Friday, April 24, 2020

মক্কায় নবী করিম (সা.) এর নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা by আবদুল কাইয়ুম শেখ

মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ‘হরবে ফুজ্জার’-এ অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজের গোত্রের পক্ষে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মহানবী (সা.) এর যুদ্ধের এই স্তরটিই পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের ভিত্তি হয়ে যায় বহু প্রমাণাদির আলোকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, বিশ্বনবী (সা.) এর যুগে মক্কায় প্রচলিত অর্থে নিয়মতান্ত্রিক কোনো রাজত্বের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল না। এ জন্যই কোরাইশি গোত্রগুলোর ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল। এর বিপরীতে মহানবী (সা.) তার মক্কী জীবনেই একজন দূরদর্শী এবং আদর্শ নেতার ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এর কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা তুলে ধরছি :
---এক.--- হিলফুল ফুজুল প্রাগৈতিহাসিক জাহেলি যুগের ভারসাম্যহীনতা, গোলযোগ ও শৃঙ্খলাহীনতার স্মারক। এই চুক্তি মক্কায় রাজনৈতিক অনুপস্থিতি, অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক বিভ্রান্তির কারণেই আত্মপ্রকাশ করেছিল। হিলফুল ফুজুলের চুক্তিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মাত্র বিশ বছর বয়সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই চুক্তি আবদুল্লাহ ইবনে জাদআনের ঘরে সম্পাদিত হয়েছিল। এতে বনি হাশিম, বনি মুত্তালিব, বনি আসাদ জুহরা বিন কিলাব ও বনি তাইম ইবনে মুররাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমন একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে মাত্র বিশ বছর বয়সে বিশ্বনবী (সা.) এর অংশগ্রহণ আপন স্থানেই বিস্ময়কর! এরপর এটাও বাস্তব যে, মহানবী (সা.) সারাজীবন এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারায় গর্ববোধ করতেন! এ বিষয়টি মহানবী (সা.) এর মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, মানবপ্রেম, দুঃখী জনতার পাশে দাঁড়ানো, শান্তি ও নিরাপত্তাকামী হওয়ার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে!
যদি মক্কার পুণ্যভূমিতে রাজনৈতিক মেলবন্ধন শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হতো, তা হলে এই চুক্তি ও সংগঠনে আরবের সবগুলো গোত্রই অংশগ্রহণ করত। অথচ আমরা দেখতে পাই যে, এই চুক্তিতে শুধু পাঁচটি গোত্র অংশগ্রহণ করেছিল।
---দুই.--- হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ পরিলক্ষিত হয়েছিল। এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মৌলিকভাবেই আরবে কোনো রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বিদ্যমান ছিল না। প্রতিটি ব্যক্তি এবং প্রত্যেকটি গোত্র নিজ নিজ ডঙ্কা বাজাত এবং নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রকাশ করতে চাইত। কিন্তু মহানবী (সা.) এর বিদ্যমানতায় তাদের নিম্নতর মনে হচ্ছিল। মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শিরস্ত্রাণ শুধু মহানবী (সা.) এর শিরেই মানানসই বলে দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। তাই আল্লাহ তায়ালা হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের সময় মহানবী (সা.) এর বড়ত্ব ও মনোনীত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করে দেন। এ সময় গোত্রগুলোর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা মহানবী (সা.) এর ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে হৃষ্টচিত্তে সম্মত হয়ে যায়। আর এভাবেই মহানবী (সা.) সব সর্দারের উপস্থিতিতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করে অভ্যন্তরীণ অর্থে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন!
তিন. মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ‘হরবে ফুজ্জার’-এ অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজের গোত্রের পক্ষে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মহানবী (সা.) এর যুদ্ধের এই স্তরটিই পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের ভিত্তি হয়ে যায়।
----চার.--- এটাও মহানবী (সা.) এর নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্বই ছিল যার অনুমতি পেয়ে মক্কার নিপীড়িত, নির্যাতিত মুসলমানরা হাবশায় হিজরত করেন। এ সময় মহানবী (সা.) হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর কাছে যে পত্র লেখেন তার প্রতিটি অক্ষরই এ বিষয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এই পত্রের প্রেরক বহু গুণের আকর এক সুমহান সত্তা!
---পাঁচ.--- ইসলামের আহ্বায়ক ও দায়ী হিসেবে মহানবী (সা.) কে বহু ধৈর্যের ঘাঁটি অতিক্রম করতে হয়েছিল এবং মক্কার মুশরিকরা সবসময় সত্যের আওয়াজের বিরোধিতা করে গিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য আহলে ইয়াছরিব তথা মদিনাবাসীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এটাই ছিল ওই স্তর যার মাধ্যমে একদিকে এই সত্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, ইসলাম কোনো স্থান ও কালের ধর্ম নয়, বরং তা সর্বকালীন ও সর্বজনীন ধর্ম। আর এই পবিত্র দ্বীন ও ধর্মের প্রতি আহ্বানকারী ব্যক্তিও চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের বিশেষণে বিশেষিত। এ জন্যই মক্কাবাসীর ঔদ্ধত্য ও অহংকারের বিপরীতে মদিনাবাসী চিরন্তন এই ধর্মকে সাগ্রহচিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছিল এবং এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তারা মহানবী (সা.) এর সাহায্য ও সহযোগিতাকারী হয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন যুুগে মদিনার অধিবাসীরা বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসে নিরত ছিল। এখানে আরবের পৌত্তলিকরা থাকত। থাকত ইহুদিরাও। আর অল্প সংখ্যক খ্রিষ্টানও সেখানে বিদ্যমান ছিল। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুশরিকদের দুটি বড় গোত্র আওস ও খাযরাজের যুবকদের বিশ্বনবী (সা.) এর সাহায্যকারী আনসার বানিয়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে যখন আকাবার বাইআত সংঘটিত হয়েছিল তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মদিনার পরিবেশে মৌলিক পরিবর্তনের ভিত্তি সূচিত হয়ে গিয়েছিল। এভাবে মহানবী (সা.) এর নেতৃত্বের আলো অধিক পরিমাণে উজ্জ্বল হয়ে দীপ্তি বিকিরণ করছিল।
এসব অবস্থা এবং প্রতিভার স্ফুরণ ও বিচক্ষণতা এ বিষয়ের স্পষ্ট প্রমাণ যে, যখন আল্লাহ তায়ালা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে সর্বশেষ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন তখন কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য তার পবিত্র সত্তাকে হেদায়েত ও সৌভাগ্যের আদর্শ বানিয়েছেন। আর কেয়ামত পর্যন্ত সময়ে মানুষ ও মানবতার জন্য প্রতিটি যুগ ও সভ্যতার কল্যাণে সব ধরনের দিকনির্দেশনার জন্য তাকেই আলোর মিনার সাব্যস্ত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) এর এই মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বই সামনে অগ্রসর হয়ে মদিনা শরিফে সর্বপ্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হয়ে গিয়েছিল।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া দারুল উলুম নূরিয়া, গুলশান ঢাকা

