Showing posts with label মোকারম হোসেন. Show all posts
Showing posts with label মোকারম হোসেন. Show all posts

Friday, August 6, 2021

দ্বিজেন শর্মা : শ্যামলী নিসর্গের মহান সাধক by মোকারম হোসেন

https://www.rokomari.com/book/author/1742/%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে জীবনকে কীভাবে অর্থবহ করতে হয়, কীভাবে একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে সমকালীন সমাজব্যবস্থাকে বদলে দিতে হয়, এমন বিরল দৃষ্টান্তই আমাদের সামনে রেখে গেলেন বৃক্ষাচার্য দ্বিজেন শর্মা। অসংখ্য বিশেষণে বিভূষিত এই মহীরুহসম সরল মানুষটি কখনো বুঝতেই পারেননি নিজের অলক্ষ্যে কতটা বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের প্রকৃতিচর্চার মহান সাধক, যাঁর সুললিত বাঁশির সুর দেশের অজস্র মানুষকে বিমোহিত করতে পেরেছে। তিনি এদেশের প্রকৃতিবিমুখ মানুষকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এমন একজন মানুষ যাঁর জন্ম না হলে আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের অজানা অধ্যায়গুলো কখনোই হয়তো আমাদের সামনে এভাবে উন্মোচিত হতো না।

শৈশব শিক্ষা ও মানসগঠন

দ্বিজেন শর্মার জন্ম ১৯২৯ সালের ২৯ মে। বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে। পাথারিয়া পাহাড়ের অনিন্দ্য নিসর্গের কোলে বেড়ে ওঠা দ্বিজেন শর্মা শৈশবেই তাঁর গন্তব্য ঠিক করতে পেরেছিলেন। পাথারিয়ার ভূপ্রকৃতি একদা তাঁর কৈশোর-তারুণ্যের চোখে যে-দুর্বার স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিল, সে-স্বপ্নই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিল জীবনের অমিত্মম মুহূর্ত পর্যন্ত।

প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের পাঠশালায়, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন চার মাইল দূরের পিসি হাইস্কুলে। তারপর আসামের করিমগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলে। আইএসসি আগরতলার মহারাজা বীরবিক্রম কলেজে। করিমগঞ্জ স্কুলে জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময় কাটিয়েছেন। চারপাশের প্রকৃতি ছিল অসাধারণ সুন্দর। অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও জুটেছিল। শিক্ষকরা ছিলেন বন্ধুসম। কিন্তু আগরতলার পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ পৃথক। ছাত্র পড়িয়ে এক বাড়িতে থাকতেন। তারাও ছিলেন দরিদ্র, খাওয়া-দাওয়ায় বেশ অসুবিধা হতো। তাই মাঝে মাঝে বাড়ি চলে যেতেন। বাড়ি এলে আর ফিরতে ইচ্ছে করত না। সেখানে দুবছর পড়াশোনা করেন। ১৯৫০ সালে কলকাতা সিটি কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন। সেখানে এক বন্ধুর প্রভাবে মার্কসবাদে আকৃষ্ট হয়ে পাঠ্যবই ফেলে মার্কসীয় সাহিত্য নিয়ে মেতে ওঠেন।

কর্মজীবন, শিক্ষকের আদর্শ

আমার লেখায় যতবারই তাঁকে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষায়িত করার চেষ্টা করেছি, তিনি সেসব অগ্রাহ্য করে শুধু অধ্যাপক শব্দটি লিখে দিতেন। অর্থাৎ তিনি নিজেকে শিক্ষক ভাবতেই বেশি পছন্দ করতেন। ১৯৫৪ সালে তিনি বরিশালের বিএম কলেজে যোগ দেন। কীভাবে তিনি সিলেট থেকে বরিশাল গেলেন – এ-গল্প তাঁর মুখে অনেকবার শুনেছি। একদিন হঠাৎ করেই পত্রিকার একটি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হন। বরিশাল বিএম কলেজে শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ করা হবে। মানচিত্র খুলে দেখেন সেটা সাগরপাড়ের একটি জেলা। তাঁর ইচ্ছা, সেখান থেকে খুব সহজেই সাগর দেখা যাবে। কোনো কিছু চিন্তা না করেই চলে যান সেখানে। যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন কলেজে। কিন্তু কিছুদিন পর ভুল ভাঙে। তাঁর স্বপ্নের বঙ্গোপসাগর বরিশাল থেকে অনেক দূরে। ততদিনে কলেজ আর শিক্ষার্থীদের প্রতি মায়া জন্মেছে। ফেলে আসা যায় কি! থাকলেন অনেক দিন। সেখানেও গড়ে তুললেন বিচিত্র গাছপালার পরিকল্পিত এক উদ্যান।

১৯৬২ পর্যন্ত কাটে সেখানেই, তারপর চলে আসেন ঢাকার নটর ডেম কলেজে। তখন (১৯৬৫) অধ্যাপক একেএম নুরুল ইসলামের প্রেরণায় শৈবাল গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। নমুনা সংগ্রহে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন জলাভূমি, হাওর-বিল ও নদী-নালায়। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত প্রকাশনা সংস্থা প্রগতি প্রকাশনে অনুবাদকের কাজ নিয়ে মস্কো যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। অনুবাদ করেন চলিস্নশটিরও বেশি গ্রন্থ। তাঁর অনুবাদের সুবাদে রাশিয়ার সমৃদ্ধ শিশুসাহিত্য বাংলা ভাষাভাষীদের নাগালে চলে আসে। শিশুরা সেইসব বই পড়ে অন্যরকম স্বাদ পেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত ননী ভৌমিক ও ড. হায়াৎ মামুদও স্মরণীয়। সমসাময়িককালে তাঁদের অনুবাদও আমাদের শিশুসাহিত্যকে নানাভাবে অলংকৃত করেছে।

তৎকালীন রাশিয়ার সাম্যবাদী চেতনার মোহই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় রাশিয়ায়। নিজেও একজন সমতাবাদী, শামিত্মপ্রিয় মানুষ। ১৯৭৪ সালে প্রথম পা রেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন যে-দেশটিকে সেই স্বপ্নের দেশটি আজ আর নেই, ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে পনেরো টুকরো হয়ে। ১৯৯১ সালে প্রগতি প্রকাশনের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও ১৮ বছরের শিকড়টা একেবারেই উপড়ে ফেলতে পারেননি। বারবারই ফিরে গেছেন সেখানে। দেশে ফিরে এসে এশিয়াটিক সোসাইটিতে বাংলাপিডিয়ার সম্পাদনা কাজে যোগ দেন। বলা বাহুল্য, পরম একাগ্রতা দিয়ে তা শেষও করেন।

