Friday, September 11, 2015

ভারতের হাতে আছে ২০০০ পরমাণু অস্ত্রের মজুত!

ভারতের কাছে দুই হাজার পরমাণু বোমা বানানোর মতো কাঁচামাল মজুত রয়েছে। এই মত পাকিস্তানের। বুধবার বৈঠকে বসেছিল পাকিস্তানের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা এনসিএ। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বৈঠকে দিল্লির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানকেও পূর্ণ উদ‍্যমে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন সংস্থা কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস এবং স্টিমসন সেন্টার কিছুদিন আগে জানায়, এই মুহূর্তে পাকিস্তানেই সব থেকে দ্রুত এগোচ্ছে পরমাণু কর্মসূচি। এইভাবে চলতে থাকলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে পরমাণু বোমার তৃতীয় বৃহত্তম ভাণ্ডার হয়ে উঠবে পাকিস্তান। তার পরই পাকিস্তান নিজেদের কর্মকাণ্ডকে যুক্তিযু্ক্ত করতে আঙুল তুলল ভারতের দিকে। তাদের হিসেব, ২০১৩–র মধ্যে ভারতের প্রচুর পরমাণু অস্ত্র বানানো হয়ে গেছে। পরমাণু চুল্লি এবং প্লুটোনিয়ামের যে ভাণ্ডার ভারতের হাতে আছে, তাতে হাজার দুয়েক অস্ত্র তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তান মনে করে, এক দিকে দিল্লির দ্রুত পরমাণু কর্মসূচি রূপায়ণ, অন্য দিকে বিরোধ নিরসনের ব্যবস্থার অভাব, এই দুয়ে মিলে উপমহাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শুরু হয়েছে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে ডি জি স্তরের বৈঠক। সেখানে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত বরাবর উত্তেজনা কমানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, সীমান্ত বরাবর অস্ত্রবিরতি যাতে কঠোরভাবে মানা হয় তা দেখবে পাকিস্তান।
সীমান্তে ভারত-চীন মুখোমুখি
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫,শনিবার
আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-চীন সীমান্তে। শনিবার দুপুর থেকে সীমান্তে মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশের নিরাপত্তাবাহিনী। ভারত সরকারের একটি সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক টহলদারি এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার বসানো থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। কিছুদিন আগে ওই জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার বসায় চীন। শুক্রবার সেই ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে দেয় ইন্দো-তিবেতান পুলিশ। এরপরই দুই দেশের সৈন্য সমাবেশ হতে শুরু করে। তারপরই ওই টহলদারি এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। চীন উত্তর লাদাখের বার্ৎসে জায়গায় তাদের বলেই দাবি করে আসছে। এই দাবি মেনে নেয়নি ভারত।

অবেশেষে ফিলিস্তিনি পতাকা উড়বে জাতিসংঘে

অবশেষে জাতিসংঘে উড়তে পারে ফিলিস্তিনি পতাকা। জাতিসংঘের সদর দফতরে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে সংস্থাটির বেশিরভাগ সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দফতরে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফিলিস্তিনের পক্ষে দেয় ১১৯টি সদস্য রাষ্ট্র। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮টি। অপরদিকে ভোট দানে বিরত থাকে ৪৫টি দেশ।
ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, সুইডেনের মতো দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দিলেও ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সাইপ্রাস ভোট দানে বিরত ছিল। ফিলিস্তিনের এ উদ্যোগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যথারীতি ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ছোট চারটি দ্বীপরাষ্ট্র।
নতুন প্রস্তাবনাটি পাস হওয়ায় সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অ-সদস্য পর্যবেক্ষক মর্যাদার ফিলিস্তিন ও ভ্যাটিকানের পতাকা সদর দফতরে উড়ানো হবে। তবে ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পোপ ফ্রান্সিস জাতিসংঘ সদর দফতর সফরের আগে তারা পতাকা উড়াবে না।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর পতাকা উড়ানোর বিষয়টিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পথে এক ধাপ এগুনো বলে উল্লেখ করেছেন। এটা ফিলিস্তিনিদের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে ইসরাইল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটিতে নিযুক্ত ইসরাইলী রাষ্ট্রদূত রন প্রসর বলেছেন, ‘এটা জাতিসংঘকে অপহরণ করার ভয়ানক প্রচেষ্টা।’
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টনার বলেছেন, 'বসতি নির্মাণের বাইরে এ ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপের বিপরীত।'

হাঙ্গেরির নির্মমভাবে রাখা হচ্ছে অভিবাসীদের

হাঙ্গেরির একটি শিবিরে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে ইউরোপে পালিয়ে আসা অভিবাসীরা কেমন পরিবেশে আছে তার এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন ত্রাণকর্মীরা।
প্যাট্রিক কোয়ার্ক নামে একজন আইরিশ স্বেচ্ছাসেবক বিবিসিকে বলেছেন, সার্বিয়া সীমান্তের কাছে রৎস্কে নামে একটি জায়গায় শরণার্থী শিবিরে তালাবদ্ধ খাঁচায় অনেক অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়েছে বলে দেখেছেন তিনি, পুলিশের কুকুর শেকলবিহীন অবস্থায় শিবিরের মথ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
'অভিবাসীদের অনেকে খুব কম খাবার পাচ্ছে, অনেকে ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছে। বিশেষত শিশুদের এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে।'
অনলাইনে প্রকাশ পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে খাদ্যের জন্য হৈচৈ করতে থাকা অভিবাসীদের ভিড়ের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা খাবারের প্যাকেট ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
এর পর হাঙ্গেরির পুলিশ বলছে তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে।
বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের অন্যত্র নিয়ে যাবার ব্যবস্থার ওপর প্রচন্ড চাপ পড়ছে। অনেক অভিবাসী ভিয়েনাগামী মোটরওয়ের ওপর হাঁটতে শুরু করার পর পথটিতে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক ওয়াল্টার স্ট্যানমেয়ার বলছেন, আগামি কয়েকদিনে আরো ৪০ হাজার অভিবাসী আসবে এই ধারণা করে তারা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ৪ হাজারের মতো সৈন্যকে তৈরি রাখছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পার হয়েছে - যা এক নতুন রেকর্ড।
সূত্র : বিবিসি

ফিলিস্তিনি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পাগল হয়ে গেছেন!

ইসরাইলের দৈনিক হারেৎজ লিখেছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মানসিক সংকটের শিকার করেছে।
ফ্রি প্যালেস্টাইন বার্তা সংস্থার খবরে ইসরাইলি দৈনিকের এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিকটি লিখেছে, 'নেতানিয়াহু শিশুদের সমাবেশে এমনভাবে কথা বলেছেন যেন তিনি সেনা-সমাবেশে বা (ইসরাইলি সংসদ) নেসেটে কথা বলছেন! নেতানিয়াহু অবশ্যই মানসিক সংকটের শিকার হয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের রকেট তাকে পাগল করে ফেলেছে।'
ইসরাইলের দৈনিকটি আরো লিখেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সমাবেশে ভারসাম্যহীন কথা বলছেন তা বিশ্বাস করা অসম্ভব।
নেতানিয়াহু (ইসরাইলি) শিশুদের ওই সমাবেশে বলেছিলেন, 'আমি তোমাদের কাছে চাই যে তোমরা সবাই ইহুদিবাদী হও এবং ফিলিস্তিনিদের মোকাবেলায় হেলাফেলা করো না, সমস্ত শক্তি দিয়ে তাদের রুখে দাঁড়াও, কারণ আরো কয়েক কিলোমিটার ওই দিকে হামাস শিশুদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ও আমাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে সব সময়।'
এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডনে। যুদ্ধ-অপরাধী হিসেবে তার বিচারের দাবি ব্রিটেনের সংসদে তোলার জন্য গণ-আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সংখ্যা প্রায় এক লাখ দশ হাজারে পৌঁছেছে। নেতানিয়াহু গতকাল দু'দিনের এক সফরে ব্রিটেনে পৌছেছেন। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) আনুষ্ঠানিকভাবে তার সফর শুরু হচ্ছে।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

ভ্যাট প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন

টিউশন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত স্ব স্ব ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষার্থী কাকন বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সড়ক অবরোধ করেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
পরে দিন বৃহস্পতিবার একই দাবিতে রাজধানীর প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ দিন কার্যত গোটা রাজধানীতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
আগামী বছর থেকে ভ্যাট দিতে হবে শিক্ষার্থীদের : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাট দিতে হবে না। কিন্তু পরবর্তী বছর থেকে দিতে হবে।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের বলরুমে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিজিনেস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আরোপিত ভ্যাট এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে যেহেতু প্রথম বছর হিসেবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, তাই এ বছরের জন্য আমরা তা মেনে নিয়েছি। এ বছর শিক্ষার্থীদের ভ্যাট দিতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ভ্যাট পরিশোধ করবে। কিন্তু পরবর্তী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হাত-খরচ হিসেবে এক হাজার টাকা ব্যয় করে, মাসে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা চাচ্ছি মাত্র ৭৫ টাকা। এটা দিতে কোনো সমস্যা তো দেখি না আমি।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি এবং আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলতে চাননি তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অন্য প্রসঙ্গ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েক মাস ধরে আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। তবে গত বুধবার থেকে রাজধানীর কয়েকটি রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করে।
গত বুধবার রাজধানীর রামপুরার প্রধান সড়ক অবরোধ করে। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবারও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর ভ্যাট পরিশোধ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীর নয়। বিদ্যমান টিউশন ফি’র মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় টিউশন ফি বাড়বে না।
চলমান আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়াতে পারবে না। ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে।’ তিনি এই ভ্যাটকে ‘রাজস্ব সংগ্রহের অন্যতম উৎস’ বলে মন্তব্য করেন।

লঞ্চে তরুণীকে গণধর্ষণ, যুবলীগ নেতার ছেলেসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝালকাঠিতে সুন্দরবন-২ লঞ্চের কেবিনে আটকে রেখে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি থানায় দুই বখাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল সুন্দরবন লঞ্চে তদন্তে যান। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঝালকাঠি জেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল হক খলিফার বড় ছেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার এমএলএস আরিফকে । গত বুধবার বিকালে ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষমান সুন্দরবন-২ লঞ্চের একটি কেবিনে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর প্রেমিক হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরিফ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বরাত দিয়ে ঝালকাঠি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান মঙ্গলবার বিকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আবদু রবের ছেলে হাসিবুল হাসান শান্তর (১৮) সাথে ঢাকার মীর হাজিরবাগ এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক তরুণী ঢাকা থেকে ঝালকাঠিতে পালিয়ে আসে। বুধবার বিকালে তারা পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে আসে। স্থানীয় বখাটেরা বিষয়টি টের পেয়ে প্রেমিক জুটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢাকাগামী সুন্দরবন-২ লঞ্চের একটি কেবিনে আটকে রাখে। এসময় দুই বখাটে শান্তকে মারধর করে কেবিন থেকে বের করে দেয়। পরে তারা ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে। বখাটেরা প্রেমিক জুটির সাথে থাকা দুইটি মোবাইল সেট ও নগদ ২১০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তরুণীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় বখাটেরা। বিকালেই ঝালকাঠি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল লঞ্চে তল্লাশী চালিয়ে কেবিন থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে সেইভহোমে পাঠানো হয়েছে।

