Tuesday, November 19, 2019
শ্রীলঙ্কায় ঐক্য স্থাপন কঠিন হবে, আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা

এতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় চূড়ান্ত আঘাত করেছে। আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে এই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও তার পরবর্তী দৃশ্যপট নিয়ে এক প্রতিবেদনে অনলাইন বিবিসিতে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক জিল ম্যাকগিভারিং।
রাজধানী কলম্বো থেকে তিনি লিখেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ গোটাবাইয়ার এই বিজয়কে নীরবে, আতঙ্কের মধ্য দিয়ে নেবে। এসব মানুষ ভোট দিয়েছিলেন গোটাবাইয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসাকে। তারা প্রেমাদাসাকে অধিক উদার হিসেবে দেখে থাকেন। সবার পছন্দকে আমলে নেন প্রেমাদাসা। বহু মুসলিম বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত ঘৃণা জোরালো হয়েছে। এতে উস্কানি দিচ্ছে কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গ্রুপগুলো। গত সাত মাসে তা আবার দেখা দিয়েছে। মুসলিমরা বলছেন, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্জন করা হয়েছে। এমন কি তাদেরকে প্রকাশ্যে রাস্তায় অবমাননা করা হচ্ছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। তারা আস্থার সঙ্গে বলেছেন, রাজাপাকসের বিজয় নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করে চলেন রাজাপাকসে- এমনটাই বেশি মনে করা হয়। মুসলিম বিরোধী উগ্রপন্থিদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য তার সমালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে একজন মুসলিম নারী উদ্বেগের সঙ্গে তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, যদি নির্বাচনে গোটাবাইয়া রাজাপাকসে বিজয়ী হন তাহলে সামনের দিনগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িকতা দেখতে পাবো। এসব সাম্প্রদায়িক গ্রুপগুলোর বেশির ভাগেরই যোগসূত্র রয়েছে তার দলের সঙ্গে।
ওদিকে গোটাবাইয়া রাজাপাকসের বিজয়ের খবর প্রকাশ হতেই তার দলের প্রধান কার্যালয়ে ছুটে যেতে থাকেন সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে ছিল সতর্কতা। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজাপাকসে পরিবার ক্ষমতায় ফেরায় অনেকেই স্বস্তি পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় এখন যারা এলেন তাদের জন্য এটা যেন একটি পারিবারিক বিষয় হয়ে উঠল এখন। বিজয়ী গোটাবাইয়ার ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে। তিনি ১০ বছর শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় ছিলেন। নতুন সরকারের তাকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনে দু’ভাইয়ের ছবি ও ব্যানার পাশাপাশি দেখা গেছে। রাজাপাকসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন এবার আইনজীবীদের একটি গ্রুপ। তাদের একজন সাগালা অভয়াবিক্রমে। তিনি বলেছেন, এটা আমাদের বিজয়ের দিন। চার বছর ধরে আজকের এই দিনটির জন্য আমরা কাজ করেছি। তিনি গোটাবাইয়ার প্রতি আস্থাশীল। মনে করেন, তিনি যা করতে চান তিনি তা করতে পারেন। তার ভাষায়, তাকে আমরা দেখেছি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে। তিনিই ৩০ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধকে খতম করে দিয়েছেন। ১০ বছর আগে বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের আন্দোলনকে পরাজিত করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। তামিল বিরোধী সরকারের অভিযান নিয়ে মারাত্মক সব অভিযোগ আছে। বলা হয়, এতে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও ওই যুদ্ধ শেষে এর কৃতীত্ব দেয়া হয় টিম রাজাপাকসেকে। তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইস্টার সানডে’র মতো ঘটনা ঘটতো না।
গোটাবাইয়া রাজাপাকসের আরেকজন সমর্থক আইনজীবী জানাকা অরুণাশান্থা বলেন, আমি মনে করি শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এটা হলো একটি টার্নিং পয়েন্ট। দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সব কিছুতে আগামী ৫ বছর উন্নতি হবে বলে মনে করি। গোটাবাইয়াকে নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।
