Thursday, June 10, 2010

ছাইয়ের কারণে ইউরোপে ফের ফ্লাইট বিপর্যয়

আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি এয়াকিউয়াতলুয়োকুটলের অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাইয়ের কারণে ইউরোপে আবারও ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার থেকে ফের অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। শুধু স্পেনেরই ২০টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গতকাল রোববার থেকে স্পেনের বিমান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অগু্ন্যৎপাত শুরু হওয়ার পর ওই দিনই আয়ারল্যান্ড ও ফারো আইল্যান্ডের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ছাইয়ের কারণে নাইস বিমানবন্দরের ২০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের অধিকাংশই ব্রিটিশ কোম্পানি ইজিজেটের।
পর্তুগালের উত্তরাঞ্চলের শহর পোর্তো অভিমুখে সব ফ্লাইট গতকাল স্থগিত করা হয়।

বাংলাদেশ ‘এ’ হারছেই

১২ মে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আরও একটা ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। তবে সেটি হবে কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার। টানা তিন ম্যাচ হেরে ত্রিপক্ষীয় সিরিজ থেকে কাল বিদায়ই হয়ে গেছে স্বাগতিকদের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরাজয়টা ৬ উইকেটে।
৪৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৪৩ রান—টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের রানটা। তবে এটা আরও বড় হতে পারত যদি ব্যাটসম্যানরা তাঁদের সুন্দর শুরুটাকে টেনে নিতে পারতেন। দলের ছয়জন ব্যাটসম্যান ২০-এর ওপরে রান করেছেন অথচ মোটামুটি ভালো স্কোর বলা যায় কেবল ওপেনার নাজিমউদ্দিনেরটাকেই। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৮৯ রান করার পর কাল করলেন ৬৪ বলে ৬১।
অধিনায়ক শামসুর রহমানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৫৬ রান, মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৫৬—বাংলাদেশের ইনিংসটা সুন্দর সম্ভাবনা জাগিয়েই শুরু করেছিলেন নাজিমউদ্দিন। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানটা যে রকিবুল হাসানের ৩৭! ফয়সাল হোসেনের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে রকিবুলও ফিরে যাওয়ার পর শুরুর সম্ভাবনাটা ম্লান হয়ে যেতে থাকে আস্তে আস্তে। দলীয় ১৯৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফয়সালের বিদায় দিয়ে শেষ বিপর্যয়ের শুরু, মাত্র ৪৯ রানেই পড়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের শেষ ৬ উইকেট।
ওপেনার স্টিয়ান ফন জিলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোরটা এক ওভার আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই টপকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। ১৫৪ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকা ফন জিল ওপেনিং জুটিতে ফন উইকের সঙ্গে করেছেন ৫৫ রান। ১৩৮ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ফন জিল আসল কাজটা করেছেন ডিন এলগারের (৫৭) সঙ্গে। পঞ্চম উইকেট জুটিতে তাদের ১০৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ‘এ’: ৪৯.২ ওভারে ২৪৩ (নাজিমউদ্দিন ৬১, রকিবুল ৩৭, ফয়সাল ২৭, ধীমান ২৭, মার্শাল ২৪, শামসুর ২১, নাজমুল ১৯। এলগার ২/৩৯, তোতসোবে ২/৪৯)। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৪৯ ওভারে ২৪৬/৪ (ফন জিল ১০৯*, এলগার ৫৭*, ফন উইক ৩১, ইনগ্রাম ২২। সাকলাইন ১/৪১, নাবিল ১/৪৪, নূর হোসেন ১/৫১, শামসুর ১/৫৪)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: স্টিয়ান ফন জিল।

ফেদেরারের আরেকটি হার

অধরা ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপাটা পেয়েছেন গতবার। কিন্তু ক্লে-কোর্টে সাম্প্রতিক যা পারফরম্যান্স, সে সাফল্য ধরে রাখতে পারবেন কি না, শঙ্কা এখন তা নিয়েই। গত মাসে রোম মাস্টার্সের প্রথম রাউন্ডেই হেরেছিলেন, এবার এস্তরলি ওপেনে হারলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩৪-এ থাকা স্পেনের আলবার্ট মনটানেসের কাছে।
৬-২, ৭-৬ (৭-৫) সেটে জেতা মনটানেসের কাছে চারবারের দেখায় এই প্রথম হারলেন ফেদেরার। ফাইনালে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মনটানেসের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বদেশি গুইলেরমো গার্সিয়া-লোপেজ। স্পেনের আরাঞ্জা পারা সান্টোনিয়াকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ সেটে হারিয়ে মেয়েদের শিরোপা জিতেছেন লাটভিয়ার আনাস্তাসিয়া সেভাস্তোভা।
ওদিকে দুই মাস পর কোর্টে ফিরেই হার দেখলেন মারিয়া শারাপোভা। মাদ্রিদ মাস্টার্সের প্রথম রাউন্ডেই কাল ৬-৪, ৬-৩ গেমে হেরে বিদায় নিলেন লুসি শাফারোভার কাছে।

হোয়াইট জেতালেন অস্ট্রেলিয়াকে

টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ক্যামেরন হোয়াইটের কল্যাণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৮১ রানের বড় জয় তুলে নেয় তারা। ৩০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ৬৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া । এরপর মাইক হাসিকে (২৬ বলে ৩৯) নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান হোয়াইট। ষষ্ঠ উইকেটে ১০১ রান করেছেন তাঁরা। হোয়াইটের ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৫ রানে (৬টি চার, ৬টি ছয়) ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে মাইকেল ক্লার্কের দল। জবাবে ১৬.২ ওভারে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানে তদন্ত কমিটি প্রস্তুত!

১৩৪ রানের লক্ষ্যের দিকে ছুটে ১৩২ রানে থেমে গেছে পাকিস্তানের ইনিংস। যদি আবদুর রেহমান ২টি রান নিতে পারতেন, যদি বাট শেষ বলটা খেলতে পারতেন; অনেক ‘যদি’ এখন খুঁজে পেতে পারেন সমর্থকেরা। কিন্তু শেষ বিচারে সত্য এটাই—পাকিস্তান ১ রানে হেরেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে।
কার্যত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জটিল সমীকরণের ওপর টিকে আছে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল-স্বপ্ন। তার মানে আরও একটি টুর্নামেন্ট থেকে মাথা নিচু করে পাকিস্তানের বিদায়?
ক্রিকেটের অনুসারী মাত্রেই অনুমান করতে পারেন, এখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। একটু ভুল হলো। ‘করবে’ নয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়ে গেছে!
‘বিপর্যয়ের’ কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রীড়াবিষয়ক সিনেট কমিটির প্রধান গাফফার কোরেশি, ‘এমন পারফরম্যান্স কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু আমরা মোটেও সেভাবে খেলিনি। আমরা অবশ্যই সর্বশেষ এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করব। কারণ, এখনো পাকিস্তানের ক্রিকেটে কিছু বড় সমস্যা রয়ে গেছে।’
কোরেশি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, দেশে ফিরলেই এই বিপর্যয়ের কারণ দর্শানোর জন্য দলের কোচ-ম্যানেজার ও অধিনায়ককে ডেকে পাঠানো হবে। তবে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যর্থতার দায় তাঁর নয়, নির্বাচক কমিটির।
চিরকালের ঠোঁটকাটা, সাবেক পেসার সরফরাজ নওয়াজ বলছেন, অধিনায়ক-কোচ শুধু নয় পুরো বোর্ডকেই বহিষ্কার করা দরকার, ‘আমি বলি, বোর্ডকেই বহিষ্কার করুন। এই বোর্ডই ইউনুস খানের মতো এক নিবেদিত খেলোয়াড়কে বের করে দিয়েছে। যেসব খেলোয়াড় নিজেদের স্বার্থে দলের সম্মান বিসর্জন দিচ্ছে ওদের আরও শাস্তি দেওয়া দরকার।’