গরমে সবজি খান বেশি করে

এই গরমে শরীরের জন্য বেশি প্রয়োজন পানি। শুধু পানি খেয়ে পানি শূন্যতা পূরণ করা কঠিন। তাই দরকার পরিপূরক খাবার। যাতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়। এ ক্ষেত্রে সবজি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সবজি বলতে পানিপূর্ণ সবজি। যেমন মিষ্টিকুমড়া, পটল, ঝিঙা, ঢেঁড়স, ধুন্ধল, শশার মতো সবজি এইসময়ে পানির বাড়তি চাহিদা পূরণ করবে। জেনে নেই এইসব সবজির পুষ্টি গুণ-
মিষ্টিকুমড়ায় রয়েছে পটাশিয়াম ও ফাইবার। পাশাপাশি পানি রয়েছে ৭০ শতাংশ। পটাশিয়াম ও ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়। হজমের যেকোনো সংকটে মিষ্টিকুমড়া হতে পারে আপনার সহায়ক খাদ্য। গরমে পানি শূন্যতায় হজমে গণ্ডগোল হতেই থাকে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে এই সমস্যা দূর হবে।
পেঁপে আরেকটি পানি পূর্ণ সবজি। শুধু পানি নয় হজমের গণ্ডগোল কমাতে পেঁপের জুড়ি নেই। এর মধ্যে থাকা পেপিন অ্যানজাইম হজমে সহায়তা করে।
শশায় পানি রয়েছে ৯৬ শতাংশ। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় দুটি শশা রাখলে নিশ্চিতভাবেই পানির অভাব হবে না আপনার।
ঝিঙায় রয়েছে ভিটামিন সি এবং এ। নিয়মিত ঝিঙা খেলে  শরীরের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় পরিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে। এতেও প্রায় ৭০ শতাংশ পানি আছে। তাই এই সময় ঝিঙে পোস্ত খাওয়ার চল রয়েছে।
ঢেঁড়সের হিমোগ্লোবিন, আয়রন ও ভিটামিন কে দেহে রক্ত জমাট সমস্যা রোধ করে, দেহে প্রয়োজনীয় লাল প্লেটলেট তৈরি করে এবং দেহের দুর্বলতা রোধ করে থাকে। তাই রক্তশূন্যতার সমস্যায় বেশি করে ঢেঁড়স খাওয়া ভালো। ঢেঁড়স পানি শূন্যতাও দূর করে।
করলা স্বাদে তিতা হলেও সবজির মধ্যে উপকারিতায় শীর্ষে। এতে রয়েছে আয়রন।  পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমাণ পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন। এছাড়া রয়েছে ভিটামিন সি।

উজ্জ্বল ত্বকের প্রাকৃতিক যত্ন by আনিকা আলম

সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাকের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি এসব ফেসপ্যাকে নেই কোনও ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। পাশাপাশি ত্বক সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পানি পানও জরুরি।
  • *১ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও প্রয়োজন মতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • *চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। ধুয়ে ফেলুন কুসুম গরম পানি দিয়ে।
  • *১ টেবিল চামচ করে চালের আটা, চন্দন গুঁড়া ও বেসন নিন। আধা চামচ গুঁড়া দুধ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি ৫ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
  • *সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। কিছুক্ষণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
  • *১ টেবিল চামচ বেসন, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ তরল দুধ ও আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
  • *১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল, ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। 
  • *২ চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চা চামচ টমেটোর রস ও আধা চা চামচ চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত।