Tuesday, July 25, 2017

এলিয়েন খুঁজতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব আছে কিনা তা গবেষণা করে বের করতে অণুবীক্ষণ প্রযুক্তি তৈরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (ক্যালটেক) গবেষকরা। তাদের বানানো ডিভাইসটির নাম দেয়া হয়েছে ডিজিটাল হলোগ্রাফিক মাইক্রোস্কোপ। এটি মহাকাশে জীবাণুর খোঁজ করবে। প্রযুক্তি সাইট নেক্সট ওয়েবের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এর আগে ১৯৭৬ সালে ‘ভাইকিং’ মহাকাশ প্রকল্পে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সক্রিয়ভাবে পৃথিবীর বাইরে জীবনের সন্ধান চালিয়েছিল। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই সন্ধান চালানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কী হতে পারে তা বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলেননি। জীবিত কোনো প্রাণীকে পাঠানোর মাধ্যমে এ গবেষণা করতে গেলে, তা আর ফিরে আসবে কিনা তা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই। মহাকাশে পাওয়া নমুনাগুলো নিয়ে পরীক্ষা চালাতে বিজ্ঞানীদের হাতে প্রচলিত অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এই ডিভাইসে কোনো বস্তুকে বড় করে দেখাতে লেন্স ব্যবহারের প্রচলিত কৌশল ব্যবহার করা হয়নি। এতে লেজার ব্যবহার করা হয়েছে, যা অণুবীক্ষণিক উপাদানগুলোর তিনটি নড়াচড়া প্রদর্শন করবে। পরে এই নড়াচড়া কোনো জড়বস্তুর নাকি কোনো জীবের তা নিয়ে বিশ্লেষণ চালানো হবে। ক্যালটেক যে ডিজিটাল হলোগ্রাফিক মাইক্রোস্কোপ তৈরি করছে, তা এনসেলাডাস থেকে ছাড়া বাষ্পে কোনো জীবাণুর অস্তিত্ব আছে কিনা তা খুঁজে বের করবে। বিজ্ঞানীরা উত্তর মেরুতে এই ডিভাইসের পরীক্ষা চালিয়েছেন। এখন তারা দক্ষিণ মেরুর আরও কঠিন পরিবেশে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। ক্যালটেকের অধ্যাপক জেয় নাদিয়াও বলেন, ‘আমরা এমন একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানানোর চেষ্টা করছি, যা পৃথিবীর সবখানে জীবনের সন্ধান করতে আমাদের সক্ষমতা সর্বোচ্চ করবে। কারণ যদি আমরা পৃথিবীর সম্ভাব্য সব কঠিন পরিবেশে জীবনের সন্ধান চালাতে আমাদের সক্ষমতা সর্বোচ্চ করতে পারি তাহলে আমরা অন্যান্য গ্রহে তা সন্ধানে যতটা সম্ভব কাছাকাছি যেতে পারব।’ ওয়েবসাইট।

শ্যালিকার জন্মদিনে ৫০ লাখ টাকার উপহার মুগাবের

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে তার এক শ্যালিকার বিয়েতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার (৬০ হাজার ডলারের) উপহারসামগ্রী দিয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। অথচ তার দেশ এখন ভীষণ আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। খবরে বলা হয়, মুগাবের সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মিসেস গাম্বোচুমাকে এ উপহার দেয়া হয়েছে। তিনি একজন পাদ্রি। গাম্বোচুমা মুগাবের স্ত্রী গ্রেসের বড় বোন। রোববার তিনি ৬০তম জন্মদিন পালন করেন আর গ্রেস পালন করেন ৫২তম জম্মদিন। হারারের শাম্ভায় মুগাবের একটি খামারে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কয়েক বছর ধরে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের চরম সংকট থাকায় টাকা তুলতে লোকজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাও মেলে সাধারণত সর্বোচ্চ ১৬০০ টাকা। দেশটির মোট রাজস্বের ৯১ ভাগই যায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে। ২০০০ সালের পর দেশটির অর্থনীতির আকার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এএফপি।

ভারত যেন ঘোরের মধ্যে বাস না করে

চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের ‘ভুল ধারণা’ পোষণ না করতে এবং ‘ঘোরের মধ্যে’ না থাকতে ভারতকে সতর্ক করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিকে ‘ভুল শোধরাতেও’ বলেছে চীন। এনডিটিভি জানায়, সীমান্ত সংকট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভারতের উদ্দেশে এ সতর্কতা দেয়। এক ব্রিফিংয়ে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওউ কুয়ান বলেন, ‘পাহাড়ে ঝাঁকুনি দেয়া সহজ। কিন্তু (চীনা) পিপলস লিবারেশন আর্মিকে ঝাঁকুনি দেয়া কঠিন।’ চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলটিতে তাদের সেনাবাহিনী জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সেখানে দ্রুত আরও সেনা মোতায়েন করা হবে ও মহড়া অব্যাহত থাকবে।’ চীনা ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। বেইজিংয়ের ভাষ্য, গত মাসের শুরুর দিকে ভারতের সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে চীনের ডংলাং অঞ্চলে প্রবেশ করে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণে ভারত বাধা দেয়। ভারত ও ভুটান এলাকাটিকে ডোকলাম নামে ডাকে। দেশ দুটির দাবি, এই ভূখণ্ড ভুটানের। এলাকাটিকে নিজেদের ডংলাং অঞ্চলের অংশ হিসেবে দাবি করছে চীন। সিকিম সীমান্তে এক মাসের বেশি সময় ধরে ভারত ও চীনের সেনারা মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে ভারতের প্রতি অব্যাহতভাবে আহ্বান জানাচ্ছে চীন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত সপ্তাহেই জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে যদি সেনা সরাতেই হয়, তাহলে চীনকেও একই সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। দুই দেশ একই সঙ্গে সেনা সরিয়ে আলোচনায় বসতে পারে। তবে সোমবার চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফের বলেছে, যে কোনো ধরনের আলোচনার আগে ভারতকে অবশ্যই সীমান্ত থেকে সেনা সরাতে হবে। এ প্রসঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না ভারতের। আর তাদের মোহের মধ্যে থাকা উচিত হবে না।
চীনের মোকাবিলায় মন্ত্র জপের পরামর্শ : এদিকে চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের পক্ষ থেকে চীনকে বিনাশ করার জন্য আজব ফর্মুলা দেয়া হয়েছে। আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার চীনকে ‘অসুর শক্তি’ বলে অভিহিত করে দেশবাসীকে বিশেষ মন্ত্র জপের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানায় ডেইলি নিউজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস। গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রেশ কুমারের দাবি, এর ফলে শুধু চীনের ক্ষতিই হবে না, বরং আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তিও বাড়বে এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইন্দ্রেশ কুমার মন্ত্র জপার পাশাপাশি চীনা সামগ্রী বয়কটেরও ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চীনা সামগ্রী ভারতের বাজারে আসায় অনেক ভারতীয় কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এ জন্য দিওয়ালি, রাখি ও ঈদের মতো উৎসবে চীনের সামগ্রী বয়কট করা উচিত।’ আরএসএসের সহযোগী শাখা সংগঠন ‘স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে চীনা কোম্পানি চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক প্রকল্পের বিরোধিতা করে ৮৫১ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তিটি বাতিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

রিট খারিজ: মওদুদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলাটি চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজ করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশে বিচারিক আদালতে চলমান মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। আদালতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তার নিজের পক্ষে শুনানি করেন। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায়  মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৫ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনে দুদক। গত ২১ জুন মওদুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে এ মামলার বিচার শুরু করেন ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ ইমরুল কায়েসের আদালত। হাইকোর্টে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে একটি ও ওই আদালত পরিবর্তন চেয়ে আরেকটি আবেদন করেন মওদুদ। আজ দু'টি রিটের শুনানি শেষে মামলাটি চলবে বলে আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ ইমরুল কায়েসের আদালত পরিবর্তে অন্য আদালতে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চালানোর আদেশ দেন হাইকোর্ট।

বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে বদলির প্রস্তাব

ইউএনও তারিক সালমনের জামিন প্রথম দফায় মঞ্জুর না করায় বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আলী হোসাইনকে বদলির প্রস্তাব করেছে আইন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে এসে পৌঁছে। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ। তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয় থেকে বদলির একটি প্রস্তাব এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রক্রিয়া অনুসারে বিষয়টি বিবেচনা করবে। এর আগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ‘বিকৃত’ ছবি দিয়ে নিমন্ত্রণপত্র ছাপানোর অভিযোগে মানহানির মামলায় জামিন নামঞ্জুর এবং পরে মঞ্জুরের বিষয়ে ব্যাখ্যা চায় সুপ্রিম কোর্ট। রোববার লিখিত ব্যাখ্যায় বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন দাবি করেন জামিন নামঞ্জুরের কোন আদেশ দেয়া হয়নি। বরং ওইদিন ইউএনওকে জামিন দেয়া হয়েছিল। সিএমএম ব্যাখ্যায় বলেন, আদালতের কার্যপ্রণালী শেষে এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় এসে শুনি অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হরা হচ্ছে যে ইউএনওর জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে- তার জামিন আবেদন একটি বারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি। ফলে জেল হাজতে পাঠানোর কোন প্রশ্নই উঠে না।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিটিসেলের সংযোগ দেয়ার নির্দেশ

বন্ধ থাকা বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি সিটিসেলের সংযোগ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। গত বছরের ৩১ জুলাই বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিটিসেলের গ্রাহকদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানায়। বিটিআরসির ওই নোটিশের পর আপিল বিভাগে যায় সিটিসেল। গত বছরের ২৯ আগস্ট এই অপারেটরকে দুই মাসের মধ্যে বকেয়া ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধ করার শর্তে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে সিটিসেলের পক্ষ থেকে বকেয়া টাকার মধ্যে ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বকেয়া টাকা শোধ না করায় গত বছরের ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে তরঙ্গ বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিলেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। এরপর বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়নি এই অভিযোগে গত বছরের ২১ অক্টোবর সিটিসেলের কার্যক্রম (তরঙ্গ) বন্ধ করে দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সংস্থাটির ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে ২৪ অক্টোবর আবেদন করে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। সিটিসেল আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগে গেলে গত বছরের ৩ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে অবিলম্বে এর তরঙ্গ খুলে দেয়ার নির্দেশ আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তরঙ্গ ফিরে না পেয়ে ফের আদালতে যায় প্রতিষ্ঠানটি। পরে আপিল বিভাগ আদেশ দেন,  ১৯ নভেম্বরের (২০১৬) মধ্যে সিটিসেল বকেয়ার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে আবারও তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে বিটিআরসি। ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

মানুষের সমস্যা জেনে তা সমাধানের ব্যবস্থা করুন: প্রধানমন্ত্রী

ডিসি সম্মেলনে অংশ নেয়া মাঠ প্রশাসনের ৬৪ ডিসি ও আট বিভাগীয় কমিশনারদের মানুষের সমস্যা জেনে তা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে মানুষের সমস্যা জানুন। সেগুলো সমাধানের ব্যবস্থা করুন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবিত স্লোগান 'সুশাসনে গড়ি সোনার বাংলাদেশ'র প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরা সবাই একসঙ্গে সঠিক উপায়ে কাজ করলে দেশ উন্নত হবে। এসময় ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কাজের সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে বন্যার কারণে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের সঠিক তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সঠিক তালিকা করুন। গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মাঠ প্রশাসনের ৬৪ ডিসি ও আট বিভাগীয় কমিশনার। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে মাঠপর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। উদ্বোধনের পর বাকি অধিবেশনগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ২৭ জুলাই পর্যন্ত। ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ৩৪৯টি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন বিভিন্ন জেলার ডিসিরা। এগুলো নিয়ে তিন দিনে ২২টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগ বহাল, বিভাগীয় কমিশনারের পদকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করন, অন্যান্য বাহিনীর মতো প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারাদের বিদেশে শান্তি মিশনে প্রেরণ, সরকারি মামলা-মোকদ্দমা মোকাবেলায় অর্থ বরাদ্দ ও সোর্সমানি বাড়ানো, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ভাতা, হাওর এলাকার জন্য ‘হাওর ভাতা’সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রস্তাব।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, উপকূলে সতর্কতা

পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটির কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে বৃষ্টির এ প্রবণতা থাকতে পারে আরও দু'দিন। তবে পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গেপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়- রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার বিবরণে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপরুপে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। তবে আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় বলা হয়, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় শুরুর দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে তাপমাত্রা। গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া খুলনায় ৯০, বরিশাল ৭৬, ময়মনসিংহ ৫২, ঢাকায় ৪৯   সিলেটে ৩২, রাজশাহী ৩১ ও রংপুর ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

মতিঝিলে জনতা টাওয়ারে আগুন

রাজধানীর মতিঝিলে জনতা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই ভবনটির ৯ তলায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে জনতা টাওয়ারের নয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

কেরানীগঞ্জে শিশু শ্রমিকের পায়ুপথে বাতাস

রাজধানীর উপকণ্ঠ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক কারখানায় এক শিশু শ্রমিকের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়েছে দুই সহকর্মী। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। শিশুটির নাম সূর্য নারায়ণ (১৫)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সোমবার রাতে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু সূর্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আলুকান্দা ইস্টার্ন জার এলাকায় ‘ইয়ার প্লাস্টিক’ কারখানায় কাজ করেন। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে বোতল ফোলানোর কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ দিয়ে ফিলিমন ও এলিশন নামের কারখানার দুই সহকর্মী সূর্যের পায়ুপথে বাতাস ঢুকায়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির সহকর্মীরা জানিয়েছে দুষ্টুমির ছলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়েছে দুই সহকর্মী। এটি দুষ্টুমির ছলে হয়েছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

চিকুনগুনিয়া কল সেন্টারে মিলছে না চিকিৎসা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চিকুনগুনিয়া কল সেন্টারে ফোন করে সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী। বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডিএসসিসির কল সেন্টারের নম্বরে ফোন করে সমস্যার কথা জানালেও তারা বাসায় কোনো সেবা পাননি। বেশির ভাগ সময় কল সেন্টারের নম্বরগুলো ব্যস্ত পেয়েছেন। কখনও কখনও কল ঢুকলেও রিসিভ হয়নি। কল সেন্টারে ফোন করলে সেবা পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। এ কারণে সংক্ষুব্ধরা বলছেন, সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ডিএসসিসি চিকুনগুনিয়া কল সেন্টার চালু করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেয়ার ইচ্ছা ও সক্ষমতা নেই ডিএসসিসির। ২০ জুলাই ডিএসসিসি চিকুনগুনিয়া রোগীদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টার সেবা চালু করে। এটি ব্যাপকভাবে প্রচারও করছে ডিএসসিসি। কল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীকে চিকুনগুনিয়ার ব্যাপারে পরামর্শ, চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়া হয়। ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী নগরবাসী ডিএসসিসির কল সেন্টারে ফোন করলেও আশাহত হয়েছেন অনেকেই। চিকুনগুনিয়া কল সেন্টারে ফোন করে সেবা না পাওয়ার বিষয়ে যুগান্তর অফিসে ফোন করে অভিযোগ করেছেন অন্তত অর্ধশত নগরবাসী। আজিমপুরের বাসিন্দা আউয়াল হোসেন বলেছেন, ডিএসসিসির কল সেন্টার (০৯৬১১০০০৯৯) ফোন করে সমস্যার কথা জানালেও কোনো সেবা পাননি। যাত্রাবাড়ীর ইকবাল হোসেন বলেছেন, শনিবার সকালে ডিএসসিসির কল সেন্টারে ১৫-২০ বার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। দুপুরের পর কল ঢুকলেও কেউ সাড়া দেননি। খিলগাঁওয়ের ইমদাম হোসেন বলেন, আমার মেয়ে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে বাসায় চিকিৎসা চলছে। ডিএসসিসির চিকুনগুনিয়া কল সেন্টারের ঘোষণা শুনে, কল সেন্টারের নম্বরে ফোন করি। তারা আমার নম্বর ও বাসার ঠিকানা নিয়ে বাসায় ডাক্তার পাঠানোর কথা বললেও পাঠায়নি। তার মতে, ডিএসসিসি সেবার নামে প্রকারান্তরে নগরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করছেন। প্রসঙ্গত, এবারের বর্ষার মৌসুমের শুরু থেকেই ঢাকা শহরে মশার উপদ্রব অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। প্রথমদিকে এ ব্যাপারে নীরব ছিলেন ঢাকার দুই মেয়র। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গণমাধ্যম বরাবরের মতো সোচ্চার হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দুই মেয়রের নির্বিকার অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। এরপর দুই মেয়র মশক নিয়ন্ত্রণে রাজপথে নামেন। ডিএসসিসির তথ্যমতে, চিকুনগুনিয়া কল সেন্টার চালুর পর গত ২০, ২১ ও ২২ জুলাই কল সেন্টারে ফোন কল এসেছে প্রায় ৮০ হাজার। ডিএসসিসি এলাকার বাইরে থেকেও কিছু ফোন কল পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য ৮৪০ জন ফোন করেছেন। এদের মধ্যে ৪০৬ জন রোগীকে বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর ৩৩৩ জনকে ফিরতি কল করে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরে ফিরতি কল করে ১০১ জনকে পায়নি ডিএসসিসি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডে চিকুনগুনিয়া চিকিৎসাসেবা দিতে অর্ধশত ডাক্তার ও প্যারামেডিকস কাজ করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ডাক্তার বা প্যারামেডিকস দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে ডিএসসিসি সেটা করতে পারেনি। দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ করার এসব ডাক্তার ও প্যারামেডিকসদের দৈনিক ৫০০ টাকা করে সম্মানী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র। ডিএসসিসির কল সেন্টার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংস্থার সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন যুগান্তরকে বলেন, সিনেসিস আইটিকে কল সেন্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই আইটি প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ কারণে কল সেন্টার সার্ভিসে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে কতদিন মেয়াদে এবং কত টাকার বিনিময়ে কল সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব এখনও ঠিক হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে তাদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে এটা নির্ধারণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সার্বক্ষণিক অর্ধশত ডাক্তার ও প্যারামেডিকস বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। যতদিন চিকুনগুনিয়া থাকবে, ততদিন এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল যুগান্তরকে বলেন, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও আক্রান্তদের সহযোগিতার জন্য নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি আমরা। ইতিমধ্যে এর সুফলও পেতে শুরু করেছেন নগরবাসী। রোববার পর্যন্ত কেউ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এমন কোনো খবর পাননি বলে দাবি ওই কর্মকর্তার।

সুযোগ-সুবিধাসহ আরও ক্ষমতা চান ডিসিরা

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগ বহাল চান জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারের পদকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত চান তারা। অন্যান্য বাহিনীর মতো প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারাও বিদেশে শান্তি মিশনে যেতে চান। এছাড়া সরকারি মামলা-মোকদ্দমা মোকাবেলায় অর্থ বরাদ্দ ও সোর্সমানি বাড়ানো, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ভাতা, হাওর এলাকার জন্য ‘হাওর ভাতা’সহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। সারা দেশের ডিসিদের পাঠানো ৩৪৯টি প্রস্তাব নিয়ে আজ মঙ্গলবার তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন মাঠপ্রশাসনের ৬৪ ডিসি ও আট বিভাগীয় কমিশনার। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে মাঠপর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন। উদ্বোধনের পর বাকি অধিবেশনগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন চলবে ২৭ জুলাই পর্যন্ত। ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ৩৪৯টি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন বিভিন্ন জেলার ডিসিরা। এগুলো নিয়ে তিন দিনে ২২টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবগুলোর উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হল- সম্মেলনকে সামনে রেখে মোবাইলকোর্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন একাধিক ডিসি। তারা এ কোর্টের বিচারিক ক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসির) অন্তত ৮টি ধারা সংশোধনসহ আইন ও বিচার সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছেন তারা। সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেছেন ডিসিরা। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়নের সময় কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করাসহ এ আইনের আরও কয়েকটি ধারা পরিবর্তন চান তারা। কয়েকজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার বলেছেন, বিভাগীয় কমিশনারের পদটি প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ। কমিশনাররা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের যাবতীয় কাজের সমন্বয় করে থাকেন। কর্মপরিধি ও কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় এ পদটিকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করা দরকার। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়সহ যে কোনো পরিস্থিতিতে সিভিল প্রশাসন সবার আগে আত্মনিয়োগ করে। প্রশাসন ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে বিদেশে শান্তি মিশনে কাজের সুযোগ দেয়া হলে দেশের সুনাম রক্ষায় কাজ করতে পারবেন। নরসিংদীর জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি তেলের পরিমাণ মাসে ১৮০ লিটার থেকে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক হাওর এলাকার পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ‘হাওর ভাতা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
সরকারি মামলা-মোকদ্দমা মোকাবেলায় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক বলেছেন, সরকারি স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে ডিসি ও ইউএনওদের প্রায়ই বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন হতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার দায়ে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে হয়। এক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হলে কর্মকর্তাদের কাজের স্পৃহা বাড়বে। সোর্সমানি দেয়ার প্রস্তাব করে দিনাজপুরের ডিসি বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড যেমন- সন্ত্রাস, জঙ্গিতৎপরতা, সহিংসতা, চোরাচালান, মাদকের অপব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমনে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়। এজন্য ডিসিদের অনুকূলে সোর্সমানি বরাদ্দ করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক গাড়ি মেরামতের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করার প্রস্তাব করেছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবহন পুলের চালক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়ারও প্রস্তাব করেছেন। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের মোবাইল ফোন ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন ডিসি ইন্টারনেট ভাতা চালু করার প্রস্তাব করেছেন। তিন দিনের ডিসি সম্মেলন নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও ডিসিদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ বছর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে ৩৪৯টি প্রস্তাব এসেছে। এগুলো ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত। শফিউল আলম বলেন, মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে শুনবেন ও নির্দেশনা দেবেন। প্রথম দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ অধিবেশন হবে। এরপর ২৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন ডিসিরা। এটা হবে বঙ্গভবনের দরবার হলে। তিন দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১৮টি কার্য অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। কার্য অধিবেশনগুলোয় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শফিউল আলম জানান, ডিসি সম্মেলনে ২২টি অধিবেশন, ৫২টি মন্ত্রণালয়ের ১৮টি কার্য অধিবেশন থাকবে। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেবেন। ২৭ জুলাই বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অধিবেশন। গত বছরের ডিসি সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘গত বছরের ডিসি সম্মেলনে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাস্তবায়নের হার সাধারণত এমনই হয়।’

