Thursday, December 3, 2015

অতিরিক্ত আবেদনময়ী হওয়ায় চাকরিচ্যুত

অতিরিক্ত আবেদনময়ী হওয়ার কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে রাশিয়ান এক যুবতীকে। তার নাম ইলেনা ভারবিতস্কায়া। তিনি চাকরি করতেন এডমিনিস্ট্রেটিভ ইনফ্রিঞ্জমেন্টস এনফোর্সমেন্ট অফিসে। কিন্তু ওই অফিসের বস ইলেনার কিছু ছবি দেখতে পান অনলাইনে। তাতে ইলেনাকে ডিজে হিসেবে পরিচিয় দেয়া হয়েছে এবং ছবিগুলোতে রয়েছে যৌন আবেদন। এ কথা ইলেনা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি একজন ডিজে। এই আবেদনময়ী হওয়ার অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করেন তার বস। এ খবরটি লুফে নিয়েছে বৃটিশ মিডিয়া। তাতে বলা হয়েছে, মঞ্চে ইলেনার পরিচয় হলো ডিজে ইলিস সেক্সটন নামে। এই নামেই তিনি বিভিন্ন পার্টিতে পারফরম করেন। ওদিকে এডমিনিস্ট্রেটিভ ইনফ্রিঞ্জমেন্টস এনফোর্সমেন্ট অফিসে তিনি নতুন পদোন্নতি পাওয়ার পথে। এমন সময় তিনি অফিসে গিয়ে একদিন হতবাক। তাকে একটি নোট ধরিয়ে দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই বসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইলেনা। আইনজীবি নিয়োগ করেছেন ম্যাক্সিম ইউশিনকে। ইউশিন বলেন, অতিরিক্ত যৌন আবেদনময়ী হওয়ার জন্য ইলেনাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রাশিয়ার আইন অনুযায়ী ইলেনা কোন অন্যায় করেন নি।

বাংলাদেশ জঙ্গীবাদমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে

বাংলাদেশ আজ সকল পশ্চাৎমূখীতাকে অতিক্রম করে একটি স্থিতিশীল ও জঙ্গীবাদমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে  শিক্ষানবিস সার্জেন্টের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, সরকার দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং জঙ্গীবাদ নির্মূলে অঙ্গীকাবদ্ধ। বর্তমান সরকারের সময়ে পুলিশের যা অর্জন ও প্রাপ্তি তা বিগত সময়ের সম্মিলিত অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে।   এ কে এম শহীদুল হক বলেন, নাশকতা ও সন্ত্রাসী হামলায় যেসব পুলিশ আহত ও নিহত হয়েছেন সে সবের অধিকাংশ মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আর যে সব মামলার এখনও চার্জশিট দেয়ার হয়নি,
সেগুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়া হবে। নতুন নারী সার্জেন্ট প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও আজ পুলিশ বাহিনীতে সফলতা দেখিয়েছে। ইতিপুর্বে সাজেন্ট পদে নারীরা অংশ গ্রহণ না করলেও এই প্রথম নারীরা সার্জেন্ট পদে অংশ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি এ পদেও নারীরা তাদের সফলতা দেখাতে সক্ষম হবেন। শহীদুল হক বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্য্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, পদমর্যাদা বৃদ্ধি, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, রেশন ও ঝুঁকিভাতার সংস্কারসহ পুলিশ বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। নবীন সার্জেন্টদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে অবশ্যই পদোন্নতি মিলবে। অন্যদিকে কর্তব্যে অবহেলার কাজের জন্য পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান।  লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কর্তব্য পালনের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের জনবল ও যানবাহন বাড়ানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, আরএমপির কমিশনারের নিকট থেকে জনবল ও যানবাহনের তালিকা পেয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধান অতিথি আইজিপি শহীদুল হক প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহন করেন। ৬ মাস ব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণে ২৮ জন নারী সার্জেন্টসহ ৬১৯ জন শিক্ষানবিস সার্জেন্ট অংশগ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ছয়জনকে পদক প্রদান করা হয়।

‘শুধু মুস্তাফিজের নয় গোটা বাংলাদেশের অর্জন’

