Monday, November 23, 2009

বীর যোদ্ধার বীরগাথা -স্মরণ by কামরুল হাসান ভূঁইয়া

বাবুল ঢাকা কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে হত্যাযজ্ঞের পর ছাব্বিশে মার্চ শহর জুড়ে লাশ আর লাশ। ২৭ মার্চ ঢাকা শহরে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। প্রাণভয়ে লাখ লাখ লোক শহর ছেড়ে যায়। বাবুলরা চার ভাই-চার বোন। তারাও বাসে সপরিবারে চলে যায় গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার বানিয়ারা গ্রামে।
ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের সময় ২০ জানুয়ারি ঢাকার রাজপথে ছাত্র আসাদ পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। আমাদের বাবুল তখনো আসাদের পাশে। তার শার্টে, হাতে, রুমালে রক্ত লাগে শহীদ আসাদের। সেদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কারফিউ। বাবুল বাসায় ফিরছে না। পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন। বাবুল ফিরল ছয়টা বাজার কয়েক মিনিট আগে। বড় বোন রেবার কাছে আসাদের রক্তে ভেজা নিজের শার্ট আর রুমালটা দিয়ে বলল, ‘আপা, এই রক্ত বড় পবিত্র। এই শার্ট আর রুমালটা তুই রেখে দে। এ পবিত্র রক্তে আমি গোসল করেছি। কী গৌরবের এই মৃত্যু। আজীবন সবাই তাদের স্মরণ করবে। তারা বেঁচে থাকবে চিরদিন।’
একাত্তরের ২৫ মার্চের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যা আর নির্যাতন প্রচণ্ড দ্রোহী করে তোলে বাবুলকে। কৈশোর থেকে যে ছেলের প্রবল বাসনা দেশের জন্য কিছু করার, এবার যেন সে সুযোগ এল। বাবুল তৈরি হয় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। মা মানেন না। বাবুল পড়ে যায় কঠিন পরীক্ষায়। একদিকে মা অপরদিকে মাতৃভূমি। বাবুল বলে, ‘মা, তোমার তো আরও তিনটি ছেলে আছে। আমাকে তুমি দেশের জন্য ত্যাগ করতে পারো না? মা নিশ্চুপ। বাবুলও হাল ছাড়ে না। একদিন অবসরে বাবুল মাকে গল্প শোনায়—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে জার্মানিতে রেডিওর মাধ্যমে দেশের সবল, সক্ষম যুবকদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। দলে দলে যুবকেরা রিক্রুটিং সেন্টারে ভিড় জমাতে থাকে। এক বিধবা মা তার একমাত্র ছেলেকে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে পাঠান। রিক্রুটমেন্টের সময় জিজ্ঞাসা করা হতো সংসারে তাদের কে কে আছে। জবাবে সবাই বলত, বাবা-মা, ভাই-বোন ইত্যাদি আছে। এ ছেলে বলল, সংসারে শুধু তার মা আছেন। তখন কর্তৃপক্ষ তাকে এই বলে ফেরত পাঠায় যে মাকে দেখাশোনা করাই তার প্রধান দায়িত্ব। বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তানের জন্য সেনাবাহিনী নয়। ভগ্নহূদয়ে ছেলেটি বাসায় ফেরে। দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন মা। সেনাবাহিনীতে টিকতে না পারার কারণ ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেন মা। ছেলের অভিমানী উত্তর, তার জন্য তুমিই দায়ী...। মা নিষ্পলক দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে মৌনভাবে সব শুনলেন। ধীরে পায়ে ছেলের সামনে থেকে চলে গেলেন পাশের ঘরে। নিজের মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে গুলি করলেন।
মাকে গল্পটি শুনিয়ে বাবুল প্রশ্ন করে, ‘মা, তুমি ওই রকম মা হতে পারো না? মা এ পাগল ছেলেকে নিয়ে ধন্দে পড়ে যান। বাবুলের লক্ষ্য স্থির। কদিন পর কাউকে কিছু না জানিয়ে যুদ্ধে চলে যাচ্ছিল বাবুল। ধরা পড়ে যায় মায়ের কাছে। বাবুল মাকে বোঝায়—মা, তুমি তো সবই দেখছ। পাকিস্তানিদের বর্বরতা, অত্যাচার, নারীদের ওপর নির্যাতন। এটা কি সহ্য করা যায়? তোমার তো চার মেয়ে। তাদের ওপর নির্যাতন হলে তুমি কী করতে? আমি তো সেই প্রতিশোধই নিতে যাচ্ছি। ছেলের কথা শুনে মায়ের কপোল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। জবাবহীন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। বাবুল চলে যায়। আর পেছনে তাকায় না। পেছনে ফিরলেই মা। মা মানেই অন্তহীন মায়া। মায়ের মায়ার শক্ত আঁটুনি তাকে অতিক্রম করতেই হবে, লাখো মায়ের মাতৃভূমি যে তাকে ডাকছে।
বাবুল উপস্থিত হয় দুই নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর মেলঘরে। সেখানে জুন মাসের মাঝামাঝি নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে আরও অনেকের সঙ্গে। প্রশিক্ষণ শেষে ৯ অক্টোবর আমাদের বাবুল অর্থাত্ সেকেন্ড লে. খন্দকার আজিজুল ইসলাম এবং তার আরেক কোর্সমেট সেকেন্ড লে. শাহরিয়ার হুদার পোস্টিং হয় নবম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। একদমই নতুন এ ব্যাটালিয়ন। চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানি পুরোনো সৈনিক, ইপিআর, আনসার, মুজাহিদ আর গণযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয় ৯ অক্টোবর। অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আইনউদ্দিন।
২২ অক্টোবর নবম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কসবার পুরান বাজারে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থান আক্রমণ করে। কে ফোর্স কমান্ডার লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ সে আক্রমণ পর্যবেক্ষণকালে কপালে শত্রুর আর্টিলারি স্প্লিন্টারে আহত হলে মেজর আবদুস সালেক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার নিযুক্ত হন।
কসবা এবং ইমামবাড়ী রেলস্টেশনের মাঝামাঝি পূর্বদিকে সীমান্তের কাছাকাছি চন্দ্রপুর। দুর্ভেদ্য পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থান। ভারতীয় চার কোর কমান্ডার লে. জেনারেল সগত সিং, ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আর ডি হীরা এবং ৭৩ মাউন্টেন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার তুলি মেজর সালেক এবং মেজর আইনউদ্দিনকে নবম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দিয়ে চন্দ্রপুর দখল করার নির্দেশ দেন। মেজর সালেক ও মেজর আইনউদ্দিন তীব্র আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, ব্যাটালিয়নটি সবে গঠিত হয়েছে। যোদ্ধারা একে অপরকে এখনো চেনে না। তাছাড়া ব্যাটালিয়নের কাঠামোর আওতায় ছেলেরা যুদ্ধ তেমন করেনি। এমন শক্ত প্রতিরক্ষার ওপর আক্রমণ হবে আত্মঘাতী। তাঁরা কিছুদিন সময় চান। ব্রিগেডিয়ার তুলি বলেন, ‘তোমরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছো বলছো, কিন্তু তোমরা তো কনভেনশনাল যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত নও।’ মর্যাদা রক্ষার বাগ্যুদ্ধে শেষে রাজি হন মেজর সালেক ও মেজর আইনউদ্দিন। মেজর আইনউদ্দিন ব্রিগেডিয়ার তুলিকে বলেন, ‘আপনি জীবনে কয়টা যুদ্ধ করেছেন? আমি আপনার চেয়ে বেশি যুদ্ধ করেছি।’ সামরিক প্রথার বাইরে কিছু রূঢ় কথা শোনালেন মেজর সালেকও। কল্পনাপ্রসূত ও অবাস্তব এ আক্রমণ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরে ব্রিগেডিয়ার তুলিকে কোর্ট মার্শাল করে চাকরিচ্যুত করা হয়। সেকেন্ড লে. খন্দকার আজিজুল ইসলাম বীর বিক্রম ২২ নভেম্বরের এ যুদ্ধে অমিত বিক্রমে যুদ্ধ করে শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর কোম্পানির সৈন্যরা শেষ তাঁকে শত্রুর বাংকারের ওপর হাতাহাতি যুদ্ধ করতে দেখেছে।
আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু বাবুলের মতো দেশের জন্য নিজেকে উত্সর্গ করার সৌভাগ্য হয় কজনের?

