Monday, December 29, 2025

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ অবস্থায়’ ইরান: প্রেসিডেন্ট মাসুদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মধ্যে’ রয়েছে এবং এই বৈরী শক্তিগুলোর চাপের মধ্যেই ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শনিবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস ইরান ইতিমধ্যেই পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধে আবদ্ধ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইউরোপের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রয়েছি। তারা চায় না আমাদের দেশ স্থিতিশীল থাকুক। পেজেশকিয়ান ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন,  যে যুদ্ধে প্রায় দশ লক্ষের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন, বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি সেই যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ মাত্রায় রূপ নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ ইরাকের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধের চেয়েও খারাপ। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও কঠিন। ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে পরিস্থিতি স্পষ্ট ছিল। তারা মিসাইল ছুড়ত, আমরা জানতাম কোথায় জবাব দেব। কিন্তু এখন আমরা চারদিক থেকে পরিবেষ্টিত।

ট্রাম্প সোমবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান হবে আলোচনার মূল ইস্যু। ঠিক এমন সময় এ মন্তব্য করলেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কারণে সম্প্রতি জাতিসংঘ দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানের পারমাণবিক হুমকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ বছর জুন মাসে ইরানের স্থাপনায় ঐতিহাসিক সামরিক হামলা চালান, যা বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দেয়, তবে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের সেই হামলার প্রভাবকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রিয় সামরিক বাহিনী শক্তি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। সব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখন সরঞ্জাম ও জনশক্তির দিক থেকে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা যদি আবার আক্রমণ করতে চায়, তবে এবার আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হবে। 

mzamin

ইউরোপের ওপর রাশিয়ার ছায়া, আবার বাস্তব হচ্ছে বড় যুদ্ধের ঝুঁকি

যুক্তরাজ্যের রাজধানী হোয়াইট হল এলাকায় গত মাসে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা একত্র হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনা হয়েছিল, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্ভাব্য একটি যুদ্ধ সামলাতে যুক্তরাজ্য ও দেশটির মিত্ররা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে। ওই বিশেষজ্ঞদের রায় ছিল হতাশাজনক—ইউরোপীয়দের প্রস্তুতি নেই।

বিশেষজ্ঞদের ওই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই)। উপস্থিত ছিলেন সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্য, সরকার ও ন্যাটোর কর্মকর্তা এবং গবেষক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা একটাই সমাধান তুলে ধরেন। তা হলো যুদ্ধ শুরু হলে ইউরোপের জন্য জয় নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ইউরোপের প্রতিরক্ষায় আরও বিনিয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি সামলাতে মানসিকতায় বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশের মানুষদের জানাতে হবে, ইউরোপের জন্য যুদ্ধের হুমকি এড়িয়ে যাওয়া সময়টা শেষ হয়ে গেছে।

রাশিয়া এরই মধ্যে পশ্চিমের বিরুদ্ধে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ শুরু করেছে বলে একমত হন বিশেষজ্ঞরা। প্রমাণ হিসেবে তাঁরা তুলে ধরেন ন্যাটোর আকাশসীমায় রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের অনুপ্রবেশ, বাল্টিক অঞ্চলে জিপিএস জ্যামিং, অপপ্রচার এবং বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নাশকতার মতো বিষয়গুলো। যদিও এসবের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা নাকচ করেছে মস্কো।

কিংস কলেজ লন্ডনের রুশ রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক স্যাম গ্রিন বলেন, এসব হামলা ইউরোপের বহু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। মানুষ ভীত-বিশেষ করে যখন বাস্তবতাগুলো সামনে আসছে। বিমানবন্দরের বাইরে ড্রোন দেখা যাচ্ছে। আর ক্রমেই একটা অনুভূতি তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে কোনো একটি ড্রোন ব্যবহার করে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে হামলা চালানোটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বাল্টিক অঞ্চল নিয়ে শঙ্কা

ইউরোপে ন্যাটোর কোনো সদস্যদেশের ওপর মস্কো এখনো সরাসরি হামলা চালায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটা কারণ হলো রাশিয়া জানে বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে তারা ন্যাটোকে পরাজিত করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, পাঁচ বছরের মধ্যেই রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে প্রস্তুত হতে পারে।

ডিসেম্বরের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ইউরোপ যুদ্ধ চাইলে এখনই প্রস্তুত তিনি। ইউরোপের বাল্টিক দেশগুলোর মধ্যে একটি ধারণা হলো, তাদের বিরুদ্ধে হামলা তিন বছরের মধ্যেই আসতে পারে। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টারের গবেষকেরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ২০২৭ বা ২০২৮ সালে ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারে রাশিয়া।

বাল্টিক অঞ্চলে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করেছে ন্যাটো। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, এই পরিকল্পনাগুলো টেকসই নয়। আরইউএসআইয়ের গবেষক জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, ‘একটি পরিকল্পনা আছে। কিন্তু সরকারগুলো তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

