Tuesday, November 12, 2013
সরল গরল- বিচার প্রশাসনের নির্বাচনী সাজ by মিজানুর রহমান খান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শহীদের উত্তরাধিকার- আজও পরাজিত নূর হোসেন! by ফারুক ওয়াসিফ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিপাইনে ত্রাণের জন্য হাহাকার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতালের আগুন- অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় রোগী-স্বজন-চিকিৎসক by শেখ সাবিহা আলম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বিএনপি সন্ত্রাসী দল, এরা মানুষের জাত না’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শচীন দেব বর্মণের আদি নিবাসটি রক্ষা করুন by সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

চর্থার রাজপ্রাসাদেই গড়ে উঠেছিল সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারার এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র। সেখানে আসতেন আলাউদ্দিন খান, হিমাংশু দত্ত ও অন্যান্য দিকপাল। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অনেকবার এসেছেন এ রাজপ্রাসাদে এবং গান গেয়েছেন শচীন দেবের সঙ্গে।
১৯৩১ সালে তার বাবা তদানীন্তন ত্রিপুরার প্রধানমন্ত্রী নবদ্বীপ মৃত্যুবরণ করেন। শচীন দেব ইচ্ছা করলে ত্রিপুরা বা কুমিল্লায় ফিরে এসে একটি উচ্চ রাজপদে অধিষ্ঠ হয়ে রাজপ্রাসাদেই আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে পারতেন। কিন্তু সঙ্গীত পাগল শচীন দেব সেসব প্রলোভন উপেক্ষা করে সঙ্গীতের কঠিন জীবন বেছে নেন। কলকাতায় ছোট একটি ঘর ভাড়া নেন। কিন্তু তার সঙ্গীত জীবনে প্রবেশটা মসৃণ ছিল না। তদানীন্তন সর্ববৃহৎ রেকর্ড প্রস্তুতকারী কোম্পানি এইচএম ভির অডিশনে ফেল করেন শচীন ১৯৩২ সালে। কারণ তার কণ্ঠস্বর ও গানের সুর নাকি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যাখ্যাত হয়েও শচীন সাধনা চালিয়ে যান ও সার্থক হন। ওই বছরই হিন্দুস্তান মিউজিক্যাল প্রডাক্টস বের করে শচীনের প্রথম রেকর্ডকৃত দুটি গান- পল্লীগীতির আদলে গাওয়া ‘ডাকিলে কোকিল রোজ বিহানে’ ও ঠুমরী অঙ্গের রাগপ্রধান গান ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়’। গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
শচীন দেব ১৯৪৪ সালে বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) পাড়ি দেন বিখ্যাত বাঙালি চিত্র পরিচালক শশধর মুখার্জির আমন্ত্রণে। তার সুরারোপিত গান ‘মেরা সুন্দর স্বপ্না বীত গ্যায়া’ তদানীন্তন বলিউডে বিশাল সাড়া জাগায়। গানটির শিল্পী ছিলেন ফরিদপুরের গীতা রায় (পরে দত্ত)। একের পর এক হিট গানের সুরকার শচীন দেব অত্যন্ত কম সময়ে নিজকে অধিষ্ঠিত করেন মুম্বাই ফিল্ম জগতের এক দিকপাল হিসেবে। পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত হন ১৯৬৯ সালে। তিনি শ্রেষ্ঠ গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ডজনখানেক।
কিংবদন্তী গায়ক শচীন দেবের অনেক ভক্ত ছিলেন সারা উপমহাদেশে। তাদের মধ্যে একজন তার প্রিয় নাতির নামকরণ করেন তার প্রিয় গায়কের নামে। নাতিটি ক্রিকেট জগতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার।
কুমিল্লা থেকে হাজার মাইল দূরে বোম্বে গিয়েও শচীন দেব বাংলাদেশকে ভোলেননি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গান গেয়ে আমাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেন এবং উদ্বাস্তুদের জন্য সাহায্য তহবিল গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে তার লেখা ‘তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’ গানটির মধ্য দিয়ে উজাড় করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতি তার সব ভালোবাসা। যার শেষ পঙ্ক্তিটি ছিল ‘বাংলা জনম দিলা আমারে, তোমার পরান, আমার পরান, এক নাড়িতে বাঁধারে। মা-পুতের এই বাঁধন ছেঁড়ার সাধ্য কারো নাই, সব ভুলে যাই তাও ভুলি না, বাংলা মায়ের কোল।’
গভীর পরিতাপের বিষয়, শচীন বাবু বাংলাদেশকে না ভুললেও আমরা তাকে ভুলে গেছি। বছর কয়েক আগে সস্ত্রীক কুমিল্লায় বেড়াতে গিয়েছিলাম পুত্রবধূ ডেনা ও নাতি ফয়সালকে নিয়ে। কুমিল্লা আমার প্রিয় শহর। পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের জেলা প্রশাসনের ট্রেনিং নিতে এ শহরে আমার প্রথম পোস্টিং হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। এ শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাকে আজও মোহিত করে।
চর্থার শচীন দেব বর্মণের বাসভবনটি দেখতে গিয়েছিলাম। পাকিস্তানি আমলে তার প্রাসাদসম বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় এবং তা মিলিটারি গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বাংলাদেশ আমলে প্রথমে পশু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে এবং বর্তমানে হাঁস-মুরগির খামার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীঘি দুটিতে মাছের চাষ হচ্ছে। খামারের সরকারি ভবনটি শচীন দেবের আদি রাজপ্রাসাদটি প্রায় ঢেকে ফেলেছে। সেই ভবনটি পেছন দিক দিয়ে অতি কষ্টে ঢুকে এক জরাজীর্ণ প্রাসাদসম বাড়ির ভগ্নাংশের সামনে দাঁড়াই। মনে হচ্ছিল যুগযুগের অবহেলা ও অযত্নে বাড়িটি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে। ভবনটির বুকে পাথরের শিলালিপিতে লেখা আছে তার গৌরবময় নাম ও পরিচয়। লেখা আছে কবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এখানে এসেছিলেন ও গান গেয়েছিলেন শচীন দেবের সঙ্গে। সারা দালানটি ঘিরে রেখেছে জঙ্গল ও হাঁটু সমান উঁচু উঁচু ঘাস।
আমাদের জাতীয় দৈন্য ও উদাসীনতা দেখে রাগেদুঃখে চোখে পানি আসছিল। সারা কুমিল্লা শহরে কি হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারের জন্য আর কোনো জায়গা ছিল না? এ প্রাসাদসম অট্টালিকা কি সারানো যায় না? এটাকে শচীন দেবের স্মৃতিভবন হিসেবে গড়া যায় না? শুধু এই ভবনটিকে পুঁজি করে কুমিল্লাকে গড়া যেত উপমহাদেশের এক বিখ্যাত সঙ্গীত কেন্দ্র ও প্রদর্শনশালা হিসেবে। মুম্বাই ও কলকাতার সিনেমা জগতের দিকপালরা আসতেন তাকে শ্রদ্ধা জানাতে। প্রতিবছর ১ অক্টোবর লোকগানের এক আন্তর্জাতিক জলসা বসানো যেত এখানে।
সেই রাতে কুমিল্লায় ভালো ঘুম হয়নি। বারবার মনে হয়েছে, আমাদের জতীয় দৈন্য ও উদাসীনতা কি এতটাই অপরিমেয়? নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা কি এতটাই অক্ষম? সরকার ও কুমিল্লাবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন এবং গড়ে তুলুন শচীন স্মৃতি সঙ্গীতভবন আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য। সেটাই হবে আমাদের সুযোগ্য সন্তান শচীন দেবের প্রতি আমাদের যোগ্য সম্মান।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সর্বত্র একই প্রশ্ন- দেশ কোন পথে? by তারেক শামসুর রেহমান

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দুই নেত্রীর ওপর- এটা অস্বীকার করা যাবে না। এটা বাস্তবতা। কিন্তু লন্ডনের বহুল পঠিত ও গ্রহণযোগ্য নিউজ ম্যাগাজিন ‘দি ইকোনমিস্ট’ দুই নেত্রীর ফোনালাপকে যখন ‘বৃথা’ ও ‘স্রেফ ঝগড়া’ কিংবা বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘পুতুল নাচে’র সঙ্গে তুলনা করে, তখন আমার মাথা হেট হয়ে যায়। দুই নেত্রীর মধ্যকার আলাপের বিষয়বস্তু হওয়া উচিত ছিল নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে, সেখানে অতীত টেনে আনা উচিত হয়নি। একজন অপরজনকে অভিযুক্ত করার প্রবণতাও ভালো নয়। এ দেশের মানুষ জানে কে কতবার হরতাল দিয়েছে। এখন একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা বর্তমান সংকট নিরসনে আদৌ কোনো ভূমিকা রাখবে না। ঢাকায় এসে সংবাদপত্রে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভায় বলেছেন, আলোচনার পথ খোলা আছে। আবার বেগম জিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দু’দলের মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপের প্রস্তাব করেছেন। তাহলে কোথায় সেই ‘আলোচনা’ বা ‘সংলাপ’? দু’দল কি তাদের নিজেদের স্বার্থের বাইরে যেতে পারছে? আমি যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি অজস্রবার।
আসলে আমাদের জাতীয় নেতাদের মনমানসিকতায় যদি পরিবর্তন আনা না যায়, তাহলে সমস্যা যা আছে, তাই থেকে যাবে। আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে এটাও লক্ষ্য করেছি, সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, ‘খালেদা দুর্বৃত্তপনার আশ্রয় নিয়েছেন’ (যায়যায়দিন, ৪ নভেম্বর)। প্রধানমন্ত্রী যখন স্বয়ং সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রীকে এভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখা কতটুকু যৌক্তিক তা আমার মাথায় আসে না। প্রবীণ জাসদ নেতা মাঈনুদ্দিন খান বাদলের একটি বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন সংবাদপত্রে (বাংলামেইল ২৪ ডটকম)। তাতে বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘হু ইজ শি, কুলাঙ্গার নেত্রী’। বেগম জিয়া কে, সমাজে, রাজনীতিতে তার অবস্থান কোথায়, জনাব বাদলের তা অজানা নয়। এভাবে একজন জাতীয় নেতা সম্পর্কে অভদ্রজনিত মন্তব্য বেগম জিয়াকে নয়, বরং জনাব বাদলকেই খাটো করেছে। জনাব বাদল প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন, তাও আবার তার নেতা হাসানুল হক ইনুর মতো নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে। জাসদের ‘মশাল’ মার্কায় তিনি বিজয়ী হননি। মধ্য ষাটের দশকের এই প্রবীণ নেতা শিক্ষিত। তিনিই যদি বিরোধীদলীয় নেত্রী সম্পর্কে অভদ্রজনিত শব্দ ব্যবহার করেন, তা কি পরোক্ষভাবে তার কর্মীদের উৎসাহিত করবে না এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে! আসলে আমাদের রাজনীতিকরা একটা বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে আছেন। পরস্পরকে ঘৃণা করা, বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করে অভদ্রজনিত শব্দ ব্যবহার করা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক মন্ত্রীও এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন। এতে করে তাদের মর্যাদা বাড়ে না। বিদেশে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় না। বেগম জিয়াকে ‘কুলাঙ্গার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জনাব বাদল কাউকে কাউকে খুশি করে থাকতে পারেন, কিন্তু নিজের নামের প্রতি তিনি সুবিচার করেননি। তার শিক্ষা, তার সংস্কৃতির প্রতি তিনি অবিচার করেছেন।
