Thursday, May 21, 2015
বাতের ব্যথা সারাতে

প্রশ্ন : রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, সাধারণ অর্থে বাতের ব্যথা বলে থাকে সবাই। বিষয়টি কী? এই রোগটিতে কী ঘটে এবং কী সমস্যা হয়?
উত্তর : রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস বা সাধারণত গেঁটে বাতের ব্যথা ১৬ বছর থেকে যেকোনো বছরের লোকের হতে পারে। এতে গাঁট বা জয়েন্ট সাধারণত ফুলে যায়, ব্যথা করে। চিকিৎসা না করা হলে ধীরে ধীরে গাঁটের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। গাঁটগুলো বাঁকা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। আমরা এটাকে বলতে পারি একটি ক্রনিক রোগ, এটা চলতেই থাকবে। যদি চিকিৎসা না করা হয় তখন বিকলাঙ্গতা তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন : এই ব্যথায় সাধারণত কোন গাঁটে বেশি সমস্যা হতে দেখা যায়?
উত্তর : সাধারণত হাত এবং পায়ের ছোট গাঁটে ব্যথা হতে দেখা যায়। আমরা সাধারণত হাতের কব্জি, ম্যাটাকার্পোফালানজেল গাঁট এবং ইন্টারফালানজেল গাঁট ব্যথা হতে দেখি। তারপর কনুইয়ের গাঁট, কাঁধের গাঁট, ঘাড়ের গাঁট, হাঁটুর গাঁট ইত্যাদি জায়গায় হতে পারে। তবে সাধারণত হাত এবং পায়ের গাঁটে বেশি হয়। এই ছোট্ট গাঁটগুলো ধীরে ধীরে ফুলে যায় এবং অকর্মন্য হয়ে যায়। মুঠ করতে পারে না। তার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারে না। এমনকি অনেকে লিখতেও পারে না।
প্রশ্ন : গাঁটের ব্যথা তো আরো অনেক কারণে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি যে রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের কারণে হয়েছে সেটি বোঝার উপায় কী?
উত্তর : এটা বোঝার জন্য রোগীর পুরো ইতিহাস নিতে হবে। কত দিন ধরে ব্যথা হচ্ছে, কোন কোন গাঁটে ব্যথা হয় এবং এটা দুই হাতে হয়েছে কি না, ছোট গাঁটে হয়েছে কি না, এ ছাড়া সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলে আড়ষ্টতা হয় কি না, ব্যথাটি ছয় সপ্তাহের বেশি ধরে রয়েছে কি না, এগুলো দেখা হয়। যদি ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গাঁট ফুলে থাকে, ব্যথা হয় এবং অন্যকোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলে আমরা উনাকে রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত হিসেবে ধরে নিতে পারি। এটা প্রমাণ করার জন্য আমরা কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করি। রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর, এন্টি সিসিপি, ইএসআর , সিআরপি এই কয়েকটি পরীক্ষা সাধারণভাবে করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের এক্স-রে করা যায়। গাঁটের জায়গা ঠিক আছে কি না , মাঝে মাঝে কোনো গাঁট নষ্ট হয়ে গেলে, এমআরআই, সিটি স্ক্যানের মতো দামি পরীক্ষাও করা যেতে পারে।
প্রশ্ন : কারা রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের জন্য ঝুঁকিপ্রবণ? কাদের বেলায় এটাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে?
উত্তর : সাধারণত রোগটিকে আমরা মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল (অনেক কারণে হয় ) বলি। কিছুটা জিনগত কারণে হয় এবং কিছুটা পরিবেশগত কারণে হয়। জিনগত কারণ ৫০ ভাগ আর পরিবেশগত কারণ ৫০ ভাগ দায়ী। জিনগত কারণের মধ্যে দেখা যাবে ব্যক্তির বাবা-মা, দাদা-দাদি , নানা-নানি তাদেরও এই ধরনের আরথ্রাইটিসের সমস্যা ছিল। এ রকম হলে ব্যক্তির হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এটা পাওয়া যাবে। আর ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় নতুন কিছু ঝুঁকির বিষয় আছে। যেমন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ। সংক্রমণ সরাসরি করে না, তবে নাড়িভুড়ির কিছু সংক্রমণ, কিছু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (যেমন, ইকো ভাইরাস, ককসাকি ভাইরাস), এমনকি কোনো কোনো দাঁতের সংক্রমণ- এগুলোর ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে শ্বেতরক্তকণিকাগুলো বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত এই শ্বেতকণিকাগুলো গাঁটে সাইনোবিল মেমব্রেনে জমা হয়ে এগুলোকে নষ্ট করে দেয় এবং রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসে পরিণত হয়। তবে সরাসরি সংক্রমণ শরীরে থাকে না, হয়তো সংক্রমণ কোনো সময়ে হয়ে গেছে তার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
এ ছাড়া রয়েছে ধূমপান, এটিও কিছু রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস তৈরি করে। আবার আঘাত, মাঝে মাঝে কোনো কোনো আঘাতের ইতিহাসের ফলে দেখা যায় আরথ্রাইটিস হয়ে গেছে। তবে সরাসরি এগুলোর প্রমাণ পাওয়া যায় না। পরোক্ষভাবে আমরা বলতে পারি, আঘাতও একটি কারণের মধ্যে পড়ে।
প্রশ্ন : অনেকেই চিন্তায় থাকে এই রোগটি পরিপূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব কি না এই নিয়ে। রোগী আপনাদের কাছে এলে কী ধরনের চিকিৎসা করেন?
উত্তর : হ্যাঁ, অনেক রোগী প্রথমেই আমাদের কাছে এটি জানতে চায়। আমরা রোগীকে আশ্বস্ত করি। দেখা যায়, শতকরা পাঁচ থেকে ১০ ভাগ রোগী একদম নিরাময় হয়ে যায়। আর ৯০ ভাগ রোগীর কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করি, যেন সব কাজকর্ম করতে পারে। তাই আমরা বলতে পারি এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। হয়তো পাঁচ শতাংশ রোগী অনেক সময় নিরাময়যোগ্য হয়ে যায় কোনো এক অজানা কারণে। এটা সরাসরি বলা যাবে না কারা নিরাময়যোগ্য, আর কারা নয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে কিছু ওষুধ সেবন করা, ব্যায়াম করা, ফিজিও থেরাপি নেওয়া এগুলোর মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।
প্রশ্ন : এই ক্ষেত্রে একজন লোককে যদি দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার ভেতরে থাকতে হয় তবে চিকিৎসার অংশ হিসেবে আপনারা কী করে থাকেন? পাশাপাশি একটু বলেন,এই ব্যথা যখন দীর্ঘ মেয়াদি হয় তখন কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকেন। এই ব্যথা নাশক ওষুধ কেউ যদি দীর্ঘদিন সেবন করেন তার বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়- এই ভয়টাও অনেকের মধ্যে কাজ করে। আপনারা কোনো বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই ওষুধগুলো দেন?
উত্তর : প্রথমত রোগীকে রোগ সম্বন্ধে আলোচনা করে আমরা বুঝিয়ে দেই। রোগীকে রোগ সম্বন্ধে জানানো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা বলি, আপনার এই রোগ কখনো বাড়তে পারে, কখনো কমতে পারে এবং দীর্ঘদিন আপনাকে ওষুধ খেতে হবে। কাজেই ব্যথানাশক যেসব ওষুধ সাধারণত কিডনি, লিভার বা অন্যান্য অঙ্গপতঙ্গে তেমন ক্ষতি করে না, সেগুলোই আমরা দেই। যখন প্রচণ্ড ব্যথা হবে তখনই খাবে, আর যখন ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যাবে তখন খাবে না। তবে রোগকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কিছু রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা রয়েছে, সালফোনামাইড, লিফ্রোনামাইড, সালফাস্যালাজিন এগুলো আমরা সাধারণত তাদের নিয়মিত সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
আর ব্যথার ওষুধ যখন ব্যথা বেশি থাকবে তখন খাবে আর ব্যথা যখন কমে যাবে তখন খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এর মধ্যে কম সমস্যা হবে এমন ওষুধ অনেক আছে। এমনকি কিডনির কোনো ক্ষতি করবে না এ রকম ব্যথার ওষুধও আছে। আমরা সাধারণত সেগুলোই চিকিৎসাপত্রে দিয়ে থাকি।
আর যেগুলো কিছু ক্ষতি করে সেগুলো আমরা যখন রোগীকে দেই তখনো রোগীকে নিয়মিত ফলোআপে লিভার, কিডনি এবং রক্তের কতগুলো পরীক্ষা নিয়ে আসতে বলি যেন এগুলোর কোনো সমস্যা হলে আমরা আগে থেকেই ধরতে পারি।
প্রশ্ন : একজন রোগী এভাবে দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তার মধ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না- এটা আপনারা দেখলেন। সে নিয়মি ওষুধ খাচ্ছে, চিকিৎসকের ফলোআপে থাকছে। এর পাশাপাশি সেই রোগীর জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তনের বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ কী থাকে?
উত্তর : তার খাবারদাবার, ব্যায়ামে অবশ্যই পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা সবাইকেই পরিমিত খাবার, পরিমিত ওজনের কথা বলি। এমনকি শাকসবজি বেশি খাওয়া এসব বিষয়ে উৎসাহিত করি। আর মাছ মাংস যতটুকু প্রয়োজন তার ততটুকু যেন খান। ওজন যেন বেশি না হয় এবং বেশি ওজন থাকলে যেন কমান, স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসতে পারেন- এটা অবশ্যই দরকার। সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওথেরাপি, জীবন যাপনের ধরনের পরিবর্তন অত্যন্ত দরকার। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা, বিভিন্ন পেশিতে, গাঁটে ব্যায়ম করা। একটু ফিজিওথেরাপিস্টের পরার্মশ নিতে হবে। কোনো কোনো গাঁটের জন্য ফিজিওথেরাপির দরকার হতে পারে। আবার কোনো কোনো গাঁটের জন্য ইনজেকশনের দরকার হতে পারে। আর যেসব ওষুধ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা সেগুলো নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশীর্বাদ না অভিশাপ?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এই দুষ্টামির অবসান কে করবে? by কাবেরী গায়েন
আমরা এক মাস ধরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যা দেখলাম, সেসব তাহলে
‘তিন-চারটা ছেলের দুষ্টামি?’ একই বাক্যে তিনি বলছেন, ‘মেয়েদের শ্লীলতাহানি
করছে’। তার মানে তিনি ‘মেয়েদের শ্লীলতাহানি’ করাকে ‘দুষ্টামি’ বলছেন? এরপর
তিনি দায়ী করলেন বাকি লোকদের, যারা ‘তাকায়া দেখল’ অথচ বলল না সেই দুষ্ট
লোকদের ‘তারা চেনে’ এবং ‘তারা তাদের পাশের বাড়ির’। অর্থাৎ সেদিন যারা ওই
ঘটনার সময়ে টিএসসিতে ছিল, তাদের পাশের বাড়ির লোকজন এমন দুষ্টামি করেছে
মর্মে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেবে এমনই প্রত্যাশা তাঁর। এরপর তিনি বললেন,
‘টিএসসির সামনে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে চার-পাঁচটি ছেলে দুই-তিনটি
মেয়েকে শ্লীলতাহানি করল। যাদের সামনে এই ঘটনা ঘটাল, সেই পাবলিকরা তাদের কেন
ধরল না।’ সত্যিই পাবলিক ভীষণ ‘দুষ্ট’। রান্নাঘরে আরও আছে, তিনি বললেন,
‘প্রত্যেক নাগরিকের আইনগত অধিকার আছে, তাদের সামনে অপরাধ ঘটলে তারাই তাদের
গ্রেপ্তার করতে পারবে। এতে পুলিশের গ্রেপ্তার করা লাগত না।’ সত্যি নাকি?
