Thursday, July 15, 2010

তারিক আজিজকে ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর

সাদ্দাম হোসেনের মন্ত্রিসভার সদস্য কারাবন্দী সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী তারিক আজিজকে ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গতকাল বুধবার তারিক আজিজের আইনজীবী বাদিয়ে আরেফ এ কথা জানান। এখন তাঁর মক্কেলের প্রাণ হুমকির মুখে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আরেফ।
আইনজীবী আরেফ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে তারিক আজিজ ও অন্য বন্দীদের ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে মার্কিন পক্ষ। আজিজ আমাকে টেলিফোন করেছিলেন। তাঁকে বাগদাদের কাজেমিয়াহ কারাগারে রাখা হয়েছে।’
তারিক আজিজের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়ে আরেফ বলেন, ‘আজিজকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে তাঁর শত্রুদের হাতে তুলে দিয়ে রেড ক্রসের সনদ ভঙ্গ করেছে মার্কিন পক্ষ। তাঁর জীবন এখন বিপন্ন।’
২০০৩ সালের এপ্রিলে মার্কিন বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন তারিক আজিজ (৭৩)। সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গীদের মধ্যে যে অল্প কয়েকজন জীবিত আছেন, তাঁদের একজন আজিজ। ১৯৯১ সালে তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাদ্দাম। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে ২০০৯ সালে তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে কুর্দিদের বিতাড়নে জড়িত থাকার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

চীনে ভূমিধসে ৩৭ জনের প্রাণহানি

চীনে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট চারটি ভূমিধসের ঘটনায় ৩৭ জন নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৪০ জন। দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান, সিচুয়ান ও মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশে এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে এই ভূমিধস হয়। এতে এই তিন প্রদেশের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রাণহানি ছাড়াও রাস্তাঘাট, ঘড়বাড়ি ও বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউনান প্রদেশের কিয়াওজিয়া এলাকা। স্থানীয় সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, ভূমিধসে এখানে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ৪৩ জন। এ ছাড়া ভূমিধসের পর থেকে ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছে। এ এলাকায় মাটির প্রচণ্ড ধাক্কায় বিশাল একটি ভবন ভেঙে স্থানচ্যুত হয়ে বহুদূর চলে গেছে। রাস্তাঘাট কাদার নিচে চলে গেছে।
দুর্গত লোকদের সাহায্য করতে এখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাঁবু, চাল ও কাপড়চোপড় বিতরণ করা হয়েছে।
চায়না ডেইলির খবরে বলা হয়েছে, আরও দুটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে সিচুয়ান প্রদেশে। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে একজন।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ভূমিধসে হুনান প্রদেশে ১০ জন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চীনের বিভিন্ন এলাকায় এখন বন্যা চলছে। বেসরকারি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, বন্যায় জুলাই মাসের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত ১০৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৫৯ জন।

পাকিস্তানে ২৯ সাংসদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল

পাকিস্তানে ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় ২৯ জন পার্লামেন্ট সদস্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ জমা দিয়েছিলেন। দেশটির উচ্চশিক্ষা কমিশনের এক তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট ও পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটির নির্দেশে এ তদন্ত চালানো হচ্ছে। নির্দেশ অনুসারে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশটির উচ্চশিক্ষা কমিশন। সম্প্রতি প্রায় ১২ জন পার্লামেন্ট সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশ দেন।
তদন্তের ব্যাপারে উচ্চশিক্ষা কমিশনের উপদেষ্টা মাহমুদ রাজা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট সদস্যদের এক হাজার ৬৫টি সনদ হাতে পেয়েছি। ৫১১টি সনদের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সনদ ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’ রাজা অবশ্য ভুয়া সনদধারীদের পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, কমিশন কাল ১৬ জুলাই পার্লামেন্টের স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
পার্লামেন্ট বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যাঁদের শিক্ষাসনদ ভুয়া প্রমাণিত হবে তাঁদের সদস্যপদ এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। এতে করে পাকিস্তানে আগাম নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ নির্বাচনে দাঁড়ানোর শর্ত হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করেছিলেন।

আরও দুই বন্দীকে ছাড়ল কিউবা

কিউবা ও রোমান ক্যাথলিক চার্চের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় গত মঙ্গলবার আরও দুজন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে হাভানা। এর আগে মুক্তি পাওয়া সাতজন মঙ্গলবার সকালে স্পেন পৌঁছান।
কিউবায় স্পেনের দূতাবাস মঙ্গলবার নতুন করে দুজনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাঁরা দুজন হলেন সাংবাদিক নরমান্দো হার্নান্দেজ ও ওমর রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁরা স্পেনের উদ্দেশে হাভানা ছাড়েন। স্পেনে যেতে রাজি হওয়া ২০ বন্দীর মধ্যে নয়জন মুক্তি পেলেন। অন্যদেরও শিগগিরই স্পেনে পাঠানো হবে। নির্বাসনে যেতে রাজি হওয়া মোট ৫২ জনকে কয়েক মাসের মধ্যেই ছেড়ে দেবে কিউবা।
এর আগে মুক্তি পাওয়া সাতজন তাঁদের পরিবার নিয়ে মঙ্গলবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নেমে তাঁর বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ বৃহস্পতিবার ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচিতে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিই গুরুত্ব পাবে বলে ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে। বৈঠক উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গতকাল বুধবারই তিন দিনের সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। তবে বৈঠক থেকে বড় ধরনের কোনো ঘোষণার আশা করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তিপ্রক্রিয়া থমকে যায়। ভারতীয় পক্ষ বলছে, দুই দেশের সম্পর্ক আবার ঠিকঠাক করার ব্যাপারে ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য একটি ছোট পদক্ষেপ এটি। তবে এই সীমিত উদ্যোগের মধ্যেই পাকিস্তানে অবস্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও অবকাঠামোগুলোর প্রসঙ্গে আলোচনা করবেন কৃষ্ণা। মুম্বাই হামলার পর ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম পাকিস্তান সফর এটি।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে আজকের বৈঠকে মুম্বাই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কতটা অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দেবেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি আফগানিস্তানে ভারতীয়দের অবকাঠামোর ওপর হামলায় পাকিস্তানের মদদের অভিযোগের প্রসঙ্গটিও তুলতে পারেন তিনি।
জানা গেছে, কৃষ্ণার এই সফরের প্রাক্কালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) একটি বৈঠক করে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আলোচ্যসূচির বিষয়ে আলোচনা করে। সিসিএসের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইসলামাবাদের বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু হবে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবকাঠামো এবং মুম্বাই হামলার তদন্ত কার্যক্রম ও বিচারপ্রক্রিয়া। এতে কৃষ্ণা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। ওই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, আজকের বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর মনোভাব নিয়ে আলোচনা করবে এবং সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
সিসিএসের বৈঠকে গত মাসে ইসলামাবাদে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। ওই সময় পাকিস্তানি পক্ষ ভারতীয়দের আশ্বাস দিয়েছিল, মুম্বাই হামলার তদন্ত ও বিচার তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে এবং পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে ভারতবিরোধী তৎপরতা বন্ধেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা জানান, এ ব্যাপারে ভারতীয় সরকারের মনোভাব হচ্ছে, আশ্বাস দিলেও পাকিস্তান সরকার তাদের উদ্বেগের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে কমিটি এটাও অনুধাবন করেছে, পারস্পরিক অনাস্থা কাটিয়ে উঠতে মানবাধিকারের বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার। অবশ্য আজকের বৈঠকে কৃষ্ণা ও তাঁর সহযোগী ভারতীয় প্রতিনিধিরা পাকিস্তানি পক্ষকে জানাবেন, একটি অর্থবহ আলোচনার পূর্বশর্ত হচ্ছে মুম্বাই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য, কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে দুই দেশের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য, আন্তসীমান্ত ট্রেন-বাস চলাচল ও বন্দী বিনিময়ের বিষয়গুলো তুলবেন কৃষ্ণা। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর সমস্যা ও পানিবণ্টনের বিষয়টি তোলা হতে পারে। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান হচ্ছে, একটি যথাযথ আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিয়াচেন হিমবাহের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।

ফিদেল কাস্ত্রো আবারও জনসমক্ষে এলেন

কিউবার বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো মঙ্গলবার আবারও জনসমক্ষে এলেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, হাভানায় অর্থনীতিবিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। টেলিভিশনে তাঁর কিছু ছবিও দেখানো হয়। এর আগে প্রায় এক বছর পর সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিপ্লবী এই নেতার সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়।
হাভানায় মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ইনভেস্টিগেশন সেন্টারে এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফিদেল কাস্ত্রো। এতে তিনি সভাপতিত্ব করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী ডালিয়া সতো দেল ভ্যালে ও ছেলে অ্যান্টনিও কাস্ত্রো উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা’র বিষয়টি প্রাধান্য পায়। কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাম্প্রতিক ঘটনাভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘রাউন্ড টেবিল’ এই আলোচনার আয়োজন করে। সোমবার প্রচারিত সাক্ষাৎকারটিও রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।
২০০৬ সালে কাস্ত্রোর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় তিনি সাময়িকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে। আর ক্ষমতা গ্রহণ করেননি তিনি। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করেন কাস্ত্রো। পরে জাতীয় পরিষদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রাউল কাস্ত্রো। এর পর থেকেই ফিদেল কাস্ত্রোর জনসমক্ষে আসা অনেক কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ভারতীয় ছাত্র নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। তাঁর নাম অরুণ কুমার নাটোর। যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের স্ট্র্যাটফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কুমার একটি দোকানে কাজ করছিলেন।

২০ বছর পর জেদ্দা-বাগদাদ বিমান চলাচল শুরু

২০ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে ইরাকের সঙ্গে আবার সৌদি আরবের সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হচ্ছে। ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণের পর থেকে দেশ দুটির মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। জেদ্দাভিত্তিক বেসরকারি বিমান কোম্পানি আলওয়েফিরের বোয়িং ৭৪৭-এর একটি বিমান আজ জেদ্দা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদাদের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
আলওয়েফির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে তাদের একটি বিমান জেদ্দা থেকে সরাসরি বাগদাদ এবং দুটি বিমান বসরা যাবে। আলওয়েফির গত বছরের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। শুরুর দিকে এ কোম্পানির বিমানে করে নাইজার, শাদ, লিবিয়া ও ভারত থেকে মুসলমান হজযাত্রীদের জেদ্দায় আনা হতো।

কুকারে চাল দিলেই বের হবে সুস্বাদু পাউরুটি!