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ ‘মা’ by শিখ্তী সানী

সকালে ঘুম ভাঙে আম্মুর ডাকে। তার পর থেকে দৌড়। এত বড় হয়েছি, তবু খাওয়া নিয়ে পেছন পেছন ছুটতে থাকেন আম্মু। এরই মধ্যে এ কাগজ খুঁজে পাই না, সে কাগজ খুঁজে পাই না। হাতের কাছে জিনিস রেখেও ‘আম্মু আম্মু’ করি। তারপর ঘর উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে অগোছালো করে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ে। সারা দিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। ভুলেই গেছি মাকে ফোন করার কথা। একলা মা আমার খাবার নিয়ে তখনো বসে। ঘরে ঢুকে দেখি সবকিছু টিপটপ। ফিটফাট। মা আগ্রহী হয়ে শুনতে চাইবেন, কী করলাম সারা দিন। অকৃতজ্ঞ আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত। এই আমার মা। ‘মা, আজকে খুব খিচুড়ি খেতে ইচ্ছা করছে।’ বলেই ব্যস। অস্থির মন সে কথা কখন হজম করে ফেলেছে। কিন্তু খাওয়ার টেবিলে গরম খিচুড়ি দেখে চোখ ভিজে যায় জলে।
গল্পটা বেশ পুরোনো। শাহবাগে হাজারো গাড়ির ভিড়ে হঠাৎ চোখ চলে গেল হতদরিদ্র এক নারীর দিকে। আলুথালু চুল, রক্তবরণ চোখ। ঊর্ধ্বশ্বাসে রাস্তার এ-পাশ ও-পাশ ছুটছেন। ফুটপাতের ওপর আছড়ে পড়ছেন। আবার জলদি উঠে রমনা পার্কের ভেতর ঢুকছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় অবাক আর কৌতূহলী দৃষ্টিতে আমি মলিন চেহারার নারীটির কাণ্ডকীর্তি দেখছিলাম। হঠাৎ পার্কে হারিয়ে গেলেন, আবার হঠাৎ বেরিয়ে এলেন। এবার সঙ্গে আরও কজন উৎসুক মানুষ। কজন নারী জোর করে আটকে ধরে রাখলেন তাঁকে। গগনবিদারী চিৎকারে ভেঙে পড়লেন তিনি, চিৎকার আর কান্নার রেশটা চরমভাবে আঘাত হানে বুকের মধ্যে। ওই নারী তাঁর শিশুসন্তানটিকে শুইয়ে রেখে ফুল বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। চোখের আড়াল হতেই হারিয়ে গেছে শিশুটি। পরের ঘটনাগুলো খুব সাধারণ—থানায় জিডি হয়েছিল। ব্যস, এতটুকুই। বেশ কদিন পর আবার খোঁজ করে নারীটিকে জিজ্ঞেস করলাম, খোঁজ পেয়েছেন কি না। নীরবতা। ফোঁপাতে ফোঁপাতে চলে গেলেন। হঠাৎ মনে পড়ল আমার নানুমণির পোষা বিড়ালটার কথা। নানুমণি মহা বিরক্ত বিড়ালটার ওপর। প্রতিবছর চার-পাঁচটা বাচ্চা দিয়ে সব কটি হারিয়ে ফেলে বিড়ালটা। তারপর গোঙাতে থাকে সারা বেলা। বিড়ালটার কাতর আওয়াজের সঙ্গে নারীটির আর্তনাদের কোথায় যেন একটা মিল আছে। পার্থক্য শুধু একটাই—একজন মানুষ আর অন্যটি প্রাণী। কিন্তু উভয়ই মা। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ ‘মা’। শব্দটা যেন এক মহৌষধ! তাই রোগে-শোকে-দুঃখে চরম বিপদে স্বভাবতই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ‘মা’। আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের সব মাকে সম্মান আর ভালোবাসায় রাঙিয়ে দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন। তবে একটা দিনে কি কিছু হয়? মায়ের জন্য যে বাঁধভাঙা ভালোবাসা, সেটা তো সারা জীবনেও পুরিয়ে দেওয়া যাবে না। আমাদের সব অর্জন, সব সফলতা আর সব প্রাপ্তি—সবটুকুই তো ‘আমাদের আদরের আম্মুর জন্যই’। আমাদের দিন শুরু সেই আম্মুকে ঘিরে, দিনের শেষও আম্মুকে ঘিরে। যাঁকে ঘিরেই আমাদের পুরো জীবন। প্রথম বোলটিও তাই—‘মা’। আমাদের প্রথম হাসিটাও সেই মায়ের জন্যই। হাসলে মায়ের কাছে আদর পাওয়া যায়, এটা হলো আমাদের প্রথম শেখা পাঠ। তার পর থেকে হাঁটতে শেখা, বড় হওয়া, প্রথম অক্ষর শেখা—সবকিছুতে মায়ের উপস্থিতি সারাক্ষণ, সারাবেলা। শুধু কি তাই, রাজ্যের রাগ, অভিমান আর কষ্ট—সবকিছুতে মা। বিপদে পড়েছি, সেখানেও মা। মায়ের কথা মনে না থাকলেও অবুঝ মা যেন সব বুঝতে পারেন, মনে রাখেন সবকিছু। মায়ের সঙ্গে এই আমাদের সম্পর্ক। কত ভুল করেও শেষ আশ্রয় হয়েছে মায়ের কাছেই। অপরাধ করেছি, বকা খেয়ে গাল ফুলিয়ে কাঁদতে কাঁদতে টের পেয়েছি, চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন সেই কোমল মা। মাকে ঘিরে সবার সব গল্পই তাই সব সময় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। চোখ ভিজে যায় পানিতে। প্রতিবছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় ‘মা দিবস’। মা দিবস উদ্যাপনের ধারণাটি প্রথম মাথায় আসে মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ডের। তবে প্রবর্তক হিসেবে খেতাবটা যায় আনা জার্বিসের নামে। ১৯০৮ সালের ১০ মে জার্বিসের পরিচালনায় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনে সর্বপ্রথম দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি মানুষের মনে ঠাঁই করে নেয়। শেষমেশ ১৯১৪ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই থেকেই শুরু। নয় বছর পর অবশ্য খোদ জার্বিস রাষ্ট্রীয়ভাবে মা দিবস পালনের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দিবসটি পালন করা উচিত পারিবারিকভাবে। তবে তাঁর বক্তব্য টেকেনি। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে মহা আড়ম্বরে পালন হয়ে আসছে মা দিবস। পুঁজিবাদী অর্থনীতির ঢাকের শব্দে প্রতিবছর দিবসটি পালনে হাজির হয় নানা উপহার আর অসংখ্য ফুলের রাজি। নিন্দুকেরাও থেমে নেই। তবে বাণিজ্যের লাগামকে তো আর ধরে রাখা যাবে না। এ বাণিজ্য যেখানে জায়গা পায়, সেখানেই জোর দখল করে বসে। কিন্তু শুধু বাণিজ্য দিয়েই তো মাকে স্পর্শ করা যায় না। প্রাণের সঙ্গে প্রাণের মিলন হলেই সার্থক হয় মা দিবস।
তাই বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীসমান ভালোবাসা আমাদের সব মায়ের জন্য। সেই মা আমার হোক না দরিদ্র কিংবা ধনী। হোক না পথের কিংবা অট্টালিকার। এই সীমাহীন ভালোবাসা আমার মায়ের জন্য, তাঁর মায়ের জন্য; যে মা কখনো মা হতে পারেননি, তাঁর জন্য; যে মাকে সবাই ভুলে গেছে, তাঁর জন্য; রত্নগর্ভা মায়েদের জন্য, ম্যাক্সিম গোর্কির মায়ের জন্য, সাহিত্যে স্থান পাওয়া সব মায়ের জন্য। মায়ের কি কোনো শ্রেণীবিভাগ আছে। মা তো মা-ই! সারা বছর তো বলি, মন দিয়েও তো অনুভব করি, তবু আজকের দিনটিতে সময় দিই আমার সেই মমতাময়ী মাকে, তাঁকে বলি—মা, তোমাকে খুব খুব ভালোবাসি।

জাপানে দারিদ্র্যের ফিরে আসা -সময়ের প্রেক্ষিত by মনজুরুল হক

দারিদ্র্য জাপানে অপরিচিত কোনো সংজ্ঞা নয়। মাত্র ছয় দশক আগেও যুদ্ধোত্তর জাপানে দারিদ্র্য ছিল হরহামেশাই বিরাজমান। সেই সময়ের জাপানি ছায়াছবির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা নিশ্চয় মনে করতে পারবেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দারিদ্র্যের প্রেক্ষাপটে অপরাধ চক্রের সদস্যদের কালোবাজারি এবং অন্যান্য অসামাজিক তৎপরতায় জড়িত হওয়ার বস্তুনিষ্ঠ ছবি। তবে সেই জাপান অনেক আগেই আমাদের স্মৃতি থেকে অপসারিত। জাপান বলতে চোখের সামনে এখন ভেসে ওঠে নিয়ন বাতির জমকালো আলোর নিচে পণ্যের পসার মেলে ধরা চাকচিক্যময় সব দোকানপাট কিংবা আকাশছোঁয়া মূল্যের ডিজাইনসামগ্রী ব্যবহারকারী নারী-পুরুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ রাজধানী টোকিওর ব্যস্ত বিভিন্ন এলাকা। তবে ইদানীং এই জাপানও ক্রমশই পিছু হাঁটতে শুরু করেছে, যদিও যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষুধা আর দারিদ্র্যে ভরা ছায়াছবিতে দেখা অতীতের সেই জাপানের আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা বলা যায় সুদূরপরাহত।
তার পরও বলতে হয়, ভিন্ন এক চেহারা নিয়ে দারিদ্র্য জাপানে এখন আবারও ফিরে আসছে। এই ফিরে আসা হঠাৎ করে দেখা দেওয়ার প্রবণতা না হলেও অনেক দিন ধরেই জাপানের নীতিনির্ধারকেরা চেষ্টা করে গেছেন দারিদ্র্যের ফিরে আসার সেই খবরকে যতটা সম্ভব চেপে রাখতে। তবে নাগরিকজীবনে এর প্রভাব ক্রমশই ব্যাপক হয়ে ওঠায় জাপানের পক্ষে এখন আর সম্ভব হচ্ছে না সত্যকে অস্বীকার করে যাওয়া। গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন মধ্য বামপন্থী সরকার বিষয়টি ধামচাপা দিয়ে না রেখে এখন প্রকাশ্যেই বলছে, দরিদ্র হয়ে পড়ছে জাপানের জনগণ। শুধু তা-ই নয়, দারিদ্র্যের ব্যাপ্তি যে ক্রমশই সম্প্রসারিত হয়ে অল্প কিছুদিন আগেও সমতাপূর্ণ এক সমাজ হিসেবে গর্বের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরা দেশের জনগণের আগের সেই বিশ্বাস আর আস্থায় ধস নামিয়ে দিচ্ছে, তার প্রমাণও আজকাল সহজেই দৃষ্টিযোগ্য।
জাপানের দারিদ্র্যকবলিত হওয়ার বিষয়টি সরকারিভাবে প্রথম স্বীকার করা হয় গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দারিদ্র্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনে। জাপানের অনেকেই সেবারই প্রথম জানতে পারেন, দেশজুড়ে দারিদ্র্যের বিস্তার কতটা ভয়াবহ। এর আগে অবশ্য ২০০৪ সালে বিশ্বের অগ্রসর রাষ্ট্রগুলোর প্যারিসভিত্তিক সংগঠন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা OECD জাপানের দরিদ্র হয়ে ওঠার যে হিসাব তুলে ধরেছিল, তাতে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার দেখানো হয় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। জাপানের তৎকালীন সরকার অবশ্য OECD-এর তুলে ধরা সেই হিসাব মেনে নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই বলা হচ্ছিল, দারিদ্র্যের সমস্যা জাপানে বড় কোনো সমস্যা নয়। তবে এখন অবশ্য গত অক্টোবরে প্রকাশিত ২০০৭ সালের সরকারি হিসাব থেকে জাপানের লোকজন জানতে পারছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বা প্রায় দুই কোটি লোককে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে হচ্ছে এবং সেই হিসাব ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী পথে ধাবমান।
দুই কোটির এই হিসাবকে অন্যভাবে বলা যায় প্রতি ছয়জনে একজন। জাপান সরকার এখন প্রকাশ্যেই বলছে, দারিদ্র্যের বিস্তার দেশজুড়ে ক্রমশই থাবা বাড়িয়ে চলেছে এবং এই অসুস্থ প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিশুরা। OECD-এর ৩০টি সদস্য-দেশের মধ্যে তুলনামূলক দরিদ্র অবস্থায় বসবাসকারী শিশুদের হিসাবের দিক থেকে জাপানের অবস্থান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয়। রাজধানী টোকিওর মেট্রোপলিটন শিক্ষক সমিতির ২০০৮ সালে চালানো ভিন্ন এক জরিপে দেখা যায়, স্কুলগামী অনেক শিশুই আজকাল স্কুলে মধ্যাহ্নভোজের জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না কিংবা স্কুলভ্রমণে যেতে পারছে না। এ রকম শিশুদের অনেকেই আবার সিঙ্গল মাদার বা অবিবাহিত কিংবা বিচ্ছেদ হওয়া মায়ের সন্তান, অর্থনৈতিক জটিলতার মুখে সংসার চালানোর খরচ জোগাড়ে যেসব মাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। পরিবারের হিসাবে সিঙ্গল মাদার পরিবারের অনুপাতিক হার জাপানে মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ হলেও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের হিসাবে সে রকম পরিবারের অংশীদার হচ্ছে ৬০ শতাংশের বেশি।
কেন জাপানের এ রকম হঠাৎ দরিদ্র হয়ে ওঠা—এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় নতুন সরকারের দেওয়া বিশ্লেষণ থেকে। সরকার বলছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের পরিসংখ্যানগত হিসাব ১৯৯৮ সাল থেকে নেওয়া শুরু হলেও উদার গণতন্ত্রী দলের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকার এই হিসাব কখনোই প্রকাশ করেনি, বিশেষ করে জাপানের গোপনীয়তা বজায় রেখে চলা আমলাতন্ত্র সামাজিক ভারসাম্যহীনতা নষ্ট হতে না দেওয়ার বাসনা থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের হিসাব প্রকাশ করতে আগের সরকারগুলোকে বিরত রাখে।
গত গ্রীষ্মের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জাপানে উদার গণতন্ত্রী দল LDP ১৯৫৫ থেকে শুরু করে প্রায় বিরতিহীনভাবে ক্ষমতাসীন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন থাকার সেই প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ী নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে বলিষ্ঠ যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত একসময় গড়ে ওঠে, জাপানে তা ইস্পাতকঠিন ত্রিভুজ নামে পরিচিত, গত নির্বাচনের পর যার অনেকটাই এখন ভেঙে পড়ার মুখে। আমলাতন্ত্র ছিল এর মুখ্য একটি উপাদান, রাজনীতিবিদেরা নানা কারণে যার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। জাপানের সাড়া জাগানো অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে আমলাতন্ত্র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে গেলেও রাজনীতিকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা সেই একই আমলাতন্ত্র রেখেছে। ফলে গত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকারী গণতন্ত্রী দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই ঘোষণা করেছিল, নির্বাচনে বিজয়ী হলে আমলাতান্ত্রিক গোপনীয়তার বন্ধন থেকে জাপানকে তারা বের করে আনবে। সেই প্রক্রিয়াই এখন চলছে জাপানজুুড়ে, যার একটি ফল হচ্ছে এক দশক ধরে আমলাতন্ত্রের গোপন করে রাখা দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান প্রকাশে প্রধানমন্ত্রী ইয়ুকিও হাতোইয়ামার সরকারের নেওয়া উদ্যোগ। সরকার বলছে, সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ সমাধান খুঁজে পেতে হলে এর গভীরতা সম্পর্কেও জনগণের জানা থাকা দরকার। আর সেই ধারণা থেকেই দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান প্রকাশে সরকারের এগিয়ে আসা।
জাপানের জনগণের দরিদ্র হয়ে পড়ার পেছনের মূল কারণ অবশ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হয়ে আসায় দেশের ব্যর্থতা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বুদ্বুদ অর্থনীতি ফেটে পড়া থেকে সংকটের সূচনা হলেও এর সঠিক ব্যাপ্তি অবশ্য ৯০-এর দশকের পুরোটা ধরে সেভাবে অনুভব করা যায়নি। নানা রকম পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার যে চেষ্টা বিভিন্ন সময় সরকার চালিয়েছিল, তার মূলে প্রধানত ছিল জাপানের বাণিজ্যের খাতকে সতেজ করে তোলার মধ্য দিয়ে সংকট উত্তরণের চেষ্টা চালানো। ফলে সংকটকবলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্দ ঋণের বিশাল বোঝা থেকে বের হয়ে আসায় সাহায্য করতে লাখ কোটি ডলার খরচ করা হলেও নাগরিক জীবনের দুর্দশা লাঘবে বরাদ্দের পরিমাণ কিন্তু ক্রমশই সংকুচিত হয়ে আসে। অন্যদিকে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে করপোরেট জাপান বা জাপানের প্রভাবশালী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শ্রম আইন শিথিল করে নেওয়ার মতো চাকরিসংক্রান্ত অন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়, জাপানে আনেক প্রচলিত ব্যবস্থার মূলে তা আঘাত হানে এবং খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত নতুন এক শ্রমজীবী শ্রেণীর আবির্ভাবের সুযোগও তা করে দেয়। এসবের পরিণতিতে জাপান এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বিশাল এক জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয়েছে, যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত, সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন সুবিধা থেকে যারা বঞ্চিত।
তবে জাপানের দারিদ্র্যসীমাকে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের দারিদ্র্যসীমার সঙ্গে এক করে দেখা অবশ্যই ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় দারিদ্র্যসীমা অনেক দিন ধরেই এক ডলারের কমে দিনযাপনের হিসাবে সীমিত ছিল, এখন যেটা সম্ভবত এক ডলারের সামান্য কিছু বেশিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানের দারিদ্র্যসীমা অবশ্য এই হিসাবের অনেক ঊর্ধ্বে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের হিসাবে জাপান সরকার দারিদ্র্যসীমার হিসাবে যে আয় নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটা হলো, চার সদস্যের একটি পরিবারের বার্ষিক প্রায় ২২ হাজার মার্কিন ডলার বা আনুমানিক ২০ লাখ ইয়েন। বাংলাদেশের হিসাবে এই আয় হচ্ছে বিত্তবান পরিবারের আয়ের সমতুল্য। তবে জাপানের প্রচলিত সামাজিক কাঠামোয় এই পরিমাণ অর্থে চার সদস্যের একটি পরিবারের ভরণপোষণ রীতিমতো কষ্টসাধ্য। ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের গাড়ি কিংবা মুঠোফোনের মালিকানা থাকা সত্ত্বেও মধ্যবিত্তের আরামদায়ক জীবনযাপন নিশ্চিত করে নেওয়া এদের পক্ষে কষ্টকর। একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতাসীন থাকা প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির নেওয়া নানা রকম সংস্কার-উদ্যোগের যে মাশুল জাপানকে এখনো দিয়ে যেতে হচ্ছে, তারই ফলে কর্মজীবী দরিদ্র নামে পরিচিত একটি জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব জাপানে লক্ষ করা যায়। এরা ঠিক বেকার না হলেও কোথাও পূর্ণকালীন কাজ না করায় সামাজিক নিরাপত্তার অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে একাধিক কাজে এদের অনেককেই জড়িত হতে হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বাধীন জাপানের নতুন মধ্য বামপন্থী সরকার এখন চাইছে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত জনবিচ্ছিন্ন নীতির কারণে স্বল্প আয়ের লোকজনের ওপর চেপে বসা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে। তবে সরকারের ভান্ডার সীমিত হওয়ায় সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়ার মধ্য দিয়ে আপাতত অর্থসংকুলানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হলেও, সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে হলে ক্রমশ সম্প্রসারমাণ ধনী আর দরিদ্রের পার্থক্য ঘুচিয়ে নেওয়ায় সরকারকে অবশ্যই উদ্যোগী হতে হবে। তবে সেই পথে অগ্রসর হতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বাইরে আরও যা দরকার, তা হচ্ছে রাজনীতিবিদদের আন্তরিকতা। ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক দলে আপাতত সেই আন্তরিকতার অভাব মোটেও নেই। ফলে সমাজের তলানিতে যারা এখন অবস্থান করছে, তাদের অনেকেরই ধারণা, এই সরকারই হচ্ছে এখন তাদের শেষ ভরসা।
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

সংশয় পেরিয়ে নতুন সুযোগ -ব্রিটিশ নির্বাচন

(ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন ২০১০ নিয়ে গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমস-এর দুটি সম্পাদকীয় ছাপা হলো।)

সংশয় পেরিয়ে নতুন সুযোগ: গার্ডিয়ান
গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে যে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হয়েছে, একে ব্রিটেনের জন্য আশঙ্কাজনক বা জাতীয় দুর্বলতার কোনো লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই নির্বাচন এক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এবারের নির্বাচন থেকে প্রতিটি দলের জন্য যেমন কিছু পুরস্কার মিলেছে, তেমনি কিছু সমস্যাও তৈরি হয়েছে। ব্রিটেন ক্রমে ক্রমে যে বহুমাত্রিক, বহুদলীয় সমাজে পরিণত হয়েছে, সাম্প্রতিক অন্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে তার বেশ ভালো প্রতিফলন পাওয়া গেছে। অবশ্য এই প্রতিফলনও পুরো বাস্তবতাকে হাজির করে না। এ দেশের নাগরিকেরা হয় লেবার, নয় কনজারভেটিভ সমর্থক—এমনটা আর বলা যাবে না। কয়েক প্রজন্মের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় দুই দল দুই-তৃতীয়াংশের কম ভোট পেল। সুতরাং বিকৃত প্রতিনিধিত্বের যে ব্যবস্থা চলে আসছে, তা মেরামতের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে যথার্থ ও টেকসই করে তোলার। এমন মুহূর্ত খুব সহজে আসে না। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।
ডেভিড ক্যামেরন ও গর্ডন ব্রাউন তাঁদের নির্বাচন-উত্তর বক্তব্য দিয়েছেন। দেরিতে হলেও তাঁরা স্থিতিশীল সরকার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। উভয়ের বক্তব্যে আকর্ষণীয় নানা দিক ছিল। একটি স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে ক্যামেরন স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার নানা সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ব্রাউনের বক্তব্যও ছিল অনেক সুসংহত। লেবারের জন্য জায়গা তৈরির চেষ্টা আছে। সন্দেহাতীতভাবে উভয়ের বক্তৃতায় পুরোনো ব্যবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থা অভিমুখে যাত্রার দৃঢ় অঙ্গীকারের আভাস পাওয়া যায়: সেই পুরোনো ব্যবস্থায় প্রধান দুই দল মনে করত, দেশের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব শুধু তারাই করে, যেখান থেকে নতুন ব্যবস্থার দিকে তাদের এই যাত্রা, যেখানে প্রতিটি দল বহুমাত্রিক বাস্তবতায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করতে এবং পরিপক্ব সমঝোতা ও আপস-মীমাংসায় পৌঁছার চেষ্টা চালাতে বাধ্য হয়। নির্বাচনের রাতের নানা হতাশাব্যঞ্জক দিকের মধ্যে এটিই ছিল উদ্দীপক একটি বিষয়।

তারা একে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট বলে: নিউইয়র্ক টাইমস
ব্রিটেনে লেবার পার্টিকে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নেতৃত্ব দিতে গর্ডন ব্রাউন ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এ নির্বাচনে কোন দল জিতেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ব্রিটেনের নির্বাচনের এ ফল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। ব্রাউন এবং কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন উভয়ই আফগানিস্তান বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার কৌশলের সমর্থক। তবে নির্বাচনের এ অনিশ্চিত ফল ব্রিটেনের রুগ্ণ অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ হতে পারে। এই সময়ে ব্রিটেনে শক্তিশালী এবং দৃঢ় নেতৃত্বের বড় প্রয়োজন।
পার্লামেন্টে এখন সর্ববৃহৎ দল কনজারভেটিভ পার্টি, কিন্তু তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় আসন লাভ করতে পারেনি। এ অবস্থায় একটি দুর্বল সংখ্যালঘুর সরকার অথবা মধ্য বামপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনের অধিক কিছু তারা আশা করতে পারে না। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কোয়ালিশন কনজারভেটিভদের জন্য অস্বস্তির। কারণ, কর সংস্কার, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যয় সংকোচনের সময় নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দলের অবস্থান স্পষ্টত ভিন্ন।
কনজারভেটিভরা নতুন সরকার দাঁড় করাতে ব্যর্থ হলে লেবার নিজে একটি কোয়ালিশন গঠনের চেষ্টা চালাতে পারে। নির্বাচনে বাজে প্রদর্শনীর পর তাদের পক্ষে নানা ছাড় দিয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো কর্মসূচি হাজির করা আরও কঠিন। এমনকি লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও লেবারের কোয়ালিশন যদি হয়ও, তবু তা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে না। এটা হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিতে পারে। সরকার চালানোর স্পষ্ট জনসমর্থন পেতে আরেকটি নির্বাচনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
সরকারের নেতৃত্বে যে-ই আসুক না কেন, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ব্রিটেনের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনা। এ জন্য সরকারি সেবা খাতগুলোর বরাদ্দ কমানো আবশ্যক হবে।
১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে লেবারের চিন্তা, শক্তি ও সৌভাগ্য এখন নিঃশেষিত। এটি নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলের কারণ। কনজারভেটিভরা প্রয়োজনীয়সংখ্যক সমর্থন পায়নি; কারণ, থ্যাচারের সময়ের তিক্ত অতীত থেকে দলটির রূপান্তরের গভীরতা কতটুকু, সে বিষয়ে ভোটাররা সন্দিহান ছিলেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক নেতা নিক ক্লেগ সত্যিকারের উদ্দীপনা সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ভোটার কোনো অনভিজ্ঞ দলকে সুযোগ দিতে নারাজই থাকলেন। অবশ্য নীতির প্রশ্নে দলটির সারগর্ভ অবস্থানেরও ঘাটতি ছিল।
ভোটদাতাদের ২৯ শতাংশের ভোট যখন লেবারকে ২৫০টির বেশি আসন এনে দেয় আর অন্যদিকে ২৩ শতাংশ ভোট পাওয়া সত্ত্বেও লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ৫০টির কিছু বেশি আসন পায়, তখন নিশ্চয়ই নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যে গলদ আছে। নির্বাচনী সংস্কার দরকার। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা কোয়ালিশনের শর্ত হিসেবে এ দাবি তুলবে। এ মুহূর্তে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এমন এক সরকার, যেটি বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারে, আর তা করতে পারে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিরুৎসাহিত না করে এবং বোঝা বহনের সামর্থ্য যাদের সবচেয়ে কম, তাদের ওপর সবচেয়ে ভারী বোঝা না চাপিয়ে।
ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: আহসান হাবীব।

