Tuesday, December 2, 2014

বিচার বিভাগে দুর্নীতির স্থান নেই: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, বিচার বিভাগে দুর্নীতির কোন স্থান নেই। এ ব্যাপারে কোন প্রকার শৈথিল্য মেনে নেয়া হবে না। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচারক বা আদালত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক, চিফ মেট্রোপলিটন এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি আজ এ সব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতি বিষয়ক যে কোন তথ্যকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। দুর্নীতি অবিচারের জন্ম দেয়। আর এক স্থানে অবিচার সর্বত্র সুবিচারের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা অভিযোগ আমি কখনওই আমলে নেবো না। কিন্ত দুর্নীতির প্রতিটি যুক্তিগ্রাহ্য অভিযোগকে আমি আমলে নেবো এবং উপযুক্ত একজন জজ অভিযোগটি তদন্ত করবেন। এছাড়া আদালত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা এবং নতুন ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ৩২৫ জন জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক, চিফ মেট্রোপলিটন এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন করে জেলা ও দায়রা জজ বিচার বিভাগের সমস্যা ও তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সিনিয়র জেলা জজ এসএম কদ্দুস জামান।
জেলা জজদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা কেবলমাত্র একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক নন, জেলা পর্যায়ে বিচার প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বটে। অধীনস্থ বিচারক ও আদালত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও জেলার বিচার ব্যবস্থায় সামগ্রিক মানোন্নয়নের দায়িত্ব জেলা জজের। আপনাদের প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার মাধ্যমে যে কোন অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির অবসান ঘটাবেন এটাই প্রত্যাশা। তিনি বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি কোন কোন জেলা জজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর আদৌ বিচারকাজে বসেন না। এটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কজলিস্টে এমনভাবে মামলা রাখতে হবে যাতে পুরো বিচারিক সময় আদালত কার্যরত থাকতে পারে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি এ-ও শুনেছি কোন কোন বিচারক বা ম্যজিস্ট্রেট যাদের পরিবার ঢাকায় থাকেন তারা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং  রোববার দুপুরে ফিরে যান কর্মস্থলে। এই অবস্থাও কাম্য নয়। আপনারা সঠিক সময়ে আদালতে আসবেন এবং বিচারিক সময় বিচার কাজে ব্যাপৃত থাকবেন এবং অন্য বিচারকদের একই ভাবে নিয়মানুবর্তী ও সময়নিষ্ঠ হতে সহায়তা করবেন।

‘চ্যানেল সিক্সটিন’ বন্ধের নির্দেশ

পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল সিক্সটিন’ এর সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডাউনলিংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরীক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইনসাইট টেলিকাস্ট কোম্পানি লিমিটেডের ‘চ্যানেল সিক্সটিন’ এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের অনুমতির মেয়াদ ২০১৩ সালের ৩০শে নভেম্বর শেষ হয়েছে। এরপরে এর মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। এ অবস্থায় ইনসাইট টেলিকাস্ট কোম্পানি লিমিটেড বা অন্য কারও পরিচালনায় ‘চ্যানেল সিক্সটিন’ এর নামে কোন টেলিভিশন চ্যানেল কেবল অপারেটর, অনলাইন বা অন্য কোন মাধ্যমে যাতে সম্প্রচার করা না হয় সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হল। ওই নির্দেশনার অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

পরনে শর্ট স্কার্ট: অভিনেত্রী গওহর খানকে যুবকের চড়

‘অপরাধ’ পরনে শর্ট স্কার্ট! মডেল- অভিনেত্রী গওহর খানকে সেই আক্রোশে চড় মারল এক উন্মত্ত যুবক। রবিবার গুরগাঁওতে একটি সিংগিং রিয়েলিটি শোতে গওহরকে চড় মারে দর্শক আসনে উপস্থিত ২৪ বছরের এক যুবক। অভিযুক্ত আকিল মালিককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে গওহরকে শর্ট স্কার্টে দেখে সে মাথা ঠিক রাখতে পাড়েনি। ‘ইন্ডিয়াস স্টার’ নামক ওই রিয়েলিটি শোয়ের ফাইনাল এপিসোডে এই চমকে দেয়া ঘটনাটি ঘটেছে। গওহর ওই শো-টির সঞ্চালিকা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ওই যুবক দর্শকাসনে বসে গওহরকে টিটকিরি মারতে শুরু করে। গওহর তৎক্ষাণাৎ তার প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। হঠাৎ করেই ওই যুবক  গওহরকে সপাটে চড় কষায়। উত্তেজনা এর পর তীব্র হয়। রিয়েলিটি শোটির এক প্রতিযোগী ও প্রোডাকশনের এক ব্যক্তি রেগে গিয়ে ওই যুবককে পেটাতে শুরু করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন ও অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে অভিযুক্ত যুবককে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সূত্রে খবর সেই সময় স্টুডিওতে ২,৫০০ জনেরও বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ২৫০ জন বাউন্সারও। তার মধ্যেই ওই যুবক গওহরে সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে সে কোনও রকম পালিয়ে স্টেজে উঠে গওহরকে চর মারেন। আচমকা আক্রমণে রাগে ক্ষোভে কেঁদে ফেলেন গওহর। সঙ্গে সঙ্গে শ্যুটিং বন্ধ করে দেয়া হয়। এক ঘণ্টা পরে ফের শুরু হয় শো।

অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ড: ফের রিমান্ডে ৫ আসামি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে আটক ৫ জনকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক শারমিন আখতার শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সময় আদালতে সাগর ও জিন্নাত আলীর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। তবে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যার ১৭ দিনেও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে নৃশংস হত্যাকা-টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ব্যানারে আয়োজিত মানবন্ধনোত্তর সমাবেশে বক্তারা এ অভিযোগ তুলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, হত্যাকান্ডের ১৭দিন পরেও আমাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। অপরাধীদের ধরতে তাদের কোন তৎপরতায় এখন চোখে পড়ছে না। পুলিশের গড়িমসিতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- আরফিুল ইসলাম মানিক, আব্দুস সামাদ পিন্টু, সবুজ শেখ, কালু ও মামুন। এর আগে র‌্যাবের হাতে আটক ছয়জনকে ২৫ নভেম্বর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করা হলে তারা জাবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, পুলিশের হাতে প্রথম দফায় আটক আরিফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু এরআগে তিনদফা রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরআগে গত ২৭ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হাতে আটক ৫ জনকে ১০ দিনের এবং পুলিশের হাতে আটক ১ জনকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্তের স্বার্থে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে থেকেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

বাবা সারা জীবন কোরআনের ফুল বাগানের মালীর কাজ করেছেন : মাসুদ সাঈদী

বাবার সাথে মাসুদ সাঈদী
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, তার বাবা ‘সারা জীবন কোরআনের ফুল বাগানের মালীর কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যমে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী কারাগারে মালীর কাজ করছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
তিনি তার ফেসবুকে বলেছেন :
পত্রিকা রিপোর্ট করেছে ‘কারাগারে আল্লামা সাঈদীকে মালীর কাজ দেয়া হয়েছে । এই রিপোর্টটি কিছু পত্রিকা আবার লিখেছে ‘মনের মাধুরী’ (!) মিশিয়ে । পত্রিকার পাশাপশি নিন্দুকেরা কটু মন্তব্য করতে ছাড়ছে না ফেসবুকেও । সকল নিন্দুকের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য হলো-
“আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা আল্লামা সাঈদী প্রকৃত অর্থে সারাটি জীবন ‘মালীর’ কাজই করেছেন । তিনি কোরআনের ফুল বাগানের মালীর কাজ করেছেন, তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ফুল বাগানের মালীর কাজ করেছেন । জালিম সরকারের রাজনৈতিক রোষানলে পরে এখন হয়তো কোরআনের ফুল বাগানের মালী আল্লামা সাঈদীকে কারাগারের ফুল বাগানের মালী হতে হবে । তবে আমরা বিশ্বাস করি ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জন্য এটি অসম্মানের কোনো বিষয় নয় । তারা জানেন ফাসির মঞ্চ, জেল, জুলুম, জরিমানা ইসলামী আন্দোলনের অলংকার । কারণ এর মাধ্যমেই অর্জিত হয় দুনিয়াবী জীবন ও আখেরাতের জীবনের সফলতা ।”

সমাজ ভাবনা- জমি নিয়ে ‘ডিজিটাল’ জমিদারি by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আমার তখন একেবারে শিশু বয়স। সবেমাত্র কথা বলতে শিখেছি। তখন থেকেই আমার আব্বা আমাকে দিয়ে কবিতা আবৃত্তি করাতেন। কবিতা আবৃত্তি করতে বললে, সবার সামনে দাঁড়িয়ে, দু’হাত পেছনে নিয়ে, খুবই আগ্রহের সাথে আমি তা মান্য করতাম। নজরুলের ‘লিচু চোর’, রবীন্দ্রনাথের ‘বীর পুরুষ’ অথবা ‘অন্তর মম বিকশিত কর...’, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি...’ ইত্যাদি অনেক কবিতা অনর্গল আবৃত্তি করতাম।

শৈশবে যেসব কবিতা আমার কণ্ঠস্থ ছিল তার মধ্যে আমার কাছে খুবই প্রিয় ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটি। এ কবিতায় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া এক গরিব কৃষকের যে হূদয়গ্রাহী কাহিনীর বর্ণনা রয়েছে তা আমার শিশুমনকে আলোড়িত করে তুলতো। সেই কাহিনীকে ভিত্তি করে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতা বলরাজ সাহানী অভিনীত ‘দো বিঘা জমিন’ সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। শিশু বয়সে সে সিনেমাও আমি দেখেছি। সে সিনেমা দেখে চোখ পানিতে ভরে গেছে। যুগটি ছিল সামন্তবাদী জমিদার-জোতদারদের যুগ। তার পরে সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সামন্তবাদী-উপনিবেশবাদী সমাজ ব্যবস্থার বদল হয়েছে। গোটা বিশ্বে এখন পুঁজিবাদ আসন গেড়ে বসেছে। কিন্তু জমি নিয়ে ‘জমিদারির’ খেলা শেষ হয়নি। যে খেলা এখন নতুন রূপ লাভ করেছে। এখন তাকে আধুনিক ও পুঁজিবাদী ‘ডিজিটাল-জমিদারি’ বলে আখ্যায়িত করা যায়। এখনো চলছে ‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি’-এর ট্র্যাজিক সব ঘটনাবলী। এসব নিষ্ঠুর খেলা আজও আমার এই প্রবীণ হতে থাকা মনকে একইভাবে বেদনায় আলোড়িত করে।

 ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটির প্রথম কয়েকটি লাইনে কবি লিখেছেন—

“শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।

বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’

কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই—

চেয়ে দেখ মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই।’

শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা,

পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা—’

এককালে ‘রাজা’দের বাগানকে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার বিলাসী খেয়াল পূরণের জন্য ‘উপেনদের’ জমি এভাবে গ্রাস করা হতো। এখন যুগ বদলেছে। এখন উপেনদের যত্সামান্য ভিটে-মাটি-জমি হুড়হুড় করে প্রবেশ করছে পুঁজির রাক্ষসী মুখগহ্বরে।

অতীতে একসময়ে জমি-জমার ওপর কোনো ধরনের ব্যক্তিমালিকানার ব্যবস্থা ছিল না। সমগ্র ধরিত্রীর যাবতীয় সম্পদ ছিল সব মানুষের সাধারণ সম্পত্তি। সমাজে যেদিন থেকে শ্রেণি বিভাজনের উদ্ভব, তখন থেকে ক্রমান্বয়ে উত্পাদন উপকরণাদির ওপর ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থা চালু হতে থাকে। জমি-জমার ক্ষেত্রেও তা প্রসারিত হয়। মধ্যযুগের সামন্তবাদী ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই জমি-জমা ছিল সম্রাটের সম্পত্তি, যা খাজনার বিনিময়ে সাধারণ নাগরিকরা ব্যবহারের সুযোগ পেতো। জমি কেনা-বেচা হতো না। রাজা-বাদশাহরা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা দখল করে নিজেদের দখলে নিয়ে আসতো। পরবর্তীতে একসময় জমি-জমার ওপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠা পায়। তা পরিণত হয় ব্যক্তিগত সম্পদে। কিছুটা দীর্ঘায়িত উত্তরণকালীন পর্বের মধ্যদিয়ে পার হয়ে তা অন্য দশটা পণ্যের মতো বাজারের কেনা-বেচার সামগ্রী হয়ে ওঠে। সেই সময়কালটি ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মানব সমাজের উত্তরণ প্রক্রিয়াকালে। পুঁজিবাদের বর্তমান পর্যায়ে ভূ-সম্পত্তি ‘বাজারের-শক্তি’ ও তার নিয়ম-কানুনের অধীনস্থ হয়ে পড়েছে। জমি নিয়ে জমিদারিতে এমন ‘ডিজিটাল’ বাস্তবতার আছর পড়েছে।

