Thursday, October 24, 2024

টাটা পরিবারের এক কমিউনিস্ট সদস্য যেভাবে ব্রিটেনের প্রথম এশীয় এমপি হয়েছিলেন

শাপুরজি শাকলাতভালা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ টাটা পরিবারের একজন সদস্য। তবে মানুষের কাছে অতটা পরিচিত নন। কারণও আছে। টাটা পরিবারের অন্য সবাই যেমন নিজেদের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দেখভালে নিয়োজিত থাকেন, তেমনটি করেননি শাকলাতভালা। বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রামী এক পথ।

শাপুরজি সম্পর্কে জানতে হলে ফিরতে হবে শত বছরের বেশি সময় আগে। তখন ভারতে চলছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন। সে সময় প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক চরিত্র ছিলেন শাপুরজি। এশিয়া থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম সদস্য ছিলেন তিনি। সেখানে বসেই ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেছিলেন। এমনকি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন তিনি।

শাপুরজির জন্ম ১৮৭৪ সালে। তাঁর বাবা দোরাবজি শাকলাতভালা ছিলেন সুতা ব্যবসায়ী। মা জেরবাই ছিলেন টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামসেদজি টাটার বোন। শাপুরজির ছেলেবেলাতেই তাঁর মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়। ১৪ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ে টাটা পরিবারের এসপ্লানেড হাউসে চলে যান। সেখানে তাঁর অভিভাবক ছিলেন চাচা জামসেদজি।

‘ফিফথ কমান্ডমেন্ট’ নামে শাপুরজির আত্মজীবনী লিখেছেন তাঁর মেয়ে সেহরি। সেখানে তাঁর জীবন সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া যায়। বইয়ে সেহরি লিখেছেন, শাপুরজিকে সব সময়ই খুব স্নেহ করতেন জামসেদজি। ছেলেবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে বড় সম্ভাবনা দেখেছিলেন। ভরসা রাখতে শাপুরজির সক্ষমতার ওপর। এ কারণে সব সময় তাঁর খোঁজখবর রাখতেন জামসেদজি।

বোনের ছেলের প্রতি এই ভালোবাসাকে ভালো চোখে নেননি জামসেদজির বড় ছেলে দোরাবজি টাটা। ‘ফিফথ কমান্ডমেন্ট’ বইতে সেহরি লিখেছেন, ছেলেবেলায়—এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাঁদের মধ্যে একধরনের দ্বন্দ্ব ছিল। ওই সম্পর্ক কখনোই জোড়া লাগেনি। একপর্যায়ে পারিবারিক ব্যবসা থেকে শাপুরজিকে দূরে ঠেলে দেন দোরাবজি। এরপর ভিন্ন পথে যাত্রা শুরু করেন শাপুরজি।

১৮ শতকের নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ। পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যে ওই রোগে মানুষের মৃত্যু শাপুরজিরকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি দেখেছিলেন, কীভাবে ওই মহামারি দরিদ্র ও শ্রমিকশ্রেণিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। অন্যদিকে তাঁর পরিবারসহ সমাজের উচ্চশ্রেণি ছিল তুলনামূলক সুরক্ষিত।

ওই মহামারির সময় শাপুরজি কলেজে পড়াশোনা করতেন। তখন ওয়ালডেমার হাফকাইন নামে একজন রুশ বিজ্ঞানীর সঙ্গে সখ্য হয় তাঁর। জারবিরোধী বিপ্লবী রাজনীতির কারণে নিজ দেশ থেকে পালাতে হয়েছিল তাঁকে। প্লেগ প্রতিরোধে হাফকাইন একটি টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। শাপুরজিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই টিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।

শাপুরজির জীবনে প্রভাব ফেলা আরেকটি ঘটনা ছিল স্যালি মার্শের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ১৯০৭ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। মার্শ ছিলেন ১২ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। শৈশবে বাবাকে হারান তাঁরা। এ কারণে তাঁদের পরিবারে সব সময় আর্থিক টানাপোড়েন লেগেই থাকত। সংসার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো সবাইকে।

বিত্তবান পরিবারের হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র পরিবারের মার্শের হাত ছাড়েননি শাপুরজি। বিয়ের আগে যখন তাঁরা প্রেম করছিলেন, তখন যুক্তরাজ্যের শ্রমিকশ্রেণির কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে পরিচিত হন শাপুরজি। এ ছাড়া স্কুল ও কলেজজীবনে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও নানদের কাছে পড়ালেখা করেছিলেন তিনি। তাঁদের স্বার্থহীন জীবনযাপনও শাপুরজির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিল।

১৯০৫ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন শাপুরজি। এর পরপরই রাজনীতিতে পা রাখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ১৯০৯ সালে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে যোগ দেন শাপুরজি। এর ১২ বছর পর যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। ভারত ও যুক্তরাজ্যে শ্রমিকশ্রেণির অধিকার রক্ষায় মন দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বাস করতেন—সাম্রাজ্যবাদ নয়, শুধু সমাজতন্ত্রই দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারে। দেশের শাসনব্যবস্থাতেও মানুষের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয় সমাজতন্ত্র।

শাপুরজির ভাষণগুলো মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেছিল। শিগগিরই তিনি জনপ্রিয় একটি মুখে পরিণত হন। ১৯২২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পান। প্রায় সাত বছর ধরে এই পার্লামেন্টের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়টাতে ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন শাপুরজি। এ বিষয়ে তিনি এতটাই দৃঢ় ছিলেন যে পার্লামেন্টের ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন সদস্য তাঁকে ‘ভয়ংকর কট্টর কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য থাকাকালে ভারত সফরেও এসেছিলেন শাপুরজি। সেখানে দেওয়া বিভিন্ন ভাষণে ভারতের শ্রমিকশ্রেণি ও তরুণ জাতীয়তাবাদীদের প্রতি স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ভারতে সফর করা এলাকাগুলোয় কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়াকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেছিলেন তিনি।

সমাজতন্ত্র নিয়ে শাপুরজির কঠোর মতাদর্শ প্রায়ই ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা মহাত্মা গান্ধীর মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠত। দুজনের উদ্দেশ্যই ভারতের স্বাধীনতা হলেও অহিংস পথে তা অর্জনের পক্ষে ছিলেন গান্ধী। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তা নিয়েও অসন্তোষ ছিল শাপুরজির। গান্ধীকে মানুষের দেওয়া ‘মহাত্মা’ নামও পছন্দ হয়নি তাঁর। এ নিয়ে খোলাখুলিভাবে সমালোচনা করেছিলেন শাপুরজি। তবে এত মতবিরোধের পরও স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিলেন।

ভারত সফরকালে শাপুরজি যেসব ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে নাখোশ হন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। ১৯২৭ সালে তাঁর ভারত ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর ১৯২৯ সালে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আসন হারান। এরপরও ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন শাপুরজি।

তবে নিজের সংগ্রামের ফসল দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি শাপুরজি শাকলাতভালার। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়। এর আগে ১৯৩৬ সালে মৃত্যু হয় শাপুরজির। শেষকৃত্যের পর তাঁর ভস্ম লন্ডনে মা–বাবা ও জামসেদজি টাটার পাশে সমাধিস্থ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবারও টাটা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন শাপুরজি শাকলাতভালা।

টাট পরিবারের সদস্য শাপুরজি শাকলাতভালা
টাট পরিবারের সদস্য শাপুরজি শাকলাতভালা ছবি: বিবিসির স্ক্রিনশট