২৫ বছর পর ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না -খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, আগামী ২৫ বছর পর ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না। বুধবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদে তিনি এ কথা বলেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।
খামেনি বলেন, ‘ আমি ইসরায়েলের উদ্দেশে বলতে চাই, ২৫ বছর পর তাদের আর দেখা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘ আল্লাহর ইচ্ছায় ইহুদি শাসনের মতো কোন কিছু ২৫ বছরের মধ্যে থাকবে না। সেই পর্যন্ত সংগ্রামপূর্ণ, বীরোচিত ও জিহাদি মনোবল ইহুদিদের কোন শান্তি দেবে না।’
বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ইরানের সঙ্গে গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানির চুক্তি হয়। এ চুক্তির ফলে ইরান তার পারমানবিক কর্মসূচি সীমিত আকারে চালাতে পারবে। বিনিময়ে পশ্চিমারা দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবে। ইসরায়েল বরাবরই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে।
খামেনি তার বক্তব্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের ও চুক্তির প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে কেবল পারমানবিক ইস্যুতে কেবল সুনির্দিষ্ট কারণে বৈঠক করেছি। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, আমাদের চুক্তিটি ভাল হয়েছে।’

সুখের লাগি by অভীক সোবহান

মাত্র দু-তিন মাসের ঘটনা পরম্পরায় এই তেতাল্লিশে এসে মানুষ হিসেবে নিজেকে এত তুচ্ছ মনে হবে, তা ভুলেও কখনো ভাবিনি। আর ভাববই বা কেন? আমি তো মিস্টার হাইড নই, অথচ আজ নিজের কাছে নিজের আইডেনটিটি প্রশ্নবিদ্ধ। জটিল নগরজীবনে সচেতনভাবেই দ্বৈত সত্তার ওপর ভর করে বেঁচে থাকতে হয়। নাহ্, একে হিপোক্রেসি বলা মুশকিল, ঘরে-বাইরে নানা রঙের মুখোশ পরে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা কে না করছে? এ হলো আধুনিক মানুষের কপালের ফের! সে যাই হোক, রীতিমতো সপ্তাহ হয়ে গেল, ডক্টর জেকিলের মতো এক অপরাধবোধ আমার রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। আফসোস, কগনিটিভ সায়েন্সের ছাত্র হওয়ায় অন্যদের মতো কারও ওপর দায় চাপিয়ে হালকাও হতে পারছি না। ঘটনাটার শুরু পাশের ফ্ল্যাটের রাকিব সাহেবের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যদিও তার এই হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমার কোনো হাত নেই। রাকিব গেল সপ্তাহে রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দু-পরিবারের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য ছিল না, অথচ কী এক অজানা অপরাধবোধ আমাকে ঘিরে ধরেছে। আমার পেশেন্টরা প্রায়ই এ ধরনের মানসিক জটিলতা নিয়ে উপস্থিত হন, খামাখাই ভাবেন চারপাশে ঘটে যাওয়া সব অনর্থের জন্য তাঁরাই দায়ী। বলে রাখা ভালো, পেশায় আমি চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। যা বলছিলাম, পুরো ব্যাপারটা বুঝতে হলে কয়েক মাস আগে যেতে হবে। রাকিব রহমান আমার থেকে বয়সে বছর দশেকের ছোট হবে। কী এক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে ছিল।
মার্কেটিংয়ের চাকরি, প্লট বিক্রির ব্যাপার-স্যাপার। কথায় কথায় জমি কেনার প্রস্তাবও দিয়েছিল একবার। ওসব চাকরিতে ইনসেনটিভ, পার্সেন্টেজ ইত্যাদি বিষয় থাকে, তাই আয়-রোজগার নেহাত মন্দ ছিল না। সে বলেছিল, হ্যাঁ তার কাছ থেকেই জানা, দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের কোনো এক গ্রামে। গ্রামে হলে কী হবে, তার বাবা বেশ পয়সাওয়ালা আর প্রভাবশালী ব্যক্তি। বোনদের ভালো ভালো ঘরে বিয়ে হয়েছে। তার মাকে গ্রামের সবাই নাকি দারোগা নামে ডাকে, এমন ডাকসাইটে মহিলা! আমাদের এ এলাকায় আসার আগে কল্যাণপুরে কলিগদের সঙ্গে মেসে থাকত রাকিব। বিয়ের পর আজিমপুর আসা, ছয়তলা অ্যাপার্টমেন্টের তৃতীয় তলার দুটি মুখোমুখি ফ্ল্যাটে আমরা থাকতাম। আমার ফ্ল্যাটটা কেনা, ওরা ভাড়া থাকত। রাকিবেরা এ ফ্ল্যাটে উঠেছিল মাস চারেক আগে। সব মিলিয়ে তার সঙ্গে আমার কম হলেও বিশ-বাইশবার দেখা হয়েছে। এই নগরে আমরা যখন ব্যক্তিগত ধান্দায় ব্যতিব্যস্ত, তখন বহুতল বাসা-বাড়িতে স্বল্প সময়ে এতবার দেখা কম নয়। আংশিক হলেও এর কারণটা আমি নিজে; আর আজ কড়ায়গন্ডায় তার খেসারত দিচ্ছি। রাকিবেরা আমার বাসায় কখনো আসেনি, তবে দারুণ মিশুক ছিল। আগ বাড়িয়ে নিজেই এমনভাবে কথা বলত যে কার সাধ্য তাকে উপেক্ষা করে। বেশির ভাগ সময়ই দেখা হতো সিঁড়িতে, অফিস যাওয়ার সময়। ওখানে দাঁড়িয়েই যত কথা। আমি মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার সময় সাধারণত বাসা থেকে বের হতো রাকিব। হাতে সময় অল্প থাকলেও প্রায়ই চার-পাঁচ মিনিট চলত সে আলাপ। আর হ্যাঁ, বিষয়টা পারস্পরিক কথোপকথন বলা যাবে না, মূলত সে একতরফা কথা বলে যেত। পেশাগত কারণে কথা না বলে ব্লাইন্ডলি শুনে যাওয়ায় আমি অভ্যস্ত, ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনের সময় রোগীদের ক্ষেত্রে এটা সাইকিয়াট্রিস্টদের প্রায়ই করতে হয়। তবে রাকিবের গল্পে একটি বিষয় বারবার এসেছিল—সেটা তার এমএ-পড়ুয়া স্ত্রীর রূপ বর্ণনা আর আটপৌরে কাজের গুণকীর্তন। নববিবাহিত পুরুষদের বউকে নিয়ে এমন অবসেশন অস্বাভাবিক কিছু নয়,
এ আমি হরহামেশাই দেখেছি, কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল তার নয়, আমার! হঠাৎ একসময় লক্ষ করলাম, রাকিবের সঙ্গে দেখা হলে আমি ওই বিশেষ বিষয়ে বলা কথাগুলোর জন্যই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। বিশেষত, না চাইতেই সে বিবাহিত জীবন যে কত মোহময় সে কথা জানাত। ওদিকে আমি রোগীদের মানসিক যন্ত্রণার কথা শুনে শুনে খানিকটা ক্লান্তই ছিলাম। তাই নিজের কথায় নিজেই হো হো করে হেসে ওঠা রাকিবের উচ্ছ্বাস, তার সুখী সুখী মুখখানা; নিঃসন্দেহে উপভোগ করতাম। যে কথা বলছিলাম, স্বল্প সময়ের সেসব আলাপচারিতার বড় অংশজুড়েই ছিল তার স্ত্রী—সোনালির কথা। খানিকটা রক্ষণশীল, কিছুটা পোড় খাওয়া বনেদি ঘরে বেড়ে ওঠা মেয়েরা যেমন চৌকস হয়, সোনালি ঠিক তাই। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এই শহুরে আমরা এমন নারীদের যথেষ্ট এনলাইটেড ভাবি না। তাই প্রেমিকা বা পাত্রী খোঁজার সময় এরা দ্বিতীয় সারিতেই থাকে। শেষ পর্যন্ত বিয়ে করি চাকরিজীবী, ঘরকন্নায় চলনসই কোনো নারীকে। তবু গণ্ডির বাইরে সোনালিরা গথিক আর্টের রহস্যময়, কিছুটা ভয়সঞ্চারী রমণীদের মতো মর্ষকাম নিয়ে তাকিয়ে আছে বলে ভুল হয়। তাই কৌতূহলের শেষ থাকে না, রাকিব যখন জানায়, সোনালির রান্নার দারুণ হাতের পাশাপাশি পতিভক্তিও প্রচণ্ড, যা নাকি টিভি সিরিয়ালের বউদেরও হার মানায়; তবুও সবকিছু ছাপিয়ে আমার কানে তার প্রথম দিন বলা কথাগুলোই আজও বেজে যায়, ‘বড় ভাই, আপনি মনের ডাক্তার, আপনারে বলা যায়, সোনালি খানিক শ্যামলা হলে কী হবে, পরির মতো সুন্দর! আল্লাহ তাআলা যে তার সঙ্গে আমার ঠিক করে রাখছিল, এ আমার সৌভাগ্য।’ সোনালি মেয়েটা বাসা থেকে খুব একটা বের হতো না। যত দূর জেনেছিলাম, মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল, কলেজে খুব একটা যেত না। তা ছাড়া আপাদমস্তক কালো বোরকায় ঢাকা থাকায় প্রথম দিকে তাকে লক্ষই করিনি। ঢাকা শহরের এসব অ্যাপার্টমেন্টে কত জনই তো ওঠা-নামা করে। বিল্ডিংটায় লিফটের ব্যবস্থা নেই, থাকলে অবশ্য বাক্সে বন্দী মুহূর্তগুলো মরা মাছের মতো চোখ করে কাছাকাছিই দাঁড়িয়ে থাকতে হতো সবাইকে—যেন একাই আছি। কিছুদিন যেতে বুঝে নিয়েছিলাম এটাই রাকিবের সেই ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’। এর মধ্যে একেবারে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হিসেবে হয়তো সোনালিদের বাসায় যাওয়া হতো।
কিন্তু আমার স্ত্রী রুবিনা নিজের মতো থাকতে ভালোবাসে। নিজের স্বামী-সন্তান, বড়জোর অফিসের দু-চারজন অন্তরঙ্গ সহকর্মী নিয়েই তার জগৎ। আমার বিশ্বাস, ওর যেসব সহকর্মীর সঙ্গে আমার ওঠা-বসা আছে, সেটাও হয়তো তাদের স্বার্থেই নতুবা রুবিনার প্রয়োজনে। কর্মক্ষেত্রে এমন কৌশলগত সম্পর্ক তো কিছু থাকেই। আর রুবিনা ভীষণ ব্যস্তও বটে, সচরাচর এনজিও কর্মীদের যে হাল হয় আরিক। তাই যোগাযোগটা রাকিব সাহেব আর আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। এক জুমার দিন তার সঙ্গে গলির মুখে দেখা। কথায় কথায় সোনালির প্রসঙ্গ আসতেই সুযোগমতো বলেই ফেললাম, ‘আপনার স্ত্রীর মতো একজন গুণবতী প্রতিবেশী আছে আমাদের, তো ভাবিকে নিয়ে বাসায় আসুন না, চায়ের নিমন্ত্রণ রইল।’ গেলে রুবিনাও খুব খুশি হবে—এ কথাও যোগ করে দিলাম। মিথ্যা কিছু বলিনি, রুবিনা খানিক আত্মকেন্দ্রিক হলেও অসামাজিক তো নয়ই, বরং অতিথিপরায়ণ। তবে নিজ থেকে আগবাড়িয়ে কোথাও যেতে চায় না, অন্যের বিষয়ে কৌতূহলও খুব কম। আমার কথা শুনেই রাকিব বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিয়ে বলল, ‘আমি কয় দিন আগেও সোনুকে বলছিলাম, চল ভাইদের বাসায় যাই। কিন্তু ও একটু বেশিই লাজুক; আর জানেন তো খুব পর্দা করে। তবে নিজে থেকেই বলেছে, মাস্টার্স ফাইনালটা হয়ে গেলে আপনাদের একদিন দাওয়াত করে খাওয়াবে, তখন কিন্তু আসতেই হবে। সত্যি বড় ভাই ওর হাতের কই-পাতুড়ি আর গরুভুনা না খেলে কিন্তু মিস করবেন।’ এসব কথা বলার সময় ভদ্রলোকের চোখে রাজ্যের স্বপ্ন চকমকিয়ে উঠেছিল। সে চোখ এত স্বচ্ছ, তা পড়তে মনোবিজ্ঞানীদের মতো মাইন্ড রিডিং-ফিডিং জানার প্রয়োজন হয় না। রাকিব-সোনালি দম্পতির জীবন বাদশাহি মখমলের বিছানার মতো মনোরম আর সুগিন্ধযুক্ত,
