Monday, March 18, 2019

রাঙামাটিতে দুর্বৃত্তের ব্রাশফায়ারে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৭

নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নয় কিলো নামক স্থানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ৭ জন নিহত হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ আরো ৮জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
মানবজমিনকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির।
নিহতদের মধ্যে একজন প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নান আরাফসহ দুইজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও একজন পোলিং অফিসার রয়েছেন বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে। নিহতদের অন্যরা হলেন, আনসার সদস্য আলামিন, মিহির কান্তি দত্ত, জাহানারা বেগম, বিলকিস আক্তার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার আবু তৈয়ব ও সহকারি পুলিং অফিসার আমির হোসেন। স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, হতাহতরা সবাই সোমবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে নির্ধারিত গাড়িতে করে বাঘাইছড়ি আসার সময় নয়কিলো নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গুলি করার স্থানটি পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রণাধীন।
নিরাপত্তাবাহিনীর ধারনা উক্ত দলটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, রাস্তার পাশে উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে স্বয়ংক্রিয় ভারী অস্ত্র দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করেছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা লোকজনের প্রায় সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সেনা-বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

প্রতিবেশী দেশগুলো চীনা ঋণের ফাঁদে পড়ছে: ডানফোর্ড

প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঋণ দিয়ে ধীরে ধীরে আগ্রাসনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে চীন। আর এটাই চিন্তা বাড়াচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির কাছে গত বৃহস্পতিবার পুরো বিষয়টি জানিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড। ইকোনমিক টাইমস সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।
চীনের আর্থিক সহযোগিতায় পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গদর বন্দর বানাচ্ছে পাকিস্তান। গদর বন্দরসহ বিভিন্ন নির্মীয়মাণ প্রকল্পের জন্য চীনের কাছ থেকে ১ হাজার কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। ডানফোর্ড জানিয়েছেন, এভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঋণের জালে ফাঁসিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীন। চীনের এই ঋণনীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন ডানফোর্ড।
চীনের এই ‘ছদ্মবেশী ঋণনীতি’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের উদাহরণও তুলে ধরেন ডানফোর্ড। সমুদ্রবন্দর বানানোর জন্য চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পরিবর্তে ওই বন্দর ৯৯ বছর ব্যবহারের জন্য চীনকে ইজারা দেয় শ্রীলঙ্কা। শুধু তা-ই নয়, শর্ত অনুযায়ী বন্দরের ৭০ শতাংশই চীনের আয়ত্তে থাকবে। মালদ্বীপের ক্ষেত্রেও একই নীতি নিয়েছে চীন। মালদ্বীপের কাছে তার পাওনা ১৫০ কোটি ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের প্রধান শরিক হলো ইউরেশিয়া অঞ্চল। রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও তাজিকিস্তানকে চীন তেল ও গ্যাসে ডুবিয়ে দিতে চলেছে—এমন পরিকল্পনার কথা এখন সবার মুখে মুখে। গত কয়েক বছরে রেলপথেও ইউরেশিয়ার কিছু দেশের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে ফেলেছে চীন। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে চীনা সামরিক ঘাঁটি বানানোর প্রত্যক্ষ তথ্য কারও হাতে নেই তা ঠিক, কিন্তু জিবুতিতে সেনা ঘাঁটি তৈরির পর ওই সব অঞ্চলেও তারা ঘাঁটি করতেই পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইউরেশিয়া অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য সি চিন পিং সরকার বিপুল পরিমাণ পুঁজির সংস্থান করেছে। আর তাতে কাজে লাগানো হচ্ছে চীন ও পূর্ব ইউরোপের ১৬টি দেশ নিয়ে গড়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনকে (এসসিও)। লক্ষণীয়, বেশ কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও (ইইউ) সদস্য।
জর্জ বুশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের যে রকম সক্রিয় মধ্য এশিয়া নীতি নিয়ে ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় তা অনেকটাই অনুপস্থিত। মনে করা হচ্ছে, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর মার্কিন বুটের ছাপ আরও কমবে ওই এলাকায়। আর চীনের সবচেয়ে বড় মিত্র হলো রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার এটাই মূল কারণ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে চীন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন। ডানফোর্ড তাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এখনই যদি চীনের এই ছদ্মবেশী ঋণনীতি গুরুত্বসহকারে আমলে না নেওয়া হয়, তা হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়তে পারে।

বিনা ভোটে বিজয়ীরা সিলেক্টেড: মাহবুব তালুকদার

চলমান উপজেলা নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় এই নির্বাচনে জৌলুস নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। এছাড়া নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  জয়ীদের ইলেকটেড না বলে সিলেকটেড বলা যেতে পারে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কয়েক দিন যাবৎ কয়েকজন সাংবাদিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে প্রশ্ন রাখছেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই। জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছে, প্রতিটি বিবেকমান মানুষের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর আছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে যাঁদের স্বার্থ জড়িত, তাঁরা কখনো এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না বা দেবেন না। জাতীয় নির্বাচন কেবল রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বদল নয়, এতে গণতন্ত্র কতটা সমুন্নত হলো, তা-ও বিবেচনাযোগ্য।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,এবারের উপজেলা নির্বাচনকে আমি অপরূপ নির্বাচন বলতে চাই। আইনে রাজনৈতিক নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর মাথাটা নির্বাচিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে এবং দেহটুকু নির্বাচিত হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে।
এই নির্বাচনের স্বরূপটি তাহলে কেমন দাঁড়ায়? অন্যদিকে এই নির্বাচনে অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। এ জন্য উপজেলা নির্বাচনের জৌলুশ নেই। একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররাও কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। এহেন নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
উপজেলা নির্বাচনে শতাধিক প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আজকাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কথাটা বেশ চালু হয়েছে। আমি এর অর্থ বুঝি না। আমার মতে, নির্বাচন মানেই হচ্ছে একাধিকের মধ্যে বাছাই। তাই যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, তা নির্বাচন হয় কী করে? ইংরেজিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনদের ইলেকটেড না বলে সিলেকটেড বলা যেতে পারে কি? এবারের উপজেলা নির্বাচনের চারটি ধাপে শতাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৫০ জন সম্ভবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে জনপ্রতিনিধির পদে আসীন হওয়ার রেওয়াজ গণতন্ত্রের জন্য সুসংবাদ নয়।
মাহবুব তালুকদার আরো বলেন, কিছুদিন পূর্বে একজন মাননীয় সংসদ সদস্য, যিনি সাবেক একজন মন্ত্রীও বটে, তিনি সংসদে বলেছেন, ‘নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’ তাঁর ভাষ্যমতে প্রশ্ন থেকে যায়, এই নির্বাচন মর্যাদা হারাল কবে? জাতীয় নির্বাচনের সময়, নাকি উপজেলা নির্বাচনের সময়? এ জন্য কে বা কারা দায়ী, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি। তবে তাঁর এই বোধেদয় নিশ্চয়ই নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাই অনুপ্রাণিত করবে। মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না।
নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থানীয় নির্বাচন কী পদ্ধতিতে কতখানি উন্মুক্ত হবে, সেটা বর্তমানে সরকার ঠিক করে দেয়। ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য, আইনানুগ ও উন্মুক্ত নির্বাচন হলে এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে, সব দল তাতে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্বাচন কখন হবে, কীভাবে হবে—এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত হলে, ভোটারদের উপস্থিতির জন্য আর হা-হুতাশ করতে হবে না। বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।

ক্রাইস্টচার্চ হামলা: জীবন বাজি রাখা নায়ক

নাইম রশিদ। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হত্যাযজ্ঞের সময় নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকান নি। হামলাকারী যখন নির্বিচারে মুসল্লিদের গুলি করে হত্যা করছিল পাখির মতো, তখন তিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা। জাপটে ধরে হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করেন। ততক্ষণে লাশের সারিতে যোগ হয়েছে তারই ছেলে তালহা (২১)-এর দেহ। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, নিজেকে শক্ত করে, জীবন বাজি রেখে তিনি লড়াই চালিয়ে যান হামলাকারীর সঙ্গে। তা না হলে নিহতের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি হতে পারতো। যে নাইম রশিদ নিজের জীবন বাজি রাখলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মুসলিম ভাইদের রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই বাঁচতে পারলেন না।
তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাই বিশ্ব মিডিয়া তাকে হিরো বা নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার ছবি দিয়ে আলাদা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন নাইম রশিদ ও তার ছেলে তালহা।
মসজিদ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। অকস্মাৎ সেখানে সিনেমার ভিলেনদের মতো এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)।  নাইম রশিদের চোখের সামনে লুটিয়ে পড়তে থাকে মুসল্লি ভাইদের দেহ। রক্তে ভেসে যেতে থাকে মসজিদের মেঝে। চারদিকে আর্ত চিৎকার। দিকভ্রান্ত মানুষ। ছুটাছুটি করছে। তার সামনে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষ। তার মধ্যে রয়েছেন তার ২১ বছর বয়সী ছেলে তালহাও। একজন পিতা হিসেবে সেই দৃশ্য তার হৃদয়ে যে কম্পন তোলার কথা, যে ঝড়ে তার ভেঙে পড়ার কথা, তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। নিজেকে স্থির করলেন। অস্ট্রেলিয়ান হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের কাছ থেকে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। এই ধস্তাধস্তিতে যে সময়টা লেগেছে তার মধ্যে অনেক মুসলিম মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন। তা না হলে আরো কি ভয়াবহতা ঘটতে পারতো তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন হিরো।
লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ লিখেছে, নামাজ আদায় করতে যাওয়া ভাইদের রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন রশিদ। তিনি হামলাকারী ব্রেনটনের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন রশিদ। এক পর্যায়ে হামলাকারী মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গে অন্য মুসলিমরা রশিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। কিন্তু যিনি অন্য মুসলিমদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি ধরলেন, তিনিই বাঁচতে পারলেন না। শুক্রবার রাতের শেষভাগে তিনি মারা যান।
নাইম রশিদের বাড়ি পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। পাকিস্তানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়ে যান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। সেখানে গিয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।
পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে ড. খুরশিদ আলম নিশ্চিত করেছেন নিহত নাইম রশিদ তার ভাই। তাকে ও তার ভাতিজা তালহাকে শুক্রবারের নৃশংস হামলায় হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ওয়েলিংটনে পাকিস্তানের হাইকমিশন নিশ্চিত করেছে, হামলায় ৪ জন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। ৫ জন রয়েছেন নিখোঁজ।
হামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আরেকজন মানুষ কীভাবে হামলাকারীকে মোকাবিলা করেছিলেন এবং তার একটি অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা ঘটেছিল লিনউড মসজিদে। সেখানে তিনি দেখতে পান হামলাকারী প্রতিরক্ষামূলক ‘গিয়ার’ পরে আছে। মাতালের মতো গুলি ছুড়ছিল সে। তারপরই তাকে মোকাবিলা করতে একজন যুবক উদ্যোগ নেন। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, ওই যুবক সুযোগ বুঝে হামলাকারীকে পাকড়াও করে ধরে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র কেড়ে নেয়। তারপরই ওই যুবক মসজিদে থাকা মুসল্লিদের সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি জানতেন না কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।
ওই যুবককেও হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মাজহারুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ওই ‘হিরো’ বন্দুক চালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পান নি। এ সময় হামলাকারীকে ধরতে পেছন থেকে দৌড়াতে থাকেন ওই ‘হিরো’। কিন্তু বাইরে তখন একটি গাড়িতে হামলাকারীর সহযোগীরা অপেক্ষা করছিল। হামলাকারী দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠে পড়ে এবং পালিয়ে যায়।

এক হামলায় পাল্টে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড by অর্ণব সান্যাল

শান্তিপূর্ণ বলে দেশটির সুনাম আছে। আর সেখানেই কিনা থাবা বসাল জঙ্গিরা। কিন্তু কেন নিউজিল্যান্ডে এমন ভয়ানক সন্ত্রাসী হামলা হলো? এটি কি কাকতাল মাত্র, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়ার প্রভাব আছে?
ব্রেনটন টারান্ট নামে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী তরুণ গতকাল শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ চলাকালে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। দুই মসজিদে হামলায় প্রাণ হারান ৪৯ জন। এর মধ্যে আল নূর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে ৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ৪৮ জন। এরই মধ্যে ব্রেনটনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ।
ক্রাইস্টচার্চের মতো নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিউজিল্যান্ডে বিরল। এমন মাত্রার অপরাধের মোক্ষম উদাহরণ খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৪৩ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় এমন একটি অপরাধ দেশটিতে সংঘটিত হয়েছিল। নিকট অতীতের উদাহরণ খুঁজতেও ফিরে যেতে হবে গত শতাব্দীতে। ১৯৯০ সালের সেই ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছিল, কারণ ছিল প্রতিবেশীর সঙ্গে মনোমালিন্য। কিন্তু এবার যে ঘটনাটি ঘটল, তার সঙ্গে সরাসরি উগ্রবাদের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
আমেরিকার ইরাক বা আফগানিস্তানে হামলা, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের সময়ও নিউজিল্যান্ড সুরক্ষিত ছিল। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার পর হুট করেই আপাত শান্তিপূর্ণ একটি দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। ছবি: এএফপি
অথচ আমেরিকার ইরাক বা আফগানিস্তানে হামলা, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের সময়ও নিউজিল্যান্ড সুরক্ষিত ছিল। কখনোই সেখানে মৌলবাদ বা উগ্রবাদ–সম্পর্কিত কোনো গুরুতর অপরাধ ঘটতে দেখা যায়নি। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার পর হুট করেই আপাত শান্তিপূর্ণ একটি দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা–সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়মকানুনও পাল্টে ফেলার কথা ভাবছে নিউজিল্যান্ডের সরকার।
গত কয়েক বছরে শুধু দুর্ঘটনার কারণেই বিশ্বের গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২০১১ সালে ক্রাইস্টচার্চে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ১৮৫ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালেও এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড, নিহত হয়েছিলেন ২ জন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানোর কিছু সুনির্দিষ্ট উপায় অন্তত বের করা যায়। কিন্তু মানুষই যখন মানুষের শত্রু হয়ে যায়, তখন তা প্রতিরোধ অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিউজল্যান্ডে কখনোই বর্ণবাদ বা উগ্রবাদের প্রকাশ্য আস্ফালন দেখা যায়নি। দেশটির সরকার ব্যবস্থা সব সময়ই স্থিতিশীল, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা হানাহানিও নেই তেমন। নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। তবে পারস্পরিক ঘৃণার প্রকাশ বা বিভক্তির নিদর্শন উল্লেখযোগ্য নয়। তবে হ্যাঁ, ধীরে ধীরে দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী একটি দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে। নিউজিল্যান্ডে তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি কট্টর জাতীয়তাবাদী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই দলটি বেশ ভোট পেয়েছে। এই দলের প্রধান নেতা ম্যাভেরিক উইনস্টন পিটারস এখন দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী। দলটি দেশের বর্তমান উদার অভিবাসন নীতি কঠোর করতে চায়। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড প্রায় ৬৫ হাজার অভিবাসীকে স্বাগত জানিয়েছে। এই সংখ্যা কমিয়ে ১০ হাজারে নামাতে চান পিটারসরা। সাম্প্রতিক হামলার পর সেই পালে আরও হাওয়া লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা আছে।
শুক্রবার মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি
নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ আদমশুমারিতে দেখা গেছে, ক্রাইস্টচার্চে শ্বেতাঙ্গদের আধিক্য বেশি, প্রায় ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে পুরো দেশে শ্বেতাঙ্গদের সংখ্যা ৭৪ শতাংশ। ২০০৪ সাল থেকেই দেশটিতে এশীয় অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়ে আসছে, যদিও তার পরিসর খুব একটা বড় নয়। ক্রাইস্টচার্চের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ অভিবাসী। স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘রাইট উইং রেজিসট্যান্স’ নামের একটি বর্ণবাদী গোষ্ঠী নিউজিল্যান্ডে সক্রিয় আছে অনেক দিন ধরেই। সুতরাং দেশটিতে বর্ণবাদের ছিটেফোঁটাও নেই, এটি বলা ভুল হবে।
নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিতে ইসলামভীতির বিষয়টি কখনোই প্রধান বিষয় নয়। মুসলিমদের সংখ্যাও কম, সব মিলিয়ে ৫০ হাজারও হবে না। তবে হ্যাঁ, ইদানীং দেশটিতে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব দেশের তালিকায় ওপরের দিকে আছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলা উগ্রবাদের প্রভাবেই ঘটেছে। বিশ্লেষকদের যুক্তি, হুট করেই এমনটা হতে পারে না। তাই এখন নিউজিল্যান্ডের সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ছবি: এএফপি
‘হোয়াইট সুপ্রিমেসি’র কিছু চিহ্ন ক্রাইস্টচার্চেও দেখা গেছে। ২০১২ সালে ক্যান্টারবুরি ডিস্ট্রিক্ট হেলথ বোর্ড এবং মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশনের করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বেশ কিছু উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। ওই বছরই শতাধিক মানুষ সেখানে ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসি’র সমর্থনে বিক্ষোভও করেছিল। ২০১৭ সালে দেশটির পার্লামেন্টের সামনেও এমন একটি বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে অনেকের দাবি, এসবই হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্রাইস্টচার্চের সাবেক মেয়র ভিকি বাক বর্ণবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, কয়েকটি ঘটনায় পুরো সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয় না।
অবশ্য একটি বিষয় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলা উগ্রবাদের প্রভাবেই ঘটেছে। বিশ্লেষকদের যুক্তি, হুট করেই এমনটা হতে পারে না। তাই এখন নিউজিল্যান্ডের সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
অবশ্য ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইন নিয়ে। স্থানীয় বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাত্র ২৫ ডলার খরচ করেই বাইরের দেশ থেকে আসা যে কেউ নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র চালানোর লাইসেন্স পেতে পারে। এর জন্য কিউই পুলিশের কাছে পর্যটকদের দেখাতে হয় যে, নিজের দেশে তাঁদের অস্ত্র চালানোর লাইসেন্স আছে। কিন্তু তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার রীতি এত কঠোর নয়। শিকারের কথা বলেও যেকোনো পর্যটক সেখানে অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে পারেন, আর এটি কার্যকর থাকে ১২ মাস পর্যন্ত! কেনা যায় স্বয়ংক্রিয় রাইফেলও।
ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইন নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের সরকার এখন বলছে, দেশটির অস্ত্র আইনে শিগগিরই পরিবর্তন আনা হবে। ছবি: রয়টার্স
জানা গেছে, ক্রাইস্টচার্চে হামলা চালানো সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট বৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন। এতে হামলায় ব্যবহৃত গুলি কিনতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। নিউজিল্যান্ডের সরকার এখন বলছে, দেশটির অস্ত্র আইনে শিগগিরই পরিবর্তন আনা হবে। হামলার দিনই দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলে দিয়েছেন, ‘যেহেতু এ ধরনের ঘটনা একের পর ঘটেই যাচ্ছে আর এগুলো ঘটছে লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়েই, তাই আমি ঠিক এই মুহূর্তে আপনাদের বলতে পারি...আমাদের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আসবে।’
অর্থাৎ ‘শান্তির দেশ’ নিউজিল্যান্ডে পরিবর্তন আসছেই। কঠোর হবে অস্ত্র আইন, পরিবর্তন আসতে পারে অভিবাসন নীতিতেও। সে ক্ষেত্রে সবুজে ঘেরা দ্বীপদেশটির উদার মনোভাব সংকুচিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কোয়ার্টজ, দ্য প্রেস, নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

বন্ধ হচ্ছে নৃশংস ভার্চুয়াল গেমস by জিয়া চৌধুরী

গেমিং জগতে আলোচিত নাম পাবজি বা পিইউবিজি। সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এই ভার্চুয়াল গেম। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সদস্যকে ঘায়েল করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয় সাইবার জগতের এ খেলায়। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে ভয়ানক সব মারণাস্ত্র দিয়ে নিঃশেষ করতে হয় প্রতিপক্ষকে। ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র, গ্রেনেডের মতো বিস্ফোরক দিয়ে চোখের পলকেই খুন করতে হয় আরেকজনকে। তবে, গতকাল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে আধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে এক খ্রিস্টান যুবকের গুলি চালানোর ঘটনার পর আবারো আলোচনায় এসেছে পাবজি গেম।
প্রায় তিন মিনিটের এই নির্মম হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ৪৯ জন। নিউজিল্যান্ডে নির্মম এই হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাবজি গেমের সঙ্গে এর মিল আছে বলে দাবি করেন অনেকে।
ক্রাইস্টচার্চের ওই মসজিদে আততায়ী যেভাবে গুলি চালিয়েছে, জনপ্রিয় পাবজি গেমেও কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নৃশংস আক্রমণ করতে হয়। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের হিংস্রতা ও অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে গেমটি বন্ধের দাবি জানান অনেকে। তবে, এই হামলার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে পাবজি গেমটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধের আভাস দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগ। তবে,  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও এরইমধ্যে ভারতের দক্ষিণ অঞ্চলের রাজ্য গুজরাটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পাবজি গেম।
নিষেধাজ্ঞার পরও গেমটি খেলার অপরাধে গত ১৩ই মার্চ ১০ তরুণ শিক্ষার্থীকে আটক করে রাজ্য পুলিশ। পরে অবশ্য ভয়ঙ্কর পাবজি না খেলার শর্তে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ভারতের পর এবার বাংলাদেশেও সমালোচিত পাবজি গেম নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম গেমটি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের মন্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন, পাবজি গেম খেললে তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের মধ্যে সহজেই প্রতিহিংসা ছড়াতে পারে। আমি নিজেও বিষয়টার সঙ্গে একমত। ভার্চুয়াল জগতে গেমটি খেলে রোমাঞ্চ পেলেও বাস্তব জীবনে যে কোনো ধরনের নৃশংস কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে শিশুরা। এসব ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশে গেমটি বন্ধ করার চিন্তা-ভাবনা আছে। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখো গেছে এরই মধ্যে পাবজি গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে শিশু ও তরুণরা। ঢাকার বাইরে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে একই চিত্র।
রাজধানীর শুক্রাবাদ কাঁচাবাজার এলাকার একটি চা দোকানে দেখা যায় মাথা নিচু করে মুঠোফোনে নিমগ্ন কয়েক তরুণকে। এদের একজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনিও নিয়মিত পাবজি খেলেন। সিয়াম জাহানের কাছ থেকে পাবজি গেমের আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করা হয়। মানবজমিনকে জানান, অনান্য মিশনভিত্তিক গেমের সঙ্গে পাবজির বিশাল ফারাক রয়েছে। নিয়মিত গেমটি খেললে যেকোনো তরুণ হিংস্র কাজ ও অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও জানান সিয়াম জাহান। তিনি বলেন, অন্য সব গেমে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুষ্ট প্রতিপক্ষের হাত থেকে নিজেদের বাঁচানো নানা যৌক্তিক কারণে লড়াই করে যেতে হয়। কিন্তু পাবজি গেমের ক্ষেত্রে পুরোটাই উল্টো। কোনো লক্ষ্য বা ভালো উদ্দেশ্য ছাড়াই নিজের আধিপত্য ও ক্ষমতার লড়াইয়ে অন্য সবাইকে মেরে ফেলতে হয়। এ ছাড়া, অন্য সব গেমে একটি নির্দিষ্ট পর্বের পর গেমটি শেষ হয়ে গেলে গেমটির প্রতি গেমার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু পাবজি গেমে কোনো শেষ নেই।
প্রতিটি ধাপে বিজয়ী হলেও পাওয়া যায় পয়েন্ট। এসব পয়েন্ট দিয়ে অস্ত্র ও অনান্য গোলাবারুদ কেনা যায়। যাতে করে আরো বিধ্বংসী ও নৃশংস হয়ে ওঠেন গেমার। নিজে গেমটি খেললেও অপরাধপ্রবণতা কমাতে গেমটি নিষিদ্ধ করা হতে পারে ডিএমপির এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান সিয়াম। তবে, তরুণদের অনেকে পাবজি গেমটি বন্ধ করার পক্ষপাতী নয়। মমিন হাসান শুভ নামে একজন গেমার জানান তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে গেম খেলেন। ভায়োলেন্সের রেকর্ড আছে কি না এমন প্রশ্নে জানান, একবার তিনি একজনের নাক ফাটিয়েছেন। তবে, গেম খেলা থেকে অপরাধ প্রবণতার হার বিবেচনা করে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে দাবি করেন। কাওসার আহসান নামে আরেক গেমার জানান, গেম চলার সময় তার রুমমেটের অভিভাবকরা ফোন করলেও সে বিরক্ত হয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে, এ কারণে গেমটি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

ভয়াল সতের মিনিট

গতকাল ভয়ঙ্কর এক হামলা প্রত্যক্ষ করেছে ক্রাইস্টচার্চ। সেখানে দুইটি মসজিদে  ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় বন্দুকধারীরা। মুসল্লিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে গুলিরবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণ হারান ৪৯ জন। ভাগ্যক্রমে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও আহত হয়েছেন আরো অন্তত দু’ডজন মানুষ। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম গোলাগুলি শুরু হয়। এক যুবক গাড়ি চালিয়ে এসে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের সামনে নামেন। গাড়ি থেকে শোনা যাচ্ছিল গানের সুর।
খুবই স্বাভাবিকভাবে নেমে গাড়ির পেছনে থাকা অস্ত্রগুলে থেকো বেছে নেন একটি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক। মাথায় রাখা গোপন ক্যামেরায় তার এসব কর্মযজ্ঞ সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছিল। অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ঘটে চলা এসব ঘটনায় কেউই ধারণা করতে পারেন নি যে, ওই যুবক কি নৃশংস ঘটনা ঘটাতে চলেছেন। স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে এগিয়ে চলেন মসজিদের দিকে।
এই সময়ে ভেতরে জুমার নামাজ চলছিল। দরজা থেকেই নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকেন তিনি। সামনে যাকে পান, তাকেই গুলি করে ভূপাতিত করছেন। কেউ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেঁচে আছেন, এমনটা বুঝতে পারলে আবারো তার ওপর গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া ওই হত্যাযজ্ঞ চলে ১৭ মিনিট ধরে। নিচে ওই হামলার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো।
১.৪০: সেন্ট্রাল ক্রাইস্টচার্চে প্রথম গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এক ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে মসজিদে প্রবেশ করেন ও ভেতরে থাকা মানুষদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকেন।
২.১১: ক্রাইস্টচার্চে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তখন ডিনস এভিনিউয়ের মাসিদ আল নুর মসজিদের বাইরের প্রাঙ্গণ থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
২.১৭: ক্রাইস্টচার্চের একাধিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ ও রক্তস্নাত অবস্থায় বের হয়ে আসতে শুরু করে।
২.৪৭: প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। তিন জনের অবস্থা সংকটাপন্ন ও অন্য তিনজন গুরুতর আহত।
২.৫৪: পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, পরিস্থিতি খুবই গুরুতর ও এর অবনতি ঘটছে। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে ও রাস্তা এড়িয়ে চলতে বলেন।
৩.১২: নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্ন তার নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেন।
৩.২১: ক্রাইস্টচার্চ সেন্ট্রাল সিটি কাউন্সিল শহরের বেশিরভাগ ভবন তালাবদ্ধ করে রাখে।
৩.৪০: পুলিশ জানায়, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদগুলোতে একই সময়ে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
৩.৪৫: ঘটনাস্থলে আবারো গোলাগুলির খবর আসে। এটা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।
৩.৫৯: হামলার শিকার প্রায় ৩০০ জন মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছিল।
৪.০০: ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে কাস্টডিতে নেয় পুলিশ। কিন্তু সতর্কবার্তা জারি করা হয় যে, আরো হামলাকারী থাকতে পারে। পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদেরকে তাদের স্থানীয় মসজিদ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন।
৪.১০: প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্ন দিনটিকে ‘নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোর একটি’ বলে আখ্যা দেন।
৫.২৭: আরেকটি মসজিদে গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, লিনউডের মসজিদের একাধিক বন্দুকধারী গুলি করতে থাকে। একজন মুসলিম দৌড়ে ওই বন্দুকধারীদের থেকে আত্মরক্ষা করেছেন।
৫.৩১: সন্দেহভাজন ৪ ব্যক্তিকে পুলিশ কাস্টডিতে নেয়া হয়। এদের মধ্যে এক নারীও ছিলেন। এ সময় লিনউডে একাধিক ব্যক্তির হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
৭.০৭: বন্দুকধারীরা এআর-১৫ রাইফেলের ব্যবহার করেছে বলে জানায় পুলিশ।
৭.২০: খবর পাওয়া যায়, বন্দুকধারীরা আল-হুদা মসজিদেও হামলার পরিকল্পনা করছে। পরে ডানেডিন স্ট্রিট বন্ধ করে দেয়া হয়।
৭.২৬: প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্ন অন্তত ৪০ জনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
৭.৩৪: আহত ৪৮ ব্যক্তি চিকিৎসাধীন আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়।
৭.৪৬: ব্রিটমার্ট রেল স্টেশনে এ পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্টেশন থেকে সবাইকে বের করে দেয়া হয়। পরে ওই ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
৮.৩৫: নিউজিল্যান্ড সরকার নিশ্চিত করে যে, এই প্রথম  দেশে এত বড় মাত্রার সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখলো।
৯.০৩: পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, মৃতের সংখ্যা ৪৯ জনে পৌঁছেছে। তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের দায়ে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতে তোলা হবে।

জিনজিরার ক্ষুদ্র শিল্পে বিদেশি থাবা by এম এম মাসুদ

বাংলার চীন, বাংলার জাপান বা মেইড ইন জিনজিরা ইত্যাদি নামে পরিচিত কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা। একে মিনি মোটর ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবেও অভিহিত করা হয়। কিন্তু এখন সেখানে পড়েছে বিদেশি থাবা। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই এলাকা বিশেষ করে ধোলাইখালের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল শিল্প বর্তমানে শুল্ক বৈষম্য ও বিদেশি নিম্ন মানের যন্ত্রাংশের সহজ লভ্যতার কারণে ব্যবসায় চরম মন্দা যাচ্ছে। সূত্র জানায়, হালকা প্রকৌশল শিল্পের কাঁচা-মাল আমদানি করতে শুল্ক দিতে হয় ৪০ শতাংশ। আর খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে শুল্ক দিতে হয় ১ শতাংশ। ফলে ধোলাইখালের তৈরি যন্ত্রাংশ কেনার চেয়ে বিদেশি নিম্ন মানের পার্টস কিনছেন ক্রেতারা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে ধোলাইখালের ব্যবসায়ীরা।
উদ্যোক্তারা জানান, স্বাধীনতার পর পরই ধোলাইখালে পুরনো যন্ত্রাংশের ব্যবসা শুরু হয়। এখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় মিলে ৫ শতাধিক কারখানা। এখানকার ওয়ার্কশপ, লেদ ইন্ডাস্ট্রি এবং পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচা ও পুরনো গাড়ি কাটার কাজে নিয়োজিত প্রায় ৬ লক্ষাধিক শ্রমিক। এখানে মোটরপার্টস ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের প্রায় ৪ হাজারের মতো যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৩৭টি আইটেম বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। এ শিল্পের বছরে লেনদেন প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার অধিক। সরকারকে এ খাতের ব্যবসায়ীরা বছরে দেড়শ’ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব দিচ্ছেন। দেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ হয় ধোলাইখাল থেকে। অথচ এই শিল্প এখন উদ্যোক্তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি উচ্চহারে আমদানি শুল্ক, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখোমুখি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের অপার সম্ভাবনাময় এই ধোলাইখালের মেশিনারি পার্টস শিল্প বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
হালকা প্রকৌশল শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ) সূত্রে জানা গেছে, এই খাতে প্রায় ১৭টি শিল্পের বিভিন্ন কারখানার মেশিনারিজের ৪ হাজার খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। সারা দেশে সাড়ে ৮ হাজার কারখানা আছে। এর মাঝে ঢাকায় আছে ৫ হাজার। বগুড়ায় ১৫০০, যশোরে ১০০০, টঙ্গীতে ১০০০, পাবনায় ৫০০, নারায়ণগঞ্জে ১০০০, চট্টগ্রামে ২০০০, খুলনায় ১০০০ কারখানা আছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ও খুচরা যন্ত্রাংশগুলো আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পুরনো গাড়ি ভেঙেও পার্টস সংগ্রহ করেন তারা। এখানে প্রায় সব মডেলের গাড়ি বিশেষ করে টয়োটা, নিশান, হোন্ডা, মিৎসুবিশি, সুজুকি, মারুতির যন্ত্রাংশ বেশি পাওয়া যায়। বাস এবং ট্রাকের মধ্যে বেড ফোর্ড, ইসুজু, নিশান, হিনো, ভলভো, টাটা, অশোক লেল্যান্ড, টারসেল, আইয়ার, ক্যান্টার প্রভৃতি গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
সরজমিন দেখা গেছে, ধোলাইখালে মোটর পার্টস ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর এক বিশাল সম্ভাবনাময় ভাণ্ডার গড়ে উঠেছে। গ্যাসকিট, পিস্টন, বিয়ারিং থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি মোটর পার্টস গাড়ির ব্রেকডাম, ইঞ্জিন, কার্টিজ, সকেট, জগ, জাম্পার, স্প্রিং, হ্যামার, ম্যাকেল জয়েন্ট, বল জয়েন্টসহ নানা মেশিনারিজ ও পার্টস তৈরি হচ্ছে এখানে। সুলভমূল্যে পার্টস  কিনতে গাড়ির মালিকরা বাধ্য হয়েই এখানে আসেন।
প্রস্তুত হচ্ছে ওষুধ শিল্পের জন্য বিলিস্টার মেশিন। এই মেশিন আগে বিদেশ থেকে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে আমদানি করা হতো। এখন ধোলাইখাল থেকে এই মেশিন তৈরি করে নিতে খরচ হয় মাত্র ৮-১০ লাখ টাকা। এছাড়া গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো মেশিনই ধোলাইখালের ব্যবসায়ীরা কম খরচে প্রস্তুত করে দিতে সক্ষম।
আরিফ নামের এক শ্রমিক বলেন, ধোলাইখালের কারিগর ও উদ্যোক্তারা যেসব যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি করেন তা শিল্প, গৃহস্থালী, কৃষি, বৈদ্যুতিক, যানবাহন, খেলনা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেকোনো যন্ত্র একবার দেখে তা হুবহু তৈরি করতে পারেন। ফলে আমদানি বিকল্প যন্ত্রাংশের শেষ ভরসা এই ধোলাইখাল।
বিইআইওএ সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকার একটু সহযোগিতা করলেই আমরা উঠে দাঁড়াতে পারি। আমাদের পণ্য ব্র্যান্ড করার সুযোগ দিলে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের দেশীয় ব্র্যান্ড তৈরি হতো। তখন ক্রেতারা ব্র্যান্ড দেখে পণ্য কিনতে পারতেন। এখন ক্রেতারা বিদেশি ব্র্যান্ড দেখে পণ্য কেনেন। এ শিল্পের বড় অবদান হচ্ছে, পুরো খাতটি আমদানির বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন খান বলনে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধোলাইখাল ব্যান্ড দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। শক্তিশালী স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামো ও নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। এখন এ খাত বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। উন্নত প্রযুক্তির সংযোজনও প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের কোনো পলিসি না থাকায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছি না। এছাড়া শুল্ক বৈষম্যের কারণে আমরা আরো পিছিয়ে পড়ছি। আশা করছি সরকার এদিকে নজর দিবে।
বিইআইওএ সূত্রে জানা গেছে, এ খাতে বিভিন্নভাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষ জড়িত। উদ্যোক্তা রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। তাদের বিনিয়োগ রয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে এই শিল্পের বাজার বছরে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে জোগান দেয়া হয় ১৫ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রাংশ। এসব যন্ত্রাংশ আমদানি করলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতো। জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ।
বিইআইওএ পরিসংখানে দেখা গেছে, ধোলাইখালের যন্ত্রাংশের রপ্তানি আয় প্রতি বছর বাড়ছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২১ কোটি ৯ লাখ ডলার। ২০১৯-১৭ অর্থবছরে আয় দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৮ লাখ ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে হয়েছে ৩১ কোটি ১ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে হয়েছে ২২ কোটি ১ লাখ ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে হয়েছে ৩৭ কোটি ৬ লাখ ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৭ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হয়েছে ৪৪ কোটি ৭ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৫১ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৬ লাখ ডলার।
ব্যবসায়ী রফিক জানান, কোনো পার্টস যদি কোনো দোকানে না পাওয়া যায়, তবে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখানে ছোট বড় অনেক ওয়ার্কশপ আছে, যেখানে লেদ মেশিনের সাহায্যে অবিকল পার্টস তৈরি করে দেয়া হয়। উৎপাদিত গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো সাধারণভাবে প্যাকেটজাত করে স্থানীয় বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানি করা একই যন্ত্রাংশ উন্নত প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়। ফলে বাজার হারাচ্ছি আমরা।
বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কেউ ভালো নেই। সবার এক কথা, বড় কষ্টে আছি। বেচা কেনা একদমই নেই। সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। একজন ব্যবসায়ী জানালেন, বাবা এই ব্যবসা করছে। এখন আমি করছি। লেখাপড়া করিনি। অন্য কোনো কাজও করতে পারি না। এটা যে বাদ দেবো সেটাও পারছি না। সংসার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। বিক্রির পরিমাণ অসম্ভব রকম কমে গেছে। কোনো কোনো দোকানদার দিনে একটাও ক্রেতা পান না। ফলে দোকানভাড়ার টাকা জোগানই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এখানে যেসব উদ্যোক্তা আছেন তাদের ব্র্যান্ডিং করার সক্ষমতা নেই।
ধোলাইখালের ব্যবসায়ীরা এর হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায়। ফিরিয়ে আনতে চায় রমরমা অবস্থা। এজন্য সরকারের কাছে বেশকিছু দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা। প্রশিক্ষিত লোকবল তৈরি করা। স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা। এই সেক্টরের উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের দরকার। মৌলিক কাঁচামালের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, অন্যদিকে আমদানিকৃত তৈরি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো। মান নিয়ন্ত্রণের জন্য টেস্টিং সেন্টার স্থাপন। উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট চালু করা। লাইট ইঞ্জিনিয়ারের জন্য আলাদা শিল্প পার্ক তৈরি করা। দেশি-বিদেশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যোগাযোগ বাড়ানো।
অর্থনীতিবিদ জায়েদ বকত বলেন, হালকা প্রকৌশল শিল্পের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। এ খাতে এখন দরকার নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা। তাহলেই এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই -বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে তিনি এমন সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অক্ষরজ্ঞানহীনতা থাকবে না। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী করে এমনভাবে গড়ে তুলবো যেখানে আগামীর শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ থাকবে এবং তারা সুন্দর জীবনের অধিকারী হবে, যে স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। গতকাল জাতির পিতার ৯৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় তার সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে হারিয়ে ৬ বছর বিদেশে থাকতে বাধ্য হওয়ার পর ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরেই তিনি এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। লাখো জনতার মাঝে হারানো স্বজন খুঁজে ফেরা বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি দেশবাসী বিশেষ করে টুঙ্গীপাড়া ও কোটালিপাড়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই এই কারণে যে, এই এলাকাটা (তাঁর নির্বাচনী আসন) আমার দেখার কোন প্রয়োজনই হয় না।
এখানকার সব দায়িত্বই জনগণ নিয়ে নিয়েছে। আমি তিন ভাই হারিয়েছি, কিন্তু পেয়েছি লাখো ভাই। মানব সেবাতেই তার এ জীবন উৎসর্গকৃত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার জীবনটা উৎসর্গ করেছি, আমরা দুটি বোন আমাদের জীবনটা উৎসর্গ করেছি জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ যদি ভালো থাকে, উন্নত জীবন পায়- সেটাই তাদের সব থেকে বড় পাওয়া।
আর এজন্যই দেশের জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, এই বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। যেন আজকের শিশু আগামী দিনে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ ও সুন্দর জীবন পায়। তিনি বলেন, কখনই তিনি মৃত্যুভয়ে ভীত নন, বারবারই তার ওপর প্রাণঘাতী আঘাত আসায় তার মনে হয়েছে তাকে হয়তো তার বাবার ভাগ্যই বরণ করতে হতে পারে।
কিন্তু সেজন্য তিনি দমে যাননি বা কাজ থেকে কখনও দূরে সরে আসেননি। শেখ হসিনা বলেন, সব সময় মনে করেছি আমাকে কাজ করতে হবে। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। আর সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি আজও পথ চলছি। ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশে আজকের শিশুদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করে গড়ে তুলতে চান’ উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা শিশুদেরকে সবসময় ভালোবাসতেন। তাই তার জন্মদিনটি আমরা শিশু দিবস হিসেবেই সবসময় উদযাপন করি।
তিনি বলেন, আমার বাবা সারাজীবন যে রাজনীতি করেছেন তাতে আমার দাদা-দাদু সবসময় সমর্থন দিয়ে গেছেন এবং আদর-যত্ন দিয়ে মানুষ করার পাশাপাশি সেই যুগে কলকাতায় রেখে তাকে পড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আজন্ম ছায়াসঙ্গী তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবের নৈতিক দৃঢ়তা, দেশের প্রতি পিতার মতোই কর্তব্যবোধ এবং মানুষের জন্য ভালোবাসার বিভিন্ন খণ্ড চিত্রও আলোচনায় তুলে আনেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার মায়ের নিজের কোনো চাহিদা ছিল না, আমার বাবার রাজনীতির পাশে সবসময় ছিলেন। তারও যতটুকু অর্থ সম্পদ ছিল তা বাবাকে দিতেন কারণ বাবা দেশের কাজ করেন, মানুষের কাজ করেন সেই চিন্তা থেকে। আর সেজন্যই তিনি (বঙ্গবন্ধু) এত বড় আত্মত্যাগ করতে পেরেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী কোটালিপাড়ার সন্তান এবং ক্ষণজন্মা কবি সুকান্তের ছাড়পত্র কবিতার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেন, ‘চলে যাব তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/ প্রাণপণে এ পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল/এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি,/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থল টুঙ্গীপাড়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ,পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ মালেকা একাডেমির পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়া সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম এবং গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনাকে অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা ব্রান্ডিংয়ের লোগোর একটি রেপ্লিকা উপহার দেন এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা চিঠির ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে লেখা সেরা চিঠিটি ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া শারমিন পাঠ করে শোনান। ‘আমার কথা শোন’ শীর্ষক একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি বই মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গীপাড়া এবং কোটালীপাড়ার দুজন দরিদ্র মহিলা কণা বেগম এবং তানজিলার নিকট সেলাই মেশিন হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করেন। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে প্রেসিডেন্ট এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দেন। ফুল দেয়ার পর তারা জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উপলক্ষে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে, প্রেসিডেন্ট সমাধি প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ তাকে স্বাগত জানান। জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়েও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পর হেলিকপ্টার যোগে টুঙ্গীপাড়া যান। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি প্রতিবারের মতো এবারও দেশব্যাপী শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন।’

