Monday, June 19, 2017

ফ্ল্যাটে মিলল অভিনেত্রীর মৃতদেহ

ভোজপুরী সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে বিখ্যাত অঞ্জলি শ্রীবাস্তবের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মুম্বাই পুলিশ। সোমবার আন্ধেরি ওয়েস্টের ফ্ল্যাট থেকে অভিনেত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্জলির আত্মীয়স্বজনরা দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় পুলিশের দ্বারস্থ হন। এর পর মুম্বাই পুলিশ তার আন্ধেরির অ্যাপার্টমেন্টে যান। অঞ্জলির বাড়িওয়ালা ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে ফ্ল্যাটটি খুলতেই দেখা যায় সিলিং ফ্যানে ঝুলছে তার মৃতদেহ।
পুলিশ বিষয়টিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবেই দেখছে কিন্তু অঞ্জলির ঘরে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। মুম্বাইয়েরই একটি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে অঞ্জলির মৃতদেহ। সম্প্রতি অঞ্জলি অভিনয় করেছেন ভোজপুরী ছবি ‘কেহু তা দিল মেই বা’-তে।

সিরিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল আমেরিকা

সিরিয়ার রাকা প্রদেশে আইএসের বিরুদ্ধে হামলায় নিয়োজিত একটি সরকারি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে আমেরিকা। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর জেনারেল কমান্ড রোববার রাতে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, সন্ত্রাস বিরোধী হামলায়রত বিমান ভূপাতিত করে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের প্রকৃত অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে আইএসের সাথে আমেরিকার গোপন আঁতাতের বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, এমন সময় আমেরিকা সিরিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল যখন আইএস বিরোধী যুদ্ধে সুস্পষ্ট সাফল্য পাচ্ছিল দামেস্ক। সিরিয়ার এ ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন সেনাবাহিনী এক বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছে, তাদের নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী জোটের সহযোগী একটি গোষ্ঠীকে রক্ষা করতে গিয়ে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করতে হয়েছে। আমেরিকা একইসাথে দাবি করেছে, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আইএসের বিরুদ্ধে তাদের সমর্থিত একটি কুর্দি গোষ্ঠীর অগ্রাভিযান ঠেকাতে সিরিয়ার যুদ্ধবিমানটি ওই গোষ্ঠীর অবস্থানে হামলা চালাতে গিয়েছিল বলে এটি ভূপাতিত করা হয়েছে। কিন্তু দামেস্ক বলছে, বিমানটি আইএসের অবস্থানে হামলায় নিয়োজিত ছিল। সূত্র : ওয়েবসাইট

মালির রিসোর্টে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা

মালির রাজধানী বামাকোর একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এতে দু'জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। সেখান থেকে আরো ৩৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, এ ঘটনায় দু'জন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। আরো একজন হামলাকারী নিখোঁজ রয়েছেন। লা ক্যাম্পেমেন্ট নামের এই রিসোর্টটি পশ্চিমা নাগরিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রাজধানী বামাকো থেকে পূর্ব দিকে অবস্থিত। সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের তিনজন স্টাফ আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মালির নিরাপত্তামন্ত্রী সালিফ ত্রাওরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'এটা সন্ত্রাসী হামলা। হামলার পর মালির বিশেষ বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।' তিনি বলেন, 'দু'জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। আমরা তাদের লাশ উদ্ধার করেছি।' হামলাকারীদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি মেশিনগান ও বিস্ফোরকভর্তি চারটি বোতল পাওয়া গেছে।

লন্ডনে এবার মসজিদের কাছে গাড়ি হামলা

লন্ডনে ফের গাড়ি হামলা হয়েছে। পথচারীদের পিষল দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ভ্যান। এই ঘটনায় সন্ত্রাসযোগ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর দাবি তাদের। এখন পর্যন্ত ১ জনকে গ্রেফতারর করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি। রোববার মধ্যরাতে উত্তর লন্ডনের ফিনসবারি পার্কে সেভেন সিস্টার্স রোডে একটি মসজিদের বাইরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পৌঁছেছে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও। তবে প্রাণহানি ঘটেছে কিনা এবং ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
খুব শিগগির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুর্ঘটনার জেরে সেভেন সিস্টার্স রোড, হর্নসি রোড এবং রক স্ট্রিটের যান চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ‘‌দ্য মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’‌–এর তরফে টুইটারে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‌রমজান উপলক্ষে রোববার রাতে বিশেষ নামাজের আয়োজন করা হয়েছিল ফিনসবারি পার্ক সংলগ্ন ওই মসজিদে। সেখান থেকে নামাজ পড়ে বেরোচ্ছিলেন কয়েকজন। সেই সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানাই।’‌ সংস্থার প্রধান হারুন খান অবশ্য এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাস যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। গাড়ির চালক ইচ্ছাকৃতভাবে পথচারীদের চাপা দিয়েছে বলে নিজের টুইটার হ্যান্ডলে দাবি করেছেন তিনি।

ফরাসি পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সে ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর তার রাজনৈতিক দল পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফরাসি পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রায় সব ভোট গণনা হবার পর দেখা যাচ্ছে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি আসন জিততে যাচ্ছে ম্যাক্রঁর দল এবং তাদের মিত্ররা। তবে ধারণা করা হচ্ছিল লা রিপাবলিক এন মার্শ আরো বেশি আসন পাবে। যদিও দলটি গঠন হয়েছে মাত্র এক বছর আগে এবং দলের অধিকাংশ প্রার্থীরই রাজনৈতিক কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এই জয়ের ফলে মূলধারার দলগুলো অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ তার ইইউ-পন্থী এবং ব্যবসাবন্ধবনীতি বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব পেলেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপটিতে অবশ্য ভোট প্রদানের হার ছিল ৪২ শতাংশ। গত নির্বাচনের তুলনায় যা অনেকটা কম।
সংবাদদাতারা বলছেন, ম্যাক্রঁর বিরোধীরা ভোট দিতেই আগ্রহী ছিল। না। বিরোধী রক্ষণশীল দল এবং তাদের মিত্ররা হয়তো ১২৫-১৩১টি আসন পেতে পারে। তবে বিদায়ী সংসদে বিরোধীদের আকার ছিল প্রায় ২০০ টি আসনের। গত ৫ বছর যে সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতায় ছিল, তারা এই নির্বাচনে মাত্র ৪১-৪৯টি আসন পেতে পারে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পাচ্ছে ৮টি আসন, তবে তাদের প্রত্যাশা ছিল ১৫টি আসনে জয়ের। এদিকে বিজয়ী লা রিপাবলিকান এন মার্শের প্রার্থীদের প্রায় অর্ধেকই রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ষাঁড়ের লড়াইয়ের খেলোয়াড়, রুয়ান্ডার একজন শরণার্থী এবং একজন গণিতবিদ। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ছিল নারী। সূত্র : বিবিসি

ভারতে ভূমিকম্প

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মনিপুর রাজ্যে সোমবার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ‘ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মনিপুরের ইম্ফলে ২৪.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৯৩.৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।’ তারা আরো জানান, ‘ভূমিকম্পটি ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।’ ইম্ফল মনিপুরের রাজধানী। পুরো নগরীজুড়েই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। যদিও এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। গত বছর মনিপুর ও এর আশপাশের অঞ্চলে ৬.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের আঘাতে আট জন প্রাণ হারায় ও প্রায় একশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়।

লন্ডনে মসজিদের কাছে গাড়ি হামলা : হতাহত ৯

লন্ডনে মসজিদের কাছে পথচারীদের উপর ভ্যান উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো আটজন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তারা ঘটনাটির তদন্ত করছেন। সোমবার পুলিশ একথা জানিয়েছে। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির ৪৮ বছর বয়সী চালককে ঘটনাস্থল থেকে জনতা আটক করেছে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় সন্ত্রাসযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর দাবি তাদের। রোববার মধ্যরাতে উত্তর লন্ডনের ফিনসবারি পার্কে সেভেন সিস্টার্স রোডে একটি মসজিদের বাইরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ‘‌দ্য মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন’‌–এর পক্ষ থেকে টুইটারে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‌রমজান উপলক্ষে রোববার রাতে বিশেষ নামাজের আয়োজন করা হয়েছিল ফিনসবারি পার্ক সংলগ্ন ওই মসজিদে। সেখান থেকে নামাজ পড়ে বেরোচ্ছিলেন কয়েকজন। সেই সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানাই।’‌ সংস্থার প্রধান হারুন খান অবশ্য এই ঘটনার সাথে সন্ত্রাস যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। গাড়ির চালক ইচ্ছাকৃতভাবে পথচারীদের চাপা দিয়েছে বলে নিজের টুইটার হ্যান্ডলে দাবি করেছেন তিনি।

বিশ্বে গৃহহীন ৬ কোটি ৫৬ লাখ লোক : জাতিসঙ্ঘ

সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, সহিংসতা ও উৎপীড়নের কারণে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৬ কোটি ৫৬ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। সোমবার জাতিসঙ্ঘ একথা জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘২০১৬ সালের শেষ নাগাদ ৬ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ নিজের বাস্তুভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

আমেরিকা ‘গুণ্ডা রাষ্ট্র’: উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বলেছে, নিউইয়র্কে নিযুক্ত দেশটির কূটনীতিকদের একটি প্যাকেট ‘ছিনতাই’ করেছে আমেরিকা। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ খবর দিয়েছে। এটি বলেছে, নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলে লাগেজ থেকে ওই প্যাকেটটি ছিনতাই করা হয়েছে। ঘটনার সময় কূটনীতিকরা নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরছিলেন বলে কেসিএনএ জানায়। এই ‘উস্কানিমূলক’ পদক্ষেপের জন্য আমেরিকার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া।
পিয়ংইয়ং বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দেশটির কূটনীতিকদের কাছ থেকে প্যাকেটটি জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ কারণে আমেরিকাকে ‘অরাজক গুণ্ডা রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেছে কেসিএনএ। উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে পিয়ংইয়ং’র সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ক কনভেনশনের সদস্য দেশগুলোর এক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলটি নিউইয়র্ক সফরে গিয়েছিলেন। এ ঘটনার জের ধরে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সম্মেলন অন্যকোনো দেশে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটি বলেছে, আমেরিকা এ দাবি মেনে না নিলে এর যেকোনো পরিণতির দায় ওয়াশিংটনকে নিতে হবে। সূত্র : ওয়েবসাইট

সংসদে কড়া সমালোচনা ও তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফও সংসদে অর্থমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন। অর্থমন্ত্রীর কথাবার্তায় সরকারক বিব্রত মন্তব্য করে সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, অর্থমন্ত্রীর কিছু কথাবার্তায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আগেও তিনি অর্থমন্ত্রীকে কথা কম বলার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে সেলিম বলেন, আপনার বয়স হয়ে গেছে, কখন কী বলে ফেলেন—ঠিক থাকে না। আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে অনড় থাকায় অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘আপনার দায়িত্ব বাজেট পেশ করা। এই সংসদের ৩৫০ জন জনগণের প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, কোনটা থাকবে না। আপনি একগুঁয়েমি সিস্টেম বন্ধ করেন, কথা কম বলেন।’ ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে সেলিম বলেন, এই সামান্য টাকার জন্য গোটা জাতির কাছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হবে। আবগারি শুল্ক আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানিয়ে হানিফ বলেন, অর্থমন্ত্রী কী কারণে কার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক করেছেন, জানা নেই। তিনি বলেন, হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এ টাকা কিছু নয়। তাহলে কেন সামান্য টাকার জন্য সারা দেশে মানুষের মধ্যে আক্ষেপ তৈরি করলেন। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বাজেট নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নির্বাচনী বাজেট নয়।
তাহলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কবে নির্বাচনী বাজেট দেবেন? ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সরকার দলের এই সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রী ভ্যাট আরোপ করেছেন গণহারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এক বছরে ৩০ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট আহরণের নজির নেই। এটা যৌক্তিক নয়। ব্যাংকখাতে লুটপাটের অভিযোগ এনে হানিফ বলেন, বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হচ্ছে। কার টাকা কেন দিচ্ছেন? তাঁরা দুর্নীতির জন্য লুটপাট করবে আর মূলধন দিতে হবে আমাদের? প্রয়োজনে এই ব্যাংকগুলোর বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করা হোক। সরকারি টাকা এভাবে লুটপাট করতে দেওয়া যাবে না। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের আগে জনগণকে ‘বিভ্রান্ত’ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের আরেক সাংসদ সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আল্লাহ তাঁকে (অর্থমন্ত্রী) সুযোগ দেবে কি না জানি না। কিন্তু যাদের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে, তাঁরা যাতে নির্বাচন করতে পারে সেটা খেয়াল করতে হবে।’ আবুল কালাম ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করে বলেন, এমনিতে সুদ কম। এর ওপর শুল্ক বাড়ালে তা হবে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। সুদ এমনিতেই কম। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার না কমানোর দাবি জানিয়ে আবুল কালাম বলেন, ১০ শতাংশ বাড়ালে খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু উপকার পাবে লাখ লাখ মানুষ। এটা সিনিয়র সিটিজেনরা পান। তাঁরা কোথাও হাত পাততে পারে না। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঋণ খেলাপিদের বিশাল লিস্ট দিছেন। কই তাদের তো ধরতে পারেন না। ব্যাংকের টাকা পাচার বন্ধ করতে পারছেন না। আর নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছেন।’

পরিবেশ বিপর্যয় ও পাহাড়ে ধস

পবিত্র ঈদুল ফিতর খুশির বার্তা বয়ে আনুক দেশের রাজনীতিতে। পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছা, সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতার অনাবিল পরিবেশ সৃষ্টি হোক এই অঙ্গনে। রাজনীতিতে মত ও পথের ভিন্নতা সব সময় থাকবে। তদুপরি এই মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিটি দলের রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং জনসেবার কর্মসূচিতে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োগ পদ্ধতি থাকবে। তার ভালো-মন্দ নিয়ে তর্কবিতর্ক হবে, সমালোচনা, পর্যালোচনা হবে। এটা কোনো দোষনীয় ব্যাপার নয় বরং স্বাভাবিক। তবে নীতি-আদর্শের এই তর্কবিতর্ক সমালোচনা অবশ্যই একটা সীমার মধ্যে থাকবে। এসব বক্তব্য যাতে কোনোভাবেই ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনকে সংক্রমিত না করে। ব্যক্তিগত সম্পর্কও সাক্ষাতে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে আমরা অহরহ দেখি, দুই আদর্শের পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা ব্যক্তিরা নির্বাচনে বিজয়ী হন। প্রথমেই তার প্রতিপক্ষ তাকে বিজয়ী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং নিজের বা দলের পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। গণতন্ত্রের এই সুবাতাস কবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইবে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চমৎকার পরিবর্তনের আকাক্সা নিয়ে আর কত সময় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, তা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক যে ধারা দেশে চলছে তার আশুপরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয় অর্থাৎ মুখ্য বিষয় কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজনীতিতে রাজনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পাবে সন্দেহ নেই। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন যে সমস্যা প্রকট হয় তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার দাবি রাখে। দেশের এখন অন্যতম বড় সমস্যা পরিবেশ সম্পর্কিত। কিন্তু রাজনীতিতে এই সমস্যা ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না।
দেশের পরিবেশের প্রতিনিয়ত অবনতি ঘটছে, কিন্তু তার তেমন কোনো গুরুত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই। মানুষ ও তার চার পাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি, পাহাড়-পর্বত, মাটি, পানি, বায়ু, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, সমাজ-সংসার, ধর্ম, সংস্কৃতি এসব মিলিয়েই গোটা প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি গোটা দেশের কাছে বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। অথচ দেশে যেভাবে ক্রমাগত পরিবেশের অবনতি ঘটছে তাতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। এখনই এ বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনায় নেয়া উচিত। পরিবেশের প্রধান উপাদান মাটি, পানি ও বাতাস এবং অন্যান্য উপাদানের যেকোনো ধরনের পরিবর্তন যা সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে, সাথে সাথে বা পরবর্তীতে, অল্প বা বেশি সময়ের জন্য মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে সেটাকেই মূলত পরিবেশ দূষণ বলা যেতে পারে। বাংলাদেশে শুষ্ক মওসুমে নদনদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বর্জ্যে পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, বন উজাড় হচ্ছে এবং বিশেষত শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ ঘটছে। এসব প্রতিরোধে বহু আইনকানুন রয়েছে, কিন্তু তার কোনো সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই। পরিবেশ রক্ষা করে দেশের উন্নয়ন না করলে তা টেকসই হবে না। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। দেশের পরিবেশগত সমস্যাগুলোর স্বরূপ কী তা কমবেশি সবার জানা। এ বিষয়ে অনেক নীতি, আইন, কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা আছে। কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। যারা বন, জলাভূমি ও পরিবেশ ধ্বংস করছে তারা এত শক্তিশালী যে, বেসরকারি সংস্থা নাগরিক সমাজ একযোগে দাঁড়ালেও তাদের সাথে পেরে উঠবে না। সরকারের হাত এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তা দূষণ রোধে তেমনভাবে প্রসারিত হয় না। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে পরিবেশের বিষয়টি খুব গুরুত্ব পাচ্ছে না। পরিবেশগত কারণে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে। এর প্রতিক্রিয়ায় জীবন ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক অবনতি ঘটছে। দেশের মানুষের ওপর তার অশুভ প্রভাব পড়ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে যতটা সতর্ক ও সোচ্চার সে তুলনায় বাংলাদেশে সচেতনতা অপর্যাপ্ত। বাংলাদেশের বাতাস ইতোমধ্যে পৃথিবীর দূষিত বাতাসের অংশ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই তথ্য জানা গেছে। এই সূচক অনুসারে, সার্বিক দূষণের ক্ষেত্রে ১৭৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৬৯তম স্থানে রয়েছে। পরিবেশ সূচকের প্রতিবেদন অনুসারে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় এই সূচকের নিচের সারির দেশগুলো পরিবেশ দূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যায়। এই সূচক নির্ণয়ে ৯টি পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। এগুলো হলো বায়ুর মান, স্বাস্থ্যগত প্রভাব, পানি, স্যানিটেশন, পানিসম্পদ, কৃষি, বনভূমি মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বসতি এবং জলবায়ু ও জ্বালানিসম্পদ। ৯টি বিষয়ের মধ্যে প্রতিটি দেশের জাতীয় পর্যায়ের ২০ ধরনের পরিবেশ তথ্য এই সূচক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটিতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে দেশগুলোর অবস্থান নম্বর দেয়া হয়। মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বায়ু ১০০ নম্বরে পেয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৮৩, যা বিশ্বে সর্বনি¤েœ। সামগ্রিক বিবেচনায় অর্থাৎ পরিবেশের ৯টি সূচকের নিরিখে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৯। এই বিবেচনায় সার্কভুক্ত কোনো দেশই বাংলাদেশের পেছনে নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পরিবেশের সার্বিক অবস্থান সবচেয়ে ভালো শ্রীলঙ্কার। ৫৩ দশমিক ৮৮ নম্বর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৬৯-এ। পানি স্যানিটেশনে ২২ দশমিক ৫৬ নম্বর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩১। বনভূমির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২২ দশমিক ৮৩ নম্বর নিয়ে আছে ৮৮তম স্থানে। এ ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার সব ক’টি দেশই বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে। পানিসম্পদে বাংলাদেশের নম্বর শূন্য, মানে কোনো অর্জনই নেই। আর অবস্থান ১৪৫। বাংলাদেশের শূন্য পাওয়া আর একটি ক্ষেত্র হলো মৎস্য খাত।
এ ক্ষেত্রে অবস্থান ৯৮। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য ও বসতির ক্ষেত্রে পেয়েছে ৩৯ দশমিক ৬৮, অবস্থান ১২৩। জলবায়ু ও জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগের নিরিখে ৫৫ নম্বর পেয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করেন, বায়ুর মান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পরিবেশের সার্বিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। বাতাসে কার্বন মনো-অক্সাইডের প্রাবল্য ক্রমেই মানুষের রোগবালাই বাড়িয়ে তুলছে। দেশের পরিবেশ প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল। পরিবেশের বিষয়টি শিল্প, অর্থবাণিজ্য ও প্রশাসনের কাছে ন্যুব্জ হয়ে আছে। ব্যতিক্রমধর্মী ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। উজানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নেমে আসে পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী দিয়ে। এই পানির মাত্র শতকরা ৮ ভাগ নিষ্কাশন এলাকা বাংলাদেশের অন্তর্গত। বেশির ভাগ নিষ্কাশন অববাহিকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত। বিশাল প্রবাহসহ নদ-নদীগুলোর গতি বাংলাদেশ নামের গাঙ্গেয় বাংলাদেশে ২৫০টির বেশি বড় নদনদী রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান নদনদীগুলো পরিবর্তনশীল। মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা খুবই পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং পরিবেশগত বিবেচনায় খুবই গুরুত্ব রাখে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর প্লাবন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে থাকে। বাংলাদেশে তিন ধরনের প্লাবন বা বন্যা হয়ে থাকে : আকস্মিক বন্যা, মওসুমি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা। এসব দুর্যোগের কারণে নদীর তীর ভাঙে এবং জমি বিলীন ও ফসলহানি হয়। তাতে গ্রামবাংলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র এক মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটে। বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, বরং বন্যা নিয়ে বাঁচতে হবে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে পরিবেশগত বিপদকে হ্রাস করে চলা যায় এমন কৌশলই গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত ‘বন্যা নিয়ে বাঁচার’ কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়নি। মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডেই মূলত পরিবেশের উপাদানে অনাকাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটে। দূষণ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় মানুষের নিজস্ব স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করা, যা প্রধানত বর্জ্য বা ক্ষতিকর পদার্থ দ্বারা বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের মাধ্যমে হয়ে থাকে। গত কয়েক দশকে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ দূষণজনিত সমস্যা গুরুতর করে তুলেছে। অধিক জনসংখ্যা মানে, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিক ব্যবহার, যার পরিণাম অধিক দূষণ। কঠিন বর্জ্যজনিত দূষণ বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা। বিভিন্ন শহরে বিপুল পরিমাণে কঠিন বর্জ্য জমা হয়। বর্তমানে কেবল ঢাকা নগরীতেই প্রতিদিন ১৫০০ টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর পরিমাণ বাড়ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকায় প্রায় এক হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণে বিষাক্ত ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি হয় এবং এটা পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটায়। ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় ১৪৯টি ছোট-বড় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ছিল, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার লিটার তরল এবং ১১৫ টন কঠিন বর্জ্য জমা হতো। এসব বর্জ্য নিকটবর্তী নালা-নর্দমা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করার ফলে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ দিকে বাংলাদেশে শব্দের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এটা মানুষের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর এক ধরনের অদৃশ্য দূষণ। শিল্প ও পৌরবর্জ্য বাংলাদেশের নদী ও জলাশয়গুলোকে দূষিত করছে। পরিবেশ অধিদফতর উল্লেখ করেছে যে, চট্টগ্রামের টিএসপি সার কারখানা থেকে সালফিউরিক ও ফসফরিক এসিড এবং চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী কাগজমিল, সিলেট কাগজমিল, দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, খুলনার শিপইয়ার্ড ও মাছ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, ঢাকায় বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান লাখ লাখ গ্যালন তরল বর্জ্য পার্শ্ববর্তী নদী ও জলাশয়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে এবং পানি দূষণ ঘটাচ্ছে। শিল্পের দূষিত তরল বর্জ্য মাটিতে চুয়ানোর মাধ্যমে ভূগর্ভের পানিতে মিশে মাটির উপরে ও নিচে, উভয় পানির উৎসকে দূষিত করছে। আশির দশকে মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণের কিছু কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো পরিবেশসংক্রান্ত কর্মসূচি শুরু করলে ১৯৭৪ সালে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গঠন করা হয় এবং ১৯৭৭ সালে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করে।
১৯৮৯ সালে বন বিভাগ এবং নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবেশ অধিদফতর নিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। ১৯৯০ সালকে পরিবেশ বর্ষ ও ১৯৯০-৯১ সালকে পরিবেশ দশক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ দুর্যোগ সম্পর্কে স্থায়ী নির্দেশাবলি ঘোষণা করে। পরিবেশের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা ও আইনকানুন যথেষ্ট রয়েছে। এসব বিধিবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যতটা গুরুত্ব দিয়েছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্রিয় উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে সে পরিমাণ তাগিদ নেই। পরিবেশ বিষয়ে গোটা দেশবাসীকে সচেতন ও উদ্যোগী করে তোলার ব্যাপারে তৎপর হয়ে ওঠা আজো লক্ষ করা যায় না, বরং এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিছক রুটিন রক্ষা করার মতো, এর বেশি কিছু নয়। পরিবেশগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার চাহিদা এবং পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার সাথে সাথে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দাবির নিরিখে অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশের স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউট, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থাগুলোতে পরিবেশ শিক্ষাক্রম প্রচলন ও উন্নয়নের জোর দাবি উঠছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষাকার্যক্রম অন্যান্য বিষয়ের সাথে জড়িত, যাতে রয়েছেÑ ক. বিদ্যমান দুর্যোগগ্রস্ত ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে সতর্ক নজরদারি এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আসন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতি, পরবর্তী চাহিদা ও ব্যবস্থাপনা কর্মকৌশল সম্পর্কে পূর্বাভাস প্রদান, খ. দুর্যোগ সম্পর্কে পূর্বাভাস এবং দুর্যোগের আশু ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে গবেষণার জন্য ফোরাম গঠন, গ. পরিবেশ সমস্যা মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনায় কর্মরত সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং ঘ. বিদ্যমান বিভাগ ও আন্তঃবিষয়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুলপর্যায় থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পরিবেশবিদ্যার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন। দেশে পরিবেশগত অবস্থা যা, তা মোকাবেলা করার জন্য পরিবেশবিষয়ক জ্ঞানলাভ জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত অবক্ষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু পরিবেশনীতি প্রণয়ন ও নীতিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা অনেক। শিল্পোন্নত দেশগুলো তাদের পরিবেশ সমস্যাগুলো ব্যবস্থাপনায় জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে পরিবেশনীতি প্রণয়নের কৌশল অভিজ্ঞতাহীন একটি নতুন বিষয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রশাসনপ্রক্রিয়া ও পরিবেশগত অগ্রাধিকারগুলো শিল্পোন্নত বিশ্বের অনুরূপ বিষয়গুলো থেকে অনেকখানি ভিন্ন। অধিকন্তু নীতি প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের তীব্র অভাব কাজটিকে কঠিন করেছে। আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্যের নিরিখে বাংলাদেশকে টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করা যায়। অত্যন্ত সীমিত সম্পদের ওপর ১৬ কোটি জনসংখ্যার মাত্রাতিরিক্ত চাপ বস্তুত সম্পদ ও পরিবেশের সহনশীলতা, উভয় বিবেচনায় দেশের ধারণক্ষমতাকে অতিক্রম করেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশে পরিবেশগত নীতি প্রণয়নের গুরুত্ব অত্যধিক। যারা দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন আর ভবিষ্যতে যারা গ্রহণ করবেন, তাদের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বটে; কিন্তু সার্বিক বিষয়টি বাস্তব ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টির সাথে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। সরকারি কর্তৃপক্ষের পরিবেশসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রুটিন রক্ষার জন্য কাজ করে তেমনি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নীতিনির্ধারণের দায়সারাভাবে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ বাংলাদেশ পরিবেশগত বিবেচনায় অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। এবার পার্বত্য জেলায় ভূমিধসে বহু মানুষের জীবননাশ হয়েছে। অথচ সরকারের সম্মুখেই নিয়ত অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা ও বন উজাড় হচ্ছে এবং পাহাড়ের কোলে অথবা পাদদেশে বিপদসঙ্কুল স্থানে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। তবুও নিয়মনীতি বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণের কোনো বালাই নেই। পরিবেশ বিপর্যয়ে প্রতি বছর অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অথচ এসব ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশের আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের রাজনীতিতে পাহাড়ের বিপর্যয়ের শোক, অনুতাপ লক্ষ করা যায় বটে, কিন্তু ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে করণীয় নিয়ে কোনো প্রত্যয় নেই। নেই কোনো ফলপ্রসূ বক্তব্য।

কাতার-সৌদি বিরোধ ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে গ্রেট গেম

পশ্চিম এশিয়া কয়েক শ’ বছর ধরে সঙ্ঘাত ও প্রক্সিযুদ্ধের নাট্যমঞ্চে পরিণত হয়ে আসছে। ইতিহাস, রাজতন্ত্র বা বংশীয় শাসন এবং ধর্মীয় কারণে বেশির ভাগ দেশ এসব সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে। উত্তর আফ্রিকান, রুমান, বাইজেন্টাইন, পার্সিয়ান, তুর্কি, ফরাসি, জার্মান ও অ্যাংলো-মার্কিন বাহিনী এসব এলাকায় আগ্রাসন চালাতে প্রলুব্ধ হয়েছিল। ১৯৩০-এর দশক থেকে পেট্রোডলারের কারণে সঙ্ঘাত ও আগ্রাসন আরো বেড়ে যায়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ও কতই না কৌতুকোদ্দীপক বিষয়, ইয়েমেনÑ যে দেশটি সৌদি আরবের সশস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে তারাই নাকি সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সৌদি আরব ও মিসরের সাথে কাতার, তুরস্ক ও ইরানের বিরোধের প্রধান কারণ হচ্ছে ইয়েমেন। ইয়েমেনের মাধ্যমেই তিক্ততা শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট কারণ হচ্ছে ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ইয়েমেন সিরিয়ার মতো নয়Ñ দেশটি অধিকতর স্বচ্ছ এবং যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবেÑ হু ইজ হু। ইউরেশিয়ার প্রভাব রোধ করার নীতি কখনো সত্যিকারের সঙ্ঘাতের কারণ ছিল না। আমেরিকান কৌশলবিদ অ্যাডমিরাল মাহেন সেন্ট্রাল এশিয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করে সেখানকার গ্রেট গেমে মধ্যপ্রাচ্যের ধারণা চালু করেন। তিনি রাশিয়ানদের নিয়ন্ত্রণের জন্য পারস্য উপসাগরের গুরুত্ব কী, তার সমর্থনে কথা বলেন। এটি পরবর্তী ব্রেজেনেস্কির সমন্বিত ইউরো এশিয়ান জিও-স্ট্র্যাটেজি বা ভৌগোলিক কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়Ñ এবং সেটাকে সাউদার্ন ফ্রন্ট নামে অভিহিত করা হয়। এতে ধর্ম, অর্থ, প্রক্সি এবং সন্ত্রাসবাদকে উপাদান হিসেবে নেয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পেট্রোডলারের দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক দেশগুলো, ইসরাইল ও মিসর তাদের অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সিসিজে দেশগুলো, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সমর্থনেই ধ্বংসলীলা চলছে। মিসরে সিসির সামরিক অভ্যুত্থানের সাথেও তারা সুসংহত রয়েছে। প্যান-ইসলামিক শক্তি অর্থাৎ মুসলিম ব্রাদারহুড এবং একই ধরনের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হামাস তুরস্ক ও ইরানই তাদের একমাত্র প্রতিবন্ধক। প্যান-ইসলামিজম ওসমানীয় খেলাফতকে সমর্থন করে এবং তারা শিয়া ইরানের নাগালের বাইরে। একজন ওসমানীয় আক্রমণকারী ১৮১৮ সালে ইয়েমেনের মধ্য দিয়ে প্রথম সৌদি কিংডমকে পরাজিত করে। ব্রিটিশ ও আমেরিকানরা পরবর্তী সময়ে সৌদি কিংডমকে পুনরুজ্জীবিত করে। তুর্কিরা স্মরণ করে উত্তর ইয়েমেন ওসমানী সাম্রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল এবং তারা মক্কা ও মদিনার ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র স্থানগুলো সংস্কার সাধন করেছিল। ১৮০২ সালে সৌদিরা কারবালায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়েছিল ইরানের শিয়ারা তা কখনো ভুলবে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী পার্সিয়ান-তুর্কি এবং সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাংলো-মার্কিন সমন্বিত ইউরো এশিয়ান জিও-স্ট্র্যাটেজির উন্মেষ ঘটে। সৌদি আরব ও ইসরাইল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা যে রেডলাইন দিয়েছিলেনÑ তা প্রতিরোধ করার জন্য প্ররোচিত করে। এরপর সৌদি আরব কাতারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী মিসর ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ইয়েমেনের কাছ থেকে যে মার খেয়েছিল তা স্মরণ করে ইসরাইলি ঐতিহাসিক মাইকেল ওয়েনকে মন্তব্য করতে বাধ্য করা হয় যে, আকস্মিক দুর্বিপাকে পড়া মিসর ইয়েমেনে হামলা চালাবে যেটাকে ভিয়েতনামে আমেরিকা যে আগ্রাসন চালিয়েছিল তার সাথে অতি সহজেই তুলনা করা যাবে। সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রেসিডেন্ট সিসি উত্তর আমেরিকান-মুসলিম বিজেতাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ নিতে চান। এসব ব্যাখ্যার কারণে বর্তমান সৌদি-কাতার বিরোধ যেকোনো পক্ষে বুঝতে সহজ হবে ইরান কেন শত্রুতে পরিণত হলো এবং তুরস্ক কেন কাতারের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিতে প্রস্তুত। রাশিয়া প্রবেশ করে বিশ্ব সাউদার্ন ফ্রন্টে একটি নতুন পরিবর্তন দেখতে পাবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টের সাথে কাতারের সমুদ্রপথের যোগাযোগ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে স্থল যোগাযোগে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি আবিষ্কৃত তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের ওপর তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রভাব বিবেচনায় সিরিয়াসহ গোটা এলাকার ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ইসরাইল সিরিয়ান করিডোরের প্রতি গভীরভাবে নজর রাখছে এবং সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অন্যান্য দেশের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতার হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক। জনসংখ্যা ও সম্পদের আনুপাতিক বিবেচনায় কাতার ভৌগোলিক পরিবর্তনে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বলবৎ রয়েছে। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানদের (যারা আইসিস বিরোধী) মধ্যকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা পালন করে এসেছে। মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস, নুসরা ফ্রন্ট এবং হয়তো আফগান তালেবানদের মোকাবেলা করার জন্যই সাউদার্ন ফ্রন্টের ব্রেনচাইল্ড হচ্ছে আইসিস। সাউদার্ন ফ্রন্টের কোয়ালিশন কাতারের দরজায় কড়া নাড়তে পারে। এই সাউদার্ন ফ্রন্টের কোয়ালিশন ‘আরব বসন্তের’ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। তারা অবশ্য বহু বছর ধরে সশস্ত্র গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে কান্ত হয়ে পড়েছে। কাতার তার আরব প্রতিবেশীদের জ্বালাতনে বিরক্ত। দেশটি তাদের নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার সাধনের পরিচর্যা করে। কাতার একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশটি নারীদের ওপর থেকে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। একইভাবে কাতার আল উদাইদ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এটা এখন মার্কিন কোয়ালিশনের সমন্বিত এয়ার অপারেশনস সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। এখানে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছেÑ এটার মাধ্যমে ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানের এয়ার স্পেশ মনিটর করা যায়। দেশটি ইরান তুরস্ক এবং প্যান-ইসলামিজমের প্রতিও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সাথে কূটনৈতিক অচলাবস্থার সময় চাক হেগেল এবং জন কেরি যে তৎপরতা চালিয়েছিলেন তাতে অচলাবস্থা নিরসনে কাতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, ‘ওবামা ইরানের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ২০১৫ সালে যে পরমাণু চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন তাতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং কাতারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির উপস্থিতির অর্থ হচ্ছে দোহা আমেরিকান প্রোটেকশনে রয়েছে। কাতারকে শাস্তি প্রদান এবং ইরানকে বিচ্ছিন্ন বা একঘরে করে রাখা হচ্ছে ইসরাইল সরকারের স্বার্থের সাথে মিল রেখে। কারণ ইসরাইল তার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও গাজায় হামাসের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।’ গত মে মাসে ইসরাইল ও ইরান নিয়ে কাতারের আমিরকে সম্পৃক্ত করে ভুয়া খবর প্রচার করায় কাতার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব আলজাজিরা নেটওয়ার্ক এবং কাতারের মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেনি। আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবার হ্যাক করা ই-মেইল সম্পর্কে আলজাজিরা রিপোর্ট করলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই ই-মেইলের মাধ্যমে কাতারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালানো হয়। ওই ই-মেইলে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের যোগাযোগ ও আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। ই-মেইল ফাঁস হওয়ায় নিওকনজারভেটিভ থিংকট্যাংক, ইসরাইলপন্থী কোটিপতি শেলডন এডেলসন এবং আরব আমিরাতের যৌথ অর্থসহায়তায় দি ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসির (এফডিডি) তৎপরতা ফাঁস হয়ে যায়। রিয়াদে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের পর বেসরকারি পর্যায়ের বৈঠকে কাতারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু ট্রাম্প ইরাকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতো সন্দেহজনক সিগন্যাল পাঠান। এতে সৌদিরা খুবই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং এটা তাদের পক্ষে গেছে বলে মনে করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি যখন তাকে অভিনন্দন জানান, সৌদি আরব মনে করে কাতার তখন তার রেডলাইন অতিক্রম করে ফেলেছে। সৌদি পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পরই কাতারকে প্রতিরোধ করার জন্য সঙ্ঘাত বাধিয়ে দেয়া হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ৪০ বছরের মর্যাদা বলবৎ রাখাÑ অর্থাৎ ৪০ বছর ধরে চলে আসা বর্তমান অবস্থা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কাতারকে দণ্ড দেয়া হচ্ছে। আর তেহরানকে সজোরে আঘাত করার প্রচলিত ও বিচক্ষণতাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখানো, সামরিক স্ট্রংম্যানদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং এই অঞ্চলের সঠিক পথ রাজনৈতিক ইসলামকে দাবিয়ে রাখার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার কারণে কাতারকে শায়েস্তা করা হচ্ছে। কিন্তু ১৯৩৮ সালে যে অবস্থা বা পদমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, ১৯৭৩ সালের পর তা আরো শক্তিশালী হয়। পেট্রোডলারের কারণে সৌদি আরবের চতুর্দিকের অন্যান্য দেশের ওপর সৌদিদের এক ধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সঙ্কটে পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান ১৯৫২-৭০ সাল পর্যন্ত বাগদাদ চুক্তি বা সেন্টোর অংশ ছিল। দেশটি তখন মিসরের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছিল। পরে তাদের সৈন্যরা জর্ডানে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা পবিত্র কাবা শরীফে দখলদার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ঝটিকা হামলায় অংশ নিয়েছিল। পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবী পাইলটই হচ্ছেন একমাত্র পাইলটÑ যিনি ১৯৭৩ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সফল এয়ার মিশন পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে পবিত্র স্থানগুলো এবং সউদের বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৌদি আরবে পাকিস্তানি সামরিক কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে প্রথম ইরাক যুদ্ধে পাকিস্তান নিরপেক্ষ ছিল। বরং পাকিস্তানের সাথে সৌদি সরকারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। সৌদি আরবের ফোরেক্স রিজার্ভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সেখানে পাকিস্তানের একটি অত্যন্ত বড় কর্মীবাহিনী রয়েছে। পাকিস্তানের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এখন সৌদি কোয়ালিশন আইএমএটির প্রধান। কাতার ও তুরস্কের মতো পাকিস্তানও একই ধরনের শক্তি প্রদর্শন করে কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের দুর্বল নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অত্যধিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে দেশটি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিউ সাউদার্ন ফ্রন্টের এই খেলায় পাকিস্তানের কিছু বিকল্প আছে। তবে পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এই অঞ্চলে দৃঢ়তা দেখাতে হবে। আগামীতে বিআরআই, সিপিইসি এবং ওবিওআর (ওবোর) এর ক্ষেত্রে আরো খোলামেলা বিকল্প রয়েছে। চীন, ইরান এবং তুরস্কের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও টিভি উপস্থাপক।
দ্য নিউনেশন থেকে ভাষান্তর : মুহাম্মদ খায়রুল বাশার 

সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধে অর্থমন্ত্রীর বাজেটাস্ত্র

থমাস জেফারসন। আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদার। আমেরিকার ‘ডিকারেশন অব ইনডিপেন্ডেন্স’-এর প্রধান প্রণেতা। আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট। ছিলেন দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামসের আমলের (১৮৯৭-১৮০১) নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট। গণতন্ত্র, রিপাবলিকানিজম ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রবল সমর্থক এই ব্যক্তিত্ব আমেরিকান উপনিবেশবাদীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন গ্রেট ব্রিটেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন জাতি গঠনে। তিনি রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অনেক আনুষ্ঠানিক দলিল ও সিদ্ধান্তের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে গেছেন। তার অনন্য একটি সুপরিচিতি আছে। তিনি সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও ছিলেন সংবাদপত্রের বিকাশ ও স্বাধীনতার পক্ষের ব্যতিক্রমী মানুষ। আমরা যারা সংবাদপত্র জগতের মানুষ, তারা প্রায়ই তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি তার একটি বিখ্যাত বক্তব্যের জন্য। তার উক্তিটি সাক্ষ্য বহন করে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিকাশকে কতটুকু গুরুত্ব দিতেন। জেফারসন ১৭৮৬ থেকে ১৭৮৮ সালে এডওয়ার্ড ক্যারিংটনকে একজন প্রতিনিধি হিসেবে কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে পাঠিয়েছিলেন। তখন জেফারসন প্যারিস থেকে ক্যারিংটনকে যে চিঠি লিখেছিলেন, এর উপসংহার টেনে লিখেছিলন : আমাকে যদি Ôa government without newspapersÕ’ অথবা ‘Ônewspapers without a governmentÕ’Ñ এ দুয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি এক মুহূর্তও না ভেবে দ্বিধাহীনভবে দ্বিতীয়টিকেই বেছে নিতাম। তিনি এমনটি উচ্চারণ করেছিলেন, সেই ১৭৮৭ সালের দিকে। কারণ, তার উপলব্ধিতে ছিল : জনগণই হচ্ছে শাসকদের সেন্সর। সংবাদপত্রে সরকারের ভুলত্রুটি সবচেয়ে ভালোভাবে ধরা পড়ে। আর সরকার চাইলে সে ভুল সহজেই শোধরাতে পারে। সে যা-ই হোক, আমাদের এই সময়ের সরকারগুলো এই সত্য উপলব্ধিতে অপারগ। তাই এরা সংবাদপত্রকে পরম শত্রু ভাবে এবং কিভাবে সংবাদপত্রের হাত-পা যথাসম্ভব আঁটসাঁট করে বাঁধা যায়, সে চিন্তাই তাদের মাথায় ঘোরে সারাক্ষণ। ফলে এটি স্পষ্ট, আমাদের সরকারপ্রধানকে যদি ‘অ্যা গভর্নমেন্ট উইদাউট নিউজপেপারস’ অথবা ‘নিউজপেপারস উইদাউট অ্যা গভর্নমেন্ট’Ñ এ দুয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ‘অ্যা গভর্নমেন্ট উইদাউট নিউজপেপারস’ অপশনটিই বেছে নেবে। নিকট অতীতের দিকে তাকালে, এমনটিরই প্রমাণ মেলে। সম্প্রতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে সংবাদপত্র শিল্পের ওপর নানা কায়দায় যেভাবে ভ্যাট-শুল্ক-কর বসানো হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই কথাগুলো বলা। দোরগোড়ায় কড়ানাড়া আগামী অর্থবছরের বাজেটে সংবাদপত্রের বিভিন্ন উপকরণ ও আয়ের ওপর বাড়তি শুল্কÑ করÑ ভ্যাট চাপানো হয়েছে। সংবাদপত্রের আয়ের অন্যতম খাত বিজ্ঞাপনের ওপর ৪ শতাংশ হারের অগ্রিম কর আগে থেকেই ছিল। বিজ্ঞাপনের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপসহ ছাপাখানায় ব্যবহারের কালি, প্লেট ও নিউজপ্রিন্ট আমদানিসহ সব কিছুতেই ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়বে। ২০১৩ সালে সংবাদপত্র কর্মীদের জন্য অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তখন সংবাদপত্র শিল্পকে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। তা ছাড়া তখন কাগজসহ অন্যান্য উপকরণেরও দাম বাড়ে। বাড়ে বিদ্যুতের দামও। ফলে সংবাদপত্রের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এর ফলে অনেক সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ সময়মতো সাংবাদিক ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না। কোথাও কোথাও ব্যাপক হারে সাংবাদিক ও কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে আমরা দেখছি। এদিকে নবম ওয়েজবোর্ড দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। তখন আরেক দফা বাড়বে সংবাদপত্রে সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার খরচ। এমনটি যে শুধু বাংলাদেশেই ঘটছে, তা নয়। দুনিয়াজুড়ে সংবাদপত্র শিল্প রীতিমতো হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন দেশের বড় বড় পত্রিকাগুলো সংস্করণ কমিয়ে দিচ্ছে। সার্কুলেশন কমিয়ে দিচ্ছে। কর্মী ছাঁটাই করছে। খরচ কমানোর সম্ভাব্য উপায় উদ্ভাবন করে নানা ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সংবাদপত্রে বিনিয়োগ থামিয়ে দিয়ে কোনোমতে চালু রাখার চেষ্টা করছে। বিখ্যাত ক’টি আন্তর্জাতিক ইংরেজি দৈনিক সম্পূর্ণ দৈনিকের রূপ পাল্টে রূপান্তরিত হচ্ছে ট্যাবলয়েডে। আমাদের দেশের অবস্থা এ থেকে আলাদা কিছু নয়। এমনি অবস্থায় নতুন বাজেটে অবিবেচকের মতো নতুন করে ভ্যাট-শুল্ক-কর আরো বাড়িয়ে দেয়া সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণ বৈ কী হতে পারে? শুধু বিমাতাসুলভ আচরণ বললে যথেষ্ট বলা হয় না, বরং বলা উচিত এখানে সরকারের ভূমিকা সংবাদপত্র হন্তারকের। এমনি অবস্থায় আমাদের দেশের সরকার যখন সংবাদপত্রের ওপর ভ্যাট-শুল্কের খড়গ হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে, তখন অনেক দেশ ভাবছে কী করে সংবাদশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যায়। ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দিচ্ছে তাদের নিজ নিজ দেশের বেসরকারি সংবাদপত্রগুলোকে। শুধু সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান কিংবা সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখা কিংবা সংবাদপত্রের কাছ থেকে সমর্থন পওয়ার জন্য এসব দেশের সরকার এই সহায়তা দিচ্ছে তা নয়, বরং জনগণের তথ্য ও বিনোদন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক সমাজ গড়ার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নিচ্ছে এই দেশগুলো। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন মতেÑ যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারগুলো কর ছাড় দিয়ে সংবাদপত্রের করহার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সমান করা হয়েছে। সংবাদপত্র বিক্রির আয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপরও ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রচার সংখ্যা বাড়ানো ও ব্যবস্থাপনা খরচকেও কর ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর ৯০ কোটি ডলারেরও বেশি রাজস্ব ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড ও রয়টার্স ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম প্রণীত এক যৌথ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফিনল্যান্ড। দেশটি সংবাদপত্র বিক্রির আয় ছাড়াও বিজ্ঞাপন, নিউজপ্রিন্ট, ছাপাখানা ও ছাপাখানায় ব্যবহারের সব ধরনের উপকরণকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিচ্ছে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু বা আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে সে দেশে ভর্তুকি দেয়া হয়। ফ্রান্স নিবন্ধিত সংবাদপত্রগুলোর ওপর ছাড়হারে ভ্যাট আরোপ করে। তা ছাড়া সংবাদপত্রে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কর অব্যাহতিও দিচ্ছে। অপর দিকে, আমাদের সরকার নিয়মিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কী করে সংবাদপত্রের বিকাশকে স্তব্ধ করে দেয়া যায়। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার মতো নতুন নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারবিরোধী পত্র-পত্রিকা ও সাংবাদিক হয়রানি তো আছেই। এর ওপর আবার আরোপ করা হচ্ছে ভ্যাট-শুল্ক-করের খড়গ। একটি মিডিয়া গ্রুপের হিসাব রক্ষণ বিভাগের দেয়া হিসাব মতে, নিউজপ্রিন্ট আমদানি খাতে প্রতি মাসে গড়ে তাদের শুল্ক-কর বাবদ এখন খরচ হয় এক কেটি টাকা। আর বিজ্ঞাপনেরর ওপর ভ্যাট বসলে তাদের প্রতি মাসে গুনতে হবে কমপক্ষে আরো ৬০ লাখ টাকা। নানা ধরনের প্রিন্টিং কেমিক্যালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক-কর হিসাব করে দেখা গেছে, এতে পত্রিকার প্রকাশনা খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে পড়বে।
এতদিন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনদাতারাই ভ্যাট পরিশোধ করত। সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞাপন খাতের অর্থ দেয়ার আগে ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতো। কিন্তু আগামী অর্থবছর থেকে বিজ্ঞাপন খাতের এই হিসাব পাল্টে যাবে। আমাদের দেশে সাধারণত সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ছাপা হওয়ার দুই মাস, ছয় মাস বা তারও বেশি সময় পর এর অর্থ পত্রিকাগুলো পেয়ে থাকে। অনেক সময় বিজ্ঞাপন ছাপানোর পরও কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে যায়। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞাপন ছাপা হয় মৌখিক আদেশে। এসব কারণে বাংলাদেশের অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার নজির আছে। আগামী অর্থবছর থেকে বিজ্ঞাপন ছাপানোর পর চুক্তি অনুসারে অর্থ আদায় হোক বা না হোক, কাগজ-কলমে ওই সংবাদপত্রগুলোকে বিজ্ঞাপন ছাপাতে যে অর্থ দিতে চেয়েছে, তা আয় হিসেবে দেখাতে হবে। এরপর বিজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য যে অর্থ সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের পাওয়ার কথা, তা আদায় হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সে অর্থের ১৫ শতাংশ হারের রাজস্ব এনবিআরে জমা দিতে হবে। অন্য দিকে, সংবাদপত্রের কোন পাতায় কতটুকু বিজ্ঞাপন ছাপালে কী পরিমাণ অর্থ সংবাদপত্র পাবে, তার দরও নির্ধারণ করা আছে। আগামী অর্থবছর থেকে বিজ্ঞপন খাতে ধার্য করা রাজস্ব ধরেই যিনি বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, তিনি মূল্য পরিশোধ করবেন। সংবাদপত্র কর্র্তৃপক্ষকে বিজ্ঞাপন খাতে পরিশোধিত অর্থ থেকেই ভ্যাট দিতে হবে। সংবাদপত্র বিজ্ঞাপনের মূল্য কমাতে পারলেও বাড়ানোর স্বাধীনতা পায় না। ফলে বিজ্ঞাপন খাতে সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের প্রকৃত আয় কমে যাবে। ভুললে চলবে না, সংবাদপত্র আর দশটি পণ্যের মতো সাধারণ কোনো পণ্য নয়। সমাজ ও জাতিকে তথ্যসমৃদ্ধ করে শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি জনগণের তথ্য জানার অধিকার কার্যত নিশ্চিত করে সংবাদপত্র। তাই প্রতিটি দেশে সংবাদপত্র একটি আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। সেজন্য সংবাদপত্র শিল্পকে শুল্ক-কর-ভ্যাট ছাড় দেয়ার একটি রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারগুলো সংবাদপত্র শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক-কর আর ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে এই শিল্পকে কার্যত সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটুকু বন্ধ করে রাখে। কারণ, আমাদের দেশের সরকারগুলোর দুর্বলতার শেষ নেই। সংবাদপত্রগুলো সরকারের কোন দুর্বলতা কোন মাত্রায় কখন বের করে দেয়, সেই চিন্তায় সরকারি দলের নেতানেত্রীরা ভয়ে কণ্ঠিত থাকেন। এবারের বাজেটে সরকার অন্যান্য শিল্পের কাঁচামালের মতো সংবাদপত্র শিল্পের প্রধান প্রধান কাঁচামালের ওপর বাড়তি শুল্ক-কর-ভ্যাট বসিয়ে কার্যত সংবাদপত্রের বিকাশকেই স্তব্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে। পাশের দেশ ভারতেও নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর কোনো আমদানি শুল্ক নেই। অথচ ভারতের তুলনায় সব দিক থেকে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিউজপ্রিন্টের ওপর আমদানি শুল্ক কার্যকর রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের দেশের সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যার তুলনায় ভারতের পাঠক সংখ্যা বহু গুণ বেশি। শত বাধার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের সংবাদপত্র শিল্পের ওপর এবারের বাজেটে বাড়তি কর-ভ্যাট-শুল্ক চাপানোর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্র শিল্প এমনিতেই খুব দুর্বল। ১৬ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২০ থেকে ২৫ লাখ সংবাদপত্র বিক্রি হচ্ছে। সংবাদপত্রের বহুল প্রচারের জন্য এ শিল্প ও এর উপকরণগুলোকে পুরোপুরি ভ্যাট, শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন। তা না করে উল্টো অগ্রিম কর, ভ্যাাট ও শুল্ক বসানো হচ্ছে, যা খুবই হতাশাজনক। বাড়তি শুল্ক-কর-ভ্যাট আরোপের ফলে সংবাদপত্রের উৎপাদন খরচ বাড়বে, সংবাদপত্রের দাম বাড়বে। তখন সার্কুলেশন কমে যাবে। অনেক ছোট ও মাঝারি পত্রিকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্মী ছাঁটাই চলতে পারে মূলধারার পত্রিকাগুলোতেও। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায় হিসেবে দুনিয়ার সব দেশেই সংবাদপত্র শিল্প অন্যান্য শিল্পের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত হাসান একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করার ভ্যাট’ শীর্ষক এক লেখায় উল্লেখ করেন : ‘সংবাদপত্র মত প্রকাশের একটি বড় জায়গা, এটি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সমাজে মানুষ কী চিন্তা করছে, তার প্রকাশ ঘটবে না। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। সরকার মূলত সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চায়। এর জন্য সংবাদপত্র শিল্পের ওপর নানাভাবে ভ্যাট বসিয়েছে। সরকারের এমন ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নিন্দনীয়। সরকারের উচিত দ্রুত এ খাতের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা।
সরকার তার বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখতে চায় না। এটি সাধারণভাবে সব সরকারেরই চরিত্র। এ কারণে নানাভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বাংলাদেশের সরকারগুলো। সম্প্রতি সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন কমেছে। ই-টেন্ডার হওয়ার কারণে সংবাদপত্রে এখন ক্ষুদ্র আকারের বিজ্ঞাপন দিলেই হয়। ফলে সরকারি দরপত্রের যে বড় বড় বিজ্ঞাপন দেয়া হতো সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার সরকারি বিজ্ঞাপন রেট আর বেসরকারি বিজ্ঞাপন রেটের পার্থক্যও অনেক।’ এ দিকে এ প্রসঙ্গে প্রেস কাবের সাবেক সভাপতি ও নিউজ টুডের সম্পাদক বিশিষ্ট্য সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমে বলেছেন, বাজেটে ভ্যাট ও করের যে প্রস্তাব, তা সংবাদপত্রের আর্থিক অবস্থা আরো খারাপ করবে। অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, যদি কিছু পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সাংবাদিক কর্মচারী বেকার হয়ে যেতে পারেন। সংবাদপত্রকে অন্য পণ্যের সাথে তুলনা করে ভ্যাট আরোপ করা হবে অনৈতিক। সংবাদপত্রকে চাপের মুখে রাখার অর্থ হলো, সমাজকে বিকশিত হতে না দেয়া। গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে না দেয়া। এ কথাটি সরকারকে বুঝতে হবে। সমালোচকেরা বলেন, সরকার যা করছে তা বুঝেশুনেই করছে। আওয়ামী লীগের কোনো সরকারই গণতন্ত্রের বিকাশ চায় না, তা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। যদি আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিকাশ চাইত তবে, এক দলীয় বাকশালী ব্যবস্থা কায়েমের পদক্ষেপ নিতো না। ৫ জানুয়ারির মতো একটি অগ্রহণযোগ্য ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকার ঘো ধরতে পারত না। একইভাবে আওয়ামী লীগ সরকার কোনো কালেই সংবাদপত্রবান্ধব হতে পারেনি। পারলে সত্তরের দশকে সব ক’টি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে মাত্র চারটি দৈনিক সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রকাশের পদক্ষেপ নিত না। আর আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্রবান্ধব হলে সর্বশেষ বাজেটে এ শিল্পের ওপর বাড়তি ভ্যাট-শুল্ক-করের বোঝা তুলে দিত না। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের দমন পীড়নে নতুন নতুন আইনি হাতিয়ার নিয়ে হাজির হতো না। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী আইসিটি আইন ও এর কুখ্যাত ৫৭ ধারা প্রবলভাবে সমালোচিত হলেও, এর ব্যাপক প্রয়োগ চলছে বর্তমান সরকারের আমলে। অতি সম্প্রতি তা যেন আরো জোরদার করে তোলা হয়েছে। আসলে এ সরকরের আমলে বিরোধী দলমতের মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য চলছে কথায় কথায় মামলা। সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনীতিক, বিশ্লেষক ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে চলছে মামলা দায়েরের প্রতিযোগিতা। কখনো আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার, কখনো মানহানির, আবার কখনো রাষ্ট্রদোহের মামলা চলছে কথায় কথায়। এভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে আইনের মারপ্যাঁচে। আর এবার বাজেটাস্ত্র প্রয়োগ করে চলছে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের চূড়ান্তপ্রক্রিয়া। সমালোচকেরা বলেনÑ আসলে আওয়ামী লীগ কোনো কালেই সংবাদপত্রবান্ধব হতে পারল না।

গরুর ওপর মোদির নিষেধাজ্ঞা

ভারত হিন্দুত্বের ভিত্তিতে দাঁড়ানো ও গড়া এক রাষ্ট্র। এ কথা মনে করে করা হয়েছে যে, ‘হিন্দুত্ব’রূপী আঠা না থাকলে ২৯ রাজ্যে বিভক্ত ভারতকে এক রাখার কোনো উপায় নেই; এই ধারণাটা ভুল যদিও। ভারতের উগ্র হিন্দুসমাজ মুসলমানসমাজকে নিজের অধীনে আনা ও চাপে রাখার জন্য কী না করতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এরই আদর্শ নমুনা। ভারতে গরুর (মহিষ উট গবাদিসহ সব পশু) গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ; মানে, বেচাবিক্রি, জবাই ও খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আসল উদ্দেশ্য হলো, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের দিক থেকে আধিপত্যে থাকা সংখ্যাগুরু কমিউনিটির পছন্দসই বিধিব্যবস্থার অধীনে মুসলমান কমিউনিটিকে আনা, দাবড়ানো। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা সরাসরি নয়, জারি করা হয়েছে এক অদ্ভুত কায়দায়। কংগ্রেসের নেহরু আমলে তারা প্রথম এই কায়দাটা বের করেছিলেন। তা হলো ভারতীয় রাষ্ট্র ‘পশু-প্রেমী’ হয়ে গিয়েছিল। তারা ‘প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলিটি টু অ্যানিমেল অ্যাক্ট ১৯৬০’ পাস করে ফেলেন। শুধু তাই নয়, এই আইন বাস্তবায়নের জন্য ‘সোসাইটি ফর প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলিটি টু অ্যানিমেলস’ নামে সমিতি গড়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। ‘পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যথা বা কষ্ট দেয়ার মতো নিষ্ঠুরতা করা যাবে নাÑ এর ভিত্তিতে এই আইনটা লেখা হয়েছিল। আইনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সব জায়গায় একই কথা বলা হয় যে, ‘পশুকে অপ্রয়োজনীয় ব্যথা ও কষ্ট দেয়া রোধ’ করাই উদ্দেশ্য। আইনটি কেমন তা বোঝার সবচেয়ে ভালো এক উপায় হলো, এতে ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দ ল করতে হবে। যেমন ‘পশুর কল্যাণ, ‘পশুর ব্যথা’, ‘পশুর কষ্ট’, ‘পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা’ ইত্যাদি। অর্থাৎ বোধ বা অনুভূতিগুলো (ফলে শব্দগুলো) আসলে মানুষের। সেগুলোকে অবলীলায় পশুর ওপর প্রয়োগ করে ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছে। এখানে সবচেয়ে তামাশার শব্দ ‘পশুর কল্যাণ বা ওয়েলফেয়ার’।
১৯৬০ সালের ভারতে তো বটেই, এখনকার ভারতেও কোনো কোনো আম-মানুষের অবস্থা এমন যে, পশুর ওপর তো বটেই, আপন সন্তান বা স্ত্রীসহ পরিবারের আপন সদস্যদের ওপর ‘ব্যথা, কষ্ট বা নিষ্ঠুরতা’ দেখানো ছাড়া নিজের পেটের ভাত জোগাড়ের আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ সেই দেশে পশুর ওয়েলফেয়ার নিয়ে আইন করা হয়েছিল, চিন্তা করতে বলা হয়েছিল। আসলে আইনটি করেছিল অবস্থাপন্ন শ্রেণী। করেছিল মুসলমান কমিউনিটিকে হেয় করে দেখাতে যে, তারা ‘ব্যথা ও কষ্ট দিয়ে বা নিষ্ঠুরতা করে’ গরুর গোশত খায়। তাই এটা বন্ধ করতে হবে। এক কথায় একটা ধর্মবিদ্বেষ বা ইসলামবিদ্বেষ তৈরি করার জন্য করা হয়েছিল এটা। তবে এটা ছিল ইনডাইরেক্ট ফ্রি-কিক। কারণ এই আইনের সেকশন ২৮-এ এক ফাঁকে একটা ছাড় দেয়া ছিল। বলা হয়েছিল, ‘কোনো কমিউনিটির ধর্মীয় আচার হিসেবে বিধান মতে যদি জবাই করা হয়, পশুকে ব্যথা, কষ্ট বা নিষ্ঠুরতা দেখানো হয়, তবুও সে েেত্র এই আইন প্রযোজ্য হবে না’।  গত ১৯৬০ সালের সেই আইনের ওপরে এবং সেই আইনের সীমার মধ্যে থেকে নতুন দু’টি বিধি তৈরি করেছে মোদি সরকার। এর একটা হলো, Prevention of Cruelty to Animals (Regulation of Livestock Markets) Rules, 2017 আর Prevention of Cruelty to Animals (Care and Maintenance of Case Property Animals) Rules, 2017. সোজা বাংলায় বললে, প্রথমটা হলো পশুর হাট বা মার্কেট ভেঙে দেয়া। জবাইয়ের উদ্দেশ্যে মার্কেটে পশু কেনা অথবা বেচা যাবে নাÑ এর আইন ওটা। কারণ দেখা গেছে, প্রায় ৯০ ভাগ েেত্র জবাইয়ের গরুটা মার্কেট হয়ে আসে। তাই প্রথম আইনটার ২২ (৩) ধারায় বলা হয়েছে ‘জবাইয়ের উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য কোনো পশু কোনো মার্কেটে তোলা, কেনাবেচা করা যাবে না’। একই কথা ‘রেজিস্ট্রেশনে শপথ করে বলতে হবে’ ইত্যাদি তো আছেই। হাটে পশু উঠবে, রেজিস্ট্রেশন হবে, কানে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লাগবে, কেনাবেচা হবে; তবে তা কেবল পশু কৃষিকাজের ব্যবহারের উদ্দেশ্য। দুর্বল গরুও গোশতের জন্য কেনাবেচা করা যাবে না। এমনকি পশু মারা গেলে বা অসুস্থ হয়ে মরা অথবা আয়ু শেষে মরা যা-ই হোক, সব েেত্রই মরা গরু একেবারে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। মরা গরুর বা মারা গরুর চামড়া ছিলানো যাবে না। হাড়গোড়সহ কোনো অবশেষই সংগ্রহ ও বিক্রি করা যাবে না। চামড়াও বিক্রি করা যাবে না। এই হলো মোটা দাগে আইনটি সম্পর্কে ধারণা দেয়া যেখানে দেখা যাচ্ছে শুরু থেকেই এই আইনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবোধক। ফলে কথাটা এভাবে বলা যায়, ‘পশুর উপর নিষ্ঠুরতা ঠেকানো’র নামে কংগ্রেস আমলেই মুসলমানের প্রতি বৈষম্যটা করা হয়েছিল, কিন্তু দুর্বলভাবে। আর সেটাকেই এখন সবলভাবে করতে চাইছেন বিজেপি-আরএসএসের নেতা মোদি। গত ২৩ মে গেজেটেড বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন আইন সম্পর্কে মোদি সরকার সবাইকে জানিয়েছে। আর এই আইন সেই পুরনো আইনের ওপর দাঁড় করিয়ে কংগ্রেসকেও বেকায়দায় ফেলতে পেরেছেন, যাতে কংগ্রেস মোদির সমালোচনা করতে গিয়ে থেমে যায়। কারণ তাতে ১৯৬০ সালের নেহরুকেই সমালোচনা করা হয়ে যায়। আবার ‘পশুর ওপর নিষ্ঠুরতা ঠেকানো’র নামে এবার সবলভাবে ইসলামবিদ্বেষটা মোদি সফলভাবে দেখাতে পারেন। তবে আরো কারণ আছে। এত দিন গরু জবাই দেয়া, বেচাকেনা ও খাওয়া সম্পর্কে যেসব খবর আমরা শুনে আসছিলাম তা কেন্দ্রীয় বা মোদি সরকারের কোনো আইন ছিল না। এমনকি ২০১৫ সালে মোদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশের সীমান্তে এসে বিএসএফকে ‘বাংলাদেশের গরু খাওয়া বন্ধ করা’র যে তাতানো বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটাও আসলে মন্ত্রীর অনধিকারচর্চা ছিল। কারণ গরু জবাই বন্ধ করা কেন্দ্রের বা রাজনাথদের মন্ত্রিসভার কোনো আইন ছিল না, আবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারেরও কোনো আইন ছিল না এ নিয়ে। তবে দুই বছর আগে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেখানে এ আইন পাস করা হয়েছে। তা সবচেয়ে বেশি প্রচার পেয়েছিল বা বিজেপি প্রচার করেছিল। তবে এবার প্রথম কেন্দ্রীয় আইন জারি করা হলো। কিন্তু বিভিন্ন অ-বিজেপি রাজ্য থেকে বিরোধিতা প্রবল হয়ে উঠেছে। কৃষিকাজ সংশ্লিষ্ট এই বিষয় ‘রাজ্যসরকারের এখতিয়ার’ এমন দাবি বা এই প্রশ্ন উঠিয়েছে কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ। মমতা ব্যানার্জি এই আইনকে কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্য রাজ্যকেও তারা আপত্তি তোলার আহ্বান রেখেছিলেন। শেষে গত ২ জুন ‘মোদির সেনাপতি’ অরুণ জেটলি বলেন, ‘নতুন বিজ্ঞপ্তি রাজ্যসরকারের এখতিয়ারে হস্তপে নয়।’ দৈনিক আনন্দবাজার এই কথার অর্থ করেছে, ‘গবাদিপশু জবাইয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাজ্যের হাতেই থাকছে’। মোদির খাস লোক তার অর্থমন্ত্রী জেটলির মন্তব্যের একটা ব্যাখ্যা আনন্দবাজার হাজির করে বলছে, ‘এখন কেন্দ্রের প থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতে রাজ্যের আইনে হস্তপে হচ্ছে না। এটি শুধু গবাদিপশুর কেনাবেচার স্থানসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। কৃষকেরা গবাদিপশু শুধু বাজারে বেচতে পারবেন নাকি বাজারের বাইরে থেকেও কেনা যাবে, বিজ্ঞপ্তি শুধু সেটি নিয়েই। কিন্তু তাদের জবাই করার জন্য রাজ্যের আইনই বলবৎ থাকবে’। কিন্তু আইনগত দিক থেকে মোদির এই আইন কি আদালতে টিকবে, নাকি কনস্টিটিউশনের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে বাতিল হয়ে যাবে? গুজরাটের হাইকোর্টের (ময়ূর) বিচারপতি গোমূত্র পানে ও প্রশংসায় বেহুঁশ, তা আমরা জেনেছি। কিন্তু শক্ত তর্ক উঠেছে দেিণ তামিলনাড়–তে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চে। সেখানকার রিট পিটিশনের পয়েন্ট খুবই শক্তিশালী। যেমন তারা বলছেন, নতুন আইনটা প্যারেন্ট আইনের বাইরে যেতে পারে না। ১৯৬০ সালের আইনে যেকোনো কমিউনিটির ধর্মীয় শরিয়ত বা রিচুয়াল হিসেবে পশু কেনাবেচা, কোরবানি এবং গোশত খাওয়ার ওপরে এই আইন প্রযোজ্য নয় বলা হয়েছিল। কাজেই এখন কেন্দ্রের কোনো এখতিয়ার নেই সেটা লঙ্ঘন করার। এ ছাড়া ভারতীয় কনস্টিটিউশনে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারবিষয়ক ২৫ ধারায় ‘অবাধে ধর্মপালন নাগরিকের অধিকার’ এবং ২৯ ধারায় ‘সংখ্যালঘুর স্বার্থরা’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই দুই অধিকারই মোদির নতুন আইনে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর একটা পয়েন্ট আনা হয়েছে তা হলো, ভারতীয় কনস্টিটিউশনের অনুচ্ছেদ ১৯ (১)(জি) অনুসারে কোনো পেশার লোককে বেকার করে দেয়া যাবে না। এখানে কসাইসহ চামড়া ইত্যাদির প্রক্রিয়াজাত করা যাদের পেশা তাদেরকে কাজ-পেশাহীন করে দেয়া হয়েছে। ফলে এটাও অভিযোগের একটি জোরালো যুক্তি। ওদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও একটা জনস্বার্থ বা পাবলিক লিটিগেশনের মামলা হয়েছে। সেখানেও একটা বাড়তি পয়েন্ট হলো, পুরনো আইনের ১১ অনুচ্ছেদ। সেখানে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে পশু জবাইকে খাদ্য জোগাড় হিসেবে দেখা হয়েছিল, নিষ্ঠুরতা হিসেবে দেখা হয়নি। তবে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া ও নিষ্ঠুরতা না করা সাপেে তা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১১ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেছেন আর সরকারকে জবাব তৈরি করে আসতে বলেছেন। এই মামলার বাদি হলো হায়দরাবাদের এক এনজিও, বাদির দাবিÑ মোদির দুই নতুন আইন অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিতে হবে। তবে আগেই বলেছিলাম মোদির আইনে ‘পশুর ওয়েলফেয়ার’ কথাটার বিষয়। এক ধরনের ওয়েলফেয়ার সংগঠনের কথা আইনে অনেকবার রেফার করা হয়েছে। আর এটাই হলো আরএসএসের লোকাল ‘পশুর ওয়েলফেয়ার কমিটি’ যাদের হাতে পশু ব্যবসায়ীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, এরা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং তারা পাবলিক লিঞ্চিং বা প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। আশা করা যায়, এ বিষয়গুলোও আদালত আমলে নেবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, মোদির আইন দু’টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি তা হয়, তবে এটা ভারত রাষ্ট্রকে আয়ু দেবে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

দুই অর্থবছরে বিমানের লাভ ৬শ’ কোটি ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা : মেনন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বিগত ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬শ’ কোটি ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লাভ করেছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য সফুরা বেগমের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান লাভ করেছে ৩২৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লাভ করেছে ২৭৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। রাশেদ খান মেনন বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ পর্যনÍ ২৬টি অর্থবছরে বিমান লাভ করেছে ১২ অর্থবছর এবং লোকসান দিয়েছে ১৪ অর্থবছরে। এরমধ্যে ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে বিমান লাভ করেছে ৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে লাভ করেছে ৬৯ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার টাকা, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে লাভ করেছে ৭০ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে লাভ করেছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে লাভ করেছে ৩৪ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে লাভ করেছে ১৬ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে লাভ করেছে ১৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা,
২০০৩-০৪ অর্থবছরে লাভ করেছে ৩৪ কোটি ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে লাভ করেছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে লাভ করেছে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লাভ করেছে ৩২৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লাভ করেছে ২৭৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বিমান যে ১৪ অর্থবছরে বিমান লোকসান দিয়েছে এর মধ্যে ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ২৭ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৮১ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৪৪ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ২০০০-০১ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৯৩ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০০১-০২ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৭৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০০২-০৩ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৪৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৪৫৪ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ২৭২ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার টাকা, ২০০৯-১০ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৪৬ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ২২৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৫৯৪ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ২৮৫ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ২৮৫ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার টাকা। বাসস

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ছয় শতাধিক সদস্যের অংশগ্রহণে ডিএসইসি'র (ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল) ইফতার অনুষ্ঠান রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ডিএসইসি'র ছয় শতাধিক সদস্য ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও জাগো বাংলা গ্রুপের চেয়ারপারসন অনন্যা হক। ডিএসইসি'র সভাপতি মো. এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি মীর মোসতাফিজ আহমদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, ইত্তেফাকের সাবেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আবদুল বারী, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান রিজভী, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক এম এ মান্নান মিয়া, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক আরিফ আবেদীন জিসান, কার্যনির্বাহী সদস্য হেমায়েত হোসেন, সিকান্দার ফয়েজ, মোমেনা আক্তার পপি, এম এম সালাউদ্দিন, রোকসানা ইভা, মাসউদ-বিন আব্দুর রাজ্জাক, ফারহানা আক্তার, সাবেক সহসভাপতি নোমান সালমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন টেলিভিশনে ইসলামী আলোচক ও বিশিষ্ট লেখক-গবেষক প্রিন্সিপাল মো. জহিরুল হক বশির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যসহ ডিএসইসি'র ছয় শতাধিক সদস্য। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ, এএসটি বেভারেজ লি. ও ইউনাইটেড মিনারেল ওয়াটার অ্যান্ড পিইটি ইন্ডা. লি.। বিজ্ঞপ্তি

সরকারের নির্দেশেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা : রিজভী

আওয়ামী সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতৃবৃন্দের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এক অজানা ভয় থেকে আওয়ামী লীগের মনস্তাত্বিক আবহাওয়া বদলে গেছে। পতনের আশঙ্কায় তারা উদ্ভ্রান্ত গুন্ডামিতে নেমে পড়েছে। গুন্ডামির এই নবসংস্করণ জনসমর্থন ছাড়া দুঃশাসন টিকিয়ে রাখারই ইঙ্গিতবহ। গণতন্ত্রের সর্বশেষ অস্তিত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার জন্যই এটি একটি সহিংস আগ্রাসী পদক্ষেপ। এরা বিরোধী দলের মানবকল্যানধর্মী সমাজসেবামূলক কর্মসূচিকেও বানচাল করতে হিংস্রআক্রমণ চালায়। এখন সবকিছু হারিয়ে আওয়ামী লীগ শেষ ভরসা হিসেবে গুন্ডা রাজত্ব কায়েম করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক ভদ্রতার নিয়ম-কানুন মানা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যে নেই। তারা সন্ত্রাস আর গুন্ডামীকেই নিজেদের জীবনে-আচরণে-কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। আওয়ামী-রাষ্ট্র সমালোচনা ও বিরোধী দলের গণতন্ত্রস্বীকৃত তৎপরতাকে স্তব্ধ করে দেয়া বাধ্যতামূলক কর্মসূচি বলে মনে করে। সম্প্রতি পাহাড় ধ্বসে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানববিপর্যয়ে বিপন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা নেতৃবৃন্দের ওপর আকস্মিক আক্রমণ চালায়। গাড়ীবহরের ওপর সন্ত্রাসীরা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষিপ্ত করতে থাকে, ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়ীগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।
এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তার সফরসঙ্গী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: মীর ফাওয়াজ হোসেন শুভ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বকরসহ প্রায় ১৫ জন আহত হন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুনরুজ্জীবিত ও বহুব্যাপী সন্ত্রাসের আরেকটি বিপজ্জনক মাত্রা দৃশ্যমান হলো। রিজভী বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-আওয়ামী সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। পতনের আশঙ্কায় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের তকমাধারী আওয়ামী লীগ নিরপরাধ, নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং লুট আর দখলবাজী অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে মারছে। জনগণের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক যেন সতীনের সংসারের মতো। আওয়ামী লীগ জনগণের ঘোর বিরোধী। দেশের জনগণের প্রতিই যেন আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা। তাই জনগণ কী ভাবলো-সেটিকে তারা পাত্তা দেয় না এবং সেজন্যই অবিরাম দুষ্কর্ম চালাতে এদের কোনো চক্ষুলজ্জা হয় না। জনগণের সাথে এদের বিবাদ ঐতিহাসিক। গণতন্ত্রকে এরা বাক্সবন্দি করে একদলীয় বাকশাল গঠন বারবার জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের প্রকোপ এখন বিপজ্জনক রুপ ধারণ করেছে। প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলসমূহ, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ, নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিবর্গ, মুক্তচিন্তার লেখক, বিবেকবান সাংবাদিক সবাই শেখ হাসিনার চরম রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত উর্দ্ধগতিতে মানুষের জীবন এখন অত্যন্ত শীর্ণ, শুণ্য, শ্রীহীন। সেজন্য জনগণের ভিত্তিতলে ভয় ও শঙ্কার ডিনামাইট স্থাপনের মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার টিকে থাকতে চায়। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, নির্বাচন আসার আগেই গুন্ডামী ও সন্ত্রাসকে যেভাবে প্রজনন করা হচ্ছে তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হলে অবাধ-সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কী শোচনীয় বিপর্যয় ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়। সেই নির্বাচন হবে একতরফা, সন্ত্রাসকবলিত। ভোটের দিন ও এর পূর্বাপর অবস্থা চরম অরাজকতায় ঢেকে থাকবে। তাই আমরা দ্বিধাহীন কন্ঠে বলতে চাই-শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না।
বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। যারা প্রাকৃতিক মহাদুর্যোগে নিপতিত উপদ্রুত অসহায় মানুষকে ফেলে নির্বিঘ্নে বিদেশ সফর করতে পারে তারা সবকিছুই করতে পারে। গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা : রিজভী বলেন, গতকালের ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিবাদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে একটি মিছিল বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কিছুদুর অগ্রসর হলে পুলিশ চারদিক থেকে মিছিলটির ওপর হামলা চালায় এবং বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। মিছিল থেকে পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক বাবলু, মুন্না, মতিঝিল থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিনসহ ৫/৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। একই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল নাটোরে অনুষ্ঠিত মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে নাটোর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম টিটনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশ নাটোর বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশীর নামে তান্ডব চালাচ্ছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশ কর্তৃক এই ন্যাক্কাজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির ইফতার মাহফিল, নেত্রকোণায় ইফতার মাহফিলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ইফতার মাহফিল পন্ড করে দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান রিজভী।

রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজন নিহত

রাজধানীর চকবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।  নিহত তিনজন হলেন আমেনা (৫৫), তাঁর পুত্রবধূ শিরিন (৩০) ও শিরিনের চার বছর বয়সী মেয়ে আফরিন। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে চকবাজারের পশ্চিম ইসলামবাগের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক শফিউল আজম এই অভিযোগপত্র আমলে নেন। আগামী ৯ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করা হয়েছে। এর আগে ৮ জুন এ ধর্ষণ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। শাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তাঁর দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

দুর্গম পাহাড় থেকে মুসা ইব্রাহিমকে উদ্ধার

দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ছয় দিন ধরে আটকা থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশের পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহিমকে। মুসা এবং আরো কয়েকজন অভিযাত্রীর একটি দল ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে মাউন্ট কার্স্টেনজ পিরামিড শৃঙ্গ আরোহণ করতে গিয়ে পথেই আটকা পড়েন। রোববার তাদের উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার গিয়েও আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তবে কয়েকঘণ্টা পর আবারো উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয় এবং বাংলাদেশ সময় ভোর রাতে তাদের উদ্ধার করে ইন্দোনেশিয়ার টিমিকা এয়ারপোর্টে নিয়ে আসা হয়। টিমিকা এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর নিজের ফেসবুক পেজে মুসা ইব্রাহিম লিখেছেন, "মাত্রই টিমিকা এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম। আল্লাহ মহান। আমরা নিরাপদে ফিরে এসেছি। দেখা হবে ইনশাল্লাহ।" পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও তার ফেসবুক পাতায় ভোর রাতের দিকে মুসা এবং তার একজন সঙ্গীর নিরাপদে ফেরার খবর উল্লেখ করে লেখেন, "এইবার আমি ঘুমাতে গেলাম। তাদের আর মিনিট দশেক লাগবে সমতলে পৌঁছাতে। সবাই ভালো থাকুন।" মুসা ইব্রাহিম বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পর্বতারোহী যিনি এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। মুসা ইব্রাহিম আটকা পড়ার খবরে এর আগে যোগাযোগ করা হলে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আজমল কবির বিবিসি বাংলাকে জানান, মুসা ইব্রাহিম এবং তার সহযোগী অভিযাত্রীদের সাথে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে আসছিলেন। তবে রাষ্ট্রদূত আজমল কবির বলেন, মুসা ইব্রাহিম অভিযানে যাওয়ার আগে তাদেরকে জানিয়ে যাননি। কেনিয়া থেকে তার বোন টেলিফোন করে দূতাবাসকে তার আটকে পড়ার খবর দেন। সূত্র : বিবিসি

কাতারে পৌঁছেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী

তুরস্কের সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাদলটি অবরুদ্ধ কাতারে পৌঁছেছে। রোববার কাতারের তারিক বিন জিয়াদ সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদলটি এক যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। উভয় দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া উপলক্ষে তুরস্কের সেনারা কাতারে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার। দুই দেশের সামরিক শক্তি বাড়ানো, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে কাতারে সেনা মোতায়েন ও সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ প্রদান সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম পাঠিয়েছিল তুরস্ক। ২০১৫ সাল থেকেই তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে সামরিক সফর একটি নিয়মিত বিষয়। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে কাতার ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির এক চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে জানিয়েছে কাতার কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের ৫ তারিখে সৌদি আরবের নেতৃত্বের দেশগুলো কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন শুরু করলে সর্বপ্রথম তুরস্কই দোহার পাশে থাকার ঘোষণা দেয়। কাতারের সংকট সমাধানের জন্য বরাবরই চেষ্টা করে আসছে আঙ্কারা।

ফরাসি পার্লামেন্টে ম্যাক্রোঁর নিরঙ্কুশ জয়

ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল এর দল। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৫৭৭ আসনের জন্য লড়াই করে ম্যাক্রোঁর দল পেয়েছে ৩ শতাধিক আসন। ম্যাক্রোর দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৩০০ টিরও বেশি আসন পাওয়ার পাশাপাশি  তার জোটসঙ্গী মোডেমের প্রার্থীরা জিতেছে আরও ৪০টি আসনে। এ নিয়ে ম্যাক্রোঁর দল ইতোমধ্যে ৩৪০ টিরও বেশি আসনে জয় পেয়েছে। গত ১১ জুন প্রথম দফার ভোটের ফলাফলে মাত্র চার আসনের প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট পান। রীতি অনুযায়ী ওই ৪ আসন বাদ রেখে বাকী আসনগুলোতে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো করেই পার্লামেন্টের ভোটও অনুষ্ঠিত হয় দুই দফায়। কেউ যদি প্রথম দফাতেই ৫০ শতাংশের বেশি পরিমাণ ভোট পায়, তবে প্রথম দফার ভোটেই তিনি পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। আর যেসব আসনে কোনও প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট পাবেন না সেসব আসনের শীর্ষ দুই বিজয়ীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়াই হয়। প্রথম দফার নির্বাচনে ম্যাক্রোঁর দল এলআরইম এবং মোডেম এ দুটি দল একসঙ্গে ৩২.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। মধ্যম ডানপন্থী রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২১.৫ শতাংশ ভোট। ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে একটি দলকে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসন পেতে হয়। জনমত জরিপগুলো আভাস দিয়েছিল, নির্বাচনে ম্যাক্রোঁর দল এলআরইএম ৭৫-৮০ শতাংশ আসনে জয় পাবে। অর্থাৎ পার্লামেন্টে ৪০০টিরও বেশি আসন পাবে তারা। জরিপের আভাস সত্যি হয়েছে। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৫৭৭ আসনের মধ্যে ম্যাক্রোঁর দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ ৩০০ টিরও বেশি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে,  তার জোটসঙ্গী মোডেমের প্রার্থীরা জিতেছে আরও ৪০টি আসনে। এ নিয়ে ম্যাক্রোঁর দল ইতোমধ্যে ৩৪০ টিরও বেশি আসনে জয় পেয়েছে।

পুলিশে সোপর্দের পর ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. সেলিম মিয়া (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সে সরাইল উপজেলার মালিহাতা গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে। সোমবার ভোররাতে উপজেলার বেড়তলা এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। পুলিশের দাবি, নিহত সেলিম ডাকাত দলের সদস্য। তাকে নিয়ে সহযোগীদের খোঁজে অভিযানে গেলে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ সে মারা যায়। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপক কুমার সাহা জানান, সোমবার ভোর রাতে বেড়তলা এলাকার লোকজন সেলিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ডাকাত সেলিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে তাকে নিয়ে বেড়তলা এলাকায় সেলিমের সঙ্গীদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। ওসির দাবি, এসময় সহযোগীদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই সেলিম নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পাইপগান, আট রাউন্ড খালি কার্তুজ, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি গ্রিল কাটার ও চারটি বর্শা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে সেলিমের সহযোগী কাউকে আটক করা যায়নি। ওসি জানান, নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেলার বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া অনুমোদন


জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

খিলক্ষেত বাজার ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

জলাধার ভরাটের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন খিলক্ষেত বাজার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা। অবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও মুক্তি মেলেনি তাদের। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে পানিবন্দি অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় সকাল ১১টা থেকে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ যাবত খিলক্ষেত বাজার, মধ্যপাড়া, আমতলাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসা-বাড়ির বাসিন্দারা পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। এদিকে সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দোকানপাট ও একতলা ভবনের বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে নোংরা পানিতে। নষ্ট হয়েছে দোকানপাটের পণ্যদ্রব্য। এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন। তারা জানান, পুলিশ আবাসন এলাকার নামাপাড়া বড়ুয়া খালে পানি নামার পথ ভরাট করে ফেলায় বৃষ্টির পানি নামছে না। এছাড়া তিনশ' ফিট সড়কের পাশের খাল ও মেট্রোরেল প্রজেক্টের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। অবস্থার পরিবর্তনে দ্রুত এসব জলাধার দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ম্যানহোলসহ ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ ঠিক করার দাবি তাদের। এর আগে গত বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

রাজধানীতে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৩

রাজধানীর লালবাগের পশ্চিম ইসলামবাগে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে এক শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বাসার পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরিত হয়ে ওই বাসাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শারমিন (৪৫), শিরীন (৩৫)ও শিরীনের মেয়ে আফরিন (১১)। ঘটনার পর এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া ঘটনাটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সাফাতসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ঢাকার ২নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শফিউল আজম অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শুনানির জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত ১২ জুন একই আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। গত ৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম দোলোয়ার হোসেনের আদালতে সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক ইসমত আরা এমি।
অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ৪৭ জনকে। এরপর ১২ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম হাফিজুর রহমান মামলাটি ঢাকার দুই নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী মামলাটির নথি ঢাকার দুই নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই দিনই পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর এই মামলার অভিযোগ গঠনে ১৯ জুন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন- আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী। প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে সাফাত আহমেদ তার জন্মদিনে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে দাওয়াত দিয়ে হোটেল কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠে। এরপর ঘটনার ৪০ দিন পর ৬ মে সন্ধ্যায় ধর্ষিত এক ছাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাফাতসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ফখরুলের গাড়িবহরে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি খালিদ মাহমুদের

রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার টাইমলাইনে লিখেন, 'রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি করছি।' এ ঘটনায় বিএনপির আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপানোর সমালোচনা করে তিনি লিখেন, 'দুঃখজনক হলেও সত্য যে, হামলার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিল; কিন্তু বিএনপি তাদের দুঃশাসনের কাহিনী ভুলে গেছে।' খালিদ মাহমুদ বলেন, 'বিএনপির পক্ষে সবই সম্ভব। যে দলটির প্রধান নিজের স্বামী আর ছেলের জানাজা নিয়ে রাজনীতি করে, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, খুনী ও মানবতাবিরোধীদের পক্ষ নেয়, দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দেয়, প্রতিপক্ষকে নিঃশেষ করতে জর্জ মিয়া নাটক সাজায়, চিকিৎসার নামে বিদেশে পলাতক থাকে, দেশে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস হলে; জিনিসপত্রের দাম বাড়লে খুশি হয়- তাদের মুখে গণতন্ত্র! রোববার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার শিকার হয় বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহর। রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী হাসপাতালের সামনে সংগঠিত এ হামলায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয় নেতা আহত হন। হামলায় আহতরা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহবধূ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক জিয়াউর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- শিবগঞ্জ উপজেলার জীবন, কেতাব, আলমগীর, নুরুল ইসলাম ও জেনারুল ডাক্তার। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া মামলার অপর ৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বাখরআলী বিশ্বনাথপুর এলাকার মনিরা বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে আসামি জীবন ওরফে বাবু বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে। পরে জীবন তার সহযোগী অপর আসামিদের সহায়তায় বিশ্বনাথপুর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে মনিরা বেগমকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরের দিন দুপুর ২টার দিকে পুলিশ ওই স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত মনিরার মা সুলেখা বেগম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমান শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেললাইন রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ায় পাহাড় ধসে রেললাইনে মাটি পড়ে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী  কালনী এক্সপ্রেস কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে। পরে রেলওয়ের একটি টিম দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে লাইনটি সচল করে বলে যুগান্তরকে জানান শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো. জাফর আলম। তিনি বলেন, আমাদের টিম দীর্ঘ চার ঘণ্টা কাজ করে লাইনটি সচল করতে সক্ষম হয়েছে। এখন সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

স্ত্রী নির্যাতনকারী কলেজ শিক্ষক জেল হাজতে

যৌতুকের জন্য আইনজীবী স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করায় কলেজ শিক্ষক স্বামী মুসলিম সরদার মিশুকে শনিবার রাতে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয়রা। এরপর তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালিউল্যাহ ওলি জানান, স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা মুসলিম সরদার মিশুকে আটক করে থানায় খবর দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে আসি। রোববার ওই শিক্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিতা স্ত্রী অ্যাড. কুলসুমা বেগম। পরে রোববার বিকালে আটককৃত শিক্ষক মুসলিম সরদার মিশুকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি। প্রসঙ্গত, মুসলিম সরদার মিশু চাঁদপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি শিক্ষক। তার বিভাগের ৩ ছাত্রীকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় লালমনিরহাট পাটগ্রাম জসমুদ্দিন সরকারি কলেজে। লালমনিরহাট থেকে চাঁদপুর আসার জন্য মিশু তার স্ত্রী অ্যাড. কুলসুমা বেগমের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ টাকা না দেয়ায় শিক্ষক মিশু চাঁদপুরের ষোলঘরস্থ ভাড়া বাসায় স্ত্রীর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় দু’দফা নির্যাতন চালায়। নির্যাতিত স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে ভাইরালও হয়।

রাতে চা পানে লিভার থাকবে সুস্থ!

হার্টের পরই লিভার (যকৃৎ) শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ। লিভার শরীরে বিপাকে কাজ করে। এটি রক্ত পরিষ্কার করে আমাদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অঙ্গটিই আমাদের শরীর থেকে সব ময়লা বের করে দেয়। লিভার শরীরকে দূষণমুক্ত করে, কিন্তু এটাকে দেখার জন্য কেউ নেই। তাই তো এই অঙ্গটিকে সচল ও সুস্থ রাখতে আমাদের একটু বেশি সচেতন হওয়া উচিত। রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় লিভার আমাদের শরীরে কাজ করে। আর তাই তো সবার রাতে ভালো ঘুম হওয় জরুরি। আর চিকিৎসকরাও এ ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে লিভারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালকোহল সেবনকারী এবং স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে লিভার  অকার্যকর (ফেইলিউর) হওয়ার ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ। শুধু বড়রা লিভার রোগে আক্রান্ত হন তা কিন্তু নয়, শিশু-কিশোররাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই সবার শরীরের দূষিত পদার্থ বের করতে অঙ্গে পর্যাপ্ত পানি মজুত থাকা প্রয়োজন। শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মতো পানি তো অবশ্যই খেতে হবে, সেই সঙ্গে লিভারকে ডিটক্সিফাই করে সুস্থ রাখতে রাতে বিশেষ কিছু পানীয় পান করা যেতে পারে। কারণ পানীয় লিভারকে দূষণমুক্ত করে। ফলে সার্বিকভাবে শরীরও ভালো থাকে। তাহলে আসুন লিভার সুস্থ রাখে এমন কয়েকটি পানীয়র নাম জেনে নিই;
লেবু-পানি : লেবুপানিতে ভিটামিন সি ও নিউট্রিয়েন্টস থাকে। এটি এ্যানার্জি বাড়ায়। তাই এই পানীয় যদি রোজ রাতে শোয়ার আগে পান করা যায় তাহলে লিভার পরিষ্কার থাকে।
ক্যামোমিল চা : এই চায়ে প্রচুর পরিমাণে সেসকুইটারপেন ল্যাকটোন নামে এক ধরনের উপাদান আছে, যা লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
লোটাস-চা : স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমানোর পাশাপাশি লিভারকে ভালো রাখতে দারুন কাজ করে লোটাস-চা।
গোলাপ-চা : এই চা রোজ পানে লিভার তো ভালো থাকেই, সেই সঙ্গে স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশন কমিয়ে রাতে চোখে ঘুম এনে দেবে।
পিপারমিন্ট-চা : রাতে ঘুমানোর আগে এই চা পানে যেমন হজম শক্তি বাড়ে, তেমনি লিভারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
বেরি-চা : এই চা শরীরে ক্ষতিকর বিষাক্ত রক্ত বা টক্সিন বের করে অথবা বের করে দেয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে।
যবের-চা : এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন থাকে। তাই এই বিশেষ ধরনের চা নিয়মিত পান করলে লিভারও সুস্থ থাকে।

কোহলিদের পোস্টারে আগুন, হাতে উঠলো 'কমোড কাপ'!

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ আগেই চড়েছিল সপ্তমে। ম্যাচের ভবিষ্যত পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরাই এবারো কাপ ঘরে তুলবে। তবে তা আর হলো কই। তারুণ্য নির্ভর পাক ক্রিকেট চমকে দিয়েছে কোহলি, ধোনি আর যুবরাজদের। ১৮০ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপে হারের বদলা নিলেন সরফরাজ-ফখররা। এদিকে কাপ হাতছাড়া হয়েছে বিরাটের। মন ভেঙেছে কোটি কোটি ভারতবাসীর। এর মধ্যেই অবশ্য মজা করতে ছাড়ছেন না কেউ কেউ। হারের পর শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরাট, জাদেজা ও ভারতীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে ট্রল। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ট্রলে ট্রফির বদলে বিরাটের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে কমোডের মতো তৈরি একটি কাপ। এছাড়া পাণ্ডিয়ার আউট নিয়েও রয়েছে ট্রল। হাসাহাসি হয়েছে বুমরাহ, জাদেজা সহ অন্যান্য ক্রিকেটারদের নিয়েও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল ছড়াও ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা খেলোয়াড়দের বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ করেছেন। কানপুর, হরিদ্বারে হতাশায় টিভি সেট ভাঙচুর করেছেন টিম ইন্ডিয়ার ভক্তরা। বিক্ষোভে ভারতীয় খেলোয়াড়দের ছবিতে আগুন ধরানো হয়। এদিকে উত্তেজিত জনতা যাতে টিম ইন্ডিয়ার সদস্যদের বাড়িতে হামলা করে না বসে সে জন্য বিরাট-ধোনিদের বাড়ির সামনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

পর্তুগালে দাবানলে নিহত ৬২

পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলে দাবানলে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা। নিহতদের অধিকাংশই শনিবার রাজধানী লিসবন থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং কোয়িমব্রা থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পেদ্রোগাও গ্রান্দি এলাকার রাস্তা দিয়ে গাড়িযোগে যাওয়ার সময় দাবানলের কবলে পড়েন। তারা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বলে জানিয়েছে পর্তুগাল সরকার। গত এক দশকের মধ্যে দেশটিতে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। ভয়াবহ এ দাবানলে আরও ৫৯ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন দমকল কর্মী এবং একজন ৮ বছরের শিশু রয়েছে। ৬ দমকল কর্মীর অবস্থা গুরুতর। দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একটি ভয়াবহ ও খুবই দুঃখজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম আমরা।
প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।’ এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ গোমেজ জানান, ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়, তাদের লাশ গাড়ির পাশেই পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ১৭ জন নিজেদের গাড়িতেই মারা যান। তীব্র তাপ ও প্রবল বাতাসের কারণে শনিবার বিকালের দিকে দাবানল তীব্র হয়ে উঠতে থাকে। স্থানীয় ঘরবাড়িসহ চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সেই আগুন। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১ হাজার ৭০০ দমকল কর্মী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে রোববার ভোরে স্পেন থেকে জল নিয়ে দুটি উড়োজাহাজ যোগ দিয়েছে। বনে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনও জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণও করা যায়নি। ইতিমধ্যেই বনে লাগা এই আগুন গত কয়েক দশকের মধ্যে পর্তুগালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলে পরিণত হয়েছে। রোববার পর্তুগালের তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে। পেদরোগাও গ্রাড্রির মেয়র ভারদেমার আলভেস বলেন, ‘পর্তুগালের এ অঞ্চলে অধিক বনাঞ্চল থাকার কারণে এটি দাবানলের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এ বিবেচনায় এ ঘটনাকে আমরা ট্র্যাজেডি বলে অ্যাখ্যা দিতে পারছি না। তবে এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্বিত।’

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয়ের আশা ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রোববার সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়ার আশা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গত রোববারের প্রথম পর্বের ভোটের ফলাফলে শীর্ষে থাকা প্রার্থীরা দ্বিতীয় পর্বের এই ভোটে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম পর্বের ওই ভোটে ম্যাক্রোঁর দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ (এলআরইএম) এবং তাদের শরিক দল মোডেমের প্রার্থীরা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম দফার ফল ও জনমত জরিপের ভিত্তিতে এমন ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসির। পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সরাসরি বিজয়ী হয়েছেন মাত্র ৪ জন প্রার্থী। তাই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বাকি আসনগুলোর বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রথম দফার নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রথম দুই জন এবং নিবন্ধিত ভোটারদের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশের ভোট পেয়েছেন এমন প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দফায় ম্যাক্রোঁর এলআরইএম ও মোডেম ৩২.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ২১.৫ শতাংশ ভোট। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মেরিন লি পেনের উগ্রডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট পেয়েছে ১৩.২ শতাংশ ভোট। কোনো দল ২৮৯ আসন পেলেই ৫৭৭ আসনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেখানে এলআরইএম ৪০০-এর বেশি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাপক এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জোরালো সম্ভবনার মুখে ম্যাক্রোঁ আশা করছেন, নির্বাচনের পর কাক্সিক্ষত সংস্কার কার্যক্রম বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন। ৩৯ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁর এলআরইএম দলের বয়স মাত্র এক বছর। পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের অর্ধেকেরও বেশির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। দলটির প্রার্থী তালিকায় একজন বুলফাইটার, রুয়ান্ডার এক শরণার্থী ও একজন গণিতবিদও আছেন।

ক্ষমতা কমল সৌদি যুবরাজের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে অব্যাহতি

ক্ষমতা কমানো হয়েছে সৌদি যুবরাজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়িফের। দেশটির বিচারব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ একটি রাজকীয় ডিক্রি জারি করেছেন। নতুন এ ডিক্রি অনুযায়ী অপরাধমূলক তদন্ত বিভাগ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রসিকিউশনের দায়িত্ব থেকে ক্রাউন প্রিন্সকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ক্রাউন প্রিন্স। খালিজ টাইমস এ খবর দিয়েছে। শনিবার দেশটির ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রসিকিউশনের নাম পরিবর্তন করে অফিস অব পাবলিক প্রসিকিউশন রাখা হয়েছে। নতুন নামের প্রতিষ্ঠানটিতে একজন সরকারি কৌঁসুলিও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত কৌঁসুলিকে সরাসরি বাদশার কাছে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতদিন বাদশা সালমানের ভ্রাতুষ্পুত্র ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাইফ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রসিকিউশন তদারক করতেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মনোনয়নও করতেন তিনি। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাইফ বর্তমানে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এতদিন আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রসিকিউশন। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধান করে থাকে। এ পর্ষদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল- অপরাধ তদন্ত, মামলা দায়ের, আদালতের রায়ের বিষয়ে আপিল করা এবং বিভিন্ন দণ্ডাদেশের তদারক করা। তবে অফিস অব পাবলিক প্রসিকিউশনের দায়িত্ব কার কোন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আসবাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ছে রিয়াদ।
ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ছে রিয়াদ : দ্য টাইমস এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখলের মাধ্যমে এখন থেকে ৬৯ বছর আগে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হলেও এই প্রথম দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গোপন আলোচনা চলছে। সৌদি আরব ও আমেরিকার কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার দ্য টাইমস পত্রিকা জানায়, সৌদি আরবে ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতির মাধ্যমে কিংবা সৌদি আরবের আকাশসীমায় ইসরাইলের বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে এ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ধীরে ধীরে এ সম্পর্ক বাড়বে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ইরানের প্রধান দুই শত্রু দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের বহু ঘটনার গতিপ্রকৃতি পাল্টে দেবে এবং এ অঞ্চলকে অনেক বেশি অস্থিতিশীল করে তুলবে। এ পর্যন্ত সৌদি কর্মকর্তারা গোপনে ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সব আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হল অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। ইরানি জেলেকে হত্যা করল সৌদি উপকূলরক্ষীরা : ইরানের একজন জেলেকে হত্যা করেছে সৌদি আরবের উপকূলরক্ষীরা। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা মাজিদ আগা বাবায়ি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্তবিষয়ক এ পরিচালক জানান, বিশাল ঢেউয়ের কারণে ইরানি জেলেদের দুটি মাছধরা নৌকা নিজস্ব পানিসীমা থেকে ছিটকে পড়লে সৌদি উপকূলরক্ষীরা নৌকা দুটির ওপর গুলি চালায়। এতে একজন জেলে কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ভানুয়াতুর প্রেসিডেন্ট বাল্ডউইনের মৃত্যু

ভানুয়াতুর প্রেসিডেন্ট বাল্ডউইন লন্সডেল মারা গেছেন। শনিবার রাজধানী পোর্ট ভিলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। লন্সডেলের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। একটি বড় ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট জড়িত থাকায় ২০১৫ সালে তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন। পরে দুর্নীতির এ কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রিসভার অর্ধেক অর্থাৎ ১৪ জন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন লন্সডেল। খবর বিবিসির।
ভানুয়াতু ডেইলি পোস্ট জানায়, শনিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে রোববার সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। ভিলা সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার লাশ রাখা হয়েছে। ভানুয়াতুর সাবেক এমপি সেলা মোলিসা রেডিও নিউজিল্যান্ডকে জানান, ‘ভানুয়াতু একজন মহান নেতাকে হারাল। দেশের জনগণের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। জনগণ তাকে খুব ভালোবাসত।’ লন্সডেল ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও অ্যাংলিকান পাদ্রী ছিলেন।