তা যে কেউ ঠাওর করতে পারত। এভাবেই চলে গেল প্রথম আড়াই কী তিন মাস। স্বাভাবিক কৌতূহল নাকি শহুরে সতর্কতা জানি না, তবে কানে শোনা অথচ চোখে না দেখা সোনালি ওরফে সোনু ভাবিকে দেখার জন্য পাশের বাসার সদর দরজার দিকে নজর রাখলাম। বিশেষত রাকিব আর আমি যেসব দিন একই সঙ্গে বাসা থেকে বের হতাম, কুশল বিনিময়ের ফাঁকে ওদের দরজার দিকে কায়দা করে তাকিয়েছি। লাভ হয়নি, দিনের বেলায়ও এসব বাড়ির সিঁড়িঘর যথেষ্ট আলোহীন। তবে এটা নিশ্চিত যে স্বামী সিঁড়ি দিয়ে না নেমে যাওয়া পর্যন্ত সোনালি দরজা আংশিক ভেজিয়ে দাঁড়িয়েই থাকত। তাই রাকিব সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামার পথে একাধিকবার অদৃশ্য স্ত্রীর উদ্দেশে বলত, ‘সোনু, সাবধানে থেকো, দরজাটা ঠিক করে আটকায় রােখা, অফিসে গিয়ে ফোন দেব’ ইত্যাদি ইত্যাদি। গেল এক মাসে আমি যা করেছি তা সচেতনভাবে করিনি বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না, আবার খুব পরিকল্পিতও নয়। হয়তো মিডল-এজ পাড়ি দেওয়ার লক্ষণ। পুরোপুরি লিবিডো নিয়ন্ত্রিত বলাটা নিজের প্রতি অবিচার হবে, কেননা সভ্য-সামাজিক মানুষের মনটাই শক্তিশালী, প্রবৃত্তি নয়। রাকিব যতটা বলেছে হয়তো মেয়েটা তেমন ডানাকাটা পরি না হলেও যথেষ্ট লাবণ্যময়ী আর তথাকথিত সাংসারিক খুঁটিনাটি কাজে জবরদস্ত, সেটা সত্য। ষোলোকলায় পূর্ণ হয়তো সে নয়, তবে পঞ্চমীর চাঁদ িক কম মোহময়! মোটিভেশন যাই হোক,
আমি গত এক মাস প্রায় দিনই প্রতিবেশী পরিবারটির ভেসে আসা অস্পষ্ট কথোপকথন অনুসরণ করে ঘর থেকে বেরিয়েছি। উদ্দেশ্য সহজ, রাকিব ফ্রন্টডোর খুলতেই তার সঙ্গে দেখা হওয়া। বলতে দ্বিধা নেই কিংবা আছে তবু বলছি, মাঝে একটা পুরো সপ্তাহ সে বের হচ্ছে জেনেও আমি ভেতর থেকে দরজার পিপ-হোলের কাচে চোখ রেখে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থেকেছি। আশপাশে কেউ নেই ভেবে যদি সোনালি স্বামীকে বিদায় জানাতে সিঁড়ির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়! এমনকি দারোয়ান ভোরে কমন স্পেসের লাইট বন্ধ করে যাওয়ার পর চোরের মতো আবার তা জ্বালিয়েও রেখেছি। কিন্তু কোনোভাবেই লাভ হয়নি। ভূতের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে এসব পিপিংটম আর সম্ভব হচ্ছিল না। আমার বয়স আর বিবেচনায় এতটা রীতিমতো অনৈতিক ঠেকছিল। তাই রাকিব যখন বের হয়, সে সময় আমিও আবার বের হতে শুরু করলাম আর কড়া নজর রাখলাম ওপাশের দরজার ওপর। কথায় আছে মানুষ পরিকল্পনা করে আর তা দেখে নাকি ঈশ্বর হাসেন। তো, এর বিপরীতও ঘটে হয়তো। একদিন মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে যখন চেম্বারের উদ্দেশে বের হচ্ছি, দেখি সিঁড়ি দিয়ে নামছে সোনালি। আমি সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কথা বলেছিলাম, ‘জি ভাবি ভালো আছেন, আপনার কথা রাকিব সাহেবের মুখে শুনে শুনে ক্লান্ত অথচ দেখা-সাক্ষাৎ নেই! আসুন না একদিন আমাদের বাসায়।’ সোনালি দাঁড়াল না, সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে যেতে হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে সালাম ঠুকে বিদায় হলো। দিন দশেক আগে একই সময়ে আরও একবার দেখা হয়েছিল। হয়তো খানিকটা ডেসপারেট ছিলাম, আগ বাড়িয়ে এবারও আমিই কথা বললাম,
‘কই বাসায় এলেন না তো? রাস্তাঘাটে দেখা হলেও তো চিনতে পারব না আপনাকে? অথচ রাকিব সাহেব তো আপনার প্রশংসায়—কী আর বলব!’ সোনালি কেমন জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সম্পূর্ণ নেকাবে আবৃত হলেও চোখের জায়গাটা উন্মুক্ত। সেই প্রথম সেই শেষ, ঠিক বুঝতে পারিনি, তবে অপরূপ সেই চোখে সন্দেহ আর শঙ্কা একাকার। আমার বাড়তি কৌতূহলটা তার বোঝার কথা নয়, বয়সে আমি ওর অনেক বড়। তবু আমার কথাগুলোতে একটু খেলভাব, খানিকটা ফ্ল্যাটারির সুর ছিল আর সেটা সে ধরতে পেরেছিল হয়তো। সোনালি কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত পায়ে চলে যায়। তার এভাবে চলে যাওয়ার পেছনে হাজারটা কারণ থাকতে পারে—এই পরিসর, দুজনের চেনাজানার মাত্রা, তার অন্তর্মুখিতা; সব মিলিয়ে খুব অস্বাভাবিক নয়। তবু আমার কেন যেন এটাকে একধরনের অহংবোধ বা অহংকার বলে মনে হয়েছিল। মানুষের মন আমি গলার স্বর শুনেও খোলা বইয়ের মতো পড়তে সক্ষম—এ অহংকার হয়তো মেয়েটির রূপের কিংবা গুণের। এই গটগটিয়ে চলে যাওয়া আমার খানিকটা বিরক্তির উদ্রেক করেছিল। পরমুহূর্তে নিজের বাড়াবাড়ি বুঝতে পেরে একধরনের অপ্রস্তুতই হলাম। গত কয়েকটা দিন একটা সেমিনার নিয়ে এত ব্যস্ততায় কেটেছে, বলার নয়। খুব ভোরে বের হয়েছি, ফিরেছি রাত করে। তা সত্ত্বেও রাকিবের সঙ্গে একদিন দেখা হয়েছিল, সেটাই শেষ দেখা। ভদ্রলোক কথা বলতে শুরু করলেও আমি সময় দিইনি। ব্যস্ততা ছিল আর তাকে দেখে কেন যেন আগের মতো খুশিও হতে পারছিলাম না। সেটা হয়তো সোনালির কাছে আমি যে ধরা পড়ে গেছি, তাই পালাবার মতো সস্তা ডিফেন্স ম্যাকানিজম।
পেশাগত কারণে মানুষের মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা দুঃসহ স্মৃতি, কত ভয়ংকর সব গল্প প্রায়ই আমাকে শুনতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু অ্যাক্সিডেন্টে সাতাশ বছরের হাসিখুশি রাকিবের মৃত্যুর সংবাদটা মেনে নেওয়া ছিল খুব মুশকিল। আজকাল মার্কেটিংয়ের চাকরি আর মোটরবাইক একেবারে সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর তারই লেজ ধরে ছোট-বড় যত সব দুর্ঘটনা। থানা-হাসপাতাল করে বিকেল নাগাদ রাকিবের নিথর দেহটা যখন তার অফিসের কলিগরা নিয়ে এল, তারও বেশ খানিক পর আমি যেসব সত্য জানতে পারলাম তা কল্পনাতীত! অ্যাপার্টমেন্টের অনেকের সঙ্গে নিচে নেমে অপেক্ষায় ছিলাম, লাশটা আসতেই ঘরে ফিরে আসি। এমন প্রাণচঞ্চল একটা মানুষ, বিষয়টা অকল্পনীয় লাগছিল। ঘণ্টা খানেক বাদে আমার স্ত্রী ফিরে এল, সম্ভবত পাশের বাসা থেকে। রুবিনা অফিস থেকে দুপুরে ফিরেই ওখানে গিয়েছিল। সোনালির কী অবস্থা, জানার ইচ্ছা তো খুব স্বাভাবিক, সেই সঙ্গে পুরো পরিস্থিতিটা কী দাঁড়াল, তা জানা দরকার। আমি জানতে চাইলাম, রাকিবের আত্মীয়স্বজন এসেছে কি না। উত্তরে রুবি যা বলল আমি তার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম। রুবিনা হতাশা মেশানো কণ্ঠে বলল, ‘গ্রাম থেকে ওনার বাবা এসেছেন। কেমন মলিন কাপড়–জামা গায়ে। বয়োবৃদ্ধ, খুব সাদাসিধে গোছের লোক। রাকিবই চালাত তার বাবা-মাকে। তুমি তো বলেছিলে ওর ফ্যামিলি ফিন্যান্সিয়ালি বেশ ফ্লেসি?’ আমি একটু অবাক হলেও বললাম, ‘তাই তো জানতাম! ওর মা আসেননি আর সোনালি ভাবির কী খবর?
 রুবিনা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘ওর মা নাকি খুব অসুস্থ, অনেক দিন ধরে ঘরে পড়া, আই মিন প্যারালাইজড আর সোনালির কথা চিন্তা করতেও খারাপ লাগছে। বেচারির আপন কেউ নেই। রাকিবদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সে সূত্রে ওদের বাসায়ই মানুষ। বাকি জীবনটা কী যে করবে মেয়েটা।’ মনে মনে ভাবলাম, সত্যিই মুহূর্তে কী ঘটে গেল। রুবির উদ্দেশে বললাম, ‘হু, তবু বয়স কম আর যেহেতু বেশ সুন্দরী আজ হোক কাল হোক, হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’ আমি সোনালির এমএ ফাইনালের সম্ভাবনার কথাও বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকাল রুবিনা। আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই সে প্রশ্ন করল, ‘তুমি মেয়েটাকে দেখেছ?’ আমি না-সূচক মাথা নাড়ালাম। রুবি কথা কনটিনিউ করল, ‘রাকিব ওর দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম হাজব্যান্ড একটা অমানুষ ছিল। সোনালি ওখান থেকে পালিয়ে আসে বছর তিনেক আগে। তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। মেয়েটার মুখের একটা পাশ সম্পূর্ণ অ্যাসিডে পোড়া। পরে রাকিবই তাকে বিয়ে করে দ্বিতীয়বার বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। এখন সব শেষ!’ হতবাক আমি কোনো কথা খুঁজে পেলাম না। রাকিবের মুখে শোনা তার গ্রামের বাড়ির বিত্ত-বৈভব, স্ত্রীকে নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট সংসার; রাকিব এসব কী বলেছিল! প্রকৃত বাস্তবতা আগে জানলে রাকিবকে করুণা করতাম কি না, জানি না। তবে অসম্ভব সুখী এক মানুষ ভাবার মতো উদারতা আমার ছিল না। হঠাৎ নিজেকে রাকিব নামের ছেলেটার কাছে, তার স্ত্রী সোনালির কাছে হেরে যাওয়া, সম্পূর্ণ পরাস্ত একজন অসুখী মানুষ মনে হলো। শুধু কী তাই, প্রফেশনাল জীবনেও িক চূড়ান্ত ব্যর্থ এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নই আমি? যে এত দিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা সত্ত্বেও দিনের পর দিন একটি মানুষের কথা শুনে, তাকে দেখে সম্পূর্ণ মিসরিড করেছি!