পাবলিক ‘গ্রেপ্তার’ও করতে পারে? তবে আর পুলিশ বাহিনীর হাতে রইল কী?আমি ভাবতে পারি না, একটি দেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক এমন দায়িত্বহীন, অসংলগ্ন, জেন্ডার অসংবেদী বক্তব্য দিতে পারেন!
এবার দেখা যাক, টিএসসির ঘটনায় তারা কী করলেন। পুলিশ ঘটনার দিনে দায়িত্ব পালনে পরিষ্কার ব্যর্থ হয়েছে, কারণ সিসিটিভিতে সবকিছু দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা ছিল। দ্বিতীয় ধাপে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলল। প্রতিবাদের মুখে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণের প্রসঙ্গ এলে দেখা গেল লিটন নন্দীসহ ছাত্র ইউনিয়নের যেসব নেতা ঘটনার দিনে উপস্থিত থেকে প্রতিরোধ করেছেন, তাঁরা গিয়ে দফায় দফায় ফুটেজ পড়ে দিয়ে এসেছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে কি ফুটেজ বোঝার মতো বিশেষজ্ঞ পুলিশ বাহিনীতে নেই? এখন নতুন আবদার।
সব ছবিতেই দেখি ইসমতের খালি পা—যখন টবের কোনা ছুড়ে মারছেন পুলিশের গাড়ির দিকে এবং যখন পুলিশের উদ্যত বুট তাঁর দিকে—দুই ক্ষেত্রেই। একটি ছবি হাজার কথার চেয়ে শক্তিশালী। ইসমতের খালি পা বলে, পুলিশের গাড়ির দিকে টবের অংশ ছুড়ে মারার আগেই পুলিশের ধাওয়ায় খুইয়েছেন তিনি জুতো। পুলিশ তো প্রয়োজনে আটক করতে পারত। অথচ পুলিশের আক্রমণে সন্ত্রস্ত ইসমতের ছবিগুলোর সঙ্গে ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে তাড়া খাওয়া সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনের ছবির পার্থক্য কোথায়? ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেককে যেভাবে রাস্তায় ফেলে পেটানোর ছবি এসেছে গণমাধ্যমে, আর তার চারপাশে উদ্যত বুট আর বন্দুক—এসব কি বাংলাদেশের পুলিশের ছবি? নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদেরই দিকে উদ্যত পুলিশের বুট আর বন্দুক? হাসান তারেক চমৎকারভাবে বলেছেন, যতসংখ্যক পুলিশ তাঁদের ওপর সেদিন চড়াও হয়েছে, এই সংখ্যক পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলে টিএসসির ঘটনাটিই ঘটত না।
এত ন্যক্কারজনক ঘটনার পরে শুধু সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে পুলিশের একজন নায়েককে, অথচ প্রকাশিত ছবিতে তো আমরা ইসমতের ওপরেই চড়াও হতে দেখছি অন্তত চারজন পুলিশ সদস্যকে। এ বিষয়ে আমার আগের লেখাটিতে (অস্বীকারের রাজনীতি, প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০১৫) বলেছিলাম, টিএসসির ঘটনায় এসআই আশরাফুল আলমকে বরখাস্ত করা যথেষ্ট নয়। একইভাবে মনে করি, ১০ মের ঘটনায় একজন নায়েককে সাময়িক বরখাস্ত করা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টামাত্র। ১০ মের ছাত্র বিক্ষোভে হামলার পরিকল্পনা কোনো নায়েক করেননি, যেমন পয়লা বৈশাখের সামগ্রিক ব্যর্থতার দায় কেবল আশরাফুল আলমের নয়। পয়লা বৈশাখে টিএসসির সামনে কী ঘটছিল, সেটি সিসিটিভিতে দেখে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ছিল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। অথচ পুলিশ প্রশাসনের প্রতিটি স্তর থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যা বলছেন এবং করছেন, তারপর যখন এটিকে ব্যক্তি পুলিশের বাড়াবাড়ি বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, সেটি মানা যাচ্ছে না। টিএসসির ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি জানা দরকার, পুলিশ এত বেপরোয়া আচরণ কেন করছে? পুলিশ ৯ মে রাতে পিটিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষক রাকিব আহমেদকে। গত বছর গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানাতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফাকেও মেরেছে পুলিশ।
অথচ এ বছর ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগ থানার কয়েক গজের মধ্যেই খুন হয়েছেন বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায়, অভিযোগ রয়েছে আশপাশে তখন পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। মার্চে খুন হয়েছেন ওয়াশিকুর রহমান। পুলিশ নয়, হত্যাকারীদের হাতেনাতে ধরেছেন তৃতীয় লিঙ্গের দুজন মানুষ। দুই দিন আগে খুন হয়েছেন সিলেটের যুক্তিবাদী লেখক অনন্ত বিজয় দাশ। পুলিশ এসব ক্ষেত্রে কী ভূমিকা পালন করেছে?
বিশ্বাস করি, পুলিশ বাহিনীতে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছেন, রয়েছেন প্রাজ্ঞ দক্ষ অফিসার। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই তার কাজ। কিন্তু নানা রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে গিয়ে দায়িত্বটি উল্টে গেলে গোটা পুলিশ বাহিনী যে দুষ্টামির জন্ম দেয়, তারই ফাঁক গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এই দুষ্টামির অবসান কে করবে?
ড. কাবেরী গায়েন: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি ও উগ্রবাদের দৌরাত্ম্য by বদিউল আলম মজুমদার
সারা চেইস তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ বইতে দেখিয়েছেন যে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি শুধু সমাজকে অধঃপতনের দিকেই ঠেলে দেয় না, একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক সহিংস উগ্রবাদেরও বিস্তার ঘটায়। তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছেন যে যেখানে আইনের শাসন ও সম্পত্তির অধিকারের নিশ্চয়তা অনুপস্থিত, সেখানে নগণ্য আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতার পথে অগ্রসর হয়, যা তাদের উগ্রবাদের দিকে ধাবিত করে। তিনি দেখিয়েছেন যে আফ্রিকা, এশিয়া, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অনেক দেশেই মাফিয়ার মতো পদ্ধতি বিরাজমান, যে পদ্ধতিতে অর্থ ওপরের, অর্থাৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের দিকে প্রবাহিত হয়। তিনি দাবি করেন, এসব দেশে ‘উন্নয়নকাজে বরাদ্দকৃত সম্পদ দুর্বৃত্তায়িত পদ্ধতির মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বিরাজমান পদ্ধতিকে অর্থ দিয়ে শুধু শক্তিশালীই করে না, এর মাধ্যমে মানুষের বঞ্চনার চেতনাও জাগ্রত হয়, যা তাদের সহিংস প্রতিরোধের দিকে ঠেলে দেয়।’
অন্য যেসব দেশের বিষয়ে চেইস তাঁর বইতে লিখেছেন, সেসব দেশেও ‘ক্লেপটোক্রেসি’ বা চৌর্যবৃত্তির একই ধরনের পদ্ধতি বিরাজমান, যদিও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোতে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যেমন, মিসরের পদ্ধতিতে তিনি সামরিক চৌর্যবৃত্তির কমপ্লেক্স, তিউনেসিয়ার পদ্ধতিকে আমলাতান্ত্রিক চৌর্যবৃত্তি, উজবেকিস্তানের পদ্ধতিকে সোভিয়েত-পরবর্তী চৌর্যবৃত্তি এবং নাইজেরিয়ার পদ্ধতিকে সম্পদ চৌর্যবৃত্তি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, আরব বসন্ত ছিল ‘চৌর্যবৃত্তিক পদ্ধতির বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহ’। বইটিতে তিনি মিসরের হোসনি মোবারকের ছেলে গামালের মতো ব্যক্তিকে, যে দেশব্যাপী জনঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল, বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, গামাল ও তার সহযোগীরা মিসরীয় রাষ্ট্রকে ‘ছিনতাই’ করে নিয়ে ‘আইন সংশোধনের মাধ্যমে ফায়দাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের ভূমি ও অন্যান্য সরকারি সম্পদের মালিক বানিয়েছে।’ আর এ ধরনের চৌর্যবৃত্তির ফলাফলই ধর্মীয় উগ্রবাদ। চেইসের মতে, সরকারি অঙ্গনের বাইরে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের সর্বব্যাপী বিস্তারের কারণে নাইজেরিয়ান খ্রিষ্টান ও মুসলমান জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত আচরণে অধিক ধার্মিকতার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। উজবেকিস্তানে বয়োবৃদ্ধ স্বৈরশাসকের জ্যেষ্ঠ কন্যা ভুয়া সাহায্য সংস্থা, টেলিকমিউনিকেশন খাতের ঘুষ-দুর্নীতি এবং সম্ভবত নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং এগুলো দেখে অনেক মানুষই হতাশাগ্রস্ত হয়ে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
সারা চেইসের মতে, ‘আফগান সরকারকে একটি সরকারের পরিবর্তে “ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড” বা খাড়াভাবে সমন্বিত একটি দুর্বৃত্তায়িত প্রতিষ্ঠান বলাই সংগত, যে প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন নয়, বরং ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে সম্পদ হস্তগতকরণ।’ ফলে চেইসের উদ্ধৃত একজন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জনগণ সরকারের কার্যক্রমে হতাশ হয়ে আরও ধর্মভীরু হচ্ছে। তারা প্রতিকারের জন্য সৃষ্টিকর্তার দিকে ঝুঁকছে।’
এ ধরনের বিরাজমান চৌর্যবৃত্তিক অপরাধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চেইস আইসাফ ও মার্কিন জয়েন্ট চিফের কর্মকর্তাদের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললে তাঁরা উত্তর দেন, ‘প্রথমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তার পরে অপশাসনের বিষয়ে ভাবা যাবে।’ কিন্তু চেইসের মতে, আফগানিস্তানের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে চেইস দাবি করেন যে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘আমরা যদি তালেবানের উত্থানের পেছনের চালিকাশক্তি সম্পর্কে ব্যবস্থা না নিই, তাহলে যত তালেবানকেই আমরা হত্যা করি না কেন, আমরা কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব না।’
একই সাক্ষাৎকারে চেইস ২০১০ সালে জার্মানিতে একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, যে বক্তব্যে তিনি আফগান সরকারকে খাড়াভাবে সমন্বিত একটি অপরাধী প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর বক্তব্যকালে শ্রোতারা তাঁকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ দেন বা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। শ্রোতাদের মধ্যে ৪৫টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে বেশ কয়েকজন চেইসের কাছে এসে বলেন, ‘আপনি আমার দেশের বর্ণনাই দিয়েছেন।’ চেইসের মতে, যেসব ব্যক্তি তাঁকে এ কথা বলেন, তাঁদের সবার দেশেই ধর্মীয় উগ্রবাদের সমস্যা রয়েছে।
চেইস তাঁর বইয়ে দাবি করেন যে পাতানো নির্বাচনও মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে এবং সহিংসতার দিকে ধাবিত করতে পারে। তাঁর মতে, আফগানিস্তানের ২০০৯ সালের কারচুপির নির্বাচনও, যা বহু মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে, তালেবানদের সহিংস প্রতিরোধের পেছনে শক্তি জুগিয়েছে।
সার্বিকভাবে বলতে গেলে, সারা চেইসের বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। গ্রন্থটি ধর্মভিত্তিক সহিংস উগ্রবাদের কারণ সম্পর্কে পাঠকদের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তাঁর মতে, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন ও ক্ষমতাবদলের অস্বচ্ছ পদ্ধতিই আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বাংলাদেশেও দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা সর্বগ্রাসী এবং এর দ্বারা আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সাধারণ মানুষ, যাদের আর্থিক সংগতি সীমিত এবং যাদের জন্য সাধারণত তদবির করার কেউ থাকে না, তারা ঘুষ-উৎকোচের মতো ‘পেটি’ বা ছোটখাটো দুর্নীতির দ্বারা অধিক এবং সরাসরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘মেগা’ বা বড় দুর্নীতি অবশ্য তাদের পেটে লাথি মারে ও তাদের দারিদ্র্যকে স্থায়িত্ব দেয়। আর এ কারণে তাদের অনেককে নিজের সন্তানদের অনেক ক্ষেত্রে উগ্রবাদের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে হয়। ধর্মীয় উগ্রবাদের সমস্যাও আমাদের দেশে বিরাজমান।
আমাদের আশঙ্কা যে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যবসায়ী চক্রের অব্যাহত চুরি-জোচ্চুরি এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত নির্বাচন তৃণমূলের জনগণকে ক্রমাগতভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলছে, যা আমাদের দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ বিস্তারের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। আমাদের আরও আশঙ্কা যে এ সত্য যদি আমরা দ্রুত উপলব্ধি না করি এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিই, তাহলে আমরা এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হতে পারি। আশা করি, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবিলম্বে বোধোদয় হবে।
বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইংলাকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই আফগান নারীর মৃত্যুতে ১১ পুলিশের জেল
কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে ফারখুন্দা (২৮) নামের ওই আফগান নারীকে গত মার্চে কাবুলে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কাবুলের একটি মাজারে এক মাদুলি বিক্রেতা সন্তান প্রত্যাশী নারীদের কাছে ভুয়া তাবিজ-কবজ বিক্রি করায় তার সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে ফারখুন্দা। এ সময় ওই মাদুলি বিক্রেতা ফারখুন্দার বিরুদ্ধে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগ তুললে সেখানে তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্য করা হয়। এ সময় পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঢেউ ওঠে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘প্রক্সি ওয়ার’, জাতীয় স্বার্থ ও সীমান্ত চুক্তি by মইনুল ইসলাম
১৯৪৭ সাল থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের ছিটমহলগুলোতে বসবাসরত জনগণ প্রায় সব ধরনের নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, টেলিফোন—এ ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে ৬৮ বছর ধরে বঞ্চিত এসব কৃষিপ্রধান এলাকার হাজার হাজার মানুষের আহাজারি ওই দুই রাষ্ট্রের আজন্ম বৈরিতার কারণে বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। ১৯৫৭-৫৮ সালে স্বল্প মেয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মালিক ফিরোজ খান নুন তদানীন্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে ওই ছিটমহলগুলো বিনিময়ের ব্যাপারে সফল আলাপ-আলোচনা সম্পন্ন করে ১৯৫৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একটি চুক্তি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে দু-দুটো সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ইসকান্দার মির্জা (৭ অক্টোবর) ও আইয়ুব খান (২৭ অক্টোবর) ওই সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো গরজ দেখাননি। আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের শাসনামলে ক্ষণে ক্ষণে যুধ্যমান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নুন-নেহরু স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার পরিবেশই ছিল না, বলাবাহুল্য।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার ওই চুক্তিকে ভিত্তি ধরে আবার স্থলসীমান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করে এবং ১৯৫৮ সালের চুক্তিকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখে তারা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি সই করে, যেটা এখন মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হিসেবে পরিচিত। ওই চুক্তি সইয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সংসদে চুক্তিটি অনুসমর্থিত হয়, কিন্তু ভারতীয় রাজনীতির জটিল আবর্তে পড়ে ভারতীয় লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি আটকে যায়। ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী খন্দকার মোশতাক এবং সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে বোধগম্য কারণেই সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারত তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জিয়াউর রহমান বরং ভারতবিরোধী রাজনীতিকেই তাঁর সরকারের জন্য বেশি ফলদায়ক সাব্যস্ত করেছিলেন। বিশেষত, তিনি সুপরিকল্পিতভাবে পাকিস্তান-পসন্দ্ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাষ্ট্রীয় নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তাঁর শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৈরিতাপূর্ণ অবস্থানে চলে যায়। তবু বলতে হবে, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বিরুদ্ধে গত ৪১ বছর দুই প্রতিবেশী দেশের কোনো সরকারই প্রকাশ্য অবস্থান নেয়নি।
প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫-১৯৯৬ পর্বে ভারতীয় পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থন নিয়ে প্রচুর প্রোপাগান্ডা হলেও অনুসমর্থনের জন্য ভারতীয় লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের দুরূহ কাজটি প্রায় অসম্ভব বিবেচিত হয়েছিল। এমনকি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন থাকা সত্ত্বেও স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের ব্যাপারে ভারতীয় রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ অতিক্রম করতে সমর্থ হয়নি তদানীন্তন ভারতীয় সরকার। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার ভারত সফরের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন ঘটে, তার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু তদানীন্তন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে বিরোধী দল বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস সহযোগিতা না করায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপিত হলেও অনুমোদন করানো যায়নি। এখন নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার কংগ্রেসের সঙ্গে সফল আলোচনার মাধ্যমে এই ইস্যুতে ভারতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে সমর্থ হওয়ায় রাজ্যসভা ও লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়েছে।
দীর্ঘ ৬৮ বছর পর স্থলসীমান্ত সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যাওয়ায় ছিটমহলের অবরুদ্ধ ৫৫ হাজার মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙা খুশির জোয়ার বইছে এখন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে মোবারকবাদ জানিয়েছেন পিতার আরব্ধ কাজটি কন্যার হাতে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে। শেখ হাসিনাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের সরকারি ও বিরোধী সব দলকে তথা ভারতীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ব্যতিক্রম শুধু বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এই সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনার কোনো কৃতিত্ব আছে বলে মনে করেন না। ভারতের বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি ধন্যবাদ জানালেন, কিন্তু কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং ওই সরকারের সবাইকে সমালোচনা করলেন আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানোর অভিযোগে। এই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক বলে মনে করি। শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে অপারগ হলেও এভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিয়ে বেগম জিয়া নিজের সংকীর্ণ মন-মানসিকতার যে প্রতিফলন ঘটালেন, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের জনগণের কাছে তিনি অনেকটা ছোট হয়ে গেলেন এই বাক্যবাণগুলোর কারণে! কোনো সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কৃতিত্ব পাওনা হলে তা ঔদার্যের সঙ্গে প্রদান করাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার।
এ পর্যায়ে প্রতিবেশী ভারতকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতির যে দোষারোপের প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, সে ব্যাপারেও কিছু আলোচনা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন। কোনো দেশ তার প্রতিবেশী কোন দেশ হবে, তা নিজ পছন্দ মোতাবেক বাছাই করতে পারে না। প্রতিবেশীকে শত্রু বানাবে নাকি বন্ধু বানাবে, সেটা রাষ্ট্রের শাসকেরা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন। ভারত প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশকে তিন দিক থেকেই বেষ্টন করে রয়েছে এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় এই দেশটি আঞ্চলিক সুপার পাওয়ার থেকে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বশক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ভৌগোলিক সীমানার বিচারে ছোট দেশ হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে ‘রিজিওনাল স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হওয়ার বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করছে। সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবাতাস বইছে বাংলাদেশে; এ দেশকে ‘তলাবিহীন ভিক্ষার ঝুলি’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার দিন ফুরিয়ে গেছে। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া বাংলাদেশের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে গণচীন ও ভারতের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক সহযোগিতার কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য এখন স্বর্ণ-সম্ভাবনাময় একটা সুযোগ। চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও এ দুটি উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ–সহযোগিতার ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত করে চলেছে। বাংলাদেশ তার অবস্থানগত গুরুত্বকে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে এ দুই দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে উইন-উইন সহযোগিতার ডাইমেনশনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজের উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে পারে।
অতএব, এ দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সাফল্য প্রশংসার দাবিদার। বিএনপির অর্জন এ ক্ষেত্রে প্রায় শূন্য। বিএনপি ও জামায়াত এখনো পাকিস্তান–প্রীতিতে আচ্ছন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে দেশটি। বাংলাদেশের কিছুই শিক্ষণীয় নেই পাকিস্তান থেকে, একমাত্র ওই দেশের মারাত্মক ভুলগুলো পরিহার করার শিক্ষা ছাড়া। বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ও গতি-প্রকৃতি পাকিস্তানের অর্থনীতির চেয়ে অনেক বেশি আশাপ্রদ ও ইতিবাচক। জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার যতবারই বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন ছিল, ততবারই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে বৈরী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে কি বাংলাদেশের কোনো ফায়দা হয়েছে? পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টারস’ রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে লালন-পালন ও সশস্ত্র পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের কোনো সরকার যখন এই সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় দেয় কিংবা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ও স্থলভাগকে এই সংগঠনগুলোর অস্ত্র পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়, সেটা কার স্বার্থ হাসিল করে? পাকিস্তানের না বাংলাদেশের? আসামের উলফার ট্রেনিং সেন্টার বাংলাদেশে কেন থাকবে? দশ ট্রাক অস্ত্রের যে চালানটি ধরা পড়েছে, তার নেপথ্য কুশীলব কারা ছিল, সেটিও নিশ্চয়ই একদিন বেরিয়ে আসবে।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা এই ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ থেকে বাংলাদেশকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এটা একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপহার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণের জন্য। এর উপযুক্ত প্রতিদান কি ভারত দেবে না? এটা তো সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে একটি মাইলফলক ঘটনা। ভারত নিশ্চয়ই এর গুরুত্বকে কখনোই খাটো করে দেখবে না। ভারতের ক্ষমতায় বিজেপি থাকুক কি কংগ্রেস থাকুক, এ জন্য শেখ হাসিনার সরকার উভয় দলের কাছেই আদরণীয় থাকবে। বেগম জিয়া বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তোষামোদ আর অকারণে কংগ্রেসকে গালমন্দ করেও কোনো ফায়দা হাসিল করতে পারবেন বলে মনে হয় না। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে যথোপযুক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন, সে জন্য তাঁকে অভিনন্দন।
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ মন্ত্রণালয়ের উপেক্ষা by কবির হোসেন
সম্প্রতি বিচার বিভাগের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি। এ লক্ষ্যে তিনি সচিবসহ আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এজন্য তাদের চিঠি দিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা প্রধান বিচারপতির সেই আহ্বানেও সাড়া দেননি।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পাঠানোর জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে দু’জন বিচারককে নাম চেয়ে চিঠি দেয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ এবং লক্ষ্মীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আফসানা আবেদীনকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন সুপ্রিমকোর্ট। অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজের চাকরি সুপ্রিমকোর্টের অধীনে ন্যস্ত থাকায় তার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে জিও (সরকারি আদেশ) জারি করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। আর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আফসানা আবেদীনের ক্ষেত্রে জিও জারির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিমকোর্টের ওই পরামর্শ বাস্তবায়ন না করে ফেলে রাখে।
