Sunday, September 22, 2024

বাসায় ফিরলেও খালেদা জিয়া সুস্থ নন: ফখরুল

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া খুব সুস্থ নন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া খুব সুস্থ নন। গতকাল (শুক্রবার) উনার টেম্পারেচার ছিলো।’

উন্নত চিকিৎসায় কবে বিদেশে নেয়া হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনাকে ডাক্তাররা এখন পর্যন্ত ফিট টু ফ্লাইং, এটা মনে করছেন না। সেজন্য বিদেশে যেতে উনার বিলম্বটা হচ্ছে।’

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। তার মেডিকেল বোর্ড তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাসায় থাকবেন তিনি। অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, ‍হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

mzamin

‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ পরিণত মণিপুর

ভারত সরকার মণিপুরকে ক্রমে ‘আফগানিস্তানে’র মতো একটি ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এবং আইনশৃঙ্খলাহীন রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এ মন্তব্য করেছেন মণিপুরের কংগ্রেস এমপি, চিত্রপরিচালক ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বিমল আকৌজাম।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই একটি সাক্ষাৎকারের সূত্রে আকৌজামের কাছে জানতে চেয়েছিল, মণিপুর ধীরে ধীরে আরেকটি আফগানিস্তানে পরিণত হচ্ছে কি না? জবাবে আকৌজাম বলেন, ‘মণিপুরে যা হচ্ছে, ভারত সরকার তা হতে দিচ্ছে। অতএব মণিপুর আফগানিস্তানের পথে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন না করে আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ভারত সরকার মণিপুরকে আফগানিস্তানের মতো একটি “ব্যানানা রিপাবলিকে” পরিণত হতে দিচ্ছে।’ আকৌজামের অভিযোগ, মণিপুরকে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর মতে, ‘কেউ এই গোটা পরিকল্পনা অন্য একদল লোকের সঙ্গে মিলিতভাবে করছে। এদের উদ্দেশ্য, রাজ্যটাকে টুকরা টুকরা করা।’

উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশে যদি এমনটা ঘটত, তাহলে কি এই ঘটনা এভাবে চলতে দেওয়া হতো? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন না, তা হতো না, বলেন আকৌজাম। মণিপুরে ৬০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিশ্চিতভাবেই অনেক আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না বলে মনে করেন অধ্যাপক আকৌজাম।

মণিপুরে গত দেড় বছরের সহিংসতায় অন্তত আড়াই শ জনের মৃত্যু হয়েছে, গৃহহীন হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। সহিংসতা শুরু হওয়ার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো মণিপুর সফর করেননি।

গতকাল শনিবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে অন্তত ৯০০ কুকি জঙ্গি মণিপুরে প্রবেশ করেছে এবং তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আকৌজাম বলেন, মণিপুরে যে সহিংসতা দেখা গেছে, তা উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতে নজিরবিহীন। এটিকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিকশৈলীর অভিযান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একধরনের গৃহযুদ্ধও বলা যেতে পারে বলে মনে করেন আকৌজাম।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাওয়ার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকৌজাম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরে মানুষের আস্থা হারানোর প্রশ্নে।ভারত সরকার মণিপুরকে ক্রমে ‘আফগানিস্তানে’র মতো একটি ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল এবং আইনশৃঙ্খলাহীন রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এ মন্তব্য করেছেন মণিপুরের কংগ্রেস এমপি, চিত্রপরিচালক ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বিমল আকৌজাম।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই একটি সাক্ষাৎকারের সূত্রে আকৌজামের কাছে জানতে চেয়েছিল, মণিপুর ধীরে ধীরে আরেকটি আফগানিস্তানে পরিণত হচ্ছে কি না? জবাবে আকৌজাম বলেন, ‘মণিপুরে যা হচ্ছে, ভারত সরকার তা হতে দিচ্ছে। অতএব মণিপুর আফগানিস্তানের পথে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন না করে আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ভারত সরকার মণিপুরকে আফগানিস্তানের মতো একটি “ব্যানানা রিপাবলিকে” পরিণত হতে দিচ্ছে।’ আকৌজামের অভিযোগ, মণিপুরকে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর মতে, ‘কেউ এই গোটা পরিকল্পনা অন্য একদল লোকের সঙ্গে মিলিতভাবে করছে। এদের উদ্দেশ্য, রাজ্যটাকে টুকরা টুকরা করা।’

উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশে যদি এমনটা ঘটত, তাহলে কি এই ঘটনা এভাবে চলতে দেওয়া হতো? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন না, তা হতো না, বলেন আকৌজাম। মণিপুরে ৬০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিশ্চিতভাবেই অনেক আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না বলে মনে করেন অধ্যাপক আকৌজাম।

মণিপুরে গত দেড় বছরের সহিংসতায় অন্তত আড়াই শ জনের মৃত্যু হয়েছে, গৃহহীন হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। সহিংসতা শুরু হওয়ার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো মণিপুর সফর করেননি।

গতকাল শনিবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে অন্তত ৯০০ কুকি জঙ্গি মণিপুরে প্রবেশ করেছে এবং তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আকৌজাম বলেন, মণিপুরে যে সহিংসতা দেখা গেছে, তা উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতে নজিরবিহীন। এটিকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিকশৈলীর অভিযান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একধরনের গৃহযুদ্ধও বলা যেতে পারে বলে মনে করেন আকৌজাম।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাওয়ার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আকৌজাম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরে মানুষের আস্থা হারানোর প্রশ্নে।

‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ পরিণত মণিপুর

‘হিন্দুপ্রধান’ জম্মু দিয়ে বিজেপির পক্ষে ‘মুসলিম’ কাশ্মীর জেতা কি সম্ভব?

তখন বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটে নাগাদ হবে। শ্রীনগরে শের-ই-কাশ্মীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিজেপির হয়ে নির্বাচনী জনসভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবেমাত্র হেলিকপ্টারে জম্মুর উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন, রাজ্যের ক্রিকেট কর্মকর্তারা ভেতরে ঢুকে মাঠের হাল দেখে রীতিমতো গজগজ করতে শুরু করে দিলেন!

তাদের উষ্মা আর আক্ষেপের কারণ, বিজেপি কি গোটা কাশ্মীরে এই স্টেডিয়াম ছাড়া আর কোথাও জনসভা করার জায়গা পেল না? সামনের মাসেই এই মাঠে রঞ্জি ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হওয়ার কথা, চলছিল ট্রেনিং সেসনও... অথচ সভার জন্য পিচ আর আউটফিল্ডে যে পরিমাণ খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে তাতে আগামী অন্তত ছয়মাস এ মাঠে কোনো খেলার আয়োজন করা যাবে কি না সন্দেহ।

এই মাঠে এককালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও হয়েছে, চার দশক আগে এখানেই ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে ম্যাচ খেলে গেছে ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অ্যালান বর্ডারের অস্ট্রেলিয়া– আর সেই স্টেডিয়ামই এখন কি না ব্যবহৃত হচ্ছে কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য।

কারণ অবশ্য জায়গাটা চারদিক দিয়ে ঘেরা ও সুরক্ষিত, ফলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করাও সোজা। কিন্তু এতে যে কাশ্মীরের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে কর্মকর্তাদের সবাই তা নিয়ে একমত। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের একজন সিনিয়র সদস্য তো বলেই ফেললেন, ‘ভ্যালিতে যে দল একটাও সিট পাবে না, তাদের এখানে এসে এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে সভা করার দরকার কী বুঝি না বাপু!’

কথাটা একেবারে মিথ্যে নয় – ইতিহাস বলে বিজেপি কোনও দিনই কাশ্মীর উপত্যকার কোনও বিধানসভা আসনে জেতেনি। এমনকি ‘ভ্যালি’র মোট ৪৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তারা এবার মেরেকেটে প্রার্থী দিয়েছে মাত্র ১৯টিতে – আর শ্রীনগরের একটি আসন ছাড়া বিজেপি যে কোথাও সেভাবে লড়াইতেই নেই, সেটাও সবারই জানা।

এমন কী, মাসচারেক আগে ভারতে যখন সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, তখন কাশ্মীর উপত্যকার তিনটি আসনের কোনওটিতেই বিজেপি প্রার্থী পর্যন্ত দেয়নি। সোজা কথায়, নির্বাচনি হিসেবেনিকেশের অঙ্কে কাশ্মীর ভ্যালি তাদের জন্য একরকম ‘খরচের খাতা’তেই ধরা!

তাহলে বিজেপির সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এত ‘ঝুঁকি’ নিয়ে শ্রীনগরে ভোটের জন্য জনসভা করতে এলেন কেন? কী বার্তা দেওয়া তার লক্ষ্য ছিল?

এর উত্তর হল, কাশ্মীরে বিজেপি কোনও আসন না-ই পেতে পারে, কিন্তু লাগোয়া জম্মুতে সবচেয়ে বেশি আসন জিতে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় এককভাবে বৃহত্তম দল তারা হতেই পারে।

সে ক্ষেত্রে কাশ্মীর উপত্যকার আরও ছোটখাটো কিছু দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন নিয়ে তারা সরকার গড়ার চেষ্টা চালাবে – রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন থেকেই সে কথা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীও শ্রীনগরে এসে সম্ভবত সেটাই বুঝিয়ে গেলেন, যে কাশ্মীরে তাদের প্রভাব সীমিত হতে পারে, তবে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে বিজেপি খুবই সিরিয়াস!

নির্বাচনী ভূগোল

আসলে ‘ভারত শাসিত কাশ্মীর’ – যেটাকে ভারতে ‘জম্মু ও কাশ্মীর’ নামে অভিহিত করা হয় – সেটা মূলত দুটো অংশে বিভক্ত, হিন্দু-প্রধান জম্মু ও মুসলিম-প্রধান কাশ্মীর (যাকে ‘ভ্যালি’ নামেও ডাকা হয়)।

হিমালয়ের পীরপাঞ্জাল রেঞ্জ এই দুটো অঞ্চলকে মূলত পৃথক করেছে। পীরপাঞ্জালের উত্তরে ঝিলম অববাহিকার কাশ্মীর, আর দক্ষিণে চেনাব বা চন্দ্রভাগা নদী-স্নাত জম্মু – মোটামুটিভাবে এটাই হলো এই অঞ্চলের ভূগোল।

ওই রাজ্যের বিধানসভায় এই দুটো অঞ্চলেরই প্রতিনিধিত্ব থাকে, ফলে কাশ্মীরে সরকার কারা গড়বে সেটা স্থির হয় এই দুটো অঞ্চল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বিধায়ক কাদের – তার ভিত্তিতে। এর আগে বৌদ্ধ-অধ্যুষিত লাদাখও এই রাজ্যের অন্ত‍র্ভুক্ত ছিল, তবে বছর পাঁচেক হল লাদাখকে একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

এখন জম্মু অঞ্চলে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির প্রভাব আছে দীর্ঘকাল ধরেই, কিন্তু জম্মুর সব আসনে জিতলেও শুধু তার ভিত্তিতে পুরো রাজ্যর ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়।

আর যেমনটা আগেই বলছিলাম, ভ্যালিতে বিজেপি কোনো দিনই কোনও আসন জেতেনি।

কিন্তু গত কয়েক বছরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি এই অঞ্চলে এমন কিছু সাংবিধানিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে মনে করা হচ্ছে তাদের পক্ষে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ক্ষমতা দখল করা একেবারে অসম্ভব নয়!

যেমন সম্প্রতি বিতর্কিত ‘ডিলিমিটেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে পুরো রাজ্যের আসনগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যার ফলে জ্ম্মুতে আসন বেড়েছে ছয়টি, সে জায়গায় কাশ্মীরে আসন বেড়েছে মাত্র ১টি।

গত তিনবারের মতো এবারেও জম্মু ও কাশ্মীরের ভোটে কোনো দল বা জোটই এককগরিষ্ঠতা পাবে না (‘হাং অ্যাসেম্বলি’), এটা অনেক জরিপেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে জম্মুর বেশির ভাগ আসন জিতে ও কাশ্মীরের দু-একটি ছোটখাটো দলের সঙ্গে সমঝোতা করে বা দরকারে অন্য দল থেকে বিধায়ক ভাঙিয়ে এনে বিজেপি পুরো রাজ্যেই ক্ষমতায় আসতে চাইছে – এটা বিশ্লেষকরা অনেকেই ধারণা করছেন।

কিন্তু নির্বাচনি রাজনীতি আর পাটিগণিতের দিক থেকে সেটা কি আদৌ সম্ভব? এই প্রতিবেদনে এমনই কতগুলো ফ্যাক্টরের দিকে আলোকপাত করা হয়েছে, যা এই জটিল প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে সাহায্য করতে পারে!

ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বীকৃতি বাতিল করে যখন পুরো অঞ্চলটিকে পাঁচ বছর আগে পুনর্গঠিত করা হয়, তখন থেকেই সেখানকার লোকসভা (পার্লামেন্ট) ও বিধানসভা আসনগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।

জনসংখ্যা ও ডেমোগ্রাফির সর্বশেষ তথ্যর ভিত্তিতে নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করে দরকারে আসন সংখ্যা কমানোর বা বাড়ানোর এই পদ্ধতিকেই বলে ডিলিমিটিশেন – যা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বটে।

কিন্তু পুনর্গঠিত জম্মু ও কাশ্মীরে যেভাবে এই ডিলিমিটেশন পদ্ধতিটি রূপায়িত হয়েছে, তা প্রথম থেকেই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে।

২০২০ সালের মার্চে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করা হয়।

কিন্তু কাশ্মীরের একাধিক দল অভিযোগ করতে থাকে এই কমিশন শুধু বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই কাজ করছে!

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, এই কমিশন ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি’র পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে কাজ করছে।

প্রায় সুরে সুর মিলিয়ে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও মন্তব্য করেন, এই ডিলিমিটেশন কমিশন রাজ্যের মানুষকে ধর্মীয় ও আঞ্চলিক ভিত্তিতে বিভাজিত করে দিচ্ছে।

এমন কী বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদ গনি লোনও জানান, ডিলিমিটেশনের কাজ যেভাবে হচ্ছে তা ‘সন্দেহ উদ্রেক করতে বাধ্য’!

অবশেষে ২০২২ সালের মে মাসে যখন কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে, দেখা যায় হিন্দু-প্রধান কাশ্মীরে আসন সংখ্যা ৩৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩টি।

আর মুসলিম-প্রধান কাশ্মীরে আসন ৪৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭টি। ফলে জম্মুর আসন এক ধাক্কায় ৬টি বাড়লেও কাশ্মীরের আসন বাড়ে মাত্র ১টি।

সুতরাং (২০১১র আদমশুমারির ভিত্তিতে) রাজ্যের ৪৫ শতাংশ মানুষ যেখানে থাকেন, সেই জম্মুর ভাগে এখন পড়ছে প্রায় ৪৮ শতাংশ আসন – আর রাজ্যের ৫৫ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়েও কাশ্মীর পাচ্ছে ৫২ শতাংশের মতো আসন।

ফলে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া রাজ্যের প্রকৃত ডেমোগ্রাফির আনুপতিক প্রতিফলন নয়, কাশ্মীরের দলগুলো এই যুক্তিতে প্রতিবাদ জানালেও এখন এই নতুন নির্বাচনি বাস্তবতা মেনে নিয়েই কিন্তু তাদের ভোটে লড়তে হচ্ছে।

জম্মু ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেখা চৌধুরীর স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, জম্মুতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটা অবশ্যই বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হবে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, ‘জম্মুতে ২০০২ সাল থেকেই বিজেপির ভোটের হার ক্রমেই বেড়েছে। সেই ধারা অব্যাহত থাকলে এই ডিলিমিটেশন তাদের জন্য বাড়তি সুবিধে বয়ে আনবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই!’

জম্মু অঞ্চলেও কিন্তু ৫টি জেলা আছে, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই জেলাগুলো হলো ডোডা, পুঞ্চ, রাজৌরি, কিশতওয়ার ও রামবান।

জম্মুর এই ৫টি জেলাতে বিজেপি আগে তেমন সুবিধে করতে না পারলেও সম্প্রতি তাদের পারফরমেন্স গ্রাফ উন্নতি করেছে।

গত নির্বাচনে তারা এখানেও ছয়টি আসন জিতেছিল, এখন আছে নতুন তিনটি আসন, ফলে সব মিলিয়ে জম্মুতে বিজেপির মোট আসন বাড়তেই পারে, বলছিলেন রেখা চৌধুরী।

তপশিলি উপজাতির মর্যাদা ও আসন সংরক্ষণ

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য একটি ‘শিডিউলড ট্রাইব (এসটি) অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ পাস করে। এতে ওই অঞ্চলের নতুন কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীকে তপশিলি উপজাতির স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নতুন আইনে পাহাড়ি, পাদাডি, কোলি ও গাড্ডা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুরা এই বিশেষ সুবিধা পান, যারা মূলত জম্মু অঞ্চলেরই বাসিন্দা।

এর কিছুদিন পরেই প্রায় ১৬ লক্ষ পাহাড়ি জনজাতির সংগঠন ‘জম্মু ও কাশ্মীর পাহাড়ি কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফোরাম’ রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করে, তারা বারামুলা লোকসভা আসনে সাজ্জাদ গনি লোনকে সমর্থন করবে।

বারামুলার উরি ও কারনাহ্-র মতো এলাকায় পাহাড়িদের ভাল প্রভাব আছে, যে কারণে তাদের এই ঘোষণা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মি লোন এখন অনেক ইস্যুতেই বিজেপির বক্তব্যকে সমর্থন করেন, ভ্যালিতে তাকে মোদি সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা হয়।

ফলে তপশিলি উপজাতির স্বীকৃতি পাওয়ার পর পাহাড়িরা যে বিজেপির দিকে ঝুঁকছে, সেই আভাস ছিল পরিষ্কার।

জম্মু ও কাশ্মীরের নতুন বিধানসভায় ৯০টি আসনের মধ্যে ৯টিকেও তপশিলি উপজাতি বা এসটি-দের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে – ফলে বিগত ভোটগুলোর চেয়ে এবারের ভোটে তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে বলেও ধরে নেওয়া হচ্ছে।

তা ছাড়া নতুন একটি আইনে জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রের নিযুক্ত লেফটেন্যান্ট গভর্নরকেও বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ৯০ সদস্যের বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অতিরিক্ত সদস্যকেও মনোনীত করতে পারবেন, যাদের সভায় ভোটাধিকার পর্যন্ত থাকবে।

ফলে বিজেপি যদি ওই রাজ্যে একটি সংখ্যালঘু সরকারও গঠন করতে পারে, তাহলে লে: গভর্নর মনোজ সিনহার নিযুক্ত পাঁচজন মনোনীত সদস্য তাদের আস্থা ভোটে জিতিয়ে দিতে পারবেন – এমন সম্ভাবনাও থাকছে।

কাশ্মীরি গবেষক ও লেখক তৌসিফ আহমেদ এই পটভূমিতেই বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “আসলে এমনভাবে বিজেপি একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে কাশ্মীরে মুসলিম ইলেকটোরাল ইনফ্লুয়েন্স বা মুসলিমদের নির্বাচনি প্রভাবটা যতটা সম্ভব সঙ্কুচিত করে ফেলা যায়!

তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, এই যেমন ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যায় আসন সৃষ্টি করা হল যেখানে হিন্দু ভোট নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে – কিংবা লোকসভা নির্বাচনের দু’মাস আগে নতুন আইন করে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের নতুন নতুন ‘পকেট’ বানিয়ে নির্বাচনি ল্যান্ডস্কেপ বদলে দেওয়া হল – এগুলো আসলে সবই বিজেপির সেই বৃহত্তর গেমপ্ল্যানের অংশ।

ফলে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকার সুবাদে দেশের আইন বানানোর যে ক্ষমতা বিজেপির আছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে এখনকার কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে তারা ভোটে জেতার কোনও চেষ্টাই বাদ রাখছে না – এটাই শ্রীনগরে বহু পর্যবেক্ষকের অভিমত।

বিজেপির ‘মিশন কাশ্মীর’

যে রাজনৈতিক ফমু‍র্লার ভিত্তিতে বিজেপি এবার রাজ্যে সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখছে, সেটাকে অনেক পর্যবেক্ষকই বিজেপির ‘মিশন কাশ্মীর’ বলে বর্ণনা করছেন – আর তার অনেকগুলো পরতও আছে।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের অনন্তনাগ আসনে বিজেপির প্রার্থী ও দলের পুরনো নেতা রফিক ওয়ানি দিনকয়েক আগে দিল্লির একটি খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলার সময় চমকপ্রদ এক ‘স্বীকারোক্তি’ করেছিলেন।

ভ্যালিতে একটিও আসন না-পেলে বিজেপি কীভাবে রাজ্যে সরকার গড়বে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেই ফেলেন, ঘাবড়ানোর কিছু নেই – এখানেও অনেক লোকই আসলে ‘আমাদের’!

তারপর একে একে নাম ধরে ধরে তিনি বলতে থাকেন, যেমন ধরুন ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আমাদের, আলতাফ বুখারিও তাই, সাজ্জাদ লোন তো কবে থেকেই আমাদের, গুলাম নবি আজাদও আমাদেরই!

সোজা কথায়, বিজেপির আসন সংখ্যা কম পড়লে এই সব ছোটখাটো আঞ্চলিক দলের নেতারা বা বিভিন্ন আসনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই তাদের উতরে দেবেন – এটাই ছিল উপত্যকায় বিজেপির এই প্রবীণ নেতার দাবি।

প্রসঙ্গত, বারামুলার বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টির প্রধান। আলতাফ বুখারির দলের নাম আপনি পার্টি, এছাড়া গুলাম নবি আজাদ ও সাজ্জাদ লোন যথাক্রমে ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেস আজাদ পার্টি ও পিপলস কনফারেন্সের সর্বোচ্চ নেতা।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ তিহার জেলে আটক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ দিনকয়েক আগে যেভাবে জামিন পেয়েছেন এবং ভোটের প্রচারে নেমেছেন, তার পেছনেও অনেকে বিজেপিরই হাত দেখছেন।

আসলে জম্মু থেকে অন্তত গোটা তিরিশেক আসন জিতে বিধানসভায় একক গরিষ্ঠ দল হওয়া – এবং তারপর কাশ্মীরের ছোট আঞ্চলিক দলগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সহায়তায় সরকার গঠন – এটাকেই এই নির্বাচনে বিজেপির ‘ব্লু প্রিন্ট’ বলে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সেফোলজিস্ট অমিতাভ তিওয়ারি।

তবে কাশ্মীর ভ্যালিতে ছোটখাটো আঞ্চলিক দলগুলিকে সফল হতে হলে ও বেশ কয়েকটি আসন জিততে হলে উপত্যকার পুরনো বা প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে তুলনায় খারাপ ফল করতে হবে – বিজেপির সরকার গড়ার ফমু‍র্লা বা ‘মিশন কাশ্মীর’ সফল হওয়ার এটাও অন্যতম প্রধান শর্ত!

এই কারণেই শ্রীনগরে বা জম্মুর কাটরায় এসে প্রধানমন্ত্রী মোদিও লাগাতার ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন।

এদের সঙ্গে কংগ্রেসকেও জুড়ে নিয়ে তিনি বলছেন, এই তিনটে খানদান বা পরিবারই কাশ্মীরকে বছরের পর বছর ধরে লুটে চলেছে – কিন্তু এবার তাদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা আসার পালা!