গত মাসের সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল রিচার্ড ব্যারন্স বলেন, যুক্তরাজ্যকে সশস্ত্র বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প ও অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে দ্রুত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। বর্তমান গতিতে চললে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে দেশটির প্রায় ১০ বছর লেগে যাবে। কিন্তু হাতে আছে মাত্র তিন থেকে পাঁচ বছর।

২০২৭ বা ২০২৮ সালে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
২০২৭ বা ২০২৮ সালে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ অবসানে একমাত্র জারদারিই সক্ষম: বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করতে জাতীয় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক মেরুকরণ দূর করতে সক্ষম একমাত্র নেতা হলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। গাড়ি খুদা বখশে শহীদ নেতা বেনজির ভুট্টোর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বিলাওয়াল এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানকে রাজনৈতিক বিভক্তি ও মেরুকরণ থেকে যে একজন মানুষই উদ্ধার করতে পারেন- তিনি হলেন সমঝোতার সম্রাট, আসিফ আলী জারদারি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ শুধু গণতন্ত্রকেই নয়, বরং অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, যদি পাকিস্তানকে রাজনৈতিক সংকট থেকে বের করা যায়, তবে অর্থনৈতিক সংকটও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেকটাই লাঘব হবে। বিলাওয়াল মনে করিয়ে দেন, দেশের সমস্যার সমাধান সংঘাতের পথ ধরে নয়, রাজনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সম্ভব।

তিনি বিরোধী দলগুলোকে দায়িত্বশীল রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান এবং ক্ষমতাসীন দলগুলোকেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার তাগিদ দেন। বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশ যখন উত্তাল- ‘পাকিস্তান না খাপ্পে’ স্লোগানে দেশজুড়ে অস্থিরতা, সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বিলাওয়াল বলেন, সে সময়ে আসিফ আলী জারদারিই ‘পাকিস্তান খাপ্পে’ বলে স্লোগান তুলে রাষ্ট্রকে রক্ষা করেছিলেন এবং একজন স্বৈরশাসককে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বেনজির ভুট্টো কখনো প্রতিশোধের রাজনীতি করেননি। সবচেয়ে কঠিন সময়েও তিনি ঘৃণা ও চরমপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

mzamin

ইসরায়েল ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে by ওরি গোল্ডবার্গ

অনেকের চোখে ইসরায়েল যেন মধ্যপ্রাচ্যের এক বিজয়ী শক্তি। একই সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করে তারা শত্রুদের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।

এর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের নানা গোষ্ঠী ও নেতার সমর্থন তারা এখনো পাচ্ছে। তবে ভেতরে-ভেতরে ইসরায়েল ভেঙে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক জোট ধীরে ধীরে গাজাকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

এই জোটে কাতার, মিসর, সৌদি আরব ও তুরস্কও রয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের তৎপরতাও সীমিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েল সরকার প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করলেও মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীরবে এই প্রক্রিয়া মেনে নিচ্ছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, যুদ্ধ করার চেয়ে যুদ্ধের হুমকি বজায় রাখাই তার জন্য বেশি লাভজনক।

কারণ তিনি নিজের যুদ্ধলক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। হামাসকে ধ্বংস করা যায়নি এবং জিম্মিদের জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

বরং ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জিম্মি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে ইসরায়েল যে নিঃশর্ত সমর্থন পেত, তা এখন কমে আসছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতাও দুর্বল হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ফিলিস্তিনিদেরও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলের চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হতো।

পশ্চিমা নেতাদের জন্য এটা স্বীকার করা স্পষ্টতই কঠিন যে, ইসরায়েল এখন আঞ্চলিক অস্থিরতার এক উৎসে পরিণত হয়েছে। সরাসরি তা বলার চেয়ে ধীরে ও নীরবে ইসরায়েলের ক্ষমতার হাতলগুলো সরিয়ে নেওয়াই তাদের কাছে সহজ।

এতে ইসরায়েলি নেতাদের প্রকাশ্যে অপমানিতও হতে হয় না, আবার নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতেও বাধ্য করা যায়। ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝেমধ্যে কেবল শীতল আচরণ করলেই চলে।

সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানে হামলা চালানো বা দখল ধরে রাখতে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ কারণেই তাদের সামরিক তৎপরতা ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে। এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কৌশলগত বিস্তারের বদলে মূলত এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বেড়াচ্ছে, যারা একসময় ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিল।

নতুন এই বাস্তবতায় এটাই ইসরায়েলের সামর্থ্য। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইসরায়েল পিছিয়ে পড়তে পারে। হামাস আলোচনা চালাচ্ছে, আর ইসরায়েল সরকার সময়ক্ষেপণ করছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ইসরায়েল এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হবে, যা দেশটি নিজে গড়ে তুলতে পারেনি।

যেমন, গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চালানো ধ্বংসযজ্ঞে যে বিপুল ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, তা সরানোর খরচ ইসরায়েলিদেরই বহন করতে হতে পারে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

ইসরায়েল হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে তাদের অবস্থান হারানোর পথে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি সমাজ তাদের বিপুল শক্তি ব্যয় করছে নিজেদের ভেতরের দ্বন্দ্বে, ইসরায়েলের আত্মপরিচয় নিয়ে সংঘাতে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ দখল আরও জোরদার করতে।

ইসরায়েলিরা ক্রমেই দেশের সীমানার বাইরে কোনো জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস হারাচ্ছে।

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীতে সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিটাই ধরুন। দুই বছরের প্রশিক্ষণ শেষে যেসব ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমানের পাইলটরা প্রায় স্নাতক হতে যাচ্ছিলেন, তাদের একটি সপ্তাহব্যাপী বন্দিত্বের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এটিকে সাধারণত প্রশিক্ষণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হিসেবে ধরা হয়। এরপর তাদের পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গোপন স্থানের হোটেলে পাঠানো হয়।

তারা হোটেলের অবস্থান তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেয়। ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারগুলো এসে তাদের ছেলেদের সঙ্গে দেখা করে।

এ সময় কয়েকজন মদ্যপানও করে। এমনকি তাদের কমান্ডিং অফিসার তা করতে অনুমতিও দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় সব ক্যাডেটের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রধান তোমের বার স্পষ্ট করে বলেছেন, বাহিনীর নৈতিক ভিত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

দেশটির গণমাধ্যমে ক্যাডেটদের তুলে ধরা হয় পুরোনো ইসরায়েলি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁরা ছিলেন নৈতিকভাবে দেউলিয়া ও দিশাহীন।

একই সঙ্গে তাদের তুলনা করা হয় নতুন অভিজাতদের সঙ্গে, যারা গাজা ধ্বংস করেছে এবং ‘ইসরায়েলের জনগণ’-এর নামে তা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে।

এর জবাবে পাইলটদের একটি গোষ্ঠী সরকার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি নিজেদের আনুগত্যের কথা জানিয়েছে। তারা বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার’ যত দিন নির্দেশ দেবে, তত দিন তারা গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অথচ এই একই সরকারের বিরুদ্ধেই তারা আগেও বহুবার প্রতিবাদ করেছে।

এটাই ইসরায়েলি সমাজের ভাঙনের লক্ষণ। গাজায় যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তার বড় দায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর।

বেসামরিক লোকদের ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোয় বোমাবর্ষণ বিশ্বকে স্তব্ধ করেছে এবং ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর নৈতিকতার শেষ দাবিটুকুও কেড়ে নিয়েছে। অথচ বিমানবাহিনী এখন মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কথা বলছে।

গণহত্যার প্রধান হাতিয়ার এই পাইলটরাই। অথচ আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে তাদের অনুমতি ছাড়া মদ্যপান। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসরায়েল ভেতর থেকে একতা হারাচ্ছে। টিকা না পাওয়া শিশুরা হাম ও ফ্লুতে মারা যাচ্ছে।

কিশোর গ্যাং বাস চালানো বা রাস্তা পরিষ্কার করা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা অপরাধী গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে নিহত হচ্ছে। গাজা যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারা নজিরবিহীন হারে আত্মহত্যা করছেন।

ইসরায়েল রাষ্ট্র দ্রুতই ফাঁপা এক খোলসে পরিণত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ছে, সরকারি কর্মীরা চলে যাচ্ছেন, আর তাদের জায়গায় কেবল রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া লোকজনই দায়িত্ব নিচ্ছেন।

যে ইসরায়েল সামনে আসছে, তা প্রতিষ্ঠানগত, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক দারিদ্র্যের পথে হাঁটছে, কিংবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দিকেই এগোচ্ছে।

* ওরি গোল্ডবার্গ, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক
- আল জাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিব, ইসরায়েল, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিব, ইসরায়েল, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ফাইল ছবি: রয়টার্স

৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প তাইওয়ানে

তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের বাইরে সমুদ্রে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি দ্বীপটিতে আঘাত হানা দ্বিতীয় বড় মাত্রার ভূমিকম্প। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয় তাইওয়ানের আবহাওয়া অধিদফতর ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.০ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তারা জানায় শনিবার দিবাগত রাত ১১টা ০৫ মিনিটে ইয়িলান কাউন্টির উপকূলীয় সমুদ্র অঞ্চলে, ভূমি থেকে ৭৩ কিলোমিটার গভীরে কম্পনটির উৎস শনাক্ত করা হয়।

এ জায়গাটি রাজধানী তাইপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ইয়িলান কাউন্টি ফায়ার ব্যুরো এএফপিকে জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের সময় রাজধানী তাইপের ভবনগুলো দুলে ওঠে এবং পুরো তাইওয়ানজুড়েই কম্পন অনুভূত হয়। তাইওয়ান প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। কারণ দ্বীপটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগসীমার কাছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর প্রান্তভাগে অবস্থিত।

ইউএসজিএসের ভাষায়, এ অঞ্চলই বিশ্বের সবচেয়ে ভূকম্পন সক্রিয় এলাকা। এর আগের বুধবার দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৬.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে হুয়ালিয়েন শহরসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, এটি ছিল গত ২৫ বছরে তাইওয়ানের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন। এর আগে ১৯৯৯ সালে ৭.৬ মাত্রার যে ভূমিকম্প ঘটে। সেটিই ছিল দ্বীপটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

mzamin

সবচেয়ে ধনী আরব পরিবারগুলোর সম্পদের পরিমাণ কত?

আরব বিশ্ব ইতিহাসের কিছু সবচেয়ে ধনী পরিবারের আবাসস্থল। বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল জীবনধারা ও গভীর সাংস্কৃতিক শেকড়ের জন্য পরিচিত এসব পরিবার বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে তাদের সম্পদের উৎস শুধু আধুনিক তেল বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহু ক্ষেত্রেই এই সম্পদের ভিত্তি গড়ে উঠেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা বাণিজ্য, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে। সেটা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

ব্লুমবার্গের ‘ওয়ার্ল্ডস রিচেস্ট ফ্যামিলিজ ২০২৫’ প্রতিবেদন উল্লেখ করে জিও নিউজ বলছে, বিশ্বের ২৫টি সবচেয়ে ধনী পরিবারের সম্মিলিত সম্পদ এক বছরে বেড়েছে ৩৫৮.৭ বিলিয়ন ডলার। তাদের মোট সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ধাতু ও পোষা প্রাণীর খাবারের মতো পণ্যের বাড়তি চাহিদার কারণে এই সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই তালিকায় আরব বিশ্বের তিনটি সবচেয়ে ধনী পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল নাহিয়ান, সৌদি আরবের আল সৌদ এবং কাতারের আল থানি পরিবার।

আল নাহিয়ান পরিবার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের একটি আবুধাবির শাসক পরিবার আল নাহিয়ান বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয়-ধনী পরিবার। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৩৫.৯ বিলিয়ন ডলার। আবুধাবির শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। তেল আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই এই পরিবার অঞ্চলটি শাসন করে আসছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর্থিক প্রভাবও বিস্তৃত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন ব্যক্তিগত ও সার্বভৌম সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদের তত্ত্বাবধান করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন।

আল সৌদ পরিবার
সৌদি আরবের শাসক আল সৌদ পরিবার ব্লুমবার্গের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ ২১৩.৬ বিলিয়ন ডলার। ৯৩ বছর বয়সী এই রাজবংশ তাদের বিপুল সম্পদের বড় অংশ গড়ে তুলেছে সৌদি আরবের বিশাল তেল সম্পদের ওপর ভিত্তি করে। ব্লুমবার্গ জানায়, এ বছরে সম্পদের মূল্যায়ন বেড়েছে মূলত অতীতের আয় প্রবাহের নতুন হিসাব এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যয় কমে আসার কারণে। প্রায় ১৫ হাজার বিস্তৃত আত্মীয়স্বজন নিয়ে গঠিত এই পরিবারের প্রভাবাধীন মোট সম্পদের পরিমাণ বাস্তবে আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। বহু রাজকীয় সদস্য সরকারি চুক্তি ও জমি লেনদেনের মধ্যস্থতা করে অথবা সৌদি আরামকোর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানকারী ব্যবসা গড়ে তুলে আয় করেছেন। সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বর্তমানে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ পরিচালনা করছে। আর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন বলে জানা যায়।

আল থানি পরিবার
কাতারের শাসক আল থানি পরিবার ব্লুমবার্গের ২০২৫ সালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তাদের আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯৯.৫ বিলিয়ন ডলার। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে কাতার শাসন করে আসা এই পরিবারের ভাগ্য বদলে যায় মূলত দেশের বিশাল অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের কৌশলগত উন্নয়নের মাধ্যমে। যদিও তেল আবিষ্কৃত হয় ১৯৪০ সালের দিকে, তবে গ্যাস সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই কাতারের অর্থনীতি আমূল রূপান্তরিত হয় এবং পরিবারটি বৈশ্বিক ধনীদের শীর্ষ সারিতে উঠে আসে। আল থানি পরিবারের সদস্যরা কাতারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখেন। তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে রয়েছে হোটেল, বীমা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ কোম্পানি। এছাড়া তাদের বিদেশে উচ্চমূল্যের সম্পদও রয়েছে- লন্ডনের মেফেয়ারে বিলাসবহুল সম্পত্তি, স্টাড ফার্ম, ব্যক্তিগত ব্যাংক এবং বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন হাউস ভ্যালেন্তিনো সহ নানা খাতে বিনিয়োগ।

mzamin

লাতাকিয়ায় বিক্ষোভে সহিংসতা, বহু হতাহত

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। রোববার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিক্ষোভের মধ্যে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ঢুকে পড়ে এবং গুলিবর্ষণ শুরু করলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। এতে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাঁজোয়া যানসহ সেনাবাহিনীর ইউনিট লাতাকিয়া ও তারতুস শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আরও সহিংসতা ঠেকানো।

লাতাকিয়া প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল আজিজ আল-আহমাদ জানান, বিক্ষোভস্থলের কাছে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অজ্ঞাত স্থান থেকে গুলি চালানো হয়। এতে নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হন এবং পুলিশের কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীর ভিড়ে লুকিয়ে থাকা একটি সশস্ত্র দল নিরাপত্তা চৌকিতে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য আহত হন।

শাফাক নিউজের দামেস্ক প্রতিনিধি জানান, রোববার লাতাকিয়া, তারতুস ছাড়াও হোমস ও হামা শহরে আলাউইত সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা ফেডারেল ব্যবস্থা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেন।

ছবি : সংগৃহীত

জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে বের হতে না পেরে ১০৯২ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

জরুরি চিকিৎসার জন্য ফিলিস্তিনের গাজা ত্যাগের অপেক্ষায় থাকা এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের চলমান জাতিগত নিধনের মধ্যে গত দেড় বছরে তাঁদের মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, দুই বছর আগে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে গুরুতর অবস্থায় থাকা ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি রোগীকে উপত্যকাটি থেকে বের করতে সক্ষম হয়েছে ডব্লিউএইচও এবং তাদের অংশীদারেরা। এই রোগীদের মধ্যে ৫ হাজার ৬০০ জনের বেশি শিশু।

চিকিৎসার জন্য আরও বহু রোগী গাজা ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে সতর্ক করেন ডব্লিউএইচওর প্রধান। গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য উপত্যকাটি ত্যাগের অপেক্ষায় থাকা ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গাজায় অবস্থান করা রোগীদের জন্য আরও বেশি দেশের ‘দরজা খুলে দেওয়ার’ আহ্বান জানান গেব্রেয়াসুস। আর চিকিৎসার জন্য গাজা ত্যাগ না করতে পেরে মৃত্যু ফিলিস্তিনির সংখ্যা বাস্তবতার চেয়ে কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই সংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে বলে চলতি মাসের শুরুর দিকেই জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরায়েলের টানা হামলার পর ১০ ডিসেম্বর থেকে উপত্যকাটিতে যুদ্ধবিরতি চলছে। এরপরও গাজায় প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার। তাঁদের মধ্যে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা ১০ হাজার ৬০০ রোগীকে ৩০টির বেশি দেশ আশ্রয় দিয়েছে। এর মধ্যে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ বেশিসংখ্যক ফিলিস্তিনি রোগী নিয়েছে।

এদিকে আজ যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গাজার যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটফের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা কাতার, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের। বৈঠকের আগে হামাস বলেছে, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হতে হবে।

তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে ফিলিস্তিনি শিশু আরজওয়ান আল-দাহিনি। তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও বিদেশ যেতে পারছে না। আজ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে
তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে ফিলিস্তিনি শিশু আরজওয়ান আল-দাহিনি। তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও বিদেশ যেতে পারছে না। আজ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে। ছবি: রয়টার্স

ভারতে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

টেলিগ্রাফের রিপোর্টঃ জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি শুক্রবার মন্তব্য করেছেন যে, ভারত এখন যেন ‘লিঞ্চিস্তান’-এ পরিণত হয়েছে। তার দাবি, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং বাংলাদেশে লিঞ্চিংয়ের সমালোচনা যারা করছেন, ভারতে এমন ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব থাকছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ। উল্লেখ্য, ইংরেজি শব্দ লিঞ্চিং অর্থ পিটিয়ে হত্যা করা। ইলতিজা ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে ভারতকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘না ইন্ডিয়া, না ভারত, না হিন্দুস্তান- তোমার নাম লিঞ্চিস্তান।’

তিনি ওই পোস্টে ওড়িশায় ১৯ বছর বয়সি বাঙালি মুসলিম অভিবাসী শ্রমিক জুয়েল শেখের লিঞ্চিং সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন। তাকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে তার দাবি। ইলতিজার মা ও পিডিপি প্রধান, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও দেশের বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ভারতের বিচারব্যবস্থা গভীরভাবে রাজনীতিকরণে নিমজ্জিত। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাম্প্রতিক জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। মেহবুবা বলেন, আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছি, দেশে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। লিঞ্চিং হচ্ছে। বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তা আমাদের কষ্ট দেয়। কিন্তু যারা সেগুলোর সমালোচনা করছেন, নিজেদের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও মুখ খোলেন না। তিনি জানান, ৭২ ঘণ্টায় হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মিরি শাল ব্যবসায়ীদের হয়রানির তিনটি ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণপন্থী কর্মীরা তাদের জোর করে নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করছেন। স্লোগান দিতে অস্বীকার করলে মারধর করছেন।

হাইকোর্টে তার পিআইএল (জনস্বার্থ মামলা) খারিজ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থার বড় অংশ রাজনৈতিক প্রভাবিত। সেই আবেদনে তিনি দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক কাশ্মিরি হাজতিদের জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু আদালত তার আবেদনের সমালোচনা করে বলেন, এটি নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেহবুবা বলেন, আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা বিচারব্যবস্থার কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রশ্ন তোলা আমার অধিকার।

প্রধান বিচারপতি অরুণ পাল্লি ও বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেন যে, তার আবেদন অপ্রমাণিত ও রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত এবং আইনগত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ। রায়ে আরও বলা হয়, মেহবুবা মুফতি নাকি এই মামলা দায়ের করেছেন ‘রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া এবং নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীর পক্ষের ন্যায়যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার’ উদ্দেশ্যে।

রায় প্রসঙ্গে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতিটি সাধারণ মানুষ যখন পিআইএল করতে পারে, তখন একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবে না? তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতিবিদরাই তো মাঠের মানুষের সঙ্গে যুক্ত। আমি জানি গরিব পরিবারগুলো কত কষ্টে থাকে। নিজেদের আত্মীয়দের দেখা করতেও পারে না, বাইরের রাজ্যের জেলে থাকা অবস্থায় তারা কীভাবে নিজেদের মামলা লড়বে?

mzamin

ক্রমেই পশ্চিম তীর গ্রাস, আরও ১৯ বসতি স্থাপনের অনুমতি ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংসতা কমালেও ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে রেহাই পাচ্ছে দখলকৃত পশ্চিম তীর। সেখানে নতুন করে আরও ১৯টি অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটি। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজেলাল স্মোতরিচ।

রোববার এক বিবৃতিতে স্মোতরিচ বলেন, নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন তিনি নিজেই। সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের জুদেয়া ও সামারিয়া এলাকায় ১৯টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে বিগত তিন বছরে পশ্চিম তীরে ৬৯টি বসতি স্থাপনের অনুমতি দিল ইসরায়েল সরকার।

এমন সময় নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলো, যখন কয়েক দিন আগেই জাতিসংঘ থেকে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। পশ্চিম তীরে গড়ে তোলা ইহুদি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ উল্লেখ করে জাতিসংঘ তখন বলেছিল, কম করে হলেও ২০১৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের এই ভূখণ্ডের অবৈধ বসতি স্থাপন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে সব সময় উগ্রতার সঙ্গে সোচ্চার থেকেছেন বেজেলাল স্মোতরিচ। গতকালের বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আমরা একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রুখে দিচ্ছি। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী ভূখণ্ডের উন্নয়ন, সেখানে নির্মাণকাজ এবং বসতি স্থাপন চালিয়ে যাব। নিজেদের কাজের বৈধতার ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।’

অবৈধ বসতি বেড়েই চলেছে

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে জাতিসংঘ। সে সময় থেকে করা হিসাবের বরাতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘বিগত বছরগুলোয় অবৈধ বসতি স্থাপন দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে অবৈধভাবে ১২ হাজার ৮১৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।’

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করেছিল ইসরায়েল। এর বাইরে পশ্চিম তীরে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করে। সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী টাইমকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল কোনোভাবেই পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সমর্থন হারাবে তারা।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নতুন পদক্ষেপ। এ ছাড়া বিগত সময়ে পশ্চিম তীরে কম নৃশংসতা চালায়নি ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে অন্তত ১ হাজার ২৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে অন্তত ৪৪ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

হামাসকে অস্ত্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত শুক্রবার সেখানে পৌঁছেছেন যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর ও তুরস্কের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। তাঁদের ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল।

এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেন, গাজায় একটি শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা রয়েছে। তবে অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর জিম্মিদের মুক্তি একটি ‘বিস্ময়কর’ ঘটনা। এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। চ্যালেঞ্জগুলো আসছে ইসরায়েল ও হামাস—দুই পক্ষ থেকেই।

১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতির বর্তমানে প্রথম ধাপ চলছে। দ্বিতীয় ধাপে উপত্যকাটি থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আরও পিছিয়ে আনা, সেখানে হামাসের পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। কথা রয়েছে হামাসের অস্ত্রসমর্পণেরও।

রুবিও বলেন, শান্তিপ্রক্রিয়া চলমান রাখার জন্য হামাসের অস্ত্র ত্যাগ করা জরুরি। হামাস যদি এমন অবস্থায় থাকে যে তারা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে, তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যদিও রোববার হামাসের গাজাপ্রধান খলিল আল-হায়া বলেছেন, নিজেদের কাছে অস্ত্র রাখার গ্রহণযোগ্য অধিকার রয়েছে হামাস যোদ্ধাদের। সংগঠনটির আরেক নেতা বলেছেন, হামাসের আত্মসমর্পণের চেয়ে আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ওপর।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-21%2Feihjbahx%2Fwest.jpg?rect=14%2C0%2C669%2C446&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভ

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বাংলাদেশে দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে হিন্দুদের আয়োজিত এক কর্মসূচি শনিবার খালিস্তানপন্থীদের পাল্টা বিক্ষোভের মুখে পড়ে। ১৮ই ডিসেম্বর ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারী ওই বিক্ষোভে যোগ দেন। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ সময়ে তারা ‘হিন্দুস লাইভস ম্যাটার’ স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে দিপু দাসের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান এবং হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বন্দিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একটি ডিজিটাল ভ্যান ঘুরে ঘুরে প্রদর্শন করছিল আলো ঝলমলে বার্তা। তাতে লেখা- ‘হিন্দুদেরও বাঁচার অধিকার আছে’। বাঙালি হিন্দু আদর্শ সংঘ (বৃটেন) আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের পেছনে, হাইকমিশনের বিপরীত পাশে অবস্থান নেন। এরপর প্রায় ১০ জন খালিস্তানপন্থী সরাসরি হাইকমিশনের সামনে এসে উপস্থিত হয়। তারা হলুদ খালিস্তানি পতাকা হাতে নিয়ে ভারতবিরোধী ও হিন্দুবিরোধী স্লোগান দেয় এবং সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রশংসা করতে থাকে। পুলিশ এসে দু’পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আয়োজকদের একজন, পশ্চিমবঙ্গের প্রজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, আমি বুঝতে পারছি না খালিস্তানিরা কেন এখানে বিক্ষোভ করছে। এটি তাদের বিষয় নয়। তারা আমাদের উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে জন্ম নেয়া শুচিষ্মিতা। তার আত্মীয়স্বজন এখনো বাংলাদেশেই বসবাস করেন। বৃটিশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা চাই ভারত ও বৃটেন কঠোর পদক্ষেপ নিক। 
mzamin

হাদি হত্যার দুই অভিযুক্ত মেঘালয়ে প্রবেশ করার খবর অস্বীকার করেছে ভারতীয় পুলিশ

বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে ঢুকেছে বলে বাংলাদেশের পুলিশ যে দাবি করেছে মেঘালয় পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। মেঘালয় পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ডিএমপির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ওসমান হাদি হত্যার দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর শেখ ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের এই দাবিকে মেঘালয় পুলিশের পক্ষ থেকেদ ‘অসত্য’ এবং ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। পুলিশ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাউকে গারো পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা  হয়নি। মেঘালয় পুলিশ এই দাবিগুলিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে বলেছে যে, পুর্ত্তি এবং সামি নামে স্থানীয় দুইজন অভিযুক্তকে সীমান্ত অতিক্রম বা ভূমিকার সমর্থনে কোনও গোয়েন্দা তথ্য বা অপারেশনাল প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পুর্ত্তি বা সামিকে মেঘালয়ের কোথাও শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যাচাই বা সমন্বয় ছাড়াই এই বক্তব্য  দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মেঘালয় পুলিশের বক্তব্যকে সমর্থন করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার) ইন্সপেক্টর জেনারেল ওপি উপাধ্যায় দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ পুলিশের দাবিগুলি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, এই ব্যক্তিদের হালুয়াঘাট সেক্টর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে মেঘালয়ে প্রবেশের কোনও প্রমাণ নেই। বিএসএফ কর্তৃক এই ধরণের কোনও ঘটনা সনাক্ত বা রিপোর্ট করা হয়নি। এই দাবিগুলি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন উপাধ্যায়। 

mzamin

আল জাজিরার বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকার উপকণ্ঠে জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মানুষ ও দেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তি চাই। এই দেশে পাহাড়-সমতলের মানুষ আছে। আরও আছে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরতে পারবে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে প্রত্যাবর্তন
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বেড়েছে। তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে দুটি শীর্ষ দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপিকে আসন্ন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও জল্পনা ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও বক্তব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, তার আগমন একটি নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং দেশ যে স্থিতিশীলতা খুঁজছে, তার দিকে অগ্রসর হবে।

নেতৃত্বের পরীক্ষায় তারেক রহমান
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায়, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নির্বাসন শেষে তার দেশে ফেরা নিয়ে বেশ কিছুদিন কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। অধ্যাপক শাহান বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলোÑ তিনি কি কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন? তিনি যদি চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন, জনগণের উদ্বেগ বোঝেন এবং দলীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি হবে। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তি
ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও উন্নয়ন গবেষণা উদ্যোগের (এইচএডিআরআই) গবেষক মুবাশশার হাসানের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে যে জনউদ্দীপনা দেখা গেছে, তা কেবল বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রত্যাবর্তনে আগ্রহ দেখিয়েছে। গত ১৬ মাসের অস্থিরতার পর অনেকেই বিএনপিকে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখতে চাইছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগের পর নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

মামলা প্রত্যাহার ও ‘দ্বিতীয় সুযোগ’
২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা হয়। সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা ও পরবর্তীতে অনুপস্থিতিতে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত দেড় বছরে এসব মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়, যা তার দেশে ফেরার পথ খুলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক শাফকাত রাব্বি বলেন, তারেক রহমান নীতিনির্ধারণে আগ্রহী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। আজকের ভাষণেও তিনি বারবার বলেছেন- তার একটি পরিকল্পনা আছে।

ভারত নীতি ও আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি
তারেক রহমানের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল ছিল এবং দিল্লি আওয়ামী লীগকেই বেশি পছন্দ করত। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটও এই সম্পর্ক জটিল করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং নিজেকে একটি মধ্যপন্থী দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। যদিও তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশ ফার্স্ট) স্লোগান ব্যবহার করছেন। বিশ্লেষকদের মতে তিনি কট্টর ভারতবিরোধী রাজনীতিক হবেন না। রাব্বির ভাষায়, তারেক রহমান ফিরে আসায় ভারতের কাছে একজন আভিজ্ঞ ও বিবেচক ব্যক্তি পাওয়া যাবে, যিনি বাস্তবসম্মতভাবে সম্পর্ক সামলাতে পারবেন।