ইসলামী আন্দোলন: তুরস্ক প্রসঙ্গ

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দীর্ঘকাল যাবৎ আরব ও তুর্কী শাসকরা পারস্পারিক সহমর্মিতার ভিত্তিতে মুসলিম খিলাফতের দায়িত্ব পালন  করেছে। তুর্কী খলিফার দরবারে অনেক আরব আলেম ও পণ্ডিতদের প্রাধান্য ছিল; তাদের মধ্যে বিশেষ কোনো বিরোধ বা হীনমন্যতা পরিলক্ষিত হয়নি। ইউরোপের খ্রিস্টান ও ইহুদী বুদ্ধিজীবীরা অত্যন্ত সুকৌশলে আরব ও তুর্কী মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয়। প্রাচ্য ইতিহাস বিশারদ বার্নার্ড লুইস লিখেছেন, তিনজন ইউরোপীয় ইহুদী তুর্কীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের ধ্যান-ধারণার লেলিহান শিখা ছড়িয়ে দিয়েছিল। ইংরেজ ইহুদী অর্থার লুমলে ডেভিড (১৮১১-১৮৩২) ইংল্যান্ড থেকে তুরস্কে এসে প্রিলিমিনাইরি ডিসকোর্স নামে একটি বই লিখেন; এতে তিনি তুর্কী জাতিকে আরবদের চেয়ে উন্নত ও স্বাধীনচেতা হিসেবে তুলে ধরেন। বইটি তরুণ তুর্কীদের মধ্যে সাড়া জাগায়। বইটি তুর্কী ভাষায় অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ডিভিড লিয়ন কোহন নামের আরেকজন ফরাসী ইহুদী ১৮৯৯ সালে তুর্কী জাতীয়তাবাদের পক্ষে একটি বই লিখেন। এতে তিনি তুর্কীদের অতীত গৌরব তুলে ধরেন। বইটি তুর্কী ভাষায় অনুবাদ করে অসংখ্য কপি বিতরণ করা হয়। ‘ইয়ং তুর্ক’ নামে খলিফার বিরোধী একটি গ্রুপকে কাজে লাগানো হয় এবং এদের সমর্থকদের নিয়ে প্যারিস ও মিশরে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এরাই তুর্কী জাতীয়তাবাদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে। তৃতীয় ইহুদী ব্যক্তিটি ছিল হাঙ্গেরীয় আরমিনিয়াম ভ্যাম্বারী (১৮৩২-১৯১৮)। তিনি তুর্কী ভাষা, সাহিত্য ও জাতীয় ঐতিহ্যকে দেশপ্রেমের সাথে সম্পৃক্ত করে তুলে ধরেন। তিনি সমাজের উচু স্তরের রাজনীতিবিদ ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন এবং ক্রমান্বয়ে তাদেরকে তুর্কী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন।
প্রকৃতপক্ষে ইহুদীদের লক্ষ্য ছিল তাদের কাক্সিক্ষত ভূমি প্যালেস্টাইন পুনরুদ্ধার করা। এ জন্য তাদের প্রাথমিক কৌশল ছিল তুর্কী খিলাফতকে ধ্বংস করে দিয়ে প্যালেস্টাইনের দিকে অগ্রসর হওয়া। তাদের দৃষ্টিতে এ কাজটি সহজ করার জন্য প্রয়োজন ছিল আরব ও তুর্কী মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী বিভেদ জাগিয়ে তোলা। এদের চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে নামেক কামাল, জিয়া পাশা ও জোয়াদাত পাশার মতো জাতীয়তাবাদী নেতারা বিষয়টিকে উগ্রতার পর্যায়ে নিয়ে যান। অপরদিকে আরবদের মধ্যে কোনো তুর্কী বিদ্বেষ ছিল না। কিন্তু তুর্কীদের মধ্যে আরব বিদ্বেষ তীব্র হয়ে উঠলে আরবরাও তাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে রক্ষার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠে। এরূপ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ইহুদী ও খ্রিস্টানরা। বৃটিশরা আরবের খ্রিস্টান মিশনারি ও পাশ্চাত্যের বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে আরব জাতীয়তাবাদী চেতনাকে শানিত করে তোলে। প্রথমে তারা সফল হয় মিশর, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডানে। বৃটেন ও ফ্রান্সের এজেন্ট নাজীব আজৌরি ১৯০৪ সালে প্যারিস থেকে আরব জাতীয়তাবাদের পক্ষে লি রেভেল ডি লা নেশন আরব নামক এক বই লিখেন এবং প্যারিসভিত্তিক আরব জাতীয়তাবাদী সমিতি গড়ে তোলেন। তিনি একটি ম্যাগাজিনও প্রকাশ করেন।
১৯১৪ সালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে বৃটিশরা ১৯১৬ সালে তুর্কীদের বিরুদ্ধে জর্ডানের শরীফ হোসেনকে (বাদশা হোসেনের দাদা) যুদ্ধে প্ররোচিত করে এবং সর্বাত্মক সহায়তা দেয়। শরীফ হোসেন ছিল বৃটিশ এজেন্ট। তার ছেলে আবদুল্লাহ (বাদশা হোসেনের বাবা) বৃটিশ জেনারেল চিনারের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। শরীফ হোসেন তুর্কী খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বৃটিশ সরকারি কর্মকর্তা টি.ই. লরেন্স ও প্যালেস্টাইনে নিযুক্ত বৃটিশ কমান্ডার জেনারেল এলেনবী তুর্কীদের বিরুদ্ধে আরবদের পক্ষে নেতৃত্ব দেয়। পাশ্চাত্যের ইহুদী ও খ্রিস্টানদের প্ররোচনায় আরব ও তুর্কী মুসলমানরা ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। শরীফ হোসেন ও কয়েকটি আরব গুপ্ত সংগঠন বৃটিশদের সাথে চক্রান্ত করে আরব বিশ্বকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত করে। এর ফলশ্রুতিতে প্রথমেই প্রতিষ্ঠিত হয় প্যালেস্টাইনের বুকের উপর অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র। বৃটিশরা দখলে নেয় মিশর, সাইপ্রাস, এডেন, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় শেখ শাসিত রাজ্যগুলো। ফ্রান্স দখল করে আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া ও মরক্কো। রাশিয়া দখলে নেয় আর্মেনিয়া। ইটালি উপনিবেশ স্থাপন করে লিবিয়ায়। তুর্কী খিলাফত একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিশাল সাম্রাজ্য ইস্তাম্বুল ও আনাতোলিয়ার একাংশে সীমিত হয়ে পড়ে।
১৯২২ সালে তুর্কী জাতীয়তাবাদীরা গ্র্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলিতে সমবেত হয়ে সুলতানের পদ বিলোপ করে। ১৯২৩ সালে তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কামাল পাশা দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তিনি তুরস্কের ইসলামী ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারা চালু করার পদক্ষেপ নেন। আরবি ভাষাকে অফিস-আদালত ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিদায় দেন। তিনি দেশে পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করেন এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী ছিল। কামাল পাশঅ তুরস্কক একটি সেক্যুলার (লায়েকিজম) রাষ্ট্রে পরিণত করেন। তবে ইসলামী আইন-কানুন তুর্কী সমাজে এমন শক্তভাবে শেকড় গেড়েছিল যে তা সহজে উপড়ে ফেলার উপায় ছিল না। এটা উপলব্ধি করে কামাল পাশা কতিপয় ইসলামী আইন-কানুনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তিনি ‘দিয়ানেত’  নামক রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি ধর্মীয় সংস্থা গঠন করন। ১৯৩৭ সালে দেশটির পার্লামেন্ট যে সংবিধান অনুমোদন করে তাতে সেক্যুলারিজমকে (লায়েকিজম) রাষ্ট্রীয় নীতিহিসেবে গ্রহন করা হয়। সে নীতি এখনও বহাল আছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও সাংবিধানিক আদালত এ নীতি বহাল রাখার পক্ষে অত্যন্ত শক্ত ভূমিকা নিয়ে থাকে।
কামাল পাশা ও তার দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি ১৯২৭ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ একদলীয় ব্যবস্থায় তুরস্কের ক্ষমতার ছিল। ১৯৪৬ সালে দেশটিতে বহুদলীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৫০ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দলের মধ্যে অন্তত ৭টি দল রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের ভূমিকা থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়। এই নির্বাচনে মেন্দারেসের নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক পার্টি জয়লাভ করে। আদনান মেন্দারেস প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ইসলামী মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মেন্দারেসের  ইসলামপ্রীতি সেনাবাহিনী ও কামালপন্থীরা ভালো চোখে দেখেনি। কামালপন্থী ও কম্যুনিস্টরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬০ সালে দেশটির সেনাবাহিনী এক অভ্যুত্থান ঘটায় এবং মেন্দারেসের সরকারকে উৎখাত করে। মেন্দারেসকে সেক্যুলারিজমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করায় মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব বহাল রাখতে ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ গঠন করা হয়। সেই থেকে তুরস্কের সংবিধান তথা কামালতন্ত্র ও পররাষ্ট্রনীতির সংরক্ষক হিসেবে সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নিশ্চিত করা হয়।
ষাটের দশকে সামরিক সরকারের অধিকতর পাশ্চাত্যপ্রীতি তুর্কী জনগণ ভালো চোখে নেয়নি। এ সময় মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়ে গেলে সরকারবিরোধী মনোভাব প্রবল হতে থাকে। রাজনীতিবিদরা তাদের জাতীয় স্বকীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করতে থাকেন। লেখকরাও ইসলামী রাজনীতির পক্ষে লিখতে থাকেন। এরূপ ক্রান্তিকালে নাজমুদ্দিন আরবাকান নামের একজন প্রকৌশলী ইসলামী রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে আবির্ভুত হন। তিনি প্রথমে ক্ষমতাসীন জাস্টিস পার্টিতে যোগ দেন। ঐ দলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে টিকতে না পেরে তিনি ১৯৭০ সালে মিল্লি নিজাম পার্টি (ন্যাশনাল অর্ডার পার্টি) গঠন করেন। এ সময় বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করে।
১৯৭১ সালে দেশটিতে দ্বিতীয় দফা সামরিক শাসন জারি হয়। সামরিক সরকার সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এক বছর পরে আরবাকান মিল্লি সালামত পার্টি (ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টি) নামে নতুন দল গঠন করেন। ১৯৭৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এ দলটি অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় ১ ভাগ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কোন দলই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে কোয়ালিশন সরকার ছিল অবধারিত। এ সময় একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটলো। আরবাকানের মিল্লি সালামত পার্টি ও ইসলামের প্রতি উদার সুলেমান ডেমরেলের এপি পার্টির মধ্যে সমঝোতা হলো না। বরং কামালপন্থী বুলেন্দ এসিভিটের রিপাবলিকান পার্টি আরবাকানকে সরকার গঠনে সমর্থন দেন। আরবাকানের সরকার ১৯৭৪ সালে ১১ মাস ক্ষমতায় ছিল। আরবাকান পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যবিরোধী অবস্থান নেন। মেন্দারেসের মতো তিনিও ইসলামী মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তুরস্কে বার বার ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়। পুরো সত্তর দশক জুড়ে তুরস্কে ডানপন্থী, বামপন্থী ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে মারাত্মক কলহ-বিবাদের ফলশ্রুতিতে ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালেই প্রায় ৩ হাজার রাজনৈতিক হত্যাকা- ঘটে। এ সুযোগে সামরিক বাহিনী ১৯৮০ সালে আবার ক্ষমতা দখল করে। সামরিক সরকার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয় এবং সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে। প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৫১৭ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার লোককে বিদেশ যেতে বাধা দেয়া হয়। অপরদিকে ৩০ হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে তুরস্ক থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৪ হাজার তুর্কী নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। হাজার হাজার সরকারী কর্মচারীর চাকরিহরণ করা হয়। ৬ শতাধিক ক্লাব/সমিতি বন্ধ করে দেয়া হয়।
সামরিক সরকার চরম নির্যাতনের পর নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়। ১৯৮৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তুরগুর ওজালের নেতৃত্বে মাদারল্যান্ড পার্টি ৪৫ ভাগ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। তিনি ইসলামের প্রতি উদার ছিলেন। প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর তিনি হচ্ছেন তুরস্কের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ১৯৮৮ সালে মক্কায় গমন করে পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করেন। তার আমলে ইসলামী মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী এবং এরপর ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকলেও আরবাকান ১৯৮৩ সালে গোপনে রাফাহ পার্টি নামে একটি নতুন দল গঠন করে রেখেছিলেন। ১৯৮৭ সালে এক রেফারেন্ডামের ফলে রাজনৈতিক দলগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়। এ সময় (১৯৮৭) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তুরগুত ওজালের মাদারল্যান্ড পার্টি ৩৬ ভাগ ভোট পেয়ে পুনরায় জয়লাভ করে। ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাফাহ পার্টি বেশ ভালো ফল করে। আরবাকানের পার্টি নতুন আত্মবিশ্বাসে এগুতে থাকে। সত্তর দশকে আরবাকানের পার্টি ছিল অনেকটা প্রাদেশিক ধাঁচের; কিন্তু নব্বই দশকে সে দলটি একটি আধুনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাতীয় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলটি গতানুগতিক ইসলামী নীতির পরিবর্তে জাস্ট অর্ডার’ স্লোগান দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাফাহ পার্টি ২১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৫৮টি আসনে (৫৫০টির মধ্যে) জয়লাভ করে। রাফাহ পার্টির এরূপ জয়লাভের পেছনে কারণ কী? বিশ্লেষকদের মতে, কুর্দী সমস্যা সমাধানে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের নীতি গ্রহণ, নারী সমাজের ব্যাপক সমর্থন, শহুরে দরিদ্রদের পুনর্বাসনের আশ্বাস ও সমাজসেবামূলক কাজ ইত্যাদি কারণে দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। তারা সততা ও নৈতিকতার প্রতি জোর দেয়। এছাড়া ইস্তাম্বুল ও আস্কারা নগরীর নির্বাচিত মেয়রদ্বয় ছিলেন এ দলের। যারা ব্যাপক নাগরিক সুযোগ সুবিধামূলক কর্মকা- দ্বারা বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
রাফাহ পার্টির প্রাপ্ত ১৫৮টি আসন সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তানসু সেলারের ট্রু পাথ পার্টির সমর্থন নিয়ে ১৯৯৬ সালে আরবাকান সরকার গঠন করেন। কিন্তু সিলারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনেক অভিযোগ ছিল। আরবাকান নির্বাচনের আগে অধিকতর ইসলামীকরণের কথা বললেও ক্ষমতায় গিয়ে উদার নীতি গ্রহণ করেন। তথাপি তিনি অনেক ক্ষেত্রে ইসলামীকরণের কাজ হাতে নেন। কিন্তু তা দলের নেতাকর্মীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তারা বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনে। ক্ষমতায় আরোহণের কয়েক মাসের মাথায় আরবাকানের সরকার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার তানসু সিলারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি পার্লামেন্টারি কমিটি বার বার আটকে দিচ্ছিল। বিরোধী দল এর কঠোর সমালোচনা করে। আরবাকান নিজ দলের মধ্যেও সমালোচনার সম্মুখীন হন। ১৯৯৭ সালের দিকে দলের নেতাকর্মীরা ইরানী স্টাইলে বিপ্লবের দাবি জানায়। বিষয়টি সামরিক বাহিনী, প্রেসিডেন্ট ও সিভিল সোসাইটি এই তিন শক্তিকে উত্তেজিত করে তোলে। সামরিক বাহিনী আরবাকানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে থাকে। সেনাবাহিনীর চাপে ট্রু পাথ পার্টির সদস্যরা পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করে। ফলে রাবাকান সরকার পার্লামেন্টের আস্থা হারান এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন আরবাকানের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের পতন ঘটে। ১৯৯৮ সালে তুর্কী সাংবিধানিক আদালত রাফাহ পার্টিকে সেক্যুলার নীতি ভঙ্গের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। রাফাহ পার্টির নেতা-কর্মীরা বিকল্প পথে ভারচু পার্টি নামে আরেকটি দল গঠন করে। তারা ১৯৯৯ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে এবং পার্লামেন্টে বিরোধী দলের আসনে বসে। রাফাহ পার্টির নবতর সংস্করণ হচ্ছে ভারচু পার্টি- এ অভিযোগে ২০০১ সালে এ দলটিকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
নানা কারণে আরবাকান সরকারের ব্যর্থতার পাশাপাশি বার বার দল নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের কৌশল গ্রহণ প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দেয়। আরবাকান ক্রমান্বয়ে দলে কোনঠাসা হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে দলে বিভক্তি দেখা দেয়। আরবাকান সমর্থক পুরানো ধাঁচের নেতৃত্ব সংঘবদ্ধ হয়ে গঠন করে ফেলিসিটি পার্টি এবং সংস্কারবাদীরা গড়ে তোলে জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি)। পার্লামেন্টে রাফাহ পার্টির ৪৮ জন ফেলিসিটি পার্টিতে এবং ৫৩ জন একে পার্টিতে যোগ দেন। ইস্তাম্বুলের মেয়র রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান একে পার্টির নেতা নির্বাচিত হন।
একে পার্টি নতুন উদ্যেমে যাত্রা শুরু করে। তারা তুর্কী সেক্যুলার নীতি, পাশ্চাত্যমুখী পররাষ্ট্র নীতি, ইইউ ও ন্যাটো জোটে অংশগ্রহণ ও মুক্তবাজার নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেয়। তাদের নতুন কৌশল বেশ কাজ দিল। ১৯৯৯ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলটি ৩৪.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। তারা পার্লামেন্টের ৫৫০টি আসনের মধ্যে ৩৬৩টি আসন লাভ করে যা দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি। আরবাকানের ফেলিসিটি পার্টি মাত্র ২.৫ শতাংশ ভোট পায়। এ সময় বিরোধী দলের সম্মিলিত ভোট ছিল প্রায় ৫৩.৪ শতাংশ। তারা এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আন্দোলন করলেও ২০০২ সালে নির্বঅচনে জনগণ পুনরায় একে পার্টিকে বিজয়ী করে। বিরোধী দলের সম্মিলিত ভোট করে দাঁড়ায় ১৪.৬ শতাংশে। নতুন ও তরুণ ভোটার, গরীব জনগোষ্ঠী ও কুর্দীরা একে পার্টিকে ভোট দেয়।
নোট: লেখাটি ‘কামারুজ্জামানের চিঠি এবং জামায়াতের সংস্কার প্রসঙ্গ’ শীর্ষক বই থেকে নেয়া।