বিশ্বের অনেক দেশেই প্রধান খাবার রুটি। রুটির মধ্যে আবার পাউরুটির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। তবে পাউরুটি তৈরি করা বেশ ঝামেলার কাজ। আর তা করতে হয় কয়েক ধাপে। এমন যদি হয়—একটি যন্ত্রে কেবল চাল বা গম দেওয়া হলো, নিমেষে তা থেকে হয়ে গেল গরম গরম পাউরুটি। কেমন হয় তাহলে? জবাবে একবাক্যে সবাই বলবে, বেশ হয়।
এ কাজটি এখন আর অসাধ্য কিছু নয়। জাপানি কোম্পানি স্যানিও এই প্রথম এমন এক কুকার তৈরি করেছে। এতে চাল দিলে তা থেকে পাউরুটি বেরিয়ে আসবে। এমন ইলেকট্রনিক যন্ত্র প্রথম হলেও ভোক্তাদের সুবিধার জন্য এ ধরনের বিভিন্ন যন্ত্র তৈরি করে এর মধ্যে দুনিয়াজুড়ে নাম কিনেছে জাপানি কোম্পানিটি। আগামী অক্টোবরে এটি জাপানের বাজারে আসছে। আগামী বছর এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এটি রপ্তানি করা হবে।
যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোপ্যান’। জাপানি ভাষায় ‘গোহান’ অর্থ ভাত বা ফোটানো চাল। আর স্প্যানিশ ভাষায় ‘প্যান’ মানে রুটি। এই শব্দ দুটি থেকে রুটি তৈরির জাদুকরী যন্ত্রটির উল্লিখিত নাম দেওয়া হয়েছে।
স্যানিও ইলেকট্রনিক জানায়, এই কুকারে এক কাপ চালের দানা দিলে তা প্রথমে আটা হয়ে যাবে। আটার সঙ্গে পানি ও অন্যান্য উপাদান মিশে তৈরি হবে লেই। লেই থেকে পাউরুটি বের হয়ে আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চার ঘণ্টার মতো লাগবে। সারা বিশ্বে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোয় যন্ত্রটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।
কোম্পানির মুখপাত্র লিও ইংগাইং বলেন, ‘এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় কুকারটি রপ্তানি করার জন্য আমরা ঐকান্তিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে চালজাত খাবার দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।’ কুকারটির দাম পড়বে ৫৬০ থেকে ৬৭০ মার্কিন ডলার।

ইরানের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন পরমাণু বিজ্ঞানী আমিরি

ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী শাহরাম আমিরি তেহরানের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। গতকাল বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় বিজ্ঞানী আমিরি বলেন, ‘ইরানে পৌঁছে অপহরণের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাব।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারা জানান, বিজ্ঞানী আমিরি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। তেহরানের নানামুখী প্রচেষ্টা ও ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন। রামিন আরও জানান, বিজ্ঞানী আমিরি প্রথমে অন্য কোনো দেশে যাবেন। পরে সেখান থেকে ইরানে পৌঁছাবেন।
ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে পরমাণুবিজ্ঞানী আমিরি বলেন, ‘প্রিয় জন্মভূমি ইরানে পৌঁছে আমি গত ১৪ মাসের সবকিছু খুলে বলব। এ সময় অনেক রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে।’
গত বছরের মে মাসে সৌদি আরব থেকে নিখোঁজ হন ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী আমিরি। তখন থেকেই ইরান অভিযোগ করে আসছিল, সিআইএ তাঁকে অপহরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, বিজ্ঞানী আমিরি নিজেই ইরানের পক্ষ ত্যাগ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে কাজ করছিলেন।
তবে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো স্বীকার করা হয়, আমিরি সে দেশে আছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সাংবাদিকদের বলেন, আমিরিকে ইরানে যেতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি মুক্তভাবে এসেছিলেন। ফিরে যেতেও তিনি মুক্ত। এটা তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত।

ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ করে বিল পাসের নিন্দা অ্যামনেস্টির

প্রকাশ্যে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করতে মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিল পাস হওয়ার নিন্দা জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, এটি মত প্রকাশের ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
বিলটি সেপ্টেম্বরে সিনেটে উত্থাপন করা হবে। এর আগে অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বিলটি প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ জানিয়ে ফ্রান্সের প্রত্যেক পার্লামেন্ট সদস্যের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
ইউরোপে অ্যামনেস্টির অবমাননা বিশেষজ্ঞ জন ডালহুইসেন বলেন, নিজস্ব পরিচয় বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে তুলে ধরতে যেসব নারী বোরকা বা নেকাব পরে থাকেন, মুখ ঢেকে বাইরে চলাচলের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ তাঁদের মত প্রকাশের ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করবে। সাধারণ আইন অনুযায়ী মত প্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে যা হওয়া উচিত, তা হচ্ছে পরিধানযোগ্য যেকোনো পোশাকের ব্যাপারে সবারই স্বাধীনতা থাকবে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বোরকা পরে অভ্যস্ত নারীরা আর ঘরের বাইরে যেতে চাইবে না। এতে ঘরের বাইরে তাঁদের কাজের পরিধি কমে যাবে

অবরোধ সত্ত্বেও ইরানে জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহী রাশিয়া

ইরানে জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রাশিয়ার কোম্পানিগুলো। গতকাল বুধবার রুশ জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইরানের তেল ও গ্যাস খাত লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একতরফা অবরোধ আরোপ সত্ত্বেও ইরানে তেল রপ্তানির আগ্রহের কথা জানাল মস্কো।
রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সামাতকো বলেন, রাশিয়ার কোম্পানিগুলো ইরানে তেল পণ্য সরবরাহের জন্য প্রস্তুত। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হলে ইরানে তেল পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত মাসে ইরানের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মস্কোয় ইরানি তেলমন্ত্রী মাসুদ মির কাজেমির সঙ্গে বৈঠকের পর রুশ জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আমাদের বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’ রুশ বার্তা সংস্থাগুলো এ খবর জানায়।
ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বের মোট তেলের ১০ শতাংশ ইরানে মজুদ রয়েছে। ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের পরই ইরান সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে থাকে।
কিন্তু পরিশোধন করতে না পারার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ইরানকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়।

আফ্রিকার জনগণকে ওবামার সতর্কবার্তা

আল-কায়েদা এবং এর মতো মতাদর্শিক গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপারে আফ্রিকার জনগণকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মঙ্গলবার সম্প্রচার মাধ্যম সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে (এসএবিসি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।
উগান্ডায় আল-কায়েদাপন্থী আল-শাবাব গোষ্ঠীর বোমা হামলায় এক মার্কিনিসহ ৭৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আফ্রিকাবাসীকে সতর্ক করলেন ওবামা। পৈতৃক সূত্রে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে আফ্রিকার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে আল-কায়েদাকে বর্ণবাদী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস।
এসএবিসিকে ওবামা বলেন, ‘আল-শাবাব ও আল-কায়েদার মতো সংগঠনগুলো আফ্রিকাকে এমন একটি স্থান হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে জীবনের মূল্য খুব কম। এই অঞ্চলটি তাদের কাছে এমন একটি স্থান, যেখানে মতাদর্শিক দ্বন্দ্বের জন্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সম্ভব এবং স্বল্পমেয়াদি কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।’
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা আফ্রিকা মহাদেশে আল-কায়েদার মতাদর্শের বিস্তৃতি ঠেকাতে সরাসরি উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে ও আল-কায়েদার অতীত কর্মকাণ্ড থেকে দেখা গেছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আফ্রিকার জনগণের জীবনের মূল্য দেয় না। এ বিষয়টি প্রেসিডেন্ট সরাসরি তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, এককথায় বলা যায়, আল-কায়েদা একটি বর্ণবাদী সংগঠন, কারণ তারা কালো আফ্রিকানদের প্রাণের মূল্য দেয় না।
এদিকে উগান্ডার সরকারি তদন্ত কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার নিশ্চিত করেছেন, গত রোববারের দুটি বোমা হামলার একটি চালিয়েছে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী। রাজধানী কাম্পালায় একটি ইথিওপীয় রেস্তোরাঁয় চালানো ওই হামলায় হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। সে দেশের অভ্যন্তরীণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মাতিয়া কাসাইজা বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
উগান্ডার তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি স্থানে বোমা হামলার পর কাম্পালার তৃতীয় একটি স্থান থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা বোমার বেল্টটি অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করবে। পুলিশ প্রধান ক্যালে কাইহুরা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এ ধরনের বোমাসহ বেল্ট আত্মঘাতী হামলার কাজে ব্যবহার করা হয়। এগুলো পেতে রাখা বোমা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সোমালিয়াভিত্তিক আল-শাবাব গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করলেও পুলিশপ্রধান কাইহুরা উগান্ডার স্থানীয় চরমপন্থী গোষ্ঠী অ্যালয়েড ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এডিএফ) হামলায় জড়িত থাকার সম্ভাবনার কথা জানান। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এডিএফ।

লিবিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ গাজার পরিবর্তে মিসরের পথে

