Saturday, December 17, 2011

ব্লগ দিবসে বাংলানিউজের ‘ব্লগ বাংলা’ by শেরিফ আল সায়ার

বছর বাংলা ব্লগ দিবসে অংশ নিচ্ছে বাংলানিউজের ‘ব্লগ বাংলা’। ১৯ ডিসেম্বর (সোমবার) বিকেল পাচটায় পাবলিক লাইব্রেরিতে তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ব্লগিংয়ের শক্তি ও সম্ভাবনাকে আরও নিবিড়ভাবে বিস্তৃতি করতে গত দু বছর যাবৎ বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। ২০০৫ সালের এ মাসে বাংলা কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু।

কালো টাকার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি-এই অশুভ প্রবণতা অবশ্যই রোধ করতে হবে

বাংলাদেশে কালো টাকার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবছরই বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো উপকার পাওয়া যাচ্ছে না। কালো টাকা কালো বা অবৈধই থেকে যাচ্ছে, সে অর্থ করের আওতায় বা বিনিয়োগে আসছে না। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যেখানে অনুমিত কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপির ৫ থেকে ৭ শতাংশ, সেখানে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগেরই অনুমিত হিসাবে বলা হয়েছে, দেশে এখন কালো টাকার

অনিশ্চিত পদ্মা সেতু-সমাধান নিয়ে ভাবতে হবে

বশেষে আরো একটি হতাশার খবর। আরো একটি স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা। যে স্বপ্নের সেতুটির জন্য দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, আপাতত সেটি হচ্ছে না। দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করেছে। এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল অনেক আগে থেকেই। আশঙ্কাটিই শেষ পর্যন্ত সত্য হলো। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য এখন সরকারকে বিকল্প ভাবতে হবে।

চরাচর-বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

নেক প্রতীক্ষা আর অনেক আন্দোলন শেষে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর রংপুর বিভাগের একমাত্র সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় 'রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই রংপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রংপুরবাসী তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় ছিল। রংপুরবাসীর অপেক্ষার একটি প্রমাণ পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম

পারসোনা-কাহিনী ও পারসোনাল কাহিনী byশাহনেওয়াজ বিপ্লব

ভিজাত বিউটি পারলার পারসোনার হিডেন ক্যামেরার ঘটনা নিয়ে অনেক কিছু হয়ে গেল এরই মধ্যে। সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেইসবুক ও বাংলা ব্লগ ঘটনাটিকে ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে পেঁৗছে দিয়েছে। ঘটনার পর পরই পারসোনা কর্তৃপক্ষ ও অভিযোগকারীর স্বামী পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ক্যামেরা পাওয়ার ঘটনাটি নিছক ভুল বোঝাবুঝি আর ব্যক্তিগত ঘটনা বলেই ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন।

জনশক্তি রপ্তানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় by আবু এন. এম. ওয়াহিদ

ত ১৭ জুলাই ফিরোজ মান্নার লেখা একটি সংবাদভাষ্য পত্রিকান্তরে ছাপা হয়েছে। রিপোর্টটি বেশ বিস্তারিত, সুলিখিত এবং সুপাঠ্য। জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে কর্মজীবী অভিবাসী শ্রমিক এবং বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। তার কিছু পুরনো আর কিছু নতুন। পুরনো সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার আগে গন্তব্য দেশের ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি ও সে দেশের সংস্কৃতিজ্ঞান না থাকা, কর্মদক্ষতার অভাব,

সময়ের প্রতিধ্বনি-শিরশ্ছেদ মানবতাবিরোধী by মোস্তফা কামাল

০০৪ সালে পেশাগত কাজে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলাম। তখন নিজের আগ্রহেই পাকিস্তানের নর্থইস্টার্ন প্রদেশে আফগানিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে গিয়েছিলাম। ওই অঞ্চলটি পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ বরাবর পাকিস্তানের খাইজার এজেন্সি। এজেন্সিতে পাঠান মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। পাকিস্তানে পাঠানদের বলা হয় গোঁড়া মুসলিম। সেখানে গিয়ে দেখলাম, প্রতিটি মানুষের হাতে অস্ত্র। কারো হাতে কালাশনিকভ,

উপজেলা চেয়ারম্যান-আইনানুগ সুবিধা নিশ্চিত হোক

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার সরকারের। অঙ্গীকার পূরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু নির্বাচনের পরই দেখা দেয় বিপত্তি। সেই বিপত্তি হালে ব্যাপকতর হয়েছে। তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৫৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি এই ১৫৮ জন তাঁদের সমিতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব-কর্তৃত্ব নিয়ে যে সমস্যা

রাজস্ব ফাঁকির কৌশল-বন্ধ করতে হবে সব ফাঁকফোকর

রাজস্ব ফাঁকির একটি পথ অন্তত ধরতে পেরেছে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজ করে আসছে। অতি সম্প্রতি দুই শতাধিক চালান ধরা পড়েছে। আমদানিকারকরা সরকারের ট্রুথ কমিশনের কাছে দোষ স্বীকার করার পর তাদের নূ্যনতম জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ। এখানে আমদানি করা হয় না এমন পণ্য বোধহয় নেই। এসব পণ্য আমদানির সময়

সহজ-সরল-আমার কাছে চিকিৎসক ও ধ্যানী যোগী সমার্থক শব্দ by কনকচাঁপা

প্রশ্ন আছে-ডিম আগে না মুরগি আগে? বিজ্ঞান বলেছে ডিম আগে। তাই সই। কিন্তু আমাদের সাধারণের মনে 'মনে হয়' ডিমের লেজে মুরগি-মুরগির লেজে ডিম। চিন্তা করতে যাঁদের অলসতা তাঁরা ভাবেন দুর ছাই! ডিম আগে এলেই কী মুরগি পাছে এলেই কী-দুটো একসঙ্গে খেতে পারলেই হলো। আহা, আমিও যদি এমন ভাবতে পারতাম। তবে কি আমি চিন্তাবিদ? উঁহু, মোটেই না। আমি ভীতুর ডিম। এ দেশের অরাজকতা দেখে দেখে রেগেমেগে অগি্নশর্মা না হয়ে ভয়ে

প্রবারণা পূর্ণিমা-বুদ্ধের বাণী স্মরণ করুন

জ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য আজকের দিনটি খুবই গুরুত্ববহ। সব পূর্ণিমা তিথি কোনো না কোনো কারণে বৌদ্ধদের জন্য শুভময় দিন। তাই আজকের পূর্ণিমা তিথিতে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করেছে। প্রবারণা শব্দের অর্থ 'আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ, ধ্যান বা শিক্ষা সমাপ্তি বোঝায়। অন্যদিকে আত্মশুদ্ধি বা আত্মসমালোচনাও বলে।' আজকের দিনে ভিক্ষুরা হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে চারিত্রিক শুদ্ধির জন্য একে অন্যকে করজোড়ে বলেন, "বন্ধু, যদি