প্রসঙ্গত, দশ বছর আগে বিজেপি যখন প্রথমবারের মতো জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের শরিক হয়েছিল, তারা কিন্তু ক্ষমতায় এসেছিল মুফতি পরিবারের নেতৃত্বাধীন পিডিপি-র হাত ধরেই।

তবে সেই সরকারে তারা ছিল ছোট শরিক বা জুনিয়র পার্টনার, পেয়েছিল উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ। কিন্তু এবারে তারা চাইছে ‘সিনিয়র পার্টনার’ হিসেবে ক্ষমতায় যেতে।

ভারতে এই মুহুর্তে মোট ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আছে, যার মধ্যে ক্ষুদ্র লাক্ষাদ্বীপ ছাড়া একমাত্র মুসলিম-প্রধান অঞ্চল হল জম্মু ও কাশ্মীর।

আগামী মাসে সত্যিই যদি কোনও বিজেপি নেতা শ্রীনগরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তবে তা হবে মুসলিম-প্রধান কাশ্মীরের জন্য সত্যিই এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

কিন্তু বিজেপির জন্য সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর রাস্তা যাবে হিন্দুপ্রধান জম্মুর ভেতরে দিয়েই! বিবিসি বাংলা

শ্রীনগরের লালচকে কৃষ্ণের জন্মদিন উদযাপন করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ছবি : বিবিসি
শ্রীনগরের লালচকে কৃষ্ণের জন্মদিন উদযাপন করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ছবি : বিবিসি



কাল যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা: ইউনূস-বাইডেন বৈঠক হচ্ছে by মিজানুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অত্যাসন্ন অধিবেশনে যোগ দিতে কাল নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতন ও পলায়নের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি-বিপ্লবের অপচেষ্টা রোধসহ অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে আপদকালীন সরকার। সেই সময়ে প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ অধিবেশন তথা বিশ্ব নেতাদের মিলনমেলায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও দফায় দফায় শিডিউল পরিবর্তন করার কারণে সফরটি হচ্ছে কি-না? তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু না, দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র মানবজমিনকে এটা নিশ্চিত করেছে যে, একটি ছোট্ট ডেলিগেশন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতে নিউ ইয়র্ক পৌঁছাচ্ছেন। ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। এজন্য পূর্ব প্রস্তাবিত ২৪শে সেপ্টেম্বরের বদলে ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্ক পৌঁছাবেন। তার সফরসঙ্গী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ এরই মধ্যে নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইট ধরেছেন। ঢাকা ছাড়ার আগে মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের একটি সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াশিংটনের তরফে একটি শিডিউল বা স্লট প্রস্তাব করা হয়েছে। শেষ সময়ে বৈঠকে এটি এসেছে জানিয়ে অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, শীর্ষ বৈঠকটি এখনো প্রস্তাবিত। কারণ নির্ধারিত সময়ে দু’জনের নিউ ইয়র্কে উপস্থিতিসহ অন্যান্য অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। তবে যেকোনো ফর্মে বৈঠকটি হওয়ার বিষয়ে ঢাকা আশাবাদী। এদিকে নিউ ইয়র্কে পোস্টেড বাংলাদেশের এক কূটনীতিক বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের কারণেই প্রধান উপদেষ্টার সফর একদিন এগিয়ে এসেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, কেবলমাত্র টাইমিংয়ের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দেখা হচ্ছে না। যদিও বৈঠকটির বিষয়ে উভয়ের আগ্রহ ছিল। কিন্তু না, প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী পূর্ব নির্ধারিত একটি কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাবেন। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের মধ্যকার বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

ওদিকে শনিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এতে যোগ দিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। ২৭শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। জুলাই-আগস্ট মাসে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে সফর সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। বলেন, ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সফরসঙ্গীরা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সামপ্রতিক বছরগুলোর মতো এবার বাংলাদেশ থেকে শতাধিক সদস্যের প্রতিনিধিদল চার্টার্ড বিমানে নিউ ইয়র্ক সফর করবেন না। বরং যার যেই সংশ্লিষ্টতা বা দায়িত্ব, সে অনুযায়ী যতটা সম্ভব সীমিত আকারে প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা টিম, মিডিয়া প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং পররাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অপরিহার্য কর্মকর্তা মিলে ডেলিগেশন হবে মোট ৫৭ সদস্যের। তিনি বলেন, আমি আমার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চ-পর্যায়ের সভাসমূহে অংশগ্রহণের জন্য ভিন্ন ভাবে দুই দিন আগে যাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টা তিন দিন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করে ২৭শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার অগ্রগতির জন্য একযোগে কাজ করা।’ এই প্রতিপাদ্যের ওপর এবারের অধিবেশন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী আস্থার সংকট, বহুপক্ষীয়তা ও আলোচনার পথ উপেক্ষা করার ফলে সৃষ্ট সংকট থেকে সংঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির পাশাপাশি উদ্ভূত নানারকম বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপের অনুপস্থিতি ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত অর্থবহ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবছরই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের সংবর্ধনার আয়োজন করছে।
এ সংবর্ধনায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের পাশাপাশি জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, কিছু সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান, বিভিন্ন সংস্থা প্রধান অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। তৌহিদ হোসেন বলেন, এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, প্রধান উপদেষ্টার পরিচিতি এবং সুনাম বিশ্বব্যাপী। এ কারণে অনেকগুলো বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা তার সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সভায় অংশগ্রহণের জন্যও অনুরোধ এসেছে। যেহেতু তিনি মাত্র তিন দিন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন, সেহেতু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই স্বল্প সময়েরর মধ্যে সবার অনুরোধ রক্ষা করা বেশ কঠিন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিগত দুই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অভাবনীয় গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ ও আগামী দিনে জনভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিকূলতা, উন্নয়নশীল দেশসমূহ থেকে সম্পদ পাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের মৌলিক পরিষেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তির টেকসই হস্তান্তর এবং ফিলিস্তিন সম্পর্কিত বিষয়সমূহ তার বক্তব্যে উঠে আসতে পারে। পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার সম্পর্কিত হাইকমিশনার, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএসএইড’র প্রশাসকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। মিস্টার হোসেন বলেন, এ রকম সময়ে অনেক বৈঠকের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তেও হয়ে যায়। সে বিবেচনায় নতুন বৈঠক তালিকায় যোগ হতে পারে; আবার সময়ের অভাবে কোনো বৈঠক বাদও যেতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ইতালির প্রেসিডেন্ট এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের আলোচনা চলছে। এছাড়াও, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে আমিও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবো। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো- সামিট অব দ্য ফিউচার। এটি আগামী ২২-২৩শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য সামিট অব দ্য ফিউচার-এ বিশ্ব নেতারা প্যাক্ট অব দ্য ফিউচার শীর্ষক একটি ভবিষ্যৎমুখী ঘোষণাপত্র গ্রহণ করবেন। এই প্যাক্ট অব দ্য ফিউচারের সংযুক্তি হিসেবে ডিক্লারেশন অন দ্য ফিউচার জেনারেশনস এবং গ্লোবাল ডিজিটাল কম্প্যাক্ট শীর্ষক আরও দু’টি ঘোষণাপত্র গৃহীত হবে বলে আমরা আশাবাদী। উল্লেখ্য, এই তিনটি ডকুমেন্টের চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় ঢাকায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। উপদেষ্টা বলেন, এছাড়া আমি আরও যেসব সভায় অংশগ্রহণ করবো বলে আশা করছি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মন্ত্রীপর্যায়ের সভা, কমনওয়েলথ রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভা, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সভা, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বার্ষিক মন্ত্রীপর্যায়ের সভা এবং এশিয়া সহযোগিতা সংলাপের মন্ত্রী পর্যায়ের সভা ইত্যাদি। এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চ-পর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্ট আয়োজন করছি। তিনি বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কাজ শুরু করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের অধিবেশন নতুন বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘে বা বিশ্ব সভায় নতুন পদচারণা। বিশ্ব দরবারে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশকে উপস্থাপনের জন্য এবারের অধিবেশনে আমাদের কাছে একটি বিরাট সুযোগ। জাতিসংঘের অগ্রাধিকার ইস্যুগুলো প্রত্যেকটি বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর উপর যেসব ইভেন্ট আছে, বাংলাদেশ তার সবক’টিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে মনে করে। সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কে দেখা হচ্ছে না ড. ইউনূস-মোদির, তবে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক হবে: ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখা হচ্ছে না বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দেখা-সাক্ষাৎ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উনাদের দু’জনের নিউ ইয়র্কে উপস্থিতি একসঙ্গে হচ্ছে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক ছাড়ার পরপর প্রধান উপদেষ্টা পৌঁছাবেন। কাজেই তাদের সেখানে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে যে একধরনের টানাপোড়েন চলছে, এটা স্বীকার করতেই হবে। সমস্যার সমাধান করতে হলে সমস্যার অস্তিত্ব অস্বীকার করলে চলবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা অবশ্যই টানাপোড়েন দূর করার চেষ্টা করবো এবং ওয়ার্কিং রিলেশন (কাজের সম্পর্ক) যেন হয়। তবে সম্পর্কটা হতে হবে মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে। এর ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া সম্ভব এবং আমরা সেই চেষ্টাই করবো।

mzamin

এই অস্থিরতার শেষ কোথায়?

ক্যাম্পাস থেকে পাহাড়। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা সর্বত্র। এটা অবশ্য চলছে দেড় মাস ধরেই। একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। সর্বশেষ সংযোজন পাহাড়। সেখানকার অশান্তির পেছনে বাইরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ এর আগে পোশাকখাতে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে হামলায় বহিরাগতদের যোগ দেয়ার বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। তবে একদল পোশাক কারখানা মালিকের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কিছু কারখানায় বেতন বকেয়া রাখা হয়েছিল, হচ্ছে। এর আগে সচিবালয়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল আনসার সদস্যরা। পরে সেখানে ছাত্রদের যেতে হয়। পুলিশ এখনো পুরোদমে কাজ করছে না। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পুলিশের পুরোদমে কাজ শুরু করতে আরও সময় লাগবে। নানা দিক বিবেচনায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনেও একধরনের স্থবিরতা রয়েছে।

এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের বিষয়টি। এরইমধ্যে সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যদিও গতকাল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এসেছে। পাহাড় বরাবরই স্পর্শকাতর স্থান। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকটও দীর্ঘ দিনের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের বক্তব্যের পর সে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে। শনিবার রাঙ্গামাটিতে রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক দলের নেতাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ি-বাঙালিদের ঘটনাগুলোতে দেশের বাইরের শক্তি ও পতিত স্বৈরাচারের ইন্ধন রয়েছে। আমরা সমপ্রীতি চাই। কিন্তু জানি না কোথায় ছন্দপতন হচ্ছে। ছন্দপতনের বিষয়ে সবাই একটি বাক্য উচ্চারণ করেছে; সেটি হলো ষড়যন্ত্র। বাইরে থেকে একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আমাদের এই সমপ্রীতি নষ্ট করার জন্য। এর পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরইমধ্যে সরকার এবং প্রশাসন কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম এসেছে। শেখ হাসিনার পতনের দেড় মাস পরও ক্যাম্পাসগুলো এখনো পুরোমাত্রায় সচল হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসগুলো কী প্রক্রিয়ায় চলবে- তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখনো অবশ্য প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে সর্বত্রই একধরনের অস্থিরতা রয়েছে। যেকোনো বড় গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর এটা নজিরবিহীন নয়। আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার দেড় দশকের বেশি সময় টানা ক্ষমতায় ছিল। দলটির এক শ্রেণির নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অভিনব পরিস্থিতিতে আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের অর্থ তাদের কাছেই রয়েছে। সে অর্থ দিয়ে তারা নানা রকম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। শাসনামলের পুরোটা সময়ই আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের আন্দোলন দমন করে। জুলাই আন্দোলনেও পুলিশ চরম শক্তির ব্যবহার করে। এক হাজারের বেশি আন্দোলনকারী এসময় নিহত হন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে। নিহতদের তালিকা অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশের ওপর মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়। ৫ই আগস্ট থানায় থানায় হামলা হয়। এরপর একযোগে সব পুলিশ সদস্য থানা ছেড়ে চলে যান। পৃথিবীর ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। গেল দেড় মাসে পুলিশে নানা রদবদল হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশকে পুরোদমে কার্যকর করা যায়নি। এ সুযোগও কেউ কেউ নেয়ার চেষ্টা করছেন।  প্রশাসনসহ সর্বত্র কয়েকটি স্তরে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা রয়েছেন। যে কারণে রদবদল করেও খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। একজন উপদেষ্টা প্রশ্ন তুলেছেন, শুধু সংস্কার করলেই কি হবে? সংস্কার কার্যকর করবেন কারা? এ ছাড়া, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রদবদলের গতিও মন্থর। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ‘দলীয় অনুগত খতিব’কে এত দিনেও পরিবর্তন না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত শুক্রবার সেখানে যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত হয় তার জন্য এই ধীরে চলা নীতিকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।
এরইমধ্যে জুলাই হত্যার বিচার ট্রাইব্যুনালে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠন করা হয়েছে তদন্ত সংস্থা। তবে এ বিচার শুরু হলে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জেই পড়তে হবে। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সেখানে বেশ কিছু মতামতের আভাস পাওয়া যায়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান রয়েছে। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অক্টোবরে খোলাসা হতে পারে বলে একটি সূত্র আভাস দিয়েছে।
বাংলাদেশ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিও সক্রিয় রয়েছে। দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দুনিয়া সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার প্রতি ভারতের নিরঙ্কুশ সমর্থনের বিষয়টি সবারই জানা। এটিও বাংলাদেশের আগামী দিনের যেকোনো হিসাবে থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। তবে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

mzamin

ঢাবিতে প্রকাশ্যে ছাত্রশিবির,ক্যাম্পাস জুড়ে আলোচনা-কৌতূহল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর প্রকাশ্যে এসেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।জামায়াত ইসলামের আলোচিত এই ছাত্র সংগঠনের প্রকাশ্যে আসার ঘোষণার পরে ক্যাম্পাস জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। সদ্য ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌতূহল।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে সাদিক কায়েম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এই শিবির নেতার বাড়ি চটগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলায়। পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন হিল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ।