বিএনপি হরতাল চায়, সরকার কী চায় -রাজনৈতিক সংস্কৃতি

২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের মে মাস—প্রায় সাড়ে তিন বছর। এত দীর্ঘ সময় হরতাল ছাড়া থাকার সুযোগ দেশবাসী আর পায়নি। দেশবাসী না হয় এক মহা ‘সুযোগ’ ভোগ করেছে, কিন্তু যাঁরা হরতাল ডাকেন, তাঁরা তো দীর্ঘদিন হরতাল ডাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হরতাল ছাড়া আর কত দিন! বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হরতাল ডাকার ‘সুযোগ’ থেকে বঞ্চিত মাত্র সাড়ে তিন বছর। কিন্তু বর্তমান বিরোধী দলের অবস্থা তো আরও খারাপ। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে (২০০১-০৬) পাঁচ বছর, এরপর আরও সাড়ে তিন বছর—সব মিলিয়ে সাড়ে আট বছর কোনো হরতাল ডাকতে পারেনি। ক্ষমতায় থাকার ‘মজা’ হরতাল ডাকার ‘মজা’র চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্ষমতায় থাকলে হরতাল ডাকার দরকার পড়ে না। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা ও হরতাল না ডাকা—দুটি তো একসঙ্গে যেতে পারে না! বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি ও এর নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলে থেকে প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করেছেন, হরতাল ডাকেননি। আর কত!
রাজশাহীতে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমরা অনুমান করছি, হরতাল আসছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মনে সংশয়, হরতাল সফল হবে তো! কর্মীদের কাছ থেকে তাই তিনি প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। জানতে চেয়েছেন, ‘হরতাল দিলে সফল করতে পারবেন তো?’ অনুমান করা যায়, এই সংশয়ের পেছনে গত সোমবার নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিএনপির পদযাত্রার অভিজ্ঞতা কাজ করেছে। এই পদযাত্রা নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘বাংলামোটরে থেমে গেল বিএনপির “বাধাহীন” পদযাত্রা।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিএনপির এই পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। না পুলিশ, না সরকারি দলের কর্মী। এর পরও মিছিল কেন বাংলামোটরে এসে থেমে গেল? ‘সমাবেশ শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে মুক্তাঙ্গন থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর বিশাল মিছিলটি নির্বাচন কমিশন অভিমুখে রওনা হয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে কিছু দূর যেতে না যেতেই মিছিলের আকার ছোট হতে থাকে। কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতাও মিছিল ছেড়ে চলে যান। একপর্যায়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে মিছিলটি বাংলামোটর এসে পৌঁছালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।’ গরমের কাছে সব পরাজিত!
ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল, পুনর্নির্বাচন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য দুই কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচির যে পরিণতি হয়েছে, তাতে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়ার চিন্তিত হওয়ারই কথা। রাজশাহীর সমাবেশে উপস্থিত কর্মীদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া সে কারণেই হরতাল ডাকলে তা সফল করার প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, কর্মীরা খালেদা জিয়াকে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতএব হরতাল আসছে! বিএনপি যদি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে আধাবেলা হরতালের ডাক দেয়, তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ছয় ঘণ্টার কর্মসূচি। দেড় ঘণ্টার মিছিলে যদি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও কর্মীরা ক্লান্ত হয়ে মিছিল ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন, তবে ছয় ঘণ্টার কর্মসূচি সফলের ভরসা কই? আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের আগে তো গরম কমবে না! বিএনপি কী তবে হরতাল ডাকার জন্য সামনের শীত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? এতে কর্মীদেরও সুবিধা। আর হরতালের সময় যাঁরা হেঁটে কর্মস্থলে যান, তাঁদের কষ্টও কিছুটা কমবে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত কী করবে, তা জানার জন্য ১৯ মে ঢাকার মহাসমাবেশ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
হরতালের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক। যারা বা যে দল হরতাল ডাকে, হরতাল শেষ হওয়ার পর তারা ‘হরতাল সফল’ করার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানায়। আর সরকার বা সরকারি দল হরতালে ‘সাড়া’ না দেওয়ার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানায়। মানে হরতাল ‘সফল’ করা বা হরতালে ‘সাড়া’ না দেওয়া—দুটোর কৃতিত্বই জনগণের। কিন্তু খালেদা জিয়া আমাদের এই দীর্ঘ দিনের ‘বিশ্বাসে’ চিড় ধরিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর কর্মীদের কাছে জানতে চাইলেন ‘হরতাল দিলে সফল করতে পারবেন তো?’ কর্মীরা যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন, তাই অনুমান করতে পারি বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত হরতালের ডাক দেয়, তা ‘সফল’ করতে কর্মীদের ভূমিকাই বেশি থাকবে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ কী করবে কে জানে! বিএনপির হরতালের ‘সফলতা’ ঠেকাতে ‘জনগণের’ ওপর ভরসা না করে তারাও যদি কর্মীনির্ভর হয়ে পড়ে, তবে জনগণ যে বড় বিপদে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিএনপি এরই মধ্যে আজ রোববার বগুড়ায় আধাবেলা হরতাল ডেকেছে। রাজশাহীতে খালেদা জিয়ার সমাবেশে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গাড়িবহরে হামলা ও বিএনপির এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় এই হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। পত্রপত্রিকার খবর বলছে, এই হামলার জন্য সরকারি দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দায়ী। যুক্তির বিচারে এ ঘটনায় বিএনপির ডাকা হরতালের দায়টাও তাই সরকারি দল আওয়ামী লীগের। রোববার বগুড়ায় ডাকা হরতাল তাই ‘আওয়ামী লীগের হরতাল’। খালেদা জিয়ার রাজশাহী মহাসমাবেশের পর সামনে আরও হরতালের যে আশঙ্কা আমরা করছি, তা কার হরতাল হবে? বিএনপির না আওয়ামী লীগের? বগুড়ার মতো ‘আওয়ামী লীগের হরতাল’ হলে হরতাল নিয়ে খালেদা জিয়ার দুশ্চিন্তা অনেক কমে যাবে। হরতাল নিয়ে বিরোধী দলের নেত্রীর দুশ্চিন্তা কমাতে চাইলে সরকারি দল বগুড়ার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির গাড়িবহর বা মিছিল-সমাবেশে হামলা বাড়িয়ে দিতে পারে! নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বিএনপির সমর্থকদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে!
বিরোধী দল হরতাল ডাকতে চায়। কিন্তু সরকার কী চায়? হরতাল ডাকার কাজে বিরোধী দলকে সহায়তা করতে, না কাজটি কঠিন করে দিতে?
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা -মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যুক্তি যথার্থ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধার দাবি জানিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষত, দেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক থাকায় যাঁরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করছেন, তাঁদের আমদানি ব্যয় বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি পোশাকের দামও বাজারে বেড়ে যায়। এটা সংগত কারণেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। কোনো রকম যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে। ফলে গড়ে বাংলাদেশি পণ্যকে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিয়ে সে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশের ক্ষেত্রে গড়ে এই শুল্কহার ১ শতাংশেরও কম।
অথচ গত বৃহস্পতিবার দেশের একটি বাণিজ্য সংগঠনের এক সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলে বসলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলে বাংলাদেশ লাভবান হবে না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর থেকে আরও জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অবশ্য মরিয়ার্টির এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা বিভ্রান্তিকর, হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রতিষ্ঠিত যে শুল্ক অব্যাহতি পেলে বাংলাদেশের রপ্তানি অন্তত কয়েক কোটি ডলার বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ও ১২৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়, যার বিপরীতে যথাক্রমে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ও ২১ কোটি ডলার শুল্ক প্রদান করতে হয়েছে। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে যথাক্রমে দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার ও তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় ক্ষেত্রেই আদায় করেছে মাত্র ১৮ কোটি ডলারের শুল্ক।
বস্তুত, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য থেকে এমনই আভাস মেলে যে তাঁরা বাংলাদেশি পণ্যকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিতে আগ্রহী নন। অথচ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। তা ছাড়া এটা বাজারসুবিধাও নয়। বরং বলা দরকার, প্রতিযোগিতার সুষমতা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় সব ধনী দেশ বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা -মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যুক্তি যথার্থ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধার দাবি জানিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষত, দেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক থাকায় যাঁরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করছেন, তাঁদের আমদানি ব্যয় বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি পোশাকের দামও বাজারে বেড়ে যায়। এটা সংগত কারণেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। কোনো রকম যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে। ফলে গড়ে বাংলাদেশি পণ্যকে ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিয়ে সে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যেখানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশের ক্ষেত্রে গড়ে এই শুল্কহার ১ শতাংশেরও কম।
অথচ গত বৃহস্পতিবার দেশের একটি বাণিজ্য সংগঠনের এক সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলে বসলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলে বাংলাদেশ লাভবান হবে না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর থেকে আরও জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অবশ্য মরিয়ার্টির এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা বিভ্রান্তিকর, হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রতিষ্ঠিত যে শুল্ক অব্যাহতি পেলে বাংলাদেশের রপ্তানি অন্তত কয়েক কোটি ডলার বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক ডেমোক্রেটিক লিডারশিপ কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ও ১২৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়, যার বিপরীতে যথাক্রমে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ও ২১ কোটি ডলার শুল্ক প্রদান করতে হয়েছে। অথচ একই সময়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে যথাক্রমে দুই হাজার ২৩০ কোটি ডলার ও তিন হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় ক্ষেত্রেই আদায় করেছে মাত্র ১৮ কোটি ডলারের শুল্ক।
বস্তুত, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য থেকে এমনই আভাস মেলে যে তাঁরা বাংলাদেশি পণ্যকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দিতে আগ্রহী নন। অথচ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। তা ছাড়া এটা বাজারসুবিধাও নয়। বরং বলা দরকার, প্রতিযোগিতার সুষমতা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় সব ধনী দেশ বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি -আঞ্চলিক বৈষম্য বা দলীয়করণ কাম্য নয়

ছয় বছর বন্ধ থাকার পর এক হাজার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির খবর নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার যেমন অবসান হয়েছে, তেমনি শিক্ষার প্রতি বর্তমান সরকারের আগ্রহ-একাগ্রতাও পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও সাধ ও সাধ্যের বিরাট ফারাক ছিল। সাত হাজার ৫৫৩টি আবেদনপত্রের মধ্যে অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক-সপ্তমাংশেরও কম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখে মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে সরকার কোনো কোনো এলাকার প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনায় যদি এটি হয়ে থাকে, তবে তা খুবই দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাখ্যা বিবেচনায় নিয়ে আমরা যা বলতে চাই তা হচ্ছে, বৈষম্য কমাতে গিয়ে যেন নতুন করে বৈষম্য তৈরি করা না হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর এলাকায় বেশিসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তিও ভালো দৃষ্টান্ত নয়। কেননা, তাঁরা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হলেও মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গোটা দেশকেই প্রতিনিধিত্ব করেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করবে, কেবল তাদের আবেদনপত্রই বিবেচনা করা যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘোষণা করতে হবে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদবির করা হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায়ই আনা হবে না।
বিএনপির আমলে গোপালগঞ্জ বা হবিগঞ্জকে এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে তা অবশ্যই দুঃখজনক। সেটার প্রতিকার করতে গিয়ে আবার নতুন করে বৈষম্য তৈরি করাও অগ্রহণযোগ্য। শিক্ষাকে দলীয় বা আঞ্চলিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী যদিও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির অর্থ এই নয় যে সেটি সব সময়ের জন্য এমপিওভুক্ত থাকবে। দেশবাসী বাস্তবেও তাঁর বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চাইবে। এ ছাড়া তিনি চার মাস পরই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এবার যেসব এলাকার কম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে সেসব এলাকা বেশি অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করি।
অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির আগ পর্যন্ত লেখাপড়া ভালো হলেও পরে গা ছাড়া ভাব লক্ষ করা যায়। এর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য নিবিড় তদারকি থাকতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রতিবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হলে সরকারের ওপর চাপও কমবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যাপারেও একটি স্থায়ী নীতিমালা থাকা প্রয়োজন, যাতে ক্ষমতার হাতবদলের সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে না যায়। সবশেষে নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন রইল, একই সঙ্গে এও প্রত্যাশা থাকবে, লেখাপড়ায় নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করবে, শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে মনোযোগী হবেন এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করে দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।

পাকিস্তানে দুটি স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

পাকিস্তান গতকাল শনিবার দুটি স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পরমাণু ও প্রচলিত ওয়্যারহেড বহন করতে এবং ভারতে আঘাত হানতে সক্ষম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এ উপলক্ষে সৈন্যদের উদ্দেশে এক ভাষণে বলেছেন, নিজেদের পরমাণু শক্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সময় এসে গেছে।
আর্মি স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ডের প্রশিক্ষণ মহড়ার শেষ দিনে গতকাল সশস্ত্র বাহিনী ৬৫০ কিলোমিটার পাল্লার শাহীন-১ ও ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার গজনবী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।
ক্ষেপণাস্ত্র দুটির উৎক্ষেপণকালে প্রধানমন্ত্রী গিলানি উপস্থিত ছিলেন। তিনি সৈন্যদের বলেন, বিশ্ববাসীর সময় এসে গেছে পাকিস্তানকে একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। তিনি বলেন, পাকিস্তান আইএইএর অধীনে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহে সক্ষম। গত মাসে ওয়াশিংটনে পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে এই সক্ষমতার কথা জানানো হয়েছে।

হ্যারডস বিক্রি করে দিয়েছেন ফায়েদ

লন্ডনের বিখ্যাত হ্যারডস ডিপার্টমেন্ট স্টোর বিক্রি করে দিয়েছেন এর মালিক মোহাম্মদ আল-ফায়েদ। কাতার হোল্ডিংস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গতকাল শনিবার সকালে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
১৯৮৫ সালে মোহাম্মদ ফায়েদ হ্যারডস কিনেছিলেন ৬১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে। আর এখন বিক্রি করে দিলেন ১৫০ কোটি পাউন্ডে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্রিটেনের প্রিন্সেস ডায়ানার প্রেমিক দোদি আল-ফায়েদের বাবা মোহাম্মদ ফায়েদ। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ডায়ানা ও দোদি। কিন্তু তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে এরপর থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ ফায়েদ।
মোহাম্মদ ফায়েদ হ্যারডস কেন বিক্রি করলেন, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।
পশ্চিম লন্ডনে বিখ্যাত এ ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। কয়েক তলা এ স্টোরের ভেতর বেচাকেনার জায়গা আছে ১০ লাখ বর্গফুট। আর মোট বিভাগ আছে ৩৩০টি। তাঁদের স্লোগানই হলো: সবার জন্য সব জিনিস, সব জায়গায়। প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি মানুষ এখানে কেনাকাটা করে।
হ্যারডসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আশির দশকে ফায়েদ ও টাইনি রাওল্যান্ড নামের এক ব্যবসায়ীর মধ্যে দীর্ঘ বিবাদ চলে।
মিসরের নাগরিক মোহাম্মদ ফায়েদ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও এখনো তাঁকে ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ সরকার প্রথমবার পাসপোর্ট দিতে অস্বীকার করার পর ফায়েদ অভিযোগ করেছিলেন, তিনি দুই মন্ত্রীকে অর্থ দিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে হাউস অব কমন্সে আলোচনা করতে।

পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি হিলারির

নিউইয়র্কে ব্যর্থ হওয়া বোমা হামলার মতো ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেলে এর পরিণাম হতো ভয়াবহ। গতকাল শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সেখানকার টিভি চ্যানেল সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন। আজ রোববার এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকারের অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
তবে সাক্ষাৎকারে হিলারি স্বীকার করেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ে সহযোগিতা বাড়িয়েছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
হিলারি ক্লিনটন পাকিস্তানের সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলা যদি সফল হতো এবং যদি দেখা যেত যে এই ষড়যন্ত্রের উৎপত্তি পাকিস্তানে, তাহলে এর পরিণতি হতো ভয়াবহ।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের মনোভাবের বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। আগের চেয়ে সহযোগিতা বাড়িয়েছে তারা। তবে আমরা আরও সহযোগিতা চাই।’
এক সপ্তাহ আগে টাইমস স্কয়ারে একটি বড় ধরনের বোমা হামলার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয় মার্কিন পুলিশ। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাকিস্তানেই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
এদিকে গতকাল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক সাংবাদিকদের বলেন, ফয়সাল শাহজাদ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র যে তথ্য দিয়েছে, পাকিস্তান তা খতিয়ে দেখছে।
মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের একটি দল গত শুক্রবার পাকিস্তান পৌঁছেছে। সম্ভাব্য ওই হামলায় বিদেশি সন্ত্রাসীরা অর্থের জোগান দিচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে তদন্ত করবেন গোয়েন্দা সদস্যরা।

সরকারে স্থান পাওয়ার মূল্য

একসঙ্গে মিলে সরকার গঠনের জন্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের প্রতি ‘বড়, উন্মুক্ত ও সমন্বিত’ প্রস্তাব দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন। গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হওয়ার পর তিনি এই প্রস্তাব দেন। এ ব্যাপারে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা নিক ক্লেগের সঙ্গে ক্যামেরন বৈঠকও করেছেন। ক্যামেরনের প্রস্তাব নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে লিব ডেম শিবিরে।
ডেভিড ক্যামেরন যখন প্রস্তাব দিলেন, তাঁরা লিবারেল ডোমোক্র্যাটস দলের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন করবেন, তখন নিশ্চয়ই লিব ডেম নেতারা খুবই আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই খুশি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ভালো কথা বললেও ক্যামেরন নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।
নির্বাচনী প্রচার চলার সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি কী করবেন। জবাবে ক্লেগ বলেছিলেন, সবচেয়ে বেশি আসনে যারা জিতবে এবং সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, তাদেরই সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়া উচিত।
শুক্রবারও ক্লেগ বলেছেন, ‘কনজারভেটিভ পার্টি প্রমাণ করেছে, জাতীয় স্বার্থে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব চাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।’ এই বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, কনজারভেটিভ পার্টিকে তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে সরকার গঠনের জন্য আলোচনায় বসার ব্যাপারে ক্যামেরন তাঁকে প্রস্তাব দেন।
এ ক্ষেত্রে গর্ডন ব্রাউনের অবস্থান কী হবে? নির্বাচনের পরপরই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগ করার পরিকল্পনা নেই। শুক্রবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনিও জোট সরকার গঠনের জন্য নিক ক্লেগের প্রতি প্রস্তাব দেন। তিনি অর্থনীতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও লেবার পার্টির একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উল্লেখ করেন।
ক্যামেরনের সঙ্গে ক্লেগের সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ফুল হাতে লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের দরজায় কড়া নাড়তে প্রস্তুত ব্রাউন। সঙ্গে থাকছে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পরপরই আইন করার প্রতিশ্রুতি। তবে ব্রাউনের এখনো কড়া নাড়ার সুযোগ আসেনি। টোরি আর লিব ডেমদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা একটি পর্যালোচনা কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল যা চায়, এই প্রস্তাব তার তুলনায় অপর্যাপ্ত। টোরি দলের নেতারা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, লেবার পার্টির সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ভোটিং পদ্ধতি পরিবর্তন করার জন্য জেনকিংস কমিশন স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ওই কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনি।
তবে দুই দলের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য রয়েছে। দুই দলই পরিচয়পত্রসংক্রান্ত পরিকল্পনা বাতিল করতে চায়। এ ছাড়া ধনী ও গরিবের বৈষম্য কমাতে ইংল্যান্ডে ‘পিউপিল প্রিমিয়াম’ (শিক্ষার্থী ভাতা) চালু করার কথাও রয়েছে দুই দলের নির্বাচনী ইশতেহারে। তবে করনীতি নিয়ে উভয় দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। এ ব্যাপারে আরও আলোচনা করার কথা বলেছেন ক্যামেরন।
সবশেষে বলা যায়, নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। জনগণ তাঁদের রায় জানিয়েছেন। এখন সময় হয়েছে রাজনীতিকদের জবাব দেওয়ার।

মার্কিন কূটনীতিককে সু চির সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ দেবে জান্তা

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্র-মন্ত্রী কার্ট ক্যাম্প-বেল তিন দিনের সফরে মিয়ানমার যাচ্ছেন। সফর-কালে সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগ করে দিতে পারে জান্তা সরকার। জান্তার এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, শুধু সু চি ও তাঁর দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হলেই মিয়ানমার সফর করবেন ক্যাম্পবেল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জান্তার ওই মুখপাত্র জানান, ক্যাম্পবেল মিয়ানমার সফরকালে আগামীকাল সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নয় সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া একই দিন সু চি ও তাঁর সদ্য বিলুপ্ত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ক্যাম্পবেল। ওই মুখপাত্র জানান, তবে সরকার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করেনি।
মিয়ানমারের নতুন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে পুনরায় নিবন্ধন না করায় এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জান্তা।
এনএলডির ভাইস চেয়ারম্যান টিন উ বলেছেন, ক্যাম্পবেলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রে সরকার বদল হলেই রাজ্যপাল বদল করা যাবে না