ঘৃণা দিয়ে ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই নয় by অনিম আরাফাত

ব্রেনটন টেরেন্ট নামের এক সন্ত্রাসী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে কমপক্ষে ৫০ জনকে। স্বঘোষিত শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী এই টেরেন্ট ঘৃণা করত মুসলিমদের, অভিবাসীদের। তাকে যখন আদালতে তোলা হল তখনও সে হাসছে। এ হামলার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। কারণ তার বিশ্বাসটিই ছিল এমন। আমরা এর আগেও দেখেছি কোনো একজনের ভুল বিশ্বাসের কারণে শেষ হয়ে গেছে হাজার হাজার প্রাণ।
যে সন্ত্রাসী ক্রাইস্টচার্চে হামলা চালিয়ে নিরিহ মুসলমানদের হত্যা করেছে আর আইএসের যে সদস্য ইউরোপের রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে নিরিহ শিশুকে হত্যা করেছে তাদের মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। দুজনই কট্টোরপন্থী এবং তারা মনে করে তারা যাদের হত্যা করেছে এটাই তাদের প্রাপ্য।
ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী নিজের কর্মকান্ডকে ইউরোপে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ ইউরোপে আইএস জঙ্গিরা যেমন কিছু নিরিহ মানুষকেই হত্যা করেছে, সে নিজেও নামাজরত কিছু নিরিহ মুসলমানকে হত্যা করল। এরপর যদি এই হামলায় স্বজন হারানো কেউ প্রতিশোধ নিতে আরো কয়েকজন নিরিহ মানুষ হত্যা করতে শুরু করে তাহলে এই পৃথিবীর অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
ঘৃণা দিয়ে ঘৃণার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় না। এমনটাই বলছেন ম্যানচেস্টার বোমা হামলায় বেচে যাওয়া একজন রুথ মুরেল। সেখানে এক ধর্মান্ধ মুসলিম বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল কমপক্ষে ২৩ জনকে। সেই হামলা থেকে বেচে যাওয়া রুথ ক্রাইস্টচার্চে মুসলিমদের ওপর হামলার পর বলেছেন, এ ঘটনা শুনে আমি বারবার সেই ম্যানচেস্টার বোমা হামলার সময়ে ফিরে যাচ্ছি। তিনি এই দুটি হামলাকেই একইভাবে দেখেন। ম্যানচেস্টার হামলার পর রুথ মুরেল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্বরব ছিলেন সবসময়। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর তিনি টেরন্টসহ পৃথিবীর সকল উগ্রবাদীদের জন্য একটি বার্তা দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, তোমরা কখনো জয়ী হতে পারবে না। ওই হামলায় নিহত তিন বছরের শিশু মুসাদ ইব্রাহিমের বিষয়ে তিনি বলেন, নিরিহ শিশু হত্যা করা অসভ্যতা। ইব্রাহিমের জন্য হলেও আমাদেরকে ওই উগ্রদের কখনো জয়ী হতে দেয়া যাবে না।
তাই কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ নয়, লড়াই করতে হবে সকল উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। টেরেন্ট হামলার সময় যে বন্দুক ব্যবহার করেছিল তাতে লেখা ছিল, ‘রদারহ্যামে নির্যাতিত শিশুদের জন্য’। স্যামি উডহাউজ একজন যিনি রদারহ্যামে পাকিস্তানি যৌন নিপিরকদের হাত থেকে বেচে গিয়েছিলেন। ক্রাইস্টচার্চে তারপক্ষে হামলার পরেও তিনি হামলাকারীর প্রতি ঘৃণা দেখাতে পিছপা হননি। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই হত্যাজজ্ঞ আমার নামে হতে পারে না, এটি একটি পৈশাচিক কাজ। এছাড়া ওয়েস্টমিনিস্টারে জিহাদি হামলার শিকার হওয়া কেইথ চ্যাপম্যানও মুসলিমদের বিরুদ্ধে হওয়া হামলার বিরোধিতা করেন। তিনি সকল সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহবান জানান বিশ্ববাসীর প্রতি।
মানুষের প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে মানবিকতা। যার মধ্যে মানবিকতাই নেই সে মানুষ কি করে হয়? সে পশুর সমতুল্য। তাই বিশ্বজুড়ে যারা ধর্মের নামে অমানবিক কর্মকান্ডে লিপ্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হতে হবে। তাদের কর্মকান্ডের কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না। সে কৃষ্ণাঙ্গ হোক, শেতাঙ্গ হোক, মুসলমান হোক বা খ্রিস্টান হোক, একজন সন্ত্রাসী সকলের কাছেই ঘৃণ্য। আমরা যদি আজ সকল প্রকার উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এক হতে না পারি তাহলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে এ সভ্যতা। এ দেশে যখন লেখক-ব্লগারদের ওপর হামলা হয়েছিল তখনও দেখা গেছে অসংখ্য মানুষ এই উগ্রবাদী কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়েছে। একজন মানবগুণ সম্পন্ন মানুষ সব ধরনের উগ্রতাকে ঘৃণা করবে। তাই যারা কোনো ধরনের উগ্রবাদকে সমর্থন করে তাদেরকেও বর্জন করতে হবে। আর আমরা যদি সকল উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সে যে মতাদর্শেরই হোক না কেনো এক হতে না পারি তাহলে এ ধরনের বহু টুইটটাওয়ার হামলা, ক্রাইস্টচার্চ ট্রাজেডি কিংবা ব্লগার হত্যার মত উগ্রবাদী কর্মকান্ড চলতেই থাকবে। একইসঙ্গে, আমরা যে বৈষম্যহীন মানবিক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