অপার বিস্ময়ে বারবার আবিষ্কার করি বঙ্গবন্ধুকে -সপ্তাহের হালচাল by আব্দুল কাইয়ুম

হেমন্তের শ্বেতশুভ্র সকাল। ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে আমি সোজা চলে এসেছি ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর বাসায়। আকাশ ভেঙে সোনালি রোদ ঝরে পড়ছে ৩২ নম্বরের বারান্দায়। সেলিম তখন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আর আমি সাধারণ সম্পাদক। পূর্ব বার্লিনে আন্তর্জাতিক যুব উত্সবের প্রস্তুতি সম্মেলনে আমি যাব। তাই দ্রুত পাসপোর্ট দরকার। সে জন্যই আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছি। বঙ্গবন্ধু তখনই নিচে নেমে এসেছেন। ভোরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবেন অফিস করতে। আমাদের দেখে বললেন, ‘কিরে, কী দরকার, আয় আমার সঙ্গে গাড়িতে উঠে পড়!’
সাধারণ গাড়ি। সামনের আসনে একজন নিরাপত্তাকর্মী। পেছনের আসনে বঙ্গবন্ধুর পাশে আমরা দুজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে টুকটাক কথা হচ্ছে। নিউ এলিফ্যান্ট রোডে বাটার সিগন্যাল মোড়ে গাড়ি থেমে গেল। ট্রাফিক সিগন্যালের জন্য কিনা, জানি না। দেখলাম, একদল ভিখারি বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল মোড়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। মনে হয় তার কাছে খুব পরিচিত দৃশ্য। হয়তো প্রায়ই এ রকম হয়। বঙ্গবন্ধু পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করে তাদের টাকা দিচ্ছেন। সবাই হাসিমুখে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করছেন, ‘কী রে, তুই ভালো তো!’ মনে হয় কত আপন।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো রক্তস্নাত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু সেদিনের এই ছোট্ট ঘটনা দিয়ে আরও কয়েক ধাপ উঁচুতে স্থাপন করলেন। সে সময় ঢাকাসহ সারা দেশ স্বাধীনতার আবেগে আপ্লুত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবার মনের মণিকোঠায়। বাঙালি আর বঙ্গবন্ধু এক সুতায় গাঁথা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু তো সাধারণের বটেই, কিন্তু তিনি তো প্রধানমন্ত্রীও। সেই প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যালে থেমেছে, এটা কি ভাবা যায়? আর তাঁর গাড়ি থামার সুযোগে হতদরিদ্ররা তাঁর সান্নিধ্যলাভের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাদের টাকা দিচ্ছেন। এ যে অকল্পনীয় ব্যাপার। সেদিনের সেই দৃশ্য আজও আমার স্মৃতিপটে অম্লান হয়ে আছে।
সেদিন আর এই দিনের মধ্যে বৈপরীত্য চোখে পড়ার মতো। গত ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার রবীন্দ্রসরোবরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংসদ, গণমানুষের শিল্পী মমতাজ গাইলেন, ‘সোনারগাঁ থেকে বেরোতেই, গোলচক্কর না পেরোতেই,...’। অসাধারণ ছন্দ ও সুরে তিনি গাইলেন, শোনালেন চির পরিচিত দৃশ্যের কথা, সিগন্যাল বাতিতে থেমে থাকা গাড়ির যাত্রীর কাছে এক দুঃখী ভিখারিনী কোলের অভুক্ত শিশুর জন্য এক মুঠো ভাত চাইছে। তাঁর গান শুনে প্রশ্ন জাগল, আমরা কি ওই হতভাগ্যদের জন্য কিছু করতে পারছি? অথচ ৩৭ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর কাছে সবাই ছিলেন সমাদৃত।
সবাইকে আপন করে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য গুণ ছিল বঙ্গবন্ধুর। বিশেষভাবে, আমরা যারা সে সময় ছাত্রনেতা ছিলাম, তাঁর দলের না হলেও, আমাদের তিনি পর ভাবতেন না। আমরাও ভাবতে পারতাম না, তিনি আমাদের দূরের কেউ। সে জন্যই ছোটখাটো সামান্য প্রয়োজনে আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত হতাম। ’৭২ সালের ওই সকালেও একান্ত আমাদেরই মানুষ, এই দাবিতে সেলিম ও আমি হাজির হয়েছিলাম ৩২ নম্বরের সেই বাড়িতে। বাটার সিগন্যাল মোড় পার হয়ে আমরা সচিবালয়ে পৌঁছে গেছি। নিজের দপ্তরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘দে, কাগজটা দে।’ হাতে লেখা দরখাস্তের ওপর বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে কালির কলমে লিখে দিলেন, অবিলম্বে পাসপোর্ট দেওয়া হোক। নিচে স্বাক্ষর করলেন। সেই কাগজ নিয়ে সোজা চলে গেলাম ইস্কাটন রোডের পাসপোর্ট অফিসে। কর্মকর্তারা দরখাস্ত দেখে খুব বেশি অবাকও হলেন না, কারণ এ রকম চিঠি তাঁরা প্রায়ই হয়তো পেতেন। সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্ট। বলা বাহুল্য, গ্র্যাটিস পাসপোর্ট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে আত্মপ্রত্যয়ী ও নির্ভীক ছিলেন, সে কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সবচেয়ে ভালোভাবে জানে বোধ হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের লোকজন। রাজনৈতিক কারণে আমি দুবার জেল খাটি, অর্থাত্ বিনা বিচারে আটক থাকি, রাজবন্দীর মর্যাদায়। প্রথমটি ছিল ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে। সচিবালয়ে কর্মচারীদের নিজস্ব দাবিদাওয়া নিয়ে ধর্মঘট চলছিল। একে কেন্দ্র করে দুর্বোধ্য কোনো কারণে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে এরশাদের সময়। ২৭ নভেম্বর ডা. মিলন হত্যার পর জরুরি আইন জারি করলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সব সাংবাদিক একযোগে কাজ বন্ধ করে দেন, পত্রিকা প্রকাশ স্থগিত থাকে। আমি তখন দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক। কোনো রাজনৈতিক দলে নেই। তাও গভীর রাতে বাসা থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্ভবত সেটা ছিল ১০ বছর আগের গ্রেপ্তারের জের।
যা হোক, কারাবরণের সুবাদে জেলখানায় বঙ্গবন্ধুর বন্দিজীবনের অনেক কিছু জানতে পারি। পাকিস্তান আমলে তাঁকে যে সেলে আটক রাখা হয়েছিল, সেটা জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত। প্রায়ই সেখানে যেতাম। মিয়াসাহেব বলে অভিহিত জেল পুলিশ ও জাদুঘরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কয়েদিদের কাছে তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথা। তারা বেশ গর্ব করে, অনেকটা অভিনয় করে বলতেন একটা কাহিনী। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের দায়ে বঙ্গবন্ধুকে বারবার জেলখানায় আটক করা হচ্ছে। সেই আটকাবস্থায় ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি সামরিক স্বৈরাচার আইয়ুবশাহী বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আটক দেখিয়েছে। বন্দীকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হবে। কারারক্ষীরা গভীর রাতে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সেল থেকে বের করে গেটে নিয়ে গেলেন। বিশাল লোহার গেটের এক পাশে ছোট খুপরির মতো দরজাটা খোলা হলো। সাধারণত বন্দীরা ওই গেট দিয়েই পারাপার হন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যাবেন না। বললেন, ‘বড় গেট খুলতে হবে, শেখ মুজিব মাথা নিচু করবে না!’ আসলে এই সাধারণ ব্যাপারটা আমাদের মনেই আসে না যে, ও রকম ছোট গেট দিয়ে পার হতে হলে তো মাথা নোয়াতে হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তো বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি কেন মাথা নত করবেন? শেষ পর্যন্ত বড় গেট খুলতে হলো। এ কাহিনী হয়তো এখনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুখে মুখে পরিবাহিত হয়ে চলেছে।
বঙ্গবন্ধুর কাছে নীতিনিষ্ঠ ছাত্রনেতাদের স্থান ছিল অনেক উঁচুতে। ১৯৭২ সালের শেষ দিকের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা ভিসির অফিস ঘেরাও করেছে। পরীক্ষা পেছাতে হবে। ডাকসুর ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অনেক বোঝাল যে, এটা ঠিক না। পরীক্ষা পেছানো সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এ অবস্থায় সেলিম সোজা চলে গেল বঙ্গবন্ধুর বাসায়। বঙ্গবন্ধু সেলিমকে নিয়ে নিজেই চলে এলেন ভিসির অফিসে। কিসের নিরাপত্তা, কিসের কী! বললেন, ‘তোরা এখানে কী করছিস?’ কিছুক্ষণের মধ্যে ঘেরাও শেষ। সমস্যার সমাধান।
স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশের রাজনীতি ছিল উত্তাল। ছাত্রদের মধ্যে বাম রাজনীতির ঝোঁক ছিল প্রবল। সে সময় ভিয়েতনামের মুক্তিসংগ্রামের সমর্থনে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্রনেতা মতিউল ও কাদের নিহত এবং অনেকে গুরুতর আহত হন। এক সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। ছাত্র ইউনিয়ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ, সুষ্ঠু তদন্ত, আহতদের সুচিকিত্সা, ভিয়েতনামের অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারকে স্বীকৃতিদান প্রভৃতি দাবি জানায়। সরকার বেশির ভাগ দাবি মেনে নেয়। অবশ্য ছাত্র ইউনিয়নও স্বীকার করে যে তাদের আন্দোলন কিছুটা ভুল পথে চলে গিয়েছিল, তারা বঙ্গবন্ধু বা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে নয়। এর কিছুদিন পর সেলিম ও আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর বাসায় যাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে জানালেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের উপরে যেতে বলেছেন। চলে গেলাম সোজা খাওয়ার ঘরে। তিনি তখন দুপুরের খাওয়া শেষ করেছেন মাত্র। বেগম মুজিবকে ডেকে বললেন, ‘কামালের মা, এই দেখো সেলিম এসেছে।’ তারপর হাসতে হাসতে বললেন, ‘কামালের মা আমাকে বলে, সেলিমের মতো ছেলে কীভাবে তোমার বিরুদ্ধে গেল? আমি বলি, জনতাকে শান্ত করতে হলে অনেক সময় অনেক কথা বলতে হয়।’ অন্যদের ভুলত্রুটিগুলো বঙ্গবন্ধু কত সহজে আপন করে নিতেন!
ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের অনেক পাল্টাপাল্টি ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কাছে এ নিয়ে কোনো আপন-পর ছিল না। ১৯৭২ সালে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন। তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। পরের বছরও প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন। তিনি ছিলেন আমাদের ‘মুজিব ভাই’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন সাধারণের মধ্যে অসাধারণ।
তাঁকে কেউ হত্যা করতে পারে, এটা ছিল অকল্পনীয়। আগস্টের দিনগুলো ছিল বেশ থমথমে। রাজনীতি ছিল আপাত নিথর কিন্তু সংঘাতময়। ১৪ আগস্ট বিকেলে কাকরাইলে (সার্কিট হাউস রোড) ঢাকা মহানগর বাকশাল কার্যালয়ে একজন ওয়ার্ড নেতার মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর একটি সাংগঠনিক সভায় আলোচনা হয় পরদিন ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির চারপাশে, নীলক্ষেত থেকে শাহবাগ-রমনা এলাকাজুড়ে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য ব্যাপক জনসমাগমের আয়োজনের ব্যাপারে। একজন কর্মী হিসেবে আমি সে সভায় ছিলাম। সিদ্ধান্ত হয়, মহানগরের সব ওয়ার্ড থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সেদিন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনবে মানুষ। তার প্রস্তুতি চলছিল নগর বাকশালে।
পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে শুনি, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাই র্যাংকিন স্ট্রিটে, যেখানে সাতটি ট্রাকে করে স্থানীয় জনসাধারণ ও কর্মীদের যাওয়ার কথা টিএসসির মোড়ে। ভাবছিলাম, সবাই মিলে প্রতিবাদ মিছিল বের করব। কিন্তু না, সেখানে গিয়ে দেখি, কেউ নেই। মনের মধ্যে এক ধরনের রক্তক্ষরণ ঘটতে থাকে। ভাঙা মন নিয়ে ফিরে আসি।
৩৪ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। রায় কার্যকর হলে হয়তো মনের সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