এ অবস্থায় সোমবার সকালে বিচার কার্যক্রমের শুরুতে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে আইন মন্ত্রণালয় জিও (সরকারি আদেশ) জারি না করার বিষয়টি অবহিত করেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে আইন সচিবকে হাজির হওয়ার মৌখিক আদেশ দেন। একই সঙ্গে মাসদার হোসেন (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) মামলা অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক কার্যতালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয় বেঞ্চ অফিসারকে। এ বিষয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।
এ অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার আগেই আদালতে হাজির হন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আফসানা আবেদীনের দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সরকারি আদেশ জারির একটি কপি সঙ্গে নিয়ে আসেন। এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় মাসদার হোসেন মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি চলাবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জিও’র একটি কপি আদালতে দাখিল করেন।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের কাজে গতি বাড়ানোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমি তা করব। সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশ চলতে পারে না। আমি চাই না সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হোক। এভাবে সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননা করে দেশ চলতে পারে না। এরপর বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে পদক্ষেপ নিতে বলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘না না ও কিছু না। এগুলো আপনাদের কনজাম্পশনের জন্য না। সব খবর ছাপানোর জন্য নয়। আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের অনেক বিষয় আছে। কোনো আদেশ হয়নি। কেন ডেকে আনা হয়েছিল, এগুলো তো রিপোর্ট হতে পারে না।’ সব ঠিক আছে, আপনার বক্তব্য জানতে চাই- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার কথা হল, এগুলো ছাপানোর কোনো বিষয় নয়।’
প্রধান বিচারপতির আহ্বানে সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত বিচারকরা : এদিকে ৭ মে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে এক চিঠিতে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবসহ কর্মরত সব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, “বিচার বিভাগের বিদ্যমান সমস্যাবলি চিহ্নিত করে তা নিরসনকল্পে পন্থা উদ্ভাবনের জন্য বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে অধিকতর গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি আগামী ১৫ মে রোজ শুক্রবার বেলা ৩টায় সুাপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং উক্ত বিভাগে কর্মরত সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনা প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।” সভার আলোচ্যসূচি হচ্ছে- “১. বিচারক ও সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ২. ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ৩. গাড়ি, কম্পিউটারসহ আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, ৪. বিচার বিভাগের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা, ৫. প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়ন।”
চিঠিতে গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৬৪ জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক ও প্রকল্প পরিচালকের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে বলা হয়। জানা গেছে, এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে আইন সচিব এসে ১৭ তারিখে ওই মতবিনিময় সভা করার জন্য সময় নেন। কিন্তু ওই ১৭ তারিখেও আইন সচিবসহ অন্যরা মতবিনিময় সভায় হাজির হননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ হচ্ছেন মন্ত্রী। প্রশাসনিক কোনো বিষয়ে জানতে হলে উনার কাছে জানতে হবে- এটাই আমার বক্তব্য।’
সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ উপেক্ষিত : এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ একের পর উপেক্ষিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে পরামর্শগুলো আমলে নেয়া হচ্ছে না- যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের লংঘন। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ২০০৭ সালে তৈরি হয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (সার্ভিস গঠন, সার্ভিস পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরণ, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৭। এ বিধিমালা অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শক্রমে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা।
এই বিধিমালায় বলা হয়েছে, “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (আইন মন্ত্রণালয়) কার্যকরভাবে পরামর্শ গ্রহণের জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং কোনো ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব ও সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শে ভিন্নতা থাকলে, তখন সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ প্রাধান্য পাবে।” তাই সুপ্রিমকোর্টের কোনো পরামর্শ ফেলে রাখার এখতিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের নেই। কিন্তু হরহামেশাই সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ ফেলে রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের আমলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন গত বছরের ২৫ মার্চ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল মজিদকে বদলির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পরামর্শ পাঠায়। তিনি ২০১০ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। অথচ আইনের বিধান আছে একই স্টেশনে তিন বছরের বেশি থাকা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে কর্মরত থাকা এবং তার অধীনস্তদের সঠিকভাবে পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনে তাকে বদলির ওই পরামর্শ দেয় সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই বদলির পরামর্শের ব্যপারে কোনো সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২৬ মে এ বিষরয় সুপ্রিমকোর্ট থেকে মন্ত্রণালয়কে রিমাইন্ডার (স্মরণ করিয়ে) দিয়ে চিঠি পাটায় সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই জেলা জজকে আর বদলি করা হয়নি। মোহাম্মদ আবদুল মজিদ গত ডিসেম্বরে অবসরে যান।
এদিকে প্রায় দু’মাস আগে যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তীকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) পদে নিয়োগের পরামর্শ দেয় সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু এ পরামর্শও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
সূত্র জানায়, ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান সরকারকে সিএমএম করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিমকোর্টে প্রস্তাব পাঠায়। ওই প্রস্তাব নাকোচ করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসান অতিরিক্ত জেলা জজ অরুণাভ চক্রবর্তীকে সিএমএম করার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয় ওই পরামর্শ পুনর্বিবেচনারও আবেদন জানায়। ওই আবেদন শনিবার সুপ্রিমকোর্টের জিএ (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কমিটি নাকোচ করে দেয়। এছাড়াও প্রায় এক মাস আগে ১৫৩ জন সিনিয়র সহকারী জজকে বদলির পরামর্শ দেয় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। কিন্তু এদের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ৮ জনকে বদলি করা হয়নি। তাদের ক্ষেত্রে দেয়া পরামর্শ এখনও মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে বলে সূত্র জানায়।
এদিকে কত দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালায়, তা নির্ধারণ করা হয়নি। যে কারণে আইন মন্ত্রণালয় হরহামেশাই সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ দিনের পর দিন ফেলে রাখছে। এজন্য সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। এভাবে সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ পড়ে থাকায় বিচার বিভাগের প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে লংঘন হচ্ছে মাসদার হোসেন মামলার রায়। প্রকারান্তরে সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননাও হচ্ছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৯ সালে ১২ দফা নির্দেশনাসহ মাসদার হোসেন মামলার রায় দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দীর্ঘদিনেও ওই রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সব সরকারের আমলেই বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয়টি বিরোধিতার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ ওই রায় অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই ঘোষণাতেই শেষ। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ১২ দফা নির্দেশনার অধিকাংশই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও শৃংখলা বিধানের মূল কাজ এখনও মন্ত্রণালয়ের হাতে। ওই রায় অনুযায়ী এসব বিষয় থাকার কথা সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের হাতে। ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারছে না জনগণ। বিচার প্রশাসনেও গতি আসছে না। বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেয়ার পর মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
১৬ মে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, মাসদার হোসেন মামলার ১২ দফা নির্দেশনার মধ্যে প্রধান বিষয়টি আজও আমরা পায়নি। সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিু আদালতের প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ হাইকোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকার কথা। সেটা যদি হয় আবার নিু আদালতের বিচারকদের শৃংখলা বিধি ও শৃংখলা ব্যবস্থা গ্রহণ যদি সরকারের হাতে থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তো হাইকোর্টের থাকল না।’
এদিকে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন। একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর এমনকি যুগের পর যুগ লেগে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার লংঘিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেয়ার পর এই জট নিরসনের নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কর্মঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নিু আদালতের বিচারকদের সময়মতো এজলাসে ওঠা ও নামার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচারক শূন্যতা, এজলাস কক্ষের অভাবসহ নানা অসুবিধা রয়েছে। বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সুপ্রিমকোর্টের হাতে না থাকায় এসব ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। আবার পরামর্শ দিলেও তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করছেন না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমুদ্রপথে মানব পাচারের রুট রোহিঙ্গাদেরই আবিষ্কার by মাসুদ করিম ও আবদুল মাবুদ
![]() |
| ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক অভিবাসী শিশু-এএফপি |
রোহিঙ্গাদের হাত ধরে বাংলাদেশীরাও জড়িয়ে যায় সমুদ্রপথে মানব পাচার ব্যবসায়। একসময় যুক্ত হয় রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট শক্তিশালী চক্র। প্রভাবশালী মহল জড়িয়ে যাওয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগও হয়ে পড়ে সীমিত। এ সুযোগে আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যও পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। এসব কারণে সমুদ্রপথে মানব পাচারের বিষয়টি জানা থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ ছিল না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানব পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকায় জনপ্রতিনিধিদের নামও আছে। এ থেকেই স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল পাচারের নেপথ্যে যুক্ত ছিল। আবার উল্টো ঘটনাও ঘটেছে। তালিকায় মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যারা প্রতিবাদ করেছেন, পাচারকারীদের কারসাজিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নেটওয়ার্ক ৩২ জেলায় বিস্তৃত। সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা- এসব জেলা থেকে বেশিরভাগ মানব পাচার হয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লোকজনকে জোর করে পাঠানোর ঘটনা থাকলেও মূলত অন্যান্য জেলার লোকজনকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়।
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রকৃত পাচারকারী দালালরা আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। ইতিপূর্বে তারা ইয়াবা চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। বছর দুয়েক ধরে তারা পেশা পরিবর্তন করে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। পাচারকারীদের মধ্যে অনেক ভয়ংকর অস্ত্রধারী ডাকাতও রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে রামুর ধোয়াপালং গ্রামের লেইঙ্গা আলীর ছেলে আবদুল করিম প্রকাশ করিম ডাকাত। এ ছাড়া ধেছুয়াপালং গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে হামিদুল হক প্রকাশ কালাবা ডাকাত (বর্তমানে জেলহাজতে), উখিয়া সোনারপাড়ার কালা জমির, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের আবুল কালামসহ অনেকে রয়েছে।
মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ দালালরা বসবাস করে মালয়েশিয়ায়। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাকড়সার জালের মতো বিস্তৃত তাদের নেটওয়ার্ক দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে আর লোভ-প্রলোভন দেখিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সহজ-সরল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ বেশ কয়েকজন মানব পাচারকারী নিহত হলে আত্মগোপনে চলে যায় দেশের ভেতর থাকা মানব পাচারকারী দালালরা।
থাইল্যান্ডে পাচারের শিকার মানুষের গণকবর আবিষ্কারের পর অবশ্য বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ একযোগে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্তমান সংকট নিরসনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনের তাগিদ দিচ্ছে। মানব পাচার বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি সক্রিয় হওয়ার শক্তিশালী বার্তা দিতে চায় মালয়েশিয়া। তবে গোটা বিষয়টির একটি আঞ্চলিক সমাধানে নানামুখী উদ্যোগ চোখে পড়ছে। তার অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড একটি সম্মেলন করতে যাচ্ছে। তারপরই সম্মেলনের আয়োজন করবে মালয়েশিয়া।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার যুগান্তরকে বলেন, মানব পাচারের বিষয়ে আমাদের কাছে যেসব খবর আসছে সেগুলোর ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের সমুদ্রসীমা থেকে এখন আর মানব পাচার হচ্ছে না। যারা গেছে আগে গেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানব পাচারের শিকার যেসব মানুষ উদ্ধার হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক আছেন বাংলাদেশী। পত্রিকায় কিংবা টেলিভিশনে যাদের দেখাচ্ছে, তাদের চেহারা বাংলাদেশীদের মতো নয়। মিয়ানমারের মেয়েরা গাউনের মতো একটা পোশাক পরে। এ পোশাক বাংলাদেশীরা পরে না। ছোট বাচ্চাদেরও ছবিতে দেখা যাচ্ছে। এরা বাংলাদেশী নয়। মানব পাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার চক্রের অনেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। এমন চক্রের আরও কেউ থাকলে তাদের ধরতে টেকনাফসহ গোটা এলাকায় আমাদের বাহিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের মানব পাচারকারীদের সঙ্গে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের যোগসাজশ হয়। এভাবেই দিনে দিনে মানব পাচার ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা অনায়াসে পাচারকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আসা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানব পাচারের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়। রোহিঙ্গারা সহায়-সম্বলহীনভাবে বাংলাদেশে আসায় তারা দালালদের খপ্পরে পড়ে নিজেদের ভাগ্য গড়তে সমুদ্রপথে অনিশ্চিত যাত্রায় শরিক হয়। চট্টগ্রাম এলাকার পাশাপাশি সারা দেশ থেকে দালালরা লোক সংগ্রহ করে উপকূলীয় অঞ্চলে পাঠাতে থাকে।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, সেন্ট মার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। অনেক দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক তাদের পেশা ছেড়ে পাচারকারী সিন্ডিকেটের দালালে পরিণত হয়। ওই অঞ্চলে মানব পাচারের সঙ্গে অন্তত ২০টি সিন্ডিকেট জড়িত। তাদের অনেকের পাচারের জন্য নৌকা আছে। আবার কেউ কেউ মিয়ানমারের পাচারকারীদের নৌকা ব্যবহার করে মানব পাচার করে থাকে।
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুকদের পাচারকারীরা ছোট ছোট নৌকায় করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে গভীর সমুদ্রে কার্গো জাহাজে তোলে। সেখান থেকেই মুক্তিপণ আদায়ে শুরু হয় নির্যাতন। পাচারকারীদের দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিতে মোবাইল ফোনে বলা হয়। এমন নির্যাতনে কাজ না হলে তাদের আরও নির্যাতন করা হয় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নিয়ে। এসব ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস একাধিকবার এমন সব চিত্র তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে। এসব বার্তা কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনকে পাঠানো হলেও মানব পাচার বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দূতাবাসের পাশাপাশি মানব পাচার নিয়ে কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও সমুদ্রপথে পাচার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড পাচারের শিকার কিছু কিছু মানুষ উদ্ধার করলেও পাচারকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের উপযুক্ত সরঞ্জাম না থাকায় তাদের যথাযথ টহল পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের গহীন অরণ্যে পাচারের শিকার মানুষের গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে রোমহর্ষক কাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড একযোগে অভিযান শুরু করে।
মানব পাচার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন। এ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার ফারজানা বেগম যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানুষের কর্মসংস্থানের অভাবে মানব পাচার বেড়েছে। তার ওপর এক শ্রেণীর দালাল মানুষকে পাচারে উৎসাহ দিচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি জনগণকে পাচারের বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যুক্ত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা সমাধান হলে মানব পাচার বন্ধ করা অনেক সহজ হবে।
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, মানব পাচারের ঘটনায় থাইল্যান্ড বড় ধরনের চাপে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার প্রতিবেদনে থাইল্যান্ডের অবস্থান সর্বনিুে টায়ারি তিনে থাকায় দেশটি এখন সেই অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে চাইছে। এ জন্য স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা এ সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মেলনের আয়োজন করছে। ২৯ মে একদিনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, গণকবর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মুসলমানদের বলে চিহ্নিত করার পর মুসলিম কায়দায় তাদের সৎকার করা হয়েছে। টোটন সাহা নামে যাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাকে গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয়নি। তিনি জঙ্গলের টর্চার সেল থেকে পালিয়ে আসেন। তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ বলে জানিয়েছেন।
মানব পাচারে জড়িত দালালরা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘিরে গড়ে উঠা দালাল চক্র দূতাবাসের এক শ্রেণীর কনসুলার ও শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মানব পাচার করে থাকে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে দূতাবাস কোনো ব্যবস্থা নিলে তারা ঢাকায় উচ্চতর রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করে রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনে। সম্প্রতি এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার রিক্রুটিং এজেন্সির বদলে সরকারি পর্যায়ে লোক নেয়ার চুক্তি করেছিল। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লোক নেয়ার তেমন চাহিদা মালয়েশিয়া দেয়নি। সেখানে আউট সোর্সিং কোম্পানির দালালরা মানব পাচারকারীদের কাছ থেকে কম খরচে লোক সংগ্রহ করছে। পাচারের মাধ্যমে যাওয়া মানুষের মজুরি ও চাকরির ক্ষেত্রে বঞ্চনাও বেশি হচ্ছে। এসব বিষয়ে মালয়েশিয়ার সরকারকে কঠোর হতে দেখা যায়নি। তার বিপরীতে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই বাংলাদেশের উপকূল থেকে পাচার হয়েছে ২৫ হাজার মানুষ।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, মানব পাচার বন্ধের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখাশোনা করে থাকে। আমি মানব পাচারের বিরোধিতা করি। মানব পাচারের শিকার মানুষকে বিমান থেকে পর্যন্ত নামিয়ে এনেছি। তবে এ কাজটা ইমিগ্রেশনের। এখন বোধ হয় মানব পাচার বন্ধে ভালো ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমি দু’দিন পর এ ব্যাপারে বলতে পারব।
ব্যাংকক সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর দেবে বাংলাদেশ : মানব পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। অনিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত আসন্ন ব্যাংকক আঞ্চলিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়া মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ অঞ্চলের সব দেশকে এ বিষয়ে মিয়ানমারকে শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে।
থাইল্যান্ড আগামী ২৯ মে একদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ব্যাংকক সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে এ সম্মেলনে মিয়ানমার যোগ দেবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। থাইল্যান্ড বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারে একজন বিশেষ দূত পাঠিয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার আঞ্চলিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাইছে না। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক মনে করে না।
অস্ট্রেলিয়ার অনুরোধে মূলত থাইল্যান্ড এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশ এ সম্মেলনে যোগ দেবে বলে তারা আশা করছেন। তার মধ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলো হল : অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এ অঞ্চলের বাইরে থেকে যোগ দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, আইওএম ও ইউএনওডিসি।
বাংলাদেশ নিজ দেশের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করা সাপেক্ষে ফিরিয়ে আনার কথা বললেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, মানব পাচার একটি আঞ্চলিক সমস্যা বিধায় একক কোনো দেশের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পাচারের উৎস, গন্তব্য ও ট্রানজিট দেশগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনবে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের কোনো দায়িত্ব বাংলাদেশ নেবে না।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মিয়ানমার যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব না নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানব পাচার সমস্যার সমাধান হবে না। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বছরের পর বছর ধরে পাচারের শিকার মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে এটা ওই দেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারিতে কখনও চোখে পড়েনি- এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ- সব দেশই পাচারকারীদের নাম জানে। এখন সময় এসেছে এসব গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। এটা করা না হলে কোনো এক দেশে অভিযান চালালে পাচারকারীরা অন্য দেশে চলে যাবে। ফলে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