এরদোগানের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ তসবিহ তৈরি করেছেন বাংলাদেশী যুবক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের প্রতি ভালবাসা থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তসবিহ তৈরি করেছেন এক বাংলাদেশী। তিনি আবদুল্লাহ আল হায়দার। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম জলসুকলায়। ওই তসবিহটির দৈর্ঘ্য ৪৫০০ ফুট বা ১.৩ কিলোমিটার। ওজন ১৪৯ পাউন্ড বা ৬৭.৫ কিলোগ্রাম। তসবিহটি বানাতে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ ঘন্টা কাজ করেছেন হায়দার। এতে তার সময় লেগেছে দুই মাস। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাডোলু।
রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান মুসলিমদের অধিকার, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যে অবদান রেখে চলেছেন সে জন্য তার কঠোর ভক্তে পরিণত হয়েছেন হায়দার। তিনি মনে করেন, এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একদিন এরদোগানকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হবে। হায়দার একাই নন, তার গ্রামের আরো অনেকে এরদোগানের ভক্ত। তারা দাবি তুলেছেন, এই তসবিহটি এরদোগানের হাতে তুলে দেয়ার জন্য হায়দারকে সুযোগ দেয়ার।
আবদুল্লাহ আল হায়দার এরদোগানের জন্য নিজের হাতে তৈরি করেছেন এই তসবিহ। এতে কোনো সাহায্য নেন নি তিনি। বলেছেন, তসবিহটি তৈরি করতে তার সময় লেগেছে দুই মাস। তার দাবি, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তসবিহ। তার ভাষায়, প্রতিদিন আমি এটি বানাতে ৫ থেকে ১০ ঘন্টা কাজ করেছি। যখনই এরদোগানের কথা মনে পড়েছে তখনই তসবিহ বুননে বসে পড়েছি। এতে মোট চারটি রঙের পুঁতি ব্যবহার করা হয়েছে। তা হলো সবুজ, কালো, স্বর্ণালি ও সাদা। মোট এক লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ পুঁতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি এক হাজার পুঁতি পর পর গণনা করার সিস্টেম রাখা হয়েছে।
হায়দার বলেছেন, এসব পুঁতি কিনতে তার মোট দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এটাকে আরো সুন্দর করার প্রত্যয় রয়েছে তার মধ্যে। আশা করেন, যদি তিনি এই তসবিহ নিজের হাতে এরদোগানকে উপহার দিতে পারতেন!
হায়দারের এই কাজ কোনো শিশুসুলভ বিষয় নয়। রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বিশ্বজুড়ে যেসব মানবিক কাজ করেন বা করেছেন, নির্যাতিত মানুষ, বিশেষ করে মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে তার যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠস্বর এ জন্য তার ভীষণ ভক্ত হয়ে উঠেছেন হায়দার।
আবেগতাড়িত হয়ে যান হায়দার। তিনি বলেন, এরদোগান মানুষকে ভালবাসেন। ঘৃণা করেন নির্যাতনকারীদের। কাজ করেন ফিলিস্তিন, কাশ্মির, মিয়ানমার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নির্যাতিত মানুষের জন্য। এ জন্যই আমি ভালবাসি এরদোগানকে।
কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে হায়দারের। তিনি বলেন, মিয়ানমারে নৃশংসতার কারণে যেসব রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তাদের জন্য সর্বান্তকরণে কাজ করে যাচ্ছে এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্ক।
এরদোগানের জন্য কেন তসবিহ? এ প্রশ্নের জবাবে হায়দার বলেন, এরদোগান একজন ধার্মিক মানুষ। আর তসবিহতো আমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এরদোগানের কণ্ঠে আমি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুনেছি। শুনেটি তার সুমিষ্ট স্বরের আযান। এভাবেই তাকে আমি আবিষ্কার করেছি।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এসব কারণে তার প্রতি দিন দিন ভক্তি শ্রদ্ধা বেড়েছে হায়দারের।
তার এ কাজ দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান বিপুল সংখ্যক মানুষ। তারা সবাই হায়দারের কাজের প্রশংসা করেন। এর মধ্যে ৮০ বছর বয়সী মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমি হায়দারের এই কাজকে খুব পছন্দ করি। তার এ কাজের কারণে বিশ্বের অন্য নেতাদের ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে যথাযথ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
যুবক আরিফুল ইসলাম বলেছেন, তিনি এরদোগানের মতো হতে চান। কারণ এরদোগান ইসলাম, শান্তিকে ভালবাসেন। কাজ করেন মানবাধিকারের পক্ষে। অন্যদিকে হায়দারের বন্ধু রাসেল করিম বলেন, এই তসবিহ যদি এরদোগান গ্রহণ করেন তাহলে এটা হবে আমাদের জন্য এক বড় সফলতা। প্রমাণ হবে আমাদের ভালবাসার সত্যিকার প্রতিফলন ঘটেছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রয়েছে এরদোগানের বিপুল সংখ্যক ভক্ত। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুব সমাজ তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশী অনেক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় তাদের পেজে ব্যবহার করেন এরদোগানের ছবি।

পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাথরের বাজার by মাসুদ মিলাদ

• সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে পাথরের ব্যবহার বেড়েছে।
• আমদানিকৃত পাথরের বাজার ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার।
• চার বছর আগে এই বাজার ছিল ৬০ কোটি টাকার।
• লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পাথর আমদানি
• চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে ৩৯ শতাংশ।
• স্থলবন্দর দিয়ে আসছে ৬০ শতাংশ।

ভবন থেকে সড়ক-মহাসড়ক বা বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজে তাকালে এখন যে কারও চোখ আটকে যাবে পাথরের বড় স্তূপে। দু-তিন বছর ধরে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর পাশে পাথরের স্তূপের এই দৃশ্য অনেকটা চিরচেনা হয়ে গেছে। পাথর নিয়ে এমন দৃশ্যের আড়ালে আছে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা।
পাথরের ব্যবহার এত বেড়েছে যে এখন সিলেটের আটটি কোয়ারি (মহাল) থেকে উত্তোলন করে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। দিনাজপুরে সরকারি মধ্যপাড়া কঠিন পাথরখনি থেকে উত্তোলিত পাথর আমদানির রাশ টানতে পারছে না। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে আমদানি করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পাথর। তাতেই পণ্যভিত্তিক আমদানির প্রবৃদ্ধি বা বাজারের আকার হিসেবে পাথর উঠে এসেছে শীর্ষে। সুযোগ তৈরি হয়েছে নতুন ব্যবসার।
আমদানির সরকারি হিসাব ও বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে আমদানি করা পাথরের বাজারের আকার ৬০ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকায়। এত কম সময়ে কোনো আমদানি পণ্যের বাজার এত দ্রুত বাড়ার নজির খুব কম।
পাথরের বাজার দ্রুত বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইটের খোয়ার চেয়ে পাথরের শক্তি বেশি। ভবন বা স্থাপনা, সড়ক বা মহাসড়কসহ অবকাঠামোর টেকসই নির্মাণে তাই পাথরের চাহিদা বেশি। আবার দেশে এখন ছোট বড় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। বড় প্রকল্পেও বিপুল পরিমাণ পাথরের ব্যবহার হচ্ছে।
পাথরের বাজার বাড়ার কারণ নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমত মানুষের সচেতনতার কারণে ইটের খোয়ার বদলে ভবনে পাথরের ব্যবহার বেড়েছে। আবার যেভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতে রড-সিমেন্টের মতো পাথরের ব্যবহার বেড়েছে।
উত্তোলন ও আমদানির চিত্র
চার-পাঁচ বছর আগেও পাথরের প্রধান উৎস ছিল সিলেটের কোয়ারি ও দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি। এই দুই উৎস থেকে বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ টন পাথর সরবরাহ হতো। পাশাপাশি ভারত ও ভুটান থেকে বছরে আমদানি হতো পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন।
তবে দেশীয় উৎস থেকে উত্তোলন ব্যাহত হওয়ায় পাথরের সরবরাহ কমে যায়। অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে হু–হু করে বাড়তে থাকে চাহিদা। এই চাহিদার প্রয়োজনে প্রথমে ছয়টি স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে শুরু হয় পাথর আমদানি।
দেশে আমদানি পণ্যের তালিকায় এত দিন কোটি টনের বেশি আমদানি হতো শুধু সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার। গত অর্থবছর থেকে কোটি টনের ক্লাবে যুক্ত হয়েছে পাথরের নাম। ক্লিংকারের প্রবৃদ্ধি ছাপিয়ে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পাথর আমদানির পরিমাণ। যেমন গত অর্থবছর ক্লিংকার আমদানি হয় ১ কোটি ৫৮ লাখ টন। পাথর আমদানি হয় ১ কোটি ২৬ লাখ টন।
জানতে চাইলে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পাথর আমদানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে সিমেন্টের ক্লিংকার আমদানির পরিমাণকে তা ছাড়িয়ে যাবে। শুধু শহর বা বড় প্রকল্পেই নয়, এখন গ্রামেগঞ্জে ভবন নির্মাণে পাথরের ব্যবহার হচ্ছে।
বিশৃঙ্খল থেকে শৃঙ্খলার পথে
পাথরের ব্যবসা একসময় ছিল সিলেটের পাথর ব্যবসায়ীদের হাতে। চার বছর আগে থেকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর এই খাতে যুক্ত হন নতুন নতুন ব্যবসায়ী। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক থেকে শিল্পমালিকেরাও নিজেদের কারখানা বা অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন বা বাণিজ্যের জন্য পাথর আমদানি শুরু করেন। আবার অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও বিদেশ থেকে আমদানি করে পাথরবাণিজ্যে ঝুঁকে পড়েন। বন্দর দিয়ে পাথর আমদানির শুরুতে ছিল এমন বিশৃঙ্খলা। বর্তমানে বড় ব্যবসায়ীরা যুক্ত হওয়ায় ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেকে সটকে পড়ায় এই খাতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত পাথর আমদানিতে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করেছে ১০০টির মতো প্রতিষ্ঠান।
জানতে চাইলে পাথর আমদানিকারক গ্রিনগ্রেইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল আহমেদ তানভীর প্রথম আলোকে বলেন, পাথর ব্যবসায় সরবরাহ ব্যবস্থাটা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বন্দর থেকে খালাস করে প্রকল্প স্থান পর্যন্ত পাথর সরবরাহে এখনো গতিশীল ব্যবস্থা চালু হয়নি।