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বদল হলেই বিভিন্ন রাজ্যে নিয়োজিত রাজ্যপাল বদল করা যাবে না। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণানের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ এই রায় দেন।
২০০৪ সালে ্র বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীলমোর্চা (ইউপিএ) সরকার। এরপর ইউপিএ সরকার উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং ওড়িশায় রাজ্যপাল বদল করে। এরই বিরুদ্ধে তৎকালীন বিজেপি সাংসদ বি পি সিংহল সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেন, কেন্দ্রে সরকার বদল হলেই রাজ্যপাল বদল করা যাবে না। রাজ্যপালের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই কেবল বদল করা যাবে। তবে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে সরানো যাবে।

নেপালে মাওবাদীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

নেপালে মাওবাদীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘট গত শুক্রবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ছয় দিন পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করল। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে মাওবাদীরা জানিয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা ধর্মঘটে সে দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। ধর্মঘটের কারণে প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মাওবাদীদের প্রধান পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড গত শুক্রবার পার্টির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের সময়সীমা ২৮ মে পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’
মাওবাদীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তাদের নেতৃত্বে একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মাওবাদীরা পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, নেপালের ৬০১ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে মাওবাদীদের আসন সবচেয়ে বেশি। পার্লামেন্টের ৪০ শতাংশ আসন তাদের দখলে।
এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে নেপালে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। দোকানপাট পুনরায় খুলেছে ও রাস্তায় যানবাহন চলাচল শুরু করেছে। কিছু ব্যাংক গতকাল শনিবার থেকেই লেনদেন শুরু করে দিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে মানুষজন বাজারে গিয়ে শাকসবজি, ফলমূলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছে।

জাপানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বিরোধী বিক্ষোভ

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাগোশিমায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইউকিয়ো হাতোইয়ামা মঙ্গলবার ওকিনাওয়ার ফুতেনমা থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিটি সরিয়ে নিয়ে কাগোশিমায় স্থানান্তরের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর পরই কাগোশিমার বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
হাতোইয়ামা সরকার ফুতেনমা থেকে এক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ও তাদের বিমান বহর কাগোশিমার প্রত্যন্ত দ্বীপ তকুনোশিমায় স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছে। ওকিনাওয়া থেকে মার্কিন সেনাদের চাপ কমানোর নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে হাতোইয়ামা নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী সরকার এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

অলক্ষ্যে পড়ে ছিল রাফায়েলের চিত্রকর্ম

পারিবারিক জাদুঘরের নিভৃত প্রকোষ্ঠে বহু দিন অলক্ষ্যে পড়ে ছিল একটি ছোট চিত্রকর্ম। বিশেষজ্ঞরা এখন তা খুঁটিয়ে দেখে অবাক। এ যে ইতালির বিখ্যাত রেনেসাঁ শিল্পী রাফায়েলের আঁকা ছবি!
উত্তর ইতালির মোদেনা ও রেগিও এমিলিয়া প্রদেশের চারুকলা কর্মকর্তা মারিও স্কালিনি বলেন, ছবিটিতে শুধু একটি নারীর মাথার অংশটুকু আঁকা হয়েছে। এটিকে মনে করা হতো উনিশ শতকের কারো কপি করা ছবি, আসল শিল্পকর্ম নয়। এখন মনে করা হচ্ছে, ‘দ্য হলি ফ্যামিলি’ বা ‘দ্য পার্ল’ নামে রাফায়েলের যে বড় একটি শিল্পকর্ম রয়েছে, তারই একটি অংশ এটি। ‘দ্য হলি ফ্যামিলি’ শিল্পকর্মটি মাদ্রিদের প্রাদো জাদুঘরে রয়েছে।
রাফায়েলের আঁকা মূল স্কেচ বা রেখাচিত্রটির ওপর অনেকে পরবর্তীকালে তুলি চালিয়েছেন। স্কালিনি সন্দেহবশত শিল্প-গবেষকদের ডেকে ব্যাপারটা দেখালে তাঁরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওপরের আস্তর তুলে প্রকৃত চিত্রকর্মটি বের করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ মুদ্রায় ছবিটির দাম হবে দুই কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। পঞ্চদশ শতকে ইতালিতে শিল্পের যে নবজাগরণ ঘটে, রাফায়েল তাঁর অন্যতম পথিকৃৎ।
শুধু ওই অংশটির স্কেচ করার পর মারা যান রাফায়েল। তার শিষ্য গিওলিও রোমানো এটি শেষ করেন। কার্ডিনাল ইপোলিতো দি’এস্তে ছবিটি কিনে নেন। তবে শুধু রাফায়েলের নিজ হাতে আঁকা মাথার অংশটি রেখে তা বিক্রি করে দেন তিনি। এভাবে এটি এস্তে পরিবারের জাদুঘরে থেকে যায়। সেখানে ২৭ হাজার চিত্রকর্ম জমা ছিল। এস্তে পরিবার উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চার শতক ধরে মোদেনা ডাচি শাসন করে।

ফয়সালের সঙ্গে জৈশের যোগ খতিয়েদেখা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি-বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদের সঙ্গে পাকিস্তানি মাওলানা মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ফয়সালের যোগসূত্র তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীদের দৃষ্টি পড়েছে করাচির নিকটবর্তী বাথা মসজিদ ও একটি মাদ্রাসার দিকে। যা একসময় জেইএমর প্রাদেশিক সদর দপ্তর ছিল। জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহার একসময় ওই মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। ছিনতাই হওয়া একটি ভারতীয় বিমান ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারকে ভারতের একটি জেলখানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
জেইএম’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মসজিদটি এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ফয়সালের মসজিদ পরিচালনার সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানায়, মসজিদ থেকে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর একটি সূত্র জানায়, কয়েক বছরে পাকিস্তান সফরের সময় ফয়সালের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে।
সূত্র জানায়, ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির সঙ্গে ওই মসজিদের লোকজনের সম্পর্ক রয়েছে।
গত শুক্রবার টাইমস স্কয়ারে সন্দেহজনক একটি প্যাকেট পাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য ওই এলাকার একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
টাইমস স্কয়ারে সন্দেহজনক প্যাকেট
গত শুক্রবার টাইমস স্কয়ারে সন্দেহজনক একটি প্যাকেট পাওয়ার পর ওই এলাকার সেভেনথ এভিনিউর বেশ কয়েকটি ব্লক প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে বোমা স্কোয়াডের সদস্যরা সাদা বাক্সটি পরীক্ষা করে দেখেন। বাক্সের ভেতরে একটি পানির বোতল পাওয়া যায়। সেখানে বিপজ্জনক কোনো কিছু পায়নি বোমা স্কোয়াড।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র পল ব্রাউনে জানান, ওয়েস্ট ফর্টিসিক্সথ স্ট্রিট ও ব্রডওয়ের মলে টহলরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাক্সটি দেখতে পান।

থাইল্যান্ডে গুলি ও গ্রেনেড হামলায় দুই পুলিশ নিহত, আহত ১২

থাইল্যান্ডে গত শুক্রবার রাতে পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় পুলিশের দুজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। তাঁদের মধ্যে সেনা ও পুলিশের সদস্যও রয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, দুটি হামলার ঘটনাই সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের শিবিরের পাশে ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে মীমাংসার সর্বাত্মক চেষ্টার প্রাক্কালে এ ঘটনা ঘটল। সরকার ও বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যারা দেশে স্থিতিশীলতা চায় না, তারাই এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাজধানী ব্যাংককের একটি পার্কের পাশে স্থাপিত চেকপয়েন্টের সামনে শুক্রবার রাতে তিনটি গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। এতে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশের আরও পাঁচজন ও সেনাবাহিনীর তিন সদস্য আহত হন। এর আগে ব্যাংককের বাণিজ্যিক এলাকা সিলোমে এক বন্দুকধারীর হামলায় পুলিশের আরও একজন কর্মকর্তা মারা যান। এই হামলার ঘটনায় পুলিশের দুজন সদস্যসহ মোট চারজন আহত হন। মোটরসাইকেলে করে এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া চলমান সংকট নিরসনে সম্প্রতি পাঁচ দফার একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া এবং ১৪ নভেম্বর আগাম নির্বাচন। তবে লালশার্ট বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার রাতের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লালশার্ট বিক্ষোভকারীরা। তারা দাবি করেছে, এসব হামলার ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। বিক্ষোভকারীদের পক্ষে ওয়েং তাজিরাকার্ন বলেন, ‘এই হামলার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা হামলাকারীদের নিন্দা জানাই।’
এই হামলা ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর সরকারি মুখপাত্র পানিতান ওয়াত্তানায়াগর্ন জানান, বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের শিবিরের পাশে পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ওয়াত্তানায়াগর্ন বলেন, চলমান সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়ার ঘোষিত শান্তিপ্রক্রিয়া বানচাল করে দিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। কেউ কেউ চান না যে এই সংকটের সমাধান হোক। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে লালশার্ট বিক্ষোভকারীদের উচিত সরকারের শান্তিপ্রক্রিয়ার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেওয়া। অন্যথায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। দুর্বৃত্তরা ফের হামলা চালানোর সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বিক্ষোভের অবসান হওয়া উচিত, যাতে করে দেশের ভেতরকার বিভক্তির অবসান হয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।
ব্যাংককে কর্মরত বিবিসির সাংবাদিক বলেছেন, নতুন করে এই রক্তপাতের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে সরকার আবার তাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করতে পারে।

কাসাবের জল্লাদ হতে চান মম্মু সিং

মৃত্যুদণ্ডের আসামিকে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিষয়টিকে একটি শিল্প মনে করেন মম্মু সিং। জীবনে আরেক দফা এই শিল্পের নিদর্শন রাখতে চান তিনি আজমল আমির কাসাবের ফাঁসি কার্যকর করে। ৬৫ বছর বয়সী মম্মু সিং ভারতের মীরাট কেন্দ্রীয় কারাগারের জল্লাদ।
মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার একমাত্র জীবিত আসামি পাকিস্তানি নাগরিক কাসাবকে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত।
মম্মু সিং বলেন, ‘কাসাবের জন্য আমি ফাঁস তৈরি করতে চাই। চাই তাঁর মৃত্যু দেখতে। কাসাবকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আমন্ত্রণ যেন পাই, এ জন্য সর্বশক্তিমানের কাছে আমি প্রার্থনা করে যাচ্ছি।’
টিভিতে কাসাবের মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবর শোনার পর থেকেই তাঁকে ফাঁসি দেওয়ার ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মম্মু।
জল্লাদ হিসেবে মম্মু সিংয়ের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। তাঁর বাবা কাল্লু সিং ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দুই হত্যাকারী কেহার সিং ও সতবন্ত সিংয়ের ফাঁসিতে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন। মম্মুর অভিজ্ঞতাও কম নয়। গত চার দশকে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১০ জন আসামির ফাঁসি তাঁর হাতে হয়েছে।
মম্মু সিং বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়া একটি শিল্প। ফাঁসির কাজটা সহজ করতে ফাঁস তৈরির জন্য কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়।’
মম্মু বলেন, কাউকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে জুতসই দড়ি তৈরি করতে হয়। এ জন্য সাবান ও ঘিসহ আরও কিছু জিনিস লাগে। এসব মেখে দড়িটা মসৃণ করা হয়। এ ছাড়া ফাঁসি দেওয়ার সময় আসামিকে সঠিকভাবে দাঁড় করাতেও হয়।
মীরাটের শিব হরি মন্দির কলোনির বাসিন্দা মম্মু বলেন, ফাঁসি দেওয়ার জন্য প্রচুর সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। তবে মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর তিনি এ জন্য পুরোপুরি তৈরি। এত নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার জন্য দায়ী কাসাবকে ফাঁসিতে লটকে বেশ আত্মতৃপ্তি পাবেন বলেও নিঃসংকোচে জানিয়েছেন তিনি।