অবরুদ্ধ গাজা অভিমুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজকে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যস্থলে যেতে দেয়নি ইসরায়েল। ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত যুদ্ধ জাহাজের বাধার মুখে ওই জাহাজ গতকাল বুধবার তার দিক পরিবর্তন করে মিসরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। লিবিয়ার গাদ্দাফি ফাউন্ডেশনের পাঠানো জাহাজটি শনিবার দুই হাজার টন খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী নিয়ে গ্রিস থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়।
ইসরায়েল, মিসর ও লিবিয়ার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আল মাথি নামের জাহাজটি গত মঙ্গলবার গাজা ভূখণ্ডের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় পৌঁছানোর পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সেটিকে গাজার দিকে যেতে নিষেধ করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত জাহাজ ত্রাণবাহী আল মাথিকে ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে আল মাথির নাবিকেরা লিবিয়া কর্তৃপক্ষকে জানায়, ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সামনে এগোতে পারছেন না। ওই রাতেই গাদ্দাফি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইউসেউফ সাওয়ানি সাংবাদিকদের জানান, আটটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ইসরায়েলের নৌবাহিনী আল মাথির গতি রোধ করে। তিনি জানান, গাজায় পৌঁছানো তাঁদের প্রধান লক্ষ্য থাকলেও তাঁরা কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি ডেকে আনতে চান না। যদি ইসরায়েল বাধা দেয় তাহলে তাঁরা তাদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে যাবেন না। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানান, ত্রাণবাহী জাহাজের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন, তাঁরা গাজায় যাবেন না। তাঁরা মিসরের আল আরিশ সমুদ্রবন্দরে নোঙর ফেলবেন। বন্দরে মাল খালাস করে মিসর থেকে স্থলপথে তা গাজায় পৌঁছানো হবে। মিসরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজটি তাদের আল আরিশ সমুদ্রবন্দরে ভেড়ার অনুমতি চেয়েছে এবং মিসরও সে অনুমতি দিয়েছে।
এরপর গতকাল বুধবার ভোর রাতে জাহাজের নাবিকেরা জানান, ইঞ্জিন সচল হয়েছে এবং তাঁরা মিসরের অভিমুখে রওনা হয়েছেন। ত্রাণবাহী ওই জাহাজে থাকা আল জাজিরার একজন সাংবাদিক টেলিফোনে বলেছেন, জাহাজটি যাতে গাজার দিকে যেতে না পারে সে জন্য ইসরায়েলের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ সেটিকে ঘিরে ছিল। জাহাজে নাবিক, ত্রাণকর্মী ও সাংবাদিকসহ মোট ২১ জন রয়েছেন।
মিসরের সরকারি বার্তা সংস্থা মেনা বলেছে, মিসর কর্তৃপক্ষ এবং রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল সার্ভিসের কর্মকর্তারা জাহাজটির মালামাল বুঝে নেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
গত ৩১ মে একইভাবে গাজায় ত্রাণ নেওয়ার পথে একটি তুর্কি নৌবহরে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী হামলা চালায়। ওই হামলায় কমপক্ষে নয়জন তুর্কি ত্রাণকর্মী নিহত হন

সোয়াতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৫

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত উপত্যকায় এক বাস-টার্মিনালের কাছে আজ বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।জানা গেছে, মিঙ্গোরা শহরে বিস্ফোরণটি ঘটে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খান এপি নিউজ এজেন্সিকে জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ হামলাটি হয়েছে একটি জনাকীর্ণ এলাকায়।সেনাবাহিনী ২০০৯ সালে বিদ্রোহীদের এ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার জন্য থেকে একটি সামরিক অভিযান চালায়।বাস-টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যস্ত রাস্তায় এ বোমা হামলা করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, রাস্তা অতিক্রম করা সেনাবাহিনীর বহর এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল।

পোশাক খাতে গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণের তাগিদ

জাতীয় দৈনিক ও সংবাদ সংস্থার সম্পাদকেরা পোশাকশিল্প মালিক ও শ্রমিক উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, মালিকদের ভাবমূর্তির যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা তাঁদেরই উদ্যোগ নিয়ে পুনরুদ্ধার করতে হবে। শ্রমিকদের আস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাঁরা বলেন, পোশাক খাতে অনেক দিন ধরে যে ষড়যন্ত্রের তথ্য আসছে, সেটা খোলাসা করে বলা দরকার। কীভাবে, কারা এই ষড়যন্ত্র করছে তা পরিষ্কার করতে হবে।
অন্যদিকে তৈরি পোশাক মালিক সমিতি বিজিএমইএর নেতারা পোশাকশিল্পে চলমান অসন্তোষ, ভাঙচুরের বিপক্ষে এবং নতুন মজুরিকাঠামো নির্ধারণে সংবাদমাধ্যমকে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পোশাক খাতে বর্তমান সংকট বিষয়ে জাতীয় দৈনিক ও সংবাদ সংস্থার সম্পাদকদের সঙ্গে বিজিএমইএর এক আলোচনা সভায় গতকাল বুধবার এসব মতামত দেওয়া হয়। ঢাকা শেরাটন হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। শুরুতেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পোশাকশিল্পে ভাঙচুর, হামলা, অসন্তোষ ও নৈরাজ্যের কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কিছু ভিডিও ফুটেজ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্থিরচিত্র তুলে ধরা হয়। বড় পর্দায় (প্রজেক্টর) যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ছবি দেখানো হয়। বলা হয়, হরতালের মধ্যে পুলিশ একটি বাচ্চা ছেলেকে পেটানোর ছবি দিয়ে পত্রিকাটি ছবির বিবরণী (ক্যাপশন) দিয়েছে পোশাকশ্রমিককে পেটানো হচ্ছে। এতে দেশের এবং এই শিল্পের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে ভিন্নভাবে চিত্রিত হচ্ছে দেশের পোশাক খাত। এতে দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক আয়ের খাতটির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এ সময় পোশাক খাতের বিভিন্ন অবদান, রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক কল্যাণকাজে এই শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরেন বিজিএমইএর প্রচারণাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আহসান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখন অনেকেই যেন তাঁদের খলনায়ক (ভিলেন) মনে করেন।
এ পর্যায়ে সম্প্রতি আশুলিয়ার অনন্ত গার্মেন্টস ও ইসলাম গ্রুপে ভাঙচুরের বিবরণ দেন প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান যথাক্রমে এনাম খান ও শফিকুল ইসলাম। তাঁরা জানান, কম্পিউটারের হার্ডডিক্স পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায় বহিরাগত একটা সংঘবদ্ধ দল, যারা শ্রমিকদের গাড়িতে করে এসে কারখানায় ঢুকে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক আবদুল মোমেন পোশাক খাতের অবদান তুলে ধরে বলেন, শ্রীলঙ্কার পত্রিকায় সে দেশের উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে নৈরাজ্য চলছে। ফলে উদ্যোক্তারা তৈরি হোক, আবার পোশাক খাতের ব্যবসা সে দেশে চলে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বিজিএমইএ সব তথ্য দিয়েছে। এমনকি পোশাক খাতের নারীকর্মীরা প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে কী অবদান দেশের অর্থনীতিতে রাখছে, তার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেবল শ্রমিকের মজুরির তথ্য দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অন্যান্য খাতের তুলনায় পোশাক খাতের মজুরির বিশ্লেষণও নেই।
দৈনিক ইত্তেফাক-এর উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান মিলন বলেন, পোশাক খাতের কর্মীরা কেন শিল্পগুলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান ভাবতে পারে না, এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। বিডি নিউজের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক বেবি মওদুদ বলেন, আগেও দেখেছেন যে, কারখানার ছাদের ওপর কাকদের সঙ্গে বসে অথবা গুদামঘরে কিংবা সিঁড়িতে নারীশ্রমিকেরা দুপুরের খাবার খান। এখনো সেই অবস্থা আছে। বেবি মওদুদ মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা তো নিচ্ছেন, পুরোপুরিই নিচ্ছেন। কিন্তু দেওয়াটা কেমন, সেটাই আমরা দেখতে চাই।’
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম মালিকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, শিল্পের আরও অনেক কাজের মধ্যেও যেন শ্রমিক অসন্তোষ না হয় সেটাও মালিকদের দেখভাল করতে হবে। তিনি মত দিয়ে বলেন, ২০০৬ সালে মজুরি বাড়ানোর পর যদি আলোচনা করে আবার কিছুটা বেতন বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হতো না।
দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত সহিংস ঘটনার পেছনে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সন্ত্রাসী ও ঝুট ব্যবসায়ীরা জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন। দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার নিম্নতম মজুরি ‘সবার জন্য সহনশীল মজুরি’ হতে হবে বলে মত দেন। তিনি পোশাক খাতে ষড়যন্ত্রের তথ্য আসছে উল্লেখ করে বলেন, এটা খোলাসা হতে হবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মার্চ ও এপ্রিলে ১৩-১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই গতি ধরে রাখলে শ্রমিকের মজুরি বাড়ানো যাবে। তিনি মালিক, সরকার ও শ্রমিকের মধ্যে একটা প্লাটফর্ম তৈরির কথা বলেন। তিনি অসন্তোষ ও ভাঙচুর তিনভাবে হতে পারে বলে মত দেন। এগুলো হলো ষড়যন্ত্র, কারখানার পরিবেশ ও মজুরি।
সাংসদ ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি বলেন, ২০০৬ সালের তুলনায় কতটা মূল্যস্ফীতি হয়েছে সেটা বিবেচনা করা হবে। তবে একই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকপণ্যের দাম, ডলারের বিপরীতে টাকার মান, প্রতিযোগী দেশগুলোতে মুদ্রার মান কতটা বেড়েছে বা কমেছে বিবেচনা করা উচিত।
সালাম মুর্শেদী ও টিপু মুনশি জানান, এ রকম সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে বেশকিছু পোশাক কারখানা বিক্রি হয়ে গেছে ও যাচ্ছে, যেগুলো দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিনে নিচ্ছে। এসব কারখানায় নতুন অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) মেশিন আনা হচ্ছে। তাতে শ্রমিক কম লাগবে। ফলে কর্মসংস্থান হারাতে হবে।
আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, নিউজ টুডে-এর সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি নিউনেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি অবজারভার-এর সাবেক সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক দিনকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজওয়ান সিদ্দিকী, শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট-এর নগর সম্পাদক নূরুল হুদা, দৈনিক ডেসটিনির নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ আল ফয়সাল, দৈনিক সংবাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনিরুজ্জামান।

জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার আজ শুরু

খুদে সাঁতারুদের পদভারে মুখরিত মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স। আজ থেকে এখানে শুরু হচ্ছে ২৬তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার। তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার নতুন পৃষ্ঠপোষক বিআরবি কেবলস।
পাঁচটি গ্রুপে দেশের ৩৩টি জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ৩৪টি সুইমিং ক্লাব, বিকেএসপি ও আনসারের ৮-২০ বছর বয়সী ৬৩৪ জন ছেলেমেয়ে অংশ নিচ্ছে প্রতিযোগিতায়। টুর্নামেন্টের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেবলস দিচ্ছে ৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা দেবে ফেডারেশন।
মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে ডাইভিং স্প্রিং বোর্ড না থাকায় গত বছর থেকে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ডাইভিং ইভেন্টটি হবে বিকেএসপিতে। তবে প্লাটফর্ম ডাইভিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সেই। স্থানীয় দল ছাড়া ঢাকার বাইরে সব দলের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করবে সাঁতার ফেডারেশন। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বিআরবি কেবলসের কর্মকর্তা এ টি এম এনামুল কবির, ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে।

জয়াসুরিয়া না থাকলেও আছেন মুরালিধরন

২০১১ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কি পূর্ণ হবে সনাৎ জয়াসুরিয়ার? শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যে তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই রাখেনি! জয়াসুরিয়া না থাকলেও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যে ২০ জন ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে তাঁর মধ্যে আছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন।
গলে ১৮ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার টেস্টটিই মুরালিধরনের শেষ টেস্ট। এর পরই টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা তিনি আগেই দিয়েছেন। তার পরও মুরালিধরন যে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন, এর কারণ গত মৌসুমে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
গত মৌসুম মোটেই ভালো কাটেনি জয়াসুরিয়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে রানের গড় ছিল ৩.৭৫। সর্বশেষ ৬টি ওয়ানডেতে সদ্যই শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া জয়াসুরিয়ার সর্বোচ্চ রান ৩১। এই পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিটির প্রধান অরবিন্দ ডি সিলভা বলেছেন, ‘আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সিনিয়র খেলোয়াড়, নির্বাচক আর টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি। সনাতের বাদ পড়ার কারণ তার সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্স।

এখনো শীর্ষে সাকিব

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা খুব একটা ভালো যায়নি সাকিব আল হাসানের। বোলিং-ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি। ব্যাট হাতে ৩ ম্যাচে করেছেন ২৭ রান, বল হাতে নিয়েছেন মাত্র ৪টি উইকেট। এর পরও অবশ্য সর্বশেষ প্রকাশিত আইসিসি ওয়ানডে অলরাউন্ডারের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন সাকিব। ওয়ানডে বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে। সদ্য সাবেক হওয়া অধিনায়ক টেস্টে অলরাউন্ডারদের মধ্যেও আছেন তিন নম্বরে।

রোবেনের দুঃস্বপ্নে সেই মিস

আরিয়েন রোবেন ঘুমাতে পারেন না। চোখ বুজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি মিস। চোখ খুলেও পার পান না। দিনের আলোয়ও দুঃস্বপ্ন হয়ে হানা দেয় একটি মুহূর্ত। স্পেন গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রোবেন। দিনে কি রাতে ডাচ মিড ফিল্ডারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ফাইনালের সেই গোল মিসের দৃশ্যটা।
রোবেনের ওই মিসের পরই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা গোল করে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন স্পেনকে। চোখের সামনে থেকে স্বপ্নটা ভেঙে যেতে দেখেছেন ডাচ খেলোয়াড়েরা। রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে হল্যান্ডকে। তবে দ্বিতীয় হয়ে ফিরেও কমলা-গালিচা সংবর্ধনা পেয়েছেন রোবেন-স্নাইডারা। পেয়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী ও রানির উষ্ণ অভ্যর্থনা।
প্রধানমন্ত্রী ইয়ান পিটার বালকেনেন্দে ও রানি বিয়াত্রিক্সের সেই সংবর্ধনায় গিয়েই ওই অনুভূতির কথা বলেছেন রোবেন, ‘আজ এই দিনে বিষয়টি আরও বেশি তাড়া করছে আমাকে। এ রকম একটা গোলের সুযোগ মিস করা ভীষণ পীড়াদায়ক।’
ফাইনালে হল্যান্ড দলকে দিয়ে অমন নেতিবাচক ফুটবল খেলানোর কারণে সমালোচিত হয়েছেন কোচ বার্ট ফন মারউইক। তবে সেই সমালোচনা নয়, তাঁর খারাপ লাগছে তীরে গিয়ে তরী ডুবে যাওয়ার কারণে, ‘আমার মাথায় ঘুরেফিরে শুধু একটি বিষয়ই আসছে—আমরা খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। আমাদের আসলে জেতা উচিত ছিল।

ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষে স্পেন

প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা স্পেন। ক্যাসিয়াস-ভিয়াদের এই আনন্দযজ্ঞে রং চড়াচ্ছে আরও একটি খবর। ফিফার সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন শীর্ষ দল স্পেনই! ব্রাজিলকে সরিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় উঠে গেছে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। ২০০৮ সালে ৪৪ বছর পর ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও একই সাফল্য দেখেছিল স্পেন। সেবারও ব্রাজিলকে টপকেই পেয়েছিল শীর্ষস্থান।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ওলটপালট করে ফেলেছে পুরো র‌্যাঙ্কিংই। তৃতীয় বারের মতো ফাইনালে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হলেও ফাইনালে ওঠার সৌজন্যে শীর্ষে থাকা স্পেনের পরের জায়গাটিই হল্যান্ডের। হল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ছিটকে পড়া ব্রাজিল আছে তিনে।
বিশ্বকাপের মতো র‌্যাঙ্কিংয়েও চমক দেখিয়েছে উরুগুয়ে। ১৬ থেকে এক লাফে ফোরলান-সুয়ারেজদের দল উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও রানার্সআপ ফ্রান্সের চরম দুর্গতি র‌্যাঙ্কিংয়েও। শীর্ষ দশের জায়গা হারিয়ে ইতালির অবস্থান ১১তম স্থানে। ফ্রান্স ১২ থেকে চলে গেছে ২১-এ। দক্ষিণ আফ্রিকায় হতাশ করলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে ইংল্যান্ডের। তারা উঠে এসেছে সপ্তম স্থানে।
দুই ধাপ করে উন্নতি হয়েছে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান দখল করা জার্মানি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেই বিদায় নেওয়া আর্জেন্টিনার। জার্মানি চতুর্থ ও আর্জেন্টিনা উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।
র‌্যাঙ্কিং সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেই ড্র করে বাড়ি ফেরা অল হোয়াইটরা ৫৪ থেকে উঠে এসেছে ২৪-এ! প্রথম স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ার লজ্জার রেকর্ড গড়া দক্ষিণ আফ্রিকাই বা খুব পিছিয়ে কোথায়! ৮৩তম স্থানে বিশ্বকাপ শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ৬৬তম।

জাতীয় দাবা

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৩৬তম জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে মিনহাজউদ্দিন আহমেদ (সাগর)। দ্বাদশ রাউন্ড শেষে সাড়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছেন তিনি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবু সুফিয়ান (শাকিল) ও রিফাত বিন সাত্তার। কাল মিনহাজ আরমান মনিরকে, রিফাত শরীফ হোসেনকে হারিয়েছেন। সুফিয়ান ড্র করেছেন মোহাম্মদ জাবেদের সঙ্গে। আজ শেষ রাউন্ডের খেলা।

লুলার জবাব

নিন্দুকেরা পারেও বটে! দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের রেশ এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই গরম গরম কথা শুরু হয়ে গেছে চার বছর পরের ২০১৪ বিশ্বকাপ নিয়ে! গত মঙ্গলবার দ্য এস্তাদো ডি সাও পাওলো পত্রিকা লিখেছে, ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে নাকি ভীষণ বিলম্ব হচ্ছে। সমালোচকদের এই কাজটি একদমই পছন্দ হয়নি ২০১৪ বিশ্বকাপের আয়োজক ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিও লুলা ডা সিলভার।
ফুটবলপ্রেমী ব্রাজিল রাষ্ট্রপতি সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দিলেন পাল্টা জবাব। ‘দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ সবে শেষ হলো। এর মধ্যেই তারা (সমালোচকেরা) প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, ব্রাজিলের বিমানবন্দর কোথায়, স্টেডিয়াম কোথায়, ট্রেন লাইন কোথায়, সুড়ঙ্গপথ কোথায়? যেন আমরা সবাই বোকার হদ্দ, জানিই না কীভাবে কাজ করতে হয় আর কোন জিনিসটা করতে হয় আগে’—রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বলেছেন রাষ্ট্রপতি লুলা। তবে ব্রাজিল রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, সাও পাওলো থেকে রাজধানী রিও ডি জেনিরো পর্যন্ত নির্মাণাধীন ‘বুলেট ট্রেন লাইন’ ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। বিশেষ এই ট্রেন চলাচলের উপযোগী হবে ২০১৬ রিও অলিম্পিকের আগে। ব্রাজিলের তো বটেই, লুলা আশাবাদী ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবল পুরো দক্ষিণ আমেরিকারই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন ধারা যোগ করবে।
তবে ফিফা মহাসচিব জেরম ভালক কিন্তু ঠিকই আছেন কিছুটা শঙ্কায়, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও তাই হবে বলে তাঁর ধারণা।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ হয়েছিল ব্রাজিলে, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায়। দক্ষিণ আমেরিকায় এরপর ২০১৪ সালেই হবে প্রথম বিশ্বকাপ।

ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক by জোবাইদা নাসরীন

বাংলাদেশে নারীর আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেশে নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হচ্ছে ব্যতিক্রম। এ দেশে নারী-নির্যাতনের সঙ্গে নারীর আত্মহত্যার ঘটনা অনেকটাই সম্পর্কিত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত ঢাকার জুরাইনে মা ও দুই সন্তানের ‘আত্মহত্যা’য়ও পারিবারিক নির্যাতনের কথাই সামনে এসেছে। এর কিছুদিন আগে তরুণ কবি মেহেরুন এবং গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী সুতপার আত্মহত্যার পেছনেও নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। আশার কথা হলো, বর্তমানে অনেক আত্মহত্যাকেই পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ হিসেবে বিবেচনায় এনে এটিকে অপরাধ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। তবে মামলা না হলে আত্মহত্যাকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবেই পরিবার এবং সমাজ হাজির করায়। আত্মহত্যাকে কোনোভাবেই নারীর শুধু আবেগী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাঠ করা যাবে না। বরং নারীর আত্মহত্যা একেবারেই রাজনৈতিক।
গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে, দেশের শহর এলাকায় বিবাহিত নারীদের ১৪ শতাংশ আত্মহত্যা করার কথা ভাবে (৯ জুলাই, প্রথম আলো, পৃ. ৯)। আইসিডিডিআরবির গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, খুলনার অভয়নগরে ১৯৮৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আত্মহত্যা করা নারীদের ৭৮ শতাংশই ছিল বিবাহিত। বিয়ে সম্পর্কের মধ্যে অসম ক্ষমতার চর্চা হয় এবং এই সম্পর্কের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি নারী নির্যাতিত হয়, যাকে ‘ব্যক্তিগত’-এর মোড়কে আড়াল করা হয়; কখনো একে রাজনৈতিক হিসেবে দেখা হয় না। এই সম্পর্কের মধ্যকার নিপীড়ন-নির্যাতনকে তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীরা কাউকে না বলাই শ্রেয় মনে করে। পরিবার ও সমাজের কাছ থেকেও নারীরা এই বিষয়ে খুব বেশি সমর্থন পায় না। অন্যদিকে পারিবারিক নির্যাতনের কারণে সম্পর্ক ভেঙে অন্য কোথাও আশ্রয় না পাওয়া কিংবা আরও বেশি সমাজ কর্তৃক নিপীড়নের আশঙ্কা পরিবার-পরিসরেই নারীকে মানসিকভাবে অনেক বেশি নাজুক করে তোলে। নির্যাতনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলার জন্য তার ওপর পারিবারিক এবং সামাজিক চাপ থাকে। নির্যাতন মেনে বা মানিয়ে নেওয়া—এই টানাপোড়েন তাকে কখনো কখনো আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে। এ কারণেই বিয়ে সম্পর্কের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে এটিকে ‘ব্যক্তিগত কারণজনিত আত্মহত্যা’ কিংবা ‘ব্যক্তিগত কারণে আত্মহত্যা করেছি’ এই ধরনের চিরকুটের মধ্য দিয়ে প্যাকেজবন্দী করা হয়। কিন্তু বিয়ে সম্পর্কের মধ্যে ঘটিত সব আত্মহত্যাই রাজনৈতিক, কোনোভাবেই তা শুধু ব্যক্তিক নয়।
বিবাহিত জীবনের বাইরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী আত্মহত্যা করছে কিশোরী বয়সে। ২০০৫ সালের ‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে’র তথ্যমতে, ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত আত্মহত্যা করা মানুষের ৫৪ শতাংশই ছিল নারী। অন্যদিকে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসাবমতে, ২০০৬ সালে পাঁচজন, ২০০৭ সালে পাঁচজন, ২০০৮ সালে নয়জন, ২০০৯ সালে সাতজন এবং চলতি বছর মে পর্যন্ত ১৪ জন শুধু টিজিংয়ের কারণে আত্মহত্যা করেছে। বখাটেদের উৎপাত এবং অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে কিংবা সমাজে নিজেকে অনিরাপদ ভেবে অথবা সমাজ-রাষ্ট্রের দিক থেকে এর যথাযথ প্রতিকার না পেয়ে আত্মহত্যাকে প্রতিবাদের একটি জায়গা হিসেবে খুঁজে নিয়েছে তারা। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের সিমি, খুলনার রুমীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশে ১৪ বছর বয়সে প্রতি লাখে ১০ জন মেয়ে আত্মহত্যা করলেও একই বয়সী ছেলেদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা প্রায় শূন্য। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে নারী-নির্যাতনের যে নতুন ধরনগুলো যোগ হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সামাজিক পরিসরে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নারীকে উত্ত্যক্ত করা, যার প্রধান শিকার কিশোরীরা। তাই এই বয়সী মেয়েদের আত্মহত্যা বাংলাদেশে নারী-নির্যাতনের নতুন নতুন ক্ষেত্রকে বারবার সামনে নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ শতাংশ গ্রামীণ এবং ১৫ শতাংশ শহুরে নারী আত্মহত্যার চিন্তার কারণ হিসেবে স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের কথা গবেষকদের কাছে উল্লেখ করেছেন। যৌতুক, শারীরিক নির্যাতন, ম্যারিটাল রেইপসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন-নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, অনিরাপত্তাবোধ, সামাজিক পরিসরে নারীকে উত্ত্যক্ত করা এবং নানা ধরনের অসম্মান প্রদর্শন, পারিবারিক পর্যায়ে নারীকে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ, সমাজে বিরাজমান লিঙ্গীয় বৈষম্য, নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ধরন প্রভৃতি নারীর এই আত্মহত্যার প্রবণতাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন ব্যক্তিক নয়, বরং অনেক বেশি রাজনৈতিক। তাই নারীর আত্মহত্যাকেও রাজনৈতিক হিসেবে দেখতে হবে। অনেক গবেষক দেখিয়েছেন, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিভিন্ন প্রচলিত ধরনের বাইরে নারীরা আত্মহত্যাকে অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি ধরন হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেদিকে ধাবিত হয়।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে নারীর আত্মহত্যার ঘটনার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে গত ১০ বছরে আত্মহত্যা করেছে চার হাজার ৭৪৭ জন নারী। এখানে আত্মহননকারীদের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত আবেগের কারণে আত্মহত্যা করা নারীর সংখ্যা একেবারেই কম। তার মানে হলো, নারীর এই আত্মহত্যার পেছনে আছে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতন, বঞ্চনা, নিপীড়ন, কিংবা বৈষম্যের ইতিহাস; যাকে সামনে আনা হয় না, কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় না। আত্মহত্যা জীবনযুদ্ধের কোনো সমাধান নয়, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতনের মাত্রা এত বেশি হয় যে, নারীর দাঁড়ানোর মতো কোনো পাটাতন থাকে না।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ৩১০ ধর্ষণ, ১০ এসিড নিক্ষেপ, এক হাজার ৯৯টি নারী-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্তই আত্মহননকারী নারীদের সংখ্যা ছিল ৭৩। তার মধ্যে বেশির ভাগই পারিবারিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছে। দেশে কয়েক মাসের আত্মহত্যাগুলোর পূর্বাপর ব্যাখ্যা করলে আমরা দেখতে পাই, নারী-নির্যাতনের সঙ্গে এই আত্মহত্যার সম্পর্কটি অত্যন্ত গভীর। তাই নারীর আত্মহত্যার হার কমাতে হলে অবশ্যই কমাতে হবে নারী-নির্যাতন, নারীর প্রতি বৈষম্য। পারিবারিক ও বিয়ে সম্পর্কের মধ্যকার নির্যাতনকে রাজনৈতিকভাবে দেখতে হবে এবং এটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নির্যাতনকে আড়াল নয়, বরং আলাপচারিতায় নিয়ে আসাই অনেকাংশে বন্ধ করতে পারে আত্মহত্যার পথ।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

এখন বিচারের বাধা দ্রুত দূর করুন -পিলখানা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র

