Monday, March 29, 2010

নবীন আমলাদের দৃষ্টিভঙ্গি by প্রণব সাহা |

সরকারি যেকোনো তথ্য জনগণের জানার অধিকার আছে—এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার অবস্থান কী? এটা জানতে চাওয়া হয়েছিল সরকারের প্রশাসনে যোগ দেওয়া নবীন কর্মকর্তাদের কাছে। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এটি একটি আশার ব্যাপার এ জন্য যে, দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা তৈরি করার মূল কেন্দ্র বিপিএটিসি তথ্য অধিকার আইনটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া বিপিএটিসি তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশাসনে সদ্য যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিপিএটিসিতে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে তথ্য অধিকার আইনসম্পর্কিত প্রশিক্ষণকে। তিন দিনের একটি কোর্স মডিউল তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় যোগ দিয়ে জানা গেল জনগণের জানার অধিকার সম্পর্কে প্রশাসনে সদ্য যোগদানকারীদের অভিমত।
তথ্য কমিশন গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রধান তথ্য কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। সেদিক থেকে বিপিএটিসির এই উদ্যোগ একটা আশাব্যঞ্জক ঘটনা। তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য বিপিএটিসি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা গেল, তথ্য অধিকার আইন নিয়ে বিপিএটিসির পক্ষ থেকে একটি ছোট আকারের জরিপও করা হয়েছে। ওই জরিপের ফলাফলেই তথ্য অধিকার আইন নিয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের সুপারিশ এসেছে। পাওয়া গেছে সরকারি কর্মকর্তাদের অভিমত। এমন মতামতও এসেছে যে, এই আইন শুধু সাংবাদিকদের জন্য উপকারী হবে। আর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। জরিপের তথ্য উপস্থাপনকারী কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানালেন, তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে যে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তারা খুব বেশি জানেন না, তা পরিষ্কার। ‘ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কর্মকর্তারা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন’— এমন মন্তব্য এমডিএসের। তবে খুবই উৎসাহজনক তথ্যও পাওয়া গেল তাঁর কাছ থেকে। যেমন সেবাদানকারী হিসেবে তথ্য অধিকার আইনের উপযোগিতাকে নিজের জন্য ভীতিকর বলে উল্লেখ করলেও একই কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে একজন সেবা গ্রহণকারীর জন্য এই আইনের উপযোগিতা অনেক বেশি। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দ্বিমুখী অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়ে তথ্য অধিকার আইনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির জন্যই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা এ কথাও জানিয়েছেন যে ঔপনিবেশিক আমলের পুরোনো আইন ছাড়াও ‘তথ্য গোপনের সংস্কৃতিও’ আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। এ ছাড়া তথ্য সংরক্ষণ ও সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনা না থাকলেও তথ্য অধিকারের সুফল পাওয়া যাবে না বলেও তাঁরা সঠিকভাবে মত দিয়েছেন বলেই মনে হয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ যেমন ভালো, তেমনি এখনো এই আইনের আওতায় বিধিমালা তৈরির কাজ শেষ করতে না পারাটাও হতাশাজনক। আরও হতাশার বিষয় হচ্ছে, তথ্য কমিশনের প্রধানের পদটি শূন্য থাকার তথ্য। সাবেক সচিব আজিজুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে। দপ্তর গুছিয়ে ওঠার আগেই তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে বয়সের কারণে। তথ্য কমিশন আইনের ১৫(২) ধারায় স্পষ্ট করেই বলা আছে, ‘৬৭ বৎসর অপেক্ষা অধিক বয়স্ক কোনো ব্যক্তি প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের বা অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্য হইবেন না।’ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কেন আজিজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার আগে দেখা হলো না যে কবে তাঁর বয়স ৬৭ হবে। যখন আজিজুর রহমানের নামটি আলোচিত হচ্ছিল বাছাই কমিটিতে, তখন বয়সের বিষয়টি বাছাই কমিটির নজরে আনা হয়নি কেন?
প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সভাপতিত্বে বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে তথ্য কমিশনের তিনটি পদের বিপরীতে ছয়টি নাম পাঠাবে, আইনে এমন বিধান আছে। এই বাছাই কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের দুজন সাংসদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সম্পাদকের যোগ্যতাসম্পন্ন একজন সদস্য থাকেন। আমাদের প্রত্যাশা, পরবর্তী প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য নাম পাঠানোর সময় বয়সসীমাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, যাতে করে তথ্য কমিশনের পথ চলার শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটিকে অভিভাবকত্বহীনতায় ভুগতে না হয়।
এখন পর্যন্ত তথ্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ হয়নি। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের জনবলকাঠামো নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করতে চাই না। তখন এ নিয়ে এত প্রতিবেদন লিখতে হয়েছে যে এক সময় বিরক্তি প্রকাশ করতেন আমাদের সংবাদ ব্যবস্থাপকেরা। তথ্য কমিশনের বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়টিও ঘুরপাক খাচ্ছে আমলাতন্ত্রের ঘূর্ণিপাকে। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশাসনে যোগ দেওয়া নতুন আমলাদের মনোভাব লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। শত বছরের পুরোনো আমলাতন্ত্র ‘লালফিতার’ রং বদলে ‘ধূসর’ করেছে। কিন্তু এখনো তথ্য গোপন করার মানসিকতা ধূসর হয়নি।
গত ১১ জানুয়ারি থেকে প্রধান তথ্য কমিশনারের পদটি শূন্য আছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাছাই কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে, তাই খুব দ্রুতই আমরা প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নতুন মুখ চাই। তথ্য কমিশনের বিধিমালা ও জনবলকাঠামো দ্রুত অনুমোদন এবং কার্যকর হওয়া জরুরি। বিধিমালার একটি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর তাতে ত্রুটি ধরা পড়ায় তা কমিশনে ফেরত পাঠানো হয়। কমিশন বিধিমালা সংশোধন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনে আট হাজার বর্গফুটের যে দপ্তর ভাড়া নেওয়া হয় তথ্য কমিশনের জন্য, সেই দপ্তরে এখন বসেন দুজন কমিশনার ছাড়া শুধু সচিব, একজন পরিচালক ও কয়েকজন কর্মচারী। কমিশনের জনবলকাঠামো সংস্থাপন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তথ্য কমিশনের জনবলকাঠামো সচিব কমিটিতে অনুমোদিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সরকারি প্রশাসনের শীর্ষপর্যায়ের ইতিবাচক মনোভাব দরকার।
তথ্য কমিশন আইনের বিষয়টি লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা। দেশের আমলাতন্ত্র, গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্যোগী নাগরিকসমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখন মনযোগী হতে হবে আইনটিকে সুষুম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োগ করার কাজে সাহায্য করার জন্য।
প্রণব সাহা: এডিটর, এটিএন নিউজ লিমিটেড।
pranab67@hotmail.com