আজ বিকেল তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক লিখেন,ফ্যাসিস্ট শোষণ শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, রাজনীতির সংজ্ঞাই পালটে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদে কোনো রাজনীতি থাকে না। বিরাজনীতি ফ্যাসিবাদের ভাষা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারে অবশ্যই চব্বিশের শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, তা না হলে ভেস্তে যাবে আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতির সংস্কার গবেষণা, পলিসি ডায়ালগের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবায়িত হোক।নতুন গণতান্ত্রিক দেশে কেউ যাতে ফের স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেদিকেও সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান এই শিবির নেতা।

তার এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যম গুলোতে ভাইরাল হয়ে যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।শেয়ার হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার বার।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানে জামায়েত ইসলামী ও ছাত্রশিবিরে ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক  আলোচনা ছিল সবমহলে।আওয়ামী লীগের শুরু থেকে বরাবরই দাবি করে আসছিল এ আন্দোলনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে জামায়াত-শিবির। যদিও ছাত্রসংগঠনটি পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের এ দাবির বিরোধিতা বা সমর্থন করে কিছু বলা হয়নি

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি দাবী করা সাদিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক। সাম্প্রতিক সময়ে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে  শিবিরের এই শীর্ষ নেতাকে বেশ সরব দেখা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।২০১১-১২ শিবিরের কোন ধরনের প্রকাশ্য কার্যক্রম ক্যাম্পাসে ছিল না বলে জানান সে সময় থেকে ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির প্রকাশ্যে আসা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা মন্তব্য করছেন।ক্যাম্পাসে সাদিক কাইয়ুম পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এতদিন বিষয়টি কিভাবে লুকিয়ে রেখেছেন তা নিয়েও অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন হল ও অনুষদে কারা সংগঠনটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তা নিয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পরে ছাত্রশিবিরের নতুন এই আত্মপ্রকাশ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

শিবিরের প্রকাশে আসা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অন্যান্য ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদল কেন্দ্রীয়ভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গোপন রাজনীতি বাদ দিয়ে শিবিরের প্রকাশে আসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।তারা প্রত্যাশা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ইউনিট ও হলের সব শিবির নেতাকর্মী প্রকাশ্যে এসে আগামীতে ছাত্ররাজনীতি করবেন।

mzamin

বিগত সময়ে বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হয়েছে

বিগত সময় বিচার বিভাগের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গতকাল সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে দেয়া অভিভাষণে এ মন্তব্য করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে সারা দেশের প্রায় দুই হাজার বিচারকের উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের মূল্যবোধকে বিনষ্ট ও বিকৃত করা হয়েছে। শঠতা, বঞ্চনা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হচ্ছে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস। তাই নতুন এ বাংলাদেশে আমরা এমন একটি বিচার বিভাগ গড়তে চাই যেটি বিচার এবং সততা ও অধিকারবোধের নিশ্চয়তার একটি নিরাপদ দুর্গে পরিণত হবে। দেশের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিগত সময় বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচার বিভাগের দুর্নাম করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য পৃথক সচিবালয়ের কথা জানান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। তাই এই স্বাধীনতা নিশ্চিতে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করা হবে। যা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পরিচালিত হবে। বিচারকদের পদায়নের জন্য পৃথক নীতিমালা করা হবে। আলাদা সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র বাজেট দেয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ ক অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকরা বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবে না; যতদিন না বিচার বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রথম ধাপ।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধু বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে সংবিধানের ৯৫ (২) অনুচ্ছেদে যে বিধান রয়েছে কেবল সেটুকু নিশ্চিত করে বিচারক নিয়োগের ফলে সুপ্রিম কোর্টে এক অভূতপূর্ব অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে পালন করেছে। এটি ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছি। জেলা জজ ও বিচারকদের দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হলে এটি তার সার্ভিসে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ বিচার বিভাগে কারও ব্যক্তির দুর্নীতি পুরো বিচার বিভাগের দুর্নাম হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন শাখায় দুর্নীতি-অনিয়ম ছেয়ে গেছে। এটি এখন আর বরদাশ্‌ত করা হবে না।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪২ লাখ মামলা বিচার নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমাণ আছে। মামলাজট নিয়ে সুধীমহলে অনেক ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু এটি মুদ্রার একটি পিঠ। মুদ্রার অন্য পিঠটা কখনো খুব বেশি আলোচনায় আসে না। মুদ্রার অন্য পিঠে আছে স্বল্প সংখ্যক লোকবল, এজলাস সংকট তথা অবকাঠামোগত অসুবিধাসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা। কিন্তু এর মধ্যেও মাত্র ২০০০ বিচারক কর্তৃক এক বছরে গড়ে ১০ লাখের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। এ সংখ্যা প্রমাণ করে মামলাজটের কারণ বিচার বিভাগ বা বিচারকরা নন। বরং মামলা জটের অন্যতম কারণ হচ্ছে মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যার অপ্রতুলতা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।  বিচারকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন ও নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, চার বিভাগ সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ও অধস্তন আদালতের বিচারকরা।

mzamin

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল: বাইরে ফিটফাট ভেতরে ‘সদরঘাট’

বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট- এমনি এক প্রবাদের সঙ্গে মিল রয়েছে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের। গত ২০২২ সালে ভবনটির উদ্বোধন হলেও এর ভেতরের বহু যন্ত্রপাতি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে স্থাপন করা যায়নি। ফলে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না নাটোরবাসী।

আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল কাঠামো ৫০ শয্যারও নেই। এতে যেসব প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশই বিকল হয়ে পড়ে আছে অথবা এটি চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। এ কারণে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনি হয়রানির শিকার হতে হয় রোগীর আত্মীয়স্বজনদের।

সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনে শয্যা স্থাপন করলেও পুরোনো এবং নতুন ভবনে রোগীর এত বেশি চাপ থাকে যে, অনেক মুমূর্ষু রোগীকেও মেঝেতে পড়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ রোগী। এত বিপুলসংখ্যক রোগী একসঙ্গে হাসপাতালে থাকায় স্যানিটেশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো হাসপাতাল নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। এমন অবস্থাতেও দেখার কেউ নেই।

হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় রয়েছে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক। হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার এবং কর্মচারীরা এসব ডায়াগনস্টিক এবং ক্লিনিকের মালিকানায় অংশীদার। ফলে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যও চরমে দেখা যায়।

নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়নের এক রোগীর অভিভাবক জানান, চিকিৎসক পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তার রুম থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দালালরা সেই পরামর্শপত্র নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।

সাংস্কৃতিক কর্মী রফিকুল ইসলাম নান্টু জানান, নাটোর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্তদের কোনো চিকিৎসা হয় না। কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর ভাব দেখেই চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে থাকেন। এর ফলে অনেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়েও রাজশাহী যাওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেন। এটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও এটি ব্যবহারের খরচের অর্থ না থাকায় সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে অনেক দিন ধরে। ফলে অপারেশন থিয়েটার চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে টর্চের আলোতে অপারেশন চালাতে হয় চিকিৎসকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক কালবেলাকে জানান, জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি ১৫ বছর ধরে। হাসপাতালে কী কী অভাব রয়েছে, কী করা দরকার এ-সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে চিকিৎসকদের, সেবা গ্রহীতাদের এবং নাগরিকদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি।

সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোরের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক রমেন রায় কালবেলাকে জানান, এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা নাগরিকরা তুলে ধরতে পারতেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় এ ধরনের সভা আহ্বান করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা



অপরাধী সন্দেহে কাউকে শাস্তি দেওয়া অপরাধ : শায়খ আহমাদুল্লাহ

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ জানিয়েছেন, অপরাধী সন্দেহে কাউকে শাস্তি দেওয়া অপরাধ, এটা আমরা সবাই জানি। তবে ইসলাম এর চেয়েও একধাপ এগিয়ে। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা জানিয়েছেন।

তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ইসলাম আমাদেরকে যে জীবনবিধান দিয়েছে, সেখানে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে নিজে নিজে শাস্তি দেওয়া তো দূরে থাক, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ব্যতীত কারো ব্যাপারে সন্দেহ করাই অপরাধ। এই পৃথিবীতে সন্দেহ থেকে বহু অন্যায়ের জন্ম হয়। গণপিটুনি, দাঙ্গা, মারামারি, পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের মতো অনেক অপরাধের মূলে থাকে সন্দেহ।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কিন্তু সন্দেহের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়ার বিধান পৃথিবীর কোনো আদালতের নেই। অথচ ইসলাম চৌদ্দশ বছর আগে সন্দেহকে অন্যায় সাব্যস্ত করে সন্দেহ থেকে সৃষ্ট সকল অন্যায়ের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক; কারণ অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ। (সূরা হুজরাত আয়াত ১২)

আরও উল্লেখ করা হয়, পুরুষের মনোজগতে কোনো নারী ধর্ষিত হলে সেটাকে অপরাধ বলার ক্ষমতা কোনো আদালতের নেই। কারণ সেটা সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। অথচ একজন নারীর জন্য এর চেয়ে বেদনার, লাঞ্ছনার, গ্লানির কোনো বিষয় আছে বলে মনে হয় না। তারপরও কোন সমাজে সেটা অপরাধ নয়।

ওই পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কিন্তু ইসলাম এটাকে ভয়ংকর অপরাধ বলেছে। ইসলামে শারীরিক ধর্ষণ যেমন অপরাধ, কল্পনার জগতে ধর্ষণও অপরাধ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়রে মাহরাম নারীর প্রতি চোখের কুদৃষ্টি এবং মনের মন্দ কল্পনাকে ব্যভিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (বুখারী-মুসলিম)

আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ সমাজ একজন নারীর শুধু শারীরিক নিরাপত্তার কথা বললেও ইসলাম তার মনোজগতে ধর্ষণ থেকে নিরাপত্তার কথাও বলে।

আরও তিনি উল্লেখ করেন, এখানেই আল্লাহর আইন আর মানবসৃষ্ট আইনের মৌলিক পার্থক্য। এটাই ইসলামী শরিয়াহর সৌন্দর্য। মানব সৃষ্ট আইনে মানুষের যেসব অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেনি, ইসলামে সেসবও সংরক্ষণের করেছে। এ থেকে বুঝা যায়, আপনি আপডেটেড হতে পারেন তবে ইসলামের চেয়ে বেশি নয়।

সুতরাং দিনশেষে আল্লাহর দেওয়া শরিয়াতেই রয়েছে মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণ। বিষয়টি আমরা যত দ্রুত উপলব্ধি করতে পারব ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘে যাওয়ার আগে হুঙ্কার দিলেন এরদোয়ান

মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বিশ্বের যেখানেই মুসলিম উম্মাহর কেউ নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়, তাদের হয়ে কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে আরও একবার মুসলিম উম্মাহ জন্য জোরালোভাবে আওয়াজ তুললেন এরদোয়ান।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি ইস্যু হচ্ছে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের মালিক ফিলিস্তিনিরাই এখন রাষ্ট্রহীন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের ব্যাপারে নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এরদোয়ান। তিনি বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের হয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

এরদোয়ানের ভাষায়, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের এই লড়াইয়ে তুরস্ক তাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার দিয়ে এই ইস্যু সমাধান করতে হবে। আর এই অঞ্চলে যেন ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আসে তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রায় এক বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধ এখনও থামবার কোনো নাম-গন্ধ নেই। এমন প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন এরদোয়ান। পাশাপাশি গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সংকট নিরসনেও চাপ প্রয়োগ করবেন তিনি। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যত ব্যর্থ অভিযান

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক, নিষ্ঠুর ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বলা হয় ইসরায়েলের মোসাদকে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মোসাদ বিভিন্ন দেশে গিয়ে গুপ্তহত্যার মতো লোমহর্ষক অপারেশনও করে থাকে নিয়মিত। এমনকি চিঠির মাধ্যমে বোমা পাঠিয়ে হত্যা করার কৌশল প্রথম আবিষ্কার করে। এছাড়াও ইরাকের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহসিকতাও রয়েছে মোসাদের।

মোসাদকে অনেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ফুসফুসও বলে থাকে। দেশের ভরসা ও শত্রুদের সাক্ষাৎ যমদূত মানেন কেউ কেউ। সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বাঁচানোর জন্য ইসরায়েল যেভাবে আয়রন ডোম ব্যবহার করে, তেমনি মোসাদ ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষায় ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

মোসাদের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন মনে করতেন গোয়েন্দাবৃত্তি ইসরায়েলের প্রথম ডিফেন্স লাইন। টার্গেট দেশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাস দমন ও অপারেশনের পর এগুলো গোপন রাখা হচ্ছে মোসাদের প্রধান কাজ। এটি ইসরায়েলের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের কাজের রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হয়। এর নীতিমালা ও কার্যক্রম অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, যুক্তরাজ্যের এমআই সিক্স ও কানাডার সিএসআইএসের অনুরূপ।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে অপহরণ, হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মোসাদকে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ মানা হয়। মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড মোসাদকে গোয়েন্দাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ মান দিয়েছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ঝুলিতে অসংখ্য সফল অভিযান যেমন আছে, তেমনই তাদের ব্যর্থতারও নজির রয়েছে। তারই কয়েকটা উল্লেখ করা হলো-

খালেদ মেশালকে হত্যাচেষ্টা

হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালকে হত্যাচেষ্টা মোসাদের অন্যতম ব্যর্থ অভিযান। এ অভিযান একটা বড় কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছিল। জর্ডানে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খালেদ মেশালকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তাকে হত্যাচেষ্টার সময় ইসরায়েলি এজেন্টরা ধরে পড়ে যান। পরে ইসরায়েলকে এ বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের জন্য বাধ্য করা হয়। মোসাদের তৎকালীন প্রধান ড্যানি ইয়াটম হামাসের এ নেতার চিকিৎসার জন্য জর্ডানে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জর্ডান ও ইসরায়েলের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা গিয়েছিল।

হামাস নেতা মাহমুদ আল-জাহার

হামাস নেতা মাহমুদ আল-জাহারের বাড়িকে নিশানা করে ২০০৩ সালে গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির এ হামলা থেকে তিনি বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী ও ছেলেসহ কয়েকজন নিহত হন। ইসরায়েলের এ হামলায় তার বাসভবন পুরো ধ্বংস হয়ে যায়।

ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধ

মিসর এবং সিরিয়া সিনাই উপদ্বীপ এবং গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়। দেশটিতে এ হামলার জন্য ইহুদিদের প্রায়শ্চিত্তের দিন ইয়োম কিপ্পুরেকে বেছে নেওয়া হয়। ফলে যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ইসরায়েল প্রস্তুত ছিল না।

ইসরায়েলকে এ যুদ্ধে মিসর ও সিরিয়া দুই ফ্রন্টে হামলা চালায়। মিসরীয় বাহিনী সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। প্রত্যাশিত হতাহতের মাত্র একটা অংশই তাদের আক্রমণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে সিরিয়ার বাহিনী ইসরায়েলি অবস্থানে আক্রমণ করে এবং গোলান মালভূমিতে প্রবেশ করে।

এ যুদ্ধে রাশিয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছিল। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জোগান দিয়েছিল। জাতিসংঘের তরফে প্রস্তাব দেওয়ার চার দিন পর যুদ্ধ শেষ হয়েছিল।

৭ অক্টোবরের হামলা

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। যোদ্ধাদের এ হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। তবে তাদের এ হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস দিতে পারেনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। 

মোসাদের লোগোর ওপর গ্রাফিক্স। ছবি : সংগৃহীত
মোসাদের লোগোর ওপর গ্রাফিক্স। ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করা হলে হাত ভেঙে দেয়া হবে

পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যারা করবে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির চেষ্টাকারীদের হাত ভেঙে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম। রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়নে রাঙ্গামাটির স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক দলের নেতাগণসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর সংঘটিত করার পেছনে কারা জড়িত সেটা বের করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আইনশৃঙ্খলার কোনো অবস্থায় অবনতি করা যাবে না। আমরা কোনো অবস্থায় সন্ত্রাসীদের ছাড় দিবো না। পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর আগে বেলা সোয়া ১২টায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিপি, দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়নের প্রান্তিক মিলনায়তনে উপস্থিত হন। সাড়ে ১২টার সময় সেখানে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রধানগণ, বিএনপি-জামায়াত ও জেএসএসর নেতৃবৃন্দ, চাকমা সার্কেল চিফসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিগণ, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাঙ্গামাটিতে শুক্রবার সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরবর্তীতে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মতবিনিময় সভায় জেএসএস’র পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক ঘটনাটির সঙ্গে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর কোনো সম্পর্ক ছিল না। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় জানান, পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া অপশক্তি এবং পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ রাঙ্গামাটিতে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়।

রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি পরিস্থিতি শান্ত

পার্বত্য দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সংঘাতের পর গতকালের পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত ছিল। নতুন করে সংঘাত না হলেও পরিবহন ধর্মঘট ও অবরোধে স্থবির ছিল পাহাড়ের জনজীবন। চলাচল করেনি স্বল্প ও  দূরপাল্লার কোনো যান। ছাড়েনি পণ্যবাহী কোনো গাড়িও। থমথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-আঞ্চলিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিন উপদেষ্টা। পাহাড়ে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম। পাহাড়ে অশান্তির পেছনে বাইরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ। এদিকে শুক্রবার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ওদিকে, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ঘটনায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ এনে শনিবার সকাল থেকে পুরো পার্বত্যাঞ্চলে ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইউপিডিএফ’র নেতৃত্বাধীন পাহাড়িদের একাংশ। অপরদিকে নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর ও চালকদের কুপিয়ে রক্তাক্ত করাসহ ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটি থেকে সবধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রেখেছে রাঙ্গামাটির মোটরমালিক সমিতির নেতৃত্বাধীন অন্যান্য পরিবহন সংগঠনগুলো।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে সামপ্রদায়িক ঘটনা ঘটিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি, তারপর প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি, পাহাড়ি চুক্তিবিরোধী সংগঠনের ৭২ ঘণ্টার অবরোধ, শহরের একমাত্র যানবাহন অটোরিকশাসহ সকল প্রকার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধের ফলে রাঙ্গামাটির জনজীবন দুর্বিষহ উঠে উঠেছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যেই রাঙ্গামাটিবাসী পার করছেন প্রতিটি মুহূর্ত। পরিস্থিতির উত্তরণে অত্রাঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে সৃষ্ট আস্থার সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরে রাঙ্গামাটিতে সরজমিন পরিদর্শনে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম তিন উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়নের প্রান্তিক হলে রাঙ্গামাটির রাজনৈতিক দলগুলোসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও সকল পর্যায়ের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পাহাড়ে সামপ্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে এমনটি ঘটনার আরও অন্তত ৯দিন আগেই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়। সিআইয়ের ওয়েব সাইটে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয় গত ১১ই সেপ্টেম্বর। এরপর ১২ই সেপ্টেম্বর ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়- সারা দেশের পরিস্থিতির উন্নতির কথা জানিয়ে সেই বিজ্ঞপ্তির শেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তার নাগরিকদের অত্রাঞ্চল এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দেয়।
এই ঘটনার ৯ দিন পর খাগড়াছড়িতে মামুন নামের এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করে সেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সামপ্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটানো হয়। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৫ হাজার পাহাড়ি যুবক এনে বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাঙ্গামাটি শহরে শুক্রবার সকালে অতর্কিতভাবে মিছিল বের করে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপায় মসজিদে হামলা করে পেট্রোল পাম্পসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাঙালিরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে ইউপিডিএফ-এন নেতৃত্বাধীন বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে উভয়পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বাঙালিদের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ মসজিদে হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে কাঁঠালতলীর একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও সংঘর্ষের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বেশ কয়েকটি গাড়িসহ রাঙ্গামাটি শহরের হ্যাপীর মোড়, বনরূপা এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতেই রাঙ্গামাটিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পুরো রাঙ্গামাটিতেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থবির খাগড়াছড়ি: এদিকে পাহাড়ি-বাঙালি সামপ্রদায়িক সংঘাতে স্থবির হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি। বৃহস্পতিবার দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সদরে সংঘর্ষ ও  গোলাগুলির ঘটনায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক সড়কের সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে যায়নি ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী কোনো যানবাহন। বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে কাঁচামাল বহনকারী গাড়ি। খাগড়াছড়ি বাজারে দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতাশূন্য দিন কাটছে ব্যবসায়ীদের। এখনো পাহাড়ি-বাঙালিদের মনে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানি ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এবং এসব ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবিতে শুক্রবার খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতা’ নামে একটি সংগঠন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে চলছে সড়ক অবরোধ। সরজমিন দেখা গেছে, বাজারের বিভিন্ন রাস্তার মুখে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া শহরের শাপলা চত্বর, চেঙ্গী স্কয়ার, স্বনির্ভর, জিরো মাইল এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এদিকে পাহাড়ে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি পুনরুদ্ধারে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকাল সোয়া ৪টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ের উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, চট্টগ্রাম ২৪ ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মাইনুর রহমান, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মো. আমান হাসান, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন উপজাতি সমপ্রদায়ের লোকজন মতামত প্রদান করেন। 

mzamin

দুই বছরের মধ্যে বিলীন হবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব : ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে ইহুদিপন্থি সংগঠন ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল’র ন্যাশনাল সামিটে তিনি এ কথা বলেন। খবর সিএনএনের।

সম্মেলনে ইহুদি ভোটারদের সমর্থন না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এই নির্বাচনে যদি আমি জয়ী না হই, তবে সত্যিই এটি ইহুদি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলবে। কেননা, যদি ৪০-৬০ শতাংশ মানুষ (আমেরিকান ইহুদিদের) শত্রুকে ভোট দেয়, তবে আমার মতে, দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

আমেরিকান ইহুদিদের মধ্যে তিনি হ্যারিসকে সমর্থন করার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার জন্য মার্কিন ইহুদিরা আংশিকভাবে দায়ী থাকবেন।