আঞ্চলিক সংহতি বিনষ্টের দায় কার -প্রস্তাবিত ভৈরব জেলা by সামিউল হক

প্রথম আলোতে কথাসাহিত্যিক সুমন রহমানের ১ নভেম্বর প্রকাশিত ‘প্রস্তাবিত ভৈরব জেলার মানচিত্র কীভাবে আঁকা হবে’ এবং ২১ নভেম্বর ‘সুপ্রভাত ভৈরব, আস্তা লা ভিস্তা কিশোরগঞ্জ!’ শীর্ষক লেখা দুটি পড়েছি। আমার মতো কিশোরগঞ্জ জেলায় অসংখ্য পাঠকও তা পড়েছেন।
সুমন রহমান খোলা কলমে নিবন্ধটিতে ভৈরবকে জেলায় উন্নীত করার দাবিটিকে নিরপেক্ষ লেখক সেজে পরোক্ষভাবে ভৈরবের প্রতি সমর্থন করেছেন। তিনি এক জায়গায় বলেছেন, ‘আদিতে ময়মনসিংহ জেলার অংশ ছিল ভৈরব। তারপর কিশোরগঞ্জকে জেলা করার সময় ভৈরবকে কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা হিসেবে কিশোরগঞ্জও ময়মনসিংহ মাতৃকার সিজারিয়ান বেবি। এ কথা বর্তমান অখণ্ড কিশোরগঞ্জের প্রবক্তারা বোধহয় ভুলে গেছেন। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ভৈরবের ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। এ জায়গায় কিশোরগঞ্জের জেলা পরিচয়ের দ্বারস্থ কখনোই ছিল না ভৈরব।’
কথাটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে লেখক নিজেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। কারণ তিনি ভুলে গেছেন ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে কিশোরগঞ্জকে মহকুমা করা হয়। ১৩টি থানার মধ্যে ভৈরবও একটি থানা ছিল। পুরোনো জেলাগুলোকে বাদ দিলে ১৯৮৪ সালে ৬৪ জেলার ৪১টি জেলা কোনো না কোনো পুরোনো জেলার সিজারিয়ান বেবি। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর এ ঐতিহাসিক সত্যকে তিনি পাশ কাটিয়ে ভৈরবের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং পাঠককে বিভ্রান্তও করেছেন।
আবার তিনি বলেছেন, কিশোরগঞ্জের ম্যাপ কেটেছিঁড়ে একটি ভৈরব জেলা বের করে আনলে ফল খুব স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। আপত্তি ও আগ্রহগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা দরকার। নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা সম্পর্কে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অনুষ্ঠান করে সংকট নিরসনের কথা বলেছেন। পক্ষান্তরে, লেখক নিরপেক্ষতার আড়ালে ফাঁকফোকর দিয়ে ভৈরবের পক্ষেই থাকতে চেয়েছেন।
২১ নভেম্বর ‘সুপ্রভাত ভৈরব, আস্তা লা ভিস্তা কিশোরগঞ্জ!’ লেখাটা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি লিখেছেন, একটা জেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উষ্মা ও হিংসার বিস্তার আঞ্চলিক সংহতি যেভাবে বিনষ্ট করছে তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? এ ক্ষেত্রে তিনি আগের লেখাটি না লিখলে ভালো করতেন। কারণ তার লেখাটি সংহতি বিনষ্টে ভৈরববাসীকে কিছুটা হলেও অনুপ্রাণিত করেছে।
একজন প্রতিশ্রুতিশীল সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর সত্যটা অকপটে বলার কথা ছিল। কারণ আঞ্চলিক সংহতি বিনষ্ট করছে মুষ্টিমেয় একটি জনগোষ্ঠী। জেলার ৩২ লাখ জনগণের মধ্যে ১১টি উপজেলার ২৮ লাখ জনগোষ্ঠী যেখানে ভৈরব যেতে চাচ্ছে না, তার তোয়াক্কা না করে একটি ছোট এলাকার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর দাবি প্রাধান্য পেতে পারে না। ভৌগোলিক সুবিধার কারণে মানুষকে জিম্মি করে সাইনবোর্ড থেকে কিশোরগঞ্জ থেকে নাম মুছে ফেলা, রেললাইন উপড়ে ফেলা কী রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অবজ্ঞা করার শামিল নয়?
কিশোরগঞ্জ জেলার মানচিত্রটির দিকে তাকালে জেলার দক্ষিণ-পূর্ব এক কোণে ভৈরবের অবস্থান। একদিকে মেঘলা, অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র, সামনে বাজার, পেছনে উত্তর-পশ্চিমে জেলার অন্যান্য উপজেলা। ঢাকা-সিলেট সড়কের ভৈরবের দুর্জয়মোড়ে দাঁড়িয়ে চারদিক তাকালে দ্বিতীয় দুর্জয় মোড় খুঁজে পাওয়া যাবে না।
দেড় বর্গকিলোমিটার ভৈরব শহর তিনদিক থেকে নদীবেষ্টিত। যা দেশের একটি বদ্বীপের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ভৈরবকে জেলায় উন্নীত করতে হলে কিশোরগঞ্জের অন্য কিছু উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মানুষ সামনের দিকে চলতে চায়, পেছনে নয়—এ কথা মনে রাখতে হবে। ১৩টি উপজেলার ১১টি উপজেলা যেখানে অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে সোচ্চার, সেখানে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের চাওয়াকে সবার ওপরে চাপিয়ে দেওয়া ভালো হবে কি?
ভৈরববাসী বলেন, তাঁদের আয়-রাজস্ব বেশি। সেই আয়-রাজস্ব দেশের সবার জন্যই ব্যয় হয়। কিশোরগঞ্জ তা নিয়ে যায় না। আয়-রাজস্ব নিয়ে একটি উদাহরণ থেকে ভৈরবকে জেলা করার দাবিটি যুক্তিযুক্ত নয় বলে প্রমাণিত হবে।
নরসিংদী জেলার বাবুরহাট, মাধবদীকে বলা হয় প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার। ব্যবসা-বাণিজ্য-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড-রাজস্ব ভৈরব থেকে অনেক বেশি। ঢাকা-সিলেট সড়কের নরসিংদীর মাধবদী আজও উপজেলার মর্যাদা পায়নি। থানা নেই, পৌরসভার মধ্যেই তার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চলছে। ভৈরববাসী রাজস্ব আয়ের যে দাবি তুলেছেন, তাহলে বেনাপোল, মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরকেও আলাদা জেলা করতে হয়।
পরিশেষে বলতে চাই, এক-এগারোর পর অনেকেই ভেবেছিল, দেশ থেকে রাজনীতি উঠে যাবে। কিন্তু রাজনীতিই প্রমাণ করেছে রাজনীতি ছাড়া দেশ চলতে পারে না। দেশে ভালো কিছু করতে হলে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা অপরিহার্য। বিষয়টি বিবেচনা করলে বর্তমান সরকার তথা রাজনীতি জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক ও বাস্তবধর্মী প্রতিফলন ঘটাবে। ৩২ লাখ মানুষের ২৮ লাখ মানুষ যেখানে ভৈরবকে জেলায় উন্নীত করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সে, সত্যটি বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেবেন। অন্যথায় সারা জীবন ক্ষমতাসীন দলকে এর মাশুল গুনতে হবে। জনমতকে উপেক্ষা করা সঠিক কাজ হবে না।
সামিউল হক: শিক্ষক, নুরুল উলুম মহিলা মাদ্রাসা, কিশোরগঞ্জ।