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

বহু বছর ধরে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত জনবিস্ফোরণ সমস্যা মোকাবিলার ঢিমে তেতালা অবস্থার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে গত বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাজকর্ম যারপরনাই শিথিল হয়ে পড়েছে। জনবলের সংকট আর নিয়োজিত জনবলের উৎসাহ-প্রণোদনার প্রকট অভাব পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।
যদি থাকত, তাহলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে এক হাজার ৬৩০টি পদ শূন্য রইত না। দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি উপপরিচালকের পদ খালি রয়েছে ১৭ বছর ধরে। অধিদপ্তরের ১৬টি পরিচালকের পদের মধ্যে ১৪টিতে পদায়ন করা হয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের আর দুটিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের। শীর্ষস্থানীয় আরও ১৭টি পদে পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা নেই। পরিবার পরিকল্পনাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনকাজের কোনো নজরদারি নেই অনেক বছর ধরে। কারণ, লোকবলের অভাব।
শুধু লোকবলের অভাব নয়, বিদ্যমান লোকবলের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গাফিলতি রয়েছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, জনপ্রশাসনের ২৯টি ক্যাডারের মধ্যে এ যাবত্ কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি শুধু একটি ক্যাডারের লোকদের, সেটি হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার। এর ব্যাখ্যাও সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। দৃশ্যত অধিদপ্তরটি পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে প্রশাসন ক্যাডারদের দ্বারা; আর পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে উপপরিচালকের পদে চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়ায় বোঝা যায় যে কতটা গুরুত্বহীনভাবে চালানো হচ্ছে এ অধিদপ্তরকে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বর্তমান মোট লোকবল প্রায় ৫৫ হাজার। একটি অধিদপ্তরের জন্য এ লোকবল কম তো নয়ই, বরং অনেক পূর্ণ মন্ত্রণালয়েও এত সংখ্যক লোকবল নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এ লোকবলের যথাযথ ব্যবহার। সেটা যে অনেক বছর ধরেই ঘটছে না, তা বলাই বাহুল্য। পরিবার পরিকল্পনা একটি ক্যাডার সার্ভিস। এ সার্ভিসের সব শীর্ষ পদে কেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়? এভাবে একটি ক্যাডার সার্ভিসের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়; তাঁরা চরম বঞ্চনাবোধ আর হতাশায় ভোগেন। পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে খবরে প্রকাশ। ভালো চিন্তা সন্দেহ নেই। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে মন্ত্রণালয় অনেক আছে, সেগুলোর সব কাজ খুব ভালোভাবে চলছে, এমনটা বলা যাবে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এমন এক সমস্যা, যা থেকে তৈরি ও ঘনীভূত হচ্ছে অনেক গুরুতর সমস্যা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান জনসংখ্যার দক্ষ ব্যবস্থাপনা, জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করার উপায়ও গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমাদের এ ছোট্ট ভূখণ্ডের দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা পরিবেশগত অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিতে বেশি সময় লাগবে না। জনসংখ্যা এখানে এমনিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি, আরও বাড়তে দেওয়া হবে আত্মহত্যার শামিল। অবিলম্বে আমাদের এ বিষয়ে তৎপর হতে হবে।

কদর বাড়ছে ভোট জোলোকিয়ার

ভোট জোলোকিয়া’ মরিচের কদর বেড়েছে। এ মরিচের কড়া ঝাঁজকে কাজে লাগিয়ে গ্রেনেড তৈরির সফলতা অর্জনের পর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এখন এ জাতের মরিচকে আরও নানা ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ‘বেসামরিক নিরাপত্তা অস্ত্র’ হিসেবেও এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ বা নিয়ন্ত্রণ এবং নারীদের আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে এ মরিচ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা তাঁদের।
ভোট জোলোকিয়া মরিচের ঝাঁজ অন্য যেকোনো মরিচের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। সর্বোচ্চ ঝাঁজের কারণে এরই মধ্যে এর নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে উঠেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসামে এ মরিচের চাষ হয়।
বিজ্ঞানীরা বলেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতা এবং নারীদের উত্ত্যক্তকারী দুর্বৃত্তদের পরাস্ত করতে এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া শীতপ্রধান অঞ্চলে দায়িত্বরত সেনাদের খাবারের উপকরণ হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। ভোট জোলোকিয়ার তীব্র ঘ্রাণে হিংস্র জীবজন্তু যাতে সেনাছাউনিতে হামলা চালাতে না পারে সে জন্য সেনাছাউনির বেড়ায় এ মরিচ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের পাকড়াও করার ক্ষেত্রেই এ মরিচের ব্যবহার প্রাধান্য পাবে বেশি।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) কর্মকর্তা আর বি শ্রীবাস্তব বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা দুর্বৃত্তদের ছত্রভঙ্গ করতে এ মরিচ ব্যবহার করা হবে। তবে এতে তাঁদের প্রাণহানির কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, গবেষণা করে নির্বিষ এ মরিচের আকারের আরও উন্নয়ন ঘটানো হবে।
ভোট জোলোকিয়া দিয়ে গ্রেনেড তৈরির ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার পর ভারতের বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এর নকশা নিয়ে কাজ করছেন। মরিচ গ্রেনেডের সঠিক আকার দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। এ কাজ সম্পন্ন হলে তাঁরা ব্যাপকভাবে মরিচের গ্রেনেড উৎপাদন শুরু করবেন।
আর বি শ্রীবাস্তব বলেন, ‘মরিচ গ্রেনেডের তীব্র ঘ্রাণে লক্ষ্যকৃত ব্যক্তি পুরোপুরি পরাস্ত হবেন। তার চোখ নরকের মতো জ্বলতে থাকবে। তবে এসব ক্ষতিই সাময়িক সময়ের জন্য।’
এই তীব্র জ্বালাময় মরিচও যে সবাইকে পরাস্ত করছে বা করবে তা নয়। গত বছর আসামেরই এক নারী মাত্র দুই মিনিটে ৫১টি ভোট জোলোকিয়া কচকচ করে খেয়ে রেকর্ড করেছেন। অনন্দিতা দত্ত নামের ওই নারী শত শত লোকের সামনে এ কাণ্ড ঘটান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট জোলোকিয়ায় আক্রান্ত হবেন না এমন অনিন্দিতা দত্তের সংখ্যা অনেক, অনেক কম।

রাশিয়ায় নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় হিটলারের ‘মাইন কাম্ফ’

জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করছে রাশিয়া। আর তাই এ গ্রন্থকে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় যুক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যাবে। বই বিক্রেতারাও তা বিক্রি করতে পারবেন। মাইন কাম্ফের অর্থ হচ্ছে ‘আমার যুদ্ধ’।
রাশিয়ার একটি আদালত মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে অভিহিত করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তেই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাশিয়ায় একটি আইন আছে, যাতে জার্মান নািস পার্টির নেতাদের লেখা বইকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করা হয়।

মিয়ানমারে নির্বাচন অক্টোবর বা নভেম্বরে হতে পারে

সামরিকশাসিত মিয়ানমারে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের প্রথমে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর প্রচারণার জন্য প্রার্থীরা প্রায় ছয় মাস সময় পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশেষ তদন্ত দল

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ওই রাজ্যে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। গতকাল শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০০২ সালে ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মুসলমান নিহত হয়।
দাঙ্গার সময় ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেস দলের সাবেক সাংসদ এহসান জাফরি নিহত হন। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরির অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ১১ মার্চ মোদির প্রতি সমন জারি করেন।
গতকাল সকালে গুজরাটের প্রশাসনিক রাজধানী গান্ধীনগরে এসআইটির দপ্তরে যান মোদি। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম এই নেতা দাঙ্গার বিষয়ে এই প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরায় ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে ৫৯ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী নিহত হন। এর জের ধরে গুজরাটে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হামিদ মীর

সার্কভুক্ত লেখক ও সাহিত্যিকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার (এফওএস-ডব্লিউএএল) পাকিস্তানের বিশিষ্ট সাংবাদিক হামিদ মীরকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে তিন দিনব্যাপী সার্ক উৎসবে গত শুক্রবার তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি অর্পণা কাউর সাংবাদিক হামিদ মীর সম্পর্কে বিবৃতি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, হামিদ মীর পাকিস্তানের একমাত্র সাংবাদিক যিনি ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন।
হামিদ মীর পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে হামিদ মীরকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘ওসামা বিন লাদেন সুস্থ আছেন’

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন সুস্থ আছেন এবং তাঁর অধীনস্থদের সব ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সন্ত্রাসবাদ ও আল-কায়েদার জন্য তহবিল সংগ্রহে জড়িত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রাজা লাহরাসিব খান এ কথা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার শিকাগো থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা লাহরাসিব খানকে আটক করেন। তিনি তাঁর সহযোগী ইলিয়াস কাশ্মীরির বরাত দিয়ে ওসামার সুস্থ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইলিয়াসকে ‘লালা’ নামে ডাকেন বলে দাবি করেন। কাশ্মীরির সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন লাহরাসিব, তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইলিয়াস কাশ্মীরি পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন হরকাত-উল জিহাদ-ই-ইসলামীর প্রধান।
লাহরাসিব বলেন, ‘... আমি লালাকে তাঁর (ওসামা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি (ইলিয়াস) বলেছেন, তিনি (ওসামা) সুস্থ আছেন এবং আল-কায়েদার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
লাহরাসিব জানান, তিনি ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ওসামার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়েছিল কি না। ইলিয়াস জানিয়েছেন, ওসামার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তবে তিনি (ইলিয়াস) দেখা করতে চান।
লাহরাসিব আরও জানান, ১৫ বছর ধরে ইলিয়াসকে চেনেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ইলিয়াসের বেশ কয়েকবার দেখাও হয়েছে।

বাতি নিভিয়ে উষ্ণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা

রাত সাড়ে আটটার দিকে নিভে যায় ১২৫টি দেশের চার হাজারের বেশি শহর ও উপশহরের বৈদ্যুতিক বাতি। অন্ধকারময় থাকে পুরো এক ঘণ্টা। ভাবছেন আমাদের দেশের মতো লোডশেডিং হলো নাকি! না তেমনটি নয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিশ্বব্যাপী এই ‘বাতি নেভানো’ কর্মসূচি পালিত হয় গতকাল শনিবার রাতে। এক ঘণ্টা বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখার ব্যতিক্রমী এই আন্দোলনের নাম ‘আর্থ আওয়ার’।
এবারের কর্মসূচিতে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ নিজ নিজ দেশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত নিজের বাড়ি বা কর্মস্থলে বিজলিবাতি নিভিয়ে রাখে। ৬০ মিনিট উৎসর্গ করে পৃথিবীর জন্য।
বাতি নেভানো কর্মসূচি গতকাল প্রথম পালিত হয় নিউজিল্যান্ডের চাথাম আইসল্যান্ডে। সেখানে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার সময় বাতি নেভানোর কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক আগে নিভিয়ে দেওয়া হয় সব বৈদ্যুতিক বাতি। নিরাপত্তার জন্য শুধু সড়কের ১২টি বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালিয়ে বাতি জ্বালানো হয়।
এর ৪৫ মিনিট পর নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫০টি শহর ও উপশহরের বাড়িঘর, অফিস ও দোকানের বৈদ্যুতিক বাতি নেভানো হয়। এ ছাড়া নিভিয়ে ফেলা হয় অকল্যান্ডের বিশাল স্কাই টাওয়ার ও ওয়েলিংটনের পার্লামেন্ট ভবনের বাতি।
একই সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ফিজিতেও পালিত হয় বাতি নেভানো কর্মসূচি। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিভে যায় সিডনির ঐতিহাসিক অপেরা হাউস ও হার্বার ব্রিজসহ বাড়িঘর ও অফিসের বাতি।
আর্থ আওয়ারের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ডি রিডলি বলেন, ব্রাজিল থেকে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত পর্যন্ত বহু দেশ এ বছরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
রিডলি বলেন, এক ঘণ্টা বাতি বন্ধ রাখার মাধ্যমে বিশ্বের উষ্ণতা হয়তো ঠেকানো যাবে না, তবে এটা উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কোটি মানুষের দাবির কথা তুলে ধরবে।
উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে জ্বালানি সংরক্ষণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের এক হাজার ২০০-এর বেশি বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে এক ঘণ্টা বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইফেল টাওয়ার, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও লিনিং টাওয়ার অব পিসা।
এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশ চীনের ১২টির বেশি শহরে বাতি নেভানো কর্মসূচি পালিত হয়। বন্ধ থাকে হংকং, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বৈদ্যুতিক বাতি।
নিভিয়ে ফেলা হয় লন্ডনের বিগ ব্যান ঘড়ি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড মাঠ, প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল ও রোমের ট্রেভি ফাউন্টেনের আলো।
বাতি নেভানোর ফলে এক ঘণ্টার জন্য অন্ধকারে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রুশমোর, সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ ও শিকাগোর ১১০ তলার সিয়ার্স টাওয়ারসহ প্রায় ৩০টি রাজ্যের লোকজন।
পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড লাইফ ফান্ড ফর নেচারের (ডব্লিউডব্লিউএফ) উদ্যোগে ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক ঘণ্টার বাতি নেভানো কর্মসূচি শুরু হয়।
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের দুই সপ্তাহের আলোচনা হয়। কিন্তু উষ্ণতা রোধে দেশগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা গঠনমূলক পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হন পরিবেশবাদীরা।

রাশিয়ায় নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় হিটলারের ‘মাইন কাম্ফ’

জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডল্ফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করছে রাশিয়া। আর তাই এ গ্রন্থকে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় যুক্ত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যাবে। বই বিক্রেতারাও তা বিক্রি করতে পারবেন। মাইন কাম্ফের অর্থ হচ্ছে ‘আমার যুদ্ধ’।
রাশিয়ার একটি আদালত মাইন কাম্ফ-এর বিষয়বস্তুকে চরমপন্থামূলক বলে অভিহিত করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তেই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাশিয়ায় একটি আইন আছে, যাতে জার্মান নািস পার্টির নেতাদের লেখা বইকে চরমপন্থামূলক বলে বিবেচনা করা হয়।

যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাওবাদী নেতা বিক্রম নিহত

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে গত বৃহস্পতিবার মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২২ থেকে ২৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এ যুদ্ধে মাওবাদী নেতা বিক্রম নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিক্রমের আসল নাম অভিষেক মুখার্জি। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক মাওবাদী নেতা বিকাশ, তবে সরকারিভাবে এ মৃত্যুর কথা এখনো স্বীকার করা হয়নি। মাওবাদীরা প্রকৃত সংখ্যা না জানালেও হতাহতের কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে মাওবাদী নেতা কিষাণজি এখন কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি। যদিও খবর রটেছে, কিষাণজি আহত হয়ে পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে যৌথবাহিনী জানতে পারে, মাওবাদী নেতা কিষাণজিসহ একদল মাওবাদী পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি-লালগড়-ধরমপুর জঙ্গলে জড়ো হয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর ৭০০ পুলিশ ও আধা-সেনা গোটা এলাকা ঘিরে অভিযান শুরু করে। এ সময় মাওবাদীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে যৌথবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচণ্ড বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।

বারলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনিকে হত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রেরকের নাম-ঠিকানাবিহীন ওই চিঠির সঙ্গে একটি বুলেটও পাওয়া যায়। গতকাল শনিবার দেশটির পুলিশ সূত্র এ তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, মিলানের উপশহর লিবাতের একটি ডাকঘরে প্রধানমন্ত্রী বারলুসকোনির মিনানের বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করা ওই চিঠি পাওয়া যায়। একটি বড় খামের ভেতর চিঠি ও একটি বুলেট ছিল। চিঠিতে বারলুসকোনিকে ‘ইঁদুরের মতো করে হত্যা’র হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়, খামের ওপর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইনগাজিও লা রুসাসহ বারলুসকোনির দল পিপল অব ফ্রিডম (পিডিএল) পার্টির চারজন নেতার ছবি আঁকা রয়েছে। সেখানে সবার ছবির নিচে আলাদা করে নামও লেখা আছে।

ইউরোর দাম বেড়েছে

ইউরোজোনের নেতারা ঋণ-জর্জরিত গ্রিসকে অর্থ সাহায্য করতে সম্মত হওয়ার পর ডলার ও পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়েছে।
গ্রিস যদি তার বিপুল ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ে, তবে ইউরোপীয় নেতারা গ্রিসকে ২২ বিলিয়ন ইউরো বা ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থ সাহায্য দিতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই গত শুক্রবার ইউরোর দাম ১ সেন্ট বেড়ে ১ দশমিক ৩৩৯৩ ডলারে দাঁড়ায়। গ্রিসের ঋণ সংকটের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোর দাম পড়ে যাচ্ছিল। পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম গতকাল এক সেন্টের দুই-পঞ্চমাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৯০ পাউন্ডে দাঁড়ায়।

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখে পিছু হটেছে সেনাবাহিনী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার লাল শার্ট পরা সমর্থকদের আন্দোলনের মুখে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কয়েকটি নিরাপত্তা-চৌকি থেকে সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল শনিবার ব্যাংককের রাস্তায় রাস্তায় লাল শার্ট পরা প্রায় ৮০ হাজার আন্দোলনকারী প্রচণ্ড বিক্ষোভ শুরু করলে সরকার সংঘাত এড়াতে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কৌশল হিসেবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা এটিকে তাঁদের ‘প্রাথমিক বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। খবর এপি ও এএফপির।
থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাই সংবিধান সংশোধন করে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। থাকসিনের সমর্থকেরা ওই সংবিধান সংশোধনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থাকসিন দেশে ফেরেন এবং একটি মামলায় আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সিনাওয়াত্রা আবার দেশ ছাড়েন।
২০০৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত মাস পর্যন্ত সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তবে ১৪ মার্চ তাঁরা লাল শার্ট পরে দলে দলে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করেন। গত সপ্তাহে প্রায় ৬৫ হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীতে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দমিয়ে রাখতে রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। তবে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গতকাল প্রায় ৮০ হাজার বিক্ষোভকারী ব্যাংককের রাজপথে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারীরা সেনা প্রত্যাহার করা না হলে আইন ভঙ্গের হুমকি দেন। সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কায় গতকাল সরকার সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়া শুরু করে।
গতকাল রাজকীয় ময়দান, চিড়িয়াখানা ও দুটি বৌদ্ধমন্দিরসহ মোট চারটি স্থানে বসানো ক্যাম্প থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যাম্পগুলো থেকে সেনারা যখন তাদের তাঁবু গুটিয়ে সেনাযানে চড়ে ব্যারাকে ফিরছিল, তখন বিক্ষোভকারীরা ফুল ছিটিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। হর্ষধ্বনি দিয়ে সেনাসদস্যদের ধন্যবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধানমন্ত্রী সাথেপ থাউগসুবান বলেছেন, সংঘাত এড়ানোর স্বার্থে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কাছে নতি স্বীকার নয়; বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার কৌশল হিসেবে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের নেতা আসিম্যান পোংরুংরং বলেছেন, তাঁরা সেনাবাহিনীকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছেন এবং সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এটি তাদের এবং থাইল্যান্ডের দরিদ্র কৃষকের প্রাথমিক বিজয়। সরকারের পতন ঘটিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।
এদিকে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্রতিদিনই ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়া না হলে তিনি সমর্থকদের আইন ভঙ্গ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডলারের বিপরীতে টাকা স্থিতিশীল