কল্পকথার গল্প-বেশ বেশ-বিচিকলার নাম সন্দেশ! by আলী হাবিব

বাঙালি ভোজনরসিক। ভোজনশিল্পে বাঙালির তুলনা মেলা ভার। খেতে ও খাওয়াতে বাঙালির জুড়ি নেই। বাঙালির রন্ধনশিল্প তো অনেক আগেই সীমানা পেরিয়েছে। বিলেতে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছে বাঙালির রন্ধনশিল্প। কিন্তু কেবল রাঁধতে জানলেই তো চলবে না, সেই রান্নার সমঝদারও চাই। উপযুক্ত সমঝদার না পেলে শিল্পেরই ক্ষতি। কাজেই রন্ধনশিল্পের পাশাপাশি ভোজনকে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাঙালি।

কালান্তরের কড়চা-চাণক্যপুরীর কূটকৌশল এবং বাংলাদেশের বিদেশনীতি-৪ by আবুদল গাফ্‌ফার চৌধুরী

পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান) ছিল হিন্দি ও উর্দু ছায়াছবির বাজার। কলকাতার বাংলা ছবিও আসত। ঢাকাকেন্দ্রিক বাংলা ছবির বাজার সৃষ্টির কোনো চেষ্টাই মুসলিম লীগ সরকার করেনি। তারা চেয়েছিল, লাহোরে তৈরি উর্দু ছবিই পূর্ব পাকিস্তানের বাজার দখল করুক। কিন্তু মুম্বাইয়ের হিন্দি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পেরে উঠছিল না। ফলে ভারতীয় ছবি (হিন্দি ও বাংলা দুয়েরই) আমদানি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারা চেষ্টা চালাচ্ছিল।

প্রবীণদের জন্য আল্লাহর ঘোষণা by মাহফুজ আবেদ

মাদের সমাজ থেকে অনেক প্রথাই এখন শিথিল হয়ে গেছে। পিতা-মাতা সন্তানকে বড় করে তোলেন। বৃদ্ধাবস্থায় সেই পিতা-মাতার সেবা করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। অথচ এ দায়িত্বের কথা অনেকেই ভুলে যেতে বসেছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতা যেন নিজ ঘরেই পরবাসী। ক্ষেত্রবিশেষে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে উপযুক্ত মর্যাদা না দেওয়ার পীড়াদায়ক অভিযোগও শোনা যায়। অনেক দুরাচার তাদের গায়ে হাত দিতেও কুণ্ঠবোধ করে না। অথচ কোরআনুল কারিমে বলা

তিরিশ বছরে সিলেটের আঞ্জুমানে তালিমুল কোরআন by জহির উদ্দিন বাবর

ঞ্জুমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরামনে করেন, নিয়তের বিশুদ্ধতা ও উদ্দেশ্যের সাধুতাই প্রতিষ্ঠানটির তিন দশকের
সাফল্যের চাবিকাঠি রাসূল (সা.) বলেছেন, যিনি কোরআন শেখেন এবং শেখান তিনি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। ইবাদতের মধ্যেও কোরআন তেলাওয়াতকে সর্বোত্তম ইবাদত বলা হয়েছে। কোরআন এমন এক কষ্টিপাথর, এর স্পর্শে যারাই যায় তারাই খাঁটি সোনায় পরিণত হয়। যে প্রতিষ্ঠানে শুধুই কোরআনের খেদমত করা হয় সে প্রতিষ্ঠানও

শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে প্রয়োজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পেশাগত স্বাধীনতা থাকা দরকার। এর পাশাপাশি যথার্থভাবে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। দেশব্যাপী শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও মর্যাদা সুরক্ষাসহ শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্যই ইসলামের আগমন।

প্রযুক্তি জগতের পথপ্রদর্শক by একরামুল হক শামীম

মানুষটি পৃথিবীর আলো দেখবেন কি-না এই নিয়েই সন্দেহ ছিল। কারণ তার আসল মা ছিলেন একটি কলেজের অবিবাহিত তরুণী গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী। যে মানুষটি এক সময় পৃথিবী বদলে দেবে তার পক্ষেই সিদ্ধান্ত গেল মায়ের। অবিবাহিত মা সিদ্ধান্ত নিলেন জন্মের পর তার সন্তানটিকে দত্তক দিয়ে দেবেন। খুব করেই চেয়েছিলেন এমন একটি পরিবারে তিনি দত্তক দিতে, যে পরিবারের দত্তক বাবা-মায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকে। সেই অনুযায়ী একটি

চিকিৎসা-মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করুন by মোঃ গোলাম রব্বানী

নগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক রোগ চিকিৎসা অবহেলা করে কখনোই তা অর্জন সম্ভব নয়। এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন। বর্তমান বাস্তবতায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করে এর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সারাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব)

ধর নির্ভয় গান-দেশে ফিরে আসা এবং একটি নাগরিক উপলব্ধি by আলী যাকের

মাদের মতো সাধারণ জনগণের দ্বারাই সম্ভব দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যে কোনো সরকার বা রাজনীতিবিদের প্রথম দায়িত্বই হচ্ছে মানুষকে এসব নাগরিক চেতনা সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলা। মাঝে মধ্যে দুঃখজনক হলেও সত্য বলে মনে হয় যে, আমাদের অনেক রাজনীতিবিদ নিজেরাই স্বেচ্ছাচারী, অপরিচ্ছন্ন এবং আইন ভঙ্গকারী। অতএব তারা কী করে সাধারণ মানুষকে এসব দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলবেন, তা বোঝা কষ্টসাধ্য

ইলিশ সংরক্ষণ-সময়ে এক ফোঁড় দিন

পকূলীয় এলাকার সাত হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় গতকাল থেকে পূর্ণিমার আগে-পরের ১০ দিন ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় মাছটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতাই স্পষ্ট করেছে। আমরা জানি, এপ্রিল ও মে মাসে জাটকা না ধরা সম্পর্কিত ছয় দশক পুরনো আইনটিও গত কয়েক বছর ধরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। পদ্ধতিগত কিছু সমালোচনা থাকলেও এর ফলে দেশের ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাবই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সময়োচিত সিদ্ধান্ত