একটা নতুন উচ্চতায় পৌঁছনো গেল by কাজী আনিস আহমেদ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে
আলোচনায় নরেন্দ্র মোদী, দিল্লি, ১৯ আগস্ট
কিছু কাল আগেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ দূরত্ব ছিল। ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে এখন নতুন সম্ভাবনার পর্ব। এর পিছনে মোদীর জুন মাসের ঢাকা সফরের অবদান অনেকখানি।
কি ছু মানুষ নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও  সমাধানে পৌঁছতে পারে না। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় নেতাদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল। দেখেশুনে মনে হয়, চেষ্টাটাই সব নয়। চেষ্টা করেও সমস্যা একই ভাবে জিইয়ে রাখাটা আসলে বেশ সহজ। সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে হলে চেষ্টা ও সদিচ্ছার সঙ্গে একটা সাহসও থাকা চাই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে একই সঙ্গে সেই সদিচ্ছা ও সাহসের পরিচয় দিলেন নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদী ও শেখ হাসিনা ওয়াজেদ।
দীর্ঘ ৬৮ বছরের আলোআঁধারি জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ জুলাই ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫১ হাজার অধিবাসী পেল নতুন পরিচয়। ভারতের ভেতর ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল ও বাংলাদেশের ভেতর ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে জ্বলে উঠল স্বপ্নের বাতি। সূচিত হলো ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নতুন একটি সম্ভাবনাময় পর্ব। পরিচয়হীন মানুষগুলোকে নাগরিক মর্যাদা দানের কৃতিত্ব শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদীই পাবেন, তবে কাজটা শুধু এই দুজনের জন্য হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরেই নতুন দিগন্তের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। মনমোহন সিংহ, সনিয়া গাঁধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুষমা স্বরাজ ও ছিটমহল আন্দোলনের জনক দীপক সেনগুপ্তের অবদানও মনে রাখতে হবে।
ছিটমহলের চূড়ান্ত সমাধান আমাদের অন্যান্য অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক সমস্যার ব্যাপারেও এখন আশান্বিত করে তুলছে।  বাংলাদেশের দিক থেকে দেখতে গেলে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টনের চুক্তি দ্বিতীয় গুরুতর সমস্যা। আবার, ভারতের দিক থেকে দেখলে,  স্থল-যোগাযোগ  হল পরবর্তী জরুরি চিন্তা। স্থল-যোগাযোগের জন্য অবশ্য কলকাতা-আগরতলা বাসযাত্রা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, পরীক্ষামূলক যাত্রা হয়েছে ঢাকা-গুয়াহাটি রুটেও।
তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য যাতে পিছিয়ে না থাকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেই সেটা দেখতে হবে, আলোচনায় বসতে হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কোন দিকে এগোয় সেই আলোচনা, চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পাদন না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়ে বাংলাদেশের মনে অশান্তি থাকবেই। এক দিকে তিস্তাসহ সব দ্বিদেশিক নদীর পানি যথাযথ বণ্টন, অন্য দিকে ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটানের মধ্যে অবাধ স্থল-যোগাযোগ কার্যত এই পুরো অঞ্চলটাকেই অনেকগুণ শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে পারে, জোরালো অর্থনীতির বুনিয়াদের উপর দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
আজ যে ভারত-বাংলাদেশ এমন দুর্দান্ত সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তা কিন্তু আদৌ অবধারিত ছিল না। কিছু কাল আগেও দুই দেশের মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব ছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে, এবং আলফার ঘাঁটি হিসেবে বাংলাদেশের ব্যবহার নিয়ে ভারত অনেক বার অভিযোগ করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভারতের এই অভিযোগে তারা কর্ণপাতও করেনি। চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বাংলাদেশেও সবাই জানে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামি লিগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরই কেবল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা শোনা গেল। আজ দুদেশের মধ্যে আস্থার যে সম্পর্ক, তার ভিত্তিটা এখানেই।
তবে, ভারতের বিগত ইউপিএ সরকারের শাসনকালে আওয়ামি লিগ নানা কারণে এই জায়গাটায় পৌঁছতে পারেনি।  চেষ্টা থাকলেও এখনকার মতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিন্তার সাহসটাই তখন দেখা যায়নি। এই মুহূর্তে আমাদের দুই দেশের নাগরিকদের দেখে মনে হয়, গত দুই দশকে তাঁরা যথেষ্ট পরিণত হয়েছেন। সস্তা জাতীয়তাবাদী বুলিতে তাঁরা সহজে বিচলিত হচ্ছেন না।  রাষ্ট্রনেতারাও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বস্তুটা আরও হিসেব করতে শিখেছেন, ছাড় না দিলে যে সমস্যার সমাধান হয় না, বোধহয় এটাও বুঝতে শিখেছেন।
বাংলাদেশে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে, ভারত সরকারের জোরালো সমর্থনের সুবাদেই ২০১৪-র বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামি লিগ সরকার ক্ষমতায় টিঁকে গেছে। মোদীর ঢাকা সফরের সময় যে সব চুক্তি হয়েছে, স্বভাবতই এই প্রতিপক্ষের মতে তাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতই বেশি লাভবান হয়েছে।
তবে বাংলাদেশে এমন একটা রাজনৈতিক পক্ষও আছে যারা বিশ্বাস করে আওয়ামি লিগ সরকারের উপর ভারত সরকারের ধারাবাহিক আশীর্বাদের ব্যাপারটা অনস্বীকার্য। তার হেতুটা ইতিহাসে লুকিয়ে নেই,  ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নিহিত নেই। আছে আওয়ামি লিগ সরকারের সন্ত্রাসবিরোধিতার মধ্যে। ৯/১১ পরবর্তী যুগে বিএনপি যে ভাবে জঙ্গি গোষ্ঠীদের লালন করেছে, তাতে কেবল ভারত নয়, অনেক পশ্চিমি দেশের  কাছেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা ঘোরতর প্রশ্নযোগ্য হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি এটাও বুঝতে হবে যে মোদীর পক্ষেও বাংলাদেশকে কোনও ধরনের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া সহজ ব্যাপার নয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বাংলাদেশি অভিবাসীদের সম্পর্কে যে সব কথা উচ্চারণ করেছিলেন, তার পর বাংলাদেশের প্রতি তাঁর মনোভাব নিয়ে কম সংশয় ছিল না। অথচ তাঁর সফর দেখিয়ে দিল, একটি বড় শক্তিশালীতর দেশের নেতা হিসেবে কোনও প্রতিবেশীর আতিথেয়তা কী ভাবে নিতে হয়। গোটা সফরের যেন উদ্দেশ্য ছিল একটাই: বাংলাদেশকে যে ভারতবাসী শ্রদ্ধা করে, এই বার্তাটি একেবারে স্পষ্ট করে দেওয়া। ক্রিকেট খেলা নিয়ে দুর্বলতর বাংলাদেশকে ভারতীয়দের সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যঙ্গ করার মতো লঘু ব্যাপার থেকে শুরু করে সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের গুলি করে মারার গুরুতর ঘটনায় ভারতের প্রতি বহু বাংলাদেশির মনেই অনেক দিনের জমাট ক্ষোভ। নরেন্দ্র মোদীর আচরণ কিন্তু এই উষ্মা অনেকাংশে হালকা করে দিতে পেরেছে।
হতেই পারে, মোদীর এই বার্তার মধ্যে অনেকটাই প্রতীক, অনেকটাই বাইরের আচরণ। কিন্তু কূটনীতিতে সেটাও জরুরি। দুটি দেশের সম্পর্ক তো শুধু নীতি কিংবা শুধু প্রতীকবাদ দিয়ে চলে না। দুটোই পাশাপাশি চালাতে হয়।  কোনটা প্রকাশ্য, কোনটা প্রচ্ছন্ন, কোনটা আসল, কোনটা নকল, সে সব পরবর্তী কূটনীতিতেই বোঝা যাবে। কিন্তু কথাটা হল, প্রকাশ্যেও যে এতখানি সংশয়ের বাতাবরণ ভেদ করে এতখানি আস্থা তৈরি করা গিয়েছে, সেটা কম কথা নয়। যে নরেন্দ্র মোদী আগে একের পর এক বাংলাদেশ-বিরোধী মন্তব্য করেেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিবেশী দেশে এসে সেই মোদীই বাংলাদেশের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত-সহ ভুটান-নেপাল-শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরুর উদ্যোগের কথা বলছেন, বাইশটি চুক্তি স্বাক্ষর করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটা ‘মোমেন্টাম’ তৈরি করেছেন,  এবং দেশে ফিরে সেই চুক্তি সাধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছেন।  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা বড় সুখবর।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের ভূমিকা ছিল দুই দেশের সম্পর্কের নতুন ভিত রচনায় প্রথম পদক্ষেপ। আর মোদীর সফরকালে ভারতীয় পক্ষের নমনীয়তার প্রকাশ হল দ্বিতীয় পদক্ষেপ। ছিটমহল বিনিময় চুক্তির বাস্তবায়ন হল দুই দেশের যুগপৎ অঙ্গীকার পালনের প্রথম বাস্তবায়ন। আশা করা যাক, এই পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার হাওয়াটা থাকতে থাকতেই তিস্তার পানিবণ্টন এবং স্থল যোগাযোগের বিষয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে।
কে জানে, ভবিষ্যতে হয়তো সুযোগ সমান ভাবে বজায় রাখা যাবে না। সুতরাং এখনই এগোনো ভাল।  কেবল দুই দেশের জন্যই তো নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই এটা একটা বিরল সুযোগ।
আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে নেওয়া

