Monday, June 5, 2017

উচ্চশিক্ষিতের শুক্রাণু, ডিম্বাণু সুন্দরীর

উচ্চশিক্ষিত পাত্রই কাম্য। প্রকৃত সুন্দরী ছা়ড়া যোগাযোগ নয়।
বিয়ের বাজারে পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনের মতো শোনাচ্ছে বটে। কিন্তু এমন চাহিদা আজকাল তুঙ্গে ‘স্পার্ম ডোনর’ বা শুক্রাণুদাতার বাজারেও। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইআইএম পাশ বা চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের দর সেখানে সবচেয়ে বেশি! ডিম্বাণুর ক্ষেত্রে সৌন্দর্যটাই বড় কথা।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশেই এই ছবি। স্পার্ম ব্যাঙ্কের কর্তা ও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডাক্তার, আইআইটি বা আইআইএম পাশ দাতার জন্য বেশির ভাগ গ্রহীতা তিন-চার গুণ বেশি দাম দিতেও রাজি। বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ রোহিত ঘুটঘুটিয়া জানাচ্ছেন, ‘‘কম শিক্ষিত দাতা-র এক ‘ভায়েল’ শুক্রাণুর জন্য ২০০০ টাকা নেওয়া হয়, সেখানে অতি উচ্চশিক্ষিত দাতার এক ‘ভায়েল’ শুক্রাণুর দর ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকাও উঠছে।’’
কেন? ইচ্ছুক বাবা-মায়েদের বিশ্বাস, শুক্রাণুদাতা মেধাবী হলে তাঁর জিনের দৌলতে সন্তানেরও সেই রকম হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কলকাতার একাধিক স্পার্ম ব্যাঙ্ক তাই ‘মেধাবী’ দাতা পেতে নিয়মিত নামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে লিফলেট বিলি করছেন, পোস্টার লাগাচ্ছেন, ‘হুইসপারিং ক্যাম্পেন’ চালাচ্ছেন। কলকাতার সব স্পার্ম ব্যাঙ্কই শুক্রাণুদাতার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ধার্য করেছেন ‘স্নাতক।’ ল্যান্সডাউনের এক স্পার্ম ব্যাঙ্কের কর্ণধার, চিকিৎসক রাজীব অগ্রবাল আবার জানান, স্পার্ম দাতা নীরোগ কিনা বা উচ্চবর্ণের কিনা, তা নিয়ে এত দিন লোকে মাথা ঘামাতেন। এখন অগ্রাধিকারের শীর্ষে উঠে এসেছে ‘উচ্চশিক্ষা।’  একই কথা জানালেন বেহালার আর্যপল্লীর এক স্পার্ম ব্যাঙ্কের কর্তা সুজয় দাস। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক দিন আগেই আমার কাছে মারওয়াড়ি এক শুক্রাণু-গ্রহীতা দম্পতি এসেছিলেন। ভদ্রলোক নিজে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শুক্রাণুদাতার জন্য তিনি মরিয়া ছিলেন।’’
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

কেন কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই ‘আকস্মিক’ বৈরিতা? by নাজমুল আহসান

কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। পরে একই পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবে অবস্থানরত ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও লিবিয়ার একটি সরকার। সৌদি আহবানে সাড়া দিয়ে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে মালদ্বীপও। তবে এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন ও কাতার প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংগঠন গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি)’র সদস্য। জিসিসি’র মধ্যে শুধুমাত্র কুয়েত ও ওমানই কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশগুলো সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ধর্মীয় অনেক কারণেই একতাবদ্ধ ছিল যুগের পর যুগ। তাহলে কী এমন ঘটলো যে, কাতারকে আজ একঘরে করার চেষ্টা করছে দেশটিরই ‘আরব ভাতৃবৃন্দ’? কারণটা সম্পূর্ণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট। তবে এই বিরোধ মোটেই আকস্মিক নয়।
তেল ও তরল গ্যাসে সমৃদ্ধ কাতার মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। কিন্তু দেশটির নাগরিকরা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩৩৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আছে দেশটির। এবারের আগে ২০১৪ সালে ও ১৯৯৫ সালে কাতারের সঙ্গে উপসাগরীয় তিন দেশ সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়।
১৯৯৫ সালে কাতারের তৎকালীন আমির খলিফা বিন হামাদ আল থানিকে তারই ছেলে পদচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। তখন খলিফা বিন হামাদ আল থানিকে আবুধাবিতে আশ্রয় দেয় আমিরাত। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ তার ছেলে ও আমির হামাদ বিন খলিফা আল থানি আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনেন। তবে তিন দেশই এ অভিযোগের বিরোধীতা করে।
এছাড়া ২০১৪ সালে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থনদানের অভিযোগ এনে কাতার থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এই তিন দেশ ও মিশরের সামরিক শাসক আবদেল ফাতাহ আল সিসি। পরে অবশ্য সমঝোতা হয় দু’ পক্ষের মধ্যে। ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কিছু ইমেইল আদানপ্রদান করেন, যা পরে উইকিলিকস ফাঁস করে। ওই ইমেইলে দেখা যায়, হিলারি বলছেন, সৌদি আরব ও কাতার মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা করছে সিরিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করার মাধ্যমে। এবারের বিরোধ মূলত ইরান ও ব্রাদারহুডকে কাতারের সমর্থন দেওয়া নিয়ে সূত্রপাত।
ইরান/শিয়া ফ্যাক্টর
কাতারের প্রায় ১০ শতাংশ নাগরিক শিয়া মুসলিম। এছাড়া ঐতিহ্যগতভাবেই কাতারের শীর্ষ কিছু ব্যবসায়ী পরিবারও শিয়া। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে শিয়ারা কোণঠাসা থাকলেও, কাতারে পরিস্থিতি একেবারে বিপরীত। সেখানে শিয়ারা তুলনামূলক অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন। শিয়া-সুন্নি বিরোধের ব্যাপারে শাসকগোষ্ঠীও সতর্ক। শিয়া সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোন হামলার ব্যাপারে রাজপরিবার নিন্দা জানিয়েছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় নিয়মিতভাবেই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সমালোচনা করলেও, কাতার এ থেকে বিরত থেকেছে। কারণ, তেল ও গ্যাস খাতে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক অনেক নিবিড়। অনেক বড় তেল ও গ্যাস খনিতে যৌথ আংশীদারিত্ব আছে দুই দেশের।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরাশক্তিধর ৫টি দেশের চুক্তির পর, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে বিপুল আর্থিক ছাড় পায় ইরান। এছাড়া দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের পথও তৈরি হয়। এর পর থেকেই ইরানকে নিজেদের এক নম্বর শত্রু জ্ঞান করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন দেশগুলো।
এছাড়া, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ঘরের কাছে ইয়েমেনে ইরানের সরাসরি প্রভাবের কারণে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। সিরিয়া-ইরাকে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহীরা লড়ছে ইরানের মিত্র বাশার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটি দখলে নিয়ে নিয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব সামরিক হামলা শুরু করলেও প্রত্যাশিত বিজয় পায়নি।
অবশ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে ছিল কাতার। এছাড়া সিরিয়া-ইরাকে জঙ্গি-গোষ্ঠী আইএস বিরোধী মার্কিন সামরিক জোটেও অংশ আছে কাতারের। কিন্তু ইরানের সঙ্গে কাতারের ঘনিষ্ঠতা সন্দেহের দৃষ্টিতেই দেখেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
অপরদিকে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহরাইনে সুন্নি শাসক বিরাজমান। এই শাসকগোষ্ঠী সৌদি ও আমিরাতি সমর্থনপুষ্ট। বাহরাইনে শিয়ারা গণঅভ্যুত্থান করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সৌদি সাহায্যে টিকে যায় সুন্নি শাসক পরিবার। আর অভ্যুত্থানের জন্য ইরানকে দায়ী করে বাহরাইন সরকার। এছাড়া কাতারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহযোগিতা দেওয়ারও অভিযোগ আনে দেশটির। আর লিবিয়ায় প্রতিপক্ষ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়েছে আমিরাত ও কাতার।
ব্রাদারহুড ও আল জাজিরা
মিশরে কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিয়ে থাকে। মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক বাহিনী উৎখাত করলে এর নিন্দা জানায় কাতার। পালিয়ে আসা অনেক ব্রাদারহুড নেতাকে আশ্রয়ও দেয় দেশটি। এছাড়া ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি সংস্থা হামাসকেও সমর্থন দেয় কাতার। হামাসের প্রভাবশালী নেতা খালেদ মেশাল এখন দোহায় থাকেন। ফলে, অবধারিতভাবেই মিশরের বর্তমান সামরিক শাসক আবদেল ফাতাহ আল-সিসি কাতারকে শত্রু জ্ঞান করেন। সিসির পেছনে সমর্থন আছে সৌদিরও। কারণ, রাজতন্ত্র বিরোধী ব্রাদারহুডকে অপছন্দ করে সৌদি, আমিরাত ও বাহরাইন। ব্রাদারহুড মিশর ছাড়াও, সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিবন্ধিত। এ কারণে ব্রাদারহুড নেতৃবৃন্দকে কাতার আশ্রয় দেওয়ায় দেশটির উপর নাখোশ হয় এই চার আরব দেশ। ২০১৩ সালে মুরসিকে উৎখাতের সময় কাতার ব্রাদারহুডের সমর্থনে এগিয়ে আসার জেরে দেশটি থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে তারা। তখনই জিসিসি থেকে কাতারকে বহিষ্কারের আলোচনা চলছিল। পরে কুয়েতের মধ্যস্থতায় সব ঠিক হয়। বিনিময়ে কাতার কয়েকজন ব্রাদারহুড নেতাকে বহিষ্কার করে।
তবে দৃশ্যত, দেশ দু’টোর সম্পর্কোবনতি অতটা প্রকাশ্যে ছিল না। কিন্তু কাতারের অর্থায়নে পরিচালিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী টিভি স্টেশন আল জাজিরাকে নিয়ে অস্বস্তি ছিল বিভিন্ন আরব দেশে। মিশরে আরব বসন্তের প্রচার ও মুরসিকে সমর্থন দেওয়ায় আল জাজিরা নিষিদ্ধ। আর সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল জাজিরার কার্যক্রম নিয়ে উষ্মা ছিল।
ফেক নিউজ থেকে সংকট
তবে বর্তমানের এই কূটনীতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি একটি ‘ফেইক নিউজ’ থেকে। কয়েকদিন আগে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দেশটির আমির তামিম বিন খলিফা আল থানির একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এতে তিনি ইরানের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা উচিৎ নয় বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ব্রাদারহুড ও হামাসের প্রশংসা করেন। সমালোচনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আল জাজিরা সহ কাতারের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ব্লক করে দেয় সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু কাতার দাবি করে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে আমিরের ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। কাতার এই ঘটনার তদন্ত করারও প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ওই চার দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই দাবি ধোপে টিকেনি। এই দেশগুলোর প্রত্যেকটি বড় সংবাদ মাধ্যমে কাতারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য আসলেই করা হয়েছে। এখন চাপে পড়ে হ্যাকের অজুহাত দিচ্ছে কাতার। কিন্তু ওই ফেইক নিউজ সৃষ্ট উত্তেজনায় দমে যায়নি কাতার। বরং, কয়েকদিন পরই নব নির্বাচিত ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের শাসক।
ফের ইরান...
কাকতালীয়ভাবে, এই ফেক নিউজ কেলেঙ্কারি ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরব পর। ওই সফরে উপস্থিত ছিল কাতার। ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতও করেন কাতারের আমির। সৌদি আরবে এক সম্মেলনে, সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষণা করে, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের মূল হোতা ইরান।
কাউন্সিল অব ফরেইন রিলেশন্স থিংকট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো গেইল জেম্যাক লেমন বলেন, ‘মূলত, দুইটি থিওরি এখন কাজ করছে। একটি হলো, ডনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পর সৌদি আরব সাহস পেয়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসন ইরান নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে, যেখানে ইরানকে সমর্থন দেয় কাতার। আরেকটি থিওরি হলো, গত এক মাসের উত্তেজনার ফলেই এই অবস্থা। কাতারের সরকারী সংবাদ সংস্থার ওই ফেক নিউজের পরেই সব তুঙ্গে উঠেছে।’
ট্রাম্পের সৌদি সম্মেলনে যোগদানের পূর্বে কাতার অভিযোগ করে, আরব কয়েকটি দেশের সংবাদ মাধ্যমে অ্যান্টি-কাতার সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকেরা মতামত কলাম লিখছে। এসব কলামে কাতারকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এ ধরণের একটি সংগঠন ছিল ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস (এফডিডি)। ইসরাইলপন্থী এই সংগঠনটি আবার ইরানের কড়া বিরোধী। 
মজার ব্যাপার হলো, দুই দিন আগে হাফিংটন পোস্ট, দ্য ইন্টারিসেপ্ট ও দ্য ডেইলি বিস্টে এক হ্যাকার কিছু ফাইল পাঠায়। সেখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবার হ্যাককৃত ইমেইল। এই ইমেইলে দেখা যায়, এফডিডি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ উঠাবসা রয়েছে আমিরাত রাষ্ট্রদূতের। এফডিডি’র অনেক আলোচ্যসূচিতে কাতার, ব্রাদারহুড, তুরস্ক ও কুয়েত অন্তর্ভূক্ত ছিল। কাতার ও কুয়েতের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর কথাও উঠেছে। তুরস্কের শাসক দলের সঙ্গেও ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একটি ইমেইলে নাম ছিল সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসও। রবার্ট গেটস আমিরাতে বেশ সমাদৃত। সেখানে কাতার ও আল জাজিরার সমালোচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত আল ওতাইবা এক কথোপকথনে কাতার থেকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ারও প্রস্তাব দেন। এই সংবাদ প্রকাশের একদিন পরই কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয় চার দেশ।
পরিণতি কী?
এবারের সম্পর্কচ্ছেদ ২০১৪ সালের উত্তেজনার তুলনায় অনেক কঠোর। ২০১৪ সালে শুধুমাত্র রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেই খ্রান্ত ছিল সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। কিন্তু এবার কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি কাতারের সঙ্গে নৌ ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব স্থল সীমান্তও বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারি কূটনীতিকদের দেশত্যাগের ৪৮ ঘন্টা ও নাগরিকদেরকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সুয়েজ খালের মালিক মিশর বলেছে, কাতারকে কোন বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট থেকে কাতারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে জিসিসিতে কাতারের অবস্থান কী হবে, জানা যায়নি।
২০১৪ সালের বিরোধের সময় কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ আনে মিশর। তবে তখন বিরোধীতা সত্ত্বেও এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় উপসাগরীয় তিন দেশ সৌদি, আমিরাত ও বাহরাইন। তবে এবার চার দেশই ‘মুসলিম ব্রাদারহুড, আল কায়দা ও আইএস সহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কাতারের অর্থায়ন ও সমর্থন’কে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
প্রাথমিকভাবে চুপ থাকার পর, কাতার এই সম্পর্ক ছিন্ন করার কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এক সরকারী বিবৃতিতে  কাতার বলেছে, এই সম্পর্ক ছিন্ন করার কোন যৌক্তিকতা নেই। কড়া ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, ‘এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। সেটি হলো, এই রাষ্ট্রের ওপর নিজেদের অভিভাবকত্ব প্রয়োগ করা। এটি কাতারের স্বার্বভৌমত্বের লঙ্ঘণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, নিজেদের মধ্যকার বিরোধ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা ভালো। জিসিসি ঐক্যবদ্ধ থাকাটাই সবার স্বার্থের পক্ষে। তবে তিনি মনে করেন, এই সম্পর্কচ্ছেদের কারণে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কোন প্রভাব পড়বে না। উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি অবস্থিত।
যে-ই ইরানকে নিয়ে এত জল ঘোলা হলো, সেই ইরানও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ হামিদ আবুতালেবি টুইট করেছেন, ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন বা সীমান্ত বন্ধ করার যুগ এখন আর নেই। সংকট সমাধানের উপায় এটি নয়।’ ইয়েমেনে আরব জোট বাহিনীর সামরিক হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আগে যেমনটা বলেছি, আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব অস্থিতিশীলতা ছাড়া কিছু বয়ে আনে না।’
কাতারের ওপর এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারী বিবৃতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, তাদের প্রাত্যাহিক জীবনে এই সম্পর্কচ্ছেদের কোন প্রভাব পড়বে না। তবে ইতিমধ্যে আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান পরিবহণ সংস্থা ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ মঙ্গলবার থেকে কাতারে আর যাত্রী আনা নেওয়া না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে একই পদক্ষেপ নেয় দুবাই ভিত্তিক দুই জনপ্রিয় এয়ারলাইন এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাই। অপরদিকে কাতারের জনপ্রিয় বিমান সংস্থা কাতার এয়ার ওয়েজও এই চার দেশে উঠানামা করতো। তাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশের জন্য জর্দান, ইরান ও ইরাক এবং ইউরোপে যাতায়াতের জন্য ইরান বা তুরস্ক হয়ে যেতে হবে। 
আর্থিক বাজারে এই সম্পর্কহানির প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতারের শেয়ার স্টকের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। মিডলইস্ট ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস লিস্টার বলেছেন, কাতার খাদ্যদ্রব্য আমদানির জন্য সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল। স্থলসীমান্ত বন্ধ হওয়ায় তাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে দোহা।
সিএনএনকে একজন আরব পর্যবেক্ষক বলেছেন, আরব দেশগুলো চায় ২০১৪ সালের মতো এবারও ক্ষমা চাক কাতার। আর কাতার পরিচালিত আল জাজিরায় জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্য প্রতিবেদক হাশেম আহেলবারা বলেন, ‘কাতার মনে করে এই সমন্বিত প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে কাতারকে আরও কোনঠাসা করার জন্য। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পর্যায়েই এই সংকটের সুরাহা হতে হবে।’
(সিএনএন, বিবিসি, এপি, দ্য ইন্টারসেপ্ট, আল জাজিরা, উইকিপিডিয়া অবলম্বনে।)

সম্পর্ক ছিন্ন : কাতার কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

কাতারের সাথে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসরসহ ছ'টি দেশ শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কই ছিন্ন করেনি। একইসাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ভেঙ্গে পরবে। তাহলে, আঞ্চলিক সম্পর্কের হঠাৎ এই অবনতির কী প্রভাব পরবে কাতারের অর্থনীতিতে এবং সেই দেশের অধিবাসীদের ওপরে?
মাত্র ২৭ লক্ষ মানুষের বসবাস আরব উপদ্বীপের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই ছোট রাষ্ট্রে। তবে কাতার তার ওজনের চেয়ে অনেক ওপরের পর্যায়ে খেলার চেষ্টা করে।
মানুষ কাতারকে চেনে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য ধন্যবাদ দিতে হবে আংশিকভাবে দেশের জাতীয় বিমান পরিবহন সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজকে এবং তার আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরাকে।
আরো পরিচিতি এসেছে ক্রীড়া জগতে কিছু সাফল্যের মাধ্যমে, যেমন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন এবং বিশ্বের সব চেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বার্সেলোনাকে স্পন্সর করে।
আর রাজধানী দোহার ব্যাপক আধুনিক উন্নয়নের মাধ্যমে অনেক বহুজাতিক কোম্পানিকে সেখানে অফিস খুলতে অকৃষ্ট করেছে।
কাজেই, এই সংকট অনেক কিছুকেই প্রভাবিত করতে পারে।
আবু ধাবির এতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং দুবাই-ভিত্তিক এমিরেটস মঙ্গলবার থেকে তাদের দোহাগামী বা দোহা থেকে সকল ফ্লাইট স্থগিত করবে। বর্তমানে এই দুই বিমান সংস্থা দোহাতে দিনে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করে।
স্বল্প ব্যয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই এবং এয়ার অ্যারাবিয়াও তাদের দোহা ফ্লাইটগুলো বাতিল করছে। ধারনা করা হচ্ছে অন্যান্য বিমান সংস্থা যেমন বাহরাইনের গালফ এয়ার এবং মিশরের ইজিপ্টএয়ারও তাদের দোহা ফ্লাইট বাতিল করবে।
এর আগে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর ঘোষণা করে যে তারা কাতারের সাথে বিমান যোগাযোগ ছিন্ন করবে এবং নিজেদের আকাশপথ কাতার এয়ারওয়েজের জন্য বন্ধ করে দেবে।
কাতারের জাতীয় বিমান সংস্থা এখানে সব চেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। প্রথমত, দুবাই, আবু ধাবি, রিয়াদ এবং কায়রোর মত জায়গায় তাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। তার মানে, দিনে কয়েক ডজন ফ্লাইট।
তারা ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের সাথে তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে।
কিন্তু অঞ্চলের আকাশপথের একটি বড় অংশ তার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হবে তাদের যাত্রাপথ বদলাতে। এর ফলে অনেক রুটে সময় বেশি লাগবে।
সময় বাড়লে শুধু বেশি জালানি খরচ হবে তাই না, যাত্রীদের মন-মেজাজও খারাপ হতে পারে।
কাতার এয়ারওয়েজ তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে নিজেকে একটি 'হাব এয়ারলাইন' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, দোহার মাধ্যমে ইউরোপ এবং এশিয়াকে যুক্ত করে।
''ইউরোপে যাবার যে যাত্রা আগে ছয় ঘণ্টা লাগতো, সেটা যদি এখন রুট বদল করার ফলে আট-নয় ঘণ্টা লাগে তাহলে যাত্রীদের জন্য আর সুবিধাজনক থাকবে না এবং তারা বিকল্প খুঁজতে পারে,'' বলছেন করনারস্টোন গ্লোবাল নামে একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির পরিচালক ঘানেম নুসেইবেহ।
খাদ্য
মরুভূমির দেশগুলোর স্বাভাবিক কারণেই খাদ্য ফলাতে কষ্ট হয়। খাদ্য নিরাপত্তা কাতারের জন্য বড় একটি বিষয়, কারণ স্থলপথে দেশে প্রবেশ করার একটিই পথ এবং সেটা হচ্ছে সৌদি আরব সীমান্ত দিয়ে।
প্রতিদিন শত শত ট্রাক এই সীমান্ত দিয়ে আসে এবং খাদ্যদ্রব্য তাদের মালামালের একটি বড় অংশ। ধারনা করা হয় কাতারের খাদ্য আমদানির ৪০ শতাংশ এই পথে আসে।
সৌদি আরব বলেছে তারা এই সীমান্ত বন্ধ করে দেবে এবং ট্রাক আসা বন্ধ হলে কাতার বিমান এবং সমুদ্রপথে মালামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরবে।
''এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে যেটা সাধারণ মানুষকে সরাসরি আঘাত করবে,'' বলছেন মি: নুসেইবেহ।
''যদি জিনিসপত্রে দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে, তাহলে আপনি দেখবেন সরকার বদলের দাবীতে বা দেশের নীতি পরিবর্তনের জন্য রাজকীয় পরিবারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকবে।''
নির্মাণ শিল্প
কাতারে এই মুহূর্তে কয়েকটি বড় নির্মাণ প্রকল্প চলছে, যাদের মধ্যে আছে একটি নতুন বন্দর, মেডিকেল এলাকা, মেট্রো প্রকল্প এবং ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য আটটি স্টেডিয়াম।
নির্মাণ শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন কনক্রিট এবং ইস্পাত জাহাজে আসলেও, স্থলপথ দিয়ে সৌদি আরব হয়েও আসে।
সীমান্ত বন্ধ হলে খাদ্যদ্রব্যের মতো নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং কাজ সময়মত শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে।
দীর্ঘ সময়ের জন্য আকাশপথ এবং স্থলপথ বন্ধ হলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সময়সীমা হুমকির মুখে পরতে পারে।
জনগণ
সৌদি সরকার বলেছে সম্পর্ক ছিন্ন করার অংশ হিসেবে, সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন, আরব আমিরাত, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোন দেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাদেরকে ১৪ দিনের মধ্যে কাতার ছাড়তে বলা হয়েছে।
একই সাথে, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে বসবাসরত কাতারিদেরও একই সময়ের মধ্যে চলে যেতে বলা হয়েছে।
তবে মিসর যদি একই রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাহলে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কাতারে এক লক্ষ আশি হাজার মিশরীয় নাগরিক বাস করছে, যাদের বেশিরভাগ নির্মাণ শিল্পের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি এবং আইন পেশায় কর্মরত।
এই বিশাল কর্মী বাহিনী কাতার ছেড়ে চলে গেলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো কঠিন সমস্যার মধ্যে পরবে।
সূত্র : বিবিসি

সম্পর্কচ্ছেদের কোন যৌক্তিকতা নেই: কাতার

সৌদি আরবের নেতৃত্বে চার আরব দেশ মিশর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিবেশী কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা নিয়ে মুখ খুলেছে দেশটি। কাতার বলেছে, এই সম্পর্ক ছিন্ন করার কোন যৌক্তিকতা নেই।
সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সির মাধ্যমে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। কাতারেরে বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনেছে সৌদি আরব। অবশিষ্ট তিন দেশের সুরও মোটামুটি একই। সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি স্থল, নৌ ও আকাশ সীমান্তও বন্ধ করে দিয়েছে এই চার দেশ।
এ নিয়ে প্রথম দিকে চুপ থাকলেও পরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কাতার। দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত টিভি স্টেশন আল জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এই ধরণের সিদ্ধান্ত কাতারের স্বার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। দেশটি নিজ দেশের নাগরিক ও শ’ শ’ বাসিন্দাকে আশ্বস্ত করে বলেছে, এ পদক্ষেপের দরুন তাদের কোন ক্ষতি হবে না।
কাতার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ পদক্ষেপের কোন যৌক্তিকতা নেই। এটি এমন দাবি ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেওয়া যার কোন সত্যতা নেই।’ বিবৃতিতে বলা হয়, এর কোন প্রভাব সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রাত্যাহিক জীবনে পড়বে না।
কড়া ভাষায় লেখা প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, ‘এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। সেটি হলো, এই রাষ্ট্রের ওপর নিজেদের অভিভাবকত্ব প্রয়োগ করা। এটি এমনিতেই রাষ্ট্র হিসেবে কাতারের স্বার্বভৌমত্বের লঙ্ঘণ।’

ধর্ষণে গর্ভধারণ ভূমিষ্ঠের পর সন্তানকে গলাটিপে হত্যা by মহিউদ্দিন অদুল

মোবাইল ফোনে প্রেম। এরপর বিয়ের প্রলোভনে কাবু। ঢাকা থেকে একেবারে নিয়ে যায় ময়মনসিংহ। এরপর ধর্ষণ। একা নয়। আরো চারজন এক সঙ্গে চালায় পাসবিকতা। এতে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ১৯ বছরের ওই যুবতী। এর দায় নিতে অস্বীকার করে প্রেমিক সোহেল (২৫)। তাই ভূমিষ্ঠের পরই নিজের সন্তানকে গলাটিপে খুন করে ওই যুবতী। লাশ লুকিয়ে রাখে বাড়ির ছাদে। গত ২রা মার্চ রাতে রাজধানীর রমনা থানার বেইলি রোডের বেইলি রিজ অ্যাপার্টমেন্টের এক ফ্ল্যাটে ঘটে এই ঘটনা।
গত ৫ই মার্চ নবজাতকের লাশ উদ্ধার হয়। সম্প্রতি এই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। ওই যুবতী ও প্রেমিক সোহেল এবং অপর দুই ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই যুবতী এবং ধর্ষকদের একজন মইনুল দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা ও ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার তদন্ত চলছে।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, গণধর্ষণের পর ওই যুবতী গর্ভবতী হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। প্রেমিক সোহেলের অস্বীকৃতি ও সমাজে লোকলজ্জার ভয়ে ভূমিষ্ঠের পরই নবজাতককে খুন করে। আদালতেও এই লোমহর্ষক ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছে ওই নারী।   
মামলার এজাহার, স্বীকারোক্তি ও পুলিশ সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল আবাসিক ভবন বেইলি রিজ অ্যাপার্টমেন্টের এক ফ্ল্যাটে ওই যুবতী ৪ বছর ধরে কাজ করতো। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার দারাকপুর গ্রামে। তাদের এক গ্রাম পর শলফা গ্রাম। শলফার বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে সোহেল। ঘটনার আগে দু’বছর ধরে মোবাইল ফোনে সোহেল তার সঙ্গে প্রেম করে যাচ্ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ঈদুল ফিতরের সময় সোহেল ওই যুবতীকে গ্রামে নিয়ে যায়। তারপর ঈদের দিন তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে রাতে সোহেল তাকে নিজ গ্রামে ডেকে নেয়। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে স্থানীয় পাট খেতের পাশে আসে। সেখানে সোহেল তাকে ধর্ষণ করে। আহত অবস্থায় ফেলে রেখে সেখান থেকে সটকে পড়ে। সোহেলের এই অপকর্ম জানতে পারে কাছাকাছি থাকা আরও কয়েকজন। তখন সেখানে থাকা হামিদুল (৩৫), মইনুল (২০), আলী হোসেন (৫০) এবং দুলুও পাট খেতে গিয়ে যুবতীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর সে যুবতী কাউকে কিছু না জানিয়ে আবার ঢাকায় ওই বাসার কাজে ফিরে। এ ঘটনার কয়েক মাস পরে বুঝতে পারে সে গর্ভবতী। বিষয়টি জানিয়ে সোহেলকে মোবাইলে বাচ্ছার দায় নিতে ও বিয়ে করতে অনুরোধ জানায়। সোহেল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বারবার বাচ্ছা নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে ভেবে ওই যুবতী বাচ্ছা নষ্ট করেনি। অবশেষে গত ২রা মার্চ রাতে তার প্রসব বেদনা উঠলে বাথরুমে যায়। এক পর্যায়ে কারও সহযোগিতা ছাড়াই এক পুত্র সন্তান প্রসব করে। প্রসবের পরই নিজ সন্তানকে গলাটিপে শ্বাস রোধ করে খুন করে। তারপর কাপড় পেঁচিয়ে লাশ বাথরুমের কোনায় রেখে দেয়। পরদিন সকালে ওই বাসায় থাকা দুটি পুরাতন সংবাদপত্র পেঁচিয়ে শপিং ব্যাগে ঢুকিয়ে লাশ একটি গামলায় রেখে তার উপর ভেজা কাপড় দিয়ে ছাদে যায়। ছাদে দু’টি পাইপের মাঝখানে শপিং ব্যাগটি রেখে চলে আসে। লাশে পচন ধরলে কাক ঠুকরাতে শুরু করে। ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধও। দু’দিন পর ৫ই মার্চ ওই ভবনের অপর ফ্ল্যাটের কাজের বুয়া ছাদে গেলে তা দেখতে পায়। এরপর পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ময়নাতদন্তের পর লাশের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু ওই বহুতল বড় ভবনটিতে ২২৩টি ফ্ল্যাট থাকায় কিছুতেই রহস্য উদঘাটন হচ্ছিল না। লাশ পেঁচানো দু’টি সংবাদপত্রের সূত্র ধরে পরে হকারের মাধ্যমে সন্দেহের তালিকা কমিয়ে দু’টিতে আসে। তারপর দুই বাসার কাজের মেয়েকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ওই যুবতী স্বীকার করে। তারপর তাকে এক সপ্তাহ ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। নবজাতকের লাশ উদ্ধারের পর করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের সূত্র ধরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই যুবতী ও সোহেলকে আসামি করে ৮ই মার্চ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর সেই যুবতী এখন কাশিমপুর কারাগারে রয়েছে। একই ঘটনায় ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় ওই যুবতী বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তাতে ওই ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিছুদিন আগে মইনুল গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন সোহেল, হামিদুল ও মইনুল ময়মনসিংহ কারাগারে রয়েছে। পলাতক রয়েছে আলী হোসেন ও দুলু।
ময়মনসিংহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ মোল্লা বলেন, গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই মেয়ে তখন থানায় এসে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি এত দূর গড়াতো না। নবজাতক খুনের সূত্র ধরেই কিছুদিন আগে বিষয়টি স্থানীয় থানার নজরে আসে। ধর্ষণের মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর মইনুল ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলী হোসেন বলেন, প্রথম দিকে ওই নবজাতক খুনের রহস্য উদঘাটন বেশ দুরূহ ছিল। বিশাল অ্যাপার্টমেন্টের ২২৩ ফ্ল্যাটের মধ্যে কোন পরিবারকে সন্দেহ করা যায়, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ছিল দ্বিধা। অবশেষে লাশ মোড়ানো বাংলা ও ইংরেজি দুটি সংবাদপত্রের সূত্র ধরে হকারের সহযোগিতায় দু’পরিবারকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। তারপর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কাজের মেয়েটি স্বীকার করে। তারপর তার চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ গিয়ে ঘটনার পুরো রহস্য উদঘাটন হয়।

কেন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলো মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ?

কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নকারী দেশগুলোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় দোহা বলেছে, 'ভিত্তি নেই' এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে এবং এটি 'অন্যায্য' একটি সিদ্ধান্ত।
কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে গালফ অঞ্চলের দেশগুলো, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তাদের সাথে কাতারের সম্পর্কচ্ছেদ হিসেবে।
এর সাথে গালফভুক্ত দেশগুলোর সাথে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করে বাহরাইন। পরে সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।
গালফভুক্ত দেশগুলো তাদের দেশে অবস্থানরত কাতারের নাগরিকদের দেশ ত্যাগের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছে।
কেন এই বিচ্ছেদ?
সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ এলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের টানাপড়েনের শুরু কয়েক বছর আগে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে গত ২৫ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরা নেটওয়ার্কসহ কাতারের সংবাদবিষয়ক সকল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় এই চারটি দেশ।
বিতর্কিত ঐ ঘটনায় দেখা যায়, কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে আমির সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন।
ঐ প্রতিবেদনে আমিরকে উদ্ধৃত করে আরো বলা হয়, তিনি ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করছেন।
যদিও পরে কাতার তখন দাবী করে পুরো ঘটনাটি ভুয়া। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা হ্যাক হয়েছিল এবং ওই খবর সাইটটি হ্যাক হবার পর প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবি করে কাতার।
তবে, মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে। এক, ইসলামপন্থী সংগঠনসমূহের সঙ্গে কাতারের সংযোগ, আর দুই আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ইরানের ভূমিকা।
আইএস গোষ্ঠীকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাতার যোগ দিয়েছে ঠিকই।
তবে, সেই সঙ্গে ইরাকের শিয়া নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে কাতার আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে কাতার।
আবার সিরিয়ার কট্টর ইসলামি গ্রুপগুলোকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে কাতারের সংযোগের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া সুন্নি প্রধান দেশ সৌদি আরব বরাবরই বাহরাইনের শিয়া উগ্রবাদীদের মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে।
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদ সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।
সূত্র : বিবিসি

উগ্রবাদ দমনে একযোগে কাজ করতে হবে : খালেদা জিয়া

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে গত শনিবার সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আর যাতে কোনো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা না ঘটে তার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে প্রস্তুত থাকতে হবে। কঠোর অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে একযোগে কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। বেগম জিয়া লন্ডন ব্রীজের ফুটপাথে পথচারিদের ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে পিষ্ট করে ও ছুরিকাঘাতে সাত জনকে হত্যা ও কমপক্ষে ৩০ জনকে আহত করার প্রাণবিনাশী রক্তাক্ত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। আজ সোমবার গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির রাতে লন্ডন ব্রীজে ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে চাপা দিয়ে ও ছুরি নিয়ে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় সাত জনের প্রাণহানী ও কমপক্ষে ত্রিশ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বেদনার্ত ও শোকাহত হয়েছি। বিশ্বব্যাপী চলছে হানাহানী ও রক্তারক্তির সহিংস ঘটনা। বিশ্বমানবসম্প্রদায় এখন ভয়াবহ সন্ত্রাসের ঝুঁকির মধ্যে। আর এই সমস্ত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী রক্তাক্ত ঘটনা সংঘটিত করতে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা গড়ে তুলেছে মানবসভ্যতাবিরোধী রক্তরঞ্জিত নেটওয়ার্ক। যুক্তরাজ্যে কয়েক মাসে রক্তপিপাসু সন্ত্রাসীরা যেভাবে সাধারণ পথচারি ও নিরীহ মানুষকে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করেছে তা মানববিবেককে নিদারুণভাবে ব্যথিত করেছে, বিশ্ববাসীর হৃদয়ে অশ্রু ঝরেছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে যে মানবঘাতি বিকৃতপন্থা অবলম্বন করে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা বিশ্বের দেশে দেশে বিভৎস ঘাতকের রুপে আবির্ভূত হয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে তাতে মানবজাতির অর্জিত সভ্যতা, সংস্কৃতি এখন হুমকির মুখে। এরা মানুষের অগ্রগতিকে বাধা দিয়ে সারা দুনিয়াকে আদিম অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। সুশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও মানুষের স্বাধীনতাকে নিজেদের পাশবিক ইচ্ছার অধীন করতেই সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া মরণখেলায় মেতে উঠেছে। এই রক্তপিপাসু দানবীয় শক্তিকে এই মূহুর্তে পরাজিত করতে হবে, দেশে দেশে এদের প্রাণঘাতি নেটওয়ার্ক নির্মূল করতে হবে। তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে লন্ডন ব্রীজে সন্ত্রাসীদের কর্তৃক ভ্যান চালিয়ে ও ছুরি দিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাতে বেদনার্ত যুক্তরাজ্যবাসীর মতো আমিও সমব্যাথী। ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে এই সন্ত্রাসী ঘটনা মোকাবেলা ও অপরাধীদের শাস্তি বিধানে যুক্তরাজ্য সরকার সক্ষম হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। লন্ডনে গত শনিবার সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় সাত জনের প্রাণহানী ও কমপক্ষে ত্রিশ জনের অধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দূঃখ প্রকাশ করছি, নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। অপর এক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লন্ডন ব্রীজে ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে চাপা দিয়ে ও ছুরি দিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত রক্তাক্ত সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এখন বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। নির্মম ও পৈশাচিক কায়দায় হত্যা ও জখম করে মানুষের রক্ত নিয়ে হোলিখেলাকে তারা আনন্দ উৎসব বলে মনে করে। সন্ত্রাসীরা বন্য পশু’র হিং¯্রতাকেও হার মানিয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রীজে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় আমি নিহতদের প্রতি গভীর শোক এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন এই কামনা করছি। আমি নিহতদের পরিবার-পরিজনসহ নিকটজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ও জনগণের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। অশুভ নেটওয়ার্ক দ্রুত খুঁজে বের করে এর সাথে জড়িত অপরাধীরদের শাস্তি নিশ্চিত হবে বলেও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আবগারি শুল্ক না বাড়ানোর দাবি সরকারদলীয় হুইপের

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক না বাড়িয়ে আগের হার বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান  শহীদুজ্জামান বলেন, ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামের মানুষ এক লাখ, দুই লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখেন। এখন আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে আমানতের টাকা কেটে নেওয়া হবে। তিনি অর্থমন্ত্রীকে আবগারি শুল্ক না বাড়িয়ে আগেরটা বহাল রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ভ্যাটের আওতা কমিয়ে আয়কর ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরামর্শও দেন সরকার দলীয় এই হুইপ।
তিনি বলেন, এটি করা গেলে জনগণকে আরও স্বস্তি দেওয়া যেত। এ সময় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমানোরও আহ্বান জানান শহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র কেনার লক্ষ্য ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের হারের ওপর যাতে কাঁচি না চলে। একে আরও সহজ করার যদি প্রক্রিয়া থাকে সেটা অনুসরণ করতে হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় সারা বছর ধরে রাজস্ব আদায় করতে এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানান শহীদুজ্জামান সরকার। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। যার ১০ শতাংশ কমে আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়।

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে : তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আজ সোমবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোঃ আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন। মন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা নির্ণয়, স্থানীয় উৎপাদন, মজুদ পরিস্থিতি, আমদানির পরিমাণ ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত ‘দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল’ প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, টিসিবি এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তিনি বলেন, এ সব তথ্য বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে পণ্যভিত্তিক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি ভোক্তা সাধারণের নিকট বিক্রয়ের ফলে সাত কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৭০৩ টাকা সরকার ভর্তুকি প্রদান করছে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সারাদেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ সব মোবাইল কোর্ট অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতারোধে জরিমানা আরোপ করা হয়। সরকারি দলের সদস্য সেলিনা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকাসহ সকল মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার পরিদর্শনমূলক অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র : বাসস

হাইকোর্টে অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন

আগামী ৯ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সরকার ঘোষিত ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং কোর্টের অবকাশের কারণে সুপ্রিমকোর্টের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এ সময়ে জরুরী বিষয় শুনানি ও নিস্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আজিজুল হক স্বাক্ষরিত অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি অবকাশকালীন সময়ে জরুরী বিষয় শুনানি ও নিস্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে দেওয়ানি মোশন ও এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১১, ১৩, ১৫ , ১৮ ও ২০ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টেও মূল ভবনের ৮ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি এ,বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে রিট মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ বেঞ্চ ১১, ১৩, ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ২ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এস,এম মজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ৯ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর একক বেঞ্চকে আদিম অধিক্ষেত্রাধীন বিষয়, কোম্পানী সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১২, ১৪, ১৯ ও ২১ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ২১ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি আতাউর রহমান খানের একক বেঞ্চকে দেওয়ানি মোশন ও দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৩ , ১৪, ১৫, ১৮, ১৯ ২০, ২১ ও ২২ জুন সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের মূল ভবনের ৭ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি এম, মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি মো. সেলিম সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে দেওয়ানি মোশন ও দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ২৭ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি আমির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৩ ১৪, ১৫, ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ২৮ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে রিট মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১২, ১৩ ও ১৪ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ৪ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ-এর একক বেঞ্চকে দেওয়ানি মোশন ও দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ বেঞ্চ ১২, ১৩ , ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ৩৪ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে রিট মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের মূল ভবনের ২৭ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চকে ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়েছেন। এ বেঞ্চ ১১, ১২, ১৩ ১৪, ১৫, ১৮ ও ১৯ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের এনেক্স ভবনের ২৪ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ -এর একক বেঞ্চকে ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এ বেঞ্চ ১১, ১৫ , ১৮ ও ২০ জুন সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের মূল ভবনের ১১ নং বিচারকক্ষে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বাসস

চান্দিনায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক ঈমাম হোসেন সরকার এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মাসের ২৫ মে ধর্ষিত ওই নারী কুমিল্লার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৪জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ১ জুন (বুধবার) চান্দিনা থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ঈমাম হোসেন সরকার সুহিলপুর গ্রামের অলি উল্লাহ সরকারের ছেলে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যরা হলেন- সুহিলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক এর ছেলে জুয়েল, শালিখা গ্রামের আব্দুর রহমান এর ছেলে স্বপন ও বশিকপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে শারমিন গত ২৪ মে বুধবার দুপুরে শারমিন আত্মীয়র বাড়ি থেকে রিক্সা যোগে ইলিয়টগঞ্জ বাস স্টেশন আসার সময় সুহিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেনসহ অন্যান্যরা তাকে আটক করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এছাড়া ধর্ষিতাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার পর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরসহ শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। শারমিনকে বহনকারী রিক্সার চালক আশ-পাশের লোকজনকে ডেকে এনে শারমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আদালত থেকে মামলা রুজু করার নির্দেশ পাওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেনসহ ৪জনকে আসামী করে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁয় দীর্ঘ ৬ বছরেও নির্মিত হয়নি ছোট যমুনার উপর গার্ডার ব্রীজ

দীর্ঘ ৬ বছরেও নির্মিত হয়নি এলজিইডির তত্বাবধানে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নওগাঁর ছোট নদীর উপর ৮৭ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রীজের নির্মান কাজ। এই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় নদীর দুই পার্শ্বের মানুষ চলাচল ও পারাপার করতে পারছেনা। মানুষ চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অফিসের উদাসীনতার, আর ঠিকাদারের অবহেলার কারনে এই দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা আরও জানায়, এই প্রকল্পে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে দিনরাত কাজ করছে। তড়িঘড়ি করে কাজ করতে ইতিমধ্যেই ষ্টীল সাটারিং ব্যবহার না করায় বাঁশের খুটি দিয়ে কাজ করতে গিয়ে বীমটি দেবে গিয়ে বাকা হয়ে গেছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে অবিলম্বে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে দূর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন। সুত্রে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের পাশ দিয়ে ছোট যমুনা নদীর উপর দক্ষিন কালীতলা দক্ষিন সুলতানপুর রাস্তায় গাবতলী নামক স্থানে এলজিইডির তত্বাবধানে ৮৭ মিটার আর,সি,সি গার্ডার ব্রীজ নির্মানের জন্য গত ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে দরপ্রত্র আহবান করে। দরপ্রত্র অনুযায়ী সিলেটের শিবগঞ্জের মেসার্স জামিলা এনটারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩৯ টাকার কাজ পায়। ২৮ ডিসেম্বর কার্যাদেশ প্রদান করে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এই মর্মে শর্ত থাকে। স্থান পরিবর্তন, ডিজাইন সংশোধন এই অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারে নাই। কায়াদেশ পাওয়ার প্রায় বছর খানেক পর কাজ শুরু করে।
ক্জা শুরু করলেও ঠিকাদারের অবহেলা আর অফিসের উদাসিনতায় কাজ চলে ধীর গতিতে। দীর্ঘ ৬ বছরেও উক্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারে নাই। ব্রীজের কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। ব্রীজের দুই পার্শ্বের সংযোগ সড়কের, সিসিব্লকসহ অন্যান্য কাজ এখনও করতে পারে নাই। এই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় নদীর দুই ধারের মানুষরা ডিঙ্গী নৌকায় কোন রকমে পরাপার করতে হচ্ছে। ব্রীজের ও দুই ধারের সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দুই পারের মানুষ চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অফিসের সাথে ঠিকাদারের যোগসাজসে ওই ব্রীজ ছিল পিসি গার্ডার, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ডিজাইন সংশোধন করে সেই ব্রীজটি গার্ডার ব্রীজ করে নেয়। ওই ব্রীজে প্রেড রডের পরিবর্তে নন গ্রেডেড রড ব্যবহার, (যা আঞ্চলিক ভাষায় সেমি অটো রড), ওপিসি সিমেন্ট ব্যবহারের কথা থাকলেরও পিসিসি সিমেন্ট ব্যবহার, (ওপিসি সিম-১, পিসিসি সিম-২) ঢালায়ের ক্ষেত্রে ডোমার বালি দিয়ে ঢালায় করতে হবে তাতে বালির এফ থাকতে হবে ২.৮ এফ,এম, কিন্তু সেখানে লোকাল বালি দিয়ে তার সঙ্গে সামান্য পরিমান ডোমার বালি দিয়ে ঢালায় করছে। এছাড়াও কার্যাদেশ অনুযায়ী ব্রীজে প্রায় সম্পূর্ন ষ্টীল সাটারিং দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও ষ্টীল সাটারিং ব্যবহার না করে কাঠ ও বাশ সাটারিং ব্যবহার করছে। এতে করে ব্রীজের একটি অংশ ঢালায় করতে গিয়ে ব্রীজের পশ্চিম দিকের বাম পার্শ্বে দেবে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীরা আরও জানায়, অফিসের উদাসীনতা আর ঠিকাদারের অবহেলার কারনে এই দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওই প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে কার্যাদেশ অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করে দূর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার। এ ব্যাপারে ওই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োজিত প্রতিনিধি রিপন জানান, অফিসের ডিজাইন ভুলের এবং স্থান নির্ধারনের জটিলতার কারনে এবং নিজে সড়ক দুর্ঘটনার কারনে কাজটি করতে বিলম্ব হয়েছে। এ ব্যাপারে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ,কে,এম বাদশা মিয়া কাজটি দেরী হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ঠিকাদারের প্রতিনিধি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার কারনে কাজটি করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে, আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। তাহলে এই এলাকার মানুষ কৃষি পন্যসহ যাতায়াতের সুবিধা পাবে। উক্ত প্রকল্পে নিন্ম মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কথা তিনি অস্বীকার করেন। কাজটি দ্রুত শেষ হলে শহরের যানজট হ্রাস পাবে। দুই ধারের মানুষ উপকৃত হবে। ধান চাল পন্যসহ অতি অল্প সময়েই কম থরচে তাদের উৎপাদিত ফসল একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাবে। ফসলের নায্য মুল্য পাবে। এই এলাকার মানুষের একটাই দাবী দ্রুত কাজটি শেষ করার।

রাণীনগরে সরকারি গাছ কেটে নিল প্রভাবশালী মেম্বার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউপি’র আবাদপুকুর চৌরাস্তার মোড় থেকে কালীগঞ্জ যাবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাস্তার দু’পাশের প্রায় ৬০-৭০টি শিশুগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বারের বিরুদ্ধে কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে ২৫-৩০টি গাছ, অথচ স্থানীয়রা বলছেন ৬০-৭০টি গাছ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। ঘটনার সাত দিন পার হলেও এখনো কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকায়। উপজেলা বরেন্দ্র অফিস সূত্রে জানা, উপজেলার আবাদপুকুর বাজারের চৌরাস্তার মোড় থেকে কালীগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এবং এই রাস্তার বনমালীকুড়ি নামক স্থান পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আওতায়। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঝড়ে এই রাস্তার কিছু গাছ ভেঙ্গে যায়। এই ভেঙ্গে যাওয়া ৫টি গাছ বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ২ হাজার টাকা জামানত নিয়ে একডালা ইউপির স্থানীয় সদস্য মো: হাসান মোল্লার মাধ্যমে নিলামে বিক্রয় করেন। বর্তমানে প্রায় এক মাস পার হলেও এই ৫টি গাছ না কেটে ইতিমধ্যেই রাস্তার দু’পাশের প্রায় ৬০-৭০টি শিশুগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সার্বিক সহযোগিতায় প্রভাবশালী স্থানীয় ইউপি মেম্বার দিনে ও রাতে এই গাছগুলো কেটে নিয়ে কালীগঞ্জ বাজারে বিক্রয় করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অথচ নিলামে বিক্রয় করা ৫টি গাছ এখনো রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, বিগত দিনেও স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বারের ইন্ধনে এই রাস্তার দু’পাশের অনেক গাছ কাটা হয়েছে। সম্প্রতি রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটার সময় সংশ্লিষ্ট লোকজনদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে আমরা জানি না যে এই গাছগুলো কার। মেম্বার আমাদের গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে তাই আমরা গাছ কাটছি। তবে গাছগুলো কেটে পাশের কালীগঞ্জ বাজারে বিক্রয় করা হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো: হাসান মোল্লা জানান, আমি লোকবলের অভাবে নিলামে কিনে নেওয়া গাছগুলো কাটতে পারছি না। বাকি গাছগুলো কেটে নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না আপনি একডালা ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি এই বিষয়ে আমার চেয়ে ভালো জানেন। একডালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: রেজাউল ইসলাম জানান, আমি শুনেছি যে দিনে ও রাতের আধারে কে বা কাহারা ওই রাস্তার দু’পাশের কিছু গাছ কেটেছে। তবে আমার কাছে এখনো এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো: তিতুমীর হোসেন গাছকাটার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই রাস্তার দু’পাশের ২৫-৩০টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কাহারা গাছগুলো কেটেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে এই বিষয়ে যদি আমার কাছে ব্যক্তির নাম উল্লেখপূর্বক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, আমি বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা : বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী

মাত্র এক থেকে দেড় যুগ আগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর ও কুয়াকাটার গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল সুদীর্ঘ বনাঞ্চল। কিন্তু আজ সে দৃশ্য বিরল। সত্তুরের দশকের ভয়াবহ বন্যা, এবং ২০০৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে সিডর, আইলা, মহাসেনসহ একাধিক প্রাকৃতি দূর্যোগ পাল্টে দিয়েছে উপকূলের চিত্র। এছাড়াও বনদস্যুদের ক্রমাগত উৎপাতে ধংস হচ্ছে উপকূলের বনাঞ্চল। এ দূর্যোগ থেকে প্রাকৃতিক দেয়াল স্থানীয়দের জীবন বাঁচালেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ প্রাকৃতিক দেয়াল এখন সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে হুমকির মুখে উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ। বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী বন বিভাগের আওতায় দেড় লাখ একর জমিতে বনাঞ্চল রয়েছে। এরমধ্য দেড় দশকে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ৩ হাজার ৫শ একর জমির বনাঞ্চল ধংস হয়েছে। সমতালে বনদস্যুদের উৎপাতেও ধংস হয়েছে এ অঞ্চলের বনাঞ্চল। বনাঞ্চল রক্ষা করতে বন বিভাগ কর্তৃক বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ৪৫৮টি মামলা আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। এছাড়াও সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্ততা বৃদ্ধির সাথে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই লন্ড-ভন্ড করে দিচ্ছে রাঙ্গাবালীর সোনারচর সৈকত ও কুয়াকাটা গঙ্গামতি সৈকতের মনোমুগ্ধকর সবুজ বনায়ন। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে বালুর স্তর প্রতিদিনই ৫/১০ ইঞ্চি পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় গাছের কান্ড ভেঙ্গে পড়েছে, কোন কোন গাছের শেকড় বের হয়ে যাওয়ায় এসব গাছ খাদ্য সংগ্রহ করতে না পারায় মরে যাচ্ছে, গাছের গোঁড়ার মাটি, বালি ধুয়ে যাওয়ায় মরে যাচ্ছে গেওয়া, কেওড়া, ছইলাও নারিকেল গাছগুলো। আবার অনেক গাছের পাতা ও কান্ড মরে বিবর্ন হয়ে যাচ্ছে। উদাহরন হিসেবে বলা যায় সোনার চরের সেই সরু পথের দুই পেশের ঝাউগাছ আর কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতের ফয়েজ মিয়া সেই নারিকেল এবং ঝাউবন এখন শালবন পুরোন পর্যটকদের কাছে এখন শুধুই স্মৃতি। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে আগামী দু/এক বছরের মধ্যে সমুদ্র পারের এসব গাছ মরে গেলে প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হবে। যার ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বসবাসে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের পাশা-পাশি বনদস্যুদের কারণে প্রতিনিয়ত ধংস হচ্ছে সবুজ বনায়ন। এক শ্রেনীর প্রভাবশালী মহল র্নিদিধায় প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল ধংসে করে চলছে। বনাঞ্চল সংরক্ষন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে বনাঞ্চল ধংস হওয়ার একমাত্র কারণ বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মত এ জেলায় গড়ে উঠছে ইটের ভাটা। আর এসকল ইটের ভাটায় ব্যবহার হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চোরাই কাঠ। যে কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আরো একটি বৃহৎ কারন অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ইটের এই ভাটা। স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগর তীর ঘেষে বিশ হাজার ছাব্বিশ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি নিয়ে জেগে ওঠে সোনার চর। সেখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ বনভূমির পাশাপাশি সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত।
কুয়াকাটার ন্যায় সোনার চরের সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়েও সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। এপর দিকে ষাটের দশকে বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের বাইরে গঙ্গামতি, কুয়াকাটার সৈকত লাগোয়া বালুচরে ম্যানগ্রোভ জাতের বৃক্ষের বনায়ন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গেওয়া, কেওড়া, ছইলা গাছ। ওই সময় ১১শ একর ভূমিতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান করা হয়েছিল। বন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, কুয়াকাটা ও গঙ্গামতি সৈকত এলাকার প্রায় ২০ হাজার গেওয়া, কেওড়া ও ছইলা গাছ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবনাক্ততার পরিমান বৃদ্ধির ফলে সাগর পার ঘেষা প্রাকৃতিক ভাবে জম্মানো বনাঞ্চল ও বন বিভাগের বাগান এখন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রচন্ড লবনাক্ততায় এসব গাছ মরে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় এসব প্রাকৃতিবভাবে জন্মানো বাগানের কোন প্রটেকশন না থাকায় ধারাবাহিক জ¦লোচ্ছাসের ঝাপটায় মাটির স্তর ধুইয়ে নেমে যাওয়ায় প্রতিদিনই ভেঙ্গে যাচ্ছে বনাঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের পানির বিষাক্ততায় বৃক্ষরাজি মাটি ও বালি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহন করতে পারছেনা। যার ফলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, ও গাছের মূল ধূসর বর্ণের হয়ে ক্রমান্বয়ে মরে যাচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হুমায়ন কবীর হাওলাদার বলেন, বৈষ্ণিক উষ্ণতার কারনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বরফ গলে যাওয়ার কারনে সাগর নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। সেই সাথে পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় ৫০/৬০ বছর পূর্বে সৃষ্টি প্রকৃতিক বনাঞ্চল ও বন বিভাগের লাগানো বনাঞ্চল বিপরীত প্রতিকূলতায় এখন মরে যাচ্ছে। তারমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এখন সাগরের পানির স্তর ক্রমশই বাড়ছে। এ কারনে বেশি করে গাছ লাগালে প্রাকৃতিক এ দূর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষ রক্ষা পেতে পারে। পরিবেশ বান্ধব, পর্যটন সংরক্ষন সমিতি ও নদী রক্ষা কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ ওমর আজম জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় আর্ন্তজাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। নদী/জলাশয় রক্ষায় উচ্চ আদালত কর্তৃক নির্দেশ থাকা সত্যেও তা বাস্তবে কেউ মানছেনা। পুরোন নকশা ভিত্তিক যে সকল খাল/জলাশয় রয়েছে তা পূনরুদ্ধারের দাবী এবং দখল মুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বনাঞ্চল রক্ষা এবং নতুন নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। পটুয়াখালী উপকূলীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, জলবায়ু পরিবতৃন বিরুপ প্রভাবের কারণে ধীরে ধীরে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক প্রজাতির গাছ মারা যাওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বন বিভাগ জলাবায়ু পরিবর্তন রোধে উপকূলীয় এলাকা জুড়ে নতুন জেগে ওঠা চর ভুমিসহ সকল বন ভুমিতে বনায়ন কার্যক্রম অব্যবাহত রেখেছে এবং লবন সহিষ্ণু ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা দ্বারা বনায়ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

মধ্যবিত্তের টিকে থাকার লড়াই- বাজারে ছুটছে পাগলা ঘোড়া

নানা অজুহাতে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। পরে দাম কমানোর মতো অবস্থা হলেও আর কমে না। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের যৌক্তিকতার প্রশ্নের কোনো জবাব মেলে না। এভাবে লাগামহীনভাবে পণ্যমূল্য বাড়ায় দিনদিন নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষের। দ্রব্যমূল্য যেন এখন এক পাগলা ঘোড়া। ছুটছে তো ছুটছেই। পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা বাজার সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু নিত্যপণ্যের বাজারনিয়ন্ত্রিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এদিকে নতুন বাজেট ঘোষণার পর লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে চাল, ভোজ্যতেল এবং রসুনসহ ভোগ্য পণের দাম। বিভিন্ন ধরনের মসলার দামও বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা। জীবনধারণের জন্য দুবেলা খাওয়ার জন্য মোটা চাল কিনতে হলেও কেজি প্রতি খরচ করতে হচ্ছে ৪৫ টাকার ওপরে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিক মুনাফার আশায় প্রতি বছরই রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলতে পাঁয়তারা চালায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা এ অপতৎপরতা চালায়। সরকারের সঙ্গে বৈঠকে ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় নানা আশ্বাস দিলেও পরে তা রক্ষা করেন না তারা। রমজান, ঈদ এলেই এরা সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটার উৎসবে মেতে ওঠেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক বছরে চালের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ, অন্য চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২০ শতাংশ। খাসির মাংসের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। চিনির দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ। ১৫ শতাংশ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। রসুনের (আমদানি) দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত। লবণের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাজারে চালের সংকট নেই। তার পরও চাল ও চিনির দাম বাড়ানো হচ্ছে। কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজ করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা ১১ মাস ব্যবসা করে আর রোজার মাসে মুনাফা ছাড় দেয়। আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রোজার মাসকে মুনাফা লাভের মোক্ষম সময় ধরে নেয়। আমাদের দেশের জনগণের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।
হাওরে ফসলহানীর কারণে চালের দাম বেড়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলছেন, আমদানি করা চাল দেশে এলে বাজারে দাম কমবে। এক প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা কেউই অস্বীকার করবে না। তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় এবার হাওরের দুই-তৃতীয়াংশ ফসল ডুবে গেছে। এছাড়া বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হবে।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলার দাম রমজানের শুরুতে ছিল ৮০ টাকা। এখন এই পণ্যের দাম হয় ৮৫ টাকা। একইভাবে চিনির দাম রোজার শুরুতে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা হলেও এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। বিক্রেতারা বলেন, ছোলা আর চিনির দাম পাইকারি বাজারে বেড়েছে বলে আমাদের বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে বলে তাদেরও বাড়াতে হয়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, প্রতি বস্তা ছোলা ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছি। বস্তাপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা লাভ করছি।
নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা রসুনের। রমজানের শুরুতে এই রসুন প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ছিল। এখন সেই রসুন প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতা আসিফ বলেন, পাইকারি বাজারে আমদানি করা রসুনের সরবরাহ কম বলেই এর দাম বেশি।
এখন বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা, পারিজা ৪৫ থেকে ৪৮, মিনিকেট একটু ভালোমানের ৫৬ থেকে ৬০, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ থেকে ৫৪, বিআর আটাশ ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, নাজিরশাইল ৫৪, ভালোমানের নাজিরশাইল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, পায়জাম ৪৮ থেকে ৫০, বাসমতি ৬০ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ থেকে ৭৮, হাস্কি নাজির ৪৫ এবং পোলাও চাল খোলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ধরে বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চালের দাম বাড়লেও এর সুফল পায়নি ধান উৎপাদনকারী কৃষক। কারণ কৃষক পর্যায় থেকে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে কম দামে ধান কিনে মজুত করা হয়েছে। এখন মজুতকৃত ধানের দাম বাড়িয়ে চালের বাজার থেকে অতি মুনাফা করছেন মিলমালিকরা। এছাড়া এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্থানীয় দালাল ও ফড়িয়ারাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের ‘আছর’ ভর করছে চালের বাজারে। আর এ কারণে দাম কমছে না। চাল বিক্রেতা মাঈনউদ্দিন চালের দামের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। এ বছর বৃষ্টিতে ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার চাল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। আমদানি শুরু হলে চালের দর কমতে পারে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মামুনুর রশিদ জানান, গত ৮-১০ বছরে মোটা চালের দর এত বাড়েনি। অন্য বছর এ সময়টাতে মোটা চালের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা যেত। কিন্তু চলতি বছর মোটা চাল কিনতে ৪৫ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

লন্ডন হামলার দায় নিল আইএস

ম্যাঞ্চেস্টারের পর লন্ডন, ফের হামলার দায় নিল আইএস। নিজেদের অনলাইন মুখপাত্র ‘‌আমাক’‌–এ হামলার দায়স্বীকার করেছে তারা। লিখেছে, ‘‌আইএস যোদ্ধারাই লন্ডনে হামলা ঘটিয়েছে।’‌‌ শনিবার রাতে লন্ডনে দু’‌–দু’‌টি হামলা চালায় তিন হামলাকারী। রাত ১০টা নাগাদ প্রথমে লন্ডন ব্রিজে ৫ পথচারীকে পিষে দেয়। তারপর স্থানীয় বরো মার্কেটের এলিয়ট ক্যাফেতে ছুরি হাতে চড়াও হয়। সেখানে বেশ কয়েকজনকে কোপায়। আল্লাহর জন্যই এই হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করে। তবে মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই তাদের খতম করতে সক্ষম হয় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। হামলায় মোট সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। জখম হয়েছেন ৪৮ জন। কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনটির সদস্যরাই হামলা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পরই অনুমান করেছিলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।
রোববার আইএসের ওয়েবসাইট তা নিশ্চিত করেছে। পুলিসের গুলিতে নিহত তিন হামলাকারীর নাম–পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ প্রশাসন। তবে তারা সরাসরি আইএসের সঙ্গে যু্ক্ত ছিল বলে মানতে নারাজ গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, ‘দীর্ঘদিন ধরেই একক হামলা চালাতে সমর্থকদের উৎসাহ দিচ্ছিল আইএস। পবিত্র রমজান মাসেও যাতে রক্তপাত জারি থাকে সেজন্য বেশ কিছুদিন আগে থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার চালাচ্ছিল তারা। সংগঠনের পত্রিকাতেও তেমন নির্দেশ দেয়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব না হলে, গাড়ি চাপা দিয়ে অথবা ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই হামলাকারীরা শনিবার হামলা চালিয়েছে। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাদের মতে, মার্কিন যৌথবাহিনীর হানায় সিরিয়া ও মসুলে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে আইএস। কিন্তু দুনিয়াজুড়ে এখনো তাদের যথেষ্ট সংখ্যক সমর্থক রয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলিকে সেই বার্তা দিতেই একের পর এক নাশকতা ঘটাতে মদত দিচ্ছে তারা। এর আগে ২২ মে ম্যাঞ্চেস্টার অ্যারিনা স্টেডিয়ামে হামলারও দায় নিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই সংগঠন।

কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের সাথে সংঘর্ষে নিহত ৪

গোলযোগপূর্ণ কাশ্মীরে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে। এক মুখপাত্র বলেন, হামলাকারীরা ভোরের আগে ভারত শাসিত কাশ্মিরের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এর একটি ক্যাম্পের বাইরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালায়।
সিআরপিএফের মুখপাত্র ভুবেশ চৌধুরী বলেন, ‘তারা ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা করে। তবে তাদেরকে ক্যাম্পের গেটের ভেতরেও ঢুকতে দেয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত সফল ও চমৎকার এই অভিযানে হামলাকারীদের চারজনই নিহত হয়েছেন। আমাদের পক্ষের কেউ আহত হয়নি।’ লাশগুলো থেকে চারটি রাইফেল, গ্রেনেড ও অন্যান্য গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

লন্ডনে ছুরিকাঘাতে মুসলিম কিশোরের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি রাস্তায় ছুরিকাঘাতে আবদুর রহমান মোহাম্মদ নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টার পরপরই দক্ষিণ লন্ডনের পেকহ্যাম এলাকার সাউথহ্যাম্পটন সড়কে টেসকো এক্সপ্রেস স্টোরের কাছে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। ঘটনার প্রত্যদর্শী কেউ আছে কি না তা খুঁজে দেখছে পুলিশ। নিহত আবদুর রহমান পেকহ্যামের পার্শ্ববর্তী ক্যাম্বারওয়েলের বাসিন্দা। তাকে নিয়ে চলতি বছর লন্ডনে ছুরিকাঘাতে নিহত কিশোরের সংখ্যা আটজনে দাঁড়াল। সূত্র : বিবিসি

গভীর রাতে চলন্ত বাসে আগুন, নিহত ২২

ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে বাসে আগুন লেগে ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ জন। রোববার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। বাসটি দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের গণ্ডায় যাচ্ছিল। পথে একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মৃত্যু হয় একাধিক যাত্রীর। পরে গুরুতর অবস্থায় বাকিদের স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২২।
তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যেহেতু দুর্ঘটনাটি মধ্যরাতে হয়েছে সেই সময় অধিকাংশ যাত্রীরাই ঘুমোচ্ছিলেন। কিছু বোঝার আগে বাসটিতে আগুন লেগে যায়। এর ফলে তারা বাসের ভেতর থেকে বেরোতে পারেনি। তবে ২০ জনের মতো যাত্রী বাস থেকে বাইরে বেরোতে পারেন। তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে- এই অভিযোগে দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় বলে অভিযোগ করছে এই দেশগুলো। চারটি দেশই কাতারের নিকটতম প্রতিবেশী। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ বলছে, রিয়াদ কাতারের সাথে নিজের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, এবং জল,
স্থল ও আকাশপথে দুই দেশের যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বিচ্ছিন্ন করেছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ করে নিজের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরব এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কাতারের সাথে আকাশসীমা এবং বন্দরসমূহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে নিযুক্ত কাতারের কূটনীতিকদের দেশত্যাগের ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছে। আর বাহরাইন অভিযোগ করছে, দেশটির নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল কাতার।

'উগ্রবাদ প্রচারের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ী'

লন্ডন হামলার পর বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উগ্রবাদ প্রচারের নিরাপদ জায়গা করে দেয়ার অভিযোগ এনেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। সাইবার স্পেসে অনেক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা হয়, এমন অভিযোগ তুলে মে বলছেন, এ ধরণের কর্মকাণ্ড বন্ধে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগ কবুল করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বলেছে, এ সমস্যা নিরসনে কোম্পানীটি ইতোমধ্যেই কয়েক শ' মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ফেসবুক বলছে, তাদের সাইটে কোনো ধরণের সন্ত্রাসী প্রচারণা নজরে পড়া মাত্র তাৎক্ষণিকভাবে তা নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে মুছে দিতে অক্লান্তভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় তাদের জন্য ওয়েবসাইটটিকে তারা কঠিন একটি জায়াগায় পরিণত করতে চায়। বিশ্বের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই একমত যে, মেসেজিং অ্যাল্পিকেশনগুলোর এনক্রিপশনকে দুর্বল করার যে প্রস্তাব নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দিয়েছে, তাতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তবে, ঠিক এ কারণেই সন্ত্রাসী অনেক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিরাপদে এবং গোপনীয়তার সাথে করা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্র : বিবিসি

চীনে হাজার বছরের পুরানো বুদ্ধ মন্দিরের সন্ধান

চীনে আবিষ্কৃত হলো এক হাজার বছরের পুরানো মন্দির। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সিচুয়ান প্রদেশে এই ‘ফুগান মন্দিরে’র সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। পূর্ব জিন সাম্রাজ্য (৩১৭-৪২০) থেকে দক্ষিণ সং সাম্রাজ্য (১১২৭-১২৭৯) পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল মন্দিরটি। তাং সাম্রাজ্যের (৬১৮-৯০৭) বিখ্যাত সন্ন্যাসী দাওজুয়ান তার লিপিতে উল্লেখ করেছিলে এই মন্দিরের কথা। বলেছিলেন, তৎকালীন চলতি খরার কবল থেকে উদ্ধার পেতে এ মন্দিরেই নাকি এক আধিকারিক প্রার্থনায় বসেছিলেন। স্বর্গের ঈশ্বর তার ডাকে সাড়া দিয়ে বৃষ্টি নামিয়েছিলেন।
এই কাহিনি থেকেই মন্দিরের নাম হয়েছে ‘ফুগান’। যার অর্থ, ‘আশীর্বাদ পাওয়া’। শুধু দাওজুয়ান নন, মন্দিরের তৎকালীন মাহাত্ম্য সম্পর্কে নিজের কবিতার বর্ণনা করেছেন তাং সাম্রাজ্যের বিশিষ্ট কবি লিউ যুসি। যদিও যুদ্ধের কারণে তাং ও সং সাম্রাজ্যের পর ভগ্নস্তূপে পরিণত হয় মন্দিরটি। চত্বরে বৌদ্ধিক লিপিতে লেখা এক হাজারেরও বেশি ফলক এবং ৫০০-এরও বেশি পাথর পাওয়া গেছে। ভগ্নস্তূপ সরিয়ে মন্দিরের একটি মাত্র জায়গা পর্যটকদের জন্য খালি করে দেয়া হয়েছে। খননকার্যের সময় ৮০টি প্রাচীন কবরস্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ১৬০০-২৫৬ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের শাং ও ঝাউ সাম্রাজ্যের বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে আইএসের ৮ কমান্ডার নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তাং এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আইএসের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ডন এ খবর জানিয়েছে। মাস্তাং এলাকার পাহাড়ের কাছে শুক্রবার এ অভিযান শুরু হয় এবং শনিবার রাত পর্যন্ত তা চলে। গত ২৪ মে বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে চীনা ভাষা শিক্ষার দুই ইন্সট্রাক্টরকে অপহরণের পর এ অভিযান চালানো হয়। বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকা থেকে একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে যা চীনা দুই নাগরিককে অপহরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। অভিযানের আগে ওই এলাকায় পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আইএসের কমপক্ষে ১০ জন কমান্ডার বৈঠকে বসেছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে আট থেকে নয়জন নিহত হয়েছেন এবং বাকি এক বা দু'জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তিন কর্মকর্তাসহ সাত সেনা আহত হয়েছেন; এর মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানো গেছে। পাক সেনা কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এ অভিযানে আইএসের শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হওয়ায় দেশটিতে এ গোষ্ঠীর তৎপরতা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ডন বলছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে শনিবারের এ অভিযান চালানো হয়েছে যাতে এ ব্যাপার কোনো তথ্য প্রকাশ না হয়ে পড়ে। অভিযান সম্পর্কে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর কোনো মন্তব্য করেনি।

জীবনের শেষ ৬ মাস কেমন ছিলেন বন্দি সাদ্দাম

কারারক্ষীদের গল্প বলছেন বন্দি। ‘‘একটি পার্টিতে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে অনেককে মেরে ফেলেছিল আমার ছেলে উদে। শুনে ওর গাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। রোলস রয়েস, ফেরারি, পোরশে’’— বলতে বলতে চোয়াল শক্ত হয় ইরাকের গদিচ্যুত সম্রাটের। মার্কিন সেনার হাতে ধরা পড়ার সময়েও যার প্রথম কথা ছিল, ‘‘আমি সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট।’’ গণহত্যার দায়ে ক’দিন বাদেই ঝুলতে হবে ফাঁসিতেও। জীবনের সেই শেষ ৬ মাস বাগদাদের জেলে সাদ্দামের ওপরে নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন আমেরিকার ৫৫১তম মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির জনা ১২ সদস্য। উইল বারডেনওয়েরপার ছিলেন তাদের একজন। বইটা তিনিই লিখেছেন— ‘দ্য প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস: সাদ্দাম হোসেন, হিজ আমেরিকান গার্ডস অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লিভস আনসেড’।
ইরাকের গদিচ্যুত প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার ফসল সেই বই। উইল লিখছেন, রেডিওয় মার্কিন গায়িকা মেরি জে ব্লিজের গান শুনতে ভালোবাসতেন সাদ্দাম। টিভিতে শিশুদের অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে খিলখিলিয়ে হেসেও উঠতেন। বাগান করতেন। সাইক্লিং মেশিনে শরীরচর্চা করতেন, আবার দেদার মিষ্টি খেতেও ভালোবাসতেন। মাফিন ছিল বড় প্রিয়। উইল লিখছেন, ‘‘সাদ্দাম সকালের নাস্তায় প্রথমে খেতেন ডিমের ওমলেট। তার পরে মাফিন। সব শেষে তাজা ফল। ওমলেট ছেঁড়া-ফাটা থাকলে কখনোই খেতেন না।’’ আর ছিল হাভানা চুরুট,— ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে বাক্সে রাখা। রক্ষীদের সাদ্দাম বলেছিলেন, তাকে চুরুট খাওয়ার কৌশল শিখিয়েছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। নানা গল্প হতো কারারক্ষীদের সঙ্গে। ছেলেমেয়েদের স্কুলের প্রথম দিনের গল্প। ছেলেকে সাজা দেয়ার গল্প। কোথায় যেন তৈরি হয় একটা সখ্য। হয়তো তাই সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে একটা শূন্যতা গ্রাস করেছিল রক্ষীদের অনেককেই। একজন বলেই ফেলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে, নিজের পরিবারের কেউ মারা গেছে। সেই মৃত্যুর জন্য যেন আমিই দায়ী।’

এ কেমন ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য!

আগামী মাস থেকে বিদ্যুৎ বিলের ওপর আপনাকে বর্ধিত হারে ভ্যাট দিতে হবে। কিন্তু আগামী মাস থেকে আপনি যদি বাইরে থেকে ‘জীবন্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্চর ও ঘোটক’ আমদানি করেন তবে তার ওপর কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। কারণ আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শূকরের মাংস, তাজা বা ঠাণ্ডা যেকোনোভাবেই আমদানি করা হোক না কেন তাতে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। দেশীয় চাল, মুড়ি, ভোজ্যতেল, লবণ, চিনি ও দুধের পাশাপাশি লেটুস এবং চিকোরি, তাজা অথবা ঠাণ্ডা এবং নারিকেল, ব্রাজিল বাদাম এবং কাজু বাদাম, তাজা অথবা শুকনা খোলস বা আবরণ ছাড়ানো হোক বা না হোক তাকেও ভ্যাটের আওতায় বাইরে রাখা হয়েছে। রূপপুর পারমাণিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিকে ভ্যাট অব্যাহতি তালিকায় রাখা হলেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হলে কিন্তু গ্রাহককে আগামী মাস থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে। সরকারের ফাস্ট ট্রাকের সব প্রকল্পের বেশির ভাগ সরবরাহ, নির্মাণ ও ইন্টারনেটকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহক সবাইকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ২৬-এ এই ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা দেয়া হয়েছে। এটিই বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছেÑ এ কেমন ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য! বাংলাদেশে কারা গাধা বা শূকরের মাংস আমদানি করে? তাদের অংশ বা কতটুকু। এ ধরনের পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া পণ্যের তালিকায় স্থান দেয়া কী শুধু পণ্যের তালিকা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতাকে চিহ্নিত করবে? আগে ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা ৫০০ মতো থাকলেও নতুন ভ্যাট আইনে তার সংখ্যা করা হয়েছে এক হাজার ৪৩টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু ‘লোক দেখানো’র জন্য ভ্যাট অব্যাহতি পণ্যের তালিকা লম্বা করা হয়েছে।
কিন্তু এই লম্বা তালিকার অনেক পণ্য বাংলাদেশে কেউ আমদানি করে বলে মনে হয় না। ভ্যাট অব্যাহতি পণ্যের তালিকায় এমন কিছু পণ্য নাম দেয়া হয়েছে, যা দেশের মানুষ আগে কখনো শুনেছেন বলে মনে হয় না। যেমন নতুন ভ্যাট আইনে বলা হয়েছেÑ) জীবন্ত পক্ষীগুলো, যা গ্যালাস ডোমেস্টিকাস প্রজাতির পক্ষীগুলো, পাতিহাঁস, হংসী টার্কি এবং গিনি পক্ষীগুলো’ আমদানি ও সরবরাহকারীকে ভ্যাট প্রদান করতে হবে না। এসব পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় আরো রয়েছেÑ জীবন্ত গবাদিপশু’ জীবন্ত ভেড়া ও ছাগল, অন্যান্য জীবন্ত পশু, গবাদি পশুর গোশত, তাজা অথবা ঠাণ্ডা (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া), ভেড়া অথবা ছাগলের গোশত, ঠাণ্ডা অথবা হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া), ঘোড়া, গাধা, খচ্চর অথবা ঘোটকের মাংস, তাজা, ঠাণ্ডা অথবা হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া)। গবাদি পশু, শূকর, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর অথবা ঘোটকের ভোজ্য নাড়িভূঁড়ি, তাজা, ঠাণ্ডা, অথবা হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া)। ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় আরো স্থান পেয়েছেÑ শূকরের মেদবিহীন মাংস এবং গৃহপালিত পক্ষীগুলোর মেদ (গলানো নয়) তাজা, ঠাণ্ডা, হিমায়িত অথবা শুকনা। জীবন্ত মাছ। খোলকযুক্ত অথবা খোলক ছাড়ানো, জীবন্ত, তাজা, ঠাণ্ডা, হিমায়িত, শুকনা, লবণাক্ত বা লবণ পানিতে সংরক্ষিত শামুক জাতীয় প্রাণী, শামুক বা কাকড়া জাতীয় প্রাণী ছাড়া অন্যান্য জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী জীবন্ত তাজা ঠাণ্ডা, হিমায়িত, শুকনা, লবণাক্ত বা লোনা পানিতে সংরক্ষিত। খোলকযুক্ত পাখির ডিম, তাজা, সংরক্ষিত বা রন্ধনকৃত। গাজর, শালগম, সালাদ বিটমূল, স্যালসিফাই, সেলিরিয়াক, মুলা এবং এই জাতীয় ভোজ্য মূল, তাজা অথবা ঠাণ্ডা (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া)।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগে বহাল

দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এর ওপর শুনানি করতে বলা হয়েছে। এই সময়ে চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গত ৩০ মে সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে ৫ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে বিইআরসি পক্ষে শুনানিতে ছিলেন, অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল একরামুল হক টুটুল। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও এম সাইফুল আলম। ২৩ ফেব্রুয়ারির বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী মার্চ মাস থেকে আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার জন্য ৭৫০ (আগে ৬০০) ও দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা (আগে ৬৫০) বিল দেওয়ার কথা বলা হয়। আর জুন মাস থেকে এক চুলার জন্য ৯০০ ও দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা বিল দেওয়ার কথা।

মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ঐশীকে যাবজ্জীবন

ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের মৃত্যদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আজ সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে এই আদেশ দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সঙ্গে ঐশীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এর আগে ঐশী রহমানকে ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর দুবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।  ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে ঐশী রহমান রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। ওই দিন আদালতে হাজির করার পর খাস কামরায় নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ওই দিন আদালত বলেন, একটি মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়—মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঐশী রহমান হত্যার সময় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন এবং বংশগতভাবে তাঁরা মানসিক রোগী। তাঁর দাদি, চাচারা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। সেই মেডিকেল রিপোর্টের সত্যতা যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করতে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার দিন বিকেলে পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন ওই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ঐশীকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আবুল খায়ের। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৪৯ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

একাদশে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশ

একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে মনোনীতদের প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে এই তালিকা প্রকাশ করে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রথম তালিকায় ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জনকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের তালিকা কলেজে ভর্তির সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবে। এছাড়া মোবাইলে এসএমএস করেও প্রার্থীদের ফল জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আদেনকারীদের মধ্যে ৯৫ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবেন। আগামী ১৩ জুন দ্বিতীয় এবং ১৮ জুন তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) পাশাপাশি টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা।

উত্তরাঞ্চলের ৭০ আসনে বিএনপির ১৮৪ সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা

ভিশন ২০৩০ দিয়ে বসে নেই বিএনপি। একটি সহায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন আদায় করতে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যেই সারা দেশে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় তৈরি করছেন। বিশেষ করে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলার ৭০টি সংসদীয় আসনে দলীয় সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে চায়। এ জন্য ১৮৪ জনের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেছে বিএনপির হাই কমান্ড। বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন করা হবে বলে সূত্র জানায়। সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি এরই মধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে ৭৬ জন নেতার তালিকা করেছে। তারা হচ্ছেন
রংপুর : রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে উপজেলা সহসভাপতি ওয়াহেদুজ্জান মাবু, মোকাররম হোসেন সুজন ও কামরুজ্জামান লিপটন; রংপুর-২ বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি পরিতোষ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শাহান, রংপুর মহানগর যুবদল সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, পৌর সাধারণ স¤পাদক মো: কমল লোহানী; রংপুর-৩ সদর আসনে মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি সামসুজ্জামান সামু, সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা সেক্রেটারি রইচ আহমেদ; রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে কাউনিয়া উপজেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা, জেলা সদস্য কর্নেল (অব:) আবদুল বাতেন; রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি এ কে এম রুহুল উল্লাহ জুয়েল, ছাত্রদল উপজেলা সাবেক সভাপতি খাজা নুর খাজা; রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য নুর মোহাম্মদ মণ্ডল, জেলা সভাপতি সম্পাদক সাইফুল ইসলাম; নীলফামারী-১ ডোমার-ডিমলা আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন অথবা তার বাবা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী; নীলফামারী-২ সদর আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক সোহেল পারভেজ, পৌরসভা শাখার সভাপতি জহুরুল ইসলাম; নীলফামারী-৩ জলঢাকা-আংশিক কিশোরীগঞ্জ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান, জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী; নীলফামারী-৪ সৈয়দপুর-আংশিক কিশোরীগঞ্জ আসনে কণ্ঠশিল্পী ও জাসাস নেত্রী বেবী নাজনীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম ও সৈয়দপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সরকার; পঞ্চগড়-১ পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদরের পৌর মেয়র মো: তৌহিদুল ইসলাম; পঞ্চগড়-২ বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান একক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে এ তালিকায় এখন স্থান পেয়েছেন যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ ছাড়া বিকল্প প্রার্থী হিসেবে পঞ্চগড় ১ ও ২ আসনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নাম রয়েছে; ঠাকুরগাঁও-১ সদর আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের একক প্রার্থী; ঠাকুরগাঁও-২ বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেড এম মর্তুজা চৌধুরী তুলা, ড্যাবের সহসভাপতি ডা: আবদুস সালাম; ঠাকুরগাঁও-৩ পীরগঞ্জ-রানীশংকৈইল আসনে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ, সহসভাপতি জামান চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া।
দিনাজপুর : দিনাজপুর-১ বীরগঞ্জ-কাহারোল আসনে বীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সুমন; দিনাজপুর-২ বিরল-বোচাগঞ্জ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান একক প্রার্থী; দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে দিনাজপুর পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে তাহাসিন আখতার ডন; দিনাজপুর-৪ খানসামা-চিরিরবন্দর আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া; দিনাজপুর-৫ ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি অধ্যপক খুরশিদ আলম মতি; দিনাজপুর-৬ বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট আসনে জেলা সাবেক সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান মিন্টু।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাট-১ পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা আসনে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন, জেলা সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান; লালমনিরহাট-২ আদিতমারী-কালীগঞ্জ আসনে কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সালেউদ্দিন মো: হেলাল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম; লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক স¤পাদক আসাদুল হাবিব দুলু একক প্রার্থী।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম-১ নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম সরকার; কুড়িগ্রাম-২ কুড়িগ্রাম সদর-ফুলবাড়ী আসনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, জেলা সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, শফিকুল ইসলাম লেবু, জেলা যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ; কুড়িগ্রাম-৩ উলিপুর আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি তাজভির উল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল খালেক; কুড়িগ্রাম-৪ রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী আসনে রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিনু।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে সাবেক পিপি ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ; গাইবান্ধা-২ সদর আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আনিছুজ্জামান খান বাবু, জিয়া পরিষদ নেতা খন্দকার আহাদ আহম্মেদ; গাইবান্ধা-৩ সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা: মো: মইনুল হাসান সাদিক, সাবেক ছাত্রনেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মো: রফিকুল ইসলাম রফিক; গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনে উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: আবদুল মান্নান, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান মো: ফারুক কবীর আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম; গাইবান্ধা-৫ ফুলছড়ি-সাঘাটা আসনে জেলা বিএনপি সদস্য মো: হাসান আলী, সাঘাটা উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও শিল্পপতি নাজমুল ইসলাম নয়ন।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৩৭টি আসনের জন্য ১০৮ জনের একটি সম্ভাব্য তালিকা করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড। সেই সূত্রে চলছে প্রয়োজনীয় তদবির-দেনদরবার। এ বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেনÑ
রাজশাহী : রাজশাহী-১ তানোর-গোদাগাড়ী সংসদীয় আসন থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক যুগ্মসচিব গোলাম মোর্ত্তজা, মুণ্ডমালা পৌর বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হকের ছেলে প্রবাসী অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন শাহীন; রাজশাহী-২ সদর আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সম্ভাবনা রয়েছে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন পাহীন; রাজশাহী-৩ পবা-মোহনপুর আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক এবং নগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু, যুবদল নেতা রায়হানুল আলম, শিল্পপতি ও বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান; রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ও আবু হেনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ডি এম জিয়াউর রহমান; রাজশাহী-৫ পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আবু বকর সিদ্দিক; রাজশাহী-৬ বাঘা-চারঘাট আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য ও চারঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, কেন্দ্রীয় সদস্য রমেশ চন্দ্র ও দেবাশীষ রায় মধু, বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান, আজিজুর রহমান।
বগুড়া : বগুড়া-১ সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনে জেলা বিএনপির কোষাধ্য শোকরানা, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান তৈয়ব জাকির; বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মীর শাহে আলম; বগুড়া-৩ আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনে সাবেক এমপি আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা, থানা সদস্য সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল; বগুড়া-৪ কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনে সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী জেড আই মোস্তফা আলী মুকুল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাফী পান্না, জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ডা: জিয়াউল হক মোল্লা; বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কে এম মাহবুবার রহমান হারেছ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, শেরপুর পৌসভা চেয়ারম্যান স্বাধীন কুমার কুণ্ডু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ; বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একক প্রার্থী। বগুড়া-৭ গাবতলী ও শাজাহানপুর আসনেও খালেদা জিয়া একক প্রার্থী।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ-১ কাজীপুর আসনে কণ্ঠশিল্পী কনক চাপা, সিরাজগঞ্জ শহর বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম তালুকদার রানা, কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা, কাজীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য টি এম তাজুল ইসলাম তুষার; সিরাজগঞ্জ-২ সদর-কামারখন্দ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির তাঁতীবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা মোস্তফা জামান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) মোহাম্মদ হানিফ; সিরাজগঞ্জ-৩ রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা আসনে চারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশির, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি ভিপি আয়নুল হক; সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়া আসনে উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী, উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী কামাল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল ইসলাম খান; সিরাজগঞ্জ-৫ বেলকুচি-চৌহালী আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) মঞ্জুর কাদের, বিএনপির তাঁতীবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা গোলাম মওলা খান বাবলু, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, চৌহালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল মামুন; সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসনে সাবেক সংসদ সদস্য কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মরহুম ডা: এম এ মতিনের ছেলে ডা: এম এ মুহিত, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গ্যাদন মাহমুদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সম্পাদক মনির হোসেন।
নওগাঁ : নওগাঁ-১ পোরশা-নিয়ামতপুর-সাপাহার আসনে সাবেক এমপি ডা: সালেক চৌধূরী, নওগাঁ-২ পতœীতলা-ধামইরহাট আসনে জেলা বিএনপির নেতা সাবেক এমপি সামসুজোহা খান, নওগাঁ-৩ মহাদেবপুর-বদলগাছী আসনে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট আখতার হামিদ খান সিদ্দিকী, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল; নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে সাবেক এমপি সামছুল হক প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ সদর আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরমেয়র নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু; নওগাঁ-৬ আত্রাই-রানীনগর আসনে আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বুলু একক প্রার্থী।
পাবনা : পাবনা-১ সাঁথিয়া-বেড়া আসনে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, সাঁথিয়া থানা সভাপতি মাহমুদ মোর্শেদ ; পাবনা-২ সুজানগর-বেড়া আসনে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, কৃষিবিদ হাসান জাপির তুহিন; পাবনা-৩ চাটমোহর-ভাঙুরা-ফরিদপুর আসনে চাটমহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনে শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব; পাবনা-৫ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারপাসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস একক প্রার্থী।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-১ সদর, পাঁচবিবি আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো: মোজাহার আলী প্রধান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলীম; জয়পুরহাট-২ আক্কেলপুর-কালাই-তেলাল আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সাবেক ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল বারিক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি লায়ন সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, আক্কেলপুর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ আহম্মেদ রানা, তেলাল উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি রওনুকুল ইসলাম টিপু;
নাটোর : নাটোর-১ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন নাহার পাপ্পু, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু; নাটোর-২ আসনে সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ব্যবসায়ী আবুল কাসেম, সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি; নাটোর-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হক, লালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়নাল হক তালুকদার; নাটোর-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী গোলাম মোর্শেদ, সিংড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি শামিম আল রাজি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলা আসনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্য আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, সাবেক যুবদল নেতা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার ব্যাপারে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু জানান, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় নির্বাচনের মাধ্যমে। সেজন্যই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত ছাড়াও যাছাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, এবার আন্দোলনের মাধ্যমে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনও হবে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাবে ইনশাল্লাহ।