Friday, July 17, 2015

ঘরমুখোরা ব্যাকুল, গাড়ি চলে না চলে না... by মোছাব্বের হোসেন

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল নয়টা পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল। দুপুর ১২টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে থেমে থেমে যানবাহন চলছে। মহাসড়কে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এবং কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে চন্দ্রা থেকে জিরানী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট রয়েছে। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের কুর্নি পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলাকায় চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, ধেরুয়া রেলক্রসিং, দেওহাটা, মির্জাপুর, শুভুল্যা, কদিম ধল্যা, পাকুল্যা, নাটিয়াপাড়া ও করটিয়া বাসস্টেশনে থেমে থেমে যানবাহন চলছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তোলা ছবি। ছবি: প্রথম আলো
যানজটে আটকা পড়া ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাসের চালক মহর আলী (৩৫) বলেন, ‘গতকাল রাত আটটার দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে রওনা হন। সকাল আটটায় চন্দ্রা পৌঁছান। এত দীর্ঘসময় তাঁরা যানজটেই ছিলেন।’
ঠাকুরগাঁওগামী হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুল মন্নাফ বলেন, গাবতলী থেকে বাস ছেড়েছিল গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায়। গোটা রাস্তায় ছিল ছাড়া ছাড়া যানজট। রাত তিনটার দিকে গাড়িটি সাভারের নবীনগরের বড়াইবাড়ি এলাকায় এসে থেমে যায়। সেখানেই সকাল নয়টা পর্যন্ত তীব্র যানজট চলছে। তিনি বলেন, ‘গাড়ি আগায় না, পুরা রাস্তা জ্যাম।’
ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী বাস শুভ বসুন্ধরার চালক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, তিনিও গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে গাবতলী থেকে বাস ছেড়েছিলেন। স্বাভাবিক নিয়মে বাস চললে আজ ভোর পাঁচটার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছার কথা। যানজটের কারণে সকাল আটটা পর্যন্ত চন্দ্রায়ই বসে আছেন।
তীব্র যানজটের কারণে স্থবির হয়ে আছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। মাঝে-মধ্যে গাড়ি চললেও তা চলছে ধীর গতিতে। বৃষ্টি আর কাদাপানিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। চালকেরা বলছেন, কাদাপানিতে সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় গাড়ি ধীর গতিতে চালাতে হচ্ছে।
বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদা। তাতে যানজট আরও বেড়েছে। ছবিটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো
গরমে অতিষ্ঠ অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে এখানে সেখানে দাঁড়িয়ে। পোশাকশ্রমিক আবু যাবেন গাইবান্ধায়। যানজটে হতাশ তিনি। সকাল নয়টার দিকে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরদিন চইলা আসতে হইব। রাস্তায়ই যদি একদিন থাকা লাগে, তাইলে কখন যামু আর কখন আসমু।’
ঢাকা লালমনিরহাটে যাবেন সৌরভ। যানজটে ক্ষুব্ধ তিনি। তাঁর কথা, ‘ঈদের আগে যোগাযোগমন্ত্রী বলেছিলেন, মহাসড়কে যানজট থাকবে না। কই, তাঁর কথা তো সত্যি হলো না।’
মির্জাপুরের ট্রাফিক পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘পোশাক কারখানা ছুটির পর শ্রমিকেরা বাড়ির দিকে রওনা হওয়াতে যানবাহনের চাপ বাড়ে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে যানবাহন বিকল হওয়ার পাশাপাশি চালকেরা এলোপাতাড়ি যানবাহন চালানোর কারণে যানজট লাগে। আজ সকাল থেকে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়েছে।’
গাজীপুরের কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু দাউদের ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। এতে থেমে থেমে যানজট লাগছে।

দেশের স্মৃতিচারণায় প্রবাসে ঈদ উদ্‌যাপন by শরিফুল হাসান

নতুন পোশাকে মসজিদ পুত্রজায়ার দিকে আসছে মানুষ। সবাই যে মালয়েশিয়ার নাগরিক, তা-ও নয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ নানান দেশের নানান জাতের মানুষ আছেন সেই দলে। আছেন অনেক বাংলাদেশিও। বিদেশে থাকলেও তাঁদের মন পড়ে রয়েছে বাংলাদেশে। এই প্রবাসীরা জানান, তাঁদের কাছে ঈদ মানে বিদেশে বসে দেশের স্মৃতিচারণা।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেকে দেশের মতো মালয়েশিয়াও আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঈদের সময় রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন ভবনে যেমন অনেক সাজসজ্জা দেখা যায়, এই দেশের রাস্তাঘাট দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এখানে সব কিছুই স্বাভাবিক।
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে এসেছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী নানা দেশের মানুষ। ছবি: প্রথম আলো
সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষের ভিড়। প্রায় সবাই এসেছেন গাড়ি নিয়ে। গাড়ি থেকে নেমে সবাই হাঁটছেন মসজিদের দিকে। বেশিরভাগ মানুষের পরনে উজ্জ্বল রঙের পোশাক। অনেকে আবার ঐতিহ্যের ধারক পোশাকে এসেছেন।
পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও আসছেন এই মসজিদে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বড়দের পাশাপাশি অনেক ছোট্ শিশুও এসেছে। কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে রেখেছে, আবার কেউবা কোলে চড়ে বসেছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় নামাজ শুরু হলো। নামাজ শেষে কোলাকুলি। অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত। সেলফি তোলার লোকেরও অভাব নেই। অনেক বাংলাদেশিকেও সেই দলে দেখা গেল। এঁদেরই একজন যশোরের মামুন হোসেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়া আছেন। পাঁচ বছর ধরেই ঈদ এখানে কাটছে। ঈদের দিন সারাটা দিন তিনি বাংলাদেশে পালন করে আসা ঈদের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁকে সমর্থন জানালেন, রাজা হোসেন ও শফিকুল ইসলাম। তিনজন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে এসেছেন।
ঝিনাইদহের আবির আহমেদ বলেন, ২২ দিন আগে তিনি মালয়েশিয়া এসেছেন। ঈদের দিনটায় দেশের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।
দুই ভাই মামুন মিয়া ও রাজিব মিয়া বলেন, বিদেশে ঈদ করতে ভালো লাগে না। কিন্তু কিছুই করার নেই। দেশে ঈদ করতে যাওয়ার যে খরচ, তা তাঁদের নেই। কাজেই ঈদে বিদেশেই কাটাতে হয়।
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে কোলাকুলি করছেন বাংলাদেশিরা। ছবি: প্রথম আলো
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যাঁরা মালয়েশিয়ায় কাজ করেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই এই দশা। তাঁরা সাত-আট বছর পর একবার দেশে ফিরতে পারেন। বাকি সময় বিদেশেই কাটে। আর যাঁরা অবৈধ বাংলাদেশি, তাঁরা তো দেশে ফেরার কথা ভাবতেই পারেন না।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের নতুন এই মসজিদে অনেক বাংলাদেশিই শখ করে নামাজ আদায় করতে আসেন। এ ছাড়া মারদেকার কাছে জাতীয় মসজিদেও অনেক বাংলাদেশি নামাজ আদায় করেন। মারদেকা মাঠে অবশ্য ‘সালামত হরি রায়া’ লেখাটি চোখে পড়ল। মালয়েশিয়ায় রায়া মানে ঈদ।
মারদেকার পাশেই কোতারিয়া যা মালয়েশিয়ার বাঙালি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। গত বছর এখানকার রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশিরা এখানেই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তবে এবার সেই অনুমতি মেলেনি। কাজেই বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায় নামাজ আদায় করতে গেছেন।
কোতারিয়ার বাঙালি রেস্তোরাঁগুলোতে ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাবে বলে জানান এগুলোর মালিক। অবশ্য অনেক বাংলাদেশিই জানিয়েছেন, যেহেতু ঈদ উপলক্ষে ছুটি আছে, কাজেই তাঁরা আজ নিজেরাই ভালো-মন্দ রান্না করে খাবেন। অনেকে জানালেন, তাঁরা ঘুমিয়েই ঈদের দিন কাটিয়ে দেবেন।
ঈদের নামাজ আদায় করে পুত্রজায়া মসজিদের আশপাশে ঘুরছেন পর্যটকেরা। ছবি: প্রথম আলো
কুয়ালালামপুরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা যখন ঈদ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন রাওয়াংয়ের একটি আসবাবপত্র কারখানার বাংলাদেশিদের দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। ফরিদপুরের রেজাউল করিম বললেন, টি কে ফার্নিচার কোম্পানিতে ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশি চাকরি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারের পর কারখানায় আগুন লেগে শ্রমিকদের থাকার ঘরগুলো পুড়ে গেছে। রাত থেকে তাঁরা বাইরে আছেন। ঈদের চেয়ে এখন তাঁদের বড় দুশ্চিন্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রম কাউন্সেলর সায়েদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে বসে কারওই ঈদ করতে ভালো লাগে না। এ কারণে অনেকেই ঈদের সময় দেশে চলে যান। তবে একটা বড় অংশই বিদেশে ঈদ কাটান।’ প্রবাসী সব বাংলাদেশি মিলেমিশে সানন্দে এই দিনটি উদ্‌যাপন করবেন বলে তিনি আশা করছেন।

আজ ঈদের কেনাকাটা, বাধ্যতামূলক যেন! by মানসুরা হোসাইন

‘রাঙাপরী ৩০, মমতাজ ৩০। আড়াই শ থেইক্যা মাত্র ৩০ টাকা। ৫০ টাকাও না। আজকাই শেষ। আর পাইবেন না। মিস করলেই কিন্তুক শেষ।’-রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আজ শুক্রবার বিকেলে ভ্যানের ওপর মেহেদির টিউব সাজিয়ে এভাবেই ক্রেতাদের ডাকাডাকি করছিলেন একজন। বাড়িতে বউ আছে, মেয়ে আছে। ঈদে মেহেদি কিনতেই হবে। আর তা-ই যখন মাত্র ৩০ টাকায় কেনার সুযোগ, হাতছাড়া করছিলেন না অনেকেই।
রাঙাপরী, মমতাজ মেহেদি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকায়। কারওয়ানবাজারে মেহেদি টিউবের ভ্যানকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: মানুসরা হোসাইন
কাল শনিবার ঈদ হলে কেনাকাটার জন্য আর হাতে সময় নেই বললেই চলে। নগরীর বিভিন্ন বিপণি বিতান ঘুরে দেখা গেলো আজ যে ক্রেতারা এসেছেন তাঁদের মধ্যে তাড়াহুড়ার ভাব। সব কেনা হলেও মেহেদি তো কেনা হয়নি। আবার সেমাই-পায়েশের জন্য অন্য সব কেনা হলেও পেস্তা-কিসমিস কেনা বাকি। পরিবারের সবার কেনাকাটার পর অনেকে নিজের জুতাসহ অন্যান্য টুকিটাকি কেনাকাটা করছেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, কারওয়ানবাজার আর নিউমার্কেটসহ কিছু মার্কেটে আজ নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়। ভ্যানে বিক্রি করা স্বল্পমূল্যের টিশার্টও কিনছেন অনেকে। আর তরুণীদের শেষ মুহূর্তে মনে হয়েছে নেলপালিশের রংটা ড্রেসের সঙ্গে তেমন একটা ম্যাচ করেনি, অথবা কানের দুলটা মন মতন হয়নি। তাই আবারও একটু ঢুঁ দেওয়া। তবে আজ জিনিসপত্র দেখাদেখির চেয়ে কিনে নেওয়াটাই ভাবছেন শ্রেয়। তাইতো আজ খালি হাতে ফিরছেন না কেউই।
আড়ং, অ্যাপেক্স ও, দেশীদশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানেও দেখা গেল চিরচেনা ভিড়। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে মুন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকে যাঁরা দোকানে ঢুকছেন তাঁরা কিনছেন। বাধ্যতামূলক কেনাকাটা আর কি! আজকে না কিনলে তো আর উপায় নাই।’
নাড়ির টানে অনেকে ঢাকা ছাড়ায় রাজধানী এখন অনেকটাই ফাঁকা। মূলত যাঁরা ঈদে ঢাকায় থাকছেন তাঁরাই আজ কেনাকাটা করছেন। কিন্তু কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে সকালের এক পশলা বৃষ্টি। আবার জমতে শুরু করে দুপুর ১২টার পর থেকে। শুক্রবার হওয়ায় জুমার নামাজ শেষ করে জায়নামাজ হাতে নিয়েই এলাকার বিভিন্ন দোকানে ঢুঁ মেরেছেন অনেকে।
বুয়ার কাজ করা হাজেরা ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করছেন কারওয়ানবাজারে। ছবি: মানসুরা হোসাইন
কারওয়ানবাজারে কথা হয় হাজেরা নামের এক বুয়ার সঙ্গে। স্বামী রিকশা চালান। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। পুরো পরিবারের জন্য ঈদের বাজেট তিন হাজার টাকা। হাজেরা জানালেন, তাঁর শাড়ি আছে। তাই এবার আর নিজের জন্য কিছু কিনবেন না। দেড় শ থেকে আড়াই শ টাকা করে পোশাক কিনে দিয়েছেন ছেলে-মেয়েদের। একটি সোনালী রঙের গলার চেইন কিনেছেন। মাথার একটি ক্লিপ কিনে দেওয়ার জন্য বায়না করছে মেয়ে। তাইতো বারবার হাতের মুঠোতে রাখা টাকা গুনে দেখছিলেন।
হাজেরা বলেন, ‘এই দ্যাখেন মাত্র এই কয়টা জিনিস কিনছি, তাতেই ম্যালা টাকা লাগছে।’ বিক্রেতা হাজেরার মেয়ের বায়না করা ক্লিপের দাম হাঁকাচ্ছে ৩৫ টাকা। আপাতত অন্যান্য দরকারি জিনিস কেনার পরই ভেবে দেখবেন এটা কিনবেন কি না। তাইতো সাত বছর বয়সী মেয়ে তার পিছু পিছু হাঁটছে মুখ গোমড়া করে।
যেটাই কিনবেন এক দাম। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: মানসুরা হোসাইন
কারওয়ানবাজারেই কথা হয় নিরাপত্তাকর্মী আশরাফের সঙ্গে। ছুটি মেলেনি তাঁর। দায়িত্ব পালন করতে হবে ঈদের দিনও। রাস্তার পাশে জুতার পসরা সাজানো। নিজের জন্য জুতা পছন্দ করছিলেন সেখানে। রাজশাহীতে বউ-বাচ্চা থাকে। তাঁদের জন্য ঈদের কেনাকাটার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন আগেই।
শেষ দিনে আজ কেনো কেনাকাটা করছেন জানতে চাইলে আশরাফ একগাল হেসে বললেন, ‘আগে সুযোগ পাই নাই।’
কৃষি মার্কেটে আজকের কেনাকাটা প্রসঙ্গে নূরে মদিনা দোকানের মালিক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এই মার্কেটে আল্লাহর রহমত আছে। অন্য মার্কেটে কাস্টমার না থাকলেও কৃষি মার্কেটে থাকবেই। এই মার্কেটে শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ আর বাচ্চাদের পোশাক থেকে শুরু করে পাওয়া যায় না এমন কোনো জিনিস নাই। ধনী, দরিদ্র সব ধরনের কাস্টমারের জন্যই জিনিস আছে। চাঁন রাতে সারা রাতই খোলা থাকবে এই মার্কেট।’
জুতা পছন্দ করছেন নিরাপত্তাকর্মী আশরাফ। ছবি: মানসুরা হোসাইন
শহীদুল ইসলাম জানালেন, জাপান গার্ডেন সিটি মার্কেটে তাঁর ভাইয়ের আরেকটি দোকান আছে। নাম ‘জামদানি শাড়িজ’। সব ধরনের ক্রেতার কথা চিন্তা করে জামদানি শাড়ির পাশাপাশি ভারতের ‘এক্সক্লুসিভ’ শাড়িও রাখা আছে। বললেন, ‘সেখানেও আজ ভালো বিক্রি হচ্ছে।’
দেশীয় ফ্যাশন হাউস রঙ-এর কর্ণধার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বললেন, ‘এখন আর সেভাবে চাঁদ রাত বলতে কিছু থাকে না। ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় মানুষের সংখ্যা কমে যায়। তবে শেষ কেনাকাটা বলে একটা কথা থেকেই যায়। সন্ধ্যার পর ক্রেতার একটু চাপ বাড়বেই। আবহাওয়া আর ওপরওয়ালাকে ওপরই নির্ভর করবে বাকিটা।’