কাশ্মীরেও গরুর গোশত নিষিদ্ধ ঘোষণা করল আদালত

ভারত শাসিত জম্মু কাশ্মীরের হাইকোর্ট সে রাজ্যে গরুর গোশত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে গোশতের মাংসের ওপরে নিষেধাজ্ঞা যেন পুলিশ-প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করে।
আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মুসলিম প্রধান রাজ্যটিতে কড়া প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আর আন্দোলন শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন।
কাশ্মীর যেহেতু আগে হিন্দু মহারাজাদের শাসনাধীন ছিল, তাদের আমলে ১৮৬২ সালে একটা পৃথক দণ্ডবিধি তৈরি করেন তারা – যেটা ভারতীয় দণ্ডবিধির থেকে অনেকটাই আলাদা।
রনবীর পিনাল কোড (আরপিসি) বা দণ্ডবিধি আর ভারতীয় দণ্ডবিধি দুটিই ভারতশাসিত জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে চলে – রাজ্যটির বিশেষ স্টেটাস বা সাংবিধানিক মর্যাদার কারণে।
ওই আরপিসি অনুযায়ী কাশ্মীরে খাওয়ার জন্য গরু জবাই করা নিষিদ্ধ – সেই আইনটি দেখিয়েই আদালত নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে।
এর আগে ১৯৮০ সালে ওই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার একবার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ব্যাপক আন্দোলনের ফলে সরকার তা থেকে পিছিয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত যে এখন থেকে গরুর গোশতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করতেই হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরে যথারীতি খুবই কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। মুসলিম সংগঠন বা কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো সবাই এতে ক্ষুব্ধ।
একটি সংগঠন ঘোষণা করেছে যে তারা কোরবানির ঈদের দিন রাজধানী শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লাল চকে গরু জবাই করে এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করবে।
আবার বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ১২ তারিখ একটা বড় বৈঠক ডেকেছে যেখান থেকে আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।
একটি সংগঠন বলছে রাজ্য বিধানসভা বা এমনকি ভারতের সংসদও যদি গরুর গোশতের ওপরে নিষেধাজ্ঞার জন্য আইন তৈরি করে, তাহলেও তারা সেটা মানবে না। এরই মধ্যে কাল শুক্রবার – জুমার নামাজের পরে যাতে এ নিয়ে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
গরুর গোশতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এই জনস্বার্থ মামলাটি করেছিলেন পরিমোক্ষ শেঠ নামে জম্মুর এক আইনজীবী। মি শেঠ ভারতীয় জনতা পার্টির যুব সংগঠনের একজন কর্মকর্তাও বটে।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে এই নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনের পিছনে বিজেপির একটা সমর্থন রয়েইছে। বিজেপি এর আগে সারা দেশেই গরু জবাই করার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তীব্র করছে।
এর আগে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসার পর পরই গরুর গোশতের ওপরে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অন্য দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাতে গরু পাচার না হতে পারে, তার জন্যও বিএসএফকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বিজেপির সরকার।
গরুর গোশতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বিজেপি ও আরএসএসের একটা মূল নীতিরই অঙ্গ – যেটা এখন তারা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে।
তবে এটাও ঘটনা গরুর গোশত প্রক্রিয়াকরণ করে, টিনবন্দি করে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত সারা পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

সর্বাত্মক পরমাণু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখবে পাকিস্তান

পাকিস্তান সর্বাত্মক পরমাণু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখবে। সব ধরণের আগ্রাসন ঠেকাতে দেশটির সর্বাত্মক পরমাণু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখা হবে। কিন্তু একই সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে না পড়ার নীতিও বজায় রাখবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিযুক্ত ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি বা এনএসএ’র বৈঠকে এ সব বক্তব্য দেয়া হয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সভাপতিত্বে রাজধানী ইসলামাবাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর’র প্রধান মেজর জেনারেল অসিম বাজওয়া টুইট বার্তায় এ বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। এতে আরো বলা হয়েছে, প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে দিনে দিনে ভারসাম্য হারানোর প্রেক্ষাপটে সর্বাত্মক পরমাণু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে পাকিস্তান। অবশ্য পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন নওয়াজ শরীফ।
এ ছাড়া, দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে পরমাণু স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয় তৎপরতা বজায় রাখবে পাকিস্তান।
এদিকে, এর আগে আমেরিকার দুই থিংক ট্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরমাণু বোমার ক্ষেত্রে পাকিস্তান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশে পরিণত হতে চলেছে। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের পরমাণু বোমার সংখ্যা অন্তত ৩৫০’ স্পর্শ করবে । আর আমেরিকা ও চীনের পর বিশ্বের পরমাণু বোমা মজুদকারী তৃতীয় বৃহত্তম দেশে পরিণত হবে পাকিস্তান।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানের অস্ত্র ভাণ্ডারে প্রায় ১২০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। ভারতের রয়েছে প্রায় ১০০টি।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশেষ আদালতে তুমুল হট্টগোল