সুখবরটা প্রথম শুনেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ম্যানেজার আতাহার আলী খানের কাছে। তার একটু পরই ঢাকা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচ শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন। খেলোয়াড়, কোচ থেকে শুরু করে সবাই অভিনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছেন ঢাকা ডায়ানামাইটসের এ তরুণ পেসারকে। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ অর্জনের কথা শুনে দারুণ খুশি হয়েছেন ২০ বছর বয়সী মুস্তাফিজ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে যে বিস্ময়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তাতে এ অর্জনে খুব বেশি অবাক হওয়ার কিছু নেই। বর্ষসেরার বিবেচনায় নেয়া হয়েছে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারফরম্যান্স। মুস্তাফিজুরের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ১৮ জুন ২০১৫। চার মাসেরও কম সময়ের পারফরম্যান্সে বর্ষসেরা একাদশে! আসল চমক এখানেই। কাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমি ওই সময় (খবরটা যখন শোনেন) মাঠে ছিলাম। প্রথমে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। পরে জানলাম আমি আইসিসির ১১ জনের দলে (বর্ষসেরা একাদশ) আছি। ওই সময় আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমার দেশ থেকে আমিই প্রথম।’ বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি ২০ অধিনায়ক মাশারাফি মুর্তজা মনে করছেন, এটা শুধু মুস্তাফিজের নয়, গোটা বাংলাদেশেরই অর্জন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা অধিনায়ক বলেন, ‘আপনারা প্রশ্ন না করলেও আমি তার কথা বলতাম। এটা আমাদের সবার জন্য বড় একটি অর্জন। আশা করছি, সে এ সাফল্য ধরে রাখবে।
একসময় টেস্ট দলেও (বর্ষসেরা দল) জায়গা করে নেবে। এত অল্প বয়সে এত তরুণ একজন ক্রিকেটার এত বড় একটি জায়গায় সুযোগ পেয়েছে, এটা পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।’ মাশরাফির অনুরোধ, মুস্তাফিজের ওপর যেন প্রত্যাশার চাপ তৈরি করা না হয়, ‘এত কম বয়সে সে যা অর্জন করেছে আমরাও এতটা আশা করিনি। শুধু আইসিসি দলে সুযোগ পাওয়া নয়, সে পুরো দলের ভরসাম্যে বড় প্রভাব রেখেছে। এখন তার সঙ্গে নতুন প্রাপ্তি যোগ হল। ওর সাফল্যে দেশের সবাই গর্বিত হবে। আশা করব, এ অর্জনের ফলে ওর ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি করা না হয়। খেলায় খারাপ সময় আসতেই পারে। দু-একটা ম্যাচ খারাপ করলে তার ওপর যেন মানসিক চাপ তৈরি করা না হয়। এগুলো বাইরে থেকে আমাদের করতে হবে। সে এখনও অনেক তরুণ। সে যদি বাংলাদেশকে আরও দশ-পনেরো বছর সেবা দিতে পারে তাহলে ও এমন জায়গায় যাবে যেখান আগে কেউ যেতে পারেনি।’ এদিকে বিপিএলের ম্যাচে কাল প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে মাঠে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে যুগান্তরকে মুস্তাফিজুর বলেন, ‘কথা হয়েছে, অভিনন্দন জানিয়েছেন কিন্তু ম্যাচ চলছিল বলে বেশি কিছু বলেননি।’ এত অল্প সময়ের সাফল্য কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মুস্তাফিজ বলেন, ‘ওইভাবে আমি চিন্তা করি না। প্রথমে যখন সুযোগ দেয়া হয়েছে, শুধু ভালো খেলার চিন্তা ছিল। সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েছেন এ জন্য...। এমন অর্জনে খুশি হওয়ারই কথা। ওয়ানডেতে আমি সেরা ১১ জনের মধ্যে। আর ওখানে কত বড় বড় খেলোয়াড় আছেন। ছোট হিসেবে আমি আছি, এজন্য বেশি ভালো লাগছে।’ এদিকে ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। নেটে অনুশীলনের সময় মুস্তাফিজকে কাছেই রাখেন এই লংকান গ্রেট।

আইএসের মতো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে

ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার মতো বহুজাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বাংলাদেশে উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। এতে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়বে। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশনে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ক শুনানিতে এসব কথা বলেছেন কমিশনের কো-চেয়ার রিপাবলিকান দলের জিম ম্যাকগর্ভার্ন। তিনি সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ওই শুনানিতে অংশ নেন গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্লগার, লেখক অভিজিৎ  রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে কট্টরপন্থি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন বাতিল করার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থার এপি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ। এখানে স্বাধীন মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন বৃদ্ধির বিষয়টি ওই কমিশনে তুলে ধরেছেন বন্যা। ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে তিনি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের ওপর ভয়াবহ হামলার বর্ণনা দেন। গত নয় মাসে এমন হামলায় নিহত হয়েছেন ৫ জন । আহত হয়েছেন অনেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার ব্যস্ত সড়কে তিনি ও তার স্বীমা অভিজিৎ রায়ের ওপর নৃশংস হামলা হয়। ওই হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তারা এক ঘণ্টা পড়েছিলেন রাস্তায়। তারপর তাদেরকে নেয়া হয় হাসপাতালে। বন্যা বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। রক্তপাতের এই দিনগুলোই এখন সেখানে সাধারণ হয়ে উঠছে। সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষের কণ্ঠরোধ প্রতি মাসের নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু এসব খুনিকে কখনো বিচারের আওতায় আনা হয় নি তাই এখন বিদেশি কর্মীদের ওপর, এমনকি মুসলমানদের অন্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে। উপরন্তু যে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার রীতি প্রচলিত সেখানে লেখক, সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের ওপর ভয়াবহ হামলা অপছায়ার মতো ঘুরছে। সমালোচকরা বলেন, যারা হুমকির মুখে রয়েছেন তাদেরকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। উল্টো তারা ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করছে। রাফিদা আহমেদ বন্যা বলেন, প্রথমদিকে এসব হামলা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল সরকার। কিন্তু পরে তারা ব্লগারদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে লেখালেখির ক্ষেত্রে সতর্কতা দেয়। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে তাদেরকে দেশ ছেড়ে যেতে উৎসাহিত করেছে সরকার। তিনি বলেন, তার ওপর হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করা হয় নি। তারা রাজনৈতিক কারণে, কট্টরপন্থি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির বিষয়টি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি আইন বাতিলে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যেন যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানায় সেজন্য তিনি মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এই আইনে ধর্ম নিয়ে সমালোচনামূলক কোন লেখা ইন্টারনেটে প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে। বন্যা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে এই আইনে বেশ কয়েকজন ব্লগার ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে বাংলাদেশে। পেন আমেরিকান সেন্টারের মুক্ত মত প্রকাশ বিষয়ক পরামর্শক কারিন ডুয়েশ্চ কারলেকার বলেন, গত বছর কট্টরপন্থিরা ৮৪ জন ব্লগারের একটি হিটলিস্ট প্রকাশ করে। এ ছাড়া তারা সাংবাদিক ও সুশীল সমাজকে টার্গেট করে। কিন্তু এমন হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা পুলিশ বা সরকার দেয় নি বললেই চলে অথবা দেয়ই নি। তিনি বলেন, কয়েক ডজন ব্লগার জীবন বাঁচাতে এজন্য দেশ ছেড়েছেন অথবা আত্মগোপনে আছেন। এসব হামলার জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থিদের অথবা রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছে। বলা হয়েছে, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এপি লিখেছে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মাহবুব হাসান রাজপথের বিক্ষোভের সময় বেসামরিক লোকজনের ওপর পেট্রল বোমা ছুড়ে মানুষ হত্যার জন্য দায়ী করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলকে। এ কর্মকাণ্ডকে তিনি সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে, লেখকদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেন নি। ওই শুনানিতে ম্যাকগভার্ন বলেন, সমাজকে পরিচালনার জন্য গণতন্ত্র হলো উত্তম পন্থা।

এক লাখ কোটি অলস টাকা নিয়ে বসে আছে ব্যাংক by শওকত হোসেন

দেশের ব্যাংক খাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য আছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। কয়েক বছর ধরে অলস টাকার এই পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
আক্ষরিক অর্থেই টাকা নিয়ে বসে আছে ব্যাংক। কিন্তু ঋণ নিচ্ছেন না শিল্পোদ্যোক্তারা। বাড়ছে না বেসরকারি খাতের ঋণ নেওয়ার হার। দেশে নতুন বিনিয়োগ তেমন হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংকে বাড়ছে অলস টাকার পরিমাণ। দেশে না করলেও উদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগের জন্য দেশের বাইরে যেতে চাচ্ছেন।
অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী, অর্থনীতির গতি বাড়লে ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত তারল্য থাকে না। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে তা হয়তো বলা যাবে না, তবে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গতি কমেছে অর্থনীতির। তারই প্রমাণ হচ্ছে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশে মূলধনের অভাব নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান। অর্থও আছে। কিন্তু দেশে বিনিয়োগের পরিবেশের ঘাটতি আছে। অবকাঠামোর সমস্যা তো ছিলই। নতুন করে গ্যাস পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিনিয়োগ না বাড়ার এখন সবচেয়ে বড় কারণ গ্যাস-সংকট। নতুন করে গ্যাসের সংযোগ আর সরকার দিচ্ছে না। আবার দাম বেশি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।
অলস টাকার পাহাড়: নিয়মানুযায়ী দেশের ব্যাংকগুলোকে নগদ ও বিধিবদ্ধ (সিআরআর ও এসএলআর) বিভিন্ন উপকরণে অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। সব মিলিয়ে এ জন্য রাখতে হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য রাখতে হয় আরও কিছু নগদ অর্থ। অথচ এখন আছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ নগদ অর্থ বেশি আছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্য ছিল প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগ স্থবিরতায় অলস টাকা তিন গুণ বেড়েছে বলেই ব্যাংকাররা জানান।
ব্যাংকে টাকা অলস থাকার বিষয়টি মূলত সরবরাহ-জোগানের ওপর নির্ভর করে। এখন অর্থের সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু চাহিদা নেই। এমনিতেই বিনিয়োগ কম। তার ওপর দেশের উদ্যোক্তারা এখন বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারছে। ফলে ঋণের চাহিদা আরও কমে গেছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান, বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় আমরা ব্যাংকাররা বলতাম তারল্যের সংকটের কথা। এখন অতিরিক্ত তারল্যই বরং সংকটে পরিণত হয়েছে।’
এ পরিস্থিতিতে অর্থ অলস পড়ে থাকায় ব্যাংকের লাভ কমে যাচ্ছে বলে জানালেন মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, লাভ কমলে লভ্যাংশও কম হবে। লাভ কমলে খরচ কমানোর কথাও ভাবতে হয়। পাশাপাশি সরকারেরও রাজস্ব আয় কমছে। ব্যাংকগুলো কিন্তু বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত। করপোরেট কর দিতে হয় ৪০ শতাংশ। ১০০ কোটি টাকা মুনাফা কমা মানেই সরকার পেল না ৪০ কোটি টাকা। মূলত গত বছর থেকেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিনিয়োগের বিদেশ যাত্রা: দেশের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায় দেশের উদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগ করতে চান বিদেশে। দেশের বাইরে বিনিয়োগ করার মতো অর্থ দেশের উদ্যোক্তাদের হাতে আছে বলেও জানালেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তা বিদেশে বিনিয়োগ করার অনুমোদন চেয়েছেন। এর মধ্যে বস্ত্র ও পোশাক খাতের দুলাল ব্রাদার্স (ডিবিএল) ইথিওপিয়ায় কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল করার অনুমোদন পেয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা এখন ইথিওপিয়া ছাড়াও হাইতিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এরই মধ্যে হংকংয়ে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে দাওয়াত করে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ইথিওপিয়াও বিনিয়োগে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোর কথা বলেছে।
এ কে আজাদ প্রথম আলোকে জানান, হাইতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পতম সময়ে পণ্য পাঠানো যায়। সেখানে আছে জলবিদ্যুৎ, যার দাম অনেক কম। আর যে জমিতে শিল্প স্থাপন করা হবে, সেখানকার ভাড়া দিতে হবে না পাঁচ বছর। ইথিওপিয়ার সুযোগ-সুবিধা আরও ভালো। এসব কারণে দেশের উদ্যোক্তারা ওই সব দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ না করে উদ্যোক্তারা কেন অন্য দেশে যেতে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে এ কে আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ক্রেতারা চায় সব ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা যেন পণ্য সরবরাহ করতে পারি। সুতরাং হাইতি বা অন্য কোনো দেশে বিনিয়োগ করলে সরবরাহের দ্বিতীয় একটি উৎস সব সময় খোলা থাকবে। তিনিও মনে করেন, গ্যাস-সংকটই এখন দেশে বিনিয়োগ না হওয়ার বড় কারণ।
প্রবৃদ্ধির ফাঁদ: মূলত, বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সফল হয়নি। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর এখন সেই বিনিয়োগ মাত্র দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগ মূলত বছরের পর বছর একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না বলেই জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারও ৬ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। স্বাধীনতার পর প্রতি দশকে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১ শতাংশ হারে। কিন্তু বিনিয়োগ স্থবিরতায় ১২ বছর ধরে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ঘরেই। এটিকে এখন বলা হচ্ছে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফাঁদ। কেবল বিনিয়োগের অভাবে এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারছে না দেশ।
বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার জন্য সরকার কয়েক বছর ধরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়েছে। এর ফলে ২০০৮-০৯ সময়ে জিডিপিতে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর এখন সেটি হয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। যদিও সরকারি বিনিয়োগের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক।
সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এখন বিনিয়োগের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের যে মাথাপিছু আয়, সে অনুযায়ী এ দেশে বিনিয়োগের হার হওয়া উচিত ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে বিনিয়োগযোগ্য অর্থ থাকলেও তা বিনিয়োগে আসছে না।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিনিয়োগ স্থবিরতার চিত্র পাওয়া যায়। ২০১০-১১ অর্থবছরেও বেসরকারি খাতে ঋণ নেওয়ার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশেরও বেশি। সেটি এখন ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য ছিল সাড়ে ১৫ শতাংশ।
রিজার্ভের যন্ত্রণা: বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও জমছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৬৩৪ কোটি ডলার। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান বৈদেশিক মুদ্রার মজুত রাখার রীতি রয়েছে। কিন্তু দেশে এখন প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান অর্থ মজুত আছে। এই অর্থ ব্যয়েরও পথ পাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ৮৫ শতাংশই এখন বাংলাদেশের বাইরে রাখা আছে এবং এ জন্য বাংলাদেশের আয় হচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে যে ৪৮৯ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে, তার গড় সুদ হচ্ছে ৪ শতাংশ। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকেও তেমন আয় হচ্ছে না।

অর্থ, আধিপত্যের জন্য অশান্ত হতে পারে কারওয়ান বাজার by রোজিনা ইসলাম

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ফুটপাতসহ
সড়কের দুই পাশ ঘেঁষে রাখা হয় গাড়ি। এতে
বাধাগ্রস্ত হয় যান চলাচল ও পথচারীদের হাঁটাচলা।
পেট্রোবাংলা ভবনের সামনের ছবি l প্রথম আলো
রাজধানীতে পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচার অন্যতম বড় কেন্দ্র কারওয়ান বাজার ঘিরে অবৈধভাবে ছোট-বড় ট্রাকস্ট্যান্ড, অবৈধ দোকানপাট, চাঁদাবাজি এবং এসবের ওপর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা সেখানে অবৈধ স্থাপনা করেছে। ইজারার নামে কাঁচাবাজারকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে ফুটপাতে দোকান বসানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ অবস্থায় কারওয়ান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে; এমনকি যেকোনো সময় খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
বেশ কয়েক বছর আগে কারওয়ান বাজার সরিয়ে মহাখালীতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষে৵ সিটি করপোরেশন সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে। এখন ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার ও মহাখালীতে যথাক্রমে আড়ত, খুচরা ও মাছবাজার সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জানতে চাইলে মেয়র আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে আগে হতো খুনোখুনি, এখন হচ্ছে চাঁদাবাজি। শত শত দোকান জবরদখল করা। যেসব দোকান আড়ত হিসেবে ভাড়া দেওয়া, সেগুলোতে লোক ঘুমায়। কিচেন মার্কেটটিতেও ফাটল ধরেছে। মেয়র বলেন, মূলত ট্রাকস্ট্যান্ড ও বাজারকে ঘিরে প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা সেখানে অবৈধ স্থাপনা করেছে। আমরা যে যুদ্ধে নেমেছি এখন প্রয়োজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের সহযোগিতা।’ প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে কারওয়ান বাজারে দোকানিদের কাছে চাঁদাবাজির কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে চাঁদা উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সবজি ও ফলফলাদি গাড়িতে ওঠানো-নামানোর সময় গাড়িপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হন তাঁরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকায় এক বছরের জন্য কারওয়ান বাজারে গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারা নেন। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যানবাহন ভেদে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের কথা। কিন্তু ইজারাদার ২৪ ঘণ্টা ব্যবসায়ী ও চালকদের কাছ থেকে টোল আদায় করছেন। কাজী মোস্তফা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ৩০ জন নেতা-কর্মীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তাঁদের অংশীদার বানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজী মোস্তফা ওরফে কালা মোস্তফা চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখলে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি দুলাল ওরফে বিদেশি দুলাল, কালাম ওরফে লাভলি কামাল, ফারুক বিএসসি ও বিপ্লব গংদের মাধ্যমে চাঁদা উঠিয়ে থাকেন।
তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কখনো মাসিক বাজার করতে ছাড়া কারওয়ান বাজারে যাই না। আমি একটি এতিমখানা পরিচালনা করি।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তা সঠিক।
জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা ছিল যা অনেক আগের। এখন এ রকম হচ্ছে বলে তাঁর জানা নেই।
এসব বিষয়ে তেজগাঁও এলাকার সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে এঁরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজী মোস্তফা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরই একজন কর্মচারী (পিয়ন)। করপোরেশনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে তিনি ইজারার কাজটি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে মেয়র আনিসুল হক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই নিলাম ডেকে পার্কিংয়ের জন্য নতুন ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।’

শীতে লবণ-পানিতে গোসল করুন

গোসল তো আমরা প্রতিদিনই করি। কিন্তু শীতের সময় মাঝেমাঝে অনীহা দেখা দেয়। এই সময়টায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হয়ে থাকে। জানেন গোসল করার ফলে আপনার শরীরের ব্যথা কমতে পারে!
অবাক হচ্ছেন?
শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ে গোসলের মাধ্যমে অনেক ধরনের রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন আপনি। এর জন্য কোনো পার্লারে যাওয়ার দরকার পড়বে না। দরকার শুধু একটু লবণ। অনেকেরই হয়ত জানা নেই, লবণ শরীরে অনেক ব্যধির উপশমে সাহায্য করে। তাই গোসল করার সময় পানিতে বাথ সল্ট ব্যবহার করলেই হবে।
এবার এক ঝলকে দেখে নিন কী কী রোগ উপশমে সক্ষম এই বাথ সল্ট-
১. ত্বকের জন্য ভালো
এই লবণ ত্বকের জন্য খুবই ভালো। পানির মধ্যে এই লবণ মিশিয়ে গোসল করলে ত্বক উজ্জ্বল হবে। এই লবণে থাকে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম যা ত্বকের মধ্যে গিয়ে ত্বকের কোষগুলিকে নতুনভাবে গঠন করে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখবে।
২. ডিটক্সিফিকেশন
উষ্ণ গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে গোসল করলে ত্বকের অতিরিক্ত টক্সিন বেরিয়ে যায়। লবণ কোষের মুখগুলোকে খুলে দেয় যা লবণে থাকা মিনারেলগুলোকে শুষে নেয়। এর ফলে সারাদিনের যত নোংরা সব বেরিয়ে গিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।
৩. কম বয়সী দেখায়
নিজেকে কম বয়সী দেখাতে কে না চায়। কিন্তু পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয় প্রতি মাসে। কিন্তু জানেন বাথ সল্ট দিয়ে স্নান করলে মুছে যাবে ত্বকের সমস্ত বলিরেখা। আসলে এই লবণ ত্বকের ময়েশচার ধরে রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে না।
৪. রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
সারাদিন বাইরে ঘুরে ঘুরে কাজ করার পর বাড়িতে এসে বাথ সল্ট দিয়ে গোসল করলে অনেক বেশি সতেজ লাগবে। লবণ শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে সাহায্য করে যার ফলে ছুঁতে পারে না ক্লান্তি।
৫. বিভিন্ন রোগ নিরাময়
অস্টিও আর্থারাইটিস, নিদ্রাহীনতা, চুলকানি- এই সমস্ত রোগের হাত থেকে নিরাময় পাওয়া যায় এই লবণ পানিতে গোসলের মাধ্যমে।

সিলেটে বর্বরতা সুমির দমবন্ধ ১৫ দিন

‘ও নির্দয়ের মতো আমাকে লোহার রড দিয়ে পেটাতো। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে শরীরের গোপন অংশসহ সবখানে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত বের করে দিতো। ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড় দিতো। ব্যথায় কাতরালে শরীরে প্যাথিড্রিন ইনজেকশন দিতো। এভাবে টানা ১৫ দিন আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে শামীম।’ সিলেটে স্বামীর নির্যাতন থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ সৈয়দ জেরিন আক্তার সুমি ও তার স্বজনরা মানবজমিনের কাছে বর্বর নির্যাতনের বিবরণ দেন এভাবে। সুমি এখন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। কথা বলতে গেলেই জড়িয়ে যায়। আর নির্যাতনের কথা বলতে গেলে শিউরে ওঠেন। বলেন, লোহার রড দিয়ে পেটাতো। লোহার শিকল দিয়ে নির্বিচারে আঘাত করতো। সুঁই ঢুকিয়ে দিতো নখের ডগায়। যখন যন্ত্রণায় ছটফট করতাম তখন স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ফার্মাসিস্ট এনে প্যাথিড্রিন দিতো। প্রায় ১৫ দিন অভুক্ত থাকার পর যখন তাকে পুলিশ উদ্ধার করে তখন মরণপ্রায় অবস্থা। জ্ঞান থাকলেও কথা বলার শক্তি ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে টানা ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা দেয়ার পর এখন কিছুটা কথা বলতে পারছেন সুমি। মঙ্গলবার ইসলামপুরের ৭৫/এ গার্ডেন ভিউ বাসার ফ্ল্যাট থেকে সুমিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয় স্বামী শামীম খানকে। আর এ ঘটনায় রাতেই সুমি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় নির্যাতনকারী স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ। ১১ বছর আগে ইসলামপুর এলাকার শামীম খানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো জকিগঞ্জের সুমির। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর নির্যাতন শুরু করে শামীম। নির্যাতন এড়াতে সুমিকে প্যাথিড্রিন ইনজেকশন দিতো শামীম। তাতেই ক্ষান্ত না হয়ে সর্বশেষ স্ত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ছুরিকাঘাত করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাতো সে। সুমির পরিবারের লোকজন জানান, বিয়ের পর কিছুদিন ভাল কাটলেও এরপর থেকেই সুমির ওপর শুরু হয় নির্যাতন। বিয়ের বছর পূর্ণ হতে না হতেই কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান। তার নাম রাখা হয় তাহনু আক্তার। এভাবে কাটতে থাকে সুমির জীবন। তাহনুর জন্মের তিন বছর পর আরও একটি সন্তান আসে সুমির ঘরে। তার নাম রাখা হয় তাকিব। দুটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়েই ১১ বছর ধরে মুখ বুজে সংসার করছেন সৈয়দা জেরিন আক্তার সুমি। কিছু দিন ধরে স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। স্বামী শামীম খান নির্যাতন ঢাকতে স্ত্রী সুমিকে প্যাথিড্রিন ইনজেকশন দিতে শুরু করে। তাতেই ক্ষান্ত হয়নি শামীম। সর্বশেষ স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। তাহনু ও তাকিব মাকে নির্যাতন না করার জন্য বাবার কাছে আবদার করে। কিন্তু ক্ষুব্ধ শামীম সন্তানদের সামনেই সুমিকে ছুরিকাঘাত করে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। সুমির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে শামীমের বৃদ্ধ মা ফোন দিয়ে সুমিকে যেকোন উপায়ে উদ্ধার করার জন্য জানান। সুমির শাশুড়ির ফোন পেয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশ নিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে তাকে। এ সময় সুমি অজ্ঞান ছিলেন। তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। তার গায়ে ছিল একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। ঘরে পাওয়া যায় প্যাথিড্রিন ইনজেকশনের খালি বোতল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে সুমি হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৬ নং ওয়ার্ডে চিকিসাধীন। নির্যাতিত সুমির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১১ বছর আগে শহরতলীর মেজরটিলা ৭৫-এ ইসলামপুর এলাকার শামীম খানের সঙ্গে বিয়ে হয় জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নং মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সৈয়দ মঈন উদ্দিনের মেয়ে সুমির। মাসখানেক আগে সুমিকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শামীম। পরে সুমির মা ও অন্যদের কাছে শামীম মাফ চাইলে সবাই তাকে ক্ষমা করে সুমিকে তার হাতে তুলে দেন। এরপর থেকেই তার ওপর নতুন মাত্রায় শুরু হয় নির্যাতন। প্রায়ই সুমির ওপর প্যাথিড্রিন ইনজেকশন পুশ করা হতো বলে পরিবারের লোকজন জানান। সুমির মা আলেয়া বেগম বলেন, বড় কষ্ট করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সাধ্যমতো সব দিয়েছি। তাকে এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে আমি তার শাস্তি চাই। মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ওসি নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কাঁঠালবাগানে সড়ক দখল করে ওয়ার্কশপ: বখরা খায় পুলিশ ও চাঁদাবাজ, নিশ্চুপ প্রশাসন

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার প্রায় সকল সড়কই ‘খেয়ে ফেলেছে’ অবৈধ দখলদাররা। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের। এই সড়কে সারি সারি জানালার গ্রিল তৈরির ওয়ার্কশপে দিনের বেলা কাজ করেন শ্রমিকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসীর দাবি, বাংলামোটর থেকে ধানমন্ডি এলাকায় রিকশায় যাতায়াতের একমাত্র এই সংযোগ সড়কটিতে দিনের বেলা এইসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বন্ধ করা হোক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো কাঁঠালবাগান এলাকাই যেন দখলের স্বর্গরাজ্য। পথচারীদের হাঁটার জন্য ফুটপাতে এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। পুরো ফুটপাত জুড়ে অবৈধ দোকানপাট। আবার অনেকে দোকানের সামনে রাস্তার জায়গাও দখল করে বসে আছেন। মোতালেব প্লাজার সামনে থেকে কাঁঠালবাগান ঢাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা। ইস্টার্ন প্লাজার সামনের রাস্তার পাশ দখল করে আছেন ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। হোটেল সুন্দরবন থেকে কাঁঠালবাগান ঢাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অধিকাংশ দখল করে রেখেছে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির গাড়ি। এসব দোকান এবং জায়গা থেকে পুলিশ ও স্থানীয় চাঁদাবাজরা নিয়মিত ভাড়া উঠায় বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকার ভাগ যায় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের পকেটে। এ কারণে প্রশাসনও চুপ থাকে।
পথচারী আবুল হাসান জানান, এখানকার ফুটপাত-রাস্তা কোনোটাই হাঁটার জন্য নয়, মনে হয় ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হয়েছে। যার জন্য মাত্র দুই থেকে আড়াই কিলোমিটারের দূরত্বের এ সড়কটি অতিক্রম করতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।
তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ এখানকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশও। কাঁঠালবাগান মোড়ে দায়িত্ব পালনরত একজন ট্রাফিক পুুলিশ জানান, চলাচলের সুবিধার জন্য এ সড়কে একদিকে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও সুযোগ পেলেই উভয় দিক থেকেই সবাই চলাচল করে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা দখলের বিষয়টি জানালে করপোরেশন সার্ভেয়ার পাঠায়। পরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে উচ্ছেদ করার পর পরই তারা আবার বসে যায়। দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আমাদের পাহারা দেয়ার লোক নেই। যেহেতু বিষয়টি অবগত হয়েছি সেহেতু আমরা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা সরানোর চেষ্টা করব।

ব্যাংকিংখাত নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই: গভর্নর

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় হিউম্যান রিসোর্সেস
অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের
ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
আতিউর রহমান। ছবি: জুয়েল শীল, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এটি এখন যেকোনো ধরনের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে। ব্যাংকিং খাত নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ তখনই বাড়বে, যখন অবকাঠামোগুলোর উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা যতটা দেখছি, বিনিয়োগ যদি যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তাহলে কী করে গত ছয় বছর ধরে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশের মতো হচ্ছে। আমার মনে হয় বিনিয়োগ হচ্ছে সব জায়গা থেকে, সে জন্য চোখে পড়ছে না। আমাদের বিনিয়োগ বাড়ছে কৃষিতে, এসএমইতে, তথ্যপ্রযুক্তিতে, ই-কমার্সে, বিনিয়োগ বাড়ছে নানা কর্মকাণ্ডে। উৎপাদনশীল খাতে কিভাবে আরও প্রবৃদ্ধি আনা যায় সে জন্য আমরা বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছি এবং বাড়াচ্ছি।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, সবুজ আর্থিক খাত হিসেবে সারা পৃথিবীর কাছে আমরা রোল মডেল হতে চাই। সে কারণে যে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানা নিজেদের গ্রিন করতে চেষ্টা করবেন, বায়ো গ্যাস, বায়োপ্ল্যান্ট, সোলার এগুলো নিয়ে কাজ করবেন তাদের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন পাইপলাইন খুলতে যাচ্ছি।
নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা গেছে উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে কোনো তারল্য সংকট নেই। বরং বেশি তারল্য হয়ে পড়েছে বলে আমাদের সমালোচনা করা হয়। ব্যাংক তার কৌশল মতো কাজ করছে। কতটুকু তারল্য রাখবেন, কতটা বিনিয়োগ করবেন, এটি ব্যাংকের বিষয়। এবং ব্যাংক স্থিতিশীল রাখার জন্য তারা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান জোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, প্রকল্প পরামর্শক ইকরামুল হক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল, জনতা ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা করেন, চট্টগ্রামে স্থাপিত হতে যাওয়া এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবিষ্যতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিকমানের এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কারণে দেশের পরিচিতি আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১০ একরের ওপর স্থাপিত এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি মাল্টি পারপাস হল, থিয়েটার সম্মেলন হল, ছোট বড় আটটি সম্মেলন কক্ষ, ২০টি ক্লাসরুম, হোস্টেল, অ্যাপার্টমেন্ট ও ডরমিটরি তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আরও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

ছয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার কোটি টাকা by ফখরুল ইসলাম

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি এখন ৫ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। তিন মাস আগের তুলনায় এ ঘাটতি কিছুটা কমেছে। গত জুনে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ৪৬৫ কোটি টাকা ঘাটতি কমেছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের এ উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের চার বিষয়ে কিছুটা উন্নতির খবরও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে সংরক্ষিত মূলধন, মূলধন পর্যাপ্ততার হার, ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মূলধন এবং মোট ঋণসুবিধার তুলনায় উদ্যোক্তা মূলধনের অনুপাত (লিভারেজ রেশিও)।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন প্রান্তিকের তুলনায় সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চারটি বিষয়ে উন্নতি করেছে দেশের ব্যাংক খাত। একটি বিষয়ে আবার খারাপও করেছে। যেমন একই সময়ে ব্যাংক খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সংরক্ষিত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এই সময়ে ব্যাংক খাতে সংরক্ষিত মূলধনের পরিমাণ ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪৩ কোটি টাকা কম, আগে যা আরও বেশি ছিল।
একই সময়ে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা গত জুনে ছিল ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। তিন মাসে এ হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। অবশ্য গত মার্চে সিআরএআরের হার ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ ছিল। আর লিভারেজ রেশিও সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা জুনে ছিল ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।
যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর লিভারেজ রেশিও থাকার নিয়ম রয়েছে কমপক্ষে ৩ শতাংশ। সে হিসাবে দুটি হারই বেশি আছে। ব্যাংকাররা মনে করছেন, এই হারের উন্নতি দেশের ব্যাংক খাতের জন্য স্বস্তিদায়ক।
যোগাযোগ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতের নেতিবাচক বিষয়গুলো ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেপ্টেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদনটি সেটাই নির্দেশ করছে। ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি আরও কমবে।’
সিআরএআর সংরক্ষণে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৭টি সক্ষমতা দেখালেও নয়টি ব্যাংক পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সিআরএআর সংরক্ষণে নয়টি ব্যাংকের কোনো উন্নতি হয়নি। অর্থাৎ আগের তিন মাসেও এগুলোর অবস্থা একই রকম ছিল। ব্যাংকগুলো হচ্ছে সোনালী, জনতা, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক (বিসিবি), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।
আর লিভারেজ রেশিও সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে ছয় ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে সোনালী, রূপালী, বেসিক, বিকেবি, রাকাব ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে, ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সে হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে তা সংরক্ষণ করতে হবে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত আরও দশমিক ৬২ শতাংশ হারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে তা ছিল ৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদউদ্দিন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে আমাদের বাড়তি টাকার দরকার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সহজে টাকা পেলেও আমরা পাই না।’ অর্থ মন্ত্রণালয়ে টাকার জন্য আবেদন করা আছে বলে জানান তিনি।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সু চির ‘খোলামেলা’ আলোচনা

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে বৈঠকে সু চি। ছবি: রয়টার্স
মিয়ানমারে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে ‘আন্তরিক ও খোলামেলা’ আলোচনা করেছেন সু চি। আজ বুধবার রাজধানী নেপিডোতে এ বৈঠক হয় বলে দেশটির তথ্যমন্ত্রী ইয়ে হতুত জানান। এরপর সু চি সেনাপ্রধান মিন অং হলাইংয়ের সঙ্গেও ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বলে এএফপির খবরে জানানো হয়।
সাধারণ নির্বাচনে গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল নিরঙ্কুশ জয় লাভ করলেও এখনো ক্ষমতা সেনাসমর্থিত সরকারের হাতেই। আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে।
গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে জয়ী হয়।
নির্বাচনে জয়ী হলেও সু চি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কেননা দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, কেউ বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে কিংবা তাঁর সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তাই নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও প্রভাবশালী সেনাপ্রধান মিন অং হলাইংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন এই দুজনই সু চিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাস দেন।
প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও সু চির বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ইয়ে হতুত উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন সরকারের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। এই আলোচনা ছিল আন্তরিক ও খোলামেলা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো ইতিহাস আমাদের নেই। আমরা অব্যর্থভাবে এই ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করব।’
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনজন। নিম্নকক্ষের একজন, উচ্চকক্ষের একজন ও সেনাবাহিনীর মনোনীত একজন প্রতিনিধির মধ্য থেকে পার্লামেন্ট একজনকে প্রেসিডেন্ট এবং অন্য দুজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে।
সেনাবাহিনীর সম্মতি ছাড়া সংবিধান সংশোধন করে সু চির জন্য নতুন কোনো পদও সৃষ্টি করা যাবে না। তবে সু চি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে অনায়াসে সংসদের নেতার পদ অলংকৃত করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন সাজিদা

সাজিদা আক্তার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন সাজিদা আক্তার। আজ বুধবার বিকেলে তাঁর ভর্তি হওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটে ১৩৮১ তম স্থান পেয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি।
পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন ফিকে হতে চলেছিল সাজিদার। গত ২২ নভেম্বর ‘টাকার অভাবে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি’ শিরোনামে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর দেশ বিদেশ থেকে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সাজিদার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। অনেকেই সহায়তা করতে সাজিদার ব্যাংক হিসাব নম্বর চান। কিন্তু হিসাব খোলার মতো টাকাও সাজিদার পরিবারের ছিল না। এ খবর শুনে ধরমপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দুই হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। আর এ টাকাতেই খোলা হয় সাজিদার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
সাজিদার বাড়ি সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে। তিন ভাই আর তিন বোনের মধ্যে সাজিদা পঞ্চম। বাবা মো. আবু তাহের পেশায় দিন মজুর হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন তিনি আর কাজে যেতে পারেন না। মা রাজিয়া খাতুন গৃহিণী। ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে ধরমপাশার জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সাজিদার বড় ভাই আজিজুলের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপার্জন দিয়েই চলছে তাঁদের পাঁচ সদস্যের সংসার।
সাজিদা আক্তারের বড় ভাই আজিজুল বলেন, ‘সংসারের যা অবস্থা, তাতে সাজিদাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো আমাদের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই সম্ভব ছিল না। মানুষজনদের সহায়তার তা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে আর কত দিন চলবে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করানো নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা এখনো শেষ হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে সাজিদা আক্তার বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। সবে আমার স্বপ্ন পূরণে যাত্রা শুরু হয়েছে। আরও অনেক দূর এগোতে হবে। আপনাদের সবার কাছে আমি দোয়া চাই।’
ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজিদা আক্তার অত্যন্ত মেধাবী। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের খরচ মেটাতে কোনো সুহৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে সে নিজের পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সাজিদার নামে ধরমপাশা সোনালী ব্যাংক লিমিটেড শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়েছে। এর সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১০০১০১৫৫৬। এই অ্যাকাউন্টে আগ্রহীরা সাজিদাকে সহায়তা করতে পারবেন।