ভিড় ঠেলে কেনাকাটা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। উচ্চবিত্তের শপিংমল থেকে নিম্নবিত্তের ফুটপাত—সবখানেই ক্রেতার গিজগিজে ভিড়। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের বেশ কয়েকটি বিপণিকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। পোশাক, জুতা থেকে শুরু করে প্রসাধনী, টুপি এমনকি তৈজসপত্রের দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নগরের বেশির ভাগ সড়কে যানবাহনের চাপ না থাকলেও বিপণিকেন্দ্রের আশপাশের সড়কগুলোতে দিনভর যানজট ছিল।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি থান কাপড়ের দোকানের বিক্রেতা মো. মহিউদ্দিন বলেন, শেষ সময়ে বিক্রি বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষ এখন অন্যকে উপহার দেওয়ার জন্য কাপড় কিনছে। সে কারণে দামি কাপড় কম বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্সে পোশাক কিনতে আসেন দুই বোন শায়লা ও শামীমা। এত দিন পোশাক কেনা হয়নি তাঁদের। শায়লা জানান, রমজানের শেষ দিকে কেনাকাটা করতে তাঁর খুব ভালো লাগে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে পছন্দের পোশাক কিনবেন তাঁরা।
মিমি সুপার মার্কেটে স্বামীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নাজনীন সুলতানা। তিনি জানান, ঈদ করতে কাল (আজ শুক্রবার) সাতকানিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। সে কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্য উপহার কিনতে এসেছেন।
জামা পছন্দ হয়েছে। এবার দর-কষাকষি চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চলছে চট্টগ্রাম নগরের বিপণিবিতানগুলোতে। ছবিটি গতকাল বিকেলে রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে তোলা l জুয়েল শীল
নগরের জুতার দোকানগুলোতে ছিলও ভিড়। আফমী প্লাজায় বাটার দোকানে বন্ধুদের নিয়ে জুতা কিনতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সরওয়ার কামাল। জানালেন, পাঞ্জাবির সঙ্গে পরার জন্য চামড়ার স্যান্ডেল কিনতে এসেছেন তিনি।
রোজার শেষ দিকে হাতে টাকাপয়সা আসে বলে নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটা শুরু হয় এই সময়ে। পৌর জহুর হকার্স মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জুবিলী রোডের ফুটপাতের পা ফেলার দায় ছিল না গতকাল। জুবিলী রোডের ফুটপাত থেকে সাড়ে তিন শ টাকা দিয়ে ছেলের জন্য জিনস প্যান্ট কিনেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজকে রাতে (বৃহস্পতিবার) কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিজের বাড়িতে ঈদ করতে যাব। ছেলে বায়না করেছিল জিনসের প্যান্ট নিয়ে যেতে। মেয়ের জন্যও ফ্রক কিনতে হবে।’
রমজানের শেষ দিকে লুঙ্গি, টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানিদের মুখেও হাসি দেখা গেছে। তাঁরা জানালেন, রোজার ঈদে দেশি টুপির পাশাপাশি চায়না, ওমানি, তুর্কি ও পাকিস্তানি টুপিও ভালো বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকার মধ্যে টুপি বিক্রি হচ্ছে। আতর বিক্রি হচ্ছে এক শিশি মানভেদে ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। জায়নামাজের দাম পড়ছে ২৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা।
বিপণিকেন্দ্রগুলোর প্রসাধনী ও গয়নার দোকানেও ছিল ক্রেতার ভিড়। এঁদের মধ্যে তরুণীদের ভিড়ই বেশি দেখা গেল।

আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশে ঈদ উদ্‌যাপন

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। এই খুশির জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ প্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও। ইন্দোনেশিয়ায়ও আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। সকালে বালি দ্বীপের দেনপাসার শহরের একটি মাঠে ঈদের জামাতে শরিক হন নারী মুসল্লিরা। ছবি: এএফপি

দেশের কয়েকটি জেলায় আজ ঈদ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার দেশের কয়েকটি জেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও সরিষাবাড়ীতে ঈদ উদ্‌যাপনের খবর পাওয়া গেছে।
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) : সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছেন। সকাল সোয়া নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের রহমতের পাড়া গ্রামে জাহাঁগিরিয়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর, পৌর সদর, বাড়বকুল বাঁশবাড়িয়া ও ভাটিয়ারী ইউনিয়নের দেড়শো পরিবার একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। সকাল সোয়া সাতটার দিকে শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামের একটি বাসার ছাদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিতে ভিজে মুসল্লিরা জামাতে অংশ নেন।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর ২২টি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছে। সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
বদরপুর দরবার শরীফের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ বলেন, সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনি পাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালীর ইটবাড়িয়া, পৌরশহরের নাইয়াপট্টি, বাদুরতলী, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাফাখালী-এসব গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারের মানুষ ঈদ করছেন।
সরিষাবাড়ী: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আজ ঈদ। দক্ষিণ বলারদিয়ার জামে মসজিদ মাঠে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চারটি গ্রামের চার শতাধিক মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। বলারদিয়ার গ্রামের শাহা আলী বলেন, তাঁরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। বাউসী গ্রামের আজিজুল হক (৫৫) বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে তাঁরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। বলারদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা ও ঈদুল ফিতর নামাজ পরিচালনাকারী ইমাম আজিম উদ্দিন (৭২) বলেন, ‘আমি এখানে নয় বছর ধরে ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। চার গ্রামের চার শতাধিক মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।’
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার দেশের কয়েকটি জেলায় ঈদ উদ্‌যাপন করছেন মানুষ। ছবিটি আজ শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার থেকে তোলা। বৃষ্টিতে ভিজে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ছবি: আকমল হোসেন

প্রমীলা-প্যাঁচে নাজেহাল মোদি by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সুষমা স্বরাজ, স্মৃতি ইরানি, পঙ্কজা মুন্ডে
বছর ঘুরতে না ঘুরতে এই রকম প্রমীলা-প্যাঁচে তিনি যে ঘায়েল হবেন, নরেন্দ্র মোদি নিশ্চিতই তা কল্পনাও করেননি। ভারতের এই গৃহী-সন্ন্যাসী প্রধানমন্ত্রীর নারীভাগ্য খারাপ মনে হচ্ছে। নইলে নারী-নাগপাশে তাঁকে এভাবে জর্জরিত হতে হবে কেন?
বেশ খানিকটা পিছিয়ে যাওয়া যাক। যশোদাবেনকে তিনি কেন বিয়ে করেছিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা মোদি আজ পর্যন্ত দেননি। বিয়ে করলেনই যদি, বিবাহিত জীবনযাপন না করে কেনই বা তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী হতে গিয়েছিলেন, সেই কারণও স্পষ্টত কেউ জানে না। অবশ্য, প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার না হওয়া পর্যন্ত মোদি যে দার পরিগ্রহ করেছিলেন, সেটাও অধিকাংশের অজানা ছিল। জানাজানি হলো নির্বাচন কমিশনের দাবি মেনে হলফনামা দাখিল করতে গিয়ে। সে নিয়ে ওই সময় চাপা ও প্রকাশ্য ফিসফাস যে হয়নি, তা নয়। নরেন্দ্র মোদি অবশ্য সেসব গায়ে মাখেননি। বিজেপিও বিষয়টি নিতান্তই ব্যক্তিগত বলে জাহির করেছিল। জনতা মেনেও নিয়েছিল তা। আর যাই হোক, ব্যক্তিগত দিক নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে ভারতীয় মূল্যবোধে এখনো বাধো বাধো ঠেকে। তাই প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী কেন ৭ রেসকোর্স রোডের বাসিন্দা নন, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা পানাপুকুরে দু-এক দিন বুদ্বুদ কেটে মিলিয়ে যায়।
তাঁকে নিয়ে দ্বিতীয় বিতর্ক কিন্তু যশোদাবেনেরই তোলা। ইন্দিরা গান্ধী নিজের রক্ষীদের গুলিতে মারা যাওয়ার পর ভারতীয় নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) জন্মও তখন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষা এই এসপিজিরই দায়িত্ব। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এসপিজির নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে যশোদাবেনও ঢুকে পড়েন। আর সেই থেকে শুরু তাঁর উসখুসানি। তাঁর বাড়ির চারধারে নিরাপত্তা। তিনি যেখানে যাচ্ছেন, নিরাপদ দূরত্বে থেকেও প্রহরীরা তাঁকে ঘিরে থাকছে। ব্যতিব্যস্ত হয়ে যশোদাবেন আপত্তি জানান। যদিও তাতে কাজ হয়নি।
স্ত্রী সম্পর্কে একটি শব্দও আজ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির মুখ থেকে কেউ কখনো শোনেনি। সেটা না হয় ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু চার-চারজন নারীর নাগপাশে এভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েও তিনি কেন স্পিকটি নট, দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তা মেনে নিতে পারছে না। প্রশ্ন তাই নিত্যদিন উঠেই চলেছে। এবং নিত্যদিন ধেয়ে আসছে আক্রমণের এক একটি নতুন ফলা।
বিস্ময়ের যা, বর্ষপূর্তির পরপরই ঝুপঝুপ করে যে চার বিতর্ক মোদি-মাহাত্ম্যের প্রতি প্রশ্ন তুলে দিল, তার প্রতিটির কেন্দ্রেই রয়েছেন একজন নারী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে যাঁর হয়ে উমেদারি করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলেছেন, তিনিও অন্য এক মোদি। ললিত মোদি। রাজস্থানের এই ক্ষুরধার বুদ্ধির ব্যবসায়ী ক্রিকেটকে এক ভিন্ন মোড়কে বিপণন করে গোটা পৃথিবীতে হইহল্লা ফেলে দিয়ে নিজেই এমন জাঁতাকলে পড়ে গিয়েছেন যে আপাতত দেশছাড়া হয়ে বিলেতে পড়ে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একগাদা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে ভারতীয় অর্থমন্ত্রকের গোয়েন্দারা। এই রকম এক অপরাধীর ভিসার জন্য সুষমা ও বসুন্ধরার উদ্যোগ নীতিগত হাজারটা প্রশ্ন তুলেছে। সুষমার স্বামী স্বরাজ কৌশল এবং কন্যা বাঁশরি আবার ললিত মোদির আইনি পরামর্শদাতা। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে স্বার্থের আদান-প্রদান থাকার অভিযোগ বিরোধীরা তুলেছে। অভিযোগগুলো যে নিতান্তই মনগড়া, এমন কথা বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারছে না। অথচ সুষমা তো বটেই, নরেন্দ্র মোদিরও মুখে কুলুপ। এত দিন হয়ে গেল, একটা বাক্যও কেউ খরচ করলেন না।
বসুন্ধরার ব্যাপারটি সুষমার মতো অত সহজ-সরল নয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই একটা না একটা নতুন তথ্য উঠে আসছে। যেমন ললিতের সঙ্গে সুষমা ও তাঁর পুত্র দুষ্মন্তর ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার বিষয়টি। ললিতকে নানাভাবে সাহায্য করার প্রতিদানে ললিতও নাকি তাঁদের ঢেলে দিয়েছেন। যেমন দুষ্মন্তর হোটেল ‘নিয়ন্ত’-এর দশ রুপি দামের শেয়ার তিনি ৯৬ হাজারেরও বেশি দামে কিনে প্রায় ৩১ কোটি রুপি পাইয়ে দিয়েছেন। আবার নতুন যে অভিযোগ কংগ্রেস তুলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানের ঢোলপুর রাজপ্রাসাদ (এই ঢোলপুরের রাজা হেমন্ত সিংয়ের সঙ্গে ১৯৭২ সালে বসুন্ধরার বিয়ে হয়, পরের বছর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ছাড়াছাড়ি), যা নাকি বহু বছর আগে থেকেই সরকারি সম্পত্তি, বসুন্ধরা ও দুষ্মন্ত তা হাতিয়ে নিয়ে সেখানেই ‘নিয়ন্ত’ হোটেল খুলেছেন, ললিত যেখানে টাকা ঢেলেছেন। অর্থাৎ বিতর্কটা হলো একজন পালিয়ে বেড়ানো অর্থনৈতিক অপরাধীকে মোদির সরকার ও দলের দুই শীর্ষ নেত্রী নানাভাবে সাহায্য করছেন ও বিনিময়ে সাহায্য পাচ্ছেন অথচ প্রধানমন্ত্রী রা কাড়ছেন না।
সুষমা ও বসুন্ধরা যদি সাঁড়াশি আক্রমণের জোড়া ফলা হন, স্মৃতি ইরানি ও পঙ্কজা মুন্ডে তাহলে আরও দুই বিব্রতকর ক্ষেপণাস্ত্র।
আর যাই হোক, নরেন্দ্র মোদির রথ প্রথম বছরের মতোই গড়গড় করে এগিয়ে চলবে, তেমন আশা বিজেপিরও কেউ করছে না স্মৃতি ইরানি একেবারে শুরু থেকেই মোদির স্নেহভাজন। বিশাল শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মোদি তাঁকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের পূর্ণ দায়িত্বে বসিয়েছেন। এ নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের শুরু থেকেই অনেকের ভ্রু কুঁচকে ছিল। কিন্তু ভোটে বিপুল জয় মোদিকে এতটাই ক্ষমতাধর ও আস্থাবান করে তোলে যে কেউই ফুট কাটতে পারেনি। স্নেহভাজন স্মৃতির নির্বাচনী হলফনামা মোদির তৃতীয় বিড়ম্বনা। ললিত-কাণ্ডের মতো ব্যাপারটা নিয়ে তেমন হইচই না হওয়ার কারণ একটাই। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। দিল্লির মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বিচারযোগ্য বলে গ্রহণ করেছেন। স্মৃতি মোট তিনবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে দুটি তথ্য তিনি দাখিল করেছেন। সেই তথ্যের একটি ঠিক হলে অন্যটি ভুল। অতএব এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই যে ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, স্মৃতি একটি ক্ষেত্রে অসত্য তথ্য জমা দিয়েছেন। এখন আদালত কী রায় দেবে সেদিকেই সবার দৃষ্টি। তবে আইন ও নীতির দৃষ্টি সব সময়ই আলাদা। মোদি বারবার নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন। সেই নিরিখে সব বিষয়ে চুপ থেকে তিনি কিন্তু নৈতিকতার বিরোধিতাই করছেন।
পঙ্কজা মুন্ডে রাজনীতিতে সদ্যোজাত। তাঁর বাবা গোপীনাথ মুন্ডে মহারাষ্ট্র বিজেপির একেবারে প্রথম সারির প্রধান নেতা ছিলেন। ভোটের পরপরই দিল্লিতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর অকালমৃত্যু হয়। পঙ্কজা রাজনীতিতে এসেই নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী হলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কের কেন্দ্রে। বিভিন্ন জিনিস কিনতে মোট ২০৬ কোটি রুপির অর্ডার তিনি দেন বিনা টেন্ডারে। বিরোধীরা এ থেকেই দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে। রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। চাপ বাড়ছে মোদির ওপরেও। কিন্তু তিনি মূক ও বধির ক্লাবের সদস্য সেজে রয়েছেন।
অথচ এই মোদিই লোকসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বড় মুখ করে বলেছিলেন, ‘না ম্যায় খায়ুঙ্গা, না কিসিকো খানে দুঙ্গা।’ গোদা বাংলায়, না আমি ঘুষ খাব, না কাউকে খেতে দেব। সহজ মানে, নিজে দুর্নীতিগ্রস্ত হব না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। কংগ্রেসের শেষ তিন বছরের দুর্নীতিতে জেরবার মানুষ মোদির মধ্যে আস্থা ও ভরসার একটা ঝিলিক দেখতে পেয়েছিল। প্রথম বছরটা সেই ভরসায় গা ভাসিয়ে সরকার দিব্যি কাটিয়েছে। কিন্তু বছর গড়াতে না গড়াতে একই সঙ্গে এই চার নারী-সৃষ্ট বিতর্ক মোদির মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধীরা ঘা মারছে সেখানেই। মোদির নৈতিকতার ফানুসে পিন ফুটিয়ে কংগ্রেসও চাইছে পাল তুলে তার নৌকায় গতি আনতে। বলতে দ্বিধা নেই, চার নারী নরেন্দ্র মোদির প্রথম রাজনৈতিক সংকটকে আবাহনই শুধু করেননি, হতোদ্যম কংগ্রেসকেও কোরামিন জুগিয়েছেন।
ভারতীয় সংসদের বাদল অধিবেশনের আর তিন সপ্তাহও বাকি নেই। বিজেপি যতই ভাবুক, এই সময়ের মধ্যে এই বিতর্ক না মেটার সম্ভাবনাই বেশি। অন্তত কংগ্রেস তা হতে দেবে না। কাজেই বাদল অধিবেশনও যে মোদি ভালয় ভালয় কাটাতে পারবেন, তেমন মনে করার কারণ নেই। অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক বিল এখনো পাস হওয়া বাকি। ঘাড়ের ওপর ডেমোক্লিসের খাঁড়ার মতো ঝুলে রয়েছে জমি বিলও। অন্য বিলে যা-ই হোক না কেন, জমি বিল পাস করাতে হলে শেষ পর্যন্ত সরকারকে সংসদের যুগ্ম অধিবেশনই ডাকতে হবে। আমেরিকায় গিয়ে তেমনই ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তেমন হলে সেটাও হবে এই সরকারের আরও একটা নৈতিক পরাজয়। তা ছাড়া জবরদস্তি পাস করালেও রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীরা যে জমি অধিগ্রহণ করাতে দেবে, তেমন মনে করার কোনো কারণ নেই। অর্থাৎ আর যাই হোক, নরেন্দ্র মোদির রথ প্রথম বছরের মতোই গড়গড় করে এগিয়ে চলবে, তেমন আশা বিজেপিরও কেউ করছে না।
লোকসভার নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা মোদির সামনে তেমন চ্যালেঞ্জ খাড়া করবে না। মোদির চ্যালেঞ্জ অন্যত্র। বিহারে লালু প্রসাদ-নীতিশ কুমার হাত মিলিয়েছেন। সঙ্গে সুগ্রীব দোসর হিসেবে রয়েছে কংগ্রেস। এই বছরের শেষাশেষি নির্বাচনে বিহার যদি বিজেপিকে কোল পেতে না দেয়, পরের বছর উত্তর প্রদেশ তাহলে হয়ে দাঁড়াবে বড় কঠিন ঠাঁই। দিল্লির ভরাডুবির পর বিহার জয় মোদি-মাহাত্ম্যকে ভাসিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু তা না হলে মোদির পক্ষে ‘সে বড় সুখের সময় নয়, সে বড় আনন্দের সময় নয়।’
সংসদের আঙিনায় প্রমীলা-প্যাঁচের মোকাবিলা মোদি কীভাবে করেন, আপাতত নজর থাকছে সেদিকেই।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

জাবিঃ ছাত্রলীগের চার নেতাকে নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে

ঈদের ছুটির আগে অ্যাডহক ভিত্তিতে ছাত্রলীগের চার নেতাসহ ছয়জনকে নিয়োগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গত মঙ্গলবার জরুরি সভা শেষে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের কয়েকজন সদস্য।
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ওই সভা হয়। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাফরুহী জানান, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করছি, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তা ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত অনেকের যোগ্যতা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল হওয়া উচিত বলে মনে করছি আমরা।’
সমিতির সভায় নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবিও জানানো হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় এ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ মাফরুহী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য জানান, অনেকেই মনে করছেন বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগের পেছনে একজন শিক্ষকের ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে অনেক দিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে একধরনের অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।
সমিতির সভাপতি খবির উদ্দিন বলেন, ‘এই নিয়োগে কারও প্ররোচনা থাকতে পারে। তাই আমরা এই বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করব।’ ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ছাত্রলীগের চার নেতাসহ ছয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যালয়ের প্রশাসনিক পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর শিক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। গত মঙ্গলবার ‘অভিযুক্ত চাঁদাবাজ, আসামি, বহিষ্কৃতসহ ছয়জনকে নিয়োগ’ শিরোনামে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন ছাপা হয়।