বোর্ড পরীক্ষায় নৈরাজ্য

বোর্ডের পরীক্ষা পদ্ধতিতে নৈরাজ্য চলছে। ঘন ঘন পরিবর্তন করা হচ্ছে শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি। দফায় দফায় পরিবর্তন করা হচ্ছে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থার। যখন যা ইচ্ছা কর্তৃপক্ষ তাই করছে। তারা নির্ধারিত নিয়মে যেতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানিয়ে তাদের ওপর গবেষণা চালানো হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফল এবং শিক্ষার মানের ওপর। শিক্ষাব্যবস্থায় এ গলদের কারণে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এগুলোকে শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব কারণে শিক্ষাদান, পরীক্ষা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনাসহ শিক্ষা খাতে অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। তারা শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নের নামে নানা ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে মন্ত্রণালয়। প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হিসেবে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের দুর্বল বাস্তবায়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু টাকারই শ্রাদ্ধ হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শিক্ষাব্যবস্থায় গলদের কারণে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না। ফি বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো দারুণভাবে ফুটে ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রোববার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর খোদ শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য কেন্দ্র করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার মূল সংকট কোথায়- দক্ষ ও মেধাবী জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে, না পাস-ফেল নির্ণয় কিংবা খাতা অতিমূল্যায়ন-অবমূল্যায়ন ইস্যুতে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘পরীক্ষায় মূল্যায়নের তৎপরতার চেয়ে শিক্ষার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার। ক্লাসরুমে কী পড়ানো হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এদিকে খেয়াল না রেখে কেবল ফলাফল নিয়ে ভাবলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব হবে না।’ তিনি উত্তরপত্র মূল্যায়নে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের সমালোচনা করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কেন একেকবার একেক রকম পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছে? এগুলো খুবই নৈরাজ্যজনক। কর্তৃপক্ষ যখন যা ইচ্ছে তাই করছে। তারা নির্ধারিত নিয়মে যেতে পারছে না। অথচ ইংরেজি মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলা মাধ্যমে একেক সময় একেকভাবে হচ্ছে। এতে করে বাংলা মাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। এসব বন্ধ করে সবকিছু একটি নিয়মের মধ্যে এনে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।’ কয়েক বছর ধরে শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি এবং কারিকুলাম ও পাঠ্যবই ঘন ঘন পরিবর্তন করা হচ্ছে। শিক্ষা পদ্ধতিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে ওলটপালট করা পরিবর্তনের নাম ‘সৃজনশীল শিক্ষা’। ২০০৬ সালে এই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে। তখন অবশ্য অভিভাবকদের বাধার মুখে সরকার তা চালু করতে পারেনি। পরে ২০১০ সালে কেবল দুই বিষয়ের পরীক্ষা এই পদ্ধতিতে নেয়া হয়। ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছিল। নতুন কারিকুলামের আলোকে ২০১৩ সালে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হয় পাঠ্যবই। এরপর শুরু হয় তা পরিবর্তনের হিড়িক। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং চলতি বছরও এসব বই পরিমার্জন-পরিবর্তন হয়েছে। আগামী বছরের বইও পরিবর্তনে দুটি কমিটি কাজ করছে। ২০০২, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১০ সালেও পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়। পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় মৌলিক পরিবর্তন আসে ১৯৯১ সালে। ওই বছর এসএসসিতে চালু করা হয় ৫০ নম্বরের এমসিকিউ। প্রথমে প্রতি বিষয়ে ৫০০টি প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা কেবল এগুলো পড়ে পাস করছে দেখে পরে প্রশ্নের সংখ্যা তুলে দেয়া হয় ১৯৯৬ সালে। প্রথমদিকে রচনামূলক ও এমসিকিউতে আলাদা পাসের ব্যবস্থা ছিল না। পরে আলাদা পাস করা হয়। ২০০৮ সালে সৃজনশীল চালুর পর এমসিকিউয়ের পূর্ণ নম্বর কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়। পরে দুর্নীতির কারণে এ বছর থেকে ৩০ শতাংশ প্রশ্ন হচ্ছে এমসিকিউতে। গত দেড় দশকে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতিও অন্তত তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে গ্রেডিং পদ্ধতি, এসবিএ (স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন) ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর এসএসসি-এইচএসসিতে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
আরেক দফা মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনে বর্তমানে গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের তেমন চিন্তা নেই। শিক্ষাব্যবস্থা ঘিরে সৃষ্ট দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বরং গত কয়েক বছর ধরে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে গণহারে পাস করানোর জন্য তারা কাজ করেছেন। এ নিয়ে শিক্ষাবিদরা তখন প্রতিবাদ করেছেন। তারা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু তখন এসব স্বীকার করা হয়নি। উল্টো বেশি পাস আর জিপিএ-৫ এর পক্ষে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায় থেকে সাফাই গাওয়া হয়েছে। এ বছর পাসের হার কমে যাওয়ায় উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের ইস্যু টেনে আনা হয়েছে। রোববার খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্বীকার করলেন, আগে সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন হতো না। অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের শিকার হতো শিক্ষার্থীরা। এবার ঠিকমতো খাতা মূল্যায়িত হওয়ায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। কিন্তু শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাস-ফেল বা খাতা মূল্যায়ন বিষয়ে বাগাড়ম্বর নয়, আমাদের মূল সংকট হচ্ছে স্থায়ী শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষ ও মেধাবী জাতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। জাতীয়ভাবে আমরা এই সংকট আজও উত্তরণ ঘটাতে পারিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। মেধাবী জাতি গঠনে দরকার শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন। আমাদের ওই জায়গায় হাত দিতে হবে। সেভাবে গড়ে তুলতে হবে শিক্ষাব্যবস্থা। তারা আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মূল ভিত্তি উচ্চ মাধ্যমিক স্তর। কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার ভিত্তি তৈরি হয় এ স্তর পর্যন্ত। কিন্তু শিক্ষার এ স্তর পর্যন্ত স্থায়ী ধারাবাহিক কোনো পদ্ধতি না থাকায় শক্ত ভিত্তি তৈরি হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনোভাবে একটি সনদ নিয়ে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় নামছে। এ শ্রমবাজারে ন্যূনতম একটি সনদ নিয়ে যাওয়ার জন্য পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী) ও জেএসসির (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। আগে থেকে আছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্তর অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করছে না, শিখছে না। শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে দেশে স্থির কোনো নীতি নেই। এ নিয়ে কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত আছে। এতে শিক্ষার্থীরা গিনিপিগে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের এই বক্তব্যের সমর্থন মেলে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) গবেষণায়। রোববার প্রকাশিত যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দক্ষ শ্রমশক্তির দারুণ অভাব আছে। ২৬৫ পৃষ্ঠার ওই গবেষণায় দেশের দশটি খাতে ২০২০ সাল নাগাদ ৭ কোটি ৩০ লাখ কর্মী দরকার হবে। এই চাহিদা পূরণে প্রতিবেদনে ছাত্রছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত এবং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে পরীক্ষার্থী তৈরি করছি, শিক্ষার্থী নয়। শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, এক সময়ে খাতা অতি বা অবমূল্যায়িত হতো। কিন্তু যখন এ নিয়ে কথা উঠেছিল, তখন তিনি তা স্বীকার করেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কত সুন্দরভাবে পরীক্ষা নেয়া গেল, মান কিভাবে বণ্টন করা গেল আর জিপিএ-৫ কত পারসেন্ট পেল। এক সময় এটাই বলা হতো। অথচ এখন বলা হচ্ছে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতি ভুল ছিল। আমরা এখন সঠিক পদ্ধতি বের করেছি।’ অধ্যাপক ইসলাম আরও বলেন, ‘৩০ ভাগ শিক্ষার্থী যে ফেল করল- কেন ফেল করল, সে বিষয়ে দায়িত্বশীলরা কী নিজেকে কখনও জিজ্ঞেস করবেন?’ তিনি মনে করেন, ‘অবস্থাটা ক্রমাগত দিনে দিনে নিচের দিকে যাচ্ছে। আমরা শিক্ষা নিয়ে কখনই গভীরভাবে ভাবিনি। তিনি বলেন, শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। একবার পরিবর্তন আনলে তা ৫-৭ বছর রাখতে হবে। প্রতি বছর পদ্ধতি পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো যাবে না।’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা এখন কোচিংনির্ভর হয়ে গেছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই ক্লাসরুমে পাঠদান হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানাভাবে দুর্নীতি হচ্ছে। অভিভাবকরা আমাদের অবহিত করছেন। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকদের অনেক অসন্তোষ আছে। সার্বিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি চালু হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সম্পূর্ণ মেধাহীন সমাজ তৈরি হবে। অথচ প্রধানমন্ত্রী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেই সমাজ তৈরির উপযোগী নয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কাল (রোববার) শিক্ষামন্ত্রী খাতা মূল্যায়নের ব্যাপারে যে বক্তব্য দিলেন তাতে তিনি নিজের অবস্থানই খাটো করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এর আগে খাতা ঠিকমতো মূল্যায়ন হতো না। যে কারণে পাসের হার বা জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। এখন যদি আগের কোনো ছাত্র জবাব চায় যে, তাকে বেশি নম্বর দেয়া হল কেন? বা গতকাল পাস করা কোনো ছাত্র যদি জানতে চায় যে, আগে একজনকে বেশি নম্বর দিয়ে লাভবান করা হয়েছে। তাকে কম নম্বর দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাহলে এসব প্রশ্নের কী জবাব দেবেন শিক্ষামন্ত্রী? এই বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজেই বিপরীতমুখী অবস্থান নিলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন-কানুন, বিধি-নীতিমালা আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। ধরুন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নীতিমালা আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। আবার শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতিবাজ হিসেবে কেউ চিহ্নিত হয়, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কমবেশি শাস্তি হলেও তাকে পদে বহাল তবিয়তে রাখার ঘটনা আছে। এতে দুর্নীতিবাজরা বরং উৎসাহিত হয়। গণসাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্পে) উপপরিচালক কেএম এনামুল হক এ ব্যাপারে বলেন, কম্বোডিয়ায় এক সময় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষার্থী পাস করত। তখন সেখানকার নাগরিকরা শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর অর্জিত দক্ষতা ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক আপত্তি তোলেন। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার শিক্ষামন্ত্রী কঠোর হন। ২০১৪ সালে ঘোষণা করেন- পরীক্ষার হলে কোনো নকল হবে না, প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়। এমন কঠোরতায় ওই বছর পাসের হার ২৭ শতাংশে নেমে যায়। এ নিয়েও দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, তিন মাস পর রেফার্ড পরীক্ষা হবে। তিন মাস পরের পরীক্ষায় আরও ১৫ শতাংশ পাস করে। কঠোরতার এই ধারা অব্যাহত থাকায় ২০১৫ সালে পাস ৫৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬২ শতাংশ হয়। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষা আগস্টে হবে, তাই পাসের হার জানা যায়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কঠোরতায় সেখানে পাসের হার এবং শিক্ষার মান দুটিই বেড়েছে। আমরাও মোটা পাসের হার চাই না। কতজন ফেল করল সেটা মুখ্য নয়। মুখ্য হচ্ছে, কলকারখানা, সরকারি-বেসরকারি চাকরিসহ রাষ্ট্রে কী পরিমাণ দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি লাগবে- তা তৈরি করতে পারছি না। সেই উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চাই।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রুল: রায় ৩০ জুলাই



দুই দফা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৩০ জুলাই দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।  সোমবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এদিন ঠিক করেন। আদালতে বিইআরসি’র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিতাস গ্যাসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুব্রত চৌধুরী ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। এ মূল্যবৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কনজুমার কমপ্লেইন হ্যান্ডলিং ন্যাশনাল কমিটির আহ্ববায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১ জুন থেকে দ্বিতীয় দফা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিইআরসির পক্ষে আপিলে আবেদন করার পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। পাশাপাশি আপিল বিভাগ রুল শুনানি করতে নির্দেশ দেন। সে অনুসারে হাইকোর্টে রুল শুনানি শেষ হয়। বিইআরসি ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ থেকে প্রতি চুলা গ্যাসের দাম ৭৫০ টাকা, এটা জুনে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৯০০ টাকায়। আর মার্চ থেকে দুই চুলা গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা, যা জুনে গিয়ে দাঁড়ায় ৯৫০ টাকায়। অন্যদিকে মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি গ্যাসের দাম বাড়ে ৩৮ টাকা। যেটা জুনে বেড়ে ৪০ টাকা হয়। মার্চ থেকে গ্যাসের বাণিজ্যিক ইউনিট প্রতি খরচ ১৪.২০ টাকা, আর জুন থেকে এ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ে ১৭.৪০ টাকায়। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেছিলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটে৷ কিন্তু সরকার ২৩ তারিখের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ১ মার্চ ও ২ জুন থেকে দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।

'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ব্যাপারে প্রভাবিত করবেন না'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকৃত শিল্পী ও কলা-কুশলীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ব্যাপারে কেউ কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন না। খবর বাসসের। তিনি সোমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ বিতরণকালে বলেন, আমি আশা করবো এ ধরনের পুরস্কার প্রদানকালে এ ব্যাপারে কেউ কাউকে প্রভাবিত করবেন না। আমি চাই প্রকৃত শিল্পী ও কলা-কুশলীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মনোযোগী হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু আমরা এর অপব্যবহার হোক তা চাই না। আমি প্রত্যেককে এ ব্যাপারে কোনো চাপ সৃষ্টি না করার অনুরোধ করবো।
প্রধানমন্ত্রী বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ২৫টি ক্যাটাগরিতে ৩১ জন শিল্পী ও কলা-কুশলীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমাতুল্লাহ। শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান এবং তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তার সরকার এর জন্য যা করা দরকার তা করবে। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ বিতরণকালে বলেন, আমরা বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদেরই চাই যাদের সিনেমায় দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকবে এবং পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক প্রশংসা। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে থাকতে চাই না এবং আমি কথা দিচ্ছি যে, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা আমরা করবো।

