Saturday, January 25, 2025
পানির নিচে ১২০ দিন, বিশ্বরেকর্ড
খাদ্য, দর্শনার্থী ও ডাক্তারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় জায়গাটি। সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় সেখানে। যদিও ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর রাখা হয়। কিন্তু গোসলের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। কোচের যাত্রার মাঝপথে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক। তাকে কোচ বলেন, তার অভিজ্ঞতা পাল্টে দিতে পারে জীবন সম্পর্কে ধারণা। তিনি আরও বলেন, আমরা যেটি বোঝানোর চেষ্টা করছি তা হলো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাসস্থানের জন্য সমুদ্র একটি টেকসই জায়গা। এদিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের বিচারক সুসানা রেইস-এর উপস্থিতিতে পানির নিচে তার ৩০ বর্গমিটারের (৩২০ বর্গফুটের) ‘ঘর’ থেকে আবির্ভূত হন তিনি।
ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে এ রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জোসেফ দিতুরি। ফ্লোরিডার অগভীর হ্রদে ১০০ দিন পানির নিচে থাকার রেকর্ড ছিলো তার। এদিকে ১১ মিটার (৩৬ ফুট) পানির নিচে থেকে এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ বলেন, এটা খুব ভালো অ্যাডভেঞ্চার ছিলো। আমি অনেক উপভোগ করেছি। তবে এটি শেষ হওয়াতে একটু আশাহতও হয়েছি। তিনি আরও বলেন, এ অনুভূতি বর্ণনা করা অসম্ভব। এ অভিজ্ঞতা আপনি নিজে অর্জন করলে তখন তা অনুভব করতে পারবেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির ‘কথার টোন আওয়ামী লীগের সাথে মিলে যাচ্ছে’ -বিবিসি বাংলাকে নাহিদ ইসলাম
শুক্রবার বিবিসি বাংলাকে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে সরকার থেকে বের হয়ে যাবেন।’
বিশেষত ‘বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ থাকতে না পারলে নির্বাচন করতে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে’ এবং শিক্ষার্থীরা ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে ‘বেরিয়ে আসা উচিত’ এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে।
সরকারের দুই তরুণ উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিক্রিয়ার পরও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া অব্যাহত আছে।
ওয়ান ইলেভেন প্রসঙ্গ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে আরেকটা এক এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এক এগারো এবং মাইনাস টু-এর আলাপটা কিন্তু সর্বপ্রথম বিএনপিই রাজনীতির মাঠে এনেছে কিছুদিন আগে।’
অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি ও অংশীজনদের সমর্থনেই সরকার গঠন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিএনপি মহাসচিবের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে বক্তব্য নিয়ে ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করেন।
এই সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বা সরাতে তার ভাষায়, দেশি-বিদেশি চক্রান্তের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক অবস্থানের সাথেও সাদৃশ্য দেখছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সে কিন্তু স্ট্যাটাস দিয়েছে যে এটা অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার, একটা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে, এর আন্ডারে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব না। সো একই টোনে আমরা যখন কথা বলতে দেখছি, এটা কিন্তু একটা সন্দেহের তৈরি করে।’
আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে এই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে না এবং পরবর্তী নির্বাচন ‘একটি নতুন (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের অধীনে হতে হবে’ আরাফাতকে উদ্ধৃত করে পোস্ট দেয়া হয়।
‘আমি মনে করি না যে এটা তারা (বিএনপি) ঐ উদ্দেশ্য থেকে বলেছে, কিন্তু তাদের কথার টোনটা কিন্তু আওয়ামী লীগের সেই টোনের সাথে মিলে যাচ্ছে’ বিবিসিকে বলেন নাহিদ ইসলাম।
অন্যদিকে শুক্রবার দলীয় একটি অনুষ্ঠানে বিএনপিকে ওয়ান ইলেভেনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বিএনপি ওয়ান ইলেভেন আনার পাঁয়তারা করছে এমন অভিযোগের জবাবে শুক্রবারেই তিনি উল্লেখ করেন ‘এক-এগারোর যে ভয়াবহ পরিণতি তা বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ ভোগ করে নাই’।
বিএনপির নেতা-কর্মী, সাধারণ কর্মী থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত সবাই এতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনেক দল, অনেক ব্যক্তি টেলিভিশনে কথাবার্তা দেখে ‘মনে হয় বিএনপি যেন আওয়ামী লীগের দোসর! বিএনপি কি আওয়ামী শিবিরের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে’ মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।
‘ভারতের দোসর ঐ আওয়ামী লীগ, তাদের দিকে বিএনপিকে যারা ঠেলে দিতে চায়, আমি বলবো তারা নিজের চেহারাটা আয়না দিয়ে দেখুন। নিজের অন্তরটাকে আয়না দিয়ে দেখুন, দেশবাসীকে আজকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করবেন না।’
গত দেড় দশকে দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সবাই যেভাবে নিপীড়িত হয়েছেন তার উদাহরণ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সিল মারতে চান? আমাদেরকে ভারতের দালাল বানাতে চান? এই কথা কখনও চিন্তা করবেন না।’
প্রয়াত আরাফাত রহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় বিএনপির দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাজারমূল্যের দিকে সরকারের দৃষ্টি না দেয়া বা প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে তার জন্য কি কোনও সমালোচনা করা যাবে না? তাহলে কীসের ভয় দেখান যে এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি হবে?’
নির্বাচন প্রসঙ্গ
বিচার কার্যক্রম, সংস্কার, ও নির্বাচন এসবগুলোই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হলেও ‘বিএনপি কেন জানি মনে করে এই সরকারটা হয়েছে কেবল একটি নির্বাচন দেয়ার জন্য’ বিবিসিকে বলেন নাহিদ ইসলাম।
আর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গে অবশ্য নাহিদ ইসলাম বলছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে তো আমরা নিরপেক্ষই মনে করছি। বিএনপি কেন মনে করছে না নিরপেক্ষ আচরণ, বিএনপির এটা স্পষ্ট করা উচিৎ।’
নির্বাচনের সময় এগিয়ে এলে এসব বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা সম্ভব বা কোনও অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষতার স্বার্থে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেটা তখন সরকার বিবেচনায় নিতে পারবে এমনটাও বলেন তিনি।
একই সাথে ‘প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বা সাংবিধানিক পদে যদি বিএনপিপন্থী লোকজন থাকে, সেটাও নিরপেক্ষতা লাগবে কিনা, তাহলে সেটাও বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু এখন তো এটার সময় আসেনি’ উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
অবশ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম অবশ্য বিবিসির সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যদি সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা নির্বাচন কনডাক্ট করা পর্যন্ত থাকবেন। তা না হলে তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।’ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন সামনে আসতে পারে উল্লেখ করেছেন সরকারে থাকা অবস্থায় ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে।
এখনকার পরিস্থিতিতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এর উত্তরে ‘না’ বলেছিলেন।
বিএনপির দিক থেকে যদিও এসব নিয়ে আরও নানা ধরণের বক্তব্য আসছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার উল্লেখ করেছেন, সব পক্ষের সমর্থনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলেও ‘যখন শুনি আগে সংস্কার পরে নির্বাচন, এ যেন মনে হয় শেখ হাসিনার কথারই প্রতিধ্বনি। কারণ, শেখ হাসিনা বলতেন আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র।’
অন্তর্বর্তী সরকারের কারও মুখে সেটা শোভা পায় না বলে মনে করেন রুহুল কবির রিজভী।
এছাড়া এক-এগারোর পুনরাবৃত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বিএনপি বছরের পর বছর রাজপথে লড়াইতে থেকেছে, কোনটাকে সমর্থন করতে হবে, কোনটাকে নয়, কোন বিষয়ে কথা বলতে হবে এটা কি আজকে উপদেষ্টারা দেশের প্রাজ্ঞ বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরকে শিখাবেন? আমাদের সকল আস্থা তো আপনাদের ওপর দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমাদের কথা হলো গড়িমসি কেন? কেন ডেডলাইন নেই? কেন হাসিনার কথার পুনরাবৃত্তি হবে?’
মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘অনেকে বলেন বিএনপি শুধু নির্বাচন-নির্বাচন করে। আরে ভাই নির্বাচন-নির্বাচন করি না। খামাখা এ সমস্ত আজেবাজে কথা আপনারা বইলেন না।’
বিএনপি সম্প্রতি ‘দ্রুত নির্বাচন’ দেয়ার কথা বলেছেন। আগামী জুলাই-আগস্টেও নির্বাচন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ নিয়ে অবশ্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এ বছরের শেষ থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময়সীমা প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছেন তাতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকাল এবং নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা দেয়া হয়েছে, সে পর্যন্ত ধৈর্য রেখে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সামনে এগোনো প্রয়োজন।’
‘যখন গুম বা জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, ‘হয়তো সামনের মাসেই হয়তো আলোচনা, নেগোসিয়েশন, বারগেনিং (দরাদরি) শুরু হবে, বিএনপির বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের আলাপগুলোতে মনোযোগী হওয়া উচিৎ, বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা উচিৎ, সে সময় তারা বলছে এ সরকারের চেয়ে নিরপেক্ষ একটা সরকার প্রয়োজন।’
নানা বাদানুবাদ থাকলেও নাহিদ ইসলাম এবং মির্জা আব্বাস দুজনই দেশ গঠনে সংঘাত বা বিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলেছেন।
![]() |
| তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েল ও মিসরকে অস্ত্র সহায়তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত: ফাঁস হওয়া নথির তথ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিন পর দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি অভ্যন্তরীণ নথি বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের সময় বৈদেশিক সহায়তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধসংক্রান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণের আশ্বাস দেন ট্রাম্প।
ফাঁস হওয়া ওই নথিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি নতুন ও বিদ্যমান সহায়তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব পরিপূর্ণভাবে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের আগ পর্যন্ত এগুলোর অধীন বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না।’
উন্নয়ন সহায়তা থেকে শুরু করে সামরিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তায় এ নির্দেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ নির্দেশের কারণে ভুক্তভোগী হতে পারে ইউক্রেনও। সদ্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
এ নির্দেশের অর্থ এটিও যে এইডস ত্রাণবিষয়ক প্রেসিডেন্টের জরুরি পরিকল্পনা বা পিইপিএফএআরের জন্য অন্তত কয়েক মাস তহবিল বন্ধ হয়ে যাবে। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোয়, বিশেষ করে আফ্রিকায় এইডসের চিকিৎসায় ওষুধ কেনা হয়।
২০০৩ সালের জর্জ ডব্লিউ বুশ পিইপিএফএআর চালু করেছিলেন। ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে এটি সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নথিতে উল্লেখিত নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবে ইসরায়েল ও মিসরে দেওয়া সামরিক সহায়তা। গাজাযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র সহায়তা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা তহবিল পেয়ে আসছে মিসর।
যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি খাদ্য সহায়তাও নতুন নির্দেশনার বাইরে থাকবে। সুদান ও সিরিয়াসহ বিশ্বের সংকটাপন্ন দেশগুলোতে লম্বা সময় ধরে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা বলেছেন, পিইপিএফএআরের অধীন ওষুধ সহায়তার ওপরে দুই কোটির বেশি মানুষ নির্ভরশীল। এ ছাড়া ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে গৃহীত ম্যালিরিয়াবিরোধী পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল।
নথিতে আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে সব বৈদেশিক সহায়তা অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে।
ট্রাম্প গত সোমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ৯০ দিনের জন্য বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তবে এ আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার দীর্ঘদিনের ধারা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।
অক্সফামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট অ্যাবি ম্যাক্সম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের মাত্র এক শতাংশ ব্যয় হয় মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায়। এসব সহায়তা মানুষের জীবন বাঁচায়, রোগবালাইয়ের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে, লাখো শিশুকে শিক্ষার আলো দেখায় ও দারিদ্র্যের হার হ্রাস করে।
অ্যাবি আরও বলেন, এসব সহায়তা প্রকল্প স্থগিত কিংবা পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি সংকটাপন্ন অসংখ্য শিশু ও পরিবারের জন্য বাঁচা-মরার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল স্বীকার করলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল
মুখ খুললেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বীকার করলেন গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা। কেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আর ভবিষ্যতে কী করা উচিত সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানালেন নিজের মতামত। আওয়ামী লীগ আমলের এই দাপুটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ই আগস্ট বাড়ি ছাড়েন তিনি। ধারণা করা হয়, বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানকার সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য:
প্রশ্ন: চলমান পরিস্থিতি থেকে আওয়ামী লীগ কোথায় যাবে? দলটির পুনরুত্থান কীভাবে হবে?
উত্তর:
আমি ১০ বছর ছয় মাস বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম। এ সময়ের মধ্যে
আমি বহু উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছি...। এখন সবকিছু ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে
উল্টে গেছে। গত বছরের ৩রা আগস্ট থেকে ৫ই আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪৬০টি থানা
পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী
যেখানে থাকেন সেই গণভবন থেকে এসএসএফের (ভিভিআইপি নিরাপত্তার
দায়িত্বপালনকারী বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী) অস্ত্রও কেড়ে নেয়া হয়। আমি নিজে ৫
এবং ৬ই আগস্ট ঢাকায় ছিলাম; পরে ৭ই আগস্ট আমার বাড়ি ছাড়ি।
প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আপনি কি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না?
উত্তর:
যখন থানাগুলো পুড়েছে কার্যত পুলিশ তখন অকার্যকর হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে
মৃতদের সাক্ষী করে তাদের মৃতদেহ গণনা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। যেখানে
পুলিশ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা দেয় সেখানে তারা যখন নিজেরাই অকার্যকর হয়ে
যায় তাহলে বিষয়টা কেমন হয়? আমি বলবো সেখানে যৌথ অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে।
ইসলামী উগ্রবাদ এবং সেনাবাহিনীর যৌথ অভ্যুত্থান।
প্রশ্ন: স্পষ্টতই এখানে গোয়েন্দাদের বড় রকমের ব্যর্থতা ছিল। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি এ বিষয়টি স্বীকার করেন?
উত্তর:
হ্যাঁ আমি এ বিষয়ে একমত যে, ইচ্ছাকৃত হোক বা অন্যভাবেই হোক গোয়েন্দাদের
বিশাল ব্যর্থতা ছিল। সেনাবাহিনীর বিশেষ একটি গোয়েন্দা ইউনিট রয়েছে,
ডিজিএফআই (ডিরেক্টর জেনারেল ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স)। তারা সরাসরি
প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাও সরাসরি
প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করে। এমনকি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও
প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করে। গোয়েন্দাদের রিপোর্টের সারসংক্ষেপটাই
শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আসে।
প্রশ্ন: আপনি কি স্বীকার করেন যে, আপনার দল কিছু মৌলিক ভুল করেছে; যার ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর:
আমি বিষয়টিকে ভুল বলবো না, তবে হ্যাঁ, দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে
আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। এটাই মূল কথা। দুই বছর পর নতুন নেতাদের আসার
কথা ছিল। কিন্তু আমরা যথাসময়ে নেতা নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে কি আপনার যোগাযোগ হচ্ছে?
উত্তর:
তার সঙ্গে দেখা করতে পারছি না; তবে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়। সার্বিক
বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে, তিনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ৪ঠা আগস্ট মধ্যরাত
পর্যন্ত আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। পুলিশের প্রধানও ছিলেন সেখানে। সেনাপ্রধানও
সেখানে ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কিছুই হবে না। আমরা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন আপনার
সুরক্ষার দায়িত্ব আমার জিম্মায়। এসব কিছুর সাক্ষী আমি নিজে। তখন আমি
সেনাপ্রধানকে জিজ্ঞেস করেছি- আপনি কি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন? তিনি জবাবে
হ্যাঁ বলেছিলেন। এরপর আমি আমার অধীনে থাকা পুলিশ প্রধানকে সেনাপ্রধানের
সঙ্গে স্বাধীনভাবে আলোচনা করার কথা বলেছি। তারা যেন সব স্বাভাবিক করে।
কিন্তু আপনি দেখেছেন ৫ই আগস্ট কী হয়েছে।
প্রশ্ন:
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পলাতক আছেন; অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক।
তাদের মনোবল ধরে রাখতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে তা কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
উত্তর:
আওয়ামী লীগের কর্মীদের মনোবল অনেক উঁচু। শেখ হাসিনা ছাড়া তারা ভবিষ্যতের
কথা ভাবতে পারে না। তিনিই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার
পর থেকে তিনি অর্থনীতির পরিবর্তন করেছেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবর্তন
করেছেন।
প্রশ্ন: আপনি ভারতের কাছ থেকে কী আশা করছেন? ভারত কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
উত্তর:
আমি মুক্তিযোদ্ধাদের একজন কমান্ডার ছিলাম, তাই আমি জানি ১৯৭১ সালে ভারত
বাংলাদেশের জন্য কী করেছে। আমি স্বীকার করি যে, ভারত সব সময় বাংলাদেশকে
সাহায্য করার জন্য সেখানে ছিল। এখন ভারত কূটনৈতিকভাবে আমাদের সাহায্য করতে
পারে। আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আদালতে যেতে পারছেন না। নতুন করে বিচারক
নিয়োগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমত, আদালত যাতে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে,
সেজন্য কূটনৈতিক চাপ এবং এর পক্ষে আওয়াজ উত্থাপন করা উচিত। আমি মনে করি
ভারত এভাবে সাহায্য করতে পারে।
প্রশ্ন: আপনার পরিবার এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর:
আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে জেলে...আমার অনেক আত্মীয়স্বজনও ভালো অবস্থায়
নেই। আমার ছেলে কাশিমপুরের একটি কারাগারে রয়েছে; যেখানে আমরা একসময়
সন্ত্রাসীদের আটক রাখতাম। কয়েকদিন পরপরই ছেলের কাছে বর্তমানে দায়িত্বে
থাকা কেউ না কেউ আমার অবস্থান জানতে চায়। এ ছাড়া আমার ওপর একের পর এক মামলা
হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে প্রায় ২৯০টি খুনের মামলা হয়েছে। এটি নিশ্চয়ই একটি
রেকর্ড, হয়তো আন্তর্জাতিক রেকর্ডও। ৫৪টি মামলায় যাকে খুন করার কথা বলা
হয়েছে তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন...সেই মামলাগুলোতে, আমার সঙ্গে সাবেক
প্রধানমন্ত্রীসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতার নামও রয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি কি বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত? এ ছাড়া আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত?
উত্তর:
আমি ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি না। তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যখন আইনের শাসন
পুনরুদ্ধার করা হবে, বিচারকরা অবাধে এবং নির্ভয়ে মামলার শুনানি করতে পারবেন
এবং আমাদের আইনজীবীরা আমাদের পক্ষে উপস্থিত হতে পারবেন। আমরা নির্বাচনে
বিশ্বাস করি, আমরা অবশ্যই নির্বাচনে লড়বো যদি আমরা সবাই সেখানে যেতে
পারি...।
প্রশ্ন: শেখ হাসিনা নির্বাসিত। দলের বেশির
ভাগ নেতাও এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। এমন পরিস্থিতিতে দলকে শক্তিশালী করাটা
কতোটা চ্যালেঞ্জের বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: এটা
অসম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি- এটা সম্ভব। আমার বিশ্বাস খুব অল্প সময়ের
মধ্যেই তা বদলে যাবে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমি সেখানকার পরিস্থিতি
দেখেছি। সেখানকার জনগণকে দেখেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমরা খুব শিগগিরই
চলমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। যদিও অনেক নেতার সম্পর্কে আমাদের
কাছে কোনো খোঁজ নেই...। তবে যদি লড়াই শুরু করি তারা পুনরায় ফিরে আসবেন।
আমার বয়স ৭৫ হতে চলেছে, আমি বিশ্বাস করি যে, আমি এখন বোনাস জীবনে আছি।
সেজন্য আমি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের তরুণ নেতারাও এই চ্যালেঞ্জ
নিতে প্রস্তুত। তরুণদের এগিয়ে আসার সময় এসেছে।
প্রশ্ন: চলমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা কী?