আসামিদের ধরিয়ে দিল জনতাই

সিলেটের শিশু সামিউল আলম (রাজন) হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরপাকড়ে জনতাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। অভিযুক্ত প্রধান আসামিসহ চারজনকেই পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ায় মূল ভূমিকা রেখেছে সাধারণ মানুষ। এতে অবদান আছে দুই অভিযুক্তের মায়েরও। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গতকাল বুধবার দুলাল আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকালই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। নতুন একটি ভিডিও চিত্রে সামিউলকে ২১ সেকেন্ডে ১২টি চড় মারার দৃশ্য দেখা গেছে। সামিউল হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে পুলিশ হেফাজতে আছে। তাকে জেদ্দার স্থানীয় বাংলাদেশিরা আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮ জুলাই সামিউলকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টার সময় জনতা প্রধান আসামি মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় নির্যাতনকারীদের অন্যতম চৌকিদার ময়না মিয়াকেও জনতা পুলিশে দেয়। ময়নার মা ছমিরুননেছা ছেলের অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয় টুকেরবাজার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এনামুল হোসেনকে জানালে তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এনামুল হোসেন জানান, ময়নাকে মূলত তাঁর মা-ই ধরিয়ে দিয়েছেন।
কামরুল ইসলাম, মুহিত আলম, ময়না মিয়া, দুলাল আহমদ
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন জানান, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রাম থেকে দুলালকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুলালের মা রাজিবুন খাতুনের প্রচেষ্টায় এ গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। মামলার প্রায় সব আসামিকে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সামিউল হত্যার পর থেকে পলাতক ছিলেন দুলাল। গত মঙ্গলবার রাত একটায় তিনি নগরের কানিশাইল এলাকায় তাঁর বোনের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। এটি জানতে পেরে মা রাজিবুন তাঁর ছেলেকে গতকাল দুপুরে শেখপাড়া এলাকার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর আড়াইটার দিকে এলাকাবাসীসহ তিনি ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ সময় রাজিবুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পোয়া (ছেলে) যদি দুষি হয়ে থাকে, আপনার ফাঁসি দিলাউক্কা। আমার কুনু দুঃখ নাই। ওউ মায়ের (সামিউলের মা) বুক খালি হইছে, ছোট একটা ছেলে মরছে, এতে আমার দুঃখ লাগতাছে। আমার বাচ্চাও আমি কুরবানি দিলাম।’
সামিউল হত্যায় গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন: প্রধান আসামি মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম, শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুচ (৩২), প্রত্যক্ষদর্শী আজমত উল্লা ও ফিরোজ আলী। এজাহারভুক্ত আসামি মুহিত-কামরুলের ভাই হায়দার আলী ওরফে আলী এখনো পলাতক। এর মধ্যে মুহিত, ইসমাইল ও ময়নাকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে জনতার ভূমিকা প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, ‘২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় আসামিদের আমরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলাম। এবার শিশু হত্যার ঘটনায় সেই বোধ যেন আরও প্রবলভাবে জাগ্রত হয়েছে। তাই অভিযুক্তদের মায়েরাও তাঁদের সন্তানদের পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ আসামিদের গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করছে, এটি একটি ইতিবাচক।’
মামলা ডিবিতে স্থানান্তর: সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসানের নির্দেশে সামিউল হত্যা মামলাটি গতকাল দুপুরে মহানগর ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মহানগর পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার।
এদিকে গতকাল বেলা তিনটায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে পুলিশ কমিশনার সামিউলের খুনিদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
সভায় পুলিশ কমিশনার জানান, সামিউলের হত্যাকাণ্ডে আটজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে একজন পলাতক আছেন। তাঁকে দ্রুতই গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ছাড়া সৌদি আরবে আটক কামরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে যোগাযোগ শুরু হয়ে গেছে।
আরেকটি ভিডিও চিত্র: সামিউলকে নির্যাতনের প্রথম ভিডিও চিত্রটি ছিল ২৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের। নির্যাতনের দ্বিতীয় পর্যায়ে সামিউলকে একটি বিপণিবিতানের পেছনে গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে চলে আরেক দফা নির্যাতন। মোট ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দৃশ্যে চৌকিদার ময়না মিয়া ২১ সেকেন্ডে ১২টি চড় মারেন সামিউলকে।
ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে, দুই হাত দিয়ে ময়নার চড় খেয়ে সামিউল চিৎকার করেও কাঁদছিল। তবু ক্ষান্ত হচ্ছিলেন না ময়না। তখন আশপাশে কামরুল ইসলাম ছাড়াও আরও তিনজন ছিলেন। ময়না তাদের উদ্দেশে বলছিলেন, ‘মারো, যে যেভাবে পারো মারো, কম্পিটিশন করি মারো...!’
নতুন এই ভিডিও দৃশ্যের শুরুতে কামরুল রোলার দিয়ে পেটান সামিউলকে। এরপর ময়না দুই হাতে চড় দিতে থাকেন। কটূক্তি করতে করতে ভিডিও চিত্রের এক মিনিট তিন সেকেন্ড থেকে ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত থেমে থেমে সামিউলকে চড় দেন ময়না। এরপর সামিউল পানি খাওয়ার আকুতি জানায়। সামিউলের সামনে তখন একটি পানির বোতল রেখে লোভ দেখানোও চলে কিছুক্ষণ। দূর থেকে বলা হয়, ‘হা কর...!’। মুখে দূর থেকে পানি দেওয়া হচ্ছিল, সামিউল খাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল। এতে করে পানি মুখে না পড়ে পরনের গেঞ্জিতে গিয়ে পড়ায় একপর্যায়ে সামিউলকে অনেকটা আঁচল পাতার মতো করে গেঞ্জির মধ্যে পানি দেওয়ার আকুতি জানাতে দেখা গেছে।
প্রথম ভিডিওচিত্রে সামিউল ‘পানি খাওয়াও রে-বা!’ বলে আকুতি জানালে ‘পানির বদলা ঘাম খা’ বলে নির্যাতনকারীদের একজন।
সাত দিনের রিমান্ডে ময়না: চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকেও (৩৫) রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বেলা দুইটার দিকে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ময়নাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানান, আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত বুধবার খুঁটির সঙ্গে সামিউলকে (১৩) বেঁধে রোলার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই সামিউলকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। সামিউলের লাশ ফেলতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েন মুহিত আলম (৩৫)। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। প্রথম ভিডিও চিত্রের সূত্র ধরে গত রোববার প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় ‘নির্মম পৈশাচিক!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
‘হিংস্রতাকে দমন করে মনুষ্যত্বের জয় হোক’ স্লোগানে শিশু সামিউল হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রাতে নোয়াখালীতে মোমবাতি হাতে মানববন্ধন করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ছবিটি শহরের টাউন হল মোড় থেকে গত রাত আটটায় তোলা l প্রথম আলো

কাঁদতেও ভুলে গেছে কুড়িগ্রামের মানুষ! by তুহিন ওয়াদুদ

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, বেড়েছে শিক্ষিতের হার। রাজধানীর চকচকে গাড়ির বহর আর আকাশছোঁয়া অট্টালিকা বলে দেয়, দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে অনেকখানি। দারিদ্র্য-মানচিত্রে অভাবী মানুষের সংখ্যাও কমে আসছে। বেড়েছে জিডিপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে জমার পরিমাণ রেকর্ড করেছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্যে অভাবনীয় উন্নতিও চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ২০১০ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত বছর বাংলাদেশের দারিদ্র্য-মানচিত্র প্রকাশ করে। সেই গবেষণা অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। উন্নয়ন দেশের সর্বত্র সমানভাবে না হওয়ার কারণে কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যের হার শতকরা ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ আর কুষ্টিয়ায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার মধ্যে সব উপজেলারই অবস্থা করুণ। কোনো কোনো উপজেলায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত দরিদ্র। এসব উপজেলায় হতদরিদ্রের হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে গরিব জেলা কুড়িগ্রামে ২০ লাখ জনগণের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখই দরিদ্র। এই ১৩ লাখের মধ্যে ৯ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র। দেশের কোনো মন্ত্রী-সাংসদকে বলতে শোনা যায় না, হতদরিদ্র কুড়িগ্রামবাসীর জন্য সরকারের কোনো করণীয় আছে কি না। কুড়িগ্রামের যে কজন সাংসদ আছেন এবং বিগত সময়ে সাংসদ ছিলেন, তাঁরা কেউই কুড়িগ্রামের উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, বরং ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদেরা তাঁদের ব্যবসার কলেবর বৃদ্ধি করেছেন।
স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকেও কুড়িগ্রামের অনাহারী বাসন্তীদের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাজনৈতিক ক্ষমতাধরেরা এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। রাষ্ট্রনায়কেরা বরাবরই সম্পদের বৈষম্যপূর্ণ ব্যবহারের দিকে নজর দেননি।
ধনী জেলাগুলো আরও ধনী হতে থাকবে আর গরিব জেলাগুলো আরও গরিব হতে থাকবে? গরিব জেলার প্রতি রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই? সরকারের গবেষণা করে বের করতে হবে কোন উপায়ে কুড়িগ্রামের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।
সবচেয়ে গরিব জেলা হিসেবে চিহ্নিত কুড়িগ্রামে অভাবী মানুষদের শুধু অর্থ, ত্রাণ দিয়ে অভাব দূর করা যাবে না। সে জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দরিদ্র্য বিভাগ হচ্ছে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় কম দরিদ্র বিভাগ সিলেট। বিদেশে শ্রম বিনিয়োগ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা এই দুই বিভাগে সবচেয়ে বেশি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যদি কুড়িগ্রামে এমন একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকত, যেখানে কুড়িগ্রামের বেকার যুবকেরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিনা সুদে সরকারি ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারতেন, তাহলে এখানকার মানুষের অভাব কমানো সম্ভব হতো। কুড়িগ্রাম থেকে প্রচুর শ্রমিক প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে করেই দূরদূরান্তে যান। গরিব জেলার কথা বিবেচনা করেও সরকার দুটি ট্রেন দিতে পারত ঢাকার সঙ্গে কম খরচে যাওয়া-আসার জন্য। কুড়িগ্রামে ছোট-বড় মিলে ১৬টি নদ-নদী রয়েছে। নদীর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কুড়িগ্রামের উন্নয়ন অসম্ভব। কুড়িগ্রামে নদীতীরবর্তী মানুষ নয় মাস ধরে যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয় তিন মাসের বন্যায়।
কুড়িগ্রামের বিত্তহীন মানুষগুলোর মাথার ওপর কয়েকটি করে বেসরকারি সংস্থার ঋণের বোঝা রয়েছে। এই ঋণের বোঝা মওকুফ করা সম্ভব হলে ঋণগ্রহীতারা অনেকটাই নিস্তার পেতেন সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, বিশ্বব্যাংক এবং ইফাদের আয়োজনে ‘দারিদ্র্য মানচিত্রে রংপুর এবং অপুষ্টি মানচিত্রে রংপুর’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় উপস্থিত ছিলাম। আয়োজকেরা রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় একটি করে, উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে খাদ্য কর্মসূচি গ্রহণ করার ঘোষণা দেন। কুড়িগ্রাম থেকে কোন উপজেলা বাছাই করা হবে, এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। তখন চিলমারী উপজেলার চেয়ারম্যান শওকত আলী বীর বিক্রম করুণভাবে আবেদন জানাচ্ছিলেন কর্মসূচি তাঁর উপজেলায় দেওয়া হোক। অনেকে অনেক রকম মত দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই ছাড়তে রাজি নন। তিনি বারবার বলছিলেন, প্রতিবছর বন্যার ভাঙনে অসহায় মানুষগুলোর সহায়-সম্বল বলতে কিছুই থাকে না। সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাদ্য কর্মসূচি তাঁর উপজেলায় পাওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন।
দেশি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা কর্তৃক দারিদ্র্য-মানচিত্র প্রকাশের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রথমত করণীয় ছিল দেশের জেলাভিত্তিক উন্নয়নবৈষম্য দূরীকরণে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শুধু তা-ই নয়, কোন কোন সূচকে উন্নয়ন ঘটালে স্বাধীনতা-পরবর্তী গ্রহণ করা প্রতিটি বাজেটের বৈষম্য দূর করা যেতে পারে, তার একটি গবেষণা হওয়াও প্রয়োজন ছিল। সরকারের চোখের সামনে একটি জেলা সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত থাকার পরও বৈষম্য দূরীকরণে কোনো উদ্যোগ থাকবে না, তা কী করে সম্ভব? স্বাধীনতার পর কোনো অর্থমন্ত্রী রংপুর আসেননি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোরশেদ হোসেন রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০১২ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্থমন্ত্রীকে বলেছিলাম দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তো কোনো মন্ত্রী রংপুরে যাননি। এ কথা শুনে তিনি রংপুরে আসবেন কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা রংপুর আসেননি।’
কুড়িগ্রামের বিত্তহীন মানুষগুলোর মাথার ওপর কয়েকটি করে বেসরকারি সংস্থার ঋণের বোঝা রয়েছে। এই ঋণের বোঝা মওকুফ করা সম্ভব হলে ঋণগ্রহীতারা অনেকটাই নিস্তার পেতেন।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহলের মানুষ বাংলাদেশে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। সেই বিবেচনায় শুধু কুড়িগ্রামে প্রায় ১৫ হাজার বেকার-অদক্ষ ভারতীয় কুড়িগ্রামের বাসিন্দা হবে। এতে করে কুড়িগ্রামের দারিদ্র্যের হার আরও বাড়বে।
রংপুর-কুড়িগ্রামের মানুষের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উন্নয়নবৈষম্য রোধে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারের কাছে অনুরোধ করার মতো উল্লেখযোগ্য রাজনীতিবিদও নেই। উত্তরাঞ্চলের জনগণকে তাই কাঁদতে হয় নিভৃতে। সে কান্নার শব্দ কিংবা জল কোনোটাই সরকারের কাছে পৌঁছায় না। তাই, কুড়িগ্রামের মানুষ হয়তো কাঁদতেও ভুলে গেছে। একেই বলে অতি শোকে পাথর।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com