আসন্ন কোপেনহেগেন সম্মেলন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন -জলবায়ু পরিবর্তন by কাজী গোলাম মোস্তফা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখন স্বীকৃত সত্য, গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে বায়ুমণ্ডলের এবং সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের অধিকাংশ দেশই কমবেশি উদ্বিগ্ন। সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে আছে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো, বিশেষত যেসব দেশের ভূমির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতার চেয়ে খুব বেশি ওপরে নয়। অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে মালদ্বীপ ও টুভালু দেশ দুটি। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের বর্তমান মাত্রা অব্যাহত থাকলে মেরু অঞ্চলের জমাট বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। তখন দেশ দুটির সব অধিবাসীর জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়া ভিন্ন কোনো গত্যন্তর থাকবে না। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে কিরিবাতি, কোস্টারিকা ও বাংলাদেশ। এসব দেশের উপকূলীয় এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে আশার কথা, পৃথিবীকে রক্ষার জন্য কমবেশি সবাই সচেষ্ট আছে, বিশেষভাবে এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ বিশ্বের সব দেশকে একক নীতি ও এক লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সচেতন ও সংগঠিত করার জন্য ১৯৭২ সালের জুন মাসে স্টকহোমে মানব পরিবেশ উন্নয়নের ডিক্লারেশনের মাধ্যমে পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করে। এর পর থেকে পরিবেশ উন্নয়ন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংরক্ষণ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলা, বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার মরুকরণ প্রতিরোধ, ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন থেকে ওজোন স্তর রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে জাতিসংঘ বিশ্বের সব রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন সভা, সম্মেলন ও কনভেনশনের আয়োজন করে বিশ্বময় আন্দোলন গড়ে তোলে। জাতিসংঘ সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করে জলবায়ু সম্মেলনের। উদ্দেশ্য ছিল কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ-১৫) অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা এর কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাবকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন প্রশমনে কাজে লাগানো।
ইদানীং অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা প্রায় দুই মিটার বেড়ে যাবে, ফলে দ্বীপ ও ব-দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তার পর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বব্যাপী ঘটবে পরিবেশ বিপর্যয়, মোকাবিলা করতে হবে অনেক বৈরী অবস্থার। সম্প্রতি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে যাওয়া সিডর ও আইলার আঘাত পরিবেশ বিপর্যয়েরই আলামত।
জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের আওতায় সম্পাদিত কিয়োটো প্রোটোকলকে পুরো বিশ্বে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে প্রথম কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিয়োটো প্রোটোকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোফ্লোরো কার্বনস, পারফ্লোরো কার্বনস ও সালফার হেক্সাফ্লোরাইড—এই ছয়টি গ্যাসকে গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে কার্বন ডাই-অক্সাইডই মুখ্য গ্রিন হাউস গ্যাস।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর শীর্ষে অবস্থানকারী চীন, ভারত ও ব্রাজিল অতিদ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হলেও তাদের কার্বন নির্গমন কম থাকায় দেশগুলোর জন্য কিয়োটো প্রোটোকলে লক্ষ্যমাত্রার কোনো দায় ছিল না। মোট কার্বন নির্গমন বিষয়ে ইদানীং চীন কয়েকটি উন্নত দেশের চেয়েও এগিয়ে গেছে। উন্নত দেশগুলোর ধারণা, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে চীন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চলে যাবে।
কিয়োটো প্রোটোকলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ব্যতিরেকে অন্য সব উন্নত দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ইতিবাচক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনটন প্রশাসন এই প্রোটোকলে সম্মতি দিলেও মার্কিন সিনেট তা গ্রহণ না করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি পাল্টা দায় চাপিয়ে প্রোটোকলটি র্যাটিফাই করেনি। বুশ প্রশাসনের সময় এ বিষয়ে নেতিবাচক ভূমিকা পরিলক্ষিত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করছেন। কার্বন নির্গমন হ্রাসসংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগে মার্কিন প্রশাসনের সম্পৃক্ত হওয়া খুবই প্রয়োজনীয়, কেননা বিশ্বের মোট গ্রিন হাউস গ্যাসের ২৫ শতাংশ নির্গত হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
আগামী ৭-১৮ ডিসেম্বর কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-১৫) অনুষ্ঠিত হবে। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য কিয়োটো প্রোটোকলের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে কোপেনহেগেন সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো কিয়োটো প্রোটোকলকে সব সময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়ে সচেষ্ট ছিল। ইইউ আসন্ন কোপেনহেগেন সম্মেলনে ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমানো এবং মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলে আরও অধিক কমিয়ে আনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছিল। তার পর জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এডাপ্টেশন সহায়তা প্রদান বিষয়ে ইইউ সম্মতি প্রকাশ করে। তবে কোপেনহেগেন সম্মেলনের সফলতা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসহ পৃথিবীকে সংকটময় বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য নেতৃত্ব প্রদানের মনোবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের যথার্থতা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করলেও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে না এলে তারা রক্ষণশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর ব্যাংককে ১৮০টি দেশের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় আসন্ন কোপেনহেগেন সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য ২০১২-পরবর্তী অবস্থান আপস-মীমাংসার মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে গিয়ে ইইউ দেশগুলোর বিপরীত মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইইউ দেশগুলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশের ওপর গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের দায় সমভাবে চাপিয়ে নতুন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার পক্ষে মতামত উত্থাপন করে। কিয়োটো প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো দায় না থাকা সত্ত্বেও চীন এবং ভারত কার্বন নির্গমন মাত্রা কমানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ না করে তাদের সরকারের প্রতিশ্রুত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে। বিষয়টি নিয়ে উন্নত দেশগুলো এবং অপর পক্ষে চীনের নেতৃত্বে জি-৭৭ভুক্ত ১৩০টি উন্নয়নশীল দেশ পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের জন্য এক অশনিসংকেত।
কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ ২০১২ সালে উত্তীর্ণ হবে, তখনো এর লক্ষ্যমাত্রা বহুলাংশেই অর্জিত হবে না। এ কারণেই গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের অপ্রতিরোধ্য গতিকে থামিয়ে অনিবার্য বিপর্যয় রোধকল্পে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা স্থির করাটা এখন সময়ের দাবি।
কাজী গোলাম মোস্তফা: পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা)।

খুলনার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র -দেরিতে কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ হোক

তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ রোগের চিকিত্সা-পরামর্শ, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সরবরাহ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ উদ্বুদ্ধকরণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র মূলত কাজ করে। সহজে সাধারণ মানুষকে দরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাইয়ে দেওয়ার বিবেচনা থেকেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু সেখানে যদি মানুষকে অশেষ ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
শনিবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন খুলনা জেলার ৪৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধিকাংশে সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেবা প্রদান করা হয় না। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিত্সক-কর্মচারীরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কয়েক ঘণ্টা দেরিতে আসেন। এজন্য তাঁদের কারও কাছে জবাবদিহিও করতে হয় না।
তৃণমূল পর্যায়ে অনেকে বড় ধরনের অসুখে আক্রান্ত না হলে সাধারণত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে চান না। কর্মক্ষম মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট করে দূরে গিয়ে চিকিত্সা নেওয়ার মতো সুযোগ করে ওঠা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব মানুষকে যদি নিজের বাড়ির কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাহলে এ কেন্দ্রগুলোর আর কী উপযোগিতা থাকে? নানা সময়ে জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা চলে, কিন্তু যেখানে প্রয়োজনীয় জনবল আছে সেখানে এ ধরনের কাজে অবহেলার জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থা কি জারি আছে? কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকের দায়িত্বে যেসব সংস্থা ও ব্যক্তিরা আছেন, তাঁরা কী করেন?
সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছা যেকোনো ব্যক্তির পেশাদারি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা দেরি করে কর্মস্থলে যাওয়াকে দায়িত্বে অবহেলা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। জনগণের সেবায় নিয়োজিতদের ভুলে গেলে চলবে না যে তাঁদের অল্প কয়েকজনের খামখেয়ালি আর অবহেলার জন্য সমাজের বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই তাঁদের যেমন আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন, তেমনি কেউ যেন দায়িত্বে অবহেলা করে পার না পান তার জন্য জবাবদিহির ব্যবস্থাও জরুরি।

