Thursday, March 10, 2016

এখন হাজার হাজার কোটি টাকা কারা পাচার করছে? by তামান্না মোমিন খান

বাংলাদেশে বিকল্প রাজনীতির উদ্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বেই রাজনীতি হয়ে গেছে টাকার খেলা। রাজনীতিকে টাকার খেলা থেকে মুক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতার আগে আমাদের সম্পদ নিয়ে যেতো পশ্চিম পাকিস্তানিরা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও আজও একই অবস্থা। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। এগুলো কার টাকা? আয় করছে কে? অর্জন করছে কে? আর পাচার করছে কে? পশ্চিমাদের কাছ থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি, যখন মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, এই ব্যাটারা আমাদের অর্থ নিয়ে আমাদেরকেই শোষণ করছে। এখন যারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে, তাদের নামগুলো বের করতে হবে। এসব পাচারকারী রাজনীতিতে কী প্রভাব রাখছে। কারা সমর্থন করছে। কাদের সমর্থন নিয়ে তারা লাফালাফি করছে যে, দেখ আমরা কত শক্তিশালী। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে কেমন গণতন্ত্র চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, বাঙালি ঠেকে শিখেছে। গণতন্ত্র যে আমরা বুঝি, সেটা দেশ স্বাধীন  করে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করার জন্য সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েছি। অতএব কেউ যদি মনে করেন আমরা গণতন্ত্র বুঝি না, ভোটের মূল্য বুঝি না, আমাদের গণতন্ত্র শিশু গণতন্ত্র- এটা আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের গণতন্ত্র শিশু গণতন্ত্র হতে পারে না। সত্যিকার অর্থে আমি বিশ্বাস করি, এই দেশ সবার। এই দেশ কোনো ব্যক্তির কোনো দলের বা কোনো গোষ্ঠীর না। গণতন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে ঐক্যমত হয়ে কথা বলতে হবে। আমি জনগণের একজন হয়ে বলতে চাই জনগণকে দেশের মালিক হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ওপর নির্ভর করে আমাদের সব অন্ধকার দূর করতে হবে। আজকে যে বিষয়গুলো নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। ছাত্ররা নীরব কেন? ছাত্ররা শিক্ষাখাত থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে সক্রিয় হয়েছিল তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়া গেছে। তরুণ সমাজকে এরশাদ ধ্বংস করেছিল। তারপরও তো এরশাদকে ক্ষমতা থেকে বের হতে হয়েছে। এখনও তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে এজন্য তরুণ সমাজের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। যারা বলছে, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ব আমরা। জনগণকে বঞ্চিত করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পদক্ষেপ হতে পারে না। এগুলো থেকে মুক্ত হতে হবে। এজন্য সংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, তাদের কলমের জোর আছে। বর্তমান গণমাধ্যম প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতেও গণমাধ্যম সাহসের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাঙালি মাথা নত করেনি। অন্যায়কারীরা মনে করে বলপ্রয়োগ করে অর্থ অস্ত্র দিয়ে ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু বাঙালিদের উল্টো পথে কেউ কোনো দিন নিতে পারেনি। এ কারণে আমি একশ’ ভাগ আশাবাদী, কেউ যদি চেষ্টা করেও বেশি দিন অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এর আগে বিএনপি করে দেখেনি? ‘৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটা তো প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর পরে মনে তো হয়েছিল, ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারি নির্বাচন হলে তারেক জিয়া প্রধান মন্ত্রী হয়ে যাবে। কিন্তু কই হলো? ২০০৮ সালে নির্বাচনে মানুষ আওয়ামী লীগকে ৫ বছরের জন্য জনগণ ম্যান্ডেট দিল। তারপর এখন কী হচ্ছে? ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে উপজেলা পৌরসভা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিতর্কিত- এটা আমরা বলছি। কিন্তু যারা ক্ষমতায়  আছে, তারা তো বলছে, সব ভালো ভালো। এই যে একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে দেশে- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে ৬২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে আমি আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে এসেছি। কারণ, আমার আশঙ্কা ছিল। আমি দেখলাম ছাত্রদের হাতে অস্ত্র। অবসরে রায় লেখা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একটাই আবেদন ঐক্যমতের ভিত্তিতে এটি সমাধান করতে হবে। আমি এ বিতর্কে কোনো বাতাস দিতে চাই না।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মন্ত্রী হতে চান সুচি

সাংবিধানিক বাধায় প্রেসিডেন্ট না হতে পেরে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন ন্ত্রেীর পদ নিতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি। এই পদ নিয়ে তিনিই প্রেসিডেন্টকে পরিচালিত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দেশটির পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করা হবে। এনএলডির সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট টিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট হবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। খবর সিডনি িের্নং হেরাল্ডের। গত ৮ নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় পায় সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। জান্তা সরকার প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী বিদেশী স্বামী-সন্তান থাকায় প্রেসিডেন্ট পদের অযোগ্য সুচি। তাই দল থেকে একজন ‘প্রক্সি’ প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিবেন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী মোট তিনজন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন। তারা হচ্ছেন- পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকে একজন, নিম্নকক্ষ থেকে একজন ও সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত প্রতিনিধিদের ধ্যে থেকে একজন। এরপর নির্বাচিত-সংরক্ষিত সব এমপির ভোটে বিজয়ী ব্যক্তিই হবেন প্রেসিডেন্ট।
বাকি দু’জন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকবেন। তবে পার্লামেন্টে এনএলডির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সুচির েেনানীত ব্যক্তিই প্রেসিডেন্ট হবেন তা অনেকটা নিশ্চিত। জানা গেছে, এনএলডির প্রস্তাবিত সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র সদস্য ও সুচির ব্যক্তিগত চালাক হিসেবে পরিচিত টিন কিয়াও। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট ও সুচি পরিচালিত দাতব্য সংস্থার প্রধান নির্বাহী। ৭০ বছর বয়সী টিন কিয়াওয়ের বাবা দেশের একজন খ্যাতনামা কবি। তার শ্বশুর উ লিয়েন সুচির খুব অনুগত ও এনএলডির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। টিন কিয়াওয়ের স্ত্রী সু সু লিয়েন এনএলডির এমপি। তবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে পারিবারিক ডাক্তার টিন মিও উইনের নামও আলোচিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই সুচি বলে আসছেন, প্রেসিডেন্ট যেই হোক না কেন তিনি তার ‘উপরে’ থাকবেন। নির্বাচনের পর সুচি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেন-দরবার চালিয়ে গেছেন। কিন্তু সংবিধানের বিতর্কিত ৫৯ (এফ) ধারা সংশোধন বা বাতিল করতে সেনাবাহিনীর নে গলাতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রক্সি প্রেসিডেন্টই ভরসা। এখন প্রেসিডেন্ট র্কাযালয়ের ন্ত্রেী হয়ে সেই আশা পূরণ করতে যাচ্ছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সিনিয়র মন্ত্রী হলে সুচি সেনানিয়ন্ত্রিত জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে এনএলডির কোনো কোনো সূত্র সুচির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দিন শুরু না হতেই এলো রাত

দিন শুরু না হতেই নেমে এলো রাত- ভৌতিক ব্যাপার নয়, কারণটা প্রাকৃতিক। ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় বুধবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশকিছু অঞ্চলেও এদিন সূর্যগ্রহণের ‘ছিঁটেফোঁটা’ পড়েছে। এ সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকে ইবাদত-বন্দেগি করেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১৯ মিনিট (গ্রিনিচ সময় ২৩টা ১৯ মিনিট) থেকে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে যেতে শুরু করে চাঁদ। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন দেশটির পশ্চিম অংশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দেখা মেলে। মুহূর্তেই চারপাশে নেমে এলো রাতের অন্ধকার। বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশের বাসিন্দারাও আজ আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। ধরণীর বুকে পূর্ণ ও আংশিক সূর্যগ্রহণের এমন সৌন্দর্য দেখার জন্য বিভিন্ন দেশের উৎসাহী মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দেশটির সুমাত্রা, বোর্নিও ও সুলাওয়েসিসহ কয়েকটি দ্বীপে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়।
আর সে কারণে দিনের শুরুতেই এসব এলাকায় রাত নেমে আসে। বিশেষ করে মাবা, মালুকু দ্বীপগুলোতে প্রায় তিন মিনিট পর্যন্ত অন্ধকার অবস্থা বিরাজ করে। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় একটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে সূর্যগ্রহণ। এছাড়া অন্য এলাকাগুলোতে প্রায় দুই মিনিট পর্যন্ত অন্ধকার ছিল। ইন্দোনেশিয়ার বেলিতুং প্রদেশের একটি সমুদ্র সৈকতে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষের মন্তব্যে ঘুরে ফিরে আসছিল একই কথা। তারা বলেন, এটা ‘জাদুকরী’ অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ চলে যায় ছাদসহ উঁচু স্থানে। চোখে বিশেষ ধরনের চশমা পরে তারা সূর্যগ্রহণ দেখে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে পর্যটকদের ঢল নামে। এ উপলক্ষে তাই ছিল বিশেষ আয়োজন। ছিল মজার দৌড় ও ড্রাগন নৌকার প্রতিযোগিতাসহ নানা উৎসব। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্দোনেশিয়ার বেলিতুং দ্বীপে আসেন ৫২ বছর বয়সী পর্যটক ডেনিয়েল অরেঞ্জ। তিনি বললেন, ‘এটা অসাধারণ। সব মিলিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যাপারটা ছিল সুন্দর। এখানে অনেকে জড়ো হয়েছিলেন। যখন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হল, তখন সবাই উল্লাস করে উঠল।’