নির্বাচনের পর রোববার রাজধানী কলম্বোর রাজপথ ছিল ফাঁকা। নির্বাচনের খবর যখন প্রকাশ পাচ্ছিল তখন চারদিকে এক পিনপতন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। বিক্ষোভ ও জন সমাগম নিষিদ্ধ করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক নেতারাও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এরই মধ্যে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে ঐক্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা যদিও আছে, তথাপি নির্বাচনের ফল বলে দেয় দেশটি কতটা মেরুকরণ হয়েছে। এখানে ঐক্য স্থাপন খুব কঠিন হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমি অল্পবয়স্কার সঙ্গে সেক্স করিনি: প্রিন্স অ্যান্ড্রু

জেফরি এপস্টেইন শিশু যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে সাজা পান। পরে কারাগারেই তিনি আত্মহত্যা করেন। আর এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এমনকি এপস্টেইনের হাতে ‘যৌন দাসী’ হিসেবে বন্দী ছিলেন এমন এক নারী পরে দাবি করেন যে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার সঙ্গে জোরপূর্বক সেক্স করেন।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাক্ষাৎকারে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কণ্ঠ বার বার কাঁপছিল। এমনকি তোতলাচ্ছিলেন।
আবার এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দিয়েছেন। অ্যান্ড্রু দাবি করেন, এপস্টেইনের কোনো বাড়িতে কোনো পাচারকৃত নারীর সঙ্গে তিনি যৌন সম্পর্কে মিলিত হননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এপস্টেইনের নিজস্ব বিমানে তিনি চড়েছেন, যেটি এখন প্রায় কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। তিনি এ-ও স্বীকার করেছেন যে, তিনি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, পাম বিচের বাড়ি ও নিউ ইয়র্কের প্রাসাদে রাত্রিযাপন করেছেন। অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আপনি যদি পুরুষ হয়ে থাকেন, তাহলে কারও সঙ্গে সেক্স করাটা একটি ইতিবাচক কাজ। আর কোনো ইতিবাচক কাজ ভুলে যাওয়াটা খুব কঠিন। কিন্তু এমন কিছু আমার মনে পড়ছে না।’
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক ডজন অল্পবয়স্ক মেয়েকে নির্যাতনের বিচার চলছিল। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে অ্যান্ড্রু বলেন, এ বিষয়ে তার মধ্যে অনুশোচনা কাজ করছে।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামে যে নারী দাবি করছেন যে, তিনি অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সেক্স করেছেন, সে ব্যাপারে উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন। প্রিন্স এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। জিউফ্রে দাবি করেছিলেন যে, লন্ডনে ২০০১ সালের ১০ই মার্চ একটি নাইটক্লাবে পার্টি শেষে অ্যান্ড্রুর এক বন্ধু ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে তার সঙ্গে সেক্স করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রিন্স বলেন, ‘সে রাতে আমি শিশুদের সঙ্গে ছিলাম। আমি বিয়েট্রিসকে নিয়ে পিজ্জা এক্সপ্রেসে একটি পার্টিতে যাই সম্ভবত বিকেলে। তখন সারাহ (স্ত্রী) বাড়িতে ছিল না। আর পরিবারের মধ্যে এই নিয়ম ছিল যে, যদি একজন বাইরে থাকে, তাহলে আরেকজন বাড়িতে থাকবেন।’
তবে জিউফ্রে নামে ওই নারীর সঙ্গে অ্যান্ড্রুর জড়িয়ে ধরা একটি ছবি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তবে প্রিন্স বলেন, এ ধরণের ছবির বিষয়ে তার কিছুই স্মরণে নেই। তিনি বলেন, ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে এটি সম্ভবত ম্যাক্সওয়েলের (ওই বন্ধু) বাসার উপরের তলায় তোলা হয়েছে। তিনি নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে বলেন, রাজপরিবারের অংশ হিসেবে তিনি কাউকে জড়িয়ে ধরা বা এ ধরণের কাজ করেন না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই টুইটারে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে বহু নারীর জড়িয়ে ধরার ছবি অনেকে শেয়ার করতে থাকেন।
শনিবার ওই সাক্ষাৎকার শেষে জিউফ্রে নিজেও এ ব্যাপারে টুইট করেন। তিনি বলেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ওই সাক্ষাৎকার মূলত নিজের সুনামকে রক্ষার জন্যই। কিন্তু এতে করে আরও অনেক প্রশ্ন হাজির হয়েছে।
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল কেন তিনি বার বার এপস্টেইনের বাড়ীতে গেলেও সেখানে দৃশ্যত বন্দী মেয়েদের দেখেন নি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে কর্মচারিদের দেখতে দেখতে তিনি অভ্যস্ত। তাই সেখানে কোনো বৈসাদৃশ্য তার চোখে পড়েনি।
