ও পরিবেশ
তুহিন ওয়াদুদ
উত্তর কোরিয়া
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
কালি ও কলম
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
নিবন্ধ
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
জনস্বাস্থ্য
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কাতার
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আরব আমিরাত বা দুবাই
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
লিবিয়া
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
ইসলাম
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
জোহরান মামদানি
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জলবায়ু পরিবর্তন
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
কিশোর আলো
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
সোমালিয়া
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট