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য রাজনৈতিক স্পেস প্রয়োজন

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য রাজনৈতিক স্পেস দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে দলগুলোকে প্রার্থী দিতে হবে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটা হতে হবে অংশগ্রহণমূলক, প্রতিনিধিত্বশীল। তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সহিংসতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখারও আহ্বান জানান।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সোমবার যুগান্তরকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেয়া এ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, জিএসপি ইস্যু, পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক ইস্যু, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, যুদ্ধাপরাধের বিচার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা অভিমত তুলে ধরেন। বিস্তারিত পড়ুন বাতায়ন পাতায়।

ফুটবলের দেশ তামিমের প্রিয় প্রতিপক্ষ

এশিয়া কাপে দুই ম্যাচে মাত্র ২০ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ এবং ভারতের বিপক্ষে ১৩ রান। টি ২০ বিশ্বকাপে শুরুতেই দারুণ একটি ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন এই বাঁ-হাতি বাংলাদেশী ওপেনার। ফুটবলের দেশ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০১২তে দুটি ম্যাচ খেলা তামিম ডাচদের প্রিয় প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছেন। টি ২০তে তামিমের চার হাফ সেঞ্চুরির তিনটিই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ক্ষুদে ফরম্যাটে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১২ সালে। অপরাজিত ৮৮। বুধবার ধর্মশালায় ২০১৬ টি ২০ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তামিম। ক্যরিয়ারে ৪৭ টি ২০ ম্যাচে তামিমের ব্যাটিং গড় ২১.৯০। অথচ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় ২০২.০০। তামিম ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান ভালো করতে পারেননি কাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। তামিম শুরুটা করেছিলেন ধীরগতিতে। প্রথম ১০ বলে করেন ৭ রান। সময়ের সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অন্যপাশে কেউ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশের দুটি টি ২০ ম্যাচই খেলেছেন তামিম। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরে প্রথম ম্যাচে ৬৯* এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৫০ রান করেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ডাচদের বিপক্ষে আরও একটি দারুণ ইনিংস খেললেন। তামিম ইকবাল ফিফটিতে পৌঁছান তিন চার ও দুই ছয়ে ৩৬ বলে। ইনিংস শেষ করেন ৫৮ বলে ৮৩*। ছন্দময় ইনিংসে ছয়টি চার ও তিনটি ছয়। তার ৮৩ রানেই ডাচদের বিপক্ষে ১৫৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। এই উইকেটে ব্যাট করা সহজ ছিল না বলে জানান তামিম। ইনিংস শেষে তিনি বলেন, ‘ব্যাটে-বলে ঠিকমতো হচ্ছিল না। বল একটু থেমে আসছিল। তবে ১৫৩ রান এখানে চ্যালেঞ্জিং স্কোর। আমরা শুরুতেই কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম। আরও কিছু রান হলে ভালো হতো।’ শ্রীলংকার সাবেক ক্রিকেটার ও ম্যাচের ধারাভাষ্যকার রাসেল আরনল্ড তামিমের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিখুঁত ইনিংস খেলেছেন তামিম। চার-ছয়ের পাশাপাশি সিঙ্গেলও নিয়েছেন।’ টি ২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের শীর্ষ তিন ইনিংসের মধ্যে তামিম ইকবালেরই দুটি। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা তার ৮৮ রানের ইনিংস বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিব আল হাসানের। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে তিনি করেছিলেন ৮৪। কাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮৩* রানের ইনিংসটি খেললেন তামিম। কয়েকটি ঘরোয়া টি ২০ লীগ ম্যাচ খেলার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। কোচের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করেছি। উইকেট ব্যাট করার জন্য সহজ ছিল না। ডাচ বোলাররা ভালো লাইন-লেন্থে বল করেছে। আমরা ১৫ রান কম করেছি। এখানে খেলাটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শ্বাস নিতে কষ্ট হয় -তামিম ইকবাল ম্যান অব দ্য ম্যাচ