নির্বাচনের পথে প্রভাব
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির জন্য বাড়তি সুবিধা আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক শাহান বলেন, তার উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করবে এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বিএনপির দিকে টানবে। তিনি ভালোভাবে পারফর্ম করলে বিএনপির জন্য বড় জয় আসবে। এমনকি ‘ওয়েভ ইলেকশন’ও হতে পারে। তবে এর জন্য তারেক রহমানকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, আশ্বাস দেওয়া এবং সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে হবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

mzamin

আদর্শিক ঐক্য হয়নি, এটি নির্বাচনী সমঝোতা: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি বলেছেন, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তাঁদের কোনো আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা।

আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপি তাদের সঙ্গে ১০–দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে।

এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে সমঝোতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকে বলে এসেছি, আসন্ন নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশ নিতে চাই, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে চাই। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা চলছিল। সারা দেশ থেকে আমরা আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করেছিলাম। পরে আরও দুটি দলের সঙ্গে (এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন) আমাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম, তিন দলের গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব।’

কিন্তু এরপর শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতবরণ এবং তাঁকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী আগ্রাসনী শক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যাদের পরাজিত করেছিলাম, তারা এখনো চক্রান্ত করছে নির্বাচন বানচাল, সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য এবং জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য। সেদিন ওসমান হাদির গায়ে গুলি লেগেছে, কালকে আপনার গায়ে, পরশু আমার গায়ে লাগবে। প্রথম ও প্রধান টার্গেট করা হচ্ছে সারা দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী তরুণ, নাগরিক, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের।’

এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য এবং আধিপত্যবাদী কোনো শক্তি যাতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী অগ্রযাত্রাকে ঠেকাতে না পারে, সে জন্য এনসিপি বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সেই তাগিদ থেকে আমরা জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা আট দলের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপি সম্মত হয়েছে। এনসিপি জামায়াত ও সমমনা আট দলের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের ন্যূনতম কিছু বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে বা আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটা একটা নির্বাচনী সমঝোতা। ন্যূনতম কিছু বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি, আমরা একত্রে নির্বাচনী সময়টা পার করব। এই সমঝোতা একদিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, অন্যদিকে আমাদের সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী ন্যূনতম কর্মসূচিও থাকবে।’

আগামীকাল সোমবার দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সমঝোতায় যাঁরা আমাদের প্রার্থী, তাঁরাই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। সারা দেশে একত্রে নির্বাচনে অংশ নেব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ দাবি করেন, এনসিপি তার অবস্থানেই আছে। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্য করেছি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এনসিপি তার লক্ষ্য-আদর্শ নিয়েই কাজ করবে।’

এনসিপি থেকে দুই নারীনেত্রীর পদত্যাগে দলে ভাঙনের সুর দেখা গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা দলের নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ নির্বাচন করবেন কি না বা দলে থাকবেন কি না, এটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা মিতু, দিলশানা পারুল প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ছবি: মীর হোসেন

সিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের ঘোষণা বাংলাদেশিদের ‘না’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একদল হোটেল মালিক অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার ব্যবস্থা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার পিটিআইকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানায় বিভিন্ন গণমাধ্যম। গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কিছু নাগরিকের উসকানিমূলক মন্তব্য এবং ভারতীয় জাতীয় পতাকার প্রতি কথিত অবমাননার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অতিথি ও হোটেল কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি আসলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরোপিত প্রথম নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃত সংস্করণ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমাদের সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার সুযোগ দেয়া বন্ধ করেছিলেন। তবে মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা ভিসায় ভারতে আগত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল। উজ্জ্বল ঘোষ আরও জানান, বর্তমানে চলমান সহিংসতা এবং ছড়িয়ে পড়া ‘বিরোধী-ভারত বক্তব্যে’র কারণে অ্যাসোসিয়েশন এবার সব বাংলাদেশির ওপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ১৮০টি হোটেল রয়েছে। প্রত্যেকটি হোটেলই কঠোরভাবে এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সময় সময় নিষেধাজ্ঞাটি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ‘পরিস্থিতি নিরাপদ ও সম্মানজনক বলে বিবেচিত হলে পুনরায় থাকার সুযোগ চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত শিলিগুড়ি হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, যেখান দিয়ে পর্যটন, চিকিৎসা ও ছাত্র ভিসায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে যাতায়াত করেন। ১৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার সূচনা ঘটে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর সারা দেশে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ছিল। এছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ভারতে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনাপ্রবাহে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সম্পর্ক আগে থেকেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল।

বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ করেছে, তার সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘নৃশংস দমনপীড়ন’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা।

mzamin