‘কোনো ক্রসফায়ার ঘটেনি’ -কী কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মুখে আমরা যেদিন শুনলাম, এই সরকারের আমলে কোনো ক্রসফায়ার হয়নি, ঠিক সেদিনই ক্রসফায়ারের ব্যাপারে হাইকোর্টের একটি রুল জারির ঘটনা ঘটল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এই রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পত্রপত্রিকায় ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুক যুদ্ধ’ বা হালের ‘এনকাউন্টার’ শব্দগুলোও এসব ঘটনায় ‘অপরাধীদের’ নিহত হওয়ার খবর প্রায় প্রতিদিনই থাকছে। আর এই শব্দগুলোর অর্থ যা-ই হোক, দেশের সবাই এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে ঘটনাগুলো অপরাধী হিসেবে সন্দেহ করা লোকজনকে বিচার না করে মেরে ফেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ প্রতিটি মৃত্যুর বদলে আমরা শুনি একটি পুরোনো গল্প। সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছে তা ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যাকাণ্ড। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তবে কী বললেন?
ক্রসফায়ার নিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের মুখে আমরা এ পর্যন্ত নানা কথা শুনলাম। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে গিয়ে ক্রসফায়ার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন, এর পর নৌপরিবহনমন্ত্রীর কাছে শুনলাম ভিন্ন কথা। বিবিসির সংলাপে গিয়ে তিনি বললেন, ক্রসফায়ারের মাধ্যমেই একদিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে। আর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে জোরের সঙ্গে অসত্য শোনা গেল, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি।’
বিচার না করে সন্দেহভাজন অপরাধীদের মেরে ফেলা যে আইনের শাসনের সঙ্গে মেলে না, তা আমরা নিরন্তর বলে আসছি। হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে ব্যাপারে রুল জারি করে আইনের শাসনের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেই আবার তুলে ধরেছেন। লুত্ফর খালাসী ও খায়রুল খালাসী নামে দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল র্যাব। র্যাবের কাছে যাঁদের পরিচয়—চরমপন্থী, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য। এ দুজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর লুত্ফর খালাসীর ছেলে তাঁর বাবা ও চাচাকে র্যাব ৩-এর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানান ১৪ নভেম্বর। তখন তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁদের ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হতে পারে। এরপর ১৬ নভেম্বর ভোরে র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে তাঁরা মারা যান।
প্রতিটি ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে একটি বন্দুকযুদ্ধ ঘটবেই, এবং তখন পালাতে গিয়ে আটক ব্যক্তিরা মারা যাবেন—এই কাহিনী আর আমাদের কত শুনতে হবে? খালাসী ভাইদের পরিবারের পক্ষ থেকে যখন ক্রসফায়ারের আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল, তখন কেন তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেল না—তার কী জবাব দেবে র্যাব, আমরা তা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। নিহত দুই ভাই বা এর আগে যারা ক্রসফায়ারে মারা গেছেন তাঁরা অপরাধী বা সন্ত্রাসী কি না, সেটা নিশ্চিত করা গেলেই ক্রসফায়ারের নামে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড জায়েজ হয়ে যায় না। জনতার চোর-ডাকাত পিটিয়ে মেরে ফেলা যদি রাষ্ট্র সমর্থন না করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কাজও কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
নির্বচানে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও মুখে অস্বীকার করেও সরকার যখন ক্রসফায়ার বন্ধ করছে না, তখন বুঝতে হচ্ছে যে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বাভাবিক আইনের পথে সুবিধা করতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে আমরা সরকারকের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আইনের শাসনের কথা বলে এ ধরনের পথ বেছে নেওয়া দেশ, জাতি, গণতন্ত্র বা দল কারও জন্যই আখেরে মঙ্গল বয়ে আনবে না। বিচার ছাড়া হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পথ কোনো সভ্য দুনিয়ায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবেও একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন কার্যকর আছে—এমন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেবে। আমরা মনে করি, বিষয়টির দায় শুধু প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব বা কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সরকারকেই ক্রসফায়ার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইএসআই মোল্লা ওমরকে পালাতে সহায়তা করেছে

মার্কিন পাইলটবিহীন বিমানের হামলার শিকার হতে পারেন—এই আশঙ্কায় তালেবান-প্রধান মোল্লা ওমরকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী শহর কোয়েটা থেকে বন্দরনগর করাচিতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, আইএসআইয়ের সহায়তায় তালেবান নেতা মোল্লা ওমর সম্প্রতি কোয়েটা থেকে পালিয়েকরাচিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, রমজান শেষ হওয়ার পর গত মাসে মোল্লা ওমর করাচিতে পালিয়ে যান। সেখানে নতুন শুরা পরিষদ গঠন করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে পাকিস্তানি প্রভাব বাড়ানোর জন্য নব্বইয়ের দশকে তালেবান গঠনে সহায়তা করে আইএসআই।
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এবং আল-কায়েদা ও তালেবান বিশ্লেষক ব্রুস রিডেল নিশ্চিত করেছেন, মোল্লা ওমরকে সম্প্রতি করাচিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, মার্কিন পাইলটবিহীন বিমানের হামলা থেকে মোল্লা ওমরকে নিরাপদে রাখতে তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইএসআই

কিউবার এক ব্লগারের সঙ্গে আলোচনা করলেন ওবামা

দেশের নানা বিষয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সম্প্রতি ইন্টারনেটে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কথা বলেছেন কিউবার ইওয়ানি সানচেজ নামের এক ব্লগার (ইন্টারনেটে দিনপঞ্জি লেখক) সানচেজের পাঠানো কিছু লিখিত বাছাই করা প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন ওবামা।
ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে সানচেজ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁকে এটা নিশ্চিত করেছেন, কিউবায় মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর বেড়েছে—এমন অবস্থা দেখতে চায় ওয়াশিংটন। ওবামা এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার পক্ষপাতী। তবে এ জন্য তিনি শর্ত হিসেবে দেশটির অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টির কথা বলেছেন। কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একমাত্র কিউবার জনগণই পারবে তাদের দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।
সানচেজের এক প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি কিউবা সফরে যেতেও রাজি। কিউবা সফরের সম্ভাবনা তাই তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তিনি চাইছেন আরও বেশি করে কিউবার সঙ্গে নানা বিষয় আলোচনা শুরু করতে।

হজে গিয়ে মোট ৫০ ভারতীয়র মৃত্যু

সৌদি আরবে এ বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫০ জন ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে উত্তর প্রদেশের ১৭ জন, জন্মু ও কাশ্মীরের পাঁচজন, বিহারের পাঁচজন, তামিলনাড়ুর চারজন, গুজরাট, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের তিনজন করে, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা ও অন্ধ্র প্রদেশের দুজন করে এবং রাজস্থান ও পাঞ্জাবের একজন করে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশ মারা গেছেন হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।
ভারত থেকে এবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গেছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৪৯১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবারও তদন্ত

দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওই রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তখনকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
ওয়াশিংটনে ওয়াটারগেট কমপ্লেক্স ভেঙে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কার্যালয়ে অনুপ্রবেশ সম্পর্কে রিচার্ড নিক্সন ঠিক কী জানতেন, তা তদন্ত করে দেখার জন্য ফরেনসিক তদন্তকারীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কার্যালয়ে অভিযান সম্পর্কে তিনি কতটুকু অবগত ছিলেন, সেটা জানার জন্যই এ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাফেজখানা কর্তৃপক্ষ তদন্তকারী নিয়োগ করেছে। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে বৈঠকের সময় হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ এইচ আর হেলডেম্যান যে নোট নিয়েছিলেন, তা বিশ্লেষণ করবেন তদন্তকারীরা। ওয়াটারগেট কমপ্লেক্স ভেঙে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কার্যালয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনায় নিক্সনের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তিন দিন আগে বৈঠকটি হয়েছিল।
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বলা হয়, তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বৈঠকের অডিও রেকর্ডের যে সাড়ে আঠারো মিনিট মুছে গেছে, ওই সময়জুড়ে নিক্সন ও হেলডেম্যান কী আলোচনা করেছিলেন, সেটা উদ্ধার করা।
মুছে যাওয়া টেপ থেকে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা এক অর্থে ছেড়েই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যোগসূত্রের সন্ধানে টেপের পরিবর্তে এখন তাঁরা হেলডেম্যানের নেওয়া নোট বিশ্লেষণ করে দেখবেন।
বিশেষজ্ঞরা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। কাগজের ওপর লেখার সময় কলমের চাপে কাগজের মধ্যে যে দাগ পড়ে, ওই পদ্ধতির সাহায্যে সেই দাগ বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এ ছাড়া হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং ও ভিডিও স্পেকট্রাল তুলনা পদ্ধতিও ব্যবহার করবেন তদন্তকারীরা। আগামী বছরের শুরুর দিকে তদন্তের ফলাফল পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সাময়িক সরে দাঁড়াবেন মিশেলেত্তি

হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ক্ষমতা থেকে কিছু দিন দূরে সরে থাকার কথা ভাবছেন। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। মিশেলেত্তি জানান, ২৫ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারেন তিনি। ২৯ নভেম্বর সে দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। খবর এএফপির।
মিশেলেত্তি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের মনোযোগ রাজনৈতিক সংকট থেকে সরিয়ে নির্বাচনের দিকে ফেরানো। ওই এক সপ্তাহের জন্য সরকারের দায়িত্বে কে থাকবেন তা উল্লেখ না করে তিনি জানান, তাঁর অনুপস্থিতিতে সরকার স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে থাকবে। চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রতি ইঙ্গিত করে মিশেলেত্তি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে সরকারের দায়িত্ব নেবেন। রক্তপাত হতে পারে—এমন কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে জেলায়া মিশেলেত্তির এই ঘোষণাকে ‘নিষ্ঠুর কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ভেনেজুয়েলাভিত্তিক টেলেসার টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি ঘোষণা করছি বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করব না। বৈধভাবে এই নির্বাচনে অংশ নেব আমি।’ পরে অবশ্য তিনি বলেন, ‘আইনি বৈধতা দেওয়ার জন্যই নির্বাচনটি স্থগিত করতে হবে।’ মিশেলেত্তি ও জেলায়া আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা জানিয়েছে, তারা হন্ডুরাসের আসন্ন নির্বাচনকে সমর্থন করবে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বলেছে, নির্বাচনের আগে জেলায়াকে ক্ষমতায় ফিরতে দেওয়া না হলে তারা ওই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না। এর আগে সে দেশের কংগ্রেস নির্বাচনের তিন দিনের মধ্যে জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের বিষয়ে ভোট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জেলায়া নির্বাচন বর্জন করার জন্য তাঁর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিশেলেত্তি-জেলায়া সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার জন্য কংগ্রেসে ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না।
গত ২৮ জুন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। পরের দিন মিশেলেত্তির নেতৃত্বে সেখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর গোপনে দেশে ফিরে ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ও অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়।