ঈদযাত্রায় তেমন ভোগান্তি নেই

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল বাড়িমুখী মানুষের ভিড়। মহাসড়কে যানজট না থাকায় মানুষ মোটামুটি স্বস্তি নিয়েই বাড়ি গেছে। অধিকাংশ ট্রেনই সময়মতো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
অবশ্য নগরের যানজটের কারণে টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাটে পৌঁছাতে অনেককেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এই ভোগান্তি মেনে নিয়েই তাঁরা বাড়িমুখী হয়েছেন। এই কষ্ট বাদ সাধতে পারেনি ঈদযাত্রায়। যাত্রীরা বললেন, ভোগান্তি হবে জেনেই তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ভোগান্তি অনেক কম।
গতকাল সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও সদরঘাটে বাড়তে থাকে বাড়িমুখী মানুষের ভিড়। বিকেলের পর এই ভিড় আরও বাড়ে। বাস ও ট্রেন ছাড়ার সময়সূচি মোটামুটি ঠিক থাকায় টার্মিনাল, স্টেশনে মানুষের ভোগান্তি তেমন ছিল না। দূরপাল্লার কয়েকটি বাসের চালকেরা বললেন, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও গাড়ি একেবারে থেমে থাকছে না। চাপের কারণে কিছু কিছু স্থানে গাড়ি কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। কাছাকাছি দূরত্বের বাসগুলো বেশিবার যাতায়াত করতে পারছে।
গত বুধবার বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ভোগড়ায় মহাসড়কে পানি জমে যাওয়ায় ওই পথ দিয়ে বাড়িমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ট্রাক বিকলের কারণে যানজটে পড়ে সেদিন দুর্ভোগ সইতে হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে বাড়ি যাওয়া মানুষকেও।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতেই হবে! তাই ট্রেনের ছাদে উঠে, ইঞ্জিনে চড়ে, দরজায় ঝুলে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছে মানুষ। রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে গতকাল তোলা ছবি l প্রথম আলো
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর যানজটপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ঈদের আগে মেঘনা সেতুর মেরামত কাজ বন্ধ রাখা হবে। ঈদের পর সেনাবাহিনী মেরামতকাজ করবে। ঈদে মানুষ যাতে স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারে, সে জন্য মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে কঠোরভাবে কাজ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
যানজট নেই মহাসড়কে: ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে প্রতিবছর ঈদের আগে তীব্র যানজট হলেও এবার চিত্র ভিন্ন। বিকেল পর্যন্ত এই মহাসড়কে যানজট হয়নি। নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে যানবাহন। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে কোথাও কোথাও গতি ছিল কিছুটা ধীর।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বিভিন্ন মোড়, জনবহুল এলাকায় পুলিশ তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে। যানজট লেগে গেলে দ্রুত সেখানে পৌঁছার জন্য মোটরসাইকেল দলও কাজ করছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে একাধিক রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেও তেমন যানজট ছিল না।
বাস ছাড়ছে মোটামুটি সময় মেনে: বিভিন্ন টার্মিনালে যাত্রী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, অন্য বছরগুলোতে বাড়তি ভিড়ের সঙ্গে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজটের কারণে বাস ছাড়ার নির্ধারিত সূচি ভেঙে পড়াসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি চরমে ওঠে। তবে এবার গতকাল পর্যন্ত এসব সমস্যা অনেক কম।
গতকাল সকাল থেকে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুরে গিয়ে যাত্রী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এমন কথা বললেন।
কল্যাণপুরে রাজশাহীগামী বাস ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টারের সামনে কথা হয় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহাবুব হোসেনের সঙ্গে। নির্ধারিত বাসে ওঠার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকা মাহাবুব বললেন, গত কোরবানির ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টারেই তাঁকে তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার ঠিক সময়েই বাসে উঠতে পারছেন।
কল্যাণপুর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে চলাচলকারী ইয়েলো লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ঈগল পরিবহন, এ কে ট্রাভেলস, সোহাগ পরিবহনসহ আরও কয়েকটি পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপকেরা বলেন, মহাসড়ক কিংবা ফেরিঘাটে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়নি। তাই বাস ছাড়তেও খুব বেশি দেরি হচ্ছে না।
এ সময় লঞ্চ পারাপারের বাসগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে উঠতে দেখা যায় কয়েকজনকে। বাসের দুই সারির আসনের মাঝখানের চলাচলের জায়গায় মোড়া পেতে বসার ব্যবস্থা হয়েছে তাঁদের। মাদারীপুরগামী একটি বাসের যাত্রী আবদুল খালেক বললেন, মাঝের এ রকম পাঁচটি আসনের প্রতিটির জন্য তাঁকে ৫০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে।
কল্যাণপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের বাস ছাড়ে। এসব বাসের কাউন্টারের কর্মীরাও বললেন, পথে যানজট না থাকায় সময় ঠিক আছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালেও বাড়িমুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, এই টার্মিনাল থেকে সাধারণত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ স্বল্প দূরত্বের জেলাগুলোতে বেশি বাস চলাচল করে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কিছু বাসও এখান থেকে ছাড়ে।
যাত্রীদের কণ্ঠেও ছিল সন্তুষ্টির সুর। জামালপুরগামী ইলিয়াস শেখ হাসতে হাসতে বললেন, ‘ঈদে ভিড় হইব না তো কখন হইব। বাস ঠিকঠাক ছাড়লেই হইলো।’
অধিকাংশ ট্রেন চলেছে সময় মেনে: কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৩টি ট্রেন ও তিনটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে গেছে। সকালের দিকে চারটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়লেও বাকি ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেছে। মহানগর প্রভাতী, একতা, নীলসাগর ও সুন্দরবন ট্রেন এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। সময়মতো অধিকাংশ ট্রেন ছাড়ায় স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় তেমন ছিল না। ভিড় ছিল ট্রেনে।
বেশির ভাগ ট্রেনের ছাদেই যাত্রী দেখা গেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনগুলোর ছাদে যাত্রীসংখ্যা ছিল বেশি।
সকালে ফাঁকা, বিকেলে জট: গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ দুটি মহাসড়কই সকালে ছিল ফাঁকা। কিন্তু বিকেল তিনটার পর থেকে পাল্টে যায় চিত্র। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় থেমে থেমে যানজটও হয়। এ সময়ে দুই মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা শত শত পুলিশ সদস্যকেও যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হয়। ঈদের আগের ও পরের তিন দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও গতকাল গাজীপুরে মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলতে দেখা গেছে।
কোনাবাড়ী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. দাউদ খান বলেন, ‘ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্ধ রাখার কথা জেনেছি, কিন্তু বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মহাসড়কে এসব গাড়ি থামাতে গিয়ে আরও বিপত্তিতে পড়ছি। যানজট হচ্ছে। ভোগড়া বাইপাস দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব গাড়ি বন্ধ না করায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাক-ভ্যান চলছে, যানজট হচ্ছে।’
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কথা হয় বাসচালক মোতালেবের সঙ্গে। তিনি বলেন, উত্তরা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী আসতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বর্ষা সিনেমা হলের পাশে, বাসন সড়ক, গাজীপুরা, টঙ্গী কলেজ গেটসহ বিভিন্ন স্থানে অগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউটার্ন বন্ধ না হওয়ায় গাড়ি ঘোরানোর জন্য মাঝেমধ্যে যানজট হচ্ছে।

বিলেতের স্ন্যাপশট: বিলেতি ইফতার ও ঈদ by শামীম আজাদ

ইফতার করতে বসেছি এক নিমন্ত্রণে, পেস্তা প্লেটে নিয়ে। সামনে সৌদি খেজুর, ভারতীয় ছোলা ভাজা ও ডালের পেঁয়াজু, পাকিস্তানি রুহ আফজার শীতল শরবত, ভারতীয় চালের খিচুড়ি ও কাচ্চি, মিয়ানমারের মাছ ভাজা, ব্রিটিশ মুরগির কোরমা ও ভেড়ার কাবাব। ফল আলাদা রাখা হয়েছে। সেখানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার কলা ও নরম শ্যারন, ইউরোপিয়ান আপেল, ন্যাক্টারিন ও প্লাম। আরও আছে ব্রিটিশ দুধের পাশে পাকিস্তানি হানি ম্যাঙ্গো। এখানে বাংলাদেশের তো কিছু নেই! হঠাৎ দেখি একজন মুড়িমাখা নিয়ে ঢুকল—বাংলাদেশের মুড়ি!
বিলেতের ঈদ-বাণিজ্যে বাংলাদেশ নেই। আমরা যা আহার করি তার জন্য নাহয় জিবের কাছে সমর্পিত হয়েছি বলে ধরে নিলাম। কিন্তু পোশাক? পাকিস্তানি পাঞ্জাবি, সালোয়ার, দুনিয়ার চুমকি লাগানো ভারতীয় লেহেঙ্গা ও শাড়ি, আর সুইস শিফন। ঈদের পাশাপাশি বিয়েশাদিতেও আমরা সিরাজ বা টিপু সুলতান। আজকাল ছেলেরা আবার তলোয়ারও রাখে। মেয়েরা হয়ে ওঠে আনারকলি ও ফাতেমা জিন্নাহ।
খেতে বসে এই ভাবনার কিনার পাই না। ঈদের সময় হলে শেষ রোজায় চান্দ্ররজনীতে এখানে একসঙ্গে প্রথম হুলুস্থুল শুরু করে বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বিচিত্র এক সম্মিলিত সুরেলা হুংকারে নজরুলকে নিয়ে তারা গোটা ইউরোপবাসীর ড্রয়িং রুমে লাফিয়ে পড়ে। ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ’-এর বাংলাদেশি ঈদ আগমনী সংগীতে।
ইংল্যান্ডের ঈদ হয়ে উঠেছে এক মহাপরাক্রমশালী ইসলামি পার্বণ। ঈদমেলা, ঈদ ধামাকা, ঈদবাজার, ঈদ মেহেদি, ঈদ ফ্যাশন, ঈদ রেসিপি ইত্যাদি নামের আয়োজন আর আহাজারিতেই জমে ওঠে ঈদ-আনন্দ।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে গিয়ে ব্রিটেন একসময় যে উদারনীতি গ্রহণ করেছিল, এ তারই ফল। এখন এ দেশেই স্কুল ইউনিফর্মে ইসলামি উর্দি থেকে শুরু করে হালাল খাবার ও হিজাবের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নারীদের আলাদা শিক্ষাব্যবস্থার দাবিও উঠছে। এসব উৎসবের দিনগুলোয় কোনো কোনো অঞ্চলকে চেনাই যায় না যে এ-ই বিলেত! ঈদের আগের রাতে লন্ডনের গ্রিন স্ট্রিট, ইলফোর্ড লেইন, হোয়াইট চ্যাপেল রূপান্তরিত হয় ছোট ছোট ভারত, পাকিস্তান আর বাংলাদেশে। শুধু এর বিস্তার নয়, সেই সঙ্গে বিলেতেও জন্ম নিয়েছে ইসলামি সন্ত্রাসী। বিলেতি-বাংলাদেশি নারীরা এমনকি সন্তান সঙ্গে নিয়ে এ দেশ থেকে পালিয়ে ‘ধর্মযুদ্ধে’র জন্য চলে যাচ্ছে সিরিয়ায়। অভিবাসী কানুন ক্রমেই কড়া করেও হালে পানি নেই হোম অফিসের।
এক চান্দ্ররজনীতেই বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট রেমিট্যান্সের সব চলে যায় বাংলাদেশি ছাড়া আর অন্যান্য দেশের পাতে। পাগল হয়ে পুরুষ-নারীরা কেনেন বিলেতে আমদানি করা চুমকি জরি লাগানো সিনথেটিক পাকিস্তানি পায়জামা কুর্তা, ভারতীয় শাড়ি ও সালোয়ার, আরবি আলখেল্লা আর ফিলিস্তিনি প্যাটার্নের স্কার্ফ। তাঁরা কেনেন না বাংলাদেশি সুতি কিংবা শাল। কেনেন না টাঙ্গাইলের তাঁত বা মিরপুরের বেনারসি বা ঢাকাই জামদানি। সহজে তা পাওয়াও যায় না। রাত এক-দেড়টা পর্যন্ত গাড়ির হর্ন, এলোপাতাড়ি আড্ডা, এ দেশে ঈদ-বাণিজ্য মৌসুমে এখন মূলধারার বিপণিকেন্দ্রও মনোহর হয়ে ওঠে এথনিক সাজে। বিলেতে বসবাসকারী অনাবাসী মানুষের সব সাধ পূর্ণ করতে এরা এমন ব্যবসা করেন যে এ হয়ে উঠেছে এ দেশের ক্রিসমাসের মতোই আরেকটা ব্যবসা মৌসুম পথে পথে মেহেদি, ঠান্ডা শরবত আর কুলফির সঙ্গে আসে ভিনদেশি ঈদ-বাণিজ্যের এক মহা সুযোগও। বিভিন্ন দেশ থেকে আসে খোরমা, খেজুর, বাদাম, পেস্তা, সেমাই, মাংস, পান-সুপারি, মেহেদি, মিষ্টি, শাড়ি, সালোয়ার, পাঞ্জাবি ও পোশাক। ভোক্তার সিংহভাগই কিন্তু আমাদের দেশের! কাজেই সারা বছর শাক-শুঁটকি খেয়ে বিদেশের ঈদ-বাণিজ্যে বাংলাদেশকে ফেলে দিই দূরে।
অথচ কেবল বিলেতেই আছেন সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ। আর তার সবাই এই ঈদে কিনছে একই রকমের পোশাক পরিচ্ছদ। সবাইকে লাগে যেন এক পরিবারের বা এক দেশেরই জ্ঞাতি। এদের বচন শোনা না গেলে এরা যে বাংলাদেশি, তা-ও বোঝার উপায় নেই। পুরো ইউরোপেও অনুরূপ পরিস্থিতি। বাংলাদেশি সব টেলিভিশনে ওই সব পণ্যেরই বিজ্ঞাপন আর তার বিস্তার। দু-একজন সেলিব্রিটি ছাড়া কেউ পরেন না দেশি পোশাক। তাই ঈদ এলে আমার ক্রন্দন আসে। মনে পড়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা দেশি ফ্যাশনের পক্ষে যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তিন দশক আগে আমাদের দেশে দেশি ফ্যাশনের চল শুরুতে তা ভূমিকা রেখেছিল। সাপ্তাহিক বিচিত্রার শাহাদত চৌধুরীকে কান্ডারি করে, গোটা বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতে যে দেশি বস্ত্রের বান ডেকেছিল—আজ তার হাড়ে হাড়ে কেবল হাহাকার শুনি।
আগে এখানে আড়ং ছিল, এখন নেই। নিবু নিবু করে জ্বলছে নগরদোলা আর মিতালি। যাঁরা স্বকীয়তা বজায় রাখতে চান, তাঁরা দেশ থেকে পোশাক আনিয়ে নেন অথবা ওই কটি দোকানেই ভিড় করেন। স্ট্রিট মার্কেটে বাংলাদেশি পোশাক বিক্রেতাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতে বলেছিল, ‘আপা, আমাদের দেশি শাড়ির কম দাম। মানুষের ঈদ বাজেট অনেক বিরাট।’ তো?—এত কম দামে তারা ঈদ করবে না। এটা একটা কথা হলো?
এ দেশে ঈদ-বাণিজ্য মৌসুমে এখন মূলধারার বিপণিকেন্দ্রও মনোহর হয়ে ওঠে এথনিক সাজে। বিলেতে বসবাসকারী অনাবাসী মানুষের সব সাধ পূর্ণ করতে এরা এমন ব্যবসা করেন যে এ হয়ে উঠেছে এ দেশের ক্রিসমাসের মতোই আরেকটা ব্যবসা মৌসুম। এখন খাঁটি ব্রিটিশ সুপার মার্কেটগুলোর ‘এশিয়ান’ র্যাকগুলোও ভরে যাচ্ছে বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি পণ্যে। সেখানেও আমরাই মূল খদ্দের হলেও মূল বাণিজ্য হচ্ছে অন্যদের। অথচ কাঁঠাল থেকে শুরু করে কইতর, শাক-শুঁটকিসহ তিব্বত স্নো, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি—সবই কিন্তু আসছে। এসবের ক্রেতা মূলত বাংলাদেশিরাই। হতাশা, পরিবর্তনটা এল না পোশাকের ক্ষেত্রে ও বড় বাজেটে!
বিদেশে দেশি পোশাক প্রচলনের মহান ভূমিকাটা এখানের দেশি ফ্যাশন হাউস, টিভি, সংবাদপত্রগুলো এবং ব্যবসায়ী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সবাই মিলে কিন্তু করতে পারেন। আমরা যেভাবে সবাই একযোগে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেছি, এখানেও তা করার সুযোগ আছে। নাহলে আমারই বঁধুয়া আনবাড়ি চলে যাবে আমাদের আঙিনা দিয়া! আর আমরা তুলব তারই সেলফি!
ল­­ন্ডন
শামীম আজাদ: কবি, কলামিস্ট ও শিক্ষাবিদ।
lekhok@gmail. com