ঢাকার সংবাদপত্রগুলোয় এখন খবর একটাই- একটি সর্বদলীয় সরকার হচ্ছে, যেখানে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিএনপি যে ক’টি মন্ত্রণালয় চায়, যে মন্ত্রণালয় চায়, তা তাদের দেয়া হবে। কিন্তু সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়া তো বড় কথা নয়- বড় কথা ও মূল কথা হচ্ছে, সর্বদলীয় সরকারের প্রধান কে হবেন? মন্ত্রীদের কথায় তো এটা স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনাই হচ্ছেন এ সরকারের প্রধান। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজে কখনও বলেননি, তিনি এ দায়িত্বটি নেবেন না। মূল সমস্যাটা তো এখানেই। তিনি একটি দলের প্রধান। তিনি যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হোন, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা কোথায়? কারা সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকবেন, তাদের নামধামও পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। আমু, তোফায়েল, মেনন, ইনুর নাম পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তারা কি নিরপেক্ষ? তারা মন্ত্রী হবেন, আবার নির্বাচনও করবেন- সেই নির্বাচন কি নিরপেক্ষ হবে? তারা এক একজন হাইপ্রোফাইল নেতা। মন্ত্রী হলে প্রটোকল নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। এতে করে কি পরোক্ষভাবে তিনি বা তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করবেন না? দলীয় লোকদের নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী একটা কথা প্রায়ই বলেন, তিনি সংবিধানের বাইরে যাবেন না। এটা ভালো। কিন্তু সংবিধান তো বাইবেল নয় যে তাতে পরিবর্তন আনা যাবে না। এর আগের এক লেখায় আমি উল্লেখ করেছি, জাতির বৃহত্তম স্বার্থে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতার স্বার্থে অনেক দেশেই একটি নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের সংসদীয় ইতিহাসের একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে, এখানে ক্ষমতাসীন দল নানা প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ফলাফলকে তাদের অনুকূলে নেয়ার চেষ্টা করে। দলীয় সরকারের অধীনে যখনই নির্বাচন হয়েছে, তখনই এ প্রবণতা বেড়েছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনের ‘কিছু ঘটনার’ পুনরাবৃত্তি হতে আমরা দেখেছি পরেও। মাগুরা উপ-নির্বাচনের দৃষ্টান্ত দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমান জোট সরকারের আমলে ভোলার উপ-নির্বাচনে কী হয়েছিল, তা সংবাদপত্র সাক্ষ্য দেয়। তাই আমু-তোফায়েল-মেনন কিংবা ইনুর মতো হেভিওয়েট নেতাদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে না। বরং এটা পরিণত হবে মহাজোট সরকারের ক্ষুদ্র সংস্করণে। তাতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। এর বাইরে ক্ষুদ্র দলগুলোর (যেমন সিপিবি, বাসদ ইত্যাদি) প্রতিনিধিত্বও যদি থাকে, সে ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠবে- যেখানে প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, অনির্বাচিতদের দিয়ে গঠিত সরকার তিনি মেনে নেবেন না, সেখানে এসব ছোট ছোট দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব কোথায়? বিএনপিকে সর্বদলীয় সরকারে নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। বলা হয়েছে, বিএনপিকে দুটি কিংবা তিনটি মন্ত্রণালয় দেয়া হবে। এটা কি হাস্যকর ব্যাপার নয়! দুটি বা পাঁচটি মন্ত্রীর জন্য কি বিএনপি বা ১৮ দল আন্দোলন করছে! কোনো কোনো মহল বিএনপিকে ভেঙে ফেলার যে অলিক চিন্তা করছে, তা কতটুকু সফল হবে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বিএনপির অনেক নেতার নামও আসছে, যারা ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে সংগঠিত হতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম। মূলধারার বাইরে গিয়ে কেউই সফল হতে পারেনি।
‘রাজনীতির বল’টা এখন সরকারের কোর্টে। সরকার যদি চায় বিএনপিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে মাইনাস করতে, তাতে সরকার সফল হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু এতে সমস্যার সমাধান হবে না। নির্বাচন একটা হবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে। নতুন একটি মহাজোট সরকারের রূপই আমরা দেখব নির্বাচনের পর। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা সরকারকে গ্রহণ করতেই হবে এবং আমার ধারণা ‘একতরফাভাবে’ যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার বয়স হবে দু’বছর এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের একটি স্থায়ী রূপ পাব। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি স্থায়ী রূপ দরকার। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক- কাদের নিয়ে এ সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। সরকার প্রয়োজনে একটি কমিশন গঠন করতে পারে, যারা সরকারকে মতামত দেবেন। তবে এটা নিশ্চিত, ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধানকে রেখে যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’, তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই এমন একটি ‘কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করা দরকার, যাদের কাজ হবে তিন মাসের মধ্যে জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া। কীভাবে এটা করা যায়, কীভাবে একে সংবিধানের অংশ করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প ভাবনা আসতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ করা, সিইসি তথা নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই প্রক্রিয়া একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে করা, তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা, সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের নিয়ে এই কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা, একটি গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি নানা ভাবনা আসতে পারে। মূল বিষয় একটিই- একটি দলনিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা, যারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে। রাষ্ট্রপতি কিংবা স্পিকারের কথা ভাবনায় থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে উভয়েই দলীয়ভাবে নির্বাচিত। স্পিকার আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তাহলে তিনি কি নিরপেক্ষ? রাষ্ট্রপতি এখন আর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে কি তিনি থাকতে পেরেছেন? নিরপেক্ষ একটি কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তা এ কারণেই।
দুই নেত্রীর ফোনালাপের তিক্ততার পর আদৌ সংলাপ হবে বলে আমার মনে হয় না। তাই সরকার বড় ধরনের একটি ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি’ সামনে রেখেই এগোচ্ছে। দু’দফা ৬০ ঘণ্টার হরতালের পর এখন ৮৪ ঘণ্টার হরতাল চলছে। এটা সত্য, এতে করে ১৮ দলের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। কিন্তু হরতালে সহিংসতা বেড়েছে। হরতালে কোনো নেতা ‘প্রাণ’ হারাননি। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন সাধারণ মানুষ, যারা জীবিকার জন্য, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় বের হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই আমাকে বলেছেন, তারা আর বাংলাদেশের চলমান রাজনীতির ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। অনেকেই এখন আর বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন না। এক ধরনের হতাশায় পেয়ে বসেছে প্রবাসীদের। চার মাস আগে যখন দেশ ছেড়েছিলাম তখন যে পরিস্থিতি ছিল, আজ তাতে এতটুকুও পরিবর্তন আসেনি। বরং ‘রাজনৈতিক ঘৃণা’, ‘রাজনৈতিক তিক্ততা’, ‘ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার স্পৃহা’ আরও বেড়েছে। যদি ‘সমঝোতা’ না হয়, যার সম্ভাবনাই বেশি, তাহলে সরকারকে একটি বড় ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি’ নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এতে জাতির কতটুকু মঙ্গল হল, সে প্রশ্ন থেকেই গেল।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষমতার চেয়ে জনগণ বড় by ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলবেন, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দল তো এ স্লোগান প্রায়ই প্রচার করে বেড়ায়- ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। কিন্তু দেশের চেয়ে যে তাদের কাছে নিজেদের স্বার্থ বড় এবং দেশ ও জনগণের চেয়ে প্রকৃতপক্ষে সেটাই সবসময়ই বড় করে দেখা হয়, তা কিন্তু মোটেও প্রচার করা হয় না। এটা শুধু ওই রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই নয়; বরং অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি সত্যিকার অর্থেই জনগণের জন্য, জনগণের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করে? নিশ্চয় নয়। যদি তাই করত, তাহলে ওই সব রাজনৈতিক দলের হাতে এদেশের জনগণকে বারবার জিম্মি হতে হতো না, জনগণকে বারবার বলির পাঁঠা হতে হতো না।
গত ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের হরতাল শেষ হতে না হতেই আবারও ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নভেম্বর হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বাংলাদেশ হরতালের দেশ হতে চলেছে। বস্তুত হরতাল যেন এদেশের সংস্কৃতিতে নতুন এক মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে। একটি সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, এ দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ লোকই হরতাল পছন্দ করেন না। তা সত্ত্বেও জনগণকে বারবার হরতালের কালো থাবার কবলে পড়তে হচ্ছে। হরতাল যেন এ দেশের জনগণের কাছে ভাগ্যদেবীর এক ‘আশীর্বাদ’। এটি বিভিন্ন সংগঠনের দাবি আদায়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি মাধ্যম এবং তা একটি গণতান্ত্রিক অধিকারও বটে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে হরতালের কারণে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর যে দীর্ঘস্থায়ী কুপ্রভাব পড়ছে, তা সামাল দেয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের দেশের আছে কি? হরতালের কারণে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নয়ন-অগ্রগতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, বিনিয়োগ কার্যক্রম নিরুদ্যম হয়ে পড়ছে। হরতালের কারণে এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সমাজসহ সবাই এখন রীতিমতো বিষিয়ে উঠেছেন। হয়ে পড়েছেন উদ্বিগ্ন। হরতাল আহ্বানকারীরা এদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কথা না ভেবেই বারবার হরতাল আহ্বান করছেন।
হরতালে দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা পড়ছেন সেশনজট নামক কালো থাবার কবলে, যা তাদের জীবনে বয়ে আনছে অপূরণীয় ক্ষতি। এটা সব গণতান্ত্রিক দেশেই স্বীকৃত যে, রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ সবদিক থেকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর উল্টোটি হচ্ছে।