অন্যান্য পণ্যের মতো জমি-জমার দামও নির্ধারিত হয় তার তথাকথিত চাহিদা ও সরবরাহের আপেক্ষিক পরিমাণ দ্বারা। পুঁজিবাদের নিয়মানুসারে জমি-জমার ব্যবহারিক মূল্যের চেয়ে প্রধান হয়ে ওঠে সঞ্চিত পুঁজি হিসেবে জমি-জমার মূল্য। সম্পদ সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে একসময় প্রধান উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হতো সোনা। সেক্ষেত্রে জমিজমা এখন হয়ে উঠেছে সোনার তুলনায় অনেক বেশি মূল্যবান। তার একটি বড় কারণ হলো, ভূ-সম্পত্তির কল্পনাতীত মূল্যবৃদ্ধির হার। বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ হলো অপ্রদর্শিত কালো টাকা। এই অবৈধ টাকা দিয়ে সোনা কিনে সঞ্চয় করে রাখার পরিবর্তে জমি-জমা কিনে বিনিয়োগ করে রাখাই এখন বহুগুণ বেশি লাভজনক। লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাত্কৃত কালো টাকার সরবরাহ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এর কারণে জমি কেনার পেছনে টাকার সরবরাহও বেড়ে গেছে। জমির জন্য এই বাড়তি চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে জমির সরবরাহ বাড়ার যেহেতু কোনো সুযোগ নেই, তাই জমি-জমার দাম লাফিয়ে-লাফিয়ে বেড়ে চলেছে।

সব দেশেই জমির প্রতি মানুষের মায়া অপরিসীম। আমাদের দেশে তা আরো অনেক বেশি। ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণ ছাড়াও তার একটি বড় কারণ হলো আমাদের দেশের অতি ঘনবসতিপূর্ণ বাস্তবতা। পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশে জমির অনুপাতে জনসংখ্যা হলো সবচেয়ে বেশি। জমির আইলের একইঞ্চি এদিক-ওদিক করা নিয়ে জান কবুুল করতেও এদেশের মানুষ পিছপা হয় না। জনসংখ্যা যত বাড়ছে, জমির দুষ্প্রাপ্যতাও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহুদিন পর্যন্ত জমির মালিকানার পরিমাণ ছিল মর্যাদা ও ক্ষমতার উত্স। বর্তমানে তা অধিকতরভাবে হয়ে উঠেছে বিত্ত-বৈভবের ও বিনিয়োগের সবচেয়ে উত্কৃষ্ট উপকরণ।

জমির আপেক্ষিক আর্থিক মূল্য কি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে তার একটি হিসাবের দিকে নজর দেয়া যাক। পঞ্চাশের দশকে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা দামে ধানমন্ডি এলাকায় প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল। ষাটের দশকে বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকা দামে গুলশানের প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল। আজকাল গুলশান এভিনিউতে মূল সড়কের পাশের জমি কাঠা প্রতি ৭ কোটি টাকায় (অর্থাত্ বিঘা প্রতি ১৪০ কোটি টাকায়) এবং ভেতর দিকের জমি কাঠা প্রতি ২ কোটি টাকায় (অর্থাত্ বিঘা প্রতি ৪০ কোটি টাকায়) বিক্রি হচ্ছে। পক্ষান্তরে, সোনার দাম স্বাধীনতার আগে আগে ছিল ১২০ টাকা ভরি, যা এখন প্রায় ৪১ হাজার টাকায় উঠেছে। ডলারের দাম ৪.৭৬ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৮ টাকা হয়েছে। স্বাধীনতার আগের দামের তুলনায় বর্তমান মূল্যমান হিসেব করলে দেখা যায় যে, ডলারের ক্ষেত্রে সে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬.৪ গুণ, সোনার ক্ষেত্রে তা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪১ গুণ, আর ঢাকার গুলশান এলাকার জমির ক্ষেত্রে তা বেড়েছে জমির অবস্থান বিশেষে ১০ হাজার গুণ থেকে ৩৫ হাজার গুণ। অর্থাত্ দেখা যাচ্ছে যে, সোনার দামের চেয়ে জমির দাম বেড়েছে ক্ষেত্রবিশেষে তিরিশগুণ থেকে শতগুণ পর্যন্ত। ডলারের তুলনায় সেই বৃদ্ধির পরিমাণ তো ১৫শ’ গুণেরও বেশি। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, জমি এখন সোনার চেয়ে শতগুণ দামি সম্পদ হয়ে উঠেছে। কার্ল মার্কস বলেছিলেন যে, মুনাফার পরিমাণ এক শতাংশ বাড়ানোর স্বার্থে প্রিয়জনের গলায় ছুরি চালানোসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা করতে পুঁজিপতিরা দ্বিধা করে না। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, একখণ্ড জমি হাতিয়ে নিতে আধুনিক ‘ডিজিটাল জমিদাররা’ কতটা হীন পথ অবলম্বন ও ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করতে পারে।

আবাসন ব্যবসা এখন সোনার খনির চেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। নানা কারসাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাপ-দাদার সম্পত্তিসহ জমি-জমা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। বর্ধিত দামের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক রকম জবরদস্তিও করা হচ্ছে। চলতি বাজারের লোভনীয় মূল্যতেও যদি সাধারণ মানুষ তার জমি বিক্রি করে, সেই প্রাপ্ত অর্থ থেকে যে বাত্সরিক সুদ সে পাবে, জমির দাম সেই তুলনায় বছর-বছর বাড়বে তার চেয়ে শতগুণ বেশি হারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী বিচারে সম্পদের স্থানান্তর ঘটতে থাকবে গরিব ও মধ্যবিত্ত জমি বিক্রেতাদের থেকে জমি-জমার বিত্তবান ক্রেতাদের কাছে।

আবাসন ব্যবসায়ীরাও মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে বিপুল সম্পদ হাতিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আবাসন প্লটের ক্রেতারা প্রায় সর্বাংশেই সমাজের বিত্তবান মানুষ। এমনকি গরিব বস্তিবাসীদের ও নিম্নবিত্তদের জন্য যে ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেই প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলোও গরিব মানুষদের বদলে বেআইনীভাবে বিত্তবানদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এভাবেই ‘জমি-জমা’ ‘ও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যবসা হয়ে উঠেছে গরিবকে আরো গরিব ও ধনীকে আরো ধনীতে পরিণত করে সমাজের বৈষম্যকে অকল্পনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি করার একটি ব্যবস্থা।

কোটি কোটি টাকায় লাল হয়ে ওঠা লুটেরাদের অবৈধ অর্থে ফুলে-ফেঁপে উঠছে আবাসন ব্যবসা। আবাসন ব্যবসায়ীরা নাগরিক জীবনের বৃহত্তর স্বার্থকে ধ্বংস করে তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। শহরগুলোর মধ্যদিয়ে ও আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদী, নালা, খাল এবং বিদ্যমান জলাশয়গুলো ভরাট করে তারা ভূ-সম্পদ বেদখল করে তা তাদের আবাসন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে নিচ্ছে। গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করছে। রাস্তাঘাটের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ছেড়ে না রেখে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর-ফ্ল্যাট নির্মাণ করে চলেছে। ড্রেজার দিয়ে অথবা ট্রাকে বালি-মাটি এনে নির্বিচারে নিচু জলাভূমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে চলেছে। ভরাট হওয়ার আগে জলাবদ্ধ থাকা অবস্থাতেই কাগজের ম্যাপে প্লট এঁকে সেগুলো বহুশত গুণ দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। অবৈধ কালো টাকার কারবারের সাথে এভাবে যুক্ত হচ্ছে দ্বিতীয় দফায় আরেক প্রস্থ অবৈধ কার্যকলাপ। এখনো ডেভেলপাররা জলাভূমিতে মাটি ফেলে মনুষ্যসৃষ্ট চর তৈরি করে হাউজিং প্রজেক্টের প্লট তৈরি করছে। স্বাধীনতার আগে ঢাকা শহরে ৪৭টি খাল ছিল। বেশিরভাগ খালের প্রস্থ ছিল ১৫০ ফুটের বেশি। বর্তমানে এসবের মধ্যে ২৫টি খাল বিলুপ্ত হয়েছে, ২২টি খাল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখলেও সেগুলো সংকুচিত হয়ে চওড়া নালার রূপ গ্রহণ করেছে। এই অবস্থা সৃষ্টির জন্য ভূমি-দস্যুরাই দায়ী।

ঢাকা শহর বর্তমানে বস্তুত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মহানগরকে বাঁচানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ নিতান্তই অত্যাবশ্যক, সেসবকে ভিত্তি করে ‘ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান’ বা ড্যাপ নামে মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছিল। পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে সেই ড্যাপ রিভিউ করার কাজের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও হয়েছিল। জলাবদ্ধতা, পরিবেশ-প্রতিবেশ, পানি সঙ্কট, উন্মুক্ত স্থান, বন্যা প্রবাহ এলাকা, কৃষি এলাকা, জলাশয়, জলাধার রক্ষা ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়কে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বিবেচনায় নিয়ে ড্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালের ১৫ জুলাই ড্যাপের চূড়ান্ত গেজেটও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু জমি নিয়ে যারা আধুনিক ‘ডিজিটাল জমিদারি’ চালায়, সেই শক্তিমান বিত্তশালীদের কলকাঠি সঞ্চালন ও ষড়যন্ত্রে সেই ড্যাপকে বস্তুত হত্যা করা হয়েছে। জমি নিয়ে এসব আধুনিক ‘ডিজিটাল নব্য-জমিদারদের’ জমিদারি আর চলতে দেয়া যায় না। কারণ তাতে দেশ ও জনগণের সর্বনাশ ঘটে চলেছে। সময় এসেছে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার।

>>>লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail : selimcpb@yahoo.com

তাঁর হাতে স্নাইপার গান ছিল কেন?

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ওই ঘটনার এক দিন পর স্নাইপার গান দিয়ে অনুশীলন করেছিলেন। এ বিষয়ে সদর দপ্তরের কোনো অনুমোদন নেননি তিনি।
অথচ ফায়ারিং অনুশীলনের জন্য র‌্যাব সদর দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয় এবং অনুশীলন শেষে সদর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অস্ত্র নিয়ে অনুশীলনের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয় এবং অনুশীলন শেষে প্রতিবেদন পাঠাতে হয়।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, অপহরণের দিনে রাতেই অপহৃত ব্যক্তিদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত ৯ অক্টোবর লে. কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খানের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার এক দিন পর অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল র‌্যাব-১১-এর সে সময়কার অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ অনুমোদন ছাড়াই স্নাইপার গান ব্যবহার করেন। র‌্যাব-১১-এর কার্যালয়ের পেছনের ফাঁকা জায়গায় বালুর বস্তা (স্যান্ডব্যাগ) ব্যবহার করে নয়টি গুলি করেন। ওই সময় তাঁর জন্য ফায়ারিং রেঞ্জ বরাদ্দ ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। উইকিপিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই দূর থেকে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করেন। সাধারণ অস্ত্র ব্যবহার করে এই কাজ করা সম্ভব না। মডেল ভেদে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে ৬০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব। র‍্যাব-১১-এর কাছে দুটি স্নাইপার রাইফেল ছিল।
র‍্যাব-১১-এর ওই প্রতিবেদনে সদর দপ্তরকে জানানো হয়, গুলি ছোড়ার (ফায়ারিং) জন্য আগে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মৌখিক কোনো অনুমোদন ছিল কি না, জানা নেই। তবে লিখিত অনুমোদনের কোনো নথিপত্র ওই ব্যাটালিয়নে সংরক্ষিত নেই। এ ছাড়া গুলি ছোড়া অনুশীলনের পরে র‌্যাব সদর দপ্তরে এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রতিবেদনও পাঠানো হয়নি।
স্নাইপার গান দিয়ে অনুশীলন ও ব্যবহার করা গোলাবারুদের হিসাব চেয়ে গত ৩ অক্টোবর র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর র‌্যাব-১১-এর সহকারী পরিচালক রবিউল হক একটি হিসাব পাঠান। একই বিষয়ে ৮ অক্টোবর র‌্যাব সদর দপ্তরের আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়। গত ৯ অক্টোবর এই চিঠির জবাব দেন র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং এর পরদিন ওই নদী থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা মডেল থানায় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। অন্যদিকে চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক একটি মামলা করেন।
এই ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

‘প্রধানমন্ত্রীও তাইজুলের মতো হ্যাটট্রিক করবেন’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি যত আন্দোলন সংগ্রামই করুক না কেন ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন নয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে নাটোরের তাইজুলের মতো হ্যাটট্রিক করবেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কানাইখালী স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। পরে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যানের বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল ফারুক খান (অব.), সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহ্মুদ স্বপন, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, আব্দুল কুদ্দুস, শফিকুল ইসলাম শিমুল, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেগম জিয়া কুমিল্লার সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রতিনিয়ত দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচনের জন্য কোন সংলাপ হলেও তা হবে কমিশনের সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে নয়। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে চক্রান্ত করলে খালেদা জিয়ার কালো হাত ভেঙ্গে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখাবেন না। আন্দোলন কাকে বলে আওয়ামী লীগের চাইতে ভালো আর কেউ জানে না। দেশের স্বাস্থ্য সেবার কথা উল্লেখ করে নাসিম বলেন, আগে গ্রামের হাসপাতালে কোন ডাক্তার পাওয়া যেত না, এখন গ্রামেও ডাক্তাররা অবস্থান করছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন সরকারি সব চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপি মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের দলে কোন গণতন্ত্র নেই। দলের নেতা নির্বাচনে তাদের কোন ভোটাধিকারের সুযোগ নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। তাই আমরা দলেও গণতন্ত্রের চর্চা করি।

বার্গম্যানের ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৭ দিনের জেল

আদালত অবমাননার অভিযোগে ইংরেজি দৈনিক নিউএজের বিশেষ প্রতিবেদন বিষয়ক সম্পাদক বৃটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এজন্য তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা অনাদায়ে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া, মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এজলাস কক্ষে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম নিয়ে নিজ ব্লগের লেখায় ডেভিড বার্গম্যান আদালত অবমাননা করেছেন দাবি করে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদের দায়ের করা আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে এ রায় এলো।