জয় হো প্রিয়াংকা

এবারের ৮৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আসরের লালগালিচা আলোকিত করে রেখেছিলেন বলিউড কুইন প্রিয়াংকা। লেবাননের ফ্যাশন ডিজাইনার জুহেইর মুরাদের নকশা করা সাদা গাউন গায়ে জড়ানো প্রিয়াংকাকেই নাকি এবারের অস্কার আয়োজনে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। ভারি ঠোঁটের হাসি আর সাদা গাউনে আবৃত এই সুন্দরীর কাছে এবারের অস্কার আসরের প্রায় সব রূপসীরাই যেন ম্লান ছিল। তাই অনলাইন-অফলাইন সবজুড়েই ছিল প্রিয়াংকা বন্দনা। তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পদকজয়ী নীতা লুল্লা জানিয়েছেন, ‘শুভ কামনা প্রিয়াংকা। দীর্ঘজীবী হও। অসাধারণ রূপ দেখলাম তোমার মাঝে।’ এছাড়াও বলিউডের নাম্বার ওয়ান ডিজাইনার মনীষ মালহোত্রা টুইটারে লিখেছেন, ‘প্রিয়াংকাকে দেখে আমার চোখ একেবারে ধাঁধিয়ে গেছে। প্রিয়াংকা সৌন্দর্যের জয় হোক।’ এছাড়াও প্রশংসাকারীদের সারিতে রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা কমল হাসান, অনুপম খের, সোফি চৌধুরীসহ বিখ্যাত সব অভিনেতা। সব মিলিয়ে নিজের ঝুলিতে অস্কার না উঠলেও অন্যের হাতে অস্কার তুলে দিয়েই আসর মাতিয়েছেন বলিউড এ গ্লামার গার্ল। অস্কারের রেশ কাটতে না কাটতেই মুক্তি পেয়েছে তার বিপরীত মূর্তির ছবি ‘জয় গঙ্গাজল’। প্রকাশ ঝা’র গল্প, পরিচালনা এবং প্রযোজনায় ছবিটিতে দুর্দান্ত সাহসী এবং সৎ এক নারী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়াংকা। ট্রেইলারেই তার আগুনঝরা মূর্তি দেখে সমালোচকরা আগেই বলে দিয়েছেন একটি সফল নারী প্রধান সিনেমা জমা হচ্ছে প্রিয়াংকার ঝুলিতে। মূলত মারদাঙ্গা অ্যাকশন আর থ্রিলারে ভরপুর ছবি হচ্ছে ‘জয় গঙ্গাজল’।
ফলে প্রিয়াংকা ভক্তরা এতদিন প্রিয় এ তারকাকে যে হট এবং সেক্স সিম্বল আবেদনময়ী হিসেবে দেখে এসেছেন সেটি আর এ ছবিতে পাবেন না। ইদানীং আবার শোনা যাচ্ছে, হলিউডের ‘বেওয়াচ’ ছবিতেও নাকি অভিনয় করছেন তিনি। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি সমুদ্র সৈকতে এর দৃশ্যধারণ হয়েছে বলেও খবর ছড়িয়েছে। ইনস্টাগ্রামে বেওয়াচের দৃশ্যধারণের ফাঁকে তোলা কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিতে দেখা গেছে, সাদা পোশাকে হাতে ফোন ও ডায়েরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন প্রিয়াংকা। অন্য একটি ছবিতে আছে বালতি, জুতা, ব্যাগ ও উপহারসামগ্রী। আর এগুলোতেই ‘বেওয়াচ’ শব্দটি লেখা রয়েছে স্পষ্ট অক্ষরে। এছাড়াও ছবির ক্যাপশনেও প্রিয়াংকা লিখেছেন, ‘সমুদ্র সৈকতের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে এখানে। প্রথম দিনের শুটিং করছি। দারুণ লাগছে। এখানকার প্রত্যেকে খুব ভালো।’ ছবিটির গল্প একদল দক্ষ লাইফ গার্ডকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। প্রিয় সমুদ্র সৈকতকে বাঁচাতে তাদের যোগ দিতে হয় এক সাবেক তরুণ অলিম্পিয়ানের সঙ্গে। কিন্তু তাদের বিরোধী হয়ে ওঠে ভিক্টোরিয়ান ডিডস। জানা গেছে, এই বিপজ্জনক ভিলেনের চরিত্রেই অভিনয় করছেন প্রিয়াংকা। সব মিলিয়ে ২০১৬ শুরুর ভাগ্যটা বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছে প্রিয়াংকার। এখন দেখা যাক জয় গঙ্গাজল প্রিয়াংকাকে কতটা জয় এনে দিতে পারে।