দেশে বারবার হরতালের কারণে বাধাগ্রস্ত হয় মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড। হরতাল পঙ্গু করেছে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রকে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজসহ সব রাজনৈতিক দলের দ্রুত সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। প্রয়োজন দাবি আদায়ে হরতালের বিকল্প কোনো পন্থা খুঁজে বের করা। সবাই মিলে হরতালকে ‘না’ বলার ব্যাপারেও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের স্মরণ রাখা প্রয়োজন, যে দল হরতাল আহ্বান করে দেশে অস্থিশীলতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, এর কুপ্রভাব পরবর্তী নির্বাচনে ওই দলের ওপর পড়ে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এটাও বোঝা উচিত, জনগণ এখন আর বোকা নয়। তারা যে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ তারা ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভালোভাবেই দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। দেশ-জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তথা আমাদের সবার প্রিয় এ দেশটির সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতির পথকে সুগম করতে সব দলেরই হরতাল পরিহার করা উচিত। এখন সময় এসেছে দেশকে এগিয়ে নেয়ার। হরতালের কারণে এ দেশটি সবদিক থেকে পিছিয়ে যাক, এমনটি কারও কাম্য হতে পারে না। দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই একসঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু : বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস); অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনগণকে আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে by ফরহাদ মজহার

এর মধ্যেও শেখ হাসিনা ভোটের দাওয়াত দিচ্ছেন, ভোট চাইছেন। ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে তিনি ভোট চাইতে পারেন কিনা এই প্রশ্ন কোনো গণমাধ্যম তুলেছে দেখিনি। বলাবাহুল্য, আঠারো দলীয় জোট আরও কঠোর কর্মসূচি দিয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি, হরতাল তখন চলছে। রাজনৈতিক বিভাজন দেশকে নিশ্চিত সংঘাতের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে এর পরিণতি কী দাঁড়াবে তা আন্দাজ করা মুশকিল। তবে ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছে অনেক আগেই। এর বিপরীতে আঠারো দলীয় জোটের পক্ষে গণসমর্থনের জোর কতটুকু তা গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বের কারণে বোঝা মুশকিল। তবে ক্ষমতাসীনদের প্রতি সমর্থন যে কমেছে সেটা নানান জরিপে আগেই প্রকাশিত। উদার রাজনৈতিক পরিমণ্ডল বজায় থাকলে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপিই ক্ষমতায় আসত তাতে সন্দেহ নেই। ক্ষমতাসীনরা সে কারণেই সংবিধান বদলিয়েছে এবং দমন-পীড়ন এমনভাবে চালাচ্ছে যাতে বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব হয়।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক ইস্যুর মীমাংসা করার হিসাব আলাদা। সে ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হতে হলে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে ধারণ করতে হবে। যদি শেখ হাসিনা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রত্যাখ্যান করে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পথে চলে যান, তাহলে এই দাবির আর কোনোই উপযোগিতা নাই। সংলাপের রাজনীতির কফিনে শেখ হাসিনা শেষ পেরেকটি মেরে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতাদের গ্রেফতার করে। খালেদা জিয়ার অরাজনৈতিক ব্যক্তিগত সহকারীকে গ্রেফতার করার রাজনৈতিক অর্থ সুস্পষ্ট। খালেদা জিয়া গৃহে অন্তরীণ নাকি মুক্ত এই প্রশ্ন এখন প্রধান জিজ্ঞাসা। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মৃত লাশের কফিন গোরস্থানে বহন করে যাওয়ার অধিক রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে না। গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে জয়ী হতে হলে গণতান্ত্রিক দাবি-দাওয়া সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্নভাবে হাজির করা দরকার। খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় জোটের সামনে এটাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা ধারণ করতে পারে সেই দাবি-দাওয়া কেমন হতে পারে? সে ব্যাপারে আলাদাভাবে আলোচনা জরুরি। তবে কয়েকটি বিষয় জনগণের কাছে স্পষ্ট। জনগণের প্রথম ও প্রধান গণতান্ত্রিক দাবি হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপরীতে নাগরিক ও মানবিক অধিকার সংবলিত একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সংবিধান ও গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র। এর জন্য দরকার ইসলাম-বিদ্বেষী রাজনীতি জনগণকে যেভাবে বিভক্ত ও বিষাক্ত করেছে, রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে জনগণের মধ্যে সেই বিভক্তির নিরসন। বিশেষ বিশেষ আত্মপরিচয়ের সামাজিক পরিমণ্ডলের ঊর্ধ্বে জনগণের মধ্যে নাগরিক চেতনার উন্মেষ ঘটানো। যাতে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিগঠন মজবুত হতে পারে।
দুই.