উত্তর:
গণমাধ্যম সম্পূর্ণভাবে এখন তাদের (অন্তর্বর্তী সরকারের) নিয়ন্ত্রণে।
গণমাধ্যম কোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে মন্তব্য করতে পারছে না। তারা সবকিছুর জন্য
আওয়াজ তুলতে পারে না। তারা এখন নীরব। আমি বিশ্বাস করি যদি আমাদের নেত্রী
শেখ হাসিনা সবাইকে এগিয়ে আসতে বলেন, তাহলে অবশ্যই সেটা ঘটবে।
প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সময় তার কাছ থেকে কী নির্দেশনা পেয়েছেন?
উত্তর:
তিন দিন আগে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তার নির্দেশনা হচ্ছে- সকল নেতাদের
ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; যার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি কাটিয়ে
ওঠা যায়।
প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আপনার বার্তা কী?
উত্তর:
তার চেয়ারে বসার কোনো অধিকার নেই, তিনি কোনো নেতা নন, কোনো রাজনৈতিক
ব্যক্তিও নন। দেশে খুব অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ এক অদ্ভুত উদাহরণ হয়ে
দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের উচিত তার পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক দলকে
নির্বাচনে লড়তে দেয়া এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার সুযোগ করে দেয়া। কেননা,
এটাই একমাত্র উপায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে: প্রেস উইং
ওদিকে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেক এক বার্তায় জানিয়েছে,
বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডার অংশ হিসেবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক দিনে
একাধিক মিথ্যা বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রচার করেছে। গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী
লীগের পলাতক নেতাদের মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। তাদের দাবি করা
তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কারো কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল যেসব তথ্য দিয়েছেন তা সত্য নয় দাবি করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোপন নথি ফাঁস: বিদেশে মার্কিন সহায়তা বন্ধ
সরকারি তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বিশ্বে আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক সবচেয়ে বড় ডোনার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই বছরে তারা ৬৮০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে এ খাতে। কিন্তু নতুন নোটিশ অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা থেকে সামরিক সহায়তা পর্যন্ত সবকিছুতেই প্রযোজ্য হবে। তবে ইসরাইল এবং মিশরের জন্য শুধু জরুরি খাদ্য ও সামরিক সহায়তা এই নির্দেশের বাইরে থাকবে।
ওই মেমোতে বলা হয়েছে, নতুন কোনো সহায়তা বা বিদ্যমান সহায়তা পর্যালোচনা এবং অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত কোনো নতুন সহায়তা বা বিদ্যমান সহায়তা তহবিল স্থগিত থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যালোচনা ও অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সহায়তার অধীনে ওয়ার্ক-অর্ডার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে মার্কিন কর্মকর্তাদের।
বিবিসি আরও লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং নতুন সাহায্য অনুমোদন বন্ধ রেখেছে। ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের জন্য সব মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে সব বৈদেশিক সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই স্থগিতাদেশ জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরাইল ও মিশরের জন্য সামরিক তহবিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন তহবিল অনুমোদিত হবে না বা বিদ্যমান কোনো চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না’।
একই সাথে চলমান প্রকল্পের কাজও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যালোচনা শেষ হয়। কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, পর্যালোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্তানুযায়ী কর্মকর্তারা যেন অনতিবিলম্বে ‘কাজ বন্ধের নির্দেশনা জারি করেন’।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করতে সব বিদেশি সাহায্যের বিস্তারিত পর্যালোচনা আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই পর্যালোচনা ৮৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে এবং তা নিশ্চিত করবে যে সব সাহায্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে আমাদের ব্যয় শুধু তখনই হওয়া উচিত, যদি তা আমেরিকাকে নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বিদেশি সাহায্য কর্মসূচির ওপর অনেক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত অস্ত্র সরবরাহে কংগ্রেসের সম্পর্ক দেখভাল করতেন জশ পল। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ার কথাটি একবার ভাবুন। এটি অনেক বড় একটি বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএইড মিশনের সাবেক পরিচালক ডেভ হার্ডেন বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’, যা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে মানবিক এবং উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিগুলোকে স্থগিত করে দিতে পারে। তিনি জানান, বিদেশি সহায়তা বন্ধের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং আশ্রয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে পড়তে পারে। এটি শুধু সাহায্য স্থগিতই নয়, বরং ইতিমধ্যে দেশটির অর্থায়নে চলমান চুক্তিগুলোর কাজ বন্ধেরও নির্দেশ প্রদান করে।
এএফপি বলছে, এই অর্থায়ন স্থগিতের প্রভাব ইউক্রেনেও পড়তে পারে। সেখানে আগে থেকে প্রচুর অস্ত্র সহযোগিতা দেয়া হয়েছিল। সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে ইউক্রেন অস্ত্র সহায়তায় বড় অংকের সহযোগিতা পেয়েছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও স্বাক্ষরিত নথিতে সহায়তা স্থগিতের পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বিদেশি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি’ কার্যকর কি না, পুনরাবৃত্তিমূলক কি না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা মূল্যায়ন করা অসম্ভব। তবে জরুরি খাদ্য সহায়তার জন্য তিনি ছাড়পত্র দিয়েছেন। অর্থাৎ গাজা ও অন্যান্য যে সব জায়গায় খাদ্য সংকট চলছে সেখানে জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতির পর মানবিক সাহায্য বৃদ্ধি পেয়েছে ও সুদানের মতো বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট চলছে।
মার্কিন সরকারের নীতিতে নিজের প্রভাব রাখতে প্রেসিডেন্টদের মূল হাতিয়ার এক্সিকিউটিভ অর্ডার বা নির্বাহী আদেশ। ক্ষমতা নেয়ার পর সেই হাতিয়ার ব্যবহারে এক মুহূর্তও দেরি করেননি ডনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতেই একশোর বেশি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার আক্ষরিক বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এক কথায় এক্সিকিউটিভ অর্ডার হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া একটি লিখিত আদেশ, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত জারি করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ বলে প্রেসিডেন্ট এই আদেশ জারি করার ক্ষমতা পান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাকশাল ছিল সাংবিধানিক ক্যু by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
’৭৪-এর ২৮শে ডিসেম্বর, অপরাধ দমন ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর হুমকি প্রদানের কথা বলে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়। এর ঠিক ২৭ দিন পর ২৫শে জানুয়ারি ’৭৫-সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েম করার লক্ষ্যে সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস করিয়ে নেন। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে সুসংহত ও চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ’৭২-সালের সংবিধানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল অথচ এই বিলটি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ দেয়া হয়নি। চতুর্থ সংশোধনী বিলটি এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সংসদে গৃহীত হয় এবং তখনই তা আইনে পরিণত হয়। এত দ্রুত আইনপ্রণয়ের ইতিহাস সংসদীয় রাজনীতিতে বিরল।
আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর ২৫শে জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এতদসংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। একইদিনে তা ২৯৪-০ ভোটে গৃহীত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তখন সংসদনেতা এবং প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বেই চতুর্থ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয় এবং ওইদিনই তা সংসদে গৃহীত হয়েছে। একইদিনে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী থেকে (দিনশেষে রাতে) রাষ্ট্রপতি হয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই বিলে স্বাক্ষর দিয়ে কার্যকর করেছেন। এটা শুধুই বিরল নয়, ইতিহাসেও একমাত্র দৃষ্টান্ত। সংবিধান আছে, সংসদও আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। না জনগণের দ্বারা, না সংসদ দ্বারা। একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নিচ্ছেন কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই। প্রজাতন্ত্রে কোনোভাবেই এসব করা সম্ভব নয়, সম্ভব কেবল সম্রাট বা রাজার বেলায়।
আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের প্রতি কতোটুকু আনুগত্যশীল চতুর্থ সংশোধনী সুনির্দিষ্টভাবে বিশ্লেষণ করলেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চতুর্থ সংশোধনীতে সংবিধানের যে-সব ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন করা হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা:
সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন: বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনপদ্ধতির পরিবর্তে বাকশালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনপদ্ধতি চালু করা হয়েছিল এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অর্থাৎ রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মাঝে ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে সৃষ্ট রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। রাষ্ট্রের কোনো বিভাগ যেন স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে তার জন্য স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বা নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভারসাম্য রক্ষায় কোনোরকম আইন প্রণয়ন করেনি। বরং রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগকেই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। সুতরাং এটা ছিল তথাকথিত রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
রাষ্ট্রপতি: চতুর্থ সংশোধনীতে প্রথম পরিচ্ছেদ ৪৮ (১) বলা হয় ‘বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন।’ কাজেই রাষ্ট্রপতি অবশ্যই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপ্রধান রূপে দায়িত্ব পালন করবেন।
৭৫-সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার সময়টুকুও ধৈর্য ধরেননি। বরং অতিদ্রুত ক্ষমতা গ্রহণের জন্য চতুর্থ সংশোধনীতে সংবিধান বহির্ভূত একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।
চতুর্থ সংশোধনীর সর্বশেষ ৩৪ ধারায় যুক্ত হলো রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।
সংশোধনীর ৩৪ ধারায় বলা হলো সংবিধানে যাহা বলা হয়েছে, তাহা সত্ত্বেও এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে,
ক) এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকিবেন না এবং রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হবে; খ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হইবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করিবেন এবং উক্ত প্রবর্তন হইতে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকিবেন যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত সংবিধানের অধীন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হইয়াছেন।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে আজীবন রাষ্ট্রপতি পদে থাকার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছিল। অর্থাৎ জনগণের ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটা আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুই নির্ধারণ করেছেন; জনগণ নয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মেয়াদ আজীবন শেষ হবে না এবং তিনি উক্ত পদে বহাল থাকবেন। কিন্তু পদে বহাল ছিলেন মাত্র ২০২ দিন। ২০২ দিন পর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হন একটি সামরিক ক্যু-এর মাধ্যমে।
চতুর্থ সংশোধনীতে পদের বিপরীতে ব্যক্তির নাম লেখা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকবেন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু নেই। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর এমন দেউলিয়াপনা, চিন্তার দারিদ্র্য ও গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যহীনতা ক্ষমার অযোগ্য। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র এবং মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই-সংগ্রাম ও ১৪ বছর কারাগারে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের মানসিকতার প্রমাণ মিলে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি কিন্তু ধরে নিতে হবে তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এটাই হলো ‘সাংবিধানিক ক্যু’। এই ‘ক্যু’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৭১- সালের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তর পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু আর পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ক্ষমতার উন্মাদনায় কীভাবে জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধুলিস্যাৎ করে দেয়া হয়েছিল, রক্তের উপর ভাসমান একটি রাষ্ট্রের সংবিধানকে কীভাবে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন করা হয়েছিলো, তা গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন।
আরও নজিরবিহীন ঘটনা আছে। যেহেতু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন হয়েছে, সেহেতু জনগণের ম্যান্ডেটের জন্য নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা প্রয়োজন কিন্তু এতে আবার একটা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। সংশোধনীর ৩৩ ধারায় বলা হলো, ‘এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে দায়িত্ব পালনরত সংসদ, রাষ্ট্রপতি ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে এই আইন প্রবর্তন হইতে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে ভাঙ্গিয়া যাইবে।’ অর্থাৎ জনগণের ভোট ছাড়াই জাতীয় সংসদকে পাঁচ বছরের জন্য পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়নের জন্য।
১) অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ২) অসাংবিধানিকভাবে সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি। এই অভূতপূর্ব দুটো দৃষ্টান্ত পর্যালোচনা করাই যথেষ্ট। এতেই আওয়ামী লীগের চরিত্র, সংস্কৃতি ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
চতুর্থ সংশোধনীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করলে বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যা শেখ হাসিনার রাষ্ট্র সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে অসুবিধা হবে।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন: ৭২-সালের সংবিধানে দুটো কারণে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করার বিধান রাখা হয়েছিল:
১) সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণ ২) শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্য হলে।
এজন্য রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদ সদস্যগণ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাব দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারা গৃহীত হবে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়েছে সেহেতু রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরকার হবে শুধু প্রস্তাব আনতে এবং তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরকার হবে প্রস্তাব পাস করতে।
আওয়ামী লীগ হয়তো বিশ্বাস করতো বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় তার বিরুদ্ধে অভিশংসন বা অপসারণের প্রস্তাব উত্থাপন হবে এবং সেই অপসারণ ঠেকাতে জটিল প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আওয়ামী লীগের কী ভয়ঙ্কর ভয়!
বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতাকে সুসংহত করতে সংবিধানকে ব্যবহার করা হয়েছে। চতুর্থ সংশোধনীতে বঙ্গবন্ধুকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। কারণ সংবিধান সংশোধন করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন আর রাষ্ট্রপতি অপসারণের জন্য তিন চতুর্থাংশ ভোটের প্রয়োজন। এতে সংবিধানের প্রাধান্য চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এত সর্বনাশা পদক্ষেপ আওয়ামী লীগের পক্ষেই গ্রহণ করা সম্ভব!
সশস্ত্র লড়াইয়ে অর্জিত একটি রাষ্ট্রের সংবিধান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা যথার্থই পিতার আদর্শের যোগ্য অনুসারী। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার ধৈর্যটুকুও ধরতে চাননি, ফলে রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ নির্বাচন দুটোকেই নির্বাচনবিহীন সম্পাদন করেছেন। শেখ হাসিনা তার পিতার মতো সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সংবিধানের কোনো ধারা বা উপধারায় সংশোধন করেননি বরং নির্বাচনকে প্রতারণাপূর্ণ করে ক্ষমতাকে ধরে রেখেছেন ১৫ বছর। আর তার পিতা বাকশাল করে মাত্র ২০২ দিন ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন! যেদিন বাকশাল অর্থাৎ ‘সাংবিধানিক ক্যু’ সম্পন্ন হয়েছে, মূলত সেদিনই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই অমোঘ সত্য স্বীকার করার সামর্থ্য আওয়ামী লীগের নেই। ফলে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভুলগুলো আওয়ামী লীগ পর্যালোচনা করছে না। অহেতুক বঙ্গবন্ধুকে দেবতার আসনে বসাতে গিয়ে তার মানবিক মর্যাদাও বিনষ্ট করছে।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তারবরণ করলেও বঙ্গবন্ধুর নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এতো বড় গৌরব, এতো বড় সাফল্য বাঙালি অর্জন করে ফেলবে, তা তিনি গ্রহণ করতে পারেননি। বাঙালি যে-তাকে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল তার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও তিনি দেখাতে পারেননি। ফলে সিরাজুল আলম খান এবং তাজউদ্দীন আহমদকে দ্রুত পরিত্যাগ করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর কাছে একমাত্র বিকল্প। স্বাধীনতার স্বপ্ন শুরুতেই হাতছাড়া হয়ে গেল। মুক্তিযুদ্ধে অনুপস্থিত থেকে মুক্তিযোদ্ধা চেতনা ধারণ করতে না চেয়ে পাকিস্তানি শাসন ব্যবস্থা পুনর্বহাল করলেন। বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতা তৃষ্ণার কাছে লাখো- লাখো শহীদের স্বপ্ন বিক্রি হয়ে গেল। ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হলো।
রাষ্ট্রক্ষমতা কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক চরিত্র এবং সংবিধানের শিষ্টাচার থেকে দূরবর্তী করে দিয়েছিল তার আরও কয়েকটি উদাহরণ দেয়া দরকার। আলোচ্য সংশোধনীর মাধ্যমে, বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ব্যতিরেকে সকল রাজনৈতিক দলকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিতদের অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদেরকেও বাকশালে যোগদান করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
চতুর্থ সংশোধনীতে সংসদ সদস্য না হলেও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার বিধান ছিল। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ আইন পাস করলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির প্রয়োজন, এজন্য রাষ্ট্রপতিকে চরম ভেটো (ধনংড়ষঁঃব াবঃড়) ক্ষমতা দেয়া হয় না। মূল সংবিধানে তা-ই ছিল। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতিকে চরম ভেটো ক্ষমতা দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক একবার ভেটো প্রয়োগ করলে সংসদে গৃহীত বিলটি আর আইনে পরিণত হবে না। অর্থাৎ চতুর্থ সংশোধনীত সংসদকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করা হয়।
৭২-সালের সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগকে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে তা চাতুরতার সঙ্গে কেড়ে নেয়া হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, ‘এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য সংসদ আইনের দ্বারা একটি সাংবিধানিক আদালত-ট্রাইব্যুনাল অথবা কমিশন প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।’ অর্থাৎ মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় হাইকোর্টের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি ১০২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘হাইকোর্ট বিভাগ যেন মৌলিক অধিকারের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন তুলতে না পারে বা কোনো আদেশ দিতে না পারে।’ তার জন্য মূল সংবিধানের ১০২(১) অনুচ্ছেদকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রকাশের দুই একটা নমুনা উল্লেখ করার মতো। মূল সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে ছিল, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে অন্যান্য বিচারপতিকে নিয়োগ দান করবেন। কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি একাই প্রধান বিচারপতিসহ সকল বিচারক নিয়োগ করবেন। বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ছাড়া অন্যান্য বিচারক নিয়োগ দেয়া হয় না। এতে বাকশালের সুপারিশে দলীয় লোকদের বিচারক নিয়োগের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ বিচার বিভাগকে বাকশালের একটি অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। ৯৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে চতুর্থ সংশোধনীতে রাখা হয়, ‘অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা কোনো বিচারককে তাহার পদ হইতে অপসারিত করা যাইবে।’ অর্থাৎ বিচারক নিয়োগ এবং অপসারণ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছামাফিক বা মর্জির ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ-শৃঙ্খলা (১১৬ অনুচ্ছেদ) রক্ষায় রাষ্ট্রপতির হাতে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল সংশোধনীতে। এভাবেই একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কবর দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ বিষয়টি উল্লেখ করা জরুরি, সংশোধনীতে তৃতীয় তফসিল সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকারের নিকট প্রতিস্থাপিত করে, যা মূল সংবিধান বা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাজনৈতিক-গণতন্ত্র বা সামাজিক-গণতন্ত্রের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতিতেও শেখ মুজিব ছিলেন উদাসীন। বিপুল জনপ্রিয়তা, প্রবল সম্মোহনী শক্তি এবং প্রচণ্ড বাগ্মিতার অধিকারী বঙ্গবন্ধু তার ব্যক্তিত্বকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তার মতের বিরোধিতা করার ন্যূনতম প্রয়োজনও নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল। ফলে স্বাধীনতার পর অল্প কিছুদিনেই বঙ্গবন্ধু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শাসিত একনায়কতান্ত্রিক (Prime Minister's dictatorship) শাসনব্যবস্থার প্রতিভূ হয়ে ওঠেন। সংবিধান, আইন এবং বিধি-বিধান কোনো কিছুকে তিনি নিজের ঊর্ধ্বে মনে করতেন না।
সংবিধান এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় যে প্রজাতন্ত্রের নকশা অঙ্কন করা হয়েছিল, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের যে-স্বপ্ন বপন করা হয়েছিল, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে সাম্য বা সামাজিক সুবিচারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল তা উচ্ছেদ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে।
গণতন্ত্রের বিঘোষিত নীতি হলো: ‘জনগণের ইচ্ছাই হবে সরকারের কর্তৃত্বের ভিত্তি, এই ইচ্ছাটি পর্যায়ক্রমিক এবং প্রকৃত নির্বাচনে প্রকাশ করা হবে, যা সার্বজনীন ও সমান ভোটাধিকার দ্বারা হবে এবং গোপন ভোট বা সমতুল্য অবাধ ভোটদান পদ্ধতি দ্বারা অনুষ্ঠিত হবে।’ কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বিলুপ্ত করে ৭২-সালের সংবিধানের মৌলিক-কাঠামো ধ্বংস করা হয়। এই ধ্বংসের নেতৃত্ব দিয়েছেন, একসময়ের অবিসংবাদিত নেতা।
লেখক: গীতিকবি ও সংবিধান বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মানুষ কেন মানুষ মারে’ by আবু এন এম ওয়াহিদ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সংক্ষেপে যা লিখেছিলেন তার মর্মার্থ দাঁড়ায় এরকম, অন্য প্রজাতির জন্তু জানোয়ারেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও তারা একজন আরেকজনকে কখনো প্রাণে মারে না। আমরা জানি - কাকের মাংস কাক খায় না। বাঘ, বাঘকে খুন করে না। এমন কি একটা পিঁপড়াও আরেকটা পিঁপড়াকে কখনো বধ করতে উদ্যত হয় না। আহার নিয়ে ক্ষুধার্থ দুই কুকুর কাড়াকাড়ি করে। কামড়াকামড়িও করে। লড়াই শেষে যার গায়ে জোর বেশি সেই খাবারের দখল নেয়। দুর্বল কুকুর লেজ গুটিয়ে পালায়। এখানেই তাদের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী মীমাংসা হয়ে যায়। একটা আরেকটাকে হত্যা করে না। করার প্রয়োজনও পড়ে না।
এছাড়া বিপরীত লিঙ্গের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও পশুকুলে অহরহ ঝগড়াঝাটি হতে দেখা যায়। কিন্তু কোনো সময়ই তা খুনখারাবি পর্যন্ত গড়ায় না। এখানেও দৈহিক শক্তিবলে একটা জিতে। অন্যটা হেরে রনে ভঙ্গ দেয়। ওই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে লেখক আরো বলেছিলেন, একই ধরনের দ্বন্দ্বে, মানুষ পশুর চেয়ে অনেক বেশি হিংস্র হতে পারে। বাইবেল থেকে তিনি মানবজীবনের সূচনালগ্নে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের উদাহরণ টেনে এনেছিলেন। আমরা অনেকেই জানি, হাবিল-কাবিলের কথা মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআনেও আছে।
এবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পরিধিকে বাড়িয়ে বিষয়টার আরেকটু গভীরে যেতে চাই। দেখতে চাই, মানুষের স্বজাতি নিধনের ডালপালা কতদূর বিস্তৃত ও প্রসারিত হতে পারে। পেটের খিদে ও যৌন প্রতিযোগিতায় প্রাণিকুলে স্বজাতির মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। সংঘাতও বাঁধে। কিন্তু মানুষের মতো একটা আরেকটাকে হত্যা করে না। এর দু’টো কারণ থাকতে পারে। প্রথমতঃ যে বিষয়েই ঝগড়া হোক না কেন, এক পশুর প্রতি স্বজাতি আরেক পশুর একটা ন্যুনতম মমত্ববোধ বা দরদ থাকে। এজন্যে তাদের মারামারিতে একটা প্রাকৃতিক সীমারেখা টানা হয়ে যায় এবং তারা সচেতনভাবে কোনো সময়ই সেই লাল রেখা অতিক্রম করে না। এটা যদি ঠিক হয়, তাহলে পশুকুল অবচেতন বা অবুঝ নয়। আর তা যদি না হয়, তাহলে দ্বিতীয়টাই ঠিক, অর্থাৎ তারা স্বভাবজাতভাবেই মানুষের চেয়ে কম হিংস্র। কারণ তাদের লড়াইয়ের শেষ পরিণতি কখনো মানুষের মতো এত বীভৎস, এত মারাত্মক, এত ধ্বংসাত্মকএবং আত্মঘাতীহয় না। যেভাবেই দেখি না কেন, বিষয়টি সভ্য মানবকুলের জন্যে যে সম্মানসূচক নয় তা বলাই বাহুল্য।
এ ছাড়া মানুষের সঙ্গে মানুষের লড়াইয়ের পরিধিটা পশুকুলের চেয়ে আরো অনেক গভীরে প্রোথিত ও প্রসারিত। মানুষে মানুষে সংঘাত শুধু বিত্ত-বৈভব ও নারীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যেই হয় না। হয় আরো অনেক কারণে। যেমন সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সাথে চলছে মানুষের নিরন্তর লড়াই। এ লড়াইয়ে অনেক সময় একজন আরেকজনকে বধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতার মূল উৎস রাজনীতি। তাই রাজনীতিকে কেন্দ্র করে ঘটে অনেক ষড়যন্ত্র এবং খুনখারাবি। এ ছাড়াও, মানুষ যদি মনে করে কারো কারণে তার মানসম্মান অথবা সুনাম বর্তমানে নষ্ট হচ্ছে কিংবা ভবিষ্যতে হতে পারে, তবে সে তাকেও হত্যা করতে প্রবৃত্ত হতে পারে। মানুষের মধ্যে ভাড়াটে খুনিও থাকে। টাকার বিনিময়ে একজনের নির্দেশে ওই জাতীয় খুনিরা সহজেই আরেকজনকে নিধন করে ফেলতে পারে। তবে এরও চূড়ান্ত লক্ষ্যের মধ্যে অর্থবিত্ত, ক্ষমতা, মানসম্মান ও নারীই প্রধান। মানুষ স্রেফ রাগের বশবর্তী হয়েও মানুষকে মেরে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তবে রাগেরও মূল কারণ হতে পারে টাকাপয়সা, জমিজমা, সম্ভ্রম, কিংবা এজাতীয় কোনো অনুষঙ্গ। অনেক সময়ে মানুষ মদ-গাঁজা খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে বিবেকবুদ্ধি হারিয়ে সামান্য কারণেও প্রতিপক্ষের প্রাণ হরণ করতে পারে। অনিচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা বশতঃও মানুষের হাতে মানুষের মৃত্যু অসম্ভব নয়। মিল কারখানা ও রাস্তাঘাটে যন্ত্রযান চালাতে গিয়েও একজন আরেকজনকে মেরে ফেলতে পারে। মনুষ্যকূলে আরেকটি ঘটনা ঘটতে পারে - পশুকুলে যার কোনো আশঙ্কা নেই। কিছু কিছু মানসিক বিকারগ্রস্ত লোক উদ্দেশ্যহীনভাবে অকারণেও মানুষ মারতে পারে।
