Friday, April 11, 2014
ভ্রান্তময় জগতের গল্প
আর পড়তে শুরু করলে বর্ণনা, গদ্যের গঠন, সংলাপ ইত্যাদি লেখাটি পড়তে তাড়িত করে, আবার অনেক সময় থেমে যেতেও ভূমিকা রাখে। পাঠকভেদে নিশ্চুয় রুচির তারতম্য রয়েছে। যা হোক, জাবেদ আমিনের এই ভ্রান্ত মৌনতায় পড়তে শুরু করার আগে শিরোনামটা এক প্রকার অনাগ্রহ জাগায়। মনে হয়, এই নামটা তো মনে বিশেষ কিছুর উদ্রেগ করেনি, দাগ কাটেনি। তবে পড়তে শুরু করা মাত্র গল্প টেনে নেয়। মনে হয় ঝরঝরে, সরল অথচ গাঁথুনি শক্ত তেমন এক গদ্যের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তেমনি এক গল্প রয়েছে উপন্যাসটিতে। আকাশ একটি চরিত্র, যার উপস্থিতি উপন্যাসজুড়েই। শ্রাবণী একটি চরিত্র- খানিকটা রহস্য, উচ্ছলতা, আরবানিটি ইত্যাদি ঘিরে আছে যাকে। এর বাইরে নানা গল্প, বাঁক ইত্যাদি উপন্যাসটিকে একটি আকর্ষণীয় চরিত্রটি দিয়েছে। একদিকে আকর্ষণীয় করেছে বটে, কিন্তু অন্যদিকে অতিনাটকীয়তা উপন্যাসটিকে ঠেলে দিয়েছে খানিক বিপজ্জনক জায়গায়। কেননা, আকাশ আমেরিকা থেকে ফেরার পথে তার বাবার মেয়ের (প্রথম স্ত্রীর) তার প্রতি অনুরাগ এক প্রকার অস্বস্তি তৈরি করে। আবার আরবানিটির যে ব্যাপার, সে ক্ষেত্রে এতে অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু তার জন্য ভিত্তিটা তৈরি হওয়ার আগেই গল্পটা শেষ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে লেখক একটি কাহিনীর বর্ণনা দিতে চেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে শুরুর মনোযোগটা শেষ পর্যন্ত একইরকম থাকেনি বলেই মনে হয়েছে। তবে শুরুতে যে গদ্যের আভাস, তাতে তাকে সম্ভাবনাময় বলাই যায়। এটি তার প্রথম উপন্যাস। নিশ্চুয় পরেরগুলোতে আরও অন্যরকম গল্প, ভঙ্গী ইত্যাদির সন্ধান আমরা পাব।
এই ভ্রান্ত মৌনতায় : জাবেদ আমিন, প্রচ্ছদ : ধ্র“ব এষ, প্রকাশক : অনন্যা, মূল্য : ১৩০ টাকা।
ফারুক আহমেদ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অক্ষৌহিণী শিল্পের উন্মুক্ত দুর্গ
একটা গভীর তাৎপর্য ব্যতিরেকে সাহিত্যপত্র নামাঙ্কিত হয় না। অক্ষৌহিণীর বিরাট চক্রব্যুহে কালিক সীমানার প্রসঙ্গটি জ্বলজ্বলে। সেই সঙ্গে যাপিত মানুষের দ্রোহ, জীবনযুদ্ধ কিংবা সংগ্রামশীল সত্তা এর প্রতিটি লেখায় স্পষ্ট। আর লিটল ম্যাগাজিন তো তাই-ই। কালের সত্যকে উপস্থাপন না করে তার উপায় নেই। কোনো কথাকে বাসী করা এখানে চলে না।
আমাদের পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত গণ্ডির সঙ্গে আরও বিস্তৃত বহু বিষয়-আশয় অথবা ভূগোল এখানে সন্নিবেশিত। অক্ষৌহিণীতে এই বিচিত্রতাকে ধরার মানসিকতা সম্পাদনা পর্ষদের সুচিন্তিত ভাবনার ফসল। আর লেখক যারা কীনা এর রচনার অংশীদার বলাবাহুল্য, তারা বহুভঙ্গিম ও বহুবিধ সম্ভাবনাকে একত্রীভূত করেছেন। এটা পূর্ব ঘোষিত নয়, পুনরায় হয়ে উঠবার প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা- এই ত্রিভূবনের বাংলাভাষী লেখকরা এখানে শিল্পের সমপঙ্ক্তিতে দণ্ডায়মান। শিল্পের এত শাখায় শিল্পী-সাহিত্যিকদের লেখা অন্তর্ভুক্ত করাও রীতিমতো যুদ্ধঘোষণা করার শামিল। কারণ সম্পাদক মহাশয়দের এতে জেরবার হওয়ার অবস্থা।
তবে এখানে সত্তরের সাহিত্য মূল্যায়নের পর্বটি সংক্ষিপ্ত না হয়ে বিস্তৃত হতে পারত। তবুও আমাদের প্রতিনিধিত্বশীল ভাবুক-চিন্তক তাদের বক্তব্যে মহল যার যার বিশেষত্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ সংখ্যা ছাড়া এ সময়ের লিটলম্যাগ সম্পাদক নন শুধু, গ্রন্থও করতে চান না। অন্যদিকে প্রকাশকদের হৃদযন্ত্রের অবস্থা সহজগ্রাহ্য। অক্ষৌহিণী তার বর্তমান সংখ্যাটিতে আমাদের সত্তরের সাহিত্যের বিশেষ মূল্যায়ন পর্বটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। রফিকুল্লাহ খান, সুশান্ত মজুমদার, আলী রিয়াজ ও পারভীন জলি এ পর্বটি সম্পন্ন করেছেন। সত্তরের বাংলাদেশ তা সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে গৌরবান্বিত, কতটা শিল্পিতভাবে উপস্থাপিত এমনকি দুর্বলতায় অধ্যুষিত এর চমৎকার মূল্যায়ন করেছেন এবং গুরুত্ববহ সিদ্ধান্ত তারা উপস্থাপন করেছেন।
প্রবন্ধে উপনিবেশের সাহিত্য, উপনিবেশ বিরোধিতার প্রসঙ্গকে বৈশ্বিক আবহে যথেষ্ট বোধগম্য করে চিহ্নিত করেছেন মহীবুল আজিজ। কবি নুরুল হুদা তার প্রবন্ধে আমাদের কবিতা, কবিতার আন্দোলন, এর উচ্ছ্বাস কিংবা থিতিয়ে যাওয়া, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে নিমিজ্জত স্বদেশ, শিল্প-আয়োজকদের সংকীর্ণতার ত্র“টি প্রভৃতি আশা ও নিরাশার দারুণ সব সত্য কথা বলেছেন। সাইমন জাকারিয়া আমাদের দেশীয় নাট্যাঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন নাট্যজন সেলিম আলদীনকে নিয়ে। প্রসঙ্গত ভিন্ন সংস্কৃতির জনগোষ্ঠীর কথা এখানে অন্যতম বিবেচ্য। গল্পকার মঞ্জু সরকার, সেলিনা হোসেন কিংবা আরও কজনের গল্পে আমাদের বাংলাদেশের বঞ্চিত মানুষ ও সংশ্লিষ্টজনের সুখ-দুঃখের অমর প্রসঙ্গ গভীরভাবে নাড়া দেয়। রায়হান রাইনের অনুবাদ কেরালার কবি বালাচন্দ্রন চুল্লিক্কাদের কবিতা আমাদের কন্টিনেন্ট সাহিত্যের আরেক বিশ্ব।