সাক্ষাৎকারে প্রিন্স নিশ্চিত করে বলেছেন যে, নিজের রাজকীয় বাড়িতে এপস্টেইনকে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এমনকি ২০০৬ সালের মে মাসে এক অল্পবয়স্কা মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কারাগারে গিয়ে মুক্তি পাওয়ার পর তা উদযাপনে এপস্টেইন পার্টি করলে, সেখানে থাকার কথাও নিশ্চিত করেন প্রিন্স। এছাড়া প্রিন্স বিয়েট্রিসের ১৮তম জন্মদিনেও এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারির বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
তার এই বক্তব্যের পর এপস্টেইনের হাতে নির্যাতিতাদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবী গ্লোরিয়া অ্যালরেড বলেন, টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার না দিতে গিয়ে তিনি যদি শপথ গ্রহণ করে স্বাক্ষ্য দিতে সম্মত হন, তা-ই বেশি কাজের হবে।
প্রসঙ্গত, প্রিন্স অ্যান্ড্রু হলেন বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান ও দ্বিতীয় ছেলে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫৭ শতাংশ লোক জানেনা তার ডায়াবেটিস by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

বছরে বাড়ছে আরো ১ লাখ রোগী। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের ৫৭ শতাংশ লোক জানেন না যে তার ডায়াবেটিস রোগ আছে। বছরে এই রোগে প্রায় এক লাখ লোক মারা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০১৭ সালের হিসাব মতে, বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪২ কোটি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সব বয়সের মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে নতুন নতুন রোগীর সংখ্যা। সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দশমে। নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও দেশের ডায়াবেটিক রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। প্রতি বছর ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস এমন এক রোগ, স্বাস্থ্যশিক্ষাই যার প্রধান চিকিৎসা। যথাযথ স্বাস্থ্যশিক্ষা পেলে একজন ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না হয়ে এ রোগ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। তবে, উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশে ডায়াবেটিক রোগীর বৃদ্ধির হার বেশি। ডায়াবেটিস সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় প্রতিবছর মৃত্যুবরণ করছে অসংখ্য মানুষ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে। ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে তাতে এখনই এ রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা ডায়াবেটিসকে সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। ঘন ঘন ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এক পর্যায়ে পৌঁছলে অনেক জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে ডায়াবেটিস। তিনি জানান, সারা দুনিয়ার অর্ধেক রোগী জানে না তার ডায়াবেটিস হয়েছে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) সূত্র জানায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগী বেশি। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ। শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাডাস কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সমপ্রতি বাডাস কর্পোরেটভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বল্পমূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৫০ কোটিতে। বাংলাদেশে আশির দশকে ডায়াবেটিস রোগী সংখ্যা ছিল যেখানে মাত্র ২ শতাংশ এটি এখন শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ। এছাড়াও প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস-এর আগের ধাপ)-এর হার আরও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউ’র এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আশির দশকে যেখানে মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে এখন গ্রামাঞ্চলেও ডায়াবেটিসের সামগ্রিক প্রবণতা ৮ শতাংশের মতো। এভাবে ক্রমশ ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য হবে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাছাড়া, ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। এত বড় বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা। সময়মতো ইন্টারভেনশন (খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন), নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে গর্ভবতী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা শতকার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০ বছর আগে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ছিল। এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত কারণ ছাড়াও নগরায়ন ও পরিবর্তিত জীবনধারণের কারণেই এই রোগে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, গর্ভকালীন ডাযাবেটিসে আক্রান্ত নারীদের প্রায় অর্ধেক পরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এমনকি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণে শিশু অপুষ্টির শিকার হলে এবং সেই শিশু পূর্ণবয়স্ক হবার পর অতিরিক্ত ওজন হলে তার ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে।
ডায়াবেটিস এর চিকিৎসার জন্য একজন রোগীর মাসিক গড়ে ২ হাজার টাকা খরচ করতে হয় বলে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে যারা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা নেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ ট্যাবলেট খান এবং প্রায় ১৭ ভাগ ইনসুলিন নেন। বাকি ১১ শতাংশের দুটোই প্রয়োজন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চিকিৎসক অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলছেন, সকল ডায়াবেটিক রোগীকে ট্যাবলেট খেতেই হয়। যেহেতু এর সঙ্গে অন্যান্য রোগ থাকে, এ ধরণের একটি রোগী কোন মতেই প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার নিচে চলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মাহবুব। অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সচেতনতার মাধ্যমে যদি ডায়াবেটিসের বিস্তার কমানো সম্ভব না হয়, তাহলে এ রোগের জন্য আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হবে। এ রোগের চিকিৎসা নিতে মানুষের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। যেটি দেশেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)। গত ১০ বছরেও ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। সম্প্রতি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংঠনটির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান। তিনি জানান, গত দশ বছর এই সংক্রান্ত ফাইল এই মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয় ঘুরছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নীতিমালা কোনো মন্ত্রণালয় উপস্থাপন করবে তা নিয়েও চলছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। বাডাস’র সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে। তবে এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও আনুমানিক ৫০ লাখ লোক এই রোগে আক্রান্ত। গ্রামের চেয়ে শহরে ডায়াবেটিসের রোগী বেশি। বহুবিধি কারণে এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে জীবন-যাত্রার পরিবর্তন, নগরায়ন, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া ইত্যাদি। তিনি জানান, দেশে ৫০ শতাংশ অপরিকল্পিত গর্ভবতি হচ্ছেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ৫৭ শতাংশ লোক জানেনা যে তার ডায়াবেটিস রোগ আছে। বছরে এই রোগে প্রায় এক লাখ লোক মারা যাচ্ছে।
২০০৮ সালে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে-ফাস্টফুড ও কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে যাতে প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিত। স্কুল-কলেজে খোলা মাঠ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এককভাবে না পারলেও কয়েকটি স্কুল বা কলেজ সম্মিলিতভাবে একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে সে ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। টিভি-রেডিও-সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বা স্লোগান প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার। এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং ক্লাব, সুইমিং ক্লাব ইত্যাদি গড়ে তোলা উচিত। গৃহায়ন কর্মসূচির অনুমতি দেয়ার সময় হাঁটাচলার জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা ও খেলাধুলার জন্য কিছুটা জায়গা রাখার বিধান রাখা যেতে পারে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে(যেমন মসজিদে খুতবার সময়) ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বক্তৃতা করার ব্যাপারে ধর্মীয় নেতাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে আজ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্লাড প্রেসারের ওষুধে আবারো ক্যান্সার সৃষ্টির উপাদান by হামিম উল কবির