দেশে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহে আমদানিজনিত চাহিদা কমায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় টাকার বিনিময় হার ছিল মোটামুটি স্থিতিশীল। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার ৬৯ টাকা ২৪ পয়সায় লেনদেন হয়, যা সপ্তাহশেষে দাঁড়ায় ৬৯ টাকা ২৫ পয়সায়। তবে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের পর্যাপ্ত জোগান দেখা গেছে।
ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে গত সপ্তাহে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হারে হ্রাস পেয়েছে। যে কারণে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে সপ্তাহের প্রথমে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে গ্রিসের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কোনো মৌলিক সমাধান না হওয়ায় আলোচ্য সপ্তাহে (২০ থেকে ২৬ মার্চ) ইউরোর দর সুইস ফ্রাঙ্কসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে পড়ে যায়। গত বুধবার প্রায় সব কয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
গত বৃহস্পতিবার প্রতি ইউরোর বিনিময় হার ১ দশমিক ৩৩ ডলারে চলে যায়, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইউরোর সর্বনিম্ন বিনিময় হার। যা হোক, সপ্তাহশেষে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৪১৪ ডলার, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৪৯০৫ ডলার ও প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৫৩ ইয়েনে লেনদেন হয়।

আর্থিক খাত নিয়ে রোড শোর বহর চট্টগ্রামে

আর্থিক খাত নিয়ে রোড শোর বিশাল গাড়িবহর গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। ‘উন্নয়নের যাত্রা: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’—এই স্লোগানে গত শুক্রবার টেকনাফ থেকে এই রোড শো শুরু হয়। চট্টগ্রামের উডল্যান্ড পার্কে রোড শোর বহর এসে পৌঁছালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আর্থিক খাতের চারটি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই চারটি বিষয় হচ্ছে: কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং বিদেশ থেকে প্রবাসী-আয় বৈধপথে দেশে পাঠানোকে উৎসাহিত করা।
এর আগে গতকাল সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে রোড শোর গাড়িবহরকে স্বাগত জানায় পথচারীরা। চট্টগ্রামের পথে চকরিয়ায় সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সোনালী ব্যাংক আয়োজিত ঋণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেয় রোড শোর বহর।
চকরিয়া: এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান চকরিয়ায় কৃষি ও লবণ শিল্পনগরী গড়ে তুলতে ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন। সবজি গুদামজাত করে কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য চকরিয়ায় হিমাগার নির্মাণে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। দেশের সিংহভাগ লবণ উৎপাদন এলাকা চকরিয়ায় লবণের গুদাম তৈরিতে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) প্রদীপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিচালক সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়, সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
চট্টগ্রাম: চকরিয়া থেকে রোড শোর বহর চট্টগ্রামের উডল্যান্ড পার্কে মেলা ও আলোচনা সভায় যোগ দেয়। এই অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। মেলায় ৩২টি স্টলে বিভিন্ন ব্যাংক নিজেদের সেবা দর্শনার্থীদের মাঝে তুলে ধরে।
আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান সরকার। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুচ ছালাম। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এন্টি মানি লন্ডারিং বিভাগের প্রধান মাহফুজুর রহমান, এবি ব্যাংকের এমডি কাইজার এ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. নওশাদ আলী চৌধুরী প্রমুখ।
রোড শোর বহর তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে আজ রোববার চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে। পথে ফেনীতে সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ঋণমান নির্ণয়ের বিষয়ে ক্রিসেলের আলোচনা সভা

চট্টগ্রামের একটি ক্লাবে সম্প্রতি ক্রেডিট রেটিং তথা ঋণমান নির্ণয়ের বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (ক্রিসেল) চট্টগ্রাম শাখা অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চট্টগ্রামে ব্যবসায়রত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকেরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
‘ব্যাসেল-২’ শীর্ষক কার্যক্রম সম্পর্কে চট্টগ্রামের ব্যাংকারদের ধারণা দেওয়াই ছিল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ক্রিসেলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুজাফফর আহমেদ ব্যাংক-ঋণের মূলধনের পর্যাপ্ততা ও এর পরিপূর্ণতা সম্পর্কে ব্যাংকারদের অবহিত করেন এবং ঋণ ও ঋণসংক্রান্ত ব্যাংক ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রিসেলের পরিচালক এ কে চৌধুরী ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ব্র্যাক ব্যাংকের ৩০% বোনাস শেয়ার অনুমোদন