প্রবাসে তিনি প্রায়শ স্মৃতিকাতরতায় ভুগতেন। শৈশব তাঁকে অনুক্ষণ মাতিয়ে রাখতো। ১৯৯৩ সালে মস্কোয় বসে লেখা ছোটদের একটি বইয়ের মুখবন্ধে সেই আকুতিই ফুটে ওঠে, – ‘আমি এই সুদূর প্রবাসে আমার মেয়েকে কখনো কখনো নিজের ছেলেবেলার কথা শোনাই। গ্রামে বড় হয়েছি। প্রকৃতির প্রতিটি ঋতুর
বর্ণ-গন্ধ-স্পন্দন আমার রক্তকণায়। এ কাহিনী তাই ফুরোতে চায় না। এ গল্প শেষ হয় না। ফাল্গুনে অশোকমঞ্জরি সুবাসিত সকালে ফুলের সাজি হাতে বাড়ি বাড়ি ঘোরা, প্রথম বৃষ্টির পর মাটির সোঁদা গন্ধ, বৈশাখের ছায়াঘন দিন, রাতভর হাওয়ার মাতলামি, ভোরে আম কুড়োনোর ধুম, বর্ষার এগিয়ে আসা ঘোলা জলে অবিরাম সাঁতার, রথের মেলার সেই আশ্চর্য বাঁশির সুর, বাদল বাউলের অবিশ্রান্ত একতারা শুনে শুনে কাঁথার ওমে ঘুমিয়ে পড়া, শরতের কাকচক্ষু বিল থেকে শাপলা তোলা…।’

উপমহাদেশের উদ্যানশিল্পের সূত্রধর

উদ্ভিদবিজ্ঞানে অ্যাকাডেমিক পাঠের বাইরে যে আরেকটি বিশাল জগৎ আছে তা আমরা কেবল দ্বিজেন শর্মার লেখা থেকেই জানতে পেরেছি। তাঁর এই ভাবনা সত্যিকার অর্থেই বিচিত্র ও বহুমুখী। তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী লেখক। অন্তর্দৃষ্টি, দূরদর্শিতা ও ভাবনার গভীরতার দিক থেকে তিনি দার্শনিক পর্যায়ের একজন। এ-কারণেই তাঁর লেখায় আমরা খুঁজে পাই উপমহাদেশের ঐতিহাসিক উদ্যানচর্চার সূত্র। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতের অরণ্যতরু সন্ধানীদের অজানা অধ্যায়।

রমনা নিসর্গের স্থপতি বিস্মৃতপ্রায় আরএল প্রাউডলক তাঁর লেখাতেই আবার নতুন করে ফিরে আসেন। ১৯০৮ সালের দিকে রমনাসহ ঢাকা শহরের নিসর্গ পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছিলেন লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের অন্যতম এই কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলক। তাঁর তত্ত্বাবধানেই গড়ে ওঠে রমনাকেন্দ্রিক নিসর্গশোভা, রমনাগ্রিন। তিনি বিশ্বের অন্যান্য উষ্ণম-লীয় অঞ্চলের সুদর্শন বৃক্ষগুলো ঢাকায় এনে রোপণের ব্যবস্থা করেন। বর্তমান রমনাপার্ক অবশ্য অনেক পরের সৃষ্টি।

ব্রিটিশ অরণ্যতরু সন্ধানীদের স্বরূপ উন্মোচন

দ্বিজেন শর্মা তাঁর নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে একঝাঁক ব্রিটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছেন। যাঁরা ব্রিটিশ ভারতের অরণ্যতরু সন্ধানী হিসেবে সুপরিচিত। গেরহার্ড কোয়নিগ, সিপি থানবার্গ, উইলিয়াম রক্সবার্গ, উইলিয়াম কেরি, বেঞ্জামিন হাইনে, ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন, রবার্ট উইট, ন্যাথানিয়েল ওয়ালিচ, ভিক্তর জাকমঁ, জন ফর্বস রয়েল, উইলিয়াম গ্রিফিথ, জোসেফ ডাল্টন হুকার, টমাস টমসন, চার্লস ব্যারন ক্লার্কস, ডেভিড প্রেইন, জর্জ কিং প্রমুখের হাত ধরেই মূলত আমাদের উদ্ভিদবিদ্যার গোড়াপত্তন। আমাদের উদ্ভিদবিজ্ঞান চর্চায় তাঁরা কতটা সম্পৃক্ত ছিলেন সেসব তথ্যই এখানে বিবৃত হয়েছে। কিন্তু প্রায় বিশ বছর আগে যখন বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরি হয় তখন আমাদের চারপাশে এমন অবাধ তথ্যপ্রবাহ ছিল না। সেই অর্থে অসাধ্য সাধন করেছিলেন তিনি। আমাদের সামনে হাজির করলেন সম্পূর্ণ অজানা একটি অধ্যায়। বইয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় সংযোজন করে তিনি আমাদের আক্ষরিক অর্থেই সমৃদ্ধ করেছেন।

ব্রিটিশ ভারতের উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মধ্যে যোসেফ ডাল্টন হুকার অগ্রগণ্য। তিনি বৃক্ষানুরাগীদের জন্য শুধু সাত খণ্ডর দ্য ফ্লোরা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়াই রচনা করেননি, লিখেছেন দ্য হিমালয়ান জার্নালের মতো অসাধারণ একটি গ্রন্থ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বইটি দীর্ঘদিন আমাদের অগোচরেই ছিল। দ্বিজেন শর্মা বিচ্ছিন্ন কিছু সূত্র থেকে বইটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সংগ্রহ করেন বইয়ের একটি কপি। ১৮৯১ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত এই সুবিশাল ও দুর্লভ ভ্রমণবৃত্তান্ত মাধুর্যমণ্ডত ভাষায় তিনি আমাদের জন্য পুনর্কথন করেন। ২০০৪ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর গ্রন্থ। ভাষা এবং বর্ণনাশৈলীর চমৎকারিত্বে দীর্ঘ পটভূমিতে রচিত একটি উদ্ভিদতত্ত্বীয় গ্রন্থকে তিনি সুখপাঠ্য করে তুলেছেন। পড়তে গিয়ে আরেকটি কথাও মনে হয়েছে, গ্রন্থের প্রায় প্রতিটি কথাই অত্যন্ত দরকারি। আদতেও তাই। হুকারের হিমালয়ান জার্নাল উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। যে কজন ব্রিটিশ অরণ্যতরু সন্ধানী আমাদের উদ্ভিদবিদ্যার ভিত রচনা করেছিলেন হুকার তাঁদের অন্যতম।

ডারউইনবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও সমাজতন্ত্র

দ্বিজেন শর্মা ছাত্রজীবনেই ডারউইনের বিবর্তনবাদ কর্তৃক প্ররোচিত এবং ডারউইনের তত্ত্ব ও মতবাদে প্রভাবিত  হন। দেখে আসেন ‘ডারউন-তীর্থ’ শ্রম্নসবারি ও ডাউনগাঁ। ডারউইন মুগ্ধতার ফলেই রচিত হয় ‘সতীর্থ বলয়ে ডারউইন’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’ এবং ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’।

একসময় নিজের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে মার্কসবাদের সাদৃশ্য খুঁজে পান। এই পাওয়াটাই তাঁকে শেষতক পুরোদস্ত্তর মার্কসবাদী হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু মার্কসবাদ নিয়ে যে পরিমাণ আশাবাদী হন ততটাই আশাহত হন। কারণ সমাজতন্ত্র খোদ রাশিয়াতেই ব্যর্থ হয়। কী কারণে সমাজতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, দীর্ঘ ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতায়ও বিষয়টি তাঁর কাছে অমীমাংসিত। মস্কোয় বসবাসকালে তিনি সমাজতন্ত্রকে শুধু লালনই করেননি, নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর এসব মতামত পুঁজিবাদী বিশ্বের সোভিয়েত গবেষক পণ্ডতদের চেয়ে অবশ্যই আলাদা ছিল। তাঁর সমাজতন্ত্র প্রভাবিত এসব লেখা একত্রিত করে পরবর্তীকালে সমাজতন্ত্রে বসবাস নামে একটি গ্রন্থে সংকলিত হয়।