মালয়েশিয়া থেকে ৭০০ বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে : সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া গিয়ে আটকে পড়া ৭০০ বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে। ঢাকায় আইওএম মুখপাত্র আসিফ মুনীর মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৭০০ বাংলাদেশীকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আইওএমের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি তহবিল আছে। সেই অর্থ দিয়েই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করে দেশে ফিরেছেন। তিনি মালয়েশিয়া গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে মানব পাচারের মূল কারণ রোহিঙ্গা সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে না নিলে মানব পাচার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, এ ব্যাপারে মিয়ানমারকে শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এটাও বলা হয় যে, ব্যাংকক সম্মেলন শেষ হওয়ার পর মানব পাচার বন্ধে মালয়েশিয়াও আরেকটি সম্মেলনের আয়োজন করবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তোরে বাঁচাইয়া রাইখ্যা ভুল করছি’ by নুরুজ্জামান লাবু
গত বছরের ১৯শে অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন কৃষি মার্কেট এলাকা থেকে গাড়িচালক শাহ আলমকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয় শেরেবাংলানগর থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন। গাড়িতে হাত ও চোখ বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ঘোরানোর পর মধ্যরাতে আগারগাঁওয়ের তালতলা নিয়ে দুই পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। পরে এসআই আনোয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শাহ আলম গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলিও উদ্ধার দেখায়। কিন্তু ঘটনার দুদিনের মাথায় পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানতে পারেন পুরো ঘটনাটি সাজানো। গোপনে অনুসন্ধান করেও ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। পরে তার নির্দেশে শাহ আলমের ভাই গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এসআই আনোয়ারকে বরখাস্তের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করে। এদিকে একই সঙ্গে শাহ আলমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অস্ত্র মামলাটিও চলতে থাকে। দুটি মামলাই তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
ডিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির বরখাস্তকৃত এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। একই সঙ্গে শাহ আলমের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে এক দিন পর কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন শাহ আলম। তবে অভিযোগপত্র দেয়ার আগেই গত জানুয়ারির ৫ তারিখে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন এসআই আনোয়ার। জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাহ আলম ও তার ভাই গোলাম মোস্তফাকে নানাভাবে দেনদরবার ও চাপ দিতে থাকে আনোয়ার। শাহ আলমের ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, মামলা তুলে নিতে আনোয়ার নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছে। একাধিকবার লোকও পাঠিয়েছে। কিন্তু আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। এসআই আনোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে তদন্ত সূত্র জানায়, শাহ আলমকে সন্ত্রাসী বানানোর চেষ্টায় এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থল থেকে যে বিদেশী পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার দেখিয়ে সেই অস্ত্র-গুলির উৎস জানতে পারেনি পুলিশ। এসআই আনোয়ারকে একাধিকবার রিমান্ডে নিলেও অবৈধ অস্ত্র-গুলির সন্ধান সম্পর্কে মুখ খোলেনি সে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কোনও সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করেছিল এসআই আনোয়ার। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটির গায়ে মেইড বাই জাপান ও ব্যারলে আরমানি লেখা ছিল। অবৈধভাবে এই অস্ত্র সংগ্রহ করতে তার অন্তত ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য স্বীকার করলে ফেঁসে যেতে পারে বলে কৌশলে সব কিছু অস্বীকার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এসআই আনোয়ার বিভিন্ন সময় নিজেই মামলার তদন্ত করতো। ফলে আইন-কানুন সম্পর্কে সে আগে থেকেই অবগত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো প্রমাণিত হওয়ায় এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি অস্ত্র মামলার আবেদন আদালতে করা হয়েছে। আদালত এখনও কোনও নির্দেশনা দেয়নি। আদালত নির্দেশনা দিলে অস্ত্র মামলাটি দায়ের করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সারাবিশ্বে ভয়াবহ ইমেজ সংকটে বাংলাদেশ by শিশির আবদুল্লাহ
এক সময় হতদরিদ্র বাংলাদেশ এখন বিশ্বসভায় বহু ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশ নিয়ে শুধু নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতা বাদ দিয়ে বহু ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরছে।
তবে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রাজনৈতিক হানাহানি আর গার্মেন্ট ধসে পড়ার খবরও এ সময় শিরোনাম হয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।
কিন্তু চলমান দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সংকট দৃশ্যত বাংলাদেশের সব অর্জনকে ম্লান করে দিয়ে দেশের ইমেজকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষভাবে, দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের ‘সফলতা’র আন্তর্জাতিক ‘স্বীকৃতি’ মেলার মধ্যেই বাংলাদেশে দারিদ্র এবং বেকারত্ব চরম পর্যায়ে চলে যাওয়া সংক্রান্ত খবর বর্তমানে বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপকহারে প্রচারের ফলে ইমেজ সংকট তীব্র হয়েছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি ইস্যু হচ্ছে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের অভিবাসী সংকট। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন এই ইস্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন বিবৃতি দিচ্ছে। সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন তৎপরতাও চালাচ্ছে তারা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিদিন সমুদ্রে ভাসমান ক্ষুধার্ত-বস্ত্রহীন ও ক্রন্দরত রোহিঙ্গাদের সাথে বাংলাদেশিদের ছবি প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বাংলাদেশি এবং তাদের সাথে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদেরকে আশ্রয় দিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডকে চাপ দিচ্ছে জাতিসংঘ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অন্য অর্থ হচ্ছে, নিজের দেশের এই ক্ষুধার্ত নিরুপায় মানুষদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষমতা যে বাংলাদেশের নেই এটা তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ।
যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ‘গণতন্ত্রের’ চেয়ে ‘উন্নয়নকে’ প্রাধান্য দেয়ার স্লোগান নিয়ে এগোচ্ছে, এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে প্রচার করছে সেখানে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী’ হিসেবে পরিচিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের মতোই কাজের সন্ধানে বের হয়ে অসহায়ভাবে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের সাগরে ভেসে থাকার ব্যাপারটি মারাত্মক নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করছে।
সমুদ্রে ভাসমান কয়েক হাজার মানুষের প্রায় অর্ধেক বাংলাদেশি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানাচ্ছে। বাকিরা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম।
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারটি আলাদা। জাতিগত পরিচয়ের কারণে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে বা দখল করে ছেলে-বুড়ো-নারী-শিশু নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করা কিংবা সাগরে তাড়িয়ে দেয়া হয়। নৌকাগুলোতেও তা-ই দেখা যাচ্ছে- সব বয়সী মানুষই রয়েছেন।
কিন্তু ভাসমান বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। এরা সবাই গিয়েছেন কাজ খুঁজতে। দেশে কাজ নেই, অথবা ছোটখাটো ব্যবসাপাতি যা ছিল সব খুইয়ে বসেছেন দেশের অর্থনীতির দুরাবস্থার কারণে। তাই বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে অন্যদেশে কাজ খোঁজার জন্য সাগরে ভাসতে হয়েছে তাদের।
বেকার বা অর্ধবেকার জীবনে অসহায়ের মতো বসে থেকে ছেলে-মেয়েদের ক্ষুধা-অসহায়ত্বের যন্ত্রণা চোখে দেখার চেয়ে তাদেরকে কাছে অনন্তের পথে যাত্রাই শ্রেয়। ভাগ্য ভাল থাকলে কাজ ঝুটে যাবে, না হলে অন্তত নিজের চোখে পরিবারের অন্যদের কষ্ট দেখতে হবে না! অনিশ্চিত ভবিষ্যত জেনেও এইসব মানুষ শুধু কাজের সন্ধানে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভিন দেশে প্রবেশ করতে যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান মনে করেন, অভিবাসী ইস্যুতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর বেশ কিছু নেতিবাচক ফলাফলও আছে বলেও মনে করছেন তিনি।
আরটিএনএন-কে অধ্যাপক তারেক বলেন, সংকটটির দুইটা দিক রয়েছে। এক. একটা অংশ অভিবাসী মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে মূলত বাংলাদেশে ঢুকতে চাচ্ছে। এখানে না পেরে তারা পার্শ্ববর্তী অন্য দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।
দুই. অন্য অংশটি বাংলাদেশের নাগরিক। তারা কাজের জন্য বিদেশে যেতে বের হয়েছে।
‘দ্বিতীয় বিষয়টি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রশ্নের সম্মুখীন করবে। বাইরের লোকজন মনে করবে দেশটিতে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটা সরকারের জন্য নেতিবাচক। আবার অনেকে ধরে নিতে পারে এসব দেশছাড়া লোকজন সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়েও দেশ ছাড়তে পারে। যেহেতু তাদের সঙ্গে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা এই ধরনের নিপীড়নের শিকার বলে সবাই জানে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়,’ বলেন তারেক শামসুর রেহমান।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে নিপীড়নের বিষয়টি বাইরে প্রতিষ্ঠিত হলে এখানকার অস্থিতিশীলতারই বার্তা যাবে বহির্বিশ্বে। এর একটা অর্থনৈতিক দিকও আছে- বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরো নিরুৎসাহিত হবেন।’
কোস্ট গার্ড থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের সীমানা পার হয়ে এত সংখ্যক নাগরিক কিভাবে অন্যদেশের সীমান্তে যায়, এই প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান করণীয় সম্পর্কে অধ্যাপক তারেক বলেন, এখন উচিত নতুন করে কেউ যাতে সমুদ্রে ভাসতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ করার চেষ্টার বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দ্রুত আসিয়ান ফোরাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপন করলে দেশটি এই ইস্যুতে চাপের মুখে পড়বে।
উখিয়ার তিন গ্রামে নিখোঁজ ৫০০
কক্সবাজার থেকে ৫৪ কিলোমিটার দূরে উখিয়া সমুদ্র উপকূলের পাহাড়ি গ্রাম পিনজিরকুল। গত তিন মাসে এই গ্রাম থেকে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পাচার হয়েছে আট শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২২০ জন। পুলিশ, মানব পাচার রোধে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
পিনজিরকুলের পাশের দুই গ্রাম সোনাইছড়ি ও পশ্চিম দরগাহবিল থেকেও একই সময়ে পাচার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৭৭ জন।
মানব পাচার প্রতিরোধ নিয়ে উখিয়া উপজেলায় কাজ করা বেসরকারি সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম জানান, পিনজিরকুল, দরগাহবিল ও সোনারপাড়া—এই তিন গ্রাম থেকে পাচার হওয়া অন্তত ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন এখানকার প্রায় ৩০০ মানুষ।
গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই তিন গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে পাচার হওয়ার পর নিখোঁজ ১২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি।
কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিরা থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের কারাগারে বন্দী রয়েছেন। হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক জানান, বন্দী ১২০ জনকে উদ্ধারের জন্য গত ৩০ এপ্রিল তালিকাটি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শুধু একটি উপজেলায় এত সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকলে সারাদেশ থেকে কত মানুষ নিখোঁজ তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।
সরকারের ফাঁকা বুলি?
