Monday, May 2, 2011

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব: গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন, কখনোই দেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না। তিনি লিবিয়ার সংকট নিরসনে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। তিনি নতুন করে যুদ্ধবিরতিরও প্রস্তাব দেন। তবে ন্যাটো গাদ্দাফর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
গতকাল শনিবার লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে গাদ্দাফি এসব কথা বলেন। তাঁর ৮০ মিনিটের ভাষণ সরাসরি সম্প্র্রচার করা হয়। ভাষণ শেষে একই টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ভাষণ সম্প্রচারের সময় টেলিভশন ভবনের পাশে ন্যাটো বিমান হামলা চালায়।
এদিকে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ চলছে। লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম মিসরাতার বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমরা এখনো যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু একতরফাভাবে কোনো কিছু হয় না। আমরাই প্রথমে যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু ন্যাটো বাহিনী লিবিয়ার ওপর বিমান হামলা বন্ধ করেনি।’ তিনি বলেন, ‘শান্তি আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে।’ গাদ্দাফি আরও বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী ন্যাটো লিবিয়ার ওপর বিমান হামলা চালাতে ও নৌ-টহল দিতে পারে না। তার পরও এটা করা হচ্ছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র চীন ও রাশিয়া এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় তাঁর বন্ধুরাষ্ট্রগুলোকে ওই প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে সংস্থাটির ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।
গাদ্দাফি বলেন, ‘ন্যাটোর বিমান হামলা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অবরোধের কারণে লিবিয়ার সাধারণ জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। হামলায় দেশের অবকাঠামা ধ্বংস হচ্ছে।’ এই ভাষণে বিদ্রোহীদের প্রতি অনেকটা নমনীয় ছিলেন গাদ্দাফি। বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার জনগণ এক পরিবারের সদস্য। পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা আমাদের উচিত নয়।’ আগের ভাষণেই বিদ্রোহীদের ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়ে গাদ্দাফি বলেন, ‘ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিদ্রোহীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।’
গাদ্দাফি বাহিনীর হামলায় এক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে—এ অভিযোগও নাকচ করে দেন তিনি। গাদ্দাফি অভিযোগকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘নিহত লোকজন কোথায়, খুঁজে বের করুন।’ হামলায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর উদ্দেশে গাদ্দাফি বলেন, ‘আপনারা যদি জ্বালানি তেল চান, আমরা আপনাদের দেশের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করব।’
গাদ্দাফির ভাষণ শেষ হওয়ার পর টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাষণ সম্প্রচারের সময় টেলিভিশন ভবনের পাশের একটি ভবনে ন্যাটো বিমান হামলা চালায়। গাদ্দাফিকে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়। কিন্তু ওই হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এদিকে গাদ্দাফরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ন্যাটো বলেছে, যতদিন লিবিয়ার বেসামরিক লোকজন হামলার হুমকির মুখে থাকবে ততদিন সরকারিবাহিনীর ওপর পশ্চিমাবাহিনীর বিমান হামলা চলবে।
গাদ্দাফির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বিদ্রোহীদের ট্রানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিলের মুখপাত্র আবদেল হাফিজ ঘোগা এক বিবৃতিতে বলেন, গাদ্দাফি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন, সমঝোতার সময় শেষ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের লিবিয়ায় গাদ্দাফি ন্যূনতম ভূমিকা রাখবেন, এটা মেনে নেওয়া হবে না।
লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম মিসরাতার বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণে চার দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের ‘সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন’ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি

সেরা কোকো ফলে যে গ্রামে

ভেনেজুয়েলার একটি গ্রাম চুয়াও। ওই গ্রামের প্রধান যে খোলা চত্বর, নতুন কেউ সেখানে গেলে চোখে পড়বে সুন্দর এক দৃশ্য। মস্ত আঙিনাজুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে রাশি রাশি কোকো ফল। শুকাতে থাকা ফলের ওপর উজ্জ্বল রোদের ঝিলিক একধরনের চপলতা জাগাবে মনে। নবাগত অতিথিকে সামনে পেলে উচ্ছ্বাস দেখা যায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে। জমে থাকা কোকো ফল দেখিয়ে বলে, ‘এই দেখো, বিশ্বের সবচেয়ে সেরা কোকো এখানে।’
কফি আর চকলেটের মূল উৎস এই কোকো ফল। কাকাও বলে পরিচিত একধরনের গাছে জন্মে কোকো। বিশ্বের আরও যেসব দেশে কোকো ভালো জন্মে, তারা সবাই যে ভেনেজুয়েলার গ্রামটির এই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি মেনে নেবে, তা নয়। তবে কোকোর সঙ্গে চুয়াও গ্রামের মানুষের জীবন যে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা, তা অস্বীকার করার জো নেই।
গ্রামটির কোকো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমপ্রেসা ক্যাম্পেসিনা চুয়ার মালিক আলসিদেস হেরেরা। ১৯৭৬ সাল থেকে তাঁরা কোকো উৎপাদন করে আসছেন।
হেরেরা বলেন, ‘চুয়াও গ্রামে জন্ম নিলে কোকো ফলের সঙ্গে বাঁধা পড়বে তাঁর জীবন।’ তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি যখন ওই আঙিনার পাশ দিয়ে গেছি, দমকা বাতাস উঠলে কত কোকো ফল কুড়িয়ে জড়ো করেছি, এর কোনো হিসাব নেই।’
হেরেরা দাবি করেন, ‘আমাদের কোকো ফলই বিশ্বের সেরা। অনেক দেশই এ ব্যাপারে একমত। অনেক বিশেষজ্ঞও তা-ই বলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু কৌশল ব্যবহার করে হাতে কোকো প্রক্রিয়াজাত করি। ৪০০ বছর ধরে তা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়ে আসছে।’
চুয়াও গ্রাম থেকে বছরে ১৮ থেকে ২০ টন কোকো উৎপাদিত হয়, তবে ভেনেজুয়েলায় কোকোর বার্ষিক মোট উৎপাদন ২০ হাজার টন। দেশটির কোকোশিল্প মূলত নারীকেন্দ্রিক। পুরুষেরা বেশির ভাগই নির্মাণ বা উপকূলীয় মৎস্যশিল্পের সঙ্গে জড়িত।

মরিনহোই যেন রিয়ালের মালিক!

রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার পেপের লাল কার্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ হোসে মরিনহো রেফারিকে ব্যঙ্গ করেছেন এবং তারও পরে সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফকে জড়িয়ে বার্সেলোনার প্রতি রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। বার্সেলোনা গেছে উয়েফার দরবারে। পাল্টা হিসেবে রিয়ালও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারস্থ। কিন্তু খোদ রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের ভেতর থেকেই এসবের সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই যে দোষারোপের খেলা, এই যে সম্ভাব্য আইনি লড়াই, এতে স্প্যানিশ ফুটবলেরই ক্ষতি হচ্ছে সামগ্রিকভাবে। যে দেশ বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলে, সেই দেশটির ভাবমূর্তি এতে ভূলুণ্ঠিত হয়। উপলব্ধিটা রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সভাপতি র‌্যামন ক্যালদেরনের।
রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবে আছে ক্ষমতার লড়াই। বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে ক্যালদেরনের দ্বন্দ্বটা অজানা নয়। ক্যালদেরন মনে করেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোচ মরিনহোকে বিপুল ক্ষমতা দিয়েছেন পেরেজ এবং এটি বিপর্যয় ডেকে আনবে ক্লাবের। বার্সেলোনার কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে হারের পর মরিনহো গণমাধ্যমে যেসব মন্তব্য করেছেন, তাতে ক্যালদেরনের মনে হচ্ছে ক্লাবটি তিনিই চালাচ্ছেন! ‘রিয়াল মাদ্রিদে এমনটা হতে পারে না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মরিনহোকে ক্ষমতা দিয়েছেন, মরিনহো যেন ক্লাবের মালিক’—ইউরোপা প্রেসকে বলেছেন ক্যালদেরন।
মরিনহো ক্ষমতার প্রয়োগটা কেমন করছেন সেটিও উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন সাবেক সভাপতি, ‘এমনকি প্রধান নির্বাহী তার (মরিনহো) রুমে যেতে পারেন না। তিনি রুমে তালা লাগিয়ে রাখেন। এসবের শেষটা ভালো হওয়া অসম্ভব। সবকিছুতেই উল্টোপাল্টা এবং কেলেঙ্কারি হচ্ছে। আমি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলাম, তখন এটা কল্পনাই করা যেত না।’
ক্যালদেরনের আরও দুঃখ, এসবের ফল ভোগ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। স্প্যানিশ ধনকুবের মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার কাছে হারের পর মরিনহোর প্রতিক্রিয়াটা যথার্থ ছিল না, ‘মাদ্রিদ একটা বিশাল ক্লাব, যেটি কখনো রেফারিদের ব্যাপারে অভিযোগ তোলেনি। সংবাদ সম্মেলনটা ছিল লজ্জাজনক। ইউনিসেফ ও রেফারি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা ঠিক হয়নি।’

অধিনায়কত্ব ছাড়লেন চিগুম্বুরা

অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন এলটন চিগুম্বুরা। অধিনায়কত্বের চাপ কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের ফর্মের দিকে মনোযোগ দিতে চান। গত বছরের মে মাসে প্রসপার উতসেয়ার উত্তরসূরি হিসেবে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন চিগুম্বুরা। এর পর থেকেই ফর্ম হারিয়ে নিজেকে খুঁজে ফিরছেন এই অলরাউন্ডার।
অধিনায়ক নিজে ফর্মের সঙ্গে ধুঁকতে থাকলে অবধারিতভাবেই এর প্রভাব পড়ে দলের পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হজম করতে হয়েছে তাঁকে।
দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ২০ ম্যাচে। তাতে ৮ জয়ের বিপরীতে হার ১২ ম্যাচে। ক্রিকেটার চিগুম্বুরা আরও বেশি ব্যর্থ। ১২৮ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বল হাতে উইকেট যেখানে ৮১টি, সেখানে অধিনায়কত্বের ২০ ম্যাচে উইকেট মাত্র ২টি! দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে ব্যাট হাতে গড় ২৪.৩৫ হলেও অধিনায়ক হিসেবে গড় ২১.০৬! সর্বোচ্চ ইনিংসটি ৪১ রানের।
অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েই খুঁজে নিতে চাইছেন এর সমাধান, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফিরেই আমি এ নিয়ে ভেবেছি। আমি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গেও পরামর্শ করেছি। কেউ কেউ হয়তো মনে করবেন, আমার থেকে যাওয়াটা উচিত ছিল। তবে অন্যরা আমার সঙ্গে একমতও হবেন, এই মুহূর্তে আমার প্রয়োজন নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়া। অন্য একজন দলকে নেতৃত্ব দিক।’ চিগুম্বুরার ছেড়ে দেওয়া দায়িত্ব উঠতে পারে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা কিংবা ব্রেন্ডন টেলরের কাঁধে।
এদিকে সমালোচনা যতই হোক, পিটার চিঙ্গোকার কাঁধেই থাকছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সেই ১৯৯২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসা চিঙ্গোকা। ২০০৫ সালে হিথ স্ট্রিক, ফ্লাওয়ার ভাইয়েরাসহ জিম্বাবুয়ের সিনিয়র ক্রিকেটারের বিদ্রোহের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিলেন এই চিঙ্গোকা, যিনি স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের খুব ঘনিষ্ঠ।

টেইলরের ব্যাটে রাজস্থানের জয়

রস টেইলরের ব্যাটে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ছয় উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। আজ রোববার অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় এ জয়ের সুবাদে ক্ষণিকের জন্য হলেও আইপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠে গেছে শেন ওয়ার্নের দল।
প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ১৪৩ রান তুলে পুনে। জবাবে টেইলরের অপরাজিত ৪৭ রানের সুবাদে মাত্র চারটি উইকেট হারিয়ে তিন বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে রাজস্থান।
নয় ম্যাচে খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে রোববার পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রাজস্থান। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস উভয় দলের অর্জন ১০ পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে কলকাতা। তবে কলকাতা আটটি ম্যাচ খেলেছে, আর মুম্বাই খেলেছে সাতটি।

মেসির ছোঁয়ায় ফুটবল জাগানোর স্বপ্ন

লিওনেল মেসিদের ঢাকায় এনে তরুণদের ফুটবলে আকৃষ্ট করতে চায় বাফুফে। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলারটি বাংলাদেশে আসা মানে এই ভূখণ্ডে একটা আলোড়ন উঠবেই। সেটিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। মেসিরা ঢাকায় খেলে যাওয়া পর্যন্ত অবশ্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তার আগে, এ মাস থেকেই দেশব্যাপী শুরু হয়ে যাচ্ছে বড়সড় একটা ফুটবল উৎসব—প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লিগ।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফিফা অনুমোদিত আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই উৎসাহ-উদ্দীপনা চলছে বাফুফে ভবনে। ঐতিহাসিক এই সফরের কথা কাল সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বাফুফের পক্ষ থেকে। বাফুফে, পৃষ্ঠপোষক বেক্সিমকো গ্রুপ ও কলকাতার সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের মধ্যে এদিন ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও হয়ে গেল।
এই অনুষ্ঠানেই এ মাস থেকে প্রথমে বিভাগীয়, তারপর কেন্দ্রীয়ভাবে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লিগ করার ঘোষণা এসেছে। প্রস্তুতি, খেলার সরঞ্জামসহ, থাকা-খাওয়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৬৪টি জেলাকেই কয়েক ধাপে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। দেরিতে হলেও এই লিগটা হওয়ায় তৃণমূল ফুটবলে প্রাণ ফিরবে বলে প্রত্যাশা বাফুফের। অনূর্ধ্ব-১৮ লিগটা আগামী পাঁচ বছর পৃষ্ঠপোষণা করার কথাও জানিয়ে দিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ।
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সূচনা বক্তব্যে তাই থাকল খুশির ছোঁয়া, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচটা করছি তিনটি লক্ষ্য সামনে নিয়ে। প্রথমত, ম্যাচটা বাংলাদেশে হলে সারা পৃথিবী শুনবে বাংলাদেশ নামটা। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে তরুণদের ফুটবলে আকৃষ্ট করা যাবে। তৃতীয়ত, এই সফরটিকে আমাদের তৃণমূল ফুটবল উন্নয়নে একটা প্রকল্প হিসেবেই নিচ্ছি।’
মেসিদের বাংলাদেশে আনতে ৩০-৩৫ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলা হচ্ছে। তবে টাকার অঙ্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। দুই দলকে যে টাকা দেওয়া হবে তার ৬৫ শতাংশ আর্জেন্টিনার, বাকিটা নাইজেরিয়ার। অনেকে অবশ্য বলছেন, এত টাকা দিয়ে এই ম্যাচ আয়োজন করে দেশের ফুটবলের লাভ কী?
সালাউদ্দিনের উত্তরে যুক্তি আছে, ‘বাফুফেকে এক টাকাও দিতে হচ্ছে না। বরং বাফুফে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে। এই টাকা তো মেসিদের না আনলে আমাদের কেউ দিত না। তা ছাড়া লাভ হলে পুরো টাকাই বাফুফে পাবে ফুটবল উন্নয়নের জন্য। লোকসান হলে তা বেক্সিমকোরই দায়।’
মেসির আসা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত। চুক্তির অন্যতম শর্তই এটি। ঢাকায় মেসিদের দুটি অনুশীলন সেশন থাকছে। ম্যাচ তো বটেই, অনুশীলন সেশন এবং সংবাদ সম্মেলনও ইএসপিএনে সরাসরি দেখানো হতে পারে। টিভি স্বত্ব থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা আসবে—এটা মোটামুটি নিশ্চিতই। টিকিটের দাম কমপক্ষে ১০ হাজার করার চিন্তা আছে। এই বিষয়গুলো ১০-১২ দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার আশা।
আরেকটি আশার ঘরে বসত গড়ছে বাফুফে—সরকার থেকে ৫ বছরের জন্য পাওয়া সিলেট বিকেএসপিতে ফুটবল একাডেমি চালু করা হবে মেসিদের সফরের মাস খানেক পরই। মাস চারেকের মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ লিগ শেষ করে সেখান থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের একাডেমিতে নেওয়া হবে। এই একাডেমির খরচও চালাবে বেক্সিমকো।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সায়ান এফ রহমানের মুখে ফুটবলের পাশে থাকার ঘোষণা, ‘আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচটা হবে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের একটা ভিত্তিপ্রস্তর। এই সফর আমরা সফল করতে চাই। এবং ভবিষ্যতে ফুটবল উন্নয়নে আমাদের প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত প্রসারিতই রাখবে।’
সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের করপোরেট পরিচালক ভাস্কর গোস্বামি বললেন, ‘আর্জেন্টিনা কলতাকায় খেলছে ২ সেপ্টেম্বর। এই সময় আর্জেন্টিনাকে বাংলাদেশে আনার প্রস্তাব আমরা এখান (ঢাকা) থেকে পেয়ে আগ্রহী হয়েছি।’
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলকেও নাকি কলকাতায় আনছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশেও তখন আসতে পারে ব্রাজিল—এমন গুঞ্জন বাতাসে ভাসতে শুরু করেছে। আর্জেন্টিনা এলে ব্রাজিলের আসাও তো অসম্ভব নয়!