তাঁর উদ্ভিদ ও প্রকৃতি বিষয়ক অসংখ্য লেখায় রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ এসেছে গভীরভাবে। আমাদের দেশে তিনিই প্রথম রবীন্দ্রনাথের বৃক্ষবিষয়ক পঙ্ক্তিগুলো ব্যাপক আঙ্গিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে সমর্থ হন। কাজটি নিঃসন্দেহে শ্রম ও সময়সাধ্য। একাগ্রতা ও নিষ্ঠা ছাড়া এমন কাজ অসম্ভব।

একটি সফল ধারার প্রবর্তক

বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের সম্পর্ক কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও পরিপূরক হতে পারে, দ্বিজেন শর্মার রচনা-নিচয়ে তা নানাভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি নির্মাণ করেছেন জনবোধ্য এক আশ্চর্য ভাষাশৈলী। কিন্তু আজীবন নিসর্গী এই বৃক্ষাচার্য লেখালেখির শুরুতে হতে চেয়েছিলেন ভিন্ন কিছু!

মূলত গল্পের মাধ্যমেই লেখালেখিতে তাঁর হাতেখড়ি। তখন বয়স খুবই কম, আইএসসিতে পড়েন। ১৯৪৯ সালে প্রথম গল্পটি ছাপা হয় কলেজ বার্ষিকীতে। এরপর আরো কয়েকটি গল্প ছাপা হয় বিভিন্ন দৈনিকের সাময়িকীতে। বরাবরই গল্পের বিষয়বস্ত্ত ছিল মানবতাবাদ, জীবন সংগ্রাম এবং সাম্যবাদী চেতনা। পরে প্রকৃতির প্রতি ভালোলাগার বোধ থেকে এ-বিষয়ে লেখালেখি শুরু। রমনাগ্রিনের সৌন্দর্য তাঁকে ঢাকার গাছ নিয়ে বই লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। মোটরসাইকেল চালিয়ে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াতেন। কোথায় কী গাছ আছে, কোন গাছ লাগানো হচ্ছে সেই সন্ধান করতেন। এসব নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বই লেখাও শুরু করেন। বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৮১ সালে শ্যামলী নিসর্গ নামে এটি প্রকাশিত হয়। বলতে দ্বিধা নেই, শ্যামলী নিসর্গ অদ্যাবধি বৃক্ষানুরাগীদের প্রকৃতি সমীক্ষা ও লেখালেখিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতিটি বৃক্ষের আলোচনায় তিনি তুলে ধরেছেন প্রাসঙ্গিক কবিতার উদ্ধৃতি, গাছপালার আঙ্গিক বৈশিষ্ট্য, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উপযোগিতা। বৃক্ষ পরিচিতিমূলক গ্রন্থের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন ধারা – যার প্রবর্তক স্বয়ং দ্বিজেন শর্মা।

শ্যামলী নিসর্গের রচনাকাল ১৯৬২-৬৫। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানাবিধ কারণে গ্রন্থটি দীর্ঘ সময় প্রকাশিত হতে পারেনি। দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। গ্রন্থটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বৃক্ষানুরাগীসহ অসংখ্য নিবিষ্ট পাঠকের কাছে। গ্রন্থে সংযুক্ত ২৫ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ভূমিকা আমাদের উদ্ভিদ-ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান দলিল। মনে পড়ে, নটর ডেম কলেজের বাগান নিয়ে লিখতে গিয়ে সেখানকার ইংরেজির শিক্ষক ফাদার বেনাসের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আলাপচারিতার সময় তাঁর ব্রিফকেস থেকে শ্যামলী নিসর্গ বের করলে আমি অবাক হই। একজন ভিনভাষী লোকের কাছেও আছে শ্যামলী নিসর্গ! সেই অর্থে পাঠকপ্রিয়তা ও নির্ভরযোগ্যতার বিচারে শ্যামলী নিসর্গ সার্থক।

নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা তাঁর সুদীর্ঘ সময়ের উদ্ভিদ ও পরিবেশ চর্চার অনবদ্য দলিল। অনুসন্ধানী পাঠক কিংবা নবীন নিসর্গীদের জন্য আকরগ্রন্থসম। আলোচ্য গ্রন্থে তিনি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে সম্পূর্ণ কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। বন উজাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের মতো অপকর্মের প্রতিবাদ আছে অনেক লেখায়। তুলে এনেছেন আদিবাসী অসহায় মানুষের মুখ, নীড়হারা পাখি কিংবা গৃহহারা প্রাণিদের গল্পগাথা। নিজের একান্ত ভালোলাগা বিষয়গুলোও এখানে আছে নানা আঙ্গিকে। পরিশিষ্টাংশে আছে শ্যামলী রমনার ইতিহাস যা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের অজানা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্রতিনিধিত্বশীল ও নির্দেশনামূলক গ্রন্থ।

দ্বিজেন শর্মা শুধু ডারউইনবাদে বিশ্বাসীই নন, ডারউইনের ভাবশিষ্যও। এই অনুরক্তি থেকেই বিবর্তনবাদ ও অন্যান্য আবিষ্কারে তাঁর আগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রশংসনীয়। ডারউইনকে আমাদের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এই প্রসঙ্গে তিনটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার অন্যতম চার্লস্ ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি। এটি মূলত ডারউইনের বিখ্যাত Origion of Species গ্রন্থের সংক্ষিপণ। বিশাল কলেবরের মূলগ্রন্থ থেকে চমৎকারভাবে প্রকৃত বিষয় ছেঁকে আনা জটিল ও দুঃসাধ্য। এক্ষেত্রে অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকলেও এখানে তা হয়নি। ডারউইন : বিগল্-যাত্রীর ভ্রমণকথা গ্রন্থত্রয়ীর মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় একটি বই। এখানেও অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি। ৪৮৯ পৃষ্ঠার বৃহৎ কলেবরের Voyage of the Beagle গ্রন্থের সারসংক্ষিপ তুলে এনেছেন মাত্র ৮৮ পৃষ্ঠায়। এ-গ্রন্থের মাধ্যমে সবাই ডারউইনের ভ্রমণবৃত্তান্ত সম্পর্কে জানতে পারবেন। শুধু ভ্রমণই নয়, বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্যের অনবদ্য বর্ণনা এবং নানা দেশের তৎকালীন সামাজিক অবস্থার আকৃষ্টকর উপস্থাপনও বইটির একটি বিশেষ দিক। ডারউইন ভাবনা নিয়ে আরেকটি গ্রন্থ হলো সতীর্থ বলয়ে ডারউইন।

