Saturday, July 2, 2011

‘রাজনৈতিক খেলা’ না খেলতে সু চিকে সরকারের হুঁশিয়ারি

মিয়ানমারের সরকার দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে ‘রাজনৈতিক খেলা’ না খেলতে হুঁশিয়ার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইংরেজি ভাষার রাষ্ট্রীয় পত্রিকা নিউ লাইট অব মিয়ানমার-এর মাধ্যমে সু চিকে হুঁশিয়ার করা হয়। এর এক দিন আগে একই পত্রিকার মাধ্যমে সরকার সু চিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে।
এদিকে গত বুধবার সু চি বলেছেন, গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর প্রথম যে রাজনৈতিক সফরের পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন, তা বাতিলের কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। এ সফর দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে সরকার তাঁকে সতর্ক করে দেওয়ার পরও তিনি এ সিদ্ধান্তে অনড়।
এ ব্যাপারে গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় পত্রিকায় বলা হয়, তাঁরা যদি সংবিধান ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কথা না মেনে রাজনৈতিক খেলা খেলেন, তাহলে এর ভালো ফল আশা করা যায় না। তাঁরা যে পথ অনুসরণ করছেন, তা জনগণের স্বার্থের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গত মঙ্গলবার বিবিসি রেডিওতে প্রচারিত সু চির বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচের সাম্প্রতিক আন্দোলন তাঁর দেশের মানুষের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা। গতকাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত মন্তব্যে সু চির এই বক্তব্যের ব্যাপারেও কটাক্ষ করা হয়।

আফগানিস্তানে হাক্কানি কমান্ডার নিহত

সামরিক জোট ন্যাটো গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছে, আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার ইসমাইল জান গত বুধবার আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
কাবুলের একটি হোটেলে গত মঙ্গলবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য এই জঙ্গি নেতাকে দায়ী করা হচ্ছে। আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও পশ্চিমাদের ধারণা, তিনিই এ হামলার সরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন আফগানিস্তানে।
আফগানিস্তানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) নিহত ওই জঙ্গি নেতাকে ইসমাইল জান হিসেবে শনাক্ত করেছে।
তবে ইসমাইলের মৃত্যু নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তা ছাড়া তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি আইএসএএফ কীভাবে নিশ্চিত হলো, সে ব্যাপারেও বিস্তারিত কিছু বলেনি সংস্থাটি।
আইএসএএফ বলেছে, আফগানিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং দেশটির বেসামরিক লোকজন ও দলচ্যুত বিদ্রোহীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইসমাইলের আস্তানায় এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
কাবুলের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন হামলাকারীও আছে। তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তবে ন্যাটো বলেছে, এ হামলার পেছনে হাক্কানি নেটওয়ার্কেরও হাত ছিল।

আইসিসির পরোয়ানা লিবিয়া সংকটকে জটিল করেছে

লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের কঠোর সমালোচনা করেছেন আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) কমিশনের চেয়ারম্যান জেন পিং। তিনি বলেন, এই অস্ত্র পশ্চিমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা লিবিয়ার সংকটকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইকুয়েটোরিয়াল গিনির রাজধানী মালাবোতে এইউ নেতাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শুরুর আগে জেন পিং এসব মন্তব্য করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। এইউ লিবিয়ার সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। সে লক্ষ্যেই এই সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন এইউ নেতারা।
এইউ কমিশনের চেয়ারম্যান পিং বলেন, ‘লিবিয়ার বিদ্রোহীদের কে অস্ত্র সরবরাহ করছে, তা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়। অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, এটাই আতঙ্কের কথা।’ তিনি বলেন, তাঁর ধারণা, ইতিমধ্যে এসব অস্ত্র আল-কায়েদা, মাদক চক্র ও পাচারকারীদের কাছে পৌঁছে গেছে। তারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ অস্থিতিশীল করতে বা পর্যটকদের অপহরণ করতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। অপহূত ব্যক্তিদের উদ্ধারে মুক্তিপণের অর্থ পশ্চিমা দেশগুলোকেই শোধ করতে হতে পারে।
পিং বলেন, যেসব দেশ এসব অস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে সরবরাহ করছে, অস্ত্রগুলো সেই দেশের বিরুদ্ধেই ব্যবহূত হতে পারে। গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে সাইফ আল ইসলাম ও লিবিয়ার গোয়েন্দাপ্রধান আবদুল্লাহ আল সেনুসির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাই লিবিয়ার সংকটকে জটিল করে তুলেছে। এটা শুধু আমি বলছি না, পশ্চিমা দেশগুলোও এটাই বলছে।’ জেন পিং আরও বলেন, ‘সবাই জানে, আইসিসি এমন সময় এমন আচরণ করে, যা সুবিধাজনক নয়। তারা আগুনের মধ্যে তেল ঢেলে দেয়।’
ফ্রান্সের দৈনিক লা ফিগারো গত বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণে গাদ্দাফি-বিরোধী বারবার উপজাতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের বিমান থেকে প্যারাসুট দিয়ে ওই অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে রকেটচালিত গ্রেনেড, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, রাইফেল, মেশিনগান প্রভৃতি।
অস্ত্র সরবরাহের কথা নিশ্চিত করে ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল থিয়েরি বারখার্ড বলেন, ‘আমরা সেখানে মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসরঞ্জাম সরবরাহ শুরু করি। অভিযান শুরু হলে বেসামরিক জনগণ করুণ পরিস্থিতির শিকার হন। পরে আমরা তাদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করি।’
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী গেরাল্ড হোয়ার্থ ফ্রান্সের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

‘রাজনৈতিক খেলা’ না খেলতে সু চিকে সরকারের হুঁশিয়ারি

মিয়ানমারের সরকার দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে ‘রাজনৈতিক খেলা’ না খেলতে হুঁশিয়ার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইংরেজি ভাষার রাষ্ট্রীয় পত্রিকা নিউ লাইট অব মিয়ানমার-এর মাধ্যমে সু চিকে হুঁশিয়ার করা হয়। এর এক দিন আগে একই পত্রিকার মাধ্যমে সরকার সু চিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে।
এদিকে গত বুধবার সু চি বলেছেন, গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার পর প্রথম যে রাজনৈতিক সফরের পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন, তা বাতিলের কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। এ সফর দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে সরকার তাঁকে সতর্ক করে দেওয়ার পরও তিনি এ সিদ্ধান্তে অনড়।
এ ব্যাপারে গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় পত্রিকায় বলা হয়, তাঁরা যদি সংবিধান ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কথা না মেনে রাজনৈতিক খেলা খেলেন, তাহলে এর ভালো ফল আশা করা যায় না। তাঁরা যে পথ অনুসরণ করছেন, তা জনগণের স্বার্থের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গত মঙ্গলবার বিবিসি রেডিওতে প্রচারিত সু চির বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচের সাম্প্রতিক আন্দোলন তাঁর দেশের মানুষের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা। গতকাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত মন্তব্যে সু চির এই বক্তব্যের ব্যাপারেও কটাক্ষ করা হয়।

প্রথম বিদেশ সফরে কানাডায় উইলিয়াম ও কেট

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেট মিডলটন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয় দিনের সফরে কানাডায় গেছেন।
বিয়ের পর নতুন দম্পতির এটাই প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। তাঁদের বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছে কানাডা সরকার। রাজপরিবারের সদস্যদের সম্মানে আজ শুক্রবার রাজধানী অটোয়ার বাসিন্দারা সরকারি ছুটির দিন উদ্যাপন করবে। নতুন দম্পতি পার্লামেন্টের বাইরে লাখ খানেক লোকের সঙ্গে সংগীত ও আতশবাজি উপভোগ করবেন।
এদিকে রাজতন্ত্রীরা আনন্দিত হলেও উইলিয়াম ও কেটের এই সফরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কুইবেক প্রদেশের রাজতন্ত্রবিরোধীরা। আগামী রোববার তাদের মন্ট্রিল হয়ে প্রদেশের রাজধানী কুইবেক সিটি সফর করার কথা রয়েছে। সেখানে ফরাসিভাষী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে।