হাসিনের জয়যাত্রা

মিডিয়াতে কাজ করলেও পরিবারকে সবসময়ই প্রাধান্য দিয়ে আসছেন হাসিন। যে কারণে অন্য তারকাদের মতো মাসজুড়ে তার কাজের ব্যস্ততা থাকে না। নিজের সংসার, শ্বশুরবাড়ি, বাবার বাড়ি এবং বন্ধু-বান্ধবদের সময় দেয়ার পর কাজ করেন। সময়টা একেবারে কম হলেও অভিনয়ই কিন্তু তার ধ্যান-জ্ঞান। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও যে পুরো সম্মতি আছে তা কিন্তু নয়। তবুও হাসিন কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মানটা ধরে রাখাই তার লক্ষ্য। একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে এরই মধ্যে বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছে নির্মাতা, দর্শকের কাছে। কিছুদিন আগেও ভিট তারকা হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ছিল তার। কিন্তু এখন নামের আগে অভিনেত্রী বিশেষণটি অর্জন করে নিয়েছেন তিনি। তার ভুবনমোহিনী হাসি যে কোনো দর্শককে মুহূর্তে মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়ে নিতে সক্ষম। হয়তো হাসি দিয়েই তিনি দর্শক এবং বিচারকের মন জয় করেছিলেন বলেই তিনি হয়েছিলেন ভিট তারকা চ্যাম্পিয়ন। রাজশাহীর মেয়ে হাসিন। বাবা মো. গোলাম নবী ও মা মুসতারি বেগম দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে ছোট তিনি। তাই ছোটবেলা থেকে আদরে আদরেই বেড়ে উঠেছেন। ২০১১ সালের ভিট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রথমই হাসিন অভিনয় করেন তাহের শিপনের পরিচালনায় ‘আমাদের ছোট নদী’ নাটকে। এ নাটকে তিনি সুপার মডেল নোবেলের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর তিনি অভিনয় করেন সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘নরম রোদেও ওম’ নাটকে। এতে তিনি অভিনয় করেছিলেন মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক ছিল রাজীবুল ইসলাম রাজীবের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’।
এরপর আরও অনেক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন হাসিন। সম্প্রতি শেষ হয়েছে বাংলাভিশনে তার অভিনীত মোশাররফ করিম প্রযোজিত ধারাবাহিক ‘তিনি আসবেন’ এবং চ্যানেল আইতে তাহের শিপনের ‘ভৈরব’। বর্তমানে প্রচার চলছে চ্যানেল নাইনে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’, চ্যানেল আইতে কাফী বীরের ‘মেঘের ওপারে’ এবং এটিএন বাংলায় ‘সাহেব বাবুর বৈঠকখানা’। কিছুদিন আগে হাসিনের প্রিয় মানুষ তার নানি পরলোকগমন করেছেন। এই নিয়ে বেশ মন খারাপ ছিল তার। পাশাপাশি সাংসারিক ব্যস্ততার কারণে বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ইয়ামিনের নির্দেশনায় ‘এখনো রাত বাকী’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন হাসিন। অভিনয়ের আগে বিজ্ঞাপনেই কাজ করেছেন। এরই মধ্যে তার অভিনীত বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে। প্রথম তিনি মডেল হন অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় ‘নিহার ন্যাচারাল হেয়ার অয়েল’-এ। এরপর তিনি গাজী শুভ্রর পরিচালনায় ‘মেরিল রিভাইভ ট্যালকম পাউডার’ ও পিপলু খানের নির্দেশনায় ‘রূপচাঁদা গুঁড়া মশলা’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রতি রয়েছে তার ব্যাপক আগ্রহ। নিয়মিত কাজ করার প্রস্তাবও পাচ্ছেন। কিন্তু ভালো গল্প, পছন্দসই কো-আর্টিস্ট এবং একজন গুণী পরিচালক- এই তিনের সমন্বয় হলেই তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। হয়তো সেদিনও আর খুব বেশি দূরে নেই। চলতে চলতেই রুপালি পর্দায় দেখা মিলবে হাসিনের। ২০১২ সালের ৬ জুলাই মারুফুল ইসলাম ঝলকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হাসিন। নিজের জন্মদিন ৭ এপ্রিল হলেও স্বামীর জন্মদিন ২২ ডিসেম্বরই যেন তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের। এই দিনটিতে স্বামী ঝলককে সারপ্রাইজ দেয়ার মাঝেই যেন নিজের জীবনে এক অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পান।