হামলার ৯ মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রীকে মেইল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে রক্তক্ষয়ী হামলার আগে হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেনের কার্যালয়ে ইশতেহার (মেনিফেস্টো) পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ব্রেনটন টারান্টের শুক্রবারের হামলার কারণের ব্যাখ্যা ছিল। একই মেনিফেস্টো পাঠানো হয়েছে নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের কাছেও।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলাকারী ৩০ জায়গায় তাঁর ইশতেহার পাঠিয়েছেন। এর মধ্য আমার কার্যালয়ও আছে। হামলার ৯ মিনিট আগে এই ই-মেইল পাওয়া যায়। তবে এটা কোথা থেকে পাঠানো, তার অবস্থান জানা যায়নি।’ তিনি বলেন, এই মেইল পাওয়ার দুই মিনিট পরই তা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যে অ্যাকাউন্টে হামলার ৯ মিনিট আগে মেইলটি পাঠানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত না। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা মেইলটি ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা মেইলে পাঠানো ওই ইশতেহার দেখতে পান। তিনি সেটা সংসদীয় নিরাপত্তা বিভাগের কাছে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে পাঠানো হয় পুলিশের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্টের পাঠানো ইশতেহার হয়তো ততটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেননি। মেইল পাঠানোর ৯ মিনিট পরে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে রক্তক্ষয়ী হামলা হয়। এত প্রাণ হারান ৫০ মুসল্লি।
নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একই ইশতেহার পাঠানো হয় নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র বলেন, যেসব গ্রাহকের কাছে ওই মেইল পাঠানো হয়েছে, তার বেশির ভাগই দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম। তালিকায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে আছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ট্রেভর মালার্ড ও ন্যাশনাল পার্টির নেতা সাইমন ব্রিজ। মুখপাত্র বলেন, ‘মেইলে ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট এই কাজের কারণ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কী করতে যাচ্ছেন, তা বলেনি। তাই এটা আটকে দেওয়া বা রুখে দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি।’
ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট তাঁর শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী হামলার কারণ ইশতেহারে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। ইশতেহারের বলা হয়েছে, আরেক সন্ত্রাসী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিউজিল্যান্ডে হামলা চালিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং লন্ডনের মেয়র সাদেক খানের মৃত্যু কামনা করেছেন। ওই ইশতেহারের নাম তিনি দিয়েছেন ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’।
হ্যারিসন টারান্টের নৃশংসতার কবল থেকে কয়েক মিনিটের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে তাঁরা ওই সময় গিয়েছিলেন মসজিদে। একজন নারী তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমদের ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। তাঁর নিষেধেই তড়িঘড়ি করে ওই স্থান ছেড়ে চলে যান ক্রিকেটাররা।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর প্রথমে সন্ত্রাসী হামলা হয়। কিছু পরে লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় হামলা হয়। দুটি মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আহত প্রায় ৫০ জন। কিছু পরে লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় হামলা হয়।
আল নুর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভস্ট্রিম করেন হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট। আল নুর মসজিদে আনুমানিক ৩০০ এবং লিনউড মসজিদে শ খানেক মুসল্লি নামাজ আদায় করছিলেন বলে জানা গেছে।
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। মরদেহগুলো শনাক্তের কাজ দ্রুত করা হচ্ছে।
অনলাইনে এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে হামলায় হতাহত হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের আগে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত কাজ শেষ করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মীয় রীতি মেনে যাতে দ্রুত দাফনের কাজ শেষ করা যায়, সে জন্য তাঁরা তৎপর রয়েছেন।

বাসায় দেরি হওয়ায় হামলা থেকে বেঁচে যান ইকরাম by জিয়া চৌধুরী

অসহিষ্ণুতার ইতিহাসে আরেকটি ব্ল্যাক ফ্রাইডের সাক্ষী হলো নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে আল নূর। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের শান্ত-শ্যামল শহরে এখন এক অজানা আতঙ্ক। ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দারা এখনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভীত-সন্ত্রস্ত। এখনো বুঝতেই পারছেন না আসলে কী হয়ে গেল? মসজিদে আল নূর আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ছিল মুসলিম জনগোষ্ঠীদের সামাজিক মেলবন্ধনের কেন্দ্র।
যেখান থেকে মাত্র মিনিট চারেকের দূরত্বে ডীন’স এভিনিউ। সেখানকার একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইকরাম হোসেন বাবু। নিয়মিত নামাজ পড়তেন মসজিদে আল নূরে। সন্ত্রাসী হামলার দিনও ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার কথা ছিল ইকরাম হোসেনের।
তবে প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে মিনিট পাঁচেক দেরি হওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পান। হামলার শিকার না হলেও কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছেন না এই বাংলাদেশি। এত সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও হামলার ঘটনায় কিছুটা বাকরুদ্ধও তিনি। ঘটনার কথা মনে করতে গিয়ে তার চোখ ভিজে শোকে আর আতঙ্কে। ইকরামের এক স্বজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনারুল ইসলাম রাহাতের সহায়তায় গতকাল শনিবার ফেসবুক ও ইন্সট্রাগামে কথা হয় তার সঙ্গে। ইকরাম হোসেন জানান, তিনি মূলত দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন।
ঢাকায় থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। তার স্ত্রী মৌটুসী তানহা মৌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পিএইচডির কাজে মেয়ে বারিরা রাঈদাকে নিয়ে গত চার বছর ধরে থাকছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে। সেখানকার ক্যান্টবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচইডি গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষক সহযোগী হিসেবেও কাজ করছেন। আর মেয়ে বারিরা রাঈদা বার্নসাইড হাইসৎ স্কুলে নাইন স্ট্যান্ডার্ডের শিক্ষার্থী। স্ত্রী মৌটুসী ও একমাত্র মেয়ে রাঈদা নিউজিল্যান্ডে থাকায় তিন চার মাস পরপরই নিউজিল্যান্ডে যেতেন ইকরাম হোসেন। পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এক দেড় মাস। ইকরাম হোসেন জানান, শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে ছুটির দিন না হওয়ায় সব ধরনের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। তার স্ত্রী মৌটুসী শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান।
আর কন্যা রাঈদা তখনো স্কুলে। বাসায় ইকরাম হোসেন ছিলেন একা। দুপুরে অবশ্য স্ত্রী ও কন্যার ফেরার কথা। সেজন্য নিজেই দুপুরের খাবার রান্নার প্রস্তুতি নেন। দুপুরে মসজিদে আল নূরে জুমার নামাজ আদায় করবেন বলেও মনস্থির করেছিলেন ইকরাম। রান্না শেষে নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। তবে ততক্ষণে জামাতের সময় শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে দুইটা নাগাদ ইকরামের মুঠোফোনে কল করেন নিউজিল্যান্ডে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম বিষয়টি জানান। তার মাধ্যমেই জানতে পারেন মসজিদে হামলার খবর।
কিছুটা যেন মুষড়ে পড়েন ইকরাম। স্ত্রী-কন্যার জন্য রান্না না করলে হয়তো তিনিও সেসময় মসজিদে থাকতেন। সন্ত্রাসীর গুলিতে তাকেও প্রাণ হারাতে হতো। মুহূর্তের মধ্যে কেমন যেন অচেতন হয়ে যায় তিনি। মনে পড়ে কন্যা রাঈদার হাসিমাখা মুখ। তিনি না থাকলে তাদের কি হতো? পরে বাসায় ঢুকে কিছুটা শান্ত করেন নিজেকে। টিভিতে দেখতে পান সন্ত্রাসী হামলার বিস্তারিত খবর। ইকরাম জানান, শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার আগের দিনও মসজিদে আল নূরে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নিউজিল্যান্ডে তার অন্যতম প্রিয় জায়গা ছিল আল নূর মসজিদ।
প্রতিদিন না হলেও সময় পেলেই সেখানে নামাজ আদায় করতেন ইকরাম হোসেন। নামাজ ছাড়াও মুসলিম ধর্মাবলম্বী ও বিশেষ করে বাঙালিরা মিলিত হতেন এখানে। তবে, এমন নৃশংস হামলায় কিছুটা ক্ষোভ আছে ইকরামের। কী করে একজন মানুষ অস্ত্র নিয়ে এভাবে মসজিদে ঢুকে গেল? পুলিশই বা কেন এত দেরি করে রেসপন্ড করলো? বাকি সবার মতো তার মনেও ঘুরেফিরে আসছে এসব প্রশ্ন। তবে, সব ছাপিয়ে একটা বড় প্রশ্ন তার মনে, পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে থাকার পরিবেশ কি তাহলে বিশ্বের কোথাও নেই? যেখানে অন্তত স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে নিশ্চিন্তে দিন যাপন করতে পারবেন ইকরাম হোসেন।

বাইরের পৃথিবীর কাছে এই নিউজিল্যান্ড তো ‘অচেনা’