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তানভীরের জামিন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার আসামি তানভীর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি নূরুল হক জায়গীরদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ জামিন মঞ্জুর করে। ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় পরদিন শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। এ হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সিপিডির সমালোচনায় তোফায়েল

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির তীব্র সমালোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিশ্বের সবাই যখন বলছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল, তখন সিপিডি নেগেটিভ কথা বলছে। সিপিডি কি বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণার চেয়েও  চেতা? মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। গত ২৭শে নভেম্বর প্রকাশিত সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এজন্য এখন থেকে আগামী এক দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বিদেশে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরা। আমরা যখন তা তুলে ধরছি, তখন কতকগুলো সংগঠন নেগেটিভ প্রচারনা চালাচ্ছে।

শ্রীনগরে চার বছরের শিশু ধর্ষিত

শ্রীনগরে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে এক বখাটে। মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের হাতার পাড়া এলাকার সবুজ গ্রামে এঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এলাকাবাসী ধর্ষক রাজিবকে (২০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পুলিশ জানায়, ঐ এলাকার আলী বেপারীর ছেলে রাজমিস্ত্রি রাজিব তার প্রতিবেশী ঐ শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে পাশ্ববর্তী জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এসময় স্থানীয় লোকজন ধর্ষক রাজিবকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। শ্রীনগর থানার এসআই আ. জলিল জানান, এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে সাঈদী

মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদ- প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়েছে। আজ সকালে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। তিনি কোমর ও হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এর আগে গতকাল সোমবার গাজীপুরের কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে সাঈদীকে অসুস্থতার কারণে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে আজ তাকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হল। গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদ-াদেশ দেয়। ২৮শে মার্চ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। আপিলের রায়ে তাকে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া হয়।

দেশের বাইরের লীগ খেলতে পারবেন সাকিব

সাকিব আল হাসানের উপর থেকে দেশের বাইরের লীগে খেলার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যার করা হয়েছে। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডর (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে আচরণগত সমস্যার কারণে তাকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে ছয় মাস ও দেশের বাইরে লীগে খেলার ক্ষেত্রে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় সাকিবের উপর। পরবর্তীতে ৬ মাসের নিষেদ্ধাজ্ঞা কমিয়ে ৩ মাস করা হয়। তবে দেশের বাইরে খেলার নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিল বিসিবি। অবশেষে সাকিব আল হাসানের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে ও মাঠের বাইরের পারফরমেন্স বিবেচনায় দুপুরে তার দেশের বাইরের লীগে খেলার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এই প্রত্যাহারে আইপিএল, বিগ ব্যাশ ও সিপিএলে খেলতে কোন বাধা রইল না সাকিবের।

‘গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে পতনও গায়ের জোরে’ by কাজী সুমন

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, গায়ের জোরে কেউ ক্ষমতায় থাকতে চাইলে তার পতনও হয় গায়ের জোরে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা সরকারের পতনে মানুষ রাস্তায় নামার অপেক্ষায় আছে। গ্রামে-গঞ্জে তারা বিএনপিকে গালিগালাজ করছে। বিএনপির ওপর একটা বিশ্বাস থেকেই মানুষের এই হতাশা। একসময় মানুষ আর বিএনপির নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে না। তারা নিজেরাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া  যায় না। তখন প্রশাসনও চোখ-কান বন্ধ করে সরকারকে সমর্থন দেবে না। তারাও প্রতিবাদ করবে। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। অগোছালো সংগঠন নিয়ে আন্দোলন সফল করার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের জন্য সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু সংগঠন ছাড়াও আন্দোলন সফল করা যায়। আমরা যে ইস্যুতে আন্দোলন করছি সেটা গোটা দেশের মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন প্রতিবাদী হয়ে গেছে। যেখানেই বিএনপি চেয়ারপারসন যাচ্ছেন সেখানেই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, মানুষ এখনও মনে করে, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কারণ তাদের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এদেশে ভোট শুরু হলে মানুষের মধ্যে উৎসব দেখা দেয়। ৭৫-৮০ ভাগ মানুষ ভোট দেয়। তাদের ভোট দিতে না পারায় মানুষ এখন ক্ষিপ্ত। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে ওসমান ফারুক বলেন, গণআন্দোলনের ধারা-প্রকৃতি জ্যামিতিক হিসেবে করা যায় না। শেখ হাসিনার বোঝা উচিত- পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশে কিভাবে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলন সময় নিতে পারে কিন্তু শেষ হয়ে যায় না। কেউ যদি গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায় তাহলে তার পতনও গায়ের জোরে হয়। বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, আন্দোলন সফল হতে হাজারও মানুষের প্রাণ দিতে হয় না। নূর হোসেন, ডা. মিলনসহ কয়েকজনকে হত্যার পরেই স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল। একজন মানুষ মৃত্যুর ফলেই সরকার পতন হয়ে যায়। অথচ এই সরকার শ’ শ’ মানুষ মেরে ফেলেছে। তারা যদি মনে করে এটাই উপায় তাহলে তাদের পতন সময়ের ব্যাপার। ওসমান ফারুক বলেন, যে সরকারের জবাবদিহি থাকে না তারা আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকে। দেশের সর্বত্র লুটপাট চলছে। কিছু পরিবারের কাছে দেশের সম্পদ চলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ৫১ হাজার পরিবার নাকি হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। দেশের বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ কমে গেছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জিডিপির বৃদ্ধির হার কমে গেছে। সরকার এভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইলে তাদের পতনও হবে অনাকাক্সিক্ষতভাবে। আন্দোলন ঠেকাতে সরকার যদি এবারও দমন-পীড়ন নীতি অবলম্বন করে তাহলে বিএনপির কৌশল কি হবে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সবসময় একই কৌশল কাজ করে না। যদি একই কৌশল কাজ করতো তাহলে আইয়ুব খান ও এরশাদের পতন হতো না। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল করে সারাজীবনই ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কিন্তু পারেননি। এদেশের মানুষ প্রতিবাদী ও মুক্তিকামী। সাধারণ মানুষ এখন আর ভাত-কাপড়ের রাজনীতি করে না। তারা এখন অনেক সচেতন।

শান্তিচুক্তির ১৭ বছর: কেমন আছে পাহাড়ি জীবন by নাজমুল আহসান

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে আসে শান্তিবাহিনী। আপাত অবসান হয় প্রায় দুই যুগ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পেরিয়ে গেছে ১৭ বছর। কিন্তু আকাক্সিক্ষত শান্তি কি আদৌ এসেছে? পরিস্থিতির হয়তো উন্নতি হয়েছে অনেক। তবে পাহাড়ে এখনও পারস্পারিক জাতিগত ক্ষোভ, অশান্তি, অবিশ্বাস বিদ্যমান। প্রায়ই তাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তৎকালীন শান্তিবাহিনীর একটি অংশ বেরিয়ে যায় সংগঠন থেকে। তাদের দাবি, চুক্তি করে পাহাড়িদের আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই অংশটিই পরবর্তীকালে গড়ে তোলে ইউনাইটেড পিপলস রিপাবলিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ইউপিডিএফ চুক্তির বদলে পাহাড়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চায়। খাগড়াছড়ির প্রায় পুরো অংশ, রাঙ্গামাটির বিশাল অংশসহ বান্দরবানের অনেক এলাকা দলটির দখলে। ইউপিডিএফ ও চুক্তির পক্ষের পার্বত্য জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে এলাকা দখলের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের খবর পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে প্রায়ই। এছাড়া ভাতৃঘাতি সংঘাত, খুন, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনাসমূহ ঘটছে নিয়মিত। কয়েক দিন আগেই অপহৃত হয়েছিলেন বনবিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। এক বন কর্মকর্তা বলেছিলেন, অপহরণকারীরা অপহৃতদের মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে দাবি করে প্রায় কোটি টাকা। পরে অবশ্য ১৯ দিন পর রাঙ্গামাটির লংদুর নানিয়ারচর এলাকা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সেই তিন কর্মকর্তা। তবে মুক্তিপণ দেয়া হয়েছিল কিনা, তা জানা যায়নি। এরই মধ্যে জেএসএস থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য বের হয়ে গিয়ে গড়ে তোলেন জেএসএস-এর আরেকটি গ্রুপ, যা বর্তমানে জেএসএস (লারমা) নামেই পরিচিত। ১৭ বছর পর পাহাড় নিয়ে নতুন অনেক ইস্যুর জন্ম হয়েছে। সমাধান হয়নি পুরনো অনেক জটিল সমস্যারও। শান্তিবাহিনীর তৎকালীন প্রধান, বর্তমানে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-সন্তু)-এর প্রধান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা ৩ দিন আগেও ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এমনকি চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ হুমকিও দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ কিংবা অশান্তিপূর্ণ হতে পারে বলেও জানানো হয়। তিনি সরকারকে ২০১৫ সালের ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নে ‘কার্যকর উদ্যোগ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। এর মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে ১লা মে থেকেই অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এরপর থেকে পাহাড়ে কোন ‘অনাকাক্সিক্ষত’ ঘটনা ঘটলে তার জন্য জনসংহতি সমিতি দায়ী থাকবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ নির্মাণের বিরুদ্ধে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছেন বহুদিন ধরে। তার দল জেএসএস এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে আসছে। যদিও স্থানীয় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে পাল্টা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায় থেকে দাবি করা হচ্ছে, চুক্তির বেশির ভাগ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি অংশ খুব শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু জনসংহতি সমিতি বলছে, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব- সবাই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। গত সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি আসনে জেএসএস-এর প্রার্থী উষাতন তালুকদারের কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এ নিয়ে পর¯পরের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ আনে দল দু’টি। দীপংকর তালুকদারসহ বান্দরবান থেকে নির্বাচিত এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রায়ই পাহাড় থেকে ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি’ দূর করার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি ফিরোজা বেগম চিনু ও জেএসএস-এর এমপি উষাতন তালুকদারের মধ্যে সংসদীয় কমিটি সহ বিভিন্ন ফোরামে বাহাসের ঘটনা পত্রিকায় আসে নিয়মিত। এছাড়া মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চুক্তির বেশিরভাগ অংশই বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগ উল্টো অভিযোগ ছুড়ে দেন জেএসএস-এর দিকে। তাদের বক্তব্য, চুক্তি অনুযায়ী এখনও সশস্ত্র কার্যকলাপ চালিয়ে জেএসএস বরং চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং এর ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনসংহতি সমিতির চলছে তীব্র বিরোধ ও টানাপড়েন। অপরদিকে পাহাড়ের বিপুল সংখ্যক বাঙালিরা নিজেদের ‘অবহেলিত’ ভাবছেন। তাদের দাবি, চুক্তি সহ কোন কিছুতেই তাদের ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে না সরকার। সম্প্রতি পাস হওয়া পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্প্রসারণ বিল নিয়ে বিরোধিতা করেছে পাহাড়ি ও বাঙালী উভয়পক্ষই। সন্তু লারমা বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সম্প্রসারণ করছে সরকার। এছাড়া জেলা পরিষদে নির্বাচন দেয়ার কথা থাকলেও, সরকার নিজেদের ইচ্ছামত দলীয় লোক বসিয়ে অকার্যকর করে রেখেছে জেলা পরিষদ। তাই এটি কেবলমাত্র রাজনৈতিক পুনর্বাসনকেন্দ্র হয়ে পড়ছে। তবে চুক্তির পর আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচন হয়নি একবারও।
এখনও সেখানে অনির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন স্বয়ং সন্তু লারমা নিজে। মাঝে হাইকোর্ট আঞ্চলিক পরিষদকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। যদিও সেই রায় আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। অপরদিকে বাঙালি সংগঠনগুলো বলছে, নতুন করে জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হলেও, এখানেও ন্যায্যতার ভিত্তিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া বিরোধ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নিয়েও। চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ের প্রায় সবক্ষেত্রে পাহাড়িদের অগ্রাধিকার দেয়া হলেও, উহ্য ছিল উন্নয়ন বোর্ড প্রসঙ্গ। একমাত্র এখানেই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন একজন বাঙালিÑওয়াদুদ ভূঁইয়া। এখন এই পদেও পাহাড়িদের অগ্রাধিকার দেয়ার অন্তর্ভুক্ত করে আইন সংশোধন করা হয়। তবুও পাহাড়ি নেতারা এই বোর্ডের প্রয়োজন নেই দাবি করে এর বিলুপ্তি চান। অপরদিকে বাঙালিরা চান এর প্রধান হিসেবে একজন বাঙালিকেই নিয়োগ দেয়া হোক। এছাড়া পার্বত্য এলাকার সবচেয়ে বিরোধ যে বিষয়টি নিয়ে, সেই ভূমি কমিশন দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। পাহাড়ি নেতাদের দাবি অনুযায়ী নতুন করে আইন সংশোধন করে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে। আর এই নতুন সংশোধিত আইন মানতে রাজি নন বাঙালিরা। তারা বলছেন, যেভাবে সংশোধনী আনা হচ্ছে তাতে দায়রা আদালতের কার্যপরিধি খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোন বিষয়ে ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান আপত্তি দিলেও কাজ হবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৩ জন উপজাতীয় সদস্য যে মত দেবেন তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গৃহীত হবে। এছাড়া শিক্ষা ও চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি কোটা ও অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্তির বেলায় নিজেদের সমানাধিকার দাবি তাদের। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিজিবি কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও চলছে সমস্যা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়ায় বিজিবি ক্যা¤প স্থাপনে যে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। বিজিবি বলছে, এ ভূমি ১৯৯১ সালেই অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ভারত-ফেরত শরণার্থীরা এখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের কাউকে উচ্ছেদ না করে এখানে ক্যা¤প স্থাপনের কাজ চলছে। এমনকি হাইকোর্টে ভূমির যে অংশ নিয়ে মামলা চলছে তা বাদ দিয়েই ক্যা¤প স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান বাবুছড়া ৫১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। সেখানে বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ‘স্বাভাবিক চাল-চলনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায়’ প্রায় একুশটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অপরদিকে বিজিবি বলছে, তারা পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা। তারা অপকৌশলের শিকার। একই অবস্থা বান্দরবানেও। সেখানে স্থানীয় এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি বিজিবি’র। অপরদিকে স্থানীয় উচহ্লা ভান্তে দাবি করছেন, প্রায় ১০০ একর ভূমি তার মালিকানাধীন। অপরদিকে স্থানীয় পাহাড়িরা অনেকে নিজেদের পূর্ব-পুরুষদের শ্মশানে যেতে পারছেন না বলে এখান থেকে বিজিবি ক্যা¤প স্থাপনের বিরোধিতা করছেন। আর বিজিবি’র দাবি ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত নিরাপত্তায় এখানে ক্যা¤প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখনও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে উত্তেজনা নিরসন হয়নি। আলোচনায় রয়েছে আদিবাসী-উপজাতি-ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিতর্ক। আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে বহুদিন ধরে আন্দোলন করছে পাহাড়ি সংগঠনগুলো। অপরদিকে ক্ষমতায় আসার আগে তাদের আদিবাসী বলে মানলেও, ২০০৯-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই তা অস্বীকার করে বসে। এমনকি সংবিধান সংশোধনেও সুকৌশলে সরকার আদিবাসী-উপজাতি বিতর্ক এড়িয়ে যায়। আদিবাসী বা উপজাতি’র বদলে, তাদেরকে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে সংবিধানে উল্লেখ করা হয়। সরকারের দাবি, বাংলাদেশে বাঙালিরাই আদিবাসী। এছাড়া শান্তিচুক্তিতে নিজেদের উপজাতি হিসেবে মেনে নিয়েই জেএসএস স্বাক্ষর করেছিল। তাই উপজাতির বদলে আদিবাসী স্বীকৃতি দেয়া হলে, তা হবে চুক্তির লঙ্ঘন। অপরদিকে নিজেদের আদিবাসী দাবি করে পাহাড়ি নেতারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের দাবি, এখানে ক্ষুদ্রত্ব ও বৃহত্বের প্রসঙ্গ উঠানো হয়েছে। তবে আদিবাসী স্বীকৃতি নিয়ে খোদ পাহাড়ি দুই সংগঠনের মধ্যেই বিরোধ রয়েছে। ইউপিডিএফ-এর দাবি, নিজেদের পৃথক জাতিসত্তার দাবির সঙ্গে মিলে না আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি। আদিবাসী কথাটি কেবল একটি নৃতাত্ত্বিক বিষয়, জাতিসত্তার বিষয় নয়। বরং এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথক জাতিসত্তার দাবি। এতসব ইস্যুর ভিড়ে পাহাড়ের সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি চান শান্তি। কিভাবে এই শান্তি আসবে তা হয়তো তাদের জানা নেই। নিজেদের ভাগ্য তারা সঁপে দিয়েছেন নীতি-নির্ধারকদের হাতে।

যে কারণে নিকৃষ্টতম উ. কোরিয়া

জাতিসংঘ চলতি মাসে উত্তর কোরিয়াকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করবে। এর আগে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। একনায়ক কিম জং উনের সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে অনেক চ্যালেঞ্জ। এতে অবশ্য ভেটো দিতে পারে চীন ও রাশিয়া। তবে হেগে দেশটির বিচার হোক বা না হোক- অভ্যন্তরীণভাবেই ক্ষয়ে যাচ্ছে দেশটি। সোমবার টেলিগ্রাফ প্রকাশিত ছয়টি তথ্যে দেখা যাচ্ছে কীভাবে ভেতর থেকে দেশটি বিশ্বের নিকৃষ্টতম দেশ হয়ে উঠছে
১. দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় দু’দশক ধরে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া একই সমান্তরালে থেকে উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ১৯৭০ সালের পর দক্ষিণ কোরিয়া দেশে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার এনে জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে এখন জি-২০ সদস্য হয়ে গেছে। অন্যদিকে একনায়কতান্ত্রিক কমিউনিস্ট শাসন চালিয়ে নিজেদের সামনে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি ব্যানার টানিয়ে রেখেছে। কিন্তু জিডিপি মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলো কাতারে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ১৯৩ দেশের মধ্যে তার অবস্থান ১৮০তম। দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা এক কোটি দুই লাখ মানুষ একেবারে ‘হতদরিদ্র’। ২. জীবন-মৃত্যু : দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় উত্তর কোরিয়ার মানুষ গড়ে ১২ বছর আগে মৃত্যুবরণ করে। দক্ষিণে যেখানে গড় আয়ু ৮১ বছর, সেখানে কিমের হারমিট সাম্রাজ্যে মাত্র ৬৯ বছর। ৩. ক্ষুধা : মারাত্মক খাদ্যঘাটতি উত্তর কোরিয়ার গড় আয়ু কমে যাওয়ার কারণ। ১৯৯০ দশকের এক মহামারিতে ৬-২৫ লাখ মানুষ ক্ষুধার কারণে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণের খাবার পায় না।
৪. সামরিকায়ন : জনসংখ্যার হিসাবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সেনাবাহিনীর দেশ উত্তর কোরিয়া। প্রায় ১২ লাখ সেনাসদস্য রয়েছে তাদের। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ জনগণ সক্রিয় সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করছে। যা এশিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। ছেলেদের ১৭ বছর বয়স হলেই সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগ দিতে হবে এবং কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করতে হবে। মেয়েদের জন্য ৭ বছর। ৫. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা : মুক্ত অর্থনীতি ও আর্থিক স্বাধীনতার দিক দিয়ে বৈশ্বিক সূচকের তলানিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। আর আইনের শাসন, শ্রমিক স্বাধীনতা, বাণিজ্য সুবিধা নেই বললেই চলে। ৬. দেশান্তর : ‘নিকৃষ্টতম’ শাসনব্যবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে দেশটির অধিবাসীরা। যদিও কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বসিয়েছেন। আগের দু’বছরের তুলনায় বর্তমানে প্রতিবছর দেশান্তরী হওয়ার সংখ্যা অন্তত ২ হাজার কমে গেছে। ১৯৯০ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার মানুষ পালিয়ে দ. কোরিয়া, চীন, রাশিয়া ও জাপানে চলে গেছে।

ইরাকে ৫০ হাজার ভুয়া সেনা

ইরাকের সেনাবাহিনীতে এমন অন্তত ৫০ হাজার সদস্যের নাম আছে, বাস্তবে যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার ইরাকের পার্লামেন্টে এ তথ্য উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আবাদির মুখপাত্র রাফিদ জাবুরি জানান, দুর্নীতিবিরোধী এক তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসের বেতন দেয়ার সময় স্বশরীরে হাজিরা নেয়া হয়। ওই সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। যুদ্ধে মারা গেছেন বা সেনাবাহিনী ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এমন অনেক সেনা সদস্যের নামে টাকা তোলা হচ্ছে। রাফিদ জাবোরি জানিয়েছেন, ভুতুড়ে সেনাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। সর্বশেষ বেতন পরিশোধ করার পরপরই তদন্ত শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুতুড়ে সেনাদের খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন এবং সমস্যার মূল উদঘাটন করেন।’ ওই ৫০ হাজার সেনার মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে গেছেন বা সাম্প্রতিক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন এমন সেনাদের নামও ছিল বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরাকি কর্মকর্তা। ইরাকি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরপরও এই গ্রীষ্মে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের অভিযানের মুখে ইরাকি বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেনাবাহিনীতে খাতায় আছে, বেতনে আছে, অথচ বাস্তবে এসব সেনার কোনো অস্তিত্ব নেই বা তারা দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীতে অনুপস্থিত, সেনাবাহিনীর এ ধরনের নামসর্বস্ব সেনাদের ‘ভুতুরে সেনা’ বলা হয়। এক অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা জানান, ইরাকের সেনাবাহিনীতে দু’ভাবে এই চাতুরি হয়েছে। প্রথমত, প্রত্যেক সেনা কর্মকর্তা পাঁচ জন করে গার্ড রাখতে পারেন। অনেকে দু’জন গার্ড রেখে বাকিদের নাম দেখিয়ে বা তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার চুক্তিতে বেতনের টাকা হাতিয়ে নেন। আর দ্বিতীয়ত ব্রিগেড পর্যায়ে দুর্নীতি হয়। একজন ব্রিগেড কমান্ডারের নিয়ন্ত্রণে ৩০, ৪০ বা তারও বেশি সেনা থাকে। তাদের অনেকেরই নাম থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ব থাকে না বা তারা বাড়িতে বসে থাকেন। তবে এ ধরনের জোচ্চুরি টিকিয়ে রাখতে ব্রিগেড কমান্ডারদেরও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ বা মাসোহারা দিতে হয়। ‘দুর্নীতির এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থের আনাগোনা হয়’ বলেন ওই কর্মকর্তা।

অপহৃত জেনারেলকে মুক্তি দিল ফার্ক

অপহরণের দুসপ্তাহ পর কলম্বিয়ান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল রুবেন দারিও অ্যালজেতকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন ফার্ক। একইসঙ্গে তার দুই সহযোগীকেও মুক্তি দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেডক্রসের সহযোগিতায় একটি মানবাধিকার সংগঠনের কাছে জেনারেল রুবেন ও তার দুই সহযোগীকে হস্তান্তর করে ফার্ক। সোমবার বিবিসি জানায়, ফার্কের কাছ থেকে মুক্তির পর জেনারেল রুবেন ও তার দুই সহযোগীকে স্থানীয় একটি সেনাঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিঞ্জন এই রাজবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যাবতীয় খোঁজখবর নেন। তারপর জেনারেল রুবেন ও তার সহযোগীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত ১৬ নভেম্বর দেশের ফার্ক অধ্যুষিত একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেনারেল রুবেন ও তার সহযোগীদের অপহরণ করে গেরিলা সংগঠনটি। এর জেরে ফার্কের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কিউবা ও নরওয়েতে চলমান সমঝোতা সংলাপ স্থগিত করে দেশটির সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করে সেসময় প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস সেনা কর্মকর্তা জেনারেল রুবেনকে অক্ষত ফেরত দেয়ার হুশিয়ারি দেন। তবে, শেষ পর্যন্ত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় জেনারেল রুবেন ও তার সহযোগীরা মুক্তি পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, দেশের সন্তানদের এই মুক্তিতে ফার্কের সঙ্গে সমঝোতা সংলাপ শুরু করার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। ৫০ বছর ধরে প্রাণঘাতী লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে সমঝোতায় রাজি হয় ফার্ক ও সরকার। সে বছরের ১৮ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোয় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুবছর ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল সরকার ও ফার্কের প্রতিনিধি দল।

চেনা ভারতের অজানা এগারো

১. বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত নয়াদিল্লির বাতাস।
২. ভারতের ২৫ ধনী ব্যক্তির মোট ধন-সম্পত্তি ১৭৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যা ইউক্রেনের জিডিপির চেয়েও বেশি।
৩. প্রায় ২৫ শতাংশ জমি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যা ইউনাইটেড কিংডমের আয়তনের তিন গুণ।
৪. ভারতের সবচেয়ে বিলাসবহুল ভবন তৈরিতে খরচ হয়েছিল ১ বিলিয়ন ডলার। এটি সোমালিয়ার জিডিপির সমান।
৫. স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গরে প্রতিদিন বিনামূল্যে ১ লাখ লোক খেতে পারেন।
৬. গুজরাট এবং মধ্য প্রদেশের সিদ্ধি সম্প্রদায় আফ্রিকার আদি বাসিন্দা।
৭. সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালামের সম্মানে ২৬ মে ২০০৫-কে বিজ্ঞান দিবস হিসেবে ঘোষণা করে সুইজারল্যান্ড।
৮. লাইফলাইন এক্সপ্রেস বিশ্বের প্রথম হাসপাতাল-ট্রেন। ১৯৯১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্গম-দূরবর্তী অঞ্চলে যাত্রা করে এটি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করছে।
৯. বারানসি এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শহর।
১০. একই সময়ে ভারতে ২ ধরনের মুদ্রা ছিল। একটি ভারতীয় জাতীয় রুপি এবং অন্যটি হায়দ্রাবাদী রুপি।
১১. তিরুমালা ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে প্রতিদিন সাড়ে চার লাখ ডলার অনুদান সংগৃহীত হয়।
বার্ষিক তিন কেজির চেয়েও বেশি সোনা দেয়া হয় এই মন্দিরে। দ্য হিন্দুস্থান টাইমস।

আন্তর্জাতিক তহবিল

৪৮.৭%
যুক্তরাষ্ট্রের এইচআইভি জরুরি ত্রাণ
১৯.৭%
এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোধে বৈশ্বিক তহবিল
১৬.৩%
ইউরোপীয় সরকার
৭.৮%
বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা
৫.৪%
অন্যান্য জনকল্যাণমূলক ব্যক্তি ও সংগঠন
০.১%
ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন-দ.আফ্রিকা
১.৯%
অন্যান্য ওইসিডি সরকার
৫৪%
অন্তঃসত্ত্বা নারী (নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের দেশগুলোতে) এইচআইভি টেস্ট করার সুযোগ পান না
৬০%
নতুন এইচআইভি আক্রান্তের বয়স ১৫-২৪ বছর
১.২৯ কোটি
মানুষ ২০১৩ সালে এইচআইভি রোধক থেরাপি গ্রহণ করেছেন
৭.৮ কোটি
মানুষ এ পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত হয়েছে
৩.৯ কোটি
মানুষ এ পর্যন্ত এইডস সংশ্লিষ্ট রোগে মারা গেছে
৩৫ লাখ
বয়স্ক নারী দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি আক্রান্ত
৪৮.৭%
<a href='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/ck.php?n=acd94d5f' target='_blank'><img src='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/avw.php?zoneid=780&n=acd94d5f' border='0' alt='' /></a>
যুক্তরাষ্ট্রের এইচআইভি জরুরি ত্রাণ১৯.৭%এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোধে বৈশ্বিক তহবিল১৬.৩%ইউরোপীয় সরকার৭.৮%বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা৫.৪%অন্যান্য জনকল্যাণমূলক ব্যক্তি ও সংগঠন০.১%ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন-দ.আফ্রিকা১.৯%অন্যান্য ওইসিডি সরকার৫৪%অন্তঃসত্ত্বা নারী (নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের দেশগুলোতে) এইচআইভি টেস্ট করার সুযোগ পান না৬০%নতুন এইচআইভি আক্রান্তের বয়স ১৫-২৪ বছর১.২৯ কোটিমানুষ ২০১৩ সালে এইচআইভি রোধক থেরাপি গ্রহণ করেছেন৭.৮ কোটিমানুষ এ পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত হয়েছে৩.৯ কোটিমানুষ এ পর্যন্ত এইডস সংশ্লিষ্ট রোগে মারা গেছে৩৫ লাখবয়স্ক নারী দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি আক্রান্ত - See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/12/02/183004#sthash.KXoeAboU.dpuf
৪৮.৭%
<a href='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/ck.php?n=acd94d5f' target='_blank'><img src='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/avw.php?zoneid=780&n=acd94d5f' border='0' alt='' /></a>
যুক্তরাষ্ট্রের এইচআইভি জরুরি ত্রাণ১৯.৭%এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোধে বৈশ্বিক তহবিল১৬.৩%ইউরোপীয় সরকার৭.৮%বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা৫.৪%অন্যান্য জনকল্যাণমূলক ব্যক্তি ও সংগঠন০.১%ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন-দ.আফ্রিকা১.৯%অন্যান্য ওইসিডি সরকার৫৪%অন্তঃসত্ত্বা নারী (নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের দেশগুলোতে) এইচআইভি টেস্ট করার সুযোগ পান না৬০%নতুন এইচআইভি আক্রান্তের বয়স ১৫-২৪ বছর১.২৯ কোটিমানুষ ২০১৩ সালে এইচআইভি রোধক থেরাপি গ্রহণ করেছেন৭.৮ কোটিমানুষ এ পর্যন্ত এইডসে আক্রান্ত হয়েছে৩.৯ কোটিমানুষ এ পর্যন্ত এইডস সংশ্লিষ্ট রোগে মারা গেছে৩৫ লাখবয়স্ক নারী দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি আক্রান্ত - See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/12/02/183004#sthash.KXoeAboU.dpuf

সিলেটে অস্ত্রের ভাণ্ডার সন্ত্রাসীরা অধরা

সিলেট নগরীতে প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া হলেও অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অক্ষত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দলীয় ক্যাডাররা একে-৪৭, একে-৫৬, একে-২২সহ অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া দিয়ে নগরীতে আতংক ছড়িয়েছেন। অথচ এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃংখলা বাহিনীর কোনো গরজ নেই। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আতংক। মাঝে মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী লোকদেখানো কিছু অস্ত্র উদ্ধার করলেও একটিও অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি এসব অস্ত্রবাজের অস্ত্রসহ ছবি আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও তাদের হেফাজতে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ দাবি করেন, ইতিমধ্যে বেশকিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও যখনই অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সিলেটে যোগদানের পর অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখিনি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬টি থানা পুলিশ গত ৩ বছরে উদ্ধার করেছে বিভিন্ন ধরনের মাত্র ২৩টি অস্ত্র ও ৯৮ রাউন্ড গুলি। কিন্তু একটিও অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই জংধরা এবং পরিত্যক্ত। অথচ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণবিরোধী আন্দোলন, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া প্রত্যক্ষ করেছে নগরবাসী। বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় আম্বরখানা এলাকাসহ গোটা সিলেটবাসী বিস্মিত হলেও তৎকালীন ক্ষমতাধরদের চাপের মুখে পুলিশ পরদিন অপব্যাখ্যা করে প্রেসনোট দেয়। এছাড়া নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া দেয় সন্ত্রাসীরা। এমনকি পুলিশ, বিজিবির সঙ্গে একাধিকবার গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে একে-৪৭, একে-৫৬, একে-২২, তাওরাস রিভলবার, ৭.৫ পিস্তল, সি-জেড পিস্তল, ওয়েবলি রিভলবার, ৩.২ উইলসন রিভলবার, ভাস্কো পিস্তল ৭.৫, নাইন এমএম পিস্তল, চাইনিজ রাইফেল, অটো শাটারগান, শাটারগান, কাটা রাইফেল, ডাবল ব্যারেল বন্দুক, সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক প্রভৃতি। এসব অস্ত্রের একটিও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর দাবি, সন্ত্রাসী অস্ত্রবাজদের গডফাদাররা ক্ষমতাধর হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না।
জানা গেছে, এসব সন্ত্রাসী অস্ত্রবাজ ও চাঁদাবাজদের অনেকেই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। আবার অনেকে পেশাদার। সিলেটের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণকারী এ ধরনের ২৮ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নামের তালিকা সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে ১৫২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি করে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। যদিও এ তালিকাটি অনেক পুরনো। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের অনেকেই দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে গত ৩ বছরে সিলেট নগরী থেকে বিভিন্ন ধরনের ২৩টি অস্ত্র ও ৯৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসএমপির অধীনস্থ ৬টি থানা এলাকা থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালে উদ্ধার করা হয়েছে ৭টি অস্ত্র, ২০১৩ সালে উদ্ধার করা হয়েছে ১১টি অস্ত্র, ৭৬ রাউন্ড গুলি ও অন্যান্য ৮টি অস্ত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন দলীয় সরকারের আমলে ব্যবহৃত ও মজুদ থাকা অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অক্ষত রয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেসব অস্ত্র মজুদের ঠিকানা পাল্টে নগরীর অস্ত্র চলে যায় প্রত্যন্ত গ্রামে। ফলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তেমন কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহাকে আটকের মাধ্যমে একে-৫৬সহ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বর্তমান দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের অস্ত্রগুলো শহরে চলে আসে। এরমধ্যে অধিকাংশ অস্ত্রই এখন শাসকদলের ক্যাডারদের হাতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ও তার আশপাশ এলাকা, নগরীর আবাসিক কলোনি এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অস্ত্র দিয়েই নগরীতে খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু এসব অপকর্মের মূল হোতাদের গ্রেফতার করছে না আইনশৃংখলা বাহিনী। ফলে, দলীয় সরকার ও চলমান পরিস্থিতিতেও তারা এখনও নিরাপদে রয়ে গেছে। পর পর দু’বার ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকারদলীয় ক্যাডাররা এখন অনেকটা বেপরোয়া। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া চালানো হয়।

গাছে ধরবে বিদ্যুৎ

এখন থেকে গাছেও ধরবে বিদ্যুৎ। ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমনি এক কৃত্রিম গাছ তৈরি করেছেন। চার্জিং স্টেশন, বাড়ি, রাস্তার এলইডি বাতির বিদ্যুৎ জোগান দিতে এ গাছ ব্যবহার করা যাবে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন উইন্ড ট্রি (বাতাস গাছ)।
এ প্রটোটাইপ গাছের প্লাস্টিকের পাতার মধ্যে টারবাইন বসানো থাকে। এ টারবাইন বাতাসে ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে। এ বাতাস গাছ ২০১৫ সাল নাগাদ বিক্রি শুরু হবে। গাছটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জেরোম মিশাদ জানিয়েছেন, পার্কে ঘোরার সময় এ গাছ তৈরির পরিকল্পনা মাথায় আসে। পার্কে সামান্য বাতাসেও যে গাছের পাতা নড়ে। এ গাছ প্রচলিত উইন্ড টারবাইনের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। জেরোম আরও বলেন, তিন বছর ধরে গবেষণার পর তার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা মিলে ২৬ ফুট উঁচু প্রটোটাইপটি তৈরি করেছেন। এটি এখন ফ্রান্সের প্লেমুর-বডু এলাকায় বসানো হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এ গাছ তৈরিতে ২৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড খরচ হবে। সাড়ে চার মাইল গতিতে বাতাস হলেই এ গাছ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। এএফপি।

প্রধানমন্ত্রী আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন হাজি আবদুল রাজাকের আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। সফরকালে দেশটির সঙ্গে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে যে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো হল- মালয়েশিয়ার সারওয়াক প্রদেশে বাংলাদেশী কর্মী প্রেরণের পথ সুগম করতে ২০১২ সালে দুদেশের কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক সংশোধনী সংক্রান্ত প্রটোকল, পর্যটন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টে ভিসা অব্যাহতি বিষয়ক চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ক্ষেত্র প্রসারের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক।
প্রধানমন্ত্রীর ৩০ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যোগসূত্র অনেক গভীর। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গভীর সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ এ সম্পর্কের সূচনা হয়। দুদেশের মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংস্কৃতির নৈকট্যের ফলে বিদ্যমান সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে গভীরতর হচ্ছে। তবে এ সম্পর্কের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে। ওই সফরে দুদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়, যা বিগত চার দশকে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ ও ২০১০ সালে মালয়েশিয়া সফর করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ৩ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিক আলোচনায় দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদির পাশাপাশি জনশক্তি রফতানি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পর্যটন, উচ্চশিক্ষা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে মালয়েশিয়া হতে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় দুই দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য, অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ রফতানি করেছে প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য বৈষম্য কমানোর উপায় সম্পর্কে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে বলে আশা করা যায়।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রকৌশল এবং সার্ভিস সেক্টরসহ ১০৩টি প্রকল্পে মালয়েশিয়া প্রায় এক দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ সব বিনিয়োগ প্রকল্পে ১৭ হাজারের অধিক বাংলাদেশী কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবনাগুলো এ আলোচনায় স্থান পাবে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহত্তম শ্রমবাজার যেখানে বর্তমানে আনুমানিক চার লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশী অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশভিত্তিক রেমিটেন্সের তালিকায় পঞ্চম বৃহত্তম, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বিবেচনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের কর্মক্ষেত্রের প্রসার এবং কর্মী নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে এ সফরে বিশেষভাবে জোর দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির। যুক্তরাজ্যের আইন পরিষদের উচ্চকক্ষ লর্ডস সভায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের যুক্তি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক-বাহক পরিচয় দিলেও সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রেখেছে। ওই সেমিনারে বিএনপি নেতারা সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক সরাসরি অস্বীকার করেন। দুই দল এ সেমিনারে বিদেশীদের সামনেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। বুধবার লন্ডনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশসংক্রান্ত অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“প এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন লর্ড এভাবেরি ও অ্যান মেইন। বাংলাদেশ থেকে অংশ্রগ্রহণকারী আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। এছাড়াও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী ওই সেমিনারে অংশ নেন। এর বাইরে লর্ডস সভার সদস্য ও মানবাধিকার নেতারা বক্তৃতা করেন। সেমিনারের বিষয়ে সোমবার যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। তারানা হালিম জানান, তারা তিনজন তিন বিষয়ে কথা বলেন। এইচটি ইমাম ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন, ড. মসিউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং তিনি (তারানা) যুদ্ধাপরাধের বিচার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি। জানা গেছে, ওই সেমিনারে লর্ড কারলাইল বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারকে মকারি (তামাশা) হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এর আয়োজকদের শাস্তি হওয়া উচিত। অবশ্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট তারানা হালিম এর কড়া জবাব দেন। তিনি এই বিচারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
তারা মানুষের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পশুপাখিও। তাই এদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। এসব নির্যাতিত ও নিহতদের স্বজনরা যদি বিচার না পায় তাহলে তা হবে মানবাধিকারের মকারি (তামাশা)।
তারানা হালিম সেমিনারে উপস্থিত আইন পরিষদের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় বিচার হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক মানের। এখানে আপিল ও রিভিউয়ের সুযোগ রয়েছে। যা নুরেমবার্গ ট্রায়াল এমনকি টোকিও ট্রায়ালেও ছিল না। তাছাড়া যারা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলছে সেই যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ৩০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সেখানকার এক আইন পরিষদ সদস্য নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দেশে না বসে বিদেশে কথা বলায় কিছুটা ভর্ৎসনা করেন।
সেমিনারে বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন গণতান্ত্রিক নয় বলে দাবি করেন। এছাড়া তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সেক্যুলারিজমে বিশ্বাস করে না। সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রেখেছে। ওই সময় বিএনপির প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে এটি (ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম) বাতিল করবেন কিনা? এর উত্তরে নীরব থাকেন বিএনপি নেতারা বলে জানা গেছে। এদিকে এ সেমিনারে বিএনপি নেতারা জামায়াতের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই বলে জানান। এছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের ব্যাপারে বলা হয়, তিনি বাঙালি নন।
শমসের মবিন চৌধুরী ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রাখা এবং সেক্যুলারিজম নিয়ে আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয় স্বীকার করেন। জামায়াত নিয়ে লর্ডস সভার আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের (জামায়াত) সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি সমঝোতা রয়েছে। কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই। লর্ডস সভার সেমিনারে তারা সেটাই বলেছেন। প্রমোদ মানকিনকে বাঙালি নয় বলে অভিযোগ করার বিষয়ে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, তিনি (মানকিন) নিজেই বলেছেন জাতি হিসেবে বাঙালি না হলেও আমি বাংলাদেশের নাগরিক। অ্যাডভোকেট তারানা হালিম জানান, প্রমোদ মানকিনের বক্তব্য ছিল তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তার মাতৃভাষা বাংলা।
সেমিনারে সংসদ সদস্য তারানা হালিম ২০০১ ও ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের চিত্র প্রদর্শন করেন। তখন বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে, যেটা তাদের নেই। কারণ তার লাগেজ নিয়ে সমস্যা ছিল। তবে লর্ডস সভার ওই সেমিনারে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের এক সমাবেশে সম্প্রতি এইচটি ইমামের দেয়া বক্তব্য তুলে ধরে সরকারকে অবৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন বিএনপি নেতারা। জবাবে উপদেষ্টা এইচটি ইমাম তার বক্তব্যে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিকে আমন্ত্রণসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলে আদালতের রায়ের উল্লেখ করেন। তিনি রায়ের কপি থেকে পড়েও শোনান।

পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ আসলে আউয়াল লীগ!

অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে, ২৩ বছর আগে সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের। বর্তমানে যে ৩ জন নেতা দল চালাচ্ছেন তারাও পদ আঁকড়ে আছেন টানা এক যুগ ধরে। পাশাপাশি প্রায় ১৬ বছর ধরে এখানে নেই আওয়ামী লীগের কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বর্তমানে দেশের প্রায় সব কটি জেলায় আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন চললেও এই জেলায় হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। আবার হলেও তা কতটুকু গণতান্ত্রিক হবে সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেননা গত এক যুগের অভিজ্ঞতায় এটি এখন প্রমাণিত যে, পিরোজপুরে সাংগঠনিক ধারায় চলে না আওয়ামী লীগ। এখানে দল চলে স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের মর্জিতে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ এখানে মূল দল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব। প্রায় সব কটি শীর্ষ পদে বসে আছেন এমপি আউয়াল ও তার পরিবারের সদস্যরা। যেন তিনি ও তার পরিবার ছাড়া দলে আর যোগ্য কোনো নেতা নেই। এমপি আউয়াল অবশ্য এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি। সব অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৯৯১ সালে। ডা. ক্ষিতিশ চন্দ মণ্ডলকে সভাপতি ও একেএমএ আউয়ালকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই কমিটিই ছিল জেলার সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ১৯৯৫ সালে ওই কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্র। প্রায় ৩ বছর কমিটিবিহীন থাকার পর ১৯৯৮ সালে চণ্ডিচরণ পালকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জেলার সব কটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে চণ্ডিচরণ পদত্যাগ করেন। ২০০২ সালে সুধাংশু শেখর হালদারকে সভাপতি, একেএমএ আউয়ালকে সাধারণ সম্পাদক এবং আকরাম হোসেন ও হাকিম হাওলাদারকে সহ-সভাপতি করে ৪ জনের একটি কমিটি করে কেন্দ্র। এই ৪ জনকে দেয়া হয় পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি করার দায়িত্ব। কেন্দ্র থেকে এই কমিটি করে দেয়ার মাত্র ২ বছরের মাথায় (২০০৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর) পরলোকগমন করেন বর্ষীয়ান নেতা সুধাংশু শেখর। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান আকরাম হোসেন। সেই থেকে আজ অবধি টানা ১২ বছর ধরে নেতৃত্বে রয়ে গেছেন একই মুখ। সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। অবশ্য কেউ বলতে এখানে সদর আসনের এমপি আউয়ালকেই বোঝেন সবাই। কেননা পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বলতে তিনিই শুরু, তিনিই শেষ কথা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দল তথা জনপ্রতিনিধির পদ, সবকিছুতেই একক নিয়ন্ত্রণ এমপি আউয়ালের। কোনো ধরনের সম্মেলন ছাড়াই স্ত্রী লায়লা ইরাদকে বানিয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বাস মালিক সমিতির সভাপতি হয়েছেন ছোট ভাই মশিউর রহমান মহারাজ। মাত্র কদিন আগে সম্পন্ন পিরোজপুর সদর উপজেলার তথাকথিত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক করেন ভাগ্নে তোফাজ্জেল হোসেন খানকে। পিরোজপুর সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সোহাগ তার ভাতিজা। আগামী সম্মেলনে ছোট ভাই মহারাজকে জেলা যুবলীগের সভাপতি করবেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, এমপি আউয়ালের আরেক ভাই আবদুল মালেক পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র। মেজ ভাই মজিবর রহমান খালেক সদর উপজেলার চেয়ারম্যান। তিনি যখন কোনো কাজে দেশের বাইরে যান তখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের অঘোষিত দায়িত্বে থাকেন খালেক। মাঝে এমন গুঞ্জনও উঠেছিল যে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেনকে সরিয়ে নিজের আরেক ভাইকে বসানোর চেষ্টা করছেন আউয়াল। পরে অবশ্য বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে গেলে থেমে যায় সেই লবিং।
এমপি আউয়াল কোনো কিছু হারানোর ঝুঁকি নিতে চান না বলেই বছরের পর পিরোজপুরের জেলা সম্মেলন আটকে আছে বলে সবার ধারণা। তবে এবার যখন খোদ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সব জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার তখন পিরোজপুরেও সম্মেলন হবে এই আশায় বুক বেঁধেছেন সবাই। যদিও এ ব্যাপারে এমপি আউয়ালের ভূমিকা স্পষ্ট নয়। মাঝে একবার সম্মেলন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণের জন্য একটি দায়সারা চিঠি কেন্দ্রকে দেন আউয়াল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তার তেমন প্রচেষ্টা না থাকায় কিছুই হয়নি। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সম্মেলন। ভোলায় সম্মেলন নিয়ে চলছে তোড়জোড়। বরিশালের কমিটি এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি। কিন্তু সবকিছুই থেমে যায় পিরোজপুরে এসে। চলতি ডিসেম্বরে এখানে সম্মেলন হবে এমন একটা আলোচনা থাকলেও অনেকেই বলছেন, তেমন হলে আরও আগেই নির্ধারণ হয়ে যেত তারিখ।
অবশ্য এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে কিছু অন্য আলোচনাও রয়েছে। জেলা সম্মেলন মানেই কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের পিরোজপুরে উপস্থিতি। সেক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো কমিটি করা শেষ পর্যন্ত সম্ভব নাও হতে পারে। এ কারণেই হয়তো বুঝেশুনে এগোতে চাইছেন আউয়াল। আবার কেউ কেউ বলছেন, নিজের পছন্দমতো কেন্দ্রীয় মেহমান আনার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন না তিনি। আর এসবের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটি নিজ পরিবার নিদেনপক্ষে নিজের লোকজনের মধ্যে রাখা।
পিরোজপুরের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না বলেন, কোনো প্রকার ভোটাভুটি কিংবা কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়াই জেলার ৫ উপজেলায় নিজের লোকজন দিয়ে কমিটি বানিয়েছেন তিনি। এসবের একটাই টার্গেট। জেলার কাউন্সিলে নির্বাচন হলে যাতে এদের ভোটগুলো তার (এমপি আউয়াল) নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা সবাই চাই পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হোক। কিন্তু উনি যেভাবে তার পরিবার আর নিজের লোকজনকে ধরে ধরে কাউন্সিলর বানাচ্ছেন তাতে কতটুকু নির্ভরযোগ্য সম্মেলন করা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া সেই সম্মেলন গণতান্ত্রিকও হবে না।
বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে এমপি আউয়াল বলেন, ঢাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কে কি বলল না বলল তাতে পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কিছু আসে যায় না। আমরা যারা মাঠে ময়দানে থাকি তারাই দলের চালিকাশক্তি। পিরোজপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে। আমরা গঠনতান্ত্রিক পন্থায় নতুন কমিটি গঠনসহ দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করব। গাছে কাঁঠাল আর গোঁফে তেল দিয়ে কোনো লাভ নেই। আগে সম্মেলন হোক। তাতে যদি কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে তারপর যেন তারা অভিযোগ দিতে আসে। উপজেলা সম্মেলনে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে দলের জন্য তাদের ত্যাগের বিষয়টি আগে দেখে নিন। তারা নিরাপদে বসে বুলি কপচায় না। মাঠের রাজনীতিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করে। আগে সম্মেলন হোক তারপর দেখুন কর্মীরা যা চায় তা হয়েছে কিনা।

তদন্তে সংসদীয় কমিটি

ভৈরব উপজেলার গোডাউন থেকে তিন হাজার মেট্রিক টন (৫৮ হাজার বস্তা) সার লাপাত্তার কিনারা করতে তদন্তে নামছে সংসদীয় কমিটি। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- মো. নজরুল ইসলাম বাবু ও মো. নুরুল ইসলাম ওমর। আগামী এক মাসের মধ্যে সার লুটেরাদের চিহ্নিত করে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মূল কমিটিতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমিটির সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. মোসলেম উদ্দীন, আবদুল মান্নান, মো. মামুনুর রশিদ কিরন, একেএম রেজাউল করিম তানসেন এবং মো. নুরুল ইসলাম ওমর উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বিএডিসি সারের গোডাউন থেকে সার গায়েবের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সংরক্ষণ ও কারখানা) মোজাম্মেল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম আলম পৃথকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জামিল আহমেদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, জেলা প্রশাসক কর্তৃক ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। তবে বিএডিসির তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গুদামের তালা ভেঙে তাদের কাজ শুরু করেছে। তারা গুদামে মজুদ করা টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার গণনাসহ ক্যাশ মেমো যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া সার আমদানি ও সরবরাহ রেজিস্টারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। তদন্তে আরও ৫ হাজার ৪১৬ বস্তা সারের হিসাব পাচ্ছে না এই কমিটি। তাদের ধারণা একই চক্র পুরো সার কেলেংকারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এতে করে গায়েব হওয়া বস্তার সংখ্যা বেড়ে ৯২ হাজার ১৩৬ বস্তা হয়েছে। গোডাউন থেকে এভাবে একের পর এক সার লুটের ঘটনায় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কমিটির পক্ষ থেকেও তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে সংসদ সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটকে গতিশীল করতে রাজস্ব খাতে নতুন পদ সৃজন করে বিজ্ঞানী ও অন্যান্য জনবলের পদসংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি কর্মরত বৈজ্ঞানিকদের দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং নতুন গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণে অধিক পরিমাণে বাজেট বরাদ্দেরও সুপারিশ করা হয়।

বর্ধমান বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে তিন রোহিঙ্গা গ্রেফতার

ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মিয়ানমারের ৩ নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ডিবি পুলিশ দাবি করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- নূর হোসেন ওরফে রফিকুল ইসলাম (২৬), ইয়াসির আরাফাত (২২) ও ওমর করিম (২৫)। রোববার গভীর রাতে রাজধানীর লালবাগ এতিমখানা রোড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। ওই তিনজনের কাছ থেকে ৫টি ডেটোনেটর, ২টি জেল বোমা ও ১০০ গ্রাম সাদা ও কমলা রঙের বিস্ফোরক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে দুটি মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার পর আন্তঃদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন রোহিঙ্গা জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ ওরফে আবদুর নূরকে তারা আদর্শিক গুরু মনে করে। তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন (এআরইউ) ও রোহিঙ্গা ইউনিট ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটসের সক্রিয় সদস্য।
ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মিয়ানমারের ৩ নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ডিবি পুলিশ দাবি করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- নূর হোসেন ওরফে রফিকুল ইসলাম (২৬), ইয়াসির আরাফাত (২২) ও ওমর করিম (২৫)। রোববার গভীর রাতে রাজধানীর লালবাগ এতিমখানা রোড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। ওই তিনজনের কাছ থেকে ৫টি ডেটোনেটর, ২টি জেল বোমা ও ১০০ গ্রাম সাদা ও কমলা রঙের বিস্ফোরক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে দুটি মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার পর আন্তঃদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন রোহিঙ্গা জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ ওরফে আবদুর নূরকে তারা আদর্শিক গুরু মনে করে। তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন (এআরইউ) ও রোহিঙ্গা ইউনিট ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটসের সক্রিয় সদস্য। - See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/12/02/182962#sthash.tEicGYiN.dpuf
ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মিয়ানমারের ৩ নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ডিবি পুলিশ দাবি করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- নূর হোসেন ওরফে রফিকুল ইসলাম (২৬), ইয়াসির আরাফাত (২২) ও ওমর করিম (২৫)। রোববার গভীর রাতে রাজধানীর লালবাগ এতিমখানা রোড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। ওই তিনজনের কাছ থেকে ৫টি ডেটোনেটর, ২টি জেল বোমা ও ১০০ গ্রাম সাদা ও কমলা রঙের বিস্ফোরক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে দুটি মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার পর আন্তঃদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন রোহিঙ্গা জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ ওরফে আবদুর নূরকে তারা আদর্শিক গুরু মনে করে। তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন (এআরইউ) ও রোহিঙ্গা ইউনিট ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটসের সক্রিয় সদস্য। - See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/12/02/182962#sthash.tEicGYiN.dpuf

মাঠ ভাঙাগড়ায় নষ্ট ৯শ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ নির্মাণের নামে ভাঙাগড়ায় সাত বছরে নষ্ট হয়েছে ৯শ’ কোটি টাকা। অথচ ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। মেলার মাঠ নির্মাণের ব্যয় দিয়ে এ সময় তিনটি স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যেত। মাঠ নির্মাণের নামে অর্থ অপচয়ের মধ্যে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১শ’ কোটি টাকা। বাকিটুকু গেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পকেট থেকে।
স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্স নির্মাণে বিলম্বের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ- রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সদিচ্ছা ও চরম অবহেলার কারণে মূলত তা হচ্ছে না। ইপিবি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণের চেয়ে অস্থায়ী প্রাঙ্গণে মেলা আয়োজন করতে বেশি উৎসাহী। কারণ প্রতিবছর মেলার মাঠ নির্মাণ, স্টল বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বড় ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সর্বশেষ গত বছরও স্টল বরাদ্দের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে।
জানা গেছে, বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও দেশী-বিদেশী মেলার জন্য ২০০৭ সালে ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। রাজধানীর পূর্বাচলের চার নম্বর সেক্টরে এ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা। মোট ব্যয়ের মধ্যে চীনের আর্থিক সহায়তা হচ্ছে ২৬৫ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থায়ন হচ্ছে সরকারের।
কিন্তু প্রকল্পটি হাতে নেয়ার পর কেটে গেছে ৭ বছর। এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে পায়নি। কেন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে- জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইউসুফ আলী যুগান্তরকে বলেন, স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে এ সমস্যা হয়। এখন জমি বন্দোবস্ত হয়েছে। আশা করি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এদিকে মেলার স্থায়ী প্রাঙ্গণ নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সের জন্য নতুন করে আরও ১০ একর জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখন মোট জমির পরিমাণ হচ্ছে ২০ একর। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। অস্থায়ী বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো নির্মাণের পেছনে বড় ধরনের টাকা নষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেলার জন্য একটি স্থায়ী কমপ্লেক্স রয়েছে। এখন বাংলাদেশেও সেটি করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবছর বেসরকারি কোম্পানিগুলো স্টল, প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল ও প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট, মেলার প্রধান গেট তৈরির পেছনে কমপক্ষে ১শ’ কোটি টাকা ব্যয় করছে। এ তথ্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ওই হিসাবে গত সাত বছরে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে মেলার পেছনে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা, ২০০৮ সালে ব্যয় হয় ৬ কোটি টাকা, ২০০৯ সালে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি টাকায়। ২০১০ সালে ১২ কোটি টাকা, ২০১১ সালে ১৫ কোটি টাকা, ২০১২ সালে ১৮ কোটি টাকা, ২০১৩ সালে ২০ কোটি টাকা ও ২০১৪ সালে ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ গত সাত বছরে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা সরকার ব্যয় করেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ ও অবকাঠামো তৈরির পেছনে।
এদিকে বাণিজ্য মেলা ঘিরে এত বড় ব্যয় হলেও এ তথ্য নিয়ে বড় ধরনের লুকোচুরি রয়েছে ইপিবিতে। সংশ্লিষ্ট শাখা ও বিভাগ মেলার ব্যয় নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। এ ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। এমনকি এসব ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের অনেক ফাইল পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হয়েছে। যুগান্তরের পক্ষ থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয় ইপিবির সচিব ড. এএফএম মঞ্জুর কাদিরের কাছে। এ তথ্য সরবরাহের নামে তিনি এ প্রতিবেদককে ১৫ দিন অপেক্ষায় রাখেন। সর্বশেষ তথ্য সরবরাহের অপারগতা জানিয়ে তিনি বলেন, আসলে অনেক ফাইল গায়েব করে দেয়া হয়। ফাইল খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইপিবিতে নতুন নতুন কর্মকর্তা আসেন। অনেক পুরনো কর্মকর্তা যাওয়ার সময় মেলার ব্যয়সংক্রান্ত ফাইল পর্যন্ত গায়েব করে দেন। ফলে সব তথ্য একসঙ্গে দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো নির্মাণ ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। এ অনিয়মের নেপথ্যে ইপিবির কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় মেলার মাঠ নির্মাণের বিভিন্ন ধরনের কাজ একটি চক্র ঘুরে ফিরে পেয়ে থাকে। যে কারণে এসব কর্মকর্তা দিনের পর দিন মেলা আয়োজনে কাজ করছে। অনেক সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা ইপিবির কর্মকর্তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও মন্ত্রণালয়ের অনেক নির্দেশ তোয়াক্কা না করে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি।

বিজয়ের মাসে ৫-০ তে জয়

কৃষকের ঘরে ধান ওঠে নব্বান্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে। সেই উৎসবে শুধুই আনন্দের রেণু। অগ্রহায়ণের শীত-সন্ধ্যায় সোমবারের মিরপুর যুগপৎ বিশ্বরেকর্ড এবং ৫-০-তে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার আলো ঝলমলে মঞ্চ হয়ে উঠল। সেই মঞ্চে থোকা থোকা লাল-সবুজ ফুল। সেই ফুলের মাঝে তাইজুল। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে বিশ্বরেকর্ড গড়া লাজুক-ছেলে। ছবিতে আর কোনো রঙের প্রলেপ দিতে বাকি রইল না। বছরটা কাটতে যাচ্ছিল খরায়। ৩-০-র পর ৫-০, জিম্বাবুয়েকে টানা দু’বার হোয়াইওয়াশ করে শাওন ধারা ঝরল অবিরাম। একদিনের ক্রিকেট ইতিহাসে অভিষেকে এর আগে কারও হ্যাটট্রিক ছিল না। সেই বিশ্বরেকর্ড কাল গড়লেন বাংলাদেশের স্পিনার তাউজুল ইসলাম। সেই কৌলীন্যে বাড়ল জিম্বাবুয়ের গ্লানি। একটি জয়ের জন্য তৃষ্ণার্ত অতিথিরা ৩০ ওভারেই মাত্র ১২৮ রানে অলআউট। আরেকটি প্রতিরোধহীন ম্যাচে ২৬ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেটে পঞ্চম ওয়ানডে জিতে মাশরাফিরা সিরিজ নিজেদের করে নিলেন ৫-০-তে। মাহমুদউল্লাহ আবারও ফিফটি (৫১) করে অপরাজিত। জিম্বাবুয়ে আবারও হোয়াইটওয়াশ। বিশ্বকাপের আগে আÍবিশ্বাসের জ্বালানি পেয়ে গেল বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে একে একে ট্রফি নিলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, ওয়ানডে দলপতি মশরাফি মুর্তজা, ম্যাচসেরা তাইজুল এবং সিরিজসেরা মুশফিকুর। ফ্লাডলাইট নেভার পরও অনেকক্ষণ আলোকিত ছিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। যেখান থেকে প্রথম টেস্ট জয়ের মধ্য দিয়ে সিরিজ শুরু। এরপর খুলনা ও চট্টগ্রাম হয়ে সেই মিরপুরে শেষ। সফলতার বিনিসুতো মালায় গাঁথা সূচনা ও সমাপ্তির এমন মেলবন্ধন কবে দেখেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট? কবে এমন পুষ্পিত উদ্যান মুশফিকুর, মাশরাফিদের ‘সংসার’? কবে জুবায়ের, তাইজুলরা ফুল হয়ে ফুটেছিলেন। পূর্ণিমার চাঁদ যেন এই সিরিজ। বিশ্বরেকর্ড দিয়ে শেষ। এমন সমাপ্তি আগামীদিনে সাফল্যের সারথি হওয়ার সুরভি ছড়াবে টাইগারদের পথচলায়।
সাদা ও রঙিনের মিশেলে টানা আট জয়। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডানপাশে, বাঁ-পাশে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। দু’জনের হাতে দুটি সিরিজ জয়ের ঝাঁ চকচকে ট্রফি আগেই তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মুশফিককে বারবার পিঠ চাপড়ে কী যেন বললেন, এরপর মাশরাফিকে ডেকে নিলেন, তাকেও পিঠ চাপড়ে বীরত্বের পুরস্কারই দিলেন প্রধানমন্ত্রী। টানা আট জয়ে শেষ হল বাংলাদেশের জয়যাত্রা।
সারা বছর যেখানে শুধু ব্যর্থতার গল্প শুনাতে হয়েছে মুশফিকদের, কাল সেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ শেষে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি শুনিয়েছেন সাফল্যগাথার গল্প। অনেক প্রাপ্তির এই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয়বার ৫-০-তে বাংলাওয়াশ করল মাশরাফিরা। এর আগে জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশ প্রথমবার ৫-০-তে হারিয়েছিল ২০০৬ সালে। চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজ জয়ের পরও ট্রফি না দেয়ার কারণ তখনই অনুমেয় ছিল। ওয়ানডে সিরিজ শেষে এক সঙ্গে দুটি ট্রফি দেয়া হবে। অনুমেয় ছিল মাঠে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছে। এরপ নিয়মরক্ষার বাকি দুটি ম্যাচে জিতেও পাঁচে পাঁচ করল স্বাগতিকরা। মাঠে বসেই বাংলাদেশের শেষ জয় দেখলেন শেখ হাসিনা। প্রায় দুই ঘণ্টার মতো মাঠে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের দুর্দন্ত সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ। পুরস্কার দেয়ার সময় বারবার করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে ঘরে ফিরিছেন ক্রিকেটপাগল দর্শকরা। অধিনায়ক মাশরাফিও জানালেন, ‘এই জয়ের সঙ্গে আপনারা সব সময়ই ছিলেন। আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি ও চার উইকেট নিয়ে অন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর টানা দুই ম্যাচে ওপেনিং জুটি থেকে এসেছে একশ’র বেশি রান। চার অভিষিক্ত সাব্বির রহমান, জুবায়ের হোসেন, তাইজুুল ইসলাম ও সৌম্য সরকার আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য ছিল ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ানো। ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়ের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে ২২ পয়েন্ট। এখন সপ্তম ও অষ্টম স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান ২১ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে এসে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের অন্য এক উচ্চতায় উঠে গেলেন কালই অভিষেক হওয়া তাইজুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতেই পেয়ে গেলেন হ্যাটট্রিক।
শেষ ম্যাচে এসে প্রথমবার প্রথমে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। ভাগ্য তাতেও ফেরেনি। বরং সবচেয়ে বাজে ইনিংসই খেলেছে তারা। চতুর্থ ম্যাচে দুইশ’ রান পার করলেও আবারও সফরকারীরা ফিরে আসে আগের ধারায়। মাশরাফির আগুনে বোলিংয়ের পর তিন স্পিনারেই শেষ হল জিম্বাবুয়ে। তাইজুলের চার উইকেটে ১২৮ রানে ৩০ ওভারেই অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দ্রুত জেতার জন্য তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে মাশরাফিরা। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের চার হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলেও তামিমের ১০ আর সাকিবের শূন্য রানে আউট হওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ৫৮ রানেই চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত সৌম্য সরকার ব্যাট করতে পারবেন কিনা একসময়ে সেই শংকা দেখা দিলেও তিনিও করেছেন ২০ রান। তবে শেষ পর্যন্ত সাব্বির রহমানকে (১৩*) সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ চার মেরে। সেই চারে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মাহমুদউল্লাহ। সিরিজে এটি মাহমুদউল্লাহর টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। পাঁচ ম্যাচে ২১৩ রান নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বিয়ের পর প্রথম সিরিজসেরা হওয়ার পুরস্কারটা স্ত্রীকে উৎস্বর্গ করেছেন মুশফিক। ম্যাচসেরা হয়েছে হ্যাটট্রিক হিরো তাইজুল। সিরিজের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ আদালতের

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে মিনিবার ও রেস্টুরেন্টে লাইসেন্সবিহীন মদ, বিয়ার অ্যালকোহল কেনাবেচা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মদ, বিয়ার, অ্যালকোহল বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জনস্বার্থে করা এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ঢাকার (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে ডিজি ও পরিচালকের প্রতি এ আদেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ২৩ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে বনানী-গুলশানে ৪০ মিনিবার শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী এই রিট আবেদন করেন।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, গুলশান ও বনানী থানার ওসি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও যুগান্তর সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে দেখা যায় গুলশান-বনানীতে লাইসেন্স ছাড়া মদ, বিয়ার ও অ্যালকোহল কেনাবেচা চলার কারণে যুব সমাজ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। এমনকি এসব ক্ষেত্রে লাইসেন্স নেয়ার বিধান থাকলেও তা নেয়া হচ্ছে না। লাইসেন্সবিহীন মদ, বিয়ার, অ্যালকোহল বিক্রি করলে শাস্তির বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। আদালত শুনানি শেষে উল্লিখিত আদেশের পাশাপাশি একটি রুলও জারি করেছেন।
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, মাদকদ্রব্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালত ২৩ নভেম্বর যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য যুগান্তর সম্পাদককে একটি এফিডেভিট দাখিল করতে বলেছেন।
যুগান্তরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানীর বেশির ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিণত হয়েছে মিনিবারে। অনুমোদন ছাড়া বেআইনিভাবে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিদেশী ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। কিন্তু এসব অপরাধ দমনে যাদের এগিয়ে আসার কথা তারা এক রকম নির্বিকার। শুধু মাসোয়ারা তোলার জন্য হোটেলগুলোর তালিকা করেই দায়িত্ব শেষ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তালিকা ধরে ৪০টি হোটেল থেকে প্রতি মাসে এ চক্রের অলিখিত ঘুষের পরিমাণ অন্তত অর্ধকোটি টাকা। আর এতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অর্থনীতি

উচ্চ সুদ ও বেপরোয়া সার্ভিস চার্জ আঘাত করছে বিনিয়োগে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না, ঋণ সরবরাহ কমে গেছে, রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেছে, বাজারে কমেছে ডলারের সরবরাহ। সার্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে এসবের দুষ্ট প্রভাব। এই অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়াবে বলে আশংকা করেছেন উদ্যোক্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কিছুই করা হচ্ছে না। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কথা কাগজে-কলমেই থেকে যাচ্ছে। তা আলোর মুখ দেখছে না। ফলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও গতি আসছে না। উদ্যোক্তারা বলেছেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে সবার আগে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ অর্থনীতিতে ‘রক্ত সঞ্চালনের’ ভূমিকা পালন করে। বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে অর্থনীতিতে গতি আসবে না। এর জন্য ঋণের খরচ কমাতে হবে। ঋণের সুদের হার কমাতে হবে। ব্যাংকগুলোর মাত্রাতিরিক্তি সার্ভিস চার্জের লাগাম টেনে ধরতে হবে। অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান ও এগুলোর ফি কমাতে হবে। এসব ব্যাপারে শিল্পবান্ধব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কিছুই হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর যড়যন্ত্র। কেননা ঋণের সুদের হার ও সার্ভিস চার্জ কমলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প স্থাপন হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশের উন্নতি হবে। কিন্তু একটি চক্র চায় না দেশের উন্নয়ন হোক। এ কারণে তারা চায় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার, সার্ভিস চার্জ না কমুক। যারা সরকারকে এসব বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে তারা কেউ শিল্পপতি নয়। ফলে তারা শিল্প খাতের সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানে না বা জেনেও না বোঝার ভান করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, সরকারের উপদেষ্টারা বাস্তব অর্থনীতি সম্পর্কে অবহিত নন। তারা নিজেদের বুদ্ধিমান দাবি করেন। কিন্তু বাস্তব অর্থনীতির জ্ঞান তাদের নেই। এছাড়া তাদের অনেকে ভিন্ন দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর। এ কারণে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পথে বাধাকে আরও জোরদার করতে তৎপর থাকে। তাদের মতে, ঋণ নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। এই দুর্নীতির কারণে ব্যাংকের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।
চাহিদা অনুযায়ী টাকার সরবরাহ কম : বাজারে টাকার চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ নেই। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও যেসব উদ্যোক্তা চলমান প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে চান তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দেয়া হচ্ছে না। ফলে সেসব উদ্যোক্তাও নতুন করে টাকার সংকটে ভুগছেন। এতে শিল্পের বিকাশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অর্থনৈতিক অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের প্রবাহ বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছিল প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ।
একদিকে বিনিয়োগ না হওয়ায় বাজারে ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। অন্যদিকে যারা ঋণ নিতে চাচ্ছেন তারা চেয়েও পাচ্ছেন না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে ঘটে যাওয়া জালজালিয়াতির কারণে ব্যাংকাররা এখন ঋণ দিতে অনেক সতর্ক। যে কারণে এখন অনেক ভালো উদ্যোক্তাও ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঘটা জালজালিয়াতির দায় পড়ছে ভালো উদ্যোক্তাদের ঘাড়ে। ভালো গ্রাহক হিসেবে পরিচিত উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে গেলে ব্যাংকগুলো বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।
এলসি নিচ্ছে না ব্যাংক : ব্যাংকগুলোতে ফান্ডেড ঋণ বিতরণে নানা বিধিনিষেধ আরোপিত থাকলেও নন-ফান্ডেড ঋণে বিধিনিষেধ অনেক শিথিল। ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশ নন-ফান্ডেড বা এলসিতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও ব্যাংকগুলো বর্তমানে এলসি খোলার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। গত অর্থবছরে আমদানি খাতে ব্যয় বেড়েছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে এলসি খোলা বেড়েছে ১২ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১১ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে এটির প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে। গত আগস্টে এলসি খোলা বেড়েছিল ২৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ শতাংশ। অক্টোবরের হিসাবে এই হার আরও কম হতে পারে। একই সময়ে এলসির দেনা পরিশোধের পরিমাণও কমেছে। গত আগস্টে এলসির দেনা পরিশোধ বেড়েছিল সাড়ে ৩৮ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে এসে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৯ শতাংশে। আমদানি খাতে এলসি খোলার পরিমাণ কমে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে আমদানির পরিমাণও কমে যাবে। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল। এসব পণ্যের আমদানি কমলে শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হবে।
বিনিয়োগ হচ্ছে না : ব্যাংকের উচ্চ সুদসহ ১১ কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগ। আশানুরূপ হারে বাড়ছে না দেশী বিনিয়োগ। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পলিসি পর্যায় থেকে বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে বিনিয়োগ না থাকায় দেশে কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধ হচ্ছে।
বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিদেশে টাকা পাচারের সব পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ধারণা করছেন, টাকা পাচারের কারণেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে।
সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ না থাকা, ঋণের অপ্রাপ্যতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি না পাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কর প্রদান, বিদেশে টাকা পাচার, বৈদেশিক বাণিজ্য ও সম্পত্তি নিবন্ধন জটিলতা, অসচ্ছলতা ও চুক্তির বাস্তবায়ন জটিলতা বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
বিনিয়োগের অন্যতম সূচক হচ্ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা (আইএফসি) তাদের গবেষণা রিপোর্টে বলেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থান হচ্ছে বাংলাদেশের। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত হয়রানি ও বিলম্ব হয় না। পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। উদ্যোক্তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ পাচ্ছে না। ব্যাংক ঋণ পেতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋণ না দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় ঋণের প্রবৃদ্ধি থেকে। ব্যাংক ঋণের অপ্রাপ্যতার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঋণের উচ্চ সুদ। এই অতিমাত্রার সুদের হার বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এই উচ্চ সুদ নিয়ে বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তারা লাভবান হচ্ছেন না। ফলে নতুন করে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে যাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
বিনিয়োগের আরেক বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেও বিনিয়োগ কমেছে।
বিদেশে টাকা পাচারের পথ তৈরি হওয়ায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমছে এমন আভাস দিয়েছে খোদ অর্থমন্ত্রী। সরকার মনে করছে, বিশ্বের অনেক দেশে টাকা চলে যাওয়ায় বিনিয়োগ বাড়ছে না। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) তথ্য মতে, ২০১১ সালে ১১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ২১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার ও ২০০৯ সালে ১০৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এছাড়া ২০০৮ সালে ১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ২০০৭ সালে ২৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, ২০০৬ সালে ২৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ও ২০০৫ সালে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমপরিমাণের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এই টাকা পাচারের কারণে সম্প্রতি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমেছে।
এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত যে কোনো চুক্তি বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশে গড়ে ৪১টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় এবং এক হাজার ৪৪২ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এ ক্ষেত্রে তলানিতে। এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। এছাড়া দেশে কোনো উদ্যোক্তা যদি সম্পত্তি নিবন্ধন করতে চান, সেখানে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশে এ ধরনের ভোগান্তি নেই। একজন উদ্যোক্তার সম্পত্তি নিবন্ধন করতে আটটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এতে সময় লাগে ১৪৪ দিন।
সুদ ও সার্ভিস চার্জ কমছে না : সরকারের কথা ও কাজে মিল নেই। উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে অর্থাৎ সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা সুদের হার কমানোর ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। কিন্তু বাস্তবে এখনও সুদের হার কমছে না। সরকারি ব্যাংকগুলো খুবই সামান্য কমালেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সুদের উচ্চ হার বিরাজ করছে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করা হচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘আমানতের সুদের হার অনেক বেশি। এটা কমানো উচিত। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এর সমন্বয় থাকা একান্ত প্রয়োজন। দেশে একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক রেট অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও সার্বিক বিবেচনায় বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা ভালো। তবে ব্যাংকিং কার্যক্রম যাতে আরও একটু ভালো করা যায় সেজন্য দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেয়া দরকার।’
এদিকে সংসদীয় কমিটি মনে করছে, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় ঋণের উচ্চ সুদের হার। এই বাস্তবতা অনুভব করে অর্থমন্ত্রীও মনে করেন, দেশে একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ঋণের সুদ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। বৈঠকের কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এগুলো এখনও শুধু কথার মধ্যে রয়েছে। কাজে প্রমাণ নেই। এই বিলম্বের কারণে উচ্চ সুদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্প খাতে বিনিয়োগ। অস্বাভাবিক চড়া সুদে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিতে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় ব্যাংকিং খাতও অচলপ্রায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের এই বন্ধ্যত্বে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংকগুলো ঋণের উচ্চ সুদের নামে মহাজনী ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। একদিকে চড়া সুদ, অন্যদিকে ৩ মাস পরপর ঋণের সঙ্গে সুদ যোগ করে মূল ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে ঋণের অংক। ঋণের বিপরীতে আবার নেয়া হচ্ছে নানা নামে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন। এসব কিছু ঋণের সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঘোষিত সুদের হার ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ বেড়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২২ থেকে ২৪ শতাংশে। এদিকে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের আগ্রাসী থাবায় আক্রান্ত দেশের সার্বিক অর্থনীতি। এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতির বহুমুখী ক্ষতি হচ্ছে। উচ্চ সুদের কারণে, শিল্পায়ন ব্যাহত হলে তা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত সুদের কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। যার প্রভাবে বেড়ে যায় পণ্যমূল্য। আর এই সুযোগে নিুমানের ও কম মূল্যের পণ্য আমদানি করে দেশের বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মার খাচ্ছে উঁচু মানের দেশীয় পণ্য।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প তিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট হলে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। বিনিয়োগের পথে কয়েকটি বাধার মধ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ একটি বাধা। বাংলাদেশ রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম মুর্শেদী এ বিষয়ে রোববার যুগান্তরকে বলেন, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হলে টার্ম লোনের পরে সুদের ওপর ক্যাপিং করে দিতে হবে। সুদের হারের ওপর এই ক্যাপিং করে দিলে বিনিয়োগের খরা কেটে যাবে। এখন ট্যাক্স হলিডে আছে, সঙ্গে ঋণের সুদের হার কমলে বিনিয়োগে অনেকে উৎসাহিত হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। আমি মনে করি, মেয়াদি ঋণের পর সুদের হারের ওপর একটি ক্যাপিং করার উপযুক্ত সময় এখন। ইতিপূর্বে এ ধরনের পদক্ষেপে ইতিবাচক ফল দেখা গেছে।
পোশাক খাতের অর্ডার কমছে : রফতানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্পে বিপর্যয় শুরু হয়েছে। চলতি বছরে ৪৫০ গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ২৮০টি এবং এর বাইরে ১৭০টি। এর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশই ভালো মানের কারখানা। প্রতিদিনই প্রায়ই দু-একটি করে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছে দুই লাখ শ্রমিক। নতুন কারখানা চালুর হারও কমছে। বিজিএমইএ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাজ না থাকায় খরচ পোষাতে না পেরে এসব কারখানা বন্ধ হচ্ছে। আরও কারখানা বন্ধ হতে পারে বলে আশংকা তাদের। ফলে রফতানি আদেশও কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বড় গার্মেন্ট মালিকরাও। সেপ্টেম্বরে পোশাক রফতানি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে শিল্প কঠিন চাপের মুখে পড়েছে এ শিল্প।
জানা গেছে, আগে বড় কারখানাগুলো বেশি করে পোশাকের অর্ডার নিয়ে অন্য কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করাত। তাদের নামে রফতানি হতো। কিন্তু বর্তমানে বড় কোম্পানিতেই অর্ডার নেই। ফলে একের পর এক গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, কারখানা বন্ধ হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এক নম্বর কারণ হচ্ছে কমপ্লায়েন্স ইস্যু। পাশাপাশি ব্যাংকের সুদসহ ব্যাংকের সার্ভিস চার্জে মালিকদের খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কারণে মালিকরা কারখানা চালাতে না পেরে কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে। বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারখানার সংখ্যা ৫ হাজার ৭৫১টি। চলতি বছরে ২৮০ গার্মেন্ট বন্ধ হওয়ায় তথ্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর তাদের বাইরে ১৭০টির মতো কারখানা বন্ধ হয়েছে। ফলে তারা ধারণা করছেন ২ লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়েছে। আর বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে ২০ শতাংশ হচ্ছে শিফট হওয়া এবং ৪০ শতাংশ শেয়ার্ড বিল্ডিং কারখানা। বাকিগুলো সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানা। পাশাপাশি নতুন কারখানা চালুর হার কমে আসছে। ২০১৪ সালে নতুন কারখানা হয়েছে ৮০টি। ২০১৩ সালে যা ১৪০টি এবং ২০১২ সালে ২০০টি। অর্থাৎ নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না।