উদ্যান রচনা

বাগান করার শখ ছিল তাঁর। কিন্তু এর মধ্যে এক ধরনের এক্সপেরিমেন্টও ছিল। ছিল এক ধরনের হাহাকার। শৈশবে দেখা পাথারিয়া পাহাড়ের নান্দনিক বিন্যাস অনুক্ষণ তাঁর সঙ্গী ছিল। পৃথিবীর কোথাও তিনি এমন সাদৃশ্য খুঁজে পাননি। উদ্যান রচনায় এমন হাহাকার খোদ মোঘল সম্রাটদেরই ছিল। নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে দ্বিজেন শর্মা লিখেছেন, ‘এজন্যই হিন্দুস্থানের অঢেল সোনারুপায় সম্রাট বাবর তৃপ্ত হননি, অনুক্ষণ মনে পড়ত কাবুলে তাঁর বাগান কখন বসন্তে লাল-হলুদ অর্গানে ঢেকে গেছে, ডালিম দুলছে ডালে ডালে। তিনি এর তুলনা খুঁজে পাননি পৃথিবীর আর কোন দেশে।’ কিন্তু এক্ষেত্রে নিজের অতৃপ্তিও কম নয়। দেবী শর্মার লেখায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে – ‘… সুতরাং আমাদের বাড়ি এলো হাজার রকমের গাছপালা; কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্যত্র। গাছগুলো থিতু হওয়ার সুযোগ পেত না – আজ এখানে তো কাল ওখানে। তুঘলকি কা-। … আসলে দ্বিজেন শর্মা বড় হয়েছেন পাহাড়ি এলাকায়, ওখানকার নিসর্গ তাঁর অস্থিমজ্জায়, তেমন একটি শোভা সৃষ্টি করতে চাইতেন আমাদের সমতল বাংলায়, সেটা হয়ে উঠতো না, যে জন্য এই উচাটন।’

তিনি প্রথম বাগান করেছেন বাড়িতে। অগ্রজের সবজি আর ফুলের বাগান করার শখ ছিল। তবে সত্যিকারে প্রথম বাগান ১৯৫৮ সালে বরিশাল বিএম কলেজে। বর্তমানে অল্প কয়েকটি বড় গাছ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাঁর ইনফরমাল বাগান তৈরির হাতেখড়ি নটর ডেম কলেজে ফাদার ভেনাসের কাছে। এখনো বাগানটি বেশ ভালোই আছে। সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজেও বাগান করেছেন। কিন্তু তা এখন লুপ্তপ্রায়। এসব ছাড়াও মহানগর পাঠাগার, রমনা পার্ক, শিশু একাডেমি, চারুকলা অনুষদ ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির অসংখ্য গাছ লাগিয়েছেন। জীবনের সর্বশেষ গাছগুলো লাগিয়েছেন বাংলা একাডেমিতে।

উত্তরসূরি তৈরি

নির্মোহ, নিরহংকার জীবনযাপন করতেন তিনি। জাগতিক কোনো জটিলতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করেনি। অল্পতেই তুষ্ট থাকা এই মানুষটি আমাদের দেখিয়েছেন এভাবেও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা যায়। চাওয়া-পাওয়ার কোনো হিসাব কখনো করতে দেখিনি। ছিল না কোনো হাহাকার। উদার এবং মানবিক হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। ছোট-বড় সবার সঙ্গেই সমভাবে মিশতে পারতেন। সম্ভাবনাময় তরুণদের লেখা পড়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেন। তাদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর মতো এতো উদারতা নিয়ে অনুজপ্রতিমদের শেখাতে কাউকে দেখিনি। তরুণদের ভেতর আলোর কণা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। জীবনে অসংখ্য অনুসারী তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠরা এখন নিজেই একেকটি প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে ড. আইনুন নিশাত এবং ড. রেজা খান উলেস্নখযোগ্য। এনএসএসবির প্রতিষ্ঠাতা নটর ডেম কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান অসংখ্য তরুণের চোখে প্রকৃতিপ্রেমের আলো জ্বালাতে সমর্থ হয়েছেন। ছাত্রদের মধ্যে মুকিত মজুমদার বাবু প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের কাছে প্রকৃতি প্রেমের বারতা পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিএম কলেজ এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজে দীর্ঘ সময় অধ্যাপনাকালে তৈরি করেছেন অনেক সফল ছাত্র।

Monday, October 14, 2019

ঢাকার প্রাচীন খিরিবৃক্ষ by মোকারম হোসেন

প্রায় এক যুগ আগে কৃষিবিদ এস এম কামরুজ্জামানের সহায়তায় নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের দুলশি গ্রামে গিয়েছিলাম একটি অচিন বৃ‌ক্ষের পরিচয় জানতে। বিশালাকৃতির এই বৃক্ষÿ তখন আমার কাছেও অচেনা। গাছটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে অনেক লোকগল্প প্রচলিত। স্থানীয় লোকজন বিশ্বাস করেন, গাছটির কিছু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে গাছটি সংরক্ষণের ব্যাপারেও তাঁরা সোচ্চার। ঢাকায় ফিরে গাছটিকে খিরিবৃক্ষ হিসেবে শনাক্ত করে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন লিখি। এটি মূলত সফেদা পরিবারের গাছ। তারই সূত্র ধরে আমাকে অনেকেই ঢাকার লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের এই গাছের খোঁজ দিয়েছেন। গাছটি দেখতে গেলাম একদিন। দেখে মন ভরে গেল। গড়নটা এতই নিখুঁত, যেন টবের মধ্যে বসানো একটি গাছ। ডালপালাগুলো ঝুরির মতো নেমে এসেছে চারপাশে। খোলা মাঠের ধারে বিশাল ছাতার মতো রাজসিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন মনে করেন গাছটি শতবর্ষী। জানামতে, ঢাকায় রমনা পার্কে এদের একটিমাত্র নিকটাত্মীয় আছে। সেটির বৈজ্ঞানিক নাম Manilkara kaukii।
খিরিবৃক্ষ বা খিরনি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Manilkara hexandra। দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে এ গাছ দেখা যায়। একই কারণে এ গাছকে দুর্লভ এবং বিপন্ন মনে করা হয়। বিশাল আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ এটি। প্রসারিত মুকুট, বাকলে দুধের মতো ল্যাটেক্স আছে। পাতা সরল, ডালের আগায় দলবদ্ধভাবে জন্মে এবং ঝুলে থাকে। ফুল হালকা হলুদ বর্ণের। ফল রসাল, জলপাই আকৃতির, পাকলে লাল হয়। খাওয়া যায়। কাঠ মজবুত, আসবাব তৈরিতে কাজে লাগে। ফুল ও ফলের মৌসুম অগ্রহায়ণ থেকে শ্রাবণ। বীজ থেকে চারা হয়। আদি আবাস শ্রীলঙ্কা।
ঢাকার লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের খিরিবৃক্ষ। ছবি: লেখক