প্রসঙ্গত, পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে কমলার পক্ষে আমেরিকান-ইহুদিদের সমর্থন বেশি। ওই জরিপ মতে, ৬৫ শতাংশ ইহুদি কমলাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর মাত্র ৩৪ শতাংশের সমর্থন ছিল ট্রাম্পের পক্ষে। সম্মেলনে ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে আমেরিকান-ইহুদিদের ৩০ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছিলেন বলে দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও ২০২০ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হেরে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে ওয়াশিংটনে পৃথক এক সম্মেলনেও একই ধরনের মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গরাজ্যগুলোয় ইহুদি ভোটারদের সমর্থনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। মার্কিন ইহুদিরা কয়েক দশক ধরে ফেডারেল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকেছে এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে জয় নির্ধারণে ইহুদিদের ভোট সামান্যই পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাপূর্ণ পেনসিলভানিয়ায় ৪ লাখেরও বেশি ইহুদি রয়েছে। ওই অঙ্গরাজ্যে ২০২০ সালে ৮১ হাজার ভোটে জিতেছিলেন বাইডেন। এর আগে গত জুলাইয়ে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ এড়িয়ে যাওয়ায় কমলা হ্যারিসকে ‘ইহুদিবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

সেই কমান্ডারের মাথার দাম ছিল ৮৪ কোটি টাকা

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর অপারেশন কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলের মাথার দাম ছিল সাত মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় তা দাঁড়ায় ৮৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭। আকিল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ সন্ত্রাসীর তালিকায়। দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যা বা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৩ সালে বৈরুতে দুটি ট্রাক বোমা হামলার জন্য আকিলকে দায়ী করা হয়। ওই সময় আমেরিকান দূতাবাস এবং একটি ইউএস মেরিন ব্যারাকে হামলার ঘটনায় ৩০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়। এ ঘটনার পর তার খোঁজে বিপুল অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমনকি কেউ যদি তার অবস্থান জানিয়ে তথ্য দিতে পারে তবে তাকেও পুরস্কারের জন্য বিবেচিত করার কথা বলা হয়।

আকিল ছিলেন লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের চালানো হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আকিলের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। প্রথমে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি। পরে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আকিল লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এলিট ‘রাদওয়ান বাহিনীর’ জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। হামলার সময় তিনি একটি বৈঠকে ছিলেন। লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং ফিলিস্তিনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্যে ওই বৈঠক চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলের হামলায় দুটি ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

আকিলকে লেবাননে আমেরিকান এবং জার্মান জিম্মিদের অপহরণের নির্দেশ দেওয়ার জন্যও অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে তাকে গ্লোবাল টেররিস্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করে মার্কিনিরা এবং তাকে হত্যার জন্য প্রচেষ্টার কথা আবারও জানায়।

২০২২ সালে একটি আরবি সংবাদমাধ্যম হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলা এবং লেবাননে পশ্চিমা স্বার্থের ওপর অন্যান্য আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেসব হামলার সঙ্গে হিজবুল্লাহ যুক্ত নয়। হামলাগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠী করেছিল।

নাসরুল্লাহ মূলত ইসলামিক জিহাদ অর্গানাইজেশন নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। ওই সময় গোষ্ঠীটি হামলার দায় স্বীকারও করেছিল। এ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন আকিল। পরে তিনি হিজবুল্লাহতে যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গল ও বুধবার লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ব্যবহার করা কয়েক হাজার পেজার ও ওয়াকিটকিতে একযোগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৭ জন নিহত ও ৩ হাজার মানুষ আহত হন। এত বড় ধাক্কার পরপর আকিলসহ অন্য কমান্ডারদের হারিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা। গেল জুলাইয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আরেকজন শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করেছিল ইসরায়েল। 

আকিলকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে তৈরি করা পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত
আকিলকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে তৈরি করা পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে সামরিক সরকার হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বাড়িয়েছে: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে দৃশ্যত বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে সামরিক সরকার হত্যা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়িয়েছে বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দেশটিতে অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন বছরের বেশি সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেনা সরকার কঠোরভাবে সেই বিক্ষোভ দমন করে।

পরে ওই বিক্ষোভ সেনা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সেনাদের সঙ্গে চলছে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী লড়াই। এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টায় গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৫০ জন বেসামরিক লোক।

মিয়ানমারে বিদেশি তদন্তকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় অংশত দেশের বাইরে থেকে শত শত ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদন।

ওই বেসামরিক লোকজনের মধ্যে ২ হাজার ৪১৪ জন মারা যান প্রতিবেদন তৈরির সর্বশেষ সময় গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। নিহত ব্যক্তির এ সংখ্যা এর আগের প্রতিবেদন তৈরির সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। এসব মানুষের মধ্যে শত শত জন মারা যান বিমান হামলা ও কামানের গোলার আঘাতে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মিয়ানমারবিষয়ক দলের প্রধান জেমস রোডহেভার বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিক থেকে মিয়ানমার অতল সাগরে ডুব দিচ্ছে।’

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আইনি ব্যবস্থাকে ঢাল বানিয়ে, সব ধরনের ভিন্নমতকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে বর্তমান সংকট তৈরি করেছে।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪০০ জনকে। তাঁদের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোয় রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু–কিশোরও রয়েছে। তাদের বাবা–মায়েদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করার কারণে একধরনের সাজা এটি।

এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র লিজ থ্রোসেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে প্রাণ গেছে অন্তত ১ হাজার ৮৫৩ জনের। তাঁদের মধ্যে শিশু ৮৮টি।

রাজধানী নেপিডোতে স্বাধীনতা দিবসের এক কুঁচকাওয়াজে সেনাসদস্যরা
রাজধানী নেপিডোতে স্বাধীনতা দিবসের এক কুঁচকাওয়াজে সেনাসদস্যরা এএফপির ফাইল ছবি

সাকিবের চোট নিয়ে কেন তামিমের সন্দেহ by তারেক মাহমুদ

সাকিব আল হাসান কি তবে চোট লুকিয়ে খেলছেন? এর আগে বিভিন্ন সময়ে যে ক্রিকেটার অন্যদের চোট লুকিয়ে খেলা বা চোট নিয়ে খেলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, এখন নাকি তিনিই সেই কাজ করছেন! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ রকম অভিযোগের তিরই ছোড়া হচ্ছে সাকিবের দিকে।

এমন আলোচনার সূত্রপাত আসলে আজ চেন্নাইয়ে, বাংলাদেশ–ভারত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে। যদিও সত্যিটা হলো, সাকিব চোট লুকিয়ে খেলছেন না, সম্প্রতি তাঁর কোনো অস্ত্রোপচারও হয়নি, তিনি এই মুহূর্তে চোট আক্রান্তও নন। প্রথম ইনিংসে তাঁর বোলিংয়ে দেরিতে আসার কারণও আঙুলের সমস্যা নয়। তাহলে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে কীভাবে ছড়াল কথাটা?

যাঁরা আজ টেলিভিশনে খেলা দেখেছেন, তাঁদের তা অজানা থাকার কথা নয়। যাঁরা খেলা দেখেননি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অলনাইন মিডিয়ার সূত্রে তাঁদেরও বিষয়টা জেনে যাওয়ার কথা। আজ শনিবার তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতে ধারাভাষ্যকার মুরালি কার্তিক মাঠে নেমে কথা বলেছেন সাকিবের সঙ্গে। ধারাভাষ্য কক্ষে ফিরে ভারতের সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার সে কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘তাকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী কারণে সে কম বোলিং করছে...সে আমাকে যা বলেছে, তা একজন স্পিনার হিসেবে আমিও বুঝতে পারছি।’

মুরালি কার্তিক এরপর বলেন, ‘তার (সাকিবের) বাঁ হাতের স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা অস্ত্রোপচার হয়েছে। জায়গাটা এখন ফুলে গেছে, শক্ত হয়ে আছে। ওই আঙুলে সে বলের অনুভূতিটাও পাচ্ছে না। স্পিনার হিসেবে বলের অনুভূতিটা দরকার। এ ছাড়া তার কাঁধেও অস্বস্তি আছে।’

পরে নিজের পালায় ধারাভাষ্য দিতে এসে মুরালির কথার প্রসঙ্গ টেনেছেন এই সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মুরালি কার্তিক বলে গেছেন, আঙুলের সমস্যার কারণে সাকিব বল গ্রিপ করতে পারছে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশ চারজন ফ্রন্টলাইন বোলার নিয়ে খেলছে। টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্যই জানানো উচিত, তারা এই ইনজুরির কথাটা আগে থেকেই জানত কি না।’

তামিমের কথার মধ্যে সাকিবের প্রতি সন্দেহটা পরিষ্কার—তিনি চোট লুকিয়ে খেলছেন না তো! এমনকি সাকিবকে যেন এই টেস্টে বোলার হিসেবেই ধরতে চাইলেন না তামিম। মূলত তাঁর এই মন্তব্যই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডালপালা মেলে আরও ভাসমান হয়েছে। যদিও দলের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে, মুরালির সঙ্গে ‘আনঅফিশিয়াল’ আলোচনায় সাকিব বলেননি যে তিনি বর্তমানে চোটে ভুগছেন। সাকিব এমনও বলেননি যে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আঙুলে কোনো অস্ত্রোপচার হয়েছে। সেটা হলে অবশ্য পাকিস্তান সিরিজের পর কাউন্টি ক্রিকেটে গিয়েও অত দাপটের সঙ্গে বোলিং করে আসতে পারতেন না তিনি। দলের সূত্রের তাই দাবি, সাকিবকে নিয়ে তামিমের সন্দেহটি ‘অমূলক’।

সাকিবের আঙুলে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকে চোট নিয়ে ফেরার পর। ২০২৩ বিশ্বকাপেও তিনি চোট পেয়েছিলেন আঙুলে, বাঁ হাতের তর্জনীতে সূক্ষ্ম ফাটলও ধরেছিল। তবে তার জন্য তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়নি। প্রথম আলোকে বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীও।

তাহলে মুরালিকে সকালে সাকিব এমন কী বলেছিলেন, যা এভাবে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দিল?

চেন্নাই থেকে বাংলাদেশ দলের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, মুরালির সঙ্গে আলোচনায় সাকিব কোনো সাল উল্লেখ না করেই বোঝাতে চেয়েছেন, ২০১৮ সালের ওই অস্ত্রোপচারের পর থেকে মাঝেমধ্যে তাঁর বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়। তবে সে জন্যই চেন্নাই টেস্টে বোলিং কম করছেন, এমন কিছু তিনি বলেননি। মুরালি নিজেই হয়তো আলোচনার অনুবাদটা সেভাবে করে নিয়েছিলেন।

মুরালির কৌতূহলের কারণটা পরিষ্কার। একে তো তিনিও বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন, তার ওপর এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাকিব বোলিংয়ে আসেন ৫৩তম ওভারে। ৮ ওভারে ৫০ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। পরের ইনিংসে আজ তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৭৯ রান দিয়েছেন, উইকেট পাননি এখনো। এই ইনিংসে যদিও বোলিংয়ে এসেছেন দশম ওভারে।

চেন্নাই থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সাকিবকে প্রথম ইনিংসে দেরিতে বোলিংয়ে আনার কারণ তাঁর আঙুলের সমস্যা নয়। সাকিবও অধিনায়ককে বলেননি যে তিনি বোলিং করতে চান না বা দেরিতে বোলিং করতে চান। সাকিবকে দেরিতে বোলিংয়ে আনার মূল কারণ, ওই সময় দলে পেস বোলারদের সঙ্গে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও ভালো বোলিং করছিলেন। অফ স্পিনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার কারণে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের মনে হয়েছিল, তখনই বাঁহাতি স্পিনার সাকিবকে বোলিংয়ে আনার প্রয়োজন নেই। মূলত অধিনায়ক প্রয়োজন মনে করেননি বলেই প্রথম ইনিংসে অত দেরিতে (৫৩তম ওভার) সাকিবের বল হাতে নেওয়া বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

অবশ্য এটাও ঠিক যে বাঁ হাতের আঙুলে ২০১৮ সালের ওই অস্ত্রোপচারের পর থেকে চোট পাওয়া আঙুলটা মাঝেমধ্যে সমস্যায় ফেলে সাকিবকে। সিরিজ চলছে বলে দলের কেউ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও দল–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, সাকিবের নতুন কোনো অস্ত্রোপচার হয়নি। তবে ২০১৮ সালের অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি আঙুলের সমস্যা ‘ম্যানেজ’ করেই খেলছেন। যা টিম ম্যানেজমেন্টের অজানা নয়। তামিম দলে থাকার সময় তাঁরও তা অজানা থাকার কথা নয়। আর সব ক্রিকেটারকেই এ রকম ছোটখাটো কিছু চোটের সমস্যা ‘ম্যানেজ’ করে খেলতে হয়। ক্রিকেটে এটা নতুন কোনো আবিষ্কার নয়।