বিশ্বজয়ী বিবার

শুধু পপগায়ক হিসেবেই নয়, বিশ্বের কনিষ্ঠ ধনকুবের তারকার মধ্যেও তার নাম উপরের সারিতে। জনপ্রিয়তার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দিনকে দিন তার আয়ের গ্রাফটাও বেড়েছে আনুপাতিক হারে। ছয় বছর আগে ২০১০ সালেই তার আয় ছিল ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী তার আয়ের হিসাব। এ আয় কখনও আর নিুমুখী হয়নি। গানের পাশাপাশি নিজের নামে ব্র্যান্ডিং হওয়া পারফিউমও আজ দুনিয়াজুড়ে চাহিদার তুঙ্গে রয়েছে। তবে এত এত খ্যাতির শিখরে থাকা জাস্টিন ডিউ বিবারের শুরুটা কিন্তু আট-দশটা শিল্পীর মতোই সাদামাটা ছিল। ২০০৮ সালে নিজে গান তৈরি করে ইউটিউবে রিলিজের পরপরই তারকা বনে যান কানাডিয়ান এ গায়ক। তারপরই যেন ভাগ্য খুলতে থাকে তার। নজরে পড়েন মডেল সুপারস্টার স্কুটার ব্রাউনের। তারপরই রেমন্ড ব্রাউন মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর ২০০৯ সালে বিবারের একক গান ‘ওয়ান টাইম’ বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয়। গানটি কানাডায় শীর্ষস্থান দখল করার পাশাপাশি জনপ্রিয়তা পায় অন্যান্য দেশেও। এর পর ২০০৯ সালের ১৭ নভেম্বরে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘মাই ওয়ার্ল্ড’।
প্রকাশের পরই বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিবারের। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালবামটি প্লাটিনাম সনদে ভূষিত হয়। বলা হয়ে থাকে বিশ্বে বিবারই প্রথম ভাগ্যবান শিল্পী যার প্রথম অ্যালবামের সাতটি গানই হিটের তালিকায় নাম লেখায়। অ্যালবামের বেবি গানটির সাফল্য তো এখনও ইতিহাস হয়ে রয়েছে। গানটির মিউজিক ভিডিও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সর্বাধিক প্রদর্শিত, আলোচিত এবং ইউটিউবে দর্শকদের পছন্দের ভিডিও হিসেবে বিবেচিত। তারপর বিবারের পরবর্তী অ্যালবাম ‘নেভার সে নেভার দ্য রিমিংস’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি। গানের জন্য গত কয়েক বছরে একাধিক পুরস্কার এসেছে বিবারের ঝুলিতে। ২০১০ সালে আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস বিবারকে বর্ষসেরা শিল্পীর পুরস্কারে ভূষিত করে। তারপর থেকেই শুরু হয় তার পুরস্কার পাওয়ার সূচনা। গ্র্যামির ৫৩তম আসরে শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী ও বেস্ট পপ ভোকাল -এর জন্য মনোনীত হন। তবে সেবার পুরস্কার না পেলেও দমে যাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড নিজের দখলে এনেছেন বিবার। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের ৫৮তম আসরে লস অ্যাঞ্জেলসের স্টপলস সেন্টারে ঘোষণা করা হয় ২১ বছর বয়সী জাস্টিন বিবারের নাম। গ্র্যামি পাওয়ার পর বিবারকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী যেন আলোচনার শেষ নেই। এ পুরস্কার ভূষিত হওয়ার পর সাবেক প্রেমিকা সেলেনা গোমেজও শুভেচ্ছা জানান তাকে। সেলেনা বলেন, ‘বিবারের এই সাফল্যে আমি অনেক খুশি হয়েছি। তার একজন অজানা ভক্তও আমি। আসলে এই পুরস্কারটি তার প্রাপ্য ছিল। শুভ কামনা বিবার। আরও অনেক দূর এগিয়ে যাও তুমি। হয়তো একই মঞ্চে আবারও দেখা হয়ে যাবে।’ সাবেক প্রেমিকার শুভেচ্ছার যথাযথ জবাবও দিয়েছেন বিবার। জানিয়েছেন, ‘সেলেনা তুমিও এমন একটি পুরস্কারের যোগ্য। আশা করি, আগামী আসরে তোমার প্রতি আমিও এমন শুভ কামনা জানাতে পারব।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন না মাইকেল ব্লুমবার্গ