Sunday, December 27, 2015

একমাত্র প্যাপিরাসগাছের মৃত্যু by মোকারম হোসেন

ঢাকায় বলধা গার্ডেনের বিরল সংগ্রহ একমাত্র প্যাপিরাসগাছটি এখন আর নেই। দুর্লভ এই গাছটি দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেনের সাইকিতে সংরক্ষিত ছিল। এ বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে কনকসুধার ছবি তুলতে গিয়ে জানতে পারি প্যাপিরাসগাছটি নেই। সাইকিতে ঢোকার পর ডান দিকে রোজক্যাকটাসের পাশে টবের ভেতরেই ছিল গাছটি। জানামতে, দেশে আর কোনো প্যাপিরাসগাছ নেই। আমাদের অবহেলায় একটি উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হলো। কারণ জানতে চাইলে বাগানের কর্মীরা জানান, এ বছর অতিবৃষ্টিতে বাগানের ভেতর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন নালার ময়লা গাছের গোড়ায় জমে থাকায় গাছটির মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হয়, বাগান তৈরির সূচনা পর্বেই বৃক্ষপ্রেমিক জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায় প্যাপিরাসগাছটি এখানে নিয়ে আসেন।
দেশের প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলধা গার্ডেন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানের চারপাশে অনেক সুউচ্চ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় সেখানকার উদ্ভিদবৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বর্ষায় নিয়মিত জলাবদ্ধতার কারণেও প্রতিবছর অনেক গাছপালার মৃত্যু হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে। দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও নিসর্গীদের মতে, মূল গাছগুলো অক্ষত রেখে চারা–কলমের মাধ্যমে বাগানের গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বলধা গার্ডেনের আদলে আরেকটি বাগান তৈরি করা উচিত। তাহলে বাগানটি নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। হারিয়ে যাবে না প্যাপিরাসের মতো দুষ্প্রাপ্য গাছগুলো। শুধু উল্লিখিত গাছটিই নয়, বাগানে এমন আরও অনেক গাছ রয়েছে, যার দ্বিতীয়টি কোথাও সংরক্ষিত নেই। এ ধরনের কোনো একটি গাছ বাগান থেকে হারিয়ে যাওয়া মানে সারা দেশ থেকেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়া।
এখানকার বিলুপ্ত গাছের তালিকা প্রতিনিয়তই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে প্যাপিরাস (Cyperus papyrus) মূলত প্রাচীন লেখার উপকরণ। প্যাপিরাসের বাকলে লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল এখনো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাচীন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তবে প্রাচীন লেখার আরেক উপকরণ ভূর্জপত্রের গাছটি এখনো বাগানের সাইকি অংশে বেঁচে আছে। প্রাচীন মিসরীয়রা প্যাপিরাসের কাণ্ড থেকে একধরনের কাগজ তৈরি করত। একাধিক গাছের সংগৃহীত বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে একটি পরিপূর্ণ লেখার উপকরণ বানানো হতো। প্যাপিরাসগাছ এক থেকে চার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড খুব নরম এবং গোড়ার দিকে মানুষের হাতের কবজির মতো মোটা। মোথা বেশ শক্ত। মোথা থেকে গজানো নতুন চারা লালচে বাদামি রঙের আবরণে ঢাকা থাকে। মাথার দিকে পাতার ভারে কাণ্ড অনেকটা নুয়ে পড়ে। গাছের পাতা দেখতে কোঁকড়ানো খসখসে চুলের মতো। পাতা ছোট, মূল শক্ত। মিসরীয়রা প্যাপিরাসগাছের সরু লম্বা ডাঁটি দিয়ে মাদুর ও নৌকার পাল তৈরি করত। কাণ্ডের ভেতরের মজ্জা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত। ইথিওপিয়া ও নীল নদের উজানে এখনো প্যাপিরাসগাছ দেখা যায়। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ গাছ ভালো থাকে। গ্রীষ্মের শেষ ভাগে ফুল ফোটে। জলার ধার অথবা অল্প পানির জলাভূমি পছন্দ। বীজ ও মোথাকন্দ থেকে বংশবৃদ্ধি।
বলধা গার্ডেনের হতশ্রী রূপ দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে বাগানটি লোকবল ও অর্থ–সংকটে ভুগছে। বাগানের সর্বত্র অযত্নের ছাপ। সংরক্ষিত সাইকি অংশের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। স্বল্পসংখ্যক মালি নিয়ে শুধু গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চারপাশের উঁচু দালানে প্রায় ঢাকা পড়েছে বাগানটি। দিনের আলোয়ও পেছনের দিকটা বেশ অন্ধকার। সিবিলি অংশে সারা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড়। এই দর্শনার্থীরা মূলত অন্য মতলবে এখানে আসেন। প্রশ্ন হলো, বলধা গার্ডেনের মতো এমন স্পর্শকাতর একটি স্থাপনা কেন টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো! তবু যাঁরা এখানে বেড়াতে আসেন, তাঁরা যদি সত্যিকার অর্থে বৃক্ষের সমঝদার হতেন, তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। উপরন্তু, নিত্যদিনের এই অনিয়ন্ত্রিত জনস্রোত উদ্যানের বিপন্ন গাছগুলোর মৃত্যুকেই শুধু ত্বরান্বিত করছে। এই বাগানের অর্জিত অর্থ ছাড়া কি বন বিভাগের চলছিল না? আবার এখানকার অর্জিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাগান রক্ষণাবেক্ষণে তার সিকি ভাগও ব্যয় হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, অচিরেই এসব আত্মঘাতী কাজের সমাপ্তি ঘটবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাগানটি বাঁচিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব
tarupallab@gmail. com

Thursday, May 28, 2015

শালবনের কফিনে শেষ পেরেক by মোকারম হোসেন

গাছকাটা ও পাচারসহ বনভূমি দখলবাজির কারণে শালবন ধ্বংস
কিছুদিন আগে শালবন সম্পর্কে একজন প্রকৃতি গবেষকের মন্তব্য ছিল এ রকম—সংকটাপন্ন কোনো রোগীকে যেমন আইসিইউতে রেখে তার স্বজনেরা বাইরে উদ্বিগ্ন সময় কাটায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই চিকিৎসকের কাছে তার পরিস্থিতি জানতে চায়, শালবনের অবস্থা এখন অনেকটা সে রকমই। বাস্তবেও আমাদের একসময়ের রাজসিক শালবন এখন আইসিইউতে। আর গাছপালার কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী চিন্তিত ভঙ্গিতে বাইরে পায়চারি করছেন। বন বিভাগ হয়তো যেকোনো সময় এমন একটি ঘোষণাও দিতে পারে যে দেশে এখন আর শালবন বলতে কিছু নেই। যদি এমন কিছু ঘটেও তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, শালবন এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। ১৯৮৭ সালের দিকে বন বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বনের ভেতর বিদেশি গাছ লাগানো আরেকটি আত্মঘাতী কাজ। শালবনকে নতুনভাবে জেগে ওঠার সুযোগ না দিয়ে কৃত্রিমভাবে বন তৈরির চেষ্টা খুবই হাস্যকর ও হঠকারী উদ্যোগ। একসময় আয়তনের দিক থেকে দেশের সমতল অঞ্চলে সম্ভবত শালবনই সবচেয়ে বড় ছিল। এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত পর্যন্ত ছিল এর বিস্তৃতি। নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা জানিয়েছেন, ‘ভারতের ডুয়ার্স থেকে মেঘালয়ের গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত শালবন গোটা বরেন্দ্র অঞ্চল হয়ে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।... প্লিয়োস্টিন যুগের ২ লক্ষ বছর আগে শেষ ভূমিকম্পে সৃষ্ট লালমাটির আত্মজ এই শালবন খুবই প্রাচীন।’
জীবনে প্রথম কয়েকটি শালগাছ দেখি কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহারে। সেখান থেকে ফেরার পর অনেকবার ভেবেছি, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শালগাছ এখানে কোথা থেকে এল। পরে অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব পেয়েছি। ময়নামতির গাছগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ভৌগোলিক বিবর্তন, বেদখল প্রক্রিয়া এবং অপরিকল্পিত বসতি সারা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শালবনকে নিশ্চিহ্ন করেছে। ময়নামতির পর অসংখ্যবার গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও দিনাজপুরের শালবনগুলো দেখেছি। যতবারই দেখেছি ততবারই কোনো না কোনো পরিবর্তন লক্ষ করেছি। প্রায় নিঃশেষ, ক্ষয়িষ্ণু বন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বনের ভেতর কোথাও আরণ্যক নিবিড়তা নেই। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অল্পবয়সী গাছগুলোর গোড়া একেবারেই সাফসুতরো। মানুষের পদপিষ্ট লতাগুল্মগুলো মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বনে আশ্রিত প্রাণিকুল ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়েছে।
মাস খানেক আগে গাজীপুরের হাতিয়াবিবি এলাকায় আরণ্যকে বেড়াতে গিয়ে নিজের চোখে যে দৃশ্য দেখেছি, তা বর্বরোচিত ও জঘন্য। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শালগাছগুলো আগুনে দগ্ধ। বনের ভেতরে এই দৃশ্য আরও বীভৎস। যতই হাঁটতে থাকি ততই হতাশায় আচ্ছন্ন হই। শালবনের এমন ঝলসানো চেহারা দেখলে যে কারোরই মন খারাপ হবে। আগুনে শুধু শালগাছই নয়, বনের যাবতীয় প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে। শালবনে কেন আগুন লাগানো হয়েছে, স্থানীয় সূত্র থেকে এই প্রশ্নের একাধিক উত্তর পাওয়া যায়। যার অন্যতম হলো জ্যান্ত গাছ পুড়িয়ে লাকড়ি বানিয়ে সংগ্রহ করা। এই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় সুবিধা শালবন দখল করা। গাছ পুড়ে যতই বনের আয়তন সংকুচিত হবে, ততই দখল করতে সুবিধা। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন নতুন কৌশল। স্থানীয় বাসিন্দারা বনের কিনারায় অগভীর অংশে পালিত বৃক্ষ রোপণ করে পরবর্তী সময়ে জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করে। তাদের যুক্তি, শিল্পপতিরা যদি বন দখল করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না!
শালবন নিয়ে নৈরাজ্যের যেন আর শেষ নেই। এসব দেখারও যেন কেউ নেই। কাগজ-কলমে বন বিভাগ শালবনের অভিভাবক হলেও তারা যে বন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সে কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। অথচ আমরা কেউ কি একবারও ভেবেছি, শালবন ধ্বংস হওয়া মানে দেশের একটি অন্যতম প্রাণভান্ডারের বিলুপ্তি ঘটা। কারণ, শালবন আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। শালবন মানে শুধু শালগাছই নয়, অসংখ্য লতাগুল্ম, অন্যান্য বৃক্ষ ও বিচিত্র প্রাণীদের আবাসও এখানে। গবেষকদের মতে, এই বনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মের বসবাস। আমাদের একমাত্র বুনো রঙ্গন, বুনো কুল, কুম্ভি, উলটচণ্ডাল, গোয়ালিয়া লতাসহ আরও অনেক কন্দজ ও পরজীবী এখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। একজন বৃক্ষপ্রেমী বা গবেষক যদি প্রতি মাসে একবার শালবনে যান, তাহলে প্রতিবারই তাঁর জন্য অপেক্ষা করবে কোনো না কোনো নতুন কিছু। বছরজুড়ে থাকে বিচিত্র ফুল, ফল, লতাগুল্ম, কন্দজ আর তৃণ নিয়ে অফুরন্ত প্রাণবৈচিত্র্যের সমাহার। টিকে থাকা যৎসামান্য এই শালবনকে এখন তৃতীয় প্রজন্মের বন মনে করা হয়।
শালবন বিলুপ্ত হলে শুধু যে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হবে তা নয়, বনের ওপর নির্ভরশীল অনেকগুলো নৃ-গোষ্ঠীও বিপন্ন হবে। বর্তমানে যদিও তারা বনের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবু বহিরাগতদের চাপে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওয়ার আশঙ্কা তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রায় বিশ বছর আগে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা গ্রন্থে শালবনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, সেখানেও নিঃশেষিত বনের কথা আছে। আছে বনজীবী মানুষের হাহাকারের কথা। বিশ বছর পর এই চিত্র আরও চূড়ান্ত হয়েছে মাত্র।
২০১০ সালের ৪ মার্চ প্রথম আলোয় ‘জাতীয় বৃক্ষ, পুষ্প উৎসব ও অন্যান্য’ শিরোনামে একটি লেখা লিখি। তাতে শালগাছকে আমাদের জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করার প্রস্তাব করি। কারণ, দারু মূল্য, পাতার আকৃতি, বংশবৃদ্ধির কৌশল—সবকিছুতেই এরা অনন্য। শালকে জাতীয় বৃক্ষ করা হলে দুটি কাজ হতো। প্রথমত, শাল সম্পর্কে মানুষ নতুন করে জানতে আগ্রহী হতো; দ্বিতীয়ত, গাছটি কিছুটা হলেও রক্ষা পেত। আমরা কি পারি না দেশের অবশিষ্ট বনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে? আমার বিশ্বাস, দেশের অধিকাংশ মানুষই বন দখল করতে চায় না। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে মুষ্টিমেয় দখলকারীরা দাঁড়তেই সাহস পাবে না।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব
tarupallab@gmail.com