উদ্বেগে মার্কিন আইন প্রণেতারা by ইব্রাহীম চৌধুরী

অভিবাসী মুসলমানদের মধ্যে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেলে নাগরিকত্ব বাতিলসংক্রান্ত প্রস্তাব তারা কংগ্রেসে উত্থাপন করেছেন। সম্প্রতি বেশ কিছু জঙ্গি তৎপরতাসংশ্লিষ্ট ঘটনা এই আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অভিবাসনসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাই জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে মুসলিম দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গত সপ্তাহে ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফায়সাল শাহজাদ অভিবাসনসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর আগে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন আফিফা সিদ্দিকী। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানীও অভিবাসনসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গত বছর টেক্সাসে সেনাঘাঁটিতে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে সেনাসদস্যদের হত্যার নায়ক ছিলেন মেজর নাদেল হাসান। তিনিও অভিবাসনসূত্রে মার্কিন নাগরিক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিনেতা আনোয়ার আল আওলাকি। ইয়েমেনের ধর্মীয় এই নেতাও অভিবাসনসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
কানেকটিকাট থেকে নির্বাচিত সিনেটর জোসেফ লিবারম্যান ও ম্যাসাচুসেটস থেকে সদ্য নির্বাচিত সিনেটর স্কট ব্রাউন সম্প্রতি যৌথভাবে ‘টেররিস্ট এক্সপার্টিয়েশন অ্যাক্ট’ নামে একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে উপস্থাপন করেছেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আল-কায়েদাসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অভিবাসনসূত্রে পাওয়া মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা যাবে। স্কট ব্রাউন বলেন, ‘যুদ্ধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পরও যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিলে আমাদের সাহায্য করা উচিত।’
পেনসিলভানিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জ্যাসন আলটমায়ার ও রিপাবলিকান চার্লিডেন্ট পৃথক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং সামরিক আদালতে তাদের বিচার করা যাবে।
এসব প্রস্তাব নিয়ে প্রভাবশালী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন পেনসিলভানিয়া বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব একটি ‘প্রাপ্তি’, ‘অধিকার নয়’। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব গ্রহণ করার সময় নেওয়া শপথ ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে রাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনের বিস্তারিত বিবরণী পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
ওহাইও থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জন এ বয়েনার বলেছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে কি না, তা দেখতে হবে। ব্যক্তি গুরুতর দণ্ডে দণ্ডিত না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সংবিধান অনুযায়ী কঠিন হয়ে পড়বে।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক পিটার চাক বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষেত্রে হয়তো একটি পদক্ষেপ নিতে পারে।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট ক্যাম্প

বিকেএসপিতে ১১ মে থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের তিন দিনব্যাপী অনুশীলন ক্যাম্প। ডাক পাওয়া ২৮ ক্রিকেটারকে ক্যাম্প শুরুর আগের দিন বিকেল ৫টার মধ্যে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট লজিস্টিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সহসম্পাদক এন শ্রীনিবাসনকে নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতেই গেলেন এসি মুথাইয়া। শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে মামলাটা সাবেক বিসিসিআইর প্রধান করেছেন আইপিএলে ঘটে যাওয়া কাণ্ডকীর্তি নিয়ে। ওয়েবসাইট।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আজ শেষ দিন। আর আজই মীমাংসা হবে শিরোপা কারা জিতবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নাকি চেলসি?
মহাগুরুত্বপূর্ণ এই দিনে এসে অনুপ্রেরণা খুঁজতে কার্লো আনচেলত্তি ও অ্যালেক্স ফার্গুসন হয়ে পড়েছেন অতীতচারী। স্টামফোর্ড ব্রিজ আর ওল্ড ট্রাফোর্ডে চলছে স্মৃতি রোমন্থন। চেলসি কোচ আনচেলত্তি সময়ের চাকায় চড়ে চলে গেছেন ১০ বছর পেছনে। আর ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন জাবর কাটছেন শেষ দিনের নাটকীয়তায় জেতা তিনটি শিরোপা জয়ের আনন্দময় স্মৃতির।
লিভারপুলের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতে শিরোপার একেবারেই কাছে চেলসি। আজ শেষ ম্যাচে নিজেদের মাঠে উইগানের বিপক্ষে জিতলেই মাথায় উঠবে ইংলিশ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে চেলসি। লিভারপুল আর উইগানের শক্তিমত্তার বিচারে চেলসির আজ জেতারই কথা। তবে আনচেলত্তির মনে ভয়—তীরে এসে না তরী ডুবে যায়!
ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। চেলসি কোচেরও হয়েছে তাই। এর আগে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে এমন দুঃস্মৃতি আছে। ১০ বছর আগের কথা, আনচেলত্তি তখন জুভেন্টাসের কোচ। জুভেন্টাসের শিরোপা-ভাগ্য ঝুলে ছিল শেষ ম্যাচে। সেই ম্যাচে লাৎসিওর কাছে হেরে পুরো মৌসুমের পরিশ্রম যায় জলাঞ্জলি। আনচেলত্তি তাই খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অঘটন যেন না ঘটে।’
১০ বছর আগের সেই দিনটি ছিল ঝড়-জলের। তীব্র ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল জুভেন্টাসের শিরোপা। আনচেলত্তির আশা এবার আর ভাগ্য বিমুখ করবে না, ‘আমরা হেরে গিয়েছিলাম। তবে এবার সে রকম হবে না বলেই বিশ্বাস আমার। স্টামফোর্ড ব্রিজে তো আর ঝড় হবে না! আমিও জুভেন্টাসে নেই। (আজ) আমরা নিজেদের মাঠে খেলছি।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও স্টোক সিটির মতো সহজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলবে। এই ম্যাচ না জেতার কোনো কারণ নেই। তবে ফার্গুসন এবং ম্যানইউর শিরোপা-ভাগ্য তো শুধু এই জয়ের ওপরেই দাঁড়িয়ে নেই। জয়ের সঙ্গে ম্যানইউ চাইবে চেলসির হোঁচট খাওয়া। স্টামফোর্ড ব্রিজ থেকে উইগান ড্র করে ফিরতে পারলেই কেবল স্টোকের বিপক্ষে জিতে টানা চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে ম্যানইউ।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাই প্রার্থনা—চেলসি যেন হোঁচট খায়। ফার্গুসনের বিশ্বাস, এ রকম কিছু ঘটে যেতেও পারে। ফার্গুসনের যে সেই ভাগ্য আছে এটা মানতেই হবে। তাঁর অধীনে ম্যানইউ এর আগে চারবার শেষ দিনের নাটকীয়তায় পড়েছিল। এর মধ্যে তিনবারই শিরোপা জিতেছে তারা। এবারও ভাগ্যের দিকেই তাকিয়ে ‘রেড ডেভিল’ কোচ, ‘আমার বিশ্বাস, উইগান তাদের সেরা খেলাটা খেলবে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’ ইতালিতেও শিরোপার লড়াইটা কেবল দুই দলেরই, ইন্টার মিলান আর এএস রোমার। লিগ শেষ হতে আর দুটি করে ম্যাচ বাকি। শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দলের মধ্যে পয়েন্ট পার্থক্য মাত্র ১। এই পরিস্থিতিতে ইন্টার মিলান আজ মুখোমুখি হচ্ছে পয়েন্ট তালিকার মাঝামাঝি থাকা শিয়েভোর। আর রোমা নিজেদের মাঠে খেলবে ক্যালিয়ারির বিপক্ষে।

বিসিসিআইয়ের এক নম্বর শত্রু মোদি

লোলিত মোদির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ—ক্রিকেট বিশ্বকে তিনি দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলতে চেয়েছিলেন। তিনি নাকি ইংল্যান্ডে আইসিএল ধরনের একটা টুর্নামেন্ট চালুর জন্য গোপন বৈঠকও করেছেন। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে বিসিসিআই নোটিশ দেওয়ার পরদিনই বিতর্ক-জর্জরিত ক্রিকেট সংগঠক মোদি স্রেফ উড়িয়ে দিলেন এসব অভিযোগ।
আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করতে দিল্লিতে আসা মোদি দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এই অভিযোগও বিসিসিআইয়ের ‘শত্রুতা’র একটি অংশ। এখন নাকি তিনি বিসিসিআইয়ের এক নম্বর শত্রু! মোদির দাবি, তাঁর হয়ে পৃথিবীর মানুষই বিসিসিআইকে জবাব দেবে, ‘এটা এখন আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বিসিসিআইয়ের এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হয়েছি। আমি এতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি না। যা প্রতিক্রিয়া জানানোর এই বিশ্ব জানাবে। আর নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তো আমার হাতে ১৫ দিন সময় আছে।’
এই নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় পেলেও দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসছে প্রথম নোটিশের জবাব দেওয়ার। ওই নোটিশেই মোদির বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগমালা দায়ের করেছিল বিসিসিআই। মোদি জানালেন, আগামীকাল সশরীরে গিয়ে তিনি সেই নোটিশের জবাব দিয়ে আসবেন, ‘ওই কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব তৈরি করে ফেলেছি। সোমবার আমি নিজে গিয়েই সেটা জমা দিয়ে আসব। আমার লুকানোর কিছু নেই।’
বিসিসিআই মোদির জবাব পাওয়ার পর কী হবে, কে জানে। তবে মোদি এখনো আশাবাদী ফেরার ব্যাপারে। আর যদি না-ই ফিরতে পারেন, আইপিএলের কী হবে? মোদি মনে করেন, আইপিএল এখন যে রকম ‘ব্র্যান্ডে’ পরিণত হয়েছে, তাতে টুর্নামেন্টটা আর বিপদে পড়বে না, ‘আমরা একটা শক্ত কাঠামো তৈরি করেছি। আমার মনে হয় না (তাঁর অনুপস্থিতিতে) আইপিএল বিপদে পড়বে। আমার ধারণা, প্রতিষ্ঠানটি চালানোর মতো যথেষ্ট যোগ্য লোক আছে।’
ওদিকে মোদি-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, বিসিসিআইয়ের চেয়ে পাঠানো বিভিন্ন দলিলপত্রের মূল কপি মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্রসহ কিছু দরপত্রের মূল কপি মোদির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছিল। সেগুলো মোদি নাকি বিসিসিআইয়ের—এই বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রত্নাকর শেঠিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আরামবাগের ‘বঙ্গবন্ধু জয়