ইসরায়েলের বিপুল যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে প্রতিরোধ যোদ্ধারা

ফিলিস্তিন ও লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের এবারের যুদ্ধ ইহুদি সেনাদের জন্য ডেকে এনেছে ইতিহাসের চরম বিপর্যয়। এর আগে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি জায়নবাদী সেনাদল। এবারের যুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননের যোদ্ধাদের হাতে বিপুল সেনা হারানোর পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সরঞ্জামেরও নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি দেখছে তারা। সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এসবের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়থ আহরনথ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও এপিসি মেরামতে প্রতিরক্ষা শিল্পের কোম্পানিগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে আইডিএফ। এর আগে এসব সামরিক যানের মেরামত বিশেষভাবে আইডিএফের টেকনোলজি অ্যান্ড মেইনটেনেন্স কর্পসের অধীনে করা হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো সামরিক যান মেরামতের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করবে। আগামী মাসে এই দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। এ সময় সাঁজোয়া যান উৎপাদনের একটি অংশ স্থানীয় কোম্পানিগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না সে ব্যাপারেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলের বিপুল পরিমাণ সামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত করার সক্ষমতা বর্তমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে নেই। ফলে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে স্থানীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছে। এমনকি এসব সরঞ্জাম মেরামতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছাড়াও যেসব স্বেচ্ছাসেবকরা ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করতো তাদের নিয়োগ করেও সমস্যা সমাধান করতে পারছে না আইডিএফ। এমন তথ্যই উঠে এসেছে ইয়েদিয়থ আহরনথ-এর প্রতিবেদনে।

জানা যায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো তাদের উৎপাদন আগের তুলনায় তিনগুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যাতে সামরিক বাহিনীর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ স্থির রাখা যায়। এমনকি যুদ্ধের পরও সামরিক সরবরাহ একই হারে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইসরায়েলি সরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ শেষ হলে আইডিএফ-এর সব সাঁজোয়া যান আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়। বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এগুলো মেরামতে প্রচুর খুচরা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হবে। যার কারণে এসব মেরামতে বছরব্যাপী সময় লাগতে পারে। 

টহলরত ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত
টহলরত ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনীতে বিদ্রোহের উসকানি

উত্তর গাজায় ইসরায়েলের সেনারা সম্ভবত এমন কিছু করছে যা যুদ্ধাপরাধের আওতাভুক্ত হতে পারে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিকদের উচিত যুদ্ধক্ষেত্রে অপরাধ বলে বিবেচিত হতে পারে এমন কোনো ঊর্ধ্বতন আদেশ মানতে অস্বীকার করা। এমনটাই মনে করছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক উপপ্রধান এরান ইতজিওন।

তিনি চারজন ইসারায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করেছেন। এমনকি নিজেও একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করেছেন।

বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইতজিওন জানান, যদি কোনো সেনা অথবা একজন কমকর্তা মনে করেন কোনো আদেশ পালনের কারণে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে তাহলে তাদের উচিত তা মানতে অস্বীকার করা। এ সময় তিনি দায়িত্বে থাকলেও আদেশ অমান্য করতেন বলে জানান সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। যে কোনো ইসরায়েলি সেনারই উচিত এমনটা করা।

ইতজিওন মনে করেন, যে কোনো মূল্যবোধের বিপজ্জনক ক্ষয় আছে। এমনকি যে কোনো রাগের বিস্তৃতি প্রতিশোধ নেয়ার স্পৃহাও রয়েছে। যার কারণে তিনি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের জনগণের জন্য বেশ চিন্তিত। তিনি মনে করেন গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলিরা একটি ট্রমার ভেতর আছে। ফলে ইসরায়েলের প্রতিশোধের নেশা অনুধাবন করা যায়।

সাবেক এ ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা মনে করেন, এখানে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ বা সশস্ত্র সংগঠন নয়। তারা একটি সার্বভৌম দেশের বাহিনী। তাদের একটি ইতিহাস আছে, নীতি ও মূল্যবোধ আছে। ইসরায়েলি বাহিনীর উচিত আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে অভিযান পরিচালনা করা। কারণ ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে চায়।

ইতজিওনের সন্তানরা এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কাজ করছে এমনকি তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা এখনও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে আছে। তিনি জানান, একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসেবে তিনি শুধু তার কথা বলতে চান। তিনি চান ইসরায়েলি সেনারা যাতে কোনো প্রকার যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত

উত্তর গাজায় ক্ষুধা নিবারণের পানি নেই, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা : ইসরায়েলি সংস্থা

গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’টসেলেম জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে খাবার ও পানীর সংকটে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই, ক্ষুধা নিবারণের জন্য পর্যন্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বি’টসেলেম এ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজায় ‘জাতিগত নিধনের’ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ভিন্নদিকে সরাতে চাইছে উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, এ আগ্রাসনের উদ্দেশ্য হলো গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা। ইসরায়েলি বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে বেসামরিক লোকজন, শরণার্থী শিবির ও হাসপাতালের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বি’টসেলেম দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এটা স্পষ্ট যে ইসরায়েল উত্তর গাজায় ভয়াবহ অপরাধ করছে। অবরোধের কারণে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে জীবন বাঁচানোর মৌলিক উপকরণ, যেমন—পানী পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তা-ঘাটে সারিবদ্ধ লাশ আর বেঁচে থাকা মানুষদের ওপর আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে।’

এদিকে বি’টসেলেম বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলছে, ‘মানবিক বিপর্যয়ের এ ক্রান্তিলগ্নে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।’ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘ইসরায়েলের চলমান অভিযান কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনেরও উদাহরণ।’

গাজায় চলমান এ সংকট বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে গাজায় একটি স্থায়ী মানবিক বিপর্যয় ঘটবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

পুরোনো ছবি

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা সব জায়গায় লাশের গন্ধ

গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতা হামলায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যা মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজারিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, গাজায় চলমান সহিংসতার মধ্যে আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের সহায়তার জন্য জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইউএনআরডব্লিউএ’র কর্মীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় লাশের গন্ধ। রাস্তায় এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ পড়ে আছে। এগুলো সরাতে কিংবা মানবিক সহায়তার কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে না।’ এ অবস্থার মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে আমরা এ সংকটের বিপর্যয় ঠেকাতে পারব না।’ উল্লেখ করে লাজারিনি বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান করেন।

এদিকে গাজার পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ অঞ্চলে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে দখলদার বাহিনী হামলা চালায়নি। গাজার স্কুল, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও মসজিদ সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ৪৮৭ জন আহত হয়েছে। এ সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ সংঘাতের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, গাজার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

কিছু মানবিক সংস্থা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা গাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখে এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা প্রদানের পথ খুঁজে বের করে।

লাজারিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে এ সংকট মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।’ এ বিপর্যয়ের মোকাবিলায় মানবতার জন্য এক ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

গাজার এ করুণ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে একটি মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করেন তিনি বলেন, ‘এখনই সময়, আমাদের মানবতার জন্য একত্রিত হতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের দিকে নজর দিতে হবে।’

সূত্র : আল জাজিরা

ছবি : সংগৃহীত

উত্তর গাজায় ক্ষুধা নিবারণের পানি নেই, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা : ইসরায়েলি সংস্থা

গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’টসেলেম জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে খাবার ও পানীর সংকটে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই, ক্ষুধা নিবারণের জন্য পর্যন্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বি’টসেলেম এ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজায় ‘জাতিগত নিধনের’ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ভিন্নদিকে সরাতে চাইছে উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, এ আগ্রাসনের উদ্দেশ্য হলো গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা। ইসরায়েলি বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে বেসামরিক লোকজন, শরণার্থী শিবির ও হাসপাতালের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বি’টসেলেম দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এটা স্পষ্ট যে ইসরায়েল উত্তর গাজায় ভয়াবহ অপরাধ করছে। অবরোধের কারণে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে জীবন বাঁচানোর মৌলিক উপকরণ, যেমন—পানী পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তা-ঘাটে সারিবদ্ধ লাশ আর বেঁচে থাকা মানুষদের ওপর আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে।’

এদিকে বি’টসেলেম বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলছে, ‘মানবিক বিপর্যয়ের এ ক্রান্তিলগ্নে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।’ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘ইসরায়েলের চলমান অভিযান কেবল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনেরও উদাহরণ।’

গাজায় চলমান এ সংকট বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে গাজায় একটি স্থায়ী মানবিক বিপর্যয় ঘটবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

পুরোনো ছবি

একমাত্র ভাই ‘নয়নকে’ হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার

ছয় বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন অটোরিকশাচালক শেখ নয়ন হোসেন (২০)। গত ৫ই আগস্ট ভোরে ঘুম থেকে উঠে নয়ন তার মা’কে ডেকে তুলে বলেছিলেন, মা আমি গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছি। বিদ্যুৎ বিল জমে গেছে। রোজগার করে বিলটা দিতে হবে। এ ছাড়া দুপুরে আবার আমাদের মিছিল আছে। তাই সকাল সকাল কিছু রোজগার করে বিল দেবো। পরে এসে নাশতা খাবো। ছেলের সঙ্গে শেষ কথার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নয়নের মা ঝরনা বেগম।

তিনি বলেন, সেই যে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল, তারপর রাতে বাড়ি ফিরে এলো লাশ হয়ে। গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বানিয়াচংয়ে নিহত হন অটোরিকশাচালক শেখ নয়ন। বানিয়াচং উপজেলার কামালখানি গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে নয়ন। ছয় বোন এক ভাইয়ের মধ্যে নয়ন চতুর্থ। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই বোন তোহা আক্তার ও সুমনী আক্তার স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন।
অপরদিকে আইরিন ও রুহিন দুই বোন বিয়ের উপযুক্ত। নয়নের বাবা মারা যান প্রায় ৪ বছর আগে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন নয়ন। ব্র্যাক এনজিও থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে একটি টমটম অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেই টমটমের রোজগার দিয়েই চলতো সংসার। এক শতক জায়গার ওপর আধাপাকা একটি বসতঘর তাদের। সেই ঘরের অর্ধেক মালিক চাচা আর অর্ধেক নয়নরা। নয়নকে হারিয়ে শোকে কাতর তার ছয় বোন। এখনও ভাই হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। সরজমিন দেখা যায়, নয়নকে হারিয়ে মা ঝরনা বেগম এখন পাগলপ্রায়। বারবার ছেলের কথা বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। স্থানীয়রা জানান, নয়ন ছোটবেলা থেকেই পরিবারের হাল ধরেছে। এক শতক জায়গার ওপর ভাগাভাগি করা টিনশেডের একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। সরকারের কাছে দাবি- এই অসহায় পরিবারটিকে যেন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। নয়নের ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমনী আক্তার বলে, আমার ভাই প্রতিদিন রাতে বাড়িতে আসার সময় আমার জন্য আলাদা করে চানাচুর ও চকোলেট নিয়ে আসত। ভাই মারা যাওয়ার পর এখন আর কেউ এনে দেয় না। নয়নের মা ঝরনা বেগম বলেন, ৫ই আগস্ট সোমবার দুপুর পর্যন্ত নয়ন বাড়িতে না আসায় আমি ফোন দেই। তখন অন্য একজন ফোন ধরে বলেন, নয়ন পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ছেলে মারা গেছে। অভাব-অনটনের কারণে আমার ছেলে লেখাপড়া করতে পারেনি। মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। নয়নের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের হাল ধরে আমার ছেলে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র যদি আমার মেয়েদের দায়িত্ব নেয় তা হলে আমি মরেও শান্তি পাবো।

mzamin

সংবিধান ও প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের ডাক বৈষম্যবিরোধীদের

সংবিধান বাতিল ও প্রেসিডেন্টের অপসারণের ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র কাছে এই ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের ৩রা আগস্ট ঘোষিত একদফার সঙ্গে গণতন্ত্রকামী দলগুলো একত্র হয়েছিল। এখন সময় এসেছে আবারো ঐক্যবদ্ধ হবার। ’৭২-এর সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকে তারা এই সংবিধান মানতে পারে না। আর এই সংবিধান না থাকলে চুপ্পুও (প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন) থাকবে না। নতুন করে সংবিধান লিখতে হবে। ’৭২-এর সংবিধান আওয়ামী সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান।

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীর বিলোপ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ১৫ বছরে যারা ভোট দিতে পারেননি, তারা তা পারবেন। আমরা শহীদ-আহতদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ধারণ করি। তবে তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চুপ্পুকে নিয়ে নির্বাচন প্রাসঙ্গিক হতে পারে না। বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। এ সময় হাসনাত তাদের অবস্থান স্পষ্টকরণের আহ্বান জানান।

এক প্রশ্নের জাবাবে হাসনাত বলেন, যিনি রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হবেন তারই প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে বসুক, সমাজের বিজ্ঞ লোকগুলো একসঙ্গে বসুক। বসে তারা সিদ্ধান্ত নিক কে প্রেসিডেন্ট হবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রধান যিনি হবেন তিনি যেন রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হন। তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। অন্যথায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মেনে নেবো না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিষয়ে আমরা আপসহীন। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তারা নৃশংসতা চালিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের কম্পোনেন্ট যেসব থাকে সব তাদের আছে। দেশবাসীকে আহ্বান জানাবো যেখানেই দেখবেন তাদের শক্তভাবে দমন করুন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বাদে সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া দিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দল যদি ৭২’র সংবিধান বাতিল ও প্রেসিডেন্টের অপসারণ দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে না আসে তাহলে সে দলকেও আমরা বয়কট করবো, ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে।

নাগরিক কমিটি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ বিষয়ে নাগরিক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা কোনো গোলটেবিল আলোচনা চাই না। আমরা রাজপথে বিশ্বাসী, রাজপথে থেকেই সমাধান করতে চাই। রাজপথে থেকে হাসিনা পালিয়েছে, রাজপথেই সিদ্ধান্ত হবে চুপ্পু কোথায় যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসুদ, উমামা ফাতেমা, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মনজুর আল মতিন, আরিফুল ইসলাম আদিব প্রমুখ।

mzamin

সিলেটের হাজারো ক্রাশার মিল নিয়ে বেলা’র যে আপত্তি by ওয়েছ খছরু

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১০ বছর সিলেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। পাথর উত্তোলনে কেউ কোনো নিয়মই মানছিলেন না। এ কারণে ১৬ বছরে পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় মারা গিয়েছিল ১০৬ জন শ্রমিক। কোম্পানীগঞ্জের শারপিন টিলা পুরোটাই ধ্বংস করা হয়। যেটুকু অবশিষ্ট ছিল সেটিও গত দুই মাসে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য মতে, ৫ই আগস্টের পর জাফলং ও সাদাপাথর থেকে অন্তত দুশ’ কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে।এই লুটের ঘটনার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জাফলংয়ে ১০৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। দু’টি মামলার ঘটনায় জাফলংয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’র (বেলা) সিলেটের নেতারা বসে নেই। তাদের মতে, পাথর লুট বন্ধ করা গেলেও ক্রাশার মিল বন্ধ করা যায়নি। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, সালুটিক, সিলেট সদরের ধোপাগুল, জাফলংয়ের সোনাটিলা, বাংলাবাজার, কানাইঘাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে কয়েক হাজার ক্রাশার মিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এসব ক্রাশার মিলে দেশীয়ভাবে উত্তোলিত পাথরই শুধু ভাঙা হয়নি, ভারত থেকে আমদানি করা পাথরও ভাঙা হয়। ফলে ক্রাশার মিল উচ্ছেদ হলে সিলেটের পাথর বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। পাথরকেন্দ্রিক ব্যবসা বন্ধ হলে সিলেটের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। গতকাল সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার জানিয়েছেন, পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাথর ভাঙার মেশিন পরিচালনার ব্যবসা। কোনো নিয়মনীতি না মেনে চলছে পাথর ভাঙার মেশিন। এতে জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেটের সদর, দক্ষিণ সুরমা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিপুলসংখ্যক স্টোন ক্রাশার মেশিন আছে। এসব স্থানে সহস্রাধিক মেশিন চলছে। নদীর তীর, সড়ক সংলগ্ন, কৃষি জমিতে এমনকি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরসহ সংলগ্নস্থানে চলছে অবৈধ এসব পাথর ভাঙার কল। এক্ষেত্রে স্টোন ক্রাশার মেশিন স্থাপন নীতিমালা-২০০৬ এবং অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে চলছে এসব মেশিন। ওই স্মারকলিপিতে তিনি জানান- ২০০৫ সাল থেকে যান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে সিলেটের পিয়াইন, ডাউকী, ধলাই, রাংপানি নদী ও লোভাছড়া সৌন্দর্য্য হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন শিল্প। বিধ্বংসী পাথর উত্তোলনের ফলে নদীগুলোর বিভিন্ন স্থানে পানি ঘোলা হয়ে যায়। পিয়াইন ও ডাউকী নদীর বুকে বালুর স্তূপ ও ট্রাকের মিছিল নিয়মিত হয়ে পড়ে। অনিয়মতান্ত্রিক পাথর উত্তোলনের ফলে ভূমিধস, নদীতীরে ভাঙন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, কৃষিজমি বিলুপ্ত হওয়াসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, উচ্চ  আদালতের রায় ও সরকারের  সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ২০২০ সালের ৮ই জুন এক পত্রের মাধ্যমে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত ৮টি পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিত করে। পাশাপাশি পাথর উত্তোলন বন্ধ করে। ফলে সিলেটের পিয়াইন ও ডাউকী নদীসহ পাথর মহাল হিসেবে পূর্বে ঘোষিত নদী, ছড়া ও প্রকৃতিতে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট থেকে পাথর উত্তোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞার ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে পাথর উত্তোলন শুরু করেন যা এখন পর্যন্ত চলমান। এডভোকেট শাহ সাহেদা জানান, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় এমনকি অযান্ত্রিক পদ্ধতিতেও খনিজসম্পদ আহরণ আইনত অনুমোদিত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জাফলং-এ পর্যটন ফিরে আসার প্রেক্ষিতে সরকার নিশ্চিতভাবেই পিয়াইন ও ডাউকী নদীসহ  রাংপানি নদী, ধলাই নদী, বিছানাকান্দি, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর ও ভোলাগঞ্জে পর্যটন শিল্পের বিকাশে একটি রূপরেখা ও মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করতে পারেন। উল্লেখিত জায়গাগুলো থেকে পাথর কোয়ারিসমূহকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সৌন্দর্য যেমন রক্ষা করতে পারেন তেমনি পরিবেশ বিধ্বংসী পাথর উত্তোলন থেকে এলাকাগুলোকে রক্ষা করতে পারেন।

কোয়ারি সচলে জাফলংয়ে মানববন্ধন: জাফলংয়ে পরিবেশসম্মত ও সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতিতে মানববন্ধনে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা দুইটি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ৩৬টি সংগঠনের নেতারা। বুধবার জাফলংয়ের মামার বাজার পয়েন্টে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা দুইটি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা শাহ আলম স্বপন, পদবঞ্চিত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আমজাদ বক্স, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম রানা, জাফলং ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি সমেদ মিয়া, জাফলং বল্লাঘাট পাথর শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সিরাজ মিয়াসহ জাফলংয়ের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

mzamin

বিতর্কের অবসান

প্রেসিডেন্টকে অপসারণের দাবি ঘিরে নানা বিতর্ক। বঙ্গভবন ঘিরে বিশৃঙ্খলা। নানা জায়গায় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পদত্যাগের আল্টিমেটাম এসেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্টকে অপসারণ বা তার পদত্যাগ এই মুহূর্তে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। এতে নতুন করে দেশের স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে আপাতত সাহাবুদ্দিনকেই পদে রেখে সংকট সমাধানের চিন্তা করা হচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও ভাবতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো চাইছে দেশে যাতে নতুন করে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি না হয়। এ বিষয়ে সরকারকেও পরামর্শ দেয়া হয়েছে দলটির তরফে। বিএনপি’র সমমনা দলগুলোও এমন চিন্তা করছে। এ অবস্থায় পুরো বিষয় পর্যালোচনা করছে সরকার।

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাবি জানিয়ে আসলেও গতকাল তারা এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। ইস্যুটি এখন অনেকটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারের তরফেও বলা হয়েছে এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ইস্যুতে বিএনপিসহ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয় এমন কোনো উদ্যোগ চায় না। এ কারণে সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এ ইস্যুতে গতকাল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বুধবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও এ বিষয়ে বৈঠক করেন দলটির নেতারা। বৈঠক শেষে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশে নতুন করে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হোক বিএনপি এমনটা চায় না। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যদি কোনো সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে, তাহলে গণতন্ত্রকামী ও আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবো। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি এমন এক সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন যখন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবি জোরালো হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছি কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি নেতারা সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসররা নানা কৌশলে, নানাভাবে দেশে রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন লড়াই করে বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পরিবর্তন অর্জন করেছি, এই পরিবর্তনের সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা দরকার। এখানে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার সংগঠন, ছাত্র-যুব সংগঠন, সবার দৃঢ়তর ঐক্য গড়ে তোলা দরকার। যাতে কেউ কোনোভাবে দেশে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট কিংবা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে না পারে, এভাবে সবাইকে হুঁশিয়ার থাকতে হবে।

ওদিকে গতকাল দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রেসিডেন্ট পদে শূন্যতা এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সংকট সৃষ্টি করবে, সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করবে- এটা জাতির কাম্য নয়।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদ একটা সাংবিধানিক পদ। সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে হঠাৎ করে পদত্যাগের মাধ্যমেই শূন্যতা সৃষ্টি হলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে এবং রাষ্ট্রীয় সংকটের সৃষ্টি হবে। আর রাষ্ট্রীয় সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যদি গণতন্ত্র উত্তরণের পথটা বিলম্বিত হয় কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়- সেটা জাতির কাম্য হতে পারে না। সালাহউদ্দিন বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদের এবং তাদের দোসররা যাতে কোনো রকম ষড়যন্ত্র করে এখানে অন্য কিছুর পাঁয়তারা করতে না পারে, সেজন্য আমরা সবাইকে সজাগ থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আর আমরাও ঐক্যবদ্ধ আছি। ঐক্যবদ্ধভাবেই সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবো। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে বলেন, বিকল্প তৈরি না করে এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, অপসারণের ফলে নানা ধরনের সাংবিধানিক সংকট হতে পারে। ওদিকে জামায়াতও এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসুবক পেজে প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপেও তিনি বলেন, বিষয়টি প্রেসিডেন্টকেই স্পষ্ট করতে হবে। গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি যেমন বলেছে, নতুন একটা সাংবিধানিক জটিলতা কিংবা বিতর্কের মধ্যে পড়ার আমাদের দরকার নেই। প্রেসিডেন্টের বিষয়টি যদি এতই গভীরতর হয় তাহলে সরকারের উচিত হবে সবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা এবং সেই কথার আলোকে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। যাতে এটাতে জাতীয় একটা ঐকমত্য প্রতিফলিত হয়। আমরা এর আগে যখন এরশাদকে বদলিয়ে সাহাবুদ্দীন সাহেবকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তখন এমনটাই করা হয়েছিল। আমি মনে করি, দেশের যত সমস্যা আছে, সেই সমস্যার পাশাপাশি এই সমস্যারও সমাধান করা যাবে এবং এটা আমাদের যাত্রাপথে বড় কোনো বিঘ্ন হবে না।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক জটিলতা বাড়ানোর দরকার নেই, সমাধান হলো জাতীয় ঐকমত্য। যে ভুল তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) শুরুতেই করেছে সেটার কাফ্‌ফারা দিতে পারবে না, যতদূর পারে সংশোধনের চেষ্টা করতে পারে।  গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা আলোচনা করি, প্রাথমিকভাবে মনে করি, সরকারের উচিত হবে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া। এটা একটা রাজনৈতিক ইস্যু, সাংবিধানিক নয়। প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে যে, তিনি এটা বলেননি। ৫ই আগস্ট তিনি আমাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কথা বলেছেন। তার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণেও একই কথা বলেছেন। এখন তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি। এখন তার পদে থাকার বিষয়ে আমরা রাজনৈতিকভাবে আলোচনা করছি। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত শিগগিরই এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, প্রেসিডেন্টের দ্বিমুখী বক্তব্য জাতির সঙ্গে শঠতার শামিল। গণঅভ্যুত্থানে গঠিত নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গতকাল বিকালে পুরানা পল্টনে অবস্থিত আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা মনে করি, প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যের মাধ্যমে যে ধুম্রজাল তৈরি করেছেন তাতে এই পদে থাকার নৈতিকতা তিনি হারিয়েছেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষুব্ধ করেছে। নতুন একটা ষড়যন্ত্রের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে যেহেতু সংসদ নাই সেহেতু এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নিতে হবে। এর বাইরে বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করলে এবং প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে পদত্যাগের দাবি করলে সম্ভব হবে না। এটা রাষ্ট্রের জন্য শোভনীয়ও নয়। আমি মনে করি, অতি উৎসাহী আন্দোলনগুলো বন্ধ হওয়া দরকার এবং সরকারের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা প্রক্রিয়া বের করা দরকার।

প্রেসিডেন্টের থাকা না থাকা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত: নাহিদ
স্টাফ রিপোর্টার: মো. সাহাবুদ্দিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন কি থাকবেন না, এই প্রশ্নটি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আইনি বা সাংবিধানিক কোনো প্রশ্ন নয়- বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি একেবারেই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপদেষ্টা নাহিদ। অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সমর্থনে গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সে সময় বিদ্যমান সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতিকে রেখেই সরকার গঠন করেছিলাম। কিন্তু যদি আমাদের মনে হয় এই সেটআপে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে অথবা জনগণ এই সেটআপে অসন্তুষ্ট, তাহলে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাববো।

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই জানান তিনি। শফিকুল আলম বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও আলটিমেটাম নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান তো আপনারা দেখছেন, যারা বিক্ষোভ করছে তারা যেন বঙ্গভবনের আশপাশ থেকে সরে যায় সেটার জন্য বলেছি। বঙ্গভবনের সিকিউরিটি বাড়িয়েছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে বিএনপি’র সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে। কালকে উনারা জানিয়েছিলেন আজকে আসবেন। এর আগেও এরকম অনেক সংলাপ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রচুর কথা হচ্ছে। এটার অংশ হিসেবে আজকে বিএনপি’র সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো অগ্রগতি হলে আপনারা জানবেন। প্রেসিডেন্ট ইস্যুতে বিএনপি’র সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, বিএনপি তো বের হয়ে আপনাদের ব্রিফিং করেছে, সেটা তাদের জিজ্ঞেস করবেন, আমাদের তরফ থেকে আমরা একই কথা বার বার বলছি যে, রাজনৈতিক দল আমাদের অংশীজন তাদের সঙ্গে আমাদের অনেকগুলো সংলাপ হচ্ছে, এটা চলমান ডায়ালগ, সেটার অংশ। যদি কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয় সেটা আমরা জানিয়ে দেবো। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার অসুস্থতার গুজব নিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রচুর কল পেয়েছি, প্রফেসর ইউনূসের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকে ইনকোয়ারি করেছেন। আমরা জানাতে চাই, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন। প্রতিদিনই তিনি মিটিং করেন, তার ছবি দিচ্ছি আমরা। কালকেও অনেকগুলো মিটিং করেছেন। আজকেও তিনি বিএনপি’র সঙ্গে মিটিংয়ে ছিলেন।

mzamin

‘ঘরে সবই আছে কেবল রাকিব নেই’ by আমিনুল ইসলাম লিটন

এখনো ফ্রিজে জমানো রয়েছে দুধ, গুড়, নারিকেল ও পুলিপিঠার পুর। নিস্তব্ধ ঘরে প্রতিটি জিনিস পরিপাটি সাজানো। টানটান করা বিছানার উপর এক পাশে বালিশ। পড়ার টেবিলে তাকে তাকে সাজানো বই। ড্রয়িংরুমে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে প্রিয় মোটরসাইকেল। তার পাশেই কাপড় ধোয়ার মেশিন। পানিশূন্য পানির ফিল্টারের ভেতরটা শুষ্ক, আয়রনের হালকা আস্তর।  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯শে জুলাই রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হোসেন (২৯)। রাকিব চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকতেন। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে তার ঘরটা সবসময় এমনই সাজানো গুছানো থাকতো তার অপেক্ষায়। বাড়িতে তিনজন মানুষের বসবাস। কিন্তু দু’জন মানুষ থাকলেও দেখে মনে হবে কোথাও যেন কেউ নেই। রাকিব নিহত হয়েছেন আজ ৯৪ দিন। কিন্তু তার পরিবারের শোকের মাতম আজও থামেনি। ঝিনাইদহ জেলার সদর পৌরসভার সার্কিট হাউজ রোডের মহিষাকুণ্ডু গ্রামের বাসিন্দা বিমান বাহিনীর মাস্টার ওয়ারেন অফিসার (অব.) আবু বকর সিদ্দিক (৬১) এবং হাফিজা খাতুন (৫৮) দম্পতির আদরের ধন রাকিবুল হোসেন। তিনি ঢাকার বনানী সুপার জুট মিলে চাকরি করতেন। ঢাকার মিরপুরে-১১ নম্বরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাকিব ছোট। বড় ভাই ইকবাল হোসেন (৩৭) সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে ঝিনাইদহ শাখায় কর্মরত। রাকিবের পিতা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আন্দোলনের সময় আমরা রাকিবকে ফোন করলে সে লোকজনের ভিড় থেকে সরে গিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলতো। সে যে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, এটা সে আমাদের বুঝতে দিতে চাইতো না। এসব কথা রাকিবুলের সহকর্মীরা পরে আমাদের জানিয়েছে। মা হাফিজা খাতুন বলেন, ১৮ই জুলাই ঢাকায় যখন আন্দোলনে হামলা শুরু হয়, তখন থেকেই আমরা ভয়ে ছিলাম। শুধু ভাবতাম আমার রাকিব অফিসে যাবে কীভাবে? ১৯শে জুলাই শুক্রবার রাকিবকে ফোন করে বললাম, আব্বু অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরি এসো? প্রতি উত্তরে সে বলেছিল, ‘না মা, ফেরা যাবে না।’ তবে সে ফিরেছে লাশ হয়ে।  তিনি বলেন, ১৯শে জুলাই, শুক্রবার, বেলা আড়াইটার পরে আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। রুটি আর ডিম ভাজি দিয়ে সকালের নাস্তা করেছিল রাকিব। হাফিজা খাতুন বলেন, ১৯শে জুলাই মিরপুর-১১ তে মেট্রোরেল লাইনের নিচে আন্দোলনকারীদের মাঝে আমার ছেলে পানি বিতরণ করছিল। শিক্ষার্থীদের মাঝে সে যতক্ষণ ছিল, ততক্ষণ নিরাপদেই ছিল। যখনই সে পানি বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীদের থেকে কিছুটা আলাদা হয়ে যায়, তখনই তাকে টার্গেট করে গুলি করা হয়।

আমার ছেলের সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা জানিয়েছে, উপর থেকে গুলি এসে তার গলায় ঢুকে যায়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার ছেলেটা মারা যায়। আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমার ছেলের বন্ধু পিয়াস জানিয়েছে, সে সময় একজন বয়স্ক মহিলা দৌড়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে রাকিবের সামনে এসে পড়ে যায়। রাকিব তাকে টেনে তুলতে এগিয়ে গিয়েছিল। আর তখনই উপর থেকে নিখুঁত টার্গেটে আমার ছেলেকে গুলি করা হয়। রাকিবের মা বলেন, ১৯শে জুলাই রাত ৮টার দিকে একমাত্র ভাতিজা রাফসান (৪)-এর সঙ্গেই রাকিবের শেষ কথা হয়। রাফসান রাকিবকে ‘ছোট আব্বু’ বলে ডাকতো। ফোনে কথা বলার সময় রাফসান রাকিবকে বলেছিল- ছোট আব্বু তুমি বাড়ি চলে আসো। গাড়ি না পেলে তোমার বাইক নিয়ে চলে আসো। না হয় তুমি এম্বুলেন্সে বাড়ি চলে আসো। কে জানতো চার বছরের অবুঝ শিশুটির সেই কথাই এমন নির্মম বাস্তবে পরিণতি পেয়ে যাবে! রাকিব বাড়ি ফিরেছে ঠিকই। প্রিয় বাইক কিংবা গাড়িতে নয়, বরং নিথর দেহে এম্বুলেন্সে চেপেই শেষবারের মতো বাড়ি ফেরা হলো তার।

mzamin

গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে খতম করলে ১,১১,১১,১১১ টাকার ইনাম

জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে হত্যা করতে পারলে ১,১১,১১,১১১ টাকা ইনাম দেয়া হবে এমন ঘোষণা করলো করণী সেনা। ক্ষত্রিয় করণী সেনা জানিয়েছে, যে পুলিশ অফিসার গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে এনকাউন্টারে শেষ করতে পারবেন তাকেই এক কোটি টাকা দেবে তারা। লরেন্স বিষ্ণোই এখন গুজরাটের সবরমতী জেলে বন্দি।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিক আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। বিষ্ণোইয়ের দল সেই হত্যার দায় নিয়েছে। বাবা সিদ্দিকের ছেলে কংগ্রেস নেতা জিসান এবং হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হিটলিস্টে রয়েছেন। সালমানকে আগেই হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে বলা হয়েছে, পাঁচ কোটি না দিলে তারও পরিণতি হবে বাবা সিদ্দিকের মতো। নিজে জেলে থাকলেও সেখান থেকেই লরেন্স তার দল পরিচালনা করেন। আন্তর্জাতিক স্তরে মাদক ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত। সালমান খানের কাছ থেকে ‘প্রটেকশন মানি’ না পেয়ে কিছুদিন আগে মুম্বাইয়ে তার বাড়ির সামনে বিষ্ণোই গ্যাং গুলি চালিয়েছিল। সেটা ছিল সতর্কবার্তা, হুঁশিয়ারি। এরপর সালমান খানের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়।

একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষত্রিয় করণী সেনার জাতীয় সভাপতি রাজ শেখাওয়াত বলেছেন, যে পুলিশ অফিসার লরেন্স বিষ্ণোইকে এনকাউন্টারে মারতে পারবেন তাঁকে ১,১১,১১,১১১ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। রাজ শেখাওয়াতের দাবি এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জরুরি। সে কারণে পদক্ষেপ নিতে হবে। শেখাওয়াত কেন্দ্র ও গুজরাত সরকারের নিন্দা করে বার্তায় বলেছেন, তারা লরেন্সের মতো সাংঘাতিক খুনিকে সামলাতে ব্যর্থ। তাই যে পুলিশ অফিসার তাকে খতম করবে তিনিই ওই পুরস্কার পাবেন।  তিনি আরও বলেন, করণী সেনার সাবেক প্রধান সুখদেব সিং গোগামেদিকে ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লরেন্সই খুন করিয়েছিলেন। খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষ্ণোই গ্যাং সেই দায়ভার নিয়েছিল।

সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

mzamin

বিশ্বব্যাংক জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের কী লাগবে by এমএম মাসুদ

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে টাকার অঙ্ক তুলে ধরেছে। আলটিমেটলি তারা কতো টাকা দেবে তা বিশ্বব্যাংক তাদের বোর্ডে সিদ্ধান্ত   নিয়ে জানাবে। তবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে অর্থ চাওয়ার অঙ্ক শুনে বিশ্বব্যাংক আঁতকে ওঠেনি। এমনকি প্রত্যেকটা মিটিংয়ে বিশ্বব্যাংক জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের কী লাগবে?

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ২য় দিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে সালেউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে আইএমএফ’র এমডি বার বার বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বৈঠকে আইএমএফ এমডি ক্রিস্টালিনা গিওরগিভা সামষ্টিক অর্থনীতি এবং মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জনের প্রশংসা করেছেন। সরকারের পাশে থাকবে উন্নয়ন সহযোগীরা, সেই প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে নব্বই পরবর্তী সব সরকারই এই কৃতিত্বের দাবিদার বলে মনে করেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠকে নিজস্ব কৌশল তুলে ধরেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ইউএসএআইডি’র সঙ্গে কথা বলবো, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলবো এবং আরও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলবো। মোদ্দা কথা হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে মোটাদাগে আর্থিক সহায়তা চাইবো।

যেসব ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্থিক খাত উন্নয়নে সহায়তা ও বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ চাইবে। এ ছাড়া পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ক্ষেত্রে সহায়তা চাওয়া হবে। ব্যাংক সংস্কারের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে। ব্যক্তিখাতের উন্নয়নের জন্য আমরা সহায়তা চাইবো।
আর একটা হলো টেকসই উন্নয়নের জন্য আমরা সহায়তা চেয়েছি। মোটামুটি একদম সন্তোষজনক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশ।

ঋণ পরিশোধ নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ঋণ পরিষদে ব্যর্থ হয়নি। বৈঠকে আইএমএফ বিভিন্ন দাতা সংস্থার ঋণ পরিশোধ করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিয়েছে।
বাংলাদেশ কতো টাকা ঋণ সহায়তা পেতে যাচ্ছে, জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা টাকার অঙ্ক তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আলটিমেটলি তারা কতো টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক তাদের বোর্ডে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে। তবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে অর্থ চাওয়ার অঙ্ক শুনে বিশ্বব্যাংক আঁতকে ওঠেনি। নতুন বাংলাদেশ গঠনে যার যার কাছে যত টাকা চেয়েছি প্রত্যেকে পজেটিভ এবং সন্তোষজনক সাড়া দিয়েছে। তবে সহায়তার পরিমাণটা পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ২য় দিনে বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে আইএমএফ। এতে বাংলাদেশের জন্য চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে দুর্যোগপ্রবণ ২০ দেশের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই অধোগতি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় সরকার। বরং ধাক্কা সামলে ভালো কিছুর প্রত্যাশা তার কথায়।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে, শিগগিরই তার হিসাব জানা যাবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী মনে করছেন, সঠিকভাবে ব্যয় করতে পারলে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৪ শতাংশের পূর্বাভাস: অর্থনীতির ধীর গতির কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর আগে চলতি অর্থবছরের জন্য সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল ৬.৬ শতাংশ।  
ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে চলমান বার্ষিক সম্মেলনে প্রকাশিত আইএমএফ’র ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক’ রিপোর্টে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।  

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেয়।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক বন্যা এর অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। আইএমএফ’র ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক’ রিপোর্টে অবশ্য বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আলাদা পর্যালোচনা নেই।  
এদিকে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার পূর্বাভাস থাকলেও আইএমএফ মনে করছে, মূল্যস্ফীতি না কমে বরং বাড়তে পারে। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) দেশে মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ৯.৭ শতাংশ।
আইএমএফ’র অনুমান, চলতি অর্থবছরে বেড়ে ১০.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বব্যাংক বলেছিল, খাদ্যের উচ্চ মূল্য এবং সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে চলতি অর্থবছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকবে। তবে তা গত অর্থবছরের ৯.৭ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নামতে পারে।   

আইএমএফ প্রতি বছর এপ্রিলে এবং অক্টোবরে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক’ প্রকাশ করে।
এই রিপোর্টে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দেশভিত্তিক সর্বশেষ হিসাব এবং আগামীর জন্য পূর্বাভাস থাকে। মূলত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বসন্তকালীন সভা এবং বার্ষিক সভায় এই ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এখন ওয়াশিংটনে সংস্থা দু’টির বার্ষিক সভা চলছে। বাংলাদেশ আইএমএফ’র কাছ থেকে বাড়তি যে ঋণ চেয়েছে, সে বিষয়ে এই সভা চলকালীন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

mzamin


দু’দিন অফিস করেও পুরো মাসের বেতন পেতেন লিটন কন্যা by মারুফ হোসেন মিশন

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বামীকে নিয়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের সাধারণ চিকিৎসক আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ মাস অফিস করতে দেখা যায়নি অর্ণাকে। তবে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন এ চিকিৎসক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অর্ণা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের বড় কন্যা। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়াও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক।

রাবি চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ অফিস করেছিলেন অর্ণা। এদিকে গত ৯ মাসে আর অফিস করতে দেখা যায়নি তাকে। অফিস না করেও গত ৯ মাসে সরকারি বেতন-ভাতা পেয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অষ্টম গ্রেডের বেতন পেতেন এ নেত্রী।

আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে ১লা জুলাই রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সময়ে বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে রাবির মেডিকেল সেন্টারে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এ নেত্রী। অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়ায় ৬ মাস পরপর নবায়ন করে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে রাবির মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত তিনি। তার সর্বশেষ ছয় মাসের জন্য নবায়নকৃত চাকরির মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৪ সাল পর্যন্ত। যদি নতুন করে চাকরি নবায়ন করা না হয়, তাহলে অটোমেটিক চাকরি হারাবেন তিনি। এদিকে চাকরিতে প্রবেশের সাড়ে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও তাকে রাবির চিকিৎসক হিসেবে চিনেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মাসে দু-একদিন অফিস করেই পুরো মাসের বেতন হাতিয়ে নিতেন।

মেডিকেলের অন্যান্য চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত কখনোই অফিস করতে দেখা যায়নি অর্ণা জামানকে। মাসে দু-একদিন অফিস করতেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তার ডিউটি থাকলেও তিনি অফিস করতেন ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত। অফিস চলাকালে তার সাথে থাকতেন একাধিক অস্ত্রধারী বডিগার্ড। ফলে মেডিকেলের অন্যান্য চিকিৎসকরা এ নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকতেন। এছাড়াও তার অফিস টাইমের পুরো সময়জুড়ে চেম্বারের সামনে ভিড় করে রাবি থেকে শুরু করে রুয়েট ও রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতেন। এতে রোগ নির্ণয়ের জন্য আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা না নিয়েই ফিরে যেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল সেন্টারের এক ডাক্তার বলেন, ডা. আনিকা তেমন একটা ডিউটি করতেন না। মাসে দুএকদিন হঠাৎ তাকে দেখা যেত। যেদিন অফিসে আসতেন সেদিন তার সাথে অস্ত্রধারী দুজন বডিগার্ড থাকতেন। ফলে আমিসহ আমার সহকর্মীরা খুব আতঙ্কে থাকতাম। ভয়ে তার চেম্বারে যেতাম না। এদিকে, যতটুকু সময় অফিস করতেন তিনি সেই সময়টাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবসময় তার চ্যাম্বারের সামনে উপস্থিত থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে স্লোগান দিতেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অর্ণার ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল-মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও রিচ করতে পারিনি। আমরা বিষয়টি অভিযোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবগত করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা ভালো মনে করেন তাই করবেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ্‌ হাসান নকীব বলেন, ৫ই আগস্টের পর যেসকল শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজ দপ্তরে উপস্থিত নেই আমরা তাদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছি। তবে অর্ণা যেহেতু ৯ মাস ধরে অফিস করছেন না তার বিষয়টি অবশ্যই ভিন্নভাবে দেখতে হবে। তার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

mzamin

ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষণায় ঢাবি ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণায় আনন্দ মিছিল করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে ঢাবি ক্যম্পাস।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ৯টার দিকে নিষিদ্ধের খবর প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল শুরু করেন। পরে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে জড়ো হন।

এসময় শিক্ষার্থীরা ছাত্রজনতার গণভ্যুত্থানের  শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করবেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আজকে আমাদের জীবনের অন্যতম আনন্দের একটা দিন। ছাত্রলীগ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো কেউ ছিলো না। এই ছাত্রলীগ ১৫ জুলাই আমাদের উপর হামলা করেছে, সারাদেশে তারা অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছে। বিরোধিতা ছাড়া রাজু ভাস্কর্যে কোনো প্রোগ্রাম করতে পারিনি। অন্যান্য ছাত্রসংগঠন এবং তরুণদের জন্য একটা শিক্ষা। পাপ করলে পাপের ফল পেয়ে যেতে হয়।
সমন্বয়ক আবু সাঈদ বলেন, আজকে আমরা অনেক বেশি খুশি কারণ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা সারা দেশ থেকে ছাত্রলীগ ও তার দোসরদের সমূলে উৎখাত করতে চাই।
সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন,  সাদ্দাম বলেছিল আন্দোলন যাবে আসবে ছাত্রলীগ থেকে যাবে। ছাত্রলীগ রাজপথে জন্ম নেয়া সংগঠন। কিন্তু আজকে তারা কোথায়? আজকে খুনী হাসিনাও নাই, চারণ কবিও নাই, ছাত্রলীগও নাই।  বাংলাদেশে আর কোনো মুজিববাদের কোন ঠিকানা হবে না। ২৪ বিপ্লব সবাইকে দেখিয়েছে মুজিববাদ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে সত্য ইতিহাস গোপন করে রেখেছিলো। কিন্তু এখন তারা আর সেটা পারবে না। আমরা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করেছি। এখন দেশের সকল সাধারণ মানুষ লুকায়িত সত্য ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
সমন্বয়ক আহিনাফ সাঈদ খান বলেন, গণভ্যুত্থানকে ধরে রাখতে হলে সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। মুজিববাদী কালচারাল ফ্যাসিস্টরাও ফিরে আসছে বিভিন্নরূপে। আমরা শপথবদ্ধ হয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে একটা ছাত্রলীগ দেখা মিললে সর্বশক্তি দিয়ে তাদের প্রতিহত করবো। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সংগঠনকেও নিষিদ্ধ করতে হবে তাহলেই অভ্যুত্থান পূর্ণতা পাবে।

mzamin

টেলিটক-হুয়াওয়ে প্রকল্প: ২০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ by কাজী সোহাগ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ফাইভ-জি প্রকল্পে ২০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। টেলিটকের চার কর্মকর্তা কোম্পানির মগবাজার অফিসে বসে ওই ঘুষ গ্রহণ করেন। কর্মকর্তারা হলেন- প্রকল্পের তৎকালীন পিডি খায়রুল হাসান, ডিপিডি খালেদ হোসেন, জিএম মামুন ও আশরাফ। প্রকল্পের নাম-এক্সপানশন অফ টেলিটক’স নেটওয়ার্ক আপ টু রুরাল এরিয়াস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক রিডিনেস ফর ফাইভ-জি সার্ভিস প্রজেক্ট। বর্তমানে প্রজেক্টটির কাজ অর্ধেকের মতো শেষ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ২০ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিবেদককে অফিসে কিংবা আলাদাভাবে দেখা করার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে হুয়াওয়ে ঘুষ লেনদেন বিষয়ে মানবজমিনের লিখিত প্রশ্নে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেখানে এ ধরনের কোনো লেনেদেন হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত টেলিটকের ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে নিম্নমানের ডিভাইস ও ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করতে টেলিটকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। মানবজমিনকে তিনি বলেন, টেলিটকের ফাইভ-জি প্রকল্পে হুয়াওয়ে যেসব ডিভাইস ও ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করছে বর্তমানে পৃথিবীর কোনো দেশে এসব ব্যবহার হচ্ছে না। এসব অনাধুনিক হয়ে গেছে। আর টেলিটকের যেসব কর্মকর্তা হুয়াওয়ের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন তারা মূলত ওইসব নিম্নমানের ডিভাইস ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি। পাশাপাশি যে সকল কর্মকর্তা ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে পিডি খায়রুল হাসান বলেন, এসব স্পর্শকাতর বিষয়। এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনি যদি আমাকে চিনে থাকেন তাহলে বুঝবেন আমি কেমন মানুষ। অন্য তিন কর্মকর্তার দু’জন প্রতিবেদককে আলাদাভাবে দেখা করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই প্রসঙ্গে হুয়াওয়ের হেড অব মিডিয়া তানভীর আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘুষ লেনদেনের প্রশ্নটি লিখিত আকারে দিতে বলেন। পরে ফাইভ-জি রেডিনেন্স প্রজেক্ট নিয়ে টেলিটকের মগবাজার অফিসে টেলিটক এর কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে হুয়াওয়ের অবৈধ লেনদেন হয়েছে-এমন অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে হুয়াওয়ের বক্তব্য কি? প্রশ্নটি লিখিত দিলে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘নিজের বার্ষিক আয়ের ১৫ শতাংশেরও বেশি গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে হুয়াওয়ে। এ কারণেই টেলিযোগাযোগ খাতে এর সকল গ্রাহককে সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকরী পণ্য ও সমাধান দিতে পারে। আর সে কারণেই হুয়াওয়ে সকলের পছন্দের একটি ব্র?্যান্ড। অন্যদিকে ব্যবসায়িক পরিচ্ছন্নতা ও হুয়াওয়ের প্রতি সকলের আস্থার বিষয়টিকেও আমরা অনেক গুরুত্ব দেই। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো আমাদেরও একটি অভ্যন্তরীণ অডিট টিম রয়েছে যারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে গত ২৬ বছরের পথচলায়  হুয়াওয়ে সবসময় স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে এদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে অবদান রেখেছে। তাই অনৈতিক লেনদেনের যে দাবি এখানে করা হচ্ছে সেটা ভিত্তিহীন।’ ফাইভ-জি নিয়ে টেলিটকের সঙ্গে কাজ করার সময় হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১২ সাল থেকে গবেষণার ও উন্নয়নের মাধ্যমে অত্যন্ত কার্যকরী হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যা অপারেশনের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দ্রুতগতির ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রদানে সক্ষম। বাংলাদেশে ফাইভ-জি চালু করার ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে টেলিটককে তার উচ্চমানের জঅঘ ইউনিট প্রদান করবে। এর মধ্যে অঅট (অ্যাকটিভ অ্যান্টেনা ইউনিট), যা ফাইভ-জি যুগে টেলিটক নেটওয়ার্কের কার্যকারিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। হুয়াওয়ের অঅট প্রযুক্তির একটি কার্যকারিতা হলো এটি বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইটে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাবে এবং দমকা হাওয়ার চাপেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করবে। যদিও হুয়াওয়ের এসব প্রযুক্তি নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এর আগে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় বিটিসিএল’র ফাইভ-জি প্রকল্পের কাজ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে। তড়িঘড়ি আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওই প্রকল্পের কাজে হুয়াওয়েকে নিয়োগের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ২৫শে জুলাই বাংলাদেশে ফাইভ-জি সেবা পরীক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। তখন ৮০০ মেগাহর্স স্পেকট্রাম ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ চার জিবি পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি পাওয়া গিয়েছিল। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় হুয়াওয়ে ফাইভ-জি প্রদর্শনীতে ১.৬ জিবিপিএস গতির সাক্ষী করে ঢাকাকে। ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতে প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে ভূমিকা রাখছে হুয়াওয়ে। কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে ফাইভ-জি চালু করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশে লিমিটেড সহযোগী হিসেবে নির্বাচন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি অবকাঠামো ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে। অন্যদিকে টেলিটক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধনকৃত টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর।
mzamin