Saturday, February 28, 2015

নাগরিক সম্পদ রক্ষার দায় কার? by মোকারম হোসেন

এবার সেহারাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে যৌন ব্যবসা
সোহরাওয়ারর্দী উদ্যান। কালের অগ্রযাত্রায় এই উদ্যান এখন মাদক দ্রব্য গ্রহন
আর নারী পুরুষের অবাধ মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। সোহরাওয়ারদী উদ্যানের
উত্তর দিকে ছবির হাট থেকে দক্ষিণে রমনা কালী মন্দির, গ্যালারি, শিখা চিরন্তন,
স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভ, শহীদদের নাম ফলকসহ উদ্যানের সর্বত্রই চলে মাদকের
অবাধ কেনা-বেচা। উদ্যানের একজন গাঁজা বিক্রেতা রুবেল এর সাথে কথা বলে জানা
যায় যে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকার গাঁজা কেনা বেচা করে থাকে
এই উদ্যান থেকে। মাদক গ্রহনের সাথে সাথে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার
জন্যও এই উদ্যান সমালোচিত। উদ্যানে কর্তব্যরত পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়
যে এখানকার অধিকাংশ মেয়েরা পেশাদার যৌন কর্মী। পাশাপাশি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজ
এবং ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও একান্তে সময় কাটানোর জন্য
উদ্যানে আসে। কখনো আবার একসাথেই চলে মাদক ও যৌন উন্মাদনা।
এমনকি উদ্যানে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা মৌখিক চূক্তির
মাধ্যমে বিভিন্ন ভিআইপিদেরকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে হোম সার্ভিস
দিয়ে থাকেন। এসকল সার্ভিসের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে ইস্কাটন,
চানখাঁরপুল, ধানমন্ডি প্রভৃতি স্থানে রুম ভাড়া পাওয়া যায়।
সোহরাওয়ারদী উদ্যানের বর্তমান এই অবস্থা একদিকে যেমন নৈতিকতার
স্খলন তেমনি জাতীয় জীবনের মূল্যবান চেতনারও পরিপন্থী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে
এ বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপের
অভাবে ক্রমেই হারিয়ে যাচেছ আমাদের  সোহরাওয়ারর্দী উদ্যান।
নগরজীবনে সরকারের কাছে একজন সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা কী হতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা অনেক বড় হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সংক্ষিপ্ততম চাহিদার কথাও যদি বলতে হয়, তাহলে তালিকায় কোনো না কোনোভাবে দু-একটি পার্ক-উদ্যানের কথা চলে আসে। নইলে আমরা শ্বাস ফেলব কোথায়? তবে শ্বাস ফেলছি না যে তা নয়, ফেলছি একজন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর। এমনিতেই আমরা সারা দিন মরা কাচকি মাছের মতো গাদাগাদি করে পড়ে থাকি। কিন্তু কালেভদ্রে হলেও তো আমাদের দম ফেলার জন্য একটু খালি জায়গা প্রয়োজন। দুই কোটি লোকের এই শহরে তো একমাত্র রমনা পার্কই ভরসা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে এখন আর উদ্যান না বলাই ভালো। কারণ এটি এখন যতটা না উদ্যান, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ময়দান। উচ্চাভিলাষী কর্মকাণ্ডের চাপে লুপ্ত হয়েছে উদ্যানের চরিত্র। অথচ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই উদ্যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে রমনা মাঠে (রেসকোর্স ময়দান) ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে জুয়া খেলা বন্ধ করে নারকেলগাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে একটি উদ্যান তৈরির উদ্বোধন করে এর নামকরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
গত কয়েক দশকে ঢাকায় নতুন কোনো পার্ক বা উদ্যান হয়েছে কি না, জানা নেই। কিন্তু মানুষ তো বেড়েছে ঠিকই। বাড়তি মানুষের জন্য তাহলে সরকার কী উদ্যোগ নিল! তাদের জন্য কি কোনো পার্ক-উদ্যান প্রয়োজন নেই? বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দাবি তুলেছে শহরের চারপাশে সুবিধাজনক স্থানে একাধিক পার্ক নির্মাণের। কারণ, যানজটের এই শহরে প্রতিদিন শহরতলি থেকে রমনা পার্কে আসা কঠিন। তবে সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে, যদি এই শহরের এক-তৃতীয়াংশ মানুষও একই দিন একই সময়ে রমনা পার্কে বেড়াতে আসে, তাহলে কী অবস্থা দাঁড়াবে! তাই আমাদের বিকল্প কিছু একটা তো করতেই হবে। একই সঙ্গে রমনা পার্ককেও ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
কিন্তু গত এক দশকে রমনা হয়ে পড়েছে হতশ্রী। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়, অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা, সংগঠনের নামে দখল, গানবাজনা, পিকনিকসহ নানা মাত্রিক অনাচার পার্কের গোটা অবকাঠামোকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইদানীং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক নতুন উৎপাত—পার্কজুড়ে নানা উৎসবের আয়োজন শুরু হয়েছে। এক দিনের এ ধরনের উৎসবে পার্কের এতটাই ক্ষতি হয় যে সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কয়েক মাস লেগে যায়। সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক পার্কের ভেতরে নানা স্থাপনা নির্মাণ ও হাজার হাজার মানুষের পদচারণ। শুধু উৎসবের জন্য একটি পার্কের এমন ক্ষতি হওয়া কি কাম্য? কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতি করে তার বুকের ওপর আনন্দ উৎসব হতে পারে না। উৎসব করার জন্য আরও অনেক জায়গা রয়েছে।
উৎসবের বিরোধিতা করছি না। আমার অভিযোগ ও প্রতিবাদ তাদের বিরুদ্ধে, যারা পার্কে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। তারা নিঃসন্দেহে অন্যায় করেছে, নাগরিক সম্পদ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আইনও লঙ্ঘন করেছে। কারণ, সরকার কর্তৃক ২০০০ সালে অনুমোদিত খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ আইনের ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না।’ উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতেরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উদ্যান কর্তৃপক্ষ এসব আইনের তোয়াক্কা করছে না। শুধু রমনা পার্কই নয়, ঢাকার অন্য ছোটখাটো পার্কগুলোর চিত্রও প্রায় একই।
পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থাও ভালো নয়। ফার্মগেটের পার্কটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সেখানে অর্ধমৃত, মৃত, ধূসর কয়েকটি গাছ নিরন্তর সংগ্রাম করে টিকে আছে। এই চিত্র দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন, এটি কি একটি পার্ক, না গণশৌচাগার, না হতশ্রী উদ্যানের মডেল? আবার ভবঘুরেদের ঘরবাড়িও মনে হতে পারে। পার্কটি এখন অভিভাবকহীন। এর দেখভালের যেন কেউ নেই! এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, নগর কর্তৃপক্ষ যে উদ্দেশ্যে এখানে পার্কটি স্থাপন করেছে, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই আশপাশের বিশাল এলাকার মানুষ এই পার্কের কোনো সুফল ভোগ করতে পারছে না। এ অবস্থায় সেখানে আবার হাজারো মানুষের আনাগোনা এই পার্কের ধ্বংসযজ্ঞকেই ত্বরান্বিত করবে। একইভাবে এই পার্কেও কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া অবৈধ এবং আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আশা করি কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কোনো পার্ক ও উদ্যানে সব ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতিদানে বিরত থাকবে। কারণ, তাদের কাঁধে যেমন নাগরিক সম্পদ রক্ষার দায় রয়েছে, তেমনি তা রক্ষায় ব্যর্থ হলে তাদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অধিকারও নাগরিকদের রয়েছে।
রমনার প্রসঙ্গ দিয়েই শেষ করি। আমরা কয়েক বছর ধরে ‘তরুপল্লব’-এর পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্লভ গাছপালা সংগ্রহ করে বিভিন্ন সংরক্ষিত পার্ক ও উদ্যানে রোপণ করে প্রজাতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছর পার্কের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেখানে বেশ কিছু দুর্লভ গাছ লাগানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় একটি গাছও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। মূলত পার্কে একাধিক কর্তৃপক্ষের সহাবস্থানই এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ। রমনা পার্কসহ অন্যান্য পার্ক ও উদ্যান বাঁচিয়ে রাখতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক। সাধারণ সম্পাদক: তরুপল্লব।
tarupallab@gmail.com

Monday, January 14, 2013

প্রাণবৈচিত্র্য- বাইক্কা বিল কি পর্যটনকেন্দ্র? by মোকারম হোসেন

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে বাইক্কা বিলের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। ১৮ কিলোমিটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাঁচা সড়ক। মূলত সড়কের এই অংশটুকুই বাইক্কা বিলের প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পথটি দৃশ্যত ও কার্যত দুটি সমস্যা তৈরি করেছে।

Wednesday, December 19, 2012

হারিয়ে যাচ্ছে টক বেগুন by মোকারম হোসেন

শরতের মাঝামাঝি সময় থেকেই সারা দেশে রবিশস্যের প্রস্তুতি শুরু হয়। বিচিত্র শাক-সবজি, ডাল-কাউন, সরিষা আর পেঁয়াজ-রসুনে ভরে ওঠে মাঠ। হেমন্ত-শীতের ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে এই মাঠগুলো একেকটি সোনার টুকরোর মতো।

Wednesday, August 29, 2012

সবুজায়ন- সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ by মোকারম হোসেন

সম্প্রতি সংসদ সচিবালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানকার ইউক্যালিপটাস গাছগুলো কেটে লাগানো হবে ২৯ ধরনের দেশি গাছ। সেখানে কী কী গাছ রোপণ করা হবে, তার একটি সম্ভাব্য তালিকাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