পশুর সাথে পশুর লড়াইয়ের মীমংসা হয় কেবলমাত্র দৈহিক শক্তির ভিত্তিতে, অর্থাৎ যে দুর্বল সে সবলের কাছে হেরে পালিয়ে যায়। নতুন করে লড়াইয়ের জন্যে ফের ঘুরে দাঁড়ায় না। কিন্তু মানুষের মধ্যকার সংঘাতে জয়-পরাজয়ের মীমাংসা শুধু গায়ের জোরেই হয় না। এখানে আরো বিবেচ্য বিষয় আছে। মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী। সে শরীরে দুর্বল হলে পালিয়ে যাওয়ার পরও নতুন বুদ্ধি এঁটে সবলকে হারাবার নিমিত্তে নতুন উদ্যমে নতুন ফন্দি নিয়ে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে আবার আক্রমণ রচনা করতে পারে। পশুর বেলা বুদ্ধিবৃত্তিক পুনরাক্রমণের কোনো অবকাশ থাকে না। এখানে আরেকটা ব্যাপার থাকতে পারে। মানুষের স্মৃতিশক্তি অনেক তীক্ষ্ণ। তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। শক্তিমান প্রতিপক্ষের কাছে দুর্বল মানুষটা প্রথমবার হেরে গিয়ে পশুর মতো পালিয়ে গেলেও সে পরাজয়ের কথা, বেদনার কথা, অপমানের কথা সহজে ভুলে না। আর ভুলে না বলেই সে নতুন করে লড়াই পরিকল্পনা নিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। যেহেতু দুর্বল একাজ করতে পারে তাই সবল তাকে আগেই হত্যা করারও চেষ্টা করে এবং অনেক সময় সফলও হয়।
আরেকটা ব্যাপার আছে বাইবেল এবং কোরআনে যার যোগসূত্র পাওয়া যায়। মানুষের পেছনে ক্রমাগত কাজ করে যায় শয়তান বা ইবলিস। শয়তানের ধর্মই হচ্ছে মানুষকে খারাপ কাজে কুমন্ত্রণা দেওয়া ও ভালো কাজ থেকে দূরে রাখা। খুনখারাবি একটি জঘন্য অপরাধ। এটা শয়তানের খুব প্রিয় কাজ। সে এমন কাজে সর্বদা মানুষকে প্ররোচিত করে থাকে। কোনো কোনো সময় সফলও হয়। শয়তান যখন স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে বেরিয়ে আসে তখন সে আল্লাহর কাছে এই শক্তি চেয়ে নিয়েছে যাতে সে সব সময় মানবসন্তানকে খারাপ কাজে কুমন্ত্রণা দিতে পারে। প্রভাবিত করতে পারে। জন্তু-জানোয়ারের পেছনে লাগার জন্যে শয়তান এমন বর আল্লাহর কাছে চায়নি। পায়ওনি।
পশুর পাশবিকতার সঙ্গে মানুষের হিংস্রতার আরেকটা বড় পার্থক্য আছে। মনুষ্যসন্তান পশুকুলের চেয়ে অনেক বেশি সমাজবদ্ধ জীবন-যাপন করে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করে। মানুষ ব্যক্তিগত ও সাষ্টিক পর্যায়ে অন্তর্গতভাবে বৈষয়িক ও স্বার্থপর। তাই রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যখন-তখন স্বার্থের দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো সময় এ নিয়ে দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ বেঁধে যাওয়াও অসম্ভব নয়। যুদ্ধে স্ব স্ব দেশের সীমানা রক্ষা করা যার যার সেনাবাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। এ জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক দেশের সেনাবাহিনী আরেক দেশের সৈন্যদের এমন কি বেসামরিক জনগণকেও হত্যা করতে পারে। এতে দেখা যায় মানুষ যেমন বদ মতলবে মানুষ মারতে পারে তেমনি আবার সৎ ও মহৎ কারণেও মানুষের প্রাণ সংহার করতে দ্বিধা করে না। পশুদের মধ্যে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
পবিত্র কোরআনের সূত্র ধরে আরেকটা কথা বলা যায়। আল্লাহ পশুকে এমন স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে, তারা সবসময়ই পশুর মতোই আচরণ করে। পক্ষান্তরে মানুষকে তিনি বানিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ অবয়বে। মহৎ গুণাবলী দিয়ে। তথাপি সময় সময় সে পশুর মতো আচরণ করতে পারে। আবার কখনোবা জেদ মেটাতে পশুর চেয়েও অনেক নিচে তার অবনমন ঘটাতে পারে।
সাম্প্রতিক কালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। মানুষ শত্রু নিধনের অকল্পনীয় ও সীমাহীন শক্তি সঞ্চয় করেছে। তারা এখন একটি মাত্র বোমা-বিস্ফোরণে হাজার হাজার এমনকি লক্ষ লক্ষ মানুষও মেরে ফেলতে পারে। আজকাল রিমোট ডিভাইসের মাধ্যমে কোলেটারেল ড্যামেজ ছাড়াও কোনো বিশেষ সময়ে, বিশেষ জায়গায়, বিশেষ টার্গেটকে নীরবে উড়িয়ে দেওয়া যায়। এগুলো পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে। রাষ্ট্রীয় খরচে। তবে জঘন্য গণহত্যা ও নগ্ন গুপ্তহত্যার সব কলা-কৌশল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়। মানুষ-মারার ‘মহোৎসব’-এর এই নতুন মাত্রার কথা আমাকে ধরিয়ে দিয়েছেন আমার অগ্রজতুল্য বন্ধু, অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আনিসুল ইসলাম।
এই আলোচনাকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে গেছেন মিশরীয় কৌতুকাভিনেতা বাসাম ইউসুফ। তিনি বলছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁরা অল্প সময়ে সহজে অধিক মানুষ মারতে পারে তাঁর জন্যে কেবল মারাত্মক মারণাস্ত্র আবিস্কার করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বিশ্বজনমত নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তারা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে আরো কয়েকটি কাজ করেছে। তারা প্রথমে অপবাদ ও অপমান সহকারে শত্রুদের একটি অপ-নাম কিংবা বদ-নাম দিয়ে থাকে। তারপর খারাপ নামধারীদের নিধন করার অযুহাত হিসেবে মনগড়া একটি চমকপ্রদ আখ্যান (Narrative) তৈরি করে। ‘ওরা ‘খারাপ মানুষ’। ওরা ‘অমানুষ’। ওদের মারাই যায়।’ এ প্রসঙ্গে বাসাম ইউসুফ আরো কঠিন ও চমৎকার একটি কথা বলেছেন। যারা শত্রুর নামে মানুষ মারছে তারা জানে না, ‘প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের আপন মনুষ্যত্বকেই নিরন্তর বলি দিয়ে যাচ্ছে।’
পুনশ্চ: সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দিকপাল কবি-ঔপন্যাসিক Ñ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের যে উত্তর ও ব্যাখ্যা আমি দেওয়ার চেষ্টা করেছি তার সবটুকু আমার নিজের নয়। কিছু আমার। কিছু এখান-ওখান থেকে কুড়িয়ে তোলা। সে যাই হোক, সুনীলবাবু বেঁচে থাকলে কি তিনি আমার এ বিশ্লেষণের সঙ্গেসহমত পোষণ করতেন? আপনাদের কী মনে হয়?
লেখক: আবু এন. এম. ওয়াহিদ; অধ্যাপক - টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি;
এডিটর - জার্নাল অফ ডেভোলাপিং এরিয়াজ। Email: wahid2569@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
January
(191)
-
▼
Jan 25
(7)
- পানির নিচে ১২০ দিন, বিশ্বরেকর্ড
- বিএনপির ‘কথার টোন আওয়ামী লীগের সাথে মিলে যাচ্ছে’ ...
- ইসরায়েল ও মিসরকে অস্ত্র সহায়তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের...
- গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল স্বীকার করলেন আসাদুজ্জামান খ...
- গোপন নথি ফাঁস: বিদেশে মার্কিন সহায়তা বন্ধ
- বাকশাল ছিল সাংবিধানিক ক্যু by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
- ‘মানুষ কেন মানুষ মারে’ by আবু এন এম ওয়াহিদ
-
▼
Jan 25
(7)
-
▼
January
(191)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