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী সভাপতিত্ব করেন। এতে ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে কাজী মো. শরিফুল আলা, শিব নারায়ণ কৈরী, তামারা হাসান আবেদ, হাফিজ জি এ সিদ্দিকী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মুহায়মেন ও কোম্পানি সচিব রেইস উদ্দীন আহ্মাদ উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী সভায় জানান, ২০০৯ সালে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আলোচ্য বছরে এ ব্যাংক ১৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের ৬৯টি শাখা, ৫৯টি এসএমই সেলস অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার, ১৭৯টিরও বেশি এটিএম বুথ, ৪২৯টি এসএমই ইউনিট অফিস এবং সাত হাজারেরও অধিক কর্মী রয়েছে। কার্যক্রম শুরুর মাত্র আট বছরে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছে এবং প্রতিনিয়ত রিটেইল, করপোরেট, এসএমই ও প্রবাসী প্রভৃতি ক্ষেত্রে সেবা বিস্তার করে চলেছে।

এডিপি বাস্তবায়নে আইএমইডিকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব by ফখরুল ইসলাম

প্রকল্পের দুর্নীতি রোধ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যথাযথ বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আইএমইডির এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইএমইডির বিদ্যমান জনবল তিন গুণ বাড়ানো, সাত বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে আইএমইডির কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৪০টি নতুন বিভাগীয় প্রধানের পদ সৃষ্টি এবং ২১ বৃহত্ জেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ইউনিট ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক স্থাপনা (আইটি সেট-আপ) তৈরির সুপারিশ এতে রয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের অনুমোদনে আইএমইডির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়েছে ১৬ মার্চ। বর্তমানে আইএমইডির মঞ্জুরিকৃত পদ ২৭০। নতুন প্রস্তাবনায় প্রথম শ্রেণীর ১৪৭, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪০, তৃতীয় শ্রেণীর ২০২ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ২৩০ অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬১৯ পদ বাড়ানোর কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় অনুমোদিত হলে আইএমইডির মোট জনবল হবে তখন ৮৮৯।
সরকার মনে করছে, দুর্বল আইএমইডির কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ দুর্বলতার অন্যতম দিক হলো বিভাগটির জনবল সংকট। জনবলের অভাবে শুধু দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না তা নয়, অপচয় হচ্ছে সরকারি সম্পদেরও।
এডিপি বাস্তবায়নের স্বার্থে আইএমইডিকে শক্তিশালী করতে গত বছরের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিশেষ অবদান রয়েছে। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ ও কার্যকর করার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আইএমইডি। বিভাগটির কার্যক্রম বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এডিপিতে বরাদ্দকৃত অর্থের কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ, দুর্নীতি ও সম্পদের অপচয় রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছাতে আইএমইডিকে শক্তিশালী করা জরুরি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নির্দেশনার পর আইএমইডির প্রধান খোদেজা বেগমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি যে সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটাই সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।
সুপারিশগুলো হচ্ছে—সচিবসহ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি পরিহার করা এবং বিভাগে তাঁদের মেয়াদকাল কমপক্ষে তিন বছর করা, শূন্যপদ পূরণ করা, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) কার্যক্রমের সঙ্গে প্রকল্প চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ প্রকল্প বাস্তবায়নের সমন্বয় করা, পরিবীক্ষণের জন্য সার্বক্ষনিক ছয়টি জিপ গাড়ির সংস্থান, ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি।
আইএমইডি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির আগে আরও দুটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিল উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি। প্রতিবেদন তিনটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম প্রতিবেদনে আইএমইডিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে আনার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয় বিষয়টিকে।
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরে পর্যবেক্ষণ কার্যালয় স্থাপনের কোনো বিষয়ও উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরে পর্যবেক্ষণ কার্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু উপেক্ষা করা হয়েছে আইএমইডিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসার চিন্তাটি। অন্য সুপারিশগুলো রয়েছে তিন প্রতিবেদনেই।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুর্নীতির সঙ্গে আইএমইডির একশ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকায় কোনোক্রমেই বিভাগটি নিজে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে যেতে চায় না।