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। ক্ষুদ্র দেশ চতুর্দিকে বৈরী রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকলে চরিত্রের দিক থেকে এই ব্যবস্থা গণপ্রতিরক্ষার চরিত্র পরিগ্রহণ করে বা করতে বাধ্য। এই ব্যবস্থার আরেকটি নীতি বা দর্শন হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক জনগণের সঙ্গে মৈত্রীর চর্চা। এই মৈত্রী জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি। দিল্লির আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার অর্থ ভারতের কিংবা মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক জনগণের বিরোধিতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য এই মৈত্রীর চর্চা জরুরি। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে পরাশক্তির নিরন্তর হস্তক্ষেপ বা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান অবশ্যই জরুরি। কিন্তু দিল্লির প্রশ্ন এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হচ্ছে দিল্লি পরিষ্কারই জানিয়ে দিয়েছে যে শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় আবার প্রত্যাবর্তন করুক, তারা তাই চায়। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম মূলত দিল্লির আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামেরই নামান্তর। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।
জনগণের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আকাক্সক্ষা হচ্ছে, জীবন-জীবিকা ও সামাজিক ইনসাফ নিশ্চিত করা। শ্রমিকদের ন্যূনতম আট হাজার টাকা মজুরি নিশ্চিত করা এবং কৃষককে অবাধ বাজার ব্যবস্থার শোষণ থেকে রক্ষা করা; বিশেষত কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাকে বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশের দুষ্ট ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করা প্রধান কর্তব্য হয়ে উঠেছে। কৃষকের হাতে থাকা খাদ্য ও বীজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তা কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার পথ আত্মঘাতী পথ। এই পথ থেকে দ্রুত ফিরে আসতে হবে। চতুর্থ ইস্যু হচ্ছে, প্রাণ, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা।
আমি মনে করি, এই পাঁচটি সংক্ষিপ্ত অথচ মৌলিক গণতান্ত্রিক দাবি লিবারেল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব। যারা ন্যূনতম বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের এই দাবিগুলো সমর্থন না করার কোনো কারণ নাই।
তিন.
আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গত লেখায় কিছু ধারণা দিয়েছি। এখানে আরও দুই-একটি কথা বলব।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল জায়গাটা হচ্ছে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে। আমার অবস্থান হচ্ছে, এখনকার লড়াই হচ্ছে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াই। এ লড়াইয়ে মতাদর্শিক বিভাজনের ভেদরেখা কারা বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে আর কারা তার রূপান্তর কামনা করে তার দ্বারাই ঠিক হবে। কে ইসলামপন্থী, কে সেক্যুলার সেই তর্ক গৌণ। রাজনীতি কংক্রিট রাষ্ট্র ও বিদ্যমান ক্ষমতার চরিত্র নিয়ে জনগণের মধ্যে নানান মতাদর্শিক বিভ্রান্তি, বিরোধ ও বিভাজন রয়েছে। এ ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নাই। মতাদর্শের মীমাংসা রাষ্ট্র গঠনের তৎপরতার দিক থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার না। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারা লড়বে ও লড়ছে তাদের ঐক্যটাই এখন দরকার। মতপার্থক্যের সুরাহার লক্ষ্যে নতুনভাবে রাষ্ট্র গঠনের গণতান্ত্রিক কর্তব্য জনগণকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়া আমাদের এখনকার প্রধান কাজ। আমি বর্তমান বাস্তবতায় এই রাজনীতিকেই সঠিক মনে করি। যারা রাজনীতির এই মূল জায়গায় না গিয়ে নানা বাগাড়ম্বরে এই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার পক্ষে ওকালতি করে, আমি তাদের বিরোধিতা করি। গণতন্ত্রের শত্র“ গণ্য করি। লক্ষ্য করি, তারা মূল জায়গায় না থেকে অবান্তর প্রশ্ন নিয়ে কূটতর্ক করে, যা বুদ্ধিজীবিতার দিক থেকে ফলপ্রসূ কোনো পরিণতি বয়ে আনে না। এ ক্ষেত্রে মতাদর্শিক বিভক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হচ্ছে ইসলাম প্রশ্ন।
বাংলাদেশে ইসলাম নিয়ে কথা বলা রীতিমতো বিপজ্জনক ব্যাপার। সম্ভবত বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা, সমাজচিন্তা, অর্থনীতি, আইন ও ফিকাহ সম্পর্কে কারও আন্তরিক আগ্রহকে তুমুল সন্দেহ করা হয়। এমনকি আলেম-ওলামা মওলানা মুফতি না হলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কেউ যে ইসলামে আন্তরিকভাবেই আগ্রহী হতে পারেন, এটা বিশ্বাস করানো রীতিমতো কঠিন। বড়ই আজব দেশ। এ ধরনের আগ্রহ যারা পোষণ করেন তাদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয়। নিন্দা বিদ্বেষের শিকার হতে হয়। আমার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। তবে সন্দেহ নাই, ইতিহাস ও দর্শনের একনিষ্ঠ ছাত্র হওয়ার কারণে ইসলাম আমার বিপুল বিস্ময় ও আগ্রহের বিষয়। একইভাবে ইহুদি-খ্রিস্টীয় ধর্ম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার গ্রিক-খ্রিস্টীয় ভিত্তি এবং উপমহাদেশের এ অঞ্চলের সনাতন বা লোকায়ত ধর্ম ও ধর্মচর্চার ভাব ও ইতিহাসকে আমি আমার কল্পনা, মনন, ঐতিহ্য ও ভাবচর্চার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই মনে করি। এর মধ্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ধর্ম যেমন আছে, একইভাবে আছে বাংলার কবি, সাধক ও ভাবুকদের বিশাল ভাণ্ডার। যারা আমার কবিতা ও এ ক্ষেত্রে আমার কাজ সম্পর্কে অবহিত তারা তা জানেন। এ ব্যাপারে নিজের ঢাক নিজে পেটানোর ইচ্ছা বিশেষ নাই।