বাকপ্রতিবন্ধী শ্রমিককে গলাকেটে হত্যা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মোর্শেদ আলী (৩৫) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী শ্রমিককে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। মোর্শেদ ভাংনামারী ইউনিয়নের চরভাংনামারী গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বয়রাবাজারে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, বাকপ্রতিবন্ধী মোর্শেদ ময়মনসিংহের মেছুয়া বাজারে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতো। প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার বয়রাবাজার এলাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করে। পথচারীরা দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মোর্শেদের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।

জাহাজে পণ্য খালাসের সময় ২ শ্রমিক নিহত

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় পড়ে গিয়ে মো. আতিক ও মো. সোহেল নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বন্দরের আট নম্বর জেটিতে ‘এমভি লতিকা নারী’ নামের জাহাজ থেকে পড়ে নিহত হন তারা। চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম যুগান্তরকে জানান, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই জাহাজের বাল্ক ক্যারিয়ার থেকে গাছের গুঁড়ি নামানোর সময় ধাক্কা লেগে দুই শ্রমিক ডেকে (জাহাজে পণ্য রাখার স্থান)  পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান বন্দরের ওই পরিচালক।

২১ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক

পদ্মার ঢেউ কমে যাওয়ায় প্রায় ২১ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ওই নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ফরিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, পদ্মায় ঢেউ কমে যাওয়ায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে সর্বমোট ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করছে বলেও জানান বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ'র ওই কর্মকর্তা।

জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ যুবকের

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের দায়ে আনোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল বারেকের ছেলে আনোয়ারকে শাস্তি হিসেবে ছাত্রীর নামে পাঁচ গণ্ডা জমিও লিখে নেয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। সোমবার বেলা ১১টায় শ্রীপুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। যুবকের ভাই সানোয়ার হোসেন বলেন, একই গ্রামের ও স্থানীয় ধনুয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সম্পর্কে আমাদের ভাগ্নি। গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান যৌথভাবে সালিশ বৈঠক করে প্রথমে লাঠিপেটা ও পরে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরায়। শুধু তাই নয় আমাদের পাঁচ গণ্ডা খাস জমিও ওই ছাত্রীর নামে লিখে নেয়া হয়েছে। ছাত্রীর মামা আবুল কালাম বলেন, আমার ভাগ্নি এতিম। ছোট থেকেই তাকে লালন-পালন করে আসছি। রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই যুবক ভাগ্নির পথরোধ করে। পরে তার ওড়না ধরে টানাটানি করে। একপর্যায়ে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সে চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে যুবকটি পালিয়ে যায়। সোমবার নয়াপাড়া বাজারে সালিশ হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, যুবককে লাঠিপেটার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে মেয়েটির শ্লীলতাহানি করেছে। গরু চুরির মামলায় কয়েকদিন আগে সে জেল খেটে বের হয়েই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘুরানোর সিদ্ধান্ত এলাকাবাসীর। তাছাড়া মেয়েটি এতিম হওয়ায় যুবকের পরিবারের দখলে থাকা পাঁচ গণ্ডা খাস জমি মেয়ের নামে লিখে দেয়া হয়েছে। শ্রীপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, আমি সন্ধ্যার পর ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার আমিনুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

কক্সবাজার শহর ও রামুতে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা এবং রামু উপজেলার মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- মোহাম্মদ শাহেদ (১৮) ও সাদ্দাম হোসেন (২৮)। তাদের বাড়ি কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায়। শিশু সায়মা (৫) ও জিহান (৭) রামুর চেইন্দা এলাকার জিয়াউর রহমানের সন্তান। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, রামুর চেইন্দা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের সায়মা ও জিহান নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাটিচাপা পড়া অবস্থায় তাদের বাবা জিয়াউর রহমান (৩৫) ও মা আনার কলিকে (২৯) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দম্পতিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় অপর পাহাড় ধসের ঘটনায় মোহাম্মদ শাহেদ ও সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও আরফাত হোসেন-কে (৩০) আহত  অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গত তিনদিন ধরে কক্সবাজার জুড়ে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। অমানিশার জোয়ার, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি উপকূল সমতল সবখানেই প্লাবিত হচ্ছে। সোমবার রাত ১০টার পর হতে মুষলধারে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত ভোররাতের দিকে এ পাহাড় ধ্বসের ঘটনার জন্ম দেয়। কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী, উখিয়া, টেকনাফেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের নাম তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। পাহাড় ধ্বস এলাকার মাটি সরানোর কাজ দ্রুত চলছে বলে জানান স্থানীয়রা। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, শনিবার থেকে কক্সবাজার জুড়ে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন কিবরিয়া

সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আরেক ‘খলিফা’ একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার। শিক্ষামন্ত্রীর আশীর্বাদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর বোর্ডকে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছেন। টাকার বিনিময়ে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন, যত্রতত্র পরীক্ষা কেন্দ্র ও ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্রের অনুমতি দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে তার ছত্রছায়ায়। তবে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ তিনি শিক্ষামন্ত্রীর লোক। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগধারী হয়েও বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া তাপাদার। এক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম বিভাগ থাকা একাধিক প্রফেসরকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বোর্ডের লোকজনের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। কলেজ শিক্ষকরাও ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী তৃতীয় বিভাগধারীকে শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষপদে বসিয়ে প্রকৃত মেধাবীদের প্রতি অবিচার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতিকে ভুল বার্তা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিলেই বোর্ডের অধীনে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন, যত্রতত্র পরীক্ষা কেন্দ্র ও ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্রের অনুমতি মেলে। এছাড়া জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসনের অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি, স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন, ছাড়পত্র প্রদান, সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনেও চলে টাকার খেলা। স্কুল ও কলেজগুলোতে সঠিকভাবে পাঠদান হচ্ছে কিনা, সেই তদারকিও হয় না। সিলেটে অনুমোদন ছাড়া অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বোর্ড। এছাড়াও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রেসকে টাকার বিনিময়ে বোর্ডের কাজ দেয়া হচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ যখন কমিউনিস্ট পার্টিতে ছিলেন তখন বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের বাসিন্দা একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার ওই পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ওই পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। তখন থেকেই নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। এমএ পাস করে বিয়ানীবাজার কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন গোলাম কিবরিয়া। ১৯৮৮ সালে বিয়ানীবাজার কলেজ সরকারি হলে কলেজের সব শিক্ষক আত্তীকরণ হলেও আটকে যান তিনি। গোলাম কিবরিয়ার একজন সহপাঠী যুগান্তরকে জানান, চাকরি হারানোর ক্ষোভে ১৯৮৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের ভাই গোলাম মর্তুজাসহ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি তৎকালীন অধ্যক্ষ মাহবুবুর রশীদ চৌধুরীর ওপর হামলা চালান। এ সময় অধ্যক্ষকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনার কথা স্বীকার করলেও গোলাম কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘সে হামলা হয়েছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে, তার চাকরি হারানোর ঘটনায় নয়।’ জানা যায়, আত্তীকরণ আটকে গেলে আদালতে রিট করেন গোলাম কিবরিয়া। এরপর তার চাকরি সরকারি হয়। এজন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১২ বছর। সরকারিকরণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি বিয়ানীবাজার কুড়ারবাজার কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের রায়ে ২০০০ সালে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি চাকরি ফিরে পান। প্রভাষক পদে যোগদান করলেও কয়েক বছরের মধ্যে ডাবল প্রমোশন পেয়ে যান তিনি। প্রভাষক থেকে সিনিয়রিটি চেয়েও আদালতে রিট করেন তিনি। আদালতের রায়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ না করেই প্রমোশন পেয়ে হয়ে যান সহযোগী অধ্যাপক। গোলাম কিবরিয়া যখন প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন তখন বিসিএস দিয়ে কলেজের শিক্ষকতায় যোগদানকারী অনেকেই ছিলেন সহকারী অধ্যাপক। তারা এখনও সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে আছেন। কিন্তু গোলাম কিবরিয়া অধ্যাপক হিসেবে সিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাকে চেয়ারম্যান করতে প্রায় আড়াই বছর ওই পদটি খালি রাখেন। ২০১৪ সালে সচিব হিসেবে যোগদান করেই মন্ত্রীর আশীর্বাদে তিনি পেয়ে যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। মাঝে কিছুদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন অর্থমন্ত্রীর আত্মীয় অধ্যাপক মমতাজ শামীম। তিনি অবসরে চলে গেলে ফের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন কিবরিয়া। অবশেষে গত বছরের নভেম্বরে তিনি ভারমুক্ত হন। দায়িত্ব পান চেয়ারম্যানের। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ বছর ধরে তিনি এ দায়িত্বে আছেন। চেয়ারম্যান পদ খালি থাকাকালে একাধিক অধ্যাপক চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য চেষ্টা করলেও শিক্ষামন্ত্রী না চাওয়ায় কেউ সফল হতে পারেননি। চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম কিবরিয়ার এ সময়কালে বোর্ডে নানান দুর্নীতির পাশাপাশি প্রিন্টিং কাজ নিয়েও চলে ভয়াবহ কমিশন বাণিজ্য। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের জুন মাসে নগরীর লালবাজার এলাকার ইলেকট্রো অফসেট প্রেস নামের একটি প্রেসকে সিলগালা করে দেয় পুলিশ। প্রেসটি যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ফাঁসি হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পোস্টার ছাপাচ্ছিল। কিন্তু সিলগালা করার মাত্র দুই মাস পর ওই ছাপাখানাকেই দেয়া হয় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন মুদ্রণ, বাঁধাই ও সেলাইয়ের কাজ। চলতি বছরের এসএসসি, এইচএসসি এবং গত বছরের শেষ হওয়া জেএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কাভার পৃষ্ঠা মুদ্রণ, বাঁধাই ও সেলাইয়ের ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৯২০ টাকার কাজ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম কিবরিয়ার বক্তব্য হল- সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে বিধি অনুসারেই এ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। এতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। সিলগালা করার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তাছাড়া ছাপাখানাটিকে খুব গোপনীয় কোনো কাজ দেয়া হয়নি। উত্তরপত্রের মোড়কসহ কিছু ছোট কাজ ওই প্রেসকে দেয়া হয়েছিল। এদিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া তাপাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের বিরক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে শিক্ষক থাকাকালে ছাত্রীদের বিভিন্ন রসাত্মক কথা বলে বিরক্ত করতেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সে সময়ের এক শিক্ষক জানান, মেয়েরা (ছাত্রী) নানান সময় গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেনি। অনেক সময় দেখা গেছে ছেলেরা ক্লাসে না থাকলে গোলাম কিবরিয়ার ক্লাস মেয়েরা বর্জন করেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেও ওই অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি বলে জানা গেছে। এখনও তিনি বিভিন্ন সময় মোবাইলে মহিলাদের সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে বিরক্ত করে থাকেন। ভুক্তভোগীরা জানান, মোবাইল কল চেক করলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন গোলাম কিবরিয়া। শিক্ষাজীবনে একটি তৃতীয় বিভাগ থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিধি মোতাবেক প্রমোশন পেয়ে অধ্যাপক হয়েছি। এখানে শিক্ষামন্ত্রীর কোনো হাত নেই।’ বোর্ডের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে বোর্ডে কোনো কাজ হয় না। সবকিছু চলে বিধি মোতাবেক। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণের সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত বছর এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে অনুমোদনহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বোর্ডের কিছু করার নেই। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব শিক্ষা অধিদফতরের।’