সৃষ্টিশীল সাহিত্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় অংশ কবিতাভাগ। এ ছাড়াও অনুবাদ কবিতা, মুক্তগদ্য, গল্প, গ্রন্থালোচনা প্রভৃতি নানামাত্রার লেখা অক্ষৌহিণীর এ সংখ্যায় এনে দিয়েছে বৈচিত্র্যের স্বাদ। বাংলার তিন ভূবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কবিদের লেখা, কলাকুশল, ধরনের বিচিত্রতা, গুচ্ছকবিতা নানা প্রসঙ্গেই কবিতা ভাগটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। আমাদের কবিতার অনেক উজ্জ্বল মুখই এখানে স্থান করে নিয়েছেন। পুরাণে অক্ষৌহিণী ২১৮৭০০ সংখ্যক সেনাবিশিষ্ট বিরাট যোদ্ধাদলের নাম। আয়োজনে অক্ষৌহিণীর সম্পাদনা পর্ষদ সে বিষয়টিকে হয়ত মাথায় রেখেছিলেন। বিচিত্র প্রসঙ্গে, নানামাত্রিক ভাবনায়, বিষয় বিন্যাসে, শৈল্পিক অনুভববেদ্যতায় সংখ্যাটি আমাদের লিটলম্যাগ সাহিত্য চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে বিবেচিত হওয়ার প্রত্যাশা রাখে। অক্ষৌহিণীর এই ধারা অব্যাহত থাকুক। তার সৈন্য সেনা দলের সংখ্যা, সাহিত্যমূল্য ও কলেবর বৃদ্ধি হয়ে শিল্পপত্রটি মহীরুহ হয়ে উঠুক এটাই চাওয়ার।
খোরশেদ আলম
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কবি by নেয়ামতউল্যাহ
ক্লাব সভাপতি হয়ে অভিষেক অনুষ্ঠানে স্টেডিয়ামে কনসার্টের আয়োজন করেছে রুবেল; সঙ্গে ভূরি ভোজ ও ভূরি পানিয়ের। পানীয় শুধু উঁচু লেবেলের মানুষের, যারা ভগবানের মস্তক থেকে সমাজে পয়দা হয়েছেন। এ উঁচু লেবেলের মানুষের মধ্যে কিছু সুশিল রয়েছেন; যারা সংস্কৃতিচর্চা করেন; সিদ্ধিতে দম দেন; ইদানীং বাবা সেবন করে নিজেকে নিশাচর প্রাণী করে তুলে সৃষ্টি ছাড়া সংস্কৃতিবান মনে করছেন।
যাই হোক কনসার্টের মাইকিংয়ে বলা হয়েছে ঢাকা থেকে আগত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। তাই দর্শকের ভিড়। উঁচু লেবেলের সঙ্গে যারা সুশিল রয়েছেন তার মধ্যে ব্রাহ্মণীয় আছেন, তাদের একজন আমাদের সবার প্রিয় ননী গোপাল চক্রবর্তী; লোকে বলে ননীবাবু। উনি দেব-দেবতা,ধর্ম মানেন না; মানেন না গরু এবং ছাগলের জাত; সব তিনি এক ছুরিতে কেটে, রাঁধেনও এক চুলোয়। এক চুলায় যখন রাঁধা তখন এক পেটে যেতে কেন বাধা। বলুন! ওর কাছে শুনতে পেলাম ঢাকা থেকে যিনি গান গাইতে এসেছেন তিনি আড়ালের গান পরিবেশন করেন, যে কথা কেউ বলে না; অথবা শুনতে পছন্দ করেন কিন্তু মানতে দারুণ নারাজ। ঢাকা থেকে আগত ব্যান্ডের নাম দেউরক্যা ব্যান্ড শিল্পি।
কনসার্ট শুরু হল নির্ধারিক সময়ে; প্রথমে যে গানটি হল- সেটি তথাকথিত রাজনীতিবিদ, সমাজের অনাচার, অন্যায় এসব নিয়ে; গানের কথা অসাধারণ। দর্শকদের মনে কি রকম সাড়া দিল, কি দিল না, তা নাইবা বললাম। বিনে পয়সায় গান শোনানোর একটা সুবিধা আছে, তা হল, শিল্পি যা শোনাবে, তাই শুনতে হবে। কিছু শ্রোতা সব সময় প্রতিবাদী, কিছু শ্রোতা ওই দেউরক্যা শিল্পিদের গানই শুনতে গিয়েছিল; তারা আরও শোনার জন্য শিল্পিদের উৎসাহিত করল; কিছু দর্শক উল্টো কাজ করে বসল। তারা দেউরক্যা শিল্পিদের উদ্দেশে ভুয়া, বাড়িত যান, উকুন, এডি যাইয়্যা ডাকাত গান, টান দিছেননি জাতীয় মন্তব্য করল। এ একটু উশৃংখল নাচা-গানা দেখার জন্য এ সুযোগে আয়োজক গোষ্ঠী তাদের চেলাদের দিয়ে কটূক্তি কর্ম সম্পাদনের মাত্রা বাড়িয়ে দিল। বেফাঁস চেলাদের নিয়োজিত করল দর্শক সারিতে, মঞ্চের পেছনে, আশপাশে; চেলাদের কটূক্তি সীমাছাড়া হলে উপস্থাপক; (যিনি উপস্থাপক না ক্যানভাচার, তাই সন্দেহ হতে লাগল) পড়ে সদ্য হওয়া সভাপতি ও সংস্কৃতিসেবী ননীবাবু উশৃংখল দর্শকদের না থামিয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন, ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের ধন্যবাদ! দর্শক চাইলে পরে আরও গান শোনাবেন দেউরক্যা ব্যান্ড শিল্পিরা।
কি আর করা আড়ালের শিল্পিরা মঞ্চের আড়ালে চলে গেলেন।
২.
পর্দার ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ঢাকা থেকে আসা শিল্পী ধামাকা-২০ অর্ধনগ্না বসে আছে (বিশ কি বিষ বলতে পারব না; তবে একবার দেখলে দারুণ সেঁদিয়ে শরীরের পরতে পরতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে)। বের হয়ে আসা ছাড়া উপায় নেই। দর্শক সারিতে বসলে মঞ্চে আসেন শিল্পী ললিতা। একজন দর্শক-শ্রোতা বললেন দ্যা ... খ! কি বড় নাবিডা, খাইতো ইচ্ছা করে। অনেকে যাত্রার নায়িকাদের দেখে যেমন শিস বাজায়, তেমনি শিস বাজালেন। ললিতা প্রথমে এসেই গাইলেন, তুমি বাসর রাতে দিয়োনাকে বাত্তি নিবাইয়্যা ... আর দর্শক শ্রোতাদের বাঁধ ভাঙা উল্লাশ। যেন আকাশ ভেঙে যাবে। রাতের পাখিরা ঘুম ভেঙে বাসা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে; যেমন এলাকায় কোনো বিপদ হলে, আগুন লাগলে কিম্বা ঝড় এলে পাখিরা বেরিয়ে পড়ে। মেতে ওঠে রাতের ভোলা।
৩. যারা আড়ালের গান গায়; সত্তার গান গায়; জীবনের গান গায়; সেই দেউরক্যা ব্যান্ড দলের শিল্পিরা বেরিয়ে এলেন; তাদের সঙ্গে কিছু দর্শক বেরিয়ে এলেন সড়কে। দলের সঙ্গে ছিলেন শিল্পি দলের রুমেন, তিনি বললেন, আপনারা আসছেন কেন?
দলের সোহাগ বললেন,আপনারা গান শোনা ছেড়ে এলেন কেন? ওরা কি মনে করবে বলুন তো!
শিল্পির দলের আরেক সঙ্গী বললেন, আমরাতো গাইতে জানি না।
সঙ্গী বাহাউদ্দিন বলল,আমরা আপনাদের গান শুনতে আইছিলাম। আপনাদের গান আমার পছন্দ। আমরা কবির কবিতা আবৃত্তিরও খুব ভক্ত।
কবি নব্বই দশকের নামকরা কবি অতুল; যার চারটি বই এরই মধ্যে বেশ নাম করেছেন। কবি এখনও চোখ মুছছেন; তিনি শিল্পিদের এ অপমান সহ্য করতে পারেননি। শিল্পিদের পদ্ম বললেন, আমরা যার আমন্ত্রণে এসেছি, সেই ননীবাবু কোথায়?
সঙ্গের কেউ কেউ হেসে উঠলেন। আমাদের ভোলার একজন বললেন, তিনি এ সময়ে এখানে উপস্থিত থাকবেন না। পরে এসে দুই পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইবেন। কবি ননীবাবু সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে বলেন,যা হওয়ার, হয়েছে, চলেন আমরা বাসায় যাই। মানুষ গুলা এমনই।
৪.
পরের দিন কবি, বাহাউদ্দিন, রুমেন, সোহাগ এবং ঢাকা থেকে আসা ব্যান্ড দলের সব মাঝের চরে গেলেন। তুলাতুলি খেয়াঘাটে পৌঁছানোর পরই দেখা হল মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে। তিনি কৃষকদের বিনা অর্থে সার দেয়ার জন্য একটি নৌকায় সারবোঝাই করছেন; আরেকটি নৌকা সাজানো হচ্ছে চেয়ারম্যান ও তদন্ত কর্মকর্তা যাওয়ার জন্য। সেখানে কয়েকটি চেয়ার আছে; আছে দুটি ছাতা। চেয়ারম্যান রুস্তম ফরাজী কবি দলের সবাইকে সাদরে আমন্ত্রণ জানালেন। বাড়তি আপ্যায়নের জন্য কিছু চিপস, চানাচুর ভাজা ও মিনারেল ওয়াটার নিলেন। চেয়ারম্যান কবিকে খুব সম্মান করতেন; কবির সম্মানেই তার সঙ্গীদের সম্মান করছেন। এক সময় ট্রলার ছাড়ল। শীতের আমেজ, ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। নদীতে জালের আধিক্য নেই; মাঝে মাঝে নৌকার তলা বেধে যাচ্ছে ডুবোচরে। সেই ফাঁকে সবার একটু শীতল জল ছুঁয়ে দেখা। আর অসাধারণ তৃপ্তি ...! শিল্পীরা স্বাদগ্রহণ করছে প্রকৃতির। ট্রলারের ধপ-ধপ শব্দের সঙ্গে কখনও গিটারে টান, কখনও মন্দিরাতে টুং টাং; বাঁশিতেও সুর তুলছে কেউ। শিল্পীদের সঙ্গে কবির কথা হচ্ছিল নানা বিষয় নিয়ে। আর প্রশ্ন করছিল, ওদের কি এটা করা ঠিক হয়েছে? দর্শক শ্রোতা না নিত, দুঃখ ছিল না। প্রশ্নের জবাবে কবি গাইলেন ওরা আছিল অজাত কুজাত! সুজাত আছিল আমার তরে। দুঃখ বাড়ল সেই খানে সই, আমার জাতের অবিচারে।
কবি ঢাকার শিল্পী ও তার ভক্তকুল নিয়ে যে চরে যাচ্ছেন সে চরের নাম মদনপুর, লোকে ডাকে মাঝের চর। কবি বলেন, ম্যাঘনার মাঝে পলি পড়ে চর পড়ায় লোকে এরে মাঝের চর কয়, এহানে যারা আশ্রয় নিছে হেরাসব মূল ভূখণ্ড থেকে আইছে; হেরা আশ্রয়হীন। তাগো জমি ঘর বংশ মর্যাদা সবই ম্যাঘনা ভাইঙ্গা নিছে। যদি আবার ম্যাঘনা সে জমি-জিরাত ফিরায়া দেয়, সেহানে চোখ যাইব জোতদারের; সব মিল্লা লড়াই কইর্যা আদায় করত হবে; তার লাইগ্যা থাকতে হয় লাডি-টিয়ার শক্তি। অ্যার লাইগ্যা বহু বছর পর যদিও ম্যাঘনা বাপ-দাদার জমি-জিরাত ফিরায়ে দেয়, সেটাও আর ফেরত পাওয়া যায় না। বড় কঠিন হয়ে পড়ে, শিল্পী। কবি চলতি-আঞ্চলিত ভাষা মিলিয়ে কথা বলছেন খুব শব্দ করে। তাও এক কথা বারবার বলতে হচ্ছে শিল্পিদের বারবার প্রশ্নে। কারণ নৌকার ইঞ্জিনের শব্দটা খুবই বিকট।
রুমেন ও বাহাউদ্দিন উঁচু গলায় গান গাইছিল। কিন্তু শোনা যাচ্ছিল না। কবি বলেন, কি গান গাও! এমন কপাল শোনাও যায় না, শব্দযন্ত্র গ্রামডারেও খাইয়্যা ফেলছে।
রুমেন বলে, আমরা ট্রলার আর বাথরুম শিল্পী। আমরা নিজেরা গাই, নিজেরা শুনি। আপনেরা শুনবেন ট্রলার ধ্বনী। কবি বলেন, বাহ! কেমন কাব্য করে কইলা।
বাহাউদ্দিন বলে, ওস্তাদ! আমনের লগে থাকতে থাকতে এমন হইছে কবি বলেন, তুমি এট্টু বেশিই কও! আমরা সবাই হেসে উঠি।
নৌকা মাঝের চরের কাছে চলে এসেছে। চোখে আসে ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর। তাও উঁচু সাইক্লোন সেল্টারের মতো। শিল্পীরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, ঘরগুলো এমন মাচার মতো উঁচু কেন!
কবি বলেন, এ্যহানে বছরের পেরায় ছয় মাস জোয়ারের পানিতে সব ডুইব্যা থাহে। পথঘাট চিনায় না, হুদা পানি আর পানি; এর লাইগ্যা খর দিয়া তৈরি ঘরগুলো ওঠে মাচার ওপর; নিচে থাহে গরু-বাছুর, উপরে থাহে মানুষ, জোয়ারেরসুম সোতে দোল খায়।
এটা কি করে সম্ভব! শিল্পীর গলায় অবাক বিস্ময়।
কবি মুচকি হেসে বলে, এই দ্যাশে সব সম্ভব। হোনলে আরও অবাক হইবা, ওই ছোট্ট মাচার মাইধ্যে পাঁচ-ছয়ডা পোলাইন লইয়্যা এ্যট্টা পরিবার বাস করে। অনেকসুম বাপে পোলারে বিয়া করাইয়্যা বউ আনে, মাইয়্যা বিয়া দিয়া জামাই আনে; পোলা-বউ, জামাই-মাইয়্যা একপাশে, অন্যপাশে শ্বশুর-শাশুড়ি ফরজ কাম করে, এ্যর নাম জীবন।
শিল্পী আরও অবাক হয়ে বলে, দুটো দম্পতিই হয়তো একসঙ্গে সেক্স করে?
অবশ্যই, হেইডাই তো কইলাম। কবির উত্তর।
যান্ত্রিক বিকট শব্দের মধ্যে কথা বলতে বলতে ট্রলারটি মধুপুরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসে পড়েছে তখন সূর্য তেতে উঠেছে। আচমকা শব্দটা কমে যাওয়ায় সবার চোখ যায় গুচ্ছ ঘরের দিকে। এতক্ষণ ছিল ঘন সবুজের ক্ষেত। বোরোর আবাদ চরে কৃষকদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বাধে জোতদারের উত্তেজনা। চরে একটু বাজার মতো বসলেই একটা হোটেল বসে। সেখানে জেনারেটরে রাতে টিভি-ভিসিডিতে বাংলা সিনেমা প্রদর্শিত হয়। কোনো টিকিট নেই। ক্রেতারা ছবি দেখে আর জিলাপি খায়, আঙ্গুলি খায়, সঙ্গে চা। বেজে যায় রাত বারো। তার পর মাঠ ভেঙে, খাল ভেঙে নদী সাঁতরে কুঁড়েতে ফেরে। বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে মাচায় ওঠে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা বসত করে তাদের অবশ্য এমন সমস্যা নেই, শুধু দুর্যোগ ছাড়া। তাও ক্ষেত-খাল নদী ভাঙতে হয়।
ঘাটে ট্রলার ভিড়তেই শতশত শিশু ছেলেমেয়ে তাদের দেখতে আসে। তাদের শরীরে ধুলো কাঁদার পোশাক। মাথার চুল জট বাঁধা, পরনের হাপ প্যান্টটিও ময়লা। কারও গায়ে অবশ্য গেঞ্জি আছে। তাও ময়লা হয়ে গেছে । কবি এ চরে অনেক এসেছে। অপরিচিত কেউ চরে এলে, কোথা থেকে অতিথি পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে শিশুরা দেখতে আসে। কবি শিল্পীদের উদ্দেশ করে বলেন, আমনাগো বরণ করতে শিশুর দল আইছে; শুধু আমনেরা না... গো, নতুন কেউ আইলে ওরা তারে বরণ করে নেয়; এইডা অগো নিয়ম; অগো কোনো চাহিদা-পত্র নাই, বিমিতে কিচ্ছু দিত অইব না।
নৌকার সবাই ভাঙন সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উঠছে চরায়। প্রায় আধা মাইল মেঠোপথ হেঁটে শিল্পীর দল পৌঁছাল মধুপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। মধুপুর মদন পুরের একটি গ্রামের নাম; বড় মিঠা নাম; এক সময় এ গাঁয়ের অনেক জৌলুস ছিল; ভোলার অনেক বড় মিয়ার জন্মু এ গাঁয়ে। শিল্পীদের প্রধান, যার মেয়েদের মতো লম্বা চুল তিনি বললেন, অনেক দিন পর মেঠো পথ দিয়ে হাঁটছি।
শিল্পী দল যখন হাঁটছিল তখন মেঠোপথে হাজার হাজার পোকা হাঁটছিল। এ পোকা ফসলের ক্ষেত ছাপা করে দিয়েছে। এ জন্য চরের কৃষকের মনে আনন্দ নেই। তারা রাতে ঘুমাতে পারছে না। পোকা এসে তাদের চুলে, কানে, বালিশে বেয়ে বেয়ে উঠছে। শরীরে উঠলে পুরো শরীর শিরশির করে ওঠে। ভুল করে হাত চলে যায় পোকার গায়ে। পোকাগুলো এমন নরম, একটু চাপ পড়লেই গলে যায়। মেখে যায় গতরে। কাঁটাগুলো গেঁথে যায় শরীরে। চুলকে ওঠে শরীর; আর ঘিন ঘিন। ওয়াক! থু! পেট ভরে বমি হয় কারও। ভাত তরকারি রান্না করে রাখলে সকালে উঠে দেখে পানি ভাতের মধ্যে ভেসে ভেসে পোকা; তরকারির মধ্যে পোকা থাকে চিংড়ি মাছের মতো। চরের মানুষেরা অজান্তে অনেক পোকা খেয়ে ফেলেছে; স্ত্রীর বুক হাতরালে পোকা; বুকের দুধ খেতে গেলে শিশুর মুখে পোকা চলে যায়; শিশুকে বুকের মধ্যে আগলে রাখার সেকি আপ্রাণ চেষ্টা মায়ের! পোকায়-পোকায় জর্জরিত। এ যেন মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিল্পী দলের সঙ্গে যখন চেয়ারম্যান যাচ্ছিল, তখন তাকে কৃষকরা এসে পোকার সমস্যাগুলো বলছিল, আর কাঁদছিল। চেয়ারম্যান এসব কথা শুনে বিরক্ত হচ্ছেন। আর বলছেন, যাও মিয়া! যাও! কি করুম, চিন্তা নাই আল্লাহ সব ঠিক কইর্যা দিব। চরের মানুষের সমস্যাপূর্ণ সব ঘটনা শুনে কবির মন খারাপ হয়ে যায়। কৃষকদের দুখের কথা আবারও মন দিয়ে শুনলেন। তার বন্ধু বড় কৃষি কর্মকর্তা, তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বললেন; এবং কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য একজন কৃষি কর্মকর্তা আসবেন বললেন। আর কৃষকরা সকলে, সমস্বরে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! তারা কবির জন্যও দোয়া করলেন; চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া করলেন।
মাঝের চরের মাঝের উঠানে গানের আসর বসল। সূর্য মাথার ওপর। চেয়ারম্যান সবাইকে গানের আসরে আসতে বললেন। মাটির বিছানায় শতশত শিশু বসে পড়ল। অন্য কেউই এল না। শিল্পীরা বসলেন ধানের খড় বিছিয়ে। তবে যখন গান শুরু হল, তখন নারী-পুরুষের ভিড় বাড়ল। সবাই তন্মুয় হয়ে শুনছে। এ গান তাদের কাছে নতুন কিন্তু তাদেরই কথা, এটা তারা বুঝতে পারল। গানের মধ্যে রং চা এলো, সঙ্গে ঘরে ভাজা মুড়ি। গান গায়, চা খায়। এমনি করে পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলতে শুরু করেছে।
এমন সময় এক বৃদ্ধ হাঁপাতে হাঁপাতে চেয়ারম্যানের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে, বলেন, ও চেয়ারম্যান সাব! ও চেয়ারম্যান সাব! আইজ দুই দিন ধইর্যা আঁর পোয়াতি মাইয়্যার প্যাট ব্যদনা ওঠছে, কিন্তুক কিছুতে কিছু অইতাছে না, কি করুম বোজদাছিনা, চরে ডাকতোর নাই। লোকটা তখনও হাঁপাচ্ছে, চেয়ারম্যানের পায়ের কাছে উপুড় হয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যান সবার দিকে তাকায় আর পা ঝাড়ি দিয়ে বলেন, আরে করও কি! করও কি! তোমার মাইয়্যার প্যাট ব্যদনা ওটছে আমি কি করুম! আমি কি ডাক্তার না কবিরাজ? সদর হাসপাতালে লইয়্যা যাও।
চেয়ারম্যান সাব ট্যাহা নাই, বৃদ্ধ লোকটা তখনও কাঁদতে থাকে। নৌকা ভাড়া করে সেই বৃদ্ধ আর তার প্রসূতী মেয়েকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হল। সঙ্গে পাঠানো হল দুজন চৌকিদার আর চরের জ্যেষ্ঠা দাইকে।
চরবাসীর পক্ষ থেকে প্রবীণ মনতাজ পাটওয়ারী বললেন, আমনেরা আমাগো মেহমান, সরম করে ক্যামনে কই, দুগা ডাইল ভাত খাইয়্যা যাইতেন যদি ...! আমগো কষ্ট কোনো দিন দূর অইব কিনা জানি না, তয় গান হুনাইয়্যা আমগো মন ভালা কইর্যা দিছেন। আমনেরা দুরপেরকাল খালি প্যাডে যাইবেন এইডা ভালা দ্যাহাইব না। কি দিয়া আমনেগো খেদমত করুম কন! শিল্পী, কবি এবং বেড়ানি দল মুখ চাওয়া চাওই করছেন। কি করবেন! কি করে ফেলবেন মুরব্বির কথা। কবি বললেন, মুরব্বি এত করে যখন কইতাছেন...
সূর্য মাথার ওপর থেকে যখন পশ্চিমে চলে যাচ্ছিল, সেই ফাঁকে ঘন কালো মেঘ ঢেকে যায় আকাশ; কারুর তা খেয়াল থাকে না। ভাত খেয়ে গান শুরু হল; আবার সেখানে চা মুড়ি এলো; গান চলতে থাকে।
শেষ
সেদিন কতক্ষণ গান চলেছে. জানি না; কবির দেউরক্যা ব্যান্ড শিল্পী দল কখন চর থেকে এসেছে, তাও জানি না; চরে গেলে চরবাসীর মুখে শোনা যায়, সেদিন নাকি চরাচরে তুমুল বর্ষণ হয়েছিল; অনেক বাজ পড়েছিল; সেদিনের মুষল বৃষ্টিতে গজব ফসল পোকা চিরতরে হারিয়ে গেছে; নদীতে প্রচুর মাছ পড়েছিল; কবি-শিল্পী আছে কি নেই কিচ্ছু আসে যায় না চরবাসীর; মদনপুরবাসী তাদের মনে রেখেছে।
(গল্পের চরিত্রগুলো পরিচিত হলেও কাল্পনিক)
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে জগতে আমি বিরাজ করি কবিতার জন্য তাকে বোঝাই যথেষ্ট মনে হয়েছে by নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : কবিতা লেখো তুমি?
শিমুল : চেষ্টা করি।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তাহলে অবশ্যই বলতে পারও। আরে দাদা তো আমাদের কথার, সম্বোধনের একটি ভিন্ন মাত্রাও দেয়। আর সামনের অক্টোবরে নব্বইয়ে পড়ব, শরীরটাও খুব সায় দেয় না, মনের বয়স কিন্তু আমার এখনও তোমারই মতোন।
শিমুল : নীরেনদা, বাংলাদেশ তো আপনাকে স্বাগত জানাল প্রাণ খুলে। আপনি কালি ও কলমের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কবিতা শুনিয়ে বলছিলেন মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন সেই পথে নতুন লেখকরা যেন না যায়। নতুন পথ যেন তারা তৈরি করে। তারপর কবিতা বিষয়ে বক্তৃতা দিলেন। বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, সাহিত্য সম্পাদকরাও দেখলাম আপনার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছেন, এই যে এলেন, কেমন লাগছে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : এটা আমার দেশ। আমার ট্রাজেডি এই যে আমার দেশ আমার মাতৃভূমি বটে কিন্তু জন্মভূমি নয়। আমার জন্ম ফরিদপুরে। মানে তো বাংলাদেশে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমার দেশ ভারতবর্ষ। বাংলাদেশও আমার দেশ, জন্মভূমি অর্থে। আর আমি যখন জন্মেছি তখন তো পুরোটাই ভারতবর্ষ। তো আমার দেশে আমি এসেছি, স্বাগত জানানোর তো আপাতপক্ষে কিছু নেই। যেটুকু তোমরা হইচই করছ, আমার মনে হয় সে আমার কবিতাকে তোমরা গ্রহণ করেছ সেজন্য করেছ।
শিমুল : আপনি জন্মেছেন ১৯২৪ সালে, এখন ২০১৪ সাল। জীবনের দিকে ফিরে তাকালে কোন কোন ঘটনাগুলো সবার আগে চোখে ভেসে ওঠে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তুমি তো আমার পুরো আত্মজীবনী জানতে চাইছ। সেটার একটা অংশ আমি লিখেছি। তবে জীবনের দিকে তাকালে সবার আগে নিজের বিষাদগুলোর কথা মনে পড়ে। ব্রিটিশরাজ দেখেছি, ভারতবর্ষের খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়া, আমাদের স্বাধীনতা লাভ, স্বাধীন বাংলাদেশকে দেখা, পশ্চিমবঙ্গের এক ধরনের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির দিকে যাওয়া এসবই আমার জীবনের বড় ঘটনা। ব্যক্তি হিসেবে বড় ঘটনা বলতে হবে, ধরো আমার প্রথম কবিতার বইটা যখন বেরুলো সেটা। এর চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত পারসোনালাইজড ঘটনাগুলোর কথা নাই বা বলি।
শিমুল : আপনার ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তো আনন্দবাজারের রবিবাসরীকে দেয়া একটা সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় কবিতাই আমার মাতৃভাষা।’ সারা জীবনে তো গদ্যও লিখেছেন প্রচুর। খবরের কাগজে কাজ করেছেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : আমি মনেই করি কবিতা আমার মাতৃভাষা। গদ্য নয়। গদ্য আমি বাধ্য হয়ে লিখি। খবরের কাগজে কাজ করার কারণে লিখতে হয়েছেও প্রচুর। কিন্তু কেবলই মনে হয়, কবিতাকে ফাঁকি দিয়ে, তার থেকে সময় চুরি করে নিয়ে আমি গদ্যকে দিচ্ছি। গদ্য লিখতে আমার ভালো লাগে না।
শিমুল : অর্থাৎ এই নব্বইতে এসেও আপনি এত কবিতা লেখার পর আরও কবিতা লিখতে চান। আপনার মনে হয়, যে সময়টুকু জীবনের কবিতাকে দিলেন, আরও বেশি দেয়া উচিত ছিল? বাংলাভাষার কবি হিসেবে নিজেকে কত নম্বর দেন আপনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : অবশ্যই। আরও অনেক বেশি দেয়া উচিত ছিল। যত সময় দেয়ার দরকার ছিল তা দিতে পারিনি। তবে আমার মনে হয় না আমি কম লিখেছি। নম্বরপ্রথায় আমার আস্থা নেই। যা করেছি, তা পাঠকেরাই, অনুজ কবিরাই বলবে।
শিমুল : আপনার প্রায় সব কবিতাই একটা না একটা গল্প বলে। অথচ যখন শুরু করেছিলেন, বাংলা ভাষায় তখনও সেভাবে কবিতায় গল্প বলার প্রচলন ছিল না। যদি না আমরা রবিঠাকুরের ‘দুই বিঘে জমি’ কিংবা ‘ক্যামেলিয়া’র মতো কিছু কবিতাকে আলাদা রাখি। নিজের কবিতায় গল্প বলবেন এটা কবে ঠিক করলেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তবে কবিতায় গল্প বলার বিষয়ে কি জানো, সম্পূর্ণ গল্পটা তো আর আমি কবিতায় ধরে দিতে পারব না। গল্পের একটা আভাস আছে, একটা ইঙ্গিত আছে আমার কবিতায়। একটা আন্দাজ দিতে পারব। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, আমাদের বাংলা সাহিত্যের কবিতা সেই গোড়া থেকেই গল্প বলে। মহাভারত পুরোটা জুড়েই গল্প আর গল্প। একগাদা গল্পের সমষ্টি। আমাদের মঙ্গলকাব্য গল্প ছাড়া আর কি! আর সেগুলো তো পদ্যেই লেখা। ছন্দে লেখা গল্প।
শিমুল : আমাদের ময়মনসিংহ গীতিকা কিংবা পাঁচালি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : হ্যাঁ, পাঁচালি গল্প ছাড়া আর কি! দেখ পাঁচালিতে কি রয়েছে! আসলে মানুষ হচ্ছে ভোগবাদী। তকমাপ্রিয়। আমি তকমা চাই না। কবিতায় গল্প বলার ব্যাপারটা নতুন নয়।
শিমুল : তাহলে দাদা আপনার স্বাতন্ত্রটা কোথায়?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : দাঁড়াও পাঁচালির গল্পটা বলে নিই। বলছি আমি যা করেছি তা-ও। পাঁচালিতে কি রয়েছে! একটা পরিবার খুব অশান্তিতে ভুগছে, পরিবারের যিনি শ্মশ্রুমাতা, শাশুড়ি ঠাকরুন, তিনি বনে গেছেন আত্মহত্যা করতে। তারপর সেখানে বনলক্ষ্ণীর সঙ্গে দেখা। বনলক্ষ্ণী জিজ্ঞেস করছে, বনে এসছো কেন? শাশুড়ি ঠাকরুন বলছে, আমি আত্মহত্যা করতে এসেছি। কেন? বলছে যে আমার সাতটা ছেলে, সাতপুত্র, কর্তা হয়ে, সাতপুত্র সাত হাঁড়ি হয়েছে এখন, সতত বঁধুরা মোরে করে জ্বালাতন। কেমন! বনলক্ষ্ণী বললেন তুমি বাড়ি ফিরে যাও। বুড়িবারে সন্ধ্যাকালে মিলি বামাগণ, বুড়িবার মানে বৃহস্পতিবার, বামাগণ মানে নারীগণ, সকলে লক্ষ্ণীর পূজা করো আয়োজন। তাহলে দেখবে সংসারে আবার শান্তি ফিরে আসবে। এটা গল্প ছাড়া আর কি! গল্প পুরনো ব্যাপার আর কবিতার মধ্যে গল্প বলাটা নতুন কিছু না।
শিমুল : কিন্তু আপনার কথনভঙ্গি! গদ্যের চলনে অন্তমিলের মৌলিক খেলা!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : আসল কথাটা তা নয়। আসল কথাটা হচ্ছে, লিরিক কবিতা, লিরিক কবিতায় গল্প বলার চলনটা ছিল না। লিরিক কবিতার আমরা একটা ভুল ব্যাখ্যা করি। লিরিক কবিতাকে আমরা বলি গীতি কবিতা। না গীতি কবিতা নয়, এটা পারসোনালাইজড পয়েট্রি।
শিমুল : পারসোনালাইজড মানে কি কাস্টোমাইজড দাদা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : একেবারে ব্যক্তিগত উচ্চারণ বলতে যা বোঝায়। নিজের মতো। এখানে গদ্যের মধ্যেও কবিতার সেই গীতসুধাটা থাকে। তো সে অর্থে আমি কোনো নতুন কাজ করিনি। যেটা করেছি, সেটা হল আমি আমার ভাষায় করেছি, এবং আমি মনে করি, আমি যদি গল্প ঢুকিয়েও থাকি কবিতার মধ্যে সেটা কোনো অন্যায় করিনি।
শিমুল : তা অন্যায় করেননি মোটেও। আপনাকে প্রথম চিনেছিলেন আপনার বন্ধু কবি অরুণকুমার সরকার। আপনার প্রথম বই নীলনির্জনে বেরুবার গল্পটা শুনতে চাই। প্রথম বই তো সব কবির কাছেই মহাআরাধ্য হীরকমণিমুক্তার মতো, স্পেশাল
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : কবিতা না লিখে তো আমার উপায় ছিল না। কিন্তু নিজের পয়সা দিয়ে বই আমার বের করার কোনো ইচ্ছা কোনোকালেই ছিল না।
শিমুল : অরুণকুমার সরকার আপনার বই বের করে দিয়ে বলেছিলেন, কবিতা না লিখলে তুই তো মরেই যাবি!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : এক দিন হঠাৎ আমার কাছে অরুণ সরকার এসে বলেন, আমার বন্ধু, যে, তোমার কাছে সিগনেট প্রেসের দিলীপ গুপ্ত মশায়, সিগনেট তখনকার কালে ভীষণ নামকরা পুস্তক প্রকাশন প্রতিষ্ঠান, তারা তখন নেহরুর ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া বের করেছে, এবং বড় কবিদের, বড় লেখকদের বই বের করে যাচ্ছে, তার মধ্যে অরুণ এসে বলল, তোমার একটি বই দিলীপবাবু চেয়েছেন। তুমি একটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট তৈরি করে দাও। আমি সত্যি বলছি, আমি বিশ্বাস করিনি, উনি বললেন যে, সত্যিকথা বলছি, তৈরি করে দাও, তোমার নাম করে চেয়েছেন দিলীপবাবু। তো ওর জোরাজুরিতে বিশ্বাস করতে হল, একটা পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দিলাম, অরুণকুমারের হাতেই দিয়ে দিলাম, তিনি গিয়ে দিলীপবাবুর হাতে দিলেন, বই বেরিয়ে গেল। বই বেরুবার পর কিন্তু আমি জানতে পারলাম দিলীপবাবু আমার বই চাননি। তিনি অরুণের বই চেয়েছিলেন। তিনি অরুণকুমার সরকারের বই চেয়েছিলেন, বই বেরিয়ে গেছে আমার।
শিমুল : এটা কি ইচ্ছে করেই করেছেন তিনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : একদম ইচ্ছে করেই করেছে। আমি জেনে তো রেগেমেগে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা তুমি কেন করলে। তোমার বই উনি চেয়েছেন আর তুমি আমাকে বললে আমার বই চেয়েছেন, এটা তুমি কেন করলে? আমার বই বেরুনো দরকার ঠিকই কিন্তু তোমার বইও তো বেরুনো দরকার! তুমি আমার কাছে চাইলে কেন? আমি চার্জ করলাম।
শিমুল : অরুণকুমার সরকার কি বললেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : অরুণ হেসে বলল, তুমি আমার চেয়ে বড় কবি এমন কথা ভেবে কিন্তু বলিনি। তুমি ভেবো না তুমি আমার চাইতে ভালো লেখ। কিন্তু তোমার বই বেরুনো দরকার আমার চাইতে বেশি। এ জন্য আমি নিজের বই না করে তোমার বই দিয়েছি।
শিমুল : নীরেনদা আপনি উলঙ্গ রাজার জন্য পেয়েছেন আকাদেমি পুরস্কার, সেই কবিতায় যে সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশুকে খুঁজছিলেন, যে বলবে, ‘রাজা, তোমার কাপড় কোথায়?’ তাকে কি দেখেছেন আপনি আপনার জীবনে? পেয়েছেন তার দেখা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : বাচ্চারা তো এত সব ধান্দাবাজি বোঝে না আমাদের মতো। আমরা বড় যত হই তত ধান্দাবাজ হই। কার প্রশংসা করব, তার কাছ থেকে আমার কিছু পাওয়ার আছে কি না এসব ভেবে কাজ করি, চারদিক কতগুলো চাটুকারের দ্বারা পরিবৃত হয়ে গেছে, এরা আমাদের মন রেখে কথা বলে। বাচ্চারা এসবের ধার ধারে না, এই কারণে সত্য বলতে তাদের কোনো বাধা নেই, সত্য কথাটা একমাত্র তারাই বলে। তো, এটা যেমন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের গল্পে এটা আছে, এই যে একই গল্পের নানান ভার্সন নানান ভাষায় ছড়িয়ে আছে, চালাক জোলা আর বোকা রাজার গল্প, আসলে কোনো রকম কাপড় নেই, সে কাপড় পরানোর একটা ভঙ্গি করে। হাওয়ায় হাত ঘুরিয়ে, রাজাকে বোকা বানিয়ে টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
শিমুল : আহা রাজসত্র, চোখে দেখা যায় না!