পুরান ঢাকার বকশিবাজার বিশেষ আদালতে হাজিরা
দিতে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা
জানান বেগম খালেদা জিয়া : নয়া দিগন্ত
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও বাগি¦তণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে উত্তেজিত আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এক সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনর্লিখন (রি-রাইট) করেন বিচারক। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল মামলার তিনজন সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তারা হলেন পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা এইচ এম ইসমাঈল, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মকবুল আহমেদ ও ফাহমিদা রহমান। এ ছাড়া এই মামলার অষ্টম সাক্ষী সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এ দিন। এরপর আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন বিচারক আবু আহমেদ জমাদার।
মামলাটির বিচারকাজ চলছে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ আদালতে। রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের মাঠে স্থাপিত এই বিশেষ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে মামলাটি পরিচালনা করছেন বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাও চলছে একই আদালতে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারকাজ শুরু হয়। সাক্ষী পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা এইচ এম ইসমাঈলকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। তার জেরা চলাকালে বেলা ১১টায় আদালতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। বিচার চলাকালে প্রায় তিন ঘণ্টা আদালতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার উপস্থিতিতেই বাকি সাক্ষীদের জেরা ও জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। ক্রিম কালারের প্রিন্টের একটি শাড়ি পরে আদালতে এসেছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিচার চলাকালে তাকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল।
খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালতের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েক শ’ সদস্য এই দায়িত্বে ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে তথ্য প্রদানকারী ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জব্দ তালিকার একটি বিবরণ উপস্থাপন করতে শুরু করলে তা নিয়মবহির্ভূত বলে শুরুতে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। কিন্তু বিচারক তার বক্তব্য আমলে না নিয়ে জবানবন্দী গ্রহণ করে যাচ্ছিলেন। পরে তাতে আরেক দফা আপত্তি জানান, সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি। উভয়পক্ষের আইনজীবীরা এ সময় তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হন। তাদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন মাইক হাতে নিয়ে আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, ১/১১-র সময় ক্যাঙারু কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা যেভাবে আচরণ করেছেন, এখানেও তারা সেভাবে আচরণ করছেন। এটা কোনো ক্যাঙারু কোর্ট নয়, এটা সাংবিধানিক কোর্ট। আমরা আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। আমি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিচারপ্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। আমি দুই ঘণ্টা ধরে বিচারকাজ দেখছি। এখানে নিয়মানুযায়ী কিছু হচ্ছে না। জব্দ তালিকার একজন সাক্ষী কী কী ডকুমেন্ট দিয়েছেন, কেবল তার তালিকাটুকুই তিনি বলবেন। তার অন্য কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এরপর ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন আদালত ত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা বলে উল্লেখ করেন, এখানে আইন অনুযায়ী বিচার হচ্ছে না। যদি আইন অনুযায়ী বিচার না হয়, তাহলে আমরা আইনজীবীরা এবং বেগম খালেদা জিয়া এই বিচারপ্রক্রিয়া বর্জন করব, আদালত ছেড়ে চলে যাবো। তিনি সাক্ষী হাফিজুর রহমানের দেয়া বিভিন্ন তথ্য বাদ দিতে দাবি জানান। ডিফেন্স আইনজীবীদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সাক্ষী হাফিজুর রহমানের সাক্ষ্য পুনর্লিখন করেন।
পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা এইচ এম ইসমাঈলকে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের করা জেরার অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো :
প্রশ্ন : দুদককে কাগজপত্র দেয়ার নির্দেশ কত তারিখে পেয়েছেন?
উত্তর : ২৫-৯-২০১১ইং তারিখে।
প্রশ্ন : আপনি দুদকের কোনো চিঠি পেয়েছেন?
উত্তর : আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি, চিঠি এসেছে ব্যাংকের কাছে।
প্রশ্ন : ব্যাংকের কাছে আসা দুদকের চিঠি কি আপনি দেখেছেন কখনো?
উত্তর : ২৫-৯-২০১১ইং তারিখে দেখেছি।
প্রশ্ন : আপনার কাছে কি এই মুহূর্তে চিঠিটা আছে?
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : তার মানে দুদকের চিঠিটা আপনি এখন আদালতে দেখাতে পারবেন না।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ওই চিঠিতে কী লেখা তা-ও বলতে পারবেন না।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি তখন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। আপনি তত দিনে ব্যাংক বিষয়ে বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়েছেন। ব্যাংকের কোনো ডকুমেন্ট কাউকে দিতে হলে সার্টিফাইড কপি দেয়ার নিয়ম আছে, অরিজিনাল কপি দেয়ার নিয়ম নাই। জানেন কি?
উত্তর : জানি।
প্রশ্ন : মূল কাগজগুলো আপনি নিজেই নিয়ে গেছেন দুদক অফিসে?
উত্তর : জি, আমি নিজেই নিয়ে গেছি।
প্রশ্ন : এর আগে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ইন্সপেকশনের জন্য ব্যাংকে এসেছিল?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি যখন ডকুমেন্ট নিয়ে গেলেন, তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে একটা অফিস আদেশ দিয়েছিল, সেটা বের করুন।
উত্তর : এই মুহূর্তে নেই। (পরে আইনজীবীদের সহায়তায় বের করা হয়।)
প্রশ্ন : এটা তো অফিস আদেশ?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : অফিস আদেশ ‘পূবালী/নয়াপল্টন/বিবিধ/৬২৩৭/২০১১’, তারিখ : ২১-৯-১১ এই স্মারকবলে আপনি ডকুমেন্টগুলোর মূল কপি দুদক কার্যালয়ে নিয়ে যান?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনি যে চিঠি নিয়ে যান, এটা কি সেই চিঠি (চিঠির কপি দেখিয়ে)?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই চিঠির নিচে প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য অনুরোধ করা আছে এবং কার্য সম্পাদনের পর মূল কপি ফেরত দেয়ার জন্য বলা আছে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই স্মারক নম্বরে দুদকের কোনো কর্মকর্তার প্রাপ্তি স্বীকার আছে?
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : ডকুমেন্টগুলোর মূল কপি রাখা হয়েছে বা ফেরত দেয়া হয়েছে, সেটাও লেখা নাই?
উত্তর : নাই।
প্রশ্ন : এই অফিস আদেশে আপনার (এইচ এম ইসমাঈল) কোনো নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর : না, নাই।
প্রশ্ন : এই আদেশে ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের নিচে কোনো তারিখ বা সিলমোহর আছে?
উত্তর : না, নাই।
প্রশ্ন : এই চিঠিতে একটি সঞ্চয়ী ও একটি চলতি হিসাবের কথা আছে। দু’টিতেই হিসাবের পূর্ণ ডিজিটগুলো নাই।
উত্তর : না, নাই।
প্রশ্ন : এই আদেশে দুদকের একটি পত্রের কথা উল্লেখ আছে? পত্রে দুদক কী কী কাগজ চেয়েছে তার কোনো উল্লেখ আপনাকে দেয়া অফিস আদেশে নাই?
উত্তর : না, নাই।
প্রশ্ন : এই কাগজগুলো আপনি যখন দুদক অফিসে নিয়ে যান, তখন বা তার আগে আপনি কি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারীদের জানিয়েছিলেন বা তাদের চিঠি দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : কাগজ সরবরাহের সময় সেশন জজের আদেশের কথা বলেছেন জবানবন্দীতে। সেই আদেশের সাথে দুদকের বিবরণ ছিল। সেই বিবরণের ‘ছ’ ক্রমিকে আছে যে, চেকের মূল কপি ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ‘রেকর্ডগুলো’ দিতে হবে। এই ‘রেকর্ডগুলো’ বলতে কী চেয়েছিল দুদক, তা পরিষ্কার করতে কোনো চিঠি পেয়েছিলেন?
উত্তর : না, পাইনি।
প্রশ্ন : চিঠিতে ইন্সপেকশন করা, কোনো ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা বা কোনো রেকর্ডের সার্টিফাইড কপি দেয়ার কথা স্পষ্ট করে বলা নেই?
উত্তর : না, নাই।
প্রশ্ন : আদেশের শেষ লাইনে বলা আছে, বর্ণিত আলামত জব্দ করার অনুমতি দেয়া হলো।
উত্তর : আছে।
প্রশ্ন : এই অফিস আদেশ বেআইনি ছিল। আপনারা বেআইনি আদেশ বলে বেআইনি কাজ করেছেন এবং গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
এ সময় আইনজীবী বলেন, শতভাগ সত্য।
প্রশ্ন : জব্দকৃত রেকর্ডের মধ্যে প্রদর্শনী ৫-এ সঞ্চয়ী হিসাব হলো- ২৪৩৮১০১০৪৪৭৪। কিন্তু আপনার অফিস আদেশে হিসাব নম্বর হলো- ৪৪০৭। অর্থাৎ জব্দতালিকার হিসাব নম্বর ও আপনার অফিস আদেশের হিসাব নম্বর এক নয়।
উত্তর : সত্য নয়।
এ সময় আইনজীবী বলেন, সত্য নয়তো কী? এটা তো রেকর্ডে আছে।
প্রশ্ন : আপনি দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবৈধ আদেশে ভীত হয়ে ব্যাংকের গ্রাহকের গচ্ছিত ডকুমেন্ট ও তথ্য গ্রাহকের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে দুদককে সরবরাহ করেছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : গ্রাহক সম্পর্কে মিথ্যা ও ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : এই হিসাব নম্বরের তথ্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া দেয়ার আইনগত অধিকার আপনার ছিল না।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : আপনি কোনো কারণ ছাড়া সংশ্লিষ্ট হিসাবের তথ্য দুদককে সরবরাহ করেছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
প্রশ্ন : আপনি যে অফিস আদেশের বলে দুদককে তথ্য দিয়েছেন সেই আদেশে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন দু’জন কর্মকর্তার অনুমোদন ছিল। আজ যে আপনি সাক্ষী দিতে এসেছেন, এখন কি তাদের অনুমতি নিয়েছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি অসত্য স্যা দিয়েছেন।
উত্তর : ইহা সত্য নহে।
এ দিকে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অনুলিপি না পাওয়ার কথা বলে সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা নথিভুক্ত করে রাখেন। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন বলে জানানো হলে বিচারক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যেতে পারেন। তবে তার পক্ষে আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে জমি কেনা প্রশ্নে অবৈধভাবে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি। মামলায় ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