উৎসুক চোখ আজ খুঁজবে এক ফালি বাঁকা চাঁদ

আকাশের কোণে এক ফালি বাঁকা চাঁদ খুঁজতে আজ শুক্রবার বিকেল থেকেই উৎসুক হয়ে উঠবে লাখো মানুষের দৃষ্টি। প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে দেখা পেলে। আনন্দধারা বয়ে যাবে ঘরে ঘরে। টিভি-বেতারে ভেসে আসবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই চিরচেনা গানের সুর ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...’। পাড়া-মহল্লার মসজিদ থেকে ভেসে আসবে ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনি।
এ বছর পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শুরু হয়েছিল শুক্রবার থেকে। আজ যদি শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠে, তবে শুক্রবারেই মাহে রমজানের সমাপ্তি। ঈদুল ফিতর হবে শনিবার। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর নিয়ে এই আনন্দময় অনিশ্চয়তা প্রতিবছরই থেকে যায়। আজ যদি চাঁদ না-ও দেখা যায়, তবে তাতেও আক্ষেপের কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে ৩০টি রোজা পূর্ণ হবে। ঈদ হবে রোববার।
গত এক মাস ছিল সংযমের। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কৃপা লাভের মধ্য দিয়ে বিগত জীবনের পাপরাশি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় রোজা পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরআন পাঠ করেছেন, দান খয়রাত করেছেন, মগ্ন থেকেছেন বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে। মাসব্যাপী এই সিয়াম সাধনার পরিসমাপ্তি ঘটবে ঈদের আনন্দের মধ্য দিয়ে।
ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফনির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এ দিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয় উদ্ভাসিত হয় এই আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে।
এবারের ঈদের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে টাইগার ক্রিকেটারদের দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচের সিরিজ বিজয়। পাকিস্তান, ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় তিন মাস ধরে দেশের মানুষকে আনন্দে-উচ্ছ্বাসে উৎফুল্ল করে রেখেছেন ক্রিকেটাররা। বাঘের গর্জন এখন সত্যিকারের ভীতির সঞ্চার করেছে ক্রিকেট বিশ্বে। জাতিকে গর্বিত করেছেন তাঁরা। সেই আনন্দ-গর্বের রেশ থাকবে ঈদের উৎসবেও।
এদিকে ঈদের কেনাকাটার পর্ব ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছেন প্রায় সবাই। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী থেকে গ্রামের বাড়িতেও যাত্রা শুরু হয়েছে গত বুধবার থকেই। আজ চাঁদ দেখা গেলে রাত থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হবে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার তৈরির আয়োজন। ‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোর্মাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবে না রোগী, বন্দী বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও। হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দীদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে প্রথাগতভাবে। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও থাকবে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।
ঈদ উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। আর এই আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে আছে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
বাণী: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এসব বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার মঙ্গল কামনা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ঈদুল ফিতর সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন গড়ে তোলে। সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ঈদ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির অনুপম শিক্ষা দেয়। বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, পবিত্র ঈদ মানুষের মনের সকল হিংসা-বিদ্বেষ, সংকীর্ণতা, কুটিলতা পরিহার করে অনাবিল আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতির বারতা বয়ে আনে। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এই ঈদ সামাজিক কদর্যতা, অন্যায় ও নিষ্ঠুর অসাম্যকে অতিক্রম করে এক নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে।

দুশ্চিন্তায় পাঁচ মন্ত্রী by দীন ইসলাম

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার চিন্তায় আছেন সরকারের ডাক সাইটে পাঁচ মন্ত্রী। এর মধ্যে তিন মন্ত্রী নানা কারণে বিতর্কিত। বাকি দুইজন বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। গত ৯ই জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি ও গতকাল পুনরায় নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ১৪ই জুলাই মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানোর পর থেকে তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ রাখছেন ঈদের পর পরই মন্ত্রী বাদ বা দপ্তর পুনর্বণ্টন হবে কিনা। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন এসব মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস), সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (এপিএস) এবং স্টাফরা। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে ‘নিজ মন্ত্রী’র সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত তিন মন্ত্রী সবচেয়ে বেশি টেনশনে আছেন। এ তালিকায় প্রথমেই নাম থাকা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া টেনশনে রয়েছেন সবচেয়ে বেশি। নিজ মেয়ের জামাই র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই চাপের মুখে আছেন তিনি। তার মন্ত্রিসভায় থাকার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এদিকে গত ১৪ই জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মায়াকে খালাস করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে নতুন করে আপিল শুনানির আদেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশের পর সবমহল থেকেই মায়ার মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদে থাকা না থাকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০০৭ সালের ১৩ই জুন সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। অন্যদিকে ব্রাজিল থেকে পচা গম আমদানি করে বেকায়দায় পড়েছেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। পচা গম আমদানির প্রক্রিয়া ও এর দর নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মন্ত্রী জাতীয় সংসদে পচা গমের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে আরও সমালোচনার মুখে পড়েন। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকেই গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন তিনি। গত ১৪ই জুলাই নতুন প্রতিমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই মন্ত্রী কামরুলের ঘুম অনেকটা হারাম হয়ে গেছে বলে মনে করছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। এদিকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কামরুল ও মায়ার বিতর্কিত ভূমিকার কারণেও তাদের উপর নাখোশ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ কারণেও তারা চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এবং এলাকায় একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে বিতর্কের খাতায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা ভাতা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তুলেছেন তিনি। এ খবরটিও আছে সরকারের ঊর্ধ্বতনদের কাছে। এসব কারণেও তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক ও ভূমিমন্ত্রী শরিফ উদ্দিন খান ডিলু বয়সের কারণে মন্ত্রণালয়ে আসতে কষ্ট হচ্ছে। তারা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দলেও সময় দিতে পারেন না। এ কারণেও তাদের ব্যক্তিগত স্টাফরা রয়েছেন চিন্তায়। কারণ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লে সমস্যার মুখে পড়তে হবে তাদের। সরকারের উচ্চ পর্যায় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আমলনামার ফাইল এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ঈদের পরই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দল ও সরকারের ভাবমূর্তি আরও বাড়াতে চান। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভা থেকে কিছু মন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি দপ্তর পুনর্বন্টন হবে এটা অনেকটা নিশ্চিত।