অর্থনৈতিক সংকট থেকে শিশুদের রক্ষার আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের শিশু-বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশের সরকারকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত থেকে অর্থ ব্যয় হ্রাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এতে করে লাখ লাখ শিশু ও তাদের পরিবার দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ে যাবে।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার-বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ এ আহ্বান জানায়।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাস থেকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিশেষ করে শিশু ও নারীরা ক্ষতির শিকার হয় বেশি।
২০০৮-২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে মন্দা দেখা দেওয়ার আগে আর্থিক সংকটের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার বেশি ছিল। এ ছাড়া ওই সময় বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তির হার কমেছে, বেড়েছে তাদের নিরাপত্তাহীনতা। বিপজ্জনক পরিবেশে শিশুদের কাজে নিয়োগে বাধ্য করার ঘটনাও বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় সংকোচনের ফলে শিশুর ও তার পরিবার দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ছে। একপর্যায়ে সংকট নিরসনের পরও সহজে আর তাদের ওই ফাঁদ থেকে মুক্ত করা যায় না।
বিশ্ব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত উল্লেখ করে ইউনিসেফ জানায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকটকালে বিভিন্ন দেশের সরকারের উচিত শিশু ও তাদের পরিবারকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য কাজ করা।

পাকিস্তানের ভয়ের কিছু নেই ভারতের কাছ থেকে -সাক্ষাৎকারে মনমোহন সিং

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যত সমস্যা রয়েছে, তা নিরসনে ভারত প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। শর্তটি হলো, ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মনমোহন সিং এসব কথা বলেন।
সাক্ষাত্কারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাচ্ছি। ওই সব প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা মুম্বাই হামলার মতো জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে।’
মনমোহন সিং বলেন, ‘ভারতের দিক থেকে পাকিস্তানের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র শর্ত হলো, ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না পাকিস্তান।’
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাকিস্তান যদি সত্যিকার অর্থে এই অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান দেখায়, তাহলে আমাদের মধ্যকার বিরাজমান সব সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা আলোচনায় ফিরে যাব।’
মনমোহন সিং বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে ভারত পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের শিকার। তিনি আরও বলেন, ভারত চায় পাকিস্তানকে এই পথ থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব কাজে লাগাবে।
মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পাকিস্তানের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে পাকিস্তান যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনমোহন সিং বলেন, পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রভাব বেড়েছে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
আফগানিস্তান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে গরমিলের ব্যাপারটি উল্লেখ করে মনমোহন সিং বলেন, পাকিস্তান আসলে আফগানিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেখানে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে না।
মনমোহন বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের জয় বিশ্বের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’ বয়ে আনবে। আল-কায়েদা ও তালেবানকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে অভিহিত করেন তিনি।

দুই শতাধিক ওয়েবসাইটে ইংরেজি ভাষায় প্রচারিত হচ্ছে আল-কায়েদার বার্তা

পশ্চিমা বিশ্বে মুসলমানদের কাছে আল-কায়েদার বার্তা প্রচারে নিয়োজিত ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটের সংখ্যা বেড়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব সরকারের এক কর্মসূচি থেকে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ইসলামি ওয়েবসাইটে জঙ্গিদের প্রচারণা মোকাবিলায় পরিচালিত ‘আসসাকিনা’ নামের ওই কর্মসূচি থেকে জানা গেছে, ইংরেজি ভাষায় আল-কায়েদার বার্তা প্রচার করছে—এমন ওয়েবসাইটের সংখ্যা গত সাত বছরে ৩০ থেকে বেড়ে দুই শতাধিক হয়েছে। খবর এপির।
আসসাকিনা কর্মসূচির প্রধান আবদুল মানাম আলমুশাওয়াহ জানান, আল-কায়েদার প্রতি সহানুভূতিশীল ওয়েবসাইটের সংখ্যা এখন ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর বিপরীতে গত সাত বছরে আরবি-ভাষাভিত্তিক ওয়েবসাইটের সংখ্যা এক হাজার থেকে কমে এখন ৫০-এ এসে ঠেকেছে। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এ ধরনের বেশির ভাগ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে।
আলমুশাওয়াহ জানান, ইংরেজি ভাষার এসব ওয়েবসাইটের বেশির ভাগের সার্ভারের অবস্থান ব্রিটেনে। তবে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এগুলো পরিচালনা করা যায়। এসব ওয়েবসাইটে যেসব ধর্মীয় নেতার বক্তব্য প্রচারিত হয়, এর বেশির ভাগই আরবের নাগরিক। তবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডেরও কয়েকজন রয়েছেন। আল-কায়েদার প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন—এমন তথ্য জানার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ আসসাকিনা কর্মসূচি শুরু করে।
ইংরেজি ভাষার এসব ওয়েবসাইটে আনোয়ার আল-আওলাকির মতো কট্টর ইসলামপন্থী নেতাদের বাণী প্রচার করা হয়। মানুষকে প্রভাবিত করার মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এ ধরনের অনেক কট্টরপন্থীই ইংরেজি ভাষায় বক্তৃতা বা ধর্মোপদেশ প্রচার করেন। পাশাপাশি আবদুল্লাহ আজ্জামের মতো আরবি ভাষাভাষি কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্যও ইংরেজিতে অনুবাদ করে এসব ওয়েবসাইটে প্রচার করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ফোর্টহুডে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে আটক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া আল-আওলাকি। নিদালের সঙ্গে আল-আওলাকি বহুবার ই-মেইলে বার্তা বিনিময় করেছেন। ফোর্টহুডে হত্যাকাণ্ডের পর নিদালকে আল-আওলাকি বীর বলে তাঁর প্রশংসা করেন।
আল-আওলাকি টুইন টাওয়ারে হামলার আগে ওই হামলায় অংশ নেওয়া দুই বিমান ছিনতাইকারীর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি মসজিদে আলাপ করেন। ইয়েমেনে ফেরার পর আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কর্তৃপক্ষ তাঁকে এক বছরের জন্য আটকে রাখে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আবারও আল-আওলাকিকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে।
আলমুশাওয়াহ বলেন, আল-আওলাকির মতো কট্টর ধর্মীয় নেতারা যেকোনো গোষ্ঠীর চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ তাঁরা সরাসরি আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের আটক করে কারাগারে আটকে রাখলেও আল-কায়েদার তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্কভিত্তিক এনইএফএ ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইভান কোলমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে যাঁরা বাড়িতে বসে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ির কম্পিউটারে আওলাকির বার্তা পাওয়া গেছে।
অনলাইনে জঙ্গি তত্পরতার ওপর নজরদারি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান রিতা কাত্জ জানান, ইংরেজি ভাষায় আল-কায়েদার আদর্শের প্রচার পাওয়ার অর্থ হলো, সম্ভাব্য সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা এখন শুধু আরবি ভাষায় পারদর্শী হয়েও কট্টরপন্থীদের দলে ভেড়াতে পারবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইংরেজি ভাষাভিত্তিক আল-কায়েদার আদর্শ প্রচারকারী ওয়েবসাইটের সংখ্যা বাড়ার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অশ্রুসিক্ত নয়নে টক শোর ইতি টানার ঘোষণা উইনফ্রের

অশ্রুসিক্ত নয়নে নিজের টক শো ‘অপরাহ উইনফ্রে শো’ বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অপরাহ উইনফ্রে। দীর্ঘ ২৫ বছর টানা চালিয়ে যাওয়ার পর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে পর্দা নামছে এই অনুষ্ঠানটির।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, সরাসরি সম্প্রচারিত টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই টক শো সম্রাজ্ঞী ঘোষণা দেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে তিনি এই অনুষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী এই উপস্থাপিকা তাঁর দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠানটিকে ভালোবাসি। এমনকি অনুষ্ঠানটিকে বিদায় জানানোর সময়ও আমি একে ভালোবেসে যাব।’
১৪৫টি দেশে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি অপরাহ উইনফ্রেকে একজন সাংস্কৃতিক কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। উইনফ্রে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানটি পঁচিশ বছর ধরে আমার অস্থিমজ্জায় মিশে ছিল। অনুষ্ঠানটিকে বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আমি আর পাব না।’
উইনফ্রে অবশ্য তাঁর এই টক শো বন্ধ করে দেওয়ার পর দর্শকদের তাঁর প্রযোজনা সংস্থা থেকে আরও নতুন নতুন টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৩১

চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশে আজ শনিবার একটি কয়লা খনিতে গ্যাসের বিস্ফোরণে ৩১ জন মারা গেছে। এতে ভূগর্ভে আটকা পড়েছে অন্তত আরও ৮২ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী হেইলংজিয়াং প্রদেশের এই খনিতে বিস্ফোরণের সময় ৫২৮ জন শ্রমিক কাজ করছিল। বিস্ফোরণের পর চার শতাধিক শ্রমিক সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ব্রাজিলকে টপকাল স্পেন