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : হ্যাঁ, এত পাতলা সুতো যে চোখে দেখা যায় না। এ গল্পটা ঠাকুমার কাছে ছেলেবেলায় শুনেছিলাম। তারপর মনে হয়েছে চারদিকের অবস্থা দেখে, যে কেউ সত্য কথাটা বলছে না। সবাই যে শাসক তার মন রেখে কথা বলছেন।
শিমুল : নীরেনদা, এই কবিতার নির্যাস আপনি যেখান থেকে নিয়েছেন সে সোর্সটা আপনি বললেন, আপনার সব থেকে জনশ্র“ত যে কবিতা অমলকান্তি, সেটি ওপার বাংলায় যেমন এখানেও আবৃত্তিশিল্পীরা বহুবার আবৃত্তি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমিও মঞ্চে পড়েছি বহুবার, এমনকি অমলকান্তি তো বাংলাদেশে চলচ্চিত্রেও রূপায়িত হয়েছে, পারভেজ চৌধুরী অমলকান্তি চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন, সে কবিতার সোর্স বা নির্যাসটি কীভাবে পেয়েছিলেন? অমলকান্তি কি আপনি?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : না, আমি নামটা পাল্টানোর কোনো দরকার বোধ করিনি। অমলকান্তি আমার বন্ধু। ইশকুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম। এভাবেই তো কবিতাটা শুরু, এর প্রত্যেকটি কথা সত্য। আমার স্কুলের যে বন্ধু তার নাম অমলকান্তিই বটে। গরিব ঘরের ছেলে। এক দিন, খেলার মাঠে বসে ময়দানে কথা বলছিলাম, নিজেদের মধ্যে, কে কি হতে চায়! কেউ মাস্টার হতে চায়, কেউ ডাক্তার হতে চায়।
শিমুল : অমলকান্তি রোদ্দুরই হতে চেয়েছিল? বড় বেশি কাব্যিক না চাওয়াটা?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : বটে! কিন্তু ও যে রোদ্দুরই হতে চেয়েছিল। গরিব ঘরের ছেলে, বস্তিতে থাকত। এমন একটা বস্তিতে থাকে যেখানে রোদ্দুর ঢুকত না। ফলে ওর কাছে রোদ্দুর একটা প্রিয় জিনিস। কিন্তু সেই রোদ্দুরটা সে পাচ্ছে না। সে নিজেই রোদ্দুর হয়ে যেতে চাইছে।
শিমুল : আপনার কবিতা সম্পর্কে একটা উক্তি তো বহুল আলোচিত, আপনি বলেন, কবিতা কল্পনালতা নয়, এই কথা কেন? কবিতা ক্ষেত্রে তো সব সময়ই কল্পনার অবকাশ থেকে যায়। কয়েক দশকে তো আমরা এমন অনেক কবিদের দেখছি তারা তাদের কল্পনার অন্য এক জগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চান। কিন্তু আপনার কবিতা অনেকাংশেই সমাজবাস্তবতানির্ভর। সেখানে তেমন করে কল্পনার সুযোগ নেননি কেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : আমার কল্পনা অত্যন্ত দরিদ্র। অত্যন্ত দরিদ্র। যে জগতে আমি বসবাস করি, বিরাজ করি কবিতার জন্য তাকে জানা বোঝাই আমার যথেষ্ট মনে হয়েছে। কল্পনার প্রয়োজন হয়নি আমার। কিংবা বলতে পারও, কল্পনার ধার আমি ধারিনি।
শিমুল : কিন্তু যারা কল্পনালতায় ভেসে কবিতা লেখেন তাদের কবিতা কি আপনি পছন্দ করেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তা করি। সব ধরনের কবিতাই আমি পছন্দ করি। সেটা কোনো কথা নয়। কিন্তু আমার কল্পনা এত দরিদ্র আমি কিছু কল্পনা করতে পারি না, আমি চারপাশের মানুষদের দেখি, তাদের সুখ-দুঃখের খবর রাখি। হাটে-বাজারে যাই, তাদের কথা শুনি। বাসে-ট্রামে চলাফেরা করি, মানুষ দেখি, আমার হালে একটা গাড়ি হয়েছে, আমার গাড়িও ছিল না, আর গাড়ি আমি পছন্দও করিনি, সারাজীবন ট্রামে বাসে যাতায়াত করেছি, লোকের কথা শুনেছি, যা শুনেছি, যা নিয়েছি তা থেকেই আমার কবিতা হয়ে যায়। আমার কিছু কল্পনা করতে হয় না।
শিমুল : আপনার কবিতা এত নিখুঁত ছন্দে ঢালা কীভাবে হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার নামে আপনার একটা কবিতা আছে। প্রিয়তমাসু। আমি নিজেও প্রচুর পড়েছি সেটি মঞ্চে। (আমি পড়তে শুরু করি স্মৃতি থেকে)
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : বাহ! খুব সুন্দর পড়েছ কবিতাটি, ছন্দটা ধরতে পেরেছ।
শিমুল : দাদা এই যে এ কবিতায় আপনি বলছেন, ‘এবং তুষার মৌলি পাহাড়ে কুয়াশা গিয়েছে টুটে,/ এবং নীলাভ রৌদ্রকিরণে ঝরে প্রশান্ত ক্ষমা,/ এবং পৃথিবী রৌদ্রকে ধরে প্রসন্ন করপুটে।/ দ্যাখো, কোনোখানে কোনো বিচ্ছেদ নেই। //’’ আপনার কবিতা এত নিখুঁত ছন্দময়, অথচ আপনি যেন পাঠককে সেটা বুঝতে দিতে চান না, গদ্যছলনার মুখোশে ঢেকে দেন যেন, এটা কেন করেন? সচেতনভাবেই করেন? নাকি লিখতে লিখতে আপনার সেই প্যাটার্নটা দাঁড়িয়ে গেছে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : দীর্ঘ সময় ধরে লিখছি, একটা ব্যাপার তো তৈরি হয়েছেই। যাতে আমি বলি আমিত্ব, তুমি হয়তো স্বতঃস্ফূর্ততা বলছ। আমি যেভাবে মানুষ কথা বলে সেটা ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছি কবিতায়।
শিমুল : নীরেনদা, আপনি কি মুখের ভাষার কথা মানে প্রাত্যহিক ব্যবহারিক ভাষার কথা বলছেন? কতটা নিলেন মুখের ভাষা থেকে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : হুম, যাপিত জীবনে মানুষের ব্যবহার করা ভাষা। মুখের ভাষা। আমি মনে করি, তার থেকে কবিতার অনেক কিছু নেয়ার আছে। আমি সবটা এখনও নিয়ে উঠতে পারিনি। খামতি থেকে গেছে। কিন্তু মানুষ মুখের ভাষায় যেভাবে কথা বলে, এর চেয়ে ভালো কবিতার উপাদান আর হয় না। আমার কবিতার ভাষা একটা বানিয়ে তোলা নয়। গদ্যটা মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বলে যায়, নির্মাণ করে। কিন্তু মুখের ভাষার মতো অথেনটিক, অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ এবং অত্যন্ত জেনুইন ভাষা আর কিছু হতে পারে না, নির্মিত গদ্যের ভঙ্গি স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে না।
শিমুল : নীরেনদা, আমাদের এখানেও তো, মানে ঢাকায়, যদিও আপনার অনেক পরে, মুখের ভাষায় লেখা হচ্ছে কবিতা, আপনি কি পড়েছেন সেগুলো?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তোমাদের এখানে বা আমাদের ওখানে বলে কিছু আমি বিশ্বাস করি না, পুরোটাই আমার, একই ভাষায় আমরা লিখি। মুখের ভাষায় যারাই লিখেছে তারা ভালো করেছে বলে আমার মনে হয়। ঢাকার কিছু পত্রপত্রিকা পাই, অনেকের সংলাপনির্ভর লেখা, বা আঞ্চলিক কবিতা আমি আগ্রহ করে পড়ি। ভালো লাগে।
শিমুল : বাংলাদেশের কাদের কবিতা পড়েছেন বা ভালো লেগেছে নাম করতে পারেন?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : নাম করতে চাই না, অনেকের কবিতাই আমার ভালো লাগে।
শিমুল : ছেলেবেলায় তো ওস্তাদ রেখে গান শিখেছিলেন, গান ছেড়ে দিয়ে কবিতায় কেন মনোনিবেশ করলেন? কবিতায় যে এলেন সেটা কি কোনো একটা মিরাকলের কারণে? কোনো একটা গোধূলির কারণে?