সাকিবের আঙুলের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সেবার দলের ফিজিওর উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকায় ফিরে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করানোর পরও সংক্রমণ জটিলতায় বেশ ভুগতে হয় তাঁকে।

অস্ত্রোপচারের দিন নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হাসপাতালে শুয়ে থাকার একটি ছবি দিয়ে সাকিব লিখেছিলেন, ‘হাতের ব্যথায় যখন দল ছেড়ে দেশে ফিরছি, তখনো বুঝতে পারিনি এত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। দেশে আসার পর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব ও হাত অস্বাভাবিক রকম ফুলে যাওয়ায় দ্রুত হসপিটালে অ্যাডমিট হয়ে একটি সার্জারি করাতে হয়েছে। আঙুলের ভেতর ইনফেকশনের ফলে ৬০-৭০ সেন্টিমিটার পুঁজ বের করতে হয়েছে। আপনাদের দোয়ায় খুব অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছি, তবে দ্রুতই আরও একটি সার্জারি করাতে হবে। আপনাদের সবার দোয়া প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় দ্রুত সুস্থ হয়ে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। ধন্যবাদ..।’

তবে সংক্রমণ জটিলতায় পরের মাসেই চিকিৎসার জন্য সাকিবকে যেতে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রেগ হয়ের কাছে। মেলবোর্নের হাসপাতালে সাকিবকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসক। এরপর জানা যায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সাকিব তত দিনে এটাও জেনে গিয়েছিলেন যে তাঁর ওই আঙুলটা আগের অবস্থায় না–ও ফিরতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে খেলা চালিয়ে যেতে হবে ‘ম্যানেজ’ করে।

২০১৮ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে নভেম্বরেই সাকিব মাঠে নামেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সমস্যাটা ‘ম্যানেজ’ করেই খেলে যাচ্ছেন, যেটা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ দলে সাকিবের সতীর্থরাও।

তবে ভুল–বোঝাবুঝির সূত্রপাত মুরালি কার্তিকের ওই কথাটা থেকেই। আরও ভেঙে বললে সাকিবের কথা বুঝতে তাঁর ভুল করা।

সাকিবের চোট নিয়ে ধারাভাষ্যে কথা বলেন তামিম
সাকিবের চোট নিয়ে ধারাভাষ্যে কথা বলেন তামিমফাইল ছবি: প্রথম আলো

মুইজ্জুর আসন্ন ভারত সফর কী সংকেত দিচ্ছে

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু শিগগিরই ভারত সফরে যাবেন। ‘ইন্ডিয়া আউট’ কর্মসূচি দিয়ে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন তিনি। তবে সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। এর মধ্যে মুইজ্জুর ভারত সফরের কথা শোনা যাচ্ছে।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান মুখপাত্র হিনা ওয়ালিদ গত সপ্তাহে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট শিগগিরই ভারত সফরে যাবেন৷’

গত এপ্রিলে মুইজ্জুর সরকার মালদ্বীপে থাকা ভারতের সেনাদের একটি দলকে মালদ্বীপ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর মে মাসে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে তারা৷

এ ছাড়া বছরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন মালদ্বীপের দুজন উপমন্ত্রী। ভারতের লাক্ষ্মাদ্বীপে মোদির পর্যটন প্রসারের পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই মন্তব্য করেছিলেন মালদ্বীপের মন্ত্রীরা। এর উত্তরে ভারতের পর্যটকেরা মালদ্বীপ বর্জনের ডাক দেন, যেটি পর্যটননির্ভর মালদ্বীপের জন্য মারাত্মক হুমকি ছিল৷

সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা

মুইজ্জুর ভারত সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে মেরামতের চেষ্টা কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষণা সংস্থা মন্ত্রয়ার প্রধান শান্থি ম্যারিয়েট ডি সুজা বলেন, মুইজ্জুর সরকার আপাতদৃষ্টে ভারতের সঙ্গে অনুকূল সম্পর্ক থাকলে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তার বাস্তবতা যাচাই করেছে৷ ‘এটাকে নীতি পরিবর্তন বলা এখনই ঠিক হবে না, তবে এটা অবশ্যই ভারত-মালদ্বীপের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি।’

শান্থি ম্যারিয়েট ডি সুজা আরও বলেন, মালদ্বীপ ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রেখে লাভবান হতে চাইছে৷

ডি সুজা বলেন, ‘মোদিকে নিয়ে ঠাট্টা করা দুই উপমন্ত্রীর পদত্যাগ বলে দিচ্ছে মুইজু নয়াদিল্লির সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। তবে এতে চীনের প্রতি তাঁর যে পক্ষপাত, সেটি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

আর্থিক সংকটে মালদ্বীপ

মালদ্বীপের ঋণের বোঝা বাড়ছে। রাজস্বের পরিমাণ কম। রিজার্ভও কমে যাওয়ায় বাজেট ঘাটতি আছে। সে কারণে আর্থিক সহায়তা খুঁজছে দেশটি।

দেশটি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ুক, এটা ভারত চায় না। তাই গত মাসে মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সে সময় মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের জন্য একটি অগ্রাধিকার বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক পি সাহাদেবন বলেন, ‘মুইজ্জুর সরকার তাঁর চীনপন্থী অবস্থান পরিবর্তন না করেও ভারতের প্রতি তার অবস্থান নরম করেছে।’ মালদ্বীপের অর্থনৈতিক সংকট এর একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি৷

অভিজ্ঞ কূটনীতিক অনিল ওয়াধওয়া মনে করছেন, মুইজ্জুর আসন্ন সফর তাঁর ‘ইন্ডিয়া আউট’ অবস্থান থেকে সরে আসার একটি সংকেত৷ ‘মালদ্বীপ বুঝতে পেরেছে যে ভারতই একমাত্র দেশ, যেটি মালদ্বীপের সংকটে দ্রুত সাড়া দিতে পারে। আর্থিক সংকটের সময়ে তাঁকে উদ্ধার করতে পারে।’

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুফাইল ছবি: এএফপি

দাকোপে মন্দিরে মন্দিরে উড়োচিঠি, ‘দুর্গাপূজা করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে’

দুর্গাপূজা করতে হলে প্রতিটি মন্দিরের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে—এ রকম উড়োচিঠি পেয়েছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা। এ কথা প্রশাসন বা সাংবাদিকদের জানালে ‘কচুকাটা’ করা হবে বলে চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর থেকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। কোনো কোনো মন্দির পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বুধবার বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এই চিঠি আসা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ ঘটনায় উপজেলার ভিন্ন চারটি মন্দিরের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

দাকোপের একটি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ডাকযোগে চিঠি পাওয়ার পর থেকে তাঁদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। বুধবার চিঠি পাওয়ার পর তাঁরা রাতে এলাকার মানুষকে নিয়ে সভা করেছিলেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষ পূজা না করার পক্ষে মত দেন। পরে সবাই মিলে পূজা করার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। এখন থেকেই এলাকায় প্রতিদিন পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে কিছু মন্দির কমিটি পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে।

দাকোপের কামারখোলা সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি শেখর চন্দ্র গোলদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা না করে খুব ছোট পরিসরে পূজা করার আলোচনা চলছিল। তবে এ ধরনের চিঠি পাওয়ার পর আমাদের সদস্যরা আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ বছর আমাদের পূজাটা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

এসব চিঠির কপি প্রথম আলোর হাতে এসেছে। প্রতিটি চিঠি কম্পিউটারে কম্পোজ করা। তিনটি মন্দিরে পাঠানো চিঠি থেকে দেখা গেছে, সব কটি চিঠির বক্তব্য এক। হলুদ খামের ওপর প্রাপক মন্দির কমিটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের সভাপতি–সম্পাদককে উদ্দেশে এসব চিঠি লেখা হয়েছে। চিঠির এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হানিফের প্রজেক্টে যেমন করেছি, তোদের পরিণতিও তেমন হবে’।

হানিফের প্রজেক্ট বিষয়টা কী—জানতে চাইলে শ্রীনগর গ্রামের কয়েকজন জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের চিংড়িঘেরে ব্যাপক লুটপাট চলে। কয়েক দিন ধরে চলে সে লুটপাট। এখনো সেখানে থাকা ছোটখাটো জিনিসপত্র লুটপাট চলছে।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই উড়োচিঠির বিষয়ে শুক্রবার চারটি মন্দির থেকে জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। আমাদের পক্ষ থেকে মন্দির সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর টিমসহ আমরা থানা থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছি। গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়নভিত্তিক পুলিশ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক টহলে আছেন।’ 

দাকোপের সুতারখালি দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্দেশে হুমকি ও চাঁদা চেয়ে পাঠানো চিঠির খাম
দাকোপের সুতারখালি দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্দেশে হুমকি ও চাঁদা চেয়ে পাঠানো চিঠির খামছবি: প্রথম আলো

১০ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ঢাবি প্রশাসনের আলোচনা, অংশ নিল শিবিরও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১২ দিন পর আগামীকাল রোববার ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। ক্লাস শুরুর আগে আজ শনিবার ক্যাম্পাসের ১০টি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এই সভার প্রথম পর্বে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরও।

মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রায় সব ছাত্রসংগঠনের নেতারা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ছাত্র সংসদ কার্যকর করার দাবি জানান।

সভার দুই পর্বে ছাত্রসংগঠনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিসহ সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে—এমন আলোচনা সামনে আসার পর আজ ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানের কার্যালয়ে এই সভায় দুই সহ–উপাচার্য মামুন আহমেদ ও সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত প্রথম পর্বে আলোচনায় অংশ নেয় ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও বিপ্লবী ছাত্র–যুব আন্দোলন। বেলা দুইটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ), ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

জানতে চাইলে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব ছাত্রসংগঠনের কথাগুলো শুনলাম। আমাদের মূল অগ্রাধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা। সেটিকে সামনে রেখেই সবার সঙ্গে বসলাম।’
ছাত্রদল যা বলল

বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন আলোচনায় অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সিন্ডিকেটকে ‘খুনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিনিধিত্বকারী দালালদের সিন্ডিকেট’ আখ্যা দিয়ে তা ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সভা শেষে গণেশ চন্দ্র সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাবাবেগ (সেন্টিমেন্ট) ধারণ করেই রাজনীতি পরিচালিত হবে। বিগত ১৫ বছরের যে নির্যাতনের আতঙ্ক (ট্রমা) ছাত্রলীগ গেস্টরুম ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে তৈরি করেছে, সেটাকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ছাত্ররাজনীতি বলে মনে করছেন। এই ট্রমা কাটতে সময় লাগবে। ফ্যাসিস্টদের নির্মিত এই ট্রমা নিবারণে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতি যে ছাত্ররাজনীতি নয়, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে। ক্যাম্পাসে ভয়মুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই, রাজনীতি হবে মেধা ও শিক্ষার্থীদের চাওয়ার ভিত্তিতে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা একটি চরিত্র রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদুজ্জামান বলেন, সেই চরিত্র রাজনীতিবিমুখ বা রাজনীতির বাইরে নয়। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভয় ও শঙ্কামুক্ত ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আগামীকাল ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। সবাই কীভাবে একত্র হয়ে কাজ করবেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নাহিদ আরও বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের বলেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবর্তিত অবস্থায় ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তন করতে হবে। সেটি কীভাবে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সংলাপ চায় শিবির

সভায় সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রশিবির। শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদিক কায়েম প্রথম আলোকে বলেন, সভায় তাঁরা বলেছেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা কোনো প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নয়। তাঁরা উপাচার্যের কাছে ছাত্ররাজনীতির সংস্কার চেয়েছেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করতে বলেছি, যেখানে শুধু ফ্যাসিবাদের দোসর ছাড়া সব ছাত্রসংগঠন আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব দ্রুতই সংলাপ আয়োজন করার কথা বলেছে। সেই সংলাপ এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার আলোকে তাঁরা একটা সিদ্ধান্তে আসবেন।’