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ‘নিরাপদ নিউজিল্যান্ড’ ধারণাটা বড় ধাক্কা খেয়েছে, প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থাই
যে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ গিয়েছিল, আর যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে, দুটির মধ্যে বিস্তর ফারাক। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা এক ধাক্কায় খেলার দুনিয়াসহ বাইরের পৃথিবীর কাছে বদলে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ভাবমূর্তি। এ হামলায় একটুর জন্য বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, এরপর থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পেলে বাংলাদেশ কোনো সফরে যাবে না। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইটও স্বীকার করেছেন, এই ঘটনায় নিরাপদ নিউজিল্যান্ড ধারণাটা একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে। আসলে নিরাপত্তাব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার পরই বাতিল করা হয়েছে এ শহরে হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ টেস্ট। এ ছাড়া হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এরই মধ্যে গতকাল নির্ধারিত ওটাগো হাইল্যান্ডারস ও ক্যান্টাবুরি ক্রুসেডারসের মধ্যকার সুপার রাগবি লিগের ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটের শেষ রাউন্ডের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী ক্যান্টারবুরি। তাদের এই সিদ্ধান্তে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা জিতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস। একই টুর্নামেন্টে অকল্যান্ডের হয়ে শেষ ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মার্টিন গাপটিল ও লকি ফার্গুসন। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর ডানেডিনে তাঁরা দলের সঙ্গে যাননি। অকল্যান্ডের হাইপারফরম্যান্স ম্যানেজার সাইমন ইনসলে বলছেন, ‘দুজনের কেউই ম্যাচ খেলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।’
এ তো গেল এ ঘটনার সাময়িক প্রভাবের কথা। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট মনে করছেন, এটার বড় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দেশটির ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলা আয়োজন ও সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে। নিউজিল্যান্ডকে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলেও মনে করেন হোয়াইট, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর বড়সড় প্রভাব পড়বে এ ঘটনার। আমার মনে হয় এই ঘটনার পর সব বদলে যাবে। নিউজিল্যান্ড নিরাপদ স্বর্গ, এই ধারণাটাই তো একেবারে উবে গেল এই ঘটনায়। আমাদের এখন খুবই খুবই সতর্ক থাকতে হবে।’
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় দীর্ঘদিন বড় কোনো দল পাকিস্তানে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সফরে যাচ্ছে না। এই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আইসিসির এটা ভেবে দেখা উচিত এবং এই সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ডেও সম্ভবত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ করা উচিত।’
এখনই এমন সিদ্ধান্ত আইসিসি বা এর সদস্য দেশগুলো নেবে কি না, সেটি দেখার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে এই দুঃসময়ে নিউজিল্যান্ডকে ব্রাত্য করে না দিয়ে বরং পাশে থাকার জন্য সবার কাছে অনুরোধ করেছেন দেশটির অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বাকি সবার মতো আমিও আসলে বুঝতে চেষ্টা করছি, ক্রাইস্টচার্চে কী হয়ে গেল! আমার দেশটার এখন আপনাদের সবার ভালোবাসা খুব দরকার। আমি আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিলাম ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহতদের প্রতি, তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, মুসলিম সম্প্রদায় ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিটি ভগ্নহৃদয় মানুষের প্রতি। চলুন আমরা সবাই একতাবদ্ধ হই।’

নায়িকা হলেও মানুষের জন্য কাজ করা যায় বলে মিমির বিশ্বাস by পরিতোষ পাল

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে নির্বাচনে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চমক দিলেও রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখতে গিয়ে মিমিকে প্রথম ক’দিনে বেশ লেজে গোবড়ে হতে হয়েছে। শুটিংয়ের শিডিউল নিয়ে নাস্তানাবুদ মিমিকে নির্বাচনের প্রচারে নামতেই কয়েকদিন সময় নিতে হয়েছে। রবিবার থেকেই তিনি তার কেন্দ্রে প্রচার শুরু করেছেন।
পরনে হলুদ রঙের সুতোর কাজ করা কুর্তি, সঙ্গে মানানসই সাদা রঙের ঢোলা পাজামা। কুর্তিতে লাগানো ঘাসফুল ব্যাচ। চোখে কালো রোদচশমা। ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক, কানে ছোট্ট দুল।  প্রথমদিনের পোশাকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ভোট প্রচারে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্টটা ঠিক কী হতে চলেছে। ভোট জয়ে টার্গেট নিয়ে প্রচারে নেমেও তিনি ভোট চাইছেন না।  নিজেকে 'মেয়ের মতো' বলে দাবি করে 'আশীর্বাদের আবদার' করেছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।
এদিকে নির্বচনী প্রচারের কড়া শিডিউলের জন্যপরিচালক বিরসা দাশগুপ্তর ছবি ‘বিবাহ অভিযান’ থেকে সরে দাঁড়াতে হযেছে। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল মিমির।
মার্চেই কথা ছিল সেই ছবির শুটিং শুরুর। কিন্তু ছবি থেকে বাদ পড়ায় মনে খেদ থাকলেও রাজনীতির পাঠ নিতে এখন তার চরম ব্যস্ততা। অভিজ্ঞ দলীয় নেতারাই এ ব্যাপারে তার সহায়। আসলে প্রার্থী হবার জন্য কোনও প্রস্তুতিই মিমির ছিল না। ব্যস্ততা ছিল অভিনয় নিয়েই। মিমি নিজেই জানিয়েছেন, নুসরত মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আমি একদমই তৈরি ছিলাম না। অবশ্য আগে একবার তাঁকে প্রার্থী করা  নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে উত্তরবঙ্গের মেয়ে মিমির ধারণা ছিল প্রার্থী করা হলে সেখান থেকেই তাকে প্রার্থী করা হবে। কিন্তু একেবারে কলকাতা শহরের বুকে যাদবপুরের মত শিক্ষিত ও উদ্বাস্তু অধ্যুষিত আসনে প্রার্থী হবার কথা মিমি স্বপ্নেও ভাবেননি। ফলে ঘোষণায় বেশ হতভম্ব হয়েছেন। পরে অবশ্য সামলে নিয়ে বলেছেন, আমার বাবা, ঠাকরুদা ও মামারা সবাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই রাজনীতি করতে তার অসুবিধা হবে না।
টলিউডের সহকর্মী অভিনেত্রী নুসরতের মত আত্মপ্রত্যয়ী না হলেও মিমি মনে করেন, মানুষকে ভালবেসে তাদের উপকারে এলে মানুষ নিশ্চই আমার পাশে থাকবেন। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর আমি তো কাজ পাগল মানুষ। দলের নির্দেশে কাজ করব। মিমি আরও বলেছেন, সিনেমা আমার আইডেনটিটি। অভিনয়ের জন্য, আমার কাজের জন্যই আজ এই সুযোগ আমার কাছে এসেছে। সিনেমা না করলে এটা সম্ভব হত না।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমির উত্থান টিভিতে গানের ওপারে ধারাবাহিক থেকে। সেটা ২০১০ সালে পুপে চরিত্রের জনপ্রিয়তাই মিমিকে নিয়ে এসেছিল রূপালি পর্দায়। ২০১২ সালে ’বাপি বাড়ি যা’ ছবি দিয়েই মিমি টলিউডে নায়িকার আসনটি পাকা করে নিয়েছিলেন। এর পর গত সাত বছরে বোঝে না সে বোঝে না, শুধু তোমারই জন্য, উমা, ভিলেন, ক্রিশক্রশ, পোস্তর মত অসংখ্য ব্যবসা সফল বাণিজ্যিক ছবি করেছেন। এ মাসেই মুক্তি পাওয়ার কথা তার মন জানে না ছবির।
মমতাদির টানেই তৃণমূল কংগ্রেসের সব অনুষ্ঠানেই দেখা গেছে মিমিকে। তবে রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাননি। আর তাই প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষনার পর মিমি বলেই ফেলেছিরেন, আমি তো কিছুই জানি না। এজন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে ট্রোলড হতে হয়েছে।
কেরিয়ারের মধ্যগগণে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে নেমে কি মনে হয়েছে? সে সম্পর্কে মিমি জানিয়েছেন, আমি সব কাজই মনপ্রাণ দিয়ে করি। জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু করতে চলেছি। সেখানে কোনও ঘাটতি রাখব না। এর পরেই মিমি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেচেন, নায়িকা হলে কি মানুষের জন্য কাজ করা যায় না? মিমি আরও বলেন, রাজনীতিতে অভিনয় জগতের মানুষ এর আগেও এসেছেন। অভিনেতা দেব যে সাংসদ হিসেবে ফাটিয়ে কাজ করছে, আবার অভিনয়ও করছে, মন দিয়ে প্রযোজনার কাজ করছে,  সেটাই মিমির কাছে অনুপ্রেরণা। আর সহকর্মী ও আরেক অভিনেত্রী প্রার্থী নুসরতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রচারে নামার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন। দু’জনে মিলে ঠিক করেছেন বসিরহাটে গিয়ে নুসরতের হয়ে মিমি এক সঙ্গে প্রচারে নামবেন। তেমনি যাদবপুরে মিমির সঙ্গে নুসরত প্রচারে নামবেন।
রাজনীতি না জানলেও যে মানুষের জন্য কাজ করা যায় সেই বিশ্বাস মিমির রয়েছে। আর যাদবপুর কেন্দ্রের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এই কেন্দ্রে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম জয়ী হয়েছিলেন। এর পর কৃষ্ণা বসু ও সুগত বসুর মত প্রার্থীরা এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। এবার মিমির বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী হয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। ওজনদার প্রার্থী হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। সুতরাং মিমিকে বেশ পরিশ্রম করতে হবে মাঠে নেমে। প্রথম দিনের মত আবেগে দেওয়াল লিখনে তুলি ধরলেই চলবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অবশ্য সকলের মত মিমিরও আশা, দিদির উন্নয়নের জোয়ারে তিনি ঠিক এগিয়ে যাবেন। আর ছোটবেলা থেকে ডানপিটে মিমি রাজনীতিতে নেমে কতটা ডানপিটে হয়ে উঠতে পারেন তা কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।