মাইকেল ব্লুমবার্গ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের সাবেক মেয়র ও শতকোটিপতি ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গ জানিয়েছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন না। সীমিত আকারে জয় সম্ভব হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য যে পরিমাণ সমর্থন প্রয়োজন, তাঁর পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া ব্লুমবার্গ মনে করেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সবচেয়ে লাভবান হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ব্লুমবার্গভিউজ ওয়েবসাইটে এক নিবন্ধে একসময়ের জনপ্রিয় মেয়র ব্লুমবার্গ জানান, কয়েক মাস ধরে অনেকেই তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের যোগ্যতার বিষয়ে সন্দেহের কারণেই তিনিও নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে অনুসন্ধান চালান। কিন্তু এখন নিশ্চিত যে, তিনি প্রার্থী হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প অথবা টেড ক্রুজ—এই দুই রিপাবলিকান প্রার্থীর একজন হোয়াইট হাউস দখল করবেন। তিনি উভয়েরই প্রার্থিতার বিরোধী। ব্লুমবার্গ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। ‘এর আগে তাঁর মতো বিভেদমূলক ও ক্ষতিকর নির্বাচনী প্রচারণা আর কেউ করেছেন বলে আমার জানা নেই’, বলেছেন এই সাবেক মেয়র। মাইকেল ব্লুমবার্গের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই প্রার্থী—হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্সের জন্য সুখবর। ডেমোক্রেটিক পার্টির একসময়ের সমর্থক,
সামাজিক প্রশ্নে উদারনৈতিক হিসেবে পরিচিত ব্লুমবার্গ নির্বাচনে অংশ নিলে অনেক স্বতন্ত্র ভোট তাঁর বাক্সেই পড়ত। ট্রাম্পকে আটকানোর নতুন পরিকল্পনা: এ পর্যন্ত মোট ১০টি অঙ্গরাজ্যে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পই শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মনোনীত হতে পারেন, সেই সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে ঠেকানোর নানা পথ খোঁজা শুরু করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি খোলামেলাভাবেই বলেছেন, জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে ট্রাম্পকে ঠেকানো সম্ভব। এ জন্য কনভেনশন যদি বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবুও দলকে সেই ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে। কারণ, তা না হলে শুধু নভেম্বরের নির্বাচনে হোয়াইট হাউস নয়, সিনেটেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ হারাতে হবে। রিপাবলিকান নেতৃত্ব মনে করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্য দুই প্রার্থী—সিনেটর রুবিও ও সিনেটর ক্রুজের সাঁড়াশি আক্রমণের ফল পাওয়া শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহের নির্বাচনে ট্রাম্প ক্রুজের কাছে দুটি রাজ্যে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে রুবিও মিনেসোটা ছাড়াও মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড পুয়ের্তোরিকোতে জয় পেয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিজয় যে অনিবার্য, সে বিশ্বাসে চিড় ধরতে শুরু করেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, পুরো রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্ট ও দাতারা যদি আগামী দুই-তিন সপ্তাহ তাঁদের সব মনোযোগ ট্রাম্পের দুর্বল দিকগুলোর ওপর নিক্ষেপ করেন, তা হলে পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচনে ট্রাম্প বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারেন। এই রণকৌশলের ভিত্তিতে রিপাবলিকান ‘সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো’ ইতিমধ্যে টিভি ও বেতারে ট্রাম্পবিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে।