পিলখানার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল একটি বড় অগ্রগতি। ঘটনার প্রায় ৫০০ দিন পর ৮২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার যাতে দ্রুত হয়, সেদিকে সমগ্র জাতি তাকিয়ে আছে। এখন এর সুষ্ঠু বিচারের জন্য আসল করণীয়, উপযুক্ত আদালত বেছে নেওয়া। প্রচলিত আইনে দুটি বিকল্প আছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালত কিংবা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল—যেকোনো আদালতেই এই বিচার হতে পারে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হলে সরকারকে মামলাটি সেই আদালতে স্থানান্তরিত করতে হবে। এতে বিচারের একটি বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। অবশ্য সে পদ্ধতি সাধারণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে তেমন স্বতন্ত্র বলা যায় না। বিচার শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এর মূল বৈশিষ্ট্য। সর্বোচ্চ ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূলত ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হবে, সেটাই আইনের লক্ষ্য। পরে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়ে ৩০ দিন ও শেষ ধাপে আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করতে হয়। মোট ১৩৫ দিনের মধ্যে সম্ভব না হলে মামলাটি যে আদালত থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল, সেখানে ফেরত পাঠাতে হবে।
বিচারের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হক বিদ্যমান আইনে একটি সংশোধনী আনতে মত প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৩৫ দিনের মধ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব নয়। তবে ৩৬৫ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করি।’ এখন বিচার্য হলো, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নাকি সাধারণ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার সম্পন্ন করা যুক্তিযুক্ত হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একটি ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় এত বিপুলসংখ্যক অভিযুক্ত এবং সাক্ষীর নজির নেই। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত সোমবার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত ৮২৪ জনের প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল জওয়াবের সম্মুখীন হবেন। মোট সাক্ষী এক হাজার ২৮৫ জন। তাঁদেরও ব্যক্তিগত জেরা হবে। সুতরাং ১৩৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যে সম্ভব নয়, তা সহজেই বোধগম্য। এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বিচারের প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে ত্বরিত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আমরা বুঝতে পারি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার যে আদালতেই হোক, সেখানে অবকাঠামোগত দিক থাকবে। আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে যে এ ধরনের মামুলি কাজও অনেক সময় আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে অহেতুক বিলম্ব ও জটিলতার সম্মুখীন হয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত যে প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে, তাতে মাত্র দুজন সদস্য রয়েছেন। এই সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তা যাঁদেরই নিয়োগ দেওয়া হোক, যেন সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ দেয় যে, সরকারের পক্ষে কাঁচা ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করা অসম্ভব নয়।
৩৬৫ কর্মদিবস পেতে দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যাবে। তদুপরি আমরা প্রধান কৌঁসুলি আনিসুল হকের সঙ্গে আশাবাদী হতে চাই যে, ২০১১ সালের আগেই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পুরোনো কাজে ফিরে যাচ্ছে অক্টোপাস পল

ভবিষ্যদ্বাণী করার কাজ থেকে ছুটি মিলেছে অক্টোপাস পলের। গত সোমবার জার্মানিতে পল যে অ্যাকুয়ারিয়ামে বাস করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষ। এখন পূর্বাভাস দেওয়ার কাজ থেকে অবসরে যাবে পল। শিশুদের মনোরঞ্জনের পুরোনো কাজেই আবার ফিরবে অক্টোপাসটি।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আটটি খেলার ফল নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিল পল, যার সব কটিই সঠিক হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন ও হল্যান্ডের মধ্যে ফাইনাল খেলার পূর্বাভাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পুরস্কার হিসেবে অ্যাকুয়ারিয়ামের কর্মীরা সোমবার বিশ্বকাপের একটি প্রতিকৃতি পলের প্রিয় খাবার তিনটি ঝিনুক দিয়ে সাজিয়ে দেন।
জার্মানির ওবেরয়জেন শহরে সি লাইফ অ্যাকুয়ারিয়ামের কর্মী তানজা মুনজিগ বলেন, ‘পলকে কিনতে চেয়ে অনেকেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু একে বিক্রি করা হবে না। আমরা পরিষ্কার জানাতে চাই, পল আমাদের সঙ্গেই থাকছে।

৮৬৫ গ্রামের দখল নিয়ে লড়াইয়ের মুখে মহারাষ্ট্র-কর্ণাটক

গ্রামের দখল নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চলেছে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক রাজ্য। মারাঠিভাষী অধ্যুষিত ৮৬৫টি গ্রাম কর্ণাটকের কাছ থেকে ফিরে পেতে চাইছে মহারাষ্ট্রের মানুষ। এ ব্যাপারে মহারাষ্ট্রের সব কটি রাজনৈতিক দল একই সঙ্গে লড়ছে।
গতকাল মঙ্গলবার এ ব্যপারে কংগ্রেসের নেতা ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যাবন জানান, মহারাষ্ট্রের লোকজনের ভাবাবেগের ব্যাপারটি কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝানো হবে।
শিবসেনা দল জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে তারা কর্ণাটকের ওই গ্রামগুলো মহারাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করবেই। সীমান্ত লড়াইয়ে নামতে কর্ণাটকও পিছিয়ে নেই। তারা ওই ৮৬৫টি গ্রাম ছাড়তে নারাজ।
এর আগে মুম্বাই শহরকে পেতে মারাঠিরা লড়াইয়ে নামে প্রায় ৫০ বছর আগে। তখন ‘আমছি মুম্বাই’ অর্থাৎ আমাদের মুম্বাই স্লোগান তুলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মুম্বাইকে ছিনিয়ে নেয় এবং শহরটিকে মহারাষ্ট্রের রাজধানী করা হয়। এবারও তেমনই স্লোগান তুলেছে শিবসেনা দল। ফলে একই দেশের মধ্যে দুই রাজ্যের মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গেল।

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ২১ জুলাই

নেপালে ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টের স্পিকার সুবাস নেমবাং গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
মাওবাদী দলের চাপের মুখে গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে দেশটিতে মূলত কার্যকর কোনো সরকার নেই। মাধব কুমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাধব কুমারের পদত্যাগের পর থেকে জাতীয় ঐকমত্যের একটি সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলোচনা শুরু করে। কিন্তু তারা মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। তাই প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব গত সোমবার পার্লামেন্টে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য ৭ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী ২৫টি দল মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
১০ বছর সশস্ত্র সংগ্রামের পর ২০০৬ সালে ক্ষমতাসীন দলগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে মাওবাদীরা। ২০০৮ সালের ১০ এপ্রিল নেপালে সংবিধান রচনার জন্য দুই বছরের মেয়াদের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুই বছরেও সংবিধান প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয় গণপরিষদ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত মে মাসের শেষদিকে গণপরিষদের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়।
দেশটির ৬০১ আসনের গণপরিষদে মাওবাদীদের ২২৯, নেপালি কংগ্রেসের ১১৫ ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের ১০৮টি আসন রয়েছে।

অধিকাংশ মার্কিনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র দেড় বছরের মাথায় অধিকাংশ মার্কিনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি তাঁদের অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। অথচ ১৮ মাস আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৬০ ভাগের বেশি মার্কিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছিলেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজ যৌথভাবে জরিপটি চালায়। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস করা হয়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ওবামার ওপর তাঁরা কতটা আস্থাশীল? জবাবে ৫৮ শতাংশ ভোটার জানান, তাঁদের আস্থা খুবই কম অথবা একেবারেই নেই।
এই একই প্রশ্নের জবাবে ৬৮ শতাংশ ভোটার জানান, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যের প্রতি তাঁদের কোনো আস্থা নেই। ৭২ শতাংশ ভোটার এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন।
দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা জন্য ওবামা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, ৪৩ শতাংশ মার্কিন তা মেনে নিয়েছেন আর ৫৪ শতাংশ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জরিপটি চালানো হয় ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত। এতে অংশ নেন এক হাজার ২৮৮ জন মার্কিন।

আল-শাবাবের দায় স্বীকার অবিস্ফোরিত বোমাভর্তি বেল্ট উদ্ধার

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় গত রোববারের বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে সোমালিয়াভিত্তিক আল-কায়েদাপন্থী সংগঠন আল-শাবাব। বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখার সময় চালানো ওই হামলায় ৭৪ জন নিহত হয়। এদিকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের ব্যবহূত অবিস্ফোরিত বোমাভর্তি একটি বেল্ট উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গত সোমবার হামলার দায়িত্ব স্বীকারকারী আল-শাবাব গোষ্ঠীর মুখপাত্র আলি মোহামোদ রাগে বলেন, ‘আমরাই হামলা চালিয়েছি। কারণ, তাদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ চলছে।’ এক বার্তায় গোষ্ঠীর শীর্ষনেতা সতর্ক করেন, উগান্ডা ও বুরুন্ডি সোমালিয়ায় মোতায়েন আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে তাদের শান্তিরক্ষীদের সরিয়ে না নিলে এ ধরনের হামলা আরও চালানো হবে।
গতকাল মঙ্গলবার উগান্ডার বিরোধী দল ফোরাম ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ (এফডিসি) সোমালিয়া থেকে উগান্ডার শান্তিরক্ষীদের ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। দলের সভাপতি ইওয়েরি মুসেভেনি বলেন, ‘সোমালিয়ায় শান্তি পরিস্থিতি নেই, যা রক্ষার জন্য উগান্ডার সেনাদের সেখানে থাকতে হবে। সেখানে উগান্ডার কোনো কৌশলগত স্বার্থও নেই। কোনো কারণ ছাড়াই আমদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে।’
উগান্ডা সরকারের মুখপাত্র ফ্রেড অপোলট বলেন, ‘কাম্পালার মাকিন্দিয়ে এলাকা থেকে অবিস্ফোরিত বোমাভর্তি বেল্টটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানাননি তিনি।
এদিকে বোমা হামলার ঘটনা তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সদস্যরা উগান্ডা পৌঁছেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিনজন এফবিআই সদস্য তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। এফবিআইয়ের আরও একটি দলকে তদন্তে নামার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আফ্রিকার ২৬টি দেশের চেয়ে বেশি দরিদ্র ভারতের আটটি রাজ্য

আফ্রিকার ২৬টি দরিদ্রতম দেশে যত গরিব আছে, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আটটি রাজ্যে এর চেয়ে বেশি গরিব লোকের বাস। অন্য সাতটি রাজ্য হচ্ছে বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, মধ্য প্রদেশ, ওডিশা, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশ। এসব রাজ্যে দরিদ্র লোক রয়েছে ৪২ কোটি ১০ লাখ। আফ্রিকার ২৬টি দরিদ্রতম দেশের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৪১ কোটি।
বিশ্বের ১০৪টি দেশের দরিদ্রদের চিহ্নিত করতে অক্সফোর্ড পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ যে নতুন মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে, এর ভিত্তিতে চালানো সমীক্ষা থেকে এই তথ্য জানা যায়। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এতে সহায়তা করে। বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) নামে পরিচিত এই সমীক্ষার ফলাফল ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের ২০তম বর্ষপূর্তি সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।
এমপিআই বিশ্লেষকেরা বলেন, দরিদ্রবিষয়ক নতুন সমীক্ষায় দারিদ্রের মধ্যে বাস করা জনগোষ্ঠীর বহুমাত্রিক চিত্র পাওয়া গেছে। এটি উন্নয়নের উৎস নিরূপণে সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
২০১০ সালের ইউএনডিপি মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক থেকে পাওয়া সমীক্ষার ফল এখনই লন্ডনে একটি নীতিবিষয়ক ফোরামে পাওয়া যাচ্ছে। ওপিএইচআইর ওয়েবসাইটেও তা পাওয়া যাচ্ছে।
এমপিআইর এই সমীক্ষায় দারিদ্রের জটিল কারণগুলো নিরূপণ করা হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য থেকে সম্পদ ও সেবা পর্যন্ত বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।
ইউএনডিপি ও ওপিএইচআইর তথ্য অনুযায়ী, নিছক আয় নিয়ে সমীক্ষা না চালিয়ে এসব জটিল কারণ খতিয়ে দেখায় সমাজের হতদরিদ্রদের একটি পুরো চিত্র পাওয়া গেছে। এই সমীক্ষার ফলে পারিবারিক, আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দারিদ্রের প্রকৃতি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে জানা গেছে।

উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে

উত্তর কোরিয়া গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের কমান্ডের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজডুবির বিষয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে। এ কমান্ড দুই কোরিয়ার যুদ্ধ বন্ধে ১৯৫৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির তত্ত্বাবধান করে। পীত সাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘চেওনান’ ডুবির ঘটনায় উত্তর কোরিয়া ওই চুক্তির লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আনার পর গতকালই প্রথমবারের মতো আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত পানমুনজম গ্রামে আলোচনার স্থান নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আলোচনা শুরুর নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টার কিছুটা আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে তা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। জাতিসংঘের ওই কমান্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ আলোচনা স্থগিতের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় বসার নতুন কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে উত্তর কোরিয়া চেওনান ডুবি-সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতেই রাজি হচ্ছিল না। পরে গত শুক্রবার দেশটি আলোচনায় বসতে রাজি হয়।
গত মার্চে পীত সাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবে ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এ জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে। পরে আন্তর্জাতিক তদন্তে উত্তর কোরিয়ার তৈরি টর্পেডোর আঘাতেই চেওনানডুবির ঘটনা ঘটে বলে প্রমাণ মেলে। তবে উত্তর কোরিয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

দুবাইয়ের কারাগারে বন্দী ভারতীয়রা দেশে ফিরতে চান না

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি হতে যাচ্ছে—এমন খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুবাইয়ের জেলে আটক ভারতীয় বন্দীরা। তাঁরা বলেছেন, ভারতে তাঁরা ফিরে যেতে চান না। সাজার পূর্ণ মেয়াদ তাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাতেই কাটাতে চান। ভারতীয় কারাগারকে তাঁরা ‘নরক’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি দুবাইয়ের একটি পত্রিকায় এসব কথা বলা হয়েছে।
গালফ নিউজ জানায়, দুবাইয়ে কারাবাস করছেন এমন ভারতীয় বন্দীদের মধ্যে কয়েকজনকে তাঁদের সাজার বাকি মেয়াদ নিজ দেশে কাটানোর সুযোগ দেওয়া-সংক্রান্ত একটা চুক্তির বিষয়ে কাজ চলছে। কিন্তু এ চুক্তির কথা জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় বন্দীরা। পত্রিকাটি বলেছে, ভারতীয় কারাগারকে সে দেশের বন্দীরা নরকের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দুবাইয়ে কারাবাস করছেন বিনায়ক। বন্দিবিনিময়ের চুক্তির কথা জেনে ৭৬ বছরের এই ভারতীয় নাগরিক বলেছেন, সাজার বাকি মেয়াদ কোনোমতেই তিনি ভারতে কাটাতে চান না। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, দুবাইয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের সঙ্গে সদাচরণ করেন। এখানকার কারাগার পরিচ্ছন্ন। বন্দীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় এখানে।
দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিনায়ক। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনিসহ আরও চারজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা ১২ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন।
বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কয়েক হাজার বন্দী তাঁদের সাজার বাকি মেয়াদ নিজ দেশে কাটানোর সুযোগ পাবেন।
বিনায়কের ব্যবসায়িক বন্ধু গুজরাটের বাসিন্দা ওয়াইজি মাদক ব্যবসার দায়ে ১৯৯৮ সাল থেকে দুবাইয়ে কারাবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দুবাইয়ে থাকতে চাই। মা-বাবা ভারতে থাকলেও আমি সেখানে যেতে চাই না। দুই বার দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা পাইনি। তবু এখানকার লোকজনের উদারতার ওপর আমার বিশ্বাস রয়েছে।’
৬০ বছরের আরেক ভারতীয় বন্দী বলেন, ‘দুবাইয়ের কারাগার পরিচ্ছন্ন। আমাদের বিশ্বাস, দুবাই কর্তৃপক্ষ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু আমাকে যদি ভারতে পাঠানো হয় তাহলে আমি বাঁচব না।’ তিনি বলেন, ‘আমি গরিব। ফিরে যাওয়ার মতো কোনো বাড়ি নেই আমার। এখানকার কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। আমাদের সম্মান করেন।’
আরেক বন্দী বলেছেন, ‘ভারতের কারাগারে আপনাকে কোনো না কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। নইলে আপনি বাঁচতে পারবেন না।’
কারাবন্দীদের অনেকেই বলেছেন, ‘দুবাইয়ের কারারক্ষীরা দয়ালু। এখানকার খাবারের মান ভালো। কারাগারের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত। ভারতের কোনো কারখানায় আমরা এসব সুবিধা পাব না। তাই আমরা ভারতে ফিরে যেতে চাই না। গেলে দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না আমাদের।

দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রে নতুন ছিপি স্থাপন করেছে বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রে সফলভাবে একটি নতুন প্রতিরোধক ছিপি স্থাপন করেছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। গত সোমবার বিপির কর্মকর্তারা এ কথা জানান। কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এই ছিপি তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে সাগরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
তবে সতর্কতা জানিয়ে বিপির কর্মকর্তারা বলেছেন, সাগরের এত গভীরে এর আগে এ ধরনের প্রতিরোধক ছিপি স্থাপন করা হয়নি। তাই তেলক্ষেত্রের পাইপের ছিদ্র থেকে তেল ও গ্যাস বের হয়ে আসা বন্ধে এই ছিপির কার্যকরতা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
কর্মকর্তারা আরও জানান, তেলক্ষেত্র থেকে স্থায়ীভাবে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধের সবচেয়ে সফল পদ্ধতি হচ্ছে দুটো বিকল্প কূপ খনন এবং কূপ খননের এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি খননকাজ শেষ হওয়ার কথা।
মার্কিন সরকারের পক্ষে এই দুর্ঘটনা মোকাবিলা কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা থাড অ্যালেন বলেন, ছিপিটি ঠিকঠাক কাজ করলে তেলক্ষেত্র থেকে তেল সংগ্রহের কাজে এটা ব্যবহার করা হবে। গত শুক্রবার খুলে নেওয়া ছিপিটির চেয়ে আকারে বড় এই ছিপি।
এদিকে গভীর সাগরে তেল-গ্যাস কূপ খননে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত আগের জারি করা নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করে দেওয়ার পর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এই নিষেধাজ্ঞা গভীর সাগরের যেকোনো কূপ খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর বা আরও আগে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে আদালত কোনো রায় দেবেন কি না, তা পরিষ্কার নয়।
তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার তদন্তে গঠিত প্রেসিডেনশিয়াল কমিশন সোমবার তাদের শুনানির কাজ শুরু করেছে। এই দিনের শুনানি শেষে তদন্ত কমিশনের সদস্য ল্যারি ডিকারসন বলেন, কার্যক্রম পরিচালনার সময় অসাবধানতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা উপকূলে এই তেলক্ষেত্র বিস্ফোরণের পর থেকে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই দুর্ঘটনাকে তাঁর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবেশ বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিপি জানিয়েছে, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে তিন শ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

৯২৩ কোটি টাকা সাদা হয়েছে সুযোগ নিলেন ১৯২৩ জন

শুরুতে অনীহা দেখালেও শেষ পর্যন্ত অর্থ সাদা করার সুযোগ ভালোই কাজে লাগিয়েছেন কালো টাকার মালিকেরা। সদ্য সমাপ্ত ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট তিনটি খাতে বিনিয়োগের শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আর শেষ সময়ে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বৈধ করে নিয়েছেন কালো টাকার মালিকেরা।
এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২১ কোটি টাকারও বেশি। রাজনৈতিক সরকারব্যবস্থায় অর্জিত এ আয়কে সন্তোষজনক বলেই মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পক্ষ থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এক হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থবছরটিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২ হাজার সাত কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ শতাংশের মতো।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থবছরের এ তথ্য সাময়িক। এখনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। আশা করছি, সব তথ্য পাওয়া গেলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।’
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের দুই অর্থবছর ছাড়া আগে কখনো সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জন সম্ভব হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যমী প্রচেষ্টা ও করদাতাদের সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের সদস্য আমিনুর রহমান, বশির উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান পাটোয়ারী, শম্ভুনাথ দাস, জাহানারা সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে। এ খাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার বেশি। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১০৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। এনবিআরের পর্যবেক্ষণে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমে এ খাতের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।
আমদানি পর্যায়ে অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এ খাতে ২৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৮৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের মতো।
আয়কর খাতেও সমাপ্ত অর্থবছরে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ খাতে মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। আয় হয়েছে ১৭ হাজার ৮৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে এ খাতে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এ ছাড়া ভ্রমণ বা অন্যান্য খাতে ৩৮৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ খাতটি থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে এ খাতের প্রবৃদ্ধির হারও ঋণাত্মক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির হার কমে যাওয়ায় এর পেছনের বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত ছিল অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ। এ সময় নতুন শিল্প ও ভৌত-অবকাঠামো নির্মাণ, পুরোনো শিল্পের পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ফ্ল্যাট বা বাড়ি তৈরির জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকা ভিত্তিতে আয়তন ও পরিমাপের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে অর্থ বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব খাতে অর্থবছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৯২৩ জন ব্যক্তি ৯২২ কোটি ৯৮ লাখ আট হাজার ৯৭২ কোটি টাকা বৈধ করেছেন। এর মধ্যে নতুন শিল্প ও ভৌত-অবকাঠামো নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ দেখিয়ে টাকা বৈধ করেছেন ১৬২ জন। সম্মিলিতভাবে তাঁদের প্রদর্শিত অর্থের পরিমাণ ২৩৯ কোটি দুই লাখ ৬১ হাজার ৮২১ টাকা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার মতো। পুরোনো শিল্প পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে ১৪৫ জন ব্যক্তি ২৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন। তাঁরা কর দিয়েছেন ২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সবচেয়ে আলোচিত খাত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন ২৯৬ জন। তাঁরা ৪২৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনে টাকা বৈধ করার সুযোগ নিয়েছেন এক হাজার ৩২০ জন। এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তবে কী পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে, তার চূড়ান্ত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। এনবিআর থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া গেলে মোট টাকা বৈধ করার পরিমাণ আরও বাড়বে।

সাধারণ সূচক কমেছে ৭৬.১৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে আজ বুধবার সাধারণ মূল্য সূচকের বেশ বড়ধরনের পতন হয়েছে। বেলা তিনটার সময় ডিএসইর লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্য সূচক ৭৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩০৪ পয়েন্টে। দিনব্যাপি মোট লেনদেন হয়েছে একহাজার ৫৯৩ কোটি টাকার। লেনদেনকৃত মোট ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারের দাম কমেছে। এই সংখ্যা ১৮৮। অপরদিকে দাম বেড়েছে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের। দিনশেষে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
আজ লেনদেনের শীর্ষে যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ছিল সেগুলো হল- তিতাস গ্যাস, এবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো মডার্ন ডাইং, জেমিনি সী ফুড, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, সাভার রিফ্রাক্টরিজ ও মুন্নু সিরামিকস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো হল- ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, সমতা লেদার, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ও কোহিনুর কেমিকেল কোম্পানি লিমিটেড।

টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ধোনি!

ভাগ্যই তো বলতে হয় একে! দীর্ঘ দিনের বান্ধবী সাক্ষী সিং রাওয়াতকে সাত পাকে বাঁধার কিছু দিন যেতে না যেতেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের চুক্তি করলেন ভারতের একটি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা সংস্থার সঙ্গে। দুই বছরের চুক্তিতে ধোনির করপোরেট প্রোফাইল, ডিজিটাল স্বত্ব ও বিপণন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে এই সংস্থা।
ভারতীয় কোনো ক্রিকেটারের জন্য এটাই সবচেয়ে বেশি অঙ্কের অর্থের চুক্তি। আগের বড় চুক্তিটি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে আরেকটি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা সংস্থার। ২০০৬ সালে হওয়া ওই চুক্তিটি ছিল ৮০ লাখ ডলারের। টেন্ডুলকারকে যে ধোনি এই প্রথম কোনো জায়গায় ছাড়িয়ে গেলেন, তা নয়। পেপসি, রিবকসহ ২২টি কোম্পানির শুভেচ্ছাদূত ধোনি সবচেয়ে বেশি আয়ের ক্ষেত্রেও গত বছর ছাড়িয়ে গিয়েছেন টেন্ডুলকারকে। ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ধোনির আয় ছিল ১ কোটি ডলার, যা বিশ্বের কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ আয়। আর টেন্ডুলকারের আয় ছিল ৮০ লাখ ডলার

ক্রিকেট প্রশিক্ষণ

ক্লেমন রাজশাহী ক্রিকেট একাডেমির উদ্যোগে অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ খেলোয়াড়দের নিয়ে রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শিবির। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মোট ৬০ জন ক্রিকেটার এতে অংশ নিচ্ছে। কাল প্রশিক্ষণ শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

এই বিশ্বকাপ বদলে যাওয়ারও

বিশ্বকাপ একসময় শুধু ইউরোপ আর আমেরিকা মহাদেশেই হয়েছে। ২০০২ সালে প্রথম এশিয়ায় হলো। এবার আফ্রিকায়। এই বিশ্বকাপ কিছু প্রচলিত ধারণার ভিত্তিমূলে আঘাত করেছে। প্রথমত, আফ্রিকা প্রমাণ করে দিয়েছে, এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনে তারা সফল। আর পুরো ফুটবলবিশ্বও আফ্রিকাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে স্পেন আর হল্যান্ড, যারা কখনোই শিরোপা জেতেনি। এই বিশ্বকাপ নতুন চ্যাম্পিয়ন উপহার দিয়ে আরও অনেককে শিরোপার স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে। তৃতীয়ত, এই বিশ্বকাপ ফেবারিটের প্রথাগত ধারণা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফুটবল এখন পাল্টাচ্ছে। উঠে আসছে অনেক দল। খেলাটার জন্য এটা সুখবর।
চিরাচরিতভাবে আফ্রিকান দলগুলো বেশি গতি আর শক্তি নিয়ে খেলে। কিন্তু আফ্রিকান খেলোয়াড়েরা এখন ইউরোপের অনেক সেরা ক্লাবে খেলে বলে টেকনিক আর ট্যাকটিকের দিক দিয়ে তাদের খেলায়ও সেই পরিবর্তনের ধারা টের পাওয়া যাচ্ছে। এবার ঘানা অনেক ভালো করেছে। মন থেকেই বলছি, ওদের আরও সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। সেদিন আর বেশি দূরে নেই, যেদিন আফ্রিকার কোনো দেশ জিতবে বিশ্বকাপ। আরও ঘন ঘন এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকারও পেল আফ্রিকা।
এশিয়ার দেশগুলোও, বিশেষ করে, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া এবার ভালো খেলেছে। ওদের ওয়ান-টাচ পাস-অ্যান্ড-মুভ ফুটবল দৃষ্টিসুখকর। আমেরিকার দলগুলোও ভালো খেলেছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডও। আবার ইউরোপের বড় শক্তিগুলো কিন্তু ব্যর্থও হয়েছে নিজেদের সুনামের প্রতি সুবিচার করতে। ইংল্যান্ড তো মোটেও ভালো খেলেনি। ফ্রান্স-ইতালি বিদায় নিল গ্রুপ পর্বেই। দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাও তো তাদের খুদে প্রতিবেশী উরুগুয়ের ঔজ্জ্বল্যে ম্লান। বিশ্বকাপে এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি সমশক্তির লড়াই হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী করতে তাই অক্টোপাসের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতারও প্রয়োজন পড়েছে!
দুই তরুণ দল স্পেন ও জার্মানি এবার প্রথম আর তৃতীয় হয়েছে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এরা আরও ভালো আর শক্তিশালী হয়েই অংশ নেবে। ফ্রান্স, ইংল্যান্ড আর ইতালি দলটাও এখন তরুণদের নিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। আফ্রিকা, এশিয়া আর আমেরিকার দলগুলো আরও ভালো করবে বলে আশা করছি। এও প্রার্থনা করছি, দুঙ্গা অধ্যায়ের সমাপ্তি হওয়ায় ব্রাজিল তাদের পুরোনো ছন্দময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে যাবে।
একজন জার্মান হিসেবে আমার কাছে ২০১০ বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকবে অবশ্যই। ওজিল আর মুলারের মতো তরুণ খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরেছে। এই দলটা এখন এমন একটা ধরন আর ছকে খেলে, যেটি ফলদায়ক তো বটেই, দেখলেও চোখ জুড়িয়ে যায়। ল্যাম্পার্ডের সেই গোলের পর ১৯৬৬-র ভূত নিশ্চয়ই এখন তৃপ্তির সঙ্গে বিশ্রাম নেবে।
স্পেন যোগ্যতর দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ম্যাটাডোরদের সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেই তারা লড়াই করেছে। খেলার মধ্যে ছিল স্টাইল, প্যাশন; পাসিং আর মুভমেন্ট। নিজেদের সেরাটা না খেলেই ওরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেরাটা না খেলেও জেতা সব গ্রেট দলের বৈশিষ্ট্য। মাঠে কী হয়েছে, সব ভুলে গিয়ে হল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা যে চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গার্ড অব অনার দিল, এই দৃশ্যও আমার মন ছুঁয়ে গেছে। বুকের মধ্যে জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসা কষ্ট ভুলে দাঁড়িয়ে হাততালি দেওয়ার শক্তিই বা কজনের থাকে!
অনেক দিক দিয়েই আফ্রিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হবে, শেষ পর্যন্ত সুন্দর ফুটবল জয়ী হওয়ায়। আগামী চার বছরে ফুটবল কীভাবে এগোয়, কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার।

প্রথম ইনিংসে ১০৫ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান

এমসিসি স্পিরিট অব ক্রিকেট সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৫৩ রানে বেঁধে ফেলে শুরুটা ভালোই হয়েছিল পাকিস্তানের। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ১০৫ রানে পিছিয়ে পড়েছে তারা। প্রথম ইনিংসে শেন ওয়াটসনের অসাধারণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৪৮ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৮ ওভার বল করে ৫টি উইকেট নিয়েছেন ওয়াটসন। হিলফেনহউস ও বোলিংগার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেছেন সালমান বাট। দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ওয়াটসনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বাট।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট করছেন শেন ওয়াটসন ও সাইমন ক্যাটিচ।