Friday, July 20, 2012

পানামার গোলাপ রনডেলেশিয়া by মোকারম হোসেন

রমনা উদ্যানের অশোককুঞ্জের উত্তর পাশ লাগোয়া কয়েকটি রঙ্গনের পাশেই দেখা মিলবে এ গাছের। বিক্ষিপ্ত ডালপালার এ গাছ বেশ কয়েক বছর আগেই দেখেছি সেখানে। প্রথমে ভেবেছিলাম রঙ্গনের কোনো প্রজাতি। পরে ভুল ভাঙল। অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ফুলগুলো যেন কথা গ্রন্থে গাছটির পরিচয় ‘রনডেলেশিয়া’ নামে।

Sunday, July 15, 2012

ফল-বুদ্ধনারকেল by মোকারম হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে গিয়ে আপনি রাজু ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়ালে সবচেয়ে উঁচু যে গাছটি চোখে পড়বে, তার নাম ‘বুদ্ধনারকেল’। পাশেই পাবেন দুটো সুদর্শন বেরিয়া গাছ। প্রাক্-বর্ষায় এদের প্রস্ফুটন প্রাচুর্য উপভোগ করা যায়। এই শহরে বুদ্ধনারকেলের মতো এমন উঁচু গাছ অনেকটাই দুর্লভ। কাছাকাছি উচ্চতার মধ্যে রয়েছে দেবদারু।

Saturday, June 23, 2012

প্রকৃতি-আম জাতীয়বৃক্ষের স্বীকৃতি পেল by মোকারম হোসেন

নিঃসন্দেহে ভালোলাগার মতো একটি সংবাদ। এত দিনে আমাদের জাতীয় বৃক্ষের স্বীকৃতি মিলেছে। আম এখন আমাদের জাতীয় বৃক্ষ। কিন্তু মাত্র দুই দিন আগেও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না আমাদের জাতীয় বৃক্ষের নাম। আগে গাছপালা নিয়ে লেখালেখি করতে গিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।

Friday, June 22, 2012

চারদিক-রমনা-নিসর্গের স্থপতি by মোকারম হোসেন

আমাদের রমনা-নিসর্গের কথা বলতে গেলেই লন্ডনের কিউ বোটানিক গার্ডেনের কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলকের নাম অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১০০ বছর আগে তিনি রাজধানী শহর ঢাকাকে উদ্যানের নগর হিসেবে গড়ে তুলতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আমাদের কাছে নমস্য হয়ে থাকবেন।

Friday, June 15, 2012

বৃক্ষ-তালিপামের পরম্পরা কয়েকটি প্রস্তাব by মোকারম হোসেন

তালিপামের কথা প্রথম জানতে পারি বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম প্রকাশিত রেড ডেটা বুক অব ভাস্কুলার প্লান্টস অব বাংলাদেশ বইটি পড়ে। প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। গ্রন্থের পৃষ্ঠাজুড়ে তালিপামের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি ছাপা হয়। প্রাথমিকভাবে গাছটিকে তালগাছ না ভেবে উপায় নেই। কারণ, গাছের কাণ্ড ও পাতার গড়ন হুবহু তালগাছের মতোই।

Tuesday, June 12, 2012

চার দিক-যতটা কাছে ততটাই দূরে by মোকারম হোসেন

টাঙ্গাইলের মধুপুর যে ময়মনসিংহের প্রান্তসীমায়, সে কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। মানে, মধুপুর থেকে উঁকি দিলেই ময়মনসিংহ চোখে পড়ে। জানা কথা যে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যতটা কাছে, মধুপুর ততটাই দূরে। আমি গুনে গুনে দ্বিতীয়বারের মতো ভুলটি করলাম। আগেও একবার মধুপুরে গিয়েছিলাম।

Saturday, May 26, 2012

দ্বীপের জীবন-সোনাদিয়ার দুঃখগাথা by মোকারম হোসেন

কক্সবাজার থেকে মহেশখালী দ্বীপ পর্যন্ত যাতায়াতব্যবস্থা মোটামুটি ভালোই। যদিও জলপথ, তবু স্পিডবোট আর ট্রলার সহজলভ্য। তবে রাতে আর এসব চলে না। কিন্তু কেউ যদি মহেশখালী থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে চান, তাহলে কীভাবে যাবেন! গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ বেবিট্যাক্সিতে, তারপর নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হয়ে বাকিটা হাঁটাপথ।

Monday, May 14, 2012

প্রকৃতি-দুটি বিপন্ন তরুবীথি by মোকারম হোসেন

ঢাকায় পার্ক বা উদ্যান ব্যতীত অন্য কোথাও অশোক এবং রুদ্রপলাশের কোনো সুদীর্ঘ বীথির কথা মনে পড়ে? না পড়ারই কথা। কারণ, এমন দুটি নান্দনিক বীথি প্রকৃতিকে আলোকিত করার আগেই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। কোন প্রকৃতিপ্রেমিক, কখন কীভাবে এই শৈল্পিক নিসর্গের আয়োজন করেছিলেন তার সঠিক কোনো ইতিহাস আজ আর জানা যায় না।

Saturday, May 12, 2012

ফুল-জ্যাকারান্ডার স্নিগ্ধ শোভা by মোকারম হোসেন

জ্যাকারান্ডা ফুল নিয়ে সবার কৌতূহলের শেষ নেই। কারণ ফুলটি অনেকের কাছেই অচেনা। ঢাকাসহ সারা দেশে আছে হাতেগোনা কয়েকটি গাছ। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে এবং সড়ক ভবনের প্রবেশপথের ধারে দুটি পরিণত গাছ ছিল। এখন একটিও নেই।

Thursday, May 10, 2012

নিসর্গ নির্মাণ-জাতীয় বৃক্ষ, পুষ্প উৎসব ও অন্যান্য by মোকারম হোসেন

আমাদের জাতীয় ফুল, ফল, পতাকা, পশু, পাখি, সংগীত, মাছ—সবকিছুই আছে কিন্তু জাতীয় বৃক্ষ কোনটি? অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এ বিষয়ে যখন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি। দু-একটি ওয়েবসাইটে অবশ্য দ্বিধান্বিতভাবে বটগাছকে জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে শঙ্কা কাটে না। নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বৃক্ষরোপণ-‘বিমূর্ত’ পাওলোনিয়া প্রকল্প by মোকারম হোসেন

ধরা যাক, আপনার একটুকরো জমিতে এত দিন শাকসবজি বা ফল-ফলাদি ফলেছে। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতিতে সেখানে হঠাৎ করেই স্বজনেরা ইউক্যালিপটাস আর একাশিয়াগাছ বুনে দিয়েছেন। এ কাজটি করার পর সেখানকার প্রকৃতিতে যে সূক্ষ্ম পরিবর্তন সূচিত হলো তা কিন্তু আপনার অগোচরেই থেকে গেল।

Wednesday, May 9, 2012

চারদিক-গন্তব্য ছাতিয়ানতলী by মোকারম হোসেন

ঢাকা থেকে বের হওয়ার আগেই মাহবুব রেজা পইপই করে বলে দিলেন প্রথমে আবদুল্লাহপুর, তারপর ধলেশ্বরী এক-দুই সেতু, নীমতলা, চালতীপাড়া থেকে চৌধুরী রোড হয়ে সোজা ছাতিয়ানতলী। তবুও পথ ভুলে কিছুটা সামনে হাসাড়ার দিকে চলে গেলাম।