ব্রাজিলকে পেছনে ফেলল স্পেন। কাল প্রকাশিত সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে গেছে স্পেন। স্পেনকে জায়গা করে দিতে একধাপ নিচে নেমে এখন দুই নম্বরে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। তবে সেরা দশে সবচেয়ে উন্নতি হয়েছে পর্তুগালের। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে প্লে-অফের দুটি ম্যাচ জেতার পর এক লাফে পাঁচ ধাপ ওপরে উঠে পাঁচ নম্বরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশ। নেদারল্যান্ড তিন, ইতালি চার ও জার্মানি ছয়ে। আর্জেন্টিনার হয়েছে অবনতি। দুই ধাপ নেমে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল এখন আট নম্বরে।

প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত

কয়েক দিন ধরেই জোহানেসবার্গে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। হলো কালও, আর ভাসিয়ে নিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি। দুবার মাঠ পরিদর্শনের পর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। আগামীকাল সেঞ্চুরিয়নে দ্বিতীয় ম্যাচ।

মোহামেডানে জিমি-চয়ন

জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের জন্য দলবদলের তারিখ ঠিক হবে আজ লিগ কমিটির সভায়। এর আগেই অবশ্য পর্দার আড়ালে দলবদল সেরে ফেলেছেন অনেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম রাসেল মাহমুদ জিমি ও মামুনুর রহমান চয়ন। দুজনেই আবাহনী ছেড়ে মোহামেডানে যোগ দেওয়া নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। ঊষা থেকে কামরুজ্জামান রানা, নিজ দলের রাজন ছাড়াও জাতীয় দলের কিরণ, পিন্টুকেও নিশ্চিত করেছে মোহামেডান। এবার মোহামেডান শক্তিশালী দল গড়তে যাচ্ছে।

এত দিনে ব্র্যাডম্যান

৫২ টেস্টে ৯৯.৯৪ গড়ে ৬৯৯৬ রান, সেঞ্চুরি ২৯টি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১৭ সেঞ্চুরিতে ২৮০৬৭ রান, গড় ৯৫.১৪। নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না কার পরিসংখ্যান এটি। হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য স্যার ডন ব্যাডম্যানের চেয়ে উপযুক্ত নাম আর কী হতে পারে!
অবশেষে আইসিসির হল অব ফেমে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নাম। পরশু মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তির নাতি টমের হাতে একটি স্মারক ক্যাপ তুলে দেওয়া হলো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) পক্ষ থেকে। ২০০১ সালে প্রয়াত, ক্রিকেটের অবিশ্বাস্য সব কীর্তিগাথার জন্ম দিয়ে যাওয়া ব্র্যাডম্যানের পরিবারের পক্ষ থেকে এই সম্মাননার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান টম, ‘বেঁচে থাকলে তিনি নিশ্চয়ই আইসিসির হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে গর্ব বোধ করতেন। এটা একটা কিংবদন্তির স্বীকৃতি, যে স্বীকৃতি পেয়ে আমরা ব্র্যাডম্যান পরিবার ভীষণ গর্বিত এবং উচ্ছ্বসিত।

আবার ম্যাচ দাবি আইরিশদের, ফ্রান্সের নাকচ

হ্যান্ড অব অঁরি’ নিয়ে শোরগোল পৌঁছে গেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আইরিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কাওয়েন দাবি করেছেন, ম্যাচটি আবার খেলা হোক। এই দাবির জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি নাকি কাওয়েনের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ও ফুটবলের কী বোঝে?’ এ নিয়ে পরিস্থিতি যখন আরও উত্তপ্ত হওয়ার দিকে মোড় নিচ্ছিল, তখনই পুরো আইরিশ জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন সারকোজি। কিন্তু একই সঙ্গে নাকচ করে দিয়েছেন এই ম্যাচ আবার আয়োজনের সম্ভাবনা।
বিতর্কের জন্ম থিয়েরি অঁরির বাঁ হাতে। প্লে-অফের প্রথম লেগে করা ফ্রান্সের একমাত্র গোলটি দ্বিতীয় লেগে শোধ করে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। ফলে ৯০ মিনিট পেরিয়ে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৩ মিনিটে আয়ারল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে বাঁ হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে ডান পায়ে পাস দেন অঁরি। সেই পাসেই আইরিশদের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া গোলটি করেন উইলিয়াম গালাস।
আইরিশ পত্রপত্রিকাগুলোর চোখে এরই মধ্যে খলনায়ক বনে গেছেন অঁরি। ‘প্রতারক’ ‘হ্যান্ড অব ফ্রগ’ শিরোনাম দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সংসদেও উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। দাবির মুখে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন ফিফার কাছে চিঠি লিখতে, ‘হ্যাঁ, আমি আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রীকে বলেছি অভিযোগ জানিয়ে ফিফাকে চিঠি লিখতে এবং ম্যাচটি আবার আয়োজনের দাবি জানাতে।’
আইরিশ ফুটবল সংস্থা (এফএআই) এরই মধ্যে ফিফার কাছে সেই আহ্বান জানিয়েছে। রেফারির ভুলের কারণে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের দৃষ্টান্তও ফিফার কাছে তুলে ধরেছে তারা। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এশিয়া অঞ্চলের প্লে-অফের প্রথম লেগে বাহরাইনের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছিল উজবেকিস্তান। কিন্তু রেফারির ভুলের কারণে ম্যাচটি আবার আয়োজন করা হয়। দুই লেগে মিলে হেরে যায় উজবেকরা।
এই উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী জন ডেলানি বলেছেন, “খেলাটি যারা চালায় এখন সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে। আপনি যদি সত্যিই ‘ফেয়ার প্লে’র নীতিতে বিশ্বাস করেন, তা হলে আপনাকে এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। ভালো ভালো কথা বলার চেয়ে ভালো কিছু করে দেখানোই শ্রেয়।”
আবার ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে সোচ্চার আয়ারল্যান্ডের সমর্থকেরাও। রেডিও সাক্ষাত্কারে আইরিশ আইনমন্ত্রী তরুণদের সামনে ভালো একটি উদাহরণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমান ফলাফলটাই বহাল রাখা হলে তরুণদের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে তোমরা যদি প্রতারণা করো তা হলেই তোমরা জিতবে।’
তাঁর সমর্থনে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১০ হাজার আইরিশের মধ্যে পরিচালিত জরিপের ৯৫ শতাংশই ম্যাচটি আবার আয়োজনের কথা বলেছে। আয়ারল্যান্ডের একদল সমর্থক ফ্রান্স দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভও করেছে।
মজার ব্যাপার হলো, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আর আইরিশ প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে মুখোমুখি হয়েছিলেন ব্রাসেলসে। সেখানেই সারকোজি আয়ারল্যান্ডের মানুষদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আবারও ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ফুটবলের মধ্যে রাজনীতি না টেনে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। প্রেসিডেন্টের মতোই ফ্রান্সের সাধারণ মানুষও আবারও ম্যাচ আয়োজনের বিপক্ষে। শুধু তা-ই নয়, অঁরিকে প্রতারক নয়, নায়ক হিসেবেই বিবেচনা করছে তারা। দেশটির একটি পত্রিকা অঁরির এই গোলটিকে ’৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার দেওয়া গোলের সঙ্গে তুলনা করেই নাম দিয়েছে ‘হ্যান্ড অব গড’।
আয়ারল্যান্ডের ইতালিয়ান কোচ জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনি নিজেও ম্যাচ আয়োজনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না, ‘আমি এই দাবি করতে পারি না, কারণ জানি এটা অসম্ভব।’ এর বদলে তিনি দ্বিতীয় লেগের প্লে-অফে অতিরিক্ত সময়ের খেলা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন, যেটি তাঁর চোখে একদলকে অন্যায় সুবিধা এনে দেয়। পাশাপাশি রেফারির সিদ্ধান্তকে বিতর্কের বাইরে রাখতে ভিডিও রিপ্লে প্রযুক্তি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিও রিপ্লে এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠনের প্রধান গর্ডন টেলর।
কিন্তু ফিফা কী বলছে? ফিফা আবার এই ম্যাচ আয়োজনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে!

টেস্ট দলেও বন্ড-টাফি

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে ফেরার পর বলেছিলেন টেস্টে ফেরার তাড়া নেই। অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিও বলেছিলেন, তাড়াহুড়ো করে তাঁকে টেস্টে নামিয়ে দিতে চান না। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের পারফরম্যান্স দ্রুতই টেস্ট দলে ফেরাল শেন বন্ডকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টের দলে রাখা হয়েছে এই ফাস্ট বোলারকে। ২৪ নভেম্বর ডানেডিনে শুরু হচ্ছে তিন টেস্টের প্রথমটি।
বন্ড ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের ১৩ সদস্যের টেস্ট দলে ফিরেছেন আরও তিনজন। ফিরেছেন বন্ডের মতোই আইসিএলে যোগ দেওয়া আরেক পেসার ড্যারিল টাফি। টাফি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০০৪ সালে। এই ৩১ বছর বয়সীর দলে ফেরায় কিছুটা ভূমিকা আছে প্রতিপক্ষেরও। ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৬৬ উইকেটের ২৪টিই নিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। টেস্টকে বিদায় জানানো অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরামের জায়গায় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন গ্রান্ট এলিয়ট। আর ইনজুরি-আক্রান্ত জেসি রাইডারের জায়গায় পিটার ফুলটন।
২০০১ সালে টেস্ট অভিষেক, কিন্তু মূলত ইনজুরি ও পরে আইসিএলে চলে যাওয়ায় ৮ বছরের ক্যারিয়ারে বন্ড টেস্ট খেলেছেন মাত্র ১৭টি। ৭৯ উইকেট পাওয়া বন্ডকে দলে ফেরাতে পেরে নির্বাচক মার্ক গ্রেটব্যাচই উচ্ছ্বসিত, ‘আরব আমিরাতে (পাকিস্তানের বিপক্ষে) ও ঘরোয়া ক্রিকেটে শেন নিজের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে এবং অনেক ওভার বল করেছে। ওকে দলে ফিরে পাওয়াটা দারুণ।’
নিউজিল্যান্ড দল: ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (অধি.), শেন বন্ড, গ্রান্ট এলিয়ট, ড্যানিয়েল ফ্লিন, পিটার ফুলটন, মার্টিন গাপটিল, ক্রিস মার্টিন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, টিম ম্যাকিন্টস, ইয়ান ও’ব্রায়েন, জিতান প্যাটেল, রস টেলর, ড্যারিল টাফি।