এখনো খুঁজে পাওয়ার আশা কর্মকর্তাদের

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের বিমান এমএইচ৩৭০ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পরও এটি খুঁজে পেতে আশাবাদী মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান অনুসন্ধান কর্মকর্তা কোক সু চুন এক বিবৃতিতে বলেন, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিমানটি খুঁজতে আটটি সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চলছে। এযাবৎ প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এটি খুঁজতে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি দল দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান করছে। এ পর্যন্ত বিমানটির কেবল একটি টুকরা পাওয়া গেছে ফ্রান্সের শাসনাধীন রিইউনিয়ন দ্বীপে। মালয়েশিয়ার নেতৃত্বে ওই অনুসন্ধান দল কাজ করছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। এই অনুসন্ধানে ১৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে। অনুসন্ধানে থাকা মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন যে এলাকায় অনুসন্ধান চলছে, সে কাজ এ বছরের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেছেন, তিনি এখনো আশাবাদী যে এমএইচ৩৭০ খুঁজে পাওয়া যাবে। এক বিবৃতিতে রাজাক বলেন, ‘সম্ভাব্য যত শক্তি আছে, তা নিয়োগ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই হারিয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করা হবে।’ নাজিব রাজাক বলেন, যেসব জায়গায় অনুসন্ধান চলছে, তা বিশ্বের সবচেয়ে বিপৎসংকুল এলাকা। কোনো কোনো এলাকার সমুদ্রের তলদেশের গভীরতা ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত। এদিকে অনুসন্ধান দলটির সমন্বয়ক অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরোর প্রধান মার্টিন ডোলান বলেছেন, নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না পেলে শিগগিরই অনুসন্ধান শেষ হবে। হারিয়ে যাওয়া বিমানের আরোহীদের আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই চান, এটির হদিস খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চলুক। গত সোমবার ওই উড়োজাহাজের ১২ চীনা যাত্রীর আত্মীয়রা বেইজিংয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় নিখোঁজ ৩২ যাত্রীর আত্মীয়রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ যাত্রীর আত্মীয়রাও মামলা করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বহিষ্কারের মুখে মিসরীয়

এমাদেলদিন এলসাইদ
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন একজন মিসরীয় শিক্ষার্থী পাইলট। এমাদেলদিন এলসাইদ নামে ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ট্রাম্পকে হত্যা করলে তিনি বিশ্ববাসীর ধন্যবাদ কুড়াবেন। খবর বিবিসির। ২৩ বছর বয়সী এমাদেলদিন এলসাইদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করতে চায় বলে জানিয়েছেন এলসাইদের আইনজীবী হানি বুশরা। তিনি ঝামেলা এড়াতে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে সম্মতও হয়েছেন। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলেছে, এলসাইদ স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যেতে চাইলে তার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যেই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। এমাদেলদিন এলসাইদ বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে রয়েছেন। আটক করার আগে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়।
আইনজীবী হানি বুশরা গত সোমবার বলেন, এলসাইদকে আটক রাখা অবৈধ। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। আমি মনে করি, প্রথমত মুসলিম এবং মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক বলেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে এই ছেলেটা এখন একজন পোস্টার বয় হতে চলেছে।’ আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জনসমর্থনে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি মুসলিম, নারী ও অভিবাসীদের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। মিসরীয় যুবক এলসাইদ বলেছেন, ট্রাম্প মুসলিমদের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জন্যই তিনি ফেসবুকে ওই পোস্ট দিয়েছেন। এতে এলসাইদ লিখেছিলেন, ট্রাম্পকে হত্যার দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতেও রাজি। এ ঘটনার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গোয়েন্দারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।