ইসলামের ইতিহাস ও দর্শনই শুধু আমার আগ্রহের বিষয় নয়, ইসলামপন্থা বা ইসলামী রাজনীতির নানান চরিত্র ও বয়ান, তাদের সম্ভাব্য ঐতিহাসিক অভিমুখ এবং ইসলামী রাজনীতির সীমা ও সম্ভাবনা সম্পর্কেও আমি বিপুল আগ্রহী। বিশ্ব ইতিহাস পৃথিবীর একটি বৃহত্তম ধর্মকে বাদ দিয়ে যেমন কল্পনা করা অসম্ভব, তেমনি আমি মনে করি উপমহাদেশে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ইসলামকে বিচার না করলে তার পরিণতি এই উপমহাদেশের জন্য কখনোই কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। বাংলাদেশ তো দূরের কথা। এই কথাগুলো আমি কমপক্ষে গত ২৫ বছর ধরেই বলছি। দুই হাজার এক সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগন হামলার পর কথাগুলো ইতিহাস ও বাস্তবতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর পরেও যারা ইসলাম নিয়ে কথা বলি বলে আমাকে নিন্দা করেন, তাদের মধ্যে ইসলাম-বিদ্বেষ প্রকট ও প্রবল। যারা তুলনামূলক ভাবে সহনশীল, এই অসুখ নাই, তাদের গোড়ার মুশকিল হচ্ছে মুসলমান ও ইসলামকে তারা সমার্থক গণ্য করেন। ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি বাংলাদেশে অবশ্যই আছে এবং তারা অনেক সময় সঙ্গত কারণেই উৎকণ্ঠিত ও উদ্বিগ্ন বোধ করেন। আমিও করি। তাদের সঙ্গে আমার পার্থক্য হচ্ছে, অসম অর্থনৈতিক ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীন বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মুসলমানরা তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়বেই। এটাই বাস্তবতা। যেহেতু এই স্বার্থ রক্ষার দায় সমষ্টিগতভাবে মুসলমানরা বোধ করেন, অতএব অধিকাংশ সময় তাদের এই রাজনীতি সাম্প্রদায়িক রূপ পরিগ্রহ করে। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ আসলে কী, সেই তর্কে আমি এখানে প্রবেশ করব না। মেনে নেব যে মুসলমান নিজেদের পরিচয় ধর্ম দিয়ে নির্ণয় করার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্ম বিশ্বাসের বাইরে অন্য সব ধর্মাবলম্বী বা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে যদি নিজের ‘অপর’ গণ্য করে তাহলে অবস্থা বিশেষে বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপরের প্রতি শত্র“তা হিসাবে হাজির হতে পারে। হয়ও বটে। একই কথা ‘বাঙালি’ সম্পর্কেও খাটে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে একমাত্র পরিচয় গণ্য করে তার ভিত্তিতে অন্য সব পরিচয়ে পরিচিত জনগোষ্ঠীকে নিজের ‘অপর’ গণ্য করাও সমান সাম্প্রদায়িকতা। মুশকিল হচ্ছে ইসলামের প্রতি সহনশীল ব্যক্তিরা এই শেষের কথা মানতে চান না। তারা উগ্র ও সাম্প্রদায়িক ‘বাঙালি’ না হতে পারেন। কিন্তু বাঙালিত্বে বিশ্বাসী। ইসলাম যে বাঙালির ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ সেটা তাই তারা মানতে রাজি না। তাদের সঙ্গে এখানে আমার ঘোরতর পার্থক্য আছে। ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন ও ভাবুকতার দিক থেকে ইসলামের সঙ্গে মোকাবিলার সঠিক নীতি ও কৌশল গ্রহণ না করে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মের অবাস্তব ও অসম্ভব বিরোধ জিইয়ে রাখলে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার মোকাবিলা অসম্ভব, এটাই আমার অবস্থান। আশা করি তারা আমার নিন্দা করলে আমার অবস্থান যুক্তির সঙ্গে নাকচ করবেন।
সমাজে ইসলামপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে দুটো শক্তিশালী ধারা আছে। একটি স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিস্ট। এদের চেনা এখন তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে গিয়েছে। এদের ঘোর ইসলাম-বিদ্বেষ যখন চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয়, তখন একে তারা ‘উসকানি’ বলে গণ্য করে। অন্যের মত সহ্য করতে না পেরে এরা থানা পুলিশ করে, আর মিথ্যাচার, কুৎসা প্রচার ও চরিত্র হনন তো আছেই। এই ধারা জাতিবাদী রাজনীতি নামে পরিচিত। বাঙালির নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে তৈরি হওয়া ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ এই ধারার আদর্শ।