জলবায়ু আন্দোলনে ঢাকার ফুটবল

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এটা প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে আগামী ৭ ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সেমিনার করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড নেশনস ভলান্টিয়ারের ঢাকার অফিসের উদ্যোগে (ইউএনভি) একটা প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ হবে ঢাকায়। ২৬ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ছয়টায় দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই ক্লাবের সঙ্গে জাতীয় দলের প্রদর্শনী ম্যাচের আগে বেলা সাড়ে তিনটায় হবে এ ম্যাচটি।
ম্যাচের দুই দল—কোপেনহেগেন একাদশ ও বাফুফে একাদশ। বাংলাদেশে খেলা বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে কোপেনহেগেন একাদশ। বাফুফে একাদশে ডাকা হয়েছে জয় (অধিনায়ক), আলফাজ, মতিউর মুন্না, নজরুল, সুজন, জিয়া, শাকিল, শুভ্র, আবদুল্লাহ পারভেজ, ওবায়দুর, শরিফ, ফয়সাল মাহমুদ, শাকিল খান, রাশেদ পাপ্পু, তপু, রনি, আবুল, নাসির, মোবারক, মুন্নাকে।

ফুটবল-আক্রান্ত কূটনীতি

নাহ্, এই ‘অসভ্য’দের সঙ্গে আর থাকা যায় না! মিসর ফুটবল ফেডারেশনের ভাবখানা এ রকমই। না হলে ইউনিয়ন অব নর্থ আফ্রিকান ফুটবল ফেডারেশনস থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে কেন মিসর? এই ফেডারেশনের অন্যান্য সদস্য আলজেরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো ও তিউনিশিয়াকে এর মধ্যেই সদস্যপদ তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছে মিসরের ফুটবল ফেডারেশন।
মিসর ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যু খার্তুমে প্লে-অফ ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার সমর্থকেরা ইটপাটকেল ছুড়ে আহত করেছে মিসরের সমর্থকদের। এক ম্যাচের প্লে-অফটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াইয়ে ০-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ-স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে মিসরের। ম্যাচ শেষে হয়েছে গণ্ডগোল। সুদান পুলিশও মিসরের সমর্থকদের ওপর আলজেরীয়দের আক্রমণের কথা বলেছে। তবে এই আক্রমণে আলজেরিয়ার ৪ জন সমর্থকই শুধু আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে মিসরের কায়রোতে আফ্রিকান বাছাইপর্বের শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার খেলোয়াড়দের আক্রমণ করেছিল মিসরীয় সমর্থকেরা। সুদানের ঘটনাটি ওটারই জের। তবে যে কারণেই হোক, এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের কূটনীতিতেও। কায়রোতে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে মিসর সরকার।
এই নিয়ে এ সপ্তাহের মধ্যে দুবার তাঁকে ডেকে পাঠানো হলো। গত শনিবার কায়রো ম্যাচে আলজেরিয়া ০-২ গোলে হেরে গেলে কায়রোর দোকানপাটে আক্রমণ করেছিল বাড়ি ফেরতা আলজেরীয়রা।

ইভেন্ট নিয়ে খেলছে বিওএ

ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক কাউন্সিলের (এসএওসি) গত মঙ্গলবারের সভায় পাকিস্তানের চাপের মুখে বাদ দেওয়া হয়েছিল ছেলেদের সাঁতারের ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক। ব্রেস্টস্ট্রোকে বরাবরই ভালো ফল করা বাংলাদেশ সাঁতার দলের কাছে এই খবরটা ছিল বিস্ময়কর। সোনার আশা না থাকলেও এসএ গেমসে এই ইভেন্টটিতে একটা পদক মোটামুটি নিশ্চিতই থাকে বাংলাদেশের। তবে এই ইভেন্টটি বাদ দেওয়ার পর পরই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) বোধোদয় হলো কাজটা ঠিক হয়নি!
দুদিন পরই তাই আবার ঢুকে গেল ইভেন্টটি। কাল ছুটির দিনে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হলো, ‘২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলও থাকবে। তবে অংশ নেওয়া সাঁতারুর সংখ্যা বাড়বে না।’
২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক আবার ঢোকানোর সিদ্ধান্ত কোথায় কীভাবে হলো, সেটি একটি প্রশ্ন বটে। বিওএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্নেল ওয়ালিউল্যার ব্যাখ্যা, ‘কাল (পরশু) ৪-৫টা দেশ একসঙ্গে বসে এটা ঠিক করেছে। মূলত ভারত-পাকিস্তান ছিল। আমাদের মহাসচিবের অনুরোধে ইভেন্টটি অন্তর্ভুক্ত করতে তারা রাজি হয়েছে। শ্রীলঙ্কাও সমর্থন দিয়েছে।’
মঙ্গলবারের সভায় ইভেন্টটি রাখা না-রাখা নিয়ে অনেক দরকষাকষি হয়েছে বলে ওয়ালির দাবি। ‘অন্যরা দাবি তোলায় আমরা ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছি’—বললেন তিনি। সভার পর বিওএ মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘অন্যদের দাবিও তো মানতে হয়।’ অন্যদের দাবি মানায় হয়তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইভেন্ট বাদ দেওয়ার দুদিন পরই ওটা আবার ঢুকে পড়ায় অনেকেই বলছেন, ‘একবার বাদ, একবার ঢোকোনো—গেমস শুরুর দুই মাস আগে ভালোই খেলা দেখাচ্ছে বিওএ!’
সাঁতার ফেডারেশন জানায়, গেমস সাঁতারে মোট ৩৮টি ইভেন্টের মধ্যে এবার নজিরবিহীনভাবে প্রথমে মাত্র ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছিল। গণমাধ্যমের সমালোচনার পরদিনই ৭টি যোগ করা হয়। তারপর মঙ্গলবারের সভায় সাঁতারের ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক বাদ দিয়ে ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল এবং মেয়েদের ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ঢোকানো হয় নতুন করে।
আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসে এখন সর্বসাকল্যে সাঁতার ইভেন্ট ১৯টি। ছেলেদের ১২টি, মেয়েদের ৭টি। তাও ভালো, অন্তত অর্ধেক ইভেন্ট হচ্ছে! বাংলাদেশ ভালো করার আশা করছে ৫০-১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক (শাহজাহান আলী), ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক (রুবেল রানা), ৫০-১০০ মিটার বাটারফ্লাই (জুয়েল/অনীক)। মেয়েদের ৫০-১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে (ডলি/মাহফুজা), ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে (ডলি/শীলা)।
ফল যা-ই হোক, গেমসের আগে ইভেন্ট নিয়ে গোলকধাঁধায় আছেন সাঁতারুরা। ইভেন্ট বাড়ানো-কমানোর ‘খেলা’ দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাঁতারুর আশঙ্কা, ‘কাল না আবার শুনতে হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকও বাদ! কখন যে কী হবে বোঝা মুশকিল!’
এসএওসির সভায় ঠিক হয়েছিল, সাইক্লিংয়ে মেয়েদের ৭০ কিলোমিটার রোড রেস হবে। দুদিন পরই সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে গেল। কাল বিওএ জানিয়েছে, ৭০ কিলোমিটার নয়, ওটা হবে ৫০ কিলোমিটারের। জানা গেছে, ৭০ কিলোমিটারে প্রতিযোগিতা করার মতো প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের মেয়েদের। এতেই বোঝা যায়, সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের আসলে কোনো হোমওয়ার্কই থাকে না। নইলে এভাবে কেন সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হবে!

জিম্বাবুয়ে যুবদল হোয়াইটওয়াশ

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথম উইকেটের দেখা পেতেই তাদের লেগে গেল ৪৪.৪ ওভার! বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ওপেনার এনামুল হক ও অমিত মজুমদার পেয়েছেন সেঞ্চুরি, উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছেন ২৩১ রান। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে বগুড়ায় ১২১ রানে জিতে প্রত্যাশামতোই জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করেছে বাংলাদেশ।
১৪৬ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ১০৬ রান করেছেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এনামুল। অমিত ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক, ১৩৩ বলে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেছেন ১২৯। ৫০ ওভারে শুধু দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে ২৭০ করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই, সর্বোচ্চ ৪০ রান ওপেনার গ্যারি চিরিমুতার। ১৫.২ ওভার বাকি থাকতেই সফরকারীরা অলআউট ১৪৯ রানে।
মূল ঘাতক লেগ স্পিনার সাব্বির রহমান, মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শাকের আহমেদ নিয়েছেন ৩৬ রানে ২ উইকেট। জিম্বাবুয়ের তিন ব্যাটসম্যান হয়েছেন রানআউট।