ভারতীয় দলে বিদেশি কোচ ‘লজ্জাজনক’: সাঙ্গাকারা

দক্ষিণ আফ্রিকান গ্যারি কারস্টেনের দায়িত্ব শেষ। মহেন্দ্র সিং ধোনিদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখন জিম্বাবুয়ে বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ ডানকান ফ্লেচারের কাঁধে। এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। কেউ বলছেন, ফ্লেচারকে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হয়নি, কেউবা বলছেন সঠিক সিদ্ধান্ত। ফ্লেচারের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই কুমার সাঙ্গাকারার। তবে তাঁকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক এ অধিনায়ক।
‘অনেক ভালো ক্রিকেটারের জন্ম হয়েছে এখানে। অথচ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যোগ্য কাউকেই পায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এটা ভারতের জন্য লজ্জার’—এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন সাঙ্গাকারা।
নিজের বক্তব্যকে আরও জোরালো করতে সাঙ্গাকারা যোগ করেন, ‘দেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা তারকাদেরকেই কোচ নিয়োগে এগিয়ে রাখা উচিত। ক্রিকেটারদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা স্বদেশি কারও পক্ষেই সবচেয়ে সহজে উপলব্ধি করা সম্ভব।’

শচীনের ওপর চটেছেন ওয়ার্ন!

জয়পুরের সাওয়াই মান সিং স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের উক্তি সহজভাবে নেননি রাজস্থান রয়েলসের অধিনায়ক শেন ওয়ার্ন। রাজস্থান রয়েলসের বিপক্ষে গত শুক্রবার সাত উইকেটে হেরে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। শচীন এর পরপরই মান সিং স্টেডিয়ামের উইকেটের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন।
এ ব্যাপারে ওয়ার্নের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে স্পষ্ট বিরক্তি। তিনি বলেছেন, ‘আমি একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারছি না মুম্বাই কেন স্বীকার করছে না যে তারা ৯৪ রানে অল আউট হয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা তাদের উড়িয়ে দিয়েছি, এটা শচীন কিছুতেই স্বীকার করছে না।’
‘আইপিএলে প্রতিটি উইকেটই যত দূর জানি বিসিসিআইর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়। জয়পুরেও সে দিন বিসিসিআইর গ্রাউন্ডস কমিটির লোকজন ছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা রাজস্থান কিন্তু মুম্বাইয়ের ৯৫ রান তাড়া করেছে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে। আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় তো একবারও মনে হয়নি যে বল ব্যাটে আসছে না।’ ওয়ার্নের মন্তব্য।
এদিকে শচীন টেন্ডুলকার জয়পুরের উইকেট নিয়ে মন্তব্য করার পর বিসিসিআইর একজন কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে উইকেট নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
ওয়ার্ন পুরো ব্যাপারটিকেই বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই উইকেটেই কলকাতা ১৬০ রানের মতো করেছে। মুম্বাইয়ের রান তাড়া করেছি আমরা খুব সহজেই। তার পরও উইকেট নিয়ে কেন এত কথাবার্তা, তা বুঝতে পারছি না।’
শুক্রবারের ম্যাচ নিয়ে ওয়ার্ন বলেছেন, ‘এটা সবাইকে স্বীকার করতেই হবে, সে দিন আমরা দুর্দান্ত বল করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল মুম্বাইকে ১৩০-১৩৫ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলা। কিন্তু আমরা আশাতীত বল করেই মুম্বাইকে ৯৪ রানে আটকিয়ে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখ হচ্ছে, কেউ আমাদের সেই কৃতিত্বটা দিতে চাচ্ছে না।’

আইপিএলের দলগুলো সোনার ডিমপাড়া হাঁস

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিয়ে সবার মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। কৌতূহল দলগুলোর লাভ-লোকসান এবং এতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে। এই যে শাহরুখ খান তাঁর ব্যস্ত শিডিউল ফেলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকছেন, এতে তাঁর লাভ কী? আসলে লাভ তিনি করেই ফেলেছেন আইপিএলে একটি দলের মালিক হয়ে। কিছু টাকা বিনিয়োগ করে তিনি নিজের করে নিয়েছেন একটি সোনার ডিমপাড়া হাঁস। সাফল্য আসুক আর নাই আসুক ওই হাঁস প্রতিনিয়ত সোনার ডিম দিয়ে যাচ্ছে (পড়ুন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা)।
ভারতের একটি প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা কেন্দ্র (আইআইএফএল) সম্প্রতি আইপিএলে অংশ নেওয়া দলগুলোর লাভ-লোকসানের একটি খতিয়ান তৈরি করেছে। যা প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় প্রখ্যাত সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডেতে। গবেষণা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তারা দেখিয়েছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো আসলে কখনোই ক্ষতির মুখে পড়ে না। যে ক্ষতির ব্যাপারটি ঘটে সেটা হলো ‘লাভ কম হওয়া’। এর বাইরে দলগুলোর কোনো ব্যবসায়িক ক্ষতি নেই।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইপিএলের সবচেয়ে ব্যবসাসফল দলের এক মৌসুমে আয় হয় ১০৮ কোটি রুপি। প্রায় ৬৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করে তারা এই পরিমাণ আয় করেছে। অর্থাত্ লাভ ৪৩ কোটি রুপি। অন্যদিকে যে দলটি অপেক্ষাকৃত কম লাভ করে তার অঙ্কটাও নেহাতই মন্দ নয়। তার লাভ ১৮ কোটি রুপি। ৯৫ কোটি রুপি খরচ করে দলটির হাতে আসে ১১৪ কোটি রুপি। লাভ-ক্ষতির পার্থক্যটা কেবল ‘লাভ বেশি হওয়া বা কম হওয়া’র মধ্যেই সীমিত।
আইপিএলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে অন্যান্য রাজস্ব ভাগাভাগি হয় বিভিন্ন অনুষঙ্গ বিচার করে। হতে পারে সেই দলটির খেলোয়াড়দের তারকামূল্য বেশি, হতে পারে সেই দলটির মালিকই বড় একজন তারকা। টেলিভিশন স্বত্ব বাবদ শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস যে অর্থ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাবে, পুনে ওয়ারিয়র্স কিংবা দিল্লি ডেকান চারজার্সের প্রাপ্ত অর্থ নিশ্চয়ই এক হবে না। কারণ টেন্ডুলকারের তারকামূল্য অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি। আইপিএলে সবচেয়ে লাভজনক একটি দল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টেলিভিশন স্বত্ব বাবদ পায় ৬৮ কোটি রুপি। এ ছাড়া তারা কেন্দ্রীয় স্পনসরশিপ থেকে ১১ কোটি রুপি, টিম স্পনসরশিপ থেকে ১৫ কোটি রুপি, স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রি বাবদ ১০ কোটি রুপি, স্টেডিয়ামের বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড থেকে আড়াই কোটি রুপি পেয়ে থাকে। এর পাশাপাশি প্রাইজমানির ভাগ এক কোটি রুপি তো রয়েছেই।
এখন আসা যাক আইপিএলের মোট ব্র্যান্ডমূল্যের আলোচনায়। চতুর্থ আসরে এই প্রতিযোগিতার ব্র্যান্ডমূল্য কমে গেছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার। ২০১০ সালে যেখানে আইপিএলের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সেখানে ২০১১ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্র্যান্ডমূল্যধারী দল হচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। তাদের মূল্য ৫ দশমিক ৭১৩ কোটি ডলার। এর পরপরই রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের অবস্থান। তাদের ব্র্যান্ডমূল্য ৫ দশমিক ৫৩৭ কোটি ডলার। বিজয় মালিয়ার বেঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্সের ব্র্যান্ডমূল্য ৪ দশমিক ৭৫৮ কোটি ডলার। চতুর্থ স্থানে রয়েছে শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআরের ব্র্যান্ডমূল্য ৪ দশমিক ৬০৫ কোটি ডলার।
আইপিএলে ব্র্যান্ডমূল্যের দিক দিয়ে সর্বনিম্ন স্থানে থাকা দুটি দল হচ্ছে শিল্পা শেঠির রাজস্থান রয়েলস ও প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। বিশ্বমন্দা ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অর্থনৈতিক কারণে আইপিএলের চতুর্থ আসর ব্যবসায়িক দিক দিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবারের আইপিএল নিয়ে অনেককেই আশাবাদী করে তুলেছে। ব্র্যান্ডমূল্য কমলেও টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আইপিএলে এবার অনেকটাই বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উইন্ডিজ সিরিজ উজ্জীবনী সুধা: মঈন খান

অনেক বছর পর এই প্রথমবারের মতো সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলকে নিয়ে কারও কোনো প্রত্যাশা ছিল না। স্পট ফিক্সিং, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নানাবিধ বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটকে একেবারেই বিধ্বস্ত করে রেখেছিল। শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলটিও ছিল একেবারেই তারুণ্যনির্ভর। কিন্তু এ তরুণ দলটিই যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল তখন সবাই অবাক বিস্ময়ে তারিফ করেছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে। এ দেশটির ক্রিকেট ঐতিহ্যই তো এমন—টান টান উত্তেজনার অনিশ্চয়তা!
গোটা নব্বইয়ের দশকই ছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের। সে সময় একঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দলটিকে পরিণত করেছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল, ইজাজ আহমেদ ও মঈন খানেরা এখন অতীত। নতুন একটি দলকে গড়ে তোলার সংগ্রামে লিপ্ত এখন দেশটির ক্রিকেট প্রশাসকেরা। সেই স্বপ্নের প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি মঈন খান মনে করেন পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেট প্রজন্ম এক ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। আর এ সময়, যেকোনো সাফল্যই তাদের দুর্দান্তভাবে উজ্জীবিত করবে।
মঈন খান বলেন, চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রতিটি ওয়ানডে ম্যাচে জয় বর্তমান সময়ের হিসেবে দারুণ একটি ফলাফলই। তিনি বলেন, ‘সবাইকে মনে রাখতে হবে পাকিস্তানের এ দলটি খুবই তরুণ। এ দলটিকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জয়গুলো দলটির তরুণদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করবে।’
নিজে উইকেটরক্ষক থাকায় দলের বর্তমান উইকেটরক্ষকদের ওপর একটি আলাদা দৃষ্টিই সব সময় থাকে মঈন খানের। তাঁর মতে, দলের বর্তমান উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ সালমানের জায়গায় নির্বাচকেরা সরফরাজ আহমেদকে নিতে পারতেন। কারণ, ঘরোয়া ক্রিকেটে সরফরাজের পারফরম্যান্স বেশি ভালো।
মঈন খান বলেন, নির্বাচকদের উচিত ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই দলের খেলোয়াড় নির্বাচন করা।’

পাঞ্জাবকে হারিয়ে শীর্ষে মুম্বাই

রাজস্থান রয়্যালস শীর্ষস্থানটা পেয়েছিল গতকাল রোববার। মাত্র এক দিন পরই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ২৩ রানে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা নিজেদের করে নিল শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।
আইপিএলে দিনের প্রথম খেলায় প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে মুম্বাই। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয় অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পাঞ্জাব।
এ জয়ের সুবাদে ৮ ম্যাচ খেলে ৬ জয়ে আজ সোমবার পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা মুম্বাইয়ের অর্জন ১২ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে রাজস্থান রয়্যালস দ্বিতীয় ও ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

সিরিয়ায় ৩০০ বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের শহরতলি সাকবা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনারা। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের পতনের দাবিতে সে দেশে সাত সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। আজ শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন বিক্ষোভকারী জানান, সেনা সমর্থন নিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গতকাল সাকবা থেকে ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ধর্মীয় নেতা রয়েছেন। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক শাখার প্রধান জেনারেল রিয়াদ হাদ্দাদ বলেন, ‘দারায় সফল অভিযানের পর আমরা সেখান থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছি।’
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৬০৭ জন নিহত হয়েছে। প্রায় আট হাজার লোক গ্রেপ্তার বা নিখোঁজ হয়েছে।

কায়রোতে হামাস ও ফাতাহর ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি

অবশেষে ফিলিস্তিনের বিবদমান দুই গোষ্ঠী ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে চার বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান হলো। গতকাল বুধবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে দুই পক্ষ ঐতিহাসিক এক সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে এবং এই অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করবে।
চুক্তিতে ফাতাহর পক্ষে সই করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং হামাসের পক্ষে সংগঠনটির নেতা খালেদ মিশাল। এ সময় জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ সমন্বয়ক রবার্ট সেরি, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল আল-আরাবি ও আরব লিগের প্রধান আমর মুসা উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত তিনজন ইসরায়েলি এমপি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হামাসের নেতা মিশাল বলেছেন, সমঝোতার জন্য হামাস যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। মাহমুদ আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা ‘বিবাদের কালো অধ্যায় চিরদিনের জন্য শেষ করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এখন হয় বসতি স্থাপনের পথ, নয়তো শান্তির পথ বেছে নিতে হবে।
ঐতিহাসিক এ দিনটি উদ্যাপনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখণ্ডে সমবেত হয়। তারা নেচে-গেয়ে, আতশবাজি পুড়িয়ে, হই-হুল্লোড় করে দিনটি পার করে। গাজা ভূখণ্ডে শত শত মানুষ ফিলিস্তিনের পতাকা ও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন লেখাসংবলিত ব্যানার হাতে হাজির হয়েছিল। ব্যানারে লেখা ছিল—‘ফিলিস্তিনিরা বিরোধের নিষ্পত্তি চায়’। এ সময় অনেকে হামাসের সবুজ পতাকাও বহন করে। অনেকে বহন করে ফাতাহর হলুদ পতাকা। অথচ গত চারটি বছর গাজা ভূখণ্ডে ফাতাহ ছিল একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম।
‘এটা সেই দিন, যার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি’—বলছিলেন এক ফিলিস্তিনি। সমঝোতা চুক্তির সমর্থনে যারা গণসমাবেশের আয়োজন করেছিল, তিনি সেই ‘মার্চ ১৫ আন্দোলন’ নামের সংগঠনেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা তরুণদের কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে। অথচ তাদের পেটানো হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
চুক্তির প্রশংসা করে ইবা রাজেক নামের ২০ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেছেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনায় তিনি উচ্ছ্বসিত। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার ও নির্বাচন দেখতে তর সইছে না।’
পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের মানারা স্কয়ার ও পার্লামেন্ট ভবনের সামনে উল্লাস করেছে জনতা। তবে তারা ছিল অনেকটা সাবধানী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্চ ১৫ আন্দোলনের একজন সদস্য বলেছেন, ‘এটা (চুক্তি স্বাক্ষর) ইতিবাচক। তবে এটা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মিশাল ও আব্বাসকে একই কক্ষে আনতে পারাটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কয়েক টুকরো কাগজে সই করা মানেই সমঝোতা নয়।’
মার্চ ১৫ আন্দোলনের ওই কর্মীর মতো দেশটির সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা আল-কুদসও সতর্কতা দেখিয়েছে। পত্রিকাটির শিরোনাম করা হয়েছে—‘শুধু সই নয়, সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়িত হতে হবে’।
দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এই চুক্তির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় সাধারণ ফিলিস্তিনিরা উল্লাস প্রকাশ করলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাতান ভিলনাই বলেছেন, ‘হামাসের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে আব্বাস ভুল করেছেন। তাঁর বোঝা উচিত ছিল, হামাস কেন সমঝোতার পথে আসতে রাজি হয়েছে।’

রাষ্ট্রীয় চার প্রতিষ্ঠানের কাছে রাজস্ব বোর্ডের পাওনা ৫০০ কোটি টাকা

রাষ্ট্রীয় চার প্রতিষ্ঠানের কাছে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং অগ্রিম কর বাবদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব বকেয়া পড়ে গেছে। বার বার তাগাদা সত্ত্বেও এই রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শঙ্কার মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস (আমদানি) থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এই শঙ্কার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোর—এই চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর, সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য কর বাবদ চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রায় ৫০৩ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের বারবার চিঠি দিয়ে বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু তাতে ফল পাওয়া যায়নি। এসব চিঠিতে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বকেয়া পরিশোধ করছে না। একবার সময় পেরিয়ে গেলে আবারও সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তাতেও কাজ হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া পড়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারির কাছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বকেয়ার পরিমাণ ২৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস (আমদানি) থেকে বকেয়া পরিশোধের জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে সময় দেওয়া হয় ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বকেয়া পরিশোধ করেনি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি সেই অপরিশোধিত তেল পরিশোধিত করে বাজারে সরবরাহ করে। ইস্টার্ন রিফাইনারির কাছে জ্বালানি উত্তোলন ও সরবরাহ বাবদ আলোচ্য বিভিন্ন শুল্ক ও কর বাবদ নয় মাসে পাওনা দাঁড়িয়েছে ২৯৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এই প্রতিষ্ঠানটি বছরে গড়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টনের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধিত করে থাকে। এর বিপরীতে প্রতি মাসে রাজস্ব হিসেবে দিতে হয় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে অর্ধেক রাজস্ব পরিশোধ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাস করে। বাকি অর্থই বকেয়া হিসেবে জমেছে।
গত অর্থবছর শেষেও ইস্টার্ন রিফাইনারির ১৫০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি তা ডেফার্ড পেমেন্টের (বিলম্বে পরিশোধ) মাধ্যমে পরিশোধ করে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান মোক্তাদির আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রেতাদের কাছে আমাদেরও অনেক বকেয়া পড়ে আছে। তারা অনেকেই বিল পরিশোধ করেনি। আমরা যে দামে জ্বালানি তেল কিনি, বিক্রি করি তার চেয়ে কম দামে। তাই সরকারের কাছ থেকে অর্থ ও ক্রেতাদের বকেয়া না পেলে এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ করব কীভাবে।’
এদিকে, পিডিবির যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ এ পর্যন্ত বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দেড় শ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পিডিবি কোনো বকেয়া পরিশোধ করেনি।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোর কর্তৃক সরকারিভাবে আমদানিকৃত ওষুধ ও গাড়ি আমদানি বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধের মেয়াদও শেষ হচ্ছে ২৪ এপ্রিল।
আর বিআরটিএর প্রকল্পের গাড়ি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ বকেয়ার পরিমাণ প্রায় আট কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের (আমদানি) কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া প্রথম আলোকে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময়ে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো কারও কাছ থেকে কোনো বকেয়া টাকা পাওয়া যায়নি। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বকেয়া না পেলে এবার চট্টগ্রাম কাস্টম থেকে যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন সম্ভব না-ও হতে পারে।
গোলাম কিবরিয়া আরও বলেন, সাধারণত ডেফার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের বকেয়া পরিশোধ করে। বাজেটের আগে প্রতিবার বকেয়া পরিশোধ করা হয়। কিন্তু তার পরও কিছু অর্থ বকেয়া থাকে।

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে সংশয়ও।
রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি: সামাজিক অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় গতকাল শনিবার বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা আরও বলেছেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের শাস্তি দিতে না পারলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। ইতিপূর্বে পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এ প্রতিবেদন দিয়ে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অজয় রায়। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ ড. আর এম দেবনাথ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, রঙ্গলাল সেন, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং দ্য ডেইলি সান-এর সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সদস্য হারিচ উদ্দিন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেইন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা বাড়বে। বিরোধী দল একে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে লাগাবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, শেয়ারবাজারের ঘটনা শুধু কেলেঙ্কারিই নয়, তার চেয়ে অনেক বড় কিছু; যার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অনেক দীর্ঘস্থায়ী। এখানে একটি বড় ধরনের লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষিত বেকাররা পুঁজি খাটিয়ে মুনাফা আয়ের লক্ষ্যে শেয়ারবাজারে আসেন। কিন্তু তাঁরা এসে পুঁজি হারিয়েছেন। ফলে শাসকশ্রেণীর প্রতি তাঁদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে পরবর্তী নির্বাচনে।
আর এম দেবনাথ বলেন, শেয়ারবাজার তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন কিছু নেই। এর অনেক কিছুই আগে পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রতিবেদন থেকে মামলা করা সম্ভব নয়। কেননা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে গেলে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ লাগবে। প্রতিবেদনে তেমন কোনো প্রমাণের উল্লেখ নেই। এসব কারণেই ’৯৬-এর কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও বিচার করা যায়নি।
আর এম দেবনাথ আরও বলেন, প্রাথমিক বাজারে যে লুটপাট হয়েছে, তাতে সরকারের সম্মতি ছিল। আর শেয়ারবাজার কারসাজিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। এই মহলটির সুনির্দিষ্টভাবে তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে তাঁরা সব সময়ই সংঘবদ্ধ। যখন যে সরকার আসে, ওই সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁরা সম্পদ হাতিয়ে নেন।
এম এম আকাশ বলেন, শেয়ারবাজারে একশ্রেণীর লোক নিঃস্ব হয়েছেন। তবে একশ্রেণীর লোক লাভও করেছেন। তাঁর মতে, যাঁরা লাভ করেছেন, তাঁদের করদাতা শনাক্তকরণ (টিআইএন) নম্বর বের করে ওই লাভ আয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। এ ক্ষেত্রে ওই লাভের ওপর কর বসানো যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এম এম আকাশ প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে লাভ কী? কারণ, এর ফলে যাঁরা টাকা হারিয়েছেন, তাঁরা টাকা ফেরত পাবেন না। যাঁরা বাজার থেকে টাকা লুটে নিয়েছেন, তাঁরাও টাকা ফেরত দেবেন না।
রঙ্গলাল সেন বলেন, পুঁজিবাজার হলো অনুমানের জায়গা। এখানে যেমন লাভ আছে, তেমনি লোকসানও আছে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনায় অল্পসংখ্যক লোক লাভবান হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারি পুঁজিবাদী অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রচলিত বাজারব্যবস্থায় এ কেলেঙ্কারি ঠেকানো মুশকিল।

পুঁজিবাজারে আজ কমেছে সূচক ও লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ সোমবার নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও দিন শেষে সাধারণ সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ওঠানামা থাকবে। তবে খুব বেশি সূচক বাড়া বা খুব বেশি সূচক কমা বাজারের জন্য খারাপ লক্ষণ। এই দিক থেকে বিবেচনা করলে আজকের অবস্থা অনেকটা বাজারের জন্য সহনীয়। তা ছাড়া পুঁজিবাজারের কারসাজি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার হলেও অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী এখনো বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। ফলে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সূচক ৪০ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর সূচক একাধিকবার ওঠানামা করে। তবে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫৯.৪৬ পয়েন্ট কমে ৫৯৯১.৩৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ ডিএসইতে ৫০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫৭ কোটি টাকা কম।
আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২২৭.৯৫ পয়েন্ট কমে ১৬৭১৩.২০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৩৯টির, কমেছে ১৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে দুই কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, আরএন স্পিনিং, ডেসকো, এনবিএল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইউসিবিএল, বিএসআরএম স্টিল, ফু-ওয়াং ফুডস ও আফতাব অটো।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া আরএন স্পিনিং, ফু-ওয়াং ফুডস, পঞ্চম আইসিবি, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ব্যাংক ও রেনেটা দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে ইউএলসির শেয়ারের দাম। এ ছাড়া বিডি ফিন্যান্স, আজিজ পাইপস, এমবি ফার্মা, শাইনপুকুর সিরামিকস, কে অ্যান্ড কিউ, মুন্নু স্টাফলার, ঝিলবাংলা, আরামিট লিমিটেড ও বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রডস দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।

পুঁজিবাজার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ একটি ইতিহাস

শেয়ারবাজারের কারসাজি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশকে একটি ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এটিকে প্রশংসিত কাজ হিসেবে মনে করছেন অনেকে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছেন অনেকে। তবে ছোট অপরাধীদের ধরতে গিয়ে বড় অপরাধীরা যাতে পার পেয়ে না যায়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
গত বছরের ডিসেম্বর ও এ বছরের জানুয়ারিতে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে কমিটি গত ৭ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
অবশেষে গতকাল শনিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, দেরিতে হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বিষয়টি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন সময়ের ব্যাপার। তাই তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিলে ভালো হতো।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক বা না হোক প্রতিবেদন প্রকাশে আশার আলো দেখছি।’ তাঁর মতে, তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখার বিষয়টি একটি ইতিহাস। তিনি দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন। তাঁদের বিচার না হলে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার কারসাজির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় একটি বিতর্কের অবসান ঘটল। গোটা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ইতিহাস অনেক কম, যা রীতিমতো একটি সাহসী পদক্ষেপও।
আহসানুল ইসলাম প্রতিবেদনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন। তবে মূল ইস্যু থেকে যাতে দূরে সরে না যাওয়া হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার ব্যাপারে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আরও অধিকতর তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
বিও হিসাবধারীদের টিন নম্বর বাধ্যতামূলক করার ব্যাপারে আহসানুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক হিসাবের মতো বিও হিসাবও একই ধরনের হওয়া উচিত।

২৭ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৭টি কোম্পানি আজ সোমবার শেয়ার হোল্ডারদের জন্য পৃথকভাবে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিগুলো হলো—আরামিট সিমেন্ট, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, কে অ্যান্ড কিউ, ইবনে সিনা, গোল্ডেন সন, রংপুর ফাউন্ড্রি, রেনেটা, বিডি থাই, মুন্নু স্টাফলার, সিএমসি কামাল, আরামিট লিমিটেড, এমবি ফার্মা, কেপিসিএল, বিচ হ্যাচারিজ, সোনারবাংলা ইনস্যুরেন্স, প্রভাতী ইনস্যুরেন্স, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, বেক্সটেক্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, ইনটেক অনলাইন ও ফেডারেল ইনস্যুরেন্স।
আজ ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আরামিট সিমেন্ট শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও ১:১ রাইট শেয়ার, কে অ্যান্ড কিউ পাঁচ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, ইবনে সিনা ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, গোল্ডেন সন ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, রংপুর ফাউন্ড্রি ২১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, রেনেটা ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বিডি থাই ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, মুন্নু স্টাফলার ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, সিএমসি কামাল সাড়ে ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, আরামিট লিমিটেড ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, এমবি ফার্মা ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, কেপিসিএল ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, বিচ হ্যাচারিজ ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, প্রভাতী ইনস্যুরেন্স ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স ২৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও ৪:১ রাইট শেয়ার, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, বেক্সটেক্স ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকস ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, বেক্সিমকো ৫০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, বেক্সিমকো ফার্মা ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ, ইনটেক অনলাইন ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ও ফেডারেল ইনস্যুরেন্স ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

মে দিবস-শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি চাই

শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগ্রামের প্রতীকী দিন হিসেবে আবার এসেছে পয়লা মে, মহান মে দিবস। আজ থেকে ১২৫ বছর আগে ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রশক্তির নিষ্ঠুর নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। সংগ্রামের সেই স্মৃতি বাংলাদেশের শ্রমিকেরাও বুকে ধারণ করেন, প্রতিবছর উদ্যাপন করেন দিবসটি। শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি আর শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই দিবসে যেন নবায়িত হয়। আর বর্তমানের বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দিনটি পালিত হয়। দুঃখের বিষয়, ১২৪ বছর আগে শিকাগোর শ্রমিকেরা যেসব দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন, আজও সেসব দাবির অনেক কিছু এ দেশে পূরণ হয়নি। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষকে ন্যায্য মজুরি, কার্যক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সদাচরণসহ ন্যূনতম মানবিক পরিবেশের দাবিতে এখনো রাজপথে আন্দোলন করতে হয়। আজও তাঁরা অনেক মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।
শ্রমিকদের মজুরি, কর্মঘণ্টা, কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে মে দিবসের পথ ধরেই। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কেও মালিকশ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসব ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে এমন কথা বলা যায় না। গত দুই দশকে বিশ্বায়নের ফলে আমাদের দেশেও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি একইভাবে ঘটেনি। বিশেষত তৈরি পোশাকশিল্প ও ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা যায়নি। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারও সর্বক্ষেত্রে স্বীকৃতি পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে গঠনমূলক সংঘবদ্ধ চরিত্র হারিয়েছে। কৃষিশ্রমিক, গৃহশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালকসহ বহু খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের শ্রমিকের স্বীকৃতি মেলেনি। নারী ও শিশুশ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অধিকাংশ শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরির বিধান নেই। যেখানে আছে সেখানেও সম্পূর্ণভাবে তার বাস্তবায়ন নেই। যেসব শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলোতে মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রমিকদের স্বার্থ ও কল্যাণের দিকটি অবহেলা করে জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ ও শিল্প-কারখানা লাভজনকভাবে টিকে থাকা পরস্পরের পরিপূরক। মহান মে দিবসে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন।

জাপানের ভূমিকম্প দুর্গতদের জন্য বিরল বেহালা নিলামে

জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামিদুর্গত মানুষের সহায়তায় তহবিল গঠনের জন্য একটি বিরল স্ত্রাদিভারিয়াস বেহালা আগামী জুনে লন্ডনে নিলামে তোলা হচ্ছে। জাপানের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন মিউজিক ফাউন্ডেশন এ নিলামের আয়োজন করেছে।
টোকিওভিত্তিক নিপ্পন ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ১৭২১ সালে তৈরি ‘লেডি ব্লান্ট’ নামের ওই বেহালাটি ২০ জুন নিলামে তোলা হবে। বিখ্যাত কবি লর্ড বায়রনের নাতনি লেডি অ্যান ব্লান্ট একসময় বেহালাটি কিনেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, যে কয়টি স্ট্রাডিভারিয়াস বেহালা সংরক্ষিত আছে, তার মধ্যে এ বেহালাটি সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। ২০০৮ সালে বেহালাটি নিপ্পন ফাউন্ডেশন কিনে নেয়।
ইতালির বেহালা প্রস্তুতকারক গুণী শিল্পী আন্তনিও স্ত্র্রাদিভারির তৈরি আরও অনেক বেহালা নিলামে লাখ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে গতকাল শনিবার জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেশটির ভূমিকম্প ও সুনামিবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনের জন্য চার হাজার ৮৫০ কোটি ডলারের একটি জরুরি বাজেট পাস করা হয়েছে।

‘পুরোপুরি আধ্যাত্মিক নেতার’ দায়িত্ব পালন করবেন দালাই লামা

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, ভারতে তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লবসাং সাঙ্গের কাছে ‘আইনসংগত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব’ হস্তান্তরের পর তিনি ‘পুরোপুরি আধ্যাত্মিক নেতা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গতকাল শুক্রবার জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহত ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত এক প্রার্থনা সভায় সভাপতিত্ব করার পর দালাই লামা এ কথা বলেন।
দালাই লামা বলেন, ‘আমি এখন আমার আইনসংগত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর অর্থ এই নয় যে আমি দালাই লামার পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
লবসাং সাঙ্গে তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার দুই দিন পর দালাই লামা এ মন্তব্য করলেন।

তাইওয়ানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তাইওয়ানে নতুন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল শনিবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমে এসেছিল। একজন বিক্ষোভকারী জানায়, জাপানে সম্প্রতি পরমাণু দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে তারা এ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা সূর্যমুখী ফুল ও হলুদ ব্যানার হাতে নিয়ে তাইওয়ানের বিভিন্ন শহরে মিছিলে অংশ নেয়। তাদের মতে, সূর্যমুখী ফুল পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস ও প্রতীক।
বিক্ষোভ আয়োজকদের প্রধান সুই শু সিন জানান, সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয় রাজধানী তাইপেতে। এতে দেশের চতুর্থ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়, বর্তমান তিনটি কেন্দ্রের কার্যকাল না বাড়ানোর।
জাপানের ফুকুশিমায় গত ১১ মার্চ ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির পর তাইওয়ানে পরমাণু স্থাপনা বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ওই ভূমিকম্পে জাপানের ফুকুশিমা শহরের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে। ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয়া।

এমন ভয়াবহ দুর্যোগ আর দেখিনি: ওবামা

এমন ভয়াবহ দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি। এটি হূদয়বিদারক।’ গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টুসকালোসায় ঘূর্ণিঝড়-দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
গত বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। এতে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০ জনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে ভয়াবহতার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে।
সেনা ও উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা নিখোঁজ মানুষ ও লাশের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দুর্গত লোকজনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। টুসকালোসায় তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যে সহায়তার বেলায় কেউ উপেক্ষিত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে শুধু আলাবামাতেই ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। ২০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ১০ লাখ লোক এখনো বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইকিউইসিএটি জানায়, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ে ১০ হাজারের মতো স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া ২০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় আলাবামায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পারমাণবিক বিপর্যয় এড়াতে কেন্দ্রটি আরও কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখা হতে পারে।
এর আগে ১৯২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হয়। ওই ঝড়ে ৭৪৭ জনের মৃত্যু হয়। তৃতীয় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টি হয় ১৯৩২ সালে। এতে প্রাণহানি ঘটে ৩৩২ জনের।

মাওবাদীদের দমনে রাস্তার কুকুর!

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের দমনে এবার রাস্তার কুকুর ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে চারটি কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। কুকুর চারটির নাম দেওয়া হয়েছে তেজা, সেল্লি, হেনা ও রলি।
জানা গেছে, এত দিন ভূমিমাইন নিষ্ক্রিয় করতে ল্যাব্রাডর ও জার্মান শেফার্ড-জাতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করছিল পুলিশ। তবে বিদেশি কুকুরকে টেক্কা দিতেই রাস্তার কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য নিষ্ক্রিয় করার কাজে এসব কুকুর ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে পুলিশের প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক কমে আসবে।
ছত্তিশগড়ের কাঁকের জেলার ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড জাঙ্গল ওয়েলফেয়ার কলেজ’ বা সিটিজেডব্লিউ কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সিটিজেডব্লিউর পরিচালক ও কুকুর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার প্রধান রূপকার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার বি কে পনওয়ার বলেন, রাস্তার কুকুর সব ধরনের পরিবেশ মানিয়ে নিতে পারে। বিরূপ আবহাওয়া বা পরিবেশের কারণে এরা ক্লান্ত হয় না। এ কারণেই রাস্তার কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তালেবানের সম্পৃক্ততা পায়নি ন্যাটো

আফগান বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলটের গুলিতে আট বিদেশি সেনা ও একজন মার্কিন ঠিকাদার নিহত হওয়ার ঘটনায় তালেবান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পাইলট একাই ওই ঘটনা ঘটান। গতকাল শনিবার ন্যাটোর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত বুধবার কাবুলে বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ওই বিদেশি সেনা হত্যার ঘটনা ঘটে। পেন্টাগন জানিয়েছে, হামলায় নিহত সেনাদের বেশির ভাগই মার্কিন বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন ছিলেন বিমানবাহিনীর মেজর ও একজন লে. কর্নেল।
ন্যাটোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তের এ পর্যায়ে তালেবানের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই সাবেক পাইলট একাই সম্পৃক্ত ছিলেন। কী কারণে তিনি ওই হামলা চালান, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তালেবানের সম্পৃক্ত থাকার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
আফগান বিমানবাহিনীর গণসংযোগ বিভাগের প্রধান কর্নেল মোহাম্মদ বাহাদুর রায়েসখেইল জানান, বিমানবাহিনীর সাবেক ওই পাইলট (৪৫) প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, আফগান এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামলাকারী কোনো সন্ত্রাসী দলের সদস্য নন, কাবুলের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
হামলার পর এএফপিকে মুঠোফোন থেকে টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে তালেবান জঙ্গিরা এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।
উল্লেখ্য, গত মাসেও এক আফগান পুলিশ প্রশিক্ষণ মিশনে থাকাকালে গুলি করে দুই বিদেশি সেনাকে হত্যা করেন। বিগত বছরগুলোতেও আফগান বাহিনীর হাতে বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে আবারও সংঘর্ষ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে আবারও দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে নয় দিন ধরে এই সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোর ন্যামহোং গতকাল হেগ থেকে দেশে ফিরে নমপেন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অস্ত্রবিরতির বিষয়ে দুই পক্ষের মতৈক্যের পরও থাইল্যান্ডের সেনারা রাতে এবং সকালে আমাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মনে হচ্ছে, প্রতিপক্ষের ওপর আস্থা রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন।’ প্রিয়া বিহার মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার মালিকানার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালতের ১৯৬২ সালের রায় স্পষ্ট করার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়ে এসেছেন তিনি।
গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষের সত্যতা থাইল্যান্ডের সেনারাও নিশ্চিত করেছেন। তবে দুই পক্ষে অস্ত্রবিরতির বিষয়ে মতৈক্য হয়নি বলে দাবি করেছে থাইল্যান্ড। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার দুই পক্ষের কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি।
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরিন প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্তে তা মোয়ান ও তা ক্রাবেই মন্দিরসংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় গত ২২ এপ্রিল থেকে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সংঘাতপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে ইতিমধ্যে অন্তত ৮৫ হাজার গ্রামবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তা ক্রাবেই এলাকার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৯০০ বছরের পুরোনো প্রিয়া বিহার মন্দির অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়।

সিবিআইকে প্রভাবমুক্ত থেকে কাজের আহ্বান মনমোহনের

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (সিবিআই) সব ধরনের ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে সংস্থাটির নতুন একটি সদর দপ্তর উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে সংস্থার হাতে থাকা উচ্চপর্যায়ের মামলাগুলো দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তিরও আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এতে মনমোহনের ‘মি. ক্লিন’ ভাবমূর্তিতেও কিছুটা চির ধরে। কেন্দ্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা ভারতের দ্বিতীয় প্রজন্মের ফোনের লাইসেন্স বরাদ্দ ও কমনওয়েলথ গেম-সংশ্লিষ্ট দুটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি মামলা তদন্ত করছে। এই প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি সিডব্লিউজি অর্গানাইজেশন কমিটির সুরেশ কালমাদি ও টুজি মামলায় সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজাকে গ্রেপ্তার করে। স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও মনমোহন পরোক্ষভাবে এসব মামলার কথাই আলোচনা করেন।
মনমোহন বলেন, সিবিআই বর্তমানে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জনগণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মামলাগুলো সংস্থাটির জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজব্যবস্থা মুক্ত। সব ইস্যুতেই এখানে অনেক মত ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সিবিআইকে এগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। কিন্তু সঠিক ও সত্যকেই গ্রহণ করতে হবে। দ্রুততার সঙ্গে এসব উচ্চপর্যায়ের মামলা যেমন নিষ্পত্তি করতে হবে, তেমনি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও ৭১টি বিশেষ আদালত বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টির জন্য বরাদ্দও হয়ে গেছে। বাকি ১৬টির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। তাঁর সরকার সিবিআইকে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও চাপমুক্তভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকবল, অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও সংস্থাটিকে দেওয়া হবে।
সিবিআইয়ের নতুন সদর দপ্তরটির জন্য ১৮৬ কোটি রুপি ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ১১ তলাবিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণ করছে।

সৌদি গণমাধ্যমের ওপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ

সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ গণমাধ্যমের ওপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়।
গত শুক্রবার জারি করা ডিক্রি অনুযায়ী গণমাধ্যমগুলো ইসলামি শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে না। এ ছাড়া বিদেশি স্বার্থের অনুকূলে যায় কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি দুর্বল করতে পারে—এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ডিক্রি অনুযায়ী প্রকাশকদের বস্তুনিষ্ঠতা ও গঠনমূলক সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে যায়। খবরে আরও বলা হয়, আইন ভঙ্গকারীদের সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রিয়াল বা এক লাখ ৩৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হতে পারে।
খবরে বলা হয়, আইন অমান্যকারী ব্যক্তির কোনো গণমাধ্যমে কাজ করার ওপর আজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের গণমাধ্যম সরকারের কড়া তত্ত্বাবধানের মধ্যে রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর মালিকেরা হয়তো ক্ষমতাসীন আল-সৌদ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অথবা ওই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

ইরাকে বোমা বিস্ফোরণে সন্তানসহ বিচারক নিহত

ইরাকে গতকাল শনিবার জঙ্গিদের পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে এক বিচারক ও তাঁর এক সন্তান নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বিচারকের স্ত্রী ও আরেক সন্তান গুরুতর আহত হন। দেশটির পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
বাগদাদের ২৫ কিলোমিটার উত্তরে তাজি এলাকায় বিচারক তুয়ামা আল-তামিমির বাড়ির চারপাশের কয়েকটি স্থানে বোমা পেতে রাখে জঙ্গিরা। বোমা বিস্ফোরণে বাড়িটি উড়ে যায়। এতে বিচারক ও তাঁর এক সন্তান নিহত হন। কিন্তু তাঁর পরিবারের আর কোনো সদস্য নিহত হয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা রকম খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণে বিচারক তাঁর স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত হয়েছেন। এদিকে বিচার বিভাগীয় মুখপাত্র আবদেলসাত্তার জানান, বিচারক তামিমি তাঁর তিন সন্তানসহ নিহত হয়েছেন।

রাজকীয় বিয়ের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে...

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বলিভিয়ার এক নবদম্পতিকে দেশটির রাজধানী লা পাজে ব্রিটিশ দূতাবাসে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সংবর্ধনা। একই দিনে বিয়ে করায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিগেল বাকের তাঁদের এ সংবর্ধনা দেন।
২৯ এপ্রিল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে এমন কয়েকটি জুটির সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করেন রাষ্ট্রদূত। পরে ভোটের মাধ্যমে এক দম্পতিকে বিশেষ সংবর্ধনার জন্য নির্বাচন করা হয়। সৌভাগ্যবান এই বর হলেন ফ্যাবিয়ানা রিভেরা ও কনে আলেজান্দ্রো অ্যান্তেজানা। রাষ্ট্রদূত গাড়ি পাঠিয়ে তাঁদের দূতাবাসে আনার ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁদের রাজকীয় বিয়ের প্লেট উপহার দেওয়া হয়। শ্যাম্পেইন দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা তো ছিলই।
এ আয়োজনে বিস্ময় প্রকাশ করেন নবদম্পতি। তাঁরা বলেন, ‘আজ আমরা খুবই খুশি। তবে উইলিয়াম-কেটের বিয়ের তারিখের সঙ্গে আমাদের বিয়ের তারিখ মিলে যাওয়া কাকতাল মাত্র। আমরা বিষয়টি জানতামই না।’
দূতাবাসে বিশেষ এই আয়োজনের কারণ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত নিগেল বলেন, ‘আমি দেখাতে চেয়েছি, এটি (উইলিয়াম-কেটের বিয়ের অনুষ্ঠান) একই সঙ্গে মানবিক ও জাতীয় উৎসব।’

নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল গড়ছে মুসলিম ব্রাদারহুড

মিসরের নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড গতকাল শনিবার রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশটির পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অংশ নিতে দল গঠন করতে যাচ্ছে তারা।
সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ হুসেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলনের উপদেষ্টা পরিষদ নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দলের নাম হবে ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস। আমরা পরিষদের নির্দেশিত পথে দলের আকার ও কার্যক্রম নির্ধারণ করেছি। দলের প্রধান হবেন ব্রাদারহুডের পোলিট ব্যুরো সদস্য মোহাম্মদ আল-মুরসি। দলটি সংগঠন থেকে পুরোপুরি আলাদা হলেও ব্রাদারহুডের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবে।

‘শান্তি প্রতিষ্ঠায়’ পদত্যাগ করতে প্রস্তুত হানিয়া

ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় হামাস আন্দোলনের নেতা প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, শান্তির জন্য তিনি পদত্যাগ করতে রাজি।
একই কথা জানালেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও। তিনি বলেছেন, ‘হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে আমি আমার পদত্যাগপত্র জমা দিতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘সমঝোতা চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভেদ নিরসনে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টিতে তাদের উৎসাহিত করতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও নির্বাচন অনুষ্ঠানে হামাস ও ফাতাহ গত বুধবার কায়রোতে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তি অনুযায়ী, মিসরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে এবং এই সরকারই এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে মতৈক্যের পর ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদ আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে জাতিকে একত্রীকরণ করার পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য তাদের নিজেদেরই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১৯৬৭ সাল থেকে দখল হওয়া সব অঞ্চল নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।
বিগত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। হামাস ২০০৭ সাল থেকে দেশটির একাংশ গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। অপর অংশ পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করছে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ।

শিগগিরই নয় মধুচন্দ্রিমা

বিয়ের পালা শেষ। এবার মধুচন্দ্রিমা। সংগত কারণেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের নবদম্পতির অগণিত ভক্ত-অনুরাগীর কৌতূহল এখন এদিকে। চারদিকে এখন ফিসফাস, হাজারও প্রশ্ন—মধুচন্দ্রিমা যাপনে কোথায় যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন?
এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার তাঁদের সেন্ট জেমসেস প্যালেস কার্যালয় থেকে জানানো হয়, শিগগিরই মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছেন না এই নবদম্পতি। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সপ্তাহ একান্তে কোথাও কাটাবেন উইলিয়াম ও কেট। তারপর ভবিষ্যতে কোনো একসময় তাঁরা মধুচন্দ্রিমায় যাবেন।
রাজকীয় বিমানবাহিনীর পাইলট প্রিন্স উইলিয়ামের দুই সপ্তাহের ছুটি শেষ হতে আর দেরি নেই। ওয়েলসের অ্যাঙ্গেলসি দ্বীপে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ছুটি শেষে তাঁকে ফিরে যেতে হবে সেখানে। কাজেই উইলিয়াম ও কেটের মধুচন্দ্রিমা যাপনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে স্রেফ ধোঁয়াশা।
তবে সহসা মধুচন্দ্রিমায় না গেলেও রাজপরিবারের নবদম্পতির এখন সময় কাটছে আনন্দ-ফুর্তির ধুমে। বিয়ের প্রথম রাতে বাকিংহাম প্রাসাদে নৈশভোজ ও নাচের উৎসবে যোগ দেন তাঁরা। এতে তাঁদের কাছের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্য মিলে অন্তত ৩০০ জন অংশ নেন।
উৎসবে সাদা গাউন পরে যোগ দেন কেট। রাত তিনটা পর্যন্ত উৎসব চলে। কেটের বিয়ের পোশাকের মতো ওই গাউনেরও নকশাকার ছিলেন সারাহ বার্টন। উৎসবের আগে উইলিয়ামের বাবা প্রিন্স চার্লসের আয়োজনে নবদম্পতিকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
গতকাল সকালে হেলিকপ্টারে করে বাকিংহাম প্রাসাদ ছেড়ে যান কেট ও উইলিয়াম। রাজপরিবারের একজন মুখপাত্র প্যাডি হারভারসন জানান, ওয়েলসেই উইলিয়াম ও কেটের স্থায়ীভাবে থাকার কথা। সেটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এই মুহূর্তে উইলিয়াম কিন্তু সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নন। উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি দ্বিতীয় সারিতে আছেন। তিনি রাজকীয় বিমানবাহিনীর একজন সদস্য। সেটাই তাঁর আসল কাজ।’
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়েতে শুভকামনা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একজন মুখপাত্র এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সারা জীবন তাঁরা সুখে-শান্তিতে থাকুন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অভিনন্দন।’

বিয়ের দিন আট স্তরের কেক কাটেন তাঁরা

বিয়ের দিন ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন আট স্তরের ধবধবে সাদা বিশাল এক কেক কাটেন। সেই কেক দিয়ে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের আপ্যায়িত করা হয়।
গত শুক্রবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেসে যান উইলিয়াম ও কেট। সেখানে ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে সমবেত ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন দুজন। তারপর একটুখানি বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ মেলে তাঁদের, তবে সেখানেও ছিল পরিকল্পিত আনুষ্ঠানিকতা। উইলিয়াম ও কেট তখন যান প্রাসাদের পিকচার গ্যালারিতে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখানে উইলিয়ামের দাদি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের আমন্ত্রণে ৬৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে আট স্তরের কেক কাটেন উইলিয়াম ও কেট।
প্রাসাদের কর্মকর্তারা জানান, অনুষ্ঠানটিতে প্রধান রাজকীয় বাবুর্চি মার্ক ফ্ল্যানাগানের নেতৃত্বে ২১ জন বাবুর্চির একটি দল অতিথিদের জন্য রকমারি সুস্বাদু খাবারের বিশাল আয়োজন করে। তবে এর মধ্যে মধ্যমণি ছিল বিখ্যাত কেক নির্মাতা ফিওনা কেয়ার্নসের (৫৬) তৈরি আট স্তরের কেকটি। গত ফেব্রুয়ারিতে কেয়ার্নসকে এই কেক তৈরির ফরমাশ দেওয়া হয়। এটি তৈরি করতে তাঁর পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগেছে।
সাদা ক্রিম দিয়ে মোড়ানো এই কেকে ৯০০টি ফুল ছিল, যা ‘ডেলিকেট সুগার-পেস্ট ফ্লাওয়ার’ বলে পরিচিত। রাজপরিবারের নবদম্পতির কল্যাণে শুভকামনার সুপ্ত প্রতীক হিসেবে এসব ফুল ব্যবহার করা হয়। নতুন ডিউক ও ডাচেস অব কেমব্রিজ উভয়ই কেয়ার্নসের ফ্রুটকেকের দারুণ ভক্ত।
১৭টি পৃথক ফ্রুটকেক দিয়ে কেকটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ভিত গড়তেই লেগেছে ১২টি কেক। বাকিংহাম প্যালেসে সাংবাদিকদের কেয়ার্নস বলেন, ‘পিকচার গ্যালারি উঁচু ছাদের বিশাল ঘর। সাজসজ্জায় এটি বেশ জমকালোও বটে। কাজেই সেখানে সৌন্দর্য ফোটাতে কেকটি রংচং করতে চাইনি। আমার এ সিদ্ধান্ত কাজে লেগেছে।’