২০১৩ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ নামক ওই পুরস্কারটি ‘দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হয়েছিল বলে খবরে প্রকাশ হয়েছিল তখন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পরিবর্তে উন্নয়নে রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্মানের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’
সরকারের পক্ষ থেকে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে নানা সময়ে নানা কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি যে সসম্পূর্ণ ভিন্ন তা সমুদ্রে ভাসমান বাংলাদেশিরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন।
সরকারের মন্ত্রীরা নানা সময়ে দাবি করেছেন ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১ কোটির কাছাকাছি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জেও একই কথা বলেছেন।
কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দাবি করেছিলেন ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১ কোটি করে মোট ২ কোটি লোকের চাকরির ব্যবস্থা করেছে। প্রধান
কিন্তু গত বছরের আগস্টে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি বক্তব্য ছিল মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের বিপরীত। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন বিষয়ক সামাজিক সংগঠন (এমিনেন্স) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়লেও, মাথাপিছু ক্রয়ক্ষমতা সেভাবে বাড়েনি। দেশে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ শ্রমশক্তি রয়েছে। তবে এর মধ্যে শতকরা ২০ ভাগের কম মানুষের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বাকি শ্রমশক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেকার।
অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য থেকে দেশের সক্ষম মানুষদের বেশিরভাগই যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেকার তা জানা যায়। আর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে বুঝা যাচ্ছে, এই বেকারত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
২০১৪ সালের অক্টোবরে দৈনিক কালের কণ্ঠের ‘কর্মসংস্থান নেই চলছে ছাঁটাই’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গল্প মোটামুটি একই রকম- বিক্রি নেই, টাকা নেই, নতুন নিয়োগ নেই। উল্টো পুরনো কর্মীদের বিদায় করে টিকে থাকার চেষ্টায় আছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই বেতন অনিয়মিত হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গত কোরবানির ঈদে বোনাস হয়নি। প্রতিষ্ঠানের করুণ দশা দেখে কর্মীরাও মালিকের কাছে বোনাস চায়নি। তারা সবাই আবার সুদিনের অপেক্ষায় আছে।
ওদিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে তাদের অন্য ব্যবসার ওপর ভর করে। চার-পাঁচটি খাতে যাদের ব্যবসা আছে তারা একটি-দুটি খাতে ভালো ব্যবসা করে সেই টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে নিজেদের আবাসন ব্যবসায়। তবে তাদের মনেও প্রশ্ন- এ অবস্থা আর কতকাল?’
এদিকে বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানা কারণে নতুন বিনোয়োগ হচ্ছে না দেশে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। মূলধনী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ হু হু করে বাড়ছে। ব্যাংকে জমেছে অলস টাকার পাহাড়।
নতুন বিনিয়োগ না আসার পাশাপাশি বন্ধ হয়েছে শত শত গার্মেন্টসহ অন্যান্য কারাখানা। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্প মালিকরাও পরিবহন সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিপরীতে সঠিক মূল্য না পাওয়া, সরকারি দলের ক্যাডার এবং পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে প্রায় প্রতিটি সেক্টরে কমবেশি কর্মসংস্থান কমছে।
দেশ ছাড়ার উৎস খুঁজতে চাপ দেবে জাতিসংঘ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ কেন দেশ ছাড়ছে, তার উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করে জাতিসংঘ। শনিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত মধ্যাহ্ন ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা জানান।
বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার মানুষ পাচারকারীদের শিকার হয়ে গভীর সাগরে অভুক্ত অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছে। গত কয়েক দিন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েক হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবারও ২০০ অভিবাসী উদ্ধার হয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি ও বাকিরা রোহিঙ্গা। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে সমস্যার মূলের খোঁজ নিতে জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারকে কোনো চাপ দেওয়া হবে কি না, যেখানে মানুষ নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছে—এ প্রশ্নের জবাবে ফারহান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের গতকালের বিবৃতিতে এ ধরনের বিষয় উল্লেখ করা ছিল, আপনারা দেখে থাকতে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, যেসব জায়গায় অতিমাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেখানে সমস্যার উৎসের বিহিত করা প্রয়োজন। তাহলে বোঝা যাবে, আসলে কী কারণে মানুষগুলো সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রকল্প পরিচালক পাত্তা দেন না কাউকেই -একটি বাড়ি একটি খামার: অনুসন্ধান by শরিফুজ্জামান
৮৩ লাখ টাকা খরচ করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে ক্ষুদ্রঋণে জড়িত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়েছে। তাদের আখ্যা দেওয়া হয়েছে নরপশু, কুচক্রী, শকুন, দেশবিরোধীসহ বিভিন্ন নেতিবাচক পরিচয়ে। এ ছাড়া নারীর প্রতি অবমাননা এবং পুলিশ বাহিনীকে হেয় করার মতো সংলাপ রয়েছে এতে।
প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তার নির্দেশে তা সিনেমা হলে দেখানো হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্প পরিচালক বলেছেন, এমন কোনো নির্দেশ তিনি পাননি। তাহলে কেন হলে দেখানো হচ্ছে না? এর কোনো জবাব নেই তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার: প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কথায় কথায় এমনকি অপ্রয়োজনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করে সব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের নিরীক্ষা আপত্তির জবাব দিতেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন অসংখ্যবার।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন প্রকল্প পরিচালকের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছেন। ভোলা, পটুয়াখালীসহ ১৮ জন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অভিযোগও করেছেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রশান্ত কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের কাজকর্মে ঝামেলা সৃষ্টি হলে বা কেউ ঝামেলা করতে চাইলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ভয় না পেলে এ দেশে কাজ করানো কঠিন।
প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে পাত্তা দেন না: মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমানকে (রাঙ্গা) পাত্তা দেন না প্রকল্প পরিচালক।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকারও শুধু সময় পার করছেন। তাঁর কাছে অসংখ্য অভিযোগ জমা হলেও তিনি এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি। জনপ্রশাসনে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি এই মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর প্রত্যাশা ছিল আরও বড় মন্ত্রণালয় বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এদিকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকা অবস্থায় প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁকেও বিভিন্ন সভায় ও আচার-অনুষ্ঠানে হেয় করার অভিযোগ রয়েছে প্রশান্ত কুমারের বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, কারও অন্যায় দাবি বা আবদার শুনি না। কারও কাছে গিয়ে অপ্রয়োজনে বসে থাকি না। আর মন্ত্রণালয়ের অধীন হলেও প্রতিমন্ত্রী-সচিবের সঙ্গে তাঁর কাজকর্ম খুব একটা নেই।’ দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ভুলভ্রান্তি থাকে। এগুলো সংশোধন করেই সামনে এগোবেন।
কিস্তির জ্বালা সিনেমা বানিয়ে জ্বলছেন: ইউটিউবে থাকা আট মিনিটের হাইলাইটস অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয় সংলাপে স্বামী বলছেন, ‘তুই মাইয়া মানুষ, আমার কামের কী বুঝবি?’
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারীর জন্য অবমাননাকর এই উক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
চলচ্চিত্রে ঋণ নিয়ে তা শোধ না করতে পারায় এক ঋণগ্রহীতার মেয়েকে ইভ টিজিংয়ের শিকার হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। কিস্তি আদায় করা ওই মাঠকর্মী তরুণীকে বলেন, ‘তোমার মুখের কথা আর রূপের বাহার দেখে আমাদের চলে না।’ ঋণের টাকা জোগাড় করতে আরেক বিত্তবানের কাছে গিয়ে ওই তরুণী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ‘তথাকথিত এনজিও’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ওরা কিস্তি নেয় না, সুদ নেয়। ওরা ঋণ দেয় না, বিষ দেয়।’ এর বিপরীতে প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এখানে কিস্তি আদায় করা হয় না, এখানে কেউ প্রদান করলে তা গ্রহণ করা হয়।’
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সূত্র জানায়, চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ডে অনুমোদন পাওয়ার পর আপত্তি তোলেন মিহির কান্তি মজুমদার। তাঁর আপত্তি তোয়াক্কা না করে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করা হয়।
জানতে চাইলে মিহির কান্তি মজুমদার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। আর প্রশান্ত কুমার বলেন, চলচ্চিত্রে আপত্তিকর কিছু আছে বলে তাঁর মনে হয়নি। আর ছবির প্রযোজক এ বি সিদ্দিক বলেন, যেটি সত্য সেটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে অভিনয়ের ভঙ্গিতে বক্তব্য দেন প্রশান্ত কুমার রায়। চলচ্চিত্রটির সার্বিক তত্ত্বাবধানেও তাঁর নাম রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ৮৩ লাখ টাকা প্রযোজকই জোগাড় করেছেন।
নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে এবং অলাভজনক জেনেও এমন একটি চলচ্চিত্রের পেছনে এত টাকা বিনিয়োগ করার যুক্তি দিতে পারেননি এ বি সিদ্দিক। তবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই সিনেমাটি করেছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (এফডিসি) পাওনা দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়েছেন প্রশান্ত কুমার। এফডিসি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য প্রকল্প পরিচালককে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই ঝামেলা হয়েছে। তবে এফডিসি এই টাকা মওকুফ করার কথা বলেছে।
সদস্য নেওয়া বন্ধ, অযোগ্যরাই ঢুকছে: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তৃণমূলে ৬০ সদস্যের সমিতিতে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই শর্ত অনুযায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে তথা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে সচ্ছল অনেকেই সমিতিতে ঢুকে পড়েছেন।
গত ৩০ মার্চ প্রকল্পের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সাংসদ মাহাবুব আরা বেগম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এতে প্রকল্প সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের সদস্যদের বের করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি (কার্যবিবরণী, ১৫ এপ্রিল ২০১৫)।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সদস্য নেওয়ার জন্য চাপ দিলে মাঠপর্যায়ে অযোগ্যদের নেওয়া শুরু হয়ে যায়, এ জন্য একপর্যায়ে সদস্য নেওয়া স্থগিত করতে হয়েছে।
খামারের চেয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ বেশি: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে থেকেই দেশের অধিকাংশ বাড়িতে খামার ছিল। বাড়ির আশপাশে পতিত বা আবাদি জমিতে মানুষ বিভিন্ন সবজি চাষ বা হাঁস-মুরগি পালন করত। তবে ঋণ পাওয়ায় হাঁস-মুরগি পালন, কৃষিকাজ, সবজির বাগান ও গরু-ছাগল পালন করা অনেকের জন্য সহজ হয়।
মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঋণের বেশির ভাগ টাকাই বিনিয়োগ করা হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এক খাত দেখিয়ে টাকা নিয়ে আরেক খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি সব সদস্যের উপস্থিতিতে উঠানবৈঠক করে ঋণের টাকা বিতরণের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় এখন এমন বৈঠক আর হচ্ছে না।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার আকস্মিক কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে উঠানবৈঠক না হওয়ার কথা জানতে পেরে ব্যাংকের বোর্ড সভায় অবহিত করেন এবং তা সভার সর্বশেষ কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, সমিতির কিছু সদস্য টাকা নিয়ে খামারের বদলে ব্যবসায় খাটাচ্ছেন, এটা সত্য। এই মনোভাব পরিবর্তন করারও চেষ্টা চলছে।
টাকাটা আসলে কার: প্রকল্পের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২ হাজার ৭৭ কোটি টাকার মালিক দরিদ্র মানুষ। প্রশান্ত কুমার বলেন, তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এটা তারাই বংশানুক্রমে ভোগ ও ব্যবহার করবে।
তাঁর এ দাবি প্রসঙ্গে কমপক্ষে ২০ জন সদস্যের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, এই টাকা তাঁদের বলা হলেও এর মালিক প্রকল্প ও উপজেলা প্রশাসন। তাদের মাধ্যমেই ঋণ বরাদ্দ, টাকা তোলা ও জমা দিতে হয়। তাই কার্যত প্রকল্পই সবকিছুর মালিক।
সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আরেকটি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তা হলো আবর্তক তহবিলের টাকা সমিতির সদস্যদের। কিন্তু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সমিতির সদস্যরা সঞ্চয় ও উৎসাহ বোনাসের টাকার মালিক। কিন্তু আবর্তক তহবিলের প্রায় ৯০০ কোটি টাকা সরকারের। এটা সমিতিকে দেওয়া হলেও তারা ব্যবহার করবে, কিন্তু মালিক থাকবে সরকার।
প্রশান্ত কুমার বলেন, মাঠপর্যায়ে কিছু ভুল-বোঝাবুঝি হয়ে আছে, এখন তা আরও বেড়ে যাবে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশ নিরক্ষরমুক্ত করতে (১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে) জেলাভিত্তিক সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলনের (টিএলএম) পেছনে ৭০০ কোটি টাকা অপচয় হয়েছিল। এরপর বয়স্ক শিক্ষার নামে (২০০১-২০০৬) প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করে লুটপাটের কারণেই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। আর এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এমনই দেখতে পাচ্ছি।’
যোগাযোগ করা হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এম কাদের সরকার বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নূর হোসেন মেজর আরিফকে মাসে ১০ লাখ টাকা দিতেন -নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: মামলার অভিযোগপত্র by আসিফ হোসেন
![]() |
| নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও পাশে শামীম ওসমান |
নারায়ণগঞ্জের আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের মামলার অভিযোগপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাতজন অপহরণ হওয়ার আগে ২১ দিনে মেজর আরিফের সঙ্গে টেলিফোনে ২৭ বার কথা বলেছিলেন নূর হোসেন। ১১ মাস তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার অভিযোগপত্র নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চাঁদনি রূপমের আদালতে দাখিল করেন। তবে নিহত নজরুলের স্ত্রী এতে নারাজি দেন। আগামী ৮ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে মেজর আরিফ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিলেন, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান তাঁকে বলেছিলেন ‘আজকের মধ্যে নূর হোসেনকে মেরে ফেলতে হবে।’ তবে অভিযোগপত্রে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সে আদেশ তো কার্যকরই হয়নি। তা ছাড়া আমরা তদন্তে যা পেয়েছি, তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছি।’
সাত খুনের অভিযোগপত্রে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এই ৩৫ আসামির ২২ জন কারাগারে আছেন। বাকি ১৩ জন পলাতক আছেন, যাঁদের মধ্যে র্যাব সদস্যই আটজন।
![]() |
| নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় আত্মস্বীকৃত তিন খুনি র্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তা |
অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হয়ে নূর হোসেন অবৈধভাবে জমি দখল, শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, কাঁচপুর সেতুর নিচে পাথর-বালুর ব্যবসা, মদের আড়ত, যাত্রার নামে হাউজি, জুয়া খেলা, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে প্রতিদিন প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা আয় করতেন। মেজর আরিফ হোসেন আদমজী ক্যাম্পের কমান্ডারের দায়িত্ব নেওয়ায় নূর হোসেনের অফিসে প্রতি মাসে ৮-১০ বার যেতেন। ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি (আরিফ) নূর হোসেনের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন। এই সুযোগে নূর হোসেন তাঁর প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিতে আরিফের সাহায্য নেন। তাঁদের পরিকল্পনা অনুসারে নজরুল ইসলাম ও তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজনকে অপহরণ করা হয়। নজরুলসহ পাঁচজনকে অপহরণ করার দৃশ্য পেছন থেকে আসা ছাই রঙের প্রাইভেট আরোহী চন্দন সরকার দেখে ফেলে চিৎকার শুরু করলে লে. কমান্ডার রানা টানাহেঁচড়া করে তাঁকে ও তাঁর চালক ইব্রাহীমকে তাঁর মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেন। এরপর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদের নির্দেশমতো ঘটনাস্থলে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকারের প্রাইভেট কারটি চালক মিজানকে সঙ্গে নিয়ে লে. কমান্ডার এম এম রানা ঢাকার গুলশানের নিকেতনে ফেলে রেখে আলামত গোপনের চেষ্টা করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি নূর হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে র্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যদের ব্যবহার করে তাঁর প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করেন। এরপর কাঁচপুর বিআইডব্লিউটিএর ল্যান্ডিং ঘাটের আশপাশে নিজস্ব পাহারা দিয়ে সাতজনকে হত্যার পর লাশ গুম করেন।
লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ এলিট ফোর্সের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনৈতিকভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য অন্যের প্ররোচনায় অধীনস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের দ্বারা অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের নির্দেশ দেন।
মেজর আরিফ হোসেন এলিট ফোর্সের ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যের প্ররোচনায় অনৈতিকভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজে উপস্থিত থেকে নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণ, হত্যা, লাশ গুম করেন। আবার সঙ্গে থাকা অন্য র্যাব সদস্যদের একই অপরাধ করার আদেশ দেন।
লে. কমান্ডার এম এম রানা এলিট ফোর্সের ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব থেকে র্যাব-১১ অধিনায়কের নির্দেশে মেজর আরিফ হোসেনকে তাঁর কোম্পানির সদস্যদের দিয়ে ও নিজে উপস্থিত থেকে সাতজনকে অপহরণের কাজে সহায়তা, নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেট কার লোকচক্ষুর আড়াল এবং হত্যা ও লাশ গুমের কাজে ক্যাম্প থেকে ট্রলার দিয়ে সহায়তা করেন।
এসআই পূর্ণেন্দু বালা, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, হিরা দিয়া, সৈনিক আল আমিন শরিফ, আবদুল আলিম, মহিউদ্দিন মুন্সী, কনস্টেবল শিহাবউদ্দিন, সিপাহি আবু তৈয়ব, মেজর আরিফের নির্দেশে সাতজনকে অপহরণ, হত্যা, লাশ গুম করেন।
সার্জেন্ট এনামুল কবির, হাবিলদার এমদাদুল হক, নাছিরউদ্দিন, এএসআই বজলুর রহমান, সৈনিক তাজুল ইসলাম মেজর আরিফের নির্দেশে প্লাস্টিকের বস্তায় ইট ভর্তি করে প্যাকেট তৈরি করে সাতজনকে হত্যা ও লাশ গুমে সাহায্য করেন।
সৈনিক মো. আসাদুজ্জামান নুর মেজর আরিফের হুকুমে র্যাব ক্যাম্প থেকে মোটরসাইকেলযোগে পলিথিন মেজর আরিফের কাছে পৌঁছে দিয়ে হত্যা ও লাশ গুমে সহায়তা করেন। করপোরাল মোখলেছুর রহমান, ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, বাবুল হাসান, সৈনিক নুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার রানার নির্দেশে সাতজনকে অপহরণ, বিআইডব্লিউটিএর ল্যান্ডিং ঘাটে পাহারা দিয়ে হত্যা কাজে সহায়তা করেন।
নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসামি শাহাজাহান, মুর্তজা জামান, আলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার, সেলিম ছানাউল্লাহ, জামালউদ্দিন, রিয়াজ, কাঁচপুর বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং ঘাটে ও তার আশপাশে নূর হোসেনের নির্দেশে পাহারা দেন, যাতে মেজর আরিফ ও র্যাবের লোকজন নির্বিঘ্নে সাতজনকে হত্যা ও লাশ গুম করতে পারেন। তবে পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় আসামি রিয়াজকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২৭ এপ্রিল
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে দুপুরের সময় একসঙ্গে সাতজনকে অপহরণ৷
২৮ এপ্রিল
অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ৷
৩০ এপ্রিল
শীতলক্ষ্যা নদীতে সাতজনের লাশ ভেসে ওঠে। নূর হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পরিবারের মামলা।
১ মে
প্রধান আসামি নূর হোসেনের কার্যালয়ে আগুন।
২ মে
আইনজীবীদের ডাকে নারায়ণগঞ্জে সর্বাত্মক হরতাল। বিএনপি, সিপিবি-বাসদের সমর্থন।
৩ মে
সংসদ ভবনের সামনে নাগরিকদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা। ঘটনার সাত দিন পর নূর হোসেনের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি৷
৪ মে
নিহত নজরুলের শ্বশুর বললেন, ছয় কোটি টাকা নিয়ে র৵াব তাঁর জামাইকে হত্যা করেছে। তিন র৵াব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ।
৫ মে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের।
৬ মে
তিন র্যাব কর্মকর্তাকে অবসর।
৭ মে
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।
৮ মে
তদন্ত কমিটির কাজ শুরু৷
৯ মে
র্যাব -১১-এ নতুন অধিনায়ক
১০ মে
তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষাৎ দিলেন নিহত সাতজনের পরিবারের সদস্যরা।
১১ মে
র্যাবের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চন্দন সরকারের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ।
১২ মে
তদন্ত কমিটির গণশুনানি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নজরুলের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ
১৩ মে
নজরুল ও চন্দনের পরিবারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাত্৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1361)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 21
(17)
- বাতের ব্যথা সারাতে
- আশীর্বাদ না অভিশাপ?
- এই দুষ্টামির অবসান কে করবে? by কাবেরী গায়েন
- দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি ও উগ্রবাদের দৌরাত্ম্য by ব...
- ইংলাকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
- সেই আফগান নারীর মৃত্যুতে ১১ পুলিশের জেল
- ‘প্রক্সি ওয়ার’, জাতীয় স্বার্থ ও সীমান্ত চুক্তি by ...
- সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ মন্ত্রণালয়ের উপেক্ষা by কবি...
- সমুদ্রপথে মানব পাচারের রুট রোহিঙ্গাদেরই আবিষ্কার b...
- ‘তোরে বাঁচাইয়া রাইখ্যা ভুল করছি’ by নুরুজ্জামান লাবু
- সারাবিশ্বে ভয়াবহ ইমেজ সংকটে বাংলাদেশ by শিশির আবদু...
- প্রকল্প পরিচালক পাত্তা দেন না কাউকেই -একটি বাড়ি এক...
- নূর হোসেন মেজর আরিফকে মাসে ১০ লাখ টাকা দিতেন -নারা...
- ভুলে আসা ফ্ল্যাক্সি থেকে সাবধান!
- সাগরে জিম্মি করে নেওয়া হচ্ছে মুক্তিপণ- বাংলাদেশিসহ...
- শেবাচিমে লোক নিয়োগে শত কোটি টাকার বাণিজ্য by আকতার...
- কেউ ব্যর্থতার দায় নিচ্ছে না- প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ...
-
▼
May 21
(17)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