‘কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়’ by শরিফুল হাসান

হাতকড়া পরা ও শিকলে বাঁধা ৯৪ বাংলাদেশি। দেশে
ফেরত পাঠানোর আগে গত বৃহস্পতিবার এভাবেই
তাঁদের মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আনা
হয়। বুধবার রাত ১০টা থেকে গতকাল বেলা সাড়ে
তিনটা পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ১৭ ঘণ্টা শিকলে বন্দী ছিলেন
তাঁরা। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁরা দেশে ফেরেন
‘আর কোনো দিন কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়।’ ধরা গলায় মাদারীপুরের মোহাম্মদ আতিয়ারের এই কথাগুলো শোনাল আর্তির মতো। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগমুহূর্তে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তাঁর হাতে হাতকড়া ও শিকল।
সাগরপথে মানব পাচারের শিকার আতিয়ার। বন্দিদশা থেকে ফিরছেন নিজ দেশ বাংলাদেশে। তাঁর মতো ভাগ্যবিড়ম্বিত আরও ৯৩ জন একই সঙ্গে ফিরছেন দেশে। সারিতে দাঁড়ানো সবার হাতেই আতিয়ারের মতো হাতকড়া, শিকল। সবার পরনে একই রঙের গেঞ্জি। অনেকের শরীরে নির্যাতনের ও চেহারায় আতঙ্কের ছাপ।
বিশাল ও ঝকঝকে বিমানবন্দরের সঙ্গে বেমানান এই দৃশ্য দেখা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার। খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখে আসা এই বাংলাদেশিরা বললেন, হাতকড়া ও শিকল লাগানো হয়েছে গত বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বের করার সময়। এরপর টানা ১১ ঘণ্টার বাসযাত্রা ও বিমানবন্দরে পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষা।
অবশেষে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে খুলল হাতকড়া ও শিকল। বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলল ৯৪ জন বাংলাদেশির। সাগরে ট্রলারে দালালদের নির্যাতন, সহযাত্রীর মৃত্যু, অনিশ্চিত সাগরযাত্রা, উদ্ধারের পর ক্যাম্পে বন্দিত্ব, হাতকড়া—সব পেছনে ফেলে তাঁরা পা রাখলেন নতুন জীবনে।
স্থানীয় সময় গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁদের বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকার সময় সন্ধ্যা ছয়টার আগে তাঁরা দেশে ফেরেন। তাঁদের ৩৬ ঘণ্টা আগে আরও ৯৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁরাও সাগরপথে মানব পাচারের শিকার হয়েছিলেন।
গতকাল ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে মোহাম্মদ আতিয়ার করুণ কণ্ঠে বললেন, ‘সাগরে ট্রলারে থাকার সময় পানি না পেয়ে প্রস্রাব খাওয়া, চোখের সামনে না খেয়ে একের পর এক সহযাত্রীর মৃত্যু, দালালদের ভয়াবহ নির্যাতন—এসব দেখে জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ নতুন জীবন দিয়েছে। আর কোনো দিন কেউ যেন এভাবে মৃত্যুর দিকে ঝাঁপ না দেয়। তবে সরকারের কাছে অনুরোধ, যারা এভাবে মানুষকে জোর করে, প্রলোভন দেখিয়ে নরকে পাঠাচ্ছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।’
বিমানবন্দরে আলাপকালে দায়ী দালালদের চিহ্নিত করে ধরার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ জানান আতিয়ারসহ কয়েকজন। বিমানবন্দরে ঘণ্টা দুয়েক কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে যে ৯৪ জনকে দেশে পাঠানো হয়, তাঁদের হাতের হাতকড়া খুলে ফেলা হয়েছিল কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বাস থেকে নামানোর সময়। গতকাল হাতকড়ার সঙ্গে যোগ হলো শিকল, খোলা হলো বিমানে তোলার আগে।
শিকল ও হাতকড়া লাগানোর কারণ জানতে চাইলে বিমানবন্দরে থাকা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপসহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান যা বললেন তার মানে দাঁড়ায়, ‘আপনাদের দেশের লোককে বলেন এভাবে যেন আর মালয়েশিয়ায় না আসে।’
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের তো হাতকড়া পরানোর কথা নয়। বিষয়টি তিনি দেখবেন।
গতকাল বাস থেকে নামানোর পর ৯৪ জনকে হাতকড়া-শিকল লাগানো অবস্থায় বিমানবন্দরের ফুটপাতে বসিয়ে রাখা হলো প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। ক্লান্ত¯অনেকে ফুটপাতেই শুয়ে পড়েন। অনেকের হাত ফুলে লাল হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা বারবার জানতে চাইছিলেন, কখন এগুলো খোলা হবে।
এই বাংলাদেশিদের শিকল ও হাতকড়া পরিয়ে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা মালয়েশিয়ার বেসরকারি সংস্থা তেনাগানিতা। বিকল্প নোবেলজয়ী এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এজেল ফার্নান্দেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বাংলাদেশিরা কোনো অপরাধী নয়। তারা মানব পাচারের শিকার। তাদের শিকল ও হাতকড়া পরানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা সরকারকে বলব, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। তাদের সঙ্গে যেন মানবিক আচরণ করা হয়।’
গতকাল দেশে ফেরা ৯৪ জনের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল শিশু-কিশোর। এদের একজন নরসিংদীর মোহাম্মদ রবিন (১৪) বলল, এলাকার দালাল মোস্তফা তাকে জোর করে ট্রলারে তুলেছিল। কক্সবাজারের উখিয়ার মহিউদ্দিন (১৪) বলল, সেখানকার দালাল আজিজ তাকে বলেছিল মাত্র চার দিনেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে। কিন্তু তিন মাস সাগরে ভেসে বন্দী থেকেও তার মালয়েশিয়া আসা হয়নি। শেষ পর্যন্ত¯যখন বেঁচে মালয়েশিয়ার উপকূলে ওঠে, তখন তাকে ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়।
এই ৯৪ জনকে গত ১১ মে লংকাবি উপকূল থেকে আটক করে বেল্লাতি ক্যাম্পে রেখেছিল পুলিশ। এর আগের ৯৪ জনকেও বেল্লাতি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল।
কক্সবাজারের রামুর সাইফুল ইসলাম (১৫) বলল, তারা পাঁচ ভাই। কাজেই দালাল আবুবকর তাকে বিনা পয়সার মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বললে রাজি হয়। কিন্তু সাগরে নিয়ে নির্যাতন করে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে। এখন তার পরিবার সর্বস্বান্ত।
চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি মাখানো এই কিশোরেরা বলল, বুধবার রাত ১০টায় ক্যাম্প থেকে বাসে তোলার আগে তাদের প্রত্যেককে লোহার পাইপ দিয়ে তিনটি করে বাড়ি দিয়েছে পুলিশ। এরপর সবার হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। প্রতি ছয়জনকে আবার শিকলে বাঁধা হয়েছে। একজনকে বাথরুমে যেতে হলে ছয়জনকেই সঙ্গে যেতে হয়েছে।
নরসিংদীর সাইদুল (১৯) নিজের পিঠে নির্যাতনের চিহ্ন দেখালেন। সেদিকে বেশি তাকিয়ে থাকা দায়। সাইদুল বললেন, ট্রলারে ওঠার পর দালালেরা টাকার জন্য এই নির্যাতন করেছে। ফলে সেখানে ঘা হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। তবে এখন দেশে ফিরে সব কষ্ট ভুলে যাবেন।
এই বাংলাদেশিরা জানান, মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে ও জোর করে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলারে ওঠানো হয়েছিল। তাঁদের মতো মানুষভর্তি আরও ১৮টি ট্রলার ছিল। কিন্তু তাঁদের দুটি ট্রলারই কেবল উপকূলে ভিড়তে পেরেছে। বাকি ১৮টি কোথায় গেছে, তা তাঁরা জানেন না।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র বলেছে, গতকাল ফেরা ৯৪ জনসহ সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩৫৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ শুক্রবার ফিরবেন আরও ৩৭ জন। এ ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় ২৫০ জন।
এর আগে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তবে কারও কাছ থেকেই দালালদের নাম জানার চেষ্টা হয়নি বলে তাঁদের কয়েকজন জানান।
গতকাল মালয়েশিয়া থেকে যাঁরা ফিরলেন তাঁদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা ৫০ জন দালালের নাম বললেন, যারা তাদের ট্রলারে তুলেছিল। ওই ৫০ জন হলো: বান্দরবানের নুর আলম, আবদুর রহমান, কক্সবাজারের শহিদ আলম, আনিস, বাদশা, শুক্কুর, সুরুজ আলী, বাচ্চু, রামুর আবুবকর, ফরিদ, পেকুয়ার হোসেন, টেকনাফের আবদুল আমিন, আজিজ, সিদ্দিক, মোহাম্মদ রিদওয়ান, চকরিয়ার হাবিব, ঝিনাইদহের রাজ্জাক, সুনামগঞ্জের কাপ্তান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের হানিফ, নরসিংদীর মোস্তফা, আলমগীর, শফিক, সিরাজুল, আলমগীর, সাইদুর, চুয়াডাঙ্গার বকুল, সিরাজগঞ্জের পাষান আকন্দ, জিন্নাত আলী, ঝন্টু, ফরিদপুরের নগরকান্দার চান মিয়া, জামান, যশোরের রুবেল, মাদারীপুরের সোহেল ও মিজান।
কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুশাররাত জেবিন বলেন, সাগরপথে নির্যাতন, মুক্তিপণ আর মৃত্যুর যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া জরুরি। এ জন্য দালালদের চিহ্নিত করে বিচার করা দরকার।

যে কারণে বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলবে না অস্ট্রেলিয়া

কালেভদ্রেই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেখা হয় বাংলাদেশের
বড় দলগুলোর মধ্যে কেবল তিনটিকে এখনো সিরিজে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই একটি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে আসছেও। কিন্তু দারুণ ছন্দে থাকা মাশরাফি বাহিনীর সামনে অস্ট্রেলিয়াকে পড়তে হচ্ছে না। অক্টোবরের সেই সফরে যে শুধু দুটো টেস্ট খেলবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
সফরে দুটি টেস্ট থাকলেও নেই সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আফসোস করছেন। অনেকে মাত্রই জানলেন, অস্ট্রেলিয়া এই সফরে ওয়ানডে খেলবে না। অনেকেই বিস্মিত। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন?
সেই প্রশ্নের উত্তর ​দিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘আসলে এই সূচি কয়েক বছর আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারাই ওয়ানডে খেলতে চায়নি। সব দলেরই নিজস্ব কিছু কৌশল থাকে। আমাদের কৌশল ছিল পূর্ণ সিরিজই খেলার। তবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দলগুলোর ক্ষেত্রে তাদের চাওয়াই গুরুত্ব দিতে হয়। ক্রিকেট বিশ্বে এমনটাই হয়ে আসছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে প্রায় তিন মাসের সফর শেষে কদিনের বিশ্রাম। এর পরই বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশ সফরের পর পরই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট। মাঝখানে তাই হয়তো ওয়ানডে খেলার ‘ঝামেলা’য় যেতে চায়নি অস্ট্রেলিয়া।
২০১১ বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশে এসে তিনটি ওয়ানডে খেলে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, সেবার টেস্ট খেলেনি। এই প্রশ্নও উঠছে, সেটাই এই এই সফরের আগাম ওয়ানডে সিরিজ ছিল কিনা। নিজাম উদ্দিন অবশ্য পুরোপুরি একমত নন এ প্রসঙ্গে। কোনোভাবে ওই সফরে ওয়ানডে সিরিজ জুড়ে দেওয়া যায় কিনা, এমন সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। একটি টেস্ট বাদ দিয়ে তিনটি ওয়ানডে খেলার বিকল্প প্রস্তাব দিলেও নাকি লাভ হবে না।
তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে সোনালি সময়ে অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে মুখোমুখি হতে হলো না। বাংলাদেশও নিজেদের সামর্থ্যের আরেকটি পরীক্ষা নিতে পারত সেই সিরিজে, তাও হলো না। এ বছর বাংলাদেশের আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচই নেই। রেটিং পয়েন্ট তাই ৯৬-এ আটকে থাকছে। আগামী ১৫ মাসে বড় কোনো দলের বিপক্ষে আপাতত কোনো ওয়ানডে সিরিজও নেই।
আগামী বিশ্বকাপের বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিটি ম্যাচ আর রেটিং পয়েন্ট সোনার চেয়েও দামি। অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের মাঠে পেলে বাংলাদেশের জন্য ভালোই হতো। নিজাম উদ্দিন খানিকটা রসিকতার সুরেই বললেন, ‘ওরা অনেক আগেই হয়তো অনুমান করেছে, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দুর্দান্ত হয়ে উঠবে। এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ানডে খেলতে রাজি হয়নি (হাসি)!’

সারা দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৪০০ চাঁদাবাজ by নুরুজ্জামান লাবু

ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। চিহ্নিত সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও জড়িয়ে পড়েছে চাঁদাবাজিতে। দাগি অপরাধীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নাম করে ফায়দা লুটছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ঈদ-সালাম পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এমনকি চিরকুটে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দেয়ার নির্দিষ্ট তারিখও উল্লেখ করে দিচ্ছে। চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি ও নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কখনও বাসার সামনে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু রাজধানীতেই নয়, সাত বিভাগীয় শহর ও জেলায় জেলায়ও চলছে চাঁদাবাজি। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের চাঁদাবাজদের একটি তালিকা করেছে। ওই তালিকায় ৩৯৭ চাঁদাবাজের নাম রয়েছে। যার মধ্যে অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন। এ ছাড়া পলাতক ও কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামও রয়েছে তালিকায়। ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, চাঁদাবাজ যারাই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। চাঁদাবাজদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। চাঁদাবাজি বন্ধ ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কারাবন্দি ও দেশের বাইরে অবস্থান করা অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীও ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। কারাবন্দি সন্ত্রাসীদের মধ্যে কিলার আব্বাস সবচেয়ে এগিয়ে। এ ছাড়া সুইডেন আসালম, জোসেফ, আরমান, সানজেদুল ইসলাম ইমন, ইব্রাহীম, লম্বু সেলিমও কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেই চাঁদাবাজি করছে। দেশের বাইরে বসে মিরপুরের শাহাদত, রমনা-মতিঝিলের জিসান, বছর দুয়েক আগে মুক্তি পাওয়া বিকাশ, তানভিরুজ্জামান রনি, মশিউর রহমান কচির নামে তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি করছে। পহেলা রমজান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে থানা পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে শতাধিক জিডি ও অভিযোগ জমা পড়েছে। সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির পাশাপাশি সড়ক-মহাসড়কেও চাঁদাবাজি চলছে সমানতালে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন। যদিও গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঈদ উপলক্ষে সড়কে কোন ব্যক্তি, মহল ও সংগঠনকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না। এটি ১০০ ভাগ মুক্ত রাখা হবে। হাইওয়ে পুলিশ এ চাঁদাবাজির ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।
সূত্র জানায়, রাজধানীসহ বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে বিপণিবিতানকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতি মোটা অঙ্কের টাকা সংশ্লিষ্ট দাবিকৃত চাঁদাবাজ গ্রুপের কাছে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। পরে সমস্যা হতে পারে এ কারণে গোপনে রফা করে অর্থ তুলে দেয়া হয় চাঁদাবাজদের হাতে। গত ২রা জুলাই মেট্রো হোমস লিমিটেড নামে এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্যোৎস্নারা বেগম এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি প্রসঙ্গে র‌্যাব সদর দপ্তরে একটি অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, পান্থপথের ৯১ নম্বর প্লটে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন তারা। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় ইরানের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। গত মাসের ২১ তারিখ এ বিষয়ে শেরেবাংলানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১০০) করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানী মার্কেট এলাকা থেকে চাঁদার টাকাসহ ১০ চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ১০ জনই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজরা হলো কাঁঠালবাগানের নাজিমুদ্দিন বাবু, পারভেজ, শহিদুল ইসলাম ওরফে ঢালী বাবু, রাজাবাজার-ইন্দিরা রোড ও কাজীপাড়ার সাহাবুদ্দিন বাবু, ধানমন্ডি এলাকার সানজিদুল ইসলাম ইমন, মণিপুরীপাড়ার মাহাবুব ইসলাম ওরফে শিপার ওরফে তানভীর, মনি সিং, রায়েরবাজারের আলম, মোহাম্মদপুরের শমসের মমিন ওরফে শমসের ওরফে শিমুল, নবীর হোসেন, এস এম শাফিন চৌধুরী ওরফে রাজীব, ধানমন্ডি শঙ্করের সালেক খান বাবু ওরফে নীলু বাবু, নিউ মার্কেট এলাকার সোহেল ওরফে কৃষ্ণা সোহেল, তেজগাঁওয়ের লুৎফর রহমান ওরফে এল রহমান, আশিক, হাতিরপুলের রবিন, মধুবাজারের লিটন মিয়া, অ্যালিফ্যান্ট রোডের সাকিল, আগারগাঁওয়ের মিন্টু, তেজতুরী বাজারের নবী সোলায়মান, কাজীপাড়ার কাওছার ওরফে কিলার কাওছার, শেওড়াপাড়ার মশিউর, মালিবাগের নাজিমউদ্দিন ওরফে হোন্ডা বাবু ওরফে টিএন্ডটি বাবু, মগবাজারের আরমান, শাহাজাহানপুরের লিটন ওরফে কসাই লিটন, মতিঝিলের মিজানুর রহমান টিটু ওরফে কাইল্যা টিটু, সাগর হোসেন, মীরবাগের মোল্লা মাসুদ, মগবাজারের তানভীরুজ্জামান রনি, সুব্রত বাইন, মকবুল হোসেন মুকুল, ছমির উদ্দিন, নয়াটোলার জাকির, মতিঝিল আরকে মিশন রোডের নাছির, সোহেল মিয়া, খিলগাঁওয়ের সোহেল ওরফে পিচ্চি সোহেল, সবুজবাগের মাকসুদ, পল্লবীর আলামীন, জনি ওরফে জনি সরকার, বাদল ওরফে টারজান, রুবেল, চায়না শরীফ, কামাল হোসেন ওরফে দাউদ কামাল, গলা কাটা বাবু, কাফরুলের আজগর আলী, হাবলু, মাসুদ ওরফে হাতকাটা মাসুদ, ভাষানটেকের জব্বার, শহীদ ওরফে জামাই শহীদ, কল্যাণপুরের আওলাদ হোসেন, মিরপুর বড়বাগের মাকসুদুল আলম মাসুদ, পীরেরবাগের মামুন ওরফে ভোলাইয়্যা মামুন, শাহআলীর আকতার হোসেন, পল্লবী সিরামিক রোডের আমান উল্লাহ, মোহাম্মদ আলী ওরফে পাকিস্তানি, পল্লবী কালাপানির হারিছ ওরফে বোমা হারিছ, বাউনিয়াবাঁধের জুয়েল রানা, বালুর মাঠ বস্তির মুকুল, মনসুর ওরফে তৈরব মনসুর, নূর ইসলাম, রইচ সুমন, রায়হান উদ্দিন মুকুল, বাউনিয়াবাঁধের রিপন, স্কুল ক্যাম্প এলাকার রনি, ভুলু, আদর্শনগরের তাবির, রূপনগরের ইউসুফ মাতব্বর, মিরপুর বড়বাগের মেহেদী হাসান ওরফে মাহাদী, কাফরুল মিজানুর রহমান ওরফে কসাই মিজান, মানিকদীর মিজানুর রহমান ওরফে মানিক, কালশীর মিজানুর রহমান, পল্লবীর মশিউর রহমান ওরফে মশু, ভাষানটেকের নাডু শহীদ, শেওড়াপাড়ার শাহাদত, সাইফুল, কাফরুলের শাহীন ওরফে কসাই শাহীন, ইব্রাহীমপুরের হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, রূপনগরের মাছুম খান ওরফে তোতলা মাছুম, ইব্রাহীমপুরের তুষার আহম্মেদ উজ্জ্বল, কালসীর মজিবুর রহমান ওরফে জামিন, মফিজুর রহমান, মনসুর ওরফে ভৈরব মনসুর, কালাপানির হারিছ, কাফরুলের লিয়াকত ওরফে লিডার লিয়াকত, দুলাল হোসেন, ওবায়েদ ওরফে মোখলেছ, রূপচান খাঁ, কাইয়ুম সরকার জহির ও দুলাল। ঢাকার বাইরে সাভারের জাভেদ, আইয়ুব আলী, ফখরুল আলম ওরফে সমর, কাইয়ুম হোসেন, আশুলিয়ার কোরবান, দুয়ারীপাড়ার রুবেল ওরফে কালা রুবেল, হেমায়েতপুরের বাবু ওরফে টাঙ্গাইল্যা বাবু, রাজশাহীর আলম, আপেল মিয়া, রয়েল, নাটোরের রয়েল, রানা, সোহেল, আমিন, মনির, সেলিম, রংপুরের আবদুল মজিদ, ওলিউর রহমান আলু, নীলফামারীর আনোয়ারুল কবির চৌধুরী, লালমনিরহাটের হুমায়ুন, দিনাজপুরের আনোয়ার হোসেন আনু ওরফে রানু, কুড়িগ্রামের ফরেশ আলী, ঠাকুরগাঁওয়ের মুন্না ওরফে মাসুদুল ইসলাম, গাইবান্ধার গোলাম সারোয়ার বিপ্লব, রিমন হোসেন, শরিফুজ্জামান পল্লব, কুষ্টিয়ার মানিক, রবিউল, হান্নান, এখলাছ, মোজাম্মেল, রোহান, সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, রইচ, নুরুল ইসলাম বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আখেরুল ইসলাম ধনি, সুমন, সরোয়ার, সায়েম, তাসিম, নড়াইলের আবদুল্লাহ ফকির, বাগেরহাটের আবদুল্লাহ, মেহেরপুরের আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিপুল, যশোরের আবুল কাশেম ওরফে হাতকাটা কালু, লাল্টু গাজী, লাভলু ওরফে দানব লাভলু, মোজাফফর হোসেন শিমুল ওরফে হাতকাটা শিমুল, শামীম, সোবহান, সাহেব আলী, নাসিম রেজা, অসিত মণ্ডল, জয়ন্ত মণ্ডল, জিয়ারুল, সানোয়ার, শিমুল, সাজু, ঝিনাইদহের আলতাফ মেম্বার ওরফে আলতাফ, আনোয়ার হোসেন ওরফে দেবু, খবির মাস্টার, রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ছোট তারেক, কুরবান আলী, আতিয়ার রহমান আতিয়ার, আয়নাল মণ্ডল ওরফে কুরবান, ফারুক মণ্ডল ওরফে ছোট ফারুক, কামরুল, রফিকুল ওরফে রাসেল, তরিকুল, শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, চুয়াডাঙ্গার সাহেব আলী, আরিফ ওরফে মামুন, মোকাদ্দেস আলী মালিথা ওরফে মোকাম, ডালিম, আরজুল্লাহ, পিরোজপুরের বাদশা ওরফে রাঙ্গা বাদশা, মেহেরপুরের দুর্জয় রহমান ওরফে বাচ্চু, ওয়াসিম সাজ্জাদ ওরফে লিখন, মাগুড়ার রেঞ্জু, জাহাঙ্গীর আলম খাঁ, কুতুব উদ্দিন, খুলনার মাশরিকুল চৌধুরী ওরফে জয় ওরফে দিলিপ ওরফে দাদা, রাশেদুজ্জামান ওরফে বিপ্লব ফকির, সাইদুর রহমান ওরফে ট্যাংকিং শাওন, হিমাদ্রী রায় মহালদার, জাকাত আলী গাজী, আশরাফ সরদার ওরফে কুদ্দুস, ফারুক, শাহেদ শিকদার, সাতক্ষীরার জুলফিকার শেখ ওরফে ভুট্টু, শরীয়তপুরের কুরবান আলী, চট্টগ্রামের আবদুল মান্নান, মতিন, আবুল কালাম ওরফে বকুইল্যা, আলমগীর, আমির আলী, আজিজ, চন্দন বিশ্বাস, জাইল্যা বাবুল, হানিফুল হক, হাছান আহমেদ ওরফে হাছাইন্যা, ইকবাল, ইমাম শরীফ, ইসরাইল, জসিম উদ্দিন, মামুন, মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন, নিলু বড়ুয়া, নিজাম উদ্দিন, নুরুল আজিম, নূর উদ্দিন, রমজান আলী, রেজাউল করিম বাবলু, সাহাবুদ্দিন আরিফ শাহাদত আলম, শাহিনুর ওরফে শানু, সাইফুল ইসলাম রিপন, সাখাওয়াত হোসেন, শামীম, শফি ওরফে ফরহাদ, ইউছুফ শিবির, জমির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে জামাইল্যা, শাহাদত, ইউসুফ, ইকবাল, হেলাল আকবর, এহসানুল হক, হাতকাটা আরিফ, মাছ কাদের, খলিল, মজিব, বরিশালের মজিব, আফতাব হোসেন, রিয়াজ মাহমুদ মিল্টন, আজিজুর রহমান ওরফে শাহীন, জিয়া উদ্দিন শিকদার, নূরে আলম মুন্না, মতিউর রহমান ওরফে তমাল, আবুল বাশার সাইফুদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, পটুয়াখালীর গোলাম মাওলা, জাহাঙ্গীর আকন, আবদুল হাই, দবির, বাপ্পি তালুকদার, আলাল মিয়া, সোহরাব হাওলাদার, আজাহারুল ইসলাম দিপু, ঝালকাঠির সাইফুল ইসলাম সরদার, মুছা খান, বরগুনার আবদুল খালেক হাওলাদার, নূর ইসলাম খলিফ, ফরিদপুরের মিজানুর রহমান, শহিদুজ্জামান ওরফে শহিদ, নাজমুল বাসার নজু, লুৎফর রহমান তালুকদার, সেলিম মিয়া ওরফে খাসি সেলিম, রাজবাড়ীর গলাকাটা বাপ্পি, নুরু মেম্বার, মাদারীপুরের ইমরান মিয়া, পুলিশ বাবুল, সিলেটের আনছার আলী, শুকুর আলী, সুনামগঞ্জের তাজুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের সিরাজ মিয়া, অহিদ মিয়া, জালাল উদ্দিন, মামুন হোসেন, লাল মিয়া, মিঠু, আলাল উদ্দিন, হবিগঞ্জের আবদুস সালাম, আবদুল হাকিম, আতাউর রহমান সেলিম, মৌলভীবাজারের জাকির হোসেন উজ্জ্বল, মমিনুর রহমান টনি, তাজ উদ্দিন, ময়মনসিংহের আরমান ওরফে সুন্দরী আরমান, প্রতীম চন্দ্র পার্থ, সুজন, আবদুস ছালাম, রাজিউর ইসলাম রাজন, শাহাদৎ হোসেন ওরফে দুখু, মজনু মিয়া, শফিকুল ইসলাম ওরফে শিপু, ঢাকা কামরাঙ্গীরচরের মনির চেয়ারম্যান, নাদিম আহম্মেদ, ইসমাইল হোসেন ভুট্টো, লালবাগের সরোয়ার হোসেন, কালা খোকন, নবাবগঞ্জের জাকির হোসেন, বাদশা, পাভেল মিয়া ওরফে তায়েবুর রহমান, তুষার, কেরানীগঞ্জের বাদশা, শহীদ ওরফে হেদা শহীদ, বাবুল ওরফে খাসী বাবুল, আল আমিন, ইমতিয়াজ ভুইয়া অহিন, তনা ওরফে দাদাভাই, টোকাই সুমন, দোহারের মশিউর রহমান, রাসেল ব্যাপারী, শাহাবউদ্দিন ওরফে শাবু, লক্ষ্মীপুরের আবদুল হাকিম ছোট, আজাদ চৌধুরী, নূর হোসেন শামীম, সালাহ উদ্দিন টিপু, তানভীর হায়দার, নোয়াখালীর জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মান্নান ওরফে মনা, খোরশেদ আলম ওরফে খুইশ্যা, চাঁদপুরের জাফর ইকবাল মুন্না, আকতার হোসেন, হেলাল উদ্দিন, কবির হাওলাদার, রুম্মান গাজী, সুমন বকাউল, সুমন সরকার, কুমিল্লার জালাল, স্বপন, নারায়ণগঞ্জের আসলাম মিয়া, এস এম শাহীন, তমিজউদ্দিন খন্দকার, ইউসুফ হোসেন লিটন, পাবনার আবু সাইদ, আজিজ, লগ বাবু, হীরা, মোশারফ, বাবু, নাজিম উদ্দিন, টাঙ্গাইলের আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল লতিফ রাজু, আমানুর রহমান, শহিদুর রহমান, আলমগীর হোসেন চান, হাবিবুর রহমান শাহী, সিরাজ শিকদার, মোরশেদ আলম, জামালপুরের নজরুল ইসলাম নজু, শাহনেওয়াজ, রাখাল, বগুড়ার ইব্রাহীম পাগলা, সিপার আল বখতিয়ার, লতিফুল করিম, রাশেদ ওরফে হিরা, ওমর খৈয়ম, আমিনুল ইসলাম ওরফে শাহীন, মজনু, সিরাজগঞ্জের শরীফ আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও শাহীন হোসেন, মুন্সীগঞ্জের এলান, খসরু, মান্নান খান, মীর অ্যাপোলো, মমিনুল হক ওরফে টিটু, মনির হোসেন মিঠুল, রাসেল ভুঁইয়া ও শরীফ খালাসী।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে একটি চি?হ্িনত চাঁদাবাজ গ্রুপ কিছু ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করছে। এসব অভিযোগ র‌্যাবের কাছে আসার পর তা তদন্ত করে চাঁদাবাজদের আটক করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। চাঁদাবাজদের মোবাইল ফোনের কয়েকটি সিম কার্ড বন্ধও (ব্লক) করে দেয়া হয়েছে।