চীনে আইনজীবীদের ওপর দমনপীড়ন হচ্ছে: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চীনে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমনপীড়ন, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। চীনে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের ওপর কর্তৃপক্ষের দমনপীড়নের হার সবচেয়ে বেশি বলে অ্যামনেস্টি অভিযোগ করে।
‘অ্যাগেইনস্ট দ্য ল-ক্র্যাকডাউন অন চায়নাস হিউম্যান রাইটস লইয়ারস ডিপেনস’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করে অ্যামনেস্টি। লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটির অভিযোগ, চীনা কর্তৃপক্ষ শুধু যে আইনজীবীদের অধিকারই লঙ্ঘন করে, তা নয়; যারাই আইনি সহায়তা চাইছে, তারাও নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
সংস্থার এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপরিচালক ক্যাথেরিন বেবার জানান, মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে উঠলে চীনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর দমনপীড়ন বেড়ে যায়। চীনা সরকারের আশঙ্কা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের আন্দোলন দেখে চীনেও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনে সরকারের সমালোচক ও বিরোধী অনেক কর্মীদের নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হয়।
অ্যামনেস্টির হিসাব অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি থেকে চীনে ১৩০ জনেরও বেশি মানবাধিকারকর্মী ও মানবাধিকার-বিষয়ক আইনজীবী কোনো অভিযোগ ছাড়াই কারাবন্দী অথবা নিখোঁজ রয়েছেন। এ অবস্থায় দেশটির দুই লাখ চার হাজার আইনজীবীর মধ্যে খুব কমসংখ্যকই মানবাধিকার লঙ্ঘনবিষয়ক মামলাগুলো পরিচালনার সাহস করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশটিতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, যেসব আইনজীবী রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রথম প্রথম রহস্যজনক হুমকি পান, অথবা তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তার পরও যদি না থামানো যায়, তবে এসব আইনজীবীকে কারাবন্দী করা হয় কিংবা তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান। পরে ফিরে এলেও এসব আইনজীবী একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যান।
চীনা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক জিয়াং তিয়ানইয়ং দুই মাস পর মুক্তি পান। গত সপ্তাহে রয়টার্সকে তিনি জানান, কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে বিদেশি প্রচারমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না, এমন শর্তও রয়েছে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ বরাবরই মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চীনের কমিউনিস্ট সরকারের দাবি, চীনা আইনে সবার সমান অধিকার স্বীকৃত। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিমানঘাঁটি ছেড়ে দিতে বলেছে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের প্রত্যন্ত মরু এলাকায় অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটি ছেড়ে দিতে বলেছে দেশটির সরকার। ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মুখতার রাওয়ালপিন্ডিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত শামসি বিমানঘাঁটি ছেড়ে দিতে বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান শামসি থেকে উড়বে না। সেখানে যদি কোনো যুদ্ধবিমান থাকে, তবে তা পাকিস্তানের।’ তিনি জানান, ঘাঁটি থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে কিছুটা সময় চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান এরই মধ্যে সে দেশে অবস্থানকারী মার্কিন সেনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমাতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যৌথ সহযোগিতা তহবিল (সিএসএফ) সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, ওসামা বিন লাদেনের আত্মগোপনের বিষয়ে শুধু যে ইসলামাবাদ কিছু জানত না, এমন নয়; যুক্তরাজ্যও এ বিষয়ে ছিল অন্ধকারে। তিনি বলেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থানে নেই। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে চায় ইসলামাবাদ।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সিএসএফ সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ার পরও ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই অব্যাহত রেখেছে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষে এ লড়াই দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।
আহমেদ মুখতার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন কেরি ইসলামাবাদ সফরকালে আশ্বস্ত করেছেন, ইসলামাবাদের পরমাণু সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে নেই। মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের পরমাণু সম্পদ নিরাপদে আছে। কোনো পক্ষই হুমকির মুখে নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দিকে থেকে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না; বরং নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি কিংবা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক লে. জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা দেশটির জন্য অপরিহার্য।
আহমেদ মুখতার বলেন, সুজা পাশা নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু পার্লামেন্ট তাঁকে স্বপদে দায়িত্ব পালন করে যেতে আহ্বান জানায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তালেবান নেতা মোল্লা ওমর কোথায় আত্মগোপন করে আছেন, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তাঁর ধারণা, মোল্লা ওমর একসময় পাকিস্তানে আত্মগোপন করে থাকলেও লাদেন হত্যার পর তিনি আফগানিস্তান চলে গেছেন।
ওসামা বিন লাদেনের স্ত্রী ও সন্তানেরা পাকিস্তানি সরকারের হেফাজতে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা যে যে দেশে যেতে চান, সরকার সেখানেই তাঁদের পাঠাবে।
রুশ-পাকিস্তান নিরাপত্তা সহযোগিতা-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ায় আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে রাশিয়া বেশ আগ্রহী।