সাদিক আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও ১৪ দলভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠন—এরা ফ্যাসিবাদের দোসর। তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। তারা বাদে বাকি সব সংগঠনের কনসেনসাসের (ঐকমত্য) ভিত্তিতে আমরা সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি করতে চাই।’

এদিকে ছাত্রশিবিরকে সভায় ডাকা নিয়ে এবং ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের চুক্তি বাতিল হয়ে গেল কি না, সে বিষয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। তবে উপাচার্য এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি বলে জানান তিনি।

শিবিরসহ ধর্মীয় সংগঠনকে সভায় ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সোহাইল আহমেদও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত ১৭ বছর পর ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করল।
আরও যত দাবি–প্রস্তাব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কারের আলোচনা এগিয়ে নিতে অংশীজনদের নিয়ে কনভেনশন করার প্রস্তাব দেন ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না, তা বিতর্কের বিষয় হতে পারে না। সেটি আমরা বলেছি। ছাত্ররাজনীতির নামে যে অপকর্মগুলো হয়েছে, সেগুলো ঠেকানোর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। প্রশাসন এ বিষয়গুলো কীভাবে আটকাবে, কীভাবে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিরোধমূলক আইন বা নীতিমালা হতে পারে। এ ছাড়া একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আগের সরকারের সময়ে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত মহাপরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি।’

ছাত্র ফ্রন্টের নেতা সোহাইল আহমেদ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ কার্যকর করা, হলগুলোতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাস–দখলদারত্বের বিষয়টি নজরদারি করতে হল পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয়ভাবে সেল গঠনের দাবি জানান।

পেশিশক্তি ও দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানান ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে নই, যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছি।’

১০ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ঢাবি প্রশাসনের আলোচনা, অংশ নিল শিবিরও

যেভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে চেয়েছিল সিআইএ এবং মোসাদ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূটিকে ধ্বংস করে দিতে একটি কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এ জন্য তারা ছেড়ে দিয়েছিল স্টাক্সনেট নামে একটি মেলওয়্যার। এটি সাধারণ কোনো মেলওয়্যার ছিল না। সাইবার অস্ত্র হিসেবে এটি ছিল অত্যাধুনিক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয় ২০০৯ সালের জুন মাস। তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল তেহরানের রাজপথ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মীর হোসেন মুসাভির বিরুদ্ধে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়েছেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতি করা হয়েছে। তাদের একজন নেদা আগা-সুলতান নামের একজন নারী। তিনি যোগ দিতে যাচ্ছিলেন প্রতিবাদে। তাই বিক্ষোভের স্থান থেকে কিছুটা দূরে তিনি গাড়ি পার্কিং করছিলেন। গাড়ি থেকে একপর্যায়ে বেরিয়ে আসেন। কারণ এসি কাজ করছিল না। গাড়ি থেকে বের হতেই স্নাইপারদের গুলি এসে বিদ্ধ হয় তার বুকে। তিনি মারা যান। যখন রাজধানী তেহরানে এই ঘটনা ঘটছিল তখন সেখান থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় উদ্ভট সব ঘটনা ঘটছিল। নাতাঞ্জ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নেদা মারা যাওয়ার ঠিক কয়েকদিন পরে সিআইএ একটি স্থাপনার বিরুদ্ধে সাইবার অপারেশনের অনুমোদন দিয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়। এই অপারেশনে স্টাক্সনেট নামে একটি অত্যাধুনিক মেলওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয় সাইবার জগতে। এই সাইবার অস্ত্র সরাসরি ইরানের হার্ডওয়্যারকে সংক্রমিত করে। কয়েক বছর ধরে এই মেলওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সাইবার অস্ত্র তৈরি করেছে। এটাকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল অস্ত্র।

ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে স্টাক্সনেটের উপস্থিতি নতুন ছিল না। কারণ, তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নতুন যে স্টাক্সনেট তৈরি করা হয়েছিল তার উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্টভাবে পারমাণবিক স্থাপনাকে ধ্বংস করে দেয়া। কয়েক বছর আগে স্টাক্সনেটের উন্নয়ন ও উৎপাদন শুরু হয়েছিল। এর কাজ শুরু হয়েছিল ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে। ওই সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে উদ্বিগ্ন ছিল তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন। তাই তারা এই কর্মসূচির গতি টানতে অপ্রচলিত পদ্ধতির চেষ্টা চালাতে থাকে। তাই ‘অলিম্পিক গেমস’ কোড নামে নতুন একটি ছদ্মবেশী অপারেশনের জন্ম হয়। এই উদ্যোগে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতার ভিত্তিতে জড়িত হয় সিআইএ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এনএসএ এবং ইসরাইলের মোসাদ। তাদের উদ্দেশ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সফলতাকে বিঘ্নিত করতে একটি ডিজিটাল অস্ত্র তৈরি করা। আগেই বলা হয়েছে, স্টাক্সনেট কোনো সাধারণ মেলওয়্যার নয়। সাইবার অস্ত্রের ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত পরিশীলিত ডিজাইন অনুসরণ করা হয় এক্ষেত্রে। সিমেন্স স্টেপ-৭ সফটওয়্যারকে টার্গেট করে এই মেলওয়্যার। কারণ, এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় শিল্প বিষয়ক যন্ত্রপাতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে। বিশেষ করে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার সেন্ট্রিফিউজকে এক্ষেত্রে টার্গেট করা হয়। ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধ করতে এই সেন্ট্রিফিউজ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি কাজ করে উচ্চগতিতে। ফলে যথাযথভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যথার্থভাবে কাজ করে এমন সফটওয়্যার দরকার হয়। টিনেসির ওক রিজে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার একটি নমুনা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান টের পাবে না বা তারা ধরতেও পারবে না- এমন উপায়ে স্যাবোটাজ করে কীভাবে এই কর্মসূচিকে বন্ধ করা যায় সেই চেষ্টা চলতে থাকে। ফলে ২০০৭ সালে স্টাক্সনেটের প্রথম সংস্করণ ছাড়া হয়। টার্গেট করা হয় সেন্ট্রিফিউজকে। ভাল্বের ভেতর দিয়ে যে চাপ প্রকাশ পায় তা বন্ধ করে এই আক্রমণ চালানোর চেষ্টা হয়। তাতে ইউরেনিয়াম গ্যাস কঠিন আকার ধারণ করবে। সেন্ট্রিফিউজগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং এর ফলে নিজে থেকেই ওই স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে। এয়ার-গ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে। এর অর্থ হলো ওই স্থাপনার নেটওয়ার্ক ছিল বন্ধ। এ জন্য স্টাক্সনেটকে ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করে একটি এজেন্টের মাধ্যমে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়। এই মেলওয়্যার একবার প্রবেশ করিয়ে দিলে তা নিজে থেকেই কাজ করতে থাকে। কিন্তু তাকে কেউ শনাক্ত করতে পারবে না। তবে কার্যকারিতা সত্ত্বেও প্রথমদিকে স্টাক্সনেট শুধু ইরানের কর্মসূচিকে ধীরগতির করতে সক্ষম হয়। তারা পুরোপুরি স্যাবোটাজ করতে পারেনি। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা আরও আগ্রাসী একটি সংস্করণের স্টাক্সনেট তৈরি করেন। এটি দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সিস্টেম থেকে তথ্য চুরি করতে পারে। এয়ার-গ্যাপ থাকার পরও কাজ করতে পারে। সেন্ট্রিফিউজগুলোকে নতুন করে প্রোগ্রামিং করে তাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কোনো এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্টাক্সনেট নামের নতুন সংস্করণের প্রবেশ ঘটানো হয়। দ্রুততার সঙ্গে তা সেখানকার নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগ্রাসী তৎপরতা অনিচ্ছাকৃত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তা নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার বাইরেও পুরো ইরানে এমনকি বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। স্টাক্সনেট অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এটা বুঝতে পেরে সিআইএ সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা তাদের এই অপারেশন অব্যাহত রাখবে, যাতে নাতাঞ্জে তা গোপন অবস্থায় থাকে। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সিম্যানটেক শনাক্ত করে ফেলে স্টাক্সনেটকে। এই মেলওয়্যার নিয়ে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র আশাহত হয়। কারণ, ইরানও দ্রুত বুঝতে পারে এই সাইবার হামলার কথা। পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষিত রাখতে তারা পদক্ষেপ নেয়। স্টাক্সনেটের আক্রমণের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা সত্ত্বেও পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান।

স্টাক্সনেট যে ছিল তা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১০ সালের জুনে। ওই সময় ইরানের একটি কম্পিউটারে মেলওয়্যারের একটি অস্বাভাবিক ভাইরাস শনাক্ত করে বেলারুশের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে পাওয়া কোড নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেন সারা বিশ্বের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এর জটিলতা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পেরে তারা বিস্মিত হন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে স্টাক্সনেটের ক্ষতিকর প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মতো। তবে তা তাৎক্ষণিক বিপর্যয়ের মতো নয়। ২০০৯ সালের মধ্যে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান প্রতিষ্ঠা করেছিল কমপক্ষে ৭০০০ সেন্ট্রিফিউজ। তবে তার মধ্যে শুধু এক হাজার সেন্ট্রিফিউজকে আক্রান্ত করতে সক্ষম হয় স্টাক্সনেট। এর ফলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ীভিত্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কাজ স্থগিত করে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলে। পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত বিলম্ব করে।

mzamin

‘ট্রাম্প ও তার দল ভণ্ডামি করছে’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা জমজমাট। ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেদের মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরস্পরকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও তার দল গর্ভপাত ইস্যুতে ভণ্ডামি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কমালা হ্যারিস। শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণায় এমন অভিযোগ করেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, আগামী ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জর্জিয়ার আটলান্টায় শুক্রবার নির্বাচনী সমাবেশ করেন কমালা। সমাবেশটিতে মূলত নারী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। জর্জিয়ায় সমপ্রতি গর্ভধারণ-সংক্রান্ত জটিলতায় দু’জন নারীর মৃত্যু হয়। তাদের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেন কমালা। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ, জর্জিয়া তার একটি। সমাবেশে কমালা বলেন, ‘এই ভণ্ডরা এমনভাবে কথা বলতে চান যে, এটার মধ্যে (গর্ভপাত ইস্যু) নারী ও শিশুদের সেবার সর্বোত্তম স্বার্থ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভালো কথা, যখন আমেরিকার নারী ও শিশুদের সেবা-যত্ন নিয়ে কথা বলার সময় আসে, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন, কোথায় ছিলেন আপনারা? কতো বড় সাহস তাদের।’ দুই মাস আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে সামনে চলে আসেন কমালা। পরে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই কমালা গর্ভপাত প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা’। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। জর্জিয়ায় গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জর্জিয়া থেকে দোদুল্যমান রাজ্য উইসকনসিনে যান কমালা। সেখানে শুক্রবার রাতে ম্যাডিসনে এক নির্বাচনী সমাবেশে কমালা পুনরায় একই প্রসঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইনকে ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেন। কমালা বলেন, ‘এটা একটি স্বাস্থ্যসেবা-সংকট, এবং ডনাল্ড ট্রাম্প এর কারিগর।’ এদিন দুটি নির্বাচনী সমাবেশেই কমলা আম্বার নিকোল থরম্যানকে নিয়ে কথা বলেন। ২৮ বছর বয়সী এক সন্তানের জননী থরম্যান গর্ভপাত করাতে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীরে বিরল এক জটিলতা দেখা দেয় এবং অস্ত্রোপচার করার সময় তিনি মারা যান। ২০২২ সালে ওই ঘটনা ঘটে। আটলান্টায় কমালা বলেন, ‘আমরা এটা নিশ্চিত করবো যে, আম্বারের নাম শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে স্মরণে রাখা হবে না।’ জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক অপরাহ্‌ উইনফ্রে আটলান্টা সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। সমাবেশে যোগ দেয়ার এক দিন আগে কমালা থরম্যানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
mzamin