প্রধান বিচারপতিকে সঠিক তথ্য দেননি বিচারক

প্রধান বিচারপতিকে সঠিক তথ্য দেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচারক বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইন। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে পাঠানো কারণ দর্শানোর চিঠির জবাবে সালমনের জামিন বাতিল করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে আদালতের হাজত রেজিস্টারসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, প্রথম শুনানিতেই তার জামিন বাতিল করেছিলেন বিচারক মো. আলী হোসাইন। এদিকে বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের ঘটনায় ‘নিজেদের দায়িত্ব যথাযথ পালন না করতে পারায়’ বরিশাল ও বরগুনার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাদের জায়গায় হাবিবুর রহমান ও মোখলেসুর রহমান নামে দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনও তারিক সালমনের গ্রেফতারের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া এই বিচারকের বিরুদ্ধে উঠেছে মাসের পর মাস বিনা ভাড়ায় লঞ্চে ভ্রমণের অভিযোগ। পছন্দমতো বিনা ভাড়ার টিকিট না পাওয়ায় নৌযানের কর্মকর্তাকে পুলিশ দিয়ে ডেকে নেয়ার অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আরও জানা গেছে, জামিন বাতিলের দিন আদালত কক্ষে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে একজন বর্তমান এবং একজন সাবেক এমপিসহ প্রায় ৬০-৭০ জন আওয়ামী লীগ নেতার (আইনজীবী) উপস্থিত থাকা নিয়েও শুরু হয়েছে তোলপাড়। প্রসঙ্গত, তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন’ অভিযোগ করে ৭ জুন মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই তারিক সালমন আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। একই বিচারক দুই ঘণ্টা পর ইউএনও তারিকের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত প্রাঙ্গণে ইউএনও তারিককে পুলিশ ধরে নেয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে তার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওই ছবিতে বিকৃত করার মতো কিছু তারা দেখেননি বরং এটি একটি ‘সুন্দর কাজ’। এই সমালোচনা আর ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তারিক সালমনকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকে শনিবার সরিয়ে দেয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে রোববার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবিটি যে শিশুর আঁকা- তা তার জানা ছিল না। এদিকে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ ওঠার পর বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকেও তারিক সালমনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো কিছু তারা পাননি। এ কারণে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতিকে সঠিক তথ্য দেয়া হয়নি : ইউএনও তারিক সালমনের ঘটনা জানতে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দফতর থেকে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয় বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইনকে। জবাবে বিচারক বলেছেন, ইউএনও’র জামিন বাতিল করা হয়নি। তবে তার এ দাবি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন ঘটনার দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্ব পালনকারী কোর্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নৃপেন্দ্র কুমারসহ সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ওইদিনের হাজত রেজিস্টারে ইউএনও তারিক সালমনকে যে হাজতে নেয়া হয়েছিল তার লিখিত প্রমাণও রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যাসহ সংশ্লিষ্ট মামলার নথি চাওয়া হয়। তিনি রোববার সেটা অনলাইনে পাঠিয়েছেন।’ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিচারক আলী হোসাইনের পাঠানো ২ পৃষ্ঠার ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার দিন ১৯ জুলাই তিনি ইউএনও তারিক সালমনের জামিন বাতিল করেননি। তিনি তার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আদালতের কার্যপ্রণালি শেষে এজলাস ত্যাগ করে খাস কামড়ায় এসে শুনি যে, ইউএনও সাহেবের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ইউএনও সাহেবের জামিন একটিবারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি। ফলে জেলহাজতে পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। শুনানি চলাকালে উৎসুক জনসাধারণের রোষানল থেকে ইউএনও সাহেবের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি শুনানি মুলতবি করি এবং ইউএনও সাহেবের কৌঁসুলির নিবেদন অনুসারে কাগজাত দাখিল করতে বলি এবং আরও মৌখিক আদেশ দিই যে, কাগজাত দাখিলের পরে পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আমি তখন ইউএনও সাহেবকে আদালত কক্ষে বসতে বলি।’ ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ‘অতঃপর ইউএনও সাহেবের পক্ষে কাগজাত হলে এবং উত্তেজনার অবসান হলে জামিনের দরখাস্ত এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারার দরখাস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া পালনপূর্বক মঞ্জুরক্রমে সসম্মানে জামিন প্রদান করা হয়।’ প্রথমে শুনানির পর জামিন মঞ্জুরের আদেশ না দেয়ার পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে আলী হোসাইন বলেন, ‘ইউএনও’র আদালত কক্ষ ত্যাগের পর তার নিরাপত্তা যাতে বিঘিœত না হয় এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি তা করেছিলেন।’ বিচারক আলী হোসাইন রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে এভাবে তার ব্যাখ্যা দিলেও তার কোনো সত্যতা মেলেনি। বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান জানান, ‘আদালতে প্রথম দফায় তারিক সালমনের জামিন বাতিল করে তাকে হাজতে পাঠানোর পর তারিক সালমন নিজেই আমাকে ফোন করে জানান, তার জামিন বাতিল হয়েছে এবং তাকে হাজতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কে জানাই এবং তার জামিনের ব্যাপারে উদ্যোগী হই।’ তারিক সালমন নিজেও বিভিন্ন সময়ে যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রথমে তার জামিন নামঞ্জুরের ঘোষণা দেন বিচারক আলী হোসাইন। ওইদিন আদালতের কোর্ট হাজতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নৃপেন্দ্র কুমার জানান, ‘আদালতে দায়িত্ব পালনরত সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর শচিন ইউএনও সাহেবকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। আদালতে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন বলে জানান আমাকে। সে অনুযায়ী হাজত রেজিস্টারের ১নং সিরিয়ালে ইউএনও সাহেবের নাম হাজতি হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে তাকে হাজতে না ঢুকিয়ে চেয়ারে বসতে দিই আমি। ঘণ্টা দুয়েক পরে শুনি যে তার জামিন হয়েছে। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।’ বিচার কক্ষ থেকে ইউএনও তারিক সালমনকে কোর্ট হাজতে নিয়ে যাওয়া পুলিশের সহকারী সাব ইন্সপেক্টর শচিন ঢালি যুগান্তরকে বলেন, ‘বিচারক নিজে তাকে জামিন না দেয়ার ঘোষণা দেন। এটা আমি নিজ কানে শুনেছি। তাছাড়া আদালতের পেশকারও আমায় বলেন যে তার জামিন বাতিল হয়েছে। এরপর আমি তাকে নিয়মানুযায়ী হাজতে নিয়ে যাই। তবে আমি তার হাতে কোনো হাতকড়া পরাইনি।’ মামলার বাদী বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ সাজু যুগান্তরকে বলেন, ‘বিচারক আলী হোসাইন প্রথম দফায় ইউএনও তারিক সালমনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। শতাধিক মানুষের সামনে তিনি ওই নির্দেশ দেন।’ ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী বলেন, ‘প্রথম দফায় বিচারক কর্তৃক জামিন বাতিলের আদেশ হওয়ার পর আদালতে হর্ষধ্বনি করে ইউএনও সালমন তারিকের বিরুদ্ধে কোর্টে দাঁড়ানো আইনজীবীরা। পরে বার লাইব্রেরির অফিস কক্ষে গিয়ে ভি চিহ্ন দেখিয়ে উল্লাসমুখর ছবি তোলেন তারা। সেই ছবি পরদিন বরিশালের স্থানীয় দৈনিকে ছাপা হয়।’
দুই ডিসি প্রত্যাহার : গাজী তারিক সালমনের বরিশালে নাজেহাল হওয়ার ঘটনায় সারা দেশে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ কারণে দুই জেলার ডিসিকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান যুগান্তরকে বলেন, ‘বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের জায়গায় নতুন দু’জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্ব পালন করে আসা হাবিবুর রহমানকে জেলা প্রশাসক করে পাঠানো হয়েছে বরিশালে। আর বরগুনার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোখলেসুর রহমান। দুই ডিসিকে প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘তারা যে দায়িত্বে ছিলেন, তা পুরোপুরি পালন করতে পারেননি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি : গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা ও তার পরের ঘটনাপ্রবাহে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা। গত ২২ জুলাই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন ‘কোনো ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, আইনের অপব্যবহার বা আইনের বাইরে কিছু হয়েছে কি-না সেটা উনারা দেখবেন।’ ইউএনও নাজেহালের ঘটনা এ পর্যায়ে আসা পর্যন্ত মাঠ প্রশাসনের কোনো গাফিলতি আছে কি-না এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব। তবে ইনিশিয়ালি যাদেরকে আমরা দোষী মনে করছি বা সরকার মনে করবে, তাদের ব্যাপারে হয়তো অ্যাকশনে যেতে পারে। এটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, জনপ্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’
বিনা ভাড়ায় লঞ্চ ভ্রমণ : একটানা ৭ মাস সার্কিট হাউসের ভাড়া প্রদানই কেবল নয়, বছরের পর বছরজুড়ে লঞ্চে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণেরও অভিযোগ উঠেছে ইউএনও তারিক সালমনের মামলার বিচারক বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে। গেল ঈদুল ফিতরে বিনা ভাড়ায় পছন্দসই সিট দিতে না পারায় ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী ওয়াটার বাস গ্রীন লাইনের কর্মকর্তা মো. লিপটনকে পুলিশ দিয়েও ডেকে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার শিকার লিপটন জানান, ‘প্রায় আড়াই বছর আগে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল শুরু করে গ্রীন লাইন। এই সার্ভিসে প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা যেতেন মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইন। সার্ভিস চালু হওয়ার ৪/৫ মাস পরে একদিন তার আদালতের পেশকার সুমন হাওলাদার আমাদের অফিসে এসে তার জন্যে প্রথম শ্রেণীর একটি সৌজন্য টিকিট চান। আমরা দিতে রাজি না হওয়ার বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। পরে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে টিকিট দিতে রাজি হলে সৌজন্য লিখে দেয়া বা সৌজন্য সিল দিতে নিষেধ করেন তিনি। এইবার আমরা কঠোরভাবে তা দিতে অস্বীকার করলে আবার শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। পরে ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা তা দিতে বলেন। সেই থেকে প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় নিজের পছন্দসই আসনে বিনা ভাড়ায় ঢাকায় যেতেন বিচারক আলী হোসাইন। গেল ঈদুল ফিতরে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে বিনা ভাড়ায় তার পছন্দের সিট দিতে ব্যর্থ হলে পুলিশ দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডেকে নেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা অবশ্য আমাদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেননি। পুরো ঘটনা শুনে সসম্মানে পাঠিয়ে দেন তারা।’ এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিচারক আলী হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ডায়াল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি তার পেশকার সুমন হাওলাদারও রাজি হননি মন্তব্য করতে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘বিচারক আলী হোসেন ফোনে আমাদেরকে গ্রীন লাইনের টিকিট দেয়া নিয়ে জটিলতার কথা বলে তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী লিপটনকে থানায় আসার জন্য বলা হয়। কিন্তু পুরো ঘটনা শুনে আমরা এ ব্যাপারে আর কোনো ব্যবস্থা নেইনি। তাদেরকে থানা থেকেই বিদায় দেয়া হয়।’ বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন বিচারকের এমন আচরণ সত্যিকার অর্থেই হতাশাজনক। এটা পুরোপুরি নীতি নৈতিকতাবহির্ভূত। বিচারকের আসনে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোক্রমেই আশা করা যায় না।’
আদালতে ছিলেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা : ১/২ কিংবা ৮/১০ জন নয়, ইউএনও তারিক সালমনের জামিন আবেদন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর পক্ষে সেদিন আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন ৭০/৮০ জন আইনজীবী। যারা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ নেতা এদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য, আইনজীবী সমিতির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক এবং প্রভাবশালী আইনজীবী নেতারা। এদের কারণে আদালতে ইউএনও তারিক সালমনের নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে বিচারক আলী হোসাইনের পাঠানো লিখিত ব্যাখ্যায়। দুই পৃষ্ঠার ওই ব্যাখ্যায় বেশ কয়েকবার তারিক সালমনের নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেছেন আলী হোসাইন। আদালত কক্ষে তার বিরুদ্ধে এবং মামলার বাদীর পক্ষে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের অবস্থান করার কথাও বলেছেন তিনি। ব্যাখ্যার শেষ পর্যায়ে আদালত কক্ষের পরিবেশ তুলে ধরে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইন বলেন, ‘মামলার ফরিয়াদি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়দুল্লাহ সাজু নিজে উপস্থিত ছিলেন আদালতে। এছাড়াও ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ খান, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল কাদের ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসউদ্দিন শহীদসহ প্রায় ৫০ থেকে ৭০ আইনজীবী। অপরদিকে তারিক সালমনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন একমাত্র অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ সাজু বলেন, ‘মামলার বাদী হিসেবে আমি আদালতে ছিলাম। এছাড়া আমার সঙ্গে আদালতে ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইউনুস, অ্যাডভোকেট আ. রশিদ খান, অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল কাদের এবং অ্যাডভোকেট আনিস উদ্দিন শহিদসহ ৬০-৭০ আইনজীবী। এরা সবাই সেদিন তারিক সালমনের জামিনের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ খান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
বরগুনার ডিসির বদলিতে ক্ষোভ : বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মহা. বশিরুল আলমকে আকস্মিক বদলির প্রতিবাদে বরগুনার নাগরিকরা গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বরগুনার ডিসির বদলির সংবাদ টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরগুনার জনগণ সামাজিক যোগাযোগে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু বলেন, বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মহা. বশিরুল আলম একজন জনবান্ধব প্রশাসক। বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রশিদ বলেন, ড. মহা. বশিরুল আলমের মতো ভালো ডিসি বরগুনায় আসেননি।

সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত হয়ে আবারো এক ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম নিপা ত্রিপুরা (৩)। সে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বগুলা বাজার পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়ার সুভাচান ত্রিপুরার কন্যা। সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি বগুলা বাজার পাহাড়ের বাসিন্দা সুভাচান ত্রিপুরার কন্যা নিপা হামে আক্রান্ত হয়ে হটাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মীরা দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে যেতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে মারা যায়। নিপার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরুল করিম রাশেদ বলেন, বগুলা বাজার ত্রিপুরা পাড়ার শিশু কন্যাটি রোববার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হটাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সে মারা যায়। তবে মৃত শিশু কন্যাটির গায়ে হামের লক্ষণ (লালচে র‌্যাশ) ফুটে ওঠেনি বলে দাবি করেন তিনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি পাহাড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর করুন মৃত্যু হয়। এছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ে শতাধিক শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রথমদিকে রোগটি অজ্ঞাত বলা হলেও পরে সেটি হাম বলে শনাক্ত করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে। সরকারি নিরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি-কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) নিরীক্ষায় চিহ্নিত হয়েছে এ অনিয়ম। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান বিধিবিধান ভেঙে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ঘটেছে। এর জন্য অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাও অনেকটা দায়ী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে সম্প্রতি সিএজির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। শিগগিরই এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে জাতীয় সংসদে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। সূত্র মতে, ২০১১-১২ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত কয়েকটি মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগের ওপর নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন, অর্থ, রেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বস্ত্র ও পাট, কৃষি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, শিল্প, ডাক টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পররাষ্ট্র, পনিসম্পদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে সোনালী, বেসিক, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকও রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ওপর মোট ৩২টি অডিট রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি রিপোর্ট হচ্ছে সরকারের হিসাব সম্পর্কিত ও ৫টি বিশেষ রিপোর্ট। বাকি ২৩টি রিপোর্টে এসব আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম পাওয়া গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে সোনালী ব্যাংকে। সিএজির নিরীক্ষা বিভাগ ২৪টি রিপোর্টের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম শনাক্ত করেছে। বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম ধরা পড়েছে ১ হাজার ১১ কোটি টাকার। ৩৫টি অনিয়মের মাধ্যমে এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একইভাবে অগ্রণী ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা। ২২টি ঘটনায় বিপুল পরিমাণ এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকার অনিয়ম মিলেছে যৌথভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়েছে। পরে টাকা ফেরত পায়নি ব্যাংক। এছাড়া ভুয়া রফতানি বিল কেনা, ভুয়া ভেজাল সম্পত্তি জামানত রেখে ঋণ নেয়ার ঘটনা আছে। বন্ধকি সম্পত্তি প্রকৃত মূল্যায়ন না করে ঋণ ইস্যু, জামানতের চেয়ে বেশি ঋণ দেয়া, প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ অমান্য করে শাখা থেকে ঋণ মঞ্জুর, খেলাপিকে পুনরায় ঋণ ইস্যুসহ নানা কৌশলে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর ওপর দায় বেড়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিদ্যমান আর্থিক বিধিবিধান এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ে জারি করা আদেশ ও নির্দেশ অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রমের দুর্বলতাকেও দায়ী করা হয়। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগে ৩৫৩ কোটি টাকার অনিয়ম উদঘাটন করেছে সিএজির নিরীক্ষা বিভাগ। অনিয়মের কৌশল প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার দর যাচাই না করেই সিডিউলের বাইরের পণ্য কেনা হয়। এছাড়া রেকর্ড গায়েব করে সম্পত্তি অবৈধ দখলদারের কাছে হস্তান্তর হয়েছে। প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ও বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে মালামাল কেনার মাধ্যমেও টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একই সময়ে একই অফিসে কাজ করে দুটি পৃথক সরকারি অফিস থেকে বেতন নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণের অভাব ছিল। যে কারণে এসব অনিয়ম করতে পেরেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে ৪২৮ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে সিএজি কার্যালয়। সেখানে রাজস্ব ফাঁকি দিতে কম উৎপাদন দেখানো, অনুমোদনের চেয়ে পণ্যের উপকরণ ব্যবহার বেশি দেখিয়ে রেয়াত সুবিধা নেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন হিসাবের ওপর এক্সসাইজ শুল্ক কম দেয়া, কম হারে ভ্যাট কাটাসহ নানা কৌশলে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়।
সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন, এসআরও অনুসরণ করা হয়নি। এদিকে পেট্রোবাংলার অধীন বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৪৮ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। নিন্মমানের কেসিং পাইপ কেনা, অতিরিক্ত বিল পরিশোধসহ নানা কৌশলে এ অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি ঘটনায় দরপত্র ছাড়া ভূমি ইজারা দেয়া হয় হোটেল নির্মাণের জন্য। এরপর ভূমি ইজারা গ্রহণকারীর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়নি। এভাবে নানা কৌশলে বিমানের ২৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সিএজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সিএজির প্রতিবেদনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। রিপোর্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২১৪ কোটি টাকার। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে ডাম্পিং কাজ শেষ করার আগেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়। এছাড়া অন্য একটি কাজের দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই। ওই কাজের বিলও পরিশোধ করা হয়। একইভাবে ড্রেজার মেরামতের নামে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়। সিএজির রিপোর্ট ছাড়াও বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতির কারণে সম্প্রতি সিলেট হাওর অঞ্চলে কয়েকটি উপজেলায় অকাল বন্যা হয়। এ বাঁধ নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উল্লেখিত অনিয়ম ছাড়াও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে ১৮০ কোটি টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা, এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা, রেলওয়ে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৪২ কোটি টাকা, পর্যটন ও কৃষি কর্পোরেশনে ৫ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৭ কোটি টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ১৬ কোটি টাকা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৯৩ কোটি টাকা ও অন্যান্য খাতে প্রায় ২৪ কোটি টাকার অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যথানিয়মে রাষ্ট্রপতির কাছে সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এ বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অডিট রিপোর্টে অনেক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। অডিট আপত্তির অর্থ সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থ সমন্বয় হচ্ছে। তবে অডিট আপত্তির আকারের তুলনায় কম। কারণ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এক মাসে তিনটির বেশি অডিট রিপোর্ট নিয়ে সরকারের হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করা যায় না।

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশার শেষ নেই। দেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সেদেশের সেনাবাহিনী। এমনকি জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের নির্মূলের যে অভিযোগ এনেছে সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মিয়ানমারের এখনকার মূল নেত্রী অং সান সুচি। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদেরকে ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন পরিকল্পনার কথা বলেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে তাতে তাদের ইতিবাচক সাড়া নেই। তারা চান তাদের বিষয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধান। তাদের অনেকেই বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতার পক্ষে তারা। এমন সমঝোতার মাধ্যমে তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছেন। তাদের একজন দিলরুবা নামের এক শরণার্থী। তিনি বলেছেন, যদি এমনটা না হয় তাহলে আমাদেরকে বোমা দিয়ে মেরে ফেলুন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন পিবিএস নিউজআওয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের দুর্দশা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে এমন প্রায় অর্ধ মিলিয়ন বা ৫ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে। তাদেরকে ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছে। ওই দ্বীপটি বসবাসের অনুপযোগী বলেও অনেকের মত রয়েছে। তবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বসবাসের উপযোগী করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক কর্মী হাফেজ বলেছেন, যদি আমাদেরকে সেখানে পাঠানো হয় তাহলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়বো। আমরা মূল ভূখন্ডেই নিরাপদে আছি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ মাসে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৭০ হাজার। তবে এখানে তাদের জীবনধারণও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বর্ষা মৌসুমে ও ঘূর্ণিঝড়ে তাদের অনেক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় নির্জন দ্বীপ ঠেঙ্গারচরে ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করে এ সমস্যা সমাধান করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পিবিএসের রিপোর্টে বলা হয়েছে ঠেঙ্গারচর মূল ভূখন্ড থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন। পলি মাটি জমে সৃষ্টি হয়েছে এ দ্বীপ। সেখানে যাতায়াতও খুব বিপদজনক। স্থানীয় সরকারের একজন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, অতীতে রোহিঙ্গারা মাদক সমস্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা পাচারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। ওই অঞ্চলে যেসব মানুষ বসবাস করেন তাদের মূল জীবিকা হলো মাছ ধরা। মিজানুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের এই খারাপ আচরণে প্রভাবিত হবেন স্থানীয়রা। এ জন্য তাদেরকে দেশের জনগণ থেকে আলাদা রাখাটাই যুক্তিযুক্ত। এ বিষয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় একজন বিশেষজ্ঞ হলেন ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেছেন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রধানত একটি বিপদজনক এলাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে আমরা বিশ্বাস করি ঝড়ের মাত্রা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। তাই তাদেরকে কংক্রিটে তৈরি ভাল অবকাঠামোতে রাখা উচিত। বিশেষ করে জরুরি অবস্থার কসময়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাম্পে বর্ণবাদী আমলের মানুষের মতো বসবাস করছেন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সেদেশের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায় থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে তাদেরকে। তাদের নেই কোনো নাগরিকত্ব। বিয়ে করতে গেলে তাদেরকে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এমন কি তারা নিজেদের গ্রামের বাইরে যেতে চাইলেও অনুমতি নিতে হয়। গত বছর ৯ই অক্টোবর রোহিঙ্গা জঙ্গিরা হত্যা করে মিয়ানমারের ৯ নিরাপত্তা কর্মীকে। তার প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এতে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। তাদের বাড়িঘর, মসজিদ পুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে এ অভিযোগকে বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলে দাবি মিয়ানমার সরকারের। এর পর যে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তার মধ্যে দিল নওয়াজ অন্যতম। তাকে সেনাবাহিনী গণধর্ষণ করেছে। তার চোখের সামনে তার স্বামীকে হত্যা করেছে তারা। তিনি বলেন, আমার চোখের সামনে রাস্তার ওপর আমার স্বামীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তারা। তারপর তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ধানক্ষেতে ফেলে দেয়। সেনাবাহিনী তারপর নারীদের নিয়ে ধানক্ষেতের মধ্যে চলে যায়। তাদের কয়েকজনকে নিয়ে যায় আলাদা করে। ৫ সেনা সদস্য পর্যায়ক্রমে তাদেরকে ধর্ষণ করে। লোকজনের স্বর্ণালঙ্কার, আংটি, কানের দুল সব নিয়ে যায়। তারা শিশুদের হত্যা করে। এ জন্যই আমরা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। তবে রোহিঙ্গা হাফিজ বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ। ঘনবসতিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও তারা আমাদেরকে ঠাঁই দিয়েছে। এটা একটি বড় বিষয়। আমাদেরকে ঠেঙ্গারচরে পাঠানোর চেয়ে মিয়ানমার সরকার যেন আমাদেরকে নাগরিকত্ব দেয় আমরা সেই দাবি করি। ৪৫ বছর বয়সী দিলবারের কণ্ঠে তীব্র হতাশা। তিনি বলেন, আমাদের জীবনের সব কিছু ফেলে, ত্যাগ করে এখানে এসেছি। যদি আমাদের জীবনে কোনো শান্তিই না থাকে তাহলে মরে যাওয়াই ভাল। মিয়ানমারে আমাদের শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। যদি আমাদেরকে এখন ওই চরে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাহলে সেটাও হবে একরকম হত্যার সামিল। আমাদের পায়ের নিচে তো মাটি নেই।