স্তব্ধ ঢাকা: রাতে ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

দিনভর বিক্ষোভ। রাস্তা অবরোধ। নো ভ্যাট, গুলি কর- প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, স্লোগানে -স্লোগানে মুখরিত রাজপথ। উত্তপ্ত, উত্তাল এবং অচল ঢাকা। সীমাহীন দুর্ভোগ। টিউশন-ফি থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এই ছিল গতকালের দৃশ্যপট। রাজধানীর কমপক্ষে ছয়টি স্পটে  বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে অচল হয়ে পড়ে গোটা মহানগরী। বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বহু মানুষকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। রাজধানী ছাড়া চট্টগ্রাম এবং সিলেটেও বিক্ষোভ হয়েছে। একপর্যায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থী নয়- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই ভ্যাট দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও একই কথা বলেন। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিও নাকচ করে দেন তিনি।
ওদিকে, রাতে ধানমন্ডির রাপা প্লাজার সামনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ করে ২০-২৫ জন যুবক অতর্কিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। দু-এক মিনিট হামলা চালানোর পর ওই যুবকেরা সেখানে দাঁড়ালে পুলিশ তাদের চলে যেতে বলে। এ ঘটনার পর গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি বাড়লে ওই যুবকেরা চলে যায়। আবার রাত ৯টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন যুবক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত চলে যায়। তবে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই।
বেসরকারি উচ্চশিক্ষায় সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে কয়েকমাস ধরেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রামপুরায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। রামপুরা, ধানমন্ডি ও সোবহানবাগে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার উপর কর মানবো না, নো ভ্যাট অন এডুকেশন, আমি ছাত্র, পণ্য নই, শিক্ষা কি পণ্য, শিক্ষার উপর ভ্যাট কি জন্য- ইত্যাদি লেখা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে। আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভ্যাট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে স্টামফোর্ড, ড্যাফোডিল, স্টেস্ট ইউনিভার্সিটি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে যানচলাচল একরকম বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভের কারণে সকাল থেকে মিরপুর রোডগামী আসাদগেট থেকে শুক্রাবাদ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় উত্তরার নর্থ টাওয়ারের সামনে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ আর্টসের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে করে এয়ারপোর্ট-টঙ্গী রোডে সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকালে রামপুরা সেতুর ওপর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) মূল ফটকের সামনে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অবস্থান নিলে এই রাস্তায় সব ধরনের যান বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় বসন্ধুরা আবাসিক এলাকা সামনে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এতে কুড়িল বিশ্বরোডে যানবাহন বন্ধ থাকে কয়েক ঘণ্টা। বেলা ১১টায় মহাখালী-গুলশান-১ রোডে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এতে ওই রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
ধানমন্ডির ২৭ নং এলাকায় ৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয় সকাল ১১টায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এক সময় জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। আটকে পড়ে তিনদিকে চলাচল করা যানবাহন। দু’-একটি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া এ সময় কোন যানবাহনই চলাচল করেনি। রাপা প্লাজা থেকে শঙ্কর রোড় এবং  মিরপুর থেকে আজিমপুর রোড়ের যানবাহন আটকে  পড়ে। এ সময় বাসযাত্রীরা নেমে চলাচল করেন। ভোগান্তিতে পড়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৪টার দিকে রাপা প্লাজার সামনে অবরোধে আটকা পড়া একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. সোহেল জানান, তিনি বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এখানে অপেক্ষা করছেন। কখন ছাড়বে জানেন না। তিনি জানান, কাভার্ড ভ্যানটিতে গার্মেন্টসামগ্রী নিয়ে তিনি সাভার যাচ্ছিলেন। দুপুরের খাওয়াটাও হয়নি তার। আজিমপুর থেকে রাপা প্লাজা পর্যন্ত তারমতো আটকে পড়ে শ’ শ’ যানবাহন। এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ভ্যাট প্রথ্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। বেলা আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রাসেল জানান, বুধবারের ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার  ঘটনায় এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত দায়ী পুলিশদের বিচার এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করবেন। রাতে রাস্তায় মশাল জালিয়ে অবস্থান নেবেন।
পুলিশের বাধা ও তীব্র গরমের মধ্যে গতকালও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামপুরা ব্রিজের রাস্তা অবরোধ করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। তারা ‘নো ভ্যাট গুলি করো, আমার বাবা এটিএম বুথ না’ এমন অসংখ্য প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা নিজেরাই দুইদিকের রাস্তা বন্ধ করে এই কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। তাদের অবরোধের কারণে বাড্ডা থেকে রামপুরা ও মালিবাগগামী রাস্তায় সকল প্রকারের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে এদিকে গুলশান লিংক রোড, মধ্য বাড্ডা, ভাটারা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পযর্ন্ত। রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক এলাকা থেকে  শান্তিনগর পর্যন্ত। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। বাধ্য হয়ে পথচারীরা হেঁটে তাদের গন্তব্যস্থলে চলে যান। রাস্তায় গণপরিবহনের গাড়িগুলো খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ রামপুরা থেকে আসা গাড়িগুলো বামদিক দিয়ে হাতিরঝিলে ও বাড্ডার গাড়িগুলো গুলশানের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এতে আশপাশের এলাকায় প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। কাভার্ড ভ্যানের চালক রবিউল ইসলাম জানান, সকাল ১০টায় গুলিস্তান থেকে কাপড়ের মাল নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য মালিবাগের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করি। সেখান থেকে রামপুরার টিভি সেন্টারের সামনে আসতে সময় লেগেছে ৪ ঘণ্টা। দীর্ঘ এই সময় গাড়ির মধ্যে বসে ছিলাম। অসহ্য গরম আর অপেক্ষার প্রহরে থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমন জানান, শিক্ষা কোন পণ্য নয়। সরকার এটাকে বাণিজ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তার বিবিএ কোর্স করতে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হবে। নতুনভাবে ৭.৫ ভ্যাট আরোপ করায় অতিরিক্ত তাকে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা গুনতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমনিতেই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে অতিরিক্তি টাকা গুনতে হয়।  আমার বাবাতো এটিএম বুথ না যে, টাকা তুলবো আর দিবো। আরেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম জানান, ১২ সেমিস্টারে তার খরচ হবে প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। নতুন ভ্যাট কার্যকর হলে তাকে আরও ৬৫ হাজার টাকা গুনতে হবে। এটা মেনে নেয়া যায় না। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
নো ভ্যাট অন এডুকেশনের মুখপাত্র ফারুক আহমাদ আরিফ বলেন, সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরে যাবে না। আমরা সরকারের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসকারী ভ্যাট তুলে নিয়ে আমাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় ছাত্রসমাজ, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষাবিদ, সাধারণ মানুষসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।
গুলশান জোনের পুলিশের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা যেন বিঘ্ন না ঘটে এজন্য পুলিশ শুরু থেকে সতর্ক ছিল। গত ৪ঠা জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপনে জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট কর দিতে হবে। গতকাল এনবিআর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নয়, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এনবিআরের এ ঘোষণার পরও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, শিক্ষা থেকে কর প্রত্যাহারের জন্যই তাদের আন্দোলন। রাতেও কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ইউনূস সেন্টারের

বুধবার সংসদে দেয়া বক্তৃতায় ড. ইউনূসকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের ব্যাখ্যা পাঠিয়েছে ইউনূস সেন্টার। সংবাদপত্রে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ইউনূস সেন্টার জানিয়েছে, গতকাল ও আজ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৯ই সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতা কালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি পরোক্ষে ইঙ্গিত করে তাঁকে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন বলে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জিএসপি সুবিধা বাতিল বিষয়ে বলেছেন যে, ‘কোন পরাশক্তি নয়, দেশের অভ্যন্তরের অশুভ শক্তিই জিএসপি সুবিধা বাতিলের পেছনে ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরেকজন ব্যক্তি, যিনি আইনী যুদ্ধে একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ হারিয়ে অত্যন্ত  ক্ষুদ্ধ হন,’ এবং ‘সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হন।’
পত্রিকার ভাষ্য অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কেই এসব কথা বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এই অসত্য অভিযোগে আমরা দুঃখিত ও হতাশ হয়েছি। কোনরকম প্রমাণ উপন্থাপন ব্যতিরেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন অত্যন্ত দুঃখজনক।  প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কাজ তিনি কখনোই করতে পারেন না। তিনি সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থ ও সাফল্যের জন্য কাজ করেছেন এবং এই দেশকে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের একটি মডেল হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে গেছেন। তিনি দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় নেমেছেন, এ ধরনের অভিযোগ শুধু মিথ্যাচারই নয়, দুর্ভাগ্যজনকও।
দেশের জন্য এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রফেসর ইউনূসের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য আছে। এগুলো দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে। আমরা আরো আগেই এই ধরনের অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দিয়েছি। আমাদের বক্তব্য মিডিয়াতে সবিস্তারে প্রচারও করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক যে, আমাদের সেসব বক্তব্য বিবেচনায় না নিয়ে একই রকম অসত্য অভিযোগ আবারো করা হচ্ছে।
প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা এবং তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় এই ব্যাংকটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের একটি রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছেÑ এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য।  প্রফেসর ইউনূস এই ব্যাংকটির শুধু প্রতিষ্ঠাতাই নন, তিনি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্যাংকটিকে একটি বিশ্বনন্দিত ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। যার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে নোবেল পুরস্কারসহ অগণিত পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। সারা পৃথিবীর মানুষ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে চেনে তাঁর নিজের পরিচয়ে - কোন ব্যাংকের এমডি হিসেবে নয়। ফলে ‘ব্যাংকের সামান্য এমডি’র পদ হারানোর পর ক্ষিপ্ত হয়ে’ ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার কাজে নেমে পড়েছেন - এই অভিযোগ শুধু ভিত্তিহীনই নয়, হাস্যকরও। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ ‘ধরে রাখতে’ হিলারি ক্লিনটনের দ্বারস্থ হবার অভিযাগটিও একই কারণে সমান হাস্যকর। আমরা এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রফেসর ইউনূস বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে এক হয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার চেষ্টা করেছেন - এই অভিযোগও একান্তই অবান্তব। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের কোন কালেই কোন সংশ্রব ছিল না এবং এখনো নেই - এ কথা সকলেই জানেন।
একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘(তিনি) বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য অনেক অপচেষ্টা ও অপকর্ম করেছেন।’ প্রফেসর ইউনূস যখনই যে দেশে গেছেন সে দেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এর কোন ব্যত্যয় হয়নি। যে কোন দেশের লোক এ দেশে এসে তাঁর সঙ্গে আলাপ করে গেছেন তাঁরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা নিয়ে গেছেন। প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার সাথে জড়িত একথা বাংলাদেশের কোন লোক তো নয়ই, পৃথিবীর কোন দেশের লোক বিশ্বাস করবে না।
নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সেবায়ই তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থ ও সাফল্যের জন্য কাজ করেছেন এবং এই দেশকে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের একটি মডেল হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন, এ ধরনের কোন কথা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কোনরকম তথ্য-প্রমাণ ছাড়া প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের মত একজন সম্মানিত ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বলে যেসব নেতিবাচক কথা মিডিয়ায় এসেছে তা খুবই দুঃখজনক।

পুলিশকে ঔপনিবেশিক ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পুলিশের সকল সদস্যকে ঔপনিবেশিক ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। জনগণের পরম বন্ধুর পরিচয় দিতে হবে। জনমানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবাকে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা পুলিশ ফোর্সকে সার্ভিসে রূপান্তরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। গতকাল  বেলা সোয়া ১১টায় রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি যুগোপযোগী আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৩টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপরেও দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আরও ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া ইতিমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে অপরাধ তদন্তে যুগোপযুগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অপরাধ দমন ও উদঘাটন সম্ভব নয়। তাই সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। অপরাধ ও অপরাধী শনাক্তকরণে পুলিশের আন্তর্জাতিকমান নিশ্চিতকরণে আমরা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আধুনিক ও যথাযথ মানসম্পন্ন করার জন্য জনবল বৃদ্ধিসহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে চলেছি।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশকে অস্থিশীল করার অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর কঠোরতার কারণে তাদের সব ধরনের অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। বিএনপি-জামায়াত সব সময় পুলিশকে টর্াগেট করে। কারণ একটাই পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করতে পারলে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা যাবে। বারবার পুলিশ বাহিনীর ওপর আঘাত আসার পরেও পুলিশ সাহসের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করেছে।
নাশকতা মোকাবিলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ জন বীর সদস্য জীবন দিয়েছেন। যার মধ্যে ১৭ জনই পুলিশ সদস্য। সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন রক্ষার জন্য পুলিশের এ আত্মত্যাগ এক বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের জনগণ পুলিশের এই অবদান গভীরভাবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এ সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে এনেছি। এদেশে সংবিধানকে সমুন্নত করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা জঙ্গিবাদ শক্ত হাতে দমনের মাধ্যমে এ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিনাশের সব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে শতভাগ সমর্থ হয়েছি।
শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলার মতো জনগুরুত্ব সম্পন্ন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। মৌলিক ও মানবাধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে ২৬ জন নারীসহ মোট ১৬১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এ সময় এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণে অশ্বারোহণে প্রথম স্থান অধিকারী নবীন সহকারী পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া, একাডেমিক্সে রেজওয়ানা চৌধুরী এবং সর্ব বিষয়ে পংকজ বড়ুয়াকে পদক প্রদান করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘তরুণিমা’ এবং প্যারেড গ্রাউন্ডের নবনির্মিত গ্যালারির  উদ্বোধন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পরে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা নদীর তীরে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘ঊর্মি’ উদ্বোধন শেষে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোকচিত্র গ্রহণে অংশ নেন।

ভারতে কোরআনের ভুল উদ্ধৃতি দিয়ে গরুর মাংস বিরোধী বিলবোর্ড

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গুজরাট রাজ্য সরকার মুসলমানদের গরুর মাংস খেতে নিরুৎসাহিত করে বিলবোর্ড টাঙিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতাসীন। এ রাজ্যের আহমেদাবাদে ওই বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, গরুর মাংস খেলে রোগ হতে পারে।
কোনো কোনো বিলবোর্ডে আবার দাবি করা হয়েছে- ‘কোরআন বলছে গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি নয়’।
তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, পবিত্র কোরআনে এ ধরনের কোনো আয়াত নেই।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম বোর্ডের সদস্য মুফতি আহমেদ দেভালভি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনে আমি এ ধরনের কোনো আয়াত পাইনি।’
ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছে। তবে গত বছরের মে মাসে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরু রক্ষা আন্দোলন আরো জোরদার হয়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ভারতের কয়েকটি রাজ্যে গরু জবাই বন্ধ এবং মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিলবোর্ডের কঠোর সমালোচনা করে আহমেদাবাদের প্রধান মসজিদের ইমাম সাব্বির আলম বলেছেন, ‘এতে দুই সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।’