কমপক্ষে ১০ লাখ আমেরিকান ও ১০ লাখ ইউরোপিয়ান এ ওষুধটি দৈনিক খায়। চীন ও ইন্ডিয়ার যেসব কারখানা এ ওষুধের রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে সেখানেই কোয়ালিটি কনট্রোলে তা ধরা পড়ে প্রথম। ধারণা করা হয়, এই দুই দেশই ওষুধের উপাদান তৈরি করে সস্তায় এবং দক্ষতার সাথে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মেসি থেকে সরকারি কর্মকর্তারা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির লোকেরা বাধ্যতামূলকভাবে ওই ওষুধটি তুলে নিয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্টটি ডেইলি মেইল অনলাইনে ছাপা হয় গত ১৮ জুন।
ব্লাড প্রেসারের ওষুধে কিভাবে ক্যান্সার সৃষ্টির রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেল তা জানিয়েছে এফডিএ। হার্ট ফেইলুর ও হাইপারটেনশনের ওষুধ তৈরির সময় কিছু অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট একসাথে মিশানো হলে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকটি তৈরি হয় বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে। এফডিআই বলছে, ওষুধটি ‘রেসেপি’ অনুসারে সতর্কতার সাথে তৈরি করা হলে ওই ক্ষতিকর বাইপ্রোডাক্টটি তৈরির ঝুঁকি থাকত না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিনহাই, চায়না, ঝেজিয়াং হোয়াহাই ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধ তৈরির পর সঠিক উপায়ে পরিষ্কার না করায় এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে।
নোভার্টিসের মতো শীর্ষ সরবরাহকারী কোম্পানির ভালসারটানে ওই ক্ষতিকর রাসায়নিকটি পাওয়া গেছে অনলাইন ফার্মেসি ‘ভেলিসুর’র পরীক্ষায়। গত সপ্তাহে ভেলিসুর তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষাটি এফডিএর কাছে পাঠিয়েছে। ওষুধের বিশ্ব কর্তৃপক্ষ ব্লাড প্রেসারের কিছু ওষুধ বিক্রিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে প্রায় এক বছর। যে ওষুধগুলো বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এগুলো হলো চীন ও ভারতে উৎপাদিত ভালসারটান, লোসারটানে মিশ্রিত হওয়া কার্সিনোজেন এন-নাইট্রোসোডিথিলামিন (এনডিইএ) এবং এন-নাইট্রোসোডিমেথিলামিন (এনডিএমএ)।
ইউরোপিয়ান ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালে প্রথম এসব ওষুধে দূষণের সন্ধান পায় এবং সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। এফডিএ ২০১৮ সালের জুনের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেয়। পরে শরতে জেনেরিক উৎপাদনকারী মিলান, তেভা ফার্মাসিউক্যালস এবং নোভার্টিসের সেন্ডোজ মার্কেট থেকে তাদের এপিআই প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর গত জানুয়ারি মাসে এফডিএ ইন্ডিয়ার উৎপাদিত লোসারটান পটাশিয়ামের ৮৭ প্রকার ওষুধে বিষাক্ত রাসায়নিক এন-নাইট্রো-এন-মিথাইল-৪-অ্যামিনোবিউট্রায়িক এসিড (এনএমবিএ) শনাক্ত করে। এই উপাদানটি আরেকটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জটিল ব্যাপার। এগুলো চলে আসে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বাইপ্রোডাক্টে হিসেবে যদিও এটা পরিষ্কার নয় কোন উপাদানটি তৈরি হয় বাইপ্রোডাক্টে। এটাও পরিষ্কার নয় যে এফডিএ কী করতে চায় নতুন রিপোর্টের আলোকে। এটা হতে পারে যে এফডিএ মানুষকে বলবে, জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধটি সেবন করে যেতে হবে কারণ ওষুধে এনডিইএ, এনএমডিএ এবং এনএমবিএর লেবেল খুবই কম। তবে ‘চায়না আরএক্স : এক্সপোজিং দ্য রিস্ক অব অ্যামেরিকাস ডিপেন্ডেন্স অন চায়না ফর মেডিসিন’ বইয়ের লেখক রোজমেরি জিবসন ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘চীনের তৈরি প্রতিটি ট্যাবলেট গ্রহণসীমার ২০০ শতাংশের বেশি গ্রহণযোগ্য। এটা যেসব ওষুধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে তার গ্রহণসীমার চেয়ে বেশি।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে অপরিণত শিশুর জন্ম বাড়ছে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