জাতীয়তাবাদী উগ্রতা বর্জিত আরেকটি ধারা হচ্ছে পাশ্চাত্যের সেক্যুলার ধারা। যারা কোনো কাটছাঁট না করে কিংবা বাংলাদেশের ইতিহাস ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে ইউরোপীয় সেক্যুলারিজমকে (বা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাকে) বিমূর্ত ফর্মুলা হিসাবে বাংলাদেশে কায়েম করতে চায়। সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রান্তে অবস্থিত একটি দেশে ইংল্যান্ডের বা ইউরোপীয় মডেলে একটি ‘আধুনিক রাষ্ট্র’ কায়েম করার অধিক চিন্তা করতে এই ধারা শোচনীয়ভাবে অক্ষম। তাদের ধারণা বাংলাদেশকেও ইউরোপীয় ইতিহাসের ঘাটগুলো ইউরোপীয় কায়দায় পার হতে হবে। আধুনিক রাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ইউরোপীয় ধারণার কারণে তারা সঙ্গত কারণেই রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করার কথা বলে। যাকে আমরা সুশীল বা লিবারেল রাজনীতি বলি এই ধারা সেই রাজনীতিরই অংশ। তবে অন্য সুশীলদের সঙ্গে আমি যে সুশীলদের কথা বলছি তাদের পার্থক্য আছে। পার্থক্য হচ্ছে লিবারেল আদর্শ বাস্তবায়ন করতে সুশীলরা সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির গোলামি ও দাসত্ব শুধু নয়, সুবিধা বুঝে সেনাবাহিনীর কাঁধে লিবারেল নীতি বিসর্জন দিয়ে ভর করে। এক-এগারোর সময় আমরা যা দেখেছি। পাশ্চাত্যের লিবারেল রাজনীতি যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, যাদের কথা এখন বলছি, তারা নীতি বিসর্জন দিয়ে সেনাশাসনের পক্ষে দাঁড়ান না।
আমি এ ধারার ব্যক্তিদের পাশ্চাত্যপ্রীতি সত্ত্বেও আমার রাজনৈতিক মিত্র মনে করি, যদি তারা চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। তবে দেখা যায়, তারা ইসলামী মতাদর্শ প্রচারের বিপক্ষে দাঁড়ান। এদের ইসলাম-বিদ্বেষ আলেম-ওলামাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা মাদ্রাসার ছাত্রদের বিচার করার মানদণ্ডে ধরা পড়ে। এদের অনেকের আজগুবি ধারণা হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের দিয়ে আমি গণতন্ত্র কায়েম করতে চাই। ইসলামের সঙ্গে গণতন্ত্রের বিরোধ আছে, সে বিরোধ মৌলিক এবং সেটা ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু এই চিন্তা তাদের মধ্যে কাজ করে কেন? আসলে ইউরোপীয় গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পর্কে তাদের ধারণা অপরিচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট। সেই তর্ক এখানে না তুলেও বলা যায় তারা ‘গণতন্ত্র’ বলতে রাষ্ট্র বোঝেন না, কয়েকটি আচার ও আদর্শ বোঝেন। যদি বুঝতেন তাহলে এটাও বুঝতেন যে, গণতন্ত্র মাত্রই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্র নয়। আর আমি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য লড়ছি, যে লড়াইয়ে মজলুম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আজ হোক কাল হোক বিপুল স্রোতের মতো যুক্ত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অতএব সেক্যুলারিস্টরা গণতন্ত্র চাইবার পরেও যখন আলাদাভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন, আমি তাকে ধর্ম-বিদ্বেষ, বিশেষত ইসলাম-বিদ্বেষ হিসাবেই বুঝি।
কিন্তু আমি আগেও বহুবারই বলেছি, ইউরোপীয় এনলাইটমেন্টের যে ইতিবাচক অর্জন, আমি তার বিরোধিতা করি না। কিন্তু সে অর্জনকে আমি সর্বজনীন মনে করি না। ইউরোপই দুনিয়ার ইতিহাস নয়। যারা তা মনে করেন তারা ইউরোপকেই দুনিয়ার আদর্শ মনে করেন। আমি করি না। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিপ্লব বাংলাদেশের মতোই হবে। ইউরোপের মতো হবে না। তার সম্ভাব্য রূপ কী হতে পারে সেই আলোচনায় তারা আগ্রহী হলে এই মতপার্থক্য নিরসন রাজনীতির এই তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হতে পারে। ইসলাম নিয়ে আলোচনা এই জায়গা থেকে করলেই সেটা সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামাসের প্রথম নারী মুখপাত্র
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার প্রশাসনের নির্বাচনী সাজ
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংকটে মালদ্বীপ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টেলিভিশনে শিষ্টাশিষ্ট ও বিশিষ্ট কথন
হানিফ সংকেত: গণমাধ্যম-ব্যক্তিত্ব
hanifsanket@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপরিকল্পিত নগরায়ণের দায়
মাহফুজ ফারুক: পরিবেশ ও স্থাপত্যবিষয়ক সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময়ের অ্যালবাম থেকে কয়েকটি ছবি
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 12
(15)
- সরল গরল- বিচার প্রশাসনের নির্বাচনী সাজ by মিজানুর ...
- শহীদের উত্তরাধিকার- আজও পরাজিত নূর হোসেন! by ফারুক...
- ফিলিপাইনে ত্রাণের জন্য হাহাকার
- হরতালের আগুন- অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় রোগী-স্বজন-চিক...
- ‘বিএনপি সন্ত্রাসী দল, এরা মানুষের জাত না’
- শচীন দেব বর্মণের আদি নিবাসটি রক্ষা করুন by সৈয়দ মো...
- সর্বত্র একই প্রশ্ন- দেশ কোন পথে? by তারেক শামসুর র...
- ক্ষমতার চেয়ে জনগণ বড় by ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু
- জনগণকে আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে by ফরহাদ মজহার
- হামাসের প্রথম নারী মুখপাত্র
- বিচার প্রশাসনের নির্বাচনী সাজ
- সংকটে মালদ্বীপ
- টেলিভিশনে শিষ্টাশিষ্ট ও বিশিষ্ট কথন
- অপরিকল্পিত নগরায়ণের দায়
- সময়ের অ্যালবাম থেকে কয়েকটি ছবি
-
▼
Nov 12
(15)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