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : তালিম করে গান শিখতে হয়েছে। সেটা আমার কান তৈরি করে দিয়েছিল সেই ছোটবেলাতেই। গান নিয়ে চাওয়াটা বোধহয় ছিল না। গান আমি এখনও ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু কবিতা আমাকে নিজের মধ্যে ডুবিয়ে নিয়েছে। গান খুব ভালোবাসি, কালকেই যেখানে গেলাম, একটি মেয়ে, কৃষ্ণকলি বলে নাম, কি গাইল, ভগবান কি গলা ওকে দিয়েছেন! ওর গলাটা, ওখানে সুর নিয়ে ও যে খেলা করছে, অসাধারণ, আমার, আমার তো রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে পড়ে গেল, গাইছে কাশিনাথ, নবীন যুবা, ধ্বনিত সভাগৃহ আজি, ডানা মেলিতেছে সাতটা সুর, সাতটা যেন পোষা পাখি, এই মেয়েটির কালকে গান শুনছিলাম, গলায় খেলা করছে যেন পোষা পাখির মতো, গানের কথাও খুব চমৎকার।
শিমুল : কৃষ্ণকলি শুনলে খুবই আপ্লুত হবে নীরেনদা! সহোদরা কবিতায় আপনি বলছেন,
‘না, সে নয়। অন্য কেউ এসেছিল। ঘুমো তুই ঘুমো।
এখনও রয়েছে রাত্রি, রোদ্দুরে চুমো
লাগেনি শিশিরে। ওরে বোকা,
আকাশে ফোটেনি আলো, দরজায় এখনো তার টোকা
পড়েনি। টগর-বেলা-গন্ধরাজ-জুঁই
সবাই ঘুমিয়ে আছে, তুই
জাগিসনে আর। তোর বরণডালার মালাগাছি
দে আমাকে, আমি জেগে আছি।
না রে মেয়ে, না রে বোকা মেয়ে,
আমি ঘুমোবো না। আমি নির্জন পথের দিকে চেয়ে
এমন জেগেছি কত রাত,
এমন অনেক ব্যথা-আকাক্সক্ষার দাঁত
ছিঁড়েছে আমাকে। তুই ঘুমো দেখি, শান্ত হ’য়ে ঘুমো।
শিশিরে লাগেনি তার চুমো,
বাতাসে ওঠেনি তার গান।
ওরে বোকা,
এখনও রয়েছে রাত্রি, দরজায় পড়েনি তার টোকা।’
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী : সহোদরা, দুই বোনের দুঃখের কথোপকথন। বুঝতেই পারা যাচ্ছে যে এক বোন যে কষ্টের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, রাত জেগে জেগে, সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে তার দিদিও এক দিন গিয়েছিল, দিদির মনে পড়ে যাচ্ছে তার নিজের জীবনের কথা, এই কষ্টটা সেও এক দিন ভোগ করেছে।
শিমুল : নমস্কার দাদা। ভালো থাকবেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিয়ের কথা স্বীকার মোদির
![]() |
| বিয়ের কথা স্বীকার মোদির |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মমতার বক্তব্যের সিডি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন
![]() |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু মা ও ভাইয়ের আসনে প্রচার চালাবেন প্রিয়াঙ্কা
![]() |
| কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (ডানে) স্বামী রবার্ট ভদ্রকে নিয়ে গতকাল ভোট দিতে নয়াদিল্লির একটি কেন্দ্রে যান। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটেও পিসি সরকারের জাদু?
![]() |
| বারাসাতে নির্বাচনী প্রচারণায় পিসি সরকার। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লিতেও দলের চেয়ে বড় হয়ে উঠলেন মোদি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মোদি-উন্মাদনা, বাইরে অস্বস্তি
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার দ্বিতীয় বাড়ির কথা
![]() |
| এবিএম মূসা |
ঢাকা শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম, তারপর নিজের বাড়ি হলো। বাড়ির নাম ‘রিমঝিম’। সেই বাড়ির বয়স ৪১ বছর। আমার একটি দ্বিতীয় বাড়ি আছে। তারও একটি নাম আছে। নামটি হচ্ছে প্রেসক্লাব। সেই বাড়িটির, দালানটির নয়, বয়স হয়ে গেল ৫১ বছর। সেই পঞ্চাশের দশকের শেষ বা ষাটের দশকের প্রথম থেকে আমরা যারা সাংবাদিকতা করছি, এখনো আল্লাহ হায়াত দারাজ করায় বেঁচে আছি এবং পরবর্তীকালে যারা এসেছে, তাদেরও সবারই দ্বিতীয় বাড়ি এই প্রেসক্লাব। হিসাব করে বলতে পারব না এই সেকেন্ড হোমে ৫১ বছরের কতখানি সময় কাটিয়েছি,
আগামীকাল: খেলার মাঠে রাজনৈতিক চেতনা
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হার মানলেন মমতা : বদলি নির্দেশ কার্যকর
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুঞ্জন শুনি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
April
(397)
-
▼
Apr 11
(13)
- ভ্রান্তময় জগতের গল্প
- অক্ষৌহিণী শিল্পের উন্মুক্ত দুর্গ
- কবি by নেয়ামতউল্যাহ
- যে জগতে আমি বিরাজ করি কবিতার জন্য তাকে বোঝাই যথেষ্...
- বিয়ের কথা স্বীকার মোদির
- মমতার বক্তব্যের সিডি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন
- শুধু মা ও ভাইয়ের আসনে প্রচার চালাবেন প্রিয়াঙ্কা
- ভোটেও পিসি সরকারের জাদু?
- দিল্লিতেও দলের চেয়ে বড় হয়ে উঠলেন মোদি
- ভারতে মোদি-উন্মাদনা, বাইরে অস্বস্তি
- আমার দ্বিতীয় বাড়ির কথা
- হার মানলেন মমতা : বদলি নির্দেশ কার্যকর
- গুঞ্জন শুনি
-
▼
Apr 11
(13)
-
▼
April
(397)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