অপরিণত বয়সে জন্ম নেয়ায় এক মাসের অধিক সময়ে শিশুটি ইনকিউবিটরে রাখা হয়। এক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার শিশুটি ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ পদ্ধতিতে রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই শিশুটিকে ইনকিউবিটরে, কখনোবা মায়ের কাছে কেএমসি পদ্ধতিতে প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা রাখাা হতো। এতে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দ্রুত উন্নতি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুধু এই দুই দম্পতির শিশুই নয়, দেশে বছরে সাড়ে ৪ লাখ অপরিণত শিশুর জন্ম হচ্ছে। বাংলাদেশে অপরিণত শিশুর জন্ম হার বাড়ছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ শিশু সময়ের আগেই জন্ম নেয়। এদের মধ্যে ২৩ হাজার ৬০০ শিশু পাঁচ বছর বয়সের আগেই মারা যায়। এই অপরিণত শিশু জন্মের অন্যতম কারণ হচ্ছে মায়ের পুষ্টিহীনতা ও অল্প বয়সে বিয়ে। এটি কমাতে, বাড়াতে হবে সচেতনতা আর নারীর ক্ষমতায়ন।
ইউনিসেফে’র তথ্যমতে, অপরিণত শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর দশ দেশের মধ্যে সপ্তম। বাংলাদেশে প্রতি ১০টি শিশুর একটি অপরিণত শিশু জন্ম নেয়। উচ্চ আয়ের দেশের অপরিণত শিশু বেশি বেঁচে থাকে আর কম আয়ের দেশগুলোতে এ ধরনের শিশু বেশি বাঁচে না। এই অপরিণত শিশু জন্মের অন্যতম কারণ হচ্ছে মায়ের পুষ্টিহীনতা ও অল্প বয়সে বিয়ে, মায়ের ডায়াবেটিস, ধূমপান, দূষণ প্রভৃতি। বিশ্বে বছরে ১৫ মিলিয়ন তথা দেড় কোটি শিশু অপরিণত বয়সে জন্ম গ্রহণ করে (মোট প্রসবের ৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ)।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপরিণত শিশুরা অনেক সময় চোখে দেখে না, কানে শোনে না। তাই সঠিক সময়ে এদের পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থা নিলে অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়। অপরিণত শিশুর ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মৃত্যু কমাতে পারে মায়ের বুকের দুধ ও হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে বাচ্চা লালন-পালন করা। অপরিণত শিশুকে ক্যাঙ্গারু পদ্ধতিতে যত্ন নিয়ে তাদের মৃত্যু অনেক কমে যায়। তাই মাকে এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপরিণত হয়ে জন্মালেও খুব সহজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব শিশুর মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। গর্ভকালীন উন্নত পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে অপরিণত শিশুর জন্ম রোধ করা যায়। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৩৭ সপ্তাহের কম সময়ের আগেই অপরিণত শিশুর জন্মের হার ১৪ শতাংশ। এসব শিশুর ওজনও কম হচ্ছে। জন্মের সময়ে ২২ শতাংশ শিশুর ওজন আড়াই কেজিরও কম থাকে। অপরিণত বয়সে জন্ম নেয়। শিশুদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে অনুপাত ১ দশমিক ২ শূন্য। অর্থাৎ ছেলে ১ দশমিক ২ শূন্য হলে মেয়ে শিশু একজন অপরিণত বয়সে জন্ম নিচ্ছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে ২৮ সপ্তাহেরও কম সময়ে জন্ম নেয় এমন শিশুর সংখ্যা ২২ হাজার।
অপরিণত শিশুর জন্মের সম্ভাব্য কিছু কারণ উল্লেখ করে শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, মায়ের পুষ্টিহীন, কিশোরী বয়সে বিবাহ বা বাল্যবিবাহ, সাধারণত একটি শিশু জন্মের দু’বছর আগে আরেকটি শিশুর জন্ম হলে, মা স্থূলকায় হলে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে, হাইপারটেনশন থাকলে, গর্ভাবস্থায় মা একলাম্পশিয়ায় (কিচুনি) ভুগলে, গর্ভাবস্থায় মা রান্নার ধোঁয়ায় কাজ করলে, এজমা, গর্ভকালীন অবস্থায় পানি আগে ভাঙলে, গর্ভ অবস্থায় রক্তপাত, হঠাৎ পড়ে যাওয়া, ধূমপান বা তামাক গ্রহণ করা, মায়ের রক্ত শূন্যতা ইত্যাদি কারণে সন্তান অপরিণত হয়ে জন্মায় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিশোরী বয়সে গর্ভবতী হলে অপরিণত বয়সের শিশু জন্মের ঝুঁকি থাকে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে তা কমানো সম্ভব। কমপক্ষে দু’বছর অন্তর সন্তান নিলে এই ঝুঁকি এড়ানো যায় বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। গর্ভকালীন সঠিক যত্নবান হাওয়া, সময় মত ক্লিনিকে চেক আপ এবং নিরাপদ ডেলিভারি বা প্রসব অপরিণত শিশুর জন্মদান কমাতে সাহায্য করে। বিশ্বব্যাপী গুণগত স্বাস্থ্যসেবাই পারে অপরিণত বয়সে জন্মানো শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে। মায়ের বুকের দুধ, প্রত্যেক মা ও তার শিশুর উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা এধরনের শিশু মৃত্যু রোধে কাজ করে। ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) হচ্ছে, অপরিণত বয়সের শিশু ও কম ওজনের শিশুকে সুরক্ষা দেয়ার অন্যতম পন্থা।
এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, অপরিণত শিশু যাতে জন্ম না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অপরিণত শিশু কেন জন্ম নেয়, এটা জানা উচিৎ। মা যদি অপুষ্টিতে ভোগেন, তাহলে অপরিণত শিশু হতে পারে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়সে যদি মেয়ের বিয়ে হয়, তাহলেও অপরিণত শিশু জন্ম নিতে পারে। সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, দেশে বছরে প্রায় সাড়ে চার ?লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে ২৬ হাজারের মতো শিশুর মৃত্যু ঘটে, যা মোট নবজাতকের মৃত্যুর হারের ৪৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ইনকিউবিটর নয়, মায়ের কাছে রেখেই অপরিণত শিশুকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার পদ্ধতির এ চিকিৎসা ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউনেটালজি বিভাগ, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অপরিণত শিশুকে মায়ের কাছে রেখেই, মায়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দিয়ে সাফল্য পাওয়া গেছে। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। মায়ের কাছে থাকলে বা ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার থাকলে শিশু উষ্ণতা পায়। মা শিশুর অবস্থা বুঝতে পারেন। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের পরে সর্বপ্রথম দিনাজপুরে এই পদ্ধতি চালু করা হয়। রাজধানীর শিশু হাসপাতাল এই পদ্ধতি চালু হয় ২০১৩ সালে। শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল সিএমসি চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরের জেলা শহরের হাসপাতালগুলোও ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি চালু করবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সামপ্রতি বিশ্বের উন্নয়নশীল ১৫টি দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার পদ্ধতিতে শিশু ইনকিউবিটরের চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে বা অধিক কার্যকর।
শিশু বিশেষজ্ঞ, বিএসএমএমইউর নিউনেটালজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান এই বিষয়ে বলেন, কিশোরী বয়সে বিবাহ বা বাল্যবিবাহ, এজমা, ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থায় পানি আগা ভাঙলে, গর্ভকালীন রক্তপাত, হঠাৎ পড়ে যাওয়া, ধূমপান বা তামাক গ্রহণ করা, মায়ের রক্ত শূন্যতা ইত্যাদি কারণে অপরিণত শিশুর জন্ম হয়। কম বয়সে বিবাহ রোধ করা, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে চেক আপ করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে অপরিণত শিশুর জন্ম কমানো সম্ভব বলে এই শিশু বিশেষজ্ঞ মনে করেন। তিনি আরো জানান, বিএসএমএমইউর নিউনেটালজি বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৬০ শতাংশই হলো অপরিণত বয়সে জন্মা নেয়া শিশু। এই বিভাগের অপরিণত শিশু আসলে আমরা খুব জটিল না হলে ইনকিউবিটরে রাখি না। আমরা শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখি। মা শিশুকে আদর করে নিজের গায়ের সঙ্গে লাগিয়ে রাখেন। এতে করে শিশুটি মায়ের গায়ের উষ্ণতা পায় এবং বুকের দুধ পান করতে পারে প্রয়োজন হলে। শিশুটি কোন জটিলতায় ভুগলে মা-ই দ্রুত বুঝতে পারেন এবং চিকিৎসককে জানাতে পারেন। এতে শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে যায় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে বাড়তি নার্সের প্রয়োজন হয় না। খরচের পরিমাণ অনেক কম হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১৭ই নভেম্বর নানা উদ্যোগে বিশ্ব অপরিণত নবজাতক দিবস পালন করা হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্লেবয় মডেল এখন...

এখন তিনি সুস্থ। তবে বার বার পিছন ফিরে দেখে নেন সেইসব দিনকে।
মাত্র ৫ বছর বয়স তার। তখন এক বেবিসিটারের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন জেসিকা। এতে মানসিক অস্থিরতা ও লজ্জাজনক একটি অবস্থার শিকারে পরিণত হন তিনি। ১৯ বছর বয়সে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে। সেখানে প্লেবয় ম্যানসনে হিউ হেফনারের সঙ্গে উদীয়মান, নামকরা হলিউডি অভিনেত্রীদের ঝলমলে পার্টি। তাতে যোগ দেন জেসিকাও। তার কাছে স্বপ্নিল হয়ে ওঠে জীবন। জেসিকা বলেন, তখন আমি মডেলিং করতাম। অভিনয় করতাম। প্লেবয় ম্যানসনে অফুরান আনন্দে মেতেছি। মনে হতো এক স্বপ্নের ভিতর বসবাস করছি। আমি তখন এলকোহল, প্রেম আর খাদ্যের মধ্যে ডুবে থাকার চেষ্টা করেছি। এলকোহল আমাকে স্তস্তি দিতো। এতে আমি বেদনা ভুলে থাকতে পারতাম। খুব ছোট থেকেই আমি মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে উঠি। প্রকাশ্যে বা পার্টিতে আমি এমন পানের আড্ডায় মেতে উঠতাম। আমার কাছে তখন মদ পান ছিল ম্যাজিকের মতো। ম্যাজিকের মতো আমার সব কিছু ভুলিয়ে রাখতো তা। ২৬ বছর বয়সের মধ্যে আমি খুব বেশি মদপানে আসক্ত হয়ে পড়ি। বিশেষ করে ২৪ ঘন্টায় একবার ভোদকা পান করা চাই-ই চাই। রাত জাগতাম। আবার রাতে যখন নানা বেদনা আমার ভিতর জেগে উঠতো, আমি মারাত্মকভাবে কাঁপতাম। এ সময় একবার যাতে পান করতে পারি, সে জন্য আমি বিছানার পাশে পানির বোতলে ভরে রাখতাম ভোদকা।