ম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তা কারও কাছেই প্রীতিকর ছিল না। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারি অনুদান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা এবং সে আশঙ্কা থেকে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পথে নামার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নাগরিকদের চিন্তিত করে তুলেছিল। সকলেই আশা করছিলেন, বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধান হোক। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী সঠিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে আশ্বস্ত হওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সার সংকট-কৃষি ও কৃষকদের কথা আমলে নিন

কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কিংবা বৃদ্ধিকল্পে সারের দাবিতে পুলিশের গুলিতে কৃষকের প্রাণ হারানোর মর্মন্তুদ ঘটনা দূর-অতীতের বিষয় নয়। চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে সার নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল যে তুঘলকি কাণ্ড শুরু করেছিল, এরই প্রতিবাদ করতে গিয়ে সারপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানানোর কারণে গুলি ছোড়া হয়েছিল কৃষকদের লক্ষ করে। যে দেশের অর্থনীতির চাকা অনেকাংশেই সচল রেখেছে কৃষি ও কৃষক, সে

শিরশ্ছেদের ঘটনা-সতর্ক হতে হবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের

সৌদি আরবে এক মিসরীয়কে হত্যার দায়ে সেখানকার আদালত কর্তৃক আটজন বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিকের শিরশ্ছেদ করার আদেশ কার্যকর করা নিয়ে সারা দেশে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে অপরাধীর শাস্তি হোক, এটা যেমন এ দেশের মানুষ চায়, তেমনি অন্যদিকে বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে অধিক কঠোর হওয়াও এ দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো দেশে অপরাধীর শাস্তি সে দেশের প্রচলিত আইনে

চরাচর-ঢাকার জট, জটের ঢাকা

ট্রাফিক জ্যামে নাকাল ঢাকার সবাই। যিনি বাসে যাচ্ছেন তিনিও সামনে এগোতে না পেরে বসে বসে বিরক্ত হচ্ছেন, আবার যিনি প্রাইভেট কারে চেপেছেন তাঁর অবস্থাও অন্য রকম নয়। এসব দেখে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যিনি হেঁটে রওনা হয়েছেন তাঁর অবস্থা আরো খারাপ। দোকানদার মালপত্র রেখেছেন তাঁর দোকানের সামনের ফুটপাতে, বড় ব্যবসায়ী বা কর্মকর্তা রেখেছেন তাঁর গাড়ি, আর হকাররা তো আছেই। এ ছাড়াও পথচারীদের জন্য নতুন উৎপাত হিসেবে দেখা

মানসিক রোগী মানেই 'পাগল' নয় by ডা. মুনতাসীর মারুফ

কই শব্দের বহু ব্যবহারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। স্থান-কাল-পাত্রভেদে একটি নির্দিষ্ট শব্দের অর্থ যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়, তার প্রচুর উদাহরণ আমরা জানি। তেমনি একটি সুপরিচিত শব্দ 'পাগল'। বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের পরিমার্জিত সংস্করণ অনুসারে, 'পাগল' শব্দটির কয়েক ধরনের অর্থ হয়। 'পাগল ছেলে, যা বায়না ধরবে, তা নেবেই'_এই বাক্যে 'পাগল' বলতে বোঝানো হচ্ছে ছেলেটি 'অবোধ'। 'রবীন্দ্রসংগীত শুনতে একেবারে পাগল'_এখানে

নিত্যজাতম্‌-মেট্রো রেল প্রশ্নে বিতর্ক সর্বনাশ ডেকে আনছে by মহসীন হাবিব

খন থেকে আরো তিন বছর আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাংলাদেশে নিযুক্ত দূত ড. স্টিফেন ফ্রোইন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় এখন ঢাকা শহরের যানজট। একজন মানুষ পাঁচ-দশ মাইল রাস্তা পার হয়ে কোনো কাজ করতে গেলে তার সারা দিন চলে যায়। এ অবস্থায় একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।' গত তিন বছরে এই শহরে স্তূপের ওপর স্তূপ গড়ে উঠেছে, নতুন অসংখ্য বৈধ-অবৈধ ভবন

ভিন্নমত-শেয়ারবাজার যখন পড়ে, তখন কোনো যুক্তি মানে না by আবু আহমেদ

মাদের শেয়ারবাজারটা অনবরত পড়ছেই। তবে পড়াটা একপর্যায়ে অবশ্যই থেমে যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো, বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী, যাদের বড় অংশই আবার নতুন, তারা পড়াটাকে মনস্তাত্তি্বকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। তারাই বেশি হা-হুতাশ করে পড়তে দেখলে এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় এই ভেবে যে, বাকি টাকাটাও তারা হারাবে কি? কিন্তু সত্য হলো, তারা বা সবাই ইতিমধ্যে পুঁজির বিরাট অংশ হারিয়েছে। আরো হারাতে পারে।

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট-পরিকল্পনার মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে

রকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি মহতী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলতে হয়। সরকার সীমিত আয়ের মানুষের জন্য রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এফ ব্লকে ১৬ তলাবিশিষ্ট মোট ১২টি ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছে। এতে স্বল্প আয়ের এক হাজার ২০টি পরিবার ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। এই ভবনগুলোর মধ্যে ছয়টির প্রতি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮০০ বর্গফুট এবং বাকি ছয়টিতে হবে এক হাজার বর্গফুট করে। ভবনগুলো নির্মাণের বিভিন্ন দিক

কাঁচাবাজারে আগুন-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন

দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে মাছ ও তরিতরকারির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী এবং সীমিত আয়ের মানুষের জীবনে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে। ৬০-৭০ টাকার নিচে কোনো তরকারি পাওয়া যায় না। শুক্রবার বা ছুটির দিনগুলোতে এই দামও আবার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যায়। অর্থাৎ যেখানে যেমন সুযোগ আছে, তেমনভাবেই ক্রেতার পকেট কাটা হয়। এগুলো দেখার বা নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারেরও কোনো উদ্যোগ

স্মরণ-চে গুয়েভারা : বিপ্লবের অনুপ্রেরণা

কাপুরুষ, মারো, গুলি মারো, তোমাদের গুলিতে মরবে শুধু মানুষটি।' মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমন উক্তি উচ্চারণের সাহস খুব কম মানুষেরই হয়। সেই বিরল মানুষের একজন আরনেস্তো চে গুয়েভারা। বিশ্বজুড়ে যাঁর নাম হয়ে উঠেছে বিপ্লবের প্রতিশব্দ। আজ ৯ অক্টোবর বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা অগণন মানুষ বিশেষ করে তরুণদের অনুপ্রেরণা চে গুয়েভারার ৪৪তম মৃত্যুদিবস। ১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণকারী এই বিপ্লবীকে ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার

রঙ্গব্যঙ্গ-জ্যোতিষশাস্ত্র এবং মরা গাছে ফুল! by মোস্তফা কামাল

পুরনো দিনের একটি গান আছে, আগেকার দিনে গ্রামগঞ্জে গ্রামোফোনে গানটি বেশ শোনা যেত। আধুনিক জমানায়ও গানটি বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যে শোনা যায়। গানটির একটি কলি হচ্ছে এ রকম_'মরা গাছে ফুল ফুইটাছে ডাল ভাইঙ্গো না রে মালি ফুল ছিঁড়ো না।' নিশ্চয়ই গানটি অনেকের মনে আছে। সেই গানের সুরটিই এখন রাজনীতির ভাঙা রেকর্ডে বেজে চলেছে। হালের রাজনীতি এখন মরা গাছে ফুল ফোটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বৃত্তের ভেতর বৃত্ত-দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা-সম্ভাবনা by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র হবে দক্ষিণ এশিয়া'_এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, 'দক্ষিণ এশিয়া আগামী দুই দশকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।' বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা_এই দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেশ হলো ভারত। নানা রকম সমস্যা সত্ত্বেও

মুঠোফোনে সরকারি সেবা by এ এম এম শওকত আলী

মুঠোফোনে সরকারি সেবা প্রদান ক্ষমতাসীন সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ-নীতির মধ্যে অন্যতম। কিছুদিন ধরেই সরকারের গৃহীত এ উদ্যোগ প্রায় সব কয়টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো বাস্তবায়নে লিপ্ত। সরকারের উদ্যোগকে সহায়তার জন্য কিছু উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানও অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ডানিডা)।

দাখিলা বই-তহশিল অফিসগুলোতে দ্রুত সরবরাহ হোক

ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। এই খাজনা কিংবা রাজস্ব আদায় সরকারের অর্থনৈতিক খাতকে শক্তিশালী করে। তার চেয়ে বড় কথা, ভূমি মালিকের মালিকানা নিশ্চিত করার জন্যও প্রমাণ হিসেবে এই খাজনার রসিদটি কাজে লাগে। খাজনা প্রদানের মাধ্যমে মালিকানার ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করে। জমি বেচাকেনা করার জন্য অতিজরুরি প্রয়োজনীয় এই খাজনা রসিদটি পেতে যাতে কারো অসুবিধা না

সংশোধিত দুদক আইন-প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করা হোক

দুদক আইন নতুন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগেও দুদক আইনের খসড়া করা হয়েছিল। সেই খসড়া নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। তখনকার আইনে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দুর্নীতির বিষয়ে মামলার আগে অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, দুদককে একটি 'নখদন্তহীন' প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে। দুদক চেয়ারম্যান নিজেও এমনটি আক্ষেপ করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুদক আইন আবার সংশোধন

পবিত্র কোরআনের আলো-যারা সন্তান হত্যা করে এবং হালালকে হারাম করে, তারা নিজেদের ক্ষতি করে

৩৮. ওয়া ক্বা-লূ হা-যিহি আনআ'-মুন ওয়া হারছুন হিজরুল্ লা-ইয়াত্বআ'মুহা ইল্লা মান্ নাশা-উ বিযা'মিহিম ওয়া আনআ'-মুন হুর্রিমাত্ যুহূরুহা ওয়া আনআ'-মুল্ লা-ইয়ায্কুরূনাছ্মাল্লা-হি আ'লাইহাফ্তিরা-আন আ'লাইহি; ছাইয়াজযীহিম বিমা কা-নূ ইয়াফ্তারূন। ১৩৯. ওয়া ক্বা-লূ মা ফী বুত্বূনি হা-যিহিল আনআ'-মি খা-লিসাতুন লিযুকূরিনা ওয়া মুহার্রামুন আ'লা আযওয়া-জিনা; ওয়া ইয়্যাঁকুম্ মাইতাতান ফাহুম ফীহি শুরাকা-উ; ছাইয়াজ্যীহিম ওয়াস্ফাহুম;

চিরঞ্জীব মোহাম্মদ ফরহাদ by গোলাম মোহাম্মদ ইদু

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, কর্মঠ নেতা মোহাম্মদ ফরহাদ প্রয়াত হয়েছেন ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর। তিনি দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য রাশিয়ায় যান এবং মস্কোর অক্টোবরস্কায়া হোটেলে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৬-৪৭ সালের দিকে শোষণবিরোধী আন্দোলনে মুখর ছিল ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর অঞ্চল। সেখানে শুরু হয়েছিল তেভাগা আন্দোলন, যার ঢেউ সারা দেশকে আলোড়িত করেছিল। যাঁদের নেতৃত্বে সেই

সদরে অন্দরে-কার স্বার্থে এই সম্প্রচার নীতিমালা by মোস্তফা হোসেইন

দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই একটি টেলিভিশনেরও বাতি নিভে গেল। বন্ধ হয়ে গেল সম্প্রচার। একটিমাত্র নির্দেশে। সেই সঙ্গে বেকার হয়ে যায় চার শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারী। মনে আসছে বাংলাদেশের প্রথম সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএসবি নিউজের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার কথা। সিএসবি নিউজ ভবনের টপ ফ্লোরে বসে কাজ করছিলাম তখন। সন্ধ্যার আগমুহূর্তের ঘটনা। হঠাৎ একজন এসে বলল, র‌্যাব-পুলিশ ঢুকেছে অফিসে।

ইতিউতি-টয় স্টোরি by আতাউস সামাদ

পেলটার একদিক খানিকটা খাওয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত পার্সোনাল কম্পিউটার কম্পানির লোগো এটি। কম্পানির নাম Apple Computer (অ্যাপল কম্পিউটার)। তথ্যপ্রযুক্তিকে সারা দুনিয়ায় ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল। একটা ছোট স্যুটকেসের সমান এই যন্ত্র। তারপর পাতলা অ্যাটাশি কেইসের মতো ল্যাপটপ এবং সব শেষে আমাদের ছোটবেলার (১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে) স্লেটের সমান ipad (আইপ্যাড)। স্লেটে লিখতে একটা স্লেট পেনসিল লাগত। আইপ্যাডে লিখতে হাতের একটা আঙুল লাগে, যা দেখতে পাওয়া যায় এবং ছুঁতে পাওয়া যায়। প্রাণিকুলের এই ক্ষমতাকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে খুব সহজে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা ও কাজ করা যাবে_এমন ধারণা নিয়ে গবেষণা ও ডিজাইনিং করে যিনি আইপ্যাড সৃষ্টি করেন, তিনি স্টিভ জবস। প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সারে আক্রান্ত এই মানুষটি গত বুধবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
স্টিভ জবস ২০০৪ সালে জানতে পারেন যে তাঁর ক্যান্সার হয়েছে। ২০০৫ সালের ১২ জুন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে মূল ভাষণ দেন। বক্তৃতাটি ছিল ছোট, তবু তিন ভাগে ভাগ করা। স্টিভ জবস বলেছিলেন, বক্তৃতা নয়, তিনি বস্তুতপক্ষে তিনটি গল্প বলবেন। এর সব কয়টিই তাঁর নিজের জীবন নিয়ে। ভাষণের শেষ গল্পটি মৃত্যু সম্পর্কে তাঁর নিজের ধারণা নিয়ে।
মৃত্যুচিন্তা সম্পর্কে স্টিভ জবস ওই ভাষণে মন্তব্য করেছেন, 'কেউ মরতে চান না। এমনকি যাঁরা স্বর্গে যেতে চান, তাঁরাও সেখানে পৌঁছার জন্য মারা যেতে চান না। তবু মৃত্যু হচ্ছে এমন গন্তব্য, আমরা সবাই যার অংশীদার। এই গন্তব্য কোনো দিন কেউ এড়াতে পারেনি এবং তা-ই হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ সম্ভবত মৃত্যুই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে সেরা আবিষ্কার। এটা (মৃত্যু) জীবনের পরিবর্তনের মাধ্যম। এটা পুরনোকে সরিয়ে দিয়ে নতুনের জন্য পথ করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, তবে অদূর-ভবিষ্যতে তোমরা ক্রমেই বুড়ো হতে থাকবে এবং তোমাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এ রকম নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করলাম বলে আমি দুঃখিত, কিন্তু যা বলেছি তা সত্য।'
(No one wants to die. Even people who want to go to heaven don�t want to die to get there. And get death is the destination we all share. No one has ever escaped it. And that is as it should be, because death is very likely the single best invention of life. It is Life�s change agent. It clears out the old to make way for the new. Right now the new is you, but some day not too long from now, you will gradually become the old and be cleared away. Sorry to be so dramatic, but it is quite true.)
Old order changeless yielding place to the new. (নতুনকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে পুরনো ব্যবস্থা বদলে যায়) এই ইংরেজি প্রবচনটি যাঁরা আজও মনের কোঠায় ধরে রেখেছেন, তাঁদের কেউ হয়তো বলতে পারেন, স্টিভ জবস যা বলেছেন আর ওই পুরনো কথাটা তো প্রায় একই। ঠিক তা নয়, কারণ স্টিভ জবস মৃত্যুকে জীবনের সেরা আবিষ্কার বর্ণনা করে মহিমান্বিত করেছেন এবং একে পরিবর্তনের মাধ্যমে আখ্যা দিয়ে এর গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তবে মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য করেই তিনি তাঁর কথা শেষ করেননি। এর পরপরই তিনি বলেছেন, 'তোমাদের সময় সীমিত। কাজেই অন্য কারো জীবনকে তোমার করে (অর্থাৎ অনুকরণ করে) সময় নষ্ট করো না। প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত চিন্তাধারার ফাঁদে আটকে যেয়ো না; কারণ তা হবে অন্যের চিন্তার ফসল নিয়ে জীবন যাপন করা। অন্যদের মতামতের শোরগোলকে তোমার অন্তরের কণ্ঠকে ডুবিয়ে দিতে দিয়ো না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার নিজের হৃদয় ও নিজের অনুভূতির মাধ্যমে অর্জিত স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানকে অনুসরণ করার সাহস রেখো। তারা হৃদয় ও অন্তরের জ্ঞান কোনো না কোনোভাবে এখনই জানে তুমি কী হতে চাও। অন্য সব কিছুই গৌণ। (Your time is limited, so don�t waste it living someone else�s life. Don�t be trapped by dogma- which is living, with the results of other people�s thinking. Don�t let the noise of others opinions drown out your own inner voice. And most important, have the courage to follow your heart and intuition. They somehow already know what you truly want to become. Everything else is secondary.) স্টিভ জবস নিজের কাজ দিয়ে তাঁর চিন্তার সারবত্তা প্রমাণ করেছেন। অ্যাপল কম্পিউটার কম্পানি দারুণভাবে সফল হওয়া সত্ত্বেও এর ব্যবসায়িক নীতি কী হবে, সেই বিতর্কে মতপার্থক্যের দরুন তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হয়। স্টিভ জবসের নিজের জবানিতেই তাঁর পরের পাঁচ বছরে তিনি প্রথমে Next নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন আর স্টার ওয়ার নির্মাতা জর্জ লুকাসের কাছ থেকে Pixar নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়ে এটিকে বিশাল এক কম্পানিতে পরিণত করেন। তার বদলে স্টিব জবস হয়ে যান ডিজনির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। Pixar-এর মূল অংশ হচ্ছে একটা অ্যানিমেশন স্টুডিও এবং এই স্টুডিও তৈরি করে বিখ্যাত অ্যানিমেশন ফিচার ফিল্ম Toy Story (টয় স্টোরি)। এই ছবিটি কার্টুন ও অ্যানিমেশন ছবির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়। পরে ডিজনি স্টুডিও Pixar-এর স্বত্বাধিকার কিনে নেয় স্টিভ জবসের কাছ থেকে। আর তার Next এখন অ্যাপল কম্পিউটার কম্পানির প্রধান স্তম্ভ।
Pixar ও Next প্রতিষ্ঠা করার সময়টা সম্পর্কে স্টিভ জবস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'আমি তখন বিষয়টাকে এমনভাবে দেখতে পাইনি। অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াটা আমার জীবনে সবচেয়ে ভালো ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। সফল হওয়ার যে ওজন বইছিলাম, তা নবাগত হওয়ার ভারশূন্যতায় এবং সব কিছু সম্পর্কে কম নিশ্চিত হওয়ার মানসিকতায় পরিবর্তিত হলো। আর তা আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়টাতে ঢোকার জন্য মুক্ত করে দিয়েছিল।' (I didn�t see it then, but is turned out that getting fired from Apple was the best thing that could have even happened to me. The heaviness of being successful was replaced by the lightness of being a beginner again, less sure about everything. It freed me to enter one of the most creative periods of my life.)
স্টিভ জবস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটির শেষে একটা মহৎ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তাঁর কৈশোরে তিনি একটি ম্যাগাজিন পড়তেন, যার নাম ছিল 'The whole Earth Catalog' তাঁর ভাষায় সাময়িকীটি ছিল অনেকটাই google-এর কাগজে মুদ্রিত একটা সংস্করণের মতো। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জন স্টুয়ার্ট নামের এক ব্যক্তি। গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি এসে ম্যাগাজিনটি বন্ধ হয়ে যায়। এর শেষ সংখ্যার পেছনের প্রচ্ছদে জন স্টুয়ার্ট ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের পাঠকদের বিদায় সম্ভাষণ জানান এই বলে, 'Stay Hungry, Stay Foolish�। যার মানে 'ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো'। তিনি বলেছিলেন যে তিনি নিজেকে সব সময় এ কথাটাই বলতেন। স্ট্যানফোর্ডের স্নাতক ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁর ভাষণের শেষ কথাগুলোও ছিল 'Stay Hungry, Stay Foolish।
স্টিভ জবস প্রসঙ্গে ইতি টানার আগে আমি বিনীতভাবে স্বীকারোক্তি পেশ করে রাখি যে আমি নিজে প্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তির কোনোটিতে বিশেষজ্ঞ তো নয়ই, এমনকি প্রশিক্ষিতও নই। আর তাঁর বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ভাষণ আমার নিজের গবেষণালব্ধ নয়। আমার ছোট ভাই সাংবাদিক আতিকুস সামাদ লন্ডন থেকে ফোন করে স্টিভ জবসের ভাষণটা ইন্টারনেট থেকে পড়ে শোনায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ই-মেইল করে পাঠিয়ে দেয়। ওই ভাষণের দার্শনিক অংশ তাকে অভিভূত করেছে বলেই ও আমাদের পড়ার জন্য সেটা হাতে পেয়েই পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সেই ভাষণের কিছুটা এখানে তুলে দিলাম।
স্টিভ জবসের জীবনটা সরলরেখায় চলেনি। বস্তুতপক্ষে মায়ের পেটে আসার সময় থেকেই জটিলতার শুরু। তিনি বেড়ে ওঠেন পালক মা-বাবার কাছে। তাঁরা হলেন ক্ল্যারা ও পল জবস। তাঁর আসল বাবার নাম আবদুল ফাতাহ জান্দালি। তিনি সিরীয় মুসলিম। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রনীতিতে অধ্যাপনা করতেন। স্টিভের মা তাঁরই ছাত্রী জোয়ান সিম্পসন। তাঁদের বিয়ের আগেই জোয়ানের গর্ভে আসে এক সন্তান। তখন তাঁরা বিয়ে করতে চাইলেও জোয়ানের বাবার অনমনীয়তার দরুন তা সম্ভব হয়নি। তখন জোয়ান সানফ্রান্সিসকো গিয়ে এক হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেন। এক ধনী দম্পতি হাসপাতালকে বলে রেখেছিলেন যে তাঁরা জোয়ানের সন্তানকে দত্তক নেবেন। কিন্তু তাঁরা চেয়েছিলেন কন্যা। হাসপাতাল থেকে যখন তাঁদের জানানো হলো যে জোয়ান একটি পুরুষ শিশু জন্ম দিয়েছেন, তাঁরা পিছিয়ে গেলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন দত্তক নিতে আগ্রহীদের যে তালিকা তাঁদের কাছে ছিল, সেখান থেকে ক্ল্যারা ও পলকে বেছে নিয়ে জানতে চান, তাঁরা এই ছেলে শিশুটিকে গ্রহণ করবেন কি না। তাঁরা সানন্দে সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে আসেন। নাম রাখেন স্টিভ জবস। স্টিভের মা ক্ল্যারা ছিলেন হিসাবরক্ষক আর বাবা পল ছিলেন কোস্টগার্ড সদস্য ও কারিগর (মেশিনিস্ট)। এই বাবার কাছেই স্টিভ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি খোলা ও লাগানো শেখেন। আর অ্যাপল কম্পানি শুরু হয়েছিল এই জবসদের বাড়ির গ্যারেজে।
স্টিভ জবসের জন্মদাত্রী মা জোয়ান সিম্পসন লেখিকা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। আবদুল ফাত্তাহ জান্দালির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত জোয়ানের বিয়ে হয়। তাঁদের এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। স্টিভ তাঁর এই বোন মোনার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। তিনি মা জোয়ানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু বাবা আবদুল ফাত্তাহ জান্দালির সঙ্গে কোনো দিন দেখা করেছেন বলে জানা যায়নি। জান্দালি এ সম্পর্কে বলেছেন, 'আমি তার অর্থের জন্য লালায়িত_স্টিভ এ রকম ভাবতে পারে এই ভয়ে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি না, তবে ওকে নিয়ে এক কাপ কফি খেতে পারলে খুবই খুশি হব।' জান্দালি সে আনন্দ পেয়েছেন কি না সে সম্পর্কে স্টিভ কোনো দিন কিছু বলেননি।
বড় কথা হচ্ছে, স্টিভ জবস জীবনের জটিলতাকে তাঁকে থামিয়ে রাখতে দেননি। তিনি যেই অ্যাপল কম্পানির একজন প্রতিষ্ঠাতা সেখান থেকে তাঁকে বেরিয়ে যেতে হলো। কিন্তু ছিটকে তিনি পড়লেন না। তৈরি করলেন Next ও Pixar। তারপর অ্যাপল যখন ব্যবসায় খারাপ করছিল, তখন তাঁকে ফিরিয়ে আনা হলো। এবার তিনি দিলেন ipod, iPhone ও ipod। পরিচিত হলেন বিশ্বের এক সেরা প্রযুক্তি ভবিষ্যদ্দ্রষ্টা হিসেবে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষণে স্টিভ জবস এও মন্তব্য করেছেন, 'তোমাকে কোনো কিছুতে আস্থা রাখতে হবে_তোমার সাহস, ভাগ্য, জীবন, কাজ, তা যা কিছু হোক।' তিনি বলেছেন, এই আশাবাদ তাঁকে কখনো ফাঁকি দেয়নি।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত-সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক নিয়ম

বশেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সৃষ্ট জটিলতার অবসান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের অনুদান নিয়ে যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল, সে অবস্থার অবসান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি অনুদান অব্যাহত থাকবে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সরকারি অনুদান অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

বিনা মূল্যের বাল্ব-রাষ্ট্রের শতাধিক কোটি টাকা কেন গচ্চা যাবে

দ্দেশ্য মহৎ, কাজটি খারাপ_তাহলে ফলাফল কী দাঁড়াবে? শূন্য, নাকি মাইনাস কিছু? বাংলাদেশে অনেক প্রকল্পই নেওয়া হয়, যেগুলোর উদ্দেশ্য মহৎ থাকে, প্রস্তাবনায় অনেক ভালো ভালো কথা থাকে, কিন্তু বাস্তবায়নে অতিরিক্ত দুর্নীতির কারণে তা থেকে দেশ বা দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে লাভবান হয় না। চূড়ান্ত বিচারে প্রায়ই দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেমনি একটি প্রকল্প হচ্ছে, 'এফিশিয়েন্ট লাইটিং ইনিশিয়েটিভ ফর বাংলাদেশ' বা সংক্ষেপে ইএলআইবি।

চরাচর-গারো মাতৃভাষায় শিক্ষার পাঠ্যক্রম

ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, উপজাতি, নৃজাতিগোষ্ঠী কিংবা আদবাসী_যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এসব জাতিগোষ্ঠীর লোকজনের নিজস্ব ভাষা, জীবনাচার ও সংস্কৃতিগত ভিন্নতার কারণেই তারা আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে পরিচিত। সমাজের মূলস্রোত থেকে এরা আলাদা। সারা বিশ্বে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ছয় হাজারের ওপর ভাষা রয়েছে। আমাদের দেশেও প্রায় ৪৬ জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে।

আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৪৪)-অসম্পূর্ণ শিক্ষিতদের জয়জয়কার by আলী যাকের

রের দিন সকাল ৭টায় আমি উপাচার্য ভবনে হাজির। ঠিক ৮টায় ড. মতিন চৌধুরী এলেন। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ওসমান গনি_পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনেম খান এবং পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। এঁদেরই তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন নামে একটি ছাত্রদল ছাত্ররাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়ন করেছিল।

শেকড়ের ডাক-ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়তে পারছে না রেলওয়ে by ফরহাদ মাহমুদ

বাংলাদেশ রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছিল। বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া, খাদ্যগুদাম ও শিল্প-কারখানাগুলোর সঙ্গে থাকা রেল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, অলাভজনক আখ্যায়িত করে অনেক স্থান থেকে রেললাইন তুলে ফেলা, লিজ দেওয়ার নামে রেলওয়ের জমি লুটপাট করা, রেললাইনের সংস্কার না করা, দক্ষ ও প্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়ে অদক্ষ ও দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে মাথাভারী প্রশাসন তৈরি করা, কারখানাগুলো প্রায়

চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন-ছাত্র আন্দোলনে দুর্যোগের সূত্রপাত by যতীন সরকার

বিশ শতকের ষাটের দশকে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুবের অনুগত সহচর পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খানের উদ্যোগে এনএসএফ (ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন) নামে একটি স্বৈরাচার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন গড়ে উঠেছিল বটে, কিন্তু সে সংগঠনের নানা কুকর্মের জন্য এর প্রতি সাধারণ ছাত্রসমাজ খুবই বিরূপ হয়ে উঠেছিল। সেই বিরূপতা এমন পর্যায়ে পেঁৗছে যায় যে একপর্যায়ে এনএসএফ নেতারা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়ে পড়েন।

ঋণখেলাপি রোধ-পৃথক আদালত গঠন জরুরি

ব্যাংকে তারল্য সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে হলে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ জরুরি। ঋণের স্বাভাবিক অবস্থা অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করে। কিন্তু আমাদের দেশে এর ব্যত্যয় ঘটে প্রায় নিয়মিতই। দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতে চান না। নিজেদের প্রয়োজনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে থাকেন এসব ব্যক্তি। তাঁদের সংখ্যা মোট ঋণগ্রহীতার তুলনায় সামান্য হলেও গৃহীত

শুভ বিজয়া-জয়ী হোক সত্য ও সুন্দর

জ বিজয়া দশমী। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন আজ। গজে চড়ে যে দেবীর আগমন ঘটেছিল মর্ত্যে, আজ তিনি বিদায় নেবেন দোলায়। দুর্গতিনাশিনী হিসেবে সম্মানীয়া এই দেবী বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে দুর্গা। পরম পূজনীয় তিনি। তিনিই আদ্যাশক্তি, মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভুজা ও সিংহবাহনা। মানবের কল্যাণে এবং অশুভর ওপর শুভর বিজয়কে তিনি নিশ্চিত করেন।

শুভ জন্মদিন-উন্নয়নের বরপুত্র এম সাইফুর রহমান

ধুনিক অর্থনীতির রূপকার এম সাইফুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক মৌলভীবাজার জেলার বাহার মর্দান গ্রামে ১৯৩২ সালের ৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আবুল বাছির, মা তালেবুন নেছা। সাইফুর রহমান ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইফুর রহমান দলীয় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত না থাকলেও মাতৃভাষা রক্ষার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

কৃষকের হাতে হাতকড়া কেন? by লুৎফর রহমান রনো

মাদের দেশের একজন সম্মানিত সমাজসচেতন শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী তাঁর একটি কলামে লিখেছিলেন_'অনেকেই বলেন, বাঙালি রাজনীতিসচেতন।' তিনি এর কারণ হিসেবে বলেছেন, বাঙালি জাতি সুদীর্ঘকাল ধরে শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে স্বাধীনতার জন্য বা অধিকার আদায়ের জন্য, তাই রাজনীতিসচেতন হওয়াটাই স্বাভাবিক...। কিন্তু আসলেই কি তা-ই, বাঙালি জাতি অন্যান্য জাতির তুলনায় অধিক রাজনীতিসচেতন?

কপোতাক্ষ অববাহিকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে কয়েকটি প্রস্তাব by এস এম আতিয়ার রহমান

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা মরা কপোতাক্ষ নদ নিয়ে। ইতিহাসপ্রসিদ্ধ এ নদের ভূমিকা আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি ভৌগোলিক, আর্থ-সামাজিক এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি জেলার ৩৫টি উপজেলার এক কোটি মানুষ এ নদের অববাহিকায় বসবাস করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ নদের প্রভাব তাদের জীবনধারার ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে।

সাদাকালো-যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াতের নয়া কৌশল by আহমদ রফিক

যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করেছিল সেক্টর কমান্ডারদের ফোরাম। সেই সঙ্গে আরো অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন; অনেক লেখালেখি দীর্ঘদিন ধরে। অবশেষে বর্তমান সরকারের শাসনামলে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু, ট্রাইব্যুনাল গঠন। অমনি উঠে এসেছে অনেক প্রশ্ন আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে। বিএনপি-জামায়াত জোটের জামায়াতই শুধু নয়, বিএনপির নেতৃস্থানীয় কারো কারো মুখে শোনা গেছে অদ্ভুত সব কথা। অথচ বিএনপির স্থপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন নেতৃস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জেড ফোর্সের প্রধান।

দ্বীপচরের স্বপ্নহীন কিশোরীদের কথা by জাহিদ রহমান

দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তাবক্ষে রয়েছে অসংখ্য দ্বীপচর। দ্বীপচরগুলোর নামগুলোও বাহারি এবং বৈচিত্র্যময়। কালিকাপুর, চর হলদিবাড়ী, চর পারুলিয়া, চর আরাজি, চর গোবর্ধন, চর কালিকাপুর, চর খারিয়া, চর ফলিমারী, চর হরিণছড়া, চর তালপট্টি, চর ডাওয়াবাড়ী, চর গুড্ডিবাড়ী এরকম আরও অনেক চর রয়েছে এখানে। একটু বাতাস উঠলেই তিস্তার পানি যেন হেসেখেলে দোল খায়। পানির এই দোল খাওয়ার দৃশ্য যে কোনো নাগরিকের হৃদয়ে

রাজনীতি-ক্ষমতা রক্ষা ও আরোহণের খেলা by কামাল লোহানী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকা থেকে ফিরে বলেছেন, বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতেই হবে। সেই সঙ্গে অবশ্য এটাও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচন অবাধ হবে।... এ কথা বিরোধী দল তো কোনোভাবেই মানছিল না। কারণ আমরাও জানি, সর্বোচ্চ আদালত আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সুপারিশসহ পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরামর্শ বাধ্যতামূলক ন রোগশয্যায় শুয়ে খবরের কাগজ পড়া কি ছাড়া যায়? তবে পড়ার বিষয়গুলো

দুর্নীতি-ভারতে রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস by সুভাষ সাহা

ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি আমাদেরসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ওপরই প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে। তবে যে-ই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক আমাদের জন্য ভারতে একটি স্থিতিশীল সরকার উপকারী। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সমস্যাবলি সমাধানে ইতিমধ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার যতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারব রোমান রাষ্ট্রনায়ক-দার্শনিক সিসেরো তার সময়ে সেখানে দুর্নীতি ও পাপাচার দেখে মনস্তাপ

বিজয়া দশমী মিলনের মঙ্গলদিন by রণজিৎ বিশ্বাস

বি শ্বাসনির্ভর ও পরিচয়নির্ভর কিছু কিছু অনুষ্ঠান আমাদের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ধূলিতলে তৃণমূলে ও আকাশতলে আর অনুষ্ঠান নেই, আর শুধু উপাসনার ছাঁচে গণ্ডিতে বাঁধা পড়ে নেই। এগুলো এখন উৎসবে পরিণত। যেমন ঈদুল ফিতর যেমন বিজয় দশমী। এমন আরও দিন আছে আমাদের সবার নিবিড় বন্ধনের বিশাল বাড়িতে। প্রবারণা পূর্ণিমা যেমন, যিশুর জন্মদিন যেমন। এই সেদিনও আমরা বুঝতে যা পারিনি, এখন আমাদের তা বুঝতে হবে

নোবেলে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট by একরামুল হক শামীম

বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ৭ অক্টোবর। কে পেতে যাচ্ছেন এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার_ তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ইন্টারনেটের নানা ফোরামে নানা রকমের বক্তব্য উঠে আসছে। সংবাদমাধ্যমগুলোও সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছে। এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গে শুরু থেকেই 'আরব জাগরণের' নাম জড়িয়ে গেছে। অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান

কালের পুরাণঃ- রাষ্ট্রপতির সংলাপ by সোহরাব হাসান

কটি সুসংবাদ ও একটি দুঃসংবাদ দিয়েই ১৬ ডিসেম্বর, এবারের বিজয় দিবসটি শুরু হয়েছে। আগে দুঃসংবাদটির কথা বলি। বিজয় দিবসের ভোরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মারামারি করেছেন। সকাল সাতটায় প্রধানমন্ত্রী যখন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বেরিয়ে আসবেন, তখনই এ ঘটনা ঘটে। আগের রাতে স্মৃতিসৌধ চত্বরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ব্যানার টানায়।

শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীদের খিস্তি-খেউড়

চনে জুড়ি নেই ক্ষমতাসীন সরকারের কর্তাব্যক্তিদের। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত সবাই এ বিষয়ে যেন সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে বিরোধী দলের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে তাদের তুলনা হয় না। পাশাপাশি তারা গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর প্রতিও বিষোদগার করেন।

গুপ্তহত্যা চলছেই, নির্বিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী by সৈয়দ আবদাল আহমদ

দেশে গুপ্তহত্যা এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এমন দিন নেই, যেদিন কেউ গুম কিংবা গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছেন না। মাঝে-মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তরুণ-যুবকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদের কারও লাশ পাওয়া যাচ্ছে, কেউ বা নিখোঁজই থেকে যাচ্ছে। লাশ পাওয়া যাচ্ছে নদী, খাল, ডোবায়। মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে গত মঙ্গলবার তিন জনের পচা লাশ পাওয়া যায়।

Chacina: Quatro jovens são executados a tiros em Itabaiana SE- Cenas fortes

a Polícia Militar foi acionada por populares após ouvirem diversos tiros dentro de uma residência, localizada na Rua B do conjunto Francisco Teles de Mendonça.

Ao chegarem ao local informado os policiais encontraram dois homens e duas mulheres feridos por arma de fogo, sendo que três já estavam mortas e uma ainda respirava.

De imediato foi acionado o Serviço de Atendimento Móvel de Urgência (SAMU) como também o corpo de Bombeiros, entretanto ela não resistiu aos ferimentos e morreu no local.

Os jovens foram alvejados com disparos de revólver calibre 38, na cabeça, rosto e nas costas.

No bolso da bermuda de uma das vítimas os policiais encontraram uma carteira de cigarros, um aparelho de telefone celular, uma pequena quantidade de maconha e Carteira Nacional de Habilitação em nome de Mateus dos Santos Siqueira, 20 anos. Inclusive a polícia foi informada de que ele trabalhava como moto taxista na cidade e morava nas proximidades da Vila de Zé de Melinha. Já as demais vítimas não portavam nenhuma documentação.

Em frente a casa foi encontrada uma motocicleta Honda, modelo Titan CG 150 de cor parta, com placa IAN 8209/SE (Itabaiana), provavelmente pertencente a Mateus. Somente com a chegada de parentes no local da chacina, os policiais conseguiram a identificação das duas jovens, como sendo A. P. dos S., 14 anos, moradora do conjunto Gilton Garcia, e J. P. dos S., 16 anos, residente no bairro Coruja.

Segundo informações passadas por parentes para a polícia, A. P. havia saído da companhia dos pais aos 13 anos e atualmente estava morando com um grupo de amigas.

Os peritos do Instituto de Criminalística estiveram na casa para analisar o local do crime e constatam que Ana Paula era quem apresentava o maior número de perfurações no corpo. Logo depois os corpos foram recolhidos pelo IML e levados para autopsia na capital sergipana, sendo que um deles estava sem identificação.