মুক্তিযোদ্ধাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৭ ম্যাচ পর জয় পেল আরামবাগ। এই জয়ে তাদের অবনমন শঙ্কা দূর হয়েছে অনেকটা। অন্যদিকে আগের ম্যাচেই অবনমন এড়ানো প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা মুক্তিযোদ্ধা আবার বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এদিন মাঠে থাকলেও দল সাজানো নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোচের কোনো ভূমিকা ছিল না!
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গতকালের আগ পর্যন্ত এবারের লিগে কোনো জয় পায়নি আরামবাগ। এক অর্থে কাল তারা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম জয় করল। ১১তম ম্যাচে শুকতারাকে হারানোর ৭ ম্যাচ পর এল এই জয়, যেটা ফিরতি পর্বে তাদের প্রথম।
দুটি গোলই তৈরি করে দিয়েছেন মিডফিল্ডার মলয়। ৪৯ মিনিটে তাঁর থ্রু পাসে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সুবেয়ার মোহাম্মদ প্রথম গোল করেন (১-০)। ৫৩ মিনিটে আলফাজের সৌজন্যে স্কোরলাইন হয় ২-০। পোড় খাওয়া এই স্ট্রাইকারও দারুণ গোল করেছেন মলয়ের থ্রু পাসে (লিগে এটি আলফাজের দশম গোল)। ৬৭ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে একটি গোল শোধ করেন রাফায়েল।
১৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ দলের লিগে এখন নবম স্থানে আরামবাগ। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে সপ্তম স্থানে।
প্রতীক্ষিত জয় পেয়ে আরামবাগ শিবিরে ছিল বাড়তি উল্লাস। মাঠেই কেঁদে ফেললেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (খোকন)। কোচ ওয়াজেদ গাজীর চোখেও চিকচিক করছিল আনন্দাশ্রু। জোরালো গলায় বললেন, ‘ত্রিশ বছরের কোচিং জীবনে কখনো কোনো দল আমার হাতে রেলিগেটেড হয়নি। এবারও হবে না ইনশাআল্লাহ।’
ওদিকে মুক্তিযোদ্ধায় চলছে বিশৃঙ্খলা, যা বোঝা গেল কোচ আতিকুর রহমানের কথায়, ‘কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় আমার সমালোচনা করছে নিজেদের সীমা লঙ্ঘন করে। ব্যাপারটা এমন, যেন তাদের মনমতো যেন চলতে হবে আমাকে। এই অবস্থায় আমি মাঠে থাকলেও দল এদিন সাজাইনি। পরাজয়ের দায় আমি নেব না।’

সালমা রফিকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রয়াত ক্রীড়াবিদ, পাক্ষিক ক্রীড়া জগৎ-এর নির্বাহী সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক সালমা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে গত শুক্রবার তাঁর বাবার বাসায় (১২/ডি, ২১/৩৪ পল্লবী, ঢাকা) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে সালমা রফিকের পরিবার।

আগে নেমে পড়াটাই কাল হলো মুরালির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই আর খেলতে পারবেন কি না, শঙ্কা ছিল তা নিয়ে। পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে নেমে মুত্তিয়া মুরালিধরন তাই অবাকই করে দিয়েছিলেন সবাইকে। তবে এমন আগেভাগে ফেরাটা কালই হয়ে দাঁড়াল শ্রীলঙ্কান এই অফ স্পিনারের জন্য। আবারও ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। এই চোট যে কবে সারবে, সেটা এখন আর বলা যাচ্ছে না।
ঊরুর চোটে ভুগতে থাকা মুরালিধরনকে এত দ্রুত মাঠে নামানোর জন্য জবাবদিহি করতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কার অস্ট্রেলিয়ান কোচ ট্রেভর বেলিসকে। তিনি অবশ্য দায় এড়ালেন এই বলে, ‘আপনি তো খেলোয়াড়ের কথাই শুনবেন। মুরালি ভেবেছিল সে ঠিক আছে। তার মতো একজন খেলোয়াড় যদি বলে খেলতে পারবে তাহলে...! সে তো ফিট আর আনফিটের ব্যাপারটা বোঝে।

শপথবাক্য পড়িয়েছিলেন ইউসুফ

ইউসুফ-ইউনুসে রেষারেষি আছে এটা তো জানা খবরই। কিন্তু পাকিস্তানের দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের ব্যক্তিত্বের সংঘাত এই পর্যায়ে—কে জানত! পাকিস্তানের বেসরকারি চ্যানেল ‘দুনিয়া’ চমকে ওঠার মতোই খবর দিল। মোহাম্মদ ইউসুফ তাঁর কক্ষে দলের ছয়জন ক্রিকেটারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এর পর পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়েছেন, ইউনুস খানকে অধিনায়ক করা হলে তাঁর নেতৃত্ব এই ছয়জন মানবেন না!
অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতা অনুসন্ধানে গঠিত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকেই এই তথ্য পেয়েছে বলে চ্যানেলটি দাবি করেছে। ‘দুনিয়া’ জানিয়েছে, এই প্রতিজ্ঞা করানোর ঘটনাটি ঘটেছে গত বছর।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পিসিবি সাতজন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউসুফ আর ইউনুসকে দলে অন্তঃকলহ সৃষ্টির অপরাধে বহিষ্কার করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। ইউসুফ অবশ্য এর পর গত মার্চেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। আর ইউনুস দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের। ওয়েবসাইট, রয়টার্স।
ইউসুফ ছয় খেলোয়াড়কে এককাট্টা করতে পেরেছিলেন কারণ অধিনায়ক হিসেবে ইউনুস নাকি মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না দলের মধ্যে। এই তথ্য তদন্ত কমিটিকে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে থাকা আকিব জাভেদ, ‘ইউনুসকে কোনো খেলোয়াড়ই পছন্দ করত না। কমপক্ষে ছয়জন খেলোয়াড় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে ইউনুস ছিল উদ্ধত। কারও পরামর্শই কানে নিত না।’
জাভেদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, দলে অন্তঃকলহ তৈরির প্রধান কারণ তিন খেলোয়াড় ইউনুস, শোয়েব মালিক আর শহীদ আফ্রিদি। তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনে রানা নাভেদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আইপিএলে খেলা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বাজিকরদের সুসম্পর্ক আছে।
এদিকে বরখাস্ত কোচ ইন্তিখাব আলম অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দলের সবার দিকে। বলেছেন, ‘ওরা যে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেটি ওদের মাথাতেই থাকে না। ওরা জানে না কেমন পোশাক-আশাক পরতে হয়। ভদ্রলোকের মতো আচরণও করতে পারে না।’

জিপি-বিসিবি একাডেমির সিরিজ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জিতেছিল জিপি-বিসিবি একাডেমি দল, দ্বিতীয়টা দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি। বিকেএসপির শেষ ম্যাচটা তাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল অলিখিত ফাইনাল। আসিফ আহমেদের সেঞ্চুরির সৌজন্যে কাল তাতে সফরকারীদের ৬৭ রানে হারিয়ে সিরিজটাই জিতে নিয়েছে জিপি-বিসিবি একাডেমি দল।
দলের ৪০ রানে ওপেনার আনামুল হক আউট হয়ে গেলেও আরেক ওপেনার রনি তালুকদার ও আসিফ দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮৩ রান। ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ ও নাসির হোসেনের ৫৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় বিসিবি একাডেমি দল। পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৫ রান করে তারা। একটি ছক্কা আর চারটি বাউন্ডারিতে ১২০ বলে ১০৭ রান করে আসিফ হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ম্যান অব দ্য সিরিজ নাসির হোসেন।
ব্যাট হাতে ৩৮ রান করার পর কাল বল হাতেও সফল অফ স্পিনার নাসির—৪৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৪৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সানজামুল ইসলামও। ৪৬.৩ ওভারে ২৩৮ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের পক্ষে অ্যাডায়ার করেন সর্বোচ্চ ৪৭ রান।
দেশে ফেরার আগে আগামীকাল ও পরশু বিকেএসপিতেই বিসিবি একাডেমি দলের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল।

শেষ রাউন্ডে গেল রিয়াল বার্সার শিরোপা লড়াই

দুই মিনিটের একটা ঝড় ক্ষনিকের জন্য চমকে দিয়েছিল বার্সেলোনাকে। চমকে দেওয়া পর্যন্তই। ০-৩ গোলে পিছিয়ে পড়া সেভিয়া ৬৯ ও ৭১ মিনিটে কানুটে ও ফ্যাবিয়ানোর দুই গোলে ম্যাচে ফিরেছিল। কিন্তু লিওনেল মেসি, বোজান কিরকিচ ও পেদ্রোর গোল ৩-২ ব্যবধানে জিতিয়ে দেয় বার্সেলোনাকে।
ওদিকে নিজেদের মাঠে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গঞ্জালো হিগুয়েইন, সার্জিও রামোস, করিম বেনজামা ও মার্সেলোর গোল স্প্যানিশ লিগের শিরোপা লড়াইটা নিয়ে গেল শেষ রাউন্ডে।

সেমিফাইনাল দেখছে ইংল্যান্ড

সুপার এইটে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুলেছে ইংল্যান্ড। ব্রিজটাউনের দ্বিতীয় ম্যাচে কাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৯ রানে হারিয়েছে তারা।
দলের মাত্র ৪ রানের সময় ওপেনার মাইকেল লাম্বকে হারালেও ক্রেইগ কিসওয়েটার-কেভিন পিটারসেনের ৯৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটির সৌজন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৭ উইকেটে ১৬৮ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ইংল্যান্ড। কিসওয়েটার ৪২ বলে ৪১ ও পিটারসেন ৩৩ বলে ৫৩ রান করেন। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোথা, মরকেল ও লেঙ্গেভেল্ট। জবাবে এক ওভার বাকি থাকতে ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জাঁ পল ডুমিনি করেন সর্বোচ্চ ৩৯ রান। ইংল্যান্ডের সাইডবটম ও সোয়ান নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট।

ইংল্যান্ডে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গত বুধবারই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সাকিব আল হাসানের দল তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইংল্যান্ড চলে গেছে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে। তার আগে আজ থেকে কেনসিংটন ওভালে তারা প্রথম তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সারের বিপক্ষে।
দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডে না যাওয়া চার ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, আফতাব আহমেদ, সৈয়দ রাসেল ও মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দেশে ফিরেছেন কালই। নির্বাচক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন বিশ্রামের পর ১১ মে ঢাকায় ‘এ’ দলের চলমান ত্রিপক্ষীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলবেন মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছেন, তার আগেও দীর্ঘদিন ছিলেন খেলার বাইরে। মাশরাফিকে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ দিতেই তাই এই সিদ্ধান্ত। সম্ভাবনা আছে ইংল্যান্ড থেকে ফেরা অন্য ক্রিকেটারদেরও এ ম্যাচে খেলার।
ওদিকে ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ খেলতে এর মধ্যেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিক, শাহাদাত হোসেন, মাহবুবুল আলম ও নতুন মুখ রবিউল ইসলাম। ২৭ মে লর্ডসে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। এর আগে ১৪ মে থেকে চেমসফোর্ডে এসেক্সের বিপক্ষে আরেকটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হবে। ১৯ মে থেকে ডার্বিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের (ইংল্যান্ড ‘এ’) বিপক্ষে একটি চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে সাকিবের দল।