জেসিকা বলেন, নিয়মিত বমির সঙ্গে রক্ত বেরুতে থাকে আমার। আস্তে আস্তে মনে হতে থাকে নরকের ভিতর বসবাস আমার। এ সময়ে মনে হয় এভাবে জীবন টেনে নেয়া যায় না। এমন করলে আমি মারা যাবো। আমি বুঝতে পারি, নিজের জন্য জেলখানা রচনা করেছি আমি। আমার জীবনে যারাই এসেছেন, তাদের কেউই জানতেন না তা কতটা বাজে ছিল। মদ পান করার বিষয়টি আমি খুব দীর্ঘ সময় গোপন রেখেছি। খুব বেশি যে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম সে বিষয়ে সততার বিষয়ে আমি ছিলাম খুব উদ্বিগ্ন।

এক পর্যায়ে নিজে গৃহহীন হয়ে পড়েন জেসিকা। একজন আগন্তুকের এক চিলেকোঠায় বসবাস করতে থাকেন তিনি। এ সময় নিয়মিত তার রক্তবমি হতে থাকে। এতে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েন। একদিন সিঁড়ির রেলিংয়ের ওপর পড়ে যান। এতে তার মাথা পড়ে নিচে। এতে ব্রেনে রক্তক্ষরণ হয়। জেসিকা বলেন, এতে আস্তে আস্তে আমার শরীরের একপাশ বিকল হয়ে যায়। মুখ ঝুলে যেতে থাকে। আমার কথা বলার শক্তি হারিয়ে যেতে থাকে। হাসপাতালে গেলাম। সেখানে সিটি স্ক্যান করা হয়। তাতে আমার ব্রেনের কেন্দ্রীয় অংশে বেসবলের মতো একটি অংশে রক্তক্ষরণ দেখা যায়। ব্রেনকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়ার আগেই অপারেশন করে তা সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রথমেই আমার মাদকাসক্তি কাটিয়ে উঠার চিকিৎসা দেয়া হলো। কারণ, আমার রক্ত তখন একেবারে হালকা হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় সার্জারি বা অপারেশন করার জন্য উপযুক্ত নয়। এভাবে ৫ দিন ওষুধ প্রয়োগের পর জরুরি ভিত্তিতে তার ব্রেনে সার্জারি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। জেসিকা বলেন, আমাকে অ্যাকিউট রিহ্যাব ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হলো। কি সৌভাগ্য, সেখানে অলৌকিকভাবে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। আমি কিছু দিনের মধ্যে শক্তি ও মানসিক বল ফিরে পেলাম। ব্রেনের ক্ষত সেরে উঠার পর আমি আমাকে উদ্ধার করি এক বন্ধুর বাসার ফ্লোরে। আবার যেন সেই যন্ত্রণার শুরু।
জেসিকা বলেন, আমি ওই বন্ধুর ফ্লোরে পড়ে থাকি। মদ পান করায় নিজেকে যেন মৃত্যুর একেবারে কাছে নিয়ে যাই। আমি উঠে তার রেস্টরুমে যাওয়ার মতো সামর্থও ছিল না। ফলে ওই ফ্লোরেই শুয়ে সেখানেই মল ও মূত্র ত্যাগ করতে থাকে এক মাসের মতো। এ সময়ে আমার মূত্রে থাকা এসিড আমার নিতম্ব দেশের ত্বক খেয়ে ফেলছিল। এ সময় বুঝতে পারি দ্রুততার সঙ্গে মারা যাচ্ছি। এ সময় সাবেক একজন বন্ধুকে ডেকে আমাকে বাঁচানোর জন্য অনুনয় করি। ঈশ্বরের কৃপায় পরের দিন সকালে সে একটি এম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হলো। যখন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হলো, তখন আমার রক্তে এলকোহলের মাত্রা শতকরা ০.৫৩৩ ভাগ। আমার কোনো অঙ্গই কাজ করছিল না। আমি দুর্বল হতে হতে ৭৮ পাউন্ডে এসে দাঁড়ালাম। দ্রুত দুবার রক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলো। আমাকে ১৬ দিন রাখা হলো আইসিইউতে।
জেসিকার বয়স এখন ৩৭ বছর। তিনি এখন নতুন জীবন পেয়েছেন। কাজ করছেন মদ্যপান থেকে ফেরত আসা বিষয়ক একজন কোচ হিসেবে। লোকজনকে মদ্যপান থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। তার লাইফ পার্টনার ম্যাথিউ। এ বছর ডিসেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। অতীত নিয়ে গর্ব করেন না এই প্লেবয় মডেল। তিনি বলেন, আমি বিব্রত বোধ করি। এক সময় যে জীবন আমি যাপন করেছি তা নিয়ে লজ্জিত। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনই যুবতীরা গ্লামারাস, জাকজমকপূর্ণ জীবনের সন্ধানে লস অ্যানজেলেসে পাড়ি জমাচ্ছেন। তারা মনে করেন, হলিউডে যোগ দিতে পারলেই জীবন হবে সুখের, পাওয়া যাবে সফলতা। কিন্তু জেসিকা তাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষুধার্ত, অনিরাপদ ও মানবতা হারানো জায়